চতুর্থ পর্দায় রসুলে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তারকা রুপে থাকার হাদিস

Standard

প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের ২২৩ পৃষ্ঠায় মাওলানা মতিউর রহমান বিকৃত করে একটি সহীহ হাদিসকে জাল প্রমাণ করার হীন চেষ্টা করেছেন।অনুরুপভাবে করেছেন আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার জঘন্য কিতাব “হাদিসের নামে জালিয়াতি” এর ২৬২ পৃষ্ঠায়।তারা কোন একটা প্রমাণও উপস্থাপনও করতে পারে নাই যে, উক্ত হাদিসটি জাল।
জবাবঃ

মূল হাদিসটি হলঃ

“হযরত আবু হুরায়রা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় একদা রাসুল পাক (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞাস করলেন, তোমার বয়স কত? জিবরাঈল(আঃ) আরজ করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ( আমার বয়স সম্পর্কে) আমি জানি না, তবে চতুর্থ পর্দায় একটি নক্ষত্র প্রতি সত্তর হাজার বছর পর পর একবার উদিত হতো, তাকে আমি ৭২ হাজার বার দেখেছি।রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, হে জিবরাঈল! আমার প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম।আমিই ছিলাম সেই নক্ষত্র।
★কঃ ইমাম বুখারীঃ আত তাশরীফাতে ফি খাসায়েস ওয়াল মুজিজাতঃ২/২৫৪পৃঃ

★খঃ ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবীঃ সিরাতে হালবিয়্যাহঃ ১/৪৯পৃঃ(ইমাম বুখারির সুত্রে)

★গঃ আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃতাফসিরে রুহুল বয়ানঃ৩/৫৪৩পৃঃ, ৩য় খন্ডঃসুরা তওবা,আয়াতঃ১২৮

★ঘঃআল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানীঃযাওয়াহেরুল বিহারঃ৩/৩৩৯, নিজস্ব বর্ণনা অনুসারে কারও মতামত উল্লেখ ছাড়া হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবী আশ শাফেয়ী(রাহমাতুল্লাহি আলাইয়হি) একজন গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিস তার উপর কোন অভিযোগ নেই। মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ) শরহে শিফা ১/৩৭পৃষ্ঠা সহ অসংখ্য স্থানে ইমাম হালবীর মতামত গ্রহণ করেছেন।
দেওবন্দীদের অন্যতম আলেম রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী ও খলিল আহমদ সাহানপুরী ” বারাহানে কাতেয়ার” অনেক পৃষ্ঠায় ইমাম হালবীর নামের পাশে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর থেকে দলীলও গ্রহণ করেছেন।
আল্লামা বোরহান উদ্দীন হালবী(রহঃ) তার কিতাবের ভূমিকায় বলেন–

“সীরাত গ্রন্থ সমূহে সহীহ,সাক্বীম,দ্বঈফ, বালাগ,মুরসাল,মুনকাতা ও মু’দাল হাদিস সমূহ একত্রিত করা হয়, কিন্তু মওদ্বু বা জাল হাদিস নয়।

★ সীরাতে হালবিয়্যাহঃ১/৭পৃঃ।
অপরদিকে নজম(তারকা/নক্ষত্র) রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্যতম নাম মোবারক, রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নুরানি সত্তাকে তারকা বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।যেমনঃ অনেক স্থানে কোরআনে পাকের সূরা ” ওয়ান্নাজম” এর মধ্যে মজবুত যোগসূত্র পাওয়া যায়।কারণ, অনেক তাফসীরকারক উক্ত সুরাতে ” আন নাজম” বলতে রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝিয়েছেন, যেমনঃ
” ইমাম জাফর সাদেক(রহঃ) বলেন, আন নাজম বলতে হযরত মুহাম্মদ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে।ইজ হাও দ্বারা রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মি’রাজ রজনীতে আসমান হতে জমিনে অবতরণ কে বুঝানো হয়েছে।”

★কঃইমাম কুরতুবীঃজামিউল আহকামুল কোরআনঃ১৭/৮৩পৃঃ, কাহেরা, মিশর।

★খঃইমাম বাগভীঃমুআলিমুত তানযিলঃ৭/৪০০পৃঃ

★গঃইমাম আলূসীঃতাফসীরে রুহুল মা’আনীঃ১৪/৪৪পৃঃ

★ঘঃকাজী সানাউল্লাহ পানিপথীঃতাফসীরে মাযহারিঃ৯/১০৩পৃঃ

★ঙঃ ইমাম সাভীঃতাফসীরে সাভীঃ৪/১২৯পৃঃ

★চঃইমাম খাযেনঃতাফসীরে খাযেনঃ৪/২০৩পৃঃ

★ছঃ আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃরুহুল বয়ানঃ৯/২০৮

Advertisements

প্রিয় নবী(দঃ) নুরুল বশর

Standard

নবী করিম হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হলেন মহান রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টির সর্বপ্রথম নূরানী সত্তা। নিঃসন্দেহে নবী পাক রাহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর নূর হতে সৃষ্টি করা হয়েছে অর্থাৎ (আল্লাহ্‌ তা’আলা কোন মাধ্যম ব্যতিরেকে কুদরতে কামেলা দ্বারা সৃষ্টি করেছেন) এবং পৃথিবীতে শুভাগমন করেছেন মানব বংশে নূরানী অতুলনীয় বশরিয়তের সূরত তথা আকৃতিতে। তাই নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “নূরুল বশর” বা নূরানী মানব। অর্থাৎ ছুরতে বা আকৃতিতে মানুষ, হাকীকতে নূরে খোদা।

‘মাকতুবাতে ইমামে রাব্বানী’ কিতাবে রয়েছে –

باید دانست کہ خلق محمدی صلی اللہ علیہ وسلم دررنگ خلق سائر افراد انسانی نیست بلکہ بخلقے ھیچے فردے از افراد عالم مناسبت نہ دارد کہ اوصلی اللہ علیہ وسلم باوجود نشاء عنصری از نور حق جل واعل مخلوق گشتہ است کما قال علیہ الصلوۃ والسلام خلقت من نور اللہ

‘জেনে রাখা অতীব প্রয়োজন যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৃষ্টি অপরাপর মানুষের মত নয়। এমনকি কুলকায়েনাত বা সমগ্র সৃষ্টি জগতের কেউই সৃষ্টির মধ্যে তাঁর সাথে কোন প্রকার সাদৃশ্য রাখে না। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানবীয় দেহবিশিষ্ট হয়ে জন্মগ্রহণ করলেও আল্লাহ জাল্লা শানুহুর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। আল্লাহর হাবীব নিজেই ইরশাদ করেছেন – আমি আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছি।’ (মুজাদ্দিদে আলফেসানী, মাকতুবাত, মাকতুব নং- ১০০)

হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমাদ ইয়ার খান নঈমী এ বিষয়টির সুন্দর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন –

نبی جنس بشر مين آتے ہین اور انسان ہی ہوتے ہین جن يا فرشتہ نہین ہوتے یہ دنياوی احكام ہین ورنہ بشریت کی ابتداء آدم عليه السلام سے ہوتی کیونکہ وہ ہی ابو البشر ہین اور حضور عليه الصلاة والسلام اس وقت نبی ہین جبکہ آدم عليه السلام آب وگل مین ہین

‘নবীবৃন্দ মানব জাতির মধ্যেই এসে থাকেন এবং মানুষই হন, জিন কিংবা ফেরেশতা হন না, এটাতো দুনিয়াবী একটি বিধান মাত্র। অন্যথায় মানব জাতির শুরুই হয়েছে আদম আলাইহিস সালাম থেকে। কেননা তিনি আবুল বাশার (মানব জাতির পিতা)। আর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো ঐ সময় থেকেই নবী হিসেবে ছিলেন যখন আদম আলাইহিস সালাম মাটি ও পানিতে একাকার ছিলেন।’ (মুফতী আহমাদ ইয়ার খান নঈমী, জা-আল হক, প্রথম খণ্ড)

স্বয়ং হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন –

من راني فقد راي الحق‘যে আমাকে দেখল, সে হককে তথা আল্লাহকেই দেখল।’

ইমাম ওয়াসেতী বলেন –

أن البشرية في نبيه عارية واضافة لاحقيقة يعني فظاهره مخلوق وباطنه حق

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাশারিয়াত বা মানবত্ব ক্ষণস্থায়ী এবং তা (পোশাকস্বরূপ) সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এটা (বাশারিয়াত) তাঁর মূল নয়। অর্থাৎ বাহ্যত তিনি মাখলুক, আর বাতেনে তিনি হক তথা আল্লাহর তাজাল্লিয়াতের আয়নাস্বরূপ।’ (আল্লামা ইসমাঈল হাক্বী, রুহুল বায়ান: ৯/২১)

নবী পাকের সৃষ্টি যে মানব জাতি সৃষ্টিরও অনেক আগে, এমনকি সর্বপ্রথম সৃষ্টি-ই তিনি, এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। এখন তিনি সৃষ্টি হিসেবে সর্বপ্রথম প্রমাণিত, আর নবী হিসেবে কখন থেকে মনোনীত – এ ব্যাপারে হাকীমুল উম্মত মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমীর পূর্বোক্ত বর্ণানাটি-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট; তদুপরি নিম্নে হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণ পেশ করা হলো।

হযরত ইবনু আব্বাস ও আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে বর্ণিত রয়েছে, তাঁরা বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্য নবুয়্যত কখন অবধারিত হয়েছে? জবাবে নবীজী ইরশাদ করেন –

كنت نبيا وادم بين الروح والجسد অর্থাৎ, ‘আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম আলাইহিস সালাম দেহ ও রূহের মধ্যে ছিলেন।’ (ইমাম তিরমিজী, ইমাম বুখারী, তারীখুল কাবীর; খতিব তিবরিযী, মিশকাত: ৫১৩, ইমাম সুয়ূতী, খাছায়েছুল কুবরা: ১/৩)

হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, নবীজী ইরশাদ করেন –

كنت اول النبيين في الخلق واخرهم في البعث

‘আমি হলাম সৃষ্টিতে নবীদের প্রথম এবং প্রেরণের দিক থেকে নবীদের শেষ।’ (ইমাম দায়লামী, আল-ফিরদাউস: ৩/২৮২; ইমাম সুয়ূতী, খাছায়েছুল কুবরা: ১/৫; ইবনু কাছীর, তাফসীরে ইবনে কাছির: ৩/৪৭০; ইমাম ইবনে আদি, তারীখুল কামেল: ৩/৩৭৩)

এ প্রসঙ্গে ‘মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক’ কিতাবে বর্ণিত হাদীছ শরীফকে শারিহে সহীহ বুখারী আল্লামা ইমাম আহমদ কাস্তালানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ‘‘তাঁর রচিত বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাওয়াহেবে লাদুনিয়া’ কিতাবে জলিলুল কদর সাহাবী, খাদেমে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হতে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে পাক হতে জাতে মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ প্রদত্ত হয়েছে। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ্ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে সম্বোধন করে হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন –

ياجابر انّ الله تعالى قد خلق قبل الاشياء نور نبيك من نوره- الحديث

অর্থাৎ হে জাবির! নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা সমুদয় বস্তু সৃষ্টির পূর্বে তাঁর (আল্লাহর) নূর হতে তোমার নবীর নূর সৃষ্টি করেছেন। [আল্ হাদীস]

হাদীসে পাকে উল্লেখিত من نورهএর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘শরহে মাওয়াহেবে লাদুনিয়া’য় আল্লামা ইমাম জোরকানী আলায়হির রহমা বলেন,

من نوره اى من نور هو ذاته

অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা‘আলা নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে স্বীয় নূর হতে সৃষ্টি করেছেন যা আল্লাহর প্রকৃত জাত অর্থাৎ স্বীয় জাত কর্তৃক কোন মাধ্যম ছাড়াই প্রিয় নবীকে সৃষ্টি করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর জাত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টির মাদ্দা বা মূল ধাতু বরং এই অর্থ যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নূর মোবারক সৃষ্টি করার মধ্যে আল্লাহ্ তা‘আলার এরাদা বা ইচ্ছার সম্পর্ক বেলা ওয়াসেতা বা কোন কিছুর মাধ্যম ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। উল্লেখ্য, আল্লাহ তা‘আলার নূরের অংশ, টুকরা এবং ভাগ হয় না।

এ প্রসঙ্গে আল্লামা ফার্সী আলায়হির রহমা তদীয় ‘মাতালিউল মুসাররাত শরহে দালায়িলুল খায়রাত’ কিতাবে উল্লেখ করেন –

قد قال الاشعرى انه تعالى نور ليس كاالانوار والروح النبوة القد سية لمعة من نوره والملئكة شرر تلك الانورا- الخ

অর্থাৎ, আহলে সুন্নাতের অন্যতম ইমাম আল্লামা আবুল হাসান আশআরী আলায়হির রহমা বলেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তা‘আলা হলেন নূর যা অন্য কোন নূরের মতো নয় (যার কোন উপমা ও উদাহরণ নেই), হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র রূহ মোবারক সেই নূরের ঝলক এবং ফেরেশতাগণ ঐ ঝলকেরই জ্যোতি। আর শায়খ মুহাক্কিক আল্লামা আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী আলায়হির রহমা (বেসাল: ১০৫২ হিজরি) তাঁর ‘মাদারিজুন নবুয়ত’ নামাক গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের ৭৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন –

سيد رسل مخلوق ست از ذات حق وظهور حق دروى بالذات ست

অর্থাৎ সাইয়িদুল মুরসালিন হুযূর পুরনূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে হক তা‘আলার জাত (সত্তা) কর্তৃক সৃষ্টি করা হয়েছে। আর হক তা‘আলা রাব্বুল আলামীনের বহিঃপ্রকাশ বা বিকাশ তাঁর মধ্যে সত্তাগতভাবে। হাবীবে খোদা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আপাদমস্তক নূর عين نور باشد তিনি নিজেই নূর ছিলেন। তাঁর (নবীজির) নূর মোবারক দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলা সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সরাসরি আল্লাহর জাতী নূর হতে কোন কিছুর মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আল্লাহর ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে। তার অর্থ এ নয় যে, আল্লাহর জাত অংশ হয়ে গেছে বা ভাগ হয়ে গেছে।
[আল্ মাওয়াহিবুল লাদুনিয়া, প্রণেতা: ইমাম আল্লামা আহমদ কাস্তলানী রহ., মাদারিজুন নবুয়ত, প্রণেতা: শায়খ শাহ্ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহঃ]

আল্লামা সৈয়দ আহমদ সাঈদ কাজেমী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাঁর ميلاد النبى صلى الله عليه وسلم নামক গ্রন্থের ১৩ পৃষ্ঠায় হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদিস শরীফের ব্যাখ্যায় লিখেন –

اس حدیث میں نور کی اضافت بیانیہ ہے اور نور سے مراد ذات ہے زرقانی جلد اول صفحہ٤٦ حدیث کے معنی یہ ہے کہ اللہ تعالی نے اپنے حبیب صلی اللہ علیہ وسلم کے نور پاک یعنی اپنی ذات مقدسہ سے پیدا فرمایا اس کے یہ معنی نہیں کہ معاذ اللہ اللہ تعالی کی ذات حضور علیہ السلام کی ذات کا مادہ ہے یا نعوذ باللہ حضور کا نور اللہ کے نور کا کوئ حصہ یا ٹکڑا ہے تعالی اللہ عن ذالک علوا کبیرا-
اگر کسی ناواقف شخص کا یہ اعتقاد ہے تو اسے توبہ کرنا فرض ہے- اس لئے کہ ایسا ناپاک عقیدہ خالص کفر و شرک ہے اللہ تعالی اس سے محفوظ رکھے

অর্থাৎ, উক্ত (হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত) হাদিসে নূর-এর এজাফতটি ’এজাফতে বয়ানিয়া’ (বর্ণনামূলক সম্বন্ধ) আর নূর দ্বারা ذات (যাত) বা সত্তা বোঝানো হয়েছে (জারকানী ১/৪৬ পৃষ্ঠা)। এখন হাদিসের অর্থ এই যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র নূর মোবারক স্বীয় যাত বা সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, (মা’য়াজাল্লাহ) আল্লাহ তায়ালার যাত বা সত্তা হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যাত বা সত্তার মাদ্দা (মূল)। অথবা এ অর্থও নয় যে, (নাউজুবিল্লাহ) হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নূর মোবারক আল্লাহতায়ালার নূরের অংশ বা টুকরো। আল্লাহ তায়ালা তা হতে (অর্থাৎ অংশ, টুকরো এবং হুজুরের নূর সৃষ্টির মাদ্দা) পবিত্র ও মহান।

যদি কোন অজ্ঞ লোকের এ বদ আকিদা থাকে (যেমন নবীজির সৃষ্টির মাদ্দা হল আল্লাহ; আল্লাহ তাঁর নিজ জাতের অংশ থেকে নূর নবীকে প্রকাশ করেছেন ইত্যাদি), তবে তার তাওবা করা ফরয। কেননা এরূপ নাপাক আকিদা নিরেট কুফুরি ও শিরক। মহান আল্লাহ তা’য়ালা যেন আমাদেরকে এ ধরনের বাতিল আকিদা থেকে হেফাযত রাখেন।

অতএব, উল্লেখিত উদৃতিসমূহ হতে বোঝা গেল যে, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই হলেন রবের সর্বপ্রথম সৃষ্টি আর সবকিছু মূলতঃ তাঁর থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা হলেন সত্তাগত নূর (সৃষ্টি বা উপমাযোগ্য নয়, বরং কাদীমী নূর)। আর সেই যাতী নূরের জ্যোতি হতেই নূরে মুহাম্মদীর পয়দা। সাথে এ-ও বুঝা গেল যে, তখনও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বিশেষ আকৃতিতে ছিলেন। কারণ হুযুর পাকের সিজদা করা এবং সিজদা থেকে মাথা মুবারক ওঠানোর কথা স্পষ্ট এসেছে।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম হলেন মানব জাতির পিতা এবং সর্বপ্রথম মানুষ। আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁরও অনেক পূর্বে সৃষ্টি। এ ব্যাপারে আরও একটি স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মারফূ‘ সূত্রে। নবীজী ইরশাদ করেন –

عن علي قال: قال رسول الله: كنت نورا بين يدي ربي عز وجل قبل ان يخلق آدم بأربعة عشر ألف عام

‘আমি আদম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমার রবের নিকট নূর রূপে ছিলাম।’ (ইমাম কাসতালানী, আল-মাওয়াহেব: ১/৭৪; ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৯৫; ইমাম বুরহানুদ্দীন হালাবী, সিরাতে হালবীয়া: ১/৩০; ইমাম আযলুনী, কাশফুল খফা: ১/২৩৭; ইবনু কাছির, আল-বেদায়া ওয়ান-নেহায়া: ২/৪০২)

নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন ছুরাতের শান

নবীজীর সুরাত বা আকৃতির ব্যাপারে শায়খ ইসমাইল হাক্কী ‘সূরা মারিয়াম’-এর كهيعص এর ব্যাখ্যায় ইমাম কাশেফীর একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, শায়খ রুকুনুদ্দীন আলাউদ্দৌলা সিমনানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ফরমান –

حضرت رسالت را صلی الله عليه وسلم سہ صورتست يكی بشری كقوله تعالی قل انما انا بشر مثلكم (الكهف: ١١٠)دوم ملكی چناكہ فرمودست (لست كأحد ابيت عندی ربی)سيوم حقی كما قال :(لی مع الله وقت لا يسعنی فيه ملك مقرب ولا نبي مرسل)وازين وروشنتر (من رأنی فقد رأي الحق))

‘রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তিনটি সুরাত রয়েছে। একটি, বাশারী বা মানব সুরাত। যেমন, আল্লাহর বাণী- قل انما انا بشر مثلكم (আপনি বলুন, নিশ্চয় আমি তোমাদের মতো বাহ্যিক আকৃতিতে একজন মানুষ)। দ্বিতীয়টি হলো, ফেরেশতার সুরাত। যেমন, আল্লাহর হাবীব নিজেই ফরমান – لست كأحد ابيت عندی ربی (আমি তোমাদের কারোরই মতো নই, আমি আমার রবের নিকট রাত্রি যাপন করি)। তৃতীয়টি হলো, সুরাতে হাক্কী বা প্রকৃত সুরাত। যেমন, হাদীস শরীফে রয়েছে, নবীজী ইরশাদ করেন- لی مع الله وقت لا يسعنی فيه ملك مقرب ولا نبي مرسل (আল্লাহর সাথে আমার এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে যাতে নৈকট্যপ্রাপ্ত কোন ফেরেশতা এবং কোন নবী-রাসূল পৌঁছুতে পারেননি)। এর চেয়েও স্পষ্ট বর্ণনা হাদীসে রয়েছে যে, নবীজী বলেন- من رأنی فقد رأي الحق (যে আমাকে দেখল, সে যেন হককেই দেখল); অর্থাৎ তিনি আল্লাহকে দেখার আয়নাস্বরূপ।’ (আল্লামা ইসমাঈল হাক্বী, রুহুল বায়ান: ৫/৩১৪)  তাফসীরে হোসাঈনীতেও অনূরূপ উল্লেখ আছে।

নূরে মুহাম্মদীকে সৃষ্টির পর আকৃতি প্রদানের ব্যাপারে আল্লামা ইমাম যারকানী বলেন –

ثم جسم صورته علي شكل اخص من ذلك النور

‘অতঃপর নূরে মুহমাম্মদীকে বিশেষ আকৃতিতে মুজাসসাম (শরীরবিশিষ্ট) করা হয়।’ (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ১/৯৫)
আর আহলে সুন্নাতের সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে হুযুর পাকের যে সুরাতই হোক, সব ক’টি-ই নূরের; এমনকি মানব আকৃতিও নূরে মুজাসসাম (নূরের শরীরবিশিষ্ট)।

হাফিজুল হাদীস ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী বর্ণনা করেন –

اخرج الحكيم الترمذى عن ذكوان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن يرى له ظل فى شمس ولاقمر قال ابن سبع: من خصائصه ان ظله كان لا يقع على الارض وانه كان نورا فكان اذا مشى فى الشمس او القمر لا ينظر له ظل- قال بعضهم: ويشهد له حديث قوله صلى الله عليه فى دعائه- واجعلى نورا-

‘হাকিম তিরমিযী হযরত যাকওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম হতে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছায়া না সূর্যের আলোতে দেখা যেত, আর না চন্দ্রের আলোতে। ইবনু সাবা‘ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন – রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য এই যে, নিশ্চয় তাঁর ছায়া জমিনে পতিত হতো না, কেননা তিনি ছিলেন নূর। অতএব, তিনি যখন সূর্যের আলোতে অথবা চন্দ্রের আলোতে চলতেন, তখন তাঁর ছায়া দেখা যেত না। কেউ কেউ বলেন, রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার ছায়া না থাকার বিষয়টি ঐ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দু‘আয় বলেছেন – হে আল্লাহ! আমাকে নূর করে দাও।’ (ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী, আল-খাসায়েসুল কুবরা: ১/১১৬)

ইমাম যারকানী বলেন –

لم يكن له صلى الله عليه وسلم ظل فى شمس ولاقمر لانه كان نورا

‘সূর্য, চন্দ্রের আলোতে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেহ মুবারকের ছায়া পড়ত না। কেননা তিনি ছিলেন অাপাদমস্তক নূর।’ (ইমাম যারকানী, শারহুল মাওয়াহেব: ৪/২২০)

অনুরূপ বর্ণনা ইমাম কাদ্বী আয়াদ্ব তাঁর ‘কিতাবুশ শিফা বি তা‘রীফি হুকুকিল মুস্তফা’য়ও বর্ণনা করেছেন।

নুশরত্বীব কিতাবের স্ক্যান কপি

Standard

image

image

image

দেওবন্দী আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানবী তার “নশরুত্তীব ফি যিকরিন্নাবিয়্যিল হািবব” কিতাবের ২৫ পৃষ্ঠায় কি লিখেছেন দেখুন।
১. ১মটি মূল কিতাবের ছবি।
২. হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি নবিজীর কাছে জানতে চাইলেন সর্বপ্রথম আল্লাহ কোন বস্তু সৃজন করেছেন।নবিজী বললেন হে জাবের! সবার আগে যা সৃজন সেটা তোমার নবিজির নুর।…….হাদিসটি দীর্ঘ।( মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)
৩.আশরাফ আলী থানবী এ কিতাবের ২৬ পৃষ্ঠায় সে আরেটি হাদিস বর্ণনা করেছেন তা হলো।
হযরত আলী (রা.) বলেন, নবিজি বলেছেন, আমি আদম (আ.) এর সৃজন হওয়ার ১৪ হাজার বছর পূর্বে আল্লাহর দরবারে নূর হিসেবে বিদ্যমান ছিলাম।(আহকাম ইবনে কাত্তান)
অথচ তার অনুসারীরা নবিজিকে নূর বললেই কাফের ফাত্ওয়া দিতে শুরু করে। তাই আমরা বলবো যে এখন তোমাদের ফাত্ওয়ায় তোমাদের মুরুব্বি আশরাফ আলী থানবী কি হন? মুসলমান নাকি কাফের? পাঠকবৃন্দ! আপনারাই বলুন।মাযহাব মিল্লাতের স্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করুন।লাইক দিন সকলে
ইমাম আযম রিসার্চ সেন্টার
লিখে এ রকম দেওবন্দী ইতিহাস জানতে।

হাদিসে জাবের pdf link

Standard

image

বিখ্যাত নুর সম্পর্কিত সম্পূর্ণ হাদীসটি হলঃ-
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, “তিনি বলেন- আমি আরজ করলাম, হে রাসুল আল্লাহ্‌ (সঃ), আপনার উপর আমার পিতা মাতা উৎসর্গিত, আল্লাহতালা সর্বপ্রথম কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছেন? উত্তরে নবী করিম (সঃ) বলেন– হে জাবের, আল্লাহতালা সর্ব প্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর আপন নূর হতে তোমার নবীর নূর পয়দা করলেন। তারপর আল্লাহ্‌র ইচ্ছানুযায়ী সেই নূর পরিভ্রমণ করতে লাগল। ওই সময় না ছিল লউহে-মাহফুজ, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোজখ, না ছিল ফেরেশতা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জিন জাতি, না ছিল মানবজাতী। অতঃপর যখন আল্লাহ্‌ তালা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্ত করলেন, তখন ওই নূর কে চার ভাগ করে প্রথম ভাগ দিয়ে কলম, ২য় ভাগ দিয়ে লউহে-মাহফুজ, ৩য় ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা, ২য় ভাগ দিয়ে কুরশি, ৩য় ভাগ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। ২য় চার ভাগের অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার পুনরায় চার ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আকাশ, ২য় ভাগ দিয়ে জমিন, ৩য় ভাগ দিয়ে বেহেস্ত-দুজখ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে মোমেনদের নয়নের দৃষ্টি, ২য় ভাগ দিয়ে কালবের নূর তথা আল্লাহ্‌র মারেফত, ৩য় ভাগ দিয়ে তাদের মহবতের নূর তথা তাওহিদি কালেমা “লা ইলাহা ইল্লালাহু মহাম্মুদুর রাসুলাল্লাহ (সঃ)” সৃষ্টি করলেন এবং বাকি এক ভাগ দিয়ে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন।

[মূলসূত্রঃ- মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ভলি-০১, পৃ-৯৯, হাদীস নং-১৮; এই সহীহ হাদীসের কিতাবটি ইমাম বুখারী (রঃ) এর দাদা উস্তাদ মুহাদ্দীস আব্দুর রাজ্জাক (রঃ) কর্তৃক রচিত; প্রকাশনী- দার আল মুহাদ্দীস, রিয়াদ, সৌদি আরব,
বি:দ্র: খুশির খবর বহু বছর পর মুসান্নাফে অাব্দুর রজ্জাক সম্পাদিত অাসল কিতাবের নুরের অধ্যায়টি বর্তমানে উদ্ধার করা হয়েছে তা ইস্তান্বুলের জাদুঘরে সংরক্ষিত অাছে)))

হাদীসের সনদটি নিম্নরূপ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম>>জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়্যাল্লাহু আনহু>>মুহাম্মাদ বিন মুঙ্কদার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি>>মা’মার বিন রাশীদ>>আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি

এবার দেখা যাক প্রখ্যাত মুহাদ্দীগণের মন্তব্য:
(ক)হাফেজে হাদিস মুহাদ্দীস আব্দুল হক দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুবিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ ‘মাদারিজ নব্যুওত’ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।

(খ) আহমাদ ইবন সালীহ (রঃ) বলেন, “আমি একবার আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি হাদীস শাস্ত্রে আব্দুর রাজ্জাকের থেকে ভালো অার কাউকে পেয়েছেন? আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, না”। [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ২/৩৩১]

(গ) হাদীসটির একটি রাবী হলেন মা’মার বিন রাশীদ। উনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, আমি বাসরার সকল হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের থেকে মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকে মা’মার বিন রাশীদ এর সূত্রে পাওয়া হাদীসগুলো পছন্দ করি।
ইমাম ইবন হাজর আসকলানী (রঃ) উনাকে দক্ষ মুখস্তবীদ, নির্ভরযোগ্য বলেন। [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ১/৫০৫]
মা’মার বিন রাশীদ সূত্রে বর্ণিত বুখারী শারীফের হাদীস সংখ্যা প্রায় ২২৫ এবং মুসলিম শারীফে বর্ণিত হাদীস সংখ্যা প্রায় ৩০০

(ঘ) হাদীসটির আরেক রাবী হলেন মুহাম্মাদ বিন মুকদার। ইমাম হুমায়দি বলেন, মুকদার একজন হাফিজ ইমাম জারাহ তাদীল ইবন মা’ঈন বলেন, উনি নির্ভরযোগ্য [আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ভলি ০৯/১১০৪৮]

মুকদার থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা বুখারী শারীফে ৩০টি এবং মুসলিম শারীফে ২২টি।

(ঙ) আর জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একজন সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী। বুখারী ও মুসলিম শারীফের উনার থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস আছে।

সুতরাং বুঝা গেল। হাদীসটির সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য এবং উনাদের সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শারীফে ও হাদীস বর্ণিত আছে।
নবীজি সাল্লাঅাল্লাহু অালাইহে ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম নুর এ সম্পর্কিত মুসান্নাফে অাব্দুর রাজ্জাক
আরবী মূল কিতাবের স্ক্যান কপিসহ বিস্তারিত দেখুন নিচের লিঙ্কে
http://alturath.info/hadeeth/abdel-razek/abdel-razek.htm

এবং এই হাদীস শরীফটিকে আরও যে সমস্ত কিতাবে সহীহ হাদীস হিসেবে মন্তব্য করে দলীল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে-
দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩; মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১/৯; মাদারেজুন নবুওয়াত ২/২; যুরকানী ১/৪৬; রুহুল মায়ানী ১৭/১০৫; সিরাতে হলবীয়া ১/৩০; মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃ; ফতোয়ায়ে হাদীসিয়া ১৮৯ পৃ; নি’ মাতুল কুবরা ২ পৃ; হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫; দাইলামী শরীফ ২/১৯১; মকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং মকতুব; মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ; ইনছানুল উয়ুন ১/২৯; নূরে মুহম্মদী ৪৭ পৃ; আল আনোয়ার ফি মাওলিদিন নবী ৫ পৃ; আফদ্বালুল ক্বোরা; তারীখুল খমীস; নুজহাতুল মাজালিস ১ খন্ড; দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃ; কাশফুল খফা ১/৩১১; তারিখ আননূর ১/৮; আনোয়ারে মুহম্মদীয়া ১/৭৮; আল মাওয়ারিদে রাবী ফী মাওলীদিন নবী; তাওয়ারীখে মুহম্মদ; আনফাসে রহীমিয়া; মা’ য়ারিফে মুহম্মদী; মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২/২৬০; নশরুতত্বীব ৫ পৃ; আপকা মাসায়েল আওর উনকা হাল ৩/৮৩; শিহাবুছ ছাকিব ৫০; মুনছিবে ইছমত ১৬ পৃ; রেসালায়ে নূর ২ পৃ; হাদীয়াতুল মাহদী ৫৬পৃ; দেওবন্দী আজিজুল হক অনুবাদ কৃত বুখারী শরীফ ৫/৩।

এ সম্পর্কে অারো কয়েকটি হাদিস শরীফ:

বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম আহমদ কুস্তালানী (রহঃ) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ কিতাব মাওয়াহে লাদুনিয়ায় হযরত ইমাম জয়নাল আবেদীন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি তাঁর পিতা হযরত ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি তাঁর পিতা হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন,

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ” আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম সৃষ্টির ১৪০০০ বছর পূর্বে আল্লাহর নিকট নুর হিসাবে বিদ্যমান ছিলাম।”

[মাওয়াহেবে লাদুনিয়া, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৯; যুরকানী শরীফ, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৪৬; সিরাতে হালভিয়া, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা-৩৭, হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামিম, পৃষ্ঠা- ২৮, আনোয়ারে মুহাম্মদীয়া, পৃষ্ঠা- ০৯; ফতওয়ায়ে হাদিসিয়া, পৃষ্ঠা-৫১]

হাদিস :
عن حضرت ابي هريرت رضي الله عنه قال قال رسول صلي الله عليه
و سلم كنت اول النبين في الخلق واخرهم في البعث

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, সৃষ্ট জীবের মধ্যে আমি সর্বপ্রথম নবী হিসাবে সৃষ্টি হয়েছি। কিন্তু আমি প্রেরিত হয়েছি ( যমীনে প্রকাশ পেয়েছি) সব নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের শেষে।”

দলীল-
√ তাফসীরে বাগবী ৫/২০২
√ দূররে মানছুর ৫/১৮৪
√ শেফা ১/৪৬৬
√ মানাহিলুচ্ছফা ৫/৩৬
√ কানযুল উম্মাল ৩১৯১৬
√ দয়লামী ৪৮৫০

হাদিস
عن ابن اباس رضي الله عنهما انه قال قال رسول الله صلي عليه و سلم اتاني جبريل عليه السلام فقال يا رسول الله صلي عليه و سلم لولاك ما خلقت الجنة ولولاك ما خلقت النار

অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্নিত, নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আমার নিকট আগমন করে বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এই বলে পাঠিয়েছেন যে, আপনি যদি না হতেন তবে আমি জান্নাত ও জাহান্নাম কিছুই সৃষ্টি করতাম না। ”
সুত্র-
√ কানযুল উম্মাল- হাদীস ৩২০২২
√ দয়লামী শরীফ

এ প্রসঙ্গে অারেকটি হাদিস:
কোন এক সময় “হযরত রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম” হযরত জিব্রাঈল (আঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন ” হে ভাই জিব্রাইল! তোমার বয়স কত বৎসর হইয়াছে?”হযরত জিব্রাইল (আঃ) উত্তর করিলেন,” হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বয়স সম্পর্কে কিছুই বলিতে পারিনা। তবে আমি আপনাকে আমার বয়স সম্পর্কে এতটুকু তথ্য জানাইতে পারি যে, চতুর্থ আসমানে একটি উজ্জ্বল তারকা ছিল, উক্ত তারকাটি সত্তর হাজার বৎসর পর পর আসমানে একবার উদয় হইত। আমি উহাকে সত্তর হাজার বার উদয় হইতে দেখিয়াছি। এখন চিন্তা করুন আমার বয়স কত হইতে পারে ।”নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর এই উত্তর শুনিয়া ইরশাদকরিলেন “হে ভাই জিব্রাঈল! আমি আমার পরওয়ার দিগারের নামে শপথ করিয়া বলিতেছি যে, উক্তউজ্জ্বল তারকাটি আমিই ছিলাম।

(তাফসিরে রুহুল বায়ান প্রথম খন্ড ৯৭৪ পৃষ্টা,
ইমাম বুখারীর রহ: লিখিত তারিখ উল কাবির,
ইমাম অান নুবানি রহ: এর জাওয়াহিরুল নিহার কিতাব দৃষ্টাব্য)

নুর সম্পর্কিত
অারো অসংখ্য হাদিস শরীফ বিভিন্ন কিতাবে রয়েছে যা বাতিলরা একবাক্যে জাল বলে সরাসরি সহিহ হাদিসকে অস্বীকার করে!!
রাসুলে করিম (সাল্লাঅাল্লাহু অালাইহে ওয়াসাল্লাম) এর বানীকে মিথ্যা স্বাব্যস্ত করে!!!
তাদের অাল্লাহ হেদায়াত নসিব করুন!!