অনেকে জানতে চেয়েছেন, কুরবানীর টাকা বন্যার্তদের দান করে দেয়া যাবে কিনা?

Standard

উক্ত প্রশ্নে উত্তর হচ্ছে, কখনোই না। কারন কুরবানী হচ্ছে আল্লাহ পাকের বিধান। আল্লাহ পাক বলেনে, لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ অর্থ : “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানীর বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ তায়ালার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নামে পশু কুরবানী করে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : ৩৪) এ আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণ হলো, কুরবানী করা আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে প্রত্যেক উম্মতের জন্য বিধান। আর আল্লাহ পাকের বিধান পালন করা বান্দার আবাশ্যিক দায়িত্ব। হাদীছ শরীফে বর্নিত হয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا. অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবেনা সে যেনো ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ ২/ ৩২১: হাদীছ ৮২৫৬, ফতহুল বারী ১০/৩, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৫/৪৩২, শরহে যারকানী ৩/১০৪) এই হাদীছ শরীফ থেকে যা বোঝা গেলো সামর্থবান ব্যক্তিকে অবশ্যই কুরবানী করতে হবে। কুরবানী না করলে সে মুসলানদের নামাজেও আসতে পারবে না। অর্থাৎ মুসলিম জামাত থেকে সে বিতাড়িত হবে। তারমানে তার পরিনতিও ভালো হবে না। কুরবানী করা হচ্ছে ঈদের দিনের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। হাদীছ পাকে আছে, مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا ‘ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” (তুহফাতুৃল আহওয়াযী শরহে জামিউত তিরমিযী ৪/১৪৫) সূতরাং কোন সমর্থবান লোকের জন্য কুরবানী না করে এ টাকা অন্যত্র দেয়া হচ্ছে সর্বশ্র্রেষ্ঠ আমল ত্যাগ করা নামান্তর। কোন ভাবেই কুরবানী বাদ দিয়ে এর টাকা কোথাও দান করা যাবে না। যেটা আল্লাহ পাকের বিধান সেভাবেই করতে হবে। কেউ যদি দান করতে চায় কুরবানীর টাকা রেখে অন্য যে ফান্ড আছে সেখান থেকে দিতে হবে। এর অন্যথা করলে আল্লাহ পাকের বিধানের উপর খবরদারী হবে, যা ঈমানহানীর কারন। আল্লাহ পাক আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

কুরবানী বিষয়ক আরো বিস্তারিত মাসআলা জানতে এখানে ক্লিক করুন- কুরবানীর মাসআলা

Advertisements

রসুলে পাকের শানে কটুক্তির শাস্তি

Standard

প্রশ্ন: জনৈক শিক্ষক তার এক বক্তব্যে বলেন রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আগে ‘‘জিরো ছিল পরে হিরো হয়েছে।’’ রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শানে এমন কটূক্তির শরয়ী ফয়সালা কি হবে? ক্বোরআন ও হাদিসের আলোকে জানালে উপকৃত হব।  উত্তর: মুসলিম মিল্লাতের বিজয়, সাফল্য, সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব এবং পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার মধ্যে নিহিত। পরিপূর্ণ ঈমানের প্রাণ হলো রসূলে আকরাম নূরে মুজাস্সাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেম-প্রীতি, ভক্তি ও ভালোবাসা। আর পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার নিমিত্তে অপরিহার্য হয়ে যায় যে নবীয়ে করিম রউফুর রহিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শানে কোন রূপ অবমাননা করা। ইচ্ছাকৃত জেনে শুনে প্রিয়নবীর (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এবং অন্যান্য যে কোন নবী-রাসূলের শানে কটূক্তি ও বেয়াদবী করা কুফরী। আর আমাদের প্রিয় নবী সহ অন্যান্য নবী-রাসূলগণের শানে বেয়াদবী ও কুফরী করার শাস্তি হল ক্বোরআন-সুন্নাহর বিধান মতে মৃত্যুদণ্ড এমনও বর্ণনা রয়েছে যে, তার জন্য তওবা ও ক্ষমার সুযোগ নেই। যেমন প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও সহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখাকারী আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ও ইমাম আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি উল্লেখ করেছেন- اجمع العلماء اَنَّ شَاتِمَ النَّبى صلى الله عليه وسلم المنتقص له كَافِرٌ والوعيد جَارً عليه بعذاب الله له وحكمَهُ عِنْدَ الائمة القَتْلَ ومِنْ شَكًّ فى كفره وعذابه فهو كافر- (فتح البارى جلد ৮- صفحة ১৩ وعمدة القارى جلد ৮- صفحة ৩৪৭) অর্থাৎ উম্মতে ওলামা-এ কেরামের নিকট এ মর্মে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, হুযূর করিম রউফুর রহিম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শান ও মানে অবমানকারী কাফির। তার জন্য আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে কঠিন আযাবের বিধান রয়েছে। আর ইমামগণের মতে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর যে ব্যক্তি তার কাফির ও আল্লাহর আযাবের যোগ্য হওয়াকে সন্দেহ করবে সেও কাফির। [ফাতহুলবারী শরহে সহীহ বোখারী: ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩ ও ওমদাতুলকারী শরহে সহীহ বোখারী ৮ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪৭] উল্লেখ, ইমাম কাযী আয়াজ মালেকী আলায়হির রহমতও তাঁর রচিত শেফা শরীফে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম কামাল উদ্দীন ইবনুল হুম্মাম হানাফী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি তাঁর রচিত হেদায়ার ব্যাখা গ্রন্থ ফাতহুল কাদীর-এ বলেছেন- كل مَن ابغض رسول الله صلى الله عليه وسلم بقلبه كان مرتدًا فالسابُ بطريق اَولَى وان سبَّ سُكران اَن لايعفى عنه- (فتح القدير جلد ৪- صفحة ৪০৭) অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামার প্রতি বিদ্বেষ ও দুশমনি পোষণ করবে সে মুরতাদ সাব্যস্ত হবে এবং নবীজির শানে অবমাননাকারী অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই মুরতাদ সাব্যস্ত হয়ে যাবে। যদি কেউ মাতাল অবস্থায়ও নবীজির শানে গালি দেয় বা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে সে অবস্থায়ও তার জন্য কোন ক্ষমা নেই। [ফাতহুল কাদীর: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৭] সুতরাং যে বা যারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শানে গালি-গালাজ করবে, দোষারোপ করবে, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর পূত-পবিত্র সত্তা, বংশ, দ্বীন অথবা কোন চরিত্রের প্রতি দোষত্র“টি আরোপ করার অসদুদ্দেশ্যে হুযূর আকরম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে কোন সাধারণ ও নগণ্য বস্তুর সঙ্গে তুলনা করে তারা প্রিয় নবীর শানে বেয়াদবী করার কারণে বেঈমান হিসেবে গণ্য হবে। আর তাদের এসব বেয়াদবী প্রমাণিত হলে তাদের সাজা মৃত্যুদণ্ড। যা ইসলামী আদালতের কাজী/ বিচারক এবং সরকারী প্রশাসন কার্যকর করবে। সাধারণ মানুষ এমনকি সমাজের সর্দার-মাতব্বর, ইমাম-খতিব, মুফতি, চেয়ারম্যান-মেম্বার, কাউন্সিলর এর জনপ্রতিনিধি কেউ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে না। আর এ ধরনের বেয়াদবদের শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড তা সাহাবায়ে কেরামের পবিত্রযুগ হতে অদ্যাবধি উম্মতে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরাম, মুজতাহিদগণ এবং ইমামগণের সর্বসম্মত ফতোয়া ও ফায়সালা। উল্লেখ্য যে, হুযূর আকরাম রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর শানে যদি কেউ জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত তার বক্তব্যে এ কথা বলে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আগে জিরো ছিল পরে হিরো হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ ধরনের মন্তব্য প্রিয়নবীর শানে বেয়াদবী ও কটূক্তির নামান্তর। তাফসিরে ছাবীসহ অনেক নির্ভরযোগ্য ফিকহ্ ফতোয়া গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে যে কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত প্রিয় রাসূলের (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) শানে সামান্যতমও হালকাপনিও বেয়াদবী করে সে নিঃসন্দেহে বেঈমান, মরদুদ এবং দুনিয়া-আখিরাতে অভিশপ্ত হয়ে যাবে। এমনকি তার তাওবাও কবুল করা হবে না। আর উপরিউক্ত মন্তব্য যদি না জেনে হঠাৎ করে মুখ দিয়ে অনিচ্ছাকৃত বের হয়ে যায়- তবে অবশ্যই সে অবগত হওয়ার পর খালিস নিয়তে তাওবা করবে। এ ধরনের শব্দ আর কোন সময় মুখ দিয়ে উচ্চারণ করবে না। আর যদি কেউ এ ধরনের মন্তব্য না করা সত্ত্বেও সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয় তখন অপবাদকারীকে অবশ্যই তাওবা করতে হবে এবং যার প্রতি অপবাদ দেয়া হয়েছে তার থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। الله ورسوله اعلم بالصواب [ওমদাতুলকারী কৃত- ইমাম বদরুদ্দীন আইনী হানাফী রাহ., ফাতহুলবারী কৃত- ইমাম হাজর আসকালানী রাহ., ফাতহুল কদীর কৃত- ইমাম ইবনে হুম্মাম হানাফী রাহ., শেফা শরীফ কৃত- কাযী আয়াজ মালেকী রাহ., তাফসীরে ছাবী কৃত- ইমাম সাবীহ রাহ. ইত্যাদি]

পীরকে বাবা বলা যাবে কিনা?

Standard

প্রথম প্রশ্নের উত্তর ঃ 

‘বাবা’ এই শব্দটা কেবল মাত্র জন্মদাতা বাবার জন্য খাস নয়। বাবা বলে কাউকে ডাকলেই তার মানে সে জন্মদাতা বাবা তা নয় এর উদাহরণ আমরা আসে পাশে ও নিজের পরিবারে লক্ষ্য করতে পারি। আমার ছোট শিশু বাচ্চাদের স্নেহ ভালো দিয়ে ‘বাবা শোনো’ ‘বাবা এসো’ ইত্যাদি বলি অতএব এখানে শিশুদের ক্ষেত্রে আমরা ‘বাবা’ শব্দটি স্নেহ ভালোবাসার উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করছি। আমরা চাচা কাকা নিজের জন্মদাতা বাবার নিজের ও দূর সম্পর্কের ভাইদেরকে আমরা ‘বড় বাবা,ছোট বাবা,মেজো বাবা’ ইত্যাদি ভাবে ডেকে থাকি ।এখানে আমরা ‘বাবা’ শব্দটি কাকা বা চাচা এই অর্থে ব্যাবহার করছি । এই সব ক্ষেত্রে যখন আমরা পরিবার ও সমাজে ‘বাবা’ শব্দটি ব্যবহার করছি তখন তাতে কোন দোষ ওহাবী দেওবন্দী নবী ওলির দূশমনরা দেখতে পাইনা যখন কোন আল্লাহর ওলির ক্ষেত্রে যেমন ‘খাজা বাবা’ ‘দাতা বাবা’ ‘পীরবাবা’ ইত্যাদি ব্যাবহার করা হয় তখন আর তাদের সহ্য হয়না তখন হয়ে যায় দোষ ?
আমি প্রথমেই কুর’আন শরীফের একটি আয়াত দিয়ে পোস্ট শুরু করেছি সেটি হলো  পারা ১৭,সূরা আল- হজ্ব-আয়াত-৭৮ এখানে আল্লাহ এব্রাহিম আলাইহিস সাল্লামকে মুসলমানঅদের বা জাতির পিতা বলে ঘোষণা করেছেন, কিন্তু তিনিও তো আমাদের জন্মদাতা বাবা না তবুও কেন আল্লাহ ইব্রাহিম আলাইহিস সাল্লাম কে জাতির বাবা বলে ঘোষণা করেছেন ? 

Quote from the Holy Qur’an: Al-Ahzaab (33:6)


النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ۖ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ ۗ وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَىٰ بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ إِلَّا أَنْ تَفْعَلُوا إِلَىٰ أَوْلِيَائِكُمْ مَعْرُوفًا ۚ كَانَ ذَٰلِكَ فِي الْكِتَابِ مَسْطُورًا


এই নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক অন্তরঙ্গ, আর তাঁর পত্নীগণ হচ্ছেন তাদের মাতা। আর গর্ভজাত সম্পর্কধারীরা — তারা আল্লাহ্‌র বিধানে একে অন্যে অধিকতর নিকটবর্তী মুমিনদের ও মুহাজিরদের চাইতে, তবে তোমরা যেন তোমাদের বন্ধুবর্গের প্রতি সদাচার করো। এমনটাই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে।



উল্লেখিত আয়াতে এখন প্রশ্ন জাগে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম) ’র পবিত্র স্ত্রীগণ যদি মুমিন মুসলমানের মাতা হন,তাহলে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম) কি? নিঃসন্দেহে এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়,নবী পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম) তা হলে বাবা। এই রকম হাদিস শরীফেও আমরা অনেক লক্ষ্য করি।


باب فِي ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِينَ 

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ أَبِي قَالَ ‏”‏ أَبُوكَ فِي النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمَّا قَفَّى قَالَ ‏”‏ إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ ‏”‏ ‏.‏


পরিচ্ছদঃ ১৮. মুশরিকদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে।

৪৬৪৩. মূসা ইবন ইসমাঈল রহমাতুল্লাহ আলাইহি ………. আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা কোথায়? তিনি বলেনঃ তোমার পিতা জাহান্নামে। যখন সে চলে যাচ্ছিল, তখন তিনি বলেনঃ আমার ও তোমার পিতা জাহান্নামে।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)

হাদিস নম্বরঃ [4643]

অধ্যায়ঃ ৩৫/ সুন্নাহ (كتاب السنة)

উপরিউক্ত হাদিসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পিতা বলতে আবু লাহাবকে বলেছেন।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় নবী আলাইহিস সাল্লাম, চাচা ,কাকা, ছোট, স্নেহাশিষ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আমারা ‘বাবা’ শব্দটি ব্যাবহার করতে পারি। তবে আমরা কেন আল্লাহর ওলিদের ক্ষেত্রে বা পীর মাশায়েখদের ক্ষেত্রে যাদের কাছ থেকে আমরা শরীয়ত ও মারিফতের জ্ঞান লাভ করি তাদের সম্মানে বাবা শব্দটি ব্যাবহার করতে পারবো না ?
যেখানে আল্লাহ ওলি দের সমন্ধে বলেছেন 
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন,
” আলা ইন্না আওলিয়া আল্লাহি লা খাওফুন আ ’লাইহিম ওয়া লাহুম ইয়াহ্ঝানুন। আল্লাযীনা আ ’মানূ ওয়া কানূ ইয়াত্তাকানূন।” অর্থ- “জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলিদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। সূরা ইউনুস ১০: ৬২- ৬৩।
”নিশ্চয়ই তোমাদের ওলি হলেন আল্লাহ এবং তাঁর রসুল আর ঈমানদার লোকেরা- যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দিয়ে দেয়, এবং আল্লাহর প্রতি অনুগত বাধ্যগত থাকে। যারা ওলি মানে আল্লাহকে এবং আল্লাহর রসুলকে আর ঈমানদার লোকদেরকে, তারাই আল্লাহর দল এবং আল্লাহর দলই থাকবে বিজয়ী”। (সূরা আল মায়িদা,আয়াত-৫৫-৫৬)”
অবশ্যই “পীরবাবা” ‘খাজা বাবা’ ‘দাতা বাবা’ বলা জায়েয রয়েছে।

দ্বিতয় প্রশ্নের উত্তর ঃ
বাবা থাকতে পীর ধরা বা পীরের হাতে বায়াত হওয়া কেমন ? এর উত্তর আমাদের জানতে আমাদেরকে আগেই জানতে হবে পীর ধরা বা পীরের হাতে বায়াত  হওয়ার কারণ কি?
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে
ইরশাদ করেছেন-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻛُﻮﻧُﻮﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺩِﻗِﻴﻦَ
অনুবাদ-হে মুমিনরা! আল্লাহকে ভয় কর,
আর
সৎকর্মপরায়নশীলদের সাথে থাক।
{সূরা তাওবা-১১৯)
এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে
বুযুর্গদের
সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া
হয়েছে।
ﺍﻫْﺪِﻧَﺎ ﺍﻟﺼِّﺮَﺍﻁَ ﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻘِﻴﻢَ ﺻِﺮَﺍﻁَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻤْﺖَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ
অনুবাদ- আমাদের সরল সঠিক পথ
[সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার
নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ। {সূরা
ফাতিহা-৬,৭}
সূরায়ে ফাতিহায় মহান রাব্বুল
আলামীন তাঁর
নিয়ামাতপ্রাপ্ত বান্দারা যে পথে
চলেছেন
সেটাকে সাব্যস্ত করেছেন সীরাতে
মুস্তাকিম।
আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা
হলেন-
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﻧْﻌَﻢَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀِ
ﻭَﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤِﻴﻦَ
অনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা
নিয়ামত
দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ,
সিদ্দীকগণ,
শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। {সূরা
নিসা-৬৯}
এ দু’আয়াত একথাই প্রমাণ করছে যে,
নিয়ামতপ্রাপ্ত
বান্দা হলেন নবীগণ, সিদ্দীকগণ,
শহীদগণ,
আর নেককারগণ, আর তাদের পথই সরল
সঠিক
তথা সীরাতে মুস্তাকিম। অর্থাৎ
তাদের অনুসরণ
করলেই সীরাতে মুস্তাকিমের উপর
চলা হয়ে যাবে।
যেহেতু আমরা নবী দেখিনি,
দেখিনি সিদ্দীকগণও, দেখিনি
শহীদদের। তাই
আমাদের সাধারণ মানুষদের কুরআন
সুন্নাহ
থেকে বের করে সীরাতে
মুস্তাকিমের উপর
চলার চেয়ে একজন পূর্ণ
শরীয়তপন্থী হক্কানী বুযুর্গের অনুসরণ
করার
দ্বারা সীরাতে মুস্তাকিমের উপর
চলাটা হবে সবচেয়ে সহজ। আর একজন
শরীয়ত
সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আল্লাহ ওয়ালা
ব্যক্তির সাহচর্য
গ্রহণ করার নামই হল পীর মুরিদী।
রাসূলে কারীম ﷺ একাধিক
স্থানে নেককার
ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণ করার প্রতি
গুরুত্বারোপ
করেছেন। যেমন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ
ﻗﺎﻝ
‏( ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺠﻠﻴﺲ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﺍﻟﺴﻮﺀ ﻛﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ
ﻓﺤﺎﻣﻞ ﺍﻟﻤﺴﻚ
ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺬﻳﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺒﺘﺎﻉ ﻣﻨﻪ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﻣﻨﻪ ﺭﻳﺤﺎ ﻃﻴﺒﺔ
ﻭﻧﺎﻓﺦ ﺍﻟﻜﻴﺮ
ﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﻳﺤﺮﻕ ﺛﻴﺎﺑﻚ ﻭﺇﻣﺎ ﺃﻥ ﺗﺠﺪ ﺭﻳﺤﺎ ﺧﺒﻴﺜﺔ )
অনুবাদ- হযরত আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে
বর্ণিত। রাসূল ﷺ
ইরশাদ করেছেন-সৎসঙ্গ আর অসৎ সঙ্গের
উদাহরণ হচ্ছে মেশক বহনকারী আর
আগুনের
পাত্রে ফুঁকদানকারীর মত। মেশক
বহনকারী হয়
তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা
তুমি নিজে কিছু
খরীদ করবে। আর যে ব্যক্তি আগুনের
পাত্রে ফুঁক দেয় সে হয়তো তোমার
কাপড়
জ্বালিয়ে দিবে, অথবা ধোঁয়ার গন্ধ
ছাড়া তুমি আর
কিছুই পাবে না।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২১৪, সহীহ
মুসলিম,
হাদীস নং-৬৮৬০, মুসনাদুল বাজ্জার,
হাদীস নং-৩১৯০,
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৮৩১,
সহীহ
ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬১,
মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস
নং-৪২৯৫,
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৬৬০,
মুসনাদুল
হুমায়দী, হাদীস নং-৭৭০, মুসনাদুশ
শামীন, হাদীস
নং-২৬২২, মুসনাদুশ শিহাব, হাদীস
নং-১৩৭৭,
মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-৫১৫}
এছাড়াও অনেক হাদীস নেককার ও
বুযুর্গ
ব্যক্তিদের সাহচর্য গ্রহণের প্রতি
তাগিদ বহন
করে। আর সবচে’ বড় কথা হল-বর্তমান
সময়ে অধিকাংশ মানুষই দ্বীন বিমুখ।
যারাও
দ্বীনমুখী, তাদের অধিকাংশই কুরআন
হাদীসের
আরবী ইবারতই সঠিকভাবে পড়তে
জানে না, এর
অর্থ জানবেতো দূরে থাক। আর যারাও
বাংলা বা অনুবাদ পড়ে বুঝে, তাদের
অধিকাংশই আয়াত
বা হাদীসের পূর্বাপর হুকুম, বা এ
বিধানের
প্রেক্ষাপট, বিধানটি কোন সময়ের
জন্য, কাদের
জন্য ইত্যাদী বিষয়ে সম্যক অবহিত
হতে পারে না। তাই বর্তমান সময়ে
একজন সাধারণ
মানুষের পক্ষে কুরআন সুন্নাহ
থেকে নিজে বের করে আল্লাহ
তাআলার উদ্দিষ্ট
সীরাতে মুস্তাকিমে চলা বান্দার
জন্য কষ্টসাধ্য। তাই
আল্লাহ তাআলা সহজ পথ বাতলে
দিলেন একজন
বুযুর্গের পথ অনুসরণ করবে,
তো সীরাতে মুস্তাকিমেরই অনুসরণ
হয়ে যাবে।

পীর হওয়ার জন্য শর্ত রয়েছে ১। সুন্নী ও সঠিক আক্বিদা হওয়া দরকার ,২।এতোটা জ্ঞান থাকা দরকার যে হাদিস কুর’আন ও কিতাব থেকে মাস’আলা মাসায়েল বের করে দিতে পারে,৩।ফাসিক না হওয়া ,৪। পীরের সিলসিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম পর্যন্ত পৌছানো নাতো ফায়েজ পৌছাবে না।


উপরিউক্ত গুনাবলী যদি জন্মদাতা বাবা মধ্যে থাকে তাহলে সেখানে আপনি পীরের হাতে বায়াত না হলেও হবে কিন্তু যদিও সে পীরের হাতে বায়াত গ্রহণ করে তাতে ক্ষতি নাই।কেননা যত শিক্ষক থাকে সে ততো ইলম অর্জন করতে পারবে।

আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুক । আমীন সুম্মামীন। ওয়া আখিরুদাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।

নামাজে দাঁড়ানোর নিয়ম পদ্ধতি

Standard

​নামাজের দাড়ানোর নিয়ম পদ্ধতি ৷ 

——————————————–
নামাজে দু’ দুই পা কতটুকু কি পরিমান ফাকা থাকবে বা  রাখতে হবে ? 

পায়ের সাথে পা মিলানোর নামে পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা 

আসলেই কি হাদীসে এসেছে কি ???
প্রশ্ন:

——–
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে, কিন্তু আমাদের দেশের ওলামারা এমনটি করতে বলেন না কেন? 

এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
জবাব: 
بسم الله الرحمن الرحيم
মূলত হাদীসে পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কাতার সোজা করতে এমনভাবে যে একজনের পা যেন অপরজনের পায়ের বরাবর সোজা থাকে।

 আগ পিছ না হয়ে যায়। একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। আসলেই পায়ের সাথে পা মিলানো উদ্দেশ্য নয়।
কাতার সোজা করা সম্পর্কিত হাদীস সমূহের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট হবে আশা করি-

692 – حدثنا عمرو بن خالد قال حدثنا زهير عن حميد عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم قال :

 ( أقيموا صفوفكم فإني أراكم من وراء ظهري ) .

 وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه
 (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة

 ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف،

 رقم الحديث-692)
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন-রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন-“তোমরা কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের পিছন থেকেও দেখি”।
আর আমাদের একেকজন কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতো, আর পায়ের সাথে পা মিলাতো।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৯২}
২–
وقال النعمان بن بشير رأيت الرجل منا يلزق كعبه بكعب صاحبه
 (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة 

، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف)
হযরত নুমান বিন বাশির( রাঃ) বলেন-আমাদের মাঝে একজনকে দেখতাম তিনিতার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতেন।
{সহীহ বুখারী, কাঁধের সাথে কাঁধ 

ও পায়ের সাথে পা মিলানোর অধ্যায়}
৩–
عَنْ أَبِى الْقَاسِمِ الْجَدَلِىِّ قَالَ سَمِعْتُالنُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ « أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ». ثَلاَثًا « وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ». قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ
 (سنن ابى داود-كتاب الصلاة،

 باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، 

رقم الحديث-662)
আবুল কাশেম জাদালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হযরত নুমান বিন বাশির কে বলতে শুনেছি- রাসূল (দ)  আমাদের দিকে ফিরে তিনবার বললেন-

“তোমরা কাতার সোজা কর, আল্লাহর কসম! তোমরা কাতার সোজা কর, নতুবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তর পরিবর্তন করে দিবেন”।
তিনি [নুমান বিন বাশির] বলেন-তখন আমি দেখলাম এক লোক তার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাচ্ছে, এবং হাটুর সাথে হাটু মিলাচ্ছে,

 এবং পায়ের গিটের সাথে গিট মিলাতো।
৪–
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ »»وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ 
(سنن ابى داود، كتاب الصلاة،

 باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ،

 رقم الحديث-666)
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর( রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন-

তোমরা কাতার সোজা কর এবং কাঁধসমূহের মাঝে বরাবরি রাখ, খালি স্থান পূর্ণ কর। 

আর শয়তানের জন্য খালি যায়গা রেখো না।

 আর যে কাতার মিলালো, আল্লাহ তায়ালা তাকে মিলিয়ে দিবেন। আর যে পৃথক করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে পৃথক করে দিবেন।
 (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৬, 

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৫৭২৪,

 সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং-৪৯৬৭}
৫–
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ إِنِّى لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ
 (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، 

باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ،

 رقم الحديث- 667)
হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (দ)  ইরশাদ করেছেন-

তোমরা কাতার সোজা কর, এবং ঘাড়কে বরাবর কর, নিশ্চয় যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! 

আমি দেখি শয়তান তোমাদের কাতারের ফাঁকে প্রবিষ্ট হয় বকরীর ছোট বাচ্চার মত। 
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৭)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
১-কাতার সোজা করা আবশ্যক একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। সেই সাথে জামাতে নামায পড়ার সময় মাঝখানে এমন ফাঁক রাখা যাবে না, 

যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। 

নামাযে মুসল্লী পা ছড়িয়ে পাশের জনের পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াবে সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়।
২-পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নামাযে পা ছড়িয়ে দাঁড়াতে হবে একথা উদ্দেশ্য।
প্রথম বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরামদের।
আর দ্বিতীয় বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ উদ্ধারে অক্ষম কতিপয় ব্যক্তিদের মত। 

যারা শুধুমাত্র হাদীসের বাহ্যিক অনুবাদ পড়েই হাদীসের মর্ম বুঝে গেছেন মনে করে আত্ম-অহংকারে ভোগেন তাদের বক্তব্য।
বিশুদ্ধ বক্তব্য:

——————
প্রথম বক্তব্যটিই বিশুদ্ধ। কারণ হাদীসে রাসূল  (দ) এর উদ্দেশ্য যদি সত্যিকারভাবেই পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো,

আর হাটুর সাথে হাটু মিলিয়ে দাঁড়ানো ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছড়িয়ে দাঁড়ানো উদ্দেশ্য হত,

 তাহলে এরকম উদ্ভট কথা রাসূল (দ) কিছুতেই বলতে পারেন না যা একেবারেই অসম্ভব।
কারণ নুমান বিন বাশির (রাঃ) এর এক বর্ণনায় এসেছে কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর কথা, আর অন্য বর্ণনায় এসেছে হাটুর কথাও। তাহলে এই সুরতটি কখনো সম্ভব?

হাটু, কাঁধ ও পা কি একসাথে মিলানো যায় কখনো?
সুতরাং বুঝা গেল-এসব হাদীসে রাসূল (দ) এর মূল উদ্দেশ্য হল- যেন লোকেরা এভাবে দাঁড়ায় যে, কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক থাকতে না পারে যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে।

 সেই সাথে কাতার হতে হবে একদম সোজা। যেন সবার কাঁধ বরাবর হয়। পায়ের সাথে পা বরাবর হয়। হাটুর সাথে বরাবর হয়। পায়ের গিটের সাথে পাশের জনের পায়ের গিট বরাবর হয়। লাগোয়া নয় বরং বরাবর হওয়া উদ্দেশ্য।
এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে সকল হাদীসের অর্থ সঠিক হয়ে যায়। 

কারণ তখন “কাঁধের সাথে কাঁধ মিলবে” মানে হল সবার কাঁধ সমান সমান হবে। 
“পায়ের সাথে পা মিলবে” মানে হল সবার পা রাখার স্থান বরাবর হবে।
 “হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলবে” মানে হল সবার হাটু বরাবর হবে। 

“পায়ের গিটের সাথে গিট মিলবে” মানে হল সবার পায়ের গিট বরাবর হবে।
পক্ষান্তরে সত্যিকারর্থে পায়ের সাথে পায়ের পা মিলানোর কথা বললে সেটা হবে আজগুবি কথা।

 কারণ পায়ের সাথে পা মিলালে কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো সম্ভব নয়। 

আবার কাঁধ ও পা যদি আলৌকিকভাবে মিলেও যায়, তাহলে হাটুর সাথে হাটু মিলবে কি করে? 
যেটা আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে। 

সেই সাথে পায়ের গিটের সাথে গিট ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো কি সম্ভব?
সুতরাং বুঝা গেল পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা এসব হাদীসে বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। 

বরং কাতার সোজা করার গুরুত্ব ও সোজা করার পদ্ধতি বুঝানো উদ্দেশ্য। 

যেটা হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারীতে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন
المراد بذلك المبالغة فى تعديل الصف وسد خلله
 (فتح البارى-2/211)
অর্থাৎ এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হল-কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বুঝানো, আর কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা। 
{ফাতহুল বারী-২/২১১}
হাদীসের মাঝে অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা:

———————————————–
কথিত আহলে হাদীস তথা গায়রে মুকাল্লিদরা

 এ সকল হাদীস দিয়ে পা ছড়িয়ে অন্য মুসল্লির সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো প্রমাণ করতে হাদীসের মাঝে

 একটি চাতুরীর আশ্রয় নেয়।
 যেহেতু পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব হয় না, তাই তারা বলে যে, পায়ের সাথে পা মিলানোর মানে হল একজনের পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুলীর সাথে অপরজনের কনিষ্ঠা আঙ্গুলী মিলানো।
এ কথাটি হাদীস নিয়ে একটি চাতুরী ছাড়া কিছু নয়।

 কারণ হাদীসের সুষ্পষ্ট 

শব্দ হল-قدم যার অর্থ পা। 

আর আঙ্গুল বুঝানো উদ্দেশ্য হলে হাদীসের 

ভাষ্য হতো الإصبع[আঙ্গুল] পায়ের কথা কেন বলা হল?
 হাদীসের শব্দের মূলার্থ পাল্টে এই মনগড়া ব্যাখ্যা দেবার অধিকার তারা কি করে পেল?

কবর ভাঙ্গা!

Standard

 প্রশ্ন: মিশকাত শরীফে জানাজা পর্বে মৃতকে দাফন করা অধ্যায়ে আছে তাবেয়ী আবুল হাইয়াজ আসাদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আমাকে বললেন,আমি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাব না? যে কাজে আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন। তা এই, কোন মূর্তি পেলে নষ্ট না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর সমান না করে রাখবে না। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, কোন উঁচু কবর দেখলে তা ভেঙ্গে এক বিঘতের সমান করে দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু মাজারে দেখা যায় যে, কবর (গিলাফ ব্যতীত) এক বিঘতের চেয়ে উঁচু। সেটা কি জায়েয নাকি নাজায়েয।
 জোবাইদুন নাহার পান্না

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
 উত্তর: মিশকাত শরীফে তাবেয়ী আবুল হাইয়াজ আসাদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قال لى على الا ابعثك على ما بعثنى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لاتدع تمثالا الا طمسته ولا قبرًا مشرفًا الا مَوَّيتَهُ-

অর্থ: হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাব না? যে কাজে আমাকে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম পাঠিয়েছেন। তাহলো কোন মূর্তি পেলে নষ্ট না করে ছাড়বে না এবং কোন উঁচু কবর সমান না করে রাখবে না।

[মিশকাত শরীফ: পৃষ্ঠা ১৪৮, মুসিলম শরীফ: হাদিস নম্বর ৯৬৯]

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কবরকে মাটির সাথে সমান করে দিতে হবে। কবর মাটির উপরে হতে পারবে না। অথচ আমাদের দেশে নয় শুধু বিশ্বের প্রতিটি দেশে মুসলমানদের কবর মাটি হতে উপরে। এমনকি সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীনে এজাম, তাবে

তাবেয়ীন স্বয়ং নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা মোবারক ও এর ব্যতিক্রম নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে এ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা ও মর্মার্থ কি?

অবশ্যই এ হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাহলো রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম যে সব কবর মাটির সাথে সমান করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তা মূলত মুশরিক ও ইহুদী-নাসারাদের কবর সম্পর্কে উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন। এবং হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হযরত আবুল হাইয়াজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকেও যে নির্দেশ দিয়েছেন কোন মুসলমানের কবরকে তিনি মাটির সাথে সমান করতে বলেন নি। কারণ সম্মানিত সাহাবাগণকে দাফন করার সময় প্রায় হুযূর পাক রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত থাকতেন অথবা সাহাবায়ে কেরাম রাসূলে কায়েনাত-এর অনুমতি নিয়ে কবর তৈরি করতেন। তাহলে এমন কবর কোথায় থাকল? যা ভাঙ্গার জন্য নির্দেশ দিতে হল।

[সাঈদুল হক ফি তাখরিজে জা’আল হক: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০৫]

যেহেতু তখন ইহুদী নাসারা ও মুশরিকদের কবর ছিল বেশী উঁচু, তাই ভাঙ্গার জন্য রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন- সহীহ বোখারীতে বর্ণিত আছে-

امر النبى صلى الله عليه وسلم بقبور المشركين فنبثت

অর্থাৎ নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের কবরের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন অতঃপর তা ভেঙ্গে খনন করে ফেলে দেয়া হয়েছে। [বোখারী শরীফ: ১ম খণ্ড, ৬১ পৃষ্ঠা]

এর ব্যাখ্যায় শেখুল ইসলাম হাফেজুল হাদিস ইবনে হাজর আল্ আসাকালানী বলেন-

اى دون غيرها من قبورالانبياء واتباعهم لما فى ذالك اهانة لهم-

অর্থাৎ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও তাদের অনুসারীদের কবর ব্যতীত। কারণ তাদের কবর ভাঙ্গার ও খনন করার মধ্যে তাদের প্রতি অসম্মান হবে।

[ফতহুল বারী শরহে সহীহ বোখারী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪]

তিনি আরো বলেন-

وفى الحديث جواز تصرف فى المقبرة المملوكة وجواز تبش قبور الدراسة اذا لم يكن محرمة-

অর্থ: এই হাদিসে এ কথার উপর দলিল যে, মালিকানাধীন কবরস্থানে লেনদেন করা এবং পুরাতন কবর উচ্ছেদ করা বৈধ। তবে শর্ত হল তা যেন সম্মানিত না হয়। অর্থাৎ সম্মানিত কোন অলী বুযর্গের কবর হলে তা সরানো বৈধ হবে না।

[ফতহুল বারী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫২৪]

বুখারী শরীফের উক্ত হাদিস এবং তার ব্যাখ্যাই প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিসের আসল ব্যাখ্যা। অর্থাৎ হযরত মাওলা আলী শেরে খোদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক হাদিসে কাফির ও মুশরিকদের কবরকে মাটির সাথে সমান করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত অন্য হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তখনকার কবরের সাথে ছবি আকার কথা ও ইরশাদ করেছেন অথচ মুসলমানদের কবরে কোন ছবি থাকে না। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, প্রশ্নোল্লেখিত হাদিসে মুশরিকদের কবরের কথাই বলা হয়েছে। কারণ তাদের সম্মানিত পূর্ব পুরুষদের কবরে ছবি তথা মূর্তি থাকত। এবং মুশরিকরা এগুলোর পূজা করত। তাই রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কবরকে ভেঙ্গে সমান করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যা পরে মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একই নির্দেশ দিয়েছেন।

তৃতীয়ত: প্রশ্নোল্লেখিত হাদিসে কবরকে মাটির সাথে সমান করার কথা বলা হয়েছে, অথচ মুসলমানদের কবরের ক্ষেত্রে সুন্নাত হল জমিন হতে কবর এক হাত অথবা এক বিঘত পরিমাণ উঁচু করা। মুসলমানদের কবরকে একদম মাটির সাথে সমান করা সুন্নাতের খিলাফ ও পরিপন্থি। সুতরাং বুঝা যায় উক্ত হাদিসে মুশরিক ও কাফিরদের কবরকে বুঝানো হয়েছে। বরং ‘মুনতাকা শরহে মুয়াত্তায়’ এবং ইমাম কাসানী হানাফীর ‘আলবাদায়ে ওয়াচ্ ছানায়ে’ এর বর্ণনায় দেখা যায় যে, প্রখ্যাত সাহাবী হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর কবরের উপর হযরত উম্মুল মুমেনীন আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা স্বীয় ভাই হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবি বকরের কবরের উপর এবং হযরত মুহাম্মদ বিন হানাফিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবদুল্লাহ্ বিন আব্বাসের কবর শরীফের উপর কুব্বা তথা গম্বুজ বানিয়েছেন।

যদি কোন মুসলমানের কবর উঁচু করে বানানো হয় তখনো তা ভাঙ্গা যাবে না। কারণ এতে মুসলমানের অসম্মান হবে। তবে প্রথম থেকে কবরকে উঁচু না করা উচিত।

উল্লেখ্য, যে সকল মুসলমানের কবর এক বিঘতের চেয়ে বেশি বানানো হয়েছে তা আর ভাঙ্গা যাবে না। তা যেমন আছে তেমন থাকবে। যেমন: ক্বোরআন শরীফ ছোট আকারে ছাপানো নিষেধ কিন্তু ছাপানো হয়ে গেলে তা ফেলে দেয়া কিংবা আগুনে পুড়ে ফেলা যাবে না। কেননা এতে পবিত্র ক্বোরআনের অবমাননা হবে। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত মুসলমানদের কবরের উপর বসা, পায়খানা করা, ক্ষেত-খামার করা এবং জুতা নিয়ে চলা-ফেরা করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ এবং তা মুসলমানের কবরের প্রতি অবমাননা। সুতরাং মুসলমানের উঁচু কবর ভেঙ্গে সমান করা অবমাননা ও চরম অপরাধ।

উল্লেখ্য, প্রখ্যাত আউলিয়ায়ে কেরাম ও বিশিষ্ট হক্কানী ওলামায়ে এজামের সম্মানার্থে, জিয়ারতকারীদের জিয়ারত, ফাতেহাপাঠ ও ক্বোরআন তেলাওয়াতের সুবিধার্থে এবং সাধারণ মানুষের অন্তরে তাদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা সৃষ্টির নিমিত্তে তাঁদের কবরে ঘর/ইমারত ও গম্বুজ নির্মাণ করাকে সলফে সালেহীন বিশেষত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত ইসমাইল হক্কী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলায়হি সহ আরো অনেক মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ জায়েয ও মুবাহ বলে ফতোয়া প্রদান করেছেন। সুতরাং যে সমস্ত খারেজী, ওহাবী ও আহলে হাদীসের মওলভীরা উল্লেখিত হাদিসের আলোকে বিশেষত অলি-আবদালের গুম্বুজ ও ইমারত বিশিষ্ট মাজার ও কবর শরীফ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য কটূক্তি ও বেয়াদবী করে মূলত তারা উক্ত হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

[তাফসীরে রুহুল বয়ান: তৃতীয় খণ্ড, কৃত হযরত ইসমাঈল হক্কী রহ., মেরকাত শরহে মিশকাত- কিতাবুল জানায়েয, দাফনুল মাইয়্যিত অধ্যায়: কৃত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহ., শেখ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর শরহে সফরুস্ সা’দাত, জা-আল হক্ব: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮৫- ২৮৬, কৃত: মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহ., সাঈদুল হক ফি তাখরিজে জা-আল হক্ব: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০৫, আমার রচিত বাগে খলিল: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৯-৫০, দারুল ইফতা আল্ মিস্রিয়া ইত্যাদি]