কবর ভাঙ্গা!

Standard

 প্রশ্ন: মিশকাত শরীফে জানাজা পর্বে মৃতকে দাফন করা অধ্যায়ে আছে তাবেয়ী আবুল হাইয়াজ আসাদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আমাকে বললেন,আমি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাব না? যে কাজে আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন। তা এই, কোন মূর্তি পেলে নষ্ট না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর সমান না করে রাখবে না। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে এক বিঘতের সমান করে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু মাজারে দেখা যায় যে, কবর (গিলাফ ব্যতীত) এক বিঘতের চেয়ে উঁচু। সেটা কি জায়েয নাকি নাজায়েয।
 জোবাইদুন নাহার পান্না

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
 উত্তর: মিশকাত শরীফে তাবেয়ী আবুল হাইয়াজ আসাদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قال لى على الا ابعثك على ما بعثنى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لاتدع تمثالا الا طمسته ولا قبرًا مشرفًا الا مَوَّيتَهُ-

অর্থ: হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাব না? যে কাজে আমাকে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন। তাহলো কোন মূর্তি পেলে নষ্ট না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর সমান না করে রাখবে না।

[মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ১৪৮, মুসিলম শরীফ: হাদিস নম্বর ৯৬৯]

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কবরকে মাটির সাথে সমান করে দিতে হবে। কবর মাটির উপরে হতে পারবে না। অথচ আমাদের দেশে নয় শুধু বিশ্বের প্রতিটি দেশে মুসলমানদের কবর মাটি হতে উপরে। এমনকি সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীনে এজাম, তাবে

তাবেয়ীন স্বয়ং নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মোবারক ও এর ব্যতিক্রম নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে এ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ কি?

অবশ্যই এ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাহলো রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যে সব কবর মাটির সাথে সমান করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তা মূলত মুশরিক ও ইহুদী-নাসারাদের কবর সম্পর্কে উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন। এবং হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আবুল হাইয়াজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকেও যে নির্দেশ দিয়েছেন কোন মুসলমানের কবরকে তিনি মাটির সাথে সমান করতে বলেন নি। কারণ সম্মানিত সাহাবাগণকে দাফন করার সময় প্রায় হুযূর পাক রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত থাকতেন অথবা সাহাবায়ে কেরাম রাসূলে কায়েনাত-এর অনুমতি নিয়ে কবর তৈরি করতেন। তাহলে এমন কবর কোথায় থাকল? যা ভাঙ্গার জন্য নির্দেশ দিতে হল।

[সাঈদুল হক ফি তাখরিজে জা’আল হক: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০৫]

যেহেতু তখন ইহুদী নাসারা ও মুশরিকদের কবর ছিল বেশী উঁচু, তাই ভাঙ্গার জন্য রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন- সহীহ বোখারীতে বর্ণিত আছে-

امر النبى صلى الله عليه وسلم بقبور المشركين فنبثت

অর্থাৎ নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের কবরের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন অতঃপর তা ভেঙ্গে খনন করে ফেলে দেয়া হয়েছে। [বোখারী শরীফ: ১ম খণ্ড, ৬১ পৃষ্ঠা]

এর ব্যাখ্যায় শেখুল ইসলাম হাফেজুল হাদিস ইবনে হাজর আল্ আসাকালানী বলেন-

اى دون غيرها من قبورالانبياء واتباعهم لما فى ذالك اهانة لهم-

অর্থাৎ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীদের কবর ব্যতীত। কারণ তাদের কবর ভাঙ্গার ও খনন করার মধ্যে তাদের প্রতি অসম্মান হবে।

[ফতহুল বারী শরহে সহীহ বোখারী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪]

তিনি আরো বলেন-

وفى الحديث جواز تصرف فى المقبرة المملوكة وجواز تبش قبور الدراسة اذا لم يكن محرمة-

অর্থ: এই হাদিসে এ কথার উপর দলিল যে, মালিকানাধীন কবরস্থানে লেনদেন করা এবং পুরাতন কবর উচ্ছেদ করা বৈধ। তবে শর্ত হল তা যেন সম্মানিত না হয়। অর্থাৎ সম্মানিত কোন অলী বুযর্গের কবর হলে তা সরানো বৈধ হবে না।

[ফতহুল বারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪]

বুখারী শরীফের উক্ত হাদিস এবং তার ব্যাখ্যাই প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিসের আসল ব্যাখ্যা। অর্থাৎ হযরত মাওলা আলী শেরে খোদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক হাদিসে কাফির ও মুশরিকদের কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত অন্য হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তখনকার কবরের সাথে ছবি আকার কথা ও ইরশাদ করেছেন অথচ মুসলমানদের কবরে কোন ছবি থাকে না। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, প্রশ্নোল্লেখিত হাদিসে মুশরিকদের কবরের কথাই বলা হয়েছে। কারণ তাদের সম্মানিত পূর্ব পুরুষদের কবরে ছবি তথা মূর্তি থাকত। এবং মুশরিকরা এগুলোর পূজা করত। তাই রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যা পরে মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একই নির্দেশ দিয়েছেন।

তৃতীয়ত: প্রশ্নোল্লেখিত হাদিসে কবরকে মাটির সাথে সমান করার কথা বলা হয়েছে, অথচ মুসলমানদের কবরের ক্ষেত্রে সুন্নাত হল জমিন হতে কবর এক হাত অথবা এক বিঘত পরিমাণ উঁচু করা। মুসলমানদের কবরকে একদম মাটির সাথে সমান করা সুন্নাতের খিলাফ ও পরিপন্থি। সুতরাং বুঝা যায় উক্ত হাদিসে মুশরিক ও কাফিরদের কবরকে বুঝানো হয়েছে। বরং ‘মুনতাকা শরহে মুয়াত্তায়’ এবং ইমাম কাসানী হানাফীর ‘আলবাদায়ে ওয়াচ্ ছানায়ে’ এর বর্ণনায় দেখা যায় যে, প্রখ্যাত সাহাবী হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর কবরের উপর হযরত উম্মুল মুমেনীন আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা স্বীয় ভাই হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের কবরের উপর এবং হযরত মুহাম্মদ বিন হানাফিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাসের কবর শরীফের উপর কুব্বা তথা গম্বুজ বানিয়েছেন।

যদি কোন মুসলমানের কবর উঁচু করে বানানো হয় তখনো তা ভাঙ্গা যাবে না। কারণ এতে মুসলমানের অসম্মান হবে। তবে প্রথম থেকে কবরকে উঁচু না করা উচিত।

উল্লেখ্য, যে সকল মুসলমানের কবর এক বিঘতের চেয়ে বেশি বানানো হয়েছে তা আর ভাঙ্গা যাবে না। তা যেমন আছে তেমন থাকবে। যেমন: ক্বোরআন শরীফ ছোট আকারে ছাপানো নিষেধ কিন্তু ছাপানো হয়ে গেলে তা ফেলে দেয়া কিংবা আগুনে পুড়ে ফেলা যাবে না। কেননা এতে পবিত্র ক্বোরআনের অবমাননা হবে। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত মুসলমানদের কবরের উপর বসা, পায়খানা করা, ক্ষেত-খামার করা এবং জুতা নিয়ে চলা-ফেরা করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ এবং তা মুসলমানের কবরের প্রতি অবমাননা। সুতরাং মুসলমানের উঁচু কবর ভেঙ্গে সমান করা অবমাননা ও চরম অপরাধ।

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত আউলিয়ায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট হক্কানী ওলামায়ে এজামের সম্মানার্থে, জিয়ারতকারীদের জিয়ারত, ফাতেহাপাঠ ও ক্বোরআন তেলাওয়াতের সুবিধার্থে এবং সাধারণ মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা সৃষ্টির নিমিত্তে তাঁদের কবরে ঘর/ইমারত ও গম্বুজ নির্মাণ করাকে সলফে সালেহীন বিশেষত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত ইসমাইল হক্কী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ জায়েয ও মুবাহ বলে ফতোয়া প্রদান করেছেন। সুতরাং যে সমস্ত খারেজী, ওহাবী ও আহলে হাদীসের মওলভীরা উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বিশেষত অলি-আবদালের গুম্বুজ ও ইমারত বিশিষ্ট মাজার ও কবর শরীফ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য কটূক্তি ও বেয়াদবী করে মূলত তারা উক্ত হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

[তাফসীরে রুহুল বয়ান: তৃতীয় খণ্ড, কৃত হযরত ইসমাঈল হক্কী রহ., মেরকাত শরহে মিশকাত- কিতাবুল জানায়েয, দাফনুল মাইয়্যিত অধ্যায়: কৃত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহ., শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর শরহে সফরুস্ সা’দাত, জা-আল হক্ব: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৫- ২৮৬, কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহ., সাঈদুল হক ফি তাখরিজে জা-আল হক্ব: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০৫, আমার রচিত বাগে খলিল: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯-৫০, দারুল ইফতা আল্ মিস্রিয়া ইত্যাদি]

Advertisements

যেয়ারত ও বাতিলদের স্বীকৃতি

Standard

কবর ও মাজার জিয়ারত করা বরকতময় ইবাদত ।
সূচনা : 

আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র ইবাদত করার জন্য । আল্লাহ বলেছেন : 

وَما خَلَقتُ الجِنَّ وَالإِنسَ إِلّا لِيَعبُدونِ

আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। সুরা জারিয়াত : ৫৬ । কবর ও মাজার জিয়ারত করা ইবাদতগুলোর মধ্যে অন্যতম বরকতময় ও মুস্তাহাব ইবাদত বলে স্বীকৃত । 

বর্তমানে মাজার ও কবর ধ্বংস করার সংস্কৃতি :

ইবনে আব্দুল ওহাব আনুমানিক ১৭৪০ সাল থেকে ভ্রান্ত ওহাবি মতবাদ প্রচার করতে থাকেন যে মাজার জিয়ারত করা মাজার পুজার শামিল । তাই মাজার জিয়ারত ও এর জন্য সফর উভই হারাম। তাঁর এ ভয়ংকর মতবাদ দেখে তার পিতা তাঁকে তা থেকে বিরত থাকতে বলেন। ১৭৪৫ সালে তার পিতার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি তার এ ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারে বিরত থাকেন। কিন্তু তার পিতার ইন্তেকালের পরপরই আবার শুরু হয় তার এ প্রচারনা। তারই আপন ভাই তাঁকে এ ব্যাপারে পিতার নির্দেশের কথা স্মরণ করেও কোন ফল হয় নি। ভায়ের বাধার কারণে পরবর্তিতে সে তার নিজের ভাইকে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, তারা আরবে অবস্থিত মাজার গুলো ধ্বংস করতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দির শুরুতে এই ওহাবিরা মক্কা-মদিনা আক্রমণ করে সব কবর ধ্বংস করে ফেলে। কেবল মাত্র মসজিদে নববীতে অবস্থিত রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর দুই সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত ওমর (রা) এর রওজা গুলো রক্ষা পায়। তারা বারবার ওগুলো ভাংতে উদ্যোগ নিলেও মুসলিম বিশ্বে বিশেষ করে মিশর ও তুরুস্কের প্রবল বাধা ও হুমকির মুখে তা থেকে বিরত থাকে।

এভাবে মাজার ভাঙার সংস্কৃতি তাদের মাধ্যমে বিবিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা লিবিয়া, মালি, সোমালিয়া, তিউনিসিয়া,ইরাক ও সিরিয়াতে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম। ইরাকে যৌন জিহাদীরা হাজার হাজার মাজার ও কবর ধ্বংস করছে ।এরা নবি ও সাহাবীদের মাজারগুলোকেও রেহাই দিচ্ছে না । তারা মাজারের মধ্যে থাকা তাজা লাসকেও পর্যন্ত পা দিয়ে পিছে মারাতে কার্পন্য করছে না । কত বড় বেয়াদব এরা ! আল্লাহর অভিশাপ তাদের ও তাদের সমর্থকদের উপর পড়ুক । 

বাংলাদেশেও তাদের দোসররা হযরত শাহ জালাল (রা) সহ ভিবিন্ন স্থানে বোমা হামলা করেছিলো। এরা তালেবানি আর আল-কায়েদার উত্তরসূরি। সন্ত্রাসির মাধ্যমে তারা ইসলামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা বুঝে না যে স্বয়ং নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাজার জিয়ারতের জন্যে অসিয়ত করে গেছেন। তারা যুক্তি দেখায় নবীজি ইন্তেকালের পুর্ব মুহুর্তে মাজার পুজারিদেরকে ভর্তসনা করে গেছেন। নবীজি ইহুদি-খৃস্টান্দেরকে লানত দিয়ে গেছেন যারা নবীদের মাজারকে মসজিদ বা সেজদার জায়গা বানিয়েছিল। মাজার জিয়ারত কে নিষেধ করেন নি। ওহাবী আর তাদের দোসররা মুনাফিক। মানুষকে হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্ত করছে।

ফিলিস্তিনি তিন শিশুর কবর জিয়ারত যাদের বাবাকে ইসরাইলের ইহুদিরা হত্যা করেছে 

ফিলিস্তিনি কিছু মহিলার কবর জিয়ারত যাদের আত্মীয়কে ইসরাইলের ইহুদিরা হত্যা করেছে 

জামায়াত-শিবিরের লোকদের কবর ও মাজার জিয়ারত :

জামায়াতে ইসলামী মওদুদী মতবাদ বা ওহাবী মতবাদ নির্ভর দল হলেও এই দলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশই কবর ও মাজার জিয়ারত করেন । এমন কি যে লোক (রফিক বিন সাইদী ) জামায়াতে টিভি দিগন্ত টিভিতে বলেছিলেন কবর জিয়ারত হতে বিরত থাকা উত্তম । সেই লোকের কবর টাইলস দিয়ে পাকা করা হয়েছে এবং প্রতি দিনই তার করব লোকেরা যিয়ারত করতে আসে ।

তবে ইলামের দুষশন ওহাবি – সালাফী – আহলে হাদিস- যৌন জিহাদিদের মতে কবর বা মাজার জিয়ারত করা গুনাহের কাজ । তাদের মতে কবর বা মাজার ধ্বংস করা সোয়াবের কাজ । এই কয় দিন আগে ইরাকে যৌন জিহাদীরা ইউনুস আ., ওয়াসেস কুরনী রহ. -সহ অনেক নবী , সাহাবী ও তাবেয়ীদের মাজার ধ্বংস করেছে । আল্লাহর উপর তাদের গজব পড়ুক ।

কিন্তু জামায়াত – শিবিরের ভাইরা নিয়মিত মাজার ও কবর জিয়ারত করছেন । তারা মরহুম রফিক বিন সাইদী ও মরহুম কাদের মোল্লার কবর নিয়মিত জিয়ারত করছেন এবং তাদের কবরের সামনে দুয়া-দুরুদ-মুনাজাত করছেন এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করছেন ।

দেখুন, শিবিরের ভাইরা কীভাবে মরহুম কাদের মোল্লার কবর জিয়ারত করছেনhttps://www.facebook.com/photo.php?fbid=874319329264693&set=a.712098222153472.1073741838.100000599018799&type=1&theater;।

রফিক বিন সাইদীর কবর জিয়ারত করছেন জামায়াত-শিবিরের লোক ও তার ভক্তরা

ইদানিং আহলে হাদিস বা ওহাবি সম্প্রদায়ের লোকরা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার ধ্বংস করার জন্য ফেসবুকে ফতোয়া পর্যন্ত দিচ্ছে । জনগণ এসব এসব অসভ্য বেয়াদবদের চিনে রাখছে । 

ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনে কাসিরের মাজার, সিরিয়ার দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। মাজার মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলার হাদিস সঠিক হলে তাদের গুরুদের মাজার গুলো এভাবে স্বযত্নে রেখেছে কেন? কবর ভাঙার হাদিসটি মুনাফিকরা ভুলভাবে উপস্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের মুশরিকদের কবর গুলো ভাংতে হযতর আলি (রা) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোন সাহাবীর কবর নয়। তাদের হাদিস যদি মুসলমানসহ সবার কবর ভাঙ্গার ব্যাপারে হত তাহলে হযরত আলী (রা) এর খেলাফতের পর থেকে কোন কবর উঁচু হতোনা আর তাদের ভাঙার জন্য আজ কোন কবরই অবশিষ্ট থাকত না। এটা একটা অতি সরল্ল অংকের মত সোজা। উল্লেখ্য ইমাম ইবনে তাইমিয়া ওহাবিদের প্রধান নেতা । 

কবর জিয়ারত সম্পর্কে হাদিস গ্রন্হের ভাষ্য : 

মাজার জিয়ারত জায়েজ এবং সুন্নাতে রাসুল (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। দেখুন প্রমাণ>

ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বছরের প্রারম্ভে ওহুদ যুদ্ধে শহীদদের সমাধি জেয়ারতে যেতেন এবং বলতেন: السلام عليکم بما صبرتم فنعم عقبي الدار.

আপনাদের উপর সালাম! আপনারা আপনাদের ধৈর্যের ফলস্বরূপ আখেরাতে কি চমৎকার জায়গাই না পেয়েছেন।

আবু বকর, উমর এবং ওসমান (রা) একই ভাবে জেয়ারতে যেতেন।

সুত্র: –

১. মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৩:৫৭৩

২. আইনি, উমদাদুল কারী, ৮:৭০

৩. তাবরী, জামি আল কুরআন, ১৩:১৪২

৪. ইমাম সুউতি, দারুল ময়ানসুর, ৪:৬৪১

৫. তাফসীর ইবনে ই কাসীর।

মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: “তোমরা ক্কবর জিয়ারত কর কারণ এই অভ্যাস পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয়। (এ হাদিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে)

সুত্র:

১. মুসলিম ১:৬৭১ .. ৯৭৬

২. হাকীম আল মুস্তাদরাক: ১:৫৩১ .. ১৩৯০

পবিত্র মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘র রওজা জিয়ারতের ফজিলত: –

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যে আমার রওজা জিয়ারত করবে, কিয়ামতের দিনে তাঁর জন্যে আমার শাফায়াত অবধারিত।

সুত্র:

১. দারুল কুতনী, আল সুনান ২: ২৭৮)

২. বায়হাকি, শোহবুল ঈমান ৩: ৪৯০, এবং ৪১৫৯ এবং ৪১৬০)

৩. হাকীম তিরমিজি, নাওয়াদিরুল উসুল ২: ৬৭)

কবর জিয়ারত সম্পর্কিত আরো হাদিস ও ফিকহ গ্রন্হের উদৃতি : 

(১): হযরত বুরহিদাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো (মুসলিম শরীফ)।

(২) অন্য হাদিস শরীফ উনার মধ্যে আছে: হযরত ইবনে মসউদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পার। কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তিকে কমায় এবং আখিরাতকে স্মরণ করায়। (ইবনে মাযাহ)

(৩) কবর জিয়ারতের বৈধতা প্রসঙ্গে বিভিন্ন হাদীস পরিলক্ষিত হয়, আর এ সমস্ত হাদীসের ব্যাখ্যা হাফেজে হাদীস আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দিয়েছেন এভাবে:

জেনে রাখুন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা এ সমস্ত হাদীসের রায় অনুযায়ী মোস্তাহাব প্রমাণিত, তবে মহিলাদের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে।(ফতহুল বারী ফি শরহে বোখারী ৩য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা)

(৪) আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

কবর জিয়ারত এতে কোন অসুবিধা নেই, বরং এটা মোস্তাহাব। (ফতওয়ায়ে শামী)

(৫): পুরুষের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। (ফিক্বহুস সুন্নাহ্, ১ম খন্ড পৃঃ৪৯৯)

(৬) আল্লামা ইবনে আবেদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

ওহোদ পাহাড়ের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করা মোস্তাহাব। ইবনে শায়বা হতে বর্ণিত আছে যে, “রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বৎসরান্তে ওহোদের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করতে আসতেন। অতঃপর বলতেন, তোমাদের প্রতি সালাম, যেমন তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছিলে তেমনি পরকালে উত্তম বাসস্থান লাভ করেছ।

(৭) বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে খলিফাতুল মোসলেমীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু ও আমিরুল মো’মেনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই ধারাকে বজায় রেখেছিলেন। (উমদাতুল ফিক্বাহ)

(৮) বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন: সাইয়্যিদাহ্ ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহু প্রতি শুক্রবার হযরত হামযাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করতে যেতেন, অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় ভ্রাতা আবদুর রহমান রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করার জন্য মক্কা শরীফ যেতেন। (উমদাতুল ক্বারী ফি শরহে বোখারী)

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে এ ফতওয়াই স্পষ্ট প্রমাণিত যে, নিয়ত করে মাজার শরীফ জিয়ারত করা সম্পূর্ণ জায়েজ।

(৯) অন্য হাদীসে আছে:

তাবেয়ী মুহম্মদ বিন নোমান রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন॥ যে ব্যক্তি প্রত্যেক শুক্রবার আপন মা॥বাপের অথবা তাঁদের মধ্যে একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মা॥বাপের সহিত সদ্ব্যব্যবহারকারী বলে লেখা হবে। (বায়হাকী)

এ হাদীসেও এককভাবে কবর জিয়ারত করার কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি তাঁর মাতা॥পিতার কবর জিয়ারত করতে যাবে সে বাড়ী থেকে নিয়ত করেই রওয়ানা হবে অর্থাৎ জিয়ারতকারী একমাত্র কবর জিয়ারত করার জন্যই কবরস্থানে গমন করবে। আর এ ক্ষেত্রে দূর বা নিকট এর কোন পার্থক্য নাই। নিকটের যে হুকুম, দূরেরও একই হুকুম।

(১০) আল্লামা আবদুর রহমান যাফিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

কবর জিয়ারত এর ক্ষেত্রে নিকট ও দূরের কোন পার্থক্য নাই। (কিতাবুল ফিক্বাহ আলা মাযাহিবিল আরবা ১ম খন্ড ৫৪০ পৃঃ)

(১১) আল্লামা ইবনে আবেদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন॥

দূরবর্তী স্থানেও (কবর) জিয়ারতের জন্য গমন করা মোস্তাহাব। (শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃঃ)

(১২) হাকিমূল উম্মত মাওলানা আশ্রাফ আলী থানভী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন॥ “পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। জিয়ারত করার অর্থ দেখাশুনা। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কবর জিয়ারত করা উচিৎ। সেই দিন শুক্রবার হওয়াই সবচেয়ে ভাল। বুজুর্গানে দ্বীনের কবর জিয়ারত করার জন্য সফরে যাওয়াও দুরস্ত আছে”। (এমদাদুল ফতওয়া)

(১৩) হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি যখন কোন মাসআলা সমস্যার সমাধানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেন তখন আলমে ইসলামীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা নোমান বিন সাবেত কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফে এসে জিয়ারত করে তখায় দু’রাকাত নামাজ পড়তেন। এরপর হযরত ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের দরবারে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সমস্যা জানাতেন। আল্লাহ্ পাক তাঁর দোয়া কবুল করতেন অর্থাৎ মাসআলার যে সমস্যার জালে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে যেতেন ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলার বরকতে তা খুলে যেত। অতঃপর স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করতেন। উল্লেখ্য ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এ আগমন শুরু হত ফিলিস্তিন হতে, আর এই সূদুর ফিলিস্তিন থেকে আগমনের একমাত্র নিয়ত ছিল মাজার জিয়ারত করা। অন্য কোন উদ্দেশ্যে বাগদাদ এসে মাজার জিয়ারত করা নয় (আন্ নাসিয়াতুলিল ওহাবী)

(১৪) এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আযম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বরকত হাসিল করি। যখন আমার কোন সমস্যা দেখা দেয় আমি তাঁর মাজার শরীফে এসে প্রথমে দু’রাকাত নামাজ আদায় করি। অতঃপর তাঁর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের নিকট সমস্যা সমাধানের জন্য প্রার্থনা করি। তা অতি তাড়া তাড়ি সমাধান হয়ে যায়। (মুকাদ্দিমা,শামী ১ম খন্ড ৫৫ পৃঃ)

(১৫,১৬) শায়েখ ওলি উদ্দীন ইরাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন আমার পিতা জয়নুদ্দীন ইরাকী এবং শায়েখ আব্দুর রহমান ইবনে রজব হাসলী, হযরত ইব্রাহীম খলীল আলাইহিস সালাম এর জিয়ারতে বলেছিলেন; যখন শহরের নিকটবর্তী হলেন তখন ইবনে রজব বলতে লাগলেন, আমি খলীলুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম এর মসজিদে নামাজ পড়ার নিয়ত করে নিলাম যেন জিয়ারতের নিয়ত না থাকে। আমার পিতা বললেন, আপনিতো হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের বিপরীত আমল করলেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফর করা যায় না অথচ আপনি চতুর্থ এক মসজিদের নিয়ত করলেন আর আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের উপর আমল করেছি। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবর জিয়ারত করতে থাকবে। এমন কোন হাদীস নেই যাতে নবী আলাইহিস সালাম গণের কবরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদ মোতাবেক আমল করেছি। (ফাযায়েলে হজ্ব, জুরক্বানী)

(১৭) এ ছাড়াও সাহাবী রাদিআল্লাহু আনহু, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি গণের কবর জিয়ারতের সুস্পষ্ট ও যথেষ্ট প্রমান রয়েছে। ইমামে রাব্বানী আফজালুল আউলিয়া শায়েখ আহমদ সিরহিন্দী ফারুকী মোজাদ্দেদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ হাবীবুল্লাহ ইমামুত্ব ত্বারীকত হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফ জিযারত করতে গিয়েছিলেন। আর এতে জিয়ারত ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।(সীরাতে মোজাদ্দেদে আলফেসানীরহমতুল্লাহি আলাইহি

হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি শামদেশ হতে উট সওয়ার শুধু রওজায়ে পাকে তাঁর সালাম জানানোর জন্য পাঠিয়ে দিতেন।

ইহুদীদের বিখ্যাত পন্ডিত হযরত কা’ব ইবনে আহবার যখন ইসলাম গ্রহন করেন তখন হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু আনন্দিত হয়ে তাঁকে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওজা মোবারক জিয়ারতের জন্য মদীনা শরীফ আসতে বলেন, তিনি এটা কবুল করে মদীনা শরীফ এসেছিলেন।

কবর ও মাজার জিয়ারতের সময় যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে :

একটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, কবর বা মাজার জিয়ারত করতে গিয়ে যাতে শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকলাপ সংঘঠিত না হয়। এটা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য। শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ বলতে: কবরস্থানে বা মাজারে গিয়ে সিজদা করা, গান বাজনা করা, মহিলা পুরুষের বেপর্দা চলাফেরা ইত্যাদি এসমস্ত কার্যকলাপ মূলতঃই হারাম ।

উপসংহার :

কবর ও মাজার জিয়ারত বরকতময় ইবাদত । এই ইবাদত হতে আমাদের বিরত থাকা উচিত নয় । এজন্য আমাদের উচিত :

১। বাবা-মা-দাদা-দাদী-নানা-নানী-আত্ময় স্বজনদের কবর জিয়ারত করা ।

২। বিভিন্ন সময় বিখ্যাত ব্যক্তি ও ইসলাম প্রচারকদের কবর ও মাজার জিয়ারত করা ।

৩। কবর জিয়ারত করার জন্য বিভিন্ন দুয়া-দুরুদ-তাশবীহ-তাহলীল মুখস্হ করা এবং এই ব্যাপারে বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে চর্চা অব্যহত রাখা ।

কবর জিয়ারত করলে সোয়াব হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর চিন্তা উদয় হয় এবং পৃথিবী শেষ ঠিকানা উদয় হয় বলে নিজেকে পুন্যবান মুসলিম হওয়ার জন্য কবরস্হান ও মাজারে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করা উচিত এবং সেখানে যেয়ে শরিয়াত সম্মত উপায়ে দুয়া-দুরুদ-তাশবীহ-তাহলীল পড়তে হবে ।

ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগুল মুবিন ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : 
jalalreza.blogspot.com

কবর ভাঙ্গা নিয়ে দাঁত ভাঙ্গা জবাব

Standard

ওহাবী বিদয়াতিরা নিম্নবর্নিত হাদীসটির বিকৃত অর্থ,
ভুল তাফসির এবং মিথ্যাচার করে সরলপ্রান মুসলিমগনকে ধোঁকা
দিচ্ছে । হাদীসটি হল :
হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে
, তিনি হযরত আবুল হাইয়্যাজ আসাদী (রাঃ) এর উদ্দেশ্যে
বলেন, আমি কি আপনাকে এমন কাজের প্রতি উৎসাহিত করব না
, যা করার জন্য আমাকে রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করেছেন ? আর তা হল ফটো না
মিটিয়ে তা হাত ছাড়া করবে না, এবং উঁচু কবরকে সমতল না করে
ছাড়বে না । [ সহীহ মুসলিম শরীফঃ তিরমিযী শরীফঃ নং
-১০৮৯, আবু দাঊদ শরীফঃ হাদিস নং -৩২১
এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে নজদী
সন্ত্রাসবাদীরা সাহাবায়ে কেরাম এবং আহলে বায়েত এর
অসংখ্য মাজার ধুলিস্যাত করেছে ও করছে । কিন্তু যেসব
কবরকে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো
সেগুলো মুসলিমগনের কবর ছিল না, ছিল কাফিরদের কবর ।
রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে হযরত
আলী (রাদিঃ) যে কবরগুলো ধ্বংস করেছিলেন তা কখনো
সাহাবায়ে কেরামের কবরহতে পারেনা । কেননা রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের দাফন
কার্জে নিজে অংশ গ্রহণ করতেন । অধিকন্তু সাহাবা কেরাম ও
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরামর্শ ছাড়া কোনো
কাজ করতেন না । মুসলমানের যে কবর ছিলো তা সব রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুমতি সাপেক্ষে হয়েছে
তাহলে ওগুলো আবার কোন সাহাবার কবর যা অবৈধ ছিলো
আর হযরত আলী (রাদিঃ) তা ভেঙ্গে ফেললেন? কোন
সাহাবার কবরে ফটো রাখা হয়েছিল ? আসলে, সে
গুলো ছিল কাফির-মুশরিকদের কবর ।
সহিহ বুখারীর ভাষ্যকার হযরত ইবনে হাজার
আস্কালানি র ভাষ্য : সহিহ বুখারীর ভাষ্যকার হযরত
ইবনে হাজার আস্কালানি রহ, তার ভাষ্যে লিখেছেন “ …
“নবীগন ও ওদের অনুসারীদের কবর সমূহ বাদ দিয়ে
মুশরিকদের কবর গুলো ধ্বংস করা হয়েছিলো । কেননা
ওগুলো উপড়ে ফেলার কারণ ছিল তারা নবী (দঃ) নিয়ে
মানহানী করত.” [ তথ্যসূত্র : ফতহুল বারি – ২খন্ড – ২৬ পৃষ্ঠা ]
প্রিয় ইসলামি ভাইয়েরা ! দেখলেণ তো  বিদয়াতী
সন্ত্রাসবাদীরা  কিভাবে কুরআণ হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে
ফিতনা ছড়ায় ? আল্লাহ আমাদেরকে এই বিদয়াতী
সন্ত্রাসবাদী ওহাবী ফিতনা থেকে রক্ষা করুণ !

মাযারে ফুল,আতর, গিলাপ দেওয়া প্রসঙ্গে

Standard

“মাযারে ফুল অর্পন, গিলাফ চড়ান ও
বাতি জ্বালানো “”
আমি এর আগের বহছে আরয করেছি যে আল্লাহর
ওলীগণ ও তাদের মাযারসমূহ আল্লাহর নিদর্শন
এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অর্থাৎ ধর্মের
নিশান সমূহের সম্মান করার জন্য
কুরআনী নির্দেশ রয়েছে। ﻭَﻣَﻦْ ﻳُّﻌَﻈِّﻢْ ﺷَﻌَﺎﺋِﺮَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓَﺎِﻧَّﻬَﺎ
ﻣِﻦْ
ﺗَﻘْﻮَﻯ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮْﺏِ (কেউ আল্লাহর
নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে, এ-তো তার
হৃদয়ের তাকওয়া সজ্ঞাত)
এ সম্মানের বেলায় কোন শর্তারোপ
করা হয়নি। এক এক দেশে এক এক ধরণের
রীতি প্রচলিত আছে। যেই দেশে এবং যেই
সময়ে যে ধরণের বৈধ তাযীম প্রচলিত আছে,
সেই
মতে করা যায়েয। তাঁদের কবরসমূহে ফুল অর্পন
চাদর চড়ান ও বাতি জ্বালানো ইত্যাদির উদ্দেশ্য
সম্মান প্রদর্শন, তাই এগুলো জায়েয।
তাজা ফুল যেহেতু এক প্রকার জীবন আছে,
সেহেতু ওটা তসবীহ তাহলীল করে। যার
ফলে কবরবাসি ছওয়াব পেয়ে থাকেন অথবা তাঁর
শাস্তি হ্রাস পায় এবং যিয়ারতকারীগণ এর
থেকে সুঘ্রাণ লাভ করে। তাই এটা প্রত্যেক
মুসলমানের কবরের উপর আর্পন করা জায়েয। এর
তাসবীহের বরকতে যে কবরবাসির আযাব হ্রাস
পায়, এর প্রমাণ মিশকাত শরীফের ﺍﺩﺍﺑﺎﻟﺨﻼﺀ অধ্যা
য়ের প্রথম পরিচ্ছেদে সেই
হাদীছে রয়েছে,
যেখানে বর্ণিত আছে একবার হুযুর আলাইহিস
সলাম দু’কবরের পাশ দিয়ে যাবার সময় ইরশাদ
ফরমান কবরবাসির আযাব হচ্ছে। এদের
মধ্যে একজন প্রস্রাবের ছিটা থেকে সতর্ক
থকতো না এবং অপরজন পরনিন্দা করতো।
ﺛُﻢَّ ﺍَﺧَﺬَﺟَﺮِ ﻳْﺪَﺓً ﺭَﻃْﺒَﺔً ﻓﺸﻘَّﻬَﺎ ﻧِﺼْﻔَﻴْﻦِ ﺛُﻢَّ ﻏَﺮَﺯ ﻓِﻰْ ﻛُﻞِّ ﻗَﺒْﺮٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓً
ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎﺭَ ﺳَﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻟﻤﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖ ﻫَﺬَﺍ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻌَﻠَّﻪَ ﺍَﻥْ ﻳّﺨَﻔَّﻒَ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ
ﻣَﺎﻟَﻢْ ﻳَﻴْﺒِﺴَﺎ
অত:পর তিনি (দ:) একটি কাঁচা ডাল
নিয়ে তা দু’ভাগ করে দু’কবরে গেড়ে দিলেন।
সাহাবাগণ আরয করলেন-ইয়া রাসুলাল্লাহ,
আপনি এরকম কেন করলেন? তখন তিনি বললেন:
যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল না শুকাবে, ততক্ষণ
পর্যন্ত ওদের আযাব কম হবে। এ হাদীছের
ব্যাখ্যা প্রসংগে ইমাম নববী (রহ:) বলেন।
ﻭَﻗِﻴْﻞَ ﺍِﻧَّﻬُﻤَﺎ ﻳُﺴَﺒِّﺤَﻦِ ﻣَﺎﺩَﺍﻡَ ﺭَﻃَﺒَﺘَﻴْﻦِ ﻭَﺍﺳْﺘَﺤَﺐَّ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀُ ﻗِﺮْﺀَﺓَ ﺍﻟْﻘُﺮْ ﺍَﻥِ
ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ ﻟِﻬَﺬَﺍﻟْﺤَﺪِﻱْﺙِ ﺍِﺫْ ﺗِﻠَﺎﻭَﺕُ ﺍﻟْﻘُﺮْ ﺍَﻥِ ﺍَﻭْﻟَﻰ ﺑِﺎﻟﺘَّﺨْﻔِﻴْﻒِ ﻣِﻦْ ﺗَﺴْﺒِﻴْﺢِ
ﺍﻟْﺠَﺮِﻳْﺪِ
যতক্ষণ পর্যন্ত ডাল কাঁচা থাকবে ততক্ষণ
তসবীহ পাঠ করবে। এ জন্য আযাব কম হবে। এ
হাদীছের উপর ভিত্তি করে উলামায়ে কিরাম
কবরের পার্শ্বে কুরআন পাঠ করাকে মুস্তাহাব
বলেছেন। কেননা আযাব কমানোর বেলায়
ডালের
তসবীহ থেকে কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব
অনেক
বেশী।
আশআতুল লুমআত গ্রন্থে এ হাদীছের
প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত আছে-
ﺗﻤﺴﻚ ﻛﻨﻨﺪ ﺟﻤﺎﻋﺖ ﺑﻪ ﺍﻳﮟ ﺣﺪﻳﺚ ﺩﺭﺍﻧﺪ ﺍﺧﺘﻦ ﺳﺒﺰﮦ ﻭﮔﻞ ﺭﻳﺤﺎﻥ ﺑﺮ
ﻗﺒﻮﺭ
একটি জামাত এ হাদীছকে কবর সমূহে কাঁচা ফুল
ও সুগন্ধি দেয়ার বৈধতার দলীল হিসেবে পেশ
করে থাকেন। এ হাদীছের ব্যাখ্যায়
মিরকাতে বর্ণিত আছে-
“বোঝা গেল যে, মাযারে ফুল দেয়া সুন্নাত”।
প্রসিদ্ধ তাহতাবী আলা মারাকিল ফলাহ কিতাবের
৩৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-
ﻗَﺪْ ﺍَﻓْﺘَﻰ ﺑَﻌْﺾُ ﺍﻟْﺎَﺋِﻤَّﺔِ ﻣِﻦَ ﻣُﺘَﺎﺧِّﺮِﻯْ ﺍَﺻﺤَﺎﺑِﻨَﺎ ﺑِﺎَﻥَّ ﻣَﺎﺍﻋْﺘِﻴْﺪَ ﻣِﻦْ ﻭَﺿَﻊِ
ﺍﻟﺮِّﻳْﺤَﺎﻥِ ﻭَﺍﻟْﺠَﺮِﻳْﺪِ ﺳُﻨَّﺔً ﺑِﻬَﺬَﺍ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳْﺚِ
“আমাদের উলামায়ে কিরাম এ হাদীছ
থেকে ফতওয়া দিয়েছেন যে, কবরে সুগন্ধি ও
ফুল
অর্পনের যে রীতি আছে, তা সুন্নাত”।
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত ইবারত সমূহ “কতেক
আলিম ফতওয়া দিয়েছেন” এর ভাবার্থ জায়েয
বলা নয়, বরং এর ভাবার্থ হচ্ছে কতেক আলিম
একে সুন্নাত মনে করেছেন। কেননা জায়েযত
সবাই বলেন, কেবল সুন্নাত বলার
ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।
ফতওয়ায়ে আলমগীরী কিতাবুল কারাহাত পঞ্চম
খন্ড ﺯﻳﺎﺭﺕ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত
আছে-
ﻭَﺿْﻊَ ﺍﻟْﻮُﺭَﻭْﺩِ ﻭﺍﻟﺮِّﻳَﺎﺟَﻴْﻦِ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻘَﺒُﻮْﺭِ ﺣﺴﻦ
“কবর সমূহের উপর ফুল ও সুগন্ধি রাখা উত্তম”
। ফতওয়ায়ে শামীর ﺯﻳﺎﺭﺕ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ শীর্ষক
আলোচনায়
উল্লেখ আছে-
ﻭَﻳُﻮْﺣَﺬُ ﻣِﻦْ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳْﺚِ ﻧَﺪْﺏُ ﻭَﺿْﻊِ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻟْﺎِﺗْﺒَﺎﻉِ ﻭَﻳُﻘَﺎﺱُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
ﻣَﺎﺍﻋْﺘِﻴْﺪَ ﻓِﻰْ ﺯَﻣَﺎﻧِﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﻭَﺿْﻊِ ﺍَﻏْﺼَﺎﻥِ ﺍﻟْﺎَﺱِ ﻭَﻧَﺤْﻮِﻩِ
এ হাদীছ ও অন্যান্য হাদীছ থেকে ওই সমস্ত
জিনিস কবরের উপরে রাখাটা মুস্তাহাব
বোঝা যায় এবং এ সুবাদে কবরের উপর খেজুর
গাছের ডাল ইত্যাদি দেওয়াটা, যা আমাদের
যুগে প্রচলিত আছে, তা মুস্তাহাব বলা যাবে।
একই জায়গায় শামীতে আরও উল্লেখিত আছে-
ﻭَﺗَﻌْﻠِﻴْﻠُﻪُ ﺑِﺎﻟﺘَّﺨْﻔِﻴْﻒِ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣَﺎﻟَﻢْ ﻳَﻴْﺒِﺴَﺎ ﺍَﻯْ ﻳُﺨَﻔَّﻒُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺑِﺒَﺮْﻛَﺔِ
ﺗَﺴْﺒِﻴْﺤِﻬِﻤَﺎ ﺍِﺫْ ﻫُﻮَ ﺍﻛْﻤَﻞُ ﻣِﻦْ ﺗَﺴْﺒِﻴْﺢِ ﺍﻟْﻴَﺎﺑِﺲِ ﻟِﻤَﺎﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺧْﻀَﺮِ ﻧَﻮْﻉُ ﺣَﻴَﺎﺓٍ
শুকনা না হওয়াটাই হচ্ছে আযাব কম হওয়ার
কারণ অর্থাৎ ওইসবের তাসবীহের বরকতে কবর
আযাব কম হবে, কেননা কাঁচা ডালের তসবীহ
শুকনা ডালের তসবীহ থেকে বেশী কার্যকর।
কারণ
ওটাতে এক প্রকার জীবন আছে।
উপরোক্ত হাদীছ, মুহাদ্দেছীন ও
ফকীহগণের
ইবারতসমূহ থেকে দুটি বিষয় জানা গেল
একটি হচ্ছে প্রত্যেক মুসলমানের কবরে সজীব
বস্তু রাখা জায়েয। হুযুর আলাইহিস সালাম ওই দু-
কবরের উপর ডাল পুঁতে দিয়েছিলেন, যাদের আযাব
হচ্ছিল। দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে আযাব কম
হওয়াটা কেবল হুযূর আলাইহিস সালামের দুআর
কারণে নয় বরং এটা সজীব বস্তুর বরকতের ফল।
যদি কেবল দুআয় আযাব কম হতো,
তাহলে হাদীছে শুকনা হওয়ার শর্তারোপ কেন
করা হলো? তাই, আজকাল আমরাও যদি ফুল
ইত্যাদি অর্পন করি, তাতেও ইনশাআল্লাহ
কবরবাসির উপকার হবে। সাধারণ মুসলমানদের
কবর কাঁচা রাখার এটাও একটা অভিপ্রায়
যে বর্ষাকালে এর উপর সবুজ ঘাস
জন্মাবে এবং এর তসবীহের বরকতে কবরবাসির
আযাব কম হবে। অতএব, প্রমাণিত হলো,
প্রত্যেক মুসলমানের কবরে ফুল ইত্যাদি অর্পন
জায়েয। মৌলভী আশরাফ আলী সাহেব
‘ইসলাহুর
রুসুম’ গ্রন্থে লিখেছেন যে ফুলমূল
ইত্যাদি পাপী তাপীদের কবর সমূহে অর্পন
করা উচিৎ, আওলিয়া কেরামের কবরে নয়।
কেননা তাঁদের মাযার সমূহে আযাব হয় না।
কথা ঠিক, তবে জেনে রাখা দরকার যে, যেই
আমলসমূহ পাপীদের পাপ হ্রাস করে,
তা নেকবান্দাদের পদ মর্যাদা বৃদ্ধির সহায়ক
করে। যেমন মসজিদের
দিকে যাত্রা করলে আমাদের গুনাহ মাফ হয় আর
নেকবান্দাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ওনার
যুক্তি থেকে এটাই প্রকাশ পায় যে নেকবান্দাগণ
যেন মসজিদে না আসেন এবং মাগফিরাতও
কামনা না করেন, কেননা তাঁরা গুনাহ
থেকে পবিত্র। জনাব, ওইসব ফুলের তসবীহের
বরকতে তাঁদের কবরে খোদার রহমত আরও
বৃদ্ধি পায়, যেমন কুরআন তিলাওয়াতের
ফলে হয়ে থাকে।
(২) আওলিয়া কিরামের কবরের উপর চাদর
বা গিলাফ চাড়ানো জায়েয, কেননা এর
ফলে যিয়ারতকারীদের কাছে ছাহেবে কবরের
মর্যাদা প্রকাশ পায়। ফতওয়ায়ে শামীর ৫ম
খন্ডে কিতাবুল কারাহিয়া ﺍﻟﻠﺒﺲ শীর্ষক
অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
ফতওয়ায়ে হুজ্জাতে আছে যে, কবরে গিলাফ
চড়ানো মাকরূহ। কিন্তু আমি বলতে চাই যে,
বর্তমান কালে যদি সাধারণ লোকের
দৃষ্টিতে সম্মানবোধ প্রত্যাশা করা হয়,
যাতে কবরবাসীর প্রতি অবজ্ঞা করা না হয়
বরং উদাসীন ব্যক্তিদের মনে আদব ও ভয়ের
সৃষ্টি হয়, তাহলে গিলাফ চড়ান যায়েয।
কেননা আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
ফতওয়ায়ে শামীর এ ইবারত থেকে বোঝা গেল
যে, আল্লাহর ওলীগনের শান-মান প্রকাশ করার
জন্য যে কোন বৈধ কাজ জায়েয। গিলাফ
চড়ানোর গোড়ার কথা হলো যে, হুযুর
আলাইহিস সালামের পবিত্র যুগেও পবিত্র
কাবা ঘরে গিলাফ ছিল। তিনি (দ:) এটা নিষেধ
করেননি। শত শত বছর থেকে হুযুর আলাইহিস
সালামের রওযা পাকের উপর সবুজ রং এর
রেশমী চাদর চড়ানো আছে, যা খুবই মূল্যবান।
আজ পর্যন্ত কেউ একে নাজায়েয বলেননি।
মকামে ইব্রাহীম অর্থাৎ যেই পাথরের উপর
দাঁড়িয়ে হযরত খলীল (আ:) কাবা শরীফ
তৈরী করেছিলেন, সেই পাথরের উপরও গিলাফ
চড়ানো আছে এবং ইমারত তৈরী করা হয়েছে।
খোদার কি শান! নজদী ওহাবীরাও
ওগুলোকে পূর্ববৎ রেখে দিয়েছেন। এখন
আমার
প্রশ্ন হলো, এগুলোর উপর কেন গিলাফ
চড়ানো হলো? নিশ্চয় এসবের মর্যাদার জন্য
তা করা হয়েছে। অনুরূপ আওলিয়া কিরামের
প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তাদের কবর
সমূহের উপরও গিলাফ ইত্যাদি রাখা মুস্তাহাব।
তফসীরে রূহুল বয়ানের দশ পারায় সূরা তওবার
আয়াত – ﺍِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻌْﻤُﺮَ ﻣَﺴَﺎﺟِﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻣَﻦْ ﺍَﻣَﻦ ﺑِﺎﻟﻠﻪِ এর
প্রসংগে বর্ণিত আছে-
ﻓَﺒِﻨَﺎﺀ ﺍﻟﻘّﺒﺎﺕ ﻗُﺒُﻮْﺭِ ﺍﻟْﻌُﻠَﻤَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟْﺎَﻭْ ﻟِﻴَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟﺼُّﻠْﺤَﺎﺀِ ﻭَﻭَﺿْﺢُ ﺍﻟﺴَّﺘُﻮْﺭِ
ﻭَﺍﻟْﻌَﻤَﺎﺋِﻢِ ﻭَﺍﻟﺜِّﻴَﺎﺏِ ﻋﻞَ ﻗُﺒُﻮْﺭِﻫِﻢْ ﺍَﻣْﺮً ﺟَﺎﺋِﺰ ﺍِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﻘَﺼْﺪُ ﺑِﺬَﺍﻟِﻚَ
ﺍﻟﺘَّﻌْﻈِﻴْﻢُ ﻓِﻰْ ﺍﻋﻴﻦِ ﺍﻟْﻌَﺎ ﻣَّﺔِ ﺣَﺘَّﻰ ﻟَﺎ ﻳَﺤْﺘَﻘِﺮَﻭْﺍ ﺻَﺎﺣِﺐَ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻘَﺒْﺮِ
উলামা, আওলিয়া ও পুণ্যাত্মাদের কবরসমূহের
উপর ইমারত তৈরী করা এবং গিলাফ, পাগড়ী,
চাদর চড়ানো জায়েয, যদি এর দ্বারা, সাধারণ
লোকের দৃষ্টিতে তাঁদের সম্মান প্রকাশ
এবং লোকেরা যেন তাঁদেরকে নগন্য
মনে না করে,
এ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।
(৩) সাধারণ মুসলমানদের
কবরে প্রয়োজনবোধে এবং আল্লাহর
ওলীদের
মাযারসমূহে তাদের শান-মান
প্রকাশার্থে বাতি জ্বালানো জায়েয। যেমন
প্রসিদ্ধ কিতাব
হাদিকায়ে নদিয়া শরহে তরীকায়ে মুহাম্মদীয়া (মিসরী)
দ্বিতীয় খন্ডের ৪২৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-
কবরসমূহে বাতি নিয়া যাওয়া বিদআত
এবং অপব্যয়। অনুরূপ ফতওয়ায়ে বযাযিয়াতেও
উল্লেখিত আছে যে, এসব নির্দেশ তখনই
প্রযোজ্য, যখন অনর্থক করা হবে। কিন্তু
যদি কবরস্থানে মসজিদ হয় বা কবরটা রাস্তার
পার্শ্বে হয় বা ওখানে কেউ বসে আছেন এমন
হয়, অথবা যদি কোন ওলী বা কোন বিশিষ্ট
আলিমের কবর হয়, তাহলে তাঁদের আত্মার
প্রতি সম্মানের জন্য এবং জনগণের অবগতির
জন্য, যাতে এটা ওলীর কবর
বুঝতে পেরে ফয়েয
হাসিল করতে পারে ওখানে বসে আল্লাহর
কাছে প্রার্থনা করতে পারে,
বাতি জ্বালানো জায়েয।
তাফসীরে রূহুল বয়ানে দশ পারায় সূরা তওবার
আয়াত- ﺍِﻧَّﻤَﺎﻳَﻌْﻤُﺮُ ﻣَﺴْﺠِﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ এর
ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে-
অনুরূপ আওলিয়া কেরাম ও পূণ্যাত্মাদের কবরের
কাছে তাঁদের শান-মানের জন্য প্রদীপ ও
মোমবাতি জ্বালানো যেহেতু সঠিক উদ্দেশ্য
প্রণোদিত, সেহেতু জায়েয
এবং আওলিয়া কিরামের (মাযারের) জন্য তৈল ও
মোমবাতি বা তাঁদের কবরের পার্শ্বে তাদেরই
সম্মানার্থে জ্বালানো হয়। এ উদ্দেশ্যে মানত
করা জায়েয। এ ব্যাপারে নিষেধ না করা উচিত।
আল্লামা নাবলুসী (রহ:) স্বরচিত ‘কাশপুন নূর
আন আসহাবিল কুবুর’ পুস্তিকায় একই বক্তব্য
লিপিবদ্ধ করেছেন। বিবেকও তাই বলে। অর্থাৎ
এসব কাজ জায়েয, যেমন আমি গম্বুজের
আলোচনায় বলেছি যে ওসব আওলিয়া কিরামের
মাযারের শান-শওকতের দ্বারা প্রকৃত
পক্ষে ইসলামেরই শান-শওকত প্রকাশ পায়।
ওয়ায়েজী আলিমের উন্নতমানের পোশাক
পরিচ্ছদ পরিধান করা উচিত। ঈদের দিন প্রত্যেক
মুসলমানের ভাল কাপড় পরিধান করা ও
সুগন্ধি ইত্যাদি লাগানো সুন্নাত কেন জানেন?
যাতে, তার সাথে আলিংগন করতে লোক
আগ্রহান্বিত হয়। এতে বোঝা গেল, যার
সাথে সাধারণ মুসলমানদের সম্পর্ক, তার উচিৎ
পরিপাটি অবস্থায় থাকা। আওলিয়া কিরামের
মাযারসমূহে আল্লাহর বান্দাদের যিয়ারতের স্থান
। তাই ওগুলোকেও পরিপাটি অবস্থায়
রাখা বাঞ্চনীয়।
আমি নজদী ওহাবীদের আমলে হজ্ব
করতে গিয়েছিলাম।
ওখানে গিয়ে দেখি কাবা শরীফের
চারিদিকে বৃত্তাকার অনেক
বিজলী বাতি জ্বলছে এবং হাতিম শরীফের
দেয়ালেও আলো ছিল। ঠিক কাবা শরীফের দরজার
সামনে চার
চারটি আলোকবর্তিকা জ্বালানো হতো। যখন
মদিনা শরীফে এলাম
সেখানে রওযা পাককে কাবা শরীফ থেকেও
আলোকোজ্জল দেখলাম। ওখানকার
বাল্বগুলো খুবই প্রখর ও উজ্জল ছিল। মানুষের
অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি ও মহত্ব প্রকাশ
করার জন্যই এর আয়োজন। আওলিয়া কিরামের
মাযারসমূহেও অনরূপ আলোর
ব্যবস্থা করলে ক্ষতি কি? আজকাল
বিয়ে শাদী উপলক্ষে বাড়ীঘর আলোকসজ্জিত
করা হয়ে থাকে। অনেক সময় আলোর প্রদীপও
জ্বালানো হয়, যার জন্য অনেক তৈল লাগে।
মাদ্রাসার সভায় আলোকসজ্জাখাতে অনেক
টাকা খরচ হয়। মাত্র কয়েক বছর আগের কথা,
দেওবন্দীরা মুরাদাবাদে জমিয়তে উলামার এক
সম্মেলনের আয়োজন করেছিল,
যেখানে চোখ
ঝলসানো বিজলী বাতি লাগানো হয়েছিল। আমার
মনে হয় কমপক্ষে দেড়শ টাকা (তৎকালীন)
বিজলীর জন্য খরচ হয়েছিল। এটা কেবল সমবেত
জনতাকে খুশি করার জন্যই করা হয়েছিল। অনুরূপ
ধর্মীয় সভা-সমিতিতে রংবেরংয়ের
দ্বারা পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়
এবং ওয়ায়েজীনের গলায় ফুলের মালা দেয়া হয়।
কই, এগুলোকেত না অপব্যয় বলা হয়, না হারাম
আখ্যা দেয়া হয়। তাই উরসের সমাবেশ যেহেতু
ধর্মীয় সমাবেশ, সেহেতু তথায়ও এসব কাজ
জায়েয। -সূত্রঃ জা’আল হক

নিয়ত করে মাযারে যাওয়া প্রসঙ্গে

Standard

নিয়ত করে মাযার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা খাছ
সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। যা কিনা অসংখ্য হাদীস শরীফের
দলীল দ্বারা প্রমানিত। অথচ কিছু বাতিল
ফির্কা,ওহাবী,সালাফী ,দেওবন্দী, জামাতি এরা কবর
যিয়ারতকে বিদয়াত, শিরিক বলে থাকে , শুধু তাই নয়
তারা যিয়ারতকে কবর পূজা বলেও আখ্যায়িত করে থাকে !
শুধু তাই নয়, তারা সারা বিশ্বে সকল মাযার শরীফ
ভেঙ্গে ফেলার জন্য চেষ্টা করছে এবং অনেক মাযার শরীফ
ভেঙ্গেও ফেলেছে।
নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক !
তাই এ সকল বিষয়কে সামনে রেখে এই লিখনীর প্রয়াস।
আশাকরি এ দলীল সমূহ বাতিল ওহাবীদের মোকাবিলায়
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের
কাজে আসবে।
আসুন আমরা বিস্তারিত দলীল আদিল্লা দ্বারা প্রমান
পেশ করি মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা খাস
সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত !
সহীহ হাদীস শরীফের মধ্যে এরশাদ হয়েছে–
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺯﺍﺭ ﻗﺒﺮﻱ ﻭﺟﺒﺖ ﻟﻪ
ﺷﻔﺎﻋﺘﻲ
অর্থ: হযরত ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত, হুজুর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এরশাদ
করেছেন, যে ব্যাক্তি আমার কবর ( রওজা শরীফ) যিয়ারত
করলো তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে গেল।”
দলীল–
√ জামে ছগীর ১৭১ পৃষ্ঠা
√ শিফাউস সিকাম ২
√ ওফাউল ওফা ৩৯৪ পৃষ্ঠা !
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
রওজা শরীফ যিয়ারত প্রসঙ্গে শতাধিক হাদীস শরীফ
আছে।
প্রয়োজনে সেগুলা পরে উল্লেখ করা যেতে পারে !
আরো একটি গুরুত্বপূর্ন সহীহ হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻻﻣﺪﻳﻨﺖ ﺑﻬﺎ ﻗﺒﺮﻱ ﻭ ﺑﻬﺎ ﺑﻴﺘﻲ ﻭ ﺗﺮﺑﺘﻲ ﻭﺣﻖ ﻋﻠﻲ ﻛﻞ ﻣﺴﻠﻢ
ﺯﻳﺎﺭﺗﻬﺎ
অর্থ: হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ
মুবারক করেন, মদীনা শরীফ আমার ঘর, আর আমার কবরও
মদীনা শরীফই হবে। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত এর
যিয়ারত করা।”
দলীল-
√ মিশকাত শরীফ।
√ মিরকাত শরীফ।
√ আশয়াতুল লুময়াত।
√ শরহূত ত্বীবি।
এসকল হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুহম্মদ ইউসুফ
বিন নূরী বলেন-
ﺩﻫﺐ ﺟﻤﺮﺓ ﺍﻻﻣﺔ ﺍﻟﻲ ﺍﻥ ﺭﻳﺎﺭﺓ ﻗﺒﺮﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻋﻈﻊ ﺍﻟﻘﺮﺑﺎﺕ
ﻭﺍﻟﺴﻔﺮ ﺍﻟﻴﻬﺎ ﺟﺎﺀﺯ ﺑﻞ ﻣﻨﺪﻭﺏ ﻣﺴﺮ ﻭﻋﻴﺘﻬﺎ ﻣﺤﻞ ﺍﺟﻤﺎﻉ ﺑﻼ ﻧﺰﺍﻉ
অর্থ: জমহুর উম্মত এর মাযহাব হল রওজা মুবারক যিয়ারত
করা উত্তম ইবাদত, আর নিয়ত করে সফর করা শুধু জায়েজই নয়
বরং মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত এতে কোন
প্রকার অসুবিধা নেই।”
দলীল-
√ শরহে তিরমিযী ৩য় খন্ড ৩২৯ পৃষ্ঠা।
√ মা’আরিফুস সুনান।
এবার আসুন কবর যিয়ারত প্রসঙ্গে অন্যান্য হাদীস শরীফ
গুলা লক্ষ্য করি।
বিখ্যাত হাদীস শরীফের কিতাব ” মিশকাত শরীফে ” কবর
যিয়ারত প্রসঙ্গে ” যিয়ারাতুল কুবুর” বা কবর যিয়ারত নামক
একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছে !
সেখান থেকে কিছু দলীল পেশ করা হলো –
ﻋﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻨﺖ ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ
ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ
অর্থ : হযরত বুরায়দা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, হুজুর
পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম,
এখন তোমরা তা করতে পারো।”
দলীল-
√ মুসলিম শরীফ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭০ ( বাংলা অনুবাদ, সুবিধার জন্য
হাদীস নম্বর বাংলা অনুবাদ কিতাব
থেকে দেয়া হলো যাতে সবাই সহজেই খুজে পায় )
ﻛﻨﺖ ﻧﻬﻴﺘﻜﻢ ﻋﻦ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻓﺰﻭﺭﻭﻫﺎ ﻓﺎ ﻧﻬﺎ ﻧﺰﻫﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻭﺗﺬﻛﺮﺓ ﺍﻻﺧﺮﺓ
অর্থ : হযরত ইবনে মাসুদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত,
নিশ্চয়ই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত
করতে নিষেধ করেছিলাম , এখন তোমরা তা করতে পারো।
কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তি কমায়
এবং আখিরাতকে স্মরন করায় !”
দলীল-
√ ইবনে মাজাহ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭৭
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
একদিন নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মদীনা শরীফের কিছু কবরের নিকট গেলেন অতঃপর তাদের
দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, সালাম হোক তোমাদের
প্রতি হে কবরবাসী !”
দলীল-
√ তিরমীযি শরীফ
√ মিশকাত শরীফ ১৬৭৩
সহীহ হাদীস শরীফে বর্নিত আছে-
ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺍﻟﻨﻌﻤﺎﻥ ﻳﺮﻓﻊ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﻲ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺯﺍﺭ ﻗﺒﺮ ﺍﺑﻮﻳﻪ ﺍﻭ
ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺟﻤﻌﺔ ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻭ ﻛﺘﺐ ﺑﺮﺍ
অর্থ: হযরত ইবনে নোমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ননা করেন,
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যাক্তি প্রত্যেক জুমুয়ার দিন নিজ পিতা-
মাতা অথবা তাদের মধ্যে একজনের কবর যিয়ারত
করবে তাকে মাফ করে দেয়া হবে |”
দলীল–
√ শুয়াইবিল ঈমান লিল বায়হাক্বী
√ মিশকাত ১৬৭৬
এ পবিত্র হাদীস শরীফেও একক ভাবে কবর যিয়ারত করার
কথা বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি তাঁর পিতা মাতার যিয়ারত
করতে যাবে সে বাড়ী থেকে নিয়ত করেই
রওয়ানা হবে অর্থাৎ যিয়ারতকারী একমাত্র কবর যিয়ারত
করার উদ্দেশ্যে কবরস্থানে গমন করবে। আর এ
ক্ষেত্রে দূরবর্তী কিংবা নিকটবর্তী দূরত্বের কোন
পার্থক্য নাই। নিকটেও যে হুকুম দূরেও একই হুকুম।
এ প্রসংগে আল্লামা আব্দুর রহমান
যাফীরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﻭﻻ ﻓﺮﻕ ﻓﻲ ﺍﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﺑﻴﻦ ﻛﻮﻥ ﺍﻟﻤﻘﺎﺑﺮ ﻗﺮﻳﺒﺔ ﺍﻭ ﺑﻌﻴﺪﺓ
অর্থ: কবর যিয়ারতের ক্ষেত্রে নিকট ও দূরের কোন পার্থক্য
নাই।”
দলীল-
√ কিতাবুল ফিক্বাহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া ১ম খন্ড
৫৪০ পৃষ্ঠা।
হযরত আল্লামা ইবনে আবেদীন
শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﻧﺪﺏ ﺍﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﻭﺍﻥ ﺑﻌﺪ ﻣﺤﻠﻬﺎ
অর্থ: দূরবর্তী স্থানেও (কবর) যিয়ারতের জন্য গমন
করা মোস্তাহাব।”
দলীল-
√ শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা।
এছাড়া আরো অসংখ্য সহীহ হাদীস শরীফে কবর যিয়ারত
করার ব্যাপারে বলা হয়েছে। এসকল হাদীস শরীফের
ব্যাখ্যায় বিখ্যাত মুহাদ্দিস , হাফিযে হাদিস ,
আল্লামা ইবনে হাজার
আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﺍﻋﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻗﺪ ﺛﺒﺖ ﺑﻬﺬﻩ ﺍﻻ ﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻝ ﺟﺎﻝ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﺟﻤﻴﻌﺎ ﻭﻗﺪ ﺍﺧﺘﻠﻔﻮﺍ ﻓﻲ
ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ
অর্থ : জেনে রাখুন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কবর যিয়ারত এ
সকল হাদীসের রায় অনুযায়ী মোস্তাহাব প্রমানিত,
তবে মহিলাদের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে।”
দলীল-
√ ফতহুল বারী ফি শরহে বোখারী ৩য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা |
বিখ্যাত ইমাম আল্লামা ইবনে আবেদীন
শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﻭﺑﺰﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﺍﻱ ﻻ ﺑﺎ ﺑﺎ ﺀﺱ ﺑﻬﺎﺑﻞ ﺗﻨﺪﺏ
অর্থ- কবর যিয়ারত এতে কোন অসুবিধা নেই,
বরং এটা মোস্তাহাব!
দলীল-
√ ফতোয়ায়ে শামী ২/২৪২
শুধু তাই নয় ওহুদ যুদ্ধে শহীদ গনের মাজার শরীফ যিয়ারত
করার জন্য স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই প্রতি বছর ওহুদ
প্রঙ্গনে যেতেন !
যেটা বর্নিত আছে —
ﻭﻓﻴﻪ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺍﻥ ﻳﺰﻭﺭ ﺷﻬﺪﺍﺀ ﺟﺒﻞ ﺍﺣﺪ ﻟﻤﺎﺭﻭﻱ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ ” ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ
ﻳﺎﺀ ﺗﻲ ﻗﺒﻮﺭ ﺍﻟﺸﻬﺪﺍﺀ ﺑﺎﺣﺪ ﻋﻠﻲ ﺭﺃﺱ ﻛﻞ ﺣﻮﻝ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﺴﻼ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﻤﺎ ﺻﺒﺮﺗﻢ ﻓﻨﻌﻢ ﻋﻘﺒﻲ ﺍﻟﺪﺍﺭ
অর্থ : ওহুদ পাহাড়ের শহীদগনের ( কবর) যিয়ারত
করা মোস্তাহাব। ইবনে আবী শায়বা হতে বর্নিত আছে ,
হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
প্রতি বৎসরান্তে ওহুদের শহীদগনের কবর যিয়ারত
করতে আসতেন। অতঃপর বলতেন, তোমাদের প্রতি সালাম ,
যেমন তোমরা ধৈর্য ধারন
করেছিলে তেমনি পরকালে উত্তম বাস স্থান লাভ করেছ।”
দলীল–
√ ফতোয়ায়ে শামী ২য় খন্ড ২৩৪ পৃষ্ঠা !
বর্নিত আছে, পরবর্তীতে খলিফাতুল মুসলেমীন হযরত আবু
বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আমিরুল মু’মিনিন ওমর
ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই ধারাকে বজায়
রেখেছিলেন। উনারাও উহুদ জিহাদে শহীদ গনের মাজার
শরীফ যিয়ারত করতে যেতেন।”
দলীল-
√ উমদাতুল ফিক্বাহ।
সেটার ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে আবেদীন
শামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﻧﺪﺏ ﺍﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﻭﺍﻥ ﺑﻌﺪ ﻣﺤﻠﻬﺎ
অর্থ : দূরবর্তী স্থানেও ( কবর) যিয়ারতের জন্য গমন
মুস্তাহাব !”
দলীল-
√ শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা !
বিখ্যাত ফিক্বাহের কিতাব “ফিক্বহুস সুন্নাহ” কিতাবে এ
প্রসংগে উল্লেখ আছে-
ﺯﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻘﺒﻮﺭ ﻣﺸﺘﺤﺒﺔ ﻟﻠﺮﺟﺎﻝ
অর্থ: পুরুষদের জন্য কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব।”
দলীল-
√ ফিক্বহুস সুনান ১ম খন্ড ৪৯৯ পৃষ্ঠা।
বিখ্যাত হাদীস শরীফ বিশারদ, হাফিজে হাদীস
আল্লামা হযরত বদরুদ্দীন
আইনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেছেন-
ﻻﻥ ﺍﻟﺴﻴﺪﺓ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻛﻨﺖ ﺗﺰﻭﺭ ﻗﺒﺮ ﺣﻤﺰ ﻛﻞ ﺟﻤﻌﺔ ﻭ ﻛﺎﻧﺖ ﻋﺎﻳﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ
ﺗﺰﻭﺭ ﻗﺒﺮ ﺍﺧﻴﻬﺎ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻤﻜﺔ ﻛﺬﺍ
অর্থ: হযরত সাইয়্যিদা ফাতিমাতুয যাহরা রদ্বিয়াল্লাহু
আনহা প্রতি শুক্রবার হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু
উনার কবর যিয়ারত করতে যেতেন, অনুরূপ ভাবে হযরত
আয়েশা সিদ্দিকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা স্বীয় ভাই আব্দুর
রহমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার কবর যিয়ারত করার জন্য
মক্কা শরীফ যেতেন।”
দলীল-
√ উমদাতুল ক্বারী ফি শরহে বুখারী ৮ম খন্ড ২৫০ পৃষ্ঠা।
শুধু তাই নয় শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম, ইমাম
শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজে ইমাম আবু
হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ
যিয়ারত করার জন্য আসতেন ! যেটা ইমাম
শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি নিজেই বলেন-
ﺍﻧﻲ ﻻﺗﺒﺮﻙ ﺑﺎﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺍﺝﺀﻱ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ ﻓﺎﺫﺍ ﻋﺮﺿﺖ ﻟﻲ ﺣﺎﺟﺔ ﺻﻠﻴﺖ ﺭ ﻛﻌﺘﻴﻦ ﻭ ﺳﺎﺀﻟﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ
ﻋﻨﺪ ﻗﺒﺮﻩ ﻓﺘﻘﻀﻲ ﺳﺮﻳﻌﺎ
অর্থ : নিশ্চয়ই আমি ইমাম আবু
হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বরকত হাসিল করি।
যখন আমার কোন সমস্যা দেখা দেয় তখন আমি উনার
মাজার শরীফে এসে প্রথমে দুই রাকাত নামাজ আদায়
করি। অতঃপর উনার উসীলা দিয়ে আল্লাহ পাকের নিকট
সমস্যা সমাধানের জন্য প্রর্থনা করি।
তা অতি তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যায়।”
দলীল–
√ ফতোয়ায়ে শমী, মুকাদ্দিমা ১ম খন্ড ৫৫ পৃষ্ঠা
এছাড়াও সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তাবেয়িন,
তাবে তাবেঈন রহমাতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন
উনাদের কবর যিয়ারত করার অসংখ্য দলীল প্রমাণ রয়েছে।
বিখ্যাত ওলী আল্লাহ
মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি
সুলত্বনুল হিন্দ হাবীবুল্লাহ খাজা মঈনুদ্দীন
চিশতী আজমেরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার মাযার
শরীফ যিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। এতে যিয়ারত ভিন্ন
আর অন্য কোন উদ্দেশ্যে ছিলো না।”
দলীল-
√ সিরাতে মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি
আলাইহি।
আর এ প্রসংগে ওহাবীদের ইমাম আশরাফ
আলী থানবী ফতোয়া দিয়েছে-
“পুরুষদের জন্য কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব। যিয়ারত অর্থ
দেখাশুনা। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কবর যিয়ারত
করা উচিত। সেদিন শুক্রবার হওয়াই সবচাইতে ভালো।
বুজুর্গানে দ্বীনের কবর যিয়ারত করার জন্য সফরে যাওয়াও
দুরস্ত আছে।”
দলীল-
√ ইমদাদুল ফতোয়া।
দেওবন্দী সকল গুরুদের পীর হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ
মুহাজির মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “যিয়াউল
ক্বুলুব” কিতাবের শেষে তার অনুসারীদের জন্য “কতিপয়
বিশেষ উপদেশ” অনুচ্ছেদে লিখেন-
” মাশায়েখ ও পীর আওলিয়াগনের মাজার যিয়ারত করবেন।
অবসর সময় তাদের মাজারের পার্শ্বে এসে রূহানিয়াতসহ
মুতাওয়াজ্জুহ হবে এবং স্বীয় পীর মুর্শিদের সরতে তাদের
ধ্যান করবে ও ফয়েজ হাসিল করতে সচেষ্ট হবে। কারন
তারা আল্লাহ ও রসূলের স্থলাভিষিক্ত বলে গন্য। আর এসবই
বরকতময় কর্ম।”
শুধু তাই নয়, ইমামগন জীবনে একবার কবর যিয়ারত ওয়াজিব
ফতোয়া দিয়েছেন। ইমাম ইবনে হাজম
রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,-
“জীবনে একবার কবর যিয়ারত করা ওয়াজিব।”
দলীল-
√ আইনী ৪র্থ খন্ড ৭৬ পৃষ্ঠা।
√ ফতহুল মুলহীম ২য় খন্ড ৫১ পৃষ্ঠা।
√ বজলুল মাজহুদ ৪ খন্ড ২১৪ পৃষ্ঠা।
এছাড়া আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে , যার দ্বারা প্রমানিত
হয় মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারত করা সুন্নত !
এখন বর্তমানে কিছু মাজারে শরীয়ত বিরোধী কাজ
দেখা যায় । যেমন- গান-বাজনা, নারী পুরুষ অবাধ
মেলামেশা ,বিভিন্ন নেশা করা,সিজদা ইত্যাদি !!
এগুলো মোটেই জায়িয নেই , এগুলা প্রতিরোধ করতে হবে।
কিন্তু তাইবলে যিয়ারত ত্যাগ করা যাবে না।
যেটা ইবনে হাজার
আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন–
ﻭﻻ ﺗﺘﺮﻙ ﻟﻤﺎ ﻳﺤﺼﻞ ﻋﻨﺪﻫﺎ ﻣﻦ ﻣﻨﻜﺮﺍﺗﻮ ﻣﻔﺎ ﺳﺪ ﻛﺨﺘﻼﻁ ﺍﻟﺮﺟﺎﻝ ﺑﺎﻟﻨﺴﺎﺀ ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﻻﻥ ﺍﻟﻘﺮﺑﺎﺕ ﻻ
ﺗﺘﺮﻙ ﻟﻤﺜﻠﺬﻟﻚ ﺑﻞ ﻋﻠﻲ ﺍﻻ ﻧﺴﺎﻥ ﻓﻌﻠﻬﺎ ﻭ ﺍﻧﻜﺎﺭ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﺑﻞ ﻭ ﺍﺯﺍﻟﺘﻬﺎ ﺍﻥ ﺍﻣﻜﻦ
” সেখানে যদি শরীয়ত বিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হয়, যেমন
মহিলা পুরুষ একত্র মিশ্রন, তথাপি কবর যিয়ারত ত্যাগ
করা যাবে না। বরং মানুষের নব উদ্ভাবিত( বিদয়াত)
কাজকে দূর করতে হবে।
দলীল–
√ দুররুল মোখতার ২য় খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা !
আর মহিলাদের যিয়ারতের ব্যাপারে বিভিন্ন মত আছে।
যেহেতু মহিলাদের ব্যাপারে বেপর্দা হওয়ার সমূহ
সম্ভাবনা রয়েছে , এছাড়া তাদের দ্বারা বিভিন্ন
বিলাপ , ক্রন্দন ইত্যাদি হয়ে থাকে তাই এদের
ব্যাপারে ইমাম মুস্তাহিদ গন মাকরুহ ফতোয়া দিয়েছেন !
তবে যদি পর্দার খেলাপ না হয় এবং অন্যান্য শরীয়তের
খিলাপ কিছু না হয় তবে মহিলারাও যিয়ারত
করতে পারবে !
দলীল–
√ শামী
√ মারাকিউ ফালাহ
√ শরহে সুন্নাহ
উপরোক্ত দলীল আদিল্লা দ্বারা যিয়ারত সুন্নাত প্রমান
হলো। এখন এই সুন্নতকে যারা পূজা বলে কটাক্ষ
করবে নিঃসন্দেহে সেটা কুফরী হবে। কারন
সুন্নতকে অবজ্ঞা করা কুফরী !
মাযার শরীফ যিয়ারত সম্পর্কে এত সহীহ দলীল থাকার
পরও বর্তমানে ইহুদী এজেন্ট সালাফী , লা মাযহাবী,
দেওবন্দী, তবলিগীরা পবিত্র মাযার শরীফের
বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে।
সিরিয়াতেতো অনেক মাযার শরীফ ধ্বংসই
করে দিয়েছে তারা। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও
ওহাবী দেওবন্দীরা মাযার শরীফে হামলা করছে। এই সকল
বাতিল ফির্কা মাযার শরীফের বিরুদ্ধে যে সকল
আপত্তি উত্থাপন করে সে গুলা হচ্ছে-
(১) মাযার শরীফে নাকি পুজা হয়। সে কারনে তাদের
প্রচলিত একটা শব্দ হচ্ছে মাযার পুজা।
(২) মাযার শরীফ যিয়ারত নাকি শিরক।
আসলে তাদের কল্পনাপ্রসূত ভিত্তিহীন আপত্তির কোন
স্থানই পবিত্র শরীয়তের মধ্যে নাই। মাযার শরীফ
হচ্ছে যিয়ারতের স্থান অর্থাৎ কোন নবী রসূল আলাইহিমুস
সালাম, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম
উনারা যে স্থানে শায়িত আছেন সেটাই হচ্ছে মাযার
শরীফ। ছিয়া ছিত্তার পবিত্র হাদীস শরীফ
দ্বারা প্রমানিত মাযার শরীফ যিয়ারত করা খাছ সুন্নত।
এবং নিয়ামত অর্জন করার একটি অন্যতম স্থান।
এখানে যেহেতু আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী মানুষ গন
শায়িত আছেন তাই এই সব স্থানে অবিরত রহমত নাজিল
হয়।
মুসলমানদের রহমত শূন্য করে দেয়ার জন্য ইহুদীদের ষড়যন্ত্র
হচ্ছে মাযার শরীফ বিরোধী প্রচারনা চালানো। এ
প্রচারনা পাবলিকের সামনে গ্রহনযোগ্য করার জন্য
ইহুদীরা আরো একটা ষড়যন্ত্র করে সেটা হচ্ছে মাযার
শরীফকে কেন্দ্র করে কিছু ভন্ড বিদয়াতি ফকির নেশাখোর
জটাধারীকে নিয়োগ দেয়। এরা মাযার শরীফকে কেন্দ্র
করে বিভিন্ন গানবাজনা, বেপর্দা মহিলার সমাগম,
নেশাখোর দিয়ে বিভিন্ন শরীয়ত বিবর্জিত কাজ
জারি করে দেয়া।
এররর ইহুদীদের প্লান অনুযায়ী তাদের নিয়োজিত এজেন্ট
ওহাবী সালাফীরা এই সকল কাজকে পুঁজি করে মাযার
শরীর যিয়ারতকে হারাম, শিরক বলে ফতোয়া জারি করে।
এবং ক্ষেত্রবিশেষে মাযার শরীফ ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ
নিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!!
সম্মানিত পাঠকগন ! আপনারা এবার বলুন কিছু ভন্ড
বিদয়াতি ফকিরের বেশরা কাজের জন্য মাযার শরীফ
কি দোষ করলো ?
যেখানে প্রয়োজন ছিলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাযার শরীফ
থেকে সকল বিদয়াতি হারাম কাজ মুক্ত
করে সুন্নতী কায়দায় যিয়ারতের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
সেটা না করে এরা আজ মাযার শরীফ ধ্বংস
এবং যিয়ারতকারীদের মাজারপুজারী বলে আখ্যা দিচেছ।
আল্লাহ ক্ষমা করুন , কোন মসজিদে যদি গান বাজনার
প্রচলন হয় সেক্ষেত্রে কি ঐ মসজিদে গান বাজনা বন্ধ
করতে হবে নাকি মসজিদ
ভেঙ্গে ফেলতে হবে নাকি মাসজিদে জামায়াত বন্ধ
করতে হবে ?
মাযার শরীফ সংক্রান্ত এসকল ইহুদীদের ষড়যন্ত্র রোধ
করতে সকলের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এবং সুন্নতের
বিরুদ্ধে অবস্থানকারী এসকল ইহুদী সালাফীদের মুখোশ
খুলে মানুষকে সচেতন করা।
যারা মাযার শরীফের বিরুদ্ধে কথা বলছে মূলত
এরা ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী। এই ওহাবীদের কিছু
কর্মকাণ্ড এখানে সংযুক্ত করে দেয়া হলো,
যেগুলা দেখলে সহজে বুঝতে পারেন একমাত্র ইহুদী এজেন্ট
ওহাবী সালাফী দেওবন্দীরাই মাযার শরীফের
বিরোধীতা করে।
আসুন জেনে নেই, ইহুদী বংশোদ্ভূত সউদী সরকার ১৯২৫
সালে ক্ষমতায় বসার পর মক্কা ও
মদীনা শরীফে কি কি ইসলামী ঐতিহ্য ধ্বংস করেছে:
মসজিদ:
১) সাইয়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামজা রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু’র ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাজার শরীফ।
২) হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা রদ্বিয়াল্লাহ
তায়ালা আনহা ঐতিহাসিক মসজিদ।
৩) আল মানরাতাইন মসজিদ।
৪) নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
সম্মানিত বংশধর হযরত জাফর ইবনে ছদ্বিক রহমতুল্লাহি’র
পুত্র হযরত আলী আল উরাইদি রহমতুল্লাহি মসজিদ
এবং মাজার শরীফের গম্বুজ। ২০০২ সালের ১৩ আগস্ট
তা ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
৫) খন্দকের ময়দানে ৪টি ঐতিহাসিক মসজিদ।
৬) আবু রাশিদ মসজিদ
৭) হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
মসজিদ, মদীনা শরীফ।
৮) রাজত আল শামস মসজিদ, মদীনা শরীফ।
মাজার শরীফ:
১) জান্নাতুল বাক্বি, মদীনা শরীফ। যেখানে প্রায় ৭
হাজার সাহাবীর মাজার শরীফ বিদ্যামান ছিলো। ১৯২৫
সালের ৮ই শাওয়াল সউদ ইহুদীরা জান্নাতুল
বাকিতে হামলা ও লুটপাট চালায়। তারা নবীজির পবিত্র
বংশধর এবং সম্মানিত সাহাবীগণের পবিত্র মাজার
শরীফগুলো সাথে জঘণ্যধরনের বেয়াদবি করে।
(নাউযুবিল্লাহ)।
২) জান্নাতুল মুয়াল্লা, মক্কা শরীফ। সেখানে নবীজির
পারিবারিক অতি ঘনিষ্টজনদের, যেমন: নবীজির সম্মানিত
পূর্বপুরুষ এবং উম্মুল মু’মীনিন হযরত খাদিজাতুল
কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা’র পবিত্র মাজার
শরীফ ছিলো। ১৯২৫ সালে এ পবিত্রস্থান ধ্বংস
করে সউদী ইহুদীরা।
৩) নবীজি সম্মানিত আব্বাজানের পবিত্র মাজার শরীফ
ধ্বংস করা হয়।
৪) নবীজির সম্মানিত আম্মাজানের পবিত্র মাজার শরীফ
ধ্বংস করা হয় ১৯৯৮ সালে।
৫) নবীজির সম্মানিত বংশধর হযরত মুসা কাজিম
রহমতুল্লাহির সম্মানিত আম্মাজান এবং হযরত জাফর
ছাদিক রহমতুল্লাহি’র সম্মানিত স্ত্রী’র পবিত্র মাজার
শরীফ ধ্বংস করা হয়।
৬) উহুদের ময়দানে শহীদান সাহাবীগণের পবিত্র মাজার
শরীফ ধ্বংস করা হয়।
৭) ১৯৭৫ সালে জেদ্দায় সকল মানুষের মাতা হযরত
হাওয়া আলাইহাস সালামের সম্মানিত রওজা শরীফ ধ্বংস
এবং সিলগালা করে দেয়া হয়।
ঐতিহাসিক সম্মানিত স্থান সমূহ:
১) নবীজি যে পবিত্র ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
২) হযরত খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার
উনার পবিত্র ঘর। যেখনে জন্ম গ্রহণ করেন সম্মানিত
নবী কন্যা হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহা এবং সম্মানিত নবী পুত্র হযরত কাসিম
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু।
৩) হিজরতের
পরে নবীজি মদীনা শরীফে যে ঘরে গিয়ে অবস্থান
করেছিলেন।
৪) দ্বার-ই-আরকাম, ইসলামের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র।
৫) সম্মানিত নবীপূত্র হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু’র পবিত্র জন্মস্থান।
৬) নবীজির সম্মানিত বংশধর হযরত জাফর ছাদিক
রহমতুল্লাহির পবিত্র ঘর।
৭) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র পবিত্র ঘর,
যেখানে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু এবং হযরত
ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু জন্মগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ১৩০০ বছর ইসলাম একভাবে চলে আসছিলো।
কিন্তু ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সহযোগীতায়
সউদী ইহুদীরা ক্ষমতায় বসার পর তাদের ফতওয়া বিভাগ
থেকে অপব্যাখ্যামূলক ফতওয়া দিতে থাকে এবং এ জঘন্য
অপকর্মে লিপ্ত হয়। এই জঘন্য কর্মের মাধ্যমে তারা একদিক
থেকে সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে বেয়াদবি করে,
অন্যদিকে মুসলমানদের ইতিহাস-ঐতিহ্যশূণ্য করে ফেলে।
বলাবাহুল্য মুসলমানদের কেন্দ্রস্থালে আসন
গেড়ে ফেলা এ ইহুদীদের বিরুদ্ধে অনেক আগেই জিহাদ
করা ফরজ ছিলো। কিন্তু আফসুস মুসলমানদের জন্য,
যারা জ্ঞানের অভাবে এখনও গাফেল রয়েছে।
(ছবি: (১) ১৯২৫ সালের পূর্বে উম্মুল মু’মিনিন হযরত
খাদিজাতুল কুবরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার
মাজার শরীফ যা ধ্বংস করে সউদী ইহুদীরা। (২+৩)
নির্মাণ কাজের অজুহাত দিয়ে ভাঙ্গা হচ্ছে পবিত্র
স্থাপনা সমূহ)
সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/
Destruction_of_early_Islamic_heritage_sites_in_Saudi_Arabia

প্রশ্নঃ আমরা মাজারে কেন যাই ?
এতে কোন ফজিলত আছে ?
সাহাবাগণ , সালফে সালেহীনগণ
কি মাজারে যেতেন ?
উত্তরঃ মাজারে যাওয়ার কয়েকটা কারণ
রয়েছে । নিম্নে মাজারে যাওয়ার কারণসহ
সমস্হ প্রশ্নের উত্তর দলীল সহকারে উপস্থাপন
করা হলো:-
১ নং কারণঃ মাজারে যাওয়া সাহাবাগণের
সুন্নাত । যেমন হাদিস শরীফে এসেছে..
ﺍﺻﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺤﻂ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮ_ ﻓﺠﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮ
ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺳﺘﺴﻒ ﻻﻣﺘﻚ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﻗﺪ
ﻫﻠﻜﻮﺍ ﻓﺎﺗﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ ﻓﻘﻴﻞ ﻟﻪ ﺍﺋﺖ ﻋﻤﺮ ﻓﺎﻗﺮﺋﻪ
ﺍﻟﺴﻼﻡ _ ﻭﺍﺧﺒﺮﻩ ﺍﻧﻜﻢ ﻣﺴﺘﻘﻴﻤﻮﻥ
হযরত ওমর রঃ এর সময় একদা অনাবৃষ্টির
কারণে মানুষের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল । তখন এক
সাহাবী হযরত বেলাল বিন হারেস রঃ রাসূল
দঃ এর রওযা মোবারকে এসে আবেদন করল,
ইয়া রাসূলাল্লাহ দঃ আপনার উম্মত ধ্বংশ
হয়ে যাচ্ছে আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির
জন্য প্রার্থনা করুন ।
সে সাহাবিকে স্বপ্নযোগে বলা হল , হযরত ওমর
রঃ কে গিয়ে সালাম বল এবং তাকে বল
যে তোমাদেরকে বৃষ্টি দান করা হবে ।
সুবহানাল্লাহ !
_______________________________
* আল মুসান্নাফ ,ইবনে আবি শায়বাহ । (খন্ড
১২ ,পৃঃ৩২ হাদিস নং ১২০৫১.)
*হযরত ইবনে হাজর আসকালানী রহঃ, ফতহুল
বারী শরহে বুখারী ,
(খন্ড ২ পৃঃ ৪৯৫ ও ৪১২)
_______________________________
হযরত ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে হাজর
আসকালানী ,ও ইমাম
কোস্তলানী রহঃ তারা বলেছেন
ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ
অত্র হাদিস খানা সহীহ সনদে বর্ণিত !
২নং কারণঃ- আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের
রওযা হল দোআ কবুলের বিশেষ স্হান ।
যেমন ইমাম শাফেয়ী রহঃ বলেন …
ﺍﻧﻲ ﻻﺗﺒﺮﻙ ﺑﺎﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺍﺟﻲﺀ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ ﻓﺎﺫﺍ ﻋﺮﺿﺖ ﻟﻲ
ﺣﺎﺟﺔ ﺻﻠﻴﺖ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻭﺟﺌﺖ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ ﻭﺳﺎﻟﺖ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﺎﺟﺔ
ﻋﻨﺪﻩ ﻓﻤﺎ ﺗﺒﻌﺪ ﻋﻨﻲ ﺣﺘﻲ ﺗﻘﻀﻲ _
নিশ্চয়ই আমি ইমাম আবু হানিফা রঃ হতে বরকত
হাসিল করি এবং আমি তার রওজায় জিয়ারত
করতে আসি । আমার যখন কোন প্রয়োজন
পড়ে তখন আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে তার
কবরে আসি এবং তার পাশে দাড়িয়ে আল্লাহর
নিকট মুনাজাত করি । অতঃপর আমি সেখান
থেকে আসতে না আসতেই আমার প্রয়োজন পূর্ণ
হয়ে যায় । সুবহানাল্লাহ !
_______________________________
ফতোয়ায়ে শামী , খন্ড ১ পৃঃ ১ .
তারিখে বাগদাদ , খন্ড ১ পৃঃ ১২৩
রুদ্দুল মুখতার খন্ড ১ পৃঃ ৪১
আলখায়রাতুল হেসান , পৃঃ ৯৪
_______________________________
ওহাবী ভাইদের বলছি । আপনারা কি নিজেদের
ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর চেয়ে বড়
মুফতী মনে করেন ? নাউযুবিল্লাহ ।
(খ ) শাহ আব্দুল হক মোহাদ্দেস
দেহলবী রহঃ যিনি সকলের কাছে মান্য ও
গ্রহণযোগ্য , এবং যিনি প্রচ্যের
বুখারী হিসেবে পরিচিত । তিনি তার
কিতাবে ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর
একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন হযরত
মুছা কাজেম এর কবর শরীফ দোআ কবুল হবার জন্য
পরশ পাথরের মত পরীক্ষিত ! সুবহানাল্লাহ ।
_
______________________________
# আশিয়াতুল লুমআত
( খন্ড ২ পৃঃ ৯২৩ ).
৩ নং কারণঃ- সম্মানিত জায়গা বলে.. যেমন
আল্লাহ তাআলার বাণী
ﻭﻣﻦ ﻳﻌﻈﻢ ﺷﻌﺎﺋﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﺎﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺗﻘﻮﺍﻱ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ
যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শন সমূহকে তাজিম
বা সম্মান করল তার নিশ্চয়ই উহা অন্তরের
তাকওয়া বা খোদাভীতির অন্তর্ভুক্ত । (আল
কোরআন)
_______________________________
আর যেহেতু আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তার
নিদর্শনের অন্তর্ভূক্ত সেহেতু তাদের
প্রতি সম্মান করা মূলত খোদাভীতির অন্তর্ভূক্ত