​*জামাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর ভ্রান্ত আকিদা

Standard

*জামাতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর ভ্রান্ত আকিদা:-*
আপনার একটি শেয়ারে এই মওদুদীর ভ্রান্ত আকিদা থেকে সাধারণ মানুষকে বাচাতে পারেন

ঈমান ধংস হওয়ার হাত থেকেও বাচাতে পারেন,
*(যদি একটি মানুষ আপনার এই শেয়ারে ভ্রান্ত আকিদা থেকে ফিরে আসে তাহলে আপনি ও পেতে পারেন কিয়ামতের ময়দানে তার উপহার)*
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মুবারক শানের খিলাফ- মোদ্দাকথা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সব অনুষঙ্গেই মিথ্যা, কুফরী ও জঘন্য সমালোচনার জাল বিস্তার করেছে মালানা মওদুদী।

তার সেই অসংখ্য কুফরী আক্বীদার মধ্য হতে মাত্র কয়েকটি কুফরী আক্বীদা ক্ষুদ্র প্রমাণস্বরূপ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
*১) মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “যে ক্ষেত্রে নর-নারীর অবাধ মেলামেশা, সেক্ষেত্রে জেনার (ব্যভিচারের) কারণে (আল্লাহ পাকের আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ করা নিঃসন্দেহে যুলুম।”* (নাঊযুবিল্লাহ)
(তাফহীমাত, ২য় খ-, ২৮১ পৃষ্ঠা)
*২) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না।”* (নাঊযুবিল্লাহ)
(তরজমানুস্ সুন্নাহ, ৩য় খ-, ৩০৫ পৃষ্ঠা)
*৩) হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “নবীগণ মা’ছূম নন। প্রত্যক নবী গুনাহ করেছেন।”* (নাঊযুবিল্লাহ)
(তাফহীমাত, ২য় খ-, ৪৩ পৃষ্ঠা)
*৪) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “ছাহাবাদিগকে সত্যের মাপকাঠি জানবে না।”* (নাঊযুবিল্লাহ)
(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)
*৫) হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে মওদুদীর কুফরী আক্বীদা: “ফেরেশতা প্রায় ঐ জিনিস- যাকে গ্রীক, ভারত ইত্যাদি দেশের মুশরিকরা দেবী-দেবতা স্থির করেছে।”* (নাঊযুবিল্লাহ)
(তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)
*(৬) হযরত আদম আলাইহিস সালাম মানবিক দুর্বলতায় আক্রান্ত ছিলেন।”*
( তাহফীমুল কুরআন উর্দু ,৩/১২৩)
*(৭) হযরত নূহ আলাইহিস সালাম চিন্তা ধারার দিক থেকে দীনের চাহিদা থেকে সরে গিয়েছিলেন।”*
( তাহফীমুল কুরআন ২/৩৪৪, ৩য় সংস্করন ,১৯৬৪ ইং )
*(৮) নবী হওয়ার পূর্বে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম দ্বারা একটি কবীরা গুনাহ হয়েছিলো।”*
( রাসায়েল ও মাসায়েল ১/৩১)
*(৯) হযরত দাউদ আলাইহিসসালাম উনার কাজের মধ্যে নফস ও অভ্যন্তরীন কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিলো।”*
( তাহফীমুল কুরআন উর্দু, ৪/৩২৭, সূরা রাদ এর তাফসীর , অক্টোবর ১৯৬৬, ১ম সংস্করণ )
*(১০) হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তৎকালীন যুগে ইসরাঈলী সোসাইটি দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এক বিবাহীত যুবতীর উপর আসক্ত হয়ে তাকে বিবাহ করার জন্য তার স্বামীর নিকট তালাকের আবেদন করেছিলেন।”*
( তাহফিমাত ২/৪২, ২য় সংস্করণ , নির্বাচিত রচনাবলী ২/৭৩ , আধুনিক প্রকাশনী ১ম প্রকাশ ১৯৯১ ইং )
*(১১) সাহাবায়ে কিরাম অনেকে মনগড়া হাদীস বর্ননা করেছেন।”*
( তরজুমানুল কুরআন ,৩৫ সংখ্যা)
*(১২) হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন।”*
( তাজদীদ ও এহহীয়ায়ে দীন ২২ পৃ )
*(১৩) হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার মাঝে স্বজন প্রীতীর বদগুন বিদ্যমান ছিলো।”*

( খেলাফত ও মুলকিয়াত ৯৯ পৃ )
*(১৪) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নাই !”*
( খেলাফত এ মুলকিয়াত ১৪৬ পৃ)
*(১৫) হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু স্বর্থবাদী , গনিমতের মাল আত্বসাৎকারী , মিথ্যা সাক্ষ্য গ্রহনকারী ও অত্যাচারী ছিলেন।”*
( খেলাফত ও মুলকিয়াত ১৭৩ পৃ)
*(১৬) কুরআন শরীফ হেদায়েতর জন্য যথেষ্ট কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।’”*
( তাহফিমাত ১/৩১২)
*(১৭) হাদীস শরীফ কিছু লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত মুখে মুখে বর্নিত হয়েছে , এসব বড়জোর সঠিক বলে ধারনা করা যেতে পারে কিন্তু দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করার কোন অবকাশ নাই।* ”
( রাসায়েল ও মাসায়েল ৬৭ পৃ)
*শুধু তাই নয়, স্বয়ং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে এই কাফেরটা কি বলেছে দেখুন*—
*(১৮) “মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক দুর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন না। অথাৎ তিনি মানবিক দুর্বলতার বশিভুত হয়ে গুনাহ করেছিলেন।*
( তরজমানুল কুরআন , ৮৫ সংখ্যা , ২৩০ পৃষ্ঠা , তরজমানুস সুন্নাহ ৩/৩০৫ )
*(১৯) ” মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রিসালতের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করেছেন , তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে ”*
( তাহফীমুল কুরআন , সূরা নসরের তাফসীর)
*উল্লেখ্য, সব হক্কানী-রব্বানী আলিম ও মুফতীগণ উনাদের ইজমা তথা ঐকমত্যে উপরোক্ত আক্বীদাধারী ব্যক্তি মুসলমান নয়; বরং মুরতাদ।*
*আরো উল্লেখ্য যে, মওদুদীর মৃত্যুর পর শিয়া সম্প্রদায়ের একটি মুখপত্রে বলা হয়েছিল, “মরহুম (মওদুদী) তার ভিন্ন আঙ্গিকে শিয়া মতবাদ প্রচলনেও সহায়তা করেছে।

Advertisements

জামাতে ইসলামি পথভ্রষ্ট কেন????

Standard

হিজরী সন ১৩২১ সালের ৩রা রজব ১৯০৩ ইং জনাব আবুল
আলা মওদূদী (পাকিস্তানের) আওরঙ্গাবাদ শহরের আইন
ব্যবসায়ী জনাব আহমদ হাসান মওদূদীর গৃহে জন্ম লাভ
করেন। মওদূদী সাহেব নিজের ভাষায় বলেছিলেন, তার
শিক্ষাগত যোগ্যতা হচ্ছে আলেম বা ইন্টারমিডিয়েট
যাকে তৎকালিন মৌলভী পাশ বলা হতো। অর্থাৎ
তিনি আলেম পর্যন্ত লেখা-পড়া করেছিলেন । স্বীয় পিতার
আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন
করতে ব্যর্থ হন তিনি । তবে বাল্যকাল থেকে লেখা-
লেখি ও সাহিত্য চর্চা ছিল তার অন্যতম ভাল অভ্যাস।
কিন্তু ধীরে ধীরে এ অভ্যাসকে সে নিজের
জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম ও ছোটকালে লালিত
বিতর্কিত ভ্রান্ত মতবাদ প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ঊনিশ শ’
আঠারো সালে বিজনৌর থেকে প্রকাশিত মদীনা নামক
পত্রিকায় সংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত
বিভিন্ন লেখা-লেখি, সাংবাদিকতা, আন্দোলন,
সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালে নিজের ভ্রান্ত
মতবাদকে সর্বস্তরের মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার
লক্ষ্যে তারজুমানুল কুরআন নামক নিয়মিত মাসিক
পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। এরপর ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট
লাহোরে তার এ ভ্রান্ত মতবাদকে রাষ্ট্রীয়রূপ দেওয়ার দৃঢ়
পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা হলো ‘জামাতে ইসলাম’ নামক
একটি ধর্মীয় সংগঠন। যে সংগঠন আজ উপমহাদেশে তার
ভ্রান্ত মতবাদকে প্রচার-প্রসার করে অগণিত সরল প্রাণ
মুসলমানদের ঈমান আকীদাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টায়
লিপ্ত। তাই জনাব মওদূদী সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদ
সম্পর্কে এখানে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি।
যাতে সরলপ্রাণ মুসলিম মিল্লাতকে তার ভ্রান্ত মতবাদ
থেকে নিজের ঈমান আকীদা হেফাজত করতে পারেন। –
তথ্যসূত্রঃ মওদূদী একটি জীবন একটি ইতিহাস-
যে সব বিষয়ে মাওলানা মওদূদীর সাথে আহলে সুন্নাত
ওয়াল জামায়াতের মতপার্থক্য রয়েছে, তা হলো কুরআন,
হাদীস, প্রিয় নবী, ইসলাম, ফেরেশতা, সাহাবায়ে কেরাম,
মুজতাহিদ, ইমাম মাহদী, ওলামায়ে কেরাম,
আওলিয়ায়ে এজাম, উসূলে হাদীস, তাফসীর, ফিকহ,
তাসাউফ, তাকলীদ, মাজহাব থেকে শুরু করে আরো অসংখ্য
বিষয়ে। এখানে মাত্র উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপস্থাপন
করছি।
মওদূদীর ভ্রান্ত আকীদা নবীগণ নিষ্পাপ নন!

ﻋﺼﻤﺖ ﺍﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﮯ ﻟﻮﺍﺯﻡ ﺫﺍﺕ ﺳﮯ ﻧﮩﻴﻰ ﺍﻭﺭﺍﻳﻚ ﻟﻄﻴﻒ ﻧﻜﺘﮧ ﻳﮧ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺍﻟﻠﮧ ﺗﻌﺎ ﻟﮯ ﻧﮯ
ﺑﺎﻻﺭﺍﺩﻩ ﮨﺮ ﻧﺒﻰ ﺳﮯ ﻛﺴﻰ ﻧﮧ ﻛﺴﻰ ﻭﻗﺖ ﺣﻔﺎﻇﺖ ﺍﭨﮭﺎ ﻛﺮ ﺍﻳﻚ ﺩﻭﻟﻐﺰ ﺷﻴﻰ ﮨﻮ ﺟﺎﻧﮯﺩﻯ ﮨﮯ
নিষ্পাপ হওয়া আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের জন্য
আবশ্যকীয় নয়, এতে এমন একটি সূক্ষ্ণ রহস্য বিদ্যমান
আছে যে, আল্লাহ তাআলা ইচ্ছাপূর্বক প্রত্যেক
নবী থেকে কোন না কোন মূহুর্তে স্বীয় হেফাজত
উঠিয়ে নিয়ে তাদের থেকে দু’একটি পদস্খলন
পদচ্যুতি (গুনাহ) হতে দেন। নবী হওয়ার পূর্বে তো হযরত
মূসা আলাইহিস সালাম কর্তৃকও একটি বিরাট গুনাহের কাজ
সংঘটিত হয়ে গিয়েছিল। (রসায়েল ও মাসায়েল, পৃষ্ঠা ২৪,
১ম খন্ড। তাফহীমাত, আবুল আলা মওদূদী। ২য় খন্ড, ৬ষ্ঠ মুদ্রণ,
পৃষ্ঠা: ৫৭, পাকিস্তান। )
ইসলামী আকীদা
ইসলামী শরীয়তের আলোকে ﻋﺼﻤﺖ বা নিষ্পাপ
হওয়া নবীদের জন্য অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ, বরং ﻋﺼﻤﺖ এর
ক্ষেত্রে নবীগণ ফেরেশতা থেকেও অধিক হকদার। যেমন
নিবরায কিতাবে ﻋﺼﻤﺖ সম্পর্কে ইমাম
মাতুরিদী রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি বলেন,
ﺍَﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﺃَﺣَﻖُّ ﺑِﺎﻟْﻌِﺼْﻤَﺔِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﻠﺌِﻜَﺔِ
“নবীগণ ফিরিশতাদের তুলনায় ইসমতের অধিক হকদার।”
(নিবরায। পৃষ্টা ২৮৪।)
কেননা, শয়তান নবীদের থেকে অনেক দূরে থাকে।
ﻋﺼﻤﺖ সম্পর্কে নকলী দলীলঃ
পবিত্র কুরআন পাকেও আল্লাহ পাক শয়তানকে উদ্দেশ্য
করে বলেছেন,
ﺍِﻥَّ ﻋِﺒَﺎﺩِﻯْ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻚَ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﺳُﻠْﻄَﺎﻥٌ
“হে ইবলিস! আমার বিশিষ্ট বান্দাদের উপর তোমার কর্তৃত্ব
নেই।” (সূরা আল হিজার, আয়াত : ৪১ )
আর শয়তানও স্বয়ং স্বীকার করেছিল,
ﻭَﻟَﺄُﻏِﻮَ ﻳﻨﻬُﻢْ ﺃَﺟْﻤﻌﻴْﻦَ – ﺍِﻟَّﺎ ﻋِﺒَﺎﺩَﻙَ ﻣِﻨْﻬُﻢ ﺍﻟْﻤُﺨْﻠِﺼِﻴْﻦَ
“হে আল্লাহ! তোমার বিশিষ্ট বান্দাগণ ব্যতীত
বাকী সবাইকে বিপথগামী করবো।” (সূরা আল হিজার,
আয়াত ৪১)
উল্লিখিত আয়াতে নবীগণ যে নিষ্পাপ
তা সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হলো। কারণ গুনাহ হয় শয়তানের
ﻭﺳﻮﺳﻪ দ্বারা । আর নবী-রাসূল তথা বিশিষ্ট বান্দাগণ ﻭﺳﻮﺳﻪ
থেকে পূতঃপবিত্র। মিশকাত শরীফে ﺍَﻟْﻮَﺳْﻮَﺳَﺔُ অধ্যায়ে বর্ণিত
আছে প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন শয়তান অবস্থান
করে যার নাম কারীণ। প্রিয় নবী বলেন, আমার কারীন
মুসলমান হয়ে গেছে। মিশকাতের অপর
হাদীসে মনাকেবে ওমর অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, হযরত ওমর
রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু যে রাস্তা দিয়ে গমন করেন
তথা হতে শয়তান পালিয়ে যায়। তাহলে বুঝা গেল, যার উপর
নবীর সুদৃষ্টি রয়েছে সেও শয়তান থেকে নিরাপদ থাকেন।
অতএব, বর্ণিত কুরআন হাদীস থেকে প্রমাণিত হল নবী-
রাসূলগণ নিষ্পাপ। তাঁদের কোন গুনাহ থাকতে পারে না।
সে জন্যই ইমাম
মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি স্বীয়
কিতাব মিরকাত শরহে মিশকাতে নবীগণ যে নবুয়াতের
আগে ও পরে সর্বদা যাবতীয় ছোট-বড় ভুলত্রুটি গুনাহ
থেকে পবিত্র নিষ্পাপ থাকেন। তা এভাবে র্ব্ণনা করেছেন,
ﺍَﻟْﺄَﻧْﺒِﻴَﺎﺀُ ﻣَﻌْﺼُﻮْﻣُﻮْﻥَ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﻨَّﺒُﻮَّﺓِ ﻭَﺑَﻌْﺪَﻫَﺎ ﻋَﻦْ ﻛَﺒَﺎﺋِﺮِ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮْﺏِ ﻭَﺻَﻐَﺎﺋِﺮِﻫَﺎ ﻭَ ﻟَﻮ ﺳَﻬْﻮًﺍ ﻋَﻠﻰ ﻣَﺎﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻋِﻨْﺪَ
ﺍﻟْﻤﺤﻘِّﻘﻴﻦ
“নবীগণ নবুয়াতের পূর্বে ও পরে কবীরা-সগীরা উভয় প্রকার
গুনাহ থেকে নিষ্পাপ পবিত্র এমনকি অনিচ্ছাকৃতভাবেও ।
এটাই মুহাক্কিক ওলামাদের নিকট হক কথা।”(মিরকাত)
কারণ নবীদের উপর থেকে যদি আল্লাহর হেফাযত
উঠে গিয়ে ﻋﺼﻤﺖ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাদের নির্দেশিত
শরীয়তের বিধানাবলীতে সন্দেহের অবকাশ থেকে যায়।
আর যৌক্তিক দিক দিয়েও যতক্ষণ নবীগণকে নিষ্পাপ (মাসূম)
মেনে নেয়া না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত নবী, সাধারণ দার্শনিক
ও সংস্কারের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তাই
ইসলাম এটাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। অথচ মওদূদী নবীদের
থেকে হেফাযত উঠিয়ে নিয়ে আল্লাহ কর্তৃক তাঁদের
থেকে ভূলত্রুটি গুনাহ সংঘটিত করার যে মারাত্নক
কুফরী আকীদা প্রকাশ করেছে তা কখনও
ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এটা অল্লাহর শানেও চরম
বিয়াদবী বৈ কিছুই নয়।
আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এক মিশরীকে শাসনের
উদ্দেশ্যেই শাস্তি দিয়েছিলেন। এতে ওই মিশরীর মৃত্যু
ঘটে। এটা কখনও গুনাহ নয় বরং ন্যায় বিচার। অথচ
মওদূদী এটিকে বড় গুনাহ বলে নবীদের শানে চরম
আবমাননাকর উক্তি করলেন। নবীগন নিষ্পাপ এর
ব্যাপারে আরও দলিল দেখতে এখানে ক্লিক করুন
দলীলসমূহ : কানযুল ঈমান, রুহুল ইরফান, নিবরায, ফিকহ আকবর,
শরহে আকায়েদে নসফী, শরহে মাওয়াকিফ, মিরকাত
শরহে মিশকাত।
মওদূদীর আকীদা
এ মর্মে দোয়া করুন যে, এ বিরাট কাজ (নবুয়তী দায়িত্ব)
পালন করতে গিয়ে আপনি যে ভুল-ভ্রান্তি বা দোষ-
ত্রুটি করেছেন, তা সব তিনি যেন মাফ করে দেন। তাফহীমুল
কুরআন, ১৯ তম খন্ড, আবুল আলা মওদূদী, সূরা আন নসর, পৃষ্ঠা:
২৮৭। অনুবাদ: আবদুল মান্নান তালিব, আধুনিক প্রকাশনী,
ঢাকা।
ইসলামী আকীদা
সূরা আন নসরের ﺍﺳﺘﻐﻔﺎﺭ এর মর্মার্থ হচ্ছে, আপনি তাঁর নিকট
মাগফেরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করুন। অথচ কুরআন সুন্নাহ,
ইজমা ও কিয়াসের আলোকে প্রমাণিত যে, আমাদের প্রিয়
নবীসহ সকল নবী রাসূলগণ যাবতীয় ছোট-বড় গুনাহ, ভুল-
ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাহলে এ আয়াতের অর্থ অবশ্যই তাবীল
করতে হবে। যেমন যুগশ্রেষ্ঠ মুফাসসিরগণ এ আয়াতের সঠিক
ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, এখানে প্রিয়
নবী সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের গুনাহ
ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়নি, বরং উম্মতের গুনাহ মাফ
চাইতে বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ইমাম জালাল উদ্দীন
সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-হাবী লিল
ফাতওয়া গ্রন্থের ২য় খন্ডে আম্বাউল
আম্বিয়া ফি হায়াতিল আম্বিয়া অধ্যায়ে লিখেছেন।
ﺍَﻟﻨَّﻈْﺮُ ﻓِﻰ ﺃَﻋْﻤَﺎﻝِ ﺃُﻣَّﺘِﻪ ﻭَ ﺍﻟْﺎِﺳْﺘِﻐْﻔَﺎﺭُ ﻟَﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ
“আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের
আমলগুলো দেখেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর
দরবারে (উম্মতের) গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এটাই প্রিয় নবীর ﺍﺳﺘﻐﻔﺎﺭ এর প্রকৃত অর্থ। অথচ মওদূদী ﺍﺳﺘﻐﻔﺎﺭ এর
অপব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রিয় নবীকে গুনাহগার বানানোর
এবং নবুয়তী দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার যে মনগড়া অভিযোগ
স্থির করতে চেয়েছেন, তা প্রিয় নবীর পবিত্র শানে মস্ত
বড় জুলুম ও বেয়াদবীর শামিল। আরো দলীলের জন্য ক্লিক
করুন
দলীলসমূহ: পবিত্র কুরআন, তাফসীরে আযীয,
মাদারিজুন্নাবুয়াত, শরহে শিফা শরীফ, তাফসীরে রূহুল
বয়ান, আল-আবী লিল ফতাওয়া।
মওদূদীর আকীদা
১. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক নন।
২. রাসূল না অতিমানব, না মানবীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত।
তিনি যেমন খোদার ধন-ভান্ডারের মালিক নন,
তেমনি খোদার অদৃশ্যের জ্ঞানেরও অধিকারী নন
বলে সর্বজ্ঞ নন।
৩. তিনি পরের কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধন তো দূরে নিজেরও
কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে অক্ষম।
৪. তিনি কোন কিছু হালাল বা হারাম করতে পারেন না।
লন্ডনের ভাষণ, পৃষ্টা: ৩-১৯, কৃত: আবুল আলা মওদূদী, অনুবাদ:
আখতার ফারূক, জুলকরনাঈন প্রেস, ৩৮, বানিয়া নগর, ঢাকা।
ইসলামী আকীদা
কুরআন সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে অবশ্যই আমাদের
প্রিয় নবী ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন। পবিত্র
কুরআনে ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺃﻛﻤﻠﺖ ﻟﻜﻢ ﺩﻳﻨﻜﻢ বলে প্রিয় নবীর
মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন আল্লাহ
তা’আলা। তাই তিনি যদি ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক না হন,
তাহলে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক কে? অতিমানব অর্থ
অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি। সুতরাং প্রিয়
নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
অতিমানব ছিলেন এবং মানবীয় দুর্বলতা থেকেও সম্পূর্ণ
মুক্ত, পুতঃপবিত্র ছিলেন, বিধায় আজ তাঁর প্রদর্শিত দ্বীণ
আমরা সঠিকভাবে পেয়েছি। তিনি খোদার ধন ভান্ডারের
মালিকও ছিলেন। পবিত্র হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে,
ﺍِﻧِّﻰ ﺃُﻭْﺗِﻴْﺖُ ﻣَﻔﺎﺗﻴﺢ ﺧَﺰَﺍﺋِﻦِ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ
“প্রিয় নবী স্বয়ং বলেছেন, আমাকে জমিনের খণিসমূহের
চাবি দেওয়া হয়েছে বা ধন-ভান্ডারের মালিক
বানানো হয়েছে। (বোখারী শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্টা: ১০৪২। )
হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে এ
ধরনের আরও একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও
তাঁকে অদৃশ্যের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র
কুরআনে এরশাদ হয়েছে:
ﻋِﻠْﻢُ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻓَﻠَﺎ ﻳُﻈْﻬِﺮ ﻋَﻠﻰ ﻏَﻴْﺒِﻪ ﺃَﺣَﺪًﺍ – ﺍِﻟَّﺎ ﻣﻦ ﺍﺭْﺗَﻀﻰ ﻣِﻦْ ﺭَﺳﻮﻝ
“অদৃশ্যের জ্ঞাতা, আল্লাহ আপন অদৃশ্যের উপর
কাউকে ক্ষমতাবান করেন না আপন মনোনীত রাসূল
ব্যতীত।” ( সূরা আল জিন । আয়াত : ২৬।)
এ আয়াতে প্রিয় নবীসহ আপন রাসূলদেরকে ইলমে গায়েব
দেওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।
আরো দলিলের জন্য ক্লিক করুন
আর তিনি স্বয়ং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ
থেকে কল্যাণদাতা হিসাবেই প্রেরিত হয়েছেন। পবিত্র
কুরআন শরীফে এরশাদ হয়েছে,
ﻭَﻣَﺂ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨﺎﻙَ ﺍِﻟَّﺎ ﺭَﺣْﻤَﺔَ ﻟِّﻠْﻌﺎﻟَﻤِﻴْﻦَ
“হে নবী! আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য রহমত
(কল্যাণ) স্বরূপ প্রেরন করেছি।”(সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত:
১০৭ । )
অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজকে সত্য ন্যায়ের
আলোতে আলোকিত করে, অসভ্য জাতিকে সভ্য করে,
জাহান্নামীদেরকে জান্নাতের পথ প্রদর্শন
করে তিনি কি কল্যাণ করেন নি? জামায়াতে ইসলামীর
একটি সংস্থা ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ যদি কল্যাণ
করতে পারে তাহলে প্রিয় নবীর শানে কেন এত বড়
বেয়াদবী?
পরিশেষে মওদূদীর আরেকটি ভ্রান্ত
আকীদা হচ্ছে প্রিয়নবী কোন কিছু হালাল ‍কিংবা হারাম
করতে পারেন না। অথচ পবিত্র কুরআন ও হাদীসে অসংখ্য
দলীল রয়েছে শরীয়তের বিধানাবলীতে পরিবর্তণ, পরিবর্ধণ
এবং কোন কিছুকে হালাল কিংবা হারাম করার ক্ষমতাও
মহান আল্লাহ পাক তাঁর হাবীবকে দান করেছেন। যেমন-
ﻗﺎﻟﺘﻠﻮﺍ ﺍﻟْﺬِﻳْﻦَ ﻟَﺎﻳُﺆْﻣِﻨُﻮْﻥَ ﺑِﺎ ﻟﻠﻪِ ﻭَﻟَﺎ ﺑِﺎﻟﻴَﻮْﻡِ ﺍﻟْﺂﺧِﺮِ ﻭَ ﻟَﺎ ﻳُﺤَﺮِّﻣُﻮﻥَ ﻣَﺎ ﺣﺮﻡ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَ ﺭَﺳُﻮْﻟُﻪ
যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা ঈমান আনে না আল্লাহ উপর
কিয়ামত দিবসের উপর এবং হারাম মানে না ওই বস্তুকে,
যাকে হারাম করেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।” (সূরা আ্ত
তাওবা, আয়াত: ২৯। )
এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় আল্লাহ পাকের পরে তাঁর
প্রিয় হাবীবও কোন কিছুকে হালাল কিংবা হারাম
করতে পারেন এটাকে খোদাপ্রদত্ত ক্ষমতা বলা হয়।
হাদীসে পাকে অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে যে, প্রিয়
নবী অনেক কিছুকে হালাল অথবা হারাম ঘোষণা করেছেন
যেমন পবিত্র মক্কা শরীফের ন্যায় মদীনা শরীফকেও প্রিয়
নবী নিজে হারাম বা পবিত্র ঘোষণা করেছেন। প্রখ্যাত
সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু বর্ণনা করনে-
ﺍِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻞَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺣَﺮَّﻡَ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ
“নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই হারাম শরীফ
(মদীনাকে) হারামরূপে গণ্য করেছেন।”
অন্য হাদীস শরীফে রয়েছে-
ﺍِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻞَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺣَﺮَّﻡَ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻟَﺎﺑﺘﻰ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳْﻨَﺔِ
“প্রখ্যাত সাহাবী হযরত রাফে বিন খদীজ রাদিয়াল্লাহু
তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয়
প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সমগ্র মদীনা মুনাওয়ারাকে পবিত্র হারামরূপে গণ্য
করেছেন”। (সহীহ মুসলিম শরীফ ও তাহাভী শরীফ। )
অতএব প্রমাণিত হলো, কোন কিছুকে হালাল, হারাম করার
ক্ষমতা প্রিয় নবীর রয়েছে, এটা তাঁর খোদাপ্রদত্ত অন্যতম
বৈশিষ্ট্য। দলীলসমূহ: কুরআন শরীফ, বোখারী শরীফ, মুসলিম
শরীফ, তাহাভী শরীফ।
মওদূদীর আকীদা
আজমীর শরীফে যেয়ারতের
উদ্দেশ্যে গমন করা জেনার গুনাহের
চেয়েও মারাত্নক!
ﺟﻮﻟﻮﮒ ﺣﺎﺟﺘﻴﻰ ﻃﻠﺐ ﻛﺮﻧﮯﻛﻴﻠﻴﮯ ﺍ ﺟﻤﻴﺮﻳﺎﺳﺎﻻﻳﮯ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻛﻰ ﻗﺒﺮﻳﺎﺍﻳﺴﮯ ﮨﯽ ﺩﻭﺳﺮﮮ ﻣﻘﺎﻣﺎﺕ ﭘﺮ
ﺟﺎﺗﮯ ﮨﻲ ﻭﮦ ﺍﺗﻨﺎ ﺑﮍﺍﮔﻨﺎﮦ ﮐﺮ ﺗﮯ ﮨﻲ ﮐﮧ ﻗﺘﻞ ﺍﻭﺭ ﺯﻧﺎﮐﺎﮔﻨﺎﮦ ﺍﺱ ﺳﮯﮐﻤﺘﺮﮨﮯ
“যারা মনষ্কামনা পূর্ণ করার জন্য আজমীর
অথবা সালায়ে মসউদের কবরে বা এই ধরনের অন্যান্য
স্থানে যায়, তারা এত বড় গুনাহ করে যে, হত্যা ও জিনার
গুনাহ তার তুলনায় কিছুই নয়।” (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দীন
(ইসলামী রেনেঁসা আনোদালন,) আবুল আলা মওদূদী পৃষ্ঠা: ৭২
। অনুবাদ: আবদুল মান্নান তালিব। আধুনিক প্রকাশনী,
ঢাকা। )
ইসলামী আকীদা
নবী-অলী তথা আল্লাহর নেক বান্দাদের
রওয়াপাকে বা মাজারে তাদেরই অসীলায়
মনষ্কামনা পূরণে গমন করা সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত।
কেননা পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺍِﺫْ ﻇَﻠَﻤُﻮْﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺟﺂﺀُﻭْﻙَ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺍﻟﺴْﺘَﻐْﻔﺮ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝُ ﻟَﻮَﺟَﺪُﻭﺍ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻮَّﺍﺑًﺎ ﺭَﺣِﻴْﻤًﺎ
“যদি কখনও তারা নিজেদের আত্নার প্রতি জুলুম
করে হে মাহবুব আপনার দরবারে হাজির হয়। অতঃপর
আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর রাসুল
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের
পক্ষে সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই
তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও দয়ালু
পাবে।”(সূরা আন নিসা, আয়াত ৬৪ । )
হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালামের হুজরায় হযরত
যাকারিয়া আলাইহিস সালাম আপন রবের নিকট পুত্র
সন্তান লাভের আশায় এভাবে দোয়া করেছিলেন-
ﻫُﻨَﺎﻟِﻚَ ﺩَﻋَﺎ ﺯَﻛﺮﻳﺎ ﺭَﺑَّﻪ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺏِّ ﻫَﺐْ ﻟِﻰْ ﻣِﻦْ ﻟَّﺪُﻧْﻚَ ﺫُﺭِﻳَّﺔً ﻃَﻴِّﺒَﺔً ﺍِﻧَّﻚَ ﺳَﻤِﻴْﻊُ ﺍﻟﺪُّﻋﺎﺀِ
“এখানে প্রার্থনা করলেন হযরত যাকারিয়া আলাইহিস
সালাম আপন রবের নিকট, হে আমার রব! আমাকে তোমার
নিকট থেকে প্রদান কর পবিত্র সন্তান। নিশ্চয় তুমিই
প্রার্থনা শ্রবণকারী।” ( সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩৮ । )
এ ছাড়াও অন্য আয়াতে রয়েছে
ﻭَﺍﻟْﺘَﻐُﻮَﺍ ﺍﻟﻴﻪ ﺍﻟْﻮَﺳﻴْﻠَﺔْ
“তোমরা তাঁরই দিকে অসীলা (মাধ্যম) তালাশ
করো।”(সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৩৫ । )
বর্ণিত আয়াতসমূহ মহান আল্লাহর নেক বান্দাদের নিকট
মনষ্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে যাওয়া এবং তাঁদের অসীলায়
প্রার্থনা কবুল হওয়ার উৎকৃষ্ট প্রমাণ । অন্যান্য
বর্ণনা দ্বারাও হাজত বা মনষ্কামনা পূরণার্থে বিভিন্ন
মাজারে বা আল্লাহ মাহবুব বান্দাদের দরবারে যাওয়ার
বাস্তব প্রমাণ কিতাবে রয়েছে। যেমন – ইমাম
শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﺍِﻧِّﻰ ﻟَﺄﺗَﺒَﺮَّﻙ ﺑِﺄَﺑِﻰ ﺣَﻨِﻴْﻔَﺔَ ﻭَ ﺃَﺟِﻰُ ﺍِﻟَﻰ ﻗَﺒﺮﻩ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﻋَﺮَﺿَﺖْ ﺣَﺎﺟَﺔ ﺻَﻠَّﻴْﺖُ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﻭَﺳَﺌَﻠْﺖُ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻌَﺎﻟﻰ ﻋِﻨْﺪَ
ﻗَﺒﺮﻩ ﻓَﺘُﻘْﻀﻰ ﺳَﺮِﻳْﻊً
“আমি ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহির
দরবারে আসি এবং বরকত হাসিল করি। আমার যখন কোন
হাজত হয়, তখন ইমাম আবু হানিফার মাজারে দু’রাকাত
নামায পড়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। ফলে দ্রুত আমার
হাজত পূর্ণ হয়ে যায়।”(রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, ইমাম
ইবনে আবেদীন শামী রাহ। )
সুতরাং অসংখ্য দলীলাদির মাধমে প্রমানিত
হলো মনষ্কামনা পূর্ণ করার জন্য আল্লাহর নেক বান্দাদের
রওযাতে যাওয়া শুধু জায়েয নয়, বরং প্রখ্যাত ইমামদের
অনুসৃত নীতিও বটে।
অতএব, আজমীর শরীফ, সালায়ে মাসউদের
দরবারে মনষ্কামনা পূরণার্থে যাওয়া বৈধ
এবং এটাকে মওদূদী কর্তৃক জেনা ও হত্যার গুনাহর
চাইতে মারাত্নক গুনাহ বলা ইসলামের উপর বড় জুলুম
ছাড়া আর কিছুই নয়। আরো দলিলের জন্য ক্লিক করুন
দলীলসমূহ : কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, রদ্দুল মুহতার,
ফতোয়ায়ে আজীজিয়া, বুযুর্গ কে আকীদা।
মওদূদীর আকীদা
প্রিয় নবীর সুন্নাত ফাতেহাকে পূজার
সাথে তুলনা!
ﺍﻳﻚ ﻃﺮﻑ ﻣﺸﺮﻛﺎﻧﮧ ﭘﻮﺟﺎ ﭘﺎﭦ ﻛﻰ ﺟﮕﮧ ﻓﺎ ﺗﺤﮧ ﺯﻳﺎﺭﺕ ﻧﻴﺎﺯ ﻧﺬﺭ ﻋﺮﺱ ﺳﻨﺪﻝ ﭼﮍﮬﺎ ﻳﮯ ﻧﺸﺎﻥ ﻋﻠﻢ
ﺗﻌﺰﮮﺍﻭﺭ ﺍﺳﯽ ﻗﺴﻢ ﮐﮯﺩﻭ ﺳﺮﮮﻣﺬ ﮨﺒﯽ ﺍﻋﻤﺎﻝ ﮐﻰ ﻧﺊ ﺷﺮﻳﻌﺖ ﺗﺼﻨﻴﻒ ﻛﺮﻟﻰ ﮒ
“একদিকে মুশরিকদের ন্যায় পূজা আর্চনার
পরিবর্তে ফাতেহাখানী, যেয়ারত, নজর-নিয়াজ, উরস, চাদর
চড়ানো, তাজিয়া করা এবং এই ধরনের আরও অনেক ধর্মীয়
কাজ সম্বলিত একটি নতুন শরীয়ত
তৈরি করা হয়েছে।” (তাজদীদ ও ইহইয়ায়ে দ্বীন
(ইসলামী রেনেঁসা আন্দোলন), আবুল আলা মওদূদী, পৃষ্ঠা: ৬,
অনুবাদ: আবদুল মান্নান তালিব, আধুনিক প্রকাশনী, ঢাকা।)
ইসলামী আকীদা
ফাতেহা যেয়ারত প্রিয় নবীরই সুন্নাত, আল্লাহর অলীদের
মাজারে নজর-নিয়াজ, ওরশ, মাজারে যেয়ারতকারীদের
সুবিধার্থে আলোকসজ্জা এবং অলীদের
সম্মানার্থে গিলাফ বা চাদর ইত্যাদি জায়েয ও সওয়াবের
কাজ। এগুলোকে মুশরেকানা বলা কুফরী ও নবী অলীর
প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার নামান্তর ।
ফাতেহা ও যেয়ারত প্রিয় নবীরই সুন্নাত হওয়ার
করণে এটাকে মুশরেকানা বলে মওদূদী কুফরী করেছেন।
কেননা ফতোয়া হচ্ছে ﺍﻫﺎﻧﺔ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻛﻔﺮ প্রিয় নবীর
সুন্নাতকে ইহানত করা কুফরী। ফাতেহা সম্পর্কে সংক্ষেপ
দলীল হচ্ছে, মিশকাত শরীফের ﺍﻟﻤﻌﺠﺰﺍﺕ অধ্যায়ের দ্বিতীয়
পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু
তা’আলা আনহু বর্ণনা করেন আমি কিছু খোরমা খেজুর প্রিয়
নবীর সামনে পেশ করলাম এবং এর বরকতের জন্য
দোয়া করতে আরজ করলাম।
ﻓﻀﻤﻬﻦ ﺛﻢ ﺩﻋﺎﻟﻰ ﻓﻴﻬﻦ ﺑﺎﻟﺒﺮ ﻛﺔ
তখন তিনি সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এগুলোকে একত্রিত করলেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করলেন
অর্থাৎ ফাতেহা দিলেন।( মিশকাত শরীফ, ‍পৃষ্টা: ৫৪২। )
যেয়ারত সম্পর্কে হাদীস হচ্ছে:
ﻋَﻦْ ﺑَﺮِﻳْﺪَﺓَ ﺭَﺿِﻯِﻰَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛُﻨْﺖُ ﻧَﻬِﻴْﺘُﻜُﻢْ ﻋَﻦْ ﺯِﻳَﺎﺭَﺓِ ﺍﻟْﻘُﺒُﻮْﺭِ
ﻓَﺰُﻭﺭُﻭﻫَﺎ
“হযরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এরশাদ করেছেন,
তোমাদেরকে (প্রথমে) কবর জিয়ারত করতে নিষেধ
করেছিলাম (এখন থেকে আর বাধা নেই) যেয়ারত করো।
কেননা এটা আখেরাতের স্মরণ করিয়ে দেয়।(মুসলিম শরীফ
।)
আর অলীদের মাজারে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই
গিলাফ চড়ানো হয় এবং যেয়ারতকারীদের
সুবিধার্থে বাতি জ্বালানো হয় এটা না জায়েয নয়,
বরং পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। কারণ আল্লাহর
অলীগণ তাঁদের মাজারসমূহ আল্লাহর নিশান
বা নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভূক্ত। তাই তাঁর নিদর্শনসমূহের
প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ
এভাবে কুরআনে পাকে এসেছে-
ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﻌَﻈِّﻢْ ﺷَﻌَﺎﺋِﺮَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻓَﺎِﻧَّﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﻘْﻮﻯ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮْﺏِ
“আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে, হৃদয়ের
তাওয়া অর্জিত হয়।” ( সূরা আল হজ্জ, আয়াত : ৩২। )
এ সম্মানের বেলায় কোন শর্তারোপ করা হয়নি। এক এক
দেশে এক এক ধরনের রীতি প্রচলিত আছে। তাই
যে দেশে যে রীতির প্রচলন আছে, সেই মতে সম্মান প্রদর্শন
করা জায়েয। অলীগণের মাজারে ফূল অর্পন, চাদর চড়ানো,
বাতি জ্বালানো ইত্যাদির উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্মান প্রদর্শন
করা । এগুলোর বৈধতার উপর ফতোয়ায়ে শামী,
আলমগীরী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফতোয়ার
কিতাবসমূহে বিস্তারিত দলীলাদি পেশ করা হয়েছে।
অতএব, এগুলোর প্রতি কটাক্ষ করার কোন যৌক্তিকতা নেই।
দলীলসমূহ: কুরআন শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ,
ফতোয়ায়ে শামী আলমগীরি। আরো দলিলের জন্য ক্লিক
করুন
মওদূদীর আকীদা
সাহাবায়ে কেরাম সত্যের
মাপকাঠি নন!
ﻣﻌﻴﺎﺭ ﺣﻖ ﺗﻮﺻﺮﻑ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﺎ ﻛﻼﻡ ﺍﻭﺭ ﺍﺳﻜﮯ ﺭﺳﻮﻝ ﻛﻰ ﺳﻨﺖ ﮨﮯ ﺻﺤﺎ ﺑﮧ ﻣﻌﻴﺎﺭ ﺣﻖ ﻧﮩﻲ
“সত্যের মানদন্ড শুধুমাত্র আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসুল
সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত।
সাহাবা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা অনহুম সত্যের মানদন্ড নন।
(তরজুমানুল কুরআন, অগষ্ট সংখ্যা, ১৯৭৬। )
ইসলামী আকীদা
কুরআন সুন্নাহর আলোকে সাহাবায়ে কেরাম ﻣﻌﻴﺎﺭﺣﻖ
বা সত্যের মানদন্ড। কেননা তাঁদের মাধ্যমেই
আমরা নিখুকভাবে মহান আল্লাহর একমাত্র দ্বীন ইসলাম
পেয়ে ধন্য হয়েছি। পবিত্র কুরআনে সাহাবায়ে কেরামের
প্রশংসায় মহান আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন:
ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﻭَ ﺭَﺿُﻮْﺍ ﻋَﻨْﻪ
“আল্লাহ তাঁদের (সাহাবাদের) উপর সন্তুষ্ট এবং তাঁরা তাঁর
(আল্লাহর) উপর সন্তুষ্ট।”(সূরা আল বাইয়্যিনাত, আয়াত : ৮। )
আরো অসংখ্য আয়াতে সাহাবায়ে কেরামের
প্রশংসা করা হয়েছে। অপর আয়াতে এরশাদ হয়েছে:
ﻛُﻨْﺘُﻢْ ﺧَﻴْﺮَ ﺃُﻣَّﺔ ﺃُﺧﺮﺟَﺖْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﺗَﺄْﻣُﺮُﻭْﻥَ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭْﻑِ ﻭَ ﺗَﻨْﻬَﻮْﻥَ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤُﻨﻜﺮ
“জনসাধারণের কল্যাণের জন্য শ্রেষ্ঠতম উম্মত হিসাবেই
তোমাদের আত্নপ্রকাশ। তোমরা সৎকাজের আদেশ দান
করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে। ( সূরা আলে ইমরান,
আয়াত: ১২০। )
এ আয়াতে ﺃُﺧِﺮْﺟَﺖْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ বলে সাহাবায়ে কেরামের
অনুসরণকে ﻭﺍﺟﺐ এবং তাঁদের পরিচালিত পথকে মানুষের জন্য
দলীল হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাদীসে পাকেও এরশাদ হয়েছে:
ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻰ ﻛَﺎﻟﻨُّﺠُﻮﻡِ ﻓَﺒِﺄَﻳﻬﻢْ ﺍِﻗْﺘِﺪَﻳْﺘُﻢْ ﺍِﻫْﺘِﺪَﻳْﺘُﻢْ
“ আমার সাহাবীগণ তারকারাজির ন্যায় ।
তোমরা যে কারো অনুসরণ করো না কেন সঠিক পথের
দিশা পাবে।”(মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা : ৫৫৪ । )
ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻰ ﻭَﺳُﻨَّﺔِ ﺍﻟْﺨُﻠَﻔَﺂﺀِ ﺍﻟﺮَّﺍﺷِﺪِﻳْﻦَ ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِﻳْﻴﻦَ
“তোমরা আমার ও আমার খুলাফায়ে রাশেদীনের
সুন্নাতকে আকড়ে ধর ।”( আবু দাঊদ, কিতাবুস সুন্নাহ। পৃষ্টা:
৬৩০ । )
অন্য হাদীসে ﻣَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻰ বলে প্রিয় নবী বলেন,
যারা আমি ও আমার সাহাবাদের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত ও
অবিচল রয়েছে, তাঁরাই জান্নাতী বা মুক্তিপ্রাপ্ত দল।
মিরকাত
শরহে মিশকাতে আল্লামা মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি
ﻓَﻠَﺎ ﺷَﻚَّ ﻭَ ﻟَﺎﺭَﻳْﺐَ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔِ ﻭَ ﺍﻟْﺠَﻤَﺎﻋَﺔِ
“নিঃসন্দেহে উপরোক্ত হাদীসের উল্লেখিত মুক্তিপ্রাপ্ত
বেহেশতী দলই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।”
বর্ণিত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামায়াতের আকীদা ইচ্ছে সাহাবায়ে কেরাম ﻣﻌﻴﺎﺭ ﺣﻖ
বা সত্যের মানদন্ড। তাঁদের ব্যাপারে যে কোন প্রকার
সমালোচনা, মানহানিমূলক মন্তব্য ও দোষ বর্ণনা করা প্রিয়
নবীর হাদীস মোতাবেক নিষিদ্ধ। যেমন
হাদীসে পাকে এরশাদ হয়েছে:
ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻞُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍِﺫَﺍ ﺭَﺃﻳﺘﻢْ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﺴُﺒﻮﻥَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻰ
ﻓَﻘُﻮﻟُﻮﺍ ﻟَﻌْﻨَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﻠﻰ ﺷَﺮِّﻛُﻢْ
হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন প্রিয় নবী এরশাদ করেছেন, তোমরা যদি দেখ
যে, কেউ আমার সাহাবীকে গালি দিচ্ছে বা মন্দ বলছে,
তখন তোমরা বলো তোমাদের অন্যায়ের উপর আল্লাহর
অভিশম্পাত।”( তিরমিযী মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৫৫৪। )
এ ছাড়াও অসংখ্য দলীলের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম
সত্যের মাপকাটি প্রমাণিত।
পক্ষান্তরে সাহাবায়ে কেরামের শানে বেয়াদবী,
সমালোচনা ও মানহানি নিষিদ্ধ।
দলীলসমূহ: কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, শরহুল আকাঈদ,
কানযুল ঈমান, রুহুল ইরফান।
মওদূদীর আকীদা
আলেমদের জন্য তকলীদ নাজায়েয!
ﻣﻴﺮﮮ ﻧﺰﺩﻳﻚ ﺻﺎﺣﺐ ﻋﻠﻢ ﺁﺩﻣﻰ ﻛﻴﻠﻴﮯ ﺗﻘﻠﻴﺪﻧﺎﺟﺎﺋﺰ ﺍﻭﺭ ﮔﻨﺎﻩ ﺑﻠﻜﮧ ﺍﺱ ﺳﮯ ﺑﻬﻰ ﺷﺪﻳﺪ ﺗﺮ ﭼﻴﺰ ﮨﮯ
“আমার মতে দ্বীনী ইলমের ক্ষেত্রে বুৎপত্তি রাখেন এমন
ব্যক্তির জন্য তাকলীদ (মাজহাব অনুসরণ) না জায়েয
এবং গুনাহ। বরঞ্চ তার চাইতেও সাংঘাতিক।” (রাসায়েল ও
মাসায়েল। আবুল আলা মওদূদী । পৃষ্ঠা: ১৪৮। অনুবাদ: আবদুস
শহীদ নাসীম। শতাব্দী প্রকাশনী, ঢাকা। )
ইসলামী আকীদা
চার মাজহাবের যে কোন একটি অনুসরণ করা প্রত্যেক
মুসলমান নর-নারীর জন্য ওয়াজিব।
এটা ইজমায়ে ওলামা দ্বারা সর্ব সম্মতিক্রমে স্থিরকৃত। এর
ব্যাপারে পরবর্তীকালের কোন ব্যক্তির মনগড়া বানোয়াট
ফতোয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ উম্মতের অন্তর্ভূক্ত সমস্ত
মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীন, ওলামা, পীর মাশায়েখ,
অলীয়ে কামেলীন, বুযুর্গানে দ্বীনও মাজহাবের অনুসরণ
করেছেন। যেমন- গাউসে পাক হযরত আবদুল কাদের
জিলানী রাহমাতুল্লাহি তা’আলা আলাইহি হাম্বলী মাজহাবের
অনুসারী ছিলেন।
হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ, মুজাদ্দেদে আলফে সানী,
শাহ ওয়ালী উল্লাহ, ইমাম বোখারী, ইমাম মুসলিম ও ইমাম
গাজ্জালী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম থেকে শুরু
করে ইমাম, দার্শনিক, ইসলামী চিন্তাবীদগণ মাজহাবের
অনুসরণ করেছেন। মওদূদী নিজেকে উপরোল্লিখিত
মহাজ্ঞানীদের চাইতেও বড়
জ্ঞানী মনে করে তাদেরকে পাপী হিসাবে চিহ্নিত
করতে অপচেষ্টা চালিয়েছেন। অথচ পবিত্র কুরআন সুন্নাহর
অসংখ্য দলীলের মাধ্যমে ﺗﻘﻠﻴﺪ তথা মাজহাব
মেনে চলা আবশ্যক । যেমন:
ﻭَﺍﺗَّﺒِﻊْ ﺳَﺒِﻴْﻞَ ﻣَﻦْ ﺃَﻧَﺎﺏَ ﺍِﻟَّﻰ
“আর তারই পথে চলো যে আমার প্রতি প্রত্যাবর্তন
করেছে।”(সূরা লোকমান। আয়াত : ১৫। )
এ আয়াতে আল্লাহর দিকে ধাবিত ব্যক্তিবর্গের তাকলীদ
বা অনুসরণ করাকে আবশ্যক করা হয়েছে।
ﺃَﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﺍﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴْﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮْﻝَ ﻭَ ﺃُﻭْﻟِﻰ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻜُﻢْ
“আল্লাহর আনুগত্য কর, তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর
এবং তোমাদের মধ্যে যারা আদেশ
প্রদানকারী রয়েছে তাদেরও।”(সূরা আন নিসা। আয়াত ৫৯। )
এর আয়াতে ﺃﻭﻟﻰ ﺍﻷﻣﺮ বলতে মুহাক্কিকদের মতে ফিকাহবিদ,
মুজতাহিদ ও আলেমগণ। যেহেতু তারাই
তো ইসলামী শাসনকর্তাদের প্রধান Adviser
হিসাবে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় সাহায্য
করে থাকেন। অতএব, ﺃﻭﻟﻰ ﺍﻷﻣﺮ বলতে ইসলামী শাসক ও
মুজতাহিদ আলিমগণকেই বুঝানো হয়েছে। তাই কুরআন
দ্বারা তাদের তাকলীদ প্রমাণিত হলো।
পবিত্র হাদীস শরীফেও তাকলীদ সম্পর্কে এরশাদ হয়েছে:
ﻋَﻦْ ﺗَﻤِﻴْﻢِ ﺍﻟﺪﺍﺭﻯْ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻗَﺎﻝَ : ﺍِﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺍَﻟﺪِّﻳْﻦُ ﺍﻟﻨَّﺼِﻴْﺤَﺔُ ﻗُﻠْﻨَﺎ
ﻟِﻤﻦْ؟ ﻗَﻞَ ﻟِﻠﻪِ ﻭَﻟِﻜِﺘَﺎﺑِﻪ ﻭَﻟِﺮَﺳُﻮﻟِﻪ ﻭَ ﻟِﺄُﻣَّﺔِ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴْﻦَ ﻭَﻋَﺎﻣَّﺘِﻬِﻢْ
“হযরত তামীমদারী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু
হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু
তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ধর্ম
হলো কল্যাণ কামনা। আমরা (উপস্থিত সাহাবীগণ) আরজ
করলাম, কার কল্যাণ কামনা? তিনি ফরমালেন, আল্লাহর,
তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসুলের, মুসলমানদের মুজতাহিদ
ইমামগণের এবং সাধারণ মুসলমানদের।” (-মুসলিম শরীফ।
জা’আল হক, পৃষ্ঠা: ৩৫ । )
উল্লিখিত হাদীসের মুজতাহিদ ইমামগণের কল্যাণ
কামনা মানে তাদের তাকলীদ সম্পর্কে ইঙ্গিত
দেওয়া হয়েছে। মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ নববীতেও
বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় তাকলীদ সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসীন
কেরাম মুফাসসিরীনে ইজাম তাঁদের স্ব স্ব
গ্রন্থে তাকলীদ বা মাজহাব মানা যে ওয়াজিব
তা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং নিজেরাও বিভিন্ন
মাজহাবের ইমামদের অনুসরণ
করে উম্মতে মুহাম্মদীকে শিক্ষা দিয়েছেন।
আরো দলিলের জন্য ক্লিক করুন
দলীলসমূহ : কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, রুহুল বয়ান, খাযিন,
দররে মানসূর , মিশকাত, রাবী, ফতহুল কদীর, জা’আল হক।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা মওদূদীর স্বপ্ন,
কেন পূর্ণতা পেল না?
মওদূদীর রচনাবলী অধ্যয়ন করলে যে কোন মুসলমানের
হৃদয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেতনা সৃষ্টি হয়। মওদূদীও
আজীবন যে স্বপ্ন দেখে এসেছিল তা কেউ অস্বীকার
করবে না।
মওদূদী একটি ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করে হুকুমতে এলাহিয়ার
যে ভিত্তি রচনা করতে চেয়েছিল তা কেন পূর্ণতা পেল
না তা একেবারে সূর্যের চাইতেও স্পষ্ট। কারণ,
হুকুমতে এলাহিয়ার মূল মডেল হচ্ছেন প্রিয়
নবী সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম,
খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরাম
রিদ্বওয়ানুল্লাহি তা’আলা আলাইহিম, আজমাঈন। অথচ
মওদূদী সেই প্রিয় নবীর পবিত্র মর্যাদ Position কে তুচ্ছ-
তাচ্ছিল্য ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনাকে বৈধ
মনে করে প্রকৃত ইসলাম থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল।
যার ফলে মুসলিম মিল্লাত তাকে গোমরাহ ও তার
দলকে গোমরাহ দল হিসাবে আখ্যায়িত করে নিরাপদ
দূরত্বে অবস্থান করছে। সে যদি রসুলপ্রেমকে ধারণ
করে খোলাফায়ে রাশেদীনের
মডেলকে সামনে রেখে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মিশন
নিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হত, তাহলে বিশ্বের অনেক দেশে আজ
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হত। বর্তমানেও
যারা এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত তাদেরকেও
কথাটি চিন্তা করে বিশুদ্ধ আকীদা ধারণ
করে সামনে অগ্রসর হতে হবে, অন্যথায় ব্যর্থতা ছাড়া আর
কিছুই পাওয়া যাবে না। কেননা, প্রিয় নবীর
দ্বীনকে রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা করার পূর্বে প্রিয় নবীর
প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাবোধ ও শানে রেসালতের
প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা থাকা আবশ্যক।
বিশ্বব্যাপী মওদূদীর বিরুদ্ধে লিখিত
অসংখ্য গ্রন্থাবলীর মাত্র কয়েকটির
নাম প্রদত্ত হল:-
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত (মাত্র
কয়েকটি):
* প্রকৃত ইসলাম রদ্দে মওদূদী- মুফতী আল্লামা ইদ্রিস রযভী
* এক নজরে মওদূদী- জামাত-শিবিরের ভ্রান্ত মতবাদ –
মাওলানা জাকির হোছাইন।
* জামাতে ইসলামী- নামধারী মওদূদী জামাতের স্বরূপ –
মওলানা আজিজুর রহমান (শর্শিনা)
* সতর্ক বাণী- মও. মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর
* জেহাদের আহ্বান ও মওদূদী মতবাদের বাস্তব চিত্র –
চরমোনাইর পীর।
* মি: মওদূদীর নতুন ইসলাম মুফ. মও. মনসুরুল হক।
* মওদূদীর কলমে নবী-রাসুলগণের অবমাননা- মও. আবদুল্লাহ
বিন সাঈদ জালালাবাদী
* সংশোধন- মও. শামসুল হক ফরিদপুরী
* জামাতে ইসলামী কোন পথে- মুফ. মুফাজ্জল আলী ।
ভারত থেকে প্রকাশিত (মাত্র
কয়েকটি ):
* ইসলাম কি চার বুনিয়াদী ইস্তেলাহী- হাকীমুল উম্মত
মুফতী আহমদ এয়ার খান নঈমী রহ.
* জামাত ইসলামী কা শীষ মহল- মাওলানা মোস্তাক
আহমদ নিজামী
* ইসলামী ইউনিফরম- মও. হোছাইন আহমদ মদনী
* জামাতে ইসলামী সে মুখালিফত কিউঁ- মও. হাবীবুর
রহমান
* আয়েনায়ে তাহরীকে মওদূদিয়ত- মও. মুফতী মাহদী হাসান
* দারুল উলুম কা এক ফতোয়ায়ে হাকীকত – মও. কারী তৈয়ব
* তাহরীকে জামাতে ইসলামী- মও. দাউদ রায়
* মওদূদী কা উল্টা মাযহাব- মুফতী মাহবুব আলী খান
* দেওবন্দ কা এক না দান দোস্ত – মও. নাজমুদ্দীন
* নয়া মাযহাব- মও. দাউদ রায়
* ফেতনায়ে মওদূদী- মও. জাকারিয়া
* তফসীর বির রায় কা শরয়ী হুকুম – মুফতী সৈয়দ আবদুর রহীম
* তদবীর কা দোসরা রুখ- মও. আবদুল কুদ্দুস
মওদূদীর দেশ পাকিস্তান
থেকে প্রকাশিত (মাত্র কয়েকটি):
* মোকালামায়ে কাজেমী ও মওদূদী –
গাজ্জালীয়ে জামান আহমদ সাঈদ কাজেমী
* হযরত মুআবিয়া আওর তারীখি হাকায়িক – তকী ওসমানী
* মওদূদী জামাত পর তনকীদি নজর- মও. মাজহার হোসাইন
* সেরাতে মুস্তাকীম – মও. আবদুস সালাম
* মওদূদী কি তাহরীকে ইসলামী- প্রফেসর মোহাম্মদ
সরওয়ার
* জামাতে ইসলামী কা রুখে কির্দার- চৌধুরী হাবীব
আহমদ
* রদ্দে মওদূদীয়ত- মও. আবদুর রশীদ ইরাকী
* এক্স-রে রিপোর্ট- মুফতী আবদুল কুদ্দুস রূমী
* আ লাইসা মিনকুম – বজলুর রশীদ
* মওদূদীয়ত কা পোস্ট মর্টেম- মও. খলীলুর রহমান পানিপথী
* হাকায়িকে মওদূদীয়ত – মও. ছানাউল্লাহ (অমৃতস্বরী)
* তাকীদুল মাসাইল- হাফেজ মোহাম্মদ গন্দুলভী
* মওদূদী সাহেব আকাবেরে উম্মত কে নজর মেঁ- হাকীম মও.
আখতার (খলীফায়ে থানভী)
* ফেতনোঁ কি রুখে তাম – হাফেজ মোহাম্মদ ছায়েদ
* মওদূদী আওর এক হাজার ওলামায়ে উম্মত- মও. মনজুর আহমদ
* মওদূদী হাকায়িক- মাওলানা আবু দাউদ মোহাম্মদ সাদিক
রজভী।
সুত্রঃ হক-বাতিলের পরিচয়
কৃতঃ মুফতি ইকবাল হুসাইন

আবুল আলা মওদুদীর ঈমান বিধ্বংসী কুফুরী আকিদা

Standard

ইসলামের বিভ্রান্ত আক্বিদা প্রবেশ
করিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার
কাজটি মদুদীকে দিয়ে খুব ভালো ভাবেই
করিয়ে নিয়েছে তার প্রভু ব্রিটিশরা।
সে আমেরিকান খ্রিস্টিয়ান সি. আই. এর
এজেন্ট ছিল। রেফারেন্স: দ্য আর্কাইভ অব
মিত্রোখিন-২য় খন্ড। আশা করি ধারাবাহিক
ভাবে মদুদীর শয়তানী এবং কুফরীমুলক
আক্বীদা বিস্তারিত দলিল সহকারে এই
নোটে পোষ্ট করা হবে।
জীবন বৃত্তান্তঃ আবুল
আ’লা মওদুদী (২৫শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩
– ২২শে সেপ্টেম্বের, ১৯৭৯),
সে মালানা মওদুদী বা শাইখ আবুল
আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলো।
নিজেকে একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক,
মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর
একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও
দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দিতো। সে তার
নিজ দেশ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলের
সাথে জড়িত ছিলো।
মওদুদী জামায়াতে ইসলামী নামক
একটি ভ্রান্ত ইসলামী রাজনৈতিক দলেরও
প্রতিষ্ঠাতা।
যা বর্তমানে বাংলাদেশে এবং পাকিস্তানে বিদ্যমান।
আবু আলা মওদুদির কুফরি আক্বিদার
কয়েকটি প্রমান নিছে বর্ণনা করা হলোঃ
১। আল্লাহ সুবহানাহু
ওয়াতা’লাসম্পর্কেকুফরিআক্বিদাঃ“যেক্ষেত্রেনর-
নারীর অবাধ মেলা মেশা,
সে ক্ষেত্রে যেনার কারনে (আল্লাহ
পাকে আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ
করা নিঃসন্দেহে জুলুম।” (নাউযুবিল্লাহ)
(তাফহীমাদ ২য় খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)
২।ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্পর্কেকুফরীআক্বীদাঃ“ফেরেশতাপ্রায়
ঔ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত
ইত্যাদি দেশের
মুশরিকরা দেবী দেবতা স্থির
করেছে।” (নাউযুবিল্লাহ) (তাজদীদ ও
ইহইয়ায় দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)
৩। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “নবীগন
মাছুম নন।প্রত্যেক নবী গুনাহ
করেছেন।” (নাউযুবিল্লাহ) (তাফহীমাত, ২য়
খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)
৪। হুযুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সম্পর্কেকুফরীআক্বিদাঃ“মহানবীছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক
দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন
না।” (নাউযুবিল্লাহ) (তরজমানুস সুন্নাহ, ৩য় খন্ড,
৩০৫ পৃষ্ঠা)
৫। সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের
সম্পর্কেকুফরীআক্বিদাঃ“সাহাদিগকেসত্যের
মাপকাঠি জানবেন।” (নাউযুবিল্লাহ)
(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)
আরও উল্লেখ্য যে, মওদুদি মৃত্যুর পর
শিয়া সম্প্রদায়ের
একটি মুখপাত্রে বলা হয়েছিল, “মরহুম
(মওদুদী) তার ভিন্ন আঙ্গিকে শিয়া মতবাদ
প্রচলনেও সহায়তা করেছেন।” (সাপ্তাহিক
শিয়া, লাহোর,১৯৭৯ ইং, ৫৭ সংখ্যা ৪০/৪১;
খোনেনী ও মওদুদী দুই ভাই, পৃষ্ঠা ১২)।
আসুন দেখি সে আরো কি কি মন্তব্য
করেছে যা খুব ঘৃণিত এবং সম্পূর্ণ
ইসলামি শরিয়ত বিরোধী।
(ক) পবিত্র কুরআন শরীফ
সম্পর্কে বক্তব্যঃ মালানা মওদুদী পবিত্র
কুরআন শরীফ এর মুল্যায়ন
প্রসঙ্গে লিখেছে, “কোরআন করিম
হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু নাজাত
বা মুক্তির জন্য নয়।” [তাফহিমাত, ১ম খন্ড, ৩১২
পৃষ্ঠা]
(খ) পবিত্র হাদীছ শরীফ
সম্পর্কে বক্তব্যঃ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র হাদীছ
সম্পর্কে মালানা মওদুদী বলেছে,
“হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক
পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত
হয়ে আসছে। এসব বড়জোর সঠিক
বলে ধারণা করা যায়, কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস
করা যায় না। আর একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর
ধর্মের যেসব বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ,
যেগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের
পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়,
সেগুলো কয়েকজন লোকের
বর্ণনা নির্ভর করে মানুষকে বিপদাপন্ন
করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ
করতে পারেন না।” [রাসায়েল ও মাসায়েল,
৬৭ পৃষ্ঠা]
সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমগনের
সম্পর্কে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ আহলে সুন্নাত
ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল-
সাহাবায়ে কেরাম সমলোচনার উর্দ্ধে।
তাদের দোষ বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ”।
(শরহুল আকায়েদ পৃষ্ঠা ৩৫২)
* মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ
করেছেন যেঃ “আমি [সাহাবাদের] তাদের
প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও আমার অনুগত”।
{সূরা তাওবা-১০০}
* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের সম্পর্কে বলেন-
আমার সাহাবীরা তারকাতুল্য। তোমরা যারই
অনুসরণ করবে(তাদের) হেদায়েত
পেয়ে যাবে। {কানুযুল উম্মাল ফি সুনানিল
আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০০২,
জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২৪৩৫৫}
অথচ দেখুন
মওদুদী কিভাবে সাহাবায়ে কিরামকে আক্রমণ
করেছে নোংরা উক্তিতে-
১) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগন সমলোচনার বাহিরে নন।
তাদের দোষ বর্ণনা করা যায়। সাহাবাদের
সম্মান করার জন্য
যদি ইহা জরুরী মনে করা হয় যে,
কোনভাবেই তাদের দোষ
বর্ণনা করা যাবে না তবে আমার (মওদুদী)
দৃষ্টিতে ইহা সম্মান নয় বরং মূর্তি পূজা। যার
মূলোৎপাটন এর লক্ষ্যেই
জামাতে ইসলামীর জন্ম”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(তরজুমানুল কুরআন ৩৫শ’ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩২৭)
২) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগন অনেকে মনগড়া হাদিস
বর্ণনা করেছেন।” {নাউযুবিল্লাহ্} (তরজমানুল
কোরআন ৩৫ সংখ্যা) ঙ/৩)
৩) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের মধ্যে জাহেলিয়াতের
বদ-স্বভাবের
পুনরাবৃত্তি ঘটে।” {নাউযুবিল্লাহ্} (তাফহীমাত
২য় খণ্ড, ১৫৫ পৃষ্ঠা)
৪) “হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহু খিলাফতের দায়িত্ব
পালনে সম্পুর্ণ অযোগ্য ছিলেন”।
{নাউযুবিল্লাহ্} (তাজদীদ ও ইয়াহইয়ায়ে দীন:
পৃষ্ঠা ২২)।
৫) “নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওফাতের সময়
ব্যাক্তি সম্মানের কু-মনোবৃত্তি হযরত উমর
রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু কে পরাভূত
করেছিল।{নাউযুবিল্লাহ্} (তরজুমানুল কুরআন,
রবিউস সানি ৩৫৭ হিজরী)
৬) “হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর
মাঝে সজন-প্রীতির বদগুণ বিদ্যমান ছিল।
{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ৯৯)
৭) “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু
স্বীয় খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ
করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নেই।
{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত ও মুলকিয়াত,
পৃষ্ঠা ১৪৬/১৪৩)
৮) “হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বার্থবাদী,
গনিমতের মাল আত্মসাৎকারী,
মিথ্যা সাক্ষ্যগ্রহকারী ও
অত্যাচারী ছিলেন”।{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত
ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ১৭৩)
পবিত্র কোরআন উল কারিম উনার
সম্পর্কে তার মন্তব্য।
পবিত্র কুরআন শরীফ
সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য: কোরআন
করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু
নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।”{নাউযুবিল্লাহ্}
(তাফহিমাত, ১ম খণ্ড, ৩১২ পৃষ্ঠা)
* আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি কুরআন
অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি (রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মানবজাতিকে অন্ধকারের অতল গহবর
থেকে উদ্ধার করে আলোর পথ
দেখাতে পারেন। {সূরা ইবরাহীম, আয়াতঃ ১}
মুফাসসিরীনে কেরামের
ব্যাখ্যানুযায়ী আলোর পথই হচ্ছে মুক্তির
পথ। কে সত্যবাদী? মহান মালিক
নাকি মাওদূদী?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য: “হাদীস কিছু
লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ
মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে।
এসবকে বড়জোর সঠিক
বলে ধারণা করা যেতে পারে কিন্তু
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার কোন অবকাশ নেই।
আর একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর দীনের
যে সকল বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ যে,
এগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের
মাঝে পার্থক্য নির্ণীত হয়
সেগুলো গুটিকয়েক লোকের বর্ণনার
উপর নির্ভর করে মানুষকে বিপদগ্রস্ত
করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ
করতে পারেন না।” {নাউযুবিল্লাহ্} (রাসায়েল
ও মাসায়েল, ৬৭ পৃষ্ঠা) কী কুখ্যাত মন্তব্য!!!
একটু বিবেচনা করুন।
মওদূদীর আরো কিছু ভ্রান্ত মতবাদ-
ইসলামি রীতিনীতি নিয়ে।
“পোশাক পরিচ্ছদ, চাল-চলন, আকৃতি-প্রকৃতি চুল
কার্টিং ইত্যাদির ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ
করতে কোন দোষ নেই”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(তরজুমানুল কুরআন, ছফর সংখ্যা, ১৩৬৯
হিজরী)
* ইসলাম বলে, ইসলামী পোশাক-পরিচ্ছদ-
প্রকৃতি চাল-চলন ইত্যাদি গ্রহণ করবে। এসব
ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করবে না।
(এমদাদুল মুফতিয়ীন, ২য় খণ্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা)
প্রসঙ্গঃ দাড়ি কাটা ও রাখা
* ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু উনার
হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
তোমরা গোফ খাট কর আর দাড়ি লম্বা কর।
(তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৭৬৩)
* এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে-পুরুষদের
স্বাভাবিক প্রকৃতি হল সে তার দাড়ি লম্বা রাখবে।
(আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৫৩)
দাড়ি লম্বা করার কথা হয়েছে হাদিসে। কাটার
কথা কোথাও নেই। তাই সাহাবায়ে কিরামের
আমলই আমাদের একমাত্র ভরসা এই
ক্ষেত্রে যে, দাড়ি কতটুকু বড়
রাখতে হবে?
মুসান্নাফে ইবনে শাইবাতে এসেছে-
হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু এর
আমল ছিল-তিনি দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখতেন।
সুতরাং দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। এর চে’
কম দাড়ি রাখা আর চেছে ফেলার
মাঝে কোন পার্থক্য নাই। যেমন
জোহরের ফরজ নামায চার রাকাত। দুই রাকাত
সারা জীবন পড়লেও যেমন জোহর
কোনদিনও আদায় হবেনা। তেমনি এক মুষ্টির
কম দাড়ি রাখলে তা কোনদিনও
দাড়ি রাখা বলে সাব্যস্ত হবেনা।
অথচ মওদুদী সাহেবের আক্বিদা দেখুন
কী বলে?
“দাড়ি কাটা ছাঁটা জায়িয। কেটে ছেঁটে এক
মুষ্টির কম হলেও ক্ষতি নেই। হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পরিমাণ
দাড়ি রেখেছেন সে পরিমাণ
দাড়ি রাখাকে সুন্নত বলা এবং এর
অনুসরণে জোর দেয়া আমার
মতে মারাত্মক অন্যায়”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(রাছায়েল মাছায়েল, ১ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা)
প্রসঙ্গঃ সুন্নতে রাসূল “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঊনার আদত,
আখলাককে সুন্নত
বলা এবং তা অনুসরণে জোর দেয়া আমার
মতে সাংঘাতিক ধরনের বিদয়াত ও মারাত্মক ধর্ম
বিকৃতি। {নাউযুবিল্লাহ্} (রাছায়েল মাছায়েল, ২৪৮
পৃষ্ঠা)
* ইসলাম বলে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদত, আখলাক ও
স্বভাব-চরিত্র আমাদের অনুকরণের জন্য
উত্তম নমুনা বা সুন্নত। মহান রাব্বুল আলামীন
ইরশাদ করেন-তোমাদের জন্য
নবীজীর মাঝে রেখেছি উত্তম
আদর্শ। {সূরা আহযাব, আয়াতঃ ২১, সহীহ
বুখারী, হাদীস নং-১৫৪৪}
প্রসঙ্গঃ দ্বীনের আসল উদ্দেশ্য
“দ্বীনের আসল মকছুদ
হলো ইসলামী হুকুমত। নামায, রোযা,
হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি সমস্ত ইবাদত
হলো উক্ত মকছুদ অর্জনের মাধ্যম”।
(আকাবেরে উম্মত কী নজরমে, ৬৪
পৃষ্ঠা)
* ইসলাম বলে, দ্বীনের আসল মকছুদ
নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কায়েম করা।
ইসলামী হুকমত উক্ত মকছুদ
অর্জনে সহায়ক। (শরহুল আকায়েদ, ৩০৪
পৃষ্ঠা) এত সব ভ্রান্ত আক্বিদা পোষণ করার
পরও যদি কেউ তাকে আল্লাহ
ওয়ালা বলে সম্বোধন
করে তাহলে তাদের ক্ষেত্রে আমাদের
কী’বা বলার আছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের
মওদুদী ফিতনা এবং কথিত আহলে হাদীস
ফিতনা, এবং বেদআতি ভন্ড পীর যেমন
দেওয়ানবাগি ফিতনা থেকে আমাদের
দেশে সাধারণ মুসলমানদের হিফাযত করুন
এবং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন উনার রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনার
সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’লা আনহুমগনের পথে যে সমস্থ তবে-
তাবেঈন, আইম্মে মুস্তাহিদিন
সালফে সালেহিন ও আওলিয়ায়ে কেরাম
রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম গন ছিলেন তিনাদের
দেখানো সরল এবং সঠিক পথে চলার তৌফিক
দিন আমীন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট
টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই
কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন
আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার
করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম,
ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের
সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।

শানে রেসালত ও ভ্রান্ত মওদুদীবাদ

Standard

এ নিবন্ধে রাহমাতুল্লিল আলামীন, শফিউল মোযনেবীন,
সাইয়েদুল মুরসালিন, নূর নবী হযরত মুহাম্মদ
মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালতের শান
তথা মান-মর্যাদা এবং সম-সাময়িককালের মওদূদী মতবাদের
এতদসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
দয়ালু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আমাদের সহায় হোন, আমিন! সুম্মা আমিন!!
মহান আল্লাহ তা’লা আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূলকুল-শ্রেষ্ঠ করে বিশ্ব-
জগতের জন্যে তাঁরই অনুপম করুণা-স্বরূপ প্রেরণ
করেছেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ
প্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাঁকে যে সকল বিশেষ
গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন, তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালতের শানস্বরূপ বিবেচিত।
কলেমার দাবি
মুসলমানদের কলেমা বা ঈমানের বাক্যটি হলো-
অর্থাৎ, আল্লাহ্ পাক ছাড়া আর কোনো উপাস্য প্রভু নেই,
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁরই প্রেরিত পয়গম্বর।
যখন আমরা কলেমার প্রথম অংশটি পাঠ করি, তখন
বাক্যটি আমাদের কাছে একটি দাবি পেশ করে থাকে। আল্লাহ্
পাকের উলুহিয়্যাত তথা প্রভুত্বে বিশ্বাস করতে হলে তাঁর
সিফাত (গুণাবলী)-এ বিশ্বাস স্থাপন করাটা শর্ত। অর্থাৎ,
তিনি যে খালেক (স্রষ্টা), মালেক, রিযিকদাতা, চিরঞ্জীব সত্তা,
দয়ালু, দাতা, অনন্ত-অসীম, কাহহার  (রুদ্র রূপধারী)
ইত্যাদি গুণাবলীর অধিকারী তা কলেমা পাঠ করার সময় বিশ্বাস
করে নেয়াটা কলেমারই দাবি। অতঃপর আরবী “ওয়াও” (এবং)
অক্ষরটি ব্যবহার ছাড়াই বাক্যের দ্বিতীয় অংশ
জুড়ে দেয়া হয়েছে। এর দ্বারা ওর গুরুত্ব
বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় অংশটি হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালতে বিশ্বাস সংক্রান্ত ।
এ ক্ষেত্রেও আমাদেরকে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিফাত বা গুণাবলীতে বিশ্বাস
করতে হবে। অর্থাৎ, তিনি যে আল্লাহর পক্ষ হতে নূর
(জ্যোতি), শাহেদ (হাযের-নাযের), রউফুর রহীম,
শাফায়াতে কুবরার ও মাকামে মাহমুদের অধিকারী, আল্লাহ্
পাকের দান-ফযলের বণ্টনকারী, সকল মানবীয় ত্রুটি-বিচ্যুতির
উর্ধ্বে, তাতে বিশ্বাস স্থাপন করাটাও কলেমার দাবি।  আল্লাহ্ ও
তাঁর রাসূলের (দ:) এ সকল গুণে বিশ্বাস না করলে কলেমা-বাক্য
সার্থক হবে না। ফলস্বরূপ, ঈমানও পূর্ণ হবে না। আরেক
কথায়, কুফর বা অবিশ্বাস অন্তরে বিরাজ করবে।
রাসূলে আকরাম-এর সুউচ্চ শান-মান
মহান আল্লাহ্ পাক কুরআন মজিদে এরশাদ ফরমান-
”নিশ্চয় তোমাদের কাছে এসেছে আল্লাহের পক্ষ
হতে একটি নূর (জ্যোতি) এবং স্পষ্ট কিতাব” (আল কুরআন,
৫:১৭)। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ্ পাক কুরআন
মজিদকে “কিতাব” বলেছেন এবং আরেকটি “নূরের”
কথা উল্লেখ করেছেন। কেননা, আরবী ’ওয়া’
অক্ষরটি অর্থাৎ “এবং” শব্দটি উভয় শব্দের মাঝখানে ব্যবহৃত
হয়েছে। তাই “নূর” বলতে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই বোঝানো হয়েছে (খোদার
ভাষায় নবীর মর্যাদা ৩৩ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য: ১৯৮৪ সংস্করণ)।
রাসূলুল্লাহ্ (দ:) স্বয়ং এ ব্যাপারে আরো খোলাসা বয়ান
দিয়েছেন-
”আমি নূর আল্লাহ্র নূর হতে; আর আমার নূর হতে সকল সৃষ্টির
উৎপত্তি” (আল হাদীস)। মহান আল্লাহ্ তা’লা এরশাদ ফরমান-
”হে নবী! নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষী (হাযের-নাযের),
সুসংবাদদাতা, (আখেরাতের) ভীতি প্রদর্শনকারী, আমারই
অনুমতিক্রমে আমার দিকে (মানুষদেরকে) আহ্বানকারী ও
প্রোজ্জ্বল প্রদীপরূপে প্রেরণ করেছি।” (আল
কুরআন, ৩৩:৪৫-৬)
এ আয়াতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে যে,
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর
দরবারে সাক্ষ্যদাতা। সাক্ষ্য দেবার যোগ্যতা তাঁরই আছে,
যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সকল বিষয় প্রত্যক্ষ করেন
এবং অবগত হন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
যে হাজের নাযের তা এ আয়াতে প্রতিভাত হয়।
মহান আল্লাহ্ তা’লা এরশাদ ফরমান-
”এই নবী গায়ব প্রকাশের ক্ষেত্রে কৃপণ
নন” (সূরা তাকভীর, ২৪)। মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী আশরাফী (রহ:) এই আয়াতে করিমার ব্যাখ্যায়
লিখেছেন, “এ কথা বলা তখনই সম্ভবপর, যখন হুযুর আলাইহিস
সালাত ওয়াস্ সালাম গায়বী এলমের (অদৃশ্য জ্ঞানের)
অধিকারী হয়ে জনগণের কাছে তা ব্যক্ত করেন। ‘মা’
আলিমুত্ তানযীল’ নামক তাফসীর গ্রন্থে এ আয়াতের
ব্যাখ্যা করা হয়েছে নিম্মরূপ- হুযুর আলাইহিস সালাম অদৃশ্য বিষয়,
আসমানী খবর, তাঁর কাছে প্রকাশিত অন্যান্য খবর ও
কাহিনীসমূহ প্রকাশ করার ব্যাপারে কৃপণ নন। অর্থাৎ হুযুর
আলাইহিস্ সালাম অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান লাভ করেন,
তবে তা তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার
ক্ষেত্রে কোনো রূপ কার্পণ্য করেন না,
বরং তোমাদেরকে জানিয়ে দেন ও সেগুলোর সংবাদ
দেন। গণক ও ভবিষ্যতবেত্তারা যে রূপ খবর গোপন
করে রাখেন, সেরূপ তিনি গোপন করেন না (মা’আলিমুত্
তানযিল)।তাফসীরে খাযেন গ্রন্থে এ আয়াতের
তাফসীরে উল্লিখিত আছে- অর্থাৎ, এ আয়াতে এ কথাই
বোঝানো হয়েছে যে, হুযুর আলাইহিস্ সালামের
কাছে অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ আসে। তিনি তা তোমাদের
কাছে ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করেন না।
বরং তোমাদেরকে জানিয়ে দেন (তাফসীরে খাযেন)। এ
আয়াত ও এর ভাষ্য থেকে বোঝা গেল যে, হুযুর আলাইহিস্
সালাম লোকদেরকে এলমে গায়ব শিক্ষা দেন। বলা বাহুল্য
যে, যিনি নিজে জানেন, তিনিই শিখিয়ে থাকেন”।
(মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী আশরাফী রহ: প্রণীত
জা’আল হক, ইলমে গায়ব অধ্যায়)।
মহান আল্লাহ্ তা’লা এরশাদ করেছেন-
”নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তাশরীফ এনেছেন
তোমাদের মধ্য থেকে সেই রাসূল, যাঁর
কাছে তোমাদের দুঃখ-কষ্ট অত্যন্ত বেদনাদায়ক,
যিনি তোমাদের উপকার
একান্তভাবে কামনাকারী এবং যিনি মু’মিনদের ওপর পূর্ণ
দয়াবান” (সূরা তওবা, ১২৮)।
উপরোক্ত আয়াতের তাফসীরে আল্লামা মুহাম্মদ আসলাম
লিখেছেন, ”এতে আল্লাহ্ তা’লা হুযুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সৌন্দর্যময় আদর্শের
কথাটা সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, তিনি মানব
সন্তানদেরকে কষ্টের মধ্যে দেখতে চান না।
তাদেরকে সমস্যাদি ও বিভিন্ন কষ্টে ও
মুসীবতসমূহে দেখা মাহবুব-এ খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে বড়ই বেদনার কারণ হয়।
তিনি সর্বদা তাদের মঙ্গলকামী এবং তাদের
হিতার্থে চেষ্টারত থাকেন। প্রকৃত মঙ্গল হচ্ছে আল্লাহর
সন্তুষ্টি। আর প্রকৃত মুসীবত আল্লাহর অসন্তুটি। এ জন্যেই
বিশ্ব-বিখ্যাত হেদায়াতকারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মানুষদেরকে হেদায়তের রাস্তা দেখাতে এবং তার ওপর
পরিচালিত করতে এবং মুসীবত
থেকে রক্ষা করতে সর্বদা চেষ্টারত ছিলেন। নিশ্চয়ই
সরকারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুণ
’রউফুন’এবং ’রাহীম’ (দয়ালু ও অতি দয়াবান) মুমিনদের জন্যে সব
সময়ই প্রকাশিত রয়েছে” (খোদার ভাষায় নবীর মর্যাদা, ২৭
পৃষ্ঠা, অনুবাদক- মওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান)।
মহান আল্লাহ পাক এরশাদ ফরমান-
”আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ
অনুগ্রহে মু’মিনদেরকে ধনবান করেছেন” (সূরা তওবা, ৭৪)।
আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী আশরাফী (রহ:) লিখেছেন, “এই আয়াত
হতে প্রমাণিত হলো যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মানুষকে ধনশালী করেন। যিনি নিজে ধন-সম্পদের মালিক
তিনিই তো অপরকে ধনশালী করতে পারেন। এ আয়াতের
মধ্যে ’ফাদলিহী’ শব্দটির মধ্যে “হু” সর্বনামটি “রাসূলে পাক”-
এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা, সর্বনাম
সাধারণতঃ নিকটতম বিশেষ্যের পরিবর্তেই ব্যবহৃত
হয়ে থাকে। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ” (সালতানাত-ই-মুস্তফা, ২৭ পৃষ্ঠা)।
রাসূলে আকরাম (দ:) এ প্রসঙ্গে এরশাদ ফরমান-
”নিশ্চয়ই আমি বণ্টনকারী, আল্লাহ্ তা’লা দাতা (মেশকাত
শরীফ, জ্ঞান অধ্যায়)।
হাদীসটির ব্যাখ্যায় মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী আশরাফী (রহ:) লিখেছেন- ”এ
থেকে বোঝা গেল, আল্লাহ যখনই কাউকে কিছু দান করেন
তা হুযুরের (দ:) বণ্টনের মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এই হাদীসের
মধ্যে আল্লাহর দান ও হুযুরের বণ্টন
কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়। সময়ের সীমারেখা, দানের
স্বরূপ ও দানগ্রহীতার গুণ কোনো কিছুরই উল্লেখ করা হয়
নাই – মোট কথা, আল্লাহ যা দান করেন হুযুর তাই বণ্টন করেন।
আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসই দান করেন, সুতরাং হুযুরও প্রত্যেক
জিনিসই বণ্টন করেন। প্রত্যেক জিনিস বণ্টন সে ব্যক্তিই
করতে পারেন যাঁকে প্রত্যেক জিনিসের মালিক
বানানো হয়েছে। এটাই হুযুরের মালিকানা ও অধিকার” (সালতানাত-
ই-মুস্তফা, ৩৭ পৃষ্ঠা)।
মহান আল্লাহ্ তা’লা এরশাদ ফরমান-
”এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ (নামায) কায়েম করবেন।
এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। অতি শিগগিরই আপনার প্রতিপালক
আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত
স্থানে” (সূরা বনী ইসরাঈল, ৭৯)।
আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী আশরাফী (রহ:) লিখেছেন, ”এতে প্রিয়
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুইটি বৈশিষ্ট্য বর্ণিত
হয়েছে। একটি দুনিয়ায় আর দ্বিতীয়টি আখিরাতে। দুনিয়ায় তাঁর
বিশেষ গুণ তাহাজ্জুদের নামায পড়া, আর
আখিরাতে ‘মাকামে মাহমুদে’ (প্রশংসিত স্থানে) উপনীত
হওয়া। ….কিয়ামতের ময়দানে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাকামে মাহমুদে উপনীত হওয়া তাঁর
আখেরাতের বিশেষত্ব। এটি এমন পবিত্র স্থান
যেখানে উপনীত হয়ে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবার জন্য শাফায়াতে কুবরা (মহানতম ও
সর্বপ্রথম সুপারিশ) করবেন। পূর্বাপর সকল নবীর উম্মত
শাফায়তকারীর খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরবেন। প্রত্যেক
নবীর কাছ থেকেই উত্তর আসবে ‘ইযহাবূ ইলা গায়রী’,
অর্থাৎ, ‘অন্যের কাছে যাও’। শেষ পর্যন্ত তারা হুযুর পাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ’মাকামে মাহমুদে’ পাবে।
আঁ-হযরত-এর এই উচ্চ মর্যাদা দেখে শত্রু-মিত্র সবাই তাঁর
প্রশংসা করবে। এ জন্যেই এটিকে ’মাকামে মাহমুদ’ বলে।
অর্থাৎ, প্রশংসিত স্থান। আযান
প্রদানকারী এবং শ্রবণকারী প্রত্যেকের ওপর আদেশ
রয়েছে তারা যেন আল্লাহর কাছে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মাকামে মাহমুদ প্রদানের
জন্যে দোয়া করেন, কেননা হুযুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি আমার
জন্যে এ দু’আ করবে, আমি তার জন্যে শাফায়াত
করবো” (শানে হাবীবুর রহমান, পৃষ্ঠা ১২৪-৫)।
মহান রাব্বুল আলামীন এরশাদ ফরমান-
”অবশ্যই রাসুলুল্লাহ-এর মধ্যে তোমাদের
জন্যে রয়েছে সুন্দরতম অনুকরণীয়
আদর্শ” (সূরা আহযাব, ২১)।
আয়াতটির ব্যাখ্যায় মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী আশরাফী (রহ:) লিখেছেন,
“এখানে মুসলমানদেরকে এই হেদায়াত করা হয়েছে যে,
যদি তোমরা আল্লাহ থেকে কোনো পুরস্কারের
আশা রেখে থাক, আর কিয়ামতে কল্যাণের আশা করে থাক,
তবে আমার ‘মাহবুব’-এর পবিত্র জীবনকে তোমাদের
জীবন গঠনের নমুনা করে নাও এবং তাঁর পূর্ণ অনুসরণ কর।
মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র
সত্তা তোমাদের জন্যে খোদায়ী কুদরতেরই নমুনা।
একজন কারিগর যেমন কোনো নমুনার ওপর তার
অলংকারকে শিল্পমন্ডিত করে, তেমনিভাবে আল্লাহও আপন
মাহবুব-এর মহান সত্তার ওপর স্বীয় গুণাবলীর বহিঃপ্রকাশ
ঘটিয়েছেন। তদ্রুপ, যেভাবে দোকানের নমুনা একটিই হয়,
আর বাজারে দর্শক অনেকেই হয়, তেমনি এই মহান সত্তাও
কুদরতের কারখানার একমাত্র নমুনা; যে ব্যক্তি তাঁর কামালিয়তের
(পূর্ণতার) অস্বীকার করবে, সে মূলতঃ রব তা’লার কামালের
(পূর্ণতার)-ই অস্বীকার করবে’। (শানে হাবীবুর রহমান,
পৃষ্ঠা ১৬৯-৭৩)।
উপরন্তু, মহাভ্রান্ত আক্বিদাসম্পন্ন লোকদের
কথানুযায়ী যদি “সুন্দরতম অনুকরণীয় আদর্শ” সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবীয় ভুলক্রটিয্ক্তু
হতেন, তাহলে তাঁকে অনুসরণ করার যথার্থতা কোথায়
থাকতো? ওহাবী-কাওমী ও মওদূদীপন্থীদের
মতানুসারে রাব্বুল আলামীন খোদা তা’লাই নাকি ক্রটিযুক্ত
সাধারণ মানুষ হিসেবে রাসূলকে (দ:) পাঠিয়েছেন
(নাউযুবিল্লাহ)! অথচ উপরোক্ত আয়াতই তাদের
অপযুক্তিকে সমূলে উৎপাটিত করেছে।
মহাভ্রান্ত মওদূদীবাদ
জামাতে ইসলামী নামের রাজনৈতিক দলটির প্রবর্তক
এবং ধর্মীয় গুরু আবুল আ’লা মুওদুদী বহু বই লিখেছে। কিন্তু
ইসলামের আবরণে এ সব বইপত্রে বহু ইসলাম-বিধ্বংসী বদ-
আক্বিদা সন্নিবেশিত হয়েছে। জামাতে ইসলামীর নেতা-
কর্মীরা জেনে কিংবা না জেনে বদ আক্বিদার
গ্রন্থগুলোকে ইসলামী বইপত্র হিসেবে প্রচার
করছেন। এতে মুসলিম সমাজে গোমরাহী ও ফিতনা-ফাসাদ
ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা সংক্ষেপে এখানে কিছু
মওদূদীবাদের ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা ও তার দলিলভিত্তিক খন্ডন
উপস্থাপন করবো। আল্লাহ তা’লা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহায় হোন, আমিন।
বদ আক্বিদা-১
মওদূদী তার কৃত “তাফহীমূল কুরআন” নামক তাফসীর
গ্রন্থে সুরা নসর-এর ‘ওয়াসতাগফিরহু’ আয়াতটির ব্যাখ্যায়
লিখেছে, “অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।” তাঁর
কাছে কাতর-কণ্ঠে এই দোয়া কর যে,
তোমাকে যে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তা সম্পন্ন
করার ব্যাপারে তোমার দ্বারা যে ভুল-
ত্রুটি হয়েছে কিংবা তাতে যে অসম্পূর্ণতা ও
দুর্বলতা রয়ে গিয়েছে, তা যেন তিনি ক্ষমা করে দেন।”
(জুন ২৭, ১৯৭৫ ইং সংস্করণ; অনুবাদ- মৌঃ আবদুর রহীম; প্রকাশক –
মাহবুব প্রকাশনী; তাফহীমূল কুরআন ১৯৮৯ সংস্করণেও
বিদ্যমান) – নাউযুবিল্লাহে মিন যালিকা!
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল
সেটা কী? সেটা হলো রেসালত প্রচার-প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব।
মওদূদী এ দায়িত্ব পালনে নূর-নবীর (দ:) ভুল-ত্রুটি আবিষ্কার
করেছে। আরেক কথায়, মওদূদীর মতানুযায়ী রেসালাত
প্রচার-প্রতিষ্ঠার কাজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
এর নাকি ভুল-ত্রুটি হয়েছে এবং তাতে নাকি অসম্পূর্ণতা ও
দুর্বলতাও রয়ে গিয়েছে। শত-সহস্র ধিক, এই বদ
আক্বিদাধারীর প্রতি! মহান আল্লাহ্ পাক তার এ অপযুক্তির
খন্ডনে এরশাদ করেছেন-
”আজ তোমাদের দ্বীন ইসলামকে তোমাদেরই
জন্যে পরিপূর্ণ করলাম (সূরা মায়েদা, ৪ নং আয়াত)।
দ্বীন যদি পরিপূর্ণ অবস্থায় আমাদের
কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে আমাদের প্রশ্ন
হলো রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন
করে তাঁর দায়িত্বে ভুল-ত্রুটি করলেন? কেননা, তাঁর রেসালত
প্রচার-প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ওপরই নির্ভর
করছে আমাদের দ্বারা পূর্ণাঙ্গ দ্বীনপ্রাপ্তির প্রশ্নটি।
যেহেতু আল্লাহ তা’লা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, দ্বীন ইসলাম
পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় আমাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে,
সেহেতু মহান প্রভুর এ সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়, তাঁর ওপর
অর্পিত ঐশী দায়িত্ব তিনি যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন।
বিদায় হজ্জের সময় যখন উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়, তখন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর
সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কি তাঁর ওপর
অর্পিত দায়িত্ব তথা ঐশী প্রত্যাদেশ পৌঁছানোর দায়িত্ব
যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরাম ইতিবাচক জবাব দেয়ার পরে তিনি আল্লাহ
তা’লাকে সাক্ষী থাকতে অনুরোধ করেন। সাহাবীগণের
সাক্ষ্যের মোকাবেলায় মওদূদী ও তার অনুসারীরা বলছে,
তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে ভুল-ত্রুটি করেছিলেন। এ ধরনের
আক্বিদা-বিশ্বাস মুরতাদ (ধর্মচ্যুত)-দেরই হয়ে থাকে।
রসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সূরা নসরের
যে আয়াতটিতে আল্লাহ পাক ‘এস্তেগফার’
করতে বলেছেন, সেটি কুরআনের তাফসীরকারগণ
ব্যাখ্যা করেছেন। ইমাম আহমদ রেযা তাঁর তাফসীরে কানযুল
ঈমান গ্রন্থে লিখেছেন: “আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন
আপনার উম্মতের জন্যে”। এখানে উল্লেখযোগ্য যে,
সুরা নিসার ৬৩-৬৪ আয়াতে হুযুর পূর নূর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওই একই ‘এস্তেগফার’ শব্দটি ব্যবহার
করে গুণাহগার উম্মতের জন্যে শাফায়াত তথা সুপারিশ
করতে বলা হয়েছে। তাই এই আয়াত দ্বারা (পূর্বোক্ত)
সুরা নসরের আয়াতটির তাফসীর করতে হবে।
এক্ষণে সুরা নসরের ধারাবাহিক বর্ণনা লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন
বলে মনে করি, যাতে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়: আল্লাহর
নামে আরম্ভ- যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে,
এবং আপনি মানুষদেরকে আল্লাহর (ইসলাম)
ধর্মে দলে দলে প্রবেশ করতে দেখবেন; অতঃপর
আপনি প্রতিপালকের প্রশংসাকারী অবস্থায় তাঁর
পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চান (ওই সব
দলে দলে ইসলাম ধর্মে প্রবেশকারী মানুষের জন্যে)।
নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী (তাফসীরে কানযুল
ঈমান)। কুরআন মজীদের তাফসীর সব সময় আক্ষরিক নয়,
বরং প্রসঙ্গ-নির্ভর । মওদূদী সাহেব মনগড়া তাফসীর
করে হাদীস মোতাবেক গোমরাহীতে নিমজ্জিত
হয়েছেন।
বদ আক্বিদা-২
মওদূদী তার “লন্ডনের ভাষণ” নামের বইটিতে বলেছে,
“রাসূল না অতি মানব, না মানবীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত।
তিনি যেমন খোদার ধনভান্ডারের মালিক নন, তেমনি খোদার
অদৃশ্য জ্ঞানেরও অধিকারী নন বলে সর্বজ্ঞও নন।
তিনি অপরের কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে অক্ষম।” (১১ পৃষ্ঠা,
আখতার ফরুক অনূদিত ও জুলকারনাইন পাবলিকেশন কর্তৃক
প্রকাশিত; অক্টোবর ১৯৭৬ সংস্করণ; বি:দ্র: এ ভাষণটি ১৯৭৬
সালের এপ্রিলে লন্ডনে ইউরোপীয়
ইসলামী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত তিন
মাসব্যাপী ’ইসলামী সম্মেলনে’ প্রেরিত হয়। এ লিখিত
ভাষণটি পাঠ করে শোনান অধ্যাপক গোলাম আযম)।
এ নিবন্ধের প্রারম্ভে শানে রেসালতের যে দলিলাদি পেশ
করেছি, তার মধ্যে মওদূদীর এ বদ আক্বিদার খন্ডন আছে।
তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারো কল্যাণ
করতে পারেন না মর্মে মওদূদীর হারামী বক্তব্যের
পরিপ্রেক্ষিতে এখানে আল্লাহ্ তা’লার বাণী উদ্ধৃত
করা যথোচিত মনে করি। আল্লাহ্ তা’লা এরশাদ ফরমান-
”হে রাসূল! আপনাকে আমি সমগ্র বিশ্ব-জগতের
জন্যে আমার করুণাস্বরূপ প্রেরণ করেছি” (সূরা আম্বিয়া, ১০৭
আয়াত)। কুরআনের
পরিপন্থী কোনো আক্বিদা ইসলামী আক্বিদা হতে পারে
কি?
বদ আক্বিদা-৩
“ খেলাফত ও রাজতন্ত্র” নামক পুস্তকে মওদূদী লিখেছে,
“হযরত ওসমান (রা:)-এর নীতির (মওদূদীর মতে ৩য়
খলীফা হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু নাকি স্বজনপ্রীতিমূলক
নীতি গ্রহণ করেছিলেন – নাউযুবিল্লাহ)
এদিকটি নিঃসন্দেহে ভুল ছিল। আর ভুল কাজ ভুলই-
তা যে কেউই করুক না কেন। ভাষার মারপ্যাঁচে তাকে সঠিক
প্রমাণ করার চেষ্টা করা বুদ্ধিবৃত্তি ও ইনসাফের দাবি নয়
এবং কোনো সাহাবীর ভুলকে ভুল বলে স্বীকার
না করা দ্বীনেরও দাবি হতে পারে না” (পৃষ্ঠা ১০৬, জুন ৮৯
সংস্কারণ, গোলাম সোবহান সিদ্দিকী অনূদিত ও আধুনিক
প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত)।
হযরত ওসমান (রা:)-এর খেলাফত সম্পর্কে মন্তব্য
করতে যেয়ে মওদূদী উপরোক্ত কথা বলেছে। অথচ
সাহাবীদের সমালোচনা করা নিষেধ। হাদীসে এরশাদ
হয়েছে-
”যখন ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং আমার
সাহাবীদেরকে সমালোচনা করা হবে, তখন যেন জ্ঞান
শিক্ষাপ্রাপ্ত আলেম সত্য প্রকাশ করে। যদি যে এ কাজ
না করে, তবে তার ওপর আল্লাহ্ তা’লা, ফেরেশতাকুল ও
মানবজাতির লা’নত তথা অভিসম্পত! আল্লাহ পাক তার
কোনো (নেক) কাজ কিংবা ন্যায়-নিষ্ঠাই আর কবুল করবেন
না” (আল হাদীস)। যদি শুধুমাত্র সাহাবীদের সমালোচকদের
জবাব না দেয়ার জন্যে কোনো ব্যক্তির ওপর লা’নত
পড়তে পারে, তাহলে সমালোচকদের ওপর কেমন লা’নত
পড়বে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা মওদূদীর এ
হঠকারী মতবাদ হতে আল্লাহর দরবারে পানাহ চাই, আমিন!
বদ আক্বিদা-৪
মওদূদীর রচিত “ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা” নামক
পুস্তকে লিপিবদ্ধ আছে,
“প্রত্যেকটি কাজে এবং প্রত্যেকটি হুকুমের ব্যাপারেই
কেবলমাত্র আল্লাহর খোঁজ নিতে হবে। নিজের মন ও
বিবেক বুদ্ধি কী বলে, বাপ
দাদারা কী বলে বা কী করে গিয়েছেন, পরিবার, বংশ ও
আত্মীয়গণের মত কী, জনাব মৌলভী আর জনাব পীর
কেবলা কী বলছেন, অমুক সাহেবের হুকুম কী কিংবা অমুক
সাহেবের মত কী – এই সব মাত্রই
দেখবে না এবং সে দিকে মাত্রই ভ্রুক্ষেপ
করা যাবে না। . . . .  কারণ হুকুম দেয়ার ক্ষমতা তো কেবল
মাত্র আল্লাহ তা’লার – ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহ – আল্লাহর হুকুম
ছাড়া মানুষ অন্য কারও হুকুম মানতে পারে না।” (পৃষ্ঠা ৫৫, এপ্রিল
৯০ সংস্করণ, মৌঃ আব্দুর রহীম কর্তৃক অনূদিত এবং আধুনিক
প্রকাশনী কর্তৃক প্রকাশিত)। এ বদ
আক্বিদা দ্বারা মওদূদী শানে বেলায়াতের
(শানে সাহাবায়ে কেরাম ও শানে বেলায়াত হুযুর পূর নূর
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানের ওপরই প্রতিষ্ঠিত; তাই
এখানে প্রসঙ্গটি আলোচিত হলো) ওপর আঘাত
হেনেছে। তার ব্যবহৃত আয়াতটি লক্ষণীয়। এ আয়াতটি-ই
হযরত আলী (ক:)-এর বিরুদ্ধে শিরকের ফতোওয়া জারি করার
সময় খারেজীরা ব্যবহার করেছিল। অথচ মহান আল্লাহ্
তা’লা এরশাদ ফরমান-
”আল্লাহকে মান্য কর, রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মান্য কর এবং তোমাদের
মধ্যে যাঁরা (ধর্ম বিষয়ে) আদেশদাতা (বুযূর্গানে দ্বীন)
আছেন তাঁদেরকেও মান্য কর” (সূরা নিসা, ৫৮ আয়াত)।
আয়াতটি ব্যক্ত করে যে, পীর-বুযূর্গ ও
হক্কানী উলামায়ে কেরামের কথাও মান্য করতে হবে।
কিন্তু মওদূদী তাঁদেরকে মান্য করতে নিষেধ করছে।
এটা কি আল কুরআনের বিরোধিতা নয়? খোদার ওপর
খোদকারী নয়? মওদূদী কি মুফাসসির? এই যদি হয়
তাফসীরের নমুনা, তাহলে এ ব্যাখ্যা কি বিচ্যুতির দ্বার
উন্মোচিত করবে না? বিষয়টি পাঠকবৃন্দের বিবেচনায় রাখলাম।
বদ আক্বিদা-৫
সর্বশেষে “জামাতে ইসলামের পঞ্চাশ বছর” শীর্ষক
সেমিনারে গোলাম আযমের উপস্থাপিত বক্তব্য
দিয়ে মওদূদীবাদের গোমরাহীপূর্ণ কতিপয় আক্বিদার
খন্ডন সুসম্পন্ন করতে চাই। ঘটনাটি ৩০শে সেপ্টেম্বর
১৯৯১ তারিখের, যা ১লা অক্টোবর তারিখের বিভিন্ন
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। খবরটি নিম্নরূপ:
”জামাতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম
বলেছেন, নবী গবেষণা করে কিছু দেন না, আল্লাহ
স্বয়ং নবীদের মাধ্যমে তাঁর বাণী দেন। কিন্তু বিভিন্ন
যুগের চিন্তাবিদরা সে যুগের বাস্তবতা অনুসারে পথ দেখান।
তেমনি মওদূদী কুরআনকে আসল রূপ দেন। গতকাল
সোমবার বিকেলে সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী রিসার্চ
একাডেমীর এক সেমিনারে তিনি প্রধান
অতিধি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন” (গোলাম আযম
বলেছেন নবী গবেষণা করে কিছু দেন না শীর্ষক
খবর, দৈনিক আজকের কাগজ ২য় পৃষ্ঠা, তাং ১/১০/১৯৯১ ইং)।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! ভাষার মারপ্যাঁচে কীভাবে নবী করীম
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাটো করা হয়েছে তা লক্ষ্য
করেছেন কি? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
গবেষণা করে আল্লাহর বাণী দেন নি, কেবলমাত্র
কুরআনের কাঁচামাল সরবরাহ করেছেন। কিন্তু
মওদূদী কুরআনকে পূর্ণাঙ্গ করেছে – নাউযুবিল্লাহি মিন
যালিকা! হুযুর পূর নূর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এখানে খাটোই করা হয় নি শুধু,
মওদূদীর চেয়ে নিকৃষ্ট প্রতীয়মান করার অপচেষ্টাও
চলানো হয়েছে। আর এটাই হলো মুরতাদী কারবার! মহান
আল্লাহ্ পাক এর খন্ডনে এরশাদ ফরমান-
”আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন (ধর্ম)-
কে পরিপূর্ণ করে দিলাম (সূরা মায়েদা, ৪ আয়াত)। নূর নবী-ই
(দ:) আল কুরআনের আসল রূপ দিয়েছেন। এতে বিন্দু মাত্র
অবিশ্বাস রিসালাতে অবিশ্বাসেরই শামিল, যার ফলশ্রুতি বে-
ঈমানী, কুফরী!
শেষ কথা
এ নিবন্ধের প্রারম্ভে কলেমার
দাবি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। কলেমার
তথা ইসলামী বিশ্বাসের দুইটি  স্তম্ভ তৌহিদ ও
রেসালতে বিশ্বাস স্থাপন করা অবশ্য কর্তব্য। রেসালাতের
বৈশিষ্ট্য রাসূলুল্লাহর (দ:) সুউচ্চ শান-মান ও
মর্যাদাকে সযত্নে অন্তরে ধারণ করাই ঈমানের পূর্বশর্ত।
এমতাবস্থায় মওদূদী কর্তৃক নূর নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেসালতের দায়িত্বে ভুল-
ত্রুটি সংঘটনের অপব্যাখ্যা প্রদান চরম ফিতনাবাজী ছাড়া আর কিছু
নয়! জামাতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা অনেকেই
মওদূদীর এ গোমরাহী সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। কিন্তু
তারা অপযুক্তি পেশ করে থাকেন যে, মওদূদীর
আক্বিদা অনুসরণ না করে শুধমাত্র তার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ
করা বৈধ। আমাদের জবাব হলো, ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।
অতএব, যিনি ইসলামী সমাজের ইমাম বা নেতা হবেন, তাকেও
সর্বক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ হতে হবে। বদ-আক্বিদাসম্পন্ন
কাউকে ইমাম বানানো যাবে না। মওদূদী এ শর্ত
পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। তাই তাকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও
অনুসরণ করা অবৈধ। উপরন্তু, জামাত মওদূদীর ভ্রান্ত বইপত্র
সম্পর্কে এখনো তওবা করে নি। বইগুলো পুড়িয়েও
ফেলে নি। এমতাবস্থায়
জামাতকে মওদূদীবাদী আখ্যা দেয়া ছাড়া আর গত্যন্তর
নেই। আর নিশ্চয়ই মওদূদী মহাভ্রান্ত আক্বিদাধারী ব্যক্তি।
আল্লাহ পাক তার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর
ওসীলায় আমাদেরকে মওদূদীবাদের
ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন এবং নাজাত দান করুন, আমীন।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর-রাসূলুল্লাহ