তাবলীগের কিতাবে যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”

Standard

তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমাল [Fazail-e-Amaal] এ বর্ণিত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক হাদীস। “যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”। ফাযায়েলে আমালে মুবারাক হাদীসটি উক্ত শিরোনাম (Title)-এ আছে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك অনুবাদঃ ইমামুল মুর্সালীন হযরত নবী কারিম (صلى الله عليه و آله و سلم) ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আঃ থেকে সে অনিচ্ছাকৃত পদস্খলন সংঘটিত হয়, [যার দরূন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি সর্বদা কাঁদতে ছিলেন। আর ইস্তেগফার করতে ছিলেন।] তখন তিনি একবার আসমানের দিকে মুখ করলেন, আর বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলায় আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন অহী নাজীল হয়-মুহাম্মদ কে? [যার অসীলা দিয়ে তুমি দুআ করছো?] তখন তিনি বলেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তখন আমি আরশে লেখা দেখলাম- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, হযরত মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর চেয়ে সর্বোচ্চতর ব্যক্তিত্ব কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। তোমার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না। [সূত্রঃ ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন।] পর্যালোচনাঃ এ হাদীসের উপর লা মাযহাবী-রাফাদানী-সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস-ওয়াহাবীদের উত্থাপিত প্রথম প্রশ্ন- এ রেওয়ায়েত তথা বর্ণনাটি দুর্বল। বরং মওজু তথা জাল। এ হাদীসের উপর উত্থাপিত দ্বিতীয় প্রশ্ন- এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত। কারণ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যে, হযরত আদম আঃ কে আল্লাহ তাআলা কিছু বাক্য শিখিয়েছিলেন, যখন তিনি তা পড়েছেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী- فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ٢:٣٧ অর্থাৎঃ অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা বাকারা, আয়াত নং-৩৭।] অথচ উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় দুআ করেছেন, তারপর তাঁর তওবা কবুল হয়, তাহলেতো এ হাদীস কুরআনের বিপরীত। তাই এ হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়। এই হচ্ছে বর্তমান রাফাদানী ওয়াহাবীদের মোটের উপর দু’টি অভিযোগ। এ দু’টি অভিযোগের জবাব নিম্নে দেয়া গেল। উত্থাপিত ১ম অভিযোগের জবাবঃ দাওয়াত ও তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমালে বর্ণিত এ বর্ণনাটি জাল। একথা আমরা কিছুতেই মানি না। তবে একথা মানি যে, এটা দুর্বল বর্ণনা, বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের দূর্বলতার কারণে। তবে এটা এমন দুর্বল হাদীস নয় যে, এটাকে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। বরং তা ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণীয় (Acceptable) পর্যায়ের দুর্বল হাদীস। নিম্ন বর্ণিত ওলামায়ে কেরাম উক্ত হাদীসটিকে দলিলযোগ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন- ০১-আল্লামা কাসতাল্লানী রহঃ : আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ-২/৫২৫, ০২-ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) : দালাইলুন নুবুওওয়াহ-৫/৪৮৯। ০৩-আল হাকিম-২/৬১৫। তাহকীকঃ ______________ ইমাম তকী উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের। রেফারেন্সঃ শিফা উস সাকাম-১২০ ইমাম হাকিম বলেন, হাদীসটি সহীহ। রেফারেন্সঃ আল মুসতাদরাক-২/৬১৫ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর স্বীকৃতিঃ _______________ যারা আজ এ অপপ্রচার করছে, সেই লা মাযহাবীদের শায়েখ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এই হাদীসটি তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি এটা ভিত্তিহীনই হতো, তবে কেন তিনি তা তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন? তিনি কি জানতেন না, কোনটা সহীহ আর কোনটা বানোয়াট? তিনি ‘যদি মুহাম্মাদ না হতেন, তবে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন, এ হাদীসটি পূর্বের কথাকে কথাকে শক্তিশালী করেছে। রেফারেন্সঃ মাজমু উল ফাতাওয়া- ২/১৫৯। ভাবুন, ভিত্তিহীন কোন কথা দিয়ে কি কোন কিছু শক্তিশালী করা যায়? ইমাম ইবনু কাসীরের স্বীকৃতিঃ ________________________ ইমাম ইবনু কাসীর পরিস্কার বলেছেন, এই হাদীসটি মাওযু বা বানোয়াট নয়। এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে। ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন, হাদীসের বর্ণনাকারী আব্দুর রাহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম মিথ্যাবাদী নন। এবং এ হাদীসটি ও জাল নয়। বরং হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী। এমন হাদিস দ্বারা দলীল প্রদান করা যাবে নিঃসন্দেহে। দেখুন, আসসীরাহ- ১/১৯৫। রেফারেন্সঃ আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫ যেসব কিতাবে এ হাদীসটির সমর্থন বর্ণিতঃ আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫০২, আল মুজামুস সগীর লিত তাবরানী, হাদীস নং-৯৯২, এছাড়া আরও রয়েছে ইমাম বায়হাকী রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ সহ ইমাম আবু নুআইম রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ, আদ দুরার কিতাবে ইবনে আসাকীর রহঃ, এবং রয়েছে মাযমাউজ যাওয়ায়েদ কিতাবে। এ হাদীসের মূল বক্তব্যের উপর আরো দু’টি হাদীস রয়েছে। যথা- عن عبد الله بن شقيق ؛ أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم : متى كنت نبيا ؟ قال : كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب المغازى، ما جاء في مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، رقم الحديث-৩৭৭০৮) অনুবাদঃ আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে বর্ণিত। রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে এক লোক প্রশ্ন করলেন-আপনি কখন থেকে নবী? তিনি বললেন-আমি তখন থেকেই নবী যখন হযরত আদম আঃ রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন। (অর্থাৎ তখনো সৃষ্টি হন নি।) [সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৭৭০৮, মাশকিলুল আসার লিত তাহাবী, হাদীস নং-৫২২২, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-৩১৯১৭, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১৫৮৩৫।] অপর একটি মুবারাক হাদিস থেকে জানা যায়ঃ عن العرباض بن سارية الفزاري قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( إني عند الله مكتوب بخاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته (صحيح ابن حبان، كتاب التاريخ، باب من صفته صلى الله عليه و سلم وأخباره، رقم الحديث-৬৪০৪) অনুবাদঃ হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-নিশ্চয় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন হযরত আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন। [সূত্রঃ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১।] সুতরাং এ বর্ণনাটিকে জাল বলাটা বাড়াবাড়ি আর কিছু নয়। উত্থাপিত ২য় অভিযোগের জবাবঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস আল্লাহ তাআলার বাণীরই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। আমরা কুরআনের ব্যাখ্যা সর্ব প্রথম রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস দ্বারাই গ্রহণ করে থাকি। কুরআনে কারীমে একথা রয়েছে যে, হযরত আদম আঃ কে কিছু কালিমা আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন, যা পড়ার দরূন তার তওবা কবুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত আদম আঃ কে তওবার ওসীলা কালিমা শিক্ষা দেয়াটা ছিল একটি নেয়ামত। আর নেয়ামত সাধারণত কোন নেক আমলের কারণে পাওয়া যায়। হযরত আদম আঃ এর পাওয়া তওবার অসীলা সেসব কালিমা শিখতে পাওয়ার নেয়ামত কোন নেক আমলের কারণে পেয়েছিলেন? তা কুরআনে বর্ণিত নেই। হাদীসের মাঝে সেই নেক আমলের কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। সেই নেক আমলটি হল, হযরত আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন। সুতরাং এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত অর্থবোধক রইল কিভাবে? [সূত্রঃ শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ প্রণীত তাফসীরে ফাতহুল আজীজ-১/১৮৩।] মহান আল্লাহ্ পাক সকলকে প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর শান-মান বুঝার ও তদানুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনের তৌফীক নসীব করুন, আমীন।

Advertisements

জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা

Standard

▆ তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে আমল [Fazail-e-Amal] এর ফাজায়েলে হজ্জ [Fazail-e-Haj] এর বর্ণনা। জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা ▆ ফাজায়েলে হজ্জ, ১৩৮ / ২৫৬ পৃষ্ঠা। মূল লেখক – মাওলানা জাকারিয়া সাহেব, কাকরাইলে মুরুব্বীদের অনুমতি ও দোয়া নিয়ে অনুবাদ করেছেন – মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ, প্রকাশনী – তাবলিগি কুতুবখানা ৫০ বাংলাবাজার ঢাকা। “শায়েখ আবুল খায়ের আকতা (রহঃ) বলেন, একবার মদীনা মোনাওয়ারায় হাজির হইয়া পাঁচ দিন পর্যন্ত আমাকে উপবাস থাকতে হয়। খাওয়ার জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে আমি হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) এবং শায়ইখানের (আবু বকর ও উমার রাঃ কে শায়খান বলাহয়) কবরের মধ্যে সালাম পড়িয়া আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আজ রাতে আপনার মেহমান হবো। এই কথা আরজ করে মিম্বর শরীফের নিকট গিয়ে আমি শুইয়া পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, হুজুরে পাক (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। ডানে হযরত আবু বকর, বাম দিকে হজরত ওমর এবং সামনে হজরত আলী রাঃ। হযরত আলী রাঃ আমাকে ডেকে বলেন, এই দেখ, হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। আমি উঠা মাত্রই মহানবী (صلى الله عليه و آله و سلم) আমাকে একটা রুটি দিলেন, আমি অর্ধেক খেয়ে ফেলি তারপর যখন আমার চোখ খুলিল তখন আমার হাতে বাকী অর্ধেক ছিল (রুটি অবশিষ্টাংশ) । [উক্ত ঘটনার মাত্র 5.86M pdf ডাউনলোড লিংকঃ http://www.banglakitab.com/Fazail%20E%20Amal/Fazail-E-Amal2-Fazail-E-Hajj-Pages-222-331-MaulanaZakariah.pdf%5D নোটঃ উপরোক্ত ঘটনাটি তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে হজ্জ অংশের “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনামে নবী প্রেমের ৮ নং কাহিনীতে তাবলীগের কিতাবের লিখক মৌং যাকারিয়া সাহেব উল্লেখ করেছেন। তিনি শায়েখ আবুল খায়ের (রঃ) কে নবী প্রেমিকদের অন্তর্ভূক্ত মানতেন; তিনি উক্ত শায়খ (রঃ) কে মুশরিক ও বিদায়াতী জ্ঞান করতেন না (নাউযুবিল্লাহ), তাই মৌং যাকারিয়া উক্ত শিরোনামের অধীনে শায়খ (রঃ) এঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি লিখে দিয়েছেন। উক্ত ঘটনাটি পড়ার পর সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে শায়খ আবুল খায়র (রহঃ) প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হায়াতুন্নবী (জীবিত থাকা) হওয়াকে মানতেন। তদুপরি ইহাও প্রমাণিত যে, শায়খ আবুল খায়র (রঃ) নবীজী (صلى الله عليه و آله و سلم) ইন্তেকাল (স্থানান্তর) এর পরেও “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” বলে তাঁকে তাঁর প্রিয় উম্মতীদের ডাকা ডাক শুনতে পান, সাহায্য করতে পারেন, আর তাঁর থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়া অসম্ভব নয় এরুপ আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা মৌং যাকারিয়া তাঁর কিতাবে “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” তথা “নবী প্রেমিকের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনাম চয়ন (Naming the headline) থেকেও তিনিও যে উক্ত আক্বিদা-বিশ্বাসকে লালন করতেন তাই প্রতীয়মান হয়; নতুবা উক্ত শিরোনামে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনার কোন অর্থই থাকে না। শিরোনামটিই বেহুদা হয়ে যায়। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধী সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের সম্ভাব্য তিনটি প্রশ্নঃ ১/ আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুআ করা। – স্পষ্ট শিরক নয়কি? ২/ মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা। – শিরক নয় কি? ৩/ এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? অথচ মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেনঃ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর।” প্রিয় পাঠক আসুন, প্রশ্ন তিনটির জবাব দেখা যাক, এখানে দু’টি বিষয় বিবেচ্য। ১/ আল্লাহ তাআলা অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন কি না? ২/ কোন নবী বা উম্মতী নিজের ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারে কি না? আমাদের আকিদাঃ আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতাশীল। তিনি জীবিতকে দিয়ে যা করতে পারেন মৃত দিয়েও তা করতে পারেন। তেমনি জড় পদার্থ দিয়েও কথা বলা পারেন। এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা। আমরা এটি বিশ্বাস করি। এটা আমাদের ঈমান। আশ্চর্য ঘটনা দেখে, যার দ্বারা প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব কৃতিত্ব মনে করা খৃষ্টানী মানসিকতা। আর আল্লাহ থেকে প্রকাশিত মনে করা মুসলমানী মানসিকতা। আমরা মুসলমান। তাই মুসলমানী মানসিকতা প্রকাশ করি। কোন আশ্চর্য ঘটনা দেখলে সেটি আল্লাহ তাআলার কুদরত। সেটি আল্লাহ তাআলারই আয়ত্বধীন বলে বিশ্বাস করি। যার থেকে প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি না। আল্লাহর দেয়া ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি। কোন নবী বা উম্মতী নিজস্ব ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখেন না। নিজস্ব ক্ষমতায় কোন অস্বাভিক কিছু করার ক্ষমতা রাখার আকিদা শিরকী ও কুফরী আকিদা। এতে কোন সন্দেহ নেই। এবার উপরোক্ত সম্ভাব্য প্রশ্ন তিনটির জবাব লক্ষ্য করুন! সম্ভাব্য ১ নং প্রশ্ন-আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুয়া করা স্পষ্ট শিরক নয়কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর উসিলায় খাদ্যের জন্য দুআ করার মাঝে শিরকের কিছুই নেই। কারণ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর কাছে খাদ্যের আবেদন করা হচ্ছে না। বরং রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় আল্লাহর কাছে খাদ্যের জন্য দুআ করা হচ্ছে। আমাদের মত পাপী ব্যক্তির “নামাযের ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের “রোযার ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের মত গোনাহগারের “হজ্বের ওসীলা”-য় দুআ জায়েজ হলে নিষ্পাপ নবীর ওসীলায় দুআ করা কেন শিরক হবে? أن رجلا كان يختلف إلى عثمان بن عفان رضي الله عنه في حاجة له فكان عثمان لا يلتفت إليه ولا ينظر في حاجته فلقي عثمان بن حنيف فشكا ذلك إليه فقال له عثمان بن حنيف ائت الميضأة فتوضأ ثم ائت المسجد فصلي فيه ركعتين ثم قل اللهم إني أسألك وأتوجه إليك بنبينا محمد صلى الله عليه و سلم نبي الرحمة অর্থাৎঃ এক ব্যক্তি হযরত উসমান বিন আফফান রাঃ এঁর কাছে একটি জরুরী কাজে আসা যাওয়া করত। হযরত উসমান রাঃ [ব্যস্ততার কারণে] না তার দিকে তাকাতেন, না তার প্রয়োজন পূর্ণ করতেন। সে লোক হযরত উসমান বিন হানীফ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি ওজু করার স্থানে গিয়ে ওজু কর। তারপর মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়। তারপর বল, হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। রহমাতের নবী মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি। [সূত্রঃ আল মুজামে সগীর, হাদীস নং-৫০৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৮৩১১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১০১৮।] এ হাদীসের শেষে স্পষ্ট রয়েছে যে, লোকটি তাই করেছিল। তার দুআ’ কবুলও হয়েছিল। ফলে হযরত উসমান রাঃ তাঁকে সম্মান দেখিয়ে তার প্রয়োজনও পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য ২ নং প্রশ্ন- মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা শিরক নয় কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) কবরে থাকা অবস্থায় নিজস্ব ক্ষমতায় কোন উম্মতীকে খাওয়াতে পারার আকিদা রাখা শিরকী আকিদা। এটি কুফরী আকিদা। এতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে সে কাজ করে দিতে পারেন। একাজ করতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাশীল। যা সম্ভব নয় উম্মতের জন্য সেটি আল্লাহ তাআলার জন্যও সম্ভব নয় বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। পরিস্কার কুরআনের আয়াতের খেলাফ আকিদা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [٣:١٨٩] অর্থাৎঃ আর আল্লাহর জন্যই হল আসমান ও যমিনের বাদশাহী। আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী। [সূরা আলে ইমরান-১৮৯।] সুতরাং কেউ যদি এ আকিদা রাখে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবরে থাকা কোন ব্যক্তির মাধ্যমে স্বপ্নযোগে কাউকে রিজিক পৌঁছাতে পারেন না, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মুসলিম নয়। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বলে আখ্যায়িত করে থাকে। সে পরিস্কারভাবে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতাকে অস্বিকার করে। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বিশ্বাস করে থাকে। অথচ পবিত্র কুরআন বলছে আল্লাহ তাআলা সকল কিছু করতে সক্ষম। সকল কিছুই তার ক্ষমতার অধীন। সুতরাং অস্বাভাবিক ঘটনা আল্লাহ তাআলা ঘটাতে পারেন না, এ আকিদা রাখা কুফরী আকিদা ছাড়া আর কিছু নয়। উক্ত ব্যক্তির পুনরায় ঈমান দোহরানো আবশ্যক। তবে হ্যাঁ, যার মাধ্যমে বা বাহ্যিক আকৃতিতে উক্ত আশ্চর্য ঘটনাটি ঘটল, তিনি নিজের ক্ষমতায়, নিজস্ব ক্ষমতাবলে উক্ত কাজ করেছেন বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। শিরকী আকিদা। এতেও কোন সন্দেহ নেই। আর এরকম আক্বিদা কোন মুসলমানের নয়, উক্ত আক্বিদাটি খ্রিস্টানদের আক্বিদা। তাই হককে হক এবং বাতিল হিসেবেই বুঝতে হবে। আবারো বলছি! এমন আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর নিজস্ব ক্ষমতাধীন মনে করা শিরকী এবং কুফরী আকিদা। আর আল্লাহ তাআলাও উক্ত কাজ করতে পারেন না মনে করাও কুফরী আকিদা। তাই আমরা বলি যে, এসব আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা কোন উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা নয় বরং আল্লাহর ক্ষমতা। তিনিই তা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু তিনি সকল কিছু করতে সক্ষম। কিন্তু যারা এসব ঘটনাকে অস্বিকার করতে চায় তাদের দুই অবস্থা। যথা- ০১/ খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে এসব ঘটনাকে যাচাই করে। তথা খৃষ্টানরা যেমন আশ্চর্য ঘটনা কারো থেকে প্রকাশিত হলে উক্ত ঘটনাটিকে উক্ত ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা মনে করে, তেমন এসব কথিত সাইনবোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা এসব ঘটনাকে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করে ধোঁকা খাচ্ছে। পোষণ করছে খৃষ্টানী মানসিকতা, আর দাবি করছে তাওহীদপন্থী। এটি জালিয়াতী ছাড়ার কি হতে পারে? ০২/ এরকম আশ্চর্য ঘটনা আল্লাহ তাআলা প্রকাশ করতে পারেন না মর্মে আকিদা পোষণ করে এসব কথিত সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা। তাহলে কি দাঁড়াল? আল্লাহ তাআলা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে সক্ষম নন! নাউজুবিল্লাহ। এ আকিদা কোন মুসলমানের আকিদা হতে পারে না। এটি নাস্তিকের আকিদা হতে পারে। কিন্তু কোন আস্তিকের আকিদা এমন হতে পারে না। সম্ভাব্য ৩ নং প্রশ্ন- এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? উত্তরঃ এরকম আকিদাটা কি? যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে? আমরা উপরে পরিস্কার ভাষায় জানিয়েছি। কোন আশ্চর্য ঘটনা ঘটানোর নিজস্ব ক্ষমতা নবী বা উম্মতীর রয়েছে মর্মে আকিদা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন এ আকিদা পোষণ করা সুনিশ্চিত ব্যক্তিকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর আল্লাহ তাআলা আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন না এমন আকিদা ব্যক্তিকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। একটি ফাতওয়া জানতে চাই হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের কাছে। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুর রূহের মাঝে একটি ঘটনা নকল করেছেন। সেটি হল- হযরত মালিক বিন আনাস রাঃ বলেন, সাবিত ইয়ামামার জিহাদে শহীদ হয়ে যান। সাবিত রাঃ এঁর এক কন্যার বর্ণনা।…….. শাহাদতের পর এক মুসলমান তাকে স্বপ্নে দেখেন। তখন সেই মুসলমানকে সাবিত রাঃ বলেন, আমি তোমাকে একটি ওসিয়ত করছি। খবরদার! স্বপ্নের ওসিয়ত মনে করে এটিকে হেলাফেলা করবে না। কালকে আমি শহীদ হবার পর এক মুসলমান আমার ঢালটি নিয়ে গেছে। তার বাড়ি বসতির শেষ প্রান্তে। আর তাবুর পাশে একটি লম্বা রশিতে ঘোড়া বাঁধা আছে। সে ঢালটির উপর একটি পাতিল উল্টে রেখেছে। আর পাতিলটির উপর রেখেছে আসবাব। তুমি খালিদ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে বল, যেন সে লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে আসে। আর যখন তুমি মদীনায় যাবে, তখন আল্লাহর রাসূলের খলীফা [আবু বকর রাঃ] এঁর কাছে গিয়ে বলবে, আমার উপর এত টাকা ঋণ আছে। আর আমার ওমুক ওমুক গোলাম আযাদ। ঐ ব্যক্তি খালিদ রাঃ এর কাছে এলেন এবং তাকে স্বীয় স্বপ্ন বৃত্তান্ত করলেন। তখন খালিদ রাঃ লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে এলেন। তারপর আবু বকর রাঃ এঁর কাছে স্বপ্নটি বললেন। হযরত আবু বকর রাঃ স্বপ্নের উক্ত ওসিয়তটি জারি করলেন। ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, দেখুন! এ স্বপ্নের অসিয়তের উপর আমলকারী হযরত খালিদ রাঃ, হযরত আবু বকর রাঃ এবং তাঁর কাছে থাকা অন্যান্য সাহাবীরাও একে সমর্থন করেছেন। [সূত্রঃ কিতাবুর রূহ-৩৫-৪০।] উক্ত বর্ণনাটির সনদসহ আরবী পাঠ দেখে নিন- قال أبو عمرو روى هشام بن عمار عن صدقة بن خالد حدثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر قال حدثني عطاء الخراساني قال حدثتني ابنة ثابت بن قيس بن شماس قالت لما نزلت يا أيها الذين آمنو لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي دخل أبو هابية وأغلق عليه بابه ففقده رسول الله وأرسل إليه يسأله ما خبره قال أنا رجل شديد الصوت أخاف أن يكون قد حبط عملى قال لست منهم بل تعيش بخير وتموت بخير قال ثم أنزل الله إن الله لا يحب كل مختال فخور فأغلق عليه بابه وطفق يبكي ففقده رسول الله فأرسل إليه فأخبره فقال يا رسول الله إني أحب الجمال وأحب أن أسود قومى فقال لست منهم بل تعيش حميدا وتقتل شهيدا وتدخل الجنة قالت فلما كان يوم اليمامة خرج مع خالد بن الوليد إلى مسيلمة فلما التقوا وأنكشفوا قال ثابت وسالم مولى أبي حذيفة ما هكذا كنا نقاتل مع رسول الله ثم حفر كل واحد له حفرة فثبتا وقاتلا حتى قتلا وعلى ثابت يومئذ ذرع له نفيسة فمر به رجل من المسلمين فأخذها فبينما رجل من المسلمين نائم إذ أتاه ثابت في منامه فقال له أوصيك بوصية فاياك أن تقول هذا حلم فتضعيه إني لما قتلت أمس مربى رجل من المسلمين فأخذ درعى ومنزلة في أقصي الناس وعند خبائه فرس يستين في طوله وقد كفا على الدرع برمة وفوق البرمة رحل فأت خالدا فمره أن يبعث إلى درعى فيأخذها وإذا قدمت المدينة على الخليفة رسول الله يعني أبا بكر الصديق فقل له أن على من الدين كذا وكذا وفلان من رقيقى عتيق وفلان فأتي الرجل خالدا فأخبره فبعث إلى الدرع فأتي بها وحدث أبا بكر برؤياه فأجاز وصيته قال ولا نعلم أحدا أجيزت وصيته بعد موته غير ثابت بن قيس رحمه الله انتهى ما ذكره أبو عمرو فقد اتفق خالد أبو بكر الصديق والصحابة معه على العمل بهذه الرؤيا وتنفيذ الوصية بها وانتزاع الدرع ممن هى في يده وهذا محض الفقه আল্লাহ তাআলার হাজার শুকরিয়া এসব কথিত সাইন বোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা সে জামানায় ছিল না। থাকলে হয়তো হযরত আবু বকর রাঃ এঁর উপরই কুফরী আর শিরকীর ফাতওয়া জারি করে দিতো, মৃত ব্যক্তির কথায় আমল করার কারণে। যেখানে একজন সাহাবী থেকে মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়ে এমন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন, সেখানে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর দ্বারা কেন এর মত আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেবন না? এরা কি আমাদের রব, সর্বশক্তিমান আল্লাহকে তাদের মতই দুর্বল মনে করে? আমাদের কথা হল এমন ঘটনা উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ আল্লাহর বন্ধুদের ফজিলতের বর্ণনায় আলোচনা করলে বা তাঁদের সংকলিত কিতাবে থাকলেই এটা নিয়ে এত সমালোচনা। অথচ একই ধরণের ঘটনার আরো কয়েকশ বছর আগে লেখা কিতাব কিতাবুর রূহে থাকলেও এ ব্যাপারে সাইন বোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা চুপ কেন? উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ কে প্রতিপক্ষ বানানোর এ ষড়যন্ত্র কেন? আর কিতাবুর রূহের সংকলক আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে কথিত আহলে হাদীসদের ফাতওয়া কোথায়? _________________

অনেকে জানতে চেয়েছেন, কুরবানীর টাকা বন্যার্তদের দান করে দেয়া যাবে কিনা?

Standard

উক্ত প্রশ্নে উত্তর হচ্ছে, কখনোই না। কারন কুরবানী হচ্ছে আল্লাহ পাকের বিধান। আল্লাহ পাক বলেনে, لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ অর্থ : “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানীর বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ তায়ালার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নামে পশু কুরবানী করে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : ৩৪) এ আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, কুরবানী করা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক উম্মতের জন্য বিধান। আর আল্লাহ পাকের বিধান পালন করা বান্দার আবাশ্যিক দায়িত্ব। হাদীছ শরীফে বর্নিত হয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا. অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবেনা সে যেনো ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ ২/ ৩২১: হাদীছ ৮২৫৬, ফতহুল বারী ১০/৩, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৫/৪৩২, শরহে যারকানী ৩/১০৪) এই হাদীছ শরীফ থেকে যা বোঝা গেলো সামর্থবান ব্যক্তিকে অবশ্যই কুরবানী করতে হবে। কুরবানী না করলে সে মুসলানদের নামাজেও আসতে পারবে না। অর্থাৎ মুসলিম জামাত থেকে সে বিতাড়িত হবে। তারমানে তার পরিনতিও ভালো হবে না। কুরবানী করা হচ্ছে ঈদের দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। হাদীছ পাকে আছে, مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا ‘ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” (তুহফাতুৃল আহওয়াযী শরহে জামিউত তিরমিযী ৪/১৪৫) সূতরাং কোন সমর্থবান লোকের জন্য কুরবানী না করে এ টাকা অন্যত্র দেয়া হচ্ছে সর্বশ্র্রেষ্ঠ আমল ত্যাগ করা নামান্তর। কোন ভাবেই কুরবানী বাদ দিয়ে এর টাকা কোথাও দান করা যাবে না। যেটা আল্লাহ পাকের বিধান সেভাবেই করতে হবে। কেউ যদি দান করতে চায় কুরবানীর টাকা রেখে অন্য যে ফান্ড আছে সেখান থেকে দিতে হবে। এর অন্যথা করলে আল্লাহ পাকের বিধানের উপর খবরদারী হবে, যা ঈমানহানীর কারন। আল্লাহ পাক আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

কুরবানী বিষয়ক আরো বিস্তারিত মাসআলা জানতে এখানে ক্লিক করুন- কুরবানীর মাসআলা

আ’লা হযরতের জীবনী

Standard

আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মহান অস্তিত্ব কারো পরিচয়ের মুখাপেক্ষী নয়। তিনি স্বয়ং কামালাত ও ফাযালাতের সূর্য। উদিত সূর্যের খবর যেমনি সর্বজনসহ অন্ধজনও দিতে সক্ষম তেমনি কুত্বুল আওলিয়া, শায়খুল মাশাইখ ও বেলায়ত দানকারী আ’লা হযরত আজীমুল বারাকাত, ইমামে আহ্লে সুন্নাত এর অগনিত দ্বীনী দেখমতের অমর অবদান সূর্যের ন্যায় বিস্তৃত ও জ্ঞাত। বরকতময় নাম আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর শুভ জন্মকালীন নাম “মুহাম্মদ” আর ঐতিহাসিক নাম “আল মুখতার”। কিন্তু আপন দাদাজান মাওলানা রেজা আলী খাঁন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর নাম নির্ধারণ করেন আহমাদ রেজা। পরবর্তীতে তিনি নিজেই নিজ নামের সাথে “আব্দুল মুস্তফা” সংযোগ করেন। তিনি বংশীয় পর্যায়ে ‘পাঠান’, মাযহাবের দিক থেকে হানাফী, ও ত্বরিকার দিক থেকে ক্বাদেরী ছিলেন। শুভজন্ম তাঁর সৌভাগ্যময় জন্ম সময় ১০ই শাওয়াল-ই মুকাররম, ১২৭২ হিজরী মোতাবেক ১৪ জুন ১৮৫৬ ইংরেজী, রোজ শনিবার যোহরের সময়। আর জন্মস্থান হল ভারতের প্রসিদ্ধ নগরী বেরেলী শরীফে (ইউ.পি)’র জাসুলী মহল্লায়। আ’লা হযরত নিজের জন্ম সন নি¤েœাক্ত আয়াত থেকে বের করেছেন। অর্থাৎ ১২৭২ হিজরীর তত্ত্ব সন্ধানে বর্ণিত আয়াত শরীফ- أولئك كتب في قلوبهم الإيمان وأيدهم بروح منه অর্থঃ তাঁরা হল ওই সব লোক যাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালা ঈমানকে অংকন করে দিয়েছেন এবং নিজ পক্ষ থেকে রুহ্ দ্বারা তাঁদেরকে সাহায্য করেছেন। এ কথা যথার্থ যে, আ’লা হযরত ওই সব খাস বান্দার অন্তর্ভূক্ত, মহান আল্লাহ যাদের অন্তরে ঈমানের নক্শা এঁকে দিয়েছেন তাঁর আপদমস্তক আল্লাহর ইশক ও নবীজির মহাব্বতে ডুবন্ত ছিল। তিনি বলতেন, আল্লাহর শপথ ! “যদি আমার অন্তরকে দু’টুকরো করা হয় তবে দেখা যাবে যে, এক টুকরোর উপর লিখা আছে لااله الا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) অপর টুকরো’র উপর লিখা আছে محمد رسول الله (মুহাম্মাদুর রাছূলুল্লাহ)। বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের অগণিত লোক, যাঁদের মধ্যে অনেক আলিম, ফাজিল ও মাশাঈখও রয়েছেন যে, ১২৭২ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি আ’লা হযরতের জীবনের প্রতি একটু গভীর দৃষ্টিপাত করেন তবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠবেন (১২৭২ হিজরীর) এর অলৌকিক মুকুট আ’লা হযরতের পবিত্র শিরে সত্যিই শোভা পাচ্ছে। বংশীয় পরিচয় আ’লা হযরত শাহ্ ইমাম আহমাদ রেজা খাঁন, তাঁর পিতা হযরত মাওলানা শাহ্ নক্বী আলী খাঁন তাঁর পিতা হযরত মাওলানা শাহ রেজা আলী খাঁন তাঁর পিতা হযরত মাওলানা হাফিজ শাহ্ কাজিম আলী খাঁন, তাঁর পিতা হযরত মাওলানা শাহ্ মুহাম্মদ আজম খাঁন তাঁর পিতা হযরত মাওলানা শাহ্ সা’আদাত ইয়ার খাঁন, তাঁর পিতা হযরত মাওলানা শাহ্ সাঈদ উল্লাহ্ খাঁন (রাহমাতুল্লাহি তা’য়ালা আলাইহিম আজমাঈন) আ’লা হযরতের পূর্ব পুরুষ অর্থাৎ হযরত মাওলানা শাহ্ সাঈদ উল্লাহ খাঁন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি রাজ পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি মুঘল শাসনামলে লাহোর পদার্পণ করেন এবং সেখানে তিনি বিভিন্ন সম্মানিত পদে অলংকৃত হন। হযরতের জ্ঞান অর্জন আ’লা হযরত পরিবারে পারিবারিক ঐতিহ্য- রেওয়াজ অনুযায়ী বিছমিল্লাহ্খানী তথা বিছমিল্লাহ শরীফের আনুষ্ঠানিক ছবক হত। বিছমিল্লাহ শরীফের ছবক গ্রহণকালে হযরতের বয়স কত ছিল বিশুদ্ধভাবে বলা মুশকিল, তবে ছবক গ্রহণ সময়ের বয়স এভাবে অনুমান করা যায় যে, তিনি মাত্র চার বৎসর বয়সেই পবিত্র কুরআনের নাজেরা খতম করেছিলেন। হযরতের মুখস্ত শক্তি আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহ তা’য়ালা আনহু এর মুখস্ত শক্তির অবস্থা এমন ছিল যে, একদিকে ওস্তাদ ছবক দেন অপরদিকে তিনি এক দুবার পড়েই কিতাব বন্ধ করে দিতেন। যখন ওস্তাদ ছবক শুনতেন তখন পুংঙ্খানুপুংঙ্খভাবে তা শুনিয়ে দিতেন। ওস্তাদ এ অবস্থা দেখে আশ্চর্য্য হয়ে বলতেন যে, হে “আহমাদ মিয়া” তুমি মানব না জ্বীন যে, আমি পড়াতে দেরী কিন্তু তোমার শুনাতে বিলম্ব হয় না। বস্তুতঃ এ উক্তিটি ওস্তাদের দোয়া স্বরূপই ছিল। একদিন আ’লা হযরত বললেন, অনেকেই না জেনে আবেগ প্রবণ হয়ে আমার নামের সাথে “হাফিজ” শব্দটি যুক্ত করে দেয়, অথচ আমি হাফিজ নই। তবে এটা সম্ভব যে, কোন হাফিজ সাহেব যদি আমাকে কুরআন কারীমের এক রুকু’ করে পড়ে শুনান তাহলে অনুরূপ আমার থেকে মুখস্ত শুনানো সম্ভব হবে। এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাহে রমজানে একজন হাফিজ সাহেবের সান্নিধ্যে মাত্র ২৩ দিনে ৩০ পাড়া কোরআন শরীফ মুখস্ত করে শুনিয়েছেন। আর হিফজ করার সময়টুকু হিসাব করলে মাত্র ১৫ ঘন্টা হয়। (সুবহানাল্লাহ্!) পাঠ্য জ্ঞানের সমাপ্তী আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু প্রাথমিক উর্দ্দু, ফার্সী ভাষার কিতাবাদী অধ্যয়নের পর আরবী ভাষায় ছরফ-নাহু এর কিতাব সমূহ মীর্যা গোলাম ক্কাদীর রাহমাতুল্লাহি আলায়হি-এর সান্নিধ্যে অধ্যয়ন করেন। অতঃপর নিজ পিতা আলেমকুল সম্রাট হযরত মাওলানা শাহ্ নক্কী আলী খাঁন (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর সান্নিধ্যে নি¤েœাক্ত জ্ঞানকোষ সমূহের উপর বিদ্যা অর্জন করেন। (১) ইলমে কুরআন, (২) ইলমে তাফছীর, (৩) ইলমে হাদীছ, (৪) উসূলে হাদীছ, (৫) হানাফী ফিকহের কিতাবাদী, (৬) শাফেঈ ফিক্হের কিতাবাদী, (৭) মালেকী ফিকহের কিতাবাদী, (৮) হাম্বলী ফিকহের কিতাবাদী, (৯) উসূলে ফিক্বহ, (১০) জাদাল-ই মাযহাব, (১১) ইলমে আকাইদ ও কালাম, (১২) ইলমে নাহভ, (১৩) ইলমে ছরফ, (১৪) ইলমে মা’আনী, (১৫) ইলমে বয়ান, (১৬) ইলমে বদী, (১৭) ইলমে মানতিক, (১৮) ইলমে মুনাজারাহ, (১৯) ইলমে কানসাকাহ্ মুদাল্লাসাহ্, (২০) ইবতিদায়ী ইলমে তাকছীর, (২১) ইবতেদায়ী ইলমে হাইয়াত, (২২) ইলমে হিছাব, (২৩) ইলমে হিন্দাসাহ্ প্রভৃতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিতাবাদী অধ্যয়ন করে ১২৮৬ হিজরীতে পাঠ্য জ্ঞান সমাপ্ত করেন এবং ১৪ বৎসর বয়সেই সমাপ্তী সনদপত্র লাভ করেন। ফতোয়া প্রদান আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যে দিন সমাপ্তী সনদ লাভ করলেন- সে দিনেই পূর্ব নিয়ম অনুযায়ী দরগাহ্ শরীফে “মায়ের স্তন্যপান সম্পর্কিত একটি মাসআলার সমাধানের জন্যে কোন এক আগন্তুক এসেছিল, আগন্তুকের এ মাসআলাটির উপর আ’লা হযরত চমৎকার একটি ফতোয়া তৈরী করে নিজ পিতার হাতে অর্পণ করলেন। আর তা এতোই সুন্দর ও নিখুঁত ছিল যে, তা দেখে প্রবীণ মুফতীয়ানে কিরামগণও হতবাক হয়ে গেলেন। সেদিন থেকে তাঁর সম্মানিত পিতা তাঁকেই ফতুয়া প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। বাইআত ও খিলাফত আ’লা হযরত রাদ্বিয়ালল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর সম্মানিত পিতা আল্লামা নক্বী আলী খাঁন (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) এর সাথে ওলীকুল সম্রাট যুগ শ্রেষ্ঠ কুতুব সৈয়দ আলে রাছুল মারহারাভীর দরবারে হাজির হয়ে ক্বাদেরিয়া সিলসিলার বাইআত গ্রহণ করে ধন্য হন। মুর্শিদে বরহক হযরতের আধ্যাত্মিক জ্ঞানকেও পরিপূর্ণতা দান করে সমস্ত সিলসিলার খিলাফত-বাইআত এর ইজাযত এবং হাদীছ শরীফের সনদ দ্বারা ধন্য করেন। মুর্শিদে মারহারাভী বাইআয়াতের পর উপস্থিত মজলিশকে লক্ষ্য করে ফরমান Ñ “রোজ কিয়ামতে মহান রব আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি আমার জন্য কি এনেছ? তখন আমি আহমাদ রেজাকে পেশ করব।” খোদা প্রদত্ত জ্ঞানে অবদান আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু পাঠ্য পুস্তক সমূহের অর্জিত জ্ঞান ছাড়াও মহান রবের একান্ত দয়াগুণে ও নবী পাকের কৃপানজরে কোন ওস্তাদের নিকট পড়াশুনা ছাড়াও নিরেট ইলমে লাদুনী বা খোদা প্রদত্ত নুরানী অন্তুর দ্বারাই নি¤েœাক্ত বিষয়াদীতে দক্ষতা অর্জন করেন এবং সেগুলোতে শায়খ ও ইমাম এর মর্যাদা লাভ করেন। যথা- (১) ক্বিরাত, (২) তাজভীদ, (৩) তাসাওফ, (৪) ছুলুক, (৫) ইলমুল আখলাক, (৬) আছমাউর রিজাল, (৭) ছিয়ার, (৮) ইতিহাস, (৯) অভিধান, (১০) আদব (বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যে), (১১) আরিসমাত্বী-কী, (১২) জবর ও মুক্বালাহ, (১৩) হিসাব-ই-সিত্তীনী, (১৪) লগারিথম, (১৫) ইল্মুত্ তাওক্বীত, (১৬) ইলমুল আকর, (১৭) যীজাত, (১৮) মুসাল্লাম-ই-কুরাভী, (১৯) মুসাল্লাস-ই-মুসাত্তাহ্, (২০) হাইআত-ই-জাদীদাহ, (২১) মুরাব্বাআত, (২২) মুন্তাহা ইলমে জুফার, (২৩) ইলমে যাইচাহ্, (২৪) ইলমে ফারাইজ, (২৫) আরবী কবিতা, (২৬) ফার্সী কবিতা, (২৭) হিন্দি কবিতা, (২৮) আরবী গদ্য, (২৯) ফার্সী গদ্য, (৩০) হিন্দী গদ্য, (৩১) পান্ডুলিপি, (৩২) নাস্তাালীক লিপি, (৩৩) মুন্তাহা ইলমে হিসাব, (৩৪) মুন্তাহা ইলমে হাইআত, (৩৫) মুন্তাহা ইলমে হিন্দাসাহ্, (৩৬) মুন্তাহা ইলমে তকছীর ও (৩৭) কুরআন শরীফ লিখন পদ্ধতিসহ প্রভৃতি। এছাড়াও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের ফযীলতসহ জীবন চরিত আক্বাইদের বিষয়ে কিতাব লিখেছেন ৬৩টি। হাদীস ও উসুলে হাদীসের উপর লিখেছেন Ñ ১৩টি। ইলমে কালাম ও মুনাযারাহ্ বিষয়ে লিখেছেন ৩৫টি। ফিক্বহ ও উসুলে ফিক্বহ বিষয়ে লিখেছেন ৫৯টি এবং বিভিন্ন বাতিল পন্থীদের ভ্রান্ত মতবাদ খন্ডনে ৪০০টিরও অধিক সংখ্যক কিতাব লিখে নবী পাকের বিরুদ্ধাচরণ কারীদের জবান বন্ধ করে দিয়েছেন। এতো সংখ্যক লেখনীর জ্ঞানগত অবদান ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হচ্ছে পবিত্র কোরআনের অনুবাদ “তরজমায়ে কুরআন কানজুল ঈমান” এ অনুবাদটি অন্যান্য অনুবাদগুলোর মধ্যে অনন্য স্থানের দাবীদার কানজুল ঈমানের অনুবাদ ও অন্যান্য অনুবাদগুলোর মধ্যেকার বাস্তব পার্থক্য নিরূপণের জন্যে কানজুল ঈমানে “কোরআন মজিদের ভুল অনুবাদগুলো চিহ্নিত করণ” অধ্যায় তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে পরিস্কার হয়ে যায় যে, কানজুল ঈমান এক বিস্ময়কর খোদাপ্রদত্ত জ্ঞানসম্বলীত অনুবাদ গ্রন্থ। এতদভিন্নও তাঁর বিখ্যাত ফিক্বহ শাস্ত্রের বিশাল গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া, যা প্রতিটি মাসআলার হাওলাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ ধর্মী অনন্য গ্রন্থ। গ্রন্থটি ১২ খন্ডে সমাপ্ত বর্তমানে আরবী ফার্সীর উদ্ধৃতিগুলোর উর্দু অনুবাদসহ ৩০ খন্ডে প্রকাশ হয়েছে। যুগের জলিলুল ক্বদর মুজাদ্দিদ হুজুর আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর পবিত্র জীবনের ইতিহাস লক্ষ্য করলে পরিস্কার বুঝা যায় যে, মহান আল্লাহ এ বিশেষ বান্দাহ্কে তাঁর দ্বীনের হিফাজতের জন্যেই সৃষ্টি করেছেন। নবী করিম রাউফুর রাহীম এরশাদ ফরমান, ان امة بعيث لهذه الامة على رأس كل مأة سنة من يجدد لها دينها অর্থাৎ প্রতি একশত বৎসরের শেষপ্রান্তে মহান রব এ উম্মতের জন্যে অবশ্যই মুজাদ্দিদ প্রেরণ করবেন, যে উম্মতের জন্যে আল্লাহর দ্বীনকে সঠিক রাখবে। (আবু দাউদ শরীফ) সেই নির্মম সময়ে যখন কিছু সংখ্যক সার্থান্বেষী ধর্মগুরু দ্বীনকে নিজ ব্যাখ্যায় পরিবর্তন করতে লাগলো সেই সময় তিনি মুসলিম উম্মাহকে শরীয়তের বিলোপ্ত বিধানাবলী স্বরণ করিয়ে দেন, নূরে খোদা মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা’র মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করেন, বিশেষ ইলম (জ্ঞান) ও ধৈর্য্য সাধনায় সত্যের বাণী ঘোষনা করে মিথ্যা ও এর অনুসারীদের চিহ্নিত ও নির্মূল করেন এবং সত্যের পতাকাকে উজ্জীবিত করেন, তিনিই হলেন ১৪ শত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আ’লা হযরত, আজীমুল বারাকাত, মাওলানা, আলহাজ্ব, হাফিজ, ক্বারী শাহ্ মুহাম্মদ আহমাদ রেজা বেরলভী সুন্নী হানাফী ক্বাদেরী বারকাতী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু। হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে যখন তদানীন্তন ইংরেজ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সমগ্র উপমহাদেশে নাস্তিকতা এবং ওহাবী-দেওবন্দী প্রভৃতি মতবাদের বিষাক্ত হাওয়া প্রভাহিত হচ্ছিল এবং বিশ্ব তাদের ভ্রান্ত আকিদা দ্বারা দূষিত হয়েছিল, আর চতুর্দিকে ইলহাদ ও বে-দ্বীনীর ঘন্টা বাজতেছিল তখনই এমন একজন আশিকে রাসূলের আবির্ভাব ঘটলো যিনি বাতিলের অমাবশ্যা অন্ধকারে সত্যের আলো জ্বালিয়ে দিলেন। যার কলম নবীপাকের প্রতি বেয়াদবী প্রদর্শনকারীদের উপর আল্লাহর গজবের অগ্নিমালা রূপে পতিত হয়ে তাদের ভ্রান্ত আকিদাগুলোকে জ্বালিয়ে দিল, যিনি মুসলমানদেরকে ইংরেজ ও হিন্দুদের গোলামীর শৃংখল থেকে মুক্ত হবার তালিম দিলেন। সর্বোপরি যার সম্মুখে আরবীয় ও অনারবীয়, হেরম শরীফ ও হেরম শরীফের বাইরের বিজ্ঞ থেকে বিজ্ঞতর আলিমগণও একান্ত শ্রদ্ধাবনত হয়েছেন এবং যার সারাটি জীবন আক্বা ও মাওলা মুহাম্মদ মোস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা’র মহান গোলামীতে কুরবান করেছেন। তিনিই মহান মুজাদ্দিদ আ’লা হযরত। বিধর্মী ইংরেজদের প্রতি ঘৃণা আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ইংরেজদের ধর্মাচার, তাদের শিক্ষানীতি ও তাদের কাছারীর প্রতি যথেষ্ঠ ঘৃনা পোষণ করতেন। এমনকি তিনি তৎকালীন ইংরেজ সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর ফটো সম্বলিত পোষ্ট কার্ড ও খামকে উল্টো করেই ঠিকানা লিখতেন, যাতে রাণী ভিক্টোরিয়া সপ্তম এওর্য়াড এবং পঞ্চম জর্জের মাথা নিচু হয়ে থাকে। তিনি বলতেন, আহমাদ রেজার জুতোও ইংজেদের কাছারীতে যাবে না। বিরুদ্ধচারীরা অনেক চেষ্টা করেছে, মামলা দায়ের করেছে যেন যে কোন প্রকারে হোক তাঁকে কাছারীতে হাজির হতে হয়; কিন্তু প্রতিটি মামলায় হযরতকে অদৃশ্য সাহায্য হিফাজত করেছে, পক্ষান্তরে শত্র“দের ভাগ্যে জুটেছে বেদনাদায়ক অপমান। হজ্জে বায়তুল্লাহ্ আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ১৩২৩ হিজরী মোতাবেক ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার বায়তুল্লাহ শরীফ হজ্জ এবং হারামাইন-শরীফাঈন এর যিয়ারত করেন। এ সফরে হিযাজবাসী ওলামা কেরাম তাঁর সম্মানে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ হুস্সামুল হারামাইন, আদ্দৌলাতুল মক্কীয়াহ, ক্বিফলুল ফক্বীহ প্রভৃতি কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করলে পাওয়া যায়। মক্কা মুয়ায্যমায় তাঁকে সংবর্ধনা দেয়ার প্রত্যক্ষ দৃশ্য শেখ ইসমাঈল রাহমাতুল্লাহ আলাইহি নিজেই এভাবে বর্ণনা করেছেন যে- “দলে দলে মক্কাবাসী ওলামা কিরাম তাঁর নিকট সমবেত হন। তাঁদের অনেকেই তাঁর নিকট ‘ইজাযতের সনদ’ (খিলাফত) প্রদানের জন্যে অনুরোধ করেন। তাছাড়া অন্যান্য ওলামা ও বুযর্গ ব্যক্তিবর্গও তাঁর নিকট আসতে আরম্ভ করেন। এভাবে অনেককেই মক্কায় ইজাযত প্রদান করেন আর অনেককে বেরেলী শরীফ ফিরে এসে তথা থেকে ইজাযতের সনদ প্রেরণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।” অতঃপর আ’লা হযরত প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামা’র স্মৃতি বিজড়িত মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ নেন। সেখানেও তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এ সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী হযরত মাওলানা আবদুল করিম মুহাজিরে মক্কী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেন যে- “আমি কয়েক বছর ধরে মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করে আসছি। হিন্দুস্থান থেকে অসংখ্য জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিগণ হজ্জে আসেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই আলিম, বুযুর্গ ও পরহেজগার ছিলেন। আমি যা লক্ষ্য করেছি তাঁরা মদীনা শহরের অলিগলিতে ইচ্ছা মাফিক ঘুরে বেড়াতেন, কেউ তাঁদের দিকে ফিরেও তাকাত না; কিন্তু আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর শান ছিল আশ্চর্যমন্ডিত। তাঁর আগমনের সংবাদ শুনে সেখানকার বুযর্গানে দ্বীন, ওলামা কিরাম দলে দলে তাঁর সাথে সাক্ষাত লাভের জন্য আসতে আরম্ভ করেন এবং তাঁর সম্মানে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন।” মদীনা পাকে সেখানকার অনেকেই হযরতের নিকট থেকে ইজাযত বা খিলাফত লাভ করেন। অনেককে মৌখিক ইজাযত দান করেন, অনেককে স্বস্থান বেরেলী শরীফ আসার পর সনদ প্রেরণ করেন। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এ মহান আশেকে রাসূলের প্রসিদ্ধি শুধু উপমহাদেশেই নয় বরং সমগ্র আরব আজমেও তাঁর পরিচিতি। তৎকালীন সময়ই বিদ্যমান ছিল। জ্ঞানজগতে আ’লা হযরতের অবস্থান ও প্রতিপক্ষের অভিমত আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর কলমের এমন শান ছিল যে, তিনি কম বেশি পঞ্চাশটি বিষয়ের উপর কয়েকশত বড় বড় কিতাব রচনা করেছেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন প্রস্রবন জারী করে দিয়েছেন যার থেকে আজও দুনিয়া তৃপ্তির সাথে উপকার গ্রহণ করছে। পক্ষের লোকতো পক্ষেরই, মুখালিফিনরাও স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে যে, মাওলানা আহমাদ রেজা খাঁন সাহেব কলম সম্রাট ছিলেন। যে বিষয়ের উপর কলম ধরেছেন দ্বিতীয় কারোও কলম ধরার সাহস হয়নি। তাই এ মহান হাস্তী সম্পর্কে পক্ষের লোক তো আছেই, প্রতিপক্ষের কতিপয় পরিচিত মনীষীর অভিমত নি¤েœ উপস্থাপন করা হল। মাওলানা আশরাফ আলী থানভী সাহেব বলেন- ১. আমার যদি সুযোগ হতো, তাহলে আমি মৌলভী আহমাদ রেজা খাঁন বেরলভীর পিছনে নামাজ পড়ে নিতাম। (উসওয়ায়ে আকাবির- পৃঃ ১৮) ২. তিনি আরো বলেন- “তাঁর সাথে আমাদের বিরোধিতার কারণ বাস্তবিক পক্ষে ‘হুব্বে রাসূল’ (নবীপাকের ভালবাসা)-ই। তিনি আমাদেরকে হুজুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের প্রতি বেয়াদবী প্রদর্শনকারী (গোস্তাখে রাসূল) মনে করতেন। (আশরাফুস্ সাওয়ানিহ্, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-১২৯) ৩. যখন আ’লা হযরত ইহধাম ত্যাগ করেছেন, তখন কোন একজন মাওলানা আশরাফ আলী থানভীকে সংবাদ দিলে শুনামাত্রই তিনি আ’লা হযরতের জন্য মাগফেরাত কামনা করেন। জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, মাওলানা আহমদ রেজা খাঁনতো আপনাকে কাফের মনে করতেন। অথচ আপনি তাঁর মাগফিরাত কামনা করছেন। তিনি বলেন, আহমাদ রেযা আমাকে এজন্যই কাফের মনে করতেন, যেহেতু আমি তাঁর দৃষ্টিতে গোস্তাখে রাসূল ছিলাম। তিনি একথা জানার পরও যদি কাফের না বলেন, তিনি নিজে কাফের হয়ে যাবেন। (দৈনিক রাওয়ালপিন্ডি, ১লা নভেম্বর ১৯৮১) আবুল আ’লা মওদুদী সাহেব বলেন- মাওলানা আহমাদ রেজা খাঁন মরহুম মগফুর আমার দৃষ্টিতে একজন অসাধারণ জ্ঞানী ও দূরদর্শীতার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। যদিও তাঁর সাথে আমার কতিপয় বিষয়ে বিরোধ রয়েছে তবুও আমি তাঁর প্রভূতঃ দ্বীনি খেদমতকে স্বীকার করি। (আল মিযান, পৃঃ ১৬, সন- ১৯৭৬ মুম্বাই ও মাকালাতে ইয়াওমে রেজা, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৪০) মাওলানা আহমদ আলী সাহারানপুরীর ছেলে মাওলানা খলীলুর রহমান এর বক্তব্য- ১৩০৩ হিজরী সনে মাদ্রাসাতুল হাদীস, পীলীভেত এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত জলসায় সাহারানপুর, লাহোর, কানপুর, জৌনপুর, রামপুর এবং বদায়ুনের আলেমগণের উপস্থিতিতে মুহাদ্দীস-ই সুরতীর একান্ত ইচ্ছাক্রমে আ’লা হযরত হাদীস শাস্ত্রের উপর অনবরত তিন ঘন্টা যাবৎ সারগর্ভ ও সপ্রমাণ বক্তব্য রাখলেন। জলসায় উপস্থিত ওলামা কেরাম তাঁর বক্তব্য অবাকচিত্তে শ্রবণ করলেন এবং উচ্ছসিত প্রশংসা করলেন। মাওলানা আহমদ আলী সাহরানপুরীর পুত্র মাওলানা খলীলুর রহমান বক্তব্য শেষ হলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আ’লা হযরতের হাতে চুম্বন করলেন। আর বললেন, যদি এ মুহূর্তে আমার সম্মানিত পিতা থাকতেন তবে তিনি আপনার জ্ঞান সমুদ্রের মুক্তমনে প্রশংসা করতেন। আর তখন তাঁর এটা উচিতই ছিল। উল্লেখ্য, মুহাদ্দিস সুরতী ও মাওলানা মুহাম্মদ আলী মুঙ্গরী নদওয়াতুল ওলামা, লক্ষৌ এর প্রতিষ্ঠাতা তাঁর মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানালেন। (মাক্কালা-ই-মাহমুদ আহমদ ক্বাদেরী প্রণেতা, তাযকিরাই ওলামাই আহলে সুন্নাত মাহনামাই আশরাফিয়া মুবারকপুর, ১৯৭৭) বিদায়নামা বেসাল শরীফের দুই দিন পূর্বে আ’লা হযরত কিবলা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ডাক্তার এনে শিরা দেখতে বললেন। ডাক্তার সাহেব শিরা (নাড়ী) খুঁজে পেলেন না। জিজ্ঞেস করলেন কী অবস্থা? ডাক্তার সাহেব বললেন, দুর্বলতার কারণে তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে হযরত জিজ্ঞাসা করলেন আজকের দিনটি কোন দিন? বলা হল, বুধবার। আ’লা হযরত বললেন, জুমআ আগামী পরশু দিন। বেশ কিছু পরে জবান মোবারক থেকে শুনা গেল حسبنا الله ونعم الوكيل (হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকীল) কালেমাটি পড়ছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিতে পরিবারবর্গ সকলে জাগ্রত থাকার ইচ্ছা করলেন। তখন তিনি তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বললেন রাত্রে জাগ্রত থাকার প্রয়োজন নেই। তাঁরা বললেন, যদি হঠাৎ কোন বিশেষ প্রয়োজন হয়ে যায়। তা শুনে হযরত কিবলা বললেন, আল্লাহ্ চাহে তো আজ ঐ রাত নয় যা তোমরা চিন্তা করছ, তোমরা সকলে ঘুমিয়ে পড়। রাত্রি অতিবাহিত হল। ভোরবেলা তিনি বললেন, আজ শুক্রবার। আবার বললেন গত জুমায় ছিলাম চেয়ারের উপর, আজ থাকব খাটিয়ার উপর। অতঃপর আবার বললেন, আমার কারণে জুমআর নামাজে যেন দেরী করা না হয়। অতঃপর সফরের (মৃত্যুর) জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করলেন। জমি-জমা সম্পর্কিত ওয়াক্ফনামা পরিপূর্ণ করলেন। সম্পত্তির চার ভাগের একভাগ আলাদা করে রাখলেন। বাকী উত্তরাধিকার শরয়ী কানুন মোতাবেক আওলাদদের জন্য রেখে দিলেন। অতঃপর নি¤েœাক্ত অসীয়তনামা বললেন- ১। অন্তিম মুহূর্তের সময় কার্ড, খাম, রূপিয়া, পয়সা বা এমন কোন বস্তু যেন দেওয়ালে বা সামনে না থাকে, যাতে কোন ছবি থাকে। ২। অপবিত্র অবস্থায় কোন লোক বা ঋতুস্রাবওয়ালা কোন মহিলা যেন না আসে। ৩। কোন কুকুর এখানে আসতে দিবে না। ৪। সূরা ইয়া-সীন এবং সূরা রাদ আওয়াজ দিয়ে পড়তে থাকবে। ৫। কালিমায়ে তৈয়্যেবাহ্ আওয়াজ করে সীনায় দম আসা পর্যন্ত পড়তে থাকবে। ৬। কেহ যেন উঁচু আওয়াজে কথা না বলে। ৭। কোন কান্নাকাটি করা ছোট বাচ্চা এখানে আসতে দিওনা। ৮। অন্তিম সময়ে আমার এবং তোমাদের জন্য দোয়ায়ে খায়র করতে থাক। ৯। কোন খারাপ কথা জবান থেকে যেন বের না হয়, যেন ফেরেশতারা আমিন না বলে ফেলে। ১০। অন্তিম সময় বরফের অথবা খুব ঠান্ডা পানি পান করাবে। ১১। রূহ কব্য হওয়ার পর ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আ’লা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ’ বলে নরম হাতে চোখগুলো বন্ধ করে দিবে এবং এটি পড়েই হাত এবং পা সোজা করে দিবে। ১২। গোসল এবং অন্যান্য কাজগুলো সুন্নাত মোতাবেক সম্পাদন করবে। ১৩। জানাযায় যেন শরয়ী কারণ ছাড়া দেরী না করা হয়। ১৪। জানাযা উঠানোর সময় সাবধান কোন আওয়াজ যেন না হয়। ১৫। জানাযার সামনে আমার প্রশংসামূলক কোন শের কখনো যেন গাওয়া না হয়। ১৬। কাফনের উপর যেন কোন পশমী চাদর না দেওয়া হয়। ১৭। এমনিভাবে কোন কাজ যেন খেলাফে সুন্নাত না হয়। ১৮। কবরে খুব ধীরে ধীরে নামাবে, ডান করটে (পার্শ্বে) ঐ দোয়াটি পড়েই শুয়ায়ে দিবে এবং পরে নরম মাটি দিয়ে ভরাট করে দিবে। ১৯। কবর তৈরিতে বিলম্ব হলে কবর তৈরি করা পর্যন্ত এই দোয়াটি পড়বে- “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহুম্মা ছাব্বিত উবাইদাকা হাজা বিল ক্বাওলিছ্ ছাবিতি বিজাহি নাবিয়্যিকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” ২০। কোন শস্য বা ফলমূল কবরের উপর নিয়ে যাবে না। এগুলোকে বন্টন করে দিবে। যেন কবরস্থানে শুরগোল না হয় এবং কবরের অসম্মান না হয়। ২১। দাফনের পরে মাথার দিকে الم থেকে مفلحون পর্যন্ত এবং পায়ের দিকে أمن الرسول থেকে এ সূরার শেষ পর্যন্ত পড়বে। ২২। দাফনের পর (মাওলানা শাহ) হামিদ রেজা খাঁন সাহেব সাতবার উঁচূ আওয়াজে আযান দিবে। ২৩। পরিবারভুক্ত ব্যক্তিরা আমার সামনাসামনি (মুখের নিকট) তিনবার তালকীন করবে। ২৪। দেড় ঘন্টা পর্যন্ত আমার মুখোমুখি দরূদ শরীফ এরূপ আওয়াজে পড়তে থাকবে যেন আমি শুনতে পাই। পরে আমাকে দয়াময় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করে চলে আসবে। আমার দু’জন প্রিয়ভাজন বা বন্ধু মনোনীত করে তিন রাত তিন দিন পূর্ণ প্রহরার সাথে আমার মুখের দিকে কুরআন মাজীদ এবং দরূদ শরীফ আওয়াজ করে একটানা পড়তে থাকবে। আল্লাহ চাহে তো ঐ নতুন স্থানে আমার মন বসে যাবে। ২৫। আরও অসিয়ত করেছেন যে, গরীব-মিসকীনদেরকে ফাতেহা করে যেন পালা করে খাবার খাওয়ানো হয়। তবে সুন্নাতের খেলাফ যেন না হয়। ওফাত শরীফ আ’লা হযরত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর ওফাত শরীফ হয়েছিল ২৫ সফর ১৩৪০ হিজরী মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ, জুমআ বার (শুক্রবার) বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে বেরেলী শরীফে। দিনের ২টা বাজার আর ৪ মিনিট বাকী ছিল। তথন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,সময় কত? কেউ আরয করল ২টা বাজার ৪ মিনিট বাকী। বললেন, ঘড়ি রেখে দাও। ফটো সরিয়ে দাও। সকলে চিন্তামগ্ন এখানে তাসবীর তথা ফটো (কোথায়)! আবার তিনি নিজে থেকেই বললেন, এ রূপিয়া, পয়সা, কার্ড, খাম। অল্প কিছুক্ষণ চুপ থেকে হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত হামিদ রেজা খাঁন সাহেবকে বললেন যে, ওযু করে কুরআন শরীফ লও। এখনো তিনি ফিরে আসেননি। এদিকে হুজুর মুফতীয়ে আযম হিন্দ মোস্তফা রেযা খাঁন সাহেবকে বললেন, এখন বসে কি করছ? সূরা ইয়াসীন ও সূরা রা’দ শরীফ তিলাওয়াত কর। হুজুর মুফতীয়ে আযম হিন্দ তিলাওয়াত শুরু করলেন। এখন পবিত্র হায়াতের আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকী। তখন আ’লা হযরত কিবলা এমন মনোযোগের সহিত তিলাওয়াত শুনতে ছিলেন, যে আয়াত স্পষ্টভাবে শুনেননি তা তিনি নিজেই তেলাওয়াত করে শুনিয়ে দিতেন। সাইয়্যেদ মাহমুদ জান সাহেব আসলেন। হযরত কিবলা দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন সাইয়্যেদ সাহেবের সাথে মুসাফাহা করলেন। সফরের দোয়াগুলো পড়লেন, এমনকি অন্যান্য বারের তুলনায় বেশী পড়লেন। অতঃপর কালিমায়ে তায়্যিবাহ পড়লেন। শেষ নিঃশ্বাস যখন বক্ষে এসে পড়ল পবিত্র ওষ্ঠদ্বয়ের স্পন্দন এবং যিকরে পাস আনফাস করার মাত্রা শেষ হয়ে আসছে। হঠাৎ চেহারা মোবারকের উপর নূরের একটি আলোকরশ্মি চমকে উঠল, যাতে প্রতিফলন ছিল যেমনিভাবে আয়নার উপর পতিত চাঁদের আলো প্রতিফলিত হয়। এ আলোকরশ্মি অদৃশ্য হতেই সেই নূরানী রূহ পবিত্র শরীর থেকে উড়ে গিয়েছিল। র্বাগাহে রেসালাতে তাঁর মর্যাদা হুজুর কারীম রাউফুর রাহীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে আ’লা হযরতের গ্রহণযোগ্যতা কেমন ছিল, তা নি¤েœাক্ত ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়। মাওলানা আব্দুল আযীয মুরাদাবাদী যিনি দারুল উলুম আশরাফিয়া, আযমগড়-এর শিক্ষক ছিলেন তিনি আজমীর শরীফ দরগাহর সাজ্জাদানশীন দিওয়ান সাইয়্যেদ আলে রাসূল সাহেবের সম্মানিত চাচা হতে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন ১২ রবিউস্সানি, ১৩৪০ হিজরী। একজন সিরিয়াবাসী বুযুর্গ দিল্লীতে তাশরীফ আনলেন। তাঁর আগমনের সংবাদ শুনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। বড়ই শান-শওকতপূর্ণ বুযর্গ ছিলেন তিনি। মন-মানসিকতায় স্বাবলিলতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। মুসলমানগণ ওই আরবীয় বুযর্গের খিদমত করার নিমিত্তে নযরানা পেশকরতে লাগল। কিন্তু তিনি তা ক্ববুল করতে অস্বীকার করছিলেন, আর বলতে লাগলেন, আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে আমি আর্থিকভাবে সচ্ছল। এ সবের প্রয়োজন নেই। এটা সত্যি আশ্চর্যের বিষয় ছিল যে, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সফর করছেন অথচ কোন অভাববোধ করছেন না। আরয করলেন, এখানে তাশরীফ আনার কারণ কী? তিনি বললেন, উদ্দেশ্য তো বড়ই উঁচুমানের ছিল। কিন্তু হাসিল হলো না, আফসোস! ঘটনা হচ্ছে এ যে, ২৫ সফর ১৩৪০ হিজরী আমার সৌভাগ্য জেগে উঠল। স্বপ্নে আমার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যিয়ারত নসীব হল। দেখলাম, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ রাখলেন। সাহাবায়ে কেরাম মহান দরবারে উপস্থিত আছেন; কিন্তু মজলিসে নিরবতা বিরাজ করছিল। মনে হচ্ছিল কারো জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আমি রাসূলে পাকের দরবারে আরয করলাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! কার জন্য অপেক্ষা? এরশাদ ফরমালেন, আহমাদ রেযার জন্য এ অপেক্ষা। আরয করলাম, কে সে ? এরশাদ হলো, হিন্দুস্থানের বেরিলীর বাসিন্দা। স্বপ্ন ভাঙার পর খোঁজ নিলাম। জানতে পারলাম, মাওলানা শাহ আহমাদ রেযা খুবই উঁচু মানের একজন আলেম। তিনি জীবিত আছেন। তাই সাক্ষাতের দারুন আগ্রহ নিয়ে বেরেলী শরীফ পৌঁছেছি। এসে জানতে পারলাম যে, তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেছে। আর ওই ২৫ সফরই তার মৃত্যুকালের তারিখ ছিল। তাঁর সাথে সাক্ষাতের অদম্য আগ্রহে এ দীর্ঘ সফর করলাম কিন্তু আফসোস! সাক্ষাত করতে পারলাম না। এ মহান মনীষী ইন্তেকালের ৪ মাস বাইশ দিন পূর্বে কুরআন মাজীদের নি¤œবর্ণিত আয়াত দ্বারা নিজের ওফাতের তারিখ নির্বাচন করেন ১৩৪০ হিজরী। আয়াতটি হল- ويطاف عليهم بانية من فضة و اكواب অর্থাৎ জান্নাতে লোকেরা পূণ্যবানদের চতুপার্শ্বে রৌপ্য প্লেইট এবং গ্লাস নিয়ে প্রদক্ষিণ করবে। গোসল শরীফ, কাফন ও নামাযে জানাযা হযরত কিবলার কবর শরীফ খনন করেন সৈয়্যদ আযহার আলী সাহেব। সদরুশ শরীয়ত মুফতী আমজাদ আলী সাহেব অসয়ীত অনুযায়ী গোসল দিলেন। হাফেজ আমির হোসেন সাহেব মুরাদাবাদী তাঁর সহযোগী ছিলেন। মাওলানা সৈয়্যদ সোলায়মান আশরাফ ছাহেব, সৈয়দ মাহমুদ জান সাহেব, সৈয়্যদ মমতাজ আলী সাহেব ও জনাব মাওলানা মুহাম্মদ রেযা খাঁন ছাহেব প্রমুখ পানি ঢেলে ধৌত করার দায়িত্ব পালন করেন। জনাব হাকিম রেযা খাঁন সাহেব, জনাব লিয়াকত আলী খাঁন সাহেব রেজভী এবং মুন্সী ফেদা ইয়ারখাঁন রেজভী সাহেব পানি সরবরাহ করেন। মুফতীয়ে আযম হিন্দ মোস্তফা রেযা খাঁন ছাহেব অসীয়ত মোতাবেক দোয়া দরূদসমূহ উপস্থিত লোকদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। হুজ্জাতুল ইসলাম শাহ্ হামেদ রেযা খাঁন ছাহেব কপালের সিজদা স্থানে কাপুর লাগিয়ে দেন। ছদরুল আফাযিল সৈয়দ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী সাহেব কাফন শরীফ বিছালেন। গোসল কাফনের পর দর্শনের সুযোগ দেয়া হয়। অতঃপর ঈদগাহে বিশাল জানাযা সম্পাদন করেন বাহারে শরীয়ত গ্রন্থ প্রণেতা মুফতী আমজাদ আলী রেজভী সাহেব (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম)। মাজার শরীফ বেরেলী শরীফ শহরের সওদাগরাঁ মহল্লায় দারুল উলূম মানজারুল ইসলাম এর উত্তর পাশে এক আলীশান দালানের অভ্যন্তরে তাঁর মাজার শরীফ। তাঁর ওরস শরীফ; যা শরীয়তেরই প্রতিচ্ছবি, প্রতি বছর ২৫শে সফর অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সারা ইসলামী বিশ্বের চতুর্দিক থেকে প্রসিদ্ধ ওলামা, খতীব ও পীর মাশায়েখ শরীক হয়ে ধন্য হয়ে থাকেন।

আলা হযরত  رحمة الله عليه  এর জীবনী আরো জানুন এখানে- ইমাম আহমদ রেজা 

জিলহজ্জ মাসের ফযীলত

Standard

বিষয়: যিলহজ্ব মাসের ফযীলত ========================= সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। # بسم الله الرحمن الرحيم আমাদের মাঝে যিলহজ্ব মাস সমাগত। এ মাস হজ্বের মাস, কুরবানীর মাস। এ মাস অতি ফযীলতপূর্ণ, মহিমান্বিত। আল্লাহ তা’আলার বিধানানুসারে যে চারটি মাস পবিত্র ও সম্মানিত, তার একটি হল যিলহজ্ব মাস। আর এ মাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সময় হল আশারায়ে যিলহজ্ব বা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক। দুটি ইবাদত এ দশকের মর্যাদাকে আরো অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ্ব এর বিধান রেখেছেন, যাকে হাদীস শরীফে ইসলামের পাঁচ রুকনের একটি বলা হয়েছে। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্বের আমল মাসটিকে আরো আড়ম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আল্লাহ প্রেমিকরা সাদা ইহরামের কাপড় পরিধান করে বায়তুল্লাহ যেয়ারত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক এবং তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বরকতময় স্থানগুলো যিয়ারত করে নিজেদের আত্মার পিপাসা নিবারণ করেন। হজ্বের সাদা ইহরাম, তালবিয়া পাঠ করা, পবিত্র কাবা তওয়াফ করা, হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) চুমু খাওয়া, সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয় প্রদক্ষিণ করা, আরাফা, মিনা ও মুযদালিফার ময়দানে অবস্থান করা, মদীনাতুন নববীতে গমন করা, মসজিদে নববী শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক যেয়ারত করা, রওদাতুম মিন রিয়াদিল জান্নাত (জান্নাতের বাগান) এ অবস্থান করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবীগণের কবর শরীফ যেয়ারত করা, বদর, উহুদ, খন্দকের মত বিশ্ব বিখ্যাত জিহাদ প্রান্তর পরিদর্শনসহ আরো কত ধরনের কর্মসূচী সম্পৃক্ত হয়ে হজ্বের এ মাসকে করে তুলে আরো বর্ণাঢ্যময়। এ মাসের দ্বিতীয় বিশেষ ইবাদত কুরবানী, যা শা‘আইরে ইসলাম বা ইসলামের নিদর্শন সমূহের অন্যতম। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের জন্যে এ মাসের নির্ধারণ থেকেও এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য অনুমান করা যায়। তদুপরি কুরআন-হাদীস থেকেও এ মাসের এবং এ মাসের বিশেষ কিছু দিবস-রজনীর মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। কারণ এ মাস চার মহিমান্বিত মাসের অন্যতম, যাকে কুরআন মজীদে “আরবাআ’তুন হুরুম’’ বলা হয়েছে। সূরাতুল ফাজরে (আয়াত: ১-২) আল্লাহ তাআলা যে দশ রজনীর শপথ করেছেন, মুফাসসিরগণের মতে তা এ মাসের প্রথম দশ রাত। তেমনি সূরাতুল হজ্বে (আয়াত-২৮) যে ‘নির্দিষ্ট দিবসগুলোতে’ আল্লাহর নাম স্মরণের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে, তাও যিলহজ্বের প্রথম দশ দিন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন “আমি মূসা আলাহিস সালামের সাথে ওয়াদা করেছি ত্রিশ রাত্রির এবং তা পূর্ণ করেছি আরো দশ দ্বারা”(আ’রাফ-১৪২) মুফাসসিরগণ বলেছেন, সেই দশদিনও ছিল যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন। এ দশ দিনের মর্যাদা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তা’আলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এ দশ দিনের কসম করেছেন। তিনি বলেন- “শপথ ফজরের ও দশ রাতের” (সূরা ফজর:১-২)। দশ রাত বলতে এখানে যিলহজ্বের দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম করেন না। ফযিলতপূর্ণ এই মাসের ফযিলত প্রসঙ্গে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন “যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এতবেশী প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন জিহাদও নয় কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতিক্রম যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কিছু নিয়ে ফিরে আসেনি। অর্থাৎ শহীদ হয়ে গিয়েছে।” (বোখারী শরীফ- ৯২৬, তিরমিযী শরীফ- ৭৫৭) রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর ইবাদতের জন্য যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিন নেই, এর একদিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত ক্বদরের রাত্রের ইবাদতের সমতুল্য। (তিরমিযী, ইবনে মাজা) হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরাফাহর দিনে রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি ইরশাদ করেন, “এর দ্বারা অতীতের এক বছর এবং ভবিষ্যতের এক বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায় তথা ক্ষমা করে দেয়া হয়”। (মুসলিম শরীফ-২৭৩৯) অন্য বর্ণনায় হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে: “যিলহজ্বের দশ দিনের চেয়ে কোনো দিনই আল্লাহর নিকট ততবেশী উত্তম নয়।-(সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৮৪২) কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহের আলোকে স্পষ্ট বুঝা যায়, এই দশ দিনের যে কোনো নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তাই মুমিন বান্দার জন্য অধিক পরিমাণে সওয়াব অর্জন, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর কী হতে পারে? এ জন্য পূর্ববর্তীদের জীবনীতে এই দশকের আমল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই দশকের দিনগুলোর আগমন ঘটত তখন তাঁরা এত অধিক আমল ও মুজাহাদা করতেন, যা পরিমাপ করাও সম্ভব নয়। আমাদেরও উচিত বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এই দশকের রাত-দিনগুলোকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা। তাছাড়া বিভিন্ন হাদীসে এই দশকের বিশেষ কিছু আমলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ১. চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কাটা: ———————————————— যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল। হযরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা যদি যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১; সুনানে নাসয়ী, হাদীস : ৪৩৬২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৫৮৯৭) যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল পালন করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি কুরবানীর দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এ দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে।)” আল্লাহ তাআলা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধ পানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে (মুন্ডাবে বা ছোট করবে),নখ কাটবে, গোঁফ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৭৮৯) আল্লাহপাক গরীবদের উপর যে অত্যন্ত ও সীমাহীন দয়া করেছেন তার প্রমাণ আলোচ্য হাদীস। সুতরাং যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদের উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত আমলকে গনীমত মনে করা উচিত এবং কুরবানীর চাঁদ অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে কুরবানী পর্যন্ত (১০দিন) নিজের চুল, নখ ইত্যাদিতে হাত না লাগানো উচিত। অর্থাৎ যারা কুরবানী করতে সক্ষম নয় তারাও যেন মুসলমানদের সাথে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হয়। তারা এগুলো কর্তন না করেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীও হবে। ২. ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন রোযা রাখা: আশারায়ে যিলহজ্বের আরেকটি বিশেষ আমল হল, ঈদুল আযহার দিন ছাড়া আরাফার ময়দানে অবস্থানকারী ব্যতিরেকে অন্যদের জন্য প্রথম নয় দিন রোযা রাখা। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নয়টি দিবসে (যিলহজ্ব মাসের প্রথম নয় দিন) রোযা রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২২২৩৪;সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৪১৬) অন্য হাদীসে হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বর্ণনা করেন: চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদেআহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯) ৩. বিশেষভাবে নয় তারিখের রোযা রাখা: যিলহজ্বের প্রথম নয় দিনের মধ্যে নবম তারিখের রোযা সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ। সহীহ হাদীসে এই দিবসের রোযার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “আরাফার দিনের (নয় তারিখের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগতএক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২; সুনানে আবু দাউদ,হাদীস : ২৪২৫; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৩০) আরেক হাদীসে এসেছে: “যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোযা রাখবে তার লাগাতার দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” (মুসনাদে আব ুইয়ালা, হাদীস : ৭৫৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫১৪১) যারা যিলহজ্বের নয়টি রোযা রাখতে সক্ষম হবে না তারা যেন অন্তত এই দিনের রোযা রাখা থেকে বঞ্চিত না হয়। আল্লাহ তাআলা আশারায়ে যিলহজ্বের মতো অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দিনগুলোতে ইবাদত-বন্দেগী করার তাওফীক দিন। আমীন। হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “দুনিয়ার দিনগুলোর শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে সেই দশ দিন। অর্থাৎ যিলহজ্বের প্রথম দশদিন।” (মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস ৫৯৩৩) কিন্তু যিলহজ্ব মাস তো চার হারাম মাসের অন্যতম, যার সম্পর্কে কুরআন মজীদের নির্দেশ, ‘তোমরা এ সময়ে নিজেদের উপর জুলুম করো না।’ (তাওবা-৩৬) মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুসারে এ পবিত্র সময়ে গুনাহ থেকে বিরত থাকাও এ আদেশের মধ্যে শামিল। আর ইয়াওমে আরাফা সম্পর্কে তো স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্ল্ল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ রয়েছে, “এ তো এমন দিন, এ দিনে যে নিজের চোখ, কান ও যবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। (মুসনাদে আহমদ, ১/ ৩২৯) তাই এ দিবস-রজনী ফযীলতপূর্ণ হওয়ার আরেক দাবি হলো, সে মুবারক সময়ে ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের বিষয়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশী যত্নবান হওয়া। কিন্তু আমরা যাদের হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা একেবারেই বঞ্চিত করেননি। যিলহজ্ব মাসের ঐদিনগুলোতে আমরা যেন বেশি বেশি করে ইবাদত করি সে জন্য আল্লাহ তাআলা ঐদিনগুলোর ইবাদতে আমাদের জন্য রেখেছেন অফুরন্ত ফযীলত। সেগুলোর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আল্লাহ তাআলা সূরা আল ফজর এ কসম করে বলেছেন: ‘ওয়া লাইয়ালিন আশর’-দশটি রাতের কসম। এ দশটি দিনে বেশি বেশি করে নেক আমলের সুযোগ হাত ছাড়া করা নিশ্চয়ই ঠিক হবে না। এ সময় গুলোতে কি কি আমল করা উচিৎ। নফল আমলের মধ্যে সর্বোচ্চ হল নফল সালাত, বিশেষ করে সালাতুত তাহাজ্জুদ, পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত, যিকর, ইস্তেগফার, দোয়া ও দরুদ ইত্যাদি। সুনানে নাসায়ী ও মুসনাদে আহমাদসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে রয়েছে, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমলগুলো ছাড়তেন না তম্মধ্যে আশুরার রোযা, যিলহজ্বের দশ (কুরবানীর ঈদের দিন ছাড়া) দিনের রোযা, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত এবং আইয়ামে বীযের রোযা অন্যতম। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪১৫; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস ২৬৩৩৯) আল্লাহ রাববুল আলমীন আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!