জিলহজ্জ মাসের ১০ দিনের ফযীলত

Standard

জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের ফযীলত باب مَا جَاءَ فِي الْعَمَلِ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ “‏ مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ ‏”‏ ‏.‏ (سنن الترمذي، كتاب الصوم عن رسول الله ﷺ: 758) আবূ হুরাইরা(রাঃ)হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহী ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ। (সুনানে তিরমিযী: 758) Abu Hurairah (Ra.) narrated that: the Prophet ﷺ)) said: “There are no days more beloved to Allah that He be worshipped in them than the ten days of Dhul- Hijjah, fasting every day of them is the equivalent of fasting a year, and standing every night of them (in prayer) is the equivalent of standing on the Night of Qadr.” (Sunan at – timidhi: 758)

Advertisements

কুরবানির ফযিলত ও কিছু আহকাম

Standard

জুমার খুতবা ****************************** যুলক্বদাহ শরীফ, ১৪৩৮ হি: ২৫ আগষ্ট, ২০১৭ কুরবানির ফযিলত ও কিছু আহকাম ========================= সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আযহারী সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ. খতীব, মুসাফির খানা জামে মসজিদ, নন্দন কানন, চট্টগ্রাম. بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين, أما بعد! মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও আদেশ অনুগত পুত্র হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের আত্মত্যাগের মহান স্মৃতি বিজড়িত কুরবানি। আল্লাহর আদেশে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আপন পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার ঘটনাকে স্বরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিমরা এই দিবসটি পালন করে। আরবি ‘কুরবান’ শব্দটি উর্দু বা ফারসিতে ‘কুরবানি’ রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। যার অর্থ সান্নিধ্য, নৈকট্য। আর ‘কুরবান’ শব্দটি ‘কুরবাতুন’ শব্দ থেকে নির্গত। আরবি ‘কুরবান’ ও ‘কুরবাতুন’ উভয় শব্দের শাব্দিক অর্থ সান্নিধ্য লাভ করা, নিকটবর্তী হওয়া, নৈকট্য লাভ করা। ইসলামী শরিয়ার পরিভাষায় কুরবানি ঐ মাধ্যমকে বলা হয়, যার দ্বারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন ও তাঁর ইবাদতের জন্য হালাল কোন জন্তু যবেহ করা হয়। (মুফরাদাত: ইমাম রাগিব, আল-কামুসূল মুহিত) আত্মত্যাগ, আত্মউৎসর্গ, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য, মৈত্রী, সম্প্রীতি, ভালবাসা, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের সুমহান মহিমায় চিরভাস্বর কুরবানি। কুরবানি মুসলিম জীবনের ইবাদতের এক তাৎপর্যপূর্ণ গৌরবের উৎস। মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক যুগে যুগে প্রেরিত অসংখ্য নবী-রাসুল আলাইহিমুস সালামকে অনেক কঠিন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং তাঁরা সকলেই এতে কামিয়াবও হয়েছেন কৃতিত্বের সাথে। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম, যিনি প্রতিটি পরীক্ষায় পাহাড়সম ধৈর্য্য ও ত্যাগের মাধ্যমে কৃতকার্য হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে কুরআনুল করীমে এরশাদ হয়েছে: وَإِذِ ابْتَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ “(হে হাবীব! আরও স্মরণ করুন) যখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) কে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতপর তিনি তা পূর্ণ করলেন, তখন তিনি (আল্লাহ তা’লা) বললেন, আমি তোমাকে মানব জাতির ইমাম হিসাবে চয়ন করে নিলাম। তিনি (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) বললেন, আমার ভবিষ্যৎ বংশধরও তা পাবে, তিনি (আল্লাহ তা’লা) বললেন, আমার এ প্রতিশ্রুতি যালিমরা পাবেনা’’ (বাকারাহ-১২৪) আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন এভাবে: فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ “অতঃপর তিনি (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) যখন পিতার (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) সাথে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলেন তখন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) বললেন, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি তোমাকে কুরবানী করছি, এখন তোমার অভিমত কী? তিনি (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) বললেন, হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় অচিরেই আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’ (সূরা সাফফাত-১০২) কুরবানির যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হলো। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম পুত্রকে শুইয়ে কুরবানি করার উদ্যোগ নিতেই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ‘ইবরাহিম থামো’ বলে আওয়াজ এলো। আর তখন কুদরতিভাবে আসা একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে গেল। হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশ পালনে সফল হলেন। পুত্রকে কুরবানি করার সিদ্ধান্ত ও আয়োজনে আল্লাহ খুশি হলেন। ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কুরবানি প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের বাণী: لَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ. وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ .قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ .إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ . وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ . وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ “দুজনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিলেন আর ইবরাহিম তাকে কাত করে শুইয়ে দিলেন। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইবরাহিম! তুমিতো স্বপ্নকে সত্য প্রমাণিত করে দেখালে। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এক মহান কুরবানির বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নিলাম। আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয করে রাখলাম।’’ (সূরা সাফ্ফাত-১০৩-১০৮) হযরত যাইদ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সূত্রে বর্ণিত, قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ قَالَ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوا فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ من الصوف حَسَنَةٌ একদা কতেক সাহাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আরয করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! কুরবানি কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পিতামহ হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর সুন্নাত। তাঁরা পুনঃজিজ্ঞাসা করেন, এতে আমাদের ফায়দা কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুরবানির পশুর প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তোমাদের জন্য রয়েছে একটি করে নেকি।’ (ইবনে মাজাহ, কিতাবুল আদ্বাহী, বাবু সাওয়াবুল্ উদ্বহিয়্যাহ, হা-৩১২৭)। কুরবানীর মূল প্রাণ হল ইখলাস: ——————————— হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের আত্মত্যাগ ও আল্লাহ প্রেমের মহিমাকে স্মরণ করেই ঈদুল আযহায় কুরবানির উৎসব পালন করা হয়। দুনিয়ার প্রতিটি সঙ্গতিপূর্ণ, সামর্থ্যবান মুসলমান এ দিনটিতে আত্মত্যাগের উদাহরণ স্বরূপ পশু কুরবানি করে থাকে। কুরবানীর প্রাণ কথা হল তাকওয়া-খোদাভীতি, আল্লাহর প্রতি নিখুঁত মহব্বত ও আল্লাহর রাহে নিজের প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করা। তবে আল্লাহর নিকট পশুর রক্ত, গোশত কিছুই পৌঁছে না। তাঁর নিকট পৌঁছে মানুষের তাকওয়া বা প্রভুভক্তি। আল্লাহ বলেন: قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ “নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করে নেন।” (সূরা মায়িদা:২৭) তিনি আরো বলেন: لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنْكُمْ ۚ “আল্লাহর কাছে না এসব (কুরবানিকৃত) পশুর গোশত পৌঁছে, না তার রক্ত; বরং তার নিকট তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে থাকে।” (সূরা হজ্ব : ৬৭) আল্লাহ বলেন: قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ ۖ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ “বলুন, আমার সলাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি এর জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম।” (সূরা আনআমঃ ১৬২-১৬৩) এই কারণেই পূর্ণ ইখলাস ও মুহাব্বতের সাথে শুধুই আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রেযামন্দীর জন্য কেউ কুরবানী করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। লোক দেখানো কুরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হওয়ার কথা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًاগ্ধ (জামে তিরমিযী হাদীস : ১৪৯৩ ) কুরবানির বিধান: ————————— কুরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- “আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুণ ও কুরবানি করুণ।” (সূরা কাওসার: ০২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ، عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَّةٌ وَعَتِيرَةٌ “হে মানবমন্ডলী! প্রত্যেক পরিবারের দায়িত্ব হল প্রতি বছর কুরবানি করা।’’ (তিরমিযী, হা-১৫১৮) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীসে এসেছে, مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারেও না আসে।’’ (ইবনে মাজাহ,৯/২৭৬, হা-৩১১৪. মুসনাদে আহমদ ১৬/৪৬৬ মুসতাদরাক ১৭/৪২৪. বায়হাক্বী: শুয়াবুল ইমান, ১৫/৩৮২, হা-৭০৮৩) যার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব: ———————————— যে ব্যক্তির নিকট নিম্নোক্ত শর্তাবলী পাওয়া যাবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। ১. মুসলিম হওয়া: অমুসলিম ব্যক্তির ওপর শরিয়তের এ বিধান প্রয়োজ্য নয়। ২. স্বাধীন হওয়া: গোলাম বা দাস-দাসীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৩. মুকিম হওয়া: মুসাফিরের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ৪. সামর্থ্যবান বা ধনী হওয়া: গরীব বা মিসকিনের ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়। ১০ই জিলহজে¦র ফজর থেকে ১২ই জিলহজে¦র সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ কুবানির দিনগুলোতে যার নিকট যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পরিমান অর্থ সম্পদ থাকে তবে তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে। উল্লেখ্য যে, কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নেই বরং কুরবানির দিন ব্যয়ের উদ্ধৃত, নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তুর অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব। দৈনন্দিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মালিককে নিসাবের মালিক বলা হয়। কুরবানি ওয়াজিব না হলেও নফল কুরবানি করলে কুরবানির সওয়াব পাওয়া যাবে। কোন উদ্দেশ্য পুরনের ভিত্তিতে কুরবানির মান্নত করলে যদি সেই উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যায় তবে তার জন্য কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যায়। যার উপর কুরবানি ওয়াজিব সে কুরবানির দিনগুলোতে কোন বিশেষ কারণে কুরবানি করতে না পারলে পরে একটা বকরির দামের সমপরিমান মূল্য সদকাহ করে দিতে হবে। কুরবানীর সময়: —————— কুরবানি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত একটি ইবাদত। এ সময়ের পূর্বে যেমন কুরবানি আদায় হবে না তেমনি পরে করলেও আদায় হবে না। ঈদের সালাত আদায় করার পর থেকে কুরবানির সময় শুরু হয়। হযরত বারা ইবনু আ’যেব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে বললেন: عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا وَمَنْ نَحَرَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ لَيْسَ مِنْ النُّسْكِ فِي شَيْءٍ “আমাদের এই দিবসে প্রথম কাজ নামায আদায় করা, এরপর কুরবানী করা। সুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরীকা মতো হবে। আর যে আগেই যবেহ করেছে (তার কাজ তরীকা মতো হয়নি) অতএব তা পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত, (আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত) কুরবানী নয়।“ (সহীহ বুখারী ২/৮৩২; সহীহ মুসলিম ২/১৫৪) আর কুরবানির সময় শেষ হবে জিলহজ্জ মাসের ১২ তারিখ আসর পর্যন্ত । কুরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলী: —————————————– ১. এমন পশু দ্বারা কুরবানি দিতে হবে যা শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেগুলো হল গরু, উট, মহিষ, ছাগল, দুম্বা, ভেড়া। কুরআনের পরিভাষায় এগুলোকে ‘বাহীমাতুল আনআম’ বলা হয়। ২. শরিয়তের দৃষ্টিতে পশুর নির্দিষ্ট বয়স হতে হবে। যেমন উট পাঁচ বছরের হওয়া, গরু বা মহিষ দুই বছরের হওয়া, দুম্বা, ভেড়া, ছাগল এক বছরের হওয়া। ৩. কুরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। চার ধরনের পশু দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত, যার কোন অংগ ভেঙ্গে গেছে। ৪. ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কুরবানি করলে তা মাকরূহ হবে। যেমন শিং ভাঙ্গা, লেজ কাটা, কান কাটা ইত্যাদি। গুণগত দিক দিয়ে উত্তম কুরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশত সম্পন্ন, নিখুত ও দেখতে সুন্দর হওয়া। ৫. যে পশু কুরবানি করা হবে তার ওপর মালিকের পূর্ণ স্বত্ব থাকা, বন্ধকি পশু, জব্দ করা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কুরবানি করলে কুরবানি হবে না। যে ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী হয় না: —————————————— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “চার ধরনের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায় না: যে পশুর এক চোখের দৃষ্টিহীনতা স্পষ্ট, যে পশু অতি রুগ্ন, যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং যে পশু এত শীর্ণ যে, তার হাড়ে মগজ নেই।” কুরবানীর পশুর গোশত-চামড়া: ——————————— কুরবানির পশুর অংশ (গোশত, চর্বি, দড়ি, চামড়া ইত্যাদি) বিক্রয় করা বৈধ হবে না। কারণ, তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত বস্তু। তাই কোনভাবেই পুনরায় তা নিজের ব্যবহারে ফিরিয়ে আনা বৈধ নয়। চামড়া বিক্রিত অর্থ সাদকা করে দিতে হয় এবং কুরবানীর পশুর কোনো অংশ কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া নিষেধ। তার পারিশ্রমিক নিজের পক্ষ থেকে দিতে হয়। (সহীহ বুখারী ১/২৩২; সহীহ মুসলিম ১/৪২৩-৪২ ৪) মালিক ইন্তিকাল করলে: ———————— কুরবানির পশুর মালিক ইন্তিকাল করলে তার উত্তরাধিকারীদের (ওয়ারিশ) দায়িত্ব হল তা বাস্তবায়ন করা। পশু দোষ যুক্ত হলে বা হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে: কুরবানির দাতার অবহেলার কারণে পশু দোষযুক্ত হলে বা হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে তার দায়িত্ব হল তার মত বা তার চেয়ে উত্তম পশু ক্রয় করে কুরবানি করা। যদি পশুটি হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায় আর কুরবানিদাতার ওপর পূর্ব থেকেই কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে সে কুরবানি থেকে অব্যাহতি পাবে। আর যদি ওয়াজিব ছিল না কিন্তু সে কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করেছে তাহলে চুরি হলে, মারা গেলে বা হারিয়ে গেলে তাকে আবার পশু কিনে কুরবানি করতে হবে। কুরবানির গোশত বণ্টন: —————————– কুরবানির গোশত বণ্টন ও খাওয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, كُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ“অতঃপর তোমরা তা হতে আহার কর এবং দুস্থ, অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।” (সূরা হজ্জ-২৮)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ ۚ“তখন তা হতে তোমরা খাও এবং হতদরিদ্র ও যাচনা উভয় ধরনের অভাবগ্রস্তকে খাওয়াও।” (সূরা হজ্ব : ৩৬) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, كُلُوا وأَطْعِمُوا واحبِسُوا وادَّخِروا“তোমরা নিজেরা খাও ও অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ কর।” (সহীহ মুসলিম, হা-২৫৫০) উলামায়ে কেরাম কুরবানির গোশ্ত তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ নিজের, এক ভাগ দুস্থ, গরিব, অভাবীদের জন্য দান করা এবং অপর ভাগ আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীকে উপহার দেয়া মুস্তাহাব বলেছেন। কুরবানির গোশ্ত যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করা যাবে। তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না বলে যে হাদীস রয়েছে তার হুকুম রহিত। শরিক কুরবানীতে গোশত ওজন করে বন্টন করা: ——————————————————- গরু, মহিষ, উট কুরবানীতে কাউকে শরিক করলে গোশত ওজন করে বন্টন করাই বাঞ্ছনীয়, অনুমান করে নয়। হতে পারে কেউ বেশি বা কম পাবে তবে তা নাজায়েয। মৃত ব্যক্তির পক্ষে কুরবানি: —————————– কুরবানি মূলত যথাসময়ে জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। অবশ্য ইচ্ছা করলে তার মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকেও কুরবানি করা যেতে পারে। এটা জায়েয ও সওয়াবের কাজ। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবাগণ নিজেদের এবং পরিবার-পরিজনদের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন। কুরবানি একটি সদকা। মৃত ব্যক্তির জন্য সদকা ও কল্যাণমূলক কাজ প্রয়োজন ও এটা তাদের জন্য উপকারী। হাদীস শরীফে এসেছে হযরত আবু রাফে’ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا ضَحَّى ، اشْتَرَى كَبْشَيْنِ سَمِينَيْنِ ، أَقْرَنَيْنِ أَمْلَحَيْنِ ، فَإِذَا صَلَّى وَخَطَبَ النَّاسَ ، أَتَى بِأَحَدِهِمَا وَهُوَ قَائِمٌ فِي مُصَلَّاهُ ، فَذَبَحَهُ بِنَفْسِهِ بِالْمُدْيَةِ ، ثُمَّ يَقُولُ : ” اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا عَنْ أُمَّتِي جَمِيعًا مِمَّنْ شَهِدَ لَكَ بِالتَّوْحِيدِ ، وَشَهِدَ لِي بِالْبَلَاغِ ” ، ثُمَّ يُؤْتَى بِالْآخَرِ ، فَيَذْبَحُهُ بِنَفْسِهِ , وَيَقُولُ : ” هَذَا عَنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ ” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি দিতে ইচ্ছা করলেন তখন দুটি দুম্বা ক্রয় করলেন, যা ছিল বড়, হৃষ্টপুষ্ট, শিংওয়ালা, সাদা-কাল বর্ণের এবং খাসি। তিনি ঈদগাহে থাকাবস্থায় একটি আনা হলে তিনি এটিকে তাঁর ও তাঁর ঐ উম্মতের জন্য কুরবানি করলেন, যারা আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে, আর অন্যটি তাঁর নিজের এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও পরিবারবর্গের জন্য কুরবানি করেন। (মুসনাদে আহমদ, হা-২৬৫৫৫) অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তি নিজেকে বাদ দিয়ে তার মৃত বা জীবিত মা-বাবার পক্ষে কুরবানি করেন। এটা মোটেই ঠিক নয়। যার উপর কুরবানি ওয়াজিব সে তার বাবা-মা বা অন্য কারো জন্য কুরবানি করলেও তার কুরবানির ওয়াজিব আদায় হবে না । কুরবানীর একাংশে আক্বীকা দেওয়া প্রসঙ্গ: ——————————————– কুরবানীর সময় আমরা আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত আমল দেখতে পাই, তা হচ্ছে, গরু কিংবা উট কুরবানী দেয়ার সময় তাতে সন্তানের আক্বীকা দেওয়া। হানাফী, শাফেয়ী এবং হাম্বালী মাযহাবের বর্ণনা অনুযায়ী এই রকম করা জায়েয। শর্ত হচ্ছে, সকল অংশীদারের নিয়ত যেন আল্লাহর নৈকট্য হয়, গোস্ত খাওয়া কিংবা অন্য উদ্দেশ্য না হয়। [ফাতাওয়া হিন্দিয়্যাহ,৫/৩০৪, বাদাইউস্ সানাঈ,৫/৭২] কুরবানীর একাংশ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য দেওয়া: ——————————————————————————— উল্লেখ থাকে যে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির উচিৎ নিজের কুরবানির পাশাপাশি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার নামে কুরবানি করা, কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো নিজের কুরবানির মূহুর্তে স্বীয় উম্মতদেরকে বাদ দেননি। তিনি দুটি ছাগল দ্বারা কুরবানি প্রদান করতেন একটি নিজের পক্ষে, আরেকটি সকল উম্মতের পক্ষে কুরবানি প্রদান করতেন। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার বৈশিষ্ট্য। বরং একভাগ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার নামে হওয়ার কারনে সকলের পক্ষ থেকে আদায় করা কুরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাবে। দু’জনে মিলে একটি গরু বা মহিষ কুরবানির জন্য ক্রয় করলে উভয়ে তিন ভাগে ভাগ করে নেওয়ার পর অবশিষ্ট এক ভাগকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার জন্য নির্ধারন করা হলে তাও শরীয়ত সম্মত তথা জায়েয এবং উক্ত ভাগের গোশত সবাই ভাগ করে নেবে। আর যদি এক জন উক্ত ভাগের খরচ সম্পূর্ণ বহন করে তবে সে উক্তভাগের গোশত সবগুলো নেবে। অনুরুপভাবে তিন জন মিলে করলেও সবাই উক্ত ভাগে শরীক হতে পারবে এবং গোশত সে অনুপাতে ভাগ করে নেবে। উক্ত ভাগে কয়েকজন টাকা দিয়ে শরীক হলেও ভাগটা এক সত্তার নামে হওয়ার কারনে শরীয়তের দৃষ্টিতে কুরবানি অশুদ্ধ হবে না। কুরবানীর টাকা দিয়ে বন্যার্তদের সাহায্য ও শরীয়তের বিধান: —————————————————————– কুরবরনী একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত, কুরবানীর টাকা দিয়ে দুস্থদের সাহায্যের নামে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও নিদর্শনকে অবজ্ঞা করা যায় না। যদি কুরবানীর টাকা দিয়ে দুস্থদের সাহায্যের বিধান থাকতো তা’হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগন তাই করতেন, কিন্তু করেননি বরং দূর্ভিক্ষ ও অভাব-অনটনের সময়ও কুরবানী করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কুরবানির গোশ্ত তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ না করে দুস্থ ও অভাবীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কুরবানীর অর্থ দান করার নির্দেশ দেন নি। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত রয়েছে: عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ ” ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا الْعَامَ الْمَاضِي ؟ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا ، فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا ” )صحيح البخاري গ্ধ الأضاحي গ্ধ باب ما يؤكل من لحوم الأضاحي وما يتزود منها, ৫২৪৯. صحيح مسلم গ্ধ كتاب الأضاحي গ্ধ باب بيان ما كان من النهي عن أكل لحوم الأضاحي بعد ثلاث ৩৬৪৮( হযরত সালামাহ ইবনু আকওয়া’ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ তোমাদের যে লোক কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশ্ত কিছু থেকে যায়। পরবর্তী বছর আসলে, সাহাবীগণ আরয করলেনঃ হে আল্লাহ্র রসূল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি এরশাদ করলেনঃ তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ, কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিল অভাব-অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম, তোমরা তাতে সহযোগিতা কর।[বুখারী-৫২৪৯, মুসলিম হা-৩৬৪৬ ৩৫/৫, হাঃ ১৯৭৪] আধুনিক প্রকাশনী- ৫১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫০৫৮) وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

কুরবানী বিষয়ক আরো বিস্তারিত মাসআলা জানতে এখানে ক্লিক করুন- কুরবানীর মাসআলা

জিলহজ্জ মাসের ফযীলত

Standard

বিষয়: যিলহজ্ব মাসের ফযীলত ========================= সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। # بسم الله الرحمن الرحيم আমাদের মাঝে যিলহজ্ব মাস সমাগত। এ মাস হজ্বের মাস, কুরবানীর মাস। এ মাস অতি ফযীলতপূর্ণ, মহিমান্বিত। আল্লাহ তা’আলার বিধানানুসারে যে চারটি মাস পবিত্র ও সম্মানিত, তার একটি হল যিলহজ্ব মাস। আর এ মাসের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ সময় হল আশারায়ে যিলহজ্ব বা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক। দুটি ইবাদত এ দশকের মর্যাদাকে আরো অধিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ মাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হজ্ব এর বিধান রেখেছেন, যাকে হাদীস শরীফে ইসলামের পাঁচ রুকনের একটি বলা হয়েছে। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্বের আমল মাসটিকে আরো আড়ম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আল্লাহ প্রেমিকরা সাদা ইহরামের কাপড় পরিধান করে বায়তুল্লাহ যেয়ারত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক এবং তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বরকতময় স্থানগুলো যিয়ারত করে নিজেদের আত্মার পিপাসা নিবারণ করেন। হজ্বের সাদা ইহরাম, তালবিয়া পাঠ করা, পবিত্র কাবা তওয়াফ করা, হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) চুমু খাওয়া, সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয় প্রদক্ষিণ করা, আরাফা, মিনা ও মুযদালিফার ময়দানে অবস্থান করা, মদীনাতুন নববীতে গমন করা, মসজিদে নববী শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারক যেয়ারত করা, রওদাতুম মিন রিয়াদিল জান্নাত (জান্নাতের বাগান) এ অবস্থান করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় সাহাবীগণের কবর শরীফ যেয়ারত করা, বদর, উহুদ, খন্দকের মত বিশ্ব বিখ্যাত জিহাদ প্রান্তর পরিদর্শনসহ আরো কত ধরনের কর্মসূচী সম্পৃক্ত হয়ে হজ্বের এ মাসকে করে তুলে আরো বর্ণাঢ্যময়। এ মাসের দ্বিতীয় বিশেষ ইবাদত কুরবানী, যা শা‘আইরে ইসলাম বা ইসলামের নিদর্শন সমূহের অন্যতম। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের জন্যে এ মাসের নির্ধারণ থেকেও এর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য অনুমান করা যায়। তদুপরি কুরআন-হাদীস থেকেও এ মাসের এবং এ মাসের বিশেষ কিছু দিবস-রজনীর মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। কারণ এ মাস চার মহিমান্বিত মাসের অন্যতম, যাকে কুরআন মজীদে “আরবাআ’তুন হুরুম’’ বলা হয়েছে। সূরাতুল ফাজরে (আয়াত: ১-২) আল্লাহ তাআলা যে দশ রজনীর শপথ করেছেন, মুফাসসিরগণের মতে তা এ মাসের প্রথম দশ রাত। তেমনি সূরাতুল হজ্বে (আয়াত-২৮) যে ‘নির্দিষ্ট দিবসগুলোতে’ আল্লাহর নাম স্মরণের প্রসঙ্গ উল্লেখিত হয়েছে, তাও যিলহজ্বের প্রথম দশ দিন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন “আমি মূসা আলাহিস সালামের সাথে ওয়াদা করেছি ত্রিশ রাত্রির এবং তা পূর্ণ করেছি আরো দশ দ্বারা”(আ’রাফ-১৪২) মুফাসসিরগণ বলেছেন, সেই দশদিনও ছিল যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন। এ দশ দিনের মর্যাদা বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তা’আলা মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এ দশ দিনের কসম করেছেন। তিনি বলেন- “শপথ ফজরের ও দশ রাতের” (সূরা ফজর:১-২)। দশ রাত বলতে এখানে যিলহজ্বের দশ রাতকে বুঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম করেন না। ফযিলতপূর্ণ এই মাসের ফযিলত প্রসঙ্গে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন “যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে এতবেশী প্রিয় নয়। সাহাবীগণ প্রশ্ন করেন জিহাদও নয় কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- জিহাদও নয়। তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতিক্রম যে নিজের জান ও মাল নিয়ে জিহাদে বের হয়েছে এবং কিছু নিয়ে ফিরে আসেনি। অর্থাৎ শহীদ হয়ে গিয়েছে।” (বোখারী শরীফ- ৯২৬, তিরমিযী শরীফ- ৭৫৭) রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহর ইবাদতের জন্য যিলহজ্বের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম কোন দিন নেই, এর একদিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত ক্বদরের রাত্রের ইবাদতের সমতুল্য। (তিরমিযী, ইবনে মাজা) হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরাফাহর দিনে রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি ইরশাদ করেন, “এর দ্বারা অতীতের এক বছর এবং ভবিষ্যতের এক বছরের গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায় তথা ক্ষমা করে দেয়া হয়”। (মুসলিম শরীফ-২৭৩৯) অন্য বর্ণনায় হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে: “যিলহজ্বের দশ দিনের চেয়ে কোনো দিনই আল্লাহর নিকট ততবেশী উত্তম নয়।-(সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ২৮৪২) কুরআনের উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহের আলোকে স্পষ্ট বুঝা যায়, এই দশ দিনের যে কোনো নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তাই মুমিন বান্দার জন্য অধিক পরিমাণে সওয়াব অর্জন, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সময় আর কী হতে পারে? এ জন্য পূর্ববর্তীদের জীবনীতে এই দশকের আমল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন এই দশকের দিনগুলোর আগমন ঘটত তখন তাঁরা এত অধিক আমল ও মুজাহাদা করতেন, যা পরিমাপ করাও সম্ভব নয়। আমাদেরও উচিত বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এই দশকের রাত-দিনগুলোকে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলা। তাছাড়া বিভিন্ন হাদীসে এই দশকের বিশেষ কিছু আমলের কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ১. চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি না কাটা: ———————————————— যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের নখ, চুল, গোঁফ, নাভীর নিচের পশম ইত্যাদি না কাটা। এটা মুস্তাহাব আমল। হযরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা যদি যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখতে পাও আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩;সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১; সুনানে নাসয়ী, হাদীস : ৪৩৬২; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৫৮৯৭) যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয় সেও এ আমল পালন করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, গোঁফ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি কুরবানীর দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এ দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে।)” আল্লাহ তাআলা তা এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে অর্থাৎ যা শুধু দুধ পানের জন্য দেওয়া হয়েছে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে (মুন্ডাবে বা ছোট করবে),নখ কাটবে, গোঁফ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ২৭৮৯) আল্লাহপাক গরীবদের উপর যে অত্যন্ত ও সীমাহীন দয়া করেছেন তার প্রমাণ আলোচ্য হাদীস। সুতরাং যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তাদের উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত আমলকে গনীমত মনে করা উচিত এবং কুরবানীর চাঁদ অর্থাৎ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে কুরবানী পর্যন্ত (১০দিন) নিজের চুল, নখ ইত্যাদিতে হাত না লাগানো উচিত। অর্থাৎ যারা কুরবানী করতে সক্ষম নয় তারাও যেন মুসলমানদের সাথে ঈদের আনন্দ ও খুশি উদযাপনে অংশীদার হয়। তারা এগুলো কর্তন না করেও পরিপূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে। অনুরূপভাবে হাজীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারীও হবে। ২. ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিন রোযা রাখা: আশারায়ে যিলহজ্বের আরেকটি বিশেষ আমল হল, ঈদুল আযহার দিন ছাড়া আরাফার ময়দানে অবস্থানকারী ব্যতিরেকে অন্যদের জন্য প্রথম নয় দিন রোযা রাখা। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নয়টি দিবসে (যিলহজ্ব মাসের প্রথম নয় দিন) রোযা রাখতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২২২৩৪;সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ২৪১৬) অন্য হাদীসে হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা বর্ণনা করেন: চারটি আমল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ছাড়তেন না। আশুরার রোযা, যিলহজ্বের প্রথম দশকের রোযা, প্রত্যেক মাসের তিন দিনের রোযা, ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামায। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস :২৪১৫; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৪২২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ৭০৪২; মুসনাদেআহমাদ, হাদীস : ২৬৩৩৯) ৩. বিশেষভাবে নয় তারিখের রোযা রাখা: যিলহজ্বের প্রথম নয় দিনের মধ্যে নবম তারিখের রোযা সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ। সহীহ হাদীসে এই দিবসের রোযার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “আরাফার দিনের (নয় তারিখের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা বিগতএক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দেবেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২; সুনানে আবু দাউদ,হাদীস : ২৪২৫; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭৪৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৩০) আরেক হাদীসে এসেছে: “যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোযা রাখবে তার লাগাতার দুই বছরের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।” (মুসনাদে আব ুইয়ালা, হাদীস : ৭৫৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫১৪১) যারা যিলহজ্বের নয়টি রোযা রাখতে সক্ষম হবে না তারা যেন অন্তত এই দিনের রোযা রাখা থেকে বঞ্চিত না হয়। আল্লাহ তাআলা আশারায়ে যিলহজ্বের মতো অন্যান্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত দিনগুলোতে ইবাদত-বন্দেগী করার তাওফীক দিন। আমীন। হাদীস শরীফে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “দুনিয়ার দিনগুলোর শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে সেই দশ দিন। অর্থাৎ যিলহজ্বের প্রথম দশদিন।” (মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস ৫৯৩৩) কিন্তু যিলহজ্ব মাস তো চার হারাম মাসের অন্যতম, যার সম্পর্কে কুরআন মজীদের নির্দেশ, ‘তোমরা এ সময়ে নিজেদের উপর জুলুম করো না।’ (তাওবা-৩৬) মুফাসসিরগণের ব্যাখ্যা অনুসারে এ পবিত্র সময়ে গুনাহ থেকে বিরত থাকাও এ আদেশের মধ্যে শামিল। আর ইয়াওমে আরাফা সম্পর্কে তো স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্ল্ল্লাাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ রয়েছে, “এ তো এমন দিন, এ দিনে যে নিজের চোখ, কান ও যবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে। (মুসনাদে আহমদ, ১/ ৩২৯) তাই এ দিবস-রজনী ফযীলতপূর্ণ হওয়ার আরেক দাবি হলো, সে মুবারক সময়ে ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের বিষয়ে অন্য সময়ের চেয়ে বেশী যত্নবান হওয়া। কিন্তু আমরা যাদের হজ্বে যাওয়া হচ্ছে না, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা একেবারেই বঞ্চিত করেননি। যিলহজ্ব মাসের ঐদিনগুলোতে আমরা যেন বেশি বেশি করে ইবাদত করি সে জন্য আল্লাহ তাআলা ঐদিনগুলোর ইবাদতে আমাদের জন্য রেখেছেন অফুরন্ত ফযীলত। সেগুলোর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আল্লাহ তাআলা সূরা আল ফজর এ কসম করে বলেছেন: ‘ওয়া লাইয়ালিন আশর’-দশটি রাতের কসম। এ দশটি দিনে বেশি বেশি করে নেক আমলের সুযোগ হাত ছাড়া করা নিশ্চয়ই ঠিক হবে না। এ সময় গুলোতে কি কি আমল করা উচিৎ। নফল আমলের মধ্যে সর্বোচ্চ হল নফল সালাত, বিশেষ করে সালাতুত তাহাজ্জুদ, পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত, যিকর, ইস্তেগফার, দোয়া ও দরুদ ইত্যাদি। সুনানে নাসায়ী ও মুসনাদে আহমাদসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে রয়েছে, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমলগুলো ছাড়তেন না তম্মধ্যে আশুরার রোযা, যিলহজ্বের দশ (কুরবানীর ঈদের দিন ছাড়া) দিনের রোযা, ফজরের দুই রাকাত সুন্নত এবং আইয়ামে বীযের রোযা অন্যতম। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ২৪১৫; মুসনাদে আহমাদ,হাদীস ২৬৩৩৯) আল্লাহ রাববুল আলমীন আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন!

হজ্জ্ব ও ওমরার গুরুত্ব ও ফযীলত

Standard

জুমার খুতবা ########## ২য় জুমা, যুল ক্বা’দাহ, ১৪৩৮ হি: ০৪ আগষ্ট, ২০১৭সাল হজ্ব এবং ওমরার গুরুত্ব ও ফযীলত: ————————————– সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আযহারী (বিএ. অনার্স, আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর। এম.এ. এম.ফিল. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়, মিশর। পিএইচ.ডি গবেষক,চ.বি.) সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ. খতীব, মুসাফির খানা জামে মসজিদ, নন্দন কানন, চট্টগ্রাম ========================================= ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহের পঞ্চমটি হল হজ্বে বায়তুল্লাহ। ঈমান, নামায, যাকাত ও রোযার পরই হজ্বের অবস্থান। হজ্ব মূলত কায়িক ও আর্থিক উভয়ের সমন্বিত একটি ইবাদত। তাই উভয় দিক থেকে সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর হজ্ব পালন করা ফরয। অর্থাৎ হজ্ব আদায়ে সক্ষম এমন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচাপাতি ও আসবাবপত্রের অতিরিক্ত হজ্বে যাওয়া-আসার ব্যয় এবং হজ্ব আদায়কালীন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম এমন সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ্ব আদায় করা ফরয। যা সক্ষম ব্যক্তির জীবনে একবারই ফরজ। হজ্জ অস্বীকারকারী ইসলাম থেকে সম্পূর্ণরুপে খারিজ হয়ে যায়। আল্লাহ তা’লা বলেন, وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلْبَيْتِ مَنِ ٱسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَن كَفَرَ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَنِىٌّ عَنِ ٱلْعَٰلَمِينَ এবং সামর্থ্যবান মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। আর যে কুফরী করে, তবে আল্লাহ তো নিশ্চয় সৃষ্টিকুল থেকে অমুখাপেক্ষী। ( সূরা আলে ইমরান,আয়াতঃ ৯৭) হজ্জ ও ওমরার আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞাঃ —————————————————– হজ্জ শব্দটি ح বর্ণে যবরযুক্ত করে حَجٌّ(হাজ্জুন) কিংবা যেরযুক্ত করে حِجٌّ (হিজ্জুন) উভয়ভাবেই পড়া যায়। ইমাম নব্বী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, হাজ্জুন যবরযুক্ত হলে মাসদার অর্থে হজ্জ করা অর্থে ব্যবহ্রত হবে। হজ্জকে আরবিতে মানাসিকও (مناسك)বলা হয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে একাধিক স্থানে মানাসিক বলে হজ্জকে বুঝানো হয়েছে। আভিধানিকঃ হজ্জ শব্দের অর্থ হলো ইচ্চা করা, সংকল্প করা ইত্যাদি। নিহায়া অভিধানে আছে যে, কোনো জিনিসের উদ্দেশ্যে সংকল্প করাকেই হজ্জ বলা হয়। তবে মুহাক্কিকগণের মতে, কোনো মহৎ জিনিসের উদ্দেশ্যে সংকল্প করাকে হজ্জ বলা হয়। যারা হজ্জ করেন তারা সাধারণত একটি বিশেষ পর্যায়ের সংকল্প, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে হজ্জ করে থাকেন বিধায় একে হজ্জ বলে। হজ্জ আরবি শব্দ। অর্থ নিয়ত করা, দর্শন করা, সঙ্কল্প করা, এরাদা করা, গমন করা, ইচ্ছা করা, প্রতিজ্ঞা করাসহ , কোনো মহৎ কাজে ইচ্ছা করা। আর শরিয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট দিনে নিয়তসহ ইহরামরত অবস্থায় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা এবং বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করা। পারিভাষিক সংজ্ঞাঃ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, هوالقصد إلى البيت الحرام باعمال مخصوصة অর্থাৎ বিশেষ কিছু আমল সম্পাদনসহ পবিত্র কা’বাগৃহের উদ্দেশ্যে গমন করাকে হজ্জ বলে। আবার কেউ কেউ বলেন, নির্দিষ্ট আমলসহ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে গমন করাকে হজ্জ বলে। হজ্জের প্রধান লক্ষ্য হলো বায়তুল্লাহ শরিফের যিয়ারত- ইরশাদ হচ্ছে- إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِى بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِّلْعَٰلَمِينَ নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষে জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা মক্কায়। যা বরকতময় ও হিদায়াত বিশ্ববাসীর জন্য। (সূরা আলে ইমরান,আয়াতঃ৯৬) আবার কেউ বলেন, জিলহজ্বের ৯ তারিখ ইহরাম বেঁধে আরাফাতের মাঠে অবস্থানসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্ধারিত কয়েকটি আমল যথাযথভাবে আদায় করে কাবা গৃহ তাওয়াফ করাকে হজ্ব বলে। শরহে বিকায়া গ্রন্থাগার বলেন, “নির্দিষ্ট সময়ে সুনির্দিষ্ট স্থান যিয়ারত করার নাম হল হাজ্জ”। উমরার আভিধানিক অর্থ: ——————————- যিয়ারত করা। শরীয়তের পরিভাষায় উমরা অর্থ, নির্দিষ্ট কিছু কর্ম অর্থাৎ ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ ও মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে বায়তুল্লাহ শরীফের যিয়ারত করা।[ড. সাঈদ আল-কাহতানী, আল-উমরাতু ওয়াল হাজ্জ ওয়ায যিয়ারাহ, পৃ. ৯। হজ্ব ও ওমরার ফযিলত: ———————————– হজ্জ পালন উত্তম ইবাদাত: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللهِ وَرَسُولِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجٌّ مَبْرُورٌ হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেনঃ হাজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হাজ্জ)। (বুখারী,হাদিস নং-১৫১৯) অন্য রেওয়াতে রয়েছে: عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ أَفَلاَ نُجَاهِدُ قَالَ لاَ لَكِنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদকে আমরা সর্বোত্তম ‘আমল মনে করি। কাজেই আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেনঃ না, বরং তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হল, হাজ্জে মাবরূর। (সহীহ বুখারী,হাদিস নং-১৫২০) عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما ، والحج المبرور ليس له جزاء إلا الجنة ،، আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এক উমরা হতে অন্য উমরা, এ দুয়ের মাঝে যা কিছু (পাপ) ঘটবে তার জন্য কাফফারা। আর মাবরুর হজের বিনিময় জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়।”(বোখারি : হাদিস নং ১৬৫০) হাদিসে আরো এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, إن الإسلام يهدم ما كان قبله ، و أن الهجرة تهدم ما كان قبلها ، وأن الحج يهدم ما كان قبله ،، ‘কারো ইসলাম-গ্রহণ পূর্বকৃত সকল পাপকে মুছে দেয়। হিজরত তার পূর্বের সকল গুনাহ মুছে দেয়, ও হজ তার পূর্বের সকল পাপ মুছে দেয়। (মুসলিম : হাদিস নং১৭৩) ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, تابعوا بين الحج والعمرة ، فإنهما ينفيان الفقر والذنوب كما ينفي الكير خبث الحديد والذهب والفضة وليس للحج المبرور ثواب إلا الجنة ‘তোমরা পর পর হজ ও উমরা আদায় করো। কেননা তা দারিদ্র্য ও পাপকে সরিয়ে দেয় যেমন সরিয়ে দেয় কামারের হাপর লোহা-স্বর্ণ-রুপার ময়লাকে। আর হজ্জে মাবরুরের ছোয়াব তো জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়।–(সহিহুন্নাসায়ি : ২/৫৫৮) উপরে উল্লেখিত হাদিসসমূহের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। তাই হজ পালনেচ্ছু প্রতিটি ব্যক্তিরই উচিত পবিত্র হজের এই ফজিলতসমূহ ভরপুরভাবে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাওয়া। হজ কবুল হওয়ার সকল শর্ত পূর্ণ করে সমস্ত পাপ ও গুনাহ থেকে মুক্ত থেকে কঠিনভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। হাজ্ব ও ওমরা পালনকারীগন আল্লাহর মেহমান: হাদিস শরীফে এসেছে,عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ হযরক ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: আল্লাহর পথের সৈনিক, হজ্জযাত্রী ও উমরা যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর নিকট দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং কিছু চাইলে তা তাদের দান করেন। (ইবনু মাজাহ,হাদিস নং-২৮৯৩) অন্য রেওয়াতে রয়েছে: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ “‏ الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ হযরত আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: হজ্জযাত্রীগণ ও উমরার যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর নিকট মাফ চাইলে তিনি তাদের ক্ষমা করেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং-২৮৯২) মাবরুর হজের প্রতিদান: মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ভিন্ন অন্য কিছু নয়। যে হজ করল ও শরিয়ত অনুমতি দেয় না এমন কাজ থেকে বিরত রইল, যৌন-স্পর্শ রয়েছে এমন কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকল, সে তার মাতৃ-গর্ভ হতে ভূমিষ্ট ‘হওয়ার দিনের মতো পবিত্র হয়ে ফিরে এল। حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ ‏”‏ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ‏”‏‏.‏ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏”‏ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏”‏‏.‏ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ‏”‏ حَجٌّ مَبْرُورٌ ‏”‏‏.‏ হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি ঈমান আনা। জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর পথে জিহাদ করা। জিজ্ঞাসা করা হল, তারপর কোন্‌টি? তিনি বলেনঃ হাজ্জ-ই-মাবরূর (মাকবূল হাজ্জ (হজ্জ)।(বুখারী, পরিচ্ছদঃ ৯৬৪. হজ্জে মাবরুর (মাকবুল হজ্জ) এর ফযীলত, হাদীস নং-১৪২৯) حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‏ হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হাজ্জ (হজ্জ) করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে নবজাতক শিশু, যাকে তাঁর মা এ মুহূর্তেই প্রসব করেছে, তার ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে ফিরবে।(বুখারী, হাদীস নং-১৪৩১)পরিচ্ছদঃ ৯৬৪.) হজ্বের প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর যিকর বিদ্যমান: —————————————————— হজ্জ এমন একটি ইবাদাত যার প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর যিকর করা হয়। তাওয়াফ, সাঈ, রমঈল জিমার (পাথর নিক্ষেপ), মিনা,মুযদালিফাহ, আরাফাহসহ প্রত্যেকটি নির্দেশনায় আল্লাহর যিকরে ধ্বনিত, প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَٰسِكَكُمْ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَذِكْرِكُمْ ءَابَآءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا ۗ فَمِنَ ٱلنَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَآ ءَاتِنَا فِى ٱلدُّنْيَا وَمَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِنْ خَلَٰقٍ‘তারপর যখন তোমরা তোমাদের হজের কাজসমূহ শেষ করবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যেভাবে তোমরা স্মরণ করতে তোমাদের বাপ-দাদাদেরকে, এমনকি তার চেয়ে অধিক স্মরণ। আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে বলে, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। বস্ত্তত আখিরাতে তার জন্য কোন অংশ নেই। (সূরা আল বাকারাহ,আয়াতঃ২০০) আল্লাহ আরো বলেন,لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا۟ فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ ۚ فَإِذَآ أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَٰتٍ فَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ عِندَ ٱلْمَشْعَرِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَٱذْكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ তোমাদের উপর কোন পাপ নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে। সুতরাং যখন তোমরা আরাফা থেকে বের হয়ে আসবে, তখন মাশআরে হারামের নিকট আল্লাহকে স্মরণ কর এবং তাকে স্মরণ কর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও তোমরা এর পূর্বে অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা আল-বাকারাহ,আয়াতঃ-১৯৮) হজ্জের প্রকারভেদ: ——————- হজ্জ তিন প্রকার। যথাঃ ১. তামাত্তু, ২. কিরান, ৩. ইফরাদ। হজ্জে তামাত্তু: হজ্জের মাসগুলোতে (শাওয়াল, যিলকদ ও যিলহজ্জ) শুধু ওমরার নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌছার পর ওমরার ফরয ও ওয়াজিবসমূহ আদায় করে ইহরাম খুলে ফেলা এবং উকূফে আরাফার পূর্বে শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করে পুনরায় ইহরাম বাঁধার নাম হজ্জে তামাত্তু। হজ্জে তামাত্তু ও হজ্জে কেরান-এ শোকরানা স্বরূপ হজ্জের দম ওয়াজিব হয় এবং এ কুরবনি ধনী হওয়ার কারণে যে কুরবানি আসে তা থেকে ভিন্ন। হজ্জে কেরানঃ একই ইহরামে ওমরা ও হজ্জ কার্য সম্পাদন করাকে হজ্জে কেরান বা কেরান হজ্জ বলে। মিকাতের বাইর থেকে আগত ব্যক্তিই কেরান হজ্জ করতে পারবে। কেউ কেরান হজ্জ করতে চাইলে মিকাতে প্রবেশের পূর্বেই একসাথে ওমরা ও হজ্জের নিয়তে ইহরাম ধারন করে মক্কা মুকাররামায় এসে ইযতিবা ও রমল সহকারে তাওয়াফ ও সায়ী। হজ্জে ইফরাদঃ শুধূমাত্র হজ্জের নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে হজ্জ করার নাম ইফরাদ হজ্জ। ইফরাদ হজ্জের এ ইহরাম সম্পূর্ণ হজ্জ শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকবে। এ হজ্জে কুরবানি ওয়াজিব নয়। কেউ ইচ্ছা করলে করতে পারে। তা নফল হবে। এই তিন প্রকারের হাজ্জের মধ্যে কিরান হাজ্জ সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ একটি হাজ্জ। হাজ্জ যাদের উপর ফরয: ——————————— (১) মুসলিম হওয়া (২) বালিগ হওয়া (৩) স্বাধীন হওয়া (৪) বিবেকবান হওয়া (৫) নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যে ব্যক্তির এ পরিমাণ ধনসম্পদ আছে যে, সে হজের সফর (পথ খরচ) বহন করতে সক্ষম এবং তার অনুপস্থিতিকালীন তার পরিবারবর্গের প্রয়োজন মেটানোর মতো খরচও রেখে যেতে সক্ষম, এমন ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ। (৬) যাতায়াতে নিরাপত্তা (৭) মহিলাদের সাথে মুহরিম থাকা। আইয়্যামে হজ্বের বিভিন্ন নামসমূহ: ১. যিলহজ্বের আট তারিখকে ‘ইয়াউমুত তারউইয়্যাহ’। ২.নয় তারিখকে ‘ইয়াউমুল আরাফাহ’। ৩. দশ তারিখকে ‘ইয়াউমুন নাহর। ৪. এগারো তারিখকে ‘ইয়াউমুল ওকুফ’। ৫. বারো তারিখকে ‘ইয়াউমুল নাফরিল আওয়াল’ এবং ৬. তেরো তারিখকে ‘ইয়াউমুল নাফরিস সানি’ বলে। হজ্জের ফরজ ৩টি: ——————– ১। ইহরাম বাধা ২। উ’কুফে আ’রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান) ৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত। হজ্জের ওয়াজিব ৬টি : ——————— (১) ‘সাফা ও মারওয়া’ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা। (২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা। (৩) মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিপে করা। (৪) ‘হজ্জে তামাত্তু’ ও ‘কি্বরান’ কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা। (৫) এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা। (৬) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা। এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব। ওমরার ফরজ, ওয়াজিব: —————————————– দুইটি ফরজ: (১) ইহরাম পরিধান করা (২) তাওয়াফ দুইটি ওয়াজিব: (১) সাফা ও মারওয়া মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সায়ী করা (২) মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা। ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ : ——————————— (১) সেলাইযুক্ত যে কোন কাপড় ব্যবহার করা। (২) মস্তক ও মুখমন্ডল (ইহরামের কাপড়সহ যে কোন কাপড় দ্বারা) ঢাকা, (৩) পায়ের পিঠ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা। (৪) চুলকাটা বা ছিড়ে ফেলা, (৫) নখকাটা, (৬) ঘ্রানযুক্ত তৈল বা আতর লাগানো। (৭) স্ত্রীর সঙ্গে সংগম করা। (৮) যৌন উত্তেজনামূলক কোন আচরণ বা কোন কথা বলা। (৯) শিকার করা। (১০) ঝগড়া বিবাদ বা যুদ্ধ করা। (১১) চুল দাড়িতে এমনভাবে চিরুনী বা আঙ্গুলী চালনা করা, যাতে ছিড়ার আশংকা থাকে। (১২) শরীরে সাবান লাগানো। (১৩) উকুন, ছারপোকা, মশা ও মাছিসহ কোন জীবজন্তু হত্যা করা বা মারা। (১৪) কোন গুনাহের কাজ করা, ইত্যাদি। তাওয়াফের ওয়াজিব সমূহ : ——————————— (১) শরীর পাক-সাফ রাখা, ওজু করা। মহিলাদের হায়েজ নেফাছ অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েজ নাই। (২) ছতর ঢাকা। অর্থাৎ যেটুকু ঢাকা প্রত্যেক পুরুষ-নারীর জন্য ফরজ। (৩) ‘হাতীমে কা’বার’ বাইরে থেকে ‘তাওয়াফ’ করা। (৪) পায়ে হেঁটে ‘তাওয়াফ’ করা। অক্ষম ব্যক্তি খাটিয়ার মাধ্যমে ‘তাওয়াফ’ করতে পারেন। (৫) ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ থেকে শুরু করে ডানদিক দিয়ে ‘তাওয়াফ’ শুরু করা। (৬) এক নাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে ‘সাতবার চক্কর’ দিয়ে ‘তাওয়াফ’ পূর্ণ করা। (৭) ‘সাত চক্করে’ এক ‘তাওয়াফ’, এটা পূর্ণ হলেই ‘তাওয়াফের’ নামাজ পড়া। তাওয়াফের সুন্নত কার্যাবলী : —————————- (১) ‘তাওয়াফে’র শুরুতে ‘হাজারে আসওয়াদ’ এর দিকে মুখ করা। (২) সম্ভব হলে ‘হাজরে আস্ওয়াদ’ চুম্বন করা। নতুবা হাত দ্বারা দূর থেকে ইশারা করা, এবং মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আক্বার ওয়ালিল্লাহিল হামদ বলা। (৩) ‘হাজরে অস্ওয়াদ’ বরাবর দাঁড়িয়ে তাকবীরে তাহরিমা’র ন্যায় উভয় হাত সিনা পর্যন্ত উঠান। (৪) যে ‘তাওয়াফে’র পরে ‘সাঈ’ আছে তাতে ‘এযতেবা’ করা। অর্থাৎ ইহরামের চাদরের (উপরের অংশের) দুই মাথা ডান বগলের নিচ দিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেওয়া। (৫) ‘সাঈ’ যুক্ত ‘তাওয়াফে’র প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ করা। তথা বীরের মত হেলে দুলে জোর ক্বদমে (একের পর এক পা ফেলে) চলা। (৬) বাকী চার চক্কর সাধারণ গতিতে (ধীরে ধীরে) সম্পন্ন করা। (৭) প্রত্যেক চক্কর তাওয়াফ শেষ করে এবং শেষ চক্করেরও পরে ‘হাজরে অস্ওয়াদ’কে চুম্বন করা। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে বিসমিল্লাহে আল্লাহ আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্” দোয়াটি পাঠ করা এবং ৩ নং নিয়মের ন্যায় দাড়িয়ে ইশারা করে ‘তাওয়াফ’ শেষ করা। তালবিয়া : ———– ”লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক, লাব্বাঈক, লা-শারীকা-লাকা লাব্বাঈক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুল্ক, লা শারীকালাক।” অর্থ: আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোন অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও সম্পদরাজি আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্য আপনার। আপনার কোন অংশীদার নেই। হজ্ব একবারই ফরয: —————————– হজ্ব প্রত্যেক মুসলমানের উপর সারা জীবনে একবারই ফরয হয়। একবার ফরয হজ্ব আদায়ের পর পরবর্তী হজ্বগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন- হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ্ব ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ্ব করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রতি বছর কি হজ্ব করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করল। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা (প্রতি বছর হজ্ব করা) ফরয হয়ে যেতো, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না।(সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৭ (৪১২); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১০৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৭০৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২৫০৮; সুনানে নাসায়ী ৫/১১০; শরহে মুশকিলুল আছার, হাদীস : ১৪৭২; সুনানে দারাকুতনী ২/২৮১) ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত অনুরূপ হাদীসে আরো বলা হয়েছে, হজ্ব (ফরয) হল একবার, এরপরে যে অতিরিক্ত আদায় করবে তা নফল হিসেবে গণ্য।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০৪; সুনানে দারিমী, হাদীস : ১৭৮৮; সুনানে নাসায়ী ৫/১১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৮৮৬; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস : ৩২০৯) বিনা ওজরে হজ্ব বিলম্ব না করা উত্তম: ———————————————- হজ্ব যেহেতু একবারই ফরয তাই যার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যে কোনো বছর হজ্ব আদায় করে, তবে তার ফরয আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু হজ্ব বিধানের মৌলিক তাৎপর্য, তার যথার্থ দাবি ও আসল হুকুম হচ্ছে হজ্ব ফরয হওয়ার সাথে সাথে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা। কারণ বিনা ওজরে বিলম্ব করাও গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয হজ্ব আদায়ের প্রতি এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, কেউ যদি এই হজ্বকে অস্বীকার করে বা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে তবে সে আল্লাহর জিম্মা থেকে মুক্ত ও হতভাগ্যরূপে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্ব করা ফরয। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।(সূরা আলে ইমরান: ৯৭) তাছাড়া যে কোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখ-বিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক নয়। তাই হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করলে পরে সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে বা মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাআলার নিকট অপরাধী হিসেবেই তাকে হাজির হতে হবে। এজন্যই হাদীস শরীফে হজ্ব ফরয হওয়ামাত্র আদায় করার তাগিদ ও হুকুম দেওয়া হয়েছে। ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি হজ্ব করার ইচ্ছে করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ যে কোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থাও না থাকতে পারে অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৮৮৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭৩২; সুনানে দারিমী, হাদীস : ১৭৮৪; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৬৮৭; তবারানী, হাদীস : ৭৩৮।) অন্য বর্ণনায় ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ফরয হজ্ব আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস: ২৮৬৭; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/৩৪০) উপরন্তু একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা যে স্বচ্ছল সামর্থ্যবান ব্যক্তি হজ্ব আদায় করে না তাকে হতভাগা ও বঞ্চিত আখ্যায়িত করেছেন। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিযিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহের হজ্বের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগা, বঞ্চিত।(সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৬৯৫; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ১০৩১; তবারানী, হাদীস : ৪৯০; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৫/২৬২; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫২৫৯) হজ্ব করার শক্তি-সামর্থ্য ও অর্থ-বিত্ত থাকার পরও যে ব্যক্তি হজ্ব করে না তার সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠোর হুমকি প্রদান করা হয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- যে ব্যক্তি হজ্ব করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ্ব করে না সে ইহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি খৃস্টান হয়ে তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই।(তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৭৮) তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছে হয় কিছু লোককে বিভিন্ন শহরাঞ্চল ও লোকালয়ে পাঠিয়ে দিই, তারা সেখানে দেখবে, কারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করছে না। তারা তাদের উপর কর আরোপ করবে। তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়।(তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৭৮) যারা হজ্ব-উমরা না করে সন্ন্যাসী হওয়ার চেষ্টা করে ইসলাম তা কখনো অনুমোদন করে না। ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ইসলামে বৈরাগ্য নেই। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হজ্বের ক্ষেত্রে কোনো বৈরাগ্য নেই।(মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩১১৩, ৩১১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭২৯; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৬৮৬; তবারানী, হাদীস : ১১৫৯৫; শরহু মুশকিলুল আছার, হাদীস : ১২৮২) ইকরামা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করা হল, সারুরা কী? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হজ্ব-উমরাহ কিছুই করে না অথবা যে ব্যক্তি কুরবানী করে না।(শরহু মুশকিলুল আছার ২/২১৫-১৬) সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জাহেলী যুগে যখন কোনো ব্যক্তি হজ্ব করত না তখন তারা বলত, সে সারুরা (বৈরাগী)। তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইসলামে বৈরাগ্য নেই।(শরহু মুশকিলুল আছার ২/২১৫-১৬) যারা হজ্বের সফরের সৌভাগ্য লাভ করেন তারা যেন আল্লাহর মেহমান। তাই প্রত্যেকের উচিত সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইশক-মুহববতের অনুভূতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করা। বায়তুল্লাহ ও আল্লাহর অন্যান্য শেআর ও নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। দ্বন্দ-কলহ, ঝগঙা-বিবাদ এবং অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে সর্বাত্মকভাবে দূরে থাকা। কুরআন-হাদীসে এ সম্পর্কে বিশেষ হুকুম নাযিল হয়েছে। হজ্বের প্রস্তুতি: —————- ১. হজ্বে গমনকারীর জন্য সর্বপ্রথম কাজ হলো নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ করা। কারণ বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া আল্লাহ তাআলা বান্দার কোন ইবাদত কবুল করেন না। অন্তরে যেন বিন্দু পরিমান লৌকিকতা-লোক দেখানো, কারো কাছে প্রশংসিত হওয়ার মানসিকতা না থাকে বরং একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিই যেন উদ্দেশ্য থাকে। ২. হজ্বের উদ্দেশ্যে বের হওয়া যেন দুনিয়া ত্যাগ করার মত হয়ে যায়, সুতরাং নিজের জীবনের অতীতের সমস্ত কবীরা-সগীরা গুনাহের কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে গোনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করে মহান আল্লাহর দরবারে তাওবা-এস্তেগফার করা এবং তাওবার নিয়তে দু’ রাকাত নামায আদায় করা। ৩. নিজের উপর কারো আর্থিক বা দৈহিক হক্ব থাকলে তা যথাসম্ভব পরিশোধ করা। অসামর্থবান হলে ক্ষমা চাওয়া এবং হকদার ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকারীদের সাথে আর্থিক বিষয়টি নিষ্পত্তি করা এবং তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে সমপরিমাণ অর্থ ঐ হকদারের জন্য (প্রাপ্যব্যক্তির) সওয়াবের নিয়তে সদকা করা। ৪. হজ্বে যাওয়ার পূর্বে পরিবার পরিজনের খোর-পোষের ব্যবস্থা করে যাওয়া। কোন বিষয়ে নির্দেশনা থাকলে ওয়ারিশদের ওসিয়ত করে যাওয়া। ৫. অবশ্যই হালাল উপার্জন নিয়ে হজ্বে যাওয়া উচিৎ। কেননা হারাম উপার্জন দিয়ে হজ্ব করলে তা কবুল হবে না, যদিও হজ্ব করার কারনে হজ্ব করার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। ইমাম গাজালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কেউ যদি হারাম উপার্জন দিয়ে হজ্ব করে তাহলে সে যেন হজ্বের সফরে নিজের খানা হালাল উপার্জন দিয়ে করে, তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে ইহরাম অবস্থায় হারাম টাকা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবে। তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে আরাফার দিন হারাম খানা থেকে বিরত থাকবে। কোন ব্যক্তি যদি হজ্বের ইচ্ছা পোষণ করে আর তার কাছে হালাল উপার্জন না থাকে তাহলে সে হারাম সম্পদ ব্যবহার না করে ঋণ করে হজ্ব করবে এবং পরবর্তীতে তা পরিশোধ করে দিবে। ৬. সুদকে নিজের জীবনের জন্য সর্বাবস্থায় হারাম হিসেবে গণ্য করে সুদের উৎসমূল নির্মূলে সচেষ্ট হওয়া। ঘুষ, প্রতারণা, পরের সম্পদ আত্মসাৎ, যাদুবিদ্যা চর্চা ও বিশ্বাস এবং জুয়া ইত্যাদি যাবতীয় নিষিদ্ধ সকল গর্হিত কাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার অঙ্গীকার করা। ৭. গীবত, অহংকার পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ সম্পূর্ণ পরিহার করা এবং হজ্বের পরেও এর উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা। ৮. ঋণ থাকলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি পরিশোধ করা এবং বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলে উত্তরাধিকারীদের তা অবগত করানো। যাতে যে কোন দুর্ঘটনায় তারা তা আদায় করতে পারে। ৯. নিজের স্ত্রীর মোহরানা বাকি থাকলে হজ্বের পূর্বেই তা আদায় করার চেষ্টা করা। অথবা স্ত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি বা পারস্পরিক সমাঝতায় ব্যবস্থা করা ও স্ত্রী, পুত্র-কন্যা তথা পরিবার পরিজনকে তাকওয়ার নীতি অবলম্বনে ইসলামের উপর অটল থাকার জন্য কড়া নির্দেশ দেয়া। ১০. হজ্বে যাওয়ার পূর্বে জীবিত পিতা-মাতার খেদমতের সুব্যস্থা করা, তাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেয়া এবং হজ্বে তাদের কথা স্মরণ করে বার বার দোয়া করা। ১১. অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে বেশি বেশি জিকির, দোয়া, দুরূদ, ‍মুনাজাত ইত্যাদিতে ব্যাস্ত থাকা এবং সকল স্থানে নারী-পুরুষ সকলের উচিৎ দৃষ্টিকে সংযত করে রাখা এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।

হজ্ব ও ওমরা বিষয়ক বিস্তারিত মাসআলা পড়ুন এখানে- হজ্ব ও ওমরার পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন

সাহাবীর নামাজ

Standard

হযরত তালহা (রা:) প্রতিদিন নবীজীর পেছনে ফজরের নামাজ পড়েন। কিন্তু নামাজে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তিনি মসজিদে না বসে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যান।এভাবে কয়েকদিন চলার পর অন্যান্য সাহাবিরা এটা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন যে, প্রতিদিন সালাম ফিরিয়েই তালহা চলে যান। অথচ নবীজী ফজরের পর সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসে বয়ান করেন।অন্যান্য সব সাহাবিরাও রাসূলের কাছে বসে থাকেন। এক পর্যায়ে এই কথা নবীজীর কানে পৌছালো। নবীজী সাহাবিদের বললেন, আগামিকাল ফজরের নামাজ শেষে তালহা যেন আমার সাথে দেখা করে। পরের দিন নামাজে আসলে তালহাকে একথা জানিয়ে দেয়া হল। ফজরের নামাজ শেষ। তালহা বসে আছেন নবীজীর সাথে দেখা করার জন্য।একপর্যায়ে নবীজী তালহাকে ডাকলেন। নবীজী অতি মোলায়েম কন্ঠে তালহাকে বললেন, তালহা! আমি কি তোমাকে কোন কষ্ট দিয়েছি? আমি কি তোমার কোন হক নষ্ট করেছি?একথা শুনে তালহা কেদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসুল ল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। আপনি আমার কোন হক নষ্ট করেননি। নবীজী সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তালহা! তুমি প্রতিদিন নামাজ শেষে আমার কাছে না বসে চলে যাও কেন?তালহা কেদে কেঁদে বললেন, রাসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার এবং আমার স্ত্রীর সতর ডাকার জন্য একটি মাত্র জামা আছে। যেটা পরে আমি যখন নামাজ পড়ি আমার স্ত্রী তখন উলংগ থাকেন। স্ত্রী যখন নামাজ পড়েন আমি তখন উলংগ থাকি। এক্ষেত্রে ফজরের নামাজের সময় একটু অসুবিধা হয়ে যায় ইয়া আল্লাহর রাসুল ল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।ফজরের নামাজে আসার সময় আমি আমার স্ত্রীকে একটা গুহায় রেখে আসি। এমতাবস্থায় আমি যদি নামাজ শেষে এখানে বসে থাকি তাহলে তো আমার স্ত্রীর নামাজটা কাজা হয়ে যাবে ইয়া আল্লাহর রাসূল।এজন্য আমি নামাজ শেষে দৌড়ে চলে যাই। তালহার কথা শুনে আল্লাহর রাসুল দরদর করে কেঁদে ফেলেন। নবীজীর দাঁড়ি বেয়ে বেয়ে চোখের পানি পড়তেছে। সাথে সাথে নবীজী তালহাকে জানিয়ে দিলেন, তালহারে! নিশ্চয়ই তুমি জান্নাতে যাবে। আল্লাহু আকবার।

নামায বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন পেতে এখানে ক্লিক করুন- নামাযের মাসআলা