তাবলীগের কিতাবে যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”

Standard

তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমাল [Fazail-e-Amaal] এ বর্ণিত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক হাদীস। “যদি তিনি [হযরত মুহাম্মাদ (صلى الله عليه و آله و سلم)] না হতেন, তাহলে (হে আদম!) তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না”। ফাযায়েলে আমালে মুবারাক হাদীসটি উক্ত শিরোনাম (Title)-এ আছে। হাদীসটি নিম্নরূপঃ عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أذنب آدم صلى الله عليه وسلم الذنب الذي أذنه رفع رأسه إلى العرش فقال أسألك حق محمد ألا غفرت لي فأوحى الله إليه وما محمد ومن محمد فقال تبارك اسمك لما لما خلقتني رفعت رأسي إلى عرشك فإذا هو مكتوب لا إله إلا الله محمد رسول الله فعلمت أنه ليس أحد أعظم عندك قدرا ممن جعلت اسمه مع اسمك فأوحى الله عز وجل إليه يا آدم إنه آخر النبيين من ذريتك وإن أمته آخر الأمم من ذريتك ولولاه يا آدم ما خلقتك অনুবাদঃ ইমামুল মুর্সালীন হযরত নবী কারিম (صلى الله عليه و آله و سلم) ইরশাদ করেছেন, হযরত আদম আঃ থেকে সে অনিচ্ছাকৃত পদস্খলন সংঘটিত হয়, [যার দরূন তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি সর্বদা কাঁদতে ছিলেন। আর ইস্তেগফার করতে ছিলেন।] তখন তিনি একবার আসমানের দিকে মুখ করলেন, আর বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলায় আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন অহী নাজীল হয়-মুহাম্মদ কে? [যার অসীলা দিয়ে তুমি দুআ করছো?] তখন তিনি বলেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তখন আমি আরশে লেখা দেখলাম- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে, হযরত মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর চেয়ে সর্বোচ্চতর ব্যক্তিত্ব কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথে রেখেছেন। তখন অহী নাজীল হল-তিনি সর্বশেষ নবী। তোমার সন্তানদের অন্তর্ভূক্ত হবে। যদি তিনি না হতেন, তাহলে তোমাকেও সৃষ্টি করা হতো না। [সূত্রঃ ফাযায়েলে আমাল, ৪৯৭, উর্দু এডিশন।] পর্যালোচনাঃ এ হাদীসের উপর লা মাযহাবী-রাফাদানী-সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস-ওয়াহাবীদের উত্থাপিত প্রথম প্রশ্ন- এ রেওয়ায়েত তথা বর্ণনাটি দুর্বল। বরং মওজু তথা জাল। এ হাদীসের উপর উত্থাপিত দ্বিতীয় প্রশ্ন- এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত। কারণ কুরআন দ্বারা প্রমাণিত যে, হযরত আদম আঃ কে আল্লাহ তাআলা কিছু বাক্য শিখিয়েছিলেন, যখন তিনি তা পড়েছেন, তখন আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী- فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ٢:٣٧ অর্থাৎঃ অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। [সূরা বাকারা, আয়াত নং-৩৭।] অথচ উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় দুআ করেছেন, তারপর তাঁর তওবা কবুল হয়, তাহলেতো এ হাদীস কুরআনের বিপরীত। তাই এ হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়। এই হচ্ছে বর্তমান রাফাদানী ওয়াহাবীদের মোটের উপর দু’টি অভিযোগ। এ দু’টি অভিযোগের জবাব নিম্নে দেয়া গেল। উত্থাপিত ১ম অভিযোগের জবাবঃ দাওয়াত ও তাবলীগের কিতাব ফাযায়েলে আমালে বর্ণিত এ বর্ণনাটি জাল। একথা আমরা কিছুতেই মানি না। তবে একথা মানি যে, এটা দুর্বল বর্ণনা, বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের দূর্বলতার কারণে। তবে এটা এমন দুর্বল হাদীস নয় যে, এটাকে ফাযায়েলের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না। বরং তা ফাযায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণীয় (Acceptable) পর্যায়ের দুর্বল হাদীস। নিম্ন বর্ণিত ওলামায়ে কেরাম উক্ত হাদীসটিকে দলিলযোগ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন- ০১-আল্লামা কাসতাল্লানী রহঃ : আল মাওয়াহেবুল লাদুনিয়্যাহ-২/৫২৫, ০২-ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) : দালাইলুন নুবুওওয়াহ-৫/৪৮৯। ০৩-আল হাকিম-২/৬১৫। তাহকীকঃ ______________ ইমাম তকী উদ্দীন সুবকী বলেন, হাদীসটি হাসান পর্যায়ের। রেফারেন্সঃ শিফা উস সাকাম-১২০ ইমাম হাকিম বলেন, হাদীসটি সহীহ। রেফারেন্সঃ আল মুসতাদরাক-২/৬১৫ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর স্বীকৃতিঃ _______________ যারা আজ এ অপপ্রচার করছে, সেই লা মাযহাবীদের শায়েখ ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এই হাদীসটি তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদি এটা ভিত্তিহীনই হতো, তবে কেন তিনি তা তার কিতাবে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন? তিনি কি জানতেন না, কোনটা সহীহ আর কোনটা বানোয়াট? তিনি ‘যদি মুহাম্মাদ না হতেন, তবে আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না’-এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন, এ হাদীসটি পূর্বের কথাকে কথাকে শক্তিশালী করেছে। রেফারেন্সঃ মাজমু উল ফাতাওয়া- ২/১৫৯। ভাবুন, ভিত্তিহীন কোন কথা দিয়ে কি কোন কিছু শক্তিশালী করা যায়? ইমাম ইবনু কাসীরের স্বীকৃতিঃ ________________________ ইমাম ইবনু কাসীর পরিস্কার বলেছেন, এই হাদীসটি মাওযু বা বানোয়াট নয়। এটা দ্বারা নির্দ্বিধায় দলীল প্রদান করা যাবে। ইমাম ইবনু কাসীর বলেছেন, হাদীসের বর্ণনাকারী আব্দুর রাহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম মিথ্যাবাদী নন। এবং এ হাদীসটি ও জাল নয়। বরং হাদীসটি হাসান লিগাইরিহী। এমন হাদিস দ্বারা দলীল প্রদান করা যাবে নিঃসন্দেহে। দেখুন, আসসীরাহ- ১/১৯৫। রেফারেন্সঃ আস সীরাতুন নাবাওইয়্যাহ- ১/১৯৫ যেসব কিতাবে এ হাদীসটির সমর্থন বর্ণিতঃ আল মুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫০২, আল মুজামুস সগীর লিত তাবরানী, হাদীস নং-৯৯২, এছাড়া আরও রয়েছে ইমাম বায়হাকী রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ সহ ইমাম আবু নুআইম রহঃ এঁর দালায়েলুন নাবায়িয়্যাহ, আদ দুরার কিতাবে ইবনে আসাকীর রহঃ, এবং রয়েছে মাযমাউজ যাওয়ায়েদ কিতাবে। এ হাদীসের মূল বক্তব্যের উপর আরো দু’টি হাদীস রয়েছে। যথা- عن عبد الله بن شقيق ؛ أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم : متى كنت نبيا ؟ قال : كنت نبيا وآدم بين الروح والجسد (مصنف ابن ابى شيبة، كتاب المغازى، ما جاء في مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، رقم الحديث-৩৭৭০৮) অনুবাদঃ আব্দুল্লাহ বিন শাকিক থেকে বর্ণিত। রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে এক লোক প্রশ্ন করলেন-আপনি কখন থেকে নবী? তিনি বললেন-আমি তখন থেকেই নবী যখন হযরত আদম আঃ রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন। (অর্থাৎ তখনো সৃষ্টি হন নি।) [সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩৭৭০৮, মাশকিলুল আসার লিত তাহাবী, হাদীস নং-৫২২২, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-৩১৯১৭, জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-১৫৮৩৫।] অপর একটি মুবারাক হাদিস থেকে জানা যায়ঃ عن العرباض بن سارية الفزاري قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( إني عند الله مكتوب بخاتم النبيين وإن آدم لمنجدل في طينته (صحيح ابن حبان، كتاب التاريخ، باب من صفته صلى الله عليه و سلم وأخباره، رقم الحديث-৬৪০৪) অনুবাদঃ হযরত ইরবায বিন সারিয়্যা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-আমি রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন-নিশ্চয় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন হযরত আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন। [সূত্রঃ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২, মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১।] সুতরাং এ বর্ণনাটিকে জাল বলাটা বাড়াবাড়ি আর কিছু নয়। উত্থাপিত ২য় অভিযোগের জবাবঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস আল্লাহ তাআলার বাণীরই ব্যাখ্যা হয়ে থাকে। আমরা কুরআনের ব্যাখ্যা সর্ব প্রথম রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হাদীস দ্বারাই গ্রহণ করে থাকি। কুরআনে কারীমে একথা রয়েছে যে, হযরত আদম আঃ কে কিছু কালিমা আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন, যা পড়ার দরূন তার তওবা কবুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হযরত আদম আঃ কে তওবার ওসীলা কালিমা শিক্ষা দেয়াটা ছিল একটি নেয়ামত। আর নেয়ামত সাধারণত কোন নেক আমলের কারণে পাওয়া যায়। হযরত আদম আঃ এর পাওয়া তওবার অসীলা সেসব কালিমা শিখতে পাওয়ার নেয়ামত কোন নেক আমলের কারণে পেয়েছিলেন? তা কুরআনে বর্ণিত নেই। হাদীসের মাঝে সেই নেক আমলের কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। সেই নেক আমলটি হল, হযরত আদম আঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم)এঁর ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন। সুতরাং এ হাদীসটি কুরআনে কারীমের বিপরীত অর্থবোধক রইল কিভাবে? [সূত্রঃ শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ প্রণীত তাফসীরে ফাতহুল আজীজ-১/১৮৩।] মহান আল্লাহ্ পাক সকলকে প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর শান-মান বুঝার ও তদানুযায়ী সতর্কতা অবলম্বনের তৌফীক নসীব করুন, আমীন।

Advertisements

জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা

Standard

▆ তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে আমল [Fazail-e-Amal] এর ফাজায়েলে হজ্জ [Fazail-e-Haj] এর বর্ণনা। জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা ▆ ফাজায়েলে হজ্জ, ১৩৮ / ২৫৬ পৃষ্ঠা। মূল লেখক – মাওলানা জাকারিয়া সাহেব, কাকরাইলে মুরুব্বীদের অনুমতি ও দোয়া নিয়ে অনুবাদ করেছেন – মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ, প্রকাশনী – তাবলিগি কুতুবখানা ৫০ বাংলাবাজার ঢাকা। “শায়েখ আবুল খায়ের আকতা (রহঃ) বলেন, একবার মদীনা মোনাওয়ারায় হাজির হইয়া পাঁচ দিন পর্যন্ত আমাকে উপবাস থাকতে হয়। খাওয়ার জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে আমি হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) এবং শায়ইখানের (আবু বকর ও উমার রাঃ কে শায়খান বলাহয়) কবরের মধ্যে সালাম পড়িয়া আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আজ রাতে আপনার মেহমান হবো। এই কথা আরজ করে মিম্বর শরীফের নিকট গিয়ে আমি শুইয়া পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, হুজুরে পাক (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। ডানে হযরত আবু বকর, বাম দিকে হজরত ওমর এবং সামনে হজরত আলী রাঃ। হযরত আলী রাঃ আমাকে ডেকে বলেন, এই দেখ, হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। আমি উঠা মাত্রই মহানবী (صلى الله عليه و آله و سلم) আমাকে একটা রুটি দিলেন, আমি অর্ধেক খেয়ে ফেলি তারপর যখন আমার চোখ খুলিল তখন আমার হাতে বাকী অর্ধেক ছিল (রুটি অবশিষ্টাংশ) । [উক্ত ঘটনার মাত্র 5.86M pdf ডাউনলোড লিংকঃ http://www.banglakitab.com/Fazail%20E%20Amal/Fazail-E-Amal2-Fazail-E-Hajj-Pages-222-331-MaulanaZakariah.pdf%5D নোটঃ উপরোক্ত ঘটনাটি তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে হজ্জ অংশের “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনামে নবী প্রেমের ৮ নং কাহিনীতে তাবলীগের কিতাবের লিখক মৌং যাকারিয়া সাহেব উল্লেখ করেছেন। তিনি শায়েখ আবুল খায়ের (রঃ) কে নবী প্রেমিকদের অন্তর্ভূক্ত মানতেন; তিনি উক্ত শায়খ (রঃ) কে মুশরিক ও বিদায়াতী জ্ঞান করতেন না (নাউযুবিল্লাহ), তাই মৌং যাকারিয়া উক্ত শিরোনামের অধীনে শায়খ (রঃ) এঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি লিখে দিয়েছেন। উক্ত ঘটনাটি পড়ার পর সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে শায়খ আবুল খায়র (রহঃ) প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হায়াতুন্নবী (জীবিত থাকা) হওয়াকে মানতেন। তদুপরি ইহাও প্রমাণিত যে, শায়খ আবুল খায়র (রঃ) নবীজী (صلى الله عليه و آله و سلم) ইন্তেকাল (স্থানান্তর) এর পরেও “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” বলে তাঁকে তাঁর প্রিয় উম্মতীদের ডাকা ডাক শুনতে পান, সাহায্য করতে পারেন, আর তাঁর থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়া অসম্ভব নয় এরুপ আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা মৌং যাকারিয়া তাঁর কিতাবে “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” তথা “নবী প্রেমিকের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনাম চয়ন (Naming the headline) থেকেও তিনিও যে উক্ত আক্বিদা-বিশ্বাসকে লালন করতেন তাই প্রতীয়মান হয়; নতুবা উক্ত শিরোনামে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনার কোন অর্থই থাকে না। শিরোনামটিই বেহুদা হয়ে যায়। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধী সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের সম্ভাব্য তিনটি প্রশ্নঃ ১/ আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুআ করা। – স্পষ্ট শিরক নয়কি? ২/ মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা। – শিরক নয় কি? ৩/ এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? অথচ মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেনঃ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর।” প্রিয় পাঠক আসুন, প্রশ্ন তিনটির জবাব দেখা যাক, এখানে দু’টি বিষয় বিবেচ্য। ১/ আল্লাহ তাআলা অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন কি না? ২/ কোন নবী বা উম্মতী নিজের ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারে কি না? আমাদের আকিদাঃ আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতাশীল। তিনি জীবিতকে দিয়ে যা করতে পারেন মৃত দিয়েও তা করতে পারেন। তেমনি জড় পদার্থ দিয়েও কথা বলা পারেন। এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা। আমরা এটি বিশ্বাস করি। এটা আমাদের ঈমান। আশ্চর্য ঘটনা দেখে, যার দ্বারা প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব কৃতিত্ব মনে করা খৃষ্টানী মানসিকতা। আর আল্লাহ থেকে প্রকাশিত মনে করা মুসলমানী মানসিকতা। আমরা মুসলমান। তাই মুসলমানী মানসিকতা প্রকাশ করি। কোন আশ্চর্য ঘটনা দেখলে সেটি আল্লাহ তাআলার কুদরত। সেটি আল্লাহ তাআলারই আয়ত্বধীন বলে বিশ্বাস করি। যার থেকে প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি না। আল্লাহর দেয়া ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি। কোন নবী বা উম্মতী নিজস্ব ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখেন না। নিজস্ব ক্ষমতায় কোন অস্বাভিক কিছু করার ক্ষমতা রাখার আকিদা শিরকী ও কুফরী আকিদা। এতে কোন সন্দেহ নেই। এবার উপরোক্ত সম্ভাব্য প্রশ্ন তিনটির জবাব লক্ষ্য করুন! সম্ভাব্য ১ নং প্রশ্ন-আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুয়া করা স্পষ্ট শিরক নয়কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর উসিলায় খাদ্যের জন্য দুআ করার মাঝে শিরকের কিছুই নেই। কারণ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর কাছে খাদ্যের আবেদন করা হচ্ছে না। বরং রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় আল্লাহর কাছে খাদ্যের জন্য দুআ করা হচ্ছে। আমাদের মত পাপী ব্যক্তির “নামাযের ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের “রোযার ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের মত গোনাহগারের “হজ্বের ওসীলা”-য় দুআ জায়েজ হলে নিষ্পাপ নবীর ওসীলায় দুআ করা কেন শিরক হবে? أن رجلا كان يختلف إلى عثمان بن عفان رضي الله عنه في حاجة له فكان عثمان لا يلتفت إليه ولا ينظر في حاجته فلقي عثمان بن حنيف فشكا ذلك إليه فقال له عثمان بن حنيف ائت الميضأة فتوضأ ثم ائت المسجد فصلي فيه ركعتين ثم قل اللهم إني أسألك وأتوجه إليك بنبينا محمد صلى الله عليه و سلم نبي الرحمة অর্থাৎঃ এক ব্যক্তি হযরত উসমান বিন আফফান রাঃ এঁর কাছে একটি জরুরী কাজে আসা যাওয়া করত। হযরত উসমান রাঃ [ব্যস্ততার কারণে] না তার দিকে তাকাতেন, না তার প্রয়োজন পূর্ণ করতেন। সে লোক হযরত উসমান বিন হানীফ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি ওজু করার স্থানে গিয়ে ওজু কর। তারপর মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়। তারপর বল, হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। রহমাতের নবী মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি। [সূত্রঃ আল মুজামে সগীর, হাদীস নং-৫০৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৮৩১১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১০১৮।] এ হাদীসের শেষে স্পষ্ট রয়েছে যে, লোকটি তাই করেছিল। তার দুআ’ কবুলও হয়েছিল। ফলে হযরত উসমান রাঃ তাঁকে সম্মান দেখিয়ে তার প্রয়োজনও পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য ২ নং প্রশ্ন- মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা শিরক নয় কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) কবরে থাকা অবস্থায় নিজস্ব ক্ষমতায় কোন উম্মতীকে খাওয়াতে পারার আকিদা রাখা শিরকী আকিদা। এটি কুফরী আকিদা। এতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে সে কাজ করে দিতে পারেন। একাজ করতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাশীল। যা সম্ভব নয় উম্মতের জন্য সেটি আল্লাহ তাআলার জন্যও সম্ভব নয় বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। পরিস্কার কুরআনের আয়াতের খেলাফ আকিদা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [٣:١٨٩] অর্থাৎঃ আর আল্লাহর জন্যই হল আসমান ও যমিনের বাদশাহী। আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী। [সূরা আলে ইমরান-১৮৯।] সুতরাং কেউ যদি এ আকিদা রাখে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবরে থাকা কোন ব্যক্তির মাধ্যমে স্বপ্নযোগে কাউকে রিজিক পৌঁছাতে পারেন না, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মুসলিম নয়। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বলে আখ্যায়িত করে থাকে। সে পরিস্কারভাবে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতাকে অস্বিকার করে। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বিশ্বাস করে থাকে। অথচ পবিত্র কুরআন বলছে আল্লাহ তাআলা সকল কিছু করতে সক্ষম। সকল কিছুই তার ক্ষমতার অধীন। সুতরাং অস্বাভাবিক ঘটনা আল্লাহ তাআলা ঘটাতে পারেন না, এ আকিদা রাখা কুফরী আকিদা ছাড়া আর কিছু নয়। উক্ত ব্যক্তির পুনরায় ঈমান দোহরানো আবশ্যক। তবে হ্যাঁ, যার মাধ্যমে বা বাহ্যিক আকৃতিতে উক্ত আশ্চর্য ঘটনাটি ঘটল, তিনি নিজের ক্ষমতায়, নিজস্ব ক্ষমতাবলে উক্ত কাজ করেছেন বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। শিরকী আকিদা। এতেও কোন সন্দেহ নেই। আর এরকম আক্বিদা কোন মুসলমানের নয়, উক্ত আক্বিদাটি খ্রিস্টানদের আক্বিদা। তাই হককে হক এবং বাতিল হিসেবেই বুঝতে হবে। আবারো বলছি! এমন আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর নিজস্ব ক্ষমতাধীন মনে করা শিরকী এবং কুফরী আকিদা। আর আল্লাহ তাআলাও উক্ত কাজ করতে পারেন না মনে করাও কুফরী আকিদা। তাই আমরা বলি যে, এসব আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা কোন উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা নয় বরং আল্লাহর ক্ষমতা। তিনিই তা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু তিনি সকল কিছু করতে সক্ষম। কিন্তু যারা এসব ঘটনাকে অস্বিকার করতে চায় তাদের দুই অবস্থা। যথা- ০১/ খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে এসব ঘটনাকে যাচাই করে। তথা খৃষ্টানরা যেমন আশ্চর্য ঘটনা কারো থেকে প্রকাশিত হলে উক্ত ঘটনাটিকে উক্ত ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা মনে করে, তেমন এসব কথিত সাইনবোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা এসব ঘটনাকে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করে ধোঁকা খাচ্ছে। পোষণ করছে খৃষ্টানী মানসিকতা, আর দাবি করছে তাওহীদপন্থী। এটি জালিয়াতী ছাড়ার কি হতে পারে? ০২/ এরকম আশ্চর্য ঘটনা আল্লাহ তাআলা প্রকাশ করতে পারেন না মর্মে আকিদা পোষণ করে এসব কথিত সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা। তাহলে কি দাঁড়াল? আল্লাহ তাআলা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে সক্ষম নন! নাউজুবিল্লাহ। এ আকিদা কোন মুসলমানের আকিদা হতে পারে না। এটি নাস্তিকের আকিদা হতে পারে। কিন্তু কোন আস্তিকের আকিদা এমন হতে পারে না। সম্ভাব্য ৩ নং প্রশ্ন- এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? উত্তরঃ এরকম আকিদাটা কি? যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে? আমরা উপরে পরিস্কার ভাষায় জানিয়েছি। কোন আশ্চর্য ঘটনা ঘটানোর নিজস্ব ক্ষমতা নবী বা উম্মতীর রয়েছে মর্মে আকিদা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন এ আকিদা পোষণ করা সুনিশ্চিত ব্যক্তিকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর আল্লাহ তাআলা আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন না এমন আকিদা ব্যক্তিকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। একটি ফাতওয়া জানতে চাই হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের কাছে। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুর রূহের মাঝে একটি ঘটনা নকল করেছেন। সেটি হল- হযরত মালিক বিন আনাস রাঃ বলেন, সাবিত ইয়ামামার জিহাদে শহীদ হয়ে যান। সাবিত রাঃ এঁর এক কন্যার বর্ণনা।…….. শাহাদতের পর এক মুসলমান তাকে স্বপ্নে দেখেন। তখন সেই মুসলমানকে সাবিত রাঃ বলেন, আমি তোমাকে একটি ওসিয়ত করছি। খবরদার! স্বপ্নের ওসিয়ত মনে করে এটিকে হেলাফেলা করবে না। কালকে আমি শহীদ হবার পর এক মুসলমান আমার ঢালটি নিয়ে গেছে। তার বাড়ি বসতির শেষ প্রান্তে। আর তাবুর পাশে একটি লম্বা রশিতে ঘোড়া বাঁধা আছে। সে ঢালটির উপর একটি পাতিল উল্টে রেখেছে। আর পাতিলটির উপর রেখেছে আসবাব। তুমি খালিদ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে বল, যেন সে লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে আসে। আর যখন তুমি মদীনায় যাবে, তখন আল্লাহর রাসূলের খলীফা [আবু বকর রাঃ] এঁর কাছে গিয়ে বলবে, আমার উপর এত টাকা ঋণ আছে। আর আমার ওমুক ওমুক গোলাম আযাদ। ঐ ব্যক্তি খালিদ রাঃ এর কাছে এলেন এবং তাকে স্বীয় স্বপ্ন বৃত্তান্ত করলেন। তখন খালিদ রাঃ লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে এলেন। তারপর আবু বকর রাঃ এঁর কাছে স্বপ্নটি বললেন। হযরত আবু বকর রাঃ স্বপ্নের উক্ত ওসিয়তটি জারি করলেন। ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, দেখুন! এ স্বপ্নের অসিয়তের উপর আমলকারী হযরত খালিদ রাঃ, হযরত আবু বকর রাঃ এবং তাঁর কাছে থাকা অন্যান্য সাহাবীরাও একে সমর্থন করেছেন। [সূত্রঃ কিতাবুর রূহ-৩৫-৪০।] উক্ত বর্ণনাটির সনদসহ আরবী পাঠ দেখে নিন- قال أبو عمرو روى هشام بن عمار عن صدقة بن خالد حدثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر قال حدثني عطاء الخراساني قال حدثتني ابنة ثابت بن قيس بن شماس قالت لما نزلت يا أيها الذين آمنو لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي دخل أبو هابية وأغلق عليه بابه ففقده رسول الله وأرسل إليه يسأله ما خبره قال أنا رجل شديد الصوت أخاف أن يكون قد حبط عملى قال لست منهم بل تعيش بخير وتموت بخير قال ثم أنزل الله إن الله لا يحب كل مختال فخور فأغلق عليه بابه وطفق يبكي ففقده رسول الله فأرسل إليه فأخبره فقال يا رسول الله إني أحب الجمال وأحب أن أسود قومى فقال لست منهم بل تعيش حميدا وتقتل شهيدا وتدخل الجنة قالت فلما كان يوم اليمامة خرج مع خالد بن الوليد إلى مسيلمة فلما التقوا وأنكشفوا قال ثابت وسالم مولى أبي حذيفة ما هكذا كنا نقاتل مع رسول الله ثم حفر كل واحد له حفرة فثبتا وقاتلا حتى قتلا وعلى ثابت يومئذ ذرع له نفيسة فمر به رجل من المسلمين فأخذها فبينما رجل من المسلمين نائم إذ أتاه ثابت في منامه فقال له أوصيك بوصية فاياك أن تقول هذا حلم فتضعيه إني لما قتلت أمس مربى رجل من المسلمين فأخذ درعى ومنزلة في أقصي الناس وعند خبائه فرس يستين في طوله وقد كفا على الدرع برمة وفوق البرمة رحل فأت خالدا فمره أن يبعث إلى درعى فيأخذها وإذا قدمت المدينة على الخليفة رسول الله يعني أبا بكر الصديق فقل له أن على من الدين كذا وكذا وفلان من رقيقى عتيق وفلان فأتي الرجل خالدا فأخبره فبعث إلى الدرع فأتي بها وحدث أبا بكر برؤياه فأجاز وصيته قال ولا نعلم أحدا أجيزت وصيته بعد موته غير ثابت بن قيس رحمه الله انتهى ما ذكره أبو عمرو فقد اتفق خالد أبو بكر الصديق والصحابة معه على العمل بهذه الرؤيا وتنفيذ الوصية بها وانتزاع الدرع ممن هى في يده وهذا محض الفقه আল্লাহ তাআলার হাজার শুকরিয়া এসব কথিত সাইন বোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা সে জামানায় ছিল না। থাকলে হয়তো হযরত আবু বকর রাঃ এঁর উপরই কুফরী আর শিরকীর ফাতওয়া জারি করে দিতো, মৃত ব্যক্তির কথায় আমল করার কারণে। যেখানে একজন সাহাবী থেকে মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়ে এমন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন, সেখানে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর দ্বারা কেন এর মত আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেবন না? এরা কি আমাদের রব, সর্বশক্তিমান আল্লাহকে তাদের মতই দুর্বল মনে করে? আমাদের কথা হল এমন ঘটনা উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ আল্লাহর বন্ধুদের ফজিলতের বর্ণনায় আলোচনা করলে বা তাঁদের সংকলিত কিতাবে থাকলেই এটা নিয়ে এত সমালোচনা। অথচ একই ধরণের ঘটনার আরো কয়েকশ বছর আগে লেখা কিতাব কিতাবুর রূহে থাকলেও এ ব্যাপারে সাইন বোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা চুপ কেন? উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ কে প্রতিপক্ষ বানানোর এ ষড়যন্ত্র কেন? আর কিতাবুর রূহের সংকলক আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে কথিত আহলে হাদীসদের ফাতওয়া কোথায়? _________________

তাবলীগ রাসুল বনাম তাবলীগে ইলিয়াসী

Standard

>>>>> তাবলীগে রাসূল বনাম তাবলীগে ইলিয়াছী
**************************************
আমাদের দেশে প্রায় ৮০ বছর যাবৎ তাবলীগী জামাত
তথা ইলিয়াছী তাবলীগ নামে একটি বাতিল ফেরকা বের
হয়েছে। এদের বাহ্যিক আমল আখলাক ভাল মনে হলেও এদের
ঈমান-আক্বিদা ওহাবিদের বাতিল আক্বিদার অনুরূপ।
বরং তারা ওহাবি আক্বিদা প্রচার-প্রসারের জন্যই এই
তাবলীগী জামাত তথা ইলিয়াছী তাবলীগ আবিষ্কার
করেছে। কিন্তু সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্য
তারা বলে বেড়ায় এটা তাবলীগে রাসূল।
নিুে তাবলিগে রাসূল ও তাবলিগে ইলিয়াছীর পার্থক্য
তুলে ধরা হল
তাবলীগে রাসূল
তাবলীগে রাসূল- তাবলীগ শব্দের অর্থ পৌঁছানো বা প্রচার
করা। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশ
অনুযায়ী মানবজাতির নিকট দ্বীন ইসলামের যে দাওয়াত
পৌঁছে দিয়েছেন তাকেই তাবলীগে রাসূল বলে। এই
তাবলীগের মূল ভিত্তি বা উসূল হল ৫টি। যথা-
১. কলেমা
২. নামাজ
৩. রোযা
৪. হজ্জ ও
৫. যাকাত।
এই ৫টি উসূলকে কেন্দ্র করেই আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়
ইসলামের দাওয়াত বা তাবলীগ করেছেন। কখনো জিহাদের
মাধ্যমে, কখনো ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে, কখনো চিঠিপত্রের
মাধ্যমে, কখনো বাস্তব কাজকর্মের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার
করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন মজীদে আল্লাহপাক এরশাদ করেন-
ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺮﺳﻮﻝ ﺑﻠﻎ ﻣﺎ ﺍﻧﺰﻝ ﺍﻟﻴﻚ ﻣﻦ ﺭﺑﻚ –
হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার
প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, তা আপনি প্রচার করুন।’
এ আয়াতে করীমার প্রেক্ষাপটে আল্লাহর হাবিব মুহাম্মাদুর
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর
পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে, তা থেকে যার কাছে যতটুকু
পৌঁছানোর প্রয়োজন আল্লাহপাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন,
তার কাছে ততটুকু প্রচার করেছেন।
তিনি তাঁর নিজ দায়িত্ব পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আদায় করেছেন।
এতে সামান্যতমও ত্র“টি-বিচ্যুতি হয়নি। এ
কারণে আল্লাহতা’য়ালা তাঁকে প্রচুর মহব্বত করেছেন
এবং আল্লাহপাক তাঁর হাবীবের মহব্বতের দরুণ তাঁর ঈমানদার
উম্মতের সমস্ত গোনাহ মাফ করার সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্লামা কাযী ছানা উল্লাহ পানিপথী রাদিয়াল্লাহু আনহু
তদীয় ‘তাফসিরে মাজহারী’ নামক কিতাবে ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻛﻤﻠﺖ ﻟﻜﻢ ﺩﻳﻨﻜﻢ
আয়াতে করীমার তাফসীরে লিখেছেন-
ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺑﺎﻛﻤﺎﻝ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺑﻠﻮﻏﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻰ ﻣﻌﺎﺭﺝ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﺍﻟﻰ ﻣﺮﺗﺒﺔ ﻳﻐﺒﻄﻪ ﺍﻻﻭﻟﻮﻥ ﻭﺍﻻﺧﺮﻭﻥ
ﺣﺘﻰ ﻏﻔﺮ ﻟﻜﻤﺎﻝ ﻣﺤﺒﻮﺑﻴﺘﻪ ﺟﻤﻴﻊ ﺫﻧﻮﺏ ﺍﻣﺘﻪ –
অর্থাৎ ‘ইকমালে দ্বীন বা দ্বীনের পরিপূর্ণতা দ্বারা মুরাদ
বা উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের দায়িত্বকে এরূপ চূড়ান্ত
পর্যায়ে আদায় করেছেন যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবাই এর উপর
আকাক্সিক্ষত। এমনকি আল্লাহতা’য়ালা তার পূর্ণ
মাহবুবিয়াতের ওসিলায় তার উম্মতের সমস্ত গোনাহকে মাফ
করে দিয়েছেন।’
মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয়
মছনবী শরীফে বলেন-
ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﮫ ﺭﺳﺎﻟﺖ ﺭﺍﺗﻤﺎﻡ
ﺗﻮ ﻧﻤﻮﺩﯼ ﮨﻤﭽﻮﻥ ﺷﻤﺲ ﺑﮯ ﻏﻤﺎﻡ
অর্থাৎ ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি নবুয়ত ও রিসালতের মহান
দায়িত্ব এমন পূর্ণতা সহকারে আদায় করেছেন। যেমন মেঘযুক্ত
আকাশে সূর্যের অস্তিত্বের উজ্জ্বল প্রমাণ।
তারপর সাহাবায়ে কেরামগণ আল্লাহর হাবিবের অনুসরণ ও
অনুকরণে ইসলামী হুকুমত তথা রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু
করে সামাজিক, পারিবারিক এককথায় জীবনের
সর্বক্ষেত্রে তাবলীগে দ্বীনের কাজ সম্পাদন করেছেন।
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে একদল কোরআন সংকলন করেছেন,
একদল কোরআনের তাফসির প্রণয়ন করেছেন, একদল
হাদিসশরীফের ব্যাপক বর্ণনা দিয়েছেন, একদল ইজতেহাদের
মাধ্যমে ফিকহী বিধি-বিধান নির্ণয় ও মাসআলা-মাসায়েল
প্রচার করেছেন, আবার একদল বিভিন্ন বাতিল মতবাদের খণ্ডন,
প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে তাবলীগে দ্বীনের খেদমত
আঞ্জাম দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, সাহাবায়ে কেরামগণের এ প্রতিরোধের
ফলে মিথ্যা নবুয়তের দাবিদার ভণ্ড মুসায়লামা কাজ্জাবের
পতন, খারেজী, রাফেজী প্রভৃতি বাতিল মতবাদের স্বরূপ
উন্মোচনে তাদের ভূমিকাই ছিল অগ্রগণ্য
যা তাবলীগে দ্বীনের অংশবিশেষ।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন মজিদে এরশাদ হচ্ছে-
ﻭﻟﺘﻜﻦ ﻣﻨﻜﻢ ﺍﻣﺔ ﻳﺪﻋﻮﻥ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﻳﺄﻣﺮﻭﻥ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﻳﻨﻬﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻁ ﻭﺍﻭﻟﺌﻚ ﻫﻢ ﺍﻟﻤﻔﻠﺤﻮﻥ –
অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে একদল হওয়া উচিৎ যারা কল্যাণ
বা ইসলামের দিকে লোকদেরকে আহ্বান করবে, সৎকাজের
নির্দেশ দেবে এবং মন্দ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই
হচ্ছে কামিয়াব বা সফলকাম। (সূরা আল ইমরান- ১০৪)
আল্লাম নাছিরুদ্দিন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ইবনে উমর
ইবনে মুহাম্মদ শিরাজী, বায়জাভী রাদিয়াল্লাহু আনহু ওফাত
৬৯১ হিজরি তদীয় ‘তাফসিরে বায়জাভীশরীফে’ উক্ত
আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-
ﻣﻦ ﻟﻠﺘﺒﻌﻴﺾ ﻻﻥ ﺍﻻﻣﺮ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﺍﻟﻨﻬﻰ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻣﻦ ﻓﺮﻭﺽ ﺍﻟﻜﻔﺎﻳﺔ ﻭﻻﻧﻪ ﻻﻳﺼﻠﺢ ﻟﻪ ﻛﻞ ﺍﺣﺪ ﺍﺫ
ﻟﻠﻤﺘﻌﺪﻯ ﻟﻪ ﺷﺮﻭﻁ ﻻﻳﺸﺘﺮﻁ ﻓﻴﻬﺎ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻻﻣﺔ ﻛﺎﻟﻌﻠﻢ ﺑﺎﻻﺣﻜﺎﻡ ﻭﻣﺮﺍﺗﺐ ﺍﻻﺣﺘﺴﺎﺏ ﻭﻛﻴﻔﻴﺔ ﺍﻗﺎﻣﺘﻬﺎ ﻭﺍﻟﺘﻤﻜﻦ
ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻴﺎﻡ ﺑﻬﺎ ﺧﺎﻃﺐ ﺍﻟﺠﻤﻴﻊ ﻭﻃﻠﺐ ﻓﻌﻞ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻟﻴﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻪ ﻭﺍﺟﺐ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﻞ ﺣﺘﻰ ﻟﻮ ﺗﺮﻛﻮﻩ ﺭﺃﺳﺎ
ﺍﺛﻤﻮﺍ ﺟﻤﻴﻌﺎ ﻭﻟﻜﻦ ﻳﺴﻘﻂ ﺑﻔﻌﻞ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻭﻫﻜﺬﺍ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻫﻮ ﻓﺮﺽ ﻛﻔﺎﻳﺔ – ﺍﻭ ﻟﻠﺘﺒﻴﻴﻦ ﺑﻤﻌﻨﻰ ﻭﻛﻮﻧﻮﺍ ﺍﻣﺔ
ﻳﺪﻋﻮﻥ ﻛﻘﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ‏(ﻛﻨﺘﻢ ﺧﻴﺮ ﺍﻣﺔ ﺍﺧﺮﺟﺖ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﺗﺄﻣﺮﻭﻥ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ‏) ﻭﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻳﻌﻢ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﻰ
ﻣﺎﻓﻴﻪ ﺻﻼﺡ ﺩﻳﻨﻰ ﺍﻭ ﺩﻧﻴﻮﻯ –
অর্থাৎ এ আয়াতে ﻣﻨﻜﻢ ﺍﻣﺔ এ ‘মিন’ শব্দটি ﻣﻦ ﺗﺒﻌﻴﻀﻴﻪ যা কতক
অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ
কাজের নিষেধ যা কিছুসংখ্যক লোকের উপর ফরয,
যাকে ফরযে কেফায়া নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। কারণ
এই কাজ সম্পাদনের যোগ্যতা সকলের নেই। এ কাজ
(তাবলীগের কাজ) সম্পাদনের জন্য যে শর্তাবলী রয়েছে,
যেমন- শরিয়তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া,
আহকাম বা বিধি-বিধানের মান এবং এগুলোর প্রয়োগ ও
প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি সম্বন্ধে অবগত হওয়া ইত্যাদি। অথচ এ সমস্ত
শর্ত সকলের মধ্যে পাওয়া যায় না।
এ আয়াতের মধ্যে সমস্ত উম্মতকেই সম্বোধন করা হয়েছে,
কিন্তু কিছুসংখ্যক লোককে (যোগ্যতম
হক্কানী উলামায়ে কেরামকে) এ কাজ (তাবলীগের) সম্পাদন
করতে তলব করা হয়েছে। এজন্য
যে সাধারণভাবে ইহা প্রত্যেকের উপর ওয়াজিব
এমনকি যদি সকলেই ইহা পরিত্যাগ করে, তবে সকলই গোনাহের
অংশীদার হবে।
কিন্তু কিছুসংখ্যক লোক এ দায়িত্ব সম্পাদন করলে, সবাই
দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। তাবলীগে দ্বীনের দায়িত্ব আদায়
করা প্রত্যেকের উপর ফরযে কেফায়া।
অথবা আয়াতে বর্ণিত ﻣﻦ (মিন) শব্দটি ﺗﺒﻴﻴﻦ
বা বর্ণনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তোমরা হয়ে যাও এমন
উম্মত যারা কল্যাণের দিকে ডাকবে। যেমন আল্লাহর বাণী-
ﻛﻨﺘﻢ ﺧﻴﺮ ﺍﻣﺔ ﺍﺧﺮﺟﺖ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﺗﺄﻣﺮﻭﻥ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ –
অর্থ- তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত মানবজাতির কল্যাণের
জন্যেই তোমাদের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তোমরা সৎকাজের
নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে। তা এমন
কল্যাণকর কাজের প্রতি আহ্বান যা দ্বীন ও দুনিয়ার
সংশোধনের ক্ষেত্রে আম বা ব্যাপক।’ (বায়জাভীশরীফ
জুজে ছানী ৩১-৩২ পৃষ্ঠা দ্র:)
আল্লামা আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ
আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয় ‘কুরতুবিশরীফ’ নামক
কিতাবের জুজে রাবে ১৬২ পৃষ্ঠায় উপরোক্ত আয়াতের
ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ﻣﻨﻜﻢ ﻟﻠﺘﺒﻌﻴﺾ ﻭﻣﻌﻨﺎﻩ ﺍﻥ ﺍﻻﻣﺮﻳﻦ ﻳﺠﺐ ﺍﻥ ﻳﻜﻮﻧﻮﺍ ﻋﻠﻤﺎﺀ ﻭﻟﻴﺲ ﻛﻞ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﻠﻤﺎﺀ – ﻭﻗﻴﻞ : ﻟﺒﻴﺎﻥ ﺍﻟﺠﻨﺲ
ﻭﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﻟﺘﻜﻮﻧﻮ ﺍﻛﻠﻜﻢ ﻛﺬﺍﻟﻚ – ﻗﻠﺖ : ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺍﻻﻭﻝ ﺍﺻﺢ ﻓﺎﻧﻪ ﻳﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺍﻥ ﺍﻻﻣﺮ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﺍﻟﻨﻬﻰ ﻋﻦ
ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻓﺮﺽ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﻔﺎﻳﺔ –
অর্থাৎ (১) আয়াতে উল্লেখিত ﻣﻨﻜﻢ (মিনকুম) এর ﻣﻦ শব্দটি ﺗﺒﻌﻴﺾ
(তাবঈজ) বা কতক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, এর মর্মার্থ হলো-
নিশ্চয় উল্লেখিত বিষয়সমূহ (কল্যাণের দিকে আহ্বান
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ)
উলামায়ে কেরামের উপর ওয়াজিব কেননা প্রত্যেক লোক
আলেম নয়।
(২) কেউ কেউ বলেছেন ﻣﻦ শব্দটি বয়ানে জিনস এর মর্মার্থ হবে,
তোমরা প্রত্যেকই এরূপ হয়ে যাও। আল্লামা কুরতুিব বলেন-
প্রথম উক্তিটি অর্থাৎ ﻣﻦ শব্দটি ﺗﺒﻌﻴﺾ (তাবঈজ) বা কতক
অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ইহাই অধিক বিশুদ্ধ অভিমত।
কেননা নেককাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ
ফরজে কেফায়া।’
অনুরূপ ‘তাফসিরে জালালাইন’ শরীফের ৫৭ পৃষ্ঠায় উক্ত
আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻣﻦ ﻟﻠﺘﺒﻌﻴﺾ ﻻﻥ ﻣﺎ ﺫﻛﺮ ﻓﺮﺽ ﻛﻔﺎﻳﺔ ﻻﻳﻠﺰﻡ ﻛﻞ ﺍﻻﻣﺔ ﻭﻻ ﻳﻠﻴﻖ ﺑﻜﻞ ﺍﺣﺪ ﻛﺎﻟﺠﺎﻫﻞ –
অর্থাৎ ‘উক্ত আয়াতে ﻣﻦ মিন শব্দটি দ্বারা কিছুসংখ্যক
লোককে বুঝানো হয়েছে। কেননা তাবলীগে দ্বীন সম্পাদন
করা ফরজে কেফায়া অর্থাৎ কিছুসংখ্যক লোকের প্রতি ফরয। এ
নির্দেশ সকল উম্মতের প্রতি নয় কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি এ
কাজের যোগ্য নয় যেমন জাহিল বা মূর্খ ব্যক্তি।’
এভাবে মুফতীয়ে বাগদাদ আল্লামা আবুল ফজল শিহাবউদ্দিন
সৈয়দ মাহমুদ আলুছী বাগদাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয়
‘তাফসিরে রূহুল মা’য়ানী’ জুজে রাবে ২২ পৃষ্ঠা উল্লেখ
করেছেন-
ﻓﻰ ﻗﻮﻟﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ: ‏(ﻛﻨﺘﻢ ﺧﻴﺮ ﺍﻣﺔ ﺍﺧﺮﺟﺖ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﺗﺎﻣﺮﻭﻥ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﺗﻨﻬﻮﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ‏) ﻭﻻ ﻳﻘﺘﻀﻰ ﺫﻟﻚ
ﻛﻮﻥ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻓﺮﺽ ﻋﻴﻦ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺠﻬﺎﺩ ﻣﻦ ﻓﺮﻭﺽ ﺍﻟﻜﻔﺎﻳﺔ ﺑﺎﻻﺟﻤﺎﻉ ﻣﻊ ﺛﺒﻮﺗﻪ ﺑﺎﻟﺨﻄﺎﺏ ﺍﻟﻌﺎﻣﺔ –
অর্থাৎ ‘আল্লাহতা’য়ালার বাণী ‘কুনতুম খাইরা উম্মাতিন
উখরিজাত লিননাছি তা’মুরুনা বিল
মা’রূপে ওয়া তান্হাওনা আনিল মুনকারে’ অর্থ- ‘তোমরাই
হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের
আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ
দিবে এবং অন্যায় কাজের বাধা সৃষ্টি করবে।’
উক্ত আয়াতে কারীমার পরিপ্রেক্ষিতে দ্বীনের দাওয়াত
বা তাবলীগের কাজ সম্পাদন করা সকলের উপর ফরজে আইন
সাব্যস্ত হয় না। যেমনিভাবে কালামেপাকে জিহাদের
ব্যাপারে আম বা সম্বোধন থাকা সত্ত্বেও
ইজমা বা সর্বসম্মতিক্রমে জিহাদ ফরজে কেফায়া সাব্যস্ত
হয়েছে, ফরজে আইন বা প্রত্যেকের উপর ফরজ সাব্যস্ত হয়নি।’
উপরোল্লেখিত দলিলভিত্তিক
আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো, যারা সৎকাজের
নির্দেশ দান ও অসৎ কাজের বাধাদানের যোগ্য, তাদের উপরই
দ্বীনের দাওয়াত বা তাবলীগে দ্বীনের দায়িত্ব সম্পাদন
করা ফরজ।
যারা কোরআন সুন্নাহর ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ। ঈমানি ও
আমলি মাসআলা-মাসাঈল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নয়, তাদের
জন্য তাবলীগ করা হারাম।
তবে যারা হক্কানী উলামায়ে কেরামের
সহবতে থেকে ঈমানি ও আমলি যেসব মাসআলা-মাসাঈল
সঠিকভাবে শিখতে সক্ষম হয়েছে, শুধুমাত্র এসব মাসআলা-
মাসাঈল অন্যের কাছে প্রচার করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর হাবিব ইরশাদ করেন- ﺑﻠﻐﻮﺍ ﻋﻨﻰ ﻭﻟﻮ ﺍﻳﺔ
তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও অন্যের
কাছে পৌঁছে দাও অর্থাৎ যেসব মাসআলা-মাসাঈল,
হাদিসশরীফ অথবা আয়াতে করীমা সঠিকভাবে আয়ত্ব
করতে সক্ষম হয়েছ, তা অন্যের নিকট প্রচার করতে থাক।
পরবর্তীতে তাবেঈন, তবয়ে তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহেদীন,
চার মাযহাব ও চার তরিকার ইমামগণ, মুহাদ্দিসীন,
মুফাসসিরীন, আউলিয়া কেরাম যথা- গাউছুল আজম হযরত
আব্দুল কাদির জিলানী রাদিয়াল্লাহু আনহু, আতায়ে রাসূল
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী ছিনজেরী রাদিয়াল্লাহু
আনহু, খাজা বাহাউদ্দিন নক্সবন্দী রাদিয়াল্লাহু আনহু,
মুজাদ্দিদে আলফেসানী রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত
শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামনী রাদিয়াল্লাহু সহ দুনিয়ার
সমস্ত উলামায়ে রাব্বানী বা হক্কানী উলামায়ে কেরাম
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও
সাহাবায়ে কেরাম অনুকরণে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়
তাবলীগে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের
মধ্যে কেউ হাদিস সংকলন, তাফসির প্রণয়ন, ফিকহি মাসআলা-
মাসায়েল নির্ধারণ, কিতাবাদী প্রণয়ন, খারেজী, রাফেজী,
শিয়া, কাদিয়ানী, ওহাবি প্রভৃতি বাতিল মতবাদের খণ্ডন
করত সুন্নি মতাদর্শের সঠিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
এছাড়া ওয়াজ-নসিহত, মক্তব, মাদ্রাসা, খানকা প্রতিষ্ঠা,
দারুল ক্বিরাত বা ক্বিরাত প্রশিক্ষণের
মাধ্যমে তাবলীগে দ্বীনের খেদমত আজ পর্যন্ত অব্যাহত
রেখেছেন।
সুতরাং সাহাবায়ে কেরাম থেকে আজ পর্যন্ত কোরআন
সুন্নাহর দলিল মোতাবেক হক্কানী উলামায়ে কেরাম
বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তাবলীগে দ্বীনের যে খেদমত আঞ্জাম
দিয়ে আসছেন তাকেই তাবলীগে রাসূল বলা হয়।
তাবলীগে ইলিয়াছী
ইলিয়াছী তাবলীগ- প্রচলিত ইলিয়াছী তাবলীগ জামাতের
প্রবর্তক দিল্লির মৌলভী ইলিয়াছ মেওয়াতী। ১৩০৩
হিজরি সনে তার জন্ম এবং ১৩৬৩ হিজরি মোতাবেক
১৯৪৪ইং সনে তার মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম মৌলভী ইসমাঈল
ও মাতার নাম সুফিয়া। তার প্রবর্তিত তাবলীগের উসূল ছয়টি।
যথা-
১. কালিমা
২. নামাজ
৩. এলেম ও জিকির
৪. একরামুল মুসলিমীন
৫. তাছহিহে নিয়ত
৬. নাফার ফি ছাবিলিল্লাহ।
এই ছয়টি উসূলকে কেন্দ্র করেই ১৩৪৪
হিজরি সনে তিনি সর্বপ্রথম তাবলীগের কাজ ও গাশ্ত আরম্ভ
করেন। সুতরাং এর দ্বারা নিশ্চিতভাবে জানা গেল যে, ১৩৪৪
হিজরি সনের পূর্বে ইলিয়াছী তাবলীগ জামাতের কোন
অস্তিত্ব ছিল না। তখন নায়েবে নবী, আলেম
উলামারা রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কর্তৃক প্রবর্তিত তাবলীগই করে আসছিলেন যা আজও
আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত ইমাম হুসাইন
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আদর্শের অনুসারী একদল আলেম
উলামা- মক্তব, মাদ্রাসা, ওয়াজ-নসিহত, পুস্তক রচনা,
প্রকাশনাসহ বিভিন্ন পন্থায় তাবলীগে রাসূলের দায়িত্ব
পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু ইলিয়াছ মেওয়াতী সাহেব যখন
স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে তাবলীগ নামে ৬ উসূলি তাবলীগ
আবিষ্কার করলেন তখন সরলপ্রাণ মুসলমানদের
মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিল। এমনকি কেউ কেউ
মনে করলো মক্তব, মাদ্রাসা, ওয়াজ-নসিহত প্রভৃতি তাবলীগ
নয়। কোরআন হাদিসে যে তাবলীগের কথা উল্লেখ আছে।
(অর্থাৎ এমন একদল লোক যারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের
নিষেধ করবে) সে তাবলীগ হলো একমাত্র ইলিয়াছী তাবলীগ
জামাত। তাদের মতে সে তাবলীগের দায়িত্ব পালন
করতে হলে নিজ বাড়ি-ঘরে বসে আদায়
হবে না বরং মসজিদে মসজিদে যেতে হবে, থাকা-খাওয়া,
ঘুমানো সবকিছুই মসজিদে হতে হবে। আর এরই নাম তাবলীগ।
ভারতীয় উপমহাদেশের সরলপ্রাণ মুসলমানগণ যখন এ
বিভ্রান্তির অবস্থায় নিপতিত হলো তখন আহলে ছুন্নাত ওয়াল
জামায়াতের বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগণ কোরআন সুন্নাহর
অকাট্য প্রমাণাদির মাধ্যমে ইলিয়াছ মেওয়াতীর প্রবর্তিত
তাবলীগ জামাতের স্বরূপ উন্মোচন করে দেন। ফলে সরলপ্রাণ
মুসলমানগণ বুঝতে সক্ষম হন, তাবলীগে রাসূল ও
ইলিয়াছি তাবলীগ জামাতের পার্থক্য কি?
মূলকথা তাবলীগে রাসূল তথা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন,
তাবে তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, মুহাদ্দিসীন,
মুফাসসিরীন, আউলিয়ায়ে কেরাম ও
হক্কানী উলামায়ে কেরামগণ যে তাবলীগ করেছেন
সে তাবলীগের মূলভিত্তি নীতি আদর্শ লক্ষ্য উদ্দেশ্য
আক্বিদা ও বিশ্বাসের সাথে ইলিয়াছ মেওয়াতী ও তার
প্রবর্তিত ইলিয়াছী তাবলীগ জামাতের আক্বিদাগত কোন
মিল নেই। তাদের আক্বিদা ওহাবি আক্বিদার অনুরূপ।
বরং স্বপ্নেপ্রাপ্ত মনগড়া এ তাবলীগ আবিষ্কার
করা হয়েছে ওহাবি দেওবন্দি বাতিল আক্বিদা প্রচার ও
প্রসারের জন্য। এই তাবলীগ কিভাবে আবিষ্কার হল এবং এর
লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি এ ব্যাপারে তাবলীগের
প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী ইলিয়াছ মেওয়াতী তার মলফুজাত নামক
কিতাবের ৫০ নং বাণীতে বলেন-
ﭘﮭﺮ ﻓﺮﻣﺎﻳﺎ ـ ﺁﺝ ﮐﻞ ﺧﻮﺍﺏ ﻣﯿﮟ ﻣﺠﮧ ﭘﺮ ﻋﻠﻮﻡ ﺻﺤﯿﺤﮧ ﮐﺎ ﺍﻟﻘﺎ ﮨﻮﺗﺎ ﮨﮯ ﺍﺱ ﻟﮱ ﮐﻮﺷﺶ ﮐﺮﻭ ﻣﺠﮩﮯ ﻧﯿﻨﺪ
ﺯﻳﺎﺩﮦ ﺍﮰ ‏( ﺧﺸﮑﯽ ﮐﯽ ﻭﺟﮧ ﺳﮯ ﻧﯿﻨﺪ ﮐﻢ ﮨﻮﻧﮯ ﻟﮕﯽ ﺗﻮ ﻣﯿﮟ ﻧﮯ ﺣﮑﯿﻢ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻭﺭ ﮈﮐﺘﮍ ﮐﮯ ﻣﺸﻮﺭﮮ
ﺳﮯ ﺳﺮ ﻣﯿﮟ ﺗﯿﻞ ﮐﯽ ﻣﺎﻟﺶ ﮐﺮﺍﺉ ﺟﺲ ﺳﮯ ﻧﯿﻨﺪ ﻣﯿﮟ ﺗﺮﻗﯽ ﮨﻮ ﮔﺊ ‏) ﺍﭖ ﻧﮯ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﮐﮧ ﺍﺱ ﺗﺒﻠﯿﻎ ﮐﺎ
ﻃﺮﯾﻘﮧ ﺑﮭﯽ ﻣﺠﮧ ﭘﺮ ﺧﻮﺍﺏ ﻣﯿﮟ ﻣﻨﮑﺸﻒ ﮨﻮﺍ
(উক্ত এবারতের অনুবাদ করেছেন তাবলীগীপন্থী ডক্টর
ছানাউল্লাহ, পি.এইচ.ডি, লন্ডন, বাংলা মলফুজাত ৪৪ পৃষ্ঠা)
অনুবাদটি নিুরূপ:
‘তৎপর বলেন (ইলিয়াছ ছাহেব বলেন) আজকাল স্বপ্নে আমার
উপর সত্যিকার এলম এলকা করা হয় (ঢালিয়া দেয়া হয়) এই জন্য
কোশেশ কর যেন আমার ঘুম বেশি হয় (খুশকির জন্য ঘুম কম
হইতে ছিল। তৎপর আমি হেকিম ও ডাক্তারের পরামর্শ মত
মাথায় তৈল মালিশ করাতে ঘুম বেশি হতে ছিল।)
তিনি বলেন (ইলিয়াছ ছাহেব বলেন) এই তাবলীগের তরিকাও
স্বপ্নেই আমার উপর উদঘাটিত ‘কশ্ফ’ হয়েছিল।’
(অনুরূপ অপর তাবলীগীপন্থী মাওলানা ছাখাওয়াত উল্লাহ
মলফুজাতের উপরোক্ত এবারতের বাংলা অনুবাদ করেছেন
(যা তাবলীগী কুতুবখানা ৬০নং চক সার্কুলার রোড, চক্বাজার,
ঢাকা-১২১১ থেকে প্রকাশিত।)
অনুবাদটি নিুরূপ ‘তারপর তিনি বলেন- আজকাল খাবের
মধ্যে আমার অন্তরে ছহী এলেম দেয়া হয়, কাজেই আমার যেন
ঘুম বেশি বেশি হয় সেই জন্য তোমাদের চেষ্টা করা উচিত।
(হজরতজী বলেন খুশকীর দরুণ আমি অনিদ্রায় ভুগতে ছিলাম,
ডাক্তারের পরামর্শানুসারে মাথায় তৈল ব্যবহার
করাতে এখন কিছুটা নিদ্রা হইতেছে) তিনি আরও বলেন এই
তাবলীগের তরীকা স্বপ্নের মাধ্যমেই আমার উপর
খোলা হইয়াছে।’
অনুরূপ ইলিয়াছী তাবলীগীপন্থী মৌং বাছির উদ্দিন
‘তাবলীগের পথে’ নামক পুস্তকের ২৪ পৃষ্ঠায় ‘হযরত ইলিয়াছ এর
প্রবর্তিত তাবলীগের নিয়ম’ শিরোনামে লিখেন: হযরত
ইলিয়াছ তাঁহার কৃত মালফুজাত কিতাবে বলেন- ‘এই
তাবলীগের নিয়ম আমার উপর স্বপ্নে প্রদত্ত হইয়াছে।
খোদা তা’য়ালার এরশাদ ﻛﻨﺘﻢ ﺧﻴﺮ ﺍﻣﺔ এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার
প্রতি হুকুম হইল যে ইলিয়াছ, তুমি পয়গম্বরদের মতই লোকদিগের
জন্য প্রেরিত হইয়াছ, আর- ﺍﺧﺮﺟﺖ ﻟﻠﻨﺎﺱ দ্বারা ইহাই
ইশারা করা হইল যে, তোমরা এক জায়গায় বসে তবলীগ
করা চলিবে না বরং বাড়ি-বাড়ি, দেশ-বিদেশ এই কাজ
লইয়া ঘুরাফেরা করিতে হইবে। ইহার উপর ভিত্তি করিয়াই
হযরত ইলিয়াছ তবলীগের কাজ আরম্ভ করেন।’
তাবলীগী জামাতের প্রবর্তক মৌলভী ইলিয়াছ মেওয়াতীর
বক্তব্য এবং তার অনুসারীদের অনুবাদ
থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মৌলভী ইলিয়াছ
সাহেব মাথায় তৈল মালিশ করিয়ে শান্তির ঘুমে স্বপ্ন
দ্বারা তার তাবলীগের তরিকা বা নিয়ম পদ্ধতি পেয়েছেন। এ
স্বপ্নের উপর জোড় দিয়ে বলেন-
ﺍﺱ ﺗﺒﻠﯿﻎ ﮐﺎ ﻃﺮﯾﻘﮧ ﻣﺠﮧ ﭘﺮ ﺧﻮﺍﺏ ﻣﯿﮟ ﻣﻨﮑﺸﻒ ﮨﻮﺍ –
‘এই তাবলীগের তরিকা আমার উপর স্বপ্নে প্রদত্ত
করা হয়েছে।’ ইলিয়াছ সাহেবের এ বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত
হলো যে, তার তাবলীগ (ইলিয়াছী তাবলীগ) তাবলীগে রাসূল
থেকে সম্পূর্ণ পৃথক।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, দেখলেন তো মৌলভী ইলিয়াছ
মেওয়াতী সাহেব, শরিয়তে মুহাম্মদীর চারটি দলিল
ছেড়ে দিয়ে স্বপ্নের উপর
ভিত্তি করে শরিয়তবিরোধী মনগড়া নিয়মে এর নতুন মতবাদ
বের করেছেন এবং সরলপ্রাণ মুসলমানগণকে ধোঁকা দেয়ার
মানসে তাবলীগ নাম রেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে ইহা একান্তই
তার নিজের মনগড়া নব আবিষ্কার।
স্বপ্ন কি দলিল?
একমাত্র নবীগণ আলাইহিমুস সালাম এর স্বপ্নই সঠিক নির্ভুল ও
শরিয়তের দলিলরূপে গণ্য।
তাফসিরে রুহুল মায়ানী ২৩ পারা ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻭﺭﻭﻳﺎ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻭﺣﻰ ﻛﺎﻟﻮﺣﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﻴﻘﻈﺔ –
অর্থাৎ ‘নবীগণ আলাইহিমুস সালামের উপর নাজিলকৃত
ওহি জাগ্রত অবস্থায় যেরূপ নির্ভুল সঠিক সত্য তদ্রুপ তাঁদের
ঘুমন্ত অবস্থার স্বপ্ন ও ওহি শরিয়তের দলিলরূপে পরিগণিত।’
অনুরূপ: ‘তাফসিরে জালালাইনশরীফ’ ৩৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ
রয়েছে-
ﺭﻭﻳﺎ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﺣﻖ ﻭﺍﻓﻌﺎﻟﻬﻢ ﺑﺎﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ –
অর্থাৎ ‘নবীগণ আলাইহিমুস সালামের স্বপ্ন সত্য এবং তাঁদের
কাজসমূহ আল্লাহতা’য়ালার নির্দেশেই সম্পাদিত
হয়ে থাকে।’
পক্ষান্তরে, ওলির স্বপ্ন কেন? ওলির এলহামও নির্ভরযোগ্য সত্য
হয় না বরং সত্য ও অসত্য উভয়েরই সম্ভাবনা থাকে।
কেননা ওলির এলহাম ও স্বপ্ন সন্দেহজনক এবং সন্দেহ কোন
দিক দিয়ে দলিল হতে পারে না। ‘নূরুল আনওয়ার’ নামক
কিতাবে ‘আফয়ালুন্নবী’ শীর্ষক আলোচনায় ২১৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ
রয়েছে-
ﻭﻫﺬﺍ ﻫﻮ ﺍﻟﻤﺴﻤﻰ ﺑﺎﻻﻟﻬﺎﻡ ﻭﻳﺸﺘﺮﻙ ﻓﻴﻪ ﺍﻻﻭﻟﻴﺎﺀ ﺍﻳﻀﺎ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻬﺎﻣﻬﻢ ﻳﺤﺘﻤﻞ ﺍﻟﺨﻄﺎﺀ ﻭﺍﻟﺼﻮﺍﺏ ﻭﺍﻟﻬﺎﻣﻪ
ﻻﻳﺤﺘﻤﻞ ﺍﻻ ﺍﻟﺼﻮﺍﺏ –
অর্থাৎ ‘একমাত্র নবীর এলহামই সঠিক এবং সত্য।
পক্ষান্তরে ওলিগণের এলহাম সন্দেহজনক অর্থাৎ সত্য ও অসত্য
উভয়েরই সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সন্দেহজনক কোন কিছু শরিয়তের নির্ভরযোগ্য
দলিল হতে পারে না। এজন্যই প্রখ্যাত উসূলবীদ মুল্লা জিউন
রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘নূরুল আন্ওয়ার’ কিতাবের ২১৫ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেন-
ﻭﺍﻟﻬﺎﻡ ﺍﻻﻭﻟﻴﺎﺀ ﺣﺠﺔ ﻓﻰ ﺣﻖ ﺍﻧﻔﺴﻬﻢ ﺍﻥ ﻭﺍﻓﻖ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﺘﻌﺪ ﺍﻟﻰ ﻏﻴﺮﻫﻢ ﺍﻻ ﺍﺫﺍ ﺍﺧﺬﻧﺎ ﺑﻘﻮﻟﻬﻢ ﻳﻄﺮﻳﻖ
ﺍﻻﺩﺏ –
অর্থাৎ ‘ওলিগণের স্বপ্ন যদি শরিয়তের অনুকূলে হয়,
তা হলে তাঁদের স্বপ্ন শুধুমাত্র তাঁদের নিজেদের জন্যই দলিল
হতে পারে অন্য কারো জন্য দলিল হতে পারে না।
তবে আমরা আদব রক্ষার্থে তাদের
কথাগুলোকে নিয়ে থাকি শরিয়তসম্মত হবার কারণে।’
‘নূরুল আন্ওয়ার’ কিতাবের ২১নং হাশিয়া (পার্শ্ব টিকায়)
উল্লেখ রয়েছে-
ﺍﻥ ﻭﺍﻓﻖ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﺍﻟﺦ ﻓﻴﻪ ﺍﻳﻤﺎﺀ ﺍﻯ ﺍﻥ ﺍﻟﻬﺎﻡ ﺍﻟﻮﻟﻰ ﺍﻥ ﺧﺎﻟﻒ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ ﺍﻟﻤﺤﻤﺪﻳﺔ ﻓﻬﻮ ﻟﻴﺲ ﺑﺤﺠﺔ ﻻﻓﻰ
ﺣﻖ ﻧﻔﺴﻪ ﻭﻻ ﻓﻰ ﺣﻖ ﻏﻴﺮﻩ ﺍﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﻀﺎﻝ ﺍﻟﻤﻀﻞ –
অর্থাৎ ﺍﻥ ﻭﺍﻓﻖ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ (যদি ইলহাম শরিয়তসম্মত হয়) এতে ইঙ্গিত
রয়েছে যে, ওলির ইলহাম যদি শরিয়তে মুহাম্মদীর
পরিপন্থী হয়, তাহলে অপরের জন্যতো দূরের কথা নিজের জন্যও
দলিল হতে পারে না, বরং নিঃসন্দেহে ইহা পথভ্রষ্ট ও
পথভ্রষ্টকারী শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা মাত্র।’
মুদ্দাকথা হলো একমাত্র সম্মানিত নবীগণের স্বপ্নই সঠিক ও
শরিয়তের দলিল হিসাবে গণ্য, অন্য কারো স্বপ্ন শরিয়তের
দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
বর্তমান প্রচলিত তাবলীগী জামাতের প্রবর্তক
মৌলভী ইলিয়াছ
মেওয়াতী যদি নিজেকে উম্মতে মুহাম্মদী বলে দাবি করে থাকেন,
তাহলে, তার এ উদ্ভট স্বপ্ন দলিল হতে পারে না বরং কথিত এ
স্বপ্ন প্রদত্ত তাবলীগ বাতিল ও ভিত্তিহীন বলে গণ্য হবে।
যদি কোন মুসলমান এ ইলিয়াছী তাবলীগী জামাতে যোগদান
করে তাহলে সে পথভ্রষ্ট হবার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে।
অপরদিকে যদি তিনি নবুয়তের দাবিদার হন, তাহলে তার এ
স্বপ্ন দলিল হতে পারে বটে কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী, কিয়ামত
পর্যন্ত আর কোন নবী আসবেন না, আসতেও পারেন না।
সুতরাং যদি কেহ নবুওতের দাবি করে তবে সে সকল উম্মতের
ঐকমত্যে কাফের হিসেবে গণ্য হবে। —

বিবেকের কাঠগড়ায় বিশ্ব ইজতিমা

Standard

এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে দেশের
স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশের প্রধান
দুটি রাজনৈতিক দলের মহামান্য প্রধানগন আপন আপন
ক্ষমতায় থাকাকালে তাবলীগ জামাতের আবেদনের
ভিত্তিতে টঙ্গীর বিরাট , ভু-খন্ড তাদেরকে প্রদান
করেছেন আর উভয় দলই ইসলামের জন্য তাদের অবদানের
তালিকায় এদের প্রতি প্রদর্শিত বিরাট
বদান্যতাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে থাকে।
ক্রমশঃ প্রাত্যেক ক্ষমতাসীন সরকারের
আন্তরিকতা আরো ব্যাপক হতে থাকে
তাছাড়া বিটিবি এবং দেশের কিছু পত্র
পত্রিকা ইত্যাদির প্রচারণা, সরকারের বিশেষ
ব্যবস্তাপনা, মহামান্য রাষ্টপ্রদান ও মাননীয় সরকার
প্রধান, সম্মানিত বিরোধী দলীয় প্রদান ও রাজীনৈতিক
নেতৃবৃন্দের ওই মুনাজত এ শরীক হওয়া ইত্যাদি কারণে টঙ্গীর
জমায়েতের পরিসর ক্রমশঃ বিগত বছরগুলোকেও
ছড়িয়ে যাচ্ছে। অবশ্য, এ সম্পর্কে দেশের প্রচার
মাধ্যমগুলোর বদান্যতায়
অনেকে বিস্তারিতভাবে চেনেছেন সব মিলিয়ে এখন
সেটা তাদের ভাষায় বিশ্ব ইজতিমা।
উল্লেখ্য, প্রায়শঃ তাবলীগ জামাতের জন্মস্তান ভারত
থেকে আগত দিল্লীর কেন্দ্রীয় তাবলীগ জামাতের সদস্য ও
শীর্ষ মুরব্বী মুনাজাত পরিচালনা করেন
অংশগ্রহণকারীরাও একযোগে আ-মীন বলেন।
অনেকে কান্নাকাটিও করেন বৈ-কি। এখানে আমার বক্তব্য
হচ্ছে- একদিকে সরকার তো তার দায়িত্ব পালন করেছে আর
সরলপ্রাণ মুসলমানরাও অন্তত এক বড় জমায়েতে মুনাজাত
করাকে একটি বিরাট ধর্মীয় কাজ মনে করছেন,
অন্যদিকে এটা অত্যান্ত দুঃখের সাতে আশঙ্কাও
করা যাচ্ছে যে তাবলীগ জামাতের চতুর্থা ও দেশের
মুসলমানদের সরলতা, সর্বপরি সচেতন সুন্নী মুসলমানদের
নীরবতা ওই তাবলীগ জামাতের আসল পরিচয় ও
উদ্দেশ্যকে এক গাঢ় আড়ালে দ্রুত
ঢাকা দিতে যাচ্ছে কিনা। আর এ আড়ালের সুবাদে তারাও
এ দেশকে সহসা ওহাবীরাষ্টে পরিণত করার সুযোগ
নিতে যাচ্ছে কিনা তদুপরি, বর্তমানে দমিত ও গা-
ঢাকা দেওয়া জঙ্গি খারেজী (জেএমবি ও হরকাতুল জিহাদ
ইত্যাদি) অদুর ভবিষ্যত এক পর্যায়ে গিয়ে আরো মারাত্মক
আকার ধারণ করতে যাচ্ছে কিনা তাও ভেবে দেখার সময়
এসেছে।
তাই আমি সচেতন সুন্নী ওলামা ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে এ
তাবলীগ জামাত ও তাদের মূল উাদ্দেশ্য এবং এ জামাতের
এ পর্যন্ত কর্মকান্ডের ফলাফল
সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করার চেষ্টা করব
যাতে ইজতিমার বিশালতা ও মুনাজাত এর আড়ম্বরতায় মুগ্ধ
হয়ে এদেশের মুসলমানগন তাদের আসল পরিচয়
ভুলে না বসেন। আমি আমার ঈমানী দায়িত্ব টুকু পালন
করতে চাই সেটার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া বা না দেওয়ার
সিদ্ধান্ত নেবেন
যারা তাদেরকে নির্বিচারে ইসলামী জামাত মনে করেন
বিশেষভাবে তারা এবং সাধারণভাবে অন্যরা।
তাবলীগ জামাতের গোড়ার কথা।
এ কথা সুস্পষ্ট যে ভারতের সাইয়্যিদ আহমদ ব্রেলভী ও
মৌলভী ইসমাঈল দেহলবী সৌদিয়া থেকে এ
উপমহাদেশে ওহাবী মতবাদ সর্বপ্রথম আমদানি করার পর
ভারতে নাদওয়াতুল ওলামা ও দারুল উলুম দেওবন্দ
মাদরাসা ইত্যাদি ওহাবী মতবাদের গবেষণা ও
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ দেওবন্দ
মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হলেন- মৌং মুহাম্মদ
কাসেম নানুতবী। আর মৌং আশরাফ
আলী থানভী মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী এবং মৌং খলীল
আহমদ আন্বেটবী প্রমুখ ছিলেন এ উপমহাদেশে ওই মতবাদ
প্রচারের পুরোধা। এ মৌং আশরাফ
আলী থানভী সাহেবের অন্যতম প্রধান শীষ্য ছিলেন
মৌং ইলিয়াস সাহেব এ মতবাদ প্রচারের জন্যই তাবলীগ
জামাত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এ জামাত প্রতিষ্ঠার
ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন যে, তাবলীগ
জামাতের কর্মপদ্ধিতি হবে তার নিজের উদ্ভাবিত কিন্তু
প্রচারের বিষয়বস্তু ও শিক্ষা হবে তার পরম শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ
মৌং আশরাফ আলী থানভীর।
[তাবলীগী জামাআত খত্বরনাক কৃত মাওলানা এরশাদ আল
কাদেরী ভারত]
এখন দেখুন মৌং আশরাফ আলী থানবী সাহেবের
শিক্ষা কি? তার আক্কিদা ও শিক্ষা হচ্ছে অবিকল সমস্ত
দেওবন্দী আলিমদের আক্বীদা ও শিক্ষা। আর এ আক্বীদা ও
শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের একমাত্র উদ্দেশ্যেই
মৌং ইলয়াস সাহেব কায়েম করেছেন তাবলীগের ছয় উসূল।
গোটা তাবলীগ জামাতই এ ছয় উসূল প্রতিষ্ঠা করে বেড়ায়।
টঙ্গীর তথাকথিত বিশ্ব ইজতিমায় ছয় উসূল ও তাদের
বাস্তবায়ন নিয়ে চিল্লাবদ্ধ মুসল্লীদের
উদ্দেশে হিদায়াতী (নিদ্যেশনামূলক) বয়ান দেওয়া হয়।
[দৈনিক পূর্বকোণ, ২৯ জানুয়ারী ২০০৬ সংখ্যা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য ওই ছয় উসূলের ইসলামের পঞ্চবুনিয়াদ
থেকে নেয়া হয়েছে মাত্র দুটি। যথা- ১. কালেমা ও ২.
নাময। আর বাকী ৪ টা হচ্ছে ৩.ইকরামুল মুসলিমীন,৪.
তাসীহ-ই নিয়্যাত (উদ্দেশ্য ঠিক করা)।
আর মৌং আশরাফ আলী থানেভীসহ দেওবন্দী দের
আক্বীদা ও শিক্ষা হচ্ছে-
১. আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারেন।
[ফতোয়া-ই- রশীদিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৯, কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
২. আল্লাহ আগে জানেন না বান্দা কি কাজ করবে।
বান্দা যখন কাজ সম্প্ন করে নেয় তখনই আল্লাহ
তা জানতে পারেন।
[তাপসীর-ই- বুলগাতুল হায়রান পৃষ্ঠা ১৫৭-৫৮, কৃত
মৌং হুসাইন আলী দেওবন্দী]
৩. শয়তান ও মালাকুল মাওত এর জ্ঞান হুযুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামার চেয়ে বেশি।
[বারাহীন-ই ক্বাতিআহ পৃষ্ঠা- ৫১ কৃত খলীল আহমদ
আম্বেটভী দেওবন্দী]
৪. আল্লাহর নবীর নিকট নিজের পরিণতি এবং দেয়ালের
পিছনের জ্ঞানও নেই।
[বারাহীন-ই ক্বাতি আহ পৃষ্টা ৫১, কৃত খলীল আহমদ
আম্বেটভী দেওবন্দী]
৫. নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা তেমনি জ্ঞান
দান করেছেন যেমন জ্ঞান জানোয়ার পাগর এবং শিশুদের
নিকট রয়েছে।
[হিফজুল ঈমান পৃষ্ঠা-৭ কৃত মৌং আশরাফ
আলী থানভী দেওবন্দী]
৬. নামাযে নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামার প্রতি শুধু খেয়াল যাওয়া গরু
গাধার খেয়ালে ডুবে যাওয়া অপেক্ষাও মন্দতর।
[সিরাতে মু্স্তাকিম পৃষ্ঠা-৮৬ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
৭. রাহমাতুল্লীল আলামীন (সমস্ত বিশ্বের জন্য রহমত)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার খাস
উপাধি নয় নবীজী ছাড়া অন্যন্য বুযুর্গকেও রাহমাতুল্লিল
আলামীন বলা যেতে পারে।
[ফতোয়া-ই রশীদিয়া ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা-১২ কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
৮. খাতামুন্নাবিয়্যিন অর্থ
আখেরী বা শেষনবী বুঝে নেওয়া সাধারন লোকদের খেয়াল
মাত্র জ্ঞানী লোদের মতে এ অর্থ বিশুদ্ধ নয়। হুযুর
আকরামের যুগের পরও যদি কোন নবী পয়দা হয় তবে হযররত
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার শেষ
নবী হওয়ার কোন ক্ষতি হবে না।
[তাহযীরুন্নাছ পৃষ্ঠা-৩ ও ২৫৪ কৃত দারুল উলুম দেওবন্দ
মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌং কাসেম নানুতবী]
৯. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দেওবন্দের আলেমদের সাথে সম্পর্কের সুবাদে উর্দু
শিখতে পেরেছেন।
[বারাহীন-ই ক্বাতিয়াহ, পৃষ্ঠা ২৬ কৃত মৌং খলীল আহমদ
আম্বেটভী দেওবন্দী]
১০. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার
সম্মান শুধু বড় ভাইয়ের মতই করা চাই।
[তাক্বভিয়াতুর ঈমান পৃষ্ঠা-৫৮ কৃত মৌং ঈসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
১১. আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমকক্ষ
কোটি কোটি পয়দা করতে পারেন।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা ১৬ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
১২. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মরে মাটিতে মিশে গেছেন।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৫৯ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
১৩. নবী প্রতিটি মিথ্যা থেকে পবিত্র ও মাসুম
হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
[তাক্বভিয়াতুল আকাঈদ পৃষ্ঠা ২৫ কৃত মৌং কাসেম নানুতবী]
১৪.নবী রাসূল সবাই অকেজো।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৬২৯ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী]
১৫. নবীর প্রশংসা শুধু মানুষের মতই
কারো বরং তা অপেক্ষাও সংক্ষিপ্ত কর।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা ৬১ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
১৬. বড় মাখলুক অর্থাৎ নবী আর ছোট মাখলুক অর্থাৎ অন্যসব
বান্দা আল্লাহর শান বা মর্যাদার সামনে চামার
অপেক্ষাও নিকৃষ্ট।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা ১৪ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলবী ওহাবী]
১৭. বড় অর্থাৎ নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর ছোট অর্থাৎ অন্যসব
বান্দা বেখবর ও অজ্ঞ।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৩ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
১৮. নবীকে তাগুত (শয়াতান বলা জায়েয।
[তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান পৃষ্ঠা-৪৩ কৃত মৌং হুসাইন
আলী ওয়াভচরান ওয়ালা]
১৯. নবীর মর্যাদা উম্মতের মধ্যে গ্রামের চৌধুরী ও
জমিদারের মত।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৬১ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
২০. যার নাম মুহাম্মাদ কিংবা আলী তিনি কোন কিছুই
করতে পারেন না।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৪১ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
২১. উম্মত বাহ্যিকভাবে আমলের মধ্যে নবী থেকেও
বেড়ে যায়।
[তাহযীরুন্নাছ পৃষ্ঠা-৫ কৃত দারুল উলুম দেওবন্দ
মাদরাসা অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মৌং কাসেম নানুতভী]
২২. দেওবন্দী মোল্লা নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুলসেরাত হতে পতিত
হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন।
[তাফসীর-ই বুলগাতুল হায়রান পৃষ্ঠা-৪৩ কৃত মৌং হুসাইন
আলী ওয়াভচরান ওয়ালা]
২৩. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আশরাফ আলী রাসুলুল্লাহ আর
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা ওয়া নবীয়্যিনা আশরাফ
আলী বলার মধ্যে সান্ত্বনা রয়েছে কোন ক্ষতি নেই।
[রিসালা-ই ইমদাদ পৃষ্ঠা-৩৫ সফর-১৩৩৬ হিজরি সংখ্যা]
২৪. মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উদযাপন করা তেমনি যেমন হিন্দুরা তাদের কানাইয়্যার
জন্মদিন পালন করে।
[বারাহীন-ই ক্বাতিয়াহ পৃষ্ঠা-১৪৮ কৃত মৌং খলীল আহমদ
আম্বেটভী দেওবন্দী]
২৫. আল্লাহর সামনে সমস্ত নবী ও ওলী একটা নাপাক
ফোটা অপেক্ষাও নগণ্য।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৫৬ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
২৬. নবীকে নিজের ভাই বলা দুরস্ত।
[বারাহীন-ই ক্বাতিয়াহ পৃষ্ঠা-৫৬ কৃত মৌং খলীল আহমদ
আম্বেটভী দেওবন্দী]
২৭. নবী ও ওলীকে আল্লাহর সৃষ্টি ও বান্দা জেনেও উকিল
এবং সুপারিশকারী মনে করে এমন মুসলমান সাহায্যের জন্য
আহবানকারী ও নযর নিয়াযকারী মুসলমান আর কাফির আবু
জাহল শির্কের মধ্যে সমান ।
[তাক্বভিয়াতুল ঈমান পৃষ্ঠা-৭-২৭ কৃত মৌং ইসমাঈল
দেহলভী ওহাবী]
২৮. দরূদ ই তাজ অপছন্দনীয় এবং পাঠ করা নিষেধ।
ফযাইলে দরূদ শরীফ পৃষ্ঠা-৯২ ফাযাইলে আমল
তথা তাবলীগী নেসাব থেকে পৃথক্বৃত]
২৯. মীলাদ শরীফ মিরাজ শরীফ ওরস শরীফ খতম শরীফ
চেহলামে ফাতিহাখানি এবং ঈসালে সাওয়াব সবই
নাজায়েয ভুল প্রথা বিদআত এবং কাফির ও হিন্দুদের প্রথা।
[ফতোয়া-ই রশীদিয়া ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা-৯৩-৯৪, কৃত
মৌং রশদি আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
৩০. প্রসিদ্ধ কাক খাওয়া সাওয়াব।
[ফতোয়া-ই রশীদিয়া ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা-১৩০ কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
৩১. হিন্দুদের হোলী দেওয়ালীর প্রসাদ ইত্যাদি জায়েয।
[ফতোয়া-ই রশীদিয়া ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা-১৩২ কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
৩২. ভাঙ্গী চামারের ঘরের রুটি ইত্যাদির মধ্যে কোন দোষ
নেই যদি পাক হয়।
[ফাতোয়া-ই রশীদিয়া ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ১৩০ কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
৩৩. হিন্দুদের সুদী টাকায় উপার্জিত অর্থে কূপ বা নফকূপের
পানি পান করা জায়েয।
[ফতোয়া-ই রশীদিয়া ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪ কৃত মৌং রশীদ
আহমদ গাঙ্গুহী দেওবন্দী]
নাঊযুবিল্লাহ সুম্মা নাউযু বিল্লাহ মিনহা।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে তাবলীগ জামাতের
আক্বীদা ও আমল দেওন্দী ওহাবীদের আক্বীদা ও আমলের
সাথে মোটেই বিরোধপূর্ণ নয় বরং এক ও অভিন্ন।
এসব আক্বিদা ও আমলকে তাবলীগ জামাত তা ছয় উসূলের
মাধ্যমে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর। টঙ্গীর
ইজতিমার প্রধান লক্ষ্যও এটাকে আরো ব্যাপক করা।
২০০৬ সালের তাবলীগী ইজতিমার খবরে প্রকাশ
ইজতিমা প্যান্ডেলের উত্তর দিকে স্থাপিত তাশকীলের
কামরায় নতুন করে বিভিন্ন মেয়াদের চিল্লায়
তালিকাভুক্ত মুসল্লীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত জামাতীদের বিভিন্ন
খেত্তা থেকে তাশকীলের কামরায় আনা হয়
এবং জামাতবন্দী করা হয়। তালিকাভুক্ত হয়েছেন (২য়
দিনে) প্রায় ছয় হাজার। চুড়ান্তভাবে এলাকা ভাগ
করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মুসল্লীকে কাকরাইল
মসজিদ থেকে জামাতবন্দী করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও
বিদেশে পাঠানো হবে।
[দৈনিক পূর্বকোন,-২৯ জানুয়ারী ২০০৬]
সুতরাং তাবলীগ ও তাদের ইজতিমা সম্পর্কে নিম্বলিখিত
বিষয়গুলোর প্রতি মনযোগ দেওয়া জরুরি মনে করি-
প্রথমতঃ যে কোন আমল ক্ববুল হবার পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ
আক্বীদা। আর এ বিশুদ্ধ আক্বীদা হচ্ছে একমাত্র
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর আক্বাইদ। ভ্রান্ত
আক্বাইদ পোষণ করলে কোন আমলই আল্লাহর
দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না।
দ্বিতীয়তঃ ইসলামের একমাত্র সঠিক
রূপরেখা হচ্ছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়েতের সম্পূর্ণ
বিপরীত। বস্তুতঃ তাদের আক্বীদা ও আমল ওই
খারেজী মতবাদেরই অনুরূপ, যারা পবিত্র হাদিসের ভাষায়
ইসলামী নামের ভ্রান্ত ৭২ বহাত্তর দলের মধ্যে সর্বপ্রথম
দল। [সিহাহ ও শরহে মাওয়াক্বিফ ইত্যাদি]
তৃতীয়তঃ ওহাবী তাবলীগপন্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ
সরকারের অধীনে পরিচালিত বাংলাদেশ
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর পাঠ্যক্রম অনুসরণ
করেনা তারা অনুসরণ করে ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার
পাঠ্যাক্রম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।[দৈনিক ইনকিলাব এ
প্রকাশিত ক্রোড়পত্র]
উল্লেখ্য আহলে হাদীসের ড. গালিব শায়খ আবদুর রহমান
সিদ্দীকুর রহমান বাংলাভাই প্রমুখ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত
তাদের সংগঠনগুলোর সদস্যরা হয়তো এসব
খারেজী মাদরাসায় শিক্ষাপ্রাপ্ত নতুবা তাবলীগপন্থী।
(বিটিভিতে প্রচারিত অনুতাপ কারীদের কেউ কেউ
স্বীকারও করেছে যে তারা তাবলীগপন্থী)।
তাছাড়া আহলে হাদীস সম্প্রদায়টি মূলতঃ ওহাবীদের
একটি অংশ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে আহলে হাদীসের
লোকেরা মাযহাব মানেনা। অন্যান্য আক্বীদা ও আমল
প্রায় এক ও অভিন্ন। সুতরাং তাবলীগ জামাতের
অগ্রযাত্রার সাথে সাথে প্রকারান্তরে ওই সব ধর্মের
নামে বিশৃঙ্খলাবাদীদের ক্ষমতাবৃদ্ধির আশঙ্কাও
উড়িয়ে দেবার মত নয়।
চতুর্থতঃ এদেশে সুন্নী মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ
ওহাবীরা নয়। কিন্তু এসব
ওহাবী ক্বওমী তাবলীগীরা সংখ্যালুঘু সুরভ ঐক্য বাহ্যিক
বেশ ভূয়া জামাতবন্দিতা ও সুচতুরতা সর্বোপরি একই
মতবাদী বিদেশীদের পৃষ্ঠপোষকতা (যেমন- বর্তমান
সৌদিয়া প্রভাবিত আরবীয়রা) এবং অব্যাহত কর্মতৎপরতার
মাধ্যমে তাদের অবস্থানকে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের
বলে প্রদর্শণ করে আসছে। এরই পরম্পারায় এরা প্রাগ
একাত্তরকালীন সময়ে পাকিস্তানী হানাদারদের
ছত্রছায়ায় কোন ভুমিকায় ছিল
তা হয়তো দেশবাসী বিভিন্ন কারণে ভুলে যাচ্ছে বিগত
জোট সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের সুবাদে তারাই
সুন্নী মুসলমানদের উপর নানাভাবে আঘাত হানতে আরম্ভ
করেছিল বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। হযরত শাহ
জালাল রাহমাতুল্লাহি আলাইহির
মাযারে ওরসে মুনাজাত চলাকালে বোমা মেরে যা ইরীন
হত্যা ওই মাযার এবং চট্রগ্রামের হযরত বায়েজীদ
বোস্তমী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মাযারের পুকুরে বিষ
প্রায়োজ করে মাছ ইত্যাদি হত্যা করা এরই প্রকৃষ্ঠ দৃষ্টান্ত
বৈ-কি। (তাদের ভবিষ্যত
পরিকল্পানা সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি।
পঞ্চমতঃ তাবলীগী ইজতিমার এ কয়েক বছরের
জমায়েতকে তারা মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম
ইসলামী জমায়েত বলে চমক লাগাতে চাচ্ছে অথচ
পাকিস্তানের মুলতানে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত
সুন্নী তাবলীগ দাওয়াহ-ই ইসলামীর জমায়েত এটার
চেয়ে বড় বলে জানা গেছে। সে দেশের কোন কোন
পত্রিকা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায় প্রতি বছর
সেখানে প্রায় ৪৫ লক্ষাধিক মুসলমানের জমায়েত হয়
বলে জানা যায় যদিও পাকিস্তানে সরকার কিংবা খোদ
দাওয়াত-ই ইসলামীর (সবুজ পাগড়িধারী সুন্নী তাবলীগ
জামায়াত) পক্ষ থেকে সেটার ব্যাপকভাবে প্রচারটুকুও
করা হয় না।
ষষ্ঠতঃ বিশ্বের কয়েকটা দেশের নিছক
ওহাবী তাবলীগীদের কিছু লোকের উপস্থিতির কারণে এ
ইজতিমাকে বিশ্ব ইজতিমা হজ্বতুল্য জমায়েত
ইত্যাদি বলার পক্ষে যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। দেশ বিদেশের
বৃহত্তর জনগোষ্ঠী খাটি সুন্নী নবী ওলীগণের প্রকৃত আশেক
ভক্ত সুন্নী পীর মাশাইখ ও তাদের ভক্ত মুরীদান
এবং মাযারভক্ত মুসলমানরা এ তাবলীগ জামাত
এবং ওহাবী খারেজীদেরকে তাদের জঘন্য আক্বীদাও
কর্মকাণ্ডের কারণে মোটেই পছন্দ করেন না বরং মানুষের
ঈমান আক্বীদা এমনকি বিভিন্ন কারণে দেশ ও জাতির
শান্তি সমৃদ্ধির পথে হুমকি মনে করেন
তা সরেযমীনে তদন্ত বা জরীপ
চলালে সুস্পষ্ঠভাবে বুঝা যাবে।
তদুপরি একটি সুন্নী মতাদর্শ বিরোধী সম্পদায়ের
কর্মকাণ্ডকে ক্রমশঃ দেশের জাতীয় কর্মসূচীতে পরিণত
করার মত বদান্যতা প্রদর্শনের
মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করার ফলে ক্ষমতাসীন
সরকার দেশের বৃহত্তম সুন্নী জনগোষ্ঠীর বিগভাজন
হচ্ছে কিনা তাও সরকারের ভেবে দেখা দরকার কারণ এ
তাবলীগী ওহাবীদের উত্থানকে দেশের সুন্নী মুসলমানগণ
এক অশুভ সঙ্কেত বলে মনে করেন এ সঙ্কেত কখনো বাস্তবরূপ
ধারণ করলে তা কারো জন্য মঙ্গলময় হবে না বলা যায়
বিভিন্ন যুক্তির ভিত্তিতে ওই
টঙ্গীতে ইজতিমাস্থলকে সব মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত
করে দেওয়ার জন্য কোন কোন মহল দাবী তুলেছেন
বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গঃ উল্লেখ্য যে এভাবে তারা নিজেরদের পকৃত পরিচয়
গোপন করতে গিয়ে একতরফাভাবে এমনি প্রচারণ
চালিয়ে এসেছে যে এখন তাদের আসল পরিচয়
তুলে ধরলে অনেকের নিকট অবিশ্বাস্য মনে হবে। বিশ্বাস
করতে কষ্ট হবে যে এমন জামাত ও জামাতের মুরব্বীদের এ
ধরনের জঘন্য আক্বীদা থাকতে পারে উদাহরণস্বরূপ তাবলীগ
জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মৌং ইলয়াসের শিক্ষাগুরু ও
অনুকরনীয় বুযুর্গ এবং উপমাহদেশে গাটা ওহাবী সম্প্রদায়ের
নিকট বরণীয় ব্যাক্তি তাদের হাকীমুল উম্মত
মৌং আশরাফ আলী থানভী সাহেবের কথা ধরুন।
ওহাবীরা প্রচার করেছে তিনি বড় বুযুর্গ ব্যাক্তি ছিলেন।
তার নামে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন বহু কিতাব
পত্রও তিনি লিখেছেন। কিন্তু যখনই
বলা হবে যে তিনি তার লিখিত হিফযুল ঈমান এ নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার
জ্ঞানকে জানোয়ার পাগল ও শিশুদের জ্ঞানের
সাথে তুলনা করে কুফরী করেছেন তাকে আলা হযরত ইমাম
শাহ আহমদ
রেজা ব্রেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং হেরমাঈন
শরীফাঈনের ৩৩ জন আলিম তার এবং আরো কয়েকজন
দেওবন্দী আলিমের কুফর প্রমাণিত করে এ
ফতোয়া জারী করা সত্ত্বেও তিনি তার কুফরী
বাক্যকে প্রত্যাহার করে ঈমানের পথ অবলম্বন
করেননি বরং তার মৃত্যুর পর দেওবন্দী ওহাবীরাও তার ভুল
স্বীকার করেননি তখন হয়তো অনেকে আতকে ওঠবেন আর
দেওবন্দী ভাবধারার ওহাবী তাবলীগীরা বলে বেড়াবেন
সুন্নীরা তাদের মুরুব্বীকে কাফের বলছেন ইত্যাদি।
এখানে একটি কথা বিশেষভাবে রক্ষণীয়
যে ওহাবী তাবলীগী দেওবন্দীরা তাদের মুরব্বীদের
কুফরীকেও মেনে নিয়ে তাদের পক্ষে প্রচারণ চালানোর
যতই বাহ্যিক চাকচিক্যপূর্ণ আয়োজন করুক না কেন
উপমহাদেশের সুন্নী মুসলমানগণ তাদের মিষ্টি কথায়
ভুলেনি ভুলবেও না বরং তাদের ও তাদের মুরব্বীদের
কুফরী ও গোমরাহীপূর্ণ আক্বীদাগুলো প্রত্যাহার
করে নিয়ে তাওবা পূর্বক আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের
মতাদর্শ অবলম্বন না করা পর্যন্ত তাদের সাথে কোনরূপ
আপোস করবেন না করতেও পারেন না। আর এ জন্য কোন
বিবেকবান মানুষ সুন্নীদেরকে দায়ীও করবেন না। কারণ
ধর্মে বিভ্রান্তি ছাড়ানোর জন্য ওই ওহাবী দেওবন্দীরাই
দায়ী সুন্নীগণ এ ক্ষেত্রে তাদের ঈমানী দায়িত্ব পালন
করেন মাত্র।
সপ্তমতঃ প্রসঙ্গতঃ সচেতন সুন্নী কর্ণধারবুন্দেন ঈমান
দায়িত্ব পালন ও দেওবন্দী ওহাবীদের
হটকারিতা প্রসঙ্গে আলোচনা করার প্রয়াস পেলাম।
বারতে ওহাবী মতাবাদ প্রচারের প্রাথমিক
পর্যায়ে মৌলভী ইসমাঈল দেলভী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল
ওহাব নজদীর বিতর্কিত পুস্তক কিতাবুত তাওহীদ এর
ভাবানুবাদ তাক্বভিয়াতুল ঈমান প্রকাশ
করে বিশেষতঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমকক্ষ থাকা সম্ভব বলে প্রচার
করে খাতামুন্নাবিয়্যিন
ইত্যাদি গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত আরো কেউ
আত্মাপ্রকাশ করাও সম্ভব বলে ফেললো তখন
আহরে সুন্নাতের ওলামা-ই কেরাম বিশেষ করে খাতেমুর
হুকামা আল্লামা মুহাম্মদ ফযলে হক
খায়রবাদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাদের ওই ভুল ও
ঈমানবিধ্বংসী দৃষ্টিভঙ্গির খণ্ডন করেছেন লিখিত ও
মৌখিকভাবে। তবুও না ইসমাঈল দেহলভী তার
কথা প্রত্যাহার করেছে,
তাছাড়া মীর্যা গোলাম আহমদ ক্বাদিয়ানী ভণ্ড নবূয়্যতের
দাবিদার হয়ে মুরতাদ হল।
মুসলমানরা একবাক্যে তাকে ধিক্কার দিল। এ দেশের
সুন্নীদের সাথে ওহাবীরাও তাকে কাফির-মুরতাদ বলার
ক্ষেত্রে সুর মিলানো তারা সেটাকে রাজনৈতিক ইস্যু
করে ক্বাদিয়ানীদের অমুসলমান ষোষণা করার দাবিও
করেছে। অথচ ইতোপূর্বে তাদেরই মুরব্বী দেওবন্দ মাদরাসার
প্রতিষ্ঠাতা মৌং কাসেম নানুতভী কোরআনী আয়াতের
খাতাম শব্দের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদের নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরে কোন
নবী আসলে নবীজির শেষনবী হবার মধ্যে অসুবিধা নেই
বলে ফতোয়া দিয়ে ওই গোলাম আহমদ ক্বাদিয়ানীর জন্য পথ
খুলে দিয়েছেন। দেওবন্দী মুফতী মৌং রশীদ আহমদ
গাঙ্গুহী আল্লাহর পক্ষে মিথ্যা বলা সম্ভব
বলে ফতোয়া দেন। মৌং খলীল আহমদ
আম্বেটভী নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
-এর জ্ঞানকে পশু শিশু ও পাগলের জ্ঞানের
সাথে তুলনা করেছেন। বস্তুতঃ এসব মন্তব্য
যে যথাক্রমে আল্লাহ ও তার হাবীবের শানে জঘন্য
বেআদবী হবার কারণে নিশ্চিত কুফর তা বিবেকবান মাত্রই
বলতে পারে।
ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে মিল্লাহ শাহ ই
বেরেলী ইমাম আহমদ রেযা খান
রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাদের ওই সব মুন্তব্য ও
আক্বীদা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
শতাধিকবিষয়ের বিশারদ সহস্রাধিক গ্রন্থ পুস্তকের
রচয়িতা অদ্বিতীয় ফিক্বহাশাস্ত্রবিদ আলা হযরতের
দৃষ্টিতেও ওই সব মন্তব্য নিশ্চিত কুফর বলে সাব্যস্ত
হলে তিনি প্রত্যেকের নিকট জবাব চিঠি লিখেছেন। কিন্তু
দীর্ঘদিন তাদেরকে সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত
তাদের পক্ষ থেকে কোনরূপ জবাব
কিংবা অনুশোচনা পত্যাহারের মনোভাব
না পেয়ে বরং হঠকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ১৩২০
হিজরিতে আল মুতামাদ আল-মুন্তাক্বাদ প্রণয়ন
করে মীর্যা ক্বাদিয়ানী মৌং কাসেম
নানুতভী ,মৌং রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী , মৌং খলীল আহমদ
আম্বেটভী এবং মৌং আশরাফ আলী থানভীর উপর ওই সব
মন্তব্যের ভিত্তিতে কুপরের ফতোয়া আরোপ করলেন। (এর
ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণীত হয় আল মুতামাদ আল মুস্তানাদ
নামে)।
অষ্ঠমতঃ সর্বোপরি টঙ্গীর ইজতিমার সফর
করে যাওয়া তাদের মুরব্বীদের ফতোয়া অনুযায়ীও হারাম
এবং অবৈধ। কারণ, তাবলীগ জামাত-এর উৎসপুরুষ হলেন
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী। এ ইবনে আব্দুল ওহাবের
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুরু হলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ।
দেওবন্দী আমিরগণও ইবনে তহাইমিয়্যার চিন্তাধারার
সমর্থক। ইবনে তাইমিয়্যার মতে, তিন মসজিদ ব্যাতীত অন্য
কোথাও এমনকি নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বরকতময় যিয়ারতের
উদ্দেশ্যে সপর করা যাবে না। তারই অনুসরণে মৌং আব্দুর
রহীম ওহাবী তার সুন্নাত ও বিদআত এর মধ্যে লিখেছেন
নবী করিম এর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
করা যাবেনা যেতে চাইলে মসজিদে নববীর যিয়ারত
বা তাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যেই যেতে হবে।
ওহাবীপন্থী যেমন- মি. মওদূদী ওহাবী প্রমুখ
খাজা গরীবে নাওয়াজ ও হযরত সালার-ই মাসঊদের
মাযারে যাওয়াকে জঘন্য পাপ বলে ফতোয়া দিয়েছে অথচ
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওযা ই
পাকের যিয়ারত সম্পর্কে হাদীস শরীফে বহু ফযীলত বর্ণিত
হয়েছে পবিত্র ক্বোরআনে নবীজির দরবারে যাওয়ার
মহা উপকার এরশাদ হচ্ছে। বিশ্বের ইমামগণ পর্যন্ত নবীপাক
এবং ওলীগণের রওযা ও মাযার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
করেছেন। কিন্তু টঙ্গীর উদ্দেশ্যে সফর করার
তাতে হাজ্বীদের মত অবস্থান করার এবং তাদের
চিল্লাগুলোয় যোগদান করে জামাতবন্দী হয়ে ওহাবিয়্যত
প্রচার করার পক্ষে শরীয়তের কোন প্রমাণ তো নেইই
বরং উল্টো তাদের মুরব্বীদের
ফতোয়া কঠোরভাবে নিষেধই পাওয়া যায়। সহীহ হাদীস
শরীফে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেছেন ইয়া কুম-ওয়া-ইয়া-হুম (তোমরা তাদের
কাছে যেওনা তাদেরকে তোমাদের কাছে আসতে দিওনা)।
অথচ এ ইজতিমা আসলে তাবলীগীরা তো আছেই তাদের
সঙ্গে সরলপ্রাণ মুসরমানগণ জরুরি কাজ-কর্ম বাদ
দিয়ে ওদিকে ধাবিত হয়। অফিস-আদালত,
এমনকি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কাজ-কর্ম পর্যন্ত ব্যাহত হয়।
সরকারকে ব্যাস্ত থাকতে হয়, তাদেরকে সামাল দিতে।
রেল কর্তৃপক্ষ ঠিকমত ভাড়া পায় কিনা তাও সন্দেহপূর্ণ।
পরিশেষে, কারো নিছক বাহ্যিক
অবস্থা দেখে ভুলে না গিয়ে তার মূল ও প্রকৃত অবস্থার
খোজ-খবর নিয়ে পা বাড়ানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
অন্যথায়, মহাক্ষতির সম্মুখীন হওয়া অনিবার্য। উপরিউক্ত
বর্ণনা থেকে এ কথা সুস্পষ্ট হর যে, তাবলীগ জামাত ও
তাদের ইজতিমার বাহ্যিকরূপ যা-ই হোক না কেন তাদের মূল
হচ্ছে ওহাবী খারেজীর মতবাদ অনুসরণ। তাদের আসার
উদ্দেশ্যেই হচ্ছে এ দেশে ওহাবী মতবাদ প্রচার করা। এ
মতবাদ সুন্নী মতাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই তাদের
ইজতিমা ও মুনাজাতেরও কোন গুরুত্ব নেই।
ইসলামে তাবলীগ বা অমুসলমানদের নিকট ধর্মপ্রচার
এবং তালীম বা দ্বীনের বিসয়াদির শিক্ষাদানের গুরুত্ব
আছে সুতরাং এ তাবলীগ ও তা‘লীমের প্রসার উভয় জগতের
কল্যাণ বয়ে আনবে যদি ইসলামের সঠিক রূপরেখার
(সুন্নী মতাদর্শের) প্রচারণা ও শিক্ষা দেওয়া হয়। সুখের
বিষয় যে, মাওলানা ইলিয়া আত্ত্বার
ক্বাদেরী রেজভী সাহেব দাওয়াত-ই
ইসলামী প্রতিষ্ঠা করে মুসরমানদের এ চাহিদা পূরণ
করেছেন। সবুজ পাগড়ী তাদের বিশেষ চিহ্ন। সুন্নাতের
অনুসরণ তাদের ভূষণ। তাই, এ বিকল্প। আসুন আমরা যেন
সবসময় সুন্নী মতাদর্শের উপরই অটল থাকতে পারি। আল্লাহ
পাক তাওফ্বীক্ব দিন আ-মী-ন্।

তাবলিগের ছয় ওসুল

Standard

প্রচলিত ছয়
উছুলী তাবলীগওয়ালারা মানুষকে কুফরী আক্বীদা শিক্ষা
দেয়, তাদের সেই কুফরীগুলো ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ ?
তাদের কিছু কুফরী আক্বীদা উল্লেখ করা হলো –
“মালফুযাত’এর ৪৩ পৃষ্ঠার ৪২ নম্বর মালফুযে, ‘নবুওয়ত’ ও
‘মাওলানা ইলিয়াছ’ নামক কিতাবের ৩০-৩২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ
আছে যে, “মুসলমান দু’প্রকার-একদল প্রচলিত তাবলীগের জন্য
হিজরত করবে, দ্বিতীয় দল নুছরত বা সাহায্য করবে, এ দু’দলই
মুসলমান। অর্থাৎ যারা প্রচলিত তাবলীগও করবে না আর
তাবলীগকারীদেরকে সাহায্যও করবে না, তারা মুসলমান
নয়।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব
লেখক- মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ১৭৪,
দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কেন? লেখক- মাওলানা ওবায়দুল
হক পৃষ্ঠা ২১, হযরতজীর কয়েকটি স্মরণীয় বয়ান ২য় খ- পৃষ্ঠা ১১)
*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট প্রায় কিতাবেই
একথা লেখা আছে যে, নবী আলাইহিমুস সালামগণ
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন। যেমন – হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি গন্দম খেয়ে ভুল করেছিলেন ও
হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি দাওয়াত না দিয়ে ভুল
করেছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ!
(মালফুযাতে শায়খুল হাদীস) পৃষ্ঠা ২৩১, তাবলীগ
গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল
হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬১)
*হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে প্রচলিত
তাবলীগ জামায়াতের লোকদের আক্বীদা হলো যে,
“দাওয়াত বন্ধ করার কারণে আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউনুস
আলাইহিস সালাম উনাকে গযবে ফেলিলেন।” “হযরত ইউনুস
আলাইহিস সালাম তিনি মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ
থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তওবা করিবার
কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” নাউযুবিল্লাহ!
(তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক-
মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৬২ ও ৮৯)
*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা আরও
বলে থাকে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গারে হেরায় চিল্লা দেয়ার
উসীলাই কুরআন ও নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন এ
প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে বিবৃত হয়েছে- “হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ দিন পর্যন্ত
‘গারে হেরা’ পর্বতে থাকিয়া আল্লাহর ধ্যান ও
যিকিরে চিল্লা দিলেন, যাহার ফলে তিনিও কুরআন ও
নুবুওওয়াত প্রাপ্ত হইলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (তাবলীগ
গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব লেখক- মাওলানা ইসমাইল
হোসেন দেওবন্দী পৃষ্ঠা ৮৯)
*মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত ‘তাবলীগ
গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ৯৩ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ আছে যে, “লক্ষাধিক সাহাবায়ে কিরাম
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অধিকাংশই
মূর্খ ছিলেন।” নাউযুবিল্লাহ! (শরীয়তের
দৃষ্টিতে তাবলীগী নেছাব লেখক –
মাওলানা জাকারিয়া সাহেব পৃষ্ঠা ১৩,
তাবলীগী জামায়াতের প্রধানের তর্ক ও ইচ্ছা পৃষ্ঠা ৮)
*প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা বলে থাকে যে,
হিদায়েতের ক্ষেত্রে মূর্খরাই সমধিক উপযুক্ত।
যেক্ষেত্রে নবীগণ এবং আলেমরা ফেল করে, সেখানেও
মূর্খরা কৃতিত্ব দেখায়। নাউযুবিল্লাহ! এ
প্রসঙ্গে মাওলানা ইসমাইল হোসেন দেওবন্দী লিখিত
‘তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব’ নামক কিতাবের ১১৬
পৃষ্ঠায় একথা লেখা আছে যে, “অনেক স্থলে নবীগণ পর্যন্ত
হিদায়েতে বিরাট সঙ্কটে ও বিপদে পড়িয়াছিলেন, তাই
অনেক স্থলে বিরাট আলেমও ফেল পড়িতেছে। কিন্তু মূর্খগণ
তথায় দ্বীন জয় করিতেছে।” নাউযুবিল্লাহ! এ ধরনের আরও বহু
কুফরী বক্তব্য ও আক্বীদা তাদের কিতাবে রয়েছে।
কুরআন সুন্নাহর তাবলীগের মতঃ যা আজকের
ইলিয়াসি তাবলিগের সাথে সাঙ্গরষিক নিচে তার
বর্ণনা করা হলো।
১। মূল কিতাব কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস।
২। নিজের পরিবার ও সমাজ থেকে শুরু।
(তোমরা নিজেরা ও পরিবার কে জাহান্নাম
হতে বাঁচাও- সুরা তাহরিম-আয়াত নং-৬)
৩। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ ছালাম
তথা মিলাদ কিয়াম করা আল্লাহর হুকুম।
৪। নবীগণ সকল গুনাহ্ হতে মুক্ত ও
সাহাবীদেরকে ভালবাসা ঈমান
এবং সাহাবীগন সকলযুগের
হক্কানী আলেমদের শ্রেষ্ঠ। (মুসলিম,
মিশকাত, মিরকাত ইত্যাদি)
৫। ইসলামের স্তম্ভ বা বেনা বা উছুল পাঁচটি-
কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত।
(বুখারী, মুসলিম ইত্যাদি)
৬। ইসলামের ফরজ হজ্জ কাবা ঘরের হজ্জ।
হজ্জ্বের সাথে অন্য কিছুকে তুলনা করা কুফরী

৭। কাবা ঘরে ১ রাকায়াত নামাজ এক লক্ষ ও
মসজিদে নববীতে ১ রাকায়াত নামাজ
পঞ্চাশ হাজার রাকায়াত নামাজের ছওয়াব ও
যেকোন দানের সওয়াব ২০ থেকে সাত শত গুন
বৃদ্ধি হয়।
৮। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ
মানুষ।
৯। স্বেচ্ছায় মসজিদে ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন
করা নিষিদ্ধ।
ছয় উছুলী তাবলিগ জামাত সম্পর্কে ছহীহ বুখারী হাদিস
শরীফের ভবিষ্যৎবানী : সাহাবী আবু সাঈদ
খুদরী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে, নুরে মুজাস্সাম
হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম
ইরশাদ করেছেন, আমার বিছাল শরীফের পর শেষ যামানায়
আমার উম্মতের মধ্যে হতে পূর্বের কোন দেশ( আরব
থেকে পূর্বে ভারত) থেকে একটি জামাত দ্বীনের
তাবলীগের নামে বের হবে, তারা কোরআন পাঠ করবে,
তাদের কোরআন পাঠ তোমাদের কোরআন পাঠের তুলনায়
খুবই সুন্দর হবে। কোরআনের প্রতি বাহ্যত তাদের
ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা দেখে মনে হবে যেন
ওরা কোরআনের জন্য এবং কোরআনও ওদের জন্য। কিন্তু
প্রকৃতপক্ষে ওরা কোরআনের প্রতিটি আয়াতের ওপরে ঈমান
রাখবে না এবং কোরআনের সবগুলো নির্দেশের উপর আমল
করবে না।
এই জামাতের অধিকাংশ লোক হবে অশিক্ষিত ও মূর্খ।
যেমন – কোরআন ও হাদিসের জ্ঞানে হবে মূর্খ তেমন
সাধারন জ্ঞানেও হবে মূর্খ। এই জামাতে যদি কোন
শিক্ষিত লোক যোগদান করে তাহলে তার আচরন ও স্বভাব
হয়ে যাবে জামাতে যোগদানকারী অন্যান্য মূর্খদের মত।
মূর্খরা যেমন মূর্খদের আনুগত্য করবে তেমনি শিক্ষিত
লোকটিও মূর্খদেরই আনুগত্য করবে। এই জামাতের বয়ান ও
বক্তৃতায় থাকবে কেবল ফযিলাতের বয়ান। বিভিন্ন আমলের
সর্বোচ্চ ফযিলাতের প্রমান বিহীন বর্ণনাই হবে তাদের
বয়ানের বিষয়বস্তু। হে মুসলমানগন! ঐ জামাতের লোকদের
নামায, রোযা অন্যান্য আমল এতই সুন্দর হবে যে,
তোমরা তোমাদের নামায, রোযা ও আমল সমূহকে তাদের
তুলনায় তুচ্ছ মনে করবে। এই জামাতের লোকেরা সাধারন
মানুষকে কোরআনের পথে তথা দ্বীনের পথে চলার
নামে ডাকবে, কিন্তু চলবে তারা তাদের তৈরী করা পথে।
সত্য পথে ডাকলেও তারা কোরআনের পথে চলবে না।
তাদের ওয়াজ ও বয়ান হবে মধুর মত, ব্যবহার হবে চিনির মত
সুস্বাদু, তাদের ভাষা হবে সকল মিষ্টির চাইতে মিষ্টি।
তাদের পোশাক পরিচ্ছদ ধরন-ধারন হবে খুবই আকর্ষনীয়,
যেমন সুন্দর হরিণ তার দিকে মানুষের মন আকৃষ্ট করে। হরিণ
শিকারী সুবর্ণ হরিণ দেখে হরিনের পেছনে যেমন
ছুটতে থাকে তেমন সাধারন মানুষ তাদের মিষ্ট ব্যবহার,
আমলের প্রদর্শনী ও সুমধুর কথা শুনে তাদের জামাতের
দিকে ছুটতে থাকবে।
তাদের অন্তর হবে বাঘের মত হিংস্র। বাঘের অন্তরে যেমন
কোন পশুর চিৎকারে মমতা প্রবেশ করে না, তেমন কোরআন
ও হাদিসের বানী যতই মধুর হোক তাদের অন্তরে প্রবেশ
করবে না। তাদের কথাবার্তা আমল আচরন, বয়ান
যেগুলি তারা তাদের জন্য নির্ধারন করে নিয়েছে, তার-
ভিতরকার কোরআন সুন্নার বিরোধী আমলগুলি বর্জন
করে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার জন্য যতবার
কেউ কোরআন ও সুন্নাহ প্রদর্শন করুক বাঘের অন্তরে যেমন
মমতা প্রবেশ করেনা তেমন তাদের অন্তরে কোরআন
সুন্নাহর মমতা প্রবেশ করবে না।
তাদের জামাতে প্রবেশ করার পর তাদের
মিষ্টি ব্যবহারে মানুষ হবে মুগ্ধ, কিন্তু ঐ মনমুগ্ধ ব্যবহারের
পেছনে জীবন ধংসকারী আর্সেনিকের মত ঈমান
বিনষ্টকারী, ইসলামী মূল্যবোধ বিনষ্টকারী মারাত্মক বিষ
বিরাজমান থাকবে। তাদের প্রশিক্ষন ধীরে ধীরে মানুষের
অন্তর হতে আল্লাহপাক ও রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সালাম এর আনুগত্যের প্রেরনা শেষ
করে দিবে এবং জামাতের আমিরদের আনুগত্যের
প্রতি মরনপন আকৃষ্ট করবে। আমীরগন
দেখতে হবে খঁটি পরহেজগার দ্বীনদার ব্যক্তিদের মত,
কিন্তু অন্তর হবে শয়তানের মত, কোরআন সুন্নাহর
প্রতি বিদ্রোহী। আমীরগন যা করে যাচ্ছে তার
মধ্যে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন কাজ কখনও কেউ
ধরিয়ে দিলে কোনক্রমেই তা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত
হবে না। অর্থাৎ কোরআন হাদীস উপস্থাপন করার পর
তারা কোরআন হাদীস দেখেও কোরআন হাদিস বর্জন
করে মুরুব্বীদের কথা মানবে। কোরআন হাদিসের
প্রতি তাদের অনীহা এতই তীব্র হবে যে, তারা অর্থসহ
কোরআন হাদিস কখনই পড়বে না, পড়ানোও
যাবে না বলে মন্তব্য করবে। (কারও ওয়াজ শুনবেনা তাদের
দল ব্যতিত অন্য কারও বই পড়বেনা)।
এই জামাতটি ইসলামের তাবলীগ করার কথা যতই বলুক
কোরআন যত সুন্দরই পাঠ করুক, নামায রোযা যতই সুন্দর হোক,
আমল যতই চমৎকার হোক, মূলতঃ ঐ জামাতটি ইসলাম
বহির্ভূত হবে। (নবী ও সাহাবীদের ব্যাপারে ভুল আক্বিদার
জন্য)।
সাহাবী রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন
জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সালাম, ঐ দলটি চিনবার সহজ উপায় কি হবে?
তা দয়া করে আমাদিগকে জানিয়ে দিন।
এই ভিডিওটি দেখুন।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>।
তখন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বললেন,
ইসলামের নামে এই ইসলাম বহির্ভূত জামাতটি চিনবার
সহজ উপায় হল –
(১) তারা যখন তালীমে বসবে, গোল হয়ে বসবে।
(২) অল্প সময়ের মধ্যে এই জামাতের লোকদের সংখ্যা খুব
বেশী হবে।
(৩) এই জামাতের আমীর ও মুরুব্বীদের মাথা ন্যাড়া হবে।
তারা মাথা কামিয়ে ফেলবে, এবং তা সুন্নত
নামে চালিয়ে দিবে যদিও তা সুন্নত নয়।
তীর মাড়লে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়। ঐ তীর আর
কখনও ধনুকের দিকে যেমন ফিরে আসে না, তেমনই যারা এই
জামাতে যোগদান করবে তারা কখনও আর সঠিক দ্বীনের
দিকে ফিরে আসবে না। অর্থাৎ, এই জামাতকে সঠিক
দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কোরআন হাদিস যত
দেখান হোক, যত চেষ্টাই করা হোক না কেন দলটি সঠিক
দ্বীনের পথে ফিরে আসবে না। এদের সাথে তোমাদের
যেখানেই সাক্ষাত হোক, সংগ্রাম হবে তোমাদের
অনিবার্য। এই সংগ্রাম যদি কখনও যুদ্ধে পরিণত হয়
তাহলে তা থেকেও পিছ পা হবে না।
এই সংগ্রামে বা যুদ্ধে যারা মৃত্যবরন করবে,
তাদেরকে যে পুরস্কার আল্লাহপাক দান করবেন তা অন্য
কোন নেক কাজে দান করবেন না। সুবহানাল্লাহ।
প্রমানঃ (১) বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১১২৮, (২)
বুখারী আরবী দিল্লীঃ ২য় ভঃ পৃঃ ১০২৪, ( ৩) মুয়াত্তা ইমাম
মালেক, আরবী ১ম ভঃ পৃঃ ১৩৮, ( ৪) আবু দাউদ,
আব্বী দিল্লী ২য় ভঃ পৃঃ।
বিশেষ