রওজা মোবারকের ভিতর হাত বাহির করে নবী পাক যাদের যেয়ারত দিয়েছেন

Standard

▆ মহান আল্লাহর প্রিয় রাসুুল মহানবী হুজুর মুহাম্মাদ মুস্তাফা (صلى الله عليه و آله و سلم) নিজ মাযার শরীফ থেকে মুবাবারক হাত বের করে দিয়েছিলেন ▆ [উপস্থিত নব্বই হাজার যায়ীর যিয়ারাত লাভ করেন। নোটঃ ০১ https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1832152120433558 __________ নোটঃ ০২ হযরত ইমাম আহমাদ কবীর রেফায়ী রহঃ [মৃত্যু ৫৭৮ হিজরী] সম্পর্কে ইমাম যাহাবী রহঃ [মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী] সীয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৭৭ পৃষ্ঠায় বলেন, তিনি ইমামুল কুদওয়াহ, যাহেদ, আলআবেদ, শাইখুল আরেফীন ছিলেন। ইমাম আহমাদ কবীর রেফায়ী রহঃ ও তাঁরই নানাজান প্রিয় নবী করীম রাসুলুল্লাহ্ এঁর যে ঘটনাটির উপর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, সেটি দেখে নিনঃ “সাইয়্যেদ আহমাদ রেফায়ী রহঃ প্রসিদ্ধ বুযুর্গ ও সুফী ছিলেন। তার কাহিনী প্রসিদ্ধ। তিনি যখন ৫৫৫ হিজরীতে হজ্ব থেকে ফারিগ হয়ে যিয়ারতের জন্য হাজির হলেন। পবিত্র কবরের সামনে দাড়ালেন। তখন এ কবিতা পাঠ করলেনঃ কবিতার অর্থঃ দূরে থাকা অবস্থায় আমি আমার রূহকে আপনার খিদমাতে পাঠাতাম। সে আমার প্রতিনিধি হয়ে আস্তানা মুবারক চুম্বন করতো। এখন সশরীরে হাজির হবার পালা এসেছে, আপন হাত মুবারক দিন, যেন আমার ঠোঁট তা চুম্বন করতে পারে। এ কবিতার পর কবর থেকে হাত মুবারক বের হল, এবং তিনি তা চুম্বন করলেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ আলহাবী লিল ফাতাওয়া : সুয়ূতী] ব্যাখ্যাঃ উক্ত ঘটনাটি সংঘঠনের পরে যুগে যুগে মুহাদ্দিসিনে কিরাম আলোচনা করেছেন। উক্ত সালাফের কিতাবের বরাতে সুত্র পরম্পরায় পরবর্তীরা উদ্ধৃত করেছেন। সালাফের কিতাবে উক্ত ঘটনাটি বিশুদ্ধ সনদে তা বিধৃত হয়েছে। প্রথম সনদ! ইমাম আব্দুল করীম বিন মুহাম্মদ রেফায়ী রহঃ [মৃত্যু ৬২৩ হিজরী] বলেন, اخبرني شيخنا الامام الحجة القدوة ابو الفرج عمر الفاروثي الواسطي قال حج سيدناوشيخنا السيد احمد الرفاعي عام خمس وخمسين وخمسمائة فلما وصل المدينة……. ইমাম রেফায়ী রহঃ। তিনি শুনেছেন, ইমাম আবুল ফরজ উমার ফারূছী থেকে। তিনি ইমাম কাবীর রেফায়ী রহঃ থেকে। [গ্রন্থ সূত্রঃ সাওয়াদুল আইনাঈন-১০-১১] সনদের রাবীদের হালাত! ১/ ইমাম আব্দুল করীম বিন মুহাম্মদ রেফায়ী রহঃ। [মৃত্যু ৬২৩ হিজরী] ইমাম যাহাবী রহঃ তার ব্যাপারে বলেন, شَيْخُ الشَّافِعِيَّةِ، عَالِمُ العَجمِ وَالعَربِ، إِمَامُ الدِّينِ তিনি শাফী মাযহাবের শায়েখ, আরব আজমের শায়েখ এবং দ্বীনের ইমাম। ইমাম তাজুদ্দীন সুবকী রহঃ [মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী] বলেন, أظنُ أنّي لم أرَ في بلاد العَجَم مثله আমি তার মত ব্যক্তি আজমের শহরের কোথাও দেখিনি বলে মনে হয়। ইমাম নববী রহঃ [মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী] বলেন, الرَّافعيّ من الصالحين المُتَمكّنين، كانت لَهُ كراماتٌ كثيرة ظاهرة. ইমাম রেফায়ী রহঃ নেক বান্দা, তার অনেক জাহেরী কারামত রয়েছে। ইমাম ইবনুস সাফফার রহঃ [মৃত্যু ৬৪৮ হিজরী] বলেন, هُوَ شيخُنا، أمامُ الدِّين وناصر السُّنَّة صِدقًا. তিনি আমাদের শায়েখ, দ্বীনের ইমাম এবং সুন্নাতের সত্যিকার সাহায্যকারী [যিন্দাকারী] ছিলেন। দেখুন- সীয়ারু আলামিন নুবালা-২২/২৫২। তারীখুল ইসলাম লিজযাহাবী-১৩/৭৪২। ২/ ইমাম ইজ্জুদ্দীন আবুল ফরজ উমর আলফারূছী রহঃ। [মৃত্যু ৫৮৫ হিজরী] ইমাম রেফায়ী রহঃ [মৃত্যু ৬২৩ হিজরী] তার ব্যাপারে বলেন, الامام الحجة القدوة ইমাম হুজ্জাত ও কুদওয়াহ। [গ্রন্থ সূত্রঃ সাওয়াদুল আইনাঈন-১০] আরেক স্থানে বলেন, شيخنا امام الفقهاء وسيد العلماء ابو الفرج عمر الفاروثي আরেক স্থানে বলেন, আমাদের শায়েখ, ইমামুল ফুক্বাহা, সাইয়্যিদুল উলামা আবুল ফরজ উমর আলফারূছী রহঃ। [গ্রন্থ সূত্রঃ সাওয়াদুল আইনাঈন-৮] ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহঃ [মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী] বলেন, إمام الفقهاء والمحدثين وشيخ أكابر الفقهاء والعلماء العاملين الشيخ عز الدين عمر أبي الفرج الفاروثي الواسطي ইমাম আহমাদ বিন ইবরাহীম আলফারূছী রহঃ [মৃত্যু ৬৯৪ হিজরী] বলেন, الامام الفقيه أبي الفرج عمر الفاروثي ইমাম, ফক্বীহ আবুল ফরজ উমর আলফারূছী রহঃ। [গ্রন্থ সূত্রঃ ইরশাদুল মুসলিমীন-৮৮] ইমাম তাক্বীউদ্দীন আব্দুর রহমান আলআনসারী রহঃ [মৃত্যু ৭৪৪ হিজরী] বলেন, العارف الكبير ولي الله العلامة السند الثبت الفقيه المقري المحدث أبي الفرج عمر الفاروثي আলআরেফুল কাবীর, ওয়ালীআল্লাহ, আলমুসনাদ, সাবেত, ফক্বীহ, মুকরী, আলমুহাদ্দিস, আবুল ফরজ উমর ফারূছী রহঃ। [গ্রন্থ সূত্রঃ তরয়াকুল মুহিব্বীন-১/৮] সুতরাং বুঝা গেল, তিনিও সিকা ও মজবুত ব্যক্তি। ৩/ ইমাম শায়েখ কাবীর আহমাদ রেফায়ী রহঃ [মৃত্যু ৫৭৮ হিজরী] তার ব্যাপারে ইমাম যাহাবী রহঃ [মৃত্যু ৭৪৮ হিজরী] বলেন, الإِمَامُ، القُدْوَةُ، العَابِدُ، الزَّاهِدُ، شَيْخُ العَارِفِيْن ইমাম, কুদওয়াহ, আবেদ, যাহেদ, শাইখুল আরেফীন। [গ্রন্থ সূত্রঃ সিয়ারু আলামিন নুবালা-২১/৭৭] ইমাম তাযুদ্দীন সুবকী রহঃ [মৃত্যু ৭৭১ হিজরী] বলেন, أحد أَوْلِيَاء الله العارفين والسادات المشمرين أهل الكرامات الباهرة أَبُو الْعَبَّاس بن أبي الْحسن بن الرِّفَاعِي المغربي আল্লাহর ওলী, যাহেরী কারামতওয়ালা, আরেফীন ও সাদাতের অন্তর্ভূক্ত। [গ্রন্থ সূত্রঃ তাবক্বাতুস শাফেয়িয়্যাহ লিসসুবকী-৬/২৩] ইমাম ইবনে খাল্লিকান রহঃ [মৃত্যু ৬৮১ হিজরী] এবং ইমাম খালীল বিন আইবেক সাফাদী রহঃ [মৃত্যু ৬৮১ হিজরী এ দুই ইমাম বলেন, كَانَ رجلا صَالحا شافعيا فَقِيها তিনি নেক বান্দা শাফেয়ী ফক্বীহ ছিলেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ তাবক্বাতুস শাফেয়িয়্যাহ লিইবনে কাযী শাইবা-২/৫] সাফাদী রহঃ আরো বলেন, الزَّاهِد الْكَبِير سُلْطَان العارفين فِي زَمَانه তিনি বড় যাহেদ, তার জমানার সুলতানুল আরেফীন ছিলেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ আলওয়াফী বিলওয়াফিয়্যাত-৭/১৪৩] সুতরাং বুঝা গেল যে, এ সনদটি বিশুদ্ধ। ২য় সনদ ইমাম রেফায়ী রহঃ [মৃত্যু ৬২৩ হিজরী [সিকা রাবী] যা আলোচনা ইতোপূর্বে গিয়েছে। তিনি বলেন, শায়েখ আব্দুস শামী আলহাশেমী রহঃ [মৃত্যু ৫৮০ হিজরী] যাকে খোদ ইমাম রেফায়ী রহঃ সনদুল মুহাদ্দিসীন, ইমাম ইজ্জুদ্দীন আলাফারূছী রহঃ [মৃত্যু ৬৯৪ হিজরী] শায়েখুশ শায়েখ এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ [মৃত্যু ৬৩৭ হিজরী] তাকে শরীফ, সালেহ এবং আবেদ বলে মন্তব্য করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ ইরশাদুল মুসলিমীন-২৬৫, তারীখ ইবনে দাবীছী-৭৯, নং-১৪৮] খেয়াল করুন! শায়েখ আব্দুস শামী আলহাশেমী রহঃ যার আসল নাম হল, মুহাম্মদ বিন আব্দুস শামী আলহাশেমী রহঃ। কিন্তু তাকে আব্দুস শামী আলহাশেমী বলা হয়ে থাকে। কোন কোন মুহাদ্দিস তাকে তার কুনিয়্যাত আবু তালিব শারফুদ্দীন বলেও উল্লেখ করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ ইরশাদুল মুসলিমীন-৯০] সিকা রাবী আব্দুস শামী রহঃ বলেন, আমি উক্ত ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষ্যি। যাতে হযরত কাবীর আহমাদ রেফায়ী রহঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুসাফাহা করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ সাওয়াদুল আইনাঈন-৯-১০] সুতরাং উক্ত ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলাটা পূর্ববর্তীদের কিতাব ও হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞতা ছাড়া আর কী হতে পারে? যেসব কিতাবে উক্ত ঘটনা এসেছে! ১/ ইমাম আলী বিন আঞ্জাব রহঃ [মৃত্যু ৬৭৪ হিজরী] । যাকে উলামায়ে কেরাম, ইমাম, মুহাদ্দিস, মুআররিখে কাবীর, ফাযেল, আদীব বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দেখুন- তারীখুল ইসলাম লিজযাহাবী-১৫/২৭৮, তাবক্বাতুল হুফফাজ লিসসুয়ুতী-১/৫১২, নং-১১২৭, তাবক্বাতুস শাফেয়িয়্যাহ লিকাযী শাইবা-২/১৪০] তিনি তার কিতাবে ৫টি ভিন্ন সনদে কাবীর আহমাদ রেফায়ী রহঃ এর ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ মুখতাছার তারীখুল খুলাফা-৯৭-৯৯] ২/ ইমাম আলী বিন আলহাসান বিন আহমাদ আলওয়াসেতী রহঃ [মৃত্যু ৭৩৩ হিজরী]। যাকে হাফেজ জাহাবী রহঃ ইমামুল কুদওয়াহ, আলকানিত্ব, যাহেদ এবং বড় শানওয়ালা বলে মন্তব্য করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ মু’জামু শুয়ুখুল কাবীর লিজযাহাবী-৩৬৫, আদদুরারুল কামীনাহ লিইবনে হাজার-৩/৩৭, নং-৮২] তিনিও তার কিতাব “খুলাসাতুল আকছীর ফী নাসীবে সাইয়্যিদুনা রেফায়ী আলকাবীর” নামক গ্রন্থে উক্ত ঘটনা এনেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ খুলাসাতুল আকছীর-৩০] ৩/ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আলমাখজূমী রহঃ [মৃত্যু ৮৮৫ হিজরী]। যিনি নিজের সময়কার শাইখুল ইসলাম ছিলেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ আলআলাম লিযযারকালী-৬/২৩৮] তিনিও তার কিতাব “সিহাহুল আখবার” নামক গ্রন্থে শায়েখ রেফায়ী রহঃ এর ঘটনাটি সনদসহ উল্লেখ করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ সিহাউল আখবার-৬৯] ৪/ ইমাম ইজ্জুদ্দীন আহমাদ বিন ইব্রাহীম আলফারূছী রহঃ [মৃত্যু ৬৯৪ হিজরী]। যাকে ইমাম যাহাবী রহঃ ইমাম, মুকরী, ওয়ায়েজ, মুফাসসির, খতীব, শাইখুশ শায়েখ, ফক্বীহ, সালাফী, মুদাররিস, কিরাতের অভিজ্ঞ, মুফতী, আবেদ এবং সুফী বলেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ তারীখুল ইসলাম-১৫/৭৮২] এই ইমাম মুফতী শায়েখও তার কিতাব “ইরশাদুল মুসলিমীন” এ এ ঘটনা সনদসহ বর্ণনা করেছেন। [ইরশাদুল মুসলিমীন-৮৮] ৫/ শায়েখ ইজ্জুদ্দীন আহমাদ সাঈদ রহঃ। [মৃত্যু ৬৭০ হিজরী] তিনিও তার কিতাবে উক্ত ঘটনা নকল করেছেন। দেখুন-আলমাআরেফুল মুহাম্মাদিয়া-৫৯] ৬/ শায়েখ শরফুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আব্দুস শামী রহঃ [মৃত্যু ৫৮০ হিজরী]। তিনিও তার কিতাবে উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেছেন। দেখুন- আলবুরহানুল মুআইয়্যিদ-১২, ইরশাদুল মুসলিমীন-১৫৪] শায়েখ মুহাম্মদ বিন আব্দুস শামী রহঃ শায়েখ কাবীর রেফায়ী রহঃ এর ছাত্র ছিলেন। সুতরাং তার বর্ণনাটির সনদেরও কোন প্রয়োজন নেই। ৭/ হাফেজ তাক্বীউদ্দীন আব্দুর রহমান আলওয়াসেতী রহঃ [মৃত্যু ৭৪৪ হিজরী] এর মত হাফিজে হাদীস ও মুহাদ্দিস তার কিতাবে উক্ত ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন। দেখুন-তরয়াকুল মুহিব্বীন-১/১২] ৮/ ইমাম, হাফিজ, মুহাদ্দিস আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ [মৃত্যু ৯১১ হিজরী] যাকে উলামাগণ ইমাম, হাফিজ, তাজুল মুফাসসিরীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনিও তার কিতাবে উক্ত ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন। [দেখুন-তানবীরুল হালক লিসসুয়ূতী-৫১] এই রেসালা সুয়ুতী রহঃ এর কিতাব “আলহাওয়ী লিলফাতাওয়া” গ্রন্থের মাঝে বিদ্যমান। যেখান থেকে শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহঃ ফাযায়েলে হজ্বে নকল করেছেন। সেই সাথে উক্ত কিতাবের রেফারেন্সও উল্লেখ করেছেন। ৯/ আল্লামা আহমাদ বিন মুহাম্মদ আলওয়াত্রী রহঃ [মৃত্যু ৯৮০ হিজরী]। যাকে উলামায়ে কেরাম ইমামুল কাবীর, আল্লামা, আরিফবিল্লাহ ইত্যাদি বলে মন্তব্য করেছেন। [দেখুন- আলআলাম লিযযিরকালী-১/২৩৪, হিলয়াতুল বাশার-১৩] তিনিও তার কিতাব “রউজাতুন নাজিরীন” এ উক্ত ঘটনা নকল করেছেন। [দেখুন-রউজাতুন নাজিরীন-৫৪] ১০/ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুর রউফ আলমানায়ী রহঃ [মৃত্যু ১০৩১ হিজরী]। যাকে উলামাগণ আরিফবিল্লাহ, উস্তাজুল কাবীর, ইমামুল কাবীর, আলিম এবং দ্বীন ও ফুনুনের বড় উলামা বলে মন্তব্য করেছেন। [গ্রন্থ সূত্রঃ খুলাসাতুল আছার-২/১৯৩, আলআলাম লিযযিরকালী-৬/২০৪] তিনিও তার কিতাবে উক্ত ঘটনা নকল করেছেন। [দেখুন- আলকাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ-২/২২০] আমরা মাত্র দশটি কিতাবের রেফারেন্স পেশ করলাম। যেসব কিতাবে উক্ত ঘটনাটি নকল করা হয়েছে। অনেকেই বিশুদ্ধ সনদসহ উল্লেখ করেছেন। লম্বা না হলে আরো পেশ করা হতো। সালাফের কিতাবের মাঝে প্রায় ৫০টি কিতাবের উর্দ্ধে কিতাবের মাঝে উক্ত ঘটনাটি নকল করা হয়েছে। এসব মুহাদ্দিস, মুহাক্কিক, ও বড় বড় শায়েখগণ তাদের কিতাবে সনদসহ তা নকল করেছেন। এরপরও যদি কোন অন্ধ উক্ত ঘটনাটিকে বানোয়াট বলে তাহলে আসলে আমাদের কিছু বলার নেই। একটি সন্দেহ! উপরোক্ত ঘটনা বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত এতে কোন সন্দেহ নেই। যা আমরা উপরের বিস্তারিত দলীলসমৃদ্ধ আলোচনা ও সনদের পর্যালোচনা দ্বারা প্রতিভাত হয়ে গেছে। কিন্তু এখানে একটি কথা বাকি রয়ে যায়। সেটি হল, নব্বই হাজার লোকজন একসাথে কিভাবে তা প্রত্যক্ষ্য করল? জবাব এটি মূলত পুরোটাই কারামত। কিভাবে হয়েছিল তা আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। তবে এটাও বলা যেতে পারে যে, হতে পারে পরবর্তীতে কেউ উক্ত কথাটি সংযুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু একথাটির কারণে মূল ঘটনা তথা হাত বের হওয়া ও মুসাফাহা করার বিষয়টি অস্বিকার করার কোন সুযোগ নেই। যেহেতু তা বিশুদ্ধ সনদসহ প্রচুর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেই সাথে চাক্ষুস সাক্ষ্যির বর্ণনাও বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে। তাই এ ঘটনাটিকে অস্বিকার করা অজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয়। পরিশেষে, উপরোক্ত ঘটনাটিকে সমর্থন ও প্রমাণ হিসেবে উপমহাদেশীয় দেওবন্দী ফির্কার দাওয়াত ও তাবলিগের সিলেবাসভূক্ত তাবলিগের উদ্দেশ্যে রচিত কিতাব, যার পূর্বতন নাম তাবলিগী নেসাব / বর্তমান নাম ফাযায়েলে আমাল, ২য় খন্ড, ফাযায়েলে হজ্ব উর্দু-১৩০-১৩১, বাংলা ফাযায়েলে হজ্ব-২৩১পৃষ্ঠায় আহলুস সুন্নাহর আক্বিদার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি থেকে সুন্নী আক্বিদা শিক্ষার জন্যে দাওয়াত ও তাবলীগ করা হয়েছে। আফসোস, বর্তমান দেওবন্দী আলেমরা লা মাযহাবীদের গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে ওয়াহাবী পেট্রোডলারের লোভে বিবেককে বিক্রি করার কারণে এই সকল পবিত্র ঘটনাকে শিরক, বিদা’আত বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। মহান আল্লাহ্ পাক সকলকে আহলুস সুন্নাহর আক্বিদায় সীরাতুল মুস্তাকিমে জীবন গড়ার তৌফীক দিন, আমীন।

Advertisements

সৃষ্টকুলে নবীজি ﷺ এর মত কেউ নেই

Standard

💐 সৃষ্টকুলে নবীজি ﷺ এর মত কেউ নেই 💚 =============== ‎عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : ” نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الوِصَالِ ، قَالُوا : فِإِنَّكَ تُوَاصِلُ ، قَالَ : أيُّكُمْ مِثْلِي ؟ ، إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِ . (متفق عليه) উচ্চারণঃ ‘আন আবি হুরায়রাতা, ক্বালাঃ নাহা রাসুলুল্লাহি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামা ‘আনিল বিসালে, ক্বালুঃ ফা-ইন্নাকা তুওয়াসসিলু, ক্বালাঃ আইয়্যুকুম মিছলী? ইন্নি আবিতু ইউত্ব-‘ইমনী রাব্বী ওয়া ইয়াসক্বীনি। (মুত্তাফাক্বুন আলাইহি) অনুবাদঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওমে ওয়েসাল (এমন রোজা যার কোন সেহরিও নেই ইফতারও নেই) রাখতে নিষেধ করেছেন।তখন কিছু সাহাবী নবীজি (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামা) এর নিকট আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! আপনি নিজেওতো সওমে ওয়েসাল পালন করেন। নবীজি এরশাদ করলেন, তোমাদের মধ্যে কে আছ আমার মত? আমিতো এমন ভাবে রাত্রিযাপন করি যেন আমার রব আমাকে খাওয়ান এবং পান করান। [সহিহ বোখারী, রোজা অধ্যায় ২/৬৯৩ হাঃ ১৮৬১ সহিহ মুসলিম ২/৭৭৪ হাঃ ১১০২ সুনানে আবু দাউদ ২/৩০২ হাঃ ২৩৬০ সুনানে কুবরা নাসাঈ ২/২৪১ হাঃ ২৩৬৩ মুয়াত্তা ইমাম মালেক ১/৩০০ হাঃ ৬৬৭ মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল ২/১০২ হাঃ ৫৭৯৫ সহিহ ইবনে হিব্বান, ৮/৩৪১ হাঃ ৩৫৭৫]

কুরবানির ফযিলত ও কিছু আহকাম

Standard

জুমার খুতবা ****************************** যুলক্বদাহ শরীফ, ১৪৩৮ হি: ২৫ আগষ্ট, ২০১৭ কুরবানির ফযিলত ও কিছু আহকাম ========================= সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আযহারী সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ. খতীব, মুসাফির খানা জামে মসজিদ, নন্দন কানন, চট্টগ্রাম. بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين, أما بعد! মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও আদেশ অনুগত পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের আত্মত্যাগের মহান স্মৃতি বিজড়িত কুরবানি। আল্লাহর আদেশে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আপন পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার ঘটনাকে স্বরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই দিবসটি পালন করে। আরবি ‘কুরবান’ শব্দটি উর্দু বা ফারসিতে ‘কুরবানি’ রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। যার অর্থ সান্নিধ্য, নৈকট্য। আর ‘কুরবান’ শব্দটি ‘কুরবাতুন’ শব্দ থেকে নির্গত। আরবি ‘কুরবান’ ও ‘কুরবাতুন’ উভয় শব্দের শাব্দিক অর্থ সান্নিধ্য লাভ করা, নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য লাভ করা। ইসলামী শরিয়ার পরিভাষায় কুরবানি ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন ও তাঁর ইবাদতের জন্য হালাল কোন জন্তু যবেহ করা হয়। (মুফরাদাত: ইমাম রাগিব, আল-কামুসূল মুহিত) আত্মত্যাগ, আত্মউৎসর্গ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, মৈত্রী, সম্প্রীতি, ভালবাসা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের সুমহান মহিমায় চিরভাস্বর কুরবানি। কুরবানি মুসলিম জীবনের ইবাদতের এক তাৎপর্যপূর্ণ গৌরবের উৎস। মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক যুগে যুগে প্রেরিত অসংখ্য নবী-রাসুল আলাইহিমুস সালামকে অনেক কঠিন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং তাঁরা সকলেই এতে কামিয়াবও হয়েছেন কৃতিত্বের সাথে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম, যিনি প্রতিটি পরীক্ষায় পাহাড়সম ধৈর্য্য ও ত্যাগের মাধ্যমে কৃতকার্য হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে কুরআনুল করীমে এরশাদ হয়েছে: وَإِذِ ابْتَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ “(হে হাবীব! আরও স্মরণ করুন) যখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) কে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতপর তিনি তা পূর্ণ করলেন, তখন তিনি (আল্লাহ তা’লা) বললেন, আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম হিসাবে চয়ন করে নিলাম। তিনি (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার ভবিষ্যৎ বংশধরও তা পাবে, তিনি (আল্লাহ তা’লা) বললেন, আমার এ প্রতিশ্রুতি যালিমরা পাবেনা’’ (বাকারাহ-১২৪) আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন এভাবে: فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ “অতঃপর তিনি (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) যখন পিতার (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) সাথে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলেন তখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি তোমাকে কুরবানী করছি, এখন তোমার অভিমত কী? তিনি (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) বললেন, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’ (সূরা সাফফাত-১০২) কুরবানির যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হলো। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পুত্রকে শুইয়ে কুরবানি করার উদ্যোগ নিতেই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ‘ইবরাহিম থামো’ বলে আওয়াজ এলো। আর তখন কুদরতিভাবে আসা একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে গেল। হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশ পালনে সফল হলেন। পুত্রকে কুরবানি করার সিদ্ধান্ত ও আয়োজনে আল্লাহ খুশি হলেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কুরবানি প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বাণী: لَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ. وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ .قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ .إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ . وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ . وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ “দুজনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিলেন আর ইবরাহিম তাকে কাত করে শুইয়ে দিলেন। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমিতো স্বপ্নকে সত্য প্রমাণিত করে দেখালে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এক মহান কুরবানির বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নিলাম। আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয করে রাখলাম।’’ (সূরা সাফ্ফাত-১০৩-১০৮) হযরত যাইদ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সূত্রে বর্ণিত, قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ قَالَ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوا فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ من الصوف حَسَنَةٌ একদা কতেক সাহাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আরয করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! কুরবানি কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পিতামহ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর সুন্নাত। তাঁরা পুনঃজিজ্ঞাসা করেন, এতে আমাদের ফায়দা কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরবানির পশুর প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তোমাদের জন্য রয়েছে একটি করে নেকি।’ (ইবনে মাজাহ, কিতাবুল আদ্বাহী, বাবু সাওয়াবুল্ উদ্বহিয়্যাহ, হা-৩১২৭)। কুরবানীর মূল প্রাণ হল ইখলাস: ——————————— হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের আত্মত্যাগ ও আল্লাহ প্রেমের মহিমাকে স্মরণ করেই ঈদুল আযহায় কুরবানির উৎসব পালন করা হয়। দুনিয়ার প্রতিটি সঙ্গতিপূর্ণ, সামর্থ্যবান মুসলমান এ দিনটিতে আত্মত্যাগের উদাহরণ স্বরূপ পশু কুরবানি করে থাকে। কুরবানীর প্রাণ কথা হল তাকওয়া-খোদাভীতি, আল্লাহর প্রতি নিখুঁত মহব্বত ও আল্লাহর রাহে নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা। তবে আল্লাহর নিকট পশুর রক্ত, গোশত কিছুই পৌঁছে না। তাঁর নিকট পৌঁছে মানুষের তাকওয়া বা প্রভুভক্তি। আল্লাহ বলেন: قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করে নেন।” (সূরা মায়িদা:২৭) তিনি আরো বলেন: لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ ۚ “আল্লাহর কাছে না এসব (কুরবানিকৃত) পশুর গোশত পৌঁছে, না তার রক্ত; বরং তার নিকট তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে থাকে।” (সূরা হজ্ব : ৬৭) আল্লাহ বলেন: قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ “বলুন, আমার সলাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আনআমঃ ১৬২-১৬৩) এই কারণেই পূর্ণ ইখলাস ও মুহাব্বতের সাথে শুধুই আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেযামন্দীর জন্য কেউ কুরবানী করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। লোক দেখানো কুরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হওয়ার কথা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًاগ্ধ (জামে তিরমিযী হাদীস : ১৪৯৩ ) কুরবানির বিধান: ————————— কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- “আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুণ ও কুরবানি করুণ।” (সূরা কাওসার: ০২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ، عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَّةٌ وَعَتِيرَةٌ “হে মানবমন্ডলী! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল প্রতি বছর কুরবানি করা।’’ (তিরমিযী, হা-১৫১৮) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসে এসেছে, مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেও না আসে।’’ (ইবনে মাজাহ,৯/২৭৬, হা-৩১১৪. মুসনাদে আহমদ ১৬/৪৬৬ মুসতাদরাক ১৭/৪২৪. বায়হাক্বী: শুয়াবুল ইমান, ১৫/৩৮২, হা-৭০৮৩) যার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব: ———————————— যে ব্যক্তির নিকট নিম্নোক্ত শর্তাবলী পাওয়া যাবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। ১. মুসলিম হওয়া: অমুসলিম ব্যক্তির ওপর শরিয়তের এ বিধান প্রয়োজ্য নয়। ২. স্বাধীন হওয়া: গোলাম বা দাস-দাসীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৩. মুকিম হওয়া: মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৪. সামর্থ্যবান বা ধনী হওয়া: গরীব বা মিসকিনের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ১০ই জিলহজে¦র ফজর থেকে ১২ই জিলহজে¦র সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ কুবানির দিনগুলোতে যার নিকট যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পরিমান অর্থ সম্পদ থাকে তবে তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। উল্লেখ্য যে, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নেই বরং কুরবানির দিন ব্যয়ের উদ্ধৃত, নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। দৈনন্দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মালিককে নিসাবের মালিক বলা হয়। কুরবানি ওয়াজিব না হলেও নফল কুরবানি করলে কুরবানির সওয়াব পাওয়া যাবে। কোন উদ্দেশ্য পুরনের ভিত্তিতে কুরবানির মান্নত করলে যদি সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যায় তবে তার জন্য কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। যার উপর কুরবানি ওয়াজিব সে কুরবানির দিনগুলোতে কোন বিশেষ কারণে কুরবানি করতে না পারলে পরে একটা বকরির দামের সমপরিমান মূল্য সদকাহ করে দিতে হবে। কুরবানীর সময়: —————— কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন কুরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না। ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে কুরবানির সময় শুরু হয়। হযরত বারা ইবনু আ’যেব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে বললেন: عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ نَحَرَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ لَيْسَ مِنْ النُّسْكِ فِي شَيْءٍ “আমাদের এই দিবসে প্রথম কাজ নামায আদায় করা, এরপর কুরবানী করা। সুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরীকা মতো হবে। আর যে আগেই যবেহ করেছে (তার কাজ তরীকা মতো হয়নি) অতএব তা পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত, (আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত) কুরবানী নয়।“ (সহীহ বুখারী ২/৮৩২; সহীহ মুসলিম ২/১৫৪) আর কুরবানির সময় শেষ হবে জিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখ আসর পর্যন্ত । কুরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী: —————————————– ১. এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল গরু, উট, মহিষ, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া। কুরআনের পরিভাষায় এগুলোকে ‘বাহীমাতুল আনআম’ বলা হয়। ২. শরিয়তের দৃষ্টিতে পশুর নির্দিষ্ট বয়স হতে হবে। যেমন উট পাঁচ বছরের হওয়া, গরু বা মহিষ দুই বছরের হওয়া, দুম্বা, ভেড়া, ছাগল এক বছরের হওয়া। ৩. কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। চার ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত, যার কোন অংগ ভেঙ্গে গেছে। ৪. ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কুরবানি করলে তা মাকরূহ হবে। যেমন শিং ভাঙ্গা, লেজ কাটা, কান কাটা ইত্যাদি। গুণগত দিক দিয়ে উত্তম কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুত ও দেখতে সুন্দর হওয়া। ৫. যে পশু কুরবানি করা হবে তার ওপর মালিকের পূর্ণ স্বত্ব থাকা, বন্ধকি পশু, জব্দ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কুরবানি করলে কুরবানি হবে না। যে ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী হয় না: —————————————— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “চার ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায় না: যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতি রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মগজ নেই।” কুরবানীর পশুর গোশত-চামড়া: ——————————— কুরবানির পশুর অংশ (গোশত, চর্বি, দড়ি, চামড়া ইত্যাদি) বিক্রয় করা বৈধ হবে না। কারণ, তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত বস্তু। তাই কোনভাবেই পুনরায় তা নিজের ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা বৈধ নয়। চামড়া বিক্রিত অর্থ সাদকা করে দিতে হয় এবং কুরবানীর পশুর কোনো অংশ কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া নিষেধ। তার পারিশ্রমিক নিজের পক্ষ থেকে দিতে হয়। (সহীহ বুখারী ১/২৩২; সহীহ মুসলিম ১/৪২৩-৪২ ৪) মালিক ইন্তিকাল করলে: ———————— কুরবানির পশুর মালিক ইন্তিকাল করলে তার উত্তরাধিকারীদের (ওয়ারিশ) দায়িত্ব হল তা বাস্তবায়ন করা। পশু দোষ যুক্ত হলে বা হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে: কুরবানির দাতার অবহেলার কারণে পশু দোষযুক্ত হলে বা হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে তার দায়িত্ব হল তার মত বা তার চেয়ে উত্তম পশু ক্রয় করে কুরবানি করা। যদি পশুটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায় আর কুরবানিদাতার ওপর পূর্ব থেকেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে সে কুরবানি থেকে অব্যাহতি পাবে। আর যদি ওয়াজিব ছিল না কিন্তু সে কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করেছে তাহলে চুরি হলে, মারা গেলে বা হারিয়ে গেলে তাকে আবার পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। কুরবানির গোশত বণ্টন: —————————– কুরবানির গোশত বণ্টন ও খাওয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, كُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ“অতঃপর তোমরা তা হতে আহার কর এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।” (সূরা হজ্জ-২৮)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ“তখন তা হতে তোমরা খাও এবং হতদরিদ্র ও যাচনা উভয় ধরনের অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।” (সূরা হজ্ব : ৩৬) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, كُلُوا وأَطْعِمُوا واحبِسُوا وادَّخِروا“তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর।” (সহীহ মুসলিম, হা-২৫৫০) উলামায়ে কেরাম কুরবানির গোশ্ত তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ নিজের, এক ভাগ দুস্থ, গরিব, অভাবীদের জন্য দান করা এবং অপর ভাগ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীকে উপহার দেয়া মুস্তাহাব বলেছেন। কুরবানির গোশ্ত যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করা যাবে। তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না বলে যে হাদীস রয়েছে তার হুকুম রহিত। শরিক কুরবানীতে গোশত ওজন করে বন্টন করা: ——————————————————- গরু, মহিষ, উট কুরবানীতে কাউকে শরিক করলে গোশত ওজন করে বন্টন করাই বাঞ্ছনীয়, অনুমান করে নয়। হতে পারে কেউ বেশি বা কম পাবে তবে তা নাজায়েয। মৃত ব্যক্তির পক্ষে কুরবানি: —————————– কুরবানি মূলত যথাসময়ে জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অবশ্য ইচ্ছা করলে তার মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও কুরবানি করা যেতে পারে। এটা জায়েয ও সওয়াবের কাজ। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাগণ নিজেদের এবং পরিবার-পরিজনদের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। কুরবানি একটি সদকা। মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা ও কল্যাণমূলক কাজ প্রয়োজন ও এটা তাদের জন্য উপকারী। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত আবু রাফে’ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا ضَحَّى ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ ، فَإِذَا صَلَّى وَخَطَبَ النَّاسَ ، أَتَى بِأَحَدِهِمَا وَهُوَ قَائِمٌ فِي مُصَلَّاهُ ، فَذَبَحَهُ بِنَفْسِهِ بِالْمُدْيَةِ ، ثُمَّ يَقُولُ : ” اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا عَنْ أُمَّتِي جَمِيعًا مِمَّنْ شَهِدَ لَكَ بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لِي بِالْبَلَاغِ ” ، ثُمَّ يُؤْتَى بِالْآخَرِ ، فَيَذْبَحُهُ بِنَفْسِهِ , وَيَقُولُ : ” هَذَا عَنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি দিতে ইচ্ছা করলেন তখন দুটি দুম্বা ক্রয় করলেন, যা ছিল বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিংওয়ালা, সাদা-কাল বর্ণের এবং খাসি। তিনি ঈদগাহে থাকাবস্থায় একটি আনা হলে তিনি এটিকে তাঁর ও তাঁর ঐ উম্মতের জন্য কুরবানি করলেন, যারা আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে, আর অন্যটি তাঁর নিজের এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও পরিবারবর্গের জন্য কুরবানি করেন। (মুসনাদে আহমদ, হা-২৬৫৫৫) অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তি নিজেকে বাদ দিয়ে তার মৃত বা জীবিত মা-বাবার পক্ষে কুরবানি করেন। এটা মোটেই ঠিক নয়। যার উপর কুরবানি ওয়াজিব সে তার বাবা-মা বা অন্য কারো জন্য কুরবানি করলেও তার কুরবানির ওয়াজিব আদায় হবে না । কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গ: ——————————————– কুরবানীর সময় আমরা আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত আমল দেখতে পাই, তা হচ্ছে, গরু কিংবা উট কুরবানী দেয়ার সময় তাতে সন্তানের আক্বীকা দেওয়া। হানাফী, শাফেয়ী এবং হাম্বালী মাযহাবের বর্ণনা অনুযায়ী এই রকম করা জায়েয। শর্ত হচ্ছে, সকল অংশীদারের নিয়ত যেন আল্লাহর নৈকট্য হয়, গোস্ত খাওয়া কিংবা অন্য উদ্দেশ্য না হয়। [ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ,৫/৩০৪, বাদাইউস্ সানাঈ,৫/৭২] কুরবানীর একাংশ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য দেওয়া: ——————————————————————————— উল্লেখ থাকে যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিৎ নিজের কুরবানির পাশাপাশি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার নামে কুরবানি করা, কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো নিজের কুরবানির মূহুর্তে স্বীয় উম্মতদেরকে বাদ দেননি। তিনি দুটি ছাগল দ্বারা কুরবানি প্রদান করতেন একটি নিজের পক্ষে, আরেকটি সকল উম্মতের পক্ষে কুরবানি প্রদান করতেন। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার বৈশিষ্ট্য। বরং একভাগ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার নামে হওয়ার কারনে সকলের পক্ষ থেকে আদায় করা কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাবে। দু’জনে মিলে একটি গরু বা মহিষ কুরবানির জন্য ক্রয় করলে উভয়ে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়ার পর অবশিষ্ট এক ভাগকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার জন্য নির্ধারন করা হলে তাও শরীয়ত সম্মত তথা জায়েয এবং উক্ত ভাগের গোশত সবাই ভাগ করে নেবে। আর যদি এক জন উক্ত ভাগের খরচ সম্পূর্ণ বহন করে তবে সে উক্তভাগের গোশত সবগুলো নেবে। অনুরুপভাবে তিন জন মিলে করলেও সবাই উক্ত ভাগে শরীক হতে পারবে এবং গোশত সে অনুপাতে ভাগ করে নেবে। উক্ত ভাগে কয়েকজন টাকা দিয়ে শরীক হলেও ভাগটা এক সত্তার নামে হওয়ার কারনে শরীয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি অশুদ্ধ হবে না। কুরবানীর টাকা দিয়ে বন্যার্তদের সাহায্য ও শরীয়তের বিধান: —————————————————————– কুরবরনী একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত, কুরবানীর টাকা দিয়ে দুস্থদের সাহায্যের নামে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও নিদর্শনকে অবজ্ঞা করা যায় না। যদি কুরবানীর টাকা দিয়ে দুস্থদের সাহায্যের বিধান থাকতো তা’হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগন তাই করতেন, কিন্তু করেননি বরং দূর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনের সময়ও কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কুরবানির গোশ্ত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ না করে দুস্থ ও অভাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কুরবানীর অর্থ দান করার নির্দেশ দেন নি। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত রয়েছে: عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ ” ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا الْعَامَ الْمَاضِي ؟ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا ، فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا ” )صحيح البخاري গ্ধ الأضاحي গ্ধ باب ما يؤكل من لحوم الأضاحي وما يتزود منها, ৫২৪৯. صحيح مسلم গ্ধ كتاب الأضاحي গ্ধ باب بيان ما كان من النهي عن أكل لحوم الأضاحي بعد ثلاث ৩৬৪৮( হযরত সালামাহ ইবনু আকওয়া’ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ তোমাদের যে লোক কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশ্ত কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর আসলে, সাহাবীগণ আরয করলেনঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি এরশাদ করলেনঃ তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ, কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অভাব-অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।[বুখারী-৫২৪৯, মুসলিম হা-৩৬৪৬ ৩৫/৫, হাঃ ১৯৭৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৮) وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

কুরবানী বিষয়ক আরো বিস্তারিত মাসআলা জানতে এখানে ক্লিক করুন- কুরবানীর মাসআলা

ওহাবীদের কুফুরী আকিদা!

Standard

মৌং আশ্রাফ আলী থানভীসহ দেওবন্দীদের আক্বীদা ও শিক্ষা হচ্ছে: ১. “আল্লাহ্ মিথ্যা বলতে পারেন।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৯, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী দেওবন্দী] ২. “আল্লাহ্ আগে জানেন না বান্দা কি কাজ করবে। বান্দা যখন সম্পন্ন করে নেয় তখনই আল্লাহ্ তা জানতে পারেন।” [তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান, পৃষ্ঠা ১৫৭-৫৮, কৃত মৌং হুসাইন আলী ওয়াঁভচরান ওয়ালা দেওবন্দী] ৩. “শয়তান ও মালাকুল মাওত-এর জ্ঞান হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে বেশি।” [বারাহীন-ই ক্বাতি‘আহ্, পৃষ্ঠা ৫১, কৃত খলীল আহমদ আম্বেটভী দেওবন্দী] ৪. “আল্লাহ্র নবীর নিকট নিজের পরিণতি এবং দেয়ালের পেছনের জ্ঞানও নেই।” [বারাহীন-ই ক্বাতি‘আহ্, পৃষ্ঠা ৫১, কৃত খলীল আহমদ আম্বেটভী দেওবন্দী] ৫. “হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ্ তা‘আলা তেমনি জ্ঞান দান করেছেন, যেমন জ্ঞান জানোয়ার, পাগল এবং শিশুদের নিকটও রয়েছে।” [হিফযুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৭, কৃত মৌং আশ্রাফ আলী থানভী দেওবন্দী] ৬. “নামাযে হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি শুধু খেয়াল যাওয়া গরু-গাধার খেয়ালে ডুবে যাওয়া অপেক্ষাও মন্দতর।” [সেরাতে মুস্তাক্বীম, পৃষ্ঠা ৮৬, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ৭. “‘রাহমাতুল্লিল ‘আলামীন’ (সমস্ত বিশ্বের জন্য রহমত) রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাস উপাধি নয়। হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যান্য বুযুর্গকেও ‘রাহ্মাতুল্লিল ‘আলামীন’ বলা যেতে পারে।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১২, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী দেওবন্দী] ৮. “‘খাতামুন্নবিয়্যীন’ অর্থ ‘আখেরী বা শেষনবী’ বুঝে নেওয়া সাধারণ লোকদের খেয়াল মাত্র। জ্ঞানী লোকদের মতে এ অর্থ বিশুদ্ধ নয়। হুযূর আক্রামের যুগের পরও যদি কোন নবী পয়দা হয়, তবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী হওয়ায় কোন ক্ষতি হবে না।” [তাহযীরুন্নাস, পৃষ্ঠা ৩ ও ২৫, কৃত দারুল উলূম দেওবন্দ মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌং কাসেম নানুতভী] ৯. “হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেওবন্দের আলেমদের সাথে সম্পর্কের সুবাদে উর্দূ শিখতে পেরেছেন।” [বারাহীন-ই ক্বাতি‘আহ্, পৃষ্ঠা ২৬, কৃত মৌং খলীল আহমদ আম্বেটভী দেওবন্দী] ১০. “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান শুধু বড় ভাইয়ের মতই করা চাই।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৫৮, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ১১. “আল্লাহ্ তা‘আলা ইচ্ছা করলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমকক্ষ কোটি কোটি পয়দা করতে পারেন।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ১৬, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ১২. “হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করে মাটিতে মিশে গেছেন।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৫৯, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী] ১৩. “নবী-রসূল সবাই অকেজো।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ২৯, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ১৪. “নবী প্রতিটি মিথ্যা থেকে পবিত্র ও মা’সূম হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।” [তাস্ফিয়াতুল্ আক্বাইদ, পৃষ্ঠা ২৫, কৃত মৌং কাসেম নানুতভী] ১৫. “নবীর প্রশংসা শুধু মানুষের মতই কর; বরং তা অপেক্ষাও সংক্ষিপ্ত কর।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৬১, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী] ১৬. “বড় অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আর ছোট অর্থাৎ অন্যসব বান্দা বেখবর ও অজ্ঞ।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৩, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ১৭. “বড় মাখলূক অর্থাৎ নবী, আর ছোট মাখলূক অর্থাৎ অন্যসব বান্দা আল্লাহর শান বা মর্যাদার সামনে চামার অপেক্ষাও নিকৃষ্ট।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ১৪, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ১৮. “নবীকে ‘তাগূত’ (শয়তান) বলা জায়েয।” [তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান, পৃষ্ঠা ৪৩, কৃত. মৌং হুসাইন আলী ওয়াঁভচরান ওয়ালা] ১৯. “নবীর মর্যাদা উম্মতের মধ্যে গ্রামের চৌধুরী ও জমিদারের মত।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৬১, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ২০. “যার নাম মুহাম্মদ কিংবা আলী তিনি কোন কিছুর ইখতিয়ার রাখেন না। নবী ও ওলী কিছুই করতে পারেন না।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৪১, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ২১. “উম্মত বাহ্যিকভাবে আমলের মধ্যে নবী থেকেও বেড়ে যায়।” [তাহযীরুন্নাস, পৃষ্ঠা ৫, কৃত মৌং কাসেম নানুতভী] ২২. “দেওবন্দী মোল্লা হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুলসেরাত হতে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।” [তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান, পৃষ্ঠা ৮, মৌং হুসাইন আলী] ২৩. “‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ আশরাফ আলী রসূলুল্লাহ্’ আর ‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা সায়্যিদিনা ওয়া নবীয়্যিনা আশরাফ আলী’ বলার মধ্যে সান্ত্বনা রয়েছে, কোন ক্ষতি নেই।” [রিসালা-ই ইমদাদ, পৃষ্ঠা ৩৫, সফর – ১৩৩৬ হিজরি সংখ্যা] ২৪. “‘মীলাদুন্নবী’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদ্যাপন করা তেমনি, যেমন হিন্দুরা তাদের কানাইয়্যার জন্মদিন পালন করে।” [বারাহীন-ই ক্বাতি‘আহ্, পৃষ্ঠা ১৪৮, ফাতওয়া-ই মীলাদ শরীফ, পৃষ্ঠা ৮] ২৫. “রসূল চাইলে কিছুই হয়না।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৫৬, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ২৬. “আল্লাহর সামনে সমস্ত নবী ও ওলী একটা নাপাক ফোঁটা অপেক্ষাও নগণ্য।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৫৬, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ২৭. “নবীকে নিজের ভাই বলা দুরস্ত।” [বারাহীন-ই ক্বাতি‘আহ্, পৃষ্ঠা ৩, কৃত মৌং খলীল আহমদ আম্বেটভী] ২৮. “নবী ও ওলীকে আল্লাহর সৃষ্টি ও বান্দা জেনেও উকিল এবং সুপারিশকারী মনে করে এমন মুসলমান সাহায্যের জন্য আহ্বানকারী ও নযর-নিয়াযকারী মুসলমান, আর কাফির আবূ জাহ্ল-শির্কের মধ্যে সমান।” [তাক্ব্ভিয়াতুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৭-২৭, কৃত মৌং ইসমাঈল দেহলভী ওহাবী] ২৯. “‘দরূদ-ই তাজ’ অপছন্দনীয় এবং পাঠ করা নিষেধ।” [ফযাইলে দরূদ শরীফ, পৃষ্ঠা ৯২, ফাযাইলে আ’মাল তথা তাবলীগী নেসাব থেকে পৃথীকৃত] ৩০. মীলাদ শরীফ, মি’রাজ শরীফ, ওরস শরীফ, খতম শরীফ, চেহলামের ফাতিহাখানি এবং ঈসালে সাওয়াব- সবই নাজায়েয, ভুল প্রথা, বিদ’আত এবং কাফির ও হিন্দুদের প্রথা।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫০ এবং ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৩-৯৪, কৃত প্রাগুক্ত] ৩১. “প্রসিদ্ধ কাক খাওয়া সাওয়াব।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩০, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী] ৩২. “হিন্দুদের হোলী-দেওয়ালীর প্রসাদ ইত্যাদি জায়েয।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩২, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী] ৩৩. “ভাঙ্গী-চামারের ঘরের রুটি ইত্যাদির মধ্যে কোন দোষ নেই, যদি পাক হয়।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩০, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী] ৩৪. “হিন্দুদের সুদী টাকায় উপার্জিত অর্থে কূপ বা নলকূপের পানি পান করা জায়েয।” [ফাতাওয়া-ই রশীদিয়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪, কৃত মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গূহী]

তাবলীগের কিতাবে যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”

Standard

তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমাল [Fazail-e-Amaal] এ বর্ণিত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক হাদীস। “যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”। ফাযায়েলে আমালে মুবারাক হাদীসটি উক্ত শিরোনাম (Title)-এ আছে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك অনুবাদঃ ইমামুল মুর্সালীন হযরত নবী কারিম (صلى الله عليه و آله و سلم) ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আঃ থেকে সে অনিচ্ছাকৃত পদস্খলন সংঘটিত হয়, [যার দরূন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি সর্বদা কাঁদতে ছিলেন। আর ইস্তেগফার করতে ছিলেন।] তখন তিনি একবার আসমানের দিকে মুখ করলেন, আর বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলায় আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন অহী নাজীল হয়-মুহাম্মদ কে? [যার অসীলা দিয়ে তুমি দুআ করছো?] তখন তিনি বলেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তখন আমি আরশে লেখা দেখলাম- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, হযরত মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর চেয়ে সর্বোচ্চতর ব্যক্তিত্ব কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। তোমার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না। [সূত্রঃ ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন।] পর্যালোচনাঃ এ হাদীসের উপর লা মাযহাবী-রাফাদানী-সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস-ওয়াহাবীদের উত্থাপিত প্রথম প্রশ্ন- এ রেওয়ায়েত তথা বর্ণনাটি দুর্বল। বরং মওজু তথা জাল। এ হাদীসের উপর উত্থাপিত দ্বিতীয় প্রশ্ন- এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত। কারণ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যে, হযরত আদম আঃ কে আল্লাহ তাআলা কিছু বাক্য শিখিয়েছিলেন, যখন তিনি তা পড়েছেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী- فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ٢:٣٧ অর্থাৎঃ অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা বাকারা, আয়াত নং-৩৭।] অথচ উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় দুআ করেছেন, তারপর তাঁর তওবা কবুল হয়, তাহলেতো এ হাদীস কুরআনের বিপরীত। তাই এ হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়। এই হচ্ছে বর্তমান রাফাদানী ওয়াহাবীদের মোটের উপর দু’টি অভিযোগ। এ দু’টি অভিযোগের জবাব নিম্নে দেয়া গেল। উত্থাপিত ১ম অভিযোগের জবাবঃ দাওয়াত ও তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমালে বর্ণিত এ বর্ণনাটি জাল। একথা আমরা কিছুতেই মানি না। তবে একথা মানি যে, এটা দুর্বল বর্ণনা, বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের দূর্বলতার কারণে। তবে এটা এমন দুর্বল হাদীস নয় যে, এটাকে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। বরং তা ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণীয় (Acceptable) পর্যায়ের দুর্বল হাদীস। নিম্ন বর্ণিত ওলামায়ে কেরাম উক্ত হাদীসটিকে দলিলযোগ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন- ০১-আল্লামা কাসতাল্লানী রহঃ : আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ-২/৫২৫, ০২-ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) : দালাইলুন নুবুওওয়াহ-৫/৪৮৯। ০৩-আল হাকিম-২/৬১৫। তাহকীকঃ ______________ ইমাম তকী উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের। রেফারেন্সঃ শিফা উস সাকাম-১২০ ইমাম হাকিম বলেন, হাদীসটি সহীহ। রেফারেন্সঃ আল মুসতাদরাক-২/৬১৫ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর স্বীকৃতিঃ _______________ যারা আজ এ অপপ্রচার করছে, সেই লা মাযহাবীদের শায়েখ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এই হাদীসটি তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি এটা ভিত্তিহীনই হতো, তবে কেন তিনি তা তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন? তিনি কি জানতেন না, কোনটা সহীহ আর কোনটা বানোয়াট? তিনি ‘যদি মুহাম্মাদ না হতেন, তবে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন, এ হাদীসটি পূর্বের কথাকে কথাকে শক্তিশালী করেছে। রেফারেন্সঃ মাজমু উল ফাতাওয়া- ২/১৫৯। ভাবুন, ভিত্তিহীন কোন কথা দিয়ে কি কোন কিছু শক্তিশালী করা যায়? ইমাম ইবনু কাসীরের স্বীকৃতিঃ ________________________ ইমাম ইবনু কাসীর পরিস্কার বলেছেন, এই হাদীসটি মাওযু বা বানোয়াট নয়। এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে। ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন, হাদীসের বর্ণনাকারী আব্দুর রাহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম মিথ্যাবাদী নন। এবং এ হাদীসটি ও জাল নয়। বরং হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী। এমন হাদিস দ্বারা দলীল প্রদান করা যাবে নিঃসন্দেহে। দেখুন, আসসীরাহ- ১/১৯৫। রেফারেন্সঃ আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫ যেসব কিতাবে এ হাদীসটির সমর্থন বর্ণিতঃ আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫০২, আল মুজামুস সগীর লিত তাবরানী, হাদীস নং-৯৯২, এছাড়া আরও রয়েছে ইমাম বায়হাকী রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ সহ ইমাম আবু নুআইম রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ, আদ দুরার কিতাবে ইবনে আসাকীর রহঃ, এবং রয়েছে মাযমাউজ যাওয়ায়েদ কিতাবে। এ হাদীসের মূল বক্তব্যের উপর আরো দু’টি হাদীস রয়েছে। যথা- عن عبد الله بن شقيق ؛ أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم : متى كنت نبيا ؟ قال : كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب المغازى، ما جاء في مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، رقم الحديث-৩৭৭০৮) অনুবাদঃ আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে বর্ণিত। রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে এক লোক প্রশ্ন করলেন-আপনি কখন থেকে নবী? তিনি বললেন-আমি তখন থেকেই নবী যখন হযরত আদম আঃ রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন। (অর্থাৎ তখনো সৃষ্টি হন নি।) [সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৭৭০৮, মাশকিলুল আসার লিত তাহাবী, হাদীস নং-৫২২২, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-৩১৯১৭, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১৫৮৩৫।] অপর একটি মুবারাক হাদিস থেকে জানা যায়ঃ عن العرباض بن سارية الفزاري قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( إني عند الله مكتوب بخاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته (صحيح ابن حبان، كتاب التاريخ، باب من صفته صلى الله عليه و سلم وأخباره، رقم الحديث-৬৪০৪) অনুবাদঃ হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-নিশ্চয় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন হযরত আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন। [সূত্রঃ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১।] সুতরাং এ বর্ণনাটিকে জাল বলাটা বাড়াবাড়ি আর কিছু নয়। উত্থাপিত ২য় অভিযোগের জবাবঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস আল্লাহ তাআলার বাণীরই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। আমরা কুরআনের ব্যাখ্যা সর্ব প্রথম রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস দ্বারাই গ্রহণ করে থাকি। কুরআনে কারীমে একথা রয়েছে যে, হযরত আদম আঃ কে কিছু কালিমা আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন, যা পড়ার দরূন তার তওবা কবুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত আদম আঃ কে তওবার ওসীলা কালিমা শিক্ষা দেয়াটা ছিল একটি নেয়ামত। আর নেয়ামত সাধারণত কোন নেক আমলের কারণে পাওয়া যায়। হযরত আদম আঃ এর পাওয়া তওবার অসীলা সেসব কালিমা শিখতে পাওয়ার নেয়ামত কোন নেক আমলের কারণে পেয়েছিলেন? তা কুরআনে বর্ণিত নেই। হাদীসের মাঝে সেই নেক আমলের কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। সেই নেক আমলটি হল, হযরত আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন। সুতরাং এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত অর্থবোধক রইল কিভাবে? [সূত্রঃ শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ প্রণীত তাফসীরে ফাতহুল আজীজ-১/১৮৩।] মহান আল্লাহ্ পাক সকলকে প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর শান-মান বুঝার ও তদানুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনের তৌফীক নসীব করুন, আমীন।