রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর:০২

Standard

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। ওহাবি মতবাদের আবির্ভাবের আগে ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো সংরক্ষিত ছিল। ইসলামে নবিয়্যে মুকাররাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী লিখিত আকারে সংরক্ষণ করা ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেমন আংটি মোবারক, জুতা মোবারক, মেসওয়াক মোবারক, তলোয়ার মোবারক, ঢাল মোবারক এমনকি রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব কূপ থেকে পানি খেয়েছেন সেই কূপগুলো পযর্ন্ত সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওহাবিদের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সেগুলোর খুব কমই এখন অবশিষ্ট রয়েছে। এসব কাজ যদি র্শিক হতো তাহলে নবিয়্যে মুকাররাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে সেসব করতে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। নবীজীর কাছ থেকে ফযিলত ও বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে জনগণ যে চেষ্টা চালিয়েছেন সে সম্পর্কে বহু হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজী এ কাজের বিরোধিতা করেছেন এরকম কোনো বর্ণনা নির্ভরযোগ্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। একইভাবে নবী-রাসূলসহ সালেহিনদের রওয়া পাক বা মাজারের প্রতি সম্মান দেখানোটাও ইসলামের একটি দ্বীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। কেননা ইসলামের মহান নবী এবং আল্লাহর অন্যান্য অলি-আওলিয়ারা হলেন আল্লাহর যমিনে তাঁরই সবর্ত্তম নিদর্শন, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উপায় হলো তাঁদের মাজার এবং কীর্তিগুলোকে সংরক্ষণ করা। নবী, রাসূল আর সালেহিনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা বা তাঁদের মাজার গুলোকে সংরক্ষণ করার মধ্য দিয়ে দ্বীনে ইসলামের প্রতি মুসলমানদের ভালোবাসাই প্রকাশ পায়। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর করা সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত, জায়েয ও সুন্নাত। কেননা পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে-وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا “যদি কখনও তারা নিজেদের আতœার প্রতি জুলুম করে হে মাহবুব আপনার দরবারে হাজির হয়। অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও দয়ালু পাবে।”(সূরা আন নিসা, আয়াত- ৬৪) جآءُوْكَ অর্থ: “হে মাহবুব আপনার দরবারে হাজির হয়” অর্থাৎ, হে আল্লাহর রাসূল আপনার মদিনা তাইয়্যেবায় হাজির হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আপনিও তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও দয়ালু পাবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” “مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ له شَفاعتي” হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহ তাআলা আনহুমা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার কবর শরীফ যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।“{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৯৪, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১০০৫৩, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৬৫, সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং-৩১১২, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪১৫৩) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ وَلَمْ يَزُرْنِي فَقَدْ جَفَانِي “যে ব্যক্তি হজ্ব করেছে, অথচ আমার যিয়ারত করেনি, সে আমার উপর জুলুম করল”। {হাশিয়ায়ে মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৯৪৭} অন্য বর্ণনায় এসেছে- عَنْ مَوْلَى حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ ، عَنْ حَاطِبٍ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ زَارَنِي بَعْدَ مَوْتِي ، فَكَأَنَّمَا زَارَنِي فِي حَيَاتِي ، وَمَنْ مَاتَ فِي أَحَدِ الْحَرَمَيْنِ بُعِثَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ الْآمِنِينَ ” . অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,“যে আমার ওফাতের পর আমার যেয়ারতে আসবে সে যেন আমার যাহেরী হায়াতেই যেয়ারত করতে আসল। যে দুই হেরমের যে কোন একটি মৃত্যুবরণ করবে কেয়ামত দিবসে সে নিরাপত্তা প্রাপ্তদের সাথে উত্থিত হবে। ” ( দারু ক্বুত্বনী, ২/২৭৮, হ- ১৯২, বায়হাক্বী, ৫/ ২৪৬, শিফাউস সিক্বাম: সুবক্বী- ২১, আল মুজালিসা ওয় জাওয়াহিরুল ইলম: আদ দায়নাওয়ারী, হা-১২৯) عن عمر رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : من زار قبري أو قال من زارني كنت له شفيعا أو شهيدا) البيهقي، السنن الكبرى ج৫: ص২৪৫- ورواه الإمام السبكي، في شفاء السقام: ২৯- والسمهودي، في وفاء الوفاج৪: ص১৩৪২. وقال: أخرجه الدار قطني في السنن.( “যে-কেউ যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে মদিনায় আসবে এবং আমাকে যিয়ারত করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার জন্যে শাফায়াত করবো এবং তার পক্ষ্যে সাক্ষ্য দেবো।”। {সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং-১০০৫৩, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪১৫৩, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৬৫} অন্য বর্ণনায় এসেছে- وعن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله: ্রمن زارني بالمدينة محتسباً كنت له شهيداً وشفيعاً يوم القيامة ) رواه الإمام السبكي في شفاء السقام بسنده إلى أنس بن مالك: ص৩৫- كما رواه السمهودي في وفاء الوفا عن ابن أبي الدنيا بسنده إلى أنس ج৪: ص১৩৪৫- ورواه العلامة الأميني عن واحد وعشرين مصدراً، الغدير ج৫: ص১০২و১০৩.( যে মদীনায় সাওয়াবের নিয়তে আমার যেয়ারতে আসল কিয়ামতের দিন আমি তার জন্যে শাফায়াত করবো এবং তার পক্ষ্যে সাক্ষ্য দেবো।”( সামহুদী, ৪/১৩৪৫, শিফাউস সিক্বাম-৩৫) অন্য বর্ণনায় এসেছে- قال الذهبي: لَمّا دخلَ عمر الشام سألهُ بلال أن يقرَّه به، ففعل ونزل داريًّا. ثُمَّ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وهو يقول له: ما هذه الجفوة يا بلال؟ ، أما آن لك أن تزورني، فانتبه حزينًا وركبَ راحلته وقصد المدينة، فأتى قبر النَّبِيّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ، فجعل يبكي عنده ويمرّغ وجهه عليه. فأقبلَ الحَسَن والحسين، فضمّهما وقبّلهما، فقالا: نشتهي أن نسْمع أذانك. ففعل، وعلا سطح المسجد، ووقَفَ موقفه الذي كان يقفُ فيه، فلمّا أن قال: اللَّه أكبر اللَّه أكبر ارتجّت المدينة. فلمّا أن قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ازدادت رجّتها، فلمّا أن قال: أشهدُ أنّ محمدا رسول اللَّه. خرج العواتق من خدورهنّ، وقيل: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فما رئي يوم أكثر باكيًا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ذلك اليوم) وقد أوردها الإمام المحدث الذهبي في تاريخ الإسلام (১৭/ ৬৭) الطبعة الثانية لدار الكتاب العربي، بيروت والتي حققها عمر عبد السلام التدمري، হযরত আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। …. একদা হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি বেলালকে বলছেন-হে বেলাল! একি অবিচার! এখনো কি সময় হয়নি যে, তুমি আমার যিয়ারতে আসবে? তারপর বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু চিন্তিত ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জাগ্রত হলেন। তিনি সওয়ারী নিয়ে মদীনা শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। অবশেষে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাওযা শরীফে এসে রোদন করতে থাকলেন এবং চেহারায় ধুলি মারতে লাগলেন। {যাহবী: তারিখুল ইসলাম, ১৭/৬৭, আসারুস সুনান-২৭৯} এখানে পরিস্কারভাবে পরিস্ফুটিত যে, হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সফর ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা শরীফ যিয়ারত। অন্য কিছু নয়। এ সকল হাদীস দ্বারা সুষ্পষ্টভাবে একথা প্রমাণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযায়ে আতহার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা সম্পূর্ণ জায়েজ। শুধু জায়েজই নয়, বরং উত্তমও। এক বছর মদিনায় প্রচ- খরা দেখা দিয়েছিল। আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা তখন জনগণকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা যেন এই খরা থেকে মুক্তি পাবার জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযায়ে আতহার যিয়ারতের করে। জনগণ তা-ই করে এবং সেই বছর ব্যাপক বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। য়ারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযায়ে আতহার যিয়ারতের উদ্দেশ্য সফর করা শিরক, জায়েজ নেই বলে তাদের দলিল ও তার জবাব: ———————————————————————– ১. য়ারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযায়ে আতহার যিয়ারতের উদ্দেশ্য সফর করা শিরক, জায়েজ নেই বলে তারা নিজেদের মতের পক্ষে নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা দলির পেশ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রلا تُشَدُّ الرِّحَالُ إلاَّ إلى ثَلاثَةِ مَسَاجِدَ: اَلْمَسْجِدِ الْحَرَام، وَمَسْجِدِيْ هَذَا، وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَىগ্ধ.‘তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে (অধিক সওয়াবের আশায়) সফর করা জায়েয নেই: মসজিদুল হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদুল আক্সা।’[বুখারী : ১১৩২, ১১৮৯, মুসলিম : ১৩৯৭, ৩৪৫০।] জবাব: ————— জমহুর ওলামায়ে কিরাম উক্ত হাদীসটির ক্ষেত্রে বলেন, এ হাদীস শরীফে অধিক সওয়াবের আশায় তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনও মসজিদে নামাযের উদ্দেশ্যে সফর করাকে নিষেধ করা হয়েছে, কেননা অন্যান্য সকল মসজিদে নামায পড়ার সাওয়াব সমান। কিন্তু এ তিন মসজিদে সওয়াব বেশি হওয়ায় এ মসজিদের উদ্দেশ্যে সফরের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ এ নয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না। রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা যিয়ারতের ক্ষেত্রে এ হাদীসে কিছুই বলা নেই। তাই তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করাকে নিষেধ করা হয়নি, যদি তাই হতো তা’হলে ব্যাবসা-বানিজ্য, চাকুরী-বাকুরী, চিকিৎসা, আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতসহ সবধরণের সফর নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, যা হাদীস শরীফের উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইবনে তাইমিয়া এ বিষয়ে বলেছেন, উক্ত হাদীসের আলোকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযায়ে আহতার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ নয়। ইবনে তাইমিয়া যে অর্থ করেছেন সে অর্থ অতিরঞ্জন, তা মেনে নিলে বলতে হবে-কোন আলেমের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে সফর করা, চিকিৎসার ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ নয়। অথচ একথা কি বলবেন? সারকথা হল- ——————- এ হাদীসে “মসজিদ” উদ্দেশ্য, রওযায়ে আহতার, কবর যেয়ারত উদ্দেশ্য নয়। এ বক্তব্যটির অনুকূলে মুসনাদে আহমাদে নিম্নোক্ত বর্ণাটি সমর্থন হিসেবে পাওয়া যায়। মুসনাদ-এ আহমদ এ হযরত শহর ইবনু হাওশাব রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ وَذَكَرَ عِنْدَهُ الصَّلَاةَ فِي الطُّورِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا ينبغي للمصلي أن يشد رحاله إِلَى مَسْجِدٍ تُبْتَغَى فِيهِ الصَّلَاةُ غَيْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى وَمَسْجِدِي (وَشَهْرٌ حَسَنُ الْحَدِيثِ. أخرجه أحمد في المسند (৩ / ৬৪، ৯৩) واللفظ له، وأبو يعلى في مسنده (২ / ৪৮৯. الزيارة النبوية في ضوء الكتاب والسنة لفضيلة الدكتور محمد علوي المالكي (صـ ৮৩ ) “কোনও মুসল্লীর জন্য নামাযের আদায়ের লক্ষে তিনটি মসজিদ তথা মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আক্সা ও আমার এ মসজিদ ব্যতিরেকে অন্য কোনও মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা উচিৎ নয়। (মুসনাদ-এ আহমদ, খ-৩, পৃ-৬৪, হাদীস নং-১১৬০৯, মুসনাদ-এ আবু ইয়ালা খ-২, পৃ-৪৮৯) আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমাতুল্লাহইি আলাইহি তাঁর প্রণীত বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্ত উমদাতুল কারীর ৩ নং খন্ডে এবং ইবনে হাজার আসকালানী রহমাতুল্লাহইি আলাইহি তাঁর প্রণীত ফাতহুল বারীর ৩ নং খন্ডে এ হাদীস দ্বারা জমহুরের মতের পক্ষে দলীল পেশ করেছেন। ২. তারা নিজেদের মতের পক্ষে নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা দলির পেশ করে বলে: হাদিসটি প্রমাণ করে, রওযায়ে আহতার, ও কবর যেয়ারতের উদ্দেশ্যে গমন হারাম। হাদিসে আছেÍ عن أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا ، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا ، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ “হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, তোমরা আমার রওযাকে ঈদগাহ বানিয়ো না, আমার উদ্দেশ্যে দরুদ পাঠ কর, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে”।( সুনান এ আবু দাউদ, হা-২০৪২) জবাব: ———– “তোমরা আমার রওযাকে ঈদগাহ বানিয়ো না” অর্থাৎ, মানুষ যেভাবে বছরে একটি মাত্র দিনে ঈদগাহে গমন করে, আমার রওযার সাথেও তেমন আচরণ করো না। Ÿরং সদা সর্Ÿদা যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে মদিনায় আসবে এবং আমার যিয়ারত করবে, বছরে এক দিন নয়। ৩. হাদিসে এসেছে: وعن عطاءٍ عن النبي صلى الله عليه وسلم- قال: اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ “হযরত আতা বিন য়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, হে আল্লাহ! আমার কবরকে পুজনীয় মূর্তির মত বানাবেন না। আল্লাহর ক্রোধ তাদের উপর প্রবল হয়েছে, যারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। (মুয়াত্তা মালিক, ১/১৭২, হা-৪১৪) ৪. হাদিসে এসেছে: عن عائشة رضي الله عنها قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ: لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ . قَالَتْ : وَلَوْلا ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ غَيْرَ أَنَّهُ خُشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا . “হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযাসাল্লাম রোগশয্যায় যে রোগশয্যা হতে তিনি আর উঠে দাঁড়াননি, এরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা ইহুদি ও নাসারাদের লা’নত দিয়েছেন তারা তাদের নবীর কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। (বোখারি,১/১৬৮, হা-৪২৫, মুসলিম, ১/৩৭৭, হা-৫৩১) জবাব: —————— অর্থাৎ কবরকে মসজিদ বানিয়ে মসজিদের ন্যয় কবরকে সাজদা করা; এর ফলে তা কবর থাকে নি, বরং তা পরিণত হয় পূজনীয় মূর্তিতে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। হারাম কাজের জন্য সফর করা হারাম। জায়েজ কাজের জন্য জায়েজ, সুন্নাত কাজের জন্য সুন্নাত এবং ফরজ কাজের জন্য ফরজ । যেমন ফরজ হজ্বের জন্য সফর করাও ফরজ । জিহাদ ও বাণ্যিজের জন্য সফর করা সুন্নাত কেননা এ কাজ সুন্নাত। হুযূর আলাইহিস সালামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর করা সুন্নাত কেননা এ যিয়ারত সুন্নাত। বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাত আতœীয়-স্বজনের বিবাহ শাদী খতনা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের যোগদান এবং চিকিৎসার জন্য সফর করা জায়েয। কেননা এগুলো জায়েয কাজ। চুরি-ডাকাতির জন্য সফর করা হারাম । মোট কথা হলো, সফরের হুকুমটা জানতে হলে, প্রথমে এর মকসুদটা জেনে নিতে হবে । মুলত: ————– কবর যিয়ারত হচ্ছে সুন্নাত । সুতরাং কবর যিয়ারতে জন্য সফর করাটাও সুন্নাত বলে বিবেচ্য হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, فزُورُوا القُبُورَ، فإنها تُذكِّرُ الموتَ“তোমরা কবর জিয়ারত কর, কারণ তা তোমাদের আখেরাত স্বরণ করিয়ে দেয়।”(ইবনু মাজা, ১/১১৩, হা-১৫৬৯) কঠিন হৃদয়গুলোর জন্যে কবর যিয়ারত হচ্ছে শ্রেষ্ঠতম ঔষধ। কারণ যিয়ারত তাদেরকে আখেরাত এবং মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে আর মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ হলে দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়া হ্রাস পাবে এবং দুনিয়ায় থাকার আগ্রহ কমে যাবে। যিয়ারতকারীর জন্য কবর যিয়ারত উপদেশ ও নসীহত স্বরূপ। এর ফলে মৃত্যুর কথা স্বরণ করা হয়, যা সৎকর্মের জন্য সহায়ক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَزُورُوهَا، فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ، وفي رواية تُذَكِّرُ الآخِرَةَ “আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, তবে এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কেননা তা তোমাদের আখেরাত স্বরণ করিয়ে দেয়।” (মুসলিম, ২/১৭১. হা-১০৫) যিয়ারতের উদ্দেশ্য: ——————– হযরত ইবনে মাসউদ এবং আবু হুরাইরার হাদীস দ্বারা যিয়ারতের অন্যতম উদ্দেশ্য বুঝা যায়। ক. কবর যিয়ারতের দ্বারা দুনিয়ার আকর্ষণ কমে, কেননা তখন যিয়ারতকারী মনে করে একদিন আমাকেও দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে স্থায়ী বসত বাড়ী কবরে আসতে হবে। এই চিন্তা ভাবনা দুনিয়ার স্বাদকে মিটায়। খ. আখেরাতের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। আখেরাত মানুষের জন্য চিরস্থায়ী অবস্থান স্থল, দুনিয়া সহায় সম্পদ কোন কিছুই সাথে যাবে না, খালি হাতে একা সেখানে যেতে হবে। যারা নেক কর্ম করে এবং নেক আমলের অধিকারী, কেবল তারাই সেখানে চিরস্থায়ী সুখী হবে। তারা জান্নাতের অতুলনীয় সুখ শান্তি উপভোগ করতে পারবে। এরূপ অনুভূতি মানুষকে আখেরাতের আমল এবং আখেরাতমুখী করে তোলে। অনেক হাদিস গ্রন্থে এসেছে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মা আমেনা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহার কবর যিয়ারত করতে গিয়ে কান্নাকাটি করতেন। আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করে নিজেও কেঁদেছেন এবং অন্যদেরকেও কাদিয়েঁছেন, তারপর বলেছেন… “কবরগুলোকে যিয়ারত করবে, কেননা কবর যিয়ারত করলে মৃত্যুর কথা মনে পড়ে।” আওলিয়ায়ে কেরামের মাযার যেয়ারত: ——————————————— হাজত বা মনষ্কামনা পূরণার্থে বিভিন্ন মাযারে বা আল্লাহ মাহবুব বান্দাদের দরবারে যাওয়ার বাস্তব প্রমাণ কিতাবে রয়েছে। যেমন ফতওয়ায়ে শামী প্রথম খন্ড যিয়ারতে কুবুর’ শীর্ষক আলোচনায় উল্লেখিত আছে – ইমাম গাযযালী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: وَاَمَّا الْاَوْلِيَاءُ فَاِنَّهُمْ مُتَفاوِتُوْنَ فِى القُرْبِ اِلَى اللهِ وَنَفَعِ الزئريْنَ بِحَسْبِ مَعَارِفِهِمْ وَاَسْرَارِهِمْ. “কিন্তু আল্লাহর ওলীগন আল্লাহর নৈকট্য লাভে ও যিয়ারতকারীদের ফায়দা পৌছানোর বেলায় নিজেদের প্রসিদ্ধি ও আধ্যাতিœক শক্তি অনুসারে ভিন্নতর । (ফাতওয়া ইমাম ইবন হাজর আল আসক্বালানী, ২/২৪) ফতুওয়ায়ে শামীর ভূমিকায় ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহির ফযিলত বর্ণনা প্রসংগে ইমাম শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তিটি উল্লেখ করা হয়েছ ।– ইমাম শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- اِنِّىْ لَا تَبَرَّكُ بِاَبِىْ حَنِيْفَةَ وَاَجِئُ اِلَى قَبْرِهِ فَاذَا عَرَضَتْ لِىْ حَاجَّةٌ صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَسَالْتَ اللهِ عِنْدَ قَبْرِهِ فَتُقْضَى سَرِيْعًا. আমি ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বরকত হাসিল করি এবং তাঁর মাযারে আসি। আমার কোন সমস্যা দেখা দিলে, প্রথমে দু’রাকাত নামায পড়ি। অতঃপর তাঁর মাযারে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তখন সহসা আমার সমস্যার সমাধান হয়ে যায় । (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, ইমাম ইবনে আবেদীন শামী রাহ।) হিজরতের পূর্বে মেরাজ পথে মদিনা তাইয়্যেবায়, সিনাই পর্বতে ও বেথেলহামে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়েছেন: عن أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ: أُتِيتُ بِدَابَّةٍ فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ الْبَغْلِ خَطْوُهَا عِنْدَ مُنْتَهَى طَرْفِهَا ، فَرَكِبْتُ وَمَعِى جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ، فَسِرْتُ ، فَقَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ ، فَفَعَلْتُ .فَقَالَ: أَتَدْرِى أَيْنَ صَلَّيْتَ ؟ صَلَّيْتَ بِطَيْبَةَ وَإِلَيْهَا الْمُهَاجَرُ. ثُمَّ قَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ ، فَصَلَّيْتُ ، فَقَالَ: أَتَدْرِى أَيْنَ صَلَّيْتَ؟ صَلَّيْتَ بِطُورِ سَيْنَاءَ حَيْثُ كَلَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ. ثُمَّ قَالَ: انْزِلْ فَصَلِّ ، فَنَزَلْتُ فَصَلَّيْتُ ، فَقَالَ: أَتَدْرِى أَيْنَ صَلَّيْتَ؟ صَلَّيْتَ بِبَيْتِ لَحْمٍ حَيْثُ وُلِدَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ. “মদিনা তাইয়্যেবায় নামায পড়েছেন কেননা সেটা ছিল আপনার হিজরতের স্থান, সিনাই পর্বতে নামায পড়েছেন কেননা সেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হযরত মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন, আর বেথেলহামে নামায পড়েছেন কেননা তা ছিল মারিয়াম আলাইহাস সালামের পুত্র হযরত ইসা আলাইহিস সালামের জন্মস্থান।” (নাসায়ী,হা- ৫৫০) উপরোক্ত বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় জানা গেল-কবর যিয়ারতের জন্য সফর- কেননা ইমাম শাফেঈ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজের জন্ম ভূমি ফিলিস্তিন থেকে ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মাযার যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সুদূর বাগদাদ শরীফ আসতেন, কবরবাসীদের থেকে বরকত গ্রহণ, ওনাদের মাযারের কাছে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং কবরবাসীদের অভাব পূর্ণ করার মাধ্যম মনে করতেন। সুতরাং অসংখ্য দলীলের মাধ্যমে প্রমানিত হলো আল্লাহর নেক বান্দাদের রওযাতে যাওয়া শুধু জায়েয নয়, বরং প্রখ্যাত ইমামদের অনুসৃত নীতিও বটে। (কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, রদ্দুল মুহতার, ফতোয়ায়ে আজীজিয়া, বুযুর্গ কে আকীদা।) বিবেকও বলে যে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর জায়েয। কেননা আমি ইতি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে সফর হালাল বা হারাম হওয়াটা এর মকসুদ থেকেই বোঝা যায়। এ সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে কবর যিয়ারত যা নিষেধ নয়, কেননা যিয়ারতে কবর সাধারণভাবেই অনুমোতিত الَافَزُوْرَوْهَا তাহলে সফর কেন হারাম হবে? অধিকন্তু দ্বীনি ও দুনিয়াবী কাজ কারবারের জন্য সফর করা হয় । এটাও একটি দ্বীনি কাজের জন্য সফর হেতু হারাম কেন হবে? (-সুত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-) নিঃসন্দেহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা অবশ্যই জায়েজ। কথিত আহলে হাদীস এবং ইবনে তাইমিয়া ছাড়া রওযা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে উম্মতের মাঝে কোন মতবিরোধ নেই। সর্বসম্মত মতে তা জায়েজ। রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের কিংবা আল্লাহর নেক বান্দাদের রওযাতে যিয়ারতকালে যিয়ারতকারীগণ প্রকৃতপক্ষে তাদেঁর সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যে, জীবনে তাদেঁর প্রদর্শিত পথ ছাড়া আর কোনো পথে পা বাড়াবেন না। আল্লাহ তায়ালা যাকে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন তাঁর প্রতি সম্মান দেখানোটা বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকেও যুক্তিযুক্ত এবং পূণ্যময়, আর যিয়ারত করা এক ধরনের সম্মান প্রদর্শনেরই নামান্তর মাত্র। এইসব বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় কবর যিয়ারত করাটা কেবল বৈধই নয় বরং নবীজীর একটি সুন্নাতও বটে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্নিত রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস আছে – مَا رَآهُ الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ حَسَنٌ “মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন -তা আল্লাহর নিকট ও পছন্দনীয় “। ( মুসনাদ এ আহমদ, ১/৩৭৯. হা-৩৬০০ )। তাই উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন । عَنْ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي عَلَى ضَلَالَةٍ ، وَيَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ ” আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না ” ( তিরমিযী, হা-২১৬৭, আবু দাউদ, হা- ৪২৫৩) ইমাম বুসেরী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘কাসীদাতুল বুরদা’তে বলেন: فإنَّ من جودك الدنيا وضرَّتها + ومن علومك علم اللوح والقلمِ হে নবী! আপনার দয়া থেকেই দুনিয়া ও আখেরাত সৃষ্ঠি হয়েছে। আর আপনার জ্ঞান থেকেই লাওহে মাহফুয ও কলমের জ্ঞান উদ্ভাসিত হয়েছে। (বুসেরী: কাসীদাতুল বুরদা) يا أكرم الخلق ما لي من ألوذ به + سواك عند حلول الحوادث العمم “হে সৃষ্টির সেরা সম্মানিত! আমার জন্য কে আছে আপনি ব্যতীত, যার কাছে আমি কঠিন বালা মসীবতে আশ্রয় প্রার্থনা করবো?” (বুসেরী: কাসীদাতুল বুরদা) মসজিদে নববীতে প্রবেশের আদব ———————————- আবাসস্থল থেকে উযূ-গোসল সেরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ধীরে-সুস্থে মসজিদে নববী শরীফের উদ্দেশ্যে গমন করবেন। আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশ করবেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করবেন। নিচের দো‘আ পড়তে পড়তে ডান পা দিয়ে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করবেন : ্রبِسْمِ اللهِ وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلى رَسُوْلِ اللهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذُنُوْبِيْ، وَافْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَগ্ধ. (বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনূবী ওয়াফ-তাহলী আবওয়াবা রহমাতিকা)।‘আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। সালাত ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।’[ইবন মাজাহ্ : ৭৭১।] পাশাপাশি এ দো‘আও পড়তে পারেন, ্রأَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِগ্ধ (আউযুবিল্লাহিল আযীম ওয়া বি ওয়াজহিহিল কারীম ওয়া সুলতানিহিল কাদীমি মিনাশ শায়তানির রাজীম।)‘আমি মহান আল্লাহর, তাঁর সম্মানিত যাতে পাকের এবং তাঁর চিরন্তন কর্তৃত্বের মাধ্যমে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’[আবূ দাউদ : ৪৬৬।] অতপর যদি কোন ফরয নামাজের জামাত দাঁড়িয়ে যায় তবে সরাসরি জামাতে অংশ নিন। নয়তো বসার আগেই দু’রাক‘আত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়বেন। হযরত আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রإِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِগ্ধ.‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, সে যেন দু’রাক‘আত নামাজ পড়ে তবেই বসে।’[বুখারী : ৪৪৪; মুসলিম : ১৬৫৪।] আর সম্ভব হলে ফযীলত অর্জনের উদ্দেশ্যে রাওযা শরীফে মিম্বর শরীফের সীমানার মধ্যে এই নামায পড়বেন। কারণ হযরত আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রمَا بَينَ بَيْتِيْ ومِنْبَرِيْ رَوضَةٌ مِن رِيَاضِ الجَنَّةٍগ্ধ ‘আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মাঝখানের অংশটুকু রওযাতুন মিন রিয়াদিল জান্নাত (জান্নাতের উদ্যানসমুহের একটি উদ্যান)।’[বুখারী : ১১২০; মুসলিম : ২৪৬৩।] আর সম্ভব না হলে মসজিদে নববী শরীফের যেখানে সম্ভব সেভাবেই পড়বেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মসজিদের এ অংশকে অন্যান্য অংশ থেকে পৃথক গুণে গুণান্বিত করা দ্বারা এ অংশের আলাদা ফযীলত ও বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করছে। আর সে শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযীলত অর্জিত হবে কাউকে কষ্ট না দিয়ে সেখানে নফল নামায আদায় করা, আল্লাহর যিক্র করা, কুরআন তিলাওয়াত ও অধিকহারে দুরূদ শরীফ পাঠ করা দ্বারা। ফরয নামায প্রথম কাতারগুলোতে পড়া উত্তম; কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রخَيْرُ صُفُوْفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَاগ্ধ. ‘পুরুষদের সবচেয়ে উত্তম কাতার হলো প্রথমটি, আর সবচেয়ে খারাপ কাতার হলো শেষটি।’[মুসলিম : ১০১৩।] , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেন, ্রلَوْ يَعْلَمُ النّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَولِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوْا إلا أَن يَّسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوْا عَلَيْهِগ্ধ. ‘মানুষ যদি আযান ও প্রথম কাতারের ফযীলত জানত, তারপর লটারি করা ছাড়া তা পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকত, তাহলে অবশ্যই তারা তার জন্য লটারি করত।’[বুখারী : ৬১৫; মুসলিম : ৯৮১।] সুতরাং এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, মসজিদে নববী শরীফে নফল সালাতের উত্তম জায়গা হলো রাওযাতুম মিন রিয়াযুল জান্নাত। আর ফরয নামাজের জন্য উত্তম জায়গা হলো প্রথম কাতার তারপর তার নিকটস্থ কাতার। মদীনা মুনাওয়ারার অন্যান্য বরকতময় স্থান সমূহের যেয়ারত: ১. জান্নাতুল বাকী’ বা বাকী‘র মাযারসমূহ। ২. মসজিদে কুবা’ ৩. শুহাদায়ে উহুদের মাযার জান্নাতুল বাকী’ বা বাকী‘র মাযারসমূহ: ————————————— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে বাকী‘ মদীনা শরীফবাসীর প্রধান কবরস্থান। এটি মসজিদে নববী শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। মদীনা শরীফে মৃত্যু বরণকারী হাজার হাজার ব্যক্তির কবর রয়েছে এখানে। এদের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অধিবাসী এবং বাইরে থেকে আগত যিয়ারতকারীগণ। এখানে প্রায় দশ হাজার সাহাবায়ে কেরামের মাযার শরীফ রয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন হযরত খাদীজা ও হযরত মায়মূনা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাকী স্ত্রীবর্গের মাযার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা, পুত্র হযরত ইবরাহীম রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু, চাচা হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু, ফুফু হযরত সাফিয়্যা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা, নাতী হযরত ইমাম হাসান ইবন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা এবং জামাতা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়াও অনেক মহান ব্যক্তিবর্গ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই বাকী‘র মাযারসমূহের যিয়ারত করতেন। সেখানে তিনি বলতেন, ্রالسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَأَتَاكُمْ مَا تُوعَدُونَ غَدًا مُؤَجَّلُونَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأَهْلِ بَقِيعِ الْغَرْقَدগ্ধ (আস্সালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মু’মিনীন ওয়া আতাকুম মা তুআ‘দুনা গাদান মুআজ্জালুনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকূন, আল্লাহুম্মাগ ফির লিআহলি বাকী‘ইর গারকাদ।) ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে মু’মিনদের চিরস্থায়ী ঘরে অবস্থানকারীগন, তোমাদেরকে যা ওয়াদা করা হয়েছিল তা তোমাদের কাছে এসেছে। আর আগামীকাল (কিয়ামত) পর্যন্ত তোমাদের সময় বর্ধিত করা হল। ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে আমরাও মিলিত হব। হে আল্লাহ, বাকী‘ গারকাদের অধিবাসীদের ক্ষমা করুন।’[মুসলিম : ৯৭৪; ইবন হিববান : ৩১৭২।] তাছাড়া কোন কোন হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা‘আলা বাকী‘উল গারকাদে যাদের দাফন করা হয়েছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘আমার কাছে জিবরীল এসেছিলেন …তিনি বললেন, ্রإِنَّ رَبَّكَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَأْتِىَ أَهْلَ الْبَقِيعِ فَتَسْتَغْفِرَ لَهُمْগ্ধ ‘আপনার রব আপনাকে বাকী‘র কবরস্থানে যেতে এবং তাদের জন্য দো‘আ করতে বলেছেন।’ হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কীভাবে তাদের জন্য দো‘আ করবো? তিনি বললেন, তুমি বলবে, ্রالسَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَيَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّاوَالْمُسْتَأْخِرِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلاَحِقُونَগ্ধ. (আসসালামু আ‘লা আহলিদ দিয়ারি মিনাল মু’মিনীন ওয়াল মুসলিমীন ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুসতাকদিমীন মিন্না ওয়াল মুসতা’খিরীন ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লালাহিকূন।) ‘মুমিন-মুসলিম বাসিন্দাদের ওপর সালাম। আল্লাহ আমাদের পূর্ব ও পরবর্তী সবার ওপর রহম করুন। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হব।’[মুসলিম : ৯৭৪; নাসাঈ : ২০৩৯।] মসজিদে কুবা’: ——————- ম

Advertisements

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের রওযা পাক যিয়ারতের উদ্দ্যেশ সফর: ০১

Standard

সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী খতিব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ, নন্দনকানন, চট্টগ্রাম। সহকারী অধ্যাপক, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। পবিত্র মক্কার ন্যায় মদীনা শরীফও পবিত্র ও সম্মানিত শহর, ওহী নাযিল হওয়ার স্থান। কুরআনুল কারীমের অর্ধেক নাযিল হয়েছে মদীনা শরীফে। মদীনা শরীফ ইসলামের প্রাণকেন্দ্র, ঈমানের আশ্রয়স্থল, মুহাজির ও আনসারদের মিলনভূমি। মুসলমানদের প্রথম রাজধানী। এখান থেকেই আল্লাহর পথে জিহাদের পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল, আর এখান থেকেই হিদায়াতের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটেছে, ফলে আলোকিত হয়েছে সারা বিশ্ব। এখান থেকে সত্যের পতাকাবাহী মু’মিনগণ সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিলেন দ্বীনের বারতা নিয়ে। তাঁরা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ডেকেছেন। নবীজীর শেষ দশ বছরের জীবন যাপন, তাঁর ওফাত ও কাফন-দাফন এ ভূমিতেই হয়েছে। এ ভূমিতেই তিনি শায়িত আছেন। এখান থেকেই তিনি পুনরুত্থিত হবেন। নবীদের মধ্যে একমাত্র তাঁর কবর শরীফই সুনির্ধারিত রয়েছে। তাই মদীনা শরীফের যিয়ারত আমাদেরকে ইসলামের সোনালী ইতিহাসের দিকে ফিরে যেতে সাহায্য করে। সুদৃঢ় করে আমাদের ঈমান-আকীদার ভিত্তি। তাই ইসলামি নিদর্শনাবলীর একটি বড় নিদর্শন হলো “মদিনা শরীফ”, যার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা প্রত্যেক ঈমানদারের অন্তরের কাজ। ইসলামের নিদর্শনগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো ও সেগুলোকে সংরক্ষণ করা মহান আল্লাহরই নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ “যে আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনাবলীকে সম্মান করবে সে যেন তার আন্তরিক তাকওয়ারই বহিপ্রকাশ ঘটালো।” (সূরা হাজ্ব:৩২) যেমনিভাবে সাফা, মারওয়া, মাশআর, মিনা এবং হজ্জের সামগ্রিক আনুষ্ঠানিকতা সবই ঐশী নিদর্শন হিসেবে পরিগণিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَآئِرِ اللّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَن تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ “নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর অন্যতম। সুতরাং যারা কা’বা ঘরে হজ্ব বা ওমরাহ পালন করে, তাদের পক্ষে এ দ’ুটিতে প্রদক্ষিণ করাতে কোন দোষ নেই। বরং কেউ যদি স্বেচ্ছায় কিছু নেকীর কাজ করে, তবে আল্লাহ তা’আলার অবশ্যই তা অবগত এবং তার সে আমলের সঠিক মুল্য দেবেন।” (বাক্বারা-১৫৮) অনুরূপভাবে মদিনা মুনাওয়ারাও ইসলামের নিদর্শনাবলীর একটি বড় নিদর্শন যাকে সম্মান প্রদর্শন করা ঈমান ও তাকওয়ার পরিচায়ক। রাসূলে খোদার সময়ে সাহাবায়ে কেরামগণ নবীজী এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্যাদির ও বিচিত্র বস্তুকে তাবাররুক হিসেবে গ্রহণ করার জন্যে উদগ্রিব থাকতেন। তাঁর ব্যবহৃত জিনিস-পত্রকে তাঁরা অত্যন্ত পবিত্র মনে করে সেগুলোকে পবিত্র উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতেন। নবীজীও কখনো সাহাবাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করেন নি। ثُمَّ إِنَّ عُرْوَةَ جَعَلَ يَرْمُقُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِعَيْنَيْهِ‏.‏ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا تَنَخَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُخَامَةً إِلاَّ وَقَعَتْ فِي كَفِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَدَلَكَ بِهَا وَجْهَهُ وَجِلْدَهُ، وَإِذَا أَمَرَهُمُ ابْتَدَرُوا أَمْرَهُ، وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ، وَإِذَا تَكَلَّمَ خَفَضُوا أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَهُ، وَمَا يُحِدُّونَ إِلَيْهِ النَّظَرَ تَعْظِيمًا لَهُ، فَرَجَعَ عُرْوَةُ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَقَالَ أَىْ قَوْمِ، وَاللَّهِ لَقَدْ وَفَدْتُ عَلَى الْمُلُوكِ، وَوَفَدْتُ عَلَى قَيْصَرَ وَكِسْرَى وَالنَّجَاشِيِّ وَاللَّهِ إِنْ رَأَيْتُ مَلِكًا قَطُّ، يُعَظِّمُهُ أَصْحَابُهُ مَا يُعَظِّمُ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مُحَمَّدًا، وَاللَّهِ إِنْ تَنَخَّمَ نُخَامَةً إِلاَّ وَقَعَتْ فِي كَفِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ، فَدَلَكَ بِهَا وَجْهَهُ وَجِلْدَهُ، وَإِذَا أَمَرَهُمُ ابْتَدَرُوا أَمْرَهُ وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ، وَإِذَا تَكَلَّمَ خَفَضُوا أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَهُ، وَمَا يُحِدُّونَ إِلَيْهِ النَّظَرَ تَعْظِيمًا لَهُ، অতঃপর ‘উরওয়াহ চোখের কোণ দিয়ে সাহাবীদের দিকে তাকাতে লাগল। সে বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো থুথু ফেললে তা সাহাবীদের হাতে পড়তো এবং তা তারা গায়ে মুখে মেখে ফেলতেন। তিনি তাঁদের কোন আদেশ দিলে তা তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পালন করতেন। তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানির জন্য তাঁর সাহাবীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হত। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তাঁরা নীরবে তা শুনতেন এবং তাঁর সম্মানার্থে সাহাবীগণ তাঁর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন না। অতঃপর ‘উরওয়াহ তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে গেল এবং বলল, হে আমার কওম, আল্লাহর কসম! আমি অনেক রাজা-বাদশাহর দরবারে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কায়সার, কিসরা ও নাজাশী সম্রাটের দরবারে দূত হিসেবে গিয়েছি; কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলতে পারি যে, কোন রাজা বাদশাহকেই তার অনুসারীদের মত এত সম্মান করতে দেখিনি, যেমন মুহাম্মাদের অনুসারীরা তাঁকে করে থাকে। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি থুথু ফেলেন, তখন তা কোন সাহাবীর হাতে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে তারা তা তাদের গায়ে মুখে মেখে ফেলেন। তিনি কোন আদেশ দিলে তারা তা সঙ্গে সঙ্গে পালন করেন; তিনি ওযু করলে তাঁর ওযুর পানি নিয়ে সাহাবীগণের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়; তিনি কথা বললে, সাহাবীগণ নিশ্চুপ হয়ে শুনেন। এমনকি তাঁর সম্মানার্থে তারা তাঁর চেহারার দিকেও তাকান না। (বুখারী-২৭৩১, ২৭৩২) হজ্বের সময় রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁর চুল মোবারক কাটতেন, সাহাবাগণ তখন নবীজীর কর্তিত চুল মোবারকগুলো জমা করতেন পবিত্রতা ও বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে। একইভাবে নবীজী যখন কোনো পানির মশকের মুখ দিয়ে পানি পান করতেন সাহাবিগণ ঐ মশকের মুখ কেটে নিতেন বরকতের উদ্দেশ্যে। তাই মদিনা শরিফের মাটি, ধুলো-বালি এমনকি ফল-ফলাদি অন্য কোন মাটি, ধুলো-বালি ও ফল-ফলাদিও সাথে তুলনা হয় না। মদিনা শরিফের মাটি, ধুলো-বালি হলো জ্বর, কুষ্ঠ রোগ ও শ্বেত রোগের জন্যে শিফা। وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيِّ – صلى الله عليه وسلم – كَانَ يَقُولُ لِلمَرِيضِ: ” بِسْمِ اللهِ تربَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى سَقِيمُنَا، بإِذْنِ رَبِّنَا “. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট আশা রোগীদের চিকিৎসা করতেন এভাবে: “বিসমিল্লাহ, আমাদের এ মাটি আমাদের কারও লালার সাথে মিশ্রিত করে রোগীর জণ্য ব্যবহার করলে আমাদের রোগীরা আরোগ্য লাভ করবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়।”( বোখারী, ১১২৪) যেহেতু মদিনা মুনাওয়ারা আল্লাহর কাছে সম্মানিত হারাম হিসেবে পরিগণিত এবং সুন্নাতে নববীতেও মদিনা শরিফ, সেখানকার মাটি এবং বাসিন্দারা এমনকি সেখানে যাদেঁরকে দাফন করা হয়েছে তাঁদেরকে অনেক উচ্চ ফযিলত সম্পন্ন বলে মূল্যায়ন করা হয়। তাই মদীনা শরীফ যিয়ারত যদিও হজের কোন অংশ নয়, কিন্তু অতীব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও পরম সৌভাগ্যের বিষয়। মদীনা শরীফের সীমানা: —————————— পবিত্র মক্কার ন্যায় এ বরকতময় মদীনা শরীফ নগরীকেও হারাম অর্থাৎ সম্মানিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কা মুকাররমাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি তাকে সম্মানিত করেছেন। আর আমি এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত মদীনা শরীফকে হারাম ঘোষণা করলাম।’[মুসলিম : ২/১০০১।] হারামের সীমারেখা হচ্ছে, উত্তরে লম্বায় উহুদ পাহাড়ের পেছনে সাওর পাহাড় থেকে দক্ষিণে আইর পাহাড় পর্যন্ত। পূর্বে হার্রা ওয়াকিম অর্থাৎ কালো পাথর বিশিষ্ট এলাকা থেকে পশ্চিমে হার্রা আল-ওয়াবরা অর্থাৎ কালো পাথর বিশিষ্ট এলাকা পর্যন্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, اَلْمَدِيْنَةُ حَرَمٌ ما بَيْنَ عَيْرٍ إلى ثَوْرٍ ‘মদীনা শরীফের ‘আইর’ থেকে ‘সাওর’-এর মধ্যবর্তী স্থানটুকু হারাম।’[বুখারী : ৬২৫৮; মুসলিম : ২৪৩৩।] নবীজীর সাথে সম্পর্কের কারণে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান মদিনা মুনাওয়ারা আল্লাহর দরবারে খুবই ঘনিষ্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেন, ্রإِنِّى أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لاَبَتَىِ الْمَدِينَةِ أَنْ يُقْطَعَ عِضَاهُهَا أَوْ يُقْتَلَ صَيْدُهَاগ্ধ.‘আমি মদীনা শরীফের দুই হাররা বা কালো পাথর বিশিষ্ট যমীনের মাঝখানের অংশটুকু হারাম তথা সম্মানিত বলে ঘোষণা দিচ্ছি। এর কোন গাছ কাটা যাবে না বা কোন শিকারী জন্তু হত্যা করা যাবে না।’[মুসলিম : ২৪২৫।] সুতরাং মদীনা শরীফও নিরাপদ শহর। এখানে রক্তপাত বৈধ নয়। বৈধ নয় শিকার করা বা গাছ কাটা। এ শহর সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদীসে এরশাদ করেন, ্রلاَ يُهَرَاقَ فِيهَا دَمٌ وَلاَ يُحْمَلَ فِيهَا سِلاَحٌ لِقِتَالٍ وَلاَ يُخْبَطَ فِيهَا شَجَرَةٌ إِلاَّ لِعَلْفٍগ্ধ.‘এখানে রক্তপাত করা যাবে না। এখানে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা যাবে না। ঘাস সংগ্রহের জন্য ছাড়া কোন গাছও কাটা যাবে না।’[মুসলিম : ২/১০০১।] মদীনা শরীফের ফযীলত ————————– মদীনাতুর রাসূলের ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত আছে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হল : ১. মক্কার ন্যায় মদীনা শরীফও পবিত্র নগরী। মদীনা শরীফও নিরাপদ শহর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন,্রإِنَّ إِبْرَاهِيْمَ حَرَّم مَكَّةَ، وإنّيْ حَرَّمْتُ الْمَدِيْنَةَগ্ধ ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কা মুকাররমাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি তাকে সম্মানিত করেছেন। আর আমি এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত মদীনা শরীফকে হারাম ঘোষণা করলাম।’[মুসলিম : ২/১০০১।] ২. হযরত আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রإِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لأَهْلِهَا وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ كَمَا حَرَّمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ وَإِنِّى دَعَوْتُ فِى صَاعِهَا وَمُدِّهَا بِمِثْلَىْ مَا دَعَا بِهِ إِبْرَاهِيمُ لأَهْلِ مَكَّةَগ্ধ. ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বাসিন্দাদের জন্য দো‘আ করেছেন। যেমনিভাবে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন, আমিও তেমন মদীনা শরীফকে হারাম ঘোষণা করেছি। আমি মদীনা শরীফের সা’ ও মুদ-এ বরকতের দো‘আ করেছি যেমন মক্কার বাসিন্দাদের জন্য হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দো‘আ করেছেন।’[বুখারী : ২১২৯; মুসলিম : ১৩৬০। সা‘ ও মুদ দু’টি পরিমাপের পাত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে দু‘আ করেছেন যেন তাতে বরকত হয় এবং তা দিয়ে যেসব বস্তু ওযন করা হয়- সেসব বস্তুতেও বরকত হয়।] ৩. মদীনা শরীফ যাবতীয় অকল্যাণকর বস্তুকে দূর করে দেয়। হযরত জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রالْمَدِينَةُ كَالْكِيرِ تَنْفِي خَبَثَهَا وَيَنْصَعُ طِيبُهَاগ্ধ.“মদীনা শরীফ হল হাপরের মতো, এটি তার যাবতীয় অকল্যাণ দূর করে দেয় এবং তার কল্যাণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে।’[বুখারী : ১৮৮৩; মুসলিম : ১৩৮৩।] ৪. শেষ যামানায় ঈমান মদীনা শরীফে এসে একত্রিত হবে এবং এখানেই তা ফিরে আসবে। হযরত আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রإنَّ الإِيْمَانَ لَيَأْرِزُ إلى المَدِيْنَةِ كما تَأْرِزُ الحيَّةُ إلى جُحْرِهاগ্ধ ‘নিশ্চয়ই ঈমান মদীনা শরীফের দিকে ফিরে আসবে যেমনিভাবে সাপ তার গর্তে ফিরে আসে।’[বুখারী : ১৮৬৭; মুসলিম : ১৪৭।] ৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফের জন্য বরকতের দো‘আ করেছেন। হযরত আনাস ইবন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রاَللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَيْ مَا جَعَلْتَ بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَةِগ্ধ.‘হে আল্লাহ, আপনি মক্কায় যে বরকত দিয়েছেন মদীনা শরীফে তার দ্বিগুণ বরকত দান করুন।’[বুখারী : ১৮৮৫; মুসলিম ১৩৬০।] হযরত আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রاَللَّهمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ ثَمَرِنا، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا، وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَاগ্ধ. ‘হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকত দাও। আমাদের এ মদীনা শরীফে বরকত দাও। আমাদের সা’তে বরকত দাও এবং আমাদের মুদ-এ বরকত দাও।’[মুসলিম : ১৩৭৩।] হযরত আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রإِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وَدَعَا لأَهْلِهَا وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ كَمَا حَرَّمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ وَإِنِّى دَعَوْتُ فِى صَاعِهَا وَمُدِّهَا بِمِثْلَىْ مَا دَعَا بِهِ إِبْرَاهِيمُ لأَهْلِ مَكَّةَগ্ধ. ‘হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কাকে হারাম ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার বাসিন্দাদের জন্য দো‘আ করেছেন। মক্কাকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যেমন হারাম ঘোষণা দিয়েছেন আমিও তেমন মদীনা শরীফকে হারাম ঘোষণা করেছি। আমি মদীনা শরীফের সা’ তে এবং মুদ-এ বরকতের দো‘আ করছি যেমন মক্কার বাসিন্দাদের জন্য হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম দো‘আ করেছেন।’[বুখারী : ২১২৯; মুসলিম : ১৩৬০।] ৬. মদীনা শরীফে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রعَلَى أَنْقَابِ الْمَدِيْنَةِ مَلاَئِكَةٌ، لاَ يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلاَ الدَّجَّالُগ্ধ.‘মদীনা শরীফের প্রবেশ দ্বারসমূহে ফেরেশতারা প্রহরায় নিযুক্ত আছেন, এতে মহামারী ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।’[বুখারী : ১৮৮০; মুসলিম : ১৩৭৯।] ৭. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফে মৃত্যু বরণ করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রمَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوْتَ بِالْمَدِيْنَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا فَإِنِّيْ أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوْتُ بِهَاগ্ধ.‘যার পক্ষে মদীনা শরীফে মৃত্যুবরণ করা সম্ভব সে যেন সেখানে মৃত্যুবরণ করে। কেননা মদীনা শরীফে যে মারা যাবে আমি তার পক্ষে সুপারিশ করব।’[মুসলিম : ১৩৭৪।] ৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা শরীফকে হারাম ঘোষণার প্রাক্কালে এর মধ্যে কোন জুলুম বা অন্যায় ঘটনা ঘটানোর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করেছেন। হযরত আলী ইবন আবী তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রالمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إلى ثَوْرٍ، مَنْ أَحْدَثَ فيْهَا حَدَثاً أَو آوَى مُحدِثاً فَعَلَيهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَاسِ أَجمَعِينَ، لاَ يَقبَلُ اللهٌ مِنهُ صَرْفاً وَلَا عَدْلاًগ্ধ. ‘মদীনা শরীফ ‘আইর’ থেকে ‘সাওর’ পর্যন্ত হারাম। যে ব্যক্তি মদীনা শরীফে কোন অন্যায় কাজ করবে অথবা কোন অন্যায়কারীকে আশ্রয় প্রদান করবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সমস্ত মানুষের লা‘নত পড়বে। তার কাছ থেকে আল্লাহ কোন ফরয ও নফল কিছুই কবুল করবেন না।’[বুখারী : ১৮৭০; মুসলিম : ১৩৭০।] অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- وَلَا يُرِيدُ أَحَدٌ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ، إِلَّا أَذَابَهُ اللَّهُ فِي النَّارِ ذَوْبَ الرَّصَاصِ أَوْ ذَوْبَ الْمِلْحِ فِي الْمَاءِ ‘যে ব্যক্তি মদিনাবাসীদের ক্ষতি করতে চেষ্টা করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে এমনভাবে শাস্তি দিবেন যেভাবে সীসা আগুনে এবং লবণ পানিতে গলে যায়। (মুসলিম শরিফ,খ.২,পৃ.৯৯২) এভাবে অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি ইরশাদ করেন- عَنْ سَعْدٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَا يَكِيدُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَحَدٌ، إِلَّا انْمَاعَ كَمَا يَنْمَاعُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ ‘যে ব্যক্তি মদিনাবাসীর সাথে অন্যায়ভাবে ষড়যন্ত্র করবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়’। (বুখারি শরিফ,খ.৩,পৃ.২১) মদীনা শরীফে অনেক স্মৃতি বিজড়িত ও ঐতিহাসিক স্থানের যিয়ারত করতে হাদীসে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হলো : মসজিদে নববী শরীফ, মসজিদে কুবা, জান্নাতুল বাকী’, উহুদের শহীদদের মাযার ইত্যাদি। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে এসব স্থানের ফযীলত ও যিয়ারতের আদব উল্লেখ করা হল। মসজিদে নববী শরীফের ফযীলত: ———————————— মসজিদে নববী শরীফের রয়েছে ব্যাপক মর্যাদা ও অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্ব। কুরআন ও হাদীসে এ সম্পর্কে একাধিক ঘোষণা এসেছে। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿لَّمَسۡجِدٌ أُسِّسَ عَلَى ٱلتَّقۡوَىٰ مِنۡ أَوَّلِ يَوۡمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِۚ فِيهِ رِجَالٞ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُواْۚ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُطَّهِّرِينَ ١٠٨ ﴾ [التوبة: ١٠٨] “অবশ্যই যে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে তা বেশী হকদার যে, আপনি সেখানে সালাত কায়েম করতে দাঁড়াবেন। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’[তওবা : ১০৮।] আল্লামা সামহুদী বলেন, ‘কুবা ও মদীনা শরীফ- উভয় স্থানের মসজিদ প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। উক্ত আয়াতে তাই উভয় মসজিদের কথা বলা হয়েছে।’[সফিউর রহমান মুবারকপুরী, তারীখুল মাদীনাতিল মুনাওয়ারা : পৃ. ৭৫।] মসজিদে নববী শরীফের আরেকটি ফযীলত হলো, এতে এক নামায পড়লে এক হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার নামায পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়। হযরত ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রصَلاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلاةٍ فِيمَا سِوَاهُ، إِلا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَগ্ধ‘আমার এ মসজিদে এক সালাত আদায় করা মসজিদে হারাম ছাড়া অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায় করার চেয়েও উত্তম।’[বুখারী : ১১৯০; মুসলিম : ১৩৯৪।] হযরত আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রاَلصَّلاَةُ فِيْ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ بِمِائَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ وَالصَّلاَةُ فِيْ مَسْجِدِيْ بِأَلْفِ صَلاَةٍ وَالصَّلاَةُ فِيْ بَيْتِ الْمُقَدَّسِ بِخَمْسِمِائَةٍ صَلاَةٍগ্ধ.“মসজিদে হারামে এক নামায এক লাখ সালাতের সমান, আমার মসজিদে (মসজিদে নববী) এক নামায এক হাজার সালাতের সমান এবং বাইতুল মাকদাসে এক নামায পাঁচশ সালাতের সমান।’[মাজমাউয যাওয়াইদ : ৪/১১।] হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, عن أنس بن مالك ، قال : قال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” صَلاةُ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ بِصَلاةٍ ، وَصَلاَتُهُ فِي مَسْجِدِ الْقَبائِلِ بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ صَلاَةٍ ، وَصَلاَتُهُ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُجمَّعُ فِيهِ بِخَمٍسِ مِئَةِ صَلاةٍ ، وَصَلاَةٌ فِي الْمسْجِدِ الأَقْصَى بِخَمْسِينَ أَلْفَ صَلاَةٍ ، وَصَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي بِخَمْسِينَ أَلْفِ صَلاةٍ ، وَصَلاَةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرامِ بِمئَةِ أَلْفِ صَلاَةٍ ” ) سنن ابن ماجه গ্ধ كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها গ্ধ باب ما جاء في الصلاة في المسجد الجامع. مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح গ্ধ كتاب الصلاة গ্ধ باب المساجد ومواضع الصلاة ৭৫২ “নিজ ঘরে যদি কেউ নামায পড়ে তাহলে তার এক নামাযের সাওয়াব, নিজ গোত্রের মসজিদে পঁচিশ নামাযের, জুমা হয় এমন মসজিদে পাঁচ শত, বাইতুল মাকদাসে এক নামায পঞ্চাশ হাজার নামায পড়ার সওয়াব পাওয়া যায়, আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী শরীফে) এক নামায পঞ্চাশ হাজার সালাতের সমান এবং মসজিদে হারামে এক নামায এক লাখ সালাতের সমান।” [ইবনু মাযা, হা-১৪১৩, মিশকাত-৭৫২] মসজিদে নববী শরীফের ফযীলত সম্পর্কে অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রلا تُشَدُّ الرِّحَالُ إلاَّ إلى ثَلاثَةِ مَسَاجِدَ: اَلْمَسْجِدِ الْحَرَام، وَمَسْجِدِيْ هَذَا، وَالْمَسْجِدِ الأَقْصَىগ্ধ.‘তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে (অধিক সওয়াবের আশায়) সফর করা জায়েয নেই: মসজিদুল হারাম, আমার এ মসজিদ ও মসজিদুল আক্সা।’[বুখারী : ১১৮৯, মুসলিম : ১৩৯৭।] এ হাদীস শরীফে অধিক সওয়াবের আশায় তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনও মসজিদে নামাযের উদ্দেশ্যে সফর করাকে নিষেধ করা হয়েছে, কেননা অন্যান্য সকল মসজিদে নামায পড়ার সাওয়াব সমান। তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সফর করাকে নিষেধ করা হয়নি, যদি তাই হতো তা’হলে ব্যাবসা-বানিজ্য, চাকুরী-বাকুরী, চিকিৎসা, আত্মীয়-স্বজনের সাক্ষাতসহ সবধরণের সফর নিষিদ্ধ হয়ে যাবে, যা হাদীস শরীফের উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। মুসনাদ-এ আহমদ এ হযরত শহর ইবনু হাওশাব রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ وَذَكَرَ عِنْدَهُ الصَّلَاةَ فِي الطُّورِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا ينبغي للمصلي أن يشد رحاله إِلَى مَسْجِدٍ تُبْتَغَى فِيهِ الصَّلَاةُ غَيْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى وَمَسْجِدِي (وَشَهْرٌ حَسَنُ الْحَدِيثِ. أخرجه أحمد في المسند (৩ / ৬৪، ৯৩) واللفظ له، وأبو يعلى في مسنده (২ / ৪৮৯. الزيارة النبوية في ضوء الكتاب والسنة لفضيلة الدكتور محمد علوي المالكي (صـ ৮৩ ) “কোনও মুসল্লীর জন্য নামাযের আদায়ের লক্ষে তিনটি মসজিদ তথা মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আক্সা ও আমার এ মসজিদ ব্যতিরেকে অন্য কোনও মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর করা উচিৎ নয়। (মুসনাদ-এ আহমদ, খ-৩, পৃ-৬৪, ৯৩. মুসনাদ-এ আবু ইয়ালা খ-২, পৃ-৪৮৯) হযরত আবূ হুরাইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রمَنْ جَاءَ مَسْجِدِي هَذَا ، لَمْ يَأْتِهِ إِلاَّ لِخَيْرٍ يَتَعَلَّمُهُ أَوْ يُعَلِّمُهُ ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللهِ ، وَمَنْ جَاءَ لِغَيْرِ ذَلِكَ ، فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى مَتَاعِ غَيْرِهِগ্ধ.‘যে আমার এই মসজিদে কেবল কোনো কল্যাণ শেখার জন্য কিংবা শেখানোর জন্য আসবে, তার মর্যাদা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য। পক্ষান্তরে যে অন্য কোন উদ্দেশ্যে আসবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে অন্যের মাল-সামগ্রীর প্রতি তাকায়।’[ইবন মাজাহ্ : ২৭৭।] হযরত আবূ উমামা আল-বাহেলী রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রمَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لا يُرِيدُ إِلا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ ُيعلِّمَهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامًّا حِجَّتُهُগ্ধ. ‘যে ব্যক্তি একমাত্র কোন কল্যাণ শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে (নববী শরীফে) আসবে, তার জন্য পূর্ণ একটি হজের সওয়াব লেখা হবে।’[মাজমাউয যাওয়াইদ : ১/১২৩।] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুজরা মুবারক তথা সাইয়েদা আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহার ঘর যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাফন করা হয়েছে সে রবকতময় স্থান ও তাঁর মিম্বর শরীফের মাঝখানের জায়গাটুকুকে জান্নাতের অন্যতম উদ্যান বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ্রمَا بَينَ بَيْتِيْ ومِنْبَرِيْ رَوْضَةٌ مِن رِيَاضِ الْجَنَّةٍগ্ধ ‘আমার ঘর ও আমার মিম্বরের মাঝখানের অংশটুকু রওদাতুন মিন রিয়াদিল জান্নাত (জান্নাতের উদ্যানসমুহের একটি উদ্যান)।’[বুখারী : ১১২০; মুসলিম : ২৪৬৩।] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা শরীফ ও এর আশেপাশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে। এ সবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পূর্ব দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুজরা শরীফ। তার পশ্চিম দিকের দেয়ালের মধ্যখানে তাঁর মিহরাব শরীফ এবং পশ্চিমে মিম্বর শরীফ। এখানে বেশ কিছু পাথরের খুঁটি রয়েছে। যে সবের সাথে জড়িয়ে আছে হাদীস ও ইতিহাসের কিতাবে বর্ণিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও স্মৃতি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এসব খুঁটি ছিল খেজুর গাছের। এগুলো ছিল- ১. উসতুওয়ানা আয়েশা বা আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু -এর খুঁটি। ২. উসতুওয়ানাতুল-উফূদ বা প্রতিনিধি দলের খুঁটি। ৩. উসতুওয়ানাতুত্তাওবা বা তওবার খুঁটি। ৪. উসতুওয়ানা মুখাল্লাকাহ বা সুগন্ধি জালানোর খুঁটি। ৫. উসতুওয়ানাতুস-সারীর বা খাটের সাথে লাগোয়া খুঁটি এবং উসতুওয়ানাতুল-হারছ বা মিহরাছ তথা পাহাদারদের খুঁটি। মুসলিম শাসকগণের কাছে এই রওযা মুবারক ছিল বরাবর খুব গুরুত্ব ও যতেœর বিষয়। উসমানী সুলতান সলীম রওযাশরীফের খুঁটিগুলোর অর্ধেক পর্যন্ত লাল-সাদা মারবেল পাথর দিয়ে মুড়িয়ে দেন। অতপর আরেক উসমানী সুলতান আবদুল মাজীদ এর খুঁটিগুলোর সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করেন। ১৯৯৪ সালে সৌদি সরকার পূর্ববর্তী সকল বাদশাহর তুলনায় উৎকৃষ্ট পাথর দিয়ে এই রওযা মুবারকের খুঁটিগুলো ঢেকে দেন এবং রওযার মেঝেতে দামী কার্পেট বিছিয়ে দেন।

ঈসা (আঃ) আবার দুনিয়াতে আসবেন

Standard

আল্লাহর রুহ্ হযরত ঈসা ইবনূ মারইয়াম আ. কর্তৃক যমীনে অবতরনের পরে ‘ইয়া মুহাম্মাদা’ / ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্’ বলে ডাকা (Calling)। ________ প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه وسلم) ইরশাদ করেন : وعن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلّم يقول: والّذي نَفْسُ أَبي القاسِمِ بِيَدِهِ لَيَنْزِلَنَّ عيسى ابنُ مَريمَ إمَاماً مُقْسِطاً، وَحَكَماً عَدْلاً، فَلَيَكْسِرَنَّالصَّلِيْبَ، وَيَقْتُلَنَّ الخِنْزِيرَ، وَلَيُصْلِحَنَّذَاتَ البَيْنِ، وَلَيُذْهِبَنَّالشَّحْنَاءَ، وَلَيَعْرُضَنَّالمَالَ فَلا يَقْبَلهُ أَحَدٌ، ثُمَّ لَئِنْ قَامَ على قَبْرِي فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ لأجِيْبَنَّهُ . قلت: هو في الصحيح باختصار. رواه أبو يعلى ورجاله رجال الصحيح অর্থাৎ : “আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন : “সেই মহান সত্তার কসম, যাঁর হাতে আবুল কাসেম (صلى الله عليه وسلم) এঁর প্রাণ, অবশ্যই হাযরাত ঈসা আ. একজন ন্যায়-পরায়ণ ইমাম ও ন্যায়-বিচারক শাসক হিসেবে অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন, পারস্পরিক দ্বন্দ নিরসন করবেন, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করবেন। তাঁর সামনে অনেক সম্পদ পেশ করা হবে, তিনি সেগুলো গ্রহণ করবেন না। অত:পর তিনি যদি আমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘হে মুহাম্মাদ (প্রশংসিত)’, আমি অবশ্যই তাঁর কথার উত্তর দিবো”। বিশ্লেষণ : ০১. কবর বা মাযার যিয়ারাতে গমণ প্রমানিত। ০২. ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্’ বলা বৈধ। ০৩. প্রিয় নাবী রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه وسلم) রওদ্বায়া আতহারে ওফাত পরিবর্তী শক্তিশালী জীবনের অধিকারী। তিনি হায়াতুন্নবী। ০৪. তিনি উম্মতকে দেখেন, পরিচয় জানেন, উম্মতের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবগত। উম্মতের সালাম (দুআ’)-র জবাব দেন, উম্মতের শ্রেষ্ঠজনেরা শ্রবণ করেন। ০৫. দুনিয়ার ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহ তিনি জানেন। ০৬. উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা সম্পদের জন্যে ঈমান বিসর্জন দেন না। যাবতীয় ত্রুটিমুক্ত। তাঁরা নির্বিলাস জীবনযাপন করেন। ০৭. ইহুদী-খ্রিস্টান, জালিমদের সাথে মুসলমানের বন্ধুত্ব স্থাপন হয় না। পবিত্র হাদিসটির মান : এ হাদিসকে ইমাম হাকেম, ইবনে আসাকির এবং মুত্তাকী হিন্দী বর্ণনা/সত্যায়ন করেছেন। ইমাম হাকেম বলেন, ইহা সহীহ্ সনদ বিশিষ্ট হাদিস। আরো দেখুন, গ্রন্থ সূত্র : *_* ইবনে আসাকির : তারিখে মদীনা-এ দামেস্ক, ৪৭/৪৯৩; বৈরুত, লেবানন, দারুল ফিকর। *_* হিন্দী : কানযুল উম্মাল, ১৪/১৪৬, হাদিস ৩৮৮৫১, বৈরুত, লেবানন, মুয়াস্সাতুর রিসালাহ। *_* মুসনাদে আবু ইয়ালা, (মজবুত সনদে বর্ণিত), পৃষ্ঠা ১১, হাদিস ৪৬২; দার আল মা’মুন, ১৪০৭/১৯৮৭ সংষ্করণ। *_* ইবনূ হাযার আমকালানী রহ. : আল মাতালিব আল আলিয়া, ৪/২৩, হাদিস ৪৫৭৪; অধ্যায় “রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله وسلم) এঁর কবর জীবন”; কুয়েত থেকে প্রকাশিত, সংষ্করণ ১৩৯৩/১৯৭৩। *_* ইমাম হাকিম : আল মুস্তাদরাক আলা সহীহাইন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৫১, হাদিস ৪১৬২। *_* ইমাম হাইসামী রহ. : মাজমাউজ জাওয়াঈদ, ৮/৫, অধ্যায় ঈসা আ. এঁর অবতরণ; সকল রাবীই সহীহ্ হাদিসের রাবী। *_* ইমাম হাইসামী রহ. : ফাতাওয়া আল হাদিসিয়া, ১/১২৯, রাবীদের কোনো প্রকার দূর্বলতা নেই। *_* ইমাম আল সুয়ূতি রহ. : আল হাভী লিল ফাতাওয়া, ২/১৪০। *_* ইমাম সুয়ূতি রহ. : খাসায়িস আল ক্বুবরা, ২/৪৯০, রাবীদের মাঝে কেনো দূর্বলতা নেই। *_* ইমাম হালাবী রহ. : সীরাতুল হালাবীয়া, ২/৪৩২, রাবীদের কোনো দূর্বলতা নেই। *_* ইমাম আলূসী বাগদাদী রহ. : রুহুল মা’আনী, ৭/৬০। *_* আলবানী (ওহহাবী) : সিল-সিলাতুল আহাদিসিস সহীহা; ৬/৫২৪। _______ আলবানীর তাসহীহ্ : قول الألباني في حديث ضمه إلى سلسلة الأحاديث الصحيحة : إسناده جيد هل هو تصحيح له ؟ مثال ذلك : ” والذي نفس أبي القاسم بيده لينزلن عيسى ابن مريم إماما مقسطا و حكما عدلا ، فليكسرن الصليب و ليقتلن الخنزير و ليصلحن ذات البين و ليذهبن الشحناء و ليعرضن عليه المال فلا يقبله ، ثم لئن قام على قبري فقال : يا محمد لأجبته ” . قال الألباني في ” السلسلة الصحيحة ” 6 / 524 : أخرجه أبو يعلى في ” مسنده ” ( 4 / 1552 ) : حدثنا أحمد بن عيسى أخبرنا ابن وهب عن أبي صخر أن سعيد المقبري أخبره أنه سمع أبا هريرة يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم : فذكره . قلت(الألباني) : و هذا إسناد جيد رجاله كلهم ثقات رجال الشيخين غير أبي صخر – و هو حميد ابن زياد الخراط – فمن رجال مسلم وحده ، و قد تكلم فيه بعضهم ، و صحح له ابن حبان و الحاكم و البوصيري ، و مشاه المنذري ،انتهى . قلتُ (أنا ) و هذا ليس مثالا مطابقا للسؤال لأنه لم يقل إسناده جيد فقط بل استدرك وجود راو متكلم فيه وقع في السند و هو الخراط حميد . ________

​কোরআন মাজিদের যে সব আয়াতে কারিমায় আল্লাহ-রাসুলের ﷺ। এর নাম মোবারক একসাথে পাশাপাশি লিখা

Standard

কোরআন মাজিদের যে সব আয়াতে কারিমায় আল্লাহ-রাসুলের ﷺ। এর নাম মোবারক একসাথে পাশাপাশি লিখাঃ যেমন-

( ১) সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ২৭৯
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ فَأْذَنُوا۟ بِحَرْبٍ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَٰلِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
উচ্চারণঃ ফাইল্লাম তাফ‘আলূ ফা’যানু বিহারবিম মিনাল্লা-হি ওয়ারাছূলিহী ওয়া ইন তুবতুম ফালাকুম রুঊছুআমওয়া-লিকুম লা-তাজলিমূনা ওয়ালা-তুজলামূন।
অর্থঃ অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।
=
(২)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ৩১
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
উচ্চারণঃ কুল ইন কুনতুম তুহিববূনাল্লা-হা ফাত্তাবি‘ঊনী ইউহব্বিকুমুল্লা-হু ওয়াইয়াগফির লাকুম যুনূবাকুম ওয়াল্লা-হু গাফুরূর রাহীম।
অর্থঃ বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
(৩)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ৩২
قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلْكَٰفِرِينَ
উচ্চারণঃ কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়ার রাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুল কাফিরীন।
অর্থঃ বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।
(৪)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১০১
وَكَيْفَ تَكْفُرُونَ وَأَنتُمْ تُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ ءَايَٰتُ ٱللَّهِ وَفِيكُمْ رَسُولُهُۥ وَمَن يَعْتَصِم بِٱللَّهِ فَقَدْ هُدِىَ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
উচ্চারণঃ ওয়া কাইফা তাকফুরূনা ওয়া আনতুম তুতলা-‘আলাইকুম আ-য়া-তুল্লা-হি ওয়া ফীকুম রাসূলুহু ওয়া মাইঁ ইয়া‘তাসিম বিল্লা-হি ফাকাদ হুদিয়া ইলা-সিরা-তিম্মুছতাকীম।
অর্থঃ আর তোমরা কেমন করে কাফের হতে পার, অথচ তোমাদের সামনে পাঠ করা হয় আল্লাহর আয়াত সমূহ এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর রসূল। আর যারা আল্লাহর কথা দৃঢ়ভাবে ধরবে, তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হবে সরল পথের।
(০৫)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৩২
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
উচ্চারণঃ ওয়া আতি‘উল্লা-হা ওয়াররাছূলা লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।
অর্থঃ আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়।
(৬)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৭২
ٱلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ مِنۢ بَعْدِ مَآ أَصَابَهُمُ ٱلْقَرْحُ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا۟ مِنْهُمْ وَٱتَّقَوْا۟ أَجْرٌ عَظِيمٌ
উচ্চারণঃ আল্লাযীনাছতা জা-বূলিল্লা-হি ওয়ার রাছূলি মিম বা‘দি মা-আসা-বাহুমুল কারহু লিল্লাযীনা আহছানূমিনহুম ওয়াত্তাকাও আজরুন ‘আজীম।
অর্থঃ যারা আহত হয়ে পড়ার পরেও আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য করেছে, তাদের মধ্যে যারা সৎ ও পরহেযগার, তাদের জন্য রয়েছে মহান সওয়াব।
(৭)সূরা আল ইমরান (آل عمران), আয়াত: ১৭৯
مَّا كَانَ ٱللَّهُ لِيَذَرَ ٱلْمُؤْمِنِينَ عَلَىٰ مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ حَتَّىٰ يَمِيزَ ٱلْخَبِيثَ مِنَ ٱلطَّيِّبِ وَمَا كَانَ ٱللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى ٱلْغَيْبِ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَجْتَبِى مِن رُّسُلِهِۦ مَن يَشَآءُ فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَإِن تُؤْمِنُوا۟ وَتَتَّقُوا۟ فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ
উচ্চারণঃ মা-কা-নাল্লা-হু লিইয়াযারাল মু’মিনীনা ‘আলা-মাআনতুম ‘আলাইহি হাত্তা-ইয়ামীঝাল খাবীছা মিনাত্তাইয়িবি ওয়ামা-কা-নাল্লা-হু লিইউতলি‘আকুম ‘আলাল গাইবি ওয়ালাকিনাল্লা-হা ইয়াজতাবী মিররুছুলিহী মাইঁ ইয়াশাউ ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়ারুছুলিহী ওয়া ইন তু’মিনূওয়া তাত্তাকূফালাকুম আজরুন ‘আজীম।
অর্থঃ নাপাককে পাক থেকে পৃথক করে দেয়া পর্যন্ত আল্লাহ এমন নন যে, ঈমানদারগণকে সে অবস্থাতেই রাখবেন যাতে তোমরা রয়েছ, আর আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদিগকে গায়বের সংবাদ দেবেন। কিন্তু আল্লাহ স্বীয় রসূল গণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর ওপর এবং তাঁর রসূলগণের ওপর তোমরা প্রত্যয় স্থাপন কর। বস্তুতঃ তোমরা যদি বিশ্বাস ও পরহেযগারীর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে থাক, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে বিরাট প্রতিদান।
(৮) وَمَنۡ يُّطِعِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ يُدۡخِلۡهُ جَنّٰتٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَا‌

“যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের অনুগত হবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।“ (নিসা-১৩)
(৯)

وَمَنۡ يَّعۡصِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوۡدَهٗ يُدۡخِلۡهُ نَارًا خَالِدًا فِيۡهَاআর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হবে, তাকে তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।“ (নিসা-১৪)
(১০) يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِيۡعُوۡا اللّٰهَ وَاَطِيۡعُوۡا الرَّسُوۡلَ وَاُولِىۡ الۡاَمۡرِ مِنۡكُمۡ‌ۚ

فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِىۡ شَىۡءٍ فَرُدُّوۡهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّسُوۡلِ

” (নিসা-৫৯)
”হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যে উলিল আমরেরও।” (নির্দেশ দাতা) যদি তোমরা কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিবাদে লিপ্ত হও – তাহলে উক্ত বিষয়টির ফায়সালা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে ন্যাস্ত করো।”
(এখানে ২ বার এসেছে)
(১১)সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ৬১
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ رَأَيْتَ ٱلْمُنَٰفِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا
উচ্চারণঃ ওয়া ইযা-কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইলা-মাআনঝালাল্লা-হুওয়াইলাররাছূলি রাআইতাল মুনা-ফিকীনা ইয়াসুদ্দূনা ‘আনকা সুদূদা-।
অর্থঃ আর যখন আপনি তাদেরকে বলবেন, আল্লাহর নির্দেশের দিকে এসো-যা তিনি রসূলের প্রতি নাযিল করেছেন, তখন আপনি মুনাফেকদিগকে দেখবেন, ওরা আপনার কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভাবে সরে যাচ্ছে।
(১২) সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ৬৪
وَمَآ أَرْسَلْنَا مِن رَّسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ ٱللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ جَآءُوكَ فَٱسْتَغْفَرُوا۟ ٱللَّهَ وَٱسْتَغْفَرَ لَهُمُ ٱلرَّسُولُ لَوَجَدُوا۟ ٱللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا
উচ্চারণঃ ওয়ামাআরছালনা-মির রাছূলিন ইল্লা-লিইউতা-‘আ বিইযনিল্লা-হি ওয়ালাও আন্নাহুম ইযজালামূআনফুছাহুম জাঊকা ফাছতাগফারুল্লা-হা ওয়াছতাগফারা লাহুমুররাছূলু লাওয়াজাদুল্লা-হা তাওওয়া-বার রাহীমা।
অর্থঃ বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাঁদের আদেশ-নিষেধ মান্য করা হয়। আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত।
(১৩) সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ৬৯
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمَ ٱللَّهُ عَلَيْهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّۦنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَ وَحَسُنَ أُو۟لَٰٓئِكَ رَفِيقًا
উচ্চারণঃ ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়াররাছূলা ফাউলাইকা মা‘আল্লাযীনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিম মিনান্নাবিইয়ীনা ওয়াসসিদ্দীকীনা ওয়াশ শুহাদাই ওয়াসসা-লিহীনা ওয়াহাছুনা উলাইকা রাফীকা-।
অর্থঃ আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। তাঁরা হলেন নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ। আর তাদের সান্নিধ্যই হল উত্তম।
(১৪)সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ৮০
مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ ٱللَّهَ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا
উচ্চারণঃ মাইঁ ইউতি‘ইর রাছূলা ফাকাদ আতা‘আল্লা-হা ওয়ামান তাওয়াল্লা-ফামাআরছালনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজা-।
অর্থঃ যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।
(১৫)সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ১৩৬
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ ءَامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِى نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلْكِتَٰبِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ مِن قَبْلُ وَمَن يَكْفُرْ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًۢا بَعِيدًا
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আ-মিনূ বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়াল কিতা-বিল্লাযী নাঝঝালা ‘আলা-রাছূলিহী ওয়াল কিতা-বিল্লাযী-আনঝাল্লা মিন কাবলু ওয়ামাইঁ ইয়াকফুর বিল্লা-হি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়ারুছুলিহী ওয়ালইয়াওমিল আ-খিরি ফাকাদ দাল্লা দাল্লা-লাম বা‘ঈদা-।
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন কর এবং বিশ্বাস স্থাপন কর তাঁর রসূলও তাঁর কিতাবের উপর, যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রসূলের উপর এবং সেসমস্ত কিতাবের উপর, যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতিপূর্বে। যে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রসূলগণের উপর ও কিয়ামতদিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে
(১৬)

সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ১৫০
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيُرِيدُونَ أَن يُفَرِّقُوا۟ بَيْنَ ٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَن يَتَّخِذُوا۟ بَيْنَ ذَٰلِكَ سَبِيلًا
উচ্চারণঃ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াকফুরূনা বিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী ওয়া ইউরীদূ না আইঁ ইউফাররিকূ বাইনাল্লাহি ওয়া রুছুলিহী ওয়া ইয়াকূলূনা নু’মিন ব্বি্বা‘দিওঁ ওয়া নাকফুরু ব্বিা‘দিওঁ ওয়া ইউরিদূ না আইঁ ইয়াত্তাখিযূবাইনা যা-লিকা ছাবীলা-।
অর্থঃ যারা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি কিন্তু কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়। 

(এখানে ২ বার এসেছে)
(১৭)সূরা আন নিসা (النّساء), আয়াত: ১৫২
وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ وَلَمْ يُفَرِّقُوا۟ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ أُو۟لَٰٓئِكَ سَوْفَ يُؤْتِيهِمْ أُجُورَهُمْ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
উচ্চারণঃ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছলিহী ওয়া লাম ইউফাররিকূবাইনা আহাদিম মিনহুমউলাইকা ছাওফা ইউ’তীহিম উজূরাহুম ওয়া কা-নাল্লা-হু গাফূরার রাহীমা-।
অর্থঃ আর যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর রসূলের উপর এবং তাঁদের কারও প্রতি ঈমান আনতে গিয়ে কাউকে বাদ দেয়নি, শীঘ্রই তাদেরকে প্রাপ্য সওয়াব দান করা হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।
(১৮) اِنَّمَا جَزٰٓؤُا الَّذِيۡنَ يُحَارِبُوۡنَ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ وَيَسۡعَوۡنَ فِىۡ الۡاَرۡضِ فَسَادًا اَنۡ يُّقَتَّلُوۡۤا اَوۡ يُصَلَّبُوۡۤا

”যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের বিরূদ্ধে সংগ্রাম করে এবং জমীনে ফাছাদ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে কতল করা অথবা ফাঁসিতে চড়ানো।” (মায়েদা-৩৩)
(১৯)সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৫৫
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُمْ رَٰكِعُونَ
উচ্চারণঃ ইন্নামা-ওয়ালিইইয়ুকুমুল্লা-হুওয়ারাছূলুহূওয়াল্লাযীনা আ-মানূল্লাযীনা ইউকীমূনাসসালাতা ওয়া ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া হুম রা-কি‘ঊন।
অর্থঃ তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র।
(২০)সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৫৬
وَمَن يَتَوَلَّ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ فَإِنَّ حِزْبَ ٱللَّهِ هُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ
উচ্চারণঃ ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়াল্লাযীনা আ-মানূফাইন্না হিঝবাল্লা-হি হুমুল গা-লিবূন।
অর্থঃ আর যারা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।
(২১)সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৮১
وَلَوْ كَانُوا۟ يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلنَّبِىِّ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا ٱتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَآءَ وَلَٰكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَٰسِقُونَ
উচ্চারণঃ ওয়া লাও কা-নূইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ান্নাবিইয়ি ওয়ামাউনঝিলা ইলাইহি মাত্তাখাযূহুম আওলিয়াআ ওয়ালা-কিন্না কাছীরাম মিনহুম ফা-ছিকূন।
অর্থঃ যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার।
(২২)

সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ৯২
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَٱحْذَرُوا۟ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّمَا عَلَىٰ رَسُولِنَا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
উচ্চারণঃ ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ওয়াহযারূ ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফা‘লামুআন্নামা-‘আলা-রাছূলিনাল বালা-গুল মুবীন।
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূলের অনুগত হও এবং আত্মরক্ষা কর। কিন্তু যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আমার রসূলের দায়িত্ব প্রকাশ্য প্রচার বৈধ নয়।
(২৩)সূরা আল মায়িদাহ (المآئدة), আয়াত: ১০৪
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا۟ إِلَىٰ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ وَإِلَى ٱلرَّسُولِ قَالُوا۟ حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَهْتَدُونَ
উচ্চারণঃ ওয়া ইযা-কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইলা-মাআনঝালাল্লাহু ওয়া ইলাররাছূলি কা-লূ হাছবুনা-মা-ওয়াজাদনা- ‘আলাইহি আ-বাআনা- আওয়া লাও কা-না আ-বাউহুম লা-ইয়া‘লামূনা শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াহতাদূ ন।
অর্থঃ যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান এবং রসূলের দিকে এস, তখন তারা বলে, আমাদের জন্যে তাই যথেষ্ট, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞান না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয় তবুও কি তারা তাই করবে?
(২৪) 

সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ১ (এখানে ২বার এসেছে)
يَسْـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلْأَنفَالِ قُلِ ٱلْأَنفَالُ لِلَّهِ وَٱلرَّسُولِ فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَصْلِحُوا۟ ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
উচ্চারণঃ ইয়াছআলূনাকা ‘আনিল আনফা-লি কুল্লি আনফা-লুলিল্লা-হি ওয়াররাছূলি ফাত্তাকুল্লা-হা ওয়া আসলিহূযা-তা বাইনিকুম ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূইন কুনতুম মু’মিনীন।
অর্থঃ আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম।

বলুন হে প্রিয় হাবীব! যুদ্ধেপ্রাপ্ত সম্পদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল [ﷺ]।” অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।
(২৫)

সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ১৩(এখানে ২বার এসেছে)
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَمَن يُشَاقِقِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ
উচ্চারণঃ যা-লিকা বিআন্নাহুম শাককুল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ওয়া মাইঁ ইউশাকিকিল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব।
অর্থঃ যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের, সেজন্য এই নির্দেশ। বস্তুতঃ যে লোক আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্য হয়, নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।
(২৬)সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ২০
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَوَلَّوْا۟ عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূআতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়ালা-তাওয়াল্লাও ‘আনহু ওয়া আনতুম তাছমা‘ঊন।
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।
(২৭) يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا اسۡتَجِيۡبُوۡا لِلّٰهِ وَلِلرَّسُوۡلِ اِذَا دَعَاكُمۡ

”হে মো’মেনগণ, তোমরা আল্লাহ-রাসুলের ডাকে সাড়া দাও – যখনই রাসুল তোমাদেরকে ডাকেন।” (আন্-ফাল-২৪)
(২৮)সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ২৭
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَخُونُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ وَتَخُونُوٓا۟ أَمَٰنَٰتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাখূনুল্লা -হা ওয়ার রাছূলা ওয়া তাখূনূআমা-না-তিকুম ওয়া আনতুম তা‘লামুন।
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ, খেয়ানত করোনা আল্লাহর সাথে ও রসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুন
(২৯) وَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا غَنِمۡتُمۡ مِّنۡ شَىۡءٍ فَاَنَّ لِلّٰهِ خُمُسَهٗ وَلِلرَّسُوۡلِ

”হে মো’মেনগণ! জেনে নাও- তোমরা গণিমতের মাল হিসাবে যা কিছু পেয়েছো- তার পঞ্চমাংশের খাস মালিক হচ্ছেন আল্লাহও তাঁর রাসুল।” (আনফাল-৪১)
(৩০)সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ৪৬
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَنَٰزَعُوا۟ فَتَفْشَلُوا۟ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَٱصْبِرُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ
উচ্চারণঃ ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়ালা-তানা-ঝা‘ঊ ফাতাফশালূওয়া তাযহাবা রীহুকুম ওয়াসবিরূ ইন্নাল্লা-হা মা‘আসসা-বিরীন।
অর্থঃ আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
(৩১)সূরা আল আনফাল (الأنفال), আয়াত: ৬৪
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِىُّ حَسْبُكَ ٱللَّهُ وَمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণঃ ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুহাছবুকাল্লা-হু ওয়া মানিত তাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন।
অর্থঃ হে নবী, আপনার জন্য এবং যেসব মুসলমান আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।
(৩২) بَرَآءَةٌ مِّنَ اللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖۤ اِلَى الَّذِيۡنَ عٰهَدتُّمۡ مِّنَ الۡمُشۡرِكِيۡنَ

”আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ হতে সম্পর্কচ্ছেদ করা হলো মুশরিকদের সাথে।” (তাওবা-১)
(৩৩) وَأَذَانٌ مِّنَ اللّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الأَكْبَرِ أَنَّ اللّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ

”আর হজ্বে আকবরের দিনে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ হতে এই ঘোষণা করা হলো যে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল [ﷺ] মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।” (তাওবা-৩)
(৩৪) وَلَمۡ يَتَّخِذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَلَا رَسُوۡلِهٖ وَلَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَلِيۡجَةً‌ؕ

”যারা আল্লাহ্, তাঁর রাসুল ও মো’মেনগণ ব্যতিত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা থেকে বিরত না রয়েছে”- (সেসব মুনাফিকদেরকে এমনিতে ছেড়ে দেয়া হবে না)। (তাওবা-১৬)
(৩৫)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ২৪
قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٰنُكُمْ وَأَزْوَٰجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٰلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُوا۟ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَٰسِقِينَ
উচ্চারণঃ কুলইন কা-না আ-বাউকুম ওয়া আবনাউকুম ওয়া ইখওয়া-নুকুম ওয়া আঝওয়া-জুকুম ওয়া ‘আশীরাতুকুম ওয়া আমওয়া-লুনিকতারাফতুমূহা-ওয়া তিজা-রাতুন তাখশাওনা কাছা-দাহা-ওয়া মাছা-কিনুতারদাওনাহা-আহাব্বা ইলাইকুম মিনাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া জিহাদিন ফী ছাবীলিহী ফাতারাব্বাসূহাত্তা-ইয়া’তিয়াল্লা-হু বিআমরিহী ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।
অর্থঃ বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।
(৩৬)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ২৯
قَٰتِلُوا۟ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ ٱلْحَقِّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ حَتَّىٰ يُعْطُوا۟ ٱلْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَٰغِرُونَ
উচ্চারণঃ কা-তিলুল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালা-বিল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ালাইউহাররিমূনা মা-হাররামাল্লা-হুওয়ারাছূলুহূওয়ালা-ইয়াদীনূনা দীনাল হাক্কিমিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা হাত্তা-ইউ‘তুল জিঝইয়াতা ‘আইঁ ইয়াদিওঁ ওয়া হুম সা-গিরূন।
অর্থঃ তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না

করো তাদের বিরুদ্ধে)- যারা হারাম মনে করেনা ঐ জিনিসকে- যা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল [ﷺ] হারাম ঘোষনা করেছেন, 

,

 এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।(তাওবা-২৯)।
(৩৭) وَمَا مَنَعَهُمۡ اَنۡ تُقۡبَلَ مِنۡهُمۡ نَفَقٰتُهُمۡ اِلَّاۤ اَنَّهُمۡ كَفَرُوۡا بِاللّٰهِ وَبِرَسُوۡلِهٖ

”মুনাফিকদের দান কবুল না হওয়ার একমাত্র কারণ হলো- তারা আল্লাহও তার রাসুলকে অস্বীকার করছে।” (তাওবা-৫৪)
(৩৮)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৫৯( ২ বার এসেছে।)
وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا۟ مَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَقَالُوا۟ حَسْبُنَا ٱللَّهُ سَيُؤْتِينَا ٱللَّهُ مِن فَضْلِهِۦ وَرَسُولُهُۥٓ إِنَّآ إِلَى ٱللَّهِ رَٰغِبُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ালাও আন্নাহুম রাদূ মাআ-তা-হুমুল্লা-হু ওয়া রাছূলুহূ ওয়া কা-লূহাছবুনাল্লা-হু ছাইউ’তীনাল্লা-হু মিন ফাদলিহী ওয়া রাছূলুহূ ইন্নাইলাল্লা-হি রা-গিবূন।
অর্থঃ কতই না ভাল হত, যদি তারা সন্তুষ্ট হত আল্লাহ ও তার রসূলের উপর এবং বলত, আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, আল্লাহ আমাদের দেবেন নিজ করুণায় এবং তাঁর রসূলও, আমরা শুধু আল্লাহকেই কামনা করি।
(৩৯) وَاللّٰهُ وَرَسُوۡلُهٗۤ اَحَقُّ اَنۡ يُّرۡضُوۡهُ اِنۡ كَانُوۡا مُؤۡمِنِيۡنَ

”আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসুলকে রাজী রাখাই অত্যাবশ্যক – যদি তার মো’মেন হয়ে থাকে।” (তাওবা-৬২)
(৪০) اَلَمۡ يَعۡلَمُوۡۤا اَنَّهٗ مَنۡ يُّحَادِدِ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ فَاَنَّ لَهٗ نَارَ جَهَنَّمَ خٰلِدًا فِيۡهَا‌ؕ

”তারা কি একথা অবগত নয় যে, যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের সাথে শত্রুতা করেছে- তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।” (তাওবা-৬৩)
(৪১)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৭১
وَٱلْمُؤْمِنُونَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِٱلْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَيُطِيعُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ ٱللَّهُ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
উচ্চারণঃ ওয়াল মু’মিনূনা ওয়াল মু’মিনা-তুবা‘দুহুম আওলিয়াউ বা‘দ । ইয়া’মুরূনা বিল মা‘রূফি ওয়া ইয়ানহাওনা ‘আনিল মুনকারি ওয়া ইউকীমূনাসসালা-তা ওয়া ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া ইউতী‘ঊনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ উলাইকা ছাইয়ারহামুহুমুল্লা-হু ইন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝুন হাকীম।
অর্থঃ আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।
(৪২) اَغۡنٰٮهُمُ اللّٰهُ وَرَسُوۡلُهٗ مِنۡ فَضۡلِهٖ‌ۚ

”আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুল আপন অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়েছে।” (তাওবা-৭৪)
(৪৩)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৮৪
وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰٓ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِۦٓ إِنَّهُمْ كَفَرُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَمَاتُوا۟ وَهُمْ فَٰسِقُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ালা-তুসালিল ‘আলাআহাদিম মিনহুম মা-তা আবাদাওঁ ওয়ালা-তাকুম ‘আলা-কাবরিহী ইন্নাহুম কাফারূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়ামা-তূওয়াহুম ফা-ছিকূ ন।
অর্থঃ আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করছে।
(৪৪)

সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৯০
وَجَآءَ ٱلْمُعَذِّرُونَ مِنَ ٱلْأَعْرَابِ لِيُؤْذَنَ لَهُمْ وَقَعَدَ ٱلَّذِينَ كَذَبُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ سَيُصِيبُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
উচ্চারণঃ ওয়া জাআল মু‘আযযিরূনা মিনাল আ‘রা-বি লিইউ’যানা লাহুম ওয়া কা‘আদাল্লাযীনা কাযাবুল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ছাইউসীবুল্লাযীনা কাফারূমিনহুম ‘আযা-বুন আলীম।
অর্থঃ আর ছলনাকারী বেদুঈন লোকেরা এলো, যাতে তাদের অব্যাহতি লাভ হতে পারে এবং নিবৃত্ত থাকতে পারে তাদেরই যারা আল্লাহ ও রসূলের সাথে মিথ্যা বলে ছিল। এবার তাদের উপর শীগ্রই আসবে বেদনাদায়ক আযাব যারা কাফের।
( ৪৫) সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৯৪
يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا۟ لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا ٱللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ وَسَيَرَى ٱللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُۥ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَٰلِمِ ٱلْغَيْبِ وَٱلشَّهَٰدَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
উচ্চারণঃ ইয়া‘তাযিরূনা ইলাইকুম ইযা-রাজা‘তুম ইলাইহিম কুল লা-তা‘তাযিরূ লান নু’মিনা লাকুম কাদ নাব্বাআনাল্লা-হু মিন আখবা-রিকুম ওয়া ছাইয়ারাল্লা-হু ‘আমালাকুম ওয়া রাছূলুহু ছুম্মা তুরাদ্দূনা ইলা-‘আ-লিমিল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি ফাইউনাব্বিউকুম বিমাকুনতুম তা‘মালূন।
অর্থঃ তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।
(৪৬)

সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৪৭
وَيَقُولُونَ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٌ مِّنْهُم مِّنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَمَآ أُو۟لَٰٓئِكَ بِٱلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণঃ ওয়া ইয়াকূলূনা আ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়া বিররাছূলি ওয়া আতা‘না-ছু ম্মা ইয়াতাওয়াল্লাফারীকুম মিনহুম মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়ামাউলাইকা বিলমু’মিনীন।
অর্থঃ তারা বলেঃ আমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আনুগত্য করি; কিন্তু অতঃপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা বিশ্বাসী নয়।
(৪৭) وَاِذَا دُعُوۡۤا اِلَى اللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَهُمۡ اِذَا فَرِيۡقٌ مِّنۡهُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ

”যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল মোনাফিকদেরকে আহবান করেন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দিতে, তখন তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (ছুরা নূর-৪৮)
(৪৮) أَفِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَن يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ

“মুনাফিকরা কি ভয় পায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তাদের প্রতি অবিচার করবে?” (নূর-৫০)
(৪৯)সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৫১
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ ٱلْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا۟ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْمُفْلِحُونَ
উচ্চারণঃ ইন্নামা-কা-না কাওলাল মু’মিমীনা ইযা-দু‘উইলাল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী লিইয়াহকুমা বাইনাহুম আইঁ ইয়াকূলূছামি‘না-ওয়া আতা‘না- ওয়া উলাইকা হুমুল মুফলিহূন।
অর্থঃ মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দিকে তাদেরকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম।
( ৫০)

সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৫২
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَيَخْشَ ٱللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْفَآئِزُونَ
উচ্চারণঃ ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়া ইয়াখশাল্লা-হা ওয়া ইয়াত্তাকহি ফাউলাইকা হুমুল ফাইঝূন।
অর্থঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য।
(৫১)সূরা আন নূর (النّور), আয়াত: ৫৪
قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا۟ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
উচ্চারণঃ কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উররাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নামা -‘আলাইহি মাহুম্মিলা ওয়া ‘আলাইকুম মা-হুম্মিলতুম ওয়া ইন তুতী‘ঊহু তাহতাদূ ওয়ামা‘আলার রাছূলি ইল্লাল বালা-গুল মুবীন।
অর্থঃ বলুনঃ আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে সে দায়ী এবং তোমাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দায়ী। তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া।
(৫২) اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ

“প্রকৃত মুমিনতো তারাই- যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে।“ (নূর-৬২)।
(৫৩)সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ১২
وَإِذْ يَقُولُ ٱلْمُنَٰفِقُونَ وَٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ إِلَّا غُرُورًا
উচ্চারণঃ ওয়া ইযইয়াকূ লুলমুনা-ফিকূনা ওয়াল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুম মা-ওয়া‘আদানাল্লাহুয়া রাছূলুহূইল্লা-গুরূরা-।
অর্থঃ এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়।
(৫৪)

সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ২২(এখানে ২বার এসেছে)
وَلَمَّا رَءَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلْأَحْزَابَ قَالُوا۟ هَٰذَا مَا وَعَدَنَا ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَصَدَقَ ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَمَا زَادَهُمْ إِلَّآ إِيمَٰنًا وَتَسْلِيمًا
উচ্চারণঃ ওয়া লাম্মা-রাআল মু’মিনূনাল আহঝা-বা কা-লূহা-যা-মা-ওয়া‘আদানাল্লা-হু ওয়া রাছূলুহূওয়া সাদাকাল্লা-হু ওয়া রাছূলুহূ ওয়ামা-ঝা-দাহুম ইল্লাঈমা-নাওঁ ওয়া তাছলীমা-।
খন্দকের যুদ্ধে শত্রুসৈন্য দেখে সাহাবীগণ বলে উঠলেন) – “এরই তো আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল।”সাহাবীগণ আরো বললেন) – “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সত্য বলেছেন। এতে তাদের ঈমান ও আত্মসমর্পনের মনোভাব আরো বৃদ্ধি পেলো। (আহযাব-২২)
(৫৬) وَإِن كُنتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ فَإِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنَاتِ مِنكُنَّ أَجْرًا عَظِيمًا

“হে নবীপত্নীগণ, তোমরা যদি ভোগবিলাস ত্যাগ করে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুল এবং আখেরাতকে প্রাধান্য দাও, তাহলে তোমাদের পূতঃ পবিত্রজনদের জন্য আল্লাহ্ তায়ালা বিরাট পুরস্কার তৈরী করে রেখেছেন।” (আহযাব-২৯)
(৫৭) وَمَن يَقْنُتْ مِنكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُّؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا

“হে ঃপত্নীগণ, তোমাদের মধ্যে যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুগত হবে এবং নেক আমল করবে, আমি তাঁকে ডাবল পুরস্কার দেবো।” (আহযাব-৩১)
( ৫৮)সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ৩৩
وَقَرْنَ فِى بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ ٱلْجَٰهِلِيَّةِ ٱلْأُولَىٰ وَأَقِمْنَ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتِينَ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِعْنَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجْسَ أَهْلَ ٱلْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
উচ্চারণঃ ওয়া কারনা ফী বুয়ূতিকুন্না ওয়ালা-তাবাররাজনা তাবাররুজাল জা-হিলিইয়াতিল ঊলা-ওয়া আকিমনাসসালা-তা ওয়া আতীনাঝঝাকা-তা ওয়া আতি‘নাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ইন্নামাইউরীদুল্লা-হু লিইউযহিবা ‘আনকুমুর রিজছা আহলাল বাইতি ওয়া ইউতাহহিরাকুম তাতহীরা-।
অর্থঃ তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র।
(৫৯) সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ৩৬

(আহযাব-৩৬) (এখানে ২বার এসেছে)
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَٰلًا مُّبِينًا
উচ্চারণঃ ওয়া মা-কা-না লিমু’মিনিওঁ ওয়ালা-মু’মিনাতিন ইযা-কাদাল্লা-হু ওয়া রাছূলুহূআমরান আইঁ ইয়াকূনা লাহুমুল খিয়ারাতুমিন আমরিহিম ওয়া মাইঁ ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূফাকাদ দাল্লা দালা-লাম মুবীনা-।
অর্থঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত।

(আহযাব-৩৬) (এখানে ২বার এসেছে)

(যায়েদ ইবনে হারেছার (رضي الله عنه) সাথে বিবি যয়নব (رضي الله عنه) এর বিবাহের ব্যাপারে তাঁর ভাই আবদুল্লাহর আপত্তি সম্পর্কে এই উক্তি)।
(

(৬০) اِنَّ الَّذِيۡنَ يُؤۡذُوۡنَ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ لَعَنَهُمُ اللّٰهُ فِىۡ الدُّنۡيَا وَالۡاٰخِرَةِ

“যারা আল্লাহ্ ও তাঁর প্রিয় রাসুলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়া ও পরকালে লা’নত করবেন বা অভিশপ্ত করবেন।” (আহযাব-৫৭)
( ৬১)সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ৬৬
يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمْ فِى ٱلنَّارِ يَقُولُونَ يَٰلَيْتَنَآ أَطَعْنَا ٱللَّهَ وَأَطَعْنَا ٱلرَّسُولَا۠
উচ্চারণঃ ইয়াওমা তুকাল্লাবু উজূহুহুম ফিন্না-রি ইয়াকূ লূনা ইয়া-লাইতানা-আতা‘নাল্লাহা ওয়াআতা‘নাররাছূলা-।
অর্থঃ যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রসূলের আনুগত্য করতাম।
(৬২)সূরা আল আহ্‌যাব (الْأحزاب), আয়াত: ৭১
يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَٰلَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
উচ্চারণঃ ইউসলিহলাকুম আ‘মা-লাকুম ওয়া ইয়াগফিরলাকুম যুনূবাকুম ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রাছুলাহূফাকাদ ফা-ঝা ফাওঝান ‘আজীমা-।
অর্থঃ তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।
(৬৩)সূরা মুহাম্মদ (محمّد), আয়াত: ৩৩
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَلَا تُبْطِلُوٓا۟ أَعْمَٰلَكُمْ
উচ্চারণঃ ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ওয়ালাতুবতিলূআ‘মা-লাকুম।
অর্থঃ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।
(৬৪) إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا – لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا

“হে প্রিয় রাসুল, আমি আপনাকে চাক্ষুস স্বাক্ষী (হাযির-নাযির), জান্নাতের সুসংবাদদাতা ও জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শনের ক্ষমতা দিয়ে প্রেরণ করেছি – যাতে তোমরা (মানুষ) আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আন, রাসুলকে সাহায্য করো, তাঁকে উচ্চমানের সম্মান প্রদর্শন করো এবং সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর সালাত পাঠ করো।” (আল-ফাত্হঃ ৮-৯)
(৬৫)সূরা আল ফাত্‌হ (الفتح), আয়াত: ১৩
وَمَن لَّمْ يُؤْمِنۢ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ فَإِنَّآ أَعْتَدْنَا لِلْكَٰفِرِينَ سَعِيرًا
উচ্চারণঃ ওয়া মাল্লাম ইউ’মিম বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ফাইন্নাআ‘তাদনা-লিলকা-ফিরীনা ছা‘ঈরা-।
অর্থঃ যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
(৬৬) يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُقَدِّمُوۡا بَيۡنَ يَدَىِ اللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ‌

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ্ রাসুলের সামনে আগ বাড়িয়ে কিছু করোনা।” (হুজুরাত-১)
(৬৭)সূরা আল হুজুরাত (الحجرات), আয়াত: ১৪
قَالَتِ ٱلْأَعْرَابُ ءَامَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا۟ وَلَٰكِن قُولُوٓا۟ أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ ٱلْإِيمَٰنُ فِى قُلُوبِكُمْ وَإِن تُطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَٰلِكُمْ شَيْـًٔا إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
উচ্চারণঃ কা-লাতিল আ‘রা-বুআ-মান্না- কুল লাম তু’মিনূওয়ালা-কিন কু লূআছলামনাওয়ালাম্মা-ইয়াদখুলিল ঈমা-নুফী কুলূবিকুম ওয়াইন তুতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূলাইয়ালিতকুম মিন আ‘মা-লিকুম শাইয়ান ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।
অর্থঃ মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
(৬৮)সূরা আল হুজুরাত (الحجرات), আয়াত: ১৫
إِنَّمَا ٱلْمُؤْمِنُونَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا۟ وَجَٰهَدُوا۟ بِأَمْوَٰلِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ
উচ্চারণঃ ইন্নামাল মু’মিনূনাল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ছুম্মা লাম ইয়ারতা-বূওয়া জাহাদূবিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুছিহিম ফী ছাবিলিল্লা-হি উলাইকা হুমুসসা-দিকূন।
অর্থঃ তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।
(৬৯) اٰمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ وَاَنۡفِقُوۡا مِمَّا جَعَلَكُمۡ مُّسۡتَخۡلَفِيۡنَ فِيۡهِ‌ؕ

“তোমরা ঈমান আনো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উপর- আর ব্যয় কর ঐ সম্পদ থেকে- আল্লাহ যার উত্তরাধিকারী করেছেন তোমাদেরকে।” (ছুরা হাদীদ-৭)
(৭০) وَمَا لَكُمۡ لَا تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ‌ۚ وَالرَّسُوۡلُ يَدۡعُوۡكُمۡ لِتُؤۡمِنُوۡا بِرَبِّكُمۡ

“তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করছোনা? – অথচ রাসুল [ﷺ] তোমাদেরকে আহবান জানাচ্ছেন – যাতে তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন।” (হাদীদ-৮)
(৭১) وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاء عِندَ رَبِّهِمْ

“যারা আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুলের উপর ঈমান এনেছে, তারাইতো আল্লাহর নিকট সিদ্দিক ও শহীদ বলে গণ্য।” (হাদীদ-১৯)
(৭২)সূরা আল-হাদীদ (الحديد), আয়াত: ২১
سَابِقُوٓا۟ إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ ٱلسَّمَآءِ وَٱلْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرُسُلِهِۦ ذَٰلِكَ فَضْلُ ٱللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَآءُ وَٱللَّهُ ذُو ٱلْفَضْلِ ٱلْعَظِيمِ
উচ্চারণঃ ছা-বিকূইলা-মাগফিরাতিম মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন ‘আরদুহা-কা‘আরদিছ ছামাই ওয়াল আরদি উ‘ইদ্দাত লিল্লাযীনা আ-মানূবিল্লা-হি ওয়া রুছুলিহী যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।
অর্থঃ তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী।
(৭৩)সূরা আল-হাদীদ (الحديد), আয়াত: ২৮
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَءَامِنُوا۟ بِرَسُولِهِۦ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِن رَّحْمَتِهِۦ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِۦ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَٱللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
উচ্চারণঃ ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুত্তাকুল্লা-হা ওয়া আ-মিনূবিরাছুলিহী ইউ’তিকুম কিফলাইনি মির রাহমাতিহী ওয়া ইয়াজ‘আল্লাকুম নূরান তামশূনা বিহী ওয়া ইয়াগফির লাকুম ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।
অর্থঃ মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি নিজে অনুগ্রহের দ্বিগুণ অংশ তোমাদেরকে দিবেন, তোমাদেরকে দিবেন জ্যোতি, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।
(৭৪) اِنَّ الَّذِيۡنَ يُحَآدُّوۡنَ اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗ كُبِتُوۡا

“যারা আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুলের বিরুদ্ধাচারণ করে- তারা অপদস্ত হয়েছে।” (মুজদালাহ-৫)
(৭৫)সূরা আল-মুজাদালাহ (المجادلة), আয়াত: ১৩
ءَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَٰتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا۟ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ
উচ্চারণঃ আ আশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকা-তিন ফাইযলাম তাফ‘আলূওয়া তা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।
অর্থঃ তোমরা কি কানকথা বলার পূর্বে সদকা প্রদান করতে ভীত হয়ে গেলে? অতঃপর তোমরা যখন সদকা দিতে পারলে না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে মাফ করে দিলেন তখন তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য কর। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
(৭৬)সূরা আল-মুজাদালাহ (المجادلة), আয়াত: ২০
إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحَآدُّونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ فِى ٱلْأَذَلِّينَ
উচ্চারণঃ ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূউলাইকা ফিল আযাল্লীন।
অর্থঃ নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে, তারাই লাঞ্ছিতদের দলভূক্ত।
(৭৭) لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ

“হে প্রিয় রাসুল, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী – এমন কাউকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসুলের বিরুদ্ধাচরণকারীর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকারীরূপে পাবেননা।” (মুজাদালাহ-২২, তাঁদের উপাধী রাদিয়াল্লাহু আনহু)
(৭৮)সূরা আল-হাশর (الحشْر), আয়াত: ৪
ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَمَن يُشَآقِّ ٱللَّهَ فَإِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ
উচ্চারণঃ যা-লিকা বিআন্নাহুম শাক্কুল্লা-হা ওয়া রাছূলাহু ওয়ামাই ইউশাক্কিল্লা-হা ফাইন্নাল্লাহা শাদীনুল ‘ইকা-ব।
অর্থঃ এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
(৭৯)সূরা আল-হাশর (الحشْر), আয়াত: ৭
مَّآ أَفَآءَ ٱللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ مِنْ أَهْلِ ٱلْقُرَىٰ فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِى ٱلْقُرْبَىٰ وَٱلْيَتَٰمَىٰ وَٱلْمَسَٰكِينِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ كَىْ لَا يَكُونَ دُولَةًۢ بَيْنَ ٱلْأَغْنِيَآءِ مِنكُمْ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا۟ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ
উচ্চারণঃ মাআফাআল্লা-হু ‘আলা-রাছূলিহী মিন আহলিল কুরা-ফালিল্লা-হি ওয়া লিররাছূলি ওয়া লিযিল কুরবা-ওয়াল ইয়াতা-মা-ওয়াল মাছা-কীনি ওয়াবনিছছাবীলি কাইলা -ইয়াকূনা দূ লাতাম বাইনাল আগনিইয়াই মিনকুম ওয়ামাআ-তা-কুমুররাছূলুফাখুযূহু ওয়ামা-নাহা-কুম ‘আনহু ফানতাহূ ওয়াত্তাকুল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব।
অর্থঃ আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়। রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।
(৮০)সূরা আল-হাশর (الحشْر), আয়াত: ৮
لِلْفُقَرَآءِ ٱلْمُهَٰجِرِينَ ٱلَّذِينَ أُخْرِجُوا۟ مِن دِيَٰرِهِمْ وَأَمْوَٰلِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضْوَٰنًا وَيَنصُرُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ
উচ্চারণঃ লিল ফুকারাইল মুহা-জিরীনাল্লাযীনা উখরিজূমিন দিয়া-রিহিম ওয়া আমওয়া-লিহিম ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মিনাল্লা-হি ওয়া রিদওয়া-নাওঁ ওয়া ইয়ানসুরূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ উলাইকা হুমুসসা-দিকূন।
অর্থঃ এই ধন-সম্পদ দেশত্যাগী নিঃস্বদের জন্যে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টিলাভের অন্বেষণে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের সাহায্যার্থে নিজেদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে বহিস্কৃত হয়েছে। তারাই সত্যবাদী।

)(৮১)

সূরা আস-সাফ (الصّفّ), আয়াত: ১১
تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُجَٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٰلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
উচ্চারণঃ তু’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তুজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিকুম ওয়া আনফুছিকুম যা-লিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তা‘লামূন।
অর্থঃ তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ।
(৮২) وَلِلّٰهِ الۡعِزَّةُ وَلِرَسُوۡلِهٖ وَلِلۡمُؤۡمِنِيۡنَ وَلٰكِنَّ الۡمُنٰفِقِيۡنَ لَا يَعۡلَمُوۡنَ

“শক্তি ও সম্মান তো আল্লাহ ও রাসুলের এবং মোমিনদের প্রাপ্য – কিন্তু মুনাফিকরা তার ভেদ জানেনা।” (ছুরা মুনাফিকুন-৮)
(৮৩)সূরা আত-তাগাবুন (التّغابن), আয়াত: ৮
فَـَٔامِنُوا۟ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلنُّورِ ٱلَّذِىٓ أَنزَلْنَا وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
উচ্চারণঃ ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী ওয়ান্নূরিল্লাযীআনঝালনা- ওয়াল্লা-হু বিমাতা‘মালূনা খাবীর।
অর্থঃ অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং অবতীর্ন নূরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত।
(৮৪)সূরা আত-তাগাবুন (التّغابن), আয়াত: ১২
وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَىٰ رَسُولِنَا ٱلْبَلَٰغُ ٱلْمُبِينُ
উচ্চারণঃ ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফাইন্নামা-‘আলারাছূলিনাল বালা-গুল মুবীন।
অর্থঃ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলুল্লাহর আনুগত্য কর। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমার রসূলের দায়িত্ব কেবল খোলাখুলি পৌছে দেয়া

(৮৫)সূরা আল জ্বিন (الجنّ), আয়াত: ২৩
إِلَّا بَلَٰغًا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِسَٰلَٰتِهِۦ وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَإِنَّ لَهُۥ نَارَ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدًا
উচ্চারণঃ ইল্লা-বালা-গাম মিনাল্লা-হি ওয়া রিছা-লা-তিহী ওয়া মাইঁ ইয়া‘সিল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ফাইন্না লাহূনা-রা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহাআবাদা- ।
অর্থঃ কিন্তু আল্লাহ তা’আলার বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে।
(৮৬)সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ৯৯
وَمِنَ ٱلْأَعْرَابِ مَن يُؤْمِنُ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْءَاخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ قُرُبَٰتٍ عِندَ ٱللَّهِ وَصَلَوَٰتِ ٱلرَّسُولِ أَلَآ إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَّهُمْ سَيُدْخِلُهُمُ ٱللَّهُ فِى رَحْمَتِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
উচ্চারণঃ ওয়া মিনাল আ‘রা-বি মাইঁ ইউ’মিনুবিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া ইয়াত্তাখিযুমাইউনফিকু কুরুবা-তিন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া সালাওয়া-তিররাছূলি আলাইন্নাহা কুরবাতুল্লাহুম ছাইউদখিলুহুমুল্লা-হু ফী রাহমাতিহী ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।
অর্থঃ আর কোন কোন বেদুইন হল তারা, যারা ঈমান আনে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিনের উপর এবং নিজেদের ব্যয়কে আল্লাহর নৈকট্য এবং রসূলের দোয়া লাভের উপায় বলে গণ্য করে। জেনো! তাই হল তাদের ক্ষেত্রে নৈকট্য। আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুনাময়।
নোটঃ ‘আল্লাহ ও রাসুলের নাম একসাথে পাশাপাশি’- এর প্রমাণস্বরূপ কোরআন মজিদ থেকে মাত্র কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো। কোরআনের সর্বত্র আল্লাহ-রাসুলের নাম একসাথে এসেছে। খোদ ঈমানী কালেমায় “আল্লাহ ও মুহাম্মদ” নাম একসাথে পাশাপাশি রয়েছে। এর মধ্যখানে “এবং” অব্যয়টি নেই। এতেই বুঝা যায়-আল্লাহ-রাসুল কত ঘনিষ্ট।
কি সাধ্য আছে মোর-গাইতে নবীর গান

কলম মোর ধন্য হলো-লিখে নবীর শান।

কেন মদীনা শরীফ যেয়ারত করতে হবে

Standard

মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান

হজ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের অন্যতম নিদর্শন, মুসলমানদের মিলনমেলার অন্যতম নিমিত্ত । বান্দাকে তার রবের নিকটবর্তী করে হজ্ব । মুমিন বান্দাহ স্বীয় রবের প্রেমে মত্ত হয়ে হজ্বের কার্যাবলি আদায় করে, এক স্থান হতে অন্য স্থানে ছুটে যায়, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলতে বলতে তাওয়াফ করে, সাফা মারওয়াতে দৌড়ায়, শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে, এমনিভাবে মিনা,মুযদালিফা ও আরাফায় গমন করে বিভিন্ন নিদর্শনাদি অবলোকন করে, এতে করে বান্দার অন্তরে খোদাপ্রেম আরও তীব্রতর হয় । মোটকথা স্বীয় রবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে । আর আল্লাহ কার উপর সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট ? কাকে তিনি মাহবুব বলেছেন ? কার জন্যে তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন ? মু’মিন মাত্রই এ সব প্রশ্নের উত্তর জানা আছে । সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এই ইবাদতে অংশ নিতে গিয়ে তাঁর প্রিয় হাবীব সরকারে কায়েনাতের দরবারে উপস্থিত হওয়া কোন অংশে কম মাহাত্ম্যপূর্ণ নয় । মদীনা মুনাওয়ারায় উপস্থিত হওয়া হজ্বের আরকান সমূহের মধ্যে নয় কিন্তু নিঃসন্দেহে অধিক মর্যাদাপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ, বরকতময়, নৈকট্য অর্জনের উচ্চতর মাধ্যম বটে । আর এ কথা নিঃসন্দেহ যে, এটি নবীপ্রেম ও নৈকট্যের ব্যাপার, এটি ঈমান মজবুতিকরন ও বলবৎ রাখার উৎকৃষ্ট মাধ্যম । কেননা সরকার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবার খোদাপ্রাপ্তি, গুনাহ মাফ, রহমত-বরকতের স্থান বৈকি ।

কুরআনের ভাষায় নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওযায় উপস্থিতিঃ
ইরশাদ হচ্ছে-

وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَحِيمًا

অনুবাদঃ এবং যদি কখনো তারা নিজেদের আত্মার প্রতি অবিচার জুলুম করে তখন, হে মাহবুব! (তারা) আপনার দরবারে উপস্থিত হয় এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে । আর রাসুল তাদের পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও অত্যন্ত দয়ালু পাবে । [১]

এই আয়াতে কারীমা দ্বারা ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য তিনটি অবস্থান বর্ণনা করা হয়েছে-

১. আক্বা মাওলা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার দরবারে মুকাদ্দাসায় উপস্থিত হওয়া ।
২. সেখানে (দরবারে নবী) উপস্থিত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা ।
৩. রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুপারিশ প্রার্থনা বা তাঁর উসিলায় ক্ষমা চাওয়া ।
এই তিন বিষয়ের সমন্বয়ে গুনাহগার বান্দা অতি সহজে আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা লাভ করবে । আর এই পদ্ধতি কোন বান্দার দেখিয়ে দেয়া পদ্ধতি নয় বরং খোদ বারী তায়ালা নিজেই তা বাতলে দিয়েছেন । আজ তাঁরি বান্দা খাদেম দাবী করে আমরা যিয়ারত করতে বাঁধা দেই ? নিরুৎসাহিত করি।

সর্বসম্মতভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে গুনাহ মাফ চাওয়া বৈধ । মুফাসসিরীন কেরাম তাঁর হায়াতে তাইয়্যেবাহ ও তাঁর পরবর্তী সময় উভয়কেই এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন । আর এই আয়াত দ্বারাই হায়াতুন্নবীর বৈধতাও প্রমাণিত হয় । ইমাম বাযযার এ প্রসঙ্গে সহীহ সনদে বর্ণনা করেন –

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন –

حَيَاتِي خَيْرٌ لَكُمْ تُحَدِّثُونَ وَيُحَدَّثُ لَكُمْ وَوَفَاتِي خَيْرٌ لَكُمْ تُعْرَضُ عَلَيَّ أَعْمَالُكُمْ فَمَا كَانَ مِنْ حَسَنٍ حَمِدْتُ اللَّهَ عَلَيْهِ وَمَا كَانَ مِنْ سَيِّئٍ اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ لَكُمْ

অনুবাদঃ আমার জীবন তোমাদের জন্য কল্যাণকর । তোমরা আমার নিকট কোন কিছু জানতে চাইবে, আমি তার জবাব দেবো । আমার ওফাতও তোমাদের জন্য কল্যাণকর । তোমাদের আমলসমূহ আমার নিকট পেশ করা হবে, তোমাদের উত্তম আমলসমূহ দেখে আমি আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করব । আর তোমাদের মন্দ আমল দেখতে পেলে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট মাগফেরাত কামনা করব । [২]

এ দ্বারা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ওফাত পরবর্তী সময়েও উম্মতের জন্য সুপারিশ সাব্যস্ত হয় । আর রওযা মুকাদ্দাসায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার জীবিত থাকার বিষয় তাঁর হাদীস হতেই পাওয়া যায় । এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে সাহাবা কেরাম, তাবেঈ ও উম্মতের উলামায়ে হক্ব রওযা মুকাদ্দাসে ওসীলা তালাশ করেছেন ।

পবিত্র কুরআনে আরও ইরশাদ হচ্ছে-

وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ

অনুবাদঃ আর যখন আপনার নিকট তারা উপস্থিত হবে, যারা আমার নিদর্শনসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তখন তাদেরকে আপনি বলুন, ‘তোমাদের উপর শান্তি’! তোমাদের প্রতিপালক নিজ করুণার দায়িত্বে রহমত অবতীর্ণ করেছেন যে, তোমাদের মধ্যে কেউ মূর্খতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে বসে, অতঃপর এর পরে তাওবা করে এবং সংশোধন করে নেয়, তবে নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু । [৩]

নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুকাদ্দাসায় উপস্থিত যিয়ারত অতি সওয়াব ও বরকতময় কাজ। এটি মুস্তাহাব কাজসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম বরং ওয়াজিবের কাছাকাছি ।

হাদীসের আলোকে রওযা মুকাদ্দাসায় উপস্থিতির ফজিলতঃ

হাদীস নং-১: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي
অনুবাদঃ নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার রওযা মুবারক যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফাআ’ত ওয়াজিব হয়ে গেল । [৪]
হাদীস নং-২: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আরও বর্ণিত হয়-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ زَارَ قَبْرِي حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي
অনুবাদঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার রওযা মুবারক যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফাআ’ত আবশ্যক হয়ে গেল । [৫]
হাদীস নং-৩: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ جَاءَنِي زَائِرًا لَا يَعْلَمُهُ حَاجَةً إِلَّا زِيَارَتِي كَانَ حَقًّا عَلَيَّ أَنْ أَكُونَ لَهُ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অনুবাদঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি (যিয়ারতকারী) আমার নিকট (রওজা শরীফে) কেবল যিয়ারতের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়, তার জন্য আমার উপর হক যে, কিয়ামতের দিন যেন আমি তার শাফাআ’তকারী হই । [৬]
হাদীস নং-৪: উমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের এক সদস্য হতে বর্ণিত, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ زَارَ قَبْرِي ” أَوْ قَالَ: ” مَنْ زَارَنِي كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا أَوْ شَهِيدًا، وَمَنْ مَاتَ فِي أَحَدِ الْحَرَمَيْنِ بَعَثَهُ اللهُ مِنَ الْآمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অনুবাদঃ যে ব্যক্তি আমার যিয়ারত করল অথবা বেসাল শরীফের পর আমার যিয়ারত করল, আমি তার জন্য সাক্ষ্যদাতা ও শাফাআ’তকারী হব । আর যে ব্যক্তি দুই হেরেম শরীফের একটিতে মৃত্যুবরণ করল, সে কিয়ামতের দিন নিরাপত্তাপ্রাপ্তদের সাথে উত্থিত হবে ।[৭]
হাদীস নং-৫: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ حَجَّ فَزَارَ قَبْرِي بَعْدَ مَوْتِي كَانَ كَمَنْ زَارَنِي فِي حَيَاتِي
অনুবাদঃ যে ব্যক্তি হজ্ব পালন করবে; অতঃপর আমার ওফাতের পর আমার যিয়ারত করবে, তার যিয়ারত ঐ ব্যক্তির মত হবে যে জীবদ্দশায় আমার যিয়ারত করেছে । [৮]
হাদীস নং-৬: উমর ইবনে খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের এক সদস্য হতে বর্ণিত-
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ زَارَنِي مُتَعَمِّدًا كَانَ فِي جِوَارِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অনুবাদঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কেবল যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আমার নিকট মদীনায় আগমণ করবে, সে কিয়ামতের দিন আমার পাশে ,প্রতিবেশী হবে । [৯]
হাদীস নং-৭: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
قَالَ رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ وَلَمْ يَزُرْنِي فَقَدْ جَفَانِي
অনুবাদঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্ব করবে আর আমার যিয়ারত করলনা, সে যেন আমার উপর জুলুম করল । [১০]
যিয়ারতের আদবঃ

# মদীনা শরীফে উপস্থিত হয়ে যিয়ারতের নিয়ত করা ।
# গোসল করে পবিত্র ও সাফ সুতর অবস্থায় যাওয়া । পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করা ।
# যিয়ারতের আগ হতেই অর্থাৎ, রওজা মুকাদ্দাসায় পৌঁছাবার পূর্ব হতেই আদবের সাথে চলা, নত মস্তকে প্রবেশ করা ।
# পুরো পথ সালাত-সালাম পেশ করা ।
# প্রথমে মসজিদে নববী শরীফে প্রবেশ করে দু’রাকাআ’ত নফল নামায, অতঃপর দু’রাকা’ত শোকরানা নামায আদায় করা।
# রওযা শরীফে উপস্থিত হয়ে সালাম পেশ করা ।
# নিজেকে একাগ্রতার সাথে সরকারে দো আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সামনে উপস্থিত করা ।
# আদবের সাথে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজার দিকে মুখ করে দু’আ করা ।
ইবনে হুমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ফাতহুল কাদীরে ইমাম আজম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর মুসনাদের বরাত দিয়ে ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন-
مِنْ السُّنَّةَ أَنْ تَأْتِيَ قَبْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِ الْقِبْلَةِ وَتَجْعَلَ ظَهْرَك إلَى الْقِبْلَةِ وَتَسْتَقْبِلَ الْقَبْرَ بِوَجْهِك ثُمَّ تَقُولَ: السَّلَامُ عَلَيْك أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
অনুবাদঃ (সাহাবা ও তাবেঈগণের) সুন্নত পদ্ধতি হল, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার রওযা মুনাওয়ারায় উপস্থিত হবে তখন স্বীয় পিঠকে ক্বিবলার দিকে করবে এবং চেহারা রওযা শরীফের দিকে করবে। অতঃপর সালাম পেশ করবে । [১১]

ইমাম মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইবনে ওহাব হতে বর্ণনা করেন-
إذَا سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَعَا يَقِفُ وَوَجْهُهُ إلَى الْقَبْرِ لَا إلَى الْقِبْلَةِ
অনুবাদঃ রওযা মুকাদ্দাসার সামনে উপস্থিত হয়ে সালাম প্রদান ও দু’আ করার সময় ক্বিবলার দিকে মুখ না করে বরং রওযা শরীফের দিকে করতে হবে । [১২]

একবার খলিফা আবু জাফর মনসুর ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নিকট জিজ্ঞাসা করেন, জিয়ারতের সময় ক্বিবলার দিকে মুখ রাখবেন, না রওযা মুবারকের দিকে রাখবেন ? উত্তরে তিনি বলেন-

فَقَالَ وَلم تَصْرفْ وَجْهَكَ عَنْهُ وَهُوَ وَسِيلَتُكَ وَوَسِيلَةُ أَبِيكَ آدَمَ عيه السَّلَامُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ بَلِ اسْتَقْبِلْهُ واسْتَشْفِعْ بِهِ فَيُشَفِّعهُ اللَّهُ قَالَ اللَّهُ تعالى (وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظلموا أنفسهم) الآيَةَ
অনুবাদঃ রওজা মুকাদ্দাসা হতে মুখ কেন ফিরাবেন ? যেখানে হুযুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার এবং আদি পিতা আদম আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ওসীলা হবেন । হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে মুখ রেখে আপনি শাফাআ’ত চান, আপনার শাফাআ’ত কবুল হবে । যেমন আয়াতে করীমায় উল্লেখ হয়…… (وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظلموا أنفسهم) [১৩]
মুনীব বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-
رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَتَى قَبْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَقَفَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ افْتَتَحَ الصَّلَاةَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ انْصَرَفَ
অনুবাদঃ আমি হযরত আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছি যে, তিনি হুযুর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পবিত্র রওজায় উপস্থিত হয়ে দীর্ঘক্ষণ যাবৎ হাত উঠিয়ে দু’আ করতে থাকেন, এমনকি আমার মনে হয়েছিল- তিনি যেন নামাযের জন্য নিয়ত করে ফেললেন, অতঃপর তিনি সালাম পেশ করে রওজা শরীফ ত্যাগ করলেন । [১৪]

আল্লাহ পাক রাব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে পাকে যথাযথ আদব ও পদ্ধতি সহ উপস্থিত হওয়ার তাওফিক দান করুন । মাসনুন পদ্ধতিতে আদবের সাথে হজ্জ্ব -ওমরার সকল কার্যাদি ও যিয়ারতে মদীনা মুনাওয়ারা বারবার নসীব করুন । আমিন, বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালীন!

তথ্যসূত্রঃ
১. আল কুরআন,সূরা নিসা: ৬৪ অনুবাদ- আ’লা হযরত (রহঃ) কৃত কানযুল ঈমান ।
২. হাফিজ ইবনে কাসীর কৃত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫:২৭৫ দারুল ফিকর বৈরুত, মুসনাদে বাযযার ,কিতাবু আলামাতিন নবুওয়াহ, হাদীস-৯৫৩, হায়সামী মাজমাউজ যাওয়ায়িদ হাদীস নং-১৪২৫০ ।
৩. আল কুরআন,সূরা আনয়া’ম: ৫৪ অনুবাদ- আ’লা হযরত (রহঃ) কৃত কানযুল ঈমান ।
৪. সুনানে দারে ক্বুতনী, ৩:৩৩৪ কিতাবুল হজ্ব, হাদীস-২৬৯৫ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ বৈরুত , বায়হাক্বী শোয়া’বুল ঈমান হাদীস নং-৩৮৬২ মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ, ওয়াফা উল ওয়াফা ৪:১৬৮ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত।
৫. ওয়াফা উল ওয়াফা ৪:১৭০ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত, হায়সামী কাশফুল আসতার আন যাওয়ায়িদুল বাযযার হাদীস-১১৯৮ মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ বৈরুত ।
৬. তাবরানী আল মু’জামুল কবীর ১২:২৯১ হাদীস-১৩১৪৯, মাকতাবাতু ইবন তাইমিয়্যাহ কায়রো, ওয়াফা উল ওয়াফা ৪:১৭০ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত, মাওয়াহিবে লাদুনিয়্যাহ ৩:৫৮৮ মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ কায়রো ।
৭. বায়হাক্বী শোয়া’বুল ঈমান ৬:৪৮ হাদীস নং-৩৮৫৭ মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ, মুসনাদে আবু দাউদ তাইয়ালসি হাদীস নং-৬৬ দারুল হিজর মিশর, মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস- ২৭৫৫/২৬৩৫ ।
৮. তাবরানী আল মু’জামুল কবীর ১২:৪০৬ হাদীস-১৩৪৯৭, মাকতাবাতু ইবন তাইমিয়্যাহ কায়রো, মিশকাতুল মাসাবীহ হাদীস- ২৭৫৬/২৬৩৬, ওয়াফা উল ওয়াফা ৪:১৭১ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত।
৯. বায়হাক্বী শোয়া’বুল ঈমান ৬:৪৭ হাদীস নং-৩৮৫৬ মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ, সুয়ূতী জামেউল আহাদীস, হাদীস-২২৩০৮, মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল মানাসিক হাদীস-২৭৫৬/২৬৩৬ ।
১০. ওয়াফা উল ওয়াফা ৪:১৭১ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত, শিফাউস সিকাম ২৭পৃঃ , সুয়ূতী জামেউল আহাদীস, হাদীস-২১৯৯৭
১১. ইবনে হুমাম, ফতহুল ক্বদীর ৩:১৮০ দারুল ফিকর বৈরুত ।
১২. মোল্লা আলী ক্বারী কৃত শরহুস শিফা ২:১৫৩ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ বৈরুত ।
১৩. কাযী আয়ায, আশ শিফা বিতা’রিফে হুক্বুকিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ২:৯২,৯৩ দারুল ফিহা ওমান ।
১৪. বায়হাক্বী শোয়া’বুল ঈমান ৬:৫৩ হাদীস নং-৩৮৬৭ মাকতাবাতুর রুশদ রিয়াদ,