Standard

সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী
খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। #
بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ তাআলার যিনি রমযানকে শ্রেষ্ঠ মাস বানিয়েছেন এবং সে সময় ভাল কাজের প্রতিদান বাড়িয়ে দিয়েছেন। দুরূদ ও সালাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোসÍফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যাঁর ওসীলায় আমরা এ বরকতময় মাসটি পেয়েছি।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও কিছু দিন পরই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসছে মাহে রমযান। মুমিনের আত্মাকে আল্লাহ তাআলা ধুয়ে-মুছে পাক-সাফ করে তার রঙে রঙিন করে তুলবেন। আর যারা খোদাপ্রেমিক তাদেরও অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। তাঁরা শুধুই ভাবছেন, কোন দিন থেকে শুরু হবে রমযান এবং কিভাবে তাঁরা নিজেদেরকে পূত-পবিত্র করে গড়ে তুলবেনমপ এ মাসে। তাঁদের আখলাককে উন্নততর, মহত্তর, পবিত্রতর করে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ সাধন করবেন। পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টির জন্য গরিবের প্রতি সহমর্মী, ধৈর্যশীল ও সহনশীল হবেন। চারিত্রিক গুণাবলি আরো শাণিত করবেন। সিয়াম সাধনার কঠোর সংযমের সিঁড়ি বেয়ে পরহেজগারির শীর্ষ চূড়ায় আরোহণ করবেন। 
এটা মহিমান্বিত মাস, যাতে আল্লাহ পাক রোযা ফরয করেছেন।নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,

 عن أبي هُرَيْرَة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (( إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتْ الشَّيَاطِينُ) . رواه البخاري في الصوم باب هل يقال رمضان (১৭৬৬) ، والنسائي في الصيام (২০৭৯) و (২০৮১( 

“এ মাসে বেহেশ্তের দরজাগুলো খোলা থাকে আর দোজখের দরজাগুলো বন্ধ থাকে এবং শয়তান কে শিকল পরিয়ে রাখা হয়।” (বুখারী-১৭৬৬, নাসায়ী-২০৭৯, ২০৮১) 
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও এরশাদ করেন,

فعن أنس بن مالكٍ، قال: دخل رمضان، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “إِنَّ هَذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ، وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الخَيْرَ كُلَّهُ، وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا مَحْرُومٌ”(ابن ماجه: كتاب الصيام، باب ما جاء في فضل شهر رمضان (১৬৪৪)، انظر: مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه (২/৬২).

“এখানে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ট রাত রয়েছে। যে ব্যক্তি এর মহিমা কে অস্বীকার করল, মুলত সে বঞ্চিত!” (ইবনু মাযাহ-১৬৪৪)

 

জীবনের যে কোন বিষয়ে সফলতা আনতে চাইলে, অথবা কোন বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারন করলে, তার প্রথম ধাপ হচ্ছে নিজের মন মানসিকতাকে স্থির করা ও গোছানো এবং এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করা। মাহে রমযান আগমনের দুই মাস আগে থেকেই রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিতেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজবের শুরুতেই নিজে এবং সাহাবায়ে কিরামকে এই দোয়া করার জন্য বলতেন- 

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ قَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ(روى عبد الله بن الإمام أحمد في “زوائد المسند” (২৩৪৬) والطبراني في “الأوسط” (৩৯৩৯) والبيهقي في “الشعب” (৩৫৩৪) وأبو نعيم في “الحلية” (৬/২৬৯)। )

“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান” (হে আল্লাহ! রজব এবং শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় কর এবং আমাদের রমযানের পুণ্যময় মাস অর্জনের সৌভাগ্য দান কর) (ত্ববরানী-৩৯৩৯, বায়হাক্বী-৩৫৩৪, আবু নাঈম: হিলয়া- ৬/২৬৯)

 

রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ ঘোষণার প্রেক্ষিতেই বিশ্বের মুসলমানরা রমযান আসার আগে থেকেই এর জন্য প্রতি বছর প্রস্তুতি শুরু করে দেন। সাহাবায়ে কেরামের পর তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, মুহাদ্দিসীন, আইম্মায়ে মুজাতাহিদীনসহ সর্বস্তরের মুসলমানগন নিজ নিজ পরিসরে রমযানের প্রস্তুতি নিয়ে সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
মাহে রমযান এমনই এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কিরামদের মোবারকবাদ পেশ করতেন। 
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের এই মর্মে সুসংবাদ প্রদান করেছেন যে, 

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ” أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ , تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ , وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ , وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ , لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ,مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ “)رواه النسائي ( ২১০৬ ) وأحمد (৮৭৬৯) صحيح الترغيب ( ৯৯৯( .

“তোমাদের সামনে রমযানের পবিত্র মাস এসেছে, যে মাসে আল্লাহ তোমাদের ওপর রোযা ফরয করেছেন।’ (নাসায়ী-২১০৬. আহমদ-৮৭৬৯) 
অন্য এক হাদিসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

رجب شهر الله وشعبان شهري ورمضان شهر أمت} السيوطي في الجامع الصغير لأبي الفتح بن أبي الفوارس. رواه الدَّيلمي عن عائشةَ رضي الله عنها، جامع المسانيد والمراسيل(

“রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমযান আমার উম্মতের মাস” (সুয়ূতী: জামে আস সগীর)। 
তাই বলা হয়, ‘রজব মাসে শস্য বপন করা হয়, শাবান মাসে খেতে পানি সিঞ্চন করা হয় এবং রমযান মাসে ফসল কর্তন করা হয়।’ সুতরাং এ শ্রেষ্ঠতম মাসে নামায- রোযা পালন তথা আল্লাহর ইবাদত- বন্দেগি করে কাঙ্খিত লক্ষ্যপানে ধাবিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা শাবান মাসের শেষ দিনে সাহাবায়ে কিরামকে লক্ষ্য করে মাহে রমযানের রোযার ফযিলত সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে এরশাদ করেন, 

فَقَالَ : ” أَيُّهَا النَّاسُ ، إِنَّهُ  قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ جَعَلَ اللَّهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً ، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا ، مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى  فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَمَنْ أَدَّى فِيهِ فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ

‘হে মানবগণ! তোমাদের প্রতি একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এই মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে, যে ব্যক্তি এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে মূলত সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল। যে ব্যক্তি এই মাসে কোনো নেক আমল দ্বারা আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য কামনা করে, সে যেন অন্য সময়ে কোনো ফরয আদায় করার মতো কাজ করল। আর এই মাসে যে ব্যক্তি কোনো ফরয আদায় করে, সে যেন অন্য সময়ের ৭০টি ফরয আদায়ের নেকি লাভ করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস আর সংযমের ফল হচ্ছে জান্নাত।’ (বায়হাক্বী-৩৯, ইবনু খোযাইমা-১৮৮৭))
প্রকৃতপক্ষে পবিত্র মাহে রমযান মুসলমানদের জন্য একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ কোর্স, যার মাধ্যমে রোযাদারদের জীবন প্রভাবিত হয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

 إِذَا سَلِمَ رَمَضَانٌ سَلِمَتِ السَّنَةُ)  الحلية (৭/১৪০(

“যে ব্যক্তি পবিত্র রমযান মাস ভালোভাবে যাপন করবে, তার সমগ্র বৎসর ভালোভাবে যাপিত হবে।”(হিলয়া-৭/১৪০)। 
তিনি আরও বলেন, 

 لو يعلم العباد مافي رمضان لتمنت أمتي أن يكون رمضان السنة كلها)تنزيه الشريعة للكناني ২ / ১৫৩و كتاب مجمع الزوائد للهيثمي ৩ /১৪১و كتاب الفوائد المجموعة في الأحاديث الموضوعة للشوكاني ১ / ২৫৪ (

“আমার উম্মত যদি মাহে রমযানের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে সারা বছর রমযান কামনা করত।”(মাজমাইয যাওয়ায়েদ-৩/১৪১, আল পাওয়ায়েদ: শাওকানী-১/২৫৪)
‘রামাদান’ শব্দটি আরবি ‘রাম্দ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমযান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোযাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং রিপুকে দমন করে আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। 
মাহে রমযান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম ‘রমাদান’। ইসলামের অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার বিরাট নিয়ামত রমযান মাস। এর প্রস্তুতি গ্রহণ করা না হলে মাহে রমযানের কোনো মূল্য বা মর্যাদা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না।
তাই মাহে রমযানে রোযার প্রস্তুতির জন্য সহিহ-শুদ্ধভাবে আবশ্যকীয় বিধি-বিধান শরিয়তের মাসআলা অনুযায়ী রোযাদারদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা খুবই দরকার। এ ছাড়া আসন্ন মাহে রমযানের পবিত্রতা রক্ষার্থে ইবাদত- বন্দেগি তথা সাহরী, ইফতার, তারাবিহ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ই’তিকাফ, তাহাজ্জুদ, জিকর-আযকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-ইস্তেগফার, দরূদ শরীফ, যাকাত-ফিতরা, দান- সাদ্কা প্রভৃতি সৃষ্টিকর্তার হক আদায়ের সামগ্রিক পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া উচিত। 
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা শুরু হওয়ার আগে তার সাহাবীদেরকে কিভাবে সচেতন করতেন নিম্নের হাদীস হতে আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি। 

عَنْ سَلْمَانَ  رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ ، فَقَالَ : ” أَيُّهَا النَّاسُ ، إِنَّهُ  قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ ، فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ جَعَلَ اللَّهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً ، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا ، مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى  فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَمَنْ أَدَّى فِيهِ فَرِيضَةً كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ ، وَشَهْرُ الْمُوَاسَاةِ ، وَشَهْرٌ يُزَادُ فِي رِزْقِ الْمُؤْمِنِ فِيهِ ، مَنْ فَطَّرَ فِيهِ صَائِمًا كَانَ لَهُ مَغْفِرَةً لِذُنُوبِهِ وَعِتْقَ رَقَبَتِهِ مِنَ النَّارِ ، وَكَانَ لَهُ مثل أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ ” ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لَيْسَ كُلُّنَا نَجِدُ مَا يُفَطِّرُ الصَّائِمَ ؟ قَالَ : ” يُعْطِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا عَلَى مَذْقَةِ لَبَنٍ أَوْ تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةِ مَاءٍ ، وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ حَوْضِي شَرْبَةً لا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ ، وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ  مَنْ خَفَّفَ فِيهِ عَنْ مَمْلُوكِهِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ وَأَعْتَقَهُ مِنَ النَّارِ ، فضائل الأوقات للبيهقي গ্ধ بَابٌ فِي فَضْلِ لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ … رقم الحديث: ৩৯, هذا الحديث رواه ابن خزيمة بلفظه في صحيحه ৩/১৯১ رقم (১৮৮৭, رواه المحاملي في أماليه (২৯৩) والبيهقي في شعب الإيمان (৭/২১৬) وفي فضائل الأوقات ص ১৪৬ رقم ৩৭ وأبو الشيخ ابن حبان في كتاب ( الثواب ) عزاه له الساعاتي في ( الفتح الرباني ) (৯/২৩৩) وذكره السيوطي في ( الدر المنثور ) وقال : أخرجه العقيلي وضعفه ) والأصبهاني في الترغيب ، وذكره المنقي في ( كنز العمال ) ৮/৪৭৭ ، كلهم عن طريق سعيد بن المسيب عن سلمان الفارسي ، )

হযরত সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রমুখ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শা’বান মাসের শেষ দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খুতবা শুনালেন, যাতে  তিনি এরশাদ করেছেন, ‘হে জনগণ! তোমাদের নিকট একটি মহান ও পবিত্র মাস আসছে, যার মধ্যে এমন একটি রাত্র রয়েছে যা হাজার রাত্র হতেও উত্তম। যে মাসের দিনগুলোতে আল্লাহ রোযাকে ফরয করেছেন এবং রাত্রিতে নামাযকে (তারাবীহকে) নফল করেছেন (উম্মতের জন্য সুন্নত)। যে ব্যক্তি ঐ মাসে কোন একটি সদাভ্যাস ( বা সৎকাজ) করে তা ছওয়াবের দিক দিয়ে অন্য মাসের একটি ফরয কাজের সমতুল্য হয়ে থাকে। আর একটি ফরয আদায় করলে, তা অন্য মাসের ৭০টি ফরয আদায়ের সমতুল্য ছওয়াবের হয়ে থাকে। এটা হল ধৈর্যের মাস। আর ধৈর্য অবলম্বনের প্রতিদান হচ্ছে বেহেশ্ত। এটা পরোপকার ও সহানুভূতির মাস এবং এটা এমন একটি মাস যাতে ঈমানদারগণের রুযী বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। এ মাসে যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায়, তার বিনিময়ে তার সমস্ত গুণাহ মাফ হয়ে যায় এবং সে জাহান্নাম হতে মুক্ত হয়। তাছাড়া সে উক্ত রোযাদার ব্যক্তির তুল্য ছওয়ারও পাবে। এতে অবশ্য উক্ত রোযাদারের ছওয়াবে একটুও কমতি করা হবে না। আমরা বললাম ইয়া রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইকা ওয়াসাল্লাম! আমাদের এমন কিছু সংস্থান নাই যা দ্বারা আমরা রোযাদারকে ইফতার করাতে পারি। তদুত্তরে হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এই ছাওয়াব আল্লাহতায়ালা ঐ ব্যক্তিকেও প্রদান করবেন, যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে এক ঢোক দুধ বা একটি খোরমা কিংবা সুমিষ্ট পানি দ্বারা ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে আমার ‘হাউজ কাওছার’ হতে এমনভাবে পর্যাপ্ত করে পান করাবেন যে, বেহেশতে না যাওয়া অবধি তার আর পিপাসা লাগবে না। আর ঐ মাসের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক ক্ষমার ও তৃতীয় দশক জাহান্নাম হতে মুক্তির জন্য নির্ধারিত। যে ব্যক্তি ঐ মাসে স্বীয় চাকরের ওপর কার্যভার লাঘব করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নাম হতে আযাদ করে দেন। (বাযহাক্বী-৩৯, ইবনু খোযাইমা-১৮৮৭)
প্রিয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

্রإِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ ،وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ،  وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ،  وَيُنَادِى مُنَادٍ:  يَا بَاغِىَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ ، وَيَا بَاغِىَ الشَّرِّ أَقْصِرْ .وللهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ)رواه الترمذي  واللفظ له (৬৮২) وقال:غريب، وابن خزيمة في صحيحه بنحوه (১৮৮৩)،  وابن حبان (৮/২২১) وقال الشيخ شعيب في التحقيق (إسناده قوي) ،  والحاكم في المستدرك (১৫৩২) وقال: (حديث صحيح على شرط الشيخين.(

রামাযান মাসের প্রথম রাত্রি সমাগত হতেই শয়তান ও দুষ্টমতি জ্বিনগুলো শৃঙ্খলিত হয় এবং জাহান্নামের দ্বারগুলো রুদ্ধ করে দেয়া হয়, একটি দরজাও মুক্ত থাকে না। আর বেহেশতের দ্বারগুলো খুলে দেয়া হয়, তার একটাও বন্ধ থাকে না। আর কোন একজন গায়েবী আহ্বানকারী উচ্চঃস্বরে বলতে থাকেন যে, ‘হে পুণ্যার্থীগন অগ্রসর হও! হে পাপাত্মার দল পিছিয়ে যাও! এই সময় আল্লাহর পক্ষ হতে বহু দোযখী মুক্তিপ্রাপ্ত হয়। এমনি করে প্রত্যেক রাত্রিতেই আহ্বান করা হয়। ( তিরমিযী-৬৮২, ইবনু খোযাইমা-১৮৮৩, ইবনু হিব্বান-৮/২২১, হাকেম-১৫৩২)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ” رواه البخاري ৩৮ ومسلم ৭৬০

‘যে ব্যক্তি রামাযান মাসে ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রোযা রাখে, তার অতীত গোণাহ মাফ হয়ে যায়। 
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, 

“مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ” (البخاري: كتاب صلاة التراويح، باب فضل من قام رمضان، (১৯০৫)، عن أبي هريرة رضي الله عنه، ومسلم: كتاب صلاة المسافرين وقصرها، باب الترغيب في قيام رمضان وهو التراويح، (৭৫৯).

আর যে ব্যক্তি এই মাসে ঈমানসহ ছওয়াবের আশায় রাত জেগে (তারাবীহ) নামায পড়ে, তার অতীত সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (বুখারী-১৯০৫, মুসলিম-৭৫৯)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ” )رواه البخاري في كتاب الصوم – باب من صام رمضان إيماناً واحتساباً ونية برقم (১৮০২)، ومسلم في كتاب صلاة المسافرين وقصرها – باب الترغيب في قيام رمضان وهو التراويح برقم (৭৬০(

যে ব্যক্তি ক্বদর রাতে ঈমানের সাথে ছওয়াবের আশায় রাত জাগরণ করে নামায পড়ে, তারও অতীত সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (বুখারী-১৮০২, মুসলিম-৭৬১)
হযরত নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

عن أَبي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( قَالَ اللَّهُ : كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ طَعَامَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي) روى البخاري (১৭৬১) ومسلم (১৯৪৬)(

‘মানুষের প্রত্যেক সৎকর্মের ছওয়াব দশ হতে সাতশত গুণ বৃদ্ধি হয়ে থাকে। তবে আল্লাহ বলেন, ‘কেবল রোযা ব্যতীত। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য সুতরাং তার পুরস্কার আমিই আমার কুদরতের স্বহস্তে প্রদান করব। যেহেতু রোযাদার স্বীয় কামপ্রবৃত্তিকে দমন ও পানাহার পরিহার করে থাকে কেবলমাত্র আমারই জন্য।’ (বুখারি-১৭৬১, মুসলিম-১৯৪৬)   
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 

لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ يَفْرَحُهُمَا : إِذَا أَفْطَرَ فَـرِحَ ، وَإِذَا لَقِيَ رَبَّهُ فَرِحَ بِصَوْمِه

‘রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দ। একটি ইফ্তার কালে এবং অপরটি আল্লাহর সাথে দীদারকালে।’(বুখারি-১৭৬১, মুসলিম-১৯৪৬)   

তিনি আরো বলেন, 

وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْك .

‘রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশ্ক হতেও অধিক সুগন্ধময়।(বুখারি-১৭৬১, মুসলিম-১৯৪৬)    

তিনি বলেন, 

وَالصِّيَامُ جُنَّـةٌ ، وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلا يَرْفـثْ ، وَلا يَصْخَبْ ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ : إِنِّي امْرُؤٌ صَائِم .

(রোযাদারগণের পক্ষে) রোযা হচ্ছে ঢালস্বরূপ।’ (বুখারি শরিফ)   সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউই রোযা অবস্থায় নির্লজ্জ কথা বলবে না এবং বাজে বকবে না। যদি কেউ রোযাদারকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করতে আসে, তবে সে যেন বলে দেয় যে, আমি রোযাদার। (বুখারি-১৭৬১, মুসলিম-১৯৪৬)   
হযরত নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْل فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ ) . روى البخاري (১৯০৩১৮০৪-) (৬০৫৭)

‘যে ব্যক্তি রোযা অবস্থায় মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কাজ হতে বিরত রইল না, তার উপবাসে আল্লাহর কিছুই যায় আসে না।’((বুখারি-১৮০৪, ১৯০৩, ৬০৫৭)   
তিনি সাবধান করে বলেন, 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , قَالَ :  ” رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ حَظٌّ مِنْ صَوْمِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَالْعَطَشُ ، وَرُبَّ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ حَظٌّ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ وَالنَّصَبُ ”

رواه ابن ماجه في سننه (১৬৯০) عن عمرو بن رافع والنسائي في الكبرى (২/২৩৯/رقم৩২৫০) ورواه النسائي في الكبرى (২/২৩৯/رقم৩২৫১) ورواه أحمد في مسنده (২/৪৪১) 

‘বহু রোযাদার এমনও রয়েছে, যে ক্ষুধায়-পিপাসায় কষ্ট পাওয়া ব্যতীত তাদের রোযা রাখায় আর কোন ফল নেই। এমনিভাবে বহু রাতজাগা নামাযী রয়েছে, যাদের রাত জাগরণ ব্যতীত অন্য কোন লাভ হয় না।’ হযরত নবীয়ে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন বলেন, যে রোযাদারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমার নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ হতে বিরত থাকল না, তার শুধু পানাহার হতে বিরত থাকায় কোন লাভ নেই।’ (ইবনু মাযা-১৬৯০, নাসায়ী- ৩২৫০, আহমদ-২/৪৪১(
আমরা যখন এ মাসের গুরুত্ব অনুভব করলাম তখন আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়াল কীভাবে এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো যায় সে প্রচেষ্টা চালানো। হেদায়াতের আলোকবর্তিকা আল-কোরআনও নাযিল হয়েছে এ মাসে ।   (চলবে ইনশা আল্লাহ)

Advertisements

আলবানীর দৃষ্টিতে পবিত্র শবে বরাত!

Standard

image

সালাফী লা’মাযহাবীদের অন্যতম গুরু নাছির উদ্দীন
আলবানী তার “সিলসিলাতু আহাদীসি আস সহীহা”
কিতাবে পবিত্র শবে বরাতের হাদীস শরীফকে সহীহ বলে
উল্লেখ করে লিখেছে,
“ হাদীসটি সহীহ। কেননা একদল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু
আনহু থেকে বিভিন্ন সূত্রে নিসফে শাবানের মর্যদা ওপর
একাধিক হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে। বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত
হওয়ার কারনে হাদীস শরীফটি মজবুতি লাভ করেছে। যে
সকল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শরীফ
বর্ণিত আছে উনারা হলেন, হযরত মু’আয ইবনে জাবাল
রদ্বিয়াল্লাহু আনহু , হযরত আবু সালাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহ,
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু মূসা
আল আশ’আরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু হুরাইরা
রদ্বিয়াল্লাহু আনহু , হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু
আনহু, হযরত আউফ বিন মালেক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত
আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা। এছাড়াও অনেক
আকাবীর সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন হাদীস শরীফ
বর্ণনা করেরন। (দলীল: সিলসিলাতু আহাদীসি আস সহীহা
৩য় খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা: হাদীস নম্বর ১১৪৪ , মূল কিতাবের স্ক্যন
কপি দেয়া হলো)
এবার সালাফী লা’মাযহাবীদের কাছে প্রশ্ন তারা
তাদের গুরু নাছির উদ্দীন আলবানীর শবে বরাতের পক্ষে
ফতোয়াকে মেনে নিবে কিনা?

image

শবে বরাত অস্বীকারকারী লা’মাযহাবীদের জন্য অরেকটা
চমক।
=================================================
সালাফীদের গুরু নাছিরউদ্দীন আলবানী তার একটা কিতাব
“সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব” কিতাবের ৩য় খন্ড ৫৩ ও
৫৪ পৃষ্ঠায় শবে বরাত শরীফ সর্ম্পকে ৫ টা হাদীস শরীফ
বর্ণনা করেছে। উক্ত কিতাবের ২৭৬৭ নম্বর হাদীস শরীফে
হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত
হাদীস শরীফকে “হাসান সহীহ” বলেছে।
২৭৬৮ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু
আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী”
বলেছে। ২৭৬৯ নম্বর হাদীস শরীফ হযরত আবু বকর সিদ্দীক
রদ্বিয়াল্লাহু অ।নহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফকে “সহীহ লি
গাইরিহী” বলেছে। এবং মন্তব্য হিসাবে বলেছে “এই সনদে
কোন সমস্য নেই। এরপর ২৭৭০ নম্বর হাদীস শরীফে হযরত
কাছীর ইবনে মুররা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত
হাদীস শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে। হযরত
মাকহুল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত ২৭৭১ নম্বর হাদীস
শরীফকে “সহীহ লি গাইরিহী” বলেছে।
এবার জনতার আদালতে প্রশ্ন, সালাফী গুরু আলবানী
যেখানে শবে বরাতের হাদীস শরীফকে সহীহ হিসাবে
আখ্যায়িত করেছে সেখানে তার তথাকথিত অনুসারী কুয়ার
ব্যাং সালাফীরা কেন আজ শবে বরাতের বিরোধীতায়
মশগুল?
এখন কথা হচ্ছে সালাফীরা যদি শবে বরাতের বিরোধীতা
করে তবে সবার আগে আলবানীরি বিরোধীতা করে আসতে
হবে …..তা কি তারা করতে পারবে ?????
(রিয়াদ থেকে প্রকাশিত আলবানীর কিতাবের স্ক্যান কপি
দেয়া হলো। হাদীস নম্বর এবং তার মন্তব্য লাল বক্স দ্বারা
চিহ্নত করা হলো))

শব ই বরাত( কোরআন হাদিসের আলোকে)

Standard

image

শবে বরাত ফার্সী ভাষা, ফার্সী শব অর্থ রাত্রি
এবংবরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত মানে
হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।কোরআনে শবে কদর
নাই,লাইলাতুল কদর আছে,শবে বরাত নাই,লাইলাতুল
মোবারাকা আছে।কুরআন শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুম
মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর হাদীস শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন
শা’বান বা শা’বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা
হয়েছে।

<<<শবে বরাত সম্পর্কিত আরো পড়ুন এখান থেকেশাবানের ফযিলত>>>

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦِ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣُّﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ
ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ
ﺃَﻣْﺮًﺍ ﻣِّﻦْ ﻋِﻨﺪِﻧَﺎ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﺮْﺳِﻠِﻴﻦَ
অর্থঃ
” শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে
কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই
নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো
ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।”
(সূরা দু’খানঃ ২-৫)
কেউ কেউ বলে থাকে যে, “সূরা দু’খানের উল্লেখিত আয়াত
শরীফ দ্বারা শবে ক্বদর-কে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত
আয়াত শরীফে সুস্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, নিশ্চয়ই আমি
বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি……..। আর কুরআন
শরীফ যে ক্বদরের রাতে নাযিল করা হয়েছে তা সূরা
ক্বদরেও উল্লেখ আছে ।”
এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ” উক্ত আয়াতের দুটি ব্যাখ্য
দিয়েছেন ১ লাইলাতুল কদর ২, লাইলাতুল বারায়াত।
প্রখ্যাত মুফাসসির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (), হযরত
আবু হুরায়রা () এবং হযরত ইকরামা () সহ বহু সংখ্যক সাহাবী
তাবেয়ীনদের মতে উক্ত আয়াতে লাইলাতুল মুবারাকা
দ্বারা চৌদ্দ-ই শাবান দিবাগত রাত বা শবে বারাআত
বুঝানো হয়েছে।
যেমন কয়েকজন মুফাসসিরদের মতামত দেয়া হল-
(১) ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺣﻢ ﻳﻌﻨﻰ ﻗﻀﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻫﻮ ﻛﺎﺋﻦ ﺍﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
ﻭﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ ﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ –‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস () বলেন, হা-মীম
অর্থাৎ- আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেছেন কিয়ামত
পর্যন্ত যা ঘটবে, সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ অর্থাৎ- আল কুরআন,
লাইলাতুল মুবারাকা অর্থাৎ শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ
দিবাগত রাত তা হল লাইলাতুল বারাআত।’’
# ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : তাফসীরে দুররে মানসুর :
৭/৪০১পৃ
(২), ﻋﻦ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﺒﺮﺍﺋﻴﻞ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻰ ﺗﻠﻚ
ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺣﺘﻰ ﺍﻣﻠﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺘﺒﺔ ﻭﺳﻤﺎﻫﺎ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ ﻻﻧﻬﺎ ﻛﺜﻴﺮﺓ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﺍﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﻳﻨﺰﻝ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ
ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﻳﺠﺎﺏ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ –
-‘‘হযরত ইকরামা () বলেন, “লাইলাতুল মুবারাকা” দ্বারা
শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতকে বুঝানো
হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল () কে ঐ রাতে
প্রথম আবৃত্তি করতে পারেন। এই রাতকে মুবারক নাম রাখার
কারণ হলো এতে কল্যাণ, বরকত ও আল্লাহর রহমত নাযিল হয়
এবং রাতে দোয়া কবুল হয়।’’
# তাফসীরে কাশফুল আসরার, ৯/৯৮.পৃ.
৩,মুবারাকা বা বরকতময় বলার কারণ কি এ প্রসঙ্গে
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী () বলেছেন,
ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻛﺜﻴﺮﺓ ﺧﻴﺮﻫﺎ ﻭﺑﺮﻛﺘﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺑﺮﻛﺎﺕ ﺟﻤﺎﻟﺔ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺗﺼﻞ ﺍﻟﻰ
ﻛﻞ ﺫﺭﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺜﺮﻯ ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা বলা হয় এ রাতে অনেক খায়ের ও
বরকত নাযিল হয়। সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর সৌন্দর্যের বরকত
আরশের প্রতি কণা থেকে ভূতলের গভীরে পৌঁছে যেমনটি
শবে কদরের মধ্যে হয়ে থাকে।’’
# আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান : ৮/১০১
পৃ.
(৪) আল্লামা ইমাম সুয়ূতি (রহ.) আরও বলছেন,
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﻗﻄﻊ
ﺍﻻﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺣﺘﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﻨﻜﺢ ﻭﻳﻮﻟﺪ ﻟﻪ ﻭﻗﺪ ﺧﺮﺝ ﺍﺳﻤﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ –
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ () ইরশাদ
করেছেন, এক শাবান থেকে অপর শাবান পর্যন্ত মানুষের
হায়াত চূড়ান্ত করা হয়। এমনকি একজন মানুষ বিবাহ করে
এবং তার সন্তান হয় অথচ তার নাম মৃতের তালিকায় উঠে
যায়।’’
# আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সূয়তী : তাফসীরে দুররে
মানসুর : ৭/৪০১ পৃ
(৫) আল্লামা ইমাম কুরতুবী () তাফসীরে কুরতুবীতে এই
আয়াতের তাফসীরে লিখেছেন-
ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻟﻬﺎ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺼﻚ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻭﻭﺻﻔﻬﺎ
ﺑﺎﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﻳﻨﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﺒﺎﺩﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺮﻛﺎﺕ ﻭﺍﻟﺨﻴﺮﺍﺕ ﻭﺍﻟﺜﻮﺍﺏ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শাবান (শবে বরাত) এর
রাতকে বুঝানো হয়েছে। এই ১৫ই শাবানের রাত তথা শবে
বরাতের চারটি নাম রয়েছে, যেমন. ১. লাইলাতুল মুবারাকা
বা বরকত পূর্ণ রাত, ২. লাইলাতুল বারায়াত তথা মুক্তি বা
ভাগ্যের রাত. ৩। লাইলাতুল ছক্কি বা ক্ষমা স্বীকৃতি
দানের রাত ৪. লাইলাতুল ক্বদর বা ভাগ্য রজনী।’’
আর শবে বরাতকে বরকতের সঙ্গে এই জন্য সম্বন্ধ করা হয়েছে
যেহেতু আল্লাহ পাক এই শবে বরাতে বান্দাদের প্রতি
বরকত, কল্যাণ এবং পূণ্য দানের জন্য দুনিয়ায় কুদরতীভাবে
নেমে আসেন অর্থাৎ- খাস রহমত নাযিল করেন।
(৬) ইমাম কুরতবী () আরও বলেন,
ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻫﻬﻨﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ –
-‘‘বিখ্যাত সাহাবী হযরত ইকরামা () তিনি বলেন,
লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা এখানে অর্ধ শাবান (শবে
বরাতকে) এর রাতকেই বুঝানো হয়েছে।’’
প্রখ্যাত মুফাসসির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (), হযরত
আবু হুরায়রা () এবং হযরত ইকরামা () সহ বহু সংখ্যক সাহাবী
তাবেয়ীনদের মতে উক্ত আয়াতে লাইলাতুল মুবারাকা
দ্বারা চৌদ্দ-ই শাবান দিবাগত রাত বা শবে বারাআত
বুঝানো হয়েছে।
# ইমাম কুরতুবী : তাফসীরে কুরতবী : ৮/১২৬ পৃ.
৭) ইমাম কুরতুবী () আরও বলেন, ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ
ﺍﻳﻀﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻘﻀﻰ ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎ ﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস () থেকে
বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা অর্ধ
শাবান (শবে বরাতে) এর রাত্রিতে যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্য
তালিকা প্রস্তুত করেন। আর কদরের রাত্রিতে ঐ ভাগ্য
তালিকা বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের হাতে পেশ
করেন।’’
#ইমাম কুরতুবী: তাফসীরে কুরতুবী : ৯/১৩০ : পৃ:
(৮) আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ আলূসী () “তাফসীরে রুহুল
মায়ানীতে’’ সূরা দুখানের উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন,
ﻭﻭﺻﻒ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺑﺎﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻧﺰﺍﻝ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻣﺴﺘﺘﺒﻊ ﻟﻠﻤﻨﺎﻓﻊ ﺍﻟﺪﻳﻨﻴﺔ ﻭﺍﻟﺪﻧﻮﻳﺔ ﺑﺄﺟﻤﻌﻬﺎ ﺍﻭ ﻟﻤﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ
ﻧﻨﺰﻝ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﺍﺟﺎﺑﺔ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻭﻓﻀﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺒﺎﺩﺓ ﺍﻭ ﻟﻤﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻭﺗﻘﺪﻳﺮ ﺍﻻﺭﺯﺍﻕ ﻭﻓﻀﻞ
ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻻﺟﺎﻝ ﻭﻏﻴﺮﻫﺎ ﻭﺍﻋﻄﺎﺀ ﺗﻤﺎﻡ ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ ﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻫﺬﺍ ﺑﻨﺎﺀ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻬﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻓﻘﺪ
ﺭﻭﻯ ﺍﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻋﺸﺮ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻰ ﺃﻣﺘﻪ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺜﻠﺚ ﻣﻨﻬﺎ ﺛﻢ
ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻋﺸﺮ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺜﻠﺜﻴﻦ ﺛﻢ ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺨﺎﻣﺲ ﻋﺸﺮ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺠﻤﻴﻊ ﺍﻻ ﻣﻦ ﺷﺮﺩ ﻋﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺷﺮﺍﺩ ﺍﻟﺒﻌﻴﺮ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা বরকতের রাত হিসেবে এবং
দুনিয়াবী বহুবিদ কল্যাণের জন্য নাযিলের সিদ্ধান্ত দেয়া
হয়েছে। ঐ রাতে সমস্ত ফেরেশতারা অবতরণ করেন এবং
রহমত নাযিল হয়, বান্দাদের দোয়াকবুল করা হয়। বান্দাদের
রিযিক বন্টন করা হয় এবং সমস্ত কিছুর ভাগ্য সমূহ পৃথক করা
হয়। যেমন মৃত্যু এবং অন্যান্য সব বিষয়ের। এবং রাসূল () এর
সমস্ত বিষয়ের সুপারিশ কবুল করা হয়। আর এই বরকতের
রাতকে বরাতের রাত হিসেবেও নাম করণ করা হয়। যেহেতু
এ সম্পর্কে হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আখিরী রাসূল
() তিনি শাবান মাসের ১৩ তারিখ রাতে স্বীয় উম্মতের
ক্ষমার জন্য আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা করেন। অতঃপর
অনুরূপভাবে ১৪ই শাবান তথা শবে বরাতেও মহান আল্লাহ
পাকের কাছে হুযুর পাক () স্বীয় উম্মতের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে
বরাতে তার উম্মতের দুই তৃতীয়াংশ উম্মতকে ক্ষমা করেন।
অতঃপর অনুরূপভাবে ১৫ই শাবান তথা শবে বরাতেও মহান
আল্লাহ পাকের কাছে হুযুর পাক () স্বীয় উম্মতের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই শবে
বরাতে তার সমস্ত উম্মতগণকে ক্ষমা করে দেন। তবে ওই
সমস্ত উম্মত ব্যতীত যারা মহান আল্লাহ পাক এর ব্যাপারে
চরম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।’’
#আল্লামা আলুসী বাগদাদী: তাফসীরে রুহুল মায়ানী :
১৩/১১২ পৃ:
(৯) ইমাম খাযেন () রচিত তাফসীরে লুবাবুত তাভীল” এ উক্ত
আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ আছে-
( ﻓﻴﻬﺎ ‏) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ‏(ﻳﻔﺮﻕ ‏) ﻳﻔﺼﻞ ‏( ﻛﻞ ﺍﻣﺮ ﺣﻜﻴﻢ ‏) —— ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ
ﻋﻨﻪ ﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻳﻘﻮﻡ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻣﺮ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺗﻨﺴﺦ ﺍﻻﺣﻴﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻻﻣﻮﺍﺕ ﻓﻼ ﻳﺰﺍﺩ ﻓﻴﻬﻢ ﻭﻻ
ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻨﻬﻢ ﺍﺣﺪ ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺗﻘﻄﻊ ﺍﻻﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺣﺘﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﻨﻜﺢ
ﻭﻳﻮﻟﺪ ﻟﻪ ﻭﻟﻘﺪ ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺳﻤﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻀﻰ
ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘ওই মুবারক তথা বরকত পূর্ণ রাত্রিতে অর্থাৎ- শবে বরাতের
প্রত্যেক হিকমত পূর্ণ যাবতীয় বিষয় সমূহের ফায়সালা করা
হয়। বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইকরামা () তিনি বলেন,
লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শাবান
তথা (শবে বরাত) এর রাত। এই শবে বরাতে আগামী এক
বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়
এবং তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত ও জীবীতদের। ওই
তালিকা থেকে কোন কম বেশি করা হয় না অর্থাৎ-
পরিবর্তন হয় না।
#ইমাম খাজেন: তাফসীরে লুবাবুত তাভীল : ১৭/৩১০-৩১১পৃ
১০, মালেকী মাযহাবের আল্লামা শেখ আহমদ ছাভী বলেন,
( ﻗﻮﻟﻪ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ‏) ﻫﻮ ﻗﻮﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﻭﻃﺎﺋﻔﺔ ﻭﻭﺟﻪ ﺑﺎﻣﻮﺭ ﻣﻨﻬﺎ ﺍﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ
ﻟﻬﺎ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺼﻚ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻓﻀﻞ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻓﻴﻬﺎ –
অর্থঃ ঐ বরকতময় রজনী হচ্ছে অর্ধ শাবানের রাত্রি
(মোফাসসিরীনে কেরামের অন্যতম মোফাসসির) বিশিষ্ট
তাবেয়ী হযরত ইকরামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)ও অন্যান্য
তাফসীরকারকদের একদলের অভিমত। তারা এর কয়েকটি
কারণও উল্লেখ করেছেন। শাবানের চৌদ্দ তারিখের
দিবাগত রাত্রির চারটি নামে নামকরণ করেছেন। যেমন- ১।
লাইলাতুম মুবারাকাহ- বরকতময় রজনী। ২। লাইলাতুল
বারাআত- মুক্তি বা নাজাতের রাত্রি। ৩। লাইলাতুর
রহমাহ- রহমতের রাত্রি। ৪। লাইলাতুছ ছাক- সনদপ্রাপ্তির
রাত্রি ইত্যাদি।
#(তাফসীরে ছাভী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪০)
১১, তাফসীরে বাগভী শরীফে বর্ণিত আছে,…
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻀﻰ ﺍﻷﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ, ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺇﻟﻰ
ﺃﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শবে বরাতের রাতে সকল
বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন এবং শবে ক্বদরের রাতে তা
সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববান ফেরেশতাদের কাছে ন্যস্ত করেন ।
# (তাফসীরে বাগভী, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা ২২৮)
= অনেকেই বলে থাকে পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ
হয়েছে রমাদ্বান শরীফ-এর মাসে লাইলাতুল ক্বদরে। এ
প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারায় উল্লেখ
করেন-
(১২৯) ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﺍﻧﺰﻝ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ
পবিত্র কুরআন শরীফ রমাদ্বান মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে।
আর সূরা আদ দুখানেও আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
(১৩০)
ﺍﻧﺎ ﺍﻧﺰﻟﻨﺎﻩ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ
নিশ্চয়ই আমি উহা তথা কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করেছি
মুবারকময় রজনীতে। এখানে লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা
যদি শবে বরাতের রাতকে গণনা করা হয় তাহলে উভয়
রাতের সমাধান কি?
উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে অসংখ্য তাফসীর ও হাদীছ শরীফ-
এর উদ্ধৃতির মাধ্যমে সমাধান দেয়া হয়েছে যে, লাইলাতুম
মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতকেই
বুঝানো হয়েছে। আর এই রাতে কুরআন শরীফ অবতীর্ণের
কথা যে বলা হয়েছে তা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তিনি
প্রথম যখন পবিত্র কুরআন শরীফ লওহে মাহফূযে অবতীর্ণ
করেন সেই রাতটি ছিলো লাইলাতুম মুবারাকা তথা অর্ধ
শাবানের রাত্রি অর্থাৎ শবে বরাতের রাত্রি। আর লওহে
মাহফূয থেকে দুনিয়ার আকাশে একই সঙ্গে অবতীর্ণ করা
হয়। সেখান থেকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার
মাধ্যমে সুদীর্ঘ তেইশ বৎসরে বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে
খ- খ-ভাবে তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-উনার উপর নাযিল করা হয়।
===> বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে খাযিন-এর ৪র্থ খ-ে
র (সূরা ক্বদরের তাফসীরে) ২৯৫ পৃৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
(১৩১-১৩৫)
ﺍﻧﺎ ﺍﻧﺰﻟﻨﺎﻩ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ‏(ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻭﺫﻟﻚ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻧﺰﻝ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺟﻤﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ
ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤﻔﻮﻅ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻓﻮﺿﻌﻪ ﻓﻰ ﺑﻴﺖ ﺍﻟﻌﺰﺓ ﺛﻢ ﻧﺰﻝ ﺑﻪ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻧﺠﻮﻣﺎ ﻣﺘﻔﺮﻗﺔ ﻓﻰ ﻣﺪﺓ ﺛﻼﺙ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ ﺳﻨﺔ ﻓﻜﺎﻥ ﻳﻨﺰﻝ ﺑﺤﺴﺐ
ﺍﻟﻮﻓﺎﺋﻊ ﻭﺍﻟﺤﺎﺟﺔ ﺍﻟﻴﻪ .
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি উহা তথা পবিত্র কুরআন শরীফ ক্বদরের
রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি। এই বাণী মুবারক-এর দ্বারা
ইহা বুঝানো হয়েছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা
পবিত্র কুরআনুল কারীম একই সঙ্গে লাওহে মাহফূয থেকে
দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করেন লাইলাতুল ক্বদরে। অতঃপর
ওই পবিত্র কুরআন শরীফ বাইতুল ইযযতে রাখা হয়। সেখান
থেকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে
আস্তে আস্তে সুদীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন অবস্থার
প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে খ- খ-ভাবে হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উপর অবতীর্ণ
করেন।
(সূরা আদ দুখান এর তাফসীরে তাফসীরে খাযিন ৪র্থ খন্ড
১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে বাগবী ৪র্থ/১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে রহুল
মায়ানী, তাফসীরে রুহুল বয়ান, দুররুল মানছুর, ইত্যাদি
তাফসীরে সমূহ)
তাছাড়াও সমাধানে আরো উল্লেখ আছে যে, লাইলাতুম
মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতকে
আর নির্ধারিত ভাগ্যসমূহ চালুকরণের রাতকে লাইলাতুল
ক্বদর তথা শবে ক্বদরের রাতকে বুঝানো হয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে রুহুল
মায়ানী ১৫তম খ-ের ২২১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
(১৩৬) ﻭﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻇﻬﺎﺭ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻤﻘﺎﺩﻳﺮ ﻟﻠﻤﻼﺋﻜﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺗﻜﺘﺐ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤﻔﻮﻅ ﻭﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻨﺸﻌﺒﺎﻥ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﺛﺒﺎﺕ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻤﻘﺎﺩﻳﺮ ﻓﻰ ﻧﺴﺦ ﻭﺗﺴﻠﻴﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺪﺑﺮﺍﺕ
অর্থ: লাইলাতুল ক্বদরের অনেক অর্থ রয়েছে তন্মধ্যে
দ্বিতীয় একটি অর্থ হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে
বরাতে যেসব বিষয়ের তালিকা লাওহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ
করা হয়েছে সেসব ভাগ্য তালিকা ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালামগণ উনাদের মাধ্যমে যে রাত্রিতে প্রকাশ তথা চালু
করা হয় সেই রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর তথা ভাগ্য
নির্ধারণের রাত বা মহান মর্যাদাবান রাতও বলে।
তৃতীয়ত: অপর একটি অর্থ হচ্ছে নির্ধারিত ভাগ্যসমূহ যা
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তা চালু করার জন্য কার্যকারী
ফেরেশতাদের হাতে যে রাতে পেশ করা হয় সেই রাতকে
লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর বলে।
==মাওলানা মাহিউদ্দীন খান তার মাসিক মদীনায়
জুলাই/২০১১ এর ৪১পৃষ্ঠায় “আল-কুরআনে শব-ই-বরাত: একটি
বিশ্লেষন” শিরোনামে লিখেছে-
সুরা দুখানের লাইলাতুম মুবারকা শব্দের সংখ্যাতাত্ত্বিক
বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, সুরা দুখান কুরআনের ১ম
থেকে ৪৪নং সুরা। ৪৪ এর অঙ্কদ্বয়ের সমষ্টি ৪+৪=৮; ৮দ্বারা
বুঝায় ৮ম মাস অর্থাৎ শাবান মাসে লাইলাতুম মুবারকা
অবস্থিত। আবার কুরআনের শেষ থেকেও সুরা দুখান ৭১ নং
সুরা। ৭১ অঙ্কদ্বয়ের সমষ্টি ৭+১=৮, পুনরায় ৮ম মাসের দিকেই
ইঙ্গিত করে। আবার এ সুরার প্রথম থেকে ১৪টি হরফ শেষ
করে ১৫তম হরফ থেকে লাইলাতুম মুবারকায় কুরআন নাযিল
সংক্রান্ত আয়াত শুরু হয়েছে। এটা ইঙ্গিত করে যে, ঐ ৮ম
মাসের ১৪ তারিখ শেষ হয়ে ১৫তারিখ রাতেই লাইলাতুম
মুবারকা। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষন প্রমান করে, সুরা
দুখানে বর্নিত লাইলাতুম মুবারকা ১৪ই শাবান দিবাগত ১৫ই
শাবানের রাত। অর্থাৎ লাইলাতুল বারাআত বা শব-ই-
বারাআত। এছাড়া মুফাসিসরীনদের বিশাল এক জামাত
দাবী করেছেন, সুরা দুখানে বর্নিত যে রাতকে লাইলাতুম
মুবারকা বলা হয়েছে তা অবশ্যই শব-ই-বরাত। (ইমাম কুরতবী,
মোল্লা আলী কারী (রহ), বুখারী শরীফের সর্বশ্রেষ্ঠ
ভাষ্যকার হাফিজুল হাদীস আল্লামা ইবনে হাজার
আসকালানী রহ; এবং হাম্বলী মাজহাবের অন্যতম ইমাম
বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি সহ আরো
অনেকে এ বিষয়ে একমত)
কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো,
“আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল শুরু করি।”
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক “লাইলাতুম মুবারকাহ বা শবে
বরাতে” কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন আর শবে
ক্বদরে তা নাযিল করা শুরু করেন। এজন্যে মুফাসসিরীনে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা শবে বরাতকে ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﺘﺠﻮﻳﺰ অর্থাৎ ‘ফায়সালার রাত।’ আর শবে ক্বদরকে ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻨﻔﻴﺬ
অর্থাৎ ‘জারী করার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা
শবে বরাতে যে সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয় তা ‘সূরা
দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফেই উল্লেখ আছে। যেমন ইরশাদ
হয়েছে-
ﻓﻴﻬﺎ ﻳﻔﺮﻕ ﻛﻞ ﺍﻣﺮ ﺣﻜﻴﻢ
অর্থাৎ- “উক্ত রজনীতে প্রজ্ঞাসম্পন্ন সকল বিষয়ের
ফায়সালা করা হয়।”
হাদীছ শরীফেও উক্ত আয়াতাংশের সমর্থন পাওয়া যায়।
যেমন ইরশাদ হয়েছে-
ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻛﻞ ﻣﻮﻟﻮﺩ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺍﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻛﻞ ﻫﺎﻟﻚ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ
ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻋﻤﺎﻟﻬﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺗﻨﺰﻝ ﺍﺭﺯﺍﻗﻬﻢ
অর্থাৎ- “বরাতের রাত্রিতে ফায়সালা করা হয় কতজন
সন্তান আগামী এক বৎসর জন্ম গ্রহণ করবে এবং কতজন সন্তান
মৃত্যু বরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে
উঠানো হয় অর্থাৎ আল্লাহ পাক-উনার দরবারে পেশ করা হয়
এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়সালা করা
হয়।” (বায়হাক্বী, মিশকাত)
===> লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাতকে বুঝানো
হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দু’খানের ৪ নম্বর আয়াত
শরীফ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ । এই আয়াত শরীফের ﻳُﻔْﺮَﻕُ শব্দের অর্থ
ফায়সালা করা।প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে
কিরামগণ ﻳُﻔْﺮَﻕُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু
অর্থাৎলেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়,
ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়,
ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ
নির্দেশনা দেওয়া হয়
কাজেই ইয়ুফরাকু -র অর্থ ও তার ব্যাখার মাধ্যমে আরো
স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহদ্বারা শবে
বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে
সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য
লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে রমাদ্বান
মাসের লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু হয়। এজন্য
শবে বরাতকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ ফায়সালার
রাত্র এবং শবে ক্বদরকেলাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ
নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়।
(তাফসীরে মাযহারী,তাফসীরে খাযীন,তাফসীরে ইবনে
কাছীর,বাগবী, কুরতুবী,রুহুল বয়ান,লুবাব)
==যে বিষয় টি লক্ষ্যনীয়- শবে কদর হাজার বছরের চেয়ে
শ্রেষ্টরাত এবং সেইদিন হল বন্ঠনের রাত কিন্তু শবে বরাত
হল ফয়সালার রাত,সেহেতু সুরা দুখুানে এসছে—“ আমারই
নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো
ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সুরা
দুখান-৫)এবং হাদিসেও ১৫ই শাবান কে ফয়সালার রাত
হিসেবে উল্লেখ অাছে যেটি শবে কদর সর্ম্পকে নাই।

image

শবে বরাত সম্পর্কীয় বহু বর্ণনা হাদীসের কিতাবে
বিদ্যমান। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদীস নিম্নে
পেশ করছি-
*প্রথম হাদীস
হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা. রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেন,
আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে
সমস্ত সৃষ্টি কুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে সকলকে
ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া। (দেখুন:
শুয়াবুল ঈমান-৫/২২৭ , আল-মু‘জামূল কাবীর-২০/১০৮)
░▒▓█►হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ক. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী র. মুয়ায রা. এর হাদীসটি
বর্ণনা করে বলেন, ইবনে হিবক্ষান হাদীসটিকে সহীহ
বলেছেন। আর নির্ভরযোগ্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
*দ্বিতীয় হাদীস
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে
বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে আছেন।
আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা
করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার
করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা
করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ
নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু
কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক
লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান
বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
*তৃতীয় হাদীস
হযরত আবী সা’লাবা আল খুশানী রা. থেকে বর্ণিত হুজুর স.
ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের পনের
তারিখ রাতে স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন।
অতঃপর মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন এবং কাফেরদেকে সুযোগ
দেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে বিদ্বেষ পরিত্যাগ
করা পযর্ন্ত অবকাশ দেন। (শুয়াবুল ঈমান: ৩/৩৮১ , মু‘জামূল
কাবীর: ২২/২২৩)
*চতুথ হাদীস:-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের
মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত
ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে
দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫,
হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর
(২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত
হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে
আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘
আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত
হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী।
হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ
ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং (১৯৮০),
পৃঃ (৪৮৬)।
*৫ম হাদীস:-
আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন শা‘বানের মধ্যরাত্রি আসবে
তখন তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে,
আর সে দিনের রোযা রাখবে; কেননা সে দিন সুর্যাস্তের
সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ
করেন এবং বলেন: ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি
ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি
রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে
পরিত্রাণ কামনা করবে আর আমি তাকে উদ্ধার করব। এমন
এমন কেউ কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর পর্যন্ত
তিনি এভাবে বলতে থাকেন”।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৪৪, হাদীস
নং ১৩৮৮) বর্ণনা করেছেন। আল্লামা বূছীরি
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ
(২/১০) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে
আবি সুবরাহ রয়েছেন।যদি তিনি দুর্বল রাবী হন তাহলে
হাদীস টি হাসান।
*৬ষ্ট হাদীস:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন : ১৫ই শা’বানের রাত্রে আল্লাহ পাক তার
বান্দাদের ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। এক.
পরশ্রীকাতর। দুই. অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যাকারী।
মুসনাদে আহমদ-৬/১৯৭, হাদীস-৬৬৪২, মাজমাউস
জাওয়ায়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব
লিল মুনজেরী-৩/৩০৮, হাদীস-৪৮৯২। ইত্যাদি অসংখ্য
কিতাব..।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য।
*৭ম হাদীস:-
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, আঁকা () ইরশাদ ফরমান,
যখন শাবানের ১৫ই তারিখের রাত আগমন করে তখন আল্লাহ
তা‘য়ালা ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, শুধু
মুশরিক (আল্লাহর সাথে শরীককারী) ও হিংসুক ব্যতীত।’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন-
ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﻫِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﺮِﻓْﻪُ، ﻭَﺑَﻘِﻴَّﺔُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻪِ ﺛِﻘَﺎﺕٌ .-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা
করেন, তার বর্ণনাকারীদের একজন “হিশাম ইবনে আব্দুর
রহমান’’ তার সম্পর্কে আমি পরিচিত বা অবগত নই, বাকী সব
রাবী মজবুত ও সিকাহ বা বিশ্বস্ত। অতএব একজনের জন্য
হাদিস যঈফ হবে না; বরং “হাসান”।ইমাম বায্যার : আল
মুসনাদ : ১৬/১৬১পৃ. : হাদিস :৯২৬৮ (২) ইবনে হাজার
হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ,হাদিস, ৮/৬৫পৃ.
হাদিস,১২৯৫৮ (৩) সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৩/৪৮৪পৃ.
হাদিস,২৬২৩, (৪) খতিবে বাগদাদ, তারীখে বাগদাদ,
১৪/২৮৫পৃ. (৫) ইবনে যওজী, আল-ইল্ললুল মুতনাহিয়্যাহ, ২/৫৬০পৃ.
হাদিস,৯২১ (৬) ইমাম তবারী, শরহে উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৫পৃ.
হাদিস,৭৬৩, হাইসামী, কাশফুল আশতার, ২/৪৩৬পৃ.
হাদিস,২০৪৬
*৮নং হাদিস ঃ
-‘‘হযরত আওফ বিন মালেক আশজারী () হতে বর্ণিত, রাসূলে
খোদা () ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাবারাকা ও তায়ালা ১৫ই
শাবানের রাত্রে (শবে বরাত) সকল ঈমানদার বান্দাদেরকে
ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ব্যতীত সবাইকে।
’░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি সংকলন করে বলেন-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা
করেছেন, উক্ত সনদে “আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম”
ইমাম আহমদ বিন সালেহ এর মত তিনি সিকাহ আবার কিছু
মুহাদ্দিসের কাছে তিনি দুর্বল রাবী এবং ইবনে লাহিয়া
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম প্রকৃতির।’ একজন রাবী দ্বঈফ
হওয়াতে হাদিসটির সম্পূর্ণ সনদটি দুর্বল হবে না বরং
“হাসান”।
ইমাম বায্যার : আল-মুসনাদ :৭/১৮৬পৃ.হাদিস,২৭৫৪ (২) ইবনে
হাজার হায়সামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ৮/৬৫পৃ. (৩) খতিব
তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : হাদিস : ১৩০৬ : কিয়ামে
রামাদ্বান (৪) ইবনে কাসীর, জামিউল মাসানীদ ওয়াল
সুনান, ৬/৬৯১পৃ. হাদিস,৮৫৩৯
🏡* ৯নংহাদীস:-
-‘‘হযরত কাসীর ইবনে হাদ্বরামী () হতে বর্ণিত, রাসূল ()
ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫ই তারিখ
রাতে ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে হ্যা দুই
ধরনের ব্যক্তি ছাড়া, তারা হল মুশরিক ও হিংসুক।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
উক্ত হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আহলে হাদীসের মুহাদ্দিস
মোবারকপুরী এবং ইমাম মুনযির বলেন- ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻭ ﻗﺎﻝ
ﻫﺬﺍ ﻣﺮﺳﻞ ﺟﻴﺪ
-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী
বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন, উক্ত হাদিসটি মুরসাল, তবে
সনদ শক্তিশালী।’’ এ হাদিসটির ইমাম আবদুর রাজ্জাকের
সূত্রটি খুবই সংক্ষিপ্ত;অনেক শক্তিশালী।
ইবনে আবী শায়বাহ : আল মুসান্নাফ : ৬/১০৮পৃ.হাদিস :২৯৮৫৯
(২) ইমাম আব্দুর রাজ্জাক : আল মুসান্নাফ : ৪/৩১৭ : হাদিস :
৭৯২৩(৩) ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান : ৫/৩৫৯পৃ.হাদিস :
৩৫৫০
🏡*১০ নং হাদীস:-
-‘‘হযরত আতা ইবনে ইয়াসার () হতে বর্ণিত, রাসূল () ইরশাদ
করেন, শাবানের মধ্য রজনীতে আয়ূ নির্ধারণ করা হয়। ফলে
দেখা যায় কেউ সফরে বের হয়েছে অথচ তার নাম মৃতদের
তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, আবার কেউ বিয়ে করছে
অথচ তার নাম জীবিতের খাতা থেকে মৃত্যুর খাতায় লিখা
হয়ে গেছে।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ রাবী ‘‘ইবনে লাহিয়াহ’ সম্পর্কে
মোটামুটি তিনি সিকাহ বা বিশ্বস্ত ছিলেন। তাছাড়া
মোবারকপুরী বলেন,
ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﻟﻴﻦ- ﺗﺤﻔﺔ ﺍﻻﺣﻮﺫﻯ : ৪৪১/৩
-‘‘ইমাম মুনযিরী () বলেন, ইমাম আহমদ উক্ত হাদিসটি বর্ণনা
করেছেন এবং বলেন, উক্ত হাদীসের সনদটি ইবনে লাহিয়ার
কারণে লীন বা নরম প্রকৃতির।’’
ইমাম বায্যার : আল মুসনাদ :৩ পৃ- ১৫৮, হাদিস : ৭৯২৫(২)
সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৪১/৬৯পৃ. হাদিস,৪৪৩১৪, (৩) ইবনে
রাহবিয়্যাহ, মুসনাদ, ৩/৯৮১পৃ. হাদিস,১৭০২ (৪) তবারী, শরহে
উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৯পৃ. হাদিস,৭৬৯
🏡*১১ নং হাদীস:-
আয়শা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে প্রবেশ করলেন
এবং তাঁর পোশাকটি খুলে রাখলেন। কিন্তু তত্ক্ষণাত্
আবার তা পরিধান করলেন। এতে আমার মনে কঠিন
ক্রোধের উদ্রেক হয়। কারণ আমার মনে হলো যে, তিনি
আমার কোন সতীনের নিকট গমন করেছেন। তখন আমি
বেরিয়ে তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং দেখতে পেলাম যে,
তিনি বাক্বী গোরস্থানে মুমিন নরনারী ও শহীদদের পাপ
মার্জনার জন্য দোয়া করছেন। আমি (মনে মনে) বললাম,
আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আমি আমার
জাগতিক প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত আর আপনি আপনার রবের
কাছে ব্যস্ত। অত:পর আমি ফিরে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ
করলাম, তখন আমি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হাঁপাচ্ছিলাম।
এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স.) আমার নিকট আগমন করে
বললেন, আয়শা, তুমি এভাবে হাঁপাচ্ছ কেন? আয়শা বললেন,
আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আপনি
আমার কাছে আসলেন এবং কাপড় খুলতে শুরু করে তা আবার
পরিধান করলেন। ব্যাপারটি আমাকে খুব আহত করল। কারণ
আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আমার কোন সতীনের
সংস্পর্শে গিয়েছেন। পরে আপনাকে বাক্বী’তে দোয়া
করতে দেখলাম। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কি
আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও তদীয় রাসুল তোমার
উপর অবিচার করবেন? বরং আমার কাছে জিবরাঈল (আ.)
আসলেন এবং বললেন, এ রাত্রটি মধ্য শাবানের রাত।
আল্লাহ তা’য়ালা এ রাতে ‘কালব’ সম্পদায়ের মেষপালের
পশমের চাইতে অধিক সংখ্যককে ক্ষমা করেন। তবে তিনি
শিরকে লিপ্ত, বিদ্বেষী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী,
কাপড় ঝুলিয়ে (টাখনু আবৃত করে) পরিধানকারী, পিতা
মাতার অবাধ্য সন্তান ও মদ্যপায়ীদের প্রতি দৃষ্টি দেন না।
অত:পর তিনি কাপড় খুললেন এবং আমাকে বললেন, হে
আয়শা, আমাকে কি এ রাতে ইবাদত করার অনুমতি দিবে?
আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উত্সর্গিত
হোন! অবশ্যই। অত:পর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন
এবং এমন দীর্ঘ সিজদা করলেন আমার মনে হলো যে, তিনি
মৃত্যুবরণ করেছেন। অত:পর আমি (অন্ধকার ঘরে) তাকে
খুঁজলাম এবং তাঁর পদদ্বয়ের তালুতে হাত রাখলাম। তখন
তিনি নড়াচড়া করলেন। ফলে দুশ্চিন্তা-মুক্ত হলাম। আমি
শুনলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন: ‘আমি আপনার
কাছে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা চাই, অসন্তুষ্টির পরিবর্তে
সন্তুষ্টি চাই। আপনার কাছে আপনার (আজাব ও গজব) থেকে
আশ্রয় চাই। আপনি সুমহান। আপনার প্রশংসা করে আমি
শেষ করতে পারি না। আপনি তেমনই যেমন আপনি আপনার
প্রসংশা করেছেন। আয়শা (রা.) বলেন, সকালে আমি এ
দোয়াটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, হে
আয়শা, তুমি কি এগুলো শিখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন
তিনি বললেন, হে আয়শা তুমি এগুলো ভাল করে শিখ এবং
অন্যকে শিক্ষা দাও। জিবরাঈল (আ.) আমাকে এগুলো
শিক্ষা দিয়েছেন এবং সিজদার ভিতরে বারবার বলতে
বলেছেন।
(বায়হাকীর শুয়াবুল ইমান ২/৩৮৩)।
░▒▓█► হাদীসটির মান :
ইমাম বায়হাকী নিজেই উক্ত হাদীস উল্লেখ করে বলেন-
ﻗُﻠْﺖُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣُﺮْﺳَﻞٌ ﺟَﻴِّﺪٌ ﻭَﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺃَﺧَﺬَﻩُ ﻣِﻦْ ﻣَﻜْﺤُﻮﻝٍ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ،
অর্থাৎ : উক্ত হাদীসটি (মুরসাল) সনদ অনেক উত্তম। অতএব
হাদীসটি প্রমাণযোগ্য।

image

**মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে শবে বরাত
=============
(১) আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মুবারকপুরী তিরমিযী
শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ”তোহফাতুল আহওয়াযীতে” বলেন,
ﺍﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﻭَﺭَﺩَ ﻓِﻲ ﻓَﻀِﻴﻠَﺔِ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻋِﺪَّﺓُ ﺃَﺣَﺎﺩِﻳﺚَ ﻣَﺠْﻤُﻮﻋُﻬَﺎ ﻳَﺪُﻝُّ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ ﻟَﻬَﺎ ﺃَﺻْﻠًﺎ
——– ﻓَﻬَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺣَﺎﺩِﻳﺚُ ﺑِﻤَﺠْﻤُﻮﻋِﻬَﺎ ﺣُﺠَّﺔٌ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻦْ ﺯَﻋَﻢَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻢْ ﻳَﺜْﺒُﺖْ ﻓِﻲ ﻓَﻀِﻴﻠَﺔِ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ
ﺷَﻲْﺀٌ ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺃَﻋْﻠَﻢُ – ‏( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻮﻡ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ, ﺑﺎﺏ : ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ
ﻻﻧﺼﻒ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻌﺒﺎﻥ )
-‘‘জেনে রাখুন, শাবানের মধ্যরাতের (শবে বরাতের) ফযীলত
সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সব হাদিস একত্রিত
করলে প্রমাণিত হয় যে, এ রাতের ফযীলতের ক্ষেত্রে
নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। অনুরূপভাবে এ হাদিসগুলো
সম্মিলিতভাবে তাদের বিপক্ষে প্রমাণ বহন করে যারা
ধারণা করে যে, শবে বরাতের ফযীলতের ক্ষেত্রে কোন
প্রমান মেলে না। আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।’’
(২) আল্লামা ইমাম ইবনে ইসহাক বুরহান উদ্দিন ইবনে
মুফলিহ ওফাত.৮৮৪হি.বলেন,
ﻭَﻳُﺴْﺘَﺤَﺐُّ ﺇِﺣْﻴَﺎﺀُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَﻳْﻦِ ﻟِﻠْﺨَﺒَﺮِ. ﻗَﺎﻝَ ﺟَﻤَﺎﻋَﺔٌ: ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﻋَﺎﺷُﻮﺭَﺍﺀَ، ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺃَﻭَّﻝِ ﺭَﺟَﺐٍ، ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﻧِﺼْﻒِ
ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ، – ﺍﻟﻤﺒﺪﻉ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻤﻘﻨﻊ: ٢/ ٣٣ ﺑﺎﺏ : ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻟﺘﻄﻮﻉ –
-‘‘মুস্তাহাব হলো মাগরিব ও ইশার মাঝখানে এই সমস্ত
রাত্রিগুলোতে জেগে ইবাদত করা। এক জামাত ইমামগণ
বর্ণনা করেছেন, এই সমস্ত রাত্রি হল, আশুরার রাত্রি,
রজবের প্রথম রাত্রি, এবং শাবানের ১৫ তারিখ (শবে বরাত)
রাত্রি। এই সমস্ত রাত্রিতে জাগ্রত থাকা মুস্তাহাব।’’
(৩) অন্যতম মুহাদ্দিস আল্লামা ইমাম যুরকানী ()
ওফাত.১১২২হি. বলেন,
ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ ﻟﻴﻠﻬﺎ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ ﻟﻴﻠﻬﺎ ” ﺃﻱ : ﺃﺣﻴﻮﻩ ﺑﺎﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻭﺍﻧﺼﺒﻮﺍ ﺃﻗﺪﺍﻣﻜﻢ ﻟﻠﻪ
ﻗﺎﻧﺘﻴﻦ، –
-‘‘যখন ১৫ই শাবান আসবে তখন রাতে তোমরা ইবাদতের জন্য
দন্ডায়মান হও। এবং এই ইবাদতের দ্বারা রাত্রকে জীবিত
রাখ।’’
(৪) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী () এক হাদীসের
ব্যাখ্যায় বলেন –
ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺑﺎﻟﺒﺎﺏ ﺍﻻﻳﺬﺍﻥ ﺑﺎﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻟﻤﺎ ﻭﺭﺩ ﻓﻰ ﺃﺣﻴﺎﺋﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ – ﺑﺎﺏ : ﻗﻴﺎﻡ
ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ –
-‘‘এই হাদীসে অধ্যায়ের দ্বারা সংবাদ বা খবর দিয়েছে যে
শাবানের ১৫ই তারিখ রাতে (শবে বরাতে) জেগে ইবাদত
করলে সাওয়াব রয়েছে যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।’’
(৫) আল্লামা তাহতাভী হানাফী () বলেন, ﻭﻧﺪﺏ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ
ﺷﻌﺒﺎﻥ –
-‘‘শবে বরাতে (১৫ই শাবান) রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত
করা মুস্তাহাব।’’
(৬) আল্লামা আলাউদ্দিন হাসকাফী () বলেন,
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﺪﻭﺑﺎﺕ ﺭﻛﻌﺘﺎ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﻭﺍﻟﻘﺪﻭﻡ ﻣﻨﻪ ﻭﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺘﻰ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ ﻭﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﺍﻻﺧﻴﺮ
ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺍﻻﻭﻝ ﻣﻦ ﺫﻯ ﺍﻟﺤﺠﺔ –
-‘মুস্তাহাব হলো এ সমস্ত রাত্রিগুলোতে ইবাদত করা
কমপক্ষে দুরাকাত নামায হলেও পড়া যেমন ১. সফরের প্রথম
রাত ২. দুই ঈদের রাত ৩. শবেই বরাত (১৫ই শাবানের রাত) ৩.
রমযানের শেষ দশ দিনের রাত জিলহজ্ব এর ১ম তারিখ।’’
(৭) আল্লামা ইবনে নুজাইজ হানাফী মিশরী () বলেন,
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﺪﻭﺑﺎﺕ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﺎﻟﻰ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻟﻴﻠﺘﻰ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ ﻟﻴﺎﻟﻰ ﻋﺸﺮ ﺫﻯ ﺍﻟﺤﺠﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ
ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻛﻤﺎ ﻭﺭﺩﺕ ﺍﻻﺛﺎﺭ –
-‘‘মুস্তাহাব হলো রমযানের শেষ দশ দিনের রাতে ও দুই
ঈদের রাতে ইবাদত করা। জিলহজ্ব মাসের দশ রজনী এবং
শবে বরাতের রাতে ইবাদত করা যা হাদিস দ্বারা
প্রমাণিত।’
(৮) বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শায়খ মনসূর বিন ইউনূস বাহুতী
(রহ.) বলেন,
ﻭﻓﻰ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻗﻴﺎﻣﻬﺎ ﺃﻯ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻌﻴﺪ – ‏(ﻛﺸﻒ ﺍﻟﻘﻨﺎﻉ : ١/ ٤٢٠ ،
ﺑﺎﺏ : ﻗﺒﻴﻞ ﻓﺼﻞ ﺳﺠﺪﺓ ﺍﻟﺘﻼﻭﺓ ) -‘‘শবে বরাত (১৫ শাবান) এর রাতে, দুই
ঈদের রাতে দাড়িয়ে অর্থাৎ নামাযে লিপ্ত হওয়া
মুস্তাহাব।’’
৯,*ইমাম আহমাদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
১০,*ইমাম আওযায়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
১১,*ইবনে তাইমিয়া ।
১২,*ইমাম ইবনে রাজাব আল হাম্বলী (রাহমাতুল্লাহি
আলাইহি)।
১৩,*নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী ।
সুত্র:==========
১,আল্লামা মুবারকপুরী: তোহফাতুল আহওয়াজী শরহে
তিরমিযী : ৩/৪৪১ পৃ. হাদিস : ৭৩৬
২, মুফলিহ : মাবদাউ শরহে মাকানা: ২/৩৩পৃ.দারুল কুতুব
ইলমিয়্যাহ,বয়রুত,লেবানন।
৩,আল্লামা ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া
: ১০/৫৬১ পৃ.
৪,আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী মিরকাত : কিয়ামে
রমযান: ৩/৩৪০ : হাদিস : ১৩০০
৫,আল্লামা ইমাম তাহতাভী : মারাকিল ফালাহ : পৃ-৩২৫
৬,আল্লামা আলাউদ্দিন হাস্কাফী দুররুল মুখতার : ২/২৪-২৫ পৃ
কিতাবুল বিতর এবং নফল অধ্যায়
৭,আল্লামা ইবনে নুজাইম মিশরী : বাহরুর রায়েক : ২/৫২
কিতাবুল বিতর ওয়ান নাওয়াফেল
৮,আল্লামা শায়খ মনসূর বিন ইউনূস বায়হাকী : কাশফুল
কানাঈ : ১/৪২০ : সিজদা ও তেলাওয়াতের ফযীলত অধ্যায়।
৯, [ইবনে তাইমিয়া তার ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীমে
(২/৬২৬) তা উল্লেখ করেছেন]
১০, [ইমাম ইবনে রাজাব তার ‘লাতায়েফুল মা‘আরিফ’ গ্রন্থে
(পৃঃ১৪৪) তার থেকে তা বর্ণনা করেছেন]
১১, [ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীম ২/৬২৬,৬২৭, মাজমু‘
ফাতাওয়া ২৩/১২৩, ১৩১,১৩৩,১৩৪]।
১২,[তার লাতায়েফুল মা‘আরিফ পৃঃ১৪৪ দ্রষ্টব্য]।
১৩ [ছিলছিলাতুল আহাদীস আস্সাহীহা ৩/১৩৫-১৩৯]

image

শবে বরাতে জাগরণ করলে জান্নাতের সু-সংবাদ:-
হযরত মু‘আয রা. বর্ণনা করেন,রাসূল স. ইরশাদ করেন- যে
ব্যক্তি পাঁচ রাত ইবাদত বন্দেগীতে কাটাবে তার জন্য
জান্নাত অবধারিত। ১. জিলহজ্জের আট তারিখের রাত। ২.
আরাফার রাত। ৩. ঈদুল আযহার রাত। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. শাবানের মধ্য রাত অর্থাৎ শবে বরাত। (আত-তারগীব
ওয়াত তারহীব: ২/১৫২)
হযরত ইবনে ওমর (রঃ) বলেনঃ পাঁচটি রজনীতে দুআ করা
হলে তা কখনো ফেরত দেয়া হয় না (অবশ্যই ক্ববুল হয়) জুমআর
রাত্র, রজবের প্রথম রাত, শাবানের পঞ্চদশ রাত এবং দুই
ঈদের রাত।
( ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে; আব্দুর রাজ্জাক তাঁর
মুসনাদে )
===== # রাতে ইবাদত করা
হযরত আলা ইবনে হারিস ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) থেকে
বর্ণিত, হযরত আয়িশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা )
বলেন, একবার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ) নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে,
আমার ধারণা হয় তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন
উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি
নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ
করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা বা ও
হুমাইরা! তোমার কি এ আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, তা নয়, ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশংকা
হয়েছিল, আপনি মৃত্যু বরণ করেছেন কিনা। নবীজী
( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) জিজ্ঞেস করলেন,
তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ভাল
জানেন। রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বললেন, এটা হল অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা অর্ধ
শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি নজর দেন এবং
ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের
প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে ছেড়ে
দেন তাদের অবস্থাতেই। ( বায়হাকী, ৩য় খন্ড-৩৮২পৃ )
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ
পড়া উত্তম, যাতে সিজদাও দীর্ঘ হবে। এছাড়াও এ রাতে
কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার ইত্যাদি আমল করা যায়।
শবে বরাতের নামাজ বিষয়ে একটি অলোচনা পাবেন এই
লিন্কে:-
http://hifazat-e-islam.blogspot.com/2013/06/blog-post_23.html
==== # পরদিন রোযা রাখা
হযরত আলী ( রাদীয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বলেছেন,পনেরো শাবানের (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত)
যখন আসে, তখন তোমরা রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও
এবং দিনে রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর
আল্লাহ তাআলা পড়থম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন
ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো।
আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিব।
এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের
প্রয়োজনের কথা বলে তাদেরকে ডাকতে থাকেন। ( সুনানে
ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৩৮৪, বাইহাকী-শুআবুল ঈমান,
হাদীস-৩৮২৩ )
ইমরান ইবনে হোসায়েন (রা.) বলেছেন যে, “রসূলে
পাক (স.) তাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি
কি শাবান মাসের মধ্যভাগে (শব-ই- বরাতের) রোজা
রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তখন রসূলে পাক (স.) বললেন,
যখন তুমি রাখনি তখন দু’দিন (রোজার শেষে) রোজা
রেখে দিও” (মুসলীম শরীফ,হাদীস নং-২৬২২,২৬২৩,২৬২৪,ই
ফা)
======# কবর জিয়ারত:
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে
বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে আছেন।
আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা
করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার
করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা
করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ
নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু
কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক
লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান
বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
প্রশ্নঃ শাবানের মধ্যরাত্রি উদযাপন করা যাবে কিনা?
উত্তরঃ শাবানের মধ্যরাত্রি পালন করার কি হুকুম এ নিয়ে
আলেমদের মধ্যে ২টি মত রয়েছে:
সম্মিলিত ইবাদত:
এক. শা‘বানের মধ্য রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের সাথে
নামায ও অন্যান্য ইবাদত করা জায়েয । প্রসিদ্ধ তাবেয়ী
খালেদ ইবনে মি‘দান, লুকমান ইবনে আমের সুন্দর পোশাক
পরে, আতর খোশবু, শুরমা মেখে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের
নিয়ে এ রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম
ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(লাতায়েফুল মা‘আরেফ পৃঃ১৪৪)।
একক ইবাদত:
দুই. শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত
বন্দেগী করা জায়েয। ইমাম আওযা‘য়ী, ইবনে তাইমিয়া,
এবং আল্লামা ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত
পোষণ করেন। তাদের মতের পক্ষে তারা যে সমস্ত হাদীস
দ্বারা এ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ
হাদীসের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাকে
জায়েয মনে করেন।
শবে বরাতে তাবেয়ীগণের আমলঃ
তাবেয়ী কারাঃ
তাবেয়ী হচ্ছেন তারা যারা রাসূলে পাক (সাঃ) এর
সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেননি তবে সাহাবায়ে কেরামের
সাক্ষাৎ লাভ করেছেন,তাদের নিকট থেকে তালীম গ্রহণ
করেছেন এবং তাদের আদর্শ অনুসরণ করেছেন।
তাবেয়ীগণ শবে বরাতে ইবাদাতে মশগুল থাকতেন।
তারা এ রাত উপলক্ষে যা করতেনঃ
১। নতুন কাপড় পরিধান করতেন ২।
চোখে সুরমা লাগাতেন
৩।সারা রাত মসজিদে অবস্থান করে ইবাদাতে কাটিয়ে
দিতেন।
হাম্বলী মাযহাবের বিশ্বখ্যাত ইমাম ইবনু রাজাব
হাম্বলীর লিখিত লাতাইফুল মাআরিফ, পেইজ নং ২৬৩
তাবেয়ীগণের যারা এমন আমল করতেন, তাদের কয়েকজনের
নাম উল্লেখ করছি।– খালিদ বিন মা’দান (রাঃ)- তিনি
শাম প্রদেশের ইমাম ছিলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের
মহান চ্রিত্রের বর্ণনা করতেন। যেসকল সাহাবায়ে কেরাম
থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন- ছাওবান,
আবু উমামাহ, মুয়াবিয়া, আবু হুরায়রা, মিকদাম,ইবনু
উমার,উতবাহ,ইবনু আমর, জুবাইর বিন নুফাইর, হুজর বিন হুজর,
রাবীয়াহ,খিয়ার বিন সালামাহ,ইবনু আবী হিলাল,আমর
বিন আসওয়াদ,কাসীর বিন মুররাহ, আবু বাহরিইয়্যাহ প্রমুখ।
সুত্রঃ সিয়ারু আলামীন নুবালা, আত তাবাকাতুছ ছানিয়াহ
তিনি এমন নির্ভরযোগ্য ইমাম যে ইমাম বুখারী (রা) তাঁর
থেকে বর্ণিত হাদীস সংকলন করেছেন। দেখুন- সহীহ
বুখারী,কিতাবুল জিহাদি ওয়াস সিয়ারি-২৭৬৬
মাকহুল(রা)- ইমাম মাকহুল(রা) সম্পর্কে ইমাম যুহরি
বলেন,সারা দুনিয়ায় আলেম হলেন চারজন- মদিনা শরীফে
সায়ীদ বিন মুসায়্যিব,কুফা নগরীতে শাবী, বসরা নগরীতে
হাসান বসরী এবং শাম প্রদেশে মাকহুল(রা)। তিনি
ছিলেন শামের সবচেয়ে বড় ফকীহ। সুত্রঃ সিয়ারু আলামীন
নুবালা, আত তাবাকাতুছ ছানিয়াহ তাদের সাথে আরো
অনেকে সারা রাত মসজিদে অবস্থান করে ইবাদাতে
কাটিয়ে দিতেন। শবে বরাত উপলক্ষে মসজিদে যাওয়া,নফল
ইবাদাত করা হচ্ছে সালফে সালেহীনের অনুসরণ করা।
করণীয়:-
*কুরআন তেলোয়াত করা
*গোসল করা
*মা-বাবা থেকে ক্ষমা চাওয়া
*দান সদকা করা।(গরীব দু:খী কে,মাজারে নয় )
*পরিবারের জন্য সতদার নিয়তে ভালো খাবারের ব্যবস্তা
করা।
*গরীব দু:খী মানুষকে খাওয়ানো
ইত্যাদি…
বর্জনীয়:
এ রাতে একটি কুসংস্কার হল আতশবাজি। এটা এমন
একটি বাজে কাজ, যাতে দুনিয়ার ফায়দাও নেই,
আখিরাতেও ফায়দা নেই। আছে কেবল অপচয়,
অপব্যয়, পাপ, আরও আছে বিধর্মী, অগ্নিপূজকদের
অনুকরণ। এই বরকতময় রাতে আল্লাহ এবং তাঁর
ফিরিশতাগণ দুনিয়াবাসীদের প্রতি রহমত বিতরণ
করতে তশরীফ আনেন। বান্দাগণকে দান গ্রহণের জন্য
অবিরত আহবান করতে থাকেন। আমাদের ছেলে-
মেয়েরা আল্লাহ্র তাজাল্লী, নূর ও রহমতের অংশ
নেওয়া, তাঁর দান গ্রহণ, তাঁর নূরে নূরানী হওয়ার
পরিবর্তে আতশবাজীর দ্বারা তার প্রতি পরিহাস ও
বিদ্রূপ প্রদর্শন করছে, এই অবস্থা কি সঙ্গত?
এটা রোধ করার কোন দায়িত্ব কি অভিভাবকগণের
স্কন্ধে নেই। একদিকে ইবাদত অন্যদিকে পরিহাস!
দুটি এক সঙ্গে চলতে দেয়া কি উচিত?
আরো একটি কুসংস্কার হল আলোকসজ্জা করা।
প্রয়োজনাতিরিক্ত বাতি জ্বালানো শরীয়তের
দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এটা অপচয়ও বটে। আল
মুফতীতে বলা হয়েছে যে, এটা দূষণীয়।

image

আপত্তি নং-১
– আলী (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে বর্ণিত
হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ
করেছেনঃ “১৫ শা’বানের রাতে তোমরা
বেশী বেশী করে ইবাদত কর, এবং দিনের
বেলায় রোযা রাখ। এ রাতে আল্লাহ
তা’আলা সূর্যাস্তের সাথে সাথেই
দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং
বলতে থাকেনঃ ‘কে আছ আমার কাছে
গুনাহ মাফ চাইতে? আমি তাকে মাফ
করতে প্রস্তুত। কে আছ রিযক চাইতে?
আমি তাকে রিযক দিতে প্রস্তুত। কে
আছ বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে
বিপদমুক্ত করতে প্রস্তুত। কে আছ …’
এভাবে (বিভিন্ন প্রয়োজনের নাম
নিয়ে) ডাকা হতে থাকে সুবহে
সাদেক পর্যন্ত”। (ইবনে মাজাহ কর্তৃক
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে)।
এ হাদিসটি যে আদৌ সহীহ নয়, সে
ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম হাফেজ
শিহাব উদ্দিন তাঁর যাওয়ায়েদে
ইবনে মাজাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেন,
হাদিসটির সনদ যইফ (দুর্বল), কারণ
হাদিসটির সনদের মাঝখানে আবু বকর বিন
আবু সাবরা নামে একজন রাবী
(বর্ণনাকারী) অনির্ভরযোগ্য। এমনকি
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং প্রখ্যাত
হাদিস বিশারদ ইবনু মাইন তার ব্যাপারে
মন্তব্য করেছেনঃ “লোকটি মিথ্যা
হাদিস রচনা করে থাকে।” (দেখুনঃ
সুনান ইবনে মাজাহ, মন্তব্য ও
সম্পাদনাঃ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল
বারী, পৃষ্ঠা ৪৪৪)।
জবাব:- হাদিসটির তাহকীক/ পাবেন এই লিন্কে-১ https://
islamicdefination.wordpress.com/2015/05/29/শবে-বরাত-এর-
হাদিস-নিয়ে-লাম/
লিন্ক-২

set=a.105319336323036.6436.100005349094333&type=1&theater
২. আয়েশা (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে
বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ “আমি
এক রাতে দেখতে পাই যে,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার পাশে নেই।
আমি উনার সন্ধানে বের হলাম। দেখি
যে তিনি জান্নাতুল বাকী (কবর
স্থানে)অবস্থান করছেন।
ঊর্ধ্বাকাশপানে তাঁর মস্তক
ফেরানো। আমাকে দেখে বললেন,
‘আয়েশা, তুমি কি আশঙ্কা করেছিলে
যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ)
তোমার প্রতি অবিচার করেছেন?’ আমি
বললাম, ‘এমন ধারণা করিনি, তবে মনে
করেছিলাম, আপনার অন্য কোন বিবির
সান্নিধ্যে গিয়েছেন কিনা।’
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ
তা’আলা ১৫ই শা’বানের রাতে দুনিয়ার
আকাশে নেমে আসেন এবং কালব
গোত্রের সমুদয় বকরীর সকল পশমের
পরিমাণ মানুষকে মাফ করে
দেন।’” (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। ইমাম
তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করে নিজেই
মন্তব্য করেছেনঃ আয়েশা (রাঃ)-এর
বরাত দিয়ে বর্ণিত এই হাদিসটি
হাজ্জাজ বিন আয়তাআহ্ ছাড়া আর
কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানা নেই।
ইমাম বোখারী বলেছেনঃ এ হাদিসটি
যইফ (দুর্বল)। হাজ্জাজ বিন আয়তাআহ্
বর্ণনা করেছেন ইয়াহ্ইয়া বিন আবি
কাসির থেকে। অথচ হাজ্জাজ
ইয়াহ্তইয়া থেকে আদৌ কোন হাদিস
শুনেননি। ইমাম বোখারী আরও
বলেছেনঃ এমনকি ইয়াহ্ইয়া বিন আবি
কাসিরও রাবী ওরওয়া থেকে আদৌ
কোন হাদিস শুনেননি। (দেখুনঃ
জামে’ তিরমিজী, সাওম অধ্যায়, মধ্য
শা’বানের রাত, পৃষ্ঠা ১৬৫-১৬৮)।
জবাব:- হাদিসটি তিরমীিজ ছাড়াও বায়হাকী শরীফে
সহীহ সনদে অন্য একটি সুত্র আছে এবং সনদটি সহিহ।
বিস্তারিত:- https://islamicdefination.wordpress.com
/2015/05/29/শবে-বরাত-এর-হাদিস-নিয়ে-লাম-2/
৩. আবু মুসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন,
“১৫-ই শা’বানের রাতে আল্লাহ
তা’আলা নিচে নেমে আসেন এবং সকল
মানুষকেই মাফ করে দেন। তবে
মুশরিককে এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ
সৃষ্টিকারীকে মাফ করেন না” (ইবনে
মাজাহ)। এ হাদিসটির ব্যাপারে হাফেজ
শিহাব উদ্দিন তাঁর যাওয়ায়েদে
ইবনে মাজাহ গ্রন্থে উল্লেখ
করেনঃ এর সনদ যইফ (দুর্বল)। একজন রাবী
(বর্ণনাকারী) আব্দুল্লাহ বিন
লাহইয়াহ্ নির্ভরযোগ্য নন। আরেকজন
রাবী ওয়ালিদ বিন মুসলিম
তাফলীসকারী (সনদের মাধ্যে
হেরফের করেতে অভ্যস্ত) হিসেবে
পরিচিত।
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আসসিন্দী
বলেছেনঃ আরেকজন রাবী আদদাহহাক
কখনও আবু মুসা থেকে হাদিস
শুনেননি। শবে বরাত সংক্রান্ত
বর্ণিত সবগুলো হাদিসের সনদের
মধ্যেই এ জাতীয় দুর্বলতা বিদ্যমান
থাকার কারণে একটি হাদিসও সহীহ’র
মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
জবাব:- https://islamicdefination.wordpress.com/2015/05/29/শব-
ই-বরাত-এর-হাদিস-নিয়ে-লাম/

শবে বরাত এর হাদিস নিয়ে লামাজহাবীদের আপত্তির জবাব- ২

হযরত আয়শো রা. বলনে, একরাতে আমি রাসূল স.কে বছিানায় পলোম না। তাই (খোজার উদ্দশ্যে)ে বরে হলাম। তখন দখেতে পলোম,তনিি জান্নাতুল বাকীতে আছনে। আমাকে দখেে তনিি বলে উঠলনে, তুমি কি এ আশঙ্কা করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবচিার করবনে ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা করছলিাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নযি়ছেনে। রাসূল দঃ বলনে শাবানরে পনরে তারখি রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনযি়ার আসমানে অবতরণ করনে এবং ‘বনু কালব’ গোত্ররে ভডে়ার পশমরে চযে়ওে অধকি সংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
সনদ পর্যালোচনা
░▒▓█►হাদীসটরি ব্যাপারে মুহাদ্দসিদরে অভমিত
ইবনে হিব্বান র. আয়শো রা. এর হাদীসটকিে হাসান বলছেনে। (শরহুল মাওয়াহবিলি লাদুনযি়্যাহ: ৭/৪৪১

আল্লামা ইমাম মুনযিরী () “তারগীব” গ্রন্থে এবং আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মোবারকপুরী উক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেন,
اخرجه البزار و البيهقى با اسناد لا بأس به كذا فى ترغيب و الترهيب للمنذرى في باب الترهيب من الهاجر- تحفة الاحوذي, باب: ما جاء النصف من الشعبان:৪৪০/৩ –الرقم: ৭৩৬
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ও ইমাম বায়হাকী () বর্ণনা করেছেন। উক্ত সনদটিلا بأس به অর্থাৎ- উক্ত হাদীসের সনদে কোন অসুবিধা নেই। অনুরূপ বলেছেন ইমাম মুনযির () স্বীয় ‘তারগীব ওয়াত তারহীব’ গ্রন্থে।’’’
অপরদিকে ইমাম তিরমিযী উক্ত হাদিসটি বর্ণনার পর বলেন,
و قال ابو عيسى الترمذى: و في الباب عن ابى بكر الصديق-
-‘‘ইমাম তিরমিযী () বলেন, এ পরিচ্ছেদে (এ বিষয়ে) হযরত আবু বকর () হতে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।’’
হযরত আয়েশা () এর উক্ত হাদিস প্রসঙ্গে মোবারকপুরী আরো বলেন,
رواه البيهقى و قال: هذا مرسل جيد: تحفة الاحوذى: ৪৪১/৩
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী ()ও একটি সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী () বলেন, উক্ত হাদিসটি মুরসাল, তবে শক্তিশালী সনদ।’’ আল্লামা ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী () বলেন, هذا حديث حسن-‘‘উক্ত হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে হাসান পর্যায়ের।’
পরিশেষে বলতে চাই, যেহেতু উক্ত হাদিসটি হক্কানী মুহাদ্দিসগণ গ্রহণযোগ্য বলেছেন, সেহেতু আহলে হাদিস আলবানীর যঈফ বালার কোন ভিত্তি নেই।

আপত্তিঃ৩
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫, হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর (২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘ আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী। হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং (১৯৮০), পৃঃ (৪৮৬)।
আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মোবারকপুরী ইমাম মুনযিরের সূত্রে উক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেন,
رواه ابن ماجه من حديث ابي موسى الاشعرى باسناد لا بأس به
-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম ইবনে মাযাহ হযরত আবু মুসা আশআরী () হতে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসের সনদটি لا بأس به অর্থাৎ- তার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।’’
অপরদিকে ইবনে মাযাহ আরেকটি সূত্র আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ক. মোবারকপুরী : তুহফাতুল আহওয়াজী : ৩/৪৪১ পৃ.
খ. ইমাম ইবনে মুনযিরী : আত-তারগীব ওয়াত তারহীব : ৪/২৪০ পৃ.

শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাত সম্পর্কে জ্ঞাতব্য

Standard

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আরবী শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত,
যাকে আরবীতে ‘লাইলাতুন্ নিসফে মিন শা’বান’
তথা শা’বান মাসের মধ্য দিবসের রাত (শবে বরাত)
বলা হয়, তা বছরের সেরা রাতগুলোর
একটি [ইসলামী সালের দিন গণনায় রাত
আগে আসে, তাই এটি শা’বানের ১৫ তারিখ দিনের
আগের রাত/১৪ তারিখ দিনগত রাত]। হযরত আতা’
ইবনে ইয়াসার (রা:) বলেন যে লাইলাতুল কদর-এর
পরে ১৫ শা’বানের রাতের চেয়ে উত্তম রাত
আর নেই। এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণ
হলো এতে বর্ষিত খোদায়ী রহমত ও বরকত।
এক রাতে সাইয়্যেদাহ আয়েশা (রা:) লক্ষ্য
করেন যে মহানবী (দ:) তাঁর ঘরে নেই।
তিনি হুযূর পাক (দ:)-কে খুঁজতে বের হন
এবং তাঁকে ’বাকী’ কবরস্থানে দু’হাত আকাশের
দিকে প্রসারিত অবস্থায় মোনাজাতে রত
দেখতে পান। তিনি হযরত আয়েশা (রা:)-
কে বলেন যে এই রাতে, অর্থাৎ, শা’বান মাসের
১৫ তারিখ রাতে, আল্লাহতা’লা ‘কালব’ গোত্রের
অধীনে তাবৎ ভেড়ার যতোগুলো লোম
আছে, তার চেয়েও
বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন [ইমাম আহমদ
(রহ:), ইমাম তিরমিযী (রা:) ও ইমাম ইবনে মাজাহ
(রা:) এটি বর্ণনা করেন; বানু কালব গোত্র
আরবদের মাঝে প্রসিদ্ধ ছিল এর সদস্যদের
মালিকানাধীন বিশাল ভেড়ার পালের জন্যে]।
রাসূলুল্লাহ (দ:) অন্যত্র এরশাদ ফরমান, “শা’বান
মাসের ১৫ তারিখের রাতে আল্লাহ পাক তাঁর
সৃষ্টিকুলের দিকে তাকান এবং দুই শ্রেণীর মানুষ
ছাড়া বাকি সবাইকে মাফ করে দেন; এই দুই প্রকার
হলো আল্লাহর সাথে শরীককারী এবং এমন
লোক যারা মুসলমান ভাইদের প্রতি বিদ্বেষভাব
পোষণ করে” [ইমাম আহমদ (রহ:) বর্ণিত]।
নবী করীম (দ:) বলেন যে এই রাত যখন
আগমন করে তখন আমাদের উচিত সারা রাত
এবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হওয়া এবং পরের
দিন রোযা রাখা, কেননা সূর্যাস্ত
থেকে সোবেহ সাদেক পর্যন্ত আল্লাহ
সবাইকে ডেকে বলেন, “ক্ষমাপ্রার্থী কেউ
এমন আছ কি, যাকে আমি মাফ করতে পারি? রিযক-
প্রার্থী এমন কেউ আছ কি, যাকে আমি রিযক দান
করতে পারি? রোগাক্রান্ত কেউ আছ কি,
যাকে আমি আরোগ্য দিতে পারি?” [ইবনে মাজাহ
(রহ:) বর্ণিত]
ইমাম আলী (রা:) শা’বান মাসের ১৫ তারিখের
রাতে ঘরের বাইরে গিয়ে আসমানের
দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি বলেন যে হযরত
দাউদ (নবী আলাইহিস্ সালাম)-ও এই রাতের একই
সময়ে ঘরের বাইরে যেতেন এবং হযরত দাউদ
(আ:) বলেছেন যে কেউ যদি এই সময়
আল্লাহকে ডাকে, তাহলে আল্লাহ তার প্রার্থনার
জবাব দেন; আর কেউ তাঁর
কাছে ক্ষমা চাইলে তাকেও তিনি মাফ করে দেন।
এই কারণেই ইমাম আলী (রা:)
সারা রাতব্যাপী এবাদত-বন্দেগী করতেন।
বর্ণিত আছে যে মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান,
“পাঁচটি রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না: রজব
মাসের ১ম রাত, শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত,
বৃহষ্পতিবার রাত, ঈদুল ফিতরের (রোযার ঈদের)
রাত এবং ঈদুল আযহার (কোরবানি ঈদের)
রাত।” [ইমাম সৈয়ুতী বর্ণিত]
হযরত একরিমাহ (রা:) ও অন্যান্য তাফসীরবিদ
উলেমা বলেন যে আল-কুরআনের
সূরা দুখানে উল্লেখিত ‘লাইলাতুল
মোবারাকাহ’ (বরকতময় রাত) বলতে শা’বান
মাসের ১৫ তারিখের রাতকে উদ্দেশ্য
করা হয়েছে [তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মোফাসসিরীন
এটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা কদরের
রাত্রি বলেছেন]। আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান,
“এই রাতে প্রতিটি হেকমতময় আজ্ঞার বণ্টন
স্পষ্ট হয়” [সূরা দুখান, ৪র্থ আয়াত]।
তাফসীরকারদের এই মতানুযায়ী, শবে বরাতের
রাতে আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের
জন্যে পরবর্তী বছরের যে রিযক বরাদ্দ
করেছেন তা বলবৎ হয় (ইমাম আহমদ রেযা খান
কৃত তাফসীরে কানযুল ঈমানেও লাইলাতুল
কদরের পাশাপাশি শবে বরাতের কথা উল্লেখ
আছে – অনুবাদক)। তাঁদের রিযক বরাদ্দের
পাশাপাশি যাদের ভাগ্যে মৃত্যু লেখা আছে,
তাদেরও নাম উল্লেখ করা হয়। হযরত
’আতা ইবনে এয়াসার (রা:) বলেন যে এই
রাতে মৃত্যুদূত আজরাইল
ফেরেশতা একটি তালিকা পান;
এটিতে আসছে বছর যারা ইন্তেকাল করবেন
তাদের নাম থাকে। “কোনো ব্যক্তি ফসল
রোপণ, বিয়ে-শাদী ও ঘর নির্মাণ
করতে পারেন, কিন্তু তার নাম
ইতোমধ্যে মৃতদের তালিকায় লিপিবদ্ধ
হয়েছে।” তাই পুণ্যবান মুসলমানদের
অনেকেই শবে বরাতে আল্লাহর কাছে তাঁর
মনোনীত বান্দাদের নামের তালিকায়
নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে দরখাস্ত
করতেন, যেমনিভাবে তাঁরা প্রচুর রিযকের
জন্যেও প্রার্থনা করতেন।
সাইয়্যেদুনা উমর ইবনে আব্দিল আযীয (রহ:)
বলেন, “বছরের
চারটি রাতকে উপেক্ষা করবে না,
কেননা ওগুলোতে আল্লাহতা’লা তাঁর বান্দাদের
প্রতি রহমত নাযেল করেন: রজব মাসের ১ম রাত,
শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতরের রাত
এবং ঈদুল আযহার রাত।” এই কারণে প্রাথমিক যুগের
মুসলমানদের অনেকেই শা’বান মাসের ১৫
তারিখের রাতকে ‘জীবন্ত’ করে তুলতেন।
তাঁরা মানুষকে ওই রাতে মসজিদে এসে রাত
জেগে এবাদত-বন্দেগী ও
ক্ষমা প্রার্থনা (তওবা) করার জন্যে উৎসাহিত
করতেন।
বেশ কিছু হাদীসে বলা হয়েছে যে এই
রাতে আল্লাহতা’লার রহমত-
বরকতপ্রাপ্তি থেকে কয়েক শ্রেণীর মানুষ
বাদ পড়বে। এদের
মধ্যে রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে শরীক
করে এবং যারা মুসলমান ভাইদের প্রতি বিদ্বেষভাব
পোষণ করে। কিছু কিছু
উলেমা সুনির্দিষ্টভাবে সেই সব লোকের
কথা উল্লেখ করেন যারা সাহাবা-এ-কেরাম (রা:)
বা প্রাথমিক যুগের মুসলমানদেরকে অপমান
করে থাকে, কিংবা যারা মুসলমানদেরকে কাফের
(’মুশরিক’) ও
বেদআতী আখ্যা দিয়ে থাকে [যেমন –
ওহাবী, মওদূদী, সালাফী এন্ড কোং –
অনুবাদক]। এছাড়া, রহমত থেকে বঞ্চিত
লোকদের
মধ্যে রয়েছে যেনাকারী (অবৈধ যৌনাচারী),
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও পিতা-মাতার
অবাধ্য সন্তান।
এই শ্রেণীভুক্ত লোকেরা রমযান মাসের ১ম
রাত ও লাইলাতুল কদরের মতো মহিমান্বিত
রজনীগুলোতেও আল্লাহর রহমত-বরকত পায়
না। তাই আমাদের উচিত এই সব গুনাহ ও দূষণীয়
কাজ সর্বাত্মকভাবে এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক জমানার
কোনো এক আলেম বলেছিলেন,
“সর্বোত্তম গুণাবলী হলো নির্মল অন্তর,
মহানুভব আত্মা ও উম্মতের কল্যাণকামী হওয়া।
এই সকল গুণের মাধ্যমেই পুণ্যবান
বুযূর্গানে দ্বীন নিজ নিজ সুউচ্চ মকামে অধিষ্ঠিত
হয়েছেন, বিপুল পরিমাণ এবাদত-বন্দেগী ও
রোযা (উপবাস) দ্বারা নয়।”
শবে বরাতে যে রহমত-বরকত আল্লাহ পাক
মঞ্জুর করেন, তা যেন আমাদের প্রতিও
তিনি বর্ষণ করেন। এই রাতে তাঁর
কাছে প্রার্থনা দ্বারা তাঁরই রেযামন্দি হাসিল ও
ক্ষমা লাভের সামর্থ্য যেন তিনি আমাদের
নসীব করেন; আমরা এও তাঁর
কাছে কামনা করি যেন তিনি আমাদের সামগ্রিক
কল্যাণ বরাদ্দ করেন এবং সকল অনিষ্ট দূর করেন।
তিনি যেন অফুরন্ত সালাত-সালাম আমাদের
হেদায়াতদাতা মহানবী (দ:)-এর প্রতি প্রেরণ
করেন, যাঁর
মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি দুনিয়ার জীবন
থেকে আখেরাতের জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব
এবং যাঁর হেদায়াত তথা পথপ্রদর্শনের মধ্যে নিহিত
এই জীবন ও পরকালীন জীবনের সকল
কল্যাণ।
[শায়খ আব্দুল করিম ইয়াহইয়া ইয়েমেনের
হাদরামাওতে বসবাস করেন। এ দেশীয়
বাতেলপন্থীরা দাবি করে থাকে যে শবে বরাত
শুধু উপমহাদেশেই পালন করা হয়, আরবে নয়।
তাদের এই অসত্য দাবি খণ্ডনের উদ্দেশ্যেই
এই লেখাটি অনুবাদ করা হয়েছে।

শবে বরাতের ফযীলত

Standard

ইমাম গাযযালী (রহ:) তাঁর ‘এহইয়ায়ে উলূম আল-দ্বীন’
গ্রন্থে লিখেছেন, “মধ্য-শা’বান (মাস)-এর রাতে (অর্থাৎ,
শবে বরাতে) ১০০ রাকআত (নফল) নামায পড়বে,
যা’তে প্রতি রাকআতে সূরা ফাতেহার পর ১০ বার সূরা এখলাস
থাকবে; তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফবৃন্দ) এটি তরক (ত্যাগ)
করেন নি, যেমনিভাবে আমরা সম্পৃক্ত হয়েছি অতিরিক্ত নফল
নামায ও আ’রাফাত রজনীর সাথে।”
শায়খ ইসমাঈল হাক্কী তাঁর কৃত ’তাফসীরে রুহুল বয়ান’-এ
বলেন, “তাফসীরকার উলামাদের কয়েকজন বলেন
যে কুরআন মজীদে সুরা দুখান-এর ৩ নং আয়াতে উল্লেখিত
‘লাইলাতুল মুবারক’ তথা ’বরকতময় রজনী’ বলতে মধ্য-
শা’বানের রাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; আর এই রাতের
৪টি নাম: প্রথমটি ‘বরকতময় রজনী’, যেহেতু অসংখ্য মানুষ এই
রাতে নেক আমল পালন করেন; আর বাস্তবিকই
এতে আল্লাহতা’লার সৌন্দর্যের নেয়ামত আরশ-
কুরসি থেকে দুনিয়াপৃষ্ঠ পর্যন্ত বিরাজমান প্রতিটি অণুকণার
কাছে পৌঁছে থাকে, যেমনিভাবে তা ঘটে ’লাইলাতুল কদর’
রজনীতে, যা’তে ফেরেশতাকুল মহান আল্লাহতা’লার
দরবারে হাজির হন।”
সুরা দুখানের ৩-৪ নং আয়াতে এরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়
আমি (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয়
আমি সতর্ককারী। তাতে (ওই রাতে) বণ্টন করে দেয়া হয়
প্রতিটি হেকমতময় কাজ।” এই আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রাথমিক
জমানার তাফসীরবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। হযরত
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:)-সহ বেশির ভাগ
উলামা বলেছেন ওই রাত ‘শবে কদরের’; পক্ষান্তরে, হযরত
একরিমাহ (রা:) ও তাঁর সাথে একমত পোষণকারী উলামাবৃন্দ
বলেছেন যে সেটা ’শবে বরাত’।
উপরোক্ত আয়াতটি (৪৪:৩-৪) প্রসঙ্গে মাহমূদ আলুসী নিজ
তাফসীরগ্রন্থে বলেন যে সর্ব-হযরত ইবনে আব্বাস
(রা:), কাতাদাহ (রা:), ইবনে জুবাইর (রা:), মুজাহিদ (রা:), ইবনে যায়দ
(রা:) ও আল-হাসান (রা:)-এর মতানুযায়ী উল্লেখিত রাত
হলো শবে কদর। আর এটি-ই অধিকাংশ মোফাসসেরীন
তথা তাফসীরকার উলেমার অভিমত। পক্ষান্তরে, হযরত
একরিমাহ (রা:) ও তাঁর দল বলেন, “এটি মধ্য শা’বানের রাত।”
আন্ নিসাপুরী তাঁর প্রণীত তাফসীরগ্রন্থে এই পবিত্র
আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, “বেশির ভাগ তাফসীরকার এই
রাতকে লাইলাতুল কদর বলে চিহ্নিত করেছেন; কেননা, মহান
আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান, ‘নিশ্চয় আমি তা (কুরআন) ক্বদরের
রাতে অবতীর্ণ করেছি’ (৯৭:০১)। আর অধিকাংশ উলামার
মতে কদরের রাত রমযান মাসে।”
আমরা আত্ তাবারীর বক্তব্যের অংশ বিশেষও এখানে উদ্ধৃত
করবো; তিনি বলেন, “হযরত একরিমাহ (রা:)-এর
মতো (প্রাথমিক যুগের) কতিপয় মুফাসসির দাবি করেন যে এই
আয়াতে মধ্য শা’বানের রাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।”
হযরত আনাস (রা:)-এর বর্ণিত একটি হাদীসে মহানবী (দ:)
এরশাদ ফরমান যে ৪টি রাতে আল্লাহতা’লা তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ
করেন এবং নেয়ামত দেন। এগুলো হলো –
শবে কদরের রাত ও এর পরে আগত সকাল; আ’রাফাতের রাত
ও তৎপরবর্তী সকাল; শবে বরাত ও তৎপরবর্তী সকাল
এবং প্রতি জুমু’আর রাত ও তৎপরবর্তী সকাল।
[দায়লামী শরীফ]
হযরত আয়েশা (রা:)-কে রাসূলুল্লাহ (দ:) বলেন,
৪টি রাতে আল্লাহর সীমাহীন অনুগ্রহ ও দয়া বান্দাদের
জন্যে অবারিত হয়: ১/ ঈদুল আযহার (আগের দিনগত) রাত; ২/
ঈদুল ফিতরের রাত; ৩/ মধ্য-শা’বানের রাত (শবে বরাত),
যা’তে আল্লাহ বান্দার হায়াত নির্ধারণ করেন এবং রিযিকও বন্টন
করেন; আর কারা কারা হজ্জ্ব করবেন, তাও নির্ধারিত হয়। ৪/
আ’রাফাত রজনী – আযান হওয়া অবধি।
আল-কুরআনে বর্ণিত “ওই রাতে বণ্টন করে দেয়া হয়
প্রতিটি হেকমতময় কাজ” (৪৪:৪) আয়াতটি প্রসঙ্গে হযরত
একরিমাহ (রা:) বলেন, “এটি মধ্য-শা’বানের রাত, যখন আল্লাহ পাক
(আগামী) সারা বছরের বিষয়গুলো (নিয়মবদ্ধভাবে) সাজান।
তিনি জীবিতদের কাউকে কাউকে মৃতদের তালিকাভুক্ত
করেন, আর যারা আল্লাহর ঘরে হজ্জ্ব করতে যাবেন,
তাদের নামও লিপিবদ্ধ করেন; এতে তিনি বেশি মানুষের নাম
যেমন অন্তর্ভুক্ত করেন না, তেমনি তিনি কাউকে বাদও দেন
না।”
হযরত আবূ হোরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন হযরত
রাসূলে করীম (দ:)-এর বাণী, যিনি এরশাদ ফরমান: “মানুষের
হায়াত এক শা’বান থেকে আরেক শা’বান মাসে কর্তন করা হয়,
যার দরুন কেউ হয়তো বিয়ে-শাদী করে সন্তানের জনকও
হতে পারে, অথচ তার নাম জীবিতদের তালিকা থেকে বাদ
দিয়ে ভাগ্যে মৃত্যু লেখা হয়ে গিয়েছে।”
হযরত আতা ইবনে এয়াসার (রা:) বলেন, “মহানবী (দ:) শা’বান
মাসে যেভাবে (নফল) রোযা রাখতেন, অন্য
কোনো মাসে সেভাবে রাখতেন না। আর এটি এ
কারণে যে, ওই বছর যারা মৃত্যুবরণ করবেন, তা তাতে লিপিবদ্ধ
হতো।”
হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (দ:) অন্য
কোনো মাসে এতো অধিক (নফল) রোযা রাখতেন
না যেমনটি রাখতেন শা’বান মাসে; কারণ এতে জীবিত
যারা মারা যাবেন তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়, যে পর্যন্ত
না কেউ বিয়ে করেন অথচ তার নাম মৃতদের তালিকায় লিপিবদ্ধ
হয়ে গিয়েছে; আর কেউ হজ্জ্ব করেন, কিন্তু তার নাম
মৃতদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।”
সাইয়্যেদুনা হযরত আলী (ক:) থেকে বর্ণিত
যে মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: “মধ্য-শা’বানের রাত
তোমরা এবাদত-বন্দেগী করে অতিবাহিত করো এবং ওই দিন
রোযা রেখো। কেননা, নিশ্চয় সূর্যাস্ত থেকে আরম্ভ
করে এই রাতে আল্লাহতা’লা সর্বনিম্ন (নিকটতম)
আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘কেউ
কি আছো ক্ষমা চাইবার, যাকে আমি ক্ষমা করে দিতে পারি?
কেউ কি আছো রিযক চাইবার, যাকে রিযক মঞ্জুর করতে পারি?
কেউ কি আছো মসিবত/পরীক্ষায়, যাকে তা থেকে মুক্ত
করে দিতে পারি?’ ইত্যাদি, ইত্যাদি, যতোক্ষণ না ফজরের সময়
(সূর্যোদয়) হয়।” [হযরত আবদুর রাযযাক (রা:) ও ইবনে মাজাহ
বর্ণিত]
হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, “এক রাতে আমি হুযূর পাক (দ:)-
কে (ঘরে) না পেয়ে ’বাকী’ কবরস্থানে যাই
(এবং সেখানে তাঁর দেখা পাই)। এই সময় তাঁর পবিত্র মস্তক
মোবারক আসমানের দিকে ওঠানো ছিল। তিনি বলেন,
‘ওহে আয়েশা! তুমি কি আশংকা করো যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল
(দ:) তোমার প্রতি অন্যায্য আচরণ করবেন?’ আমি বল্লাম,
এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আমি মনে করেছিলাম
আপনি হয়তো আপনার কোনো বিবি সাহেবার
কাছে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মধ্য-শা’বানের রাতে মহান
আল্লাহতা’লা সর্বনিম্ন (নিকটতম) আসমানে অবতরণ করেন
এবং বনূ কালব্ গোত্রের মালিকানাধীন সমস্ত ভেড়ার
গায়ে যতো লোম আছে, ওই সংখ্যক
মানুষকে ক্ষমা করে দেন’।” ইমাম আহমদ, ইবনে মাজাহ ও
তিরমিযী বর্ণিত হাদীস; শেষোক্ত হাদীসবিদ বলেন
যে তিনি শুনেছেন ইমাম বোখারী (রহ:) একে ’দুর্বল’
শ্রেণীভুক্ত করেছেন, কেননা এর কতিপয়
বর্ণনাকারী হাদীসটি একে অপরের কাছ
থেকে সরাসরি বর্ণনা করেন নি।
উম্মুল মো’মেনীন হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন: “এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (দ:)-কে বিছানায় পাই নি;
(খুঁজে পেয়ে) আমার হাত তাঁর কদম মোবারকের মধ্যভাগ
স্পর্শ করে, আর ওই সময় তিনি মসজিদে ছিলেন। তাঁর পবিত্র
দুই পায়ের পাতা খাড়া ছিল (অর্থাৎ, সেজদায় ছিলেন)। এমতাবস্থায়
তিনি বলেন, ‘আমি আপনার (আল্লাহর) শাস্তি হতে আপনারই
ক্ষমার মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি; আপনার না-রাজি হতে আপনারই
রেযামন্দির আশ্রয় নিচ্ছি; আর আপনার (রুদ্ররোষ)
হতে আপনারই মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি। আপনার
যেভাবে প্রশংসা প্রাপ্য, সেভাবে আমি আপনার
প্রশংসা করতে অপারগ। আপনি তা-ই, যেভাবে আপনি আপনার
পরিচয় দিয়েছেন’।” এই হাদীস বর্ণনা করেন ইমাম আহমদ,
ইবনে মাজাহ, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী।
অপর এক রওয়ায়াতে মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: “মধ্য-
শা’বানের রাতে জিবরীল আমীন (আ:) আবির্ভূত
হয়ে আমাকে বলেন, ‘এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! আপনার সে’র
(মস্তক) মোবারক আসমানের দিকে উত্থিত করুন।’
আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি, এটি কোন্ রাত? তিনি জবাব দেন,
‘এটি সেই রাত যখন মহান আল্লাহতা’লা তাঁর রহমতের
তিন’শটি দ্বার উম্মুক্ত করেন এবং সে সব ব্যক্তিকে মাফ
করে দেন যারা তাঁর সাথে (কোনো উপাস্যকে) শরীক
করে নি’।”
হুযূর করীম (দ:) অন্যত্র এরশাদ ফরমান: “মধ্য-শা’বানের
রাতে (শবে বরাতে) সপ্তম আসমানের
দ্বারগুলো খুলে দেয়া হয়; আর
প্রতিটি দ্বারে ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে মুসলমানদের
জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন যতোক্ষণ
না প্রত্যেক মুসলমানকে মাফ করা হয়; এর ব্যতিক্রম শুধু
কবীরা গুনাহ সংঘটনকারীরা।”
উম্মুল মো’মেনীন হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত;
তিনি বলেন: “রাসূলে পাক (দ:) এক রাতে আমার ঘরে ছিলেন;
তিনি বিছানায় শুয়েছিলেন যতোক্ষণ
না আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। অতঃপর তিনি শয্যা ত্যাগ করেন
এবং আমি (জেগে উঠে) তাঁকে (বিছানায়) পাই নি।
তাঁকে দেখতে পেলাম নামাযে; সংক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে ও রুকু
করে তিনি অত্যন্ত দীর্ঘ এক সেজদায় যান, যার
ফলে অর্ধেক রাত তাতেই অতিবাহিত হয়। অতঃপর
তিনি দ্বিতীয় রাকআতে উঠে দাঁড়ান এবং আবারও রুকু
করে দীর্ঘ সেজদায় সময় অতিবাহিত করেন, যার দরুন প্রায়
ফজরের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়। আমার এমন আশংকা হয়
যে তিনি বুঝি বেসাল (খোদার সাথে পরলোকে মিলিত)
হয়েছেন। তাই আমি তাঁর মোবারক কদমে হাত রাখি, আর
তিনি নড়ে ওঠেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করেন।
আমি তাঁকে বলতে শুনি, ‘এয়া আল্লাহ!
আমি আপনাকে সেজদা করেছি (সারা) রাতের অন্ধকারে, আর
(তাই) আমার অন্তর আপনার প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। অতএব,
মহাপাপ (কবীরা গুনাহ) ক্ষমা করে দিন, কেননা তা মহাপ্রভু
ছাড়া কেউই মাফ করতে পারে না। আমি আপনার রুদ্ররোষ
থেকে আপনারই রেযামন্দির (সন্তুষ্টির) মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি;
আশ্রয় নিচ্ছি আপনার শাস্তি থেকে আপনারই ক্ষমার মাঝে;
আর আপনার (রুদ্ররূপ) থেকে আপনারই মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি।
আপনি যেভাবে আপনার প্রশংসা করেছেন,
আমি তা পুরোপুরিভাবে করতে অক্ষম।’ অতঃপর
নামাযশেষে তিনি আমায় বলেন, ‘ওহে আয়েশা!
তুমি কি জানো এটি কোন্ রাত?’ আমি বল্লাম, ‘না।’ তিনি বল্লেন,
‘মধ্য-শা’বানের রাত (শবে বরাত)। এই রাতে আল্লাহতা’লা তাঁর
বান্দাদের দিকে নজর করেন এবং যারা এতে ক্ষমাপ্রার্থী হয়
তাদেরকে মাফ করেন; আর যারা তাঁর করুণা প্রার্থনা করে,
তাদের প্রতি তিনি নিজ করুণা বর্ষণ করেন। কিন্তু যাদের
অন্তরে বিদ্বেষ আছে, তাদেরকে তিনি আগের
সে অবস্থাতেই রেখে দেন’।”
হযরত আবূ নাসর (রা:) থেকে সাইয়্যেদুনা গাউসুল আ’যম হযরত
আবদুল কাদের জ্বিলানী (রহ:) তাঁর ‘গুনইয়াতুত্ তালেবীন’
পুস্তকে হযরত আয়েশা (রা:)-এর কথা উদ্ধৃত করেন;
তিনি বলেন: “মধ্য-শা’বানের রাতে একবার মহানবী (দ:) আমার
একখানি বস্ত্র অপসারণ করেন। আল্লাহর কসম! আমার ওই
বস্ত্র রেশমও ছিল না, মিহি রেশমও ছিল না; সেটি সুতোরও
ছিল না, আবার সুতো ও তুলোর (মিশ্রণ)-ও ছিল না; (এমন কি)
তুলোরও ছিল না।” বর্ণনাকারী (আবূ নাসর) বলেন,
“আল্লাহরই প্রশংসা! তাহলে সেটি কিসের তৈরি ছিল?” হযরত
আয়েশা (রা:) উত্তর দেন, “এর বনুন হয়েছিল চুল ও
রেশমের সংমিশ্রণে। আমি ধারণা করেছিলাম
যে তিনি হয়তো তাঁর অপর কোনো স্ত্রীর
কাছে গিয়েছিলেন; তাই আমি উঠে (অন্ধকার) কক্ষে তাঁর
খোঁজ করি। আমার হাত তাঁর কদম মোবারক স্পর্শ করে। ওই
সময় তিনি নামাযে সেজদারত ছিলেন। আমার মনে পড়ে,
তিনি দোয়া করছিলেন এই বলে: ‘(এয়া আল্লাহ), আপনার
সামনে সেজদারত আমার দেহ (মোবারক) ও রূহ
(মোবারক), আর আমার অন্তর রয়েছে আপনারই
হেফাযতে। আমি আপনার রহমত-বরকতের শোকর-গুজার
করি এবং আপনার কাছেই আমার কৃতকর্ম স্বীকার করি।
আমি এস্তেগফার করি; অতএব, আমায় মাফ করে দিন!
আমি আপনার শাস্তি হতে আপনারই ক্ষমার মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি;
আপনার রুদ্ররোষ হতে আপনারই করুণার মাঝে আশ্রয় নিচ্ছি।
আপনার না-রাজি থেকে আপনারই রেযামন্দির মাঝে আশ্রয়
নিচ্ছি। আমি আপনার (রুদ্ররূপ) হতে আপনারই মাঝে আশ্রয়
নিচ্ছি। আমি আপনার প্রশংসা করতে পারি না, কেননা আপনি তা-ই,
যেভাবে আপনি আপনার নিজের প্রশংসা করেছেন’।”
অতঃপর মা আয়েশা (রা:) আরও বলেন, “মহানবী (দ:) নামায
পড়া ক্ষান্ত দেন নি, কখনো দাঁড়িয়ে, আবার কখনো বসে,
যতোক্ষণ না ভোর হয়। অতঃপর তিনি তাঁর কদম মোবারক
ওপরে তোলেন এবং আমি তা টিপে দেই। আমি তাঁকে বলি,
আমার বাবা ও মা আপনার জন্যে কোরবান হোন।
আল্লাহতা’লা কি নিশ্চয় আপনার পূর্ববর্তী ও
পরবর্তী কৃতকর্ম মাফ করে দেন নি? তিনি কি আপনার
ব্যাপারে দয়াশীল হন নি? তা নয় কি? তা নয় কি? এমতাবস্থায়
রাসূলুল্লাহ (দ:) উত্তর দেন, ‘ওহে আয়েশা!
আমি কি তাহলে কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? তুমি কি জানো এই
রাতে কী হয়?’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়ে থাকে?
তিনি বল্লেন, ‘এ রাতে সকল (শিশুর) জন্মের (দিন-ক্ষণ)
লিখে রাখা হয়; আর সকল মৃত্যুরও। এই সন্ধিক্ষণে মনুষ্যজাতির
রিযক-ও বরাদ্দ করা হয়, আর তাদের কৃতকর্মের হিসেব
নেয়া হয়।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর করুণা (রহমত)
ছাড়া কি কেউই বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবেন না?
তিনি আমায় বল্লেন, ‘কেউই আল্লাহর রহমত
ছাড়া জান্নাতে যেতে পারবে না।’ অামি আবার জিজ্ঞেস
করলাম, এমন কি আপনিও পারবেন না? বিশ্বনবী (দ:) উত্তর
দিলেন, ‘না, এমন কি আমিও না, যতোক্ষণ না আল্লাহতা’লার
রহমত আমাকে পরিবেষ্টন করছে।’ এরপর তিনি নিজ মস্তক ও
চেহারা মোবারকে তাঁর হাত মোবারক বুলান।” [অনুবাদকের
নোট: মহানবী (দ:)-এর উদ্ধৃত ‘কৃতকর্ম’
শব্দটি দ্বারা তিনি আমাদেরকে আল্লাহর কাছে মাফ
চাইতে শিক্ষা দিয়েছেন। কেননা, ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস
হলো, আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দ বে-গুনাহ। বিশ্বনবী (দ:)-এর
‘এস্তেগফার’ করার মানে উম্মতের জন্যে সুপারিশ ছাড়া কিছু
নয় (সূরা নিসা, ৬৪)।]
হযরত আয়েশা (রা:) অন্যত্র বর্ণনা নবী করীম (দ:)-এর
হাদীস, যিনি বলেন: “মধ্য-শা’বানের রাতে আল্লাহ তাঁর
বান্দাদের প্রতি নজর করেন
এবং ক্ষমাপ্রার্থীদেরকে ক্ষমা করেন; আর
যারা অন্তরে বিদ্বেষভাব পোষণ করে, তাদেরকে সেই
অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।” [আত্ তাবারানী কৃত ‘কবীর’
পুস্তক]
হাদীস ব্যাখ্যাকারীগণ বলেন যে বনূ কালব্ ওই সময়
সবচেয়ে বড় গোত্র ছিল এবং এর সদস্যদের বড় বড়
ভেড়ার পাল ছিল। অতএব, এই হাদীসে শেষ
বাক্যটি ইশারা করে যে মহান আল্লাহ পাক ওই রাতে অসংখ্য
মানুষকে মাফ করে থাকেন।
রাসূলে খোদা (দ:) এরশাদ ফরমান, “মধ্য-শা’বানের
রাতে আল্লাহতা’লা তাঁর বান্দাদের দিকে তাকান এবং এবাদত-
বন্দেগীতে রত বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন; তবে দুই
ধরনের লোককে তিনি ক্ষমা করেন না: ১/
অন্তরে বিদ্বেষভাব পোষণকারী এবং ২/ খুনী।” [ইমাম
আহমদ ইবনে হাম্বল প্রণীত ‘মুসনাদ’ ও আত্ তিরমিযী]
শবে বরাতে আল্লাহতা’লা তাঁর বান্দাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি করেন
ও মো’মেন তথা বিশ্বাসীদেরকে ক্ষমা করেন; আর
অবিশ্বাসীদেরকে শাস্তি প্রদানে নিবৃত্তি দেন,
এবং যারা বিদ্বেষভাব পোষণ করে তাদেরকে নিজ নিজ
বিদ্বেষের আবর্তে ছেড়ে দেন, যতোক্ষণ না তারা তাঁর
কাছে ক্ষমা চায়।
হযরত আবূ বকর (রা:) বর্ণনা করেন, “মধ্য-শা’বানের
রাতে আল্লাহ পাক পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন
এবং প্রত্যেক মো’মেন (বিশ্বাসী)
মুসলমানকে ক্ষমা করেন; এর ব্যতিক্রম শুধু পিতা-মাতার অবাধ্য
সন্তান (আল-’আক্ক) ও যার অন্তরে বিদ্বেষভাব আছে
।” [বায়হাকী তাঁর কৃত ‘শুআব’, ইবনে খুযায়মা (রা:) ও
ইবনে হিব্বান (রা:)]
আল-কাসিম ইবনে মোহাম্মদ ইবনে আবি বকর সিদ্দিক (রহ:)
তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন যে তাঁর পিতামহ
বলেন: “আল্লাহতা’লা মধ্য-শা’বানের রাতে তাঁর সকল সৃষ্টির
প্রতি কৃপাদৃষ্টি করেন এবং সবাইকে ক্ষমা করে দেন; ব্যতিক্রম
শুধু যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে এবং যাদের
অন্তরে বিদ্বেষভাব আছে।” [ইবনে যানজুউইয়ীয়্যা, আদ্
দারু কুতনী কৃত ’সুনান’, ইবনে আদী প্রণীত ‘কামিল’
এবং আল-বায়হাকী রচিত ‘শুয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে উদ্ধৃত]
রাসূলে খোদা (দ:) এরশাদ ফরমান, “শবে বরাতের
রাতে আমাদের প্রভু খোদাতা’লা পৃথিবীর
আকাশে নেমে আসেন এবং দুনিয়াবাসীকে মাফ করেন;
ব্যতিক্রম কেবল মূর্তি পূজারী ব্যক্তিবর্গ ও
অন্তরে বিদ্বেষভাব
লালনকারী লোকেরা।” [ইবনে মূসা হতে ইবনে
যানজুউইয়ীয়্যা বর্ণিত]
হযরত মুয়ায (রা:) মহানবী (দ:)-এর কথা বর্ণনা করেন;
তিনি বলেন: “আল্লাহ পাক শবে বরাতে তাঁর সৃষ্টিকুলের
প্রতি রহমতের নযর বিস্তৃত করেন এবং সবাইকে মাফ করেন;
মাফ করেন না শুধু মুশরিক (মূর্তি পূজারী) ও অন্তরে বিদ্বেষ
পোষণকারী ব্যক্তিবর্গকে।” [ইবনে হিব্বান (১২:৪৮১
#৫৬৬৫), আল-আরনাওত এই এসনাদকে সহীহ বলেছেন;
আত্ তাবারানী, আল-হায়তামী যার সনদকে সহীহ
বলেছেন; আল-বায়হাকী কৃত ‘শুয়াবুল ঈমান’
এবং ইবনে আসাকিরও এই হাদীস বর্ণনা করেন]
রাসূলে পাক (দ:) এরশাদ ফরমান: “নিশ্চয় আমাদের প্রভু
শবে বরাতে উদিত হন এবং সৃষ্টিকুলকে ক্ষমা করেন;
ব্যতিক্রম শুধু মূর্তি পূজারী ও অন্তরে বিদ্বেষ
পোষণকারী ব্যক্তিবর্গ।” [ইবনে মাজাহ ও ইবনে মনসূর
নিজ ‘সুনান’ পুস্তকে]
মহানবী (দ:) এরশাদ ফরমান: “মহান আল্লাহ পাক
শবে বরাতে তাঁর সৃষ্টিকুলের প্রতি নজর করেন এবং সকল
সৃষ্টিকে মাফ করেন; মাফ করেন না শুধু মূর্তি পূজারী ও
অন্তরে বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তিদের।” [আল-
বায়হাকী কৃত ‘শুয়াবুল ঈমান’]
শবে বরাতে আল্লাহতা’লা যমদূত আজরাঈলের কাছে ওই বছর
যাদের জীবনাবসান চান, তাদের তালিকা প্রকাশ করেন।
[রশীদ ইবনে সা’আদ হতে আদ্ দায়নূরী নিজ ‘আল-মাজালিসা’
গ্রন্থে (মুরসালান)]
হযরত উসমান ইবনে আবি আল-’আস হতে ইমাম বায়হাকী তাঁর
‘শুয়াবুল ঈমান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন
যে শবে বরাতে আল্লাহ পাক ডেকে বলেন:
“ক্ষমাপ্রার্থী কেউ আছ কি, যাকে আমি মাফ করতে পারি?
আমার কাছে কোনো কিছূ প্রার্থী কেউ আছ কি,
যাকে আমি তা মঞ্জুর করতে পারি?” ফলে যার যা প্রার্থনা,
তা তিনি মঞ্জুর করেন; কিন্তু এর ব্যতিক্রম
হলো দুরাচারে লিপ্ত ব্যভিচারিনী এবং মূর্তি পূজারী।
হযরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেন মহানবী (দ:)-এর হাদীস;
তিনি এরশাদ ফরমান: “মহান আল্লাহতা’লা মধ্য-শা’বানের
রাতে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ হন এবং বনূ কালব্
গোত্রের মালিকানাধীন ভেড়ার পালের সমস্ত ভেড়ার
লোমের চেয়েও বেশি সংখ্যক
মানুষকে ক্ষমা করেন।” [সাঈদ ইবনে মনসূর প্রণীত ‘সুনান’
দ্রষ্টব্য]
হযরত আয়েশা (রা:) বর্ণনা করেন রাসূলে খোদা (দ:)-এর
বাণী: “শবে বরাতে আল্লাহতা’লা বণূ কালব্ গোত্রের
সমস্ত ভেড়ার লোমের সমপরিমাণ গুনাহ মাফ
করেন।” [বায়হাকী কৃত ‘শুয়াবুল ঈমান’]
হযরত আয়েশা হুযূর পূর নূর (দ:)-কে উদ্ধৃত করেন,
যিনি বলেন: “ওহে আয়েশা! তুমি কি ভেবেছ আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল (দ:) তোমার প্রতি অন্যায্য আচরণ করবেন? বরঞ্চ
জিবরীল আমীন আমার কাছে এসে বল্লেন, ‘এটি-ই মধ্য-
শা’বানের রাত। আল্লাহতা’লা এ রাতে বনূ কালব্ গোত্রের
সমস্ত ভেড়ার লোমের সমসংখ্যক মানুষকে জাহান্নামের
আগুন থেকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু তিনি মাফ করেন
না মূর্তি পূজারীদের কিংবা অন্যদের
প্রতি অন্তরে বিদ্বেষভাব পোষণকারীদের;
অথবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীদেরও; অথবা পায়ের
গোড়ালির নিচে বস্ত্র পরিধানকারীদেরও (যারা অর্থ-
বিত্তের দম্ভের প্রতীকস্বরূপ তা পরে); কিংবা পিতা-মাতার
অবাধ্য সন্তানদেরও; অথবা মদ্যপায়ীদেরও।” [বায়হাকী রচিত
‘শুয়াবুল ঈমান’]
এ যাবত যতো হাদীস ও রওয়ায়াত উদ্ধৃত হয়েছে,
সেগুলো একত্র করলে স্পষ্ট
হয়ে যাবে যে শবে বরাতের ফযীলত তথা ইহ ও পারলৌকিক
উপকারিতার ভিত্তি সুদৃঢ়; আর এই পবিত্র রাত এবাদত-
বন্দেগীতে কাটানোর সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও বিদ্যমান। বস্তুতঃ এ
সব হাদীদের কিছু কিছুকে বেশ কিছু হাদীসবিদ সহীহ
(বিশুদ্ধ) হিসেবে বিবেচনা করেছেন, আর
বাকিগুলোতে ছোটখাটো পরিভাষাগত
ত্রুটি রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেছেন; এই পরিভাষাগত
ত্রুটি হাদীসশাস্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন বর্ণনার
সমন্বয়ে সারানো যায়। এ কারণেই এই উম্মাহ’র
বুযূর্গানে দ্বীনবৃন্দ শবে বরাতকে রহমত-বরকতময়
রজনী হিসেবে এবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে পালন
করেছেন যুগে যুগে।
শবে বরাতের দোয়া
মাহমূদ আলূসী নিজ তাফসীরগ্রন্থে ইবনে আবি শায়বা কৃত
‘মোসান্নাফ’ পুস্তক হতে হযরত ইবনে মাসউদ (রা:)-এর
কথা উদ্ধৃত করেন, যিনি বলেন, “বান্দা আল্লাহর কাছে (নিচের)
এই দোয়া করলে তিনি তার জীবন-জীবিকা বৃদ্ধি করে দেন:
হে আল্লাহ! অফুরন্ত রহমত-বরকতের অধিকারী!
হে সর্বোচ্চ শান-শওকত, সম্মান ও ক্ষমতার মালিক!
আপনি ভিন্ন অন্য কোনো খোদা নেই। আপনি-ই
আশ্রয়হীনদের আশ্রয় এবং নৈকট্য অন্বেষীদের
প্রতিবেশী (নিকটবর্তী); মুত্তাকী (খোদাভীরু)-দের
অভিভাবক। এয়া আল্লাহ! আপনি যদি আপনার মূল লিপিতে আমার
দুর্দশা ভারাক্রান্ত হবার বিষয়টি নির্ধারণ করে থাকেন,
তবে তা অপসারণ করুন এবং আমাকে সুখ-সমৃদ্ধি দান করুন।
হে আমার প্রভু! আপনি যদি আপনার কেতাবে আমার
জন্যে আপনার রহমত (আশীর্বাদ) বাদ দেয়ার
কথা লিখে রাখেন, তবে তা মুছে দিন এবং আমার রিযক আমার
জন্যে সহজ করে দিন; আপনার দরবারে আমাকে সুখী,
সৎকর্মশীল ও সমৃদ্ধিশালী করে দিন। কেননা,
আপনি আপনার পাক কালামে এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ যা চান
নিশ্চিহ্ন করেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেন; এবং মূল লিপি তাঁরই
কাছে রয়েছে’।” (আল-কুরআন, ১৩:৩৯, মুফতী আহমদ
এয়ার খান সাহেব কৃত ’নূরুল এরফান’)
আবদ ইবনে হুমাইদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেন যে হযরত
উমর ফারুক (রা:) কাবা শরীফের তাওয়াফকালে দোয়া করেন:
“এয়া আল্লাহ! যদি আপনি লিখে রাখেন
আমি দুঃখী বা পাপী হবো, তবে তা (পরিণতি) মুছে দিন
এবং আমার ভাগ্যে সুখ-সমৃদ্ধি ও গুনাহ মাফের বিষয়টি লিখুন।
কেননা, আপনি যা চান নিশ্চিহ্ন করেন এবং প্রতিষ্ঠিত করেন, আর
আপনার কাছেই রয়েছে মূল লিপি।”
হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর (রা:) ও হযরত মোজাহিদ (রা:)-এর
তরীকা (পদ্ধতি) অনুসারে ইবনে জারির তাবারীর বর্ণনায়
এবং অন্যান্য রওয়ায়াত ও আল-এয়াফী’ হতে ‘আল-এবদা’আ’
পুস্তকের লেখকের বিবরণে জানা যায়,
শবে বরাতে প্রথমে যে দোয়া করা হয় তা হলো –
‘এয়া আল্লাহ, অফুরন্ত রহমত-বরকতের মালিক!’
সমাপ্ত