জুমা হল নিঃস্বদের হজ্জ্ব

Standard

জুনায়েদ বাবুনগরী স্বীয় “প্রচলিত জাল হাদিস” বইয়ের ১১২ পৃষ্ঠায় এই হাদিসকে জাল প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়ে লিখেছেন- ” জামেউস সগীর কিতাবে উক্ত হাদিসটি আল্লামা মানাবী(রহঃ) উল্লেখ করেছেন”।
জবাবঃ যে কিতাবের সম্মানিত লিখকের নামই জানে না, সে আবার কিসর সহীহ, দ্বঈফ নির্ণয় করবে।মূলত জামেউস সগীর গ্রন্থের লেখক হলেন ইমাম সৈয়ুতী(রহঃ)।
হাদিসটি হলঃ

“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, হুজুর(সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমান, জুম’আ হল নিঃস্বদের জন্য হজ্জ্ব স্বরুপ।”
★ইমাম সৈয়ুতিঃআল- জামেউস সগীরঃ১/২৭২পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৫

★ইমাম সাখাভীঃ মাকাসিদুল হাসানাঃ২০৭পৃঃ,হাদিসঃ৩৭০

★আল্লামা আযলূনীঃকাশফুল খাফাঃ১/২৯৮পৃঃ,হাদিসঃ১০৭৪

★ইমাম মানাবীঃফয়জুল কাদীরঃ৩/৩৫৯পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৫

★আলবানীঃ সিলসিলাতুল দ্বঈফাহঃ১/৩৪৪পৃঃ,হাদিসঃ১৯১,তিনি বলেন হাদিসটি দ্বঈফ।
সনদ পর্যালোচনাঃ
১) উক্ত হাদিসটির একটি সনদ পাওয়া গেল, তবে উক্ত হাদিসের মধ্যে একজন রাবী ‘মুকাতিল’ সাধারণ দুর্বল থাকার কারণে সনদের ক্ষেত্রে হাদিসটি দ্বঈফ পর্যায়ের।
★ইমাম যাহাবীঃমিযা’নুল ই’তিলাদঃ৩/২৯৮পৃঃ,রাবী নং-৬৯৯৩,দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।

★ইমাম ইবনে হাজর আসকালানীঃলিসানুল মিযানঃ৪/৪৫৪পৃঃ।
২) তবে অপর সনদ যা ইমাম কাযাঈ(রহঃ) এবং ইমাম ইবনে আসাকীর(রহঃ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সুত্রে “মাসাকিন” এর স্থলে ” ফুকারা” বর্ণনা করেন।
★ইমাম সৈয়ুতিঃজামেউস সগীরঃ১/২৭৩পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৬

★ইমাম মানাবীঃফয়জুল কাদীরঃ৩/৩৫৯পৃঃ,হাদিসঃ৩৬৩৬

তবে উক্ত হাদিসেও একজন রাবী দুর্বল।
৩)অপরদিকে উক্ত হাদিসের সমর্থনে ইমাম দায়লামী(রহঃ) হযরত ইবনে উমর(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে আরেকটি দ্বঈফ সনদ বর্ণনা করেছেন।

★ইমাম কদ্বায়ীঃমুসনাদে শিহাবঃ১/৮১পৃঃ,হাদিসঃ৭৯
৪)শুধু তাই নয় ইমাম ইবনে মাজাহ(রহঃ) দ্বঈফ সনদে উক্ত শব্দে হযরত আবু হুরায়রা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সুত্রে বর্ণনা করেন।

★ইমাম আযলূনীঃকাশফুল খাফাঃ১/২৯৮পৃঃ,হাদিসঃ১০৭৪
৫) এই হাদিসটি আরেকটি শক্তিশালী সনদ পাওয়া যায় হযরত যাহহাক বিন মুযাহিম(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর) সুত্রে।

★ইমাম ফিকহীঃ আখবারে মক্কীয়াঃ১/৩৭৭পৃঃ,হাদিসঃ৭৯৫
তাই আমরা বলতে পারি এই হাদিসের ৪টিরও বেশী সনদে বর্ণিত।তাই হাদিসটি “হাসান” পর্যায়ের এবং মুল বিষয়বস্তু সহীহ।

Advertisements

আহলে হাদিস নয় আহলে সুন্নাত ই হতে হবে

Standard

আহলে হাদীস নয় হতে হবে সুন্নাহ এর অনুসারী
___________________ আহলে হাদীস একটি বিভ্রান্ত ফিরকা
বস্তুতঃ হাদীস ও সুন্নাহ এক জিনিস নয়, বরং এ দুইয়ের
মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে । উম্মতের জন্য দ্বীনের উপর
চলার অনুসরনীয় পথ কে সুন্নাহ বলে ।
আর ” প্রত্যেক সুন্নাহই হাদীস কিন্তু সকল হাদীসই সুন্নাহ
নয়।” অর্থাৎ দ্বীনের উপর চলার জন্য উম্মত সকল হাদীসকেই
অনুসরন করতে পারবে না যদিও সেই হাদীসটি “সহীহ্ ” হয়।
কেননা অনেক সহীহ্ হাদীস আছে যা অন্য সহীহ হাদীস
দ্বারা রহিত হয়ে গিয়েছে বা তা পূর্বের বিধান ছিল কিন্তু
পরবর্তীতে রসূলুল্লাহ (দঃ) এর হুকুম দ্বারা রহিত
হয়ে গিয়েছে ।
নিম্নে কিছু হাদীস উদাহারন স্বরুপ তুলে ধরলামঃ
১. সহীহ্ বুখারীর কিতাবুল জানায়েযের ১৩০৭ থেকে ১৩১৩
নং হাদীস সমূহ । এসব হাদীসে জানাযা বহন
করে নিয়ে যেতে দেখলে সকলকে দাঁড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে ।
অথচ এই বিধান এই বিধান অন্যান্য সহীহ্ হাদীস দ্বারা রহিত
হয়ে গিয়েছে ।
( উমদাতুল কারী ৬/১৪৬)
২. ইসলামের প্রথম যুগে নামাযরত অবস্থায় কথা বলা, সালাম
দেওয়া , সালামের উত্তর দেওয়া সবই বৈধ ছিল । কিন্তু
পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।
( সহীহ্ বুখারী হা. নং- ১১৯৯, ১২০০)
৩. ইসলামের প্রথম যুগে বিধান ছিল যে, আগুনে রান্নাকৃত
খাদ্য গ্রহন করলে উযু ভেঙ্গে যাবে । কিন্তু পরবর্তীতে এই
বিধান রহিত হয়ে যায় ।
( সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ২০৮)
৪. নবীজী ( সঃ) হিজরতের পর মদীনায় ১৬/১৭ মাস বাইতুল
মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে নামায আদায় করেছেন । কিন্তু
পরবর্তীতে এই বিধান রহিত হয়ে যায়।
( সহীহ্ বুখারী হা. নং- ৭২৫২)
এগুলো সবই সহীহ্ হাদীস কিন্তু সুন্নাহ নয়। অর্থাৎ এই
হাদীসগুলো উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয়।
৫. এমন অনেক হাদিস আছে যার বিধান নবীজী (সঃ) এর
সঙ্গে নির্দিষ্ট । উম্মতের জন্য তার উপর আমল করা বৈধ নয়।
যেমনঃ বহু হাদিসে রসূলুল্লাহ (দঃ) এর ১১টি বিবাহের
কথা এবং মহর দেওয়া ছাড়া বিবাহ করার কথা এসেছে।
তো এগুলো হাদিস বটে কিন্তু উম্মতের জন্য অনুসরনীয় নয় ।
( সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ ১১/
১৪৩-২১৭)
৬. হাদীসে এমন অনেক আমলের কথা বর্ণিত
আছে যা রসূলুল্লাহ (দঃ) কখনো কোন বিশেষ
প্রয়োজনে করেছেন । যেমনঃ কোমরে ব্যথা থাকার
কারনে কিংবা এস্তেন্জা করার স্থানে বসার
দ্বারা শরীরে বা কাপড়ে নাপাকি লাগার অশংঙ্কায়
তিনি সারা জীবনে মাত্র ২বার দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন।
কিন্তু হাদিসের বর্ণনায় এসব কারনের কথা উল্লেখ নেই ।
শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে পেশাব করার কথা আলোচিত হয়েছে।
তো এই হাদিসের উপর আমল করে কি দাঁড়িয়ে পেশাব
করাকে সুন্নাহ বলা যাবে ??? অনুরুপভাবে রসূলুল্লাহ (দঃ)
ইহরাম অবস্থায় এবং রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।
( সহীহ্ বুখারী, হা.নং- ১৯৩৮)
তাই বলে কি ইহরাম ও রোযা অবস্থায়
শিঙ্গা লাগানোকে সুন্নাহ বলা যাবে ???
৭. কাজটি বৈধ একথা বুঝানোর জন্যও রসূলুল্লাহ (সঃ) অনেক
কাজ করেছেন।যেমনঃতিনি একবার তার
নাতনী উমামা বিনতে যয়নবকে কোলে নিয়ে নামায
পড়িয়েছেন।( সহীহ্ বুখারী,হা. নং- ৫১৬)
আবার তিনি রোযা অবস্থায় তার এক স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন

( সহীহ্ বুখারী ,হা.নং- ১৯২৮) ।
এই উভয় ঘটনাই হাদিসে এসেছে । এর দ্বারা রসূলুল্লাহ (দঃ)
বুঝাতে চেয়েছেন যে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিশ্ত
কোলে নিয়ে নামায
পড়া বা পড়ানো যেতে পারে এবং রোযা অবস্থায়
স্ত্রীকে চুম্বন করা বৈধ, এতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না ।
তাই বলে কি সব সময় শিশ্ত কোলে নিয়ে নামায
পড়ানোকে কিংবা রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন
করা সুন্নাহ বলা যাবে ???
উপর্যুক্ত আলোচনার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ” আহলে হাদীস
” নামটিই সঠিক নয় । কারন রসূলুল্লাহ (দঃ) কোন বর্ননায়ই
উম্মতকে হাদীস মানতে বলেন নাই , বলেছেন ” সুন্নাহ ”
মানতে । তারপরও যারা নিজেদেরকে ” আহলে হাদীস ”
বলে দ্বাবী করে তাদের উচিৎ ১১টি বিবাহ করা, মহর
ছাড়া বিবাহ করা, ইহরাম ও রোযা অবস্থায়
শিঙ্গা লাগানো, রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করা,
দাঁড়িয়ে পেশাব করা ইত্যাদিকে সুন্নাত মনে করে আমল
করা ।
অনুরুপভাবে জীবনে মাত্র ৩দিন মসজিদে এসে তারাবীহ এর
নামায পড়া , নামাযরত অবস্থায় কথা বলা , সালাম দেওয়া ,
সালামের উত্তর দেওয়া । কারন এগুলোও
তো হাদিসে এসেছে । কিন্তু তারা এসব করবে না ।
তাহলে হাদীস মানার দাবীদার হয়ে এসব হাদিসের উপর
আমল না করে কিভাবে তারা আহলে হাদীস হল ???
আসল কথা হলো, তারা নিজেদেরকে “আহলে হাদীস ” বললেও
বাস্তবে মুখবাজি( বাগাড়ম্বরি ) ছাড়া কিছুই না ।
অপর দিকে রসূলুল্লাহ (সঃ) যেহেতু উম্মতকে সুন্নাহ
আঁকড়ে ধরতে বলেছেন তাই সকল মাযহাব অনুসারীগন
হাদিসের শুধুমাত্র সুন্নাহ অংশের অনুসরন
করি এবং নিজেদেরকে ” আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ ”
বলে পরিচয় দিই । অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (দঃ) এর সুন্নাত
মানি এবং সাহাবায়ে কেরামের জামা’আতকে অনুসরন করি ।
মূলকথা “আহলে হাদীস ” নামটিই সঠিক নয় ,
এটি একটি বিভ্রান্ত নাম ।

আহলে সুন্নাত ই একমাত্র সঠিক পথ

Standard

রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন ______________________________
____________________________ ﺇﻥ ﺑﻨﻲ ﺇﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﺗﻔﺮﻗﺖ ﻋﻠﻰ
ﺛﻨﺘﻴﻦ ﻭﺳﺒﻌﻴﻦ ﻣﻠﺔ ﻭﺗﻔﺘﺮﻕ ﺃﻣﺘﻲ ﻋﻠﻰ ﺛﻼﺙ ﻭﺳﺒﻌﻴﻦ ﻣﻠﺔ ﻛﻠﻬﻢ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ
ﺇﻻ ﻣﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﻭﻣﻦ ﻫﻲ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻣﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺃﺻﺤﺎﺑﻲ
‏( ﺳﻨﻦ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻓﺘﺮﺍﻕ ﺍﻷﻣﺔ، ﺭﻗﻢ
ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2641 ) অর্থ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর
রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- নিশ্চয়
বনী ইসরাঈল ছিল ৭২ দলে বিভক্ত। আর আমার
উম্মত হবে ৭৩ দলে বিভক্ত। এই সব দলই
হবে জাহান্নামী একটি দল ছাড়া। সাহাবায়ে কিরাম
জিজ্ঞেস করলেন-সেই দলটি কারা?
নবীজী সাঃ বললেন- যে দলটিতে আমি ও আমার
সাহাবাগণ থাকব। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৬৪১,
আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৬৫৯, আল মু’জামুল
আওসাত, হাদীস নং-৪৮৮৯, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল
আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৬০}
_____________________________________________
_____________ রাসুল সাঃ আরো বলেন ; নিশ্চয় আমার
উম্মাতের মধ্যে এমন দলসমুহ বাহির হইবে যে,
উহাদের মধ্যে বদ আকিদা নাফছানি খাহেশাত এমন
ভাবে সংক্রামিত হইবে যেমন পাগলা কুকুরের বিশ
সংক্রামিত হয় দংশিত ব্যক্তির মধ্যে। কু-আকিদা ও
কুফরী সমুহ ঐ গোমরাহ লোকদের
প্রতিটি নাড়ী নক্ষত্র ও প্রত্যেক
গ্রন্থিতে সংক্রামিত হইবে। (আবু দাউদ )
_____________________________________________
____________ হযরত গাউস পাক আব্দুল কাদের
জিলানী রঃ উনার “গুনিয়াতুত ত্বালেবীন” কিতাব এ
বলেন, ৭৩ ফেরকা মুলতঃ মুল দশটি ফেরকার
শাখা প্রশাখা। সেই দশটি ফেরকা হইলঃ (১)
আহলে সুন্নাত, (২)খারেজী (৩)শিয়া বা রাফেজী,
(৪)মোতায়েলা , (৫) মারযিয়া, (৬) মুশাব্বাহা, (৭)জাহমিয়া,
(৮) জারারিয়া, (৯) নাজ্জারিয়া, (১০)কালাবিয়াহ।
আহলে সুন্নাত বা সুন্নি জামাতের কোন
শাখা প্রশাখা নাই। ৪টি মাযহাব কোনো দল নয়
বরং এটা ফিকাহ একেকটা ফিকাহ এর স্কুলের মত।
তাদের সবার আকীদা একই। কিন্তু অপরাপর
৯টি দলেরই শাখা প্রশাখা বর্তমান এবং তারা ভিন্ন
আকীদায় বিশ্বাসী। হযরত গাউস পাক আব্দুল
কাদের জিলানী রঃ বলেন খারেজী দলের
শাখা ১৪টি, শিয়া বা রাফেজী ৩৩টি, মোতাযেলার ৬টি,
মারজিয়ার ১২টি, মুশাব্বাহার ৩টি, জারারিয়া,
কালাবিয়াহ, নাজ্জারিয়া,
জাহমিয়ার একটি করে মোট ৭৩ টি ফেরকা ।
_____________________________________________
_____________ আল্লামা কুরতুবী রহঃ তার প্রণীত
তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন- . ﻭﻗﺪ ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺾ
ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺍﻟﻌﺎﺭﻓﻴﻦ : ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻔﺮﻗﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﺯﺍﺩﺕ ﻓﻲ ﻓﺮﻕ ﺃﻣﺔ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻫﻢ ﻗﻮﻡ ﻳﻌﺎﺩﻭﻥ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻭﻳﺒﻐﻀﻮﻥ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ، ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺫﻟﻚ ﻗﻂ
ﻓﻲ ﺍﻷﻣﻢ ﺍﻟﺴﺎﻟﻔﺔ . ‏( ﺍﻟﺠﺎﻣﻊ ﻷﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﻤﺆﻟﻒ : ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ
ﺑﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺑﻜﺮ ﺑﻦ ﻓﺮﺡ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﺍﻟﺨﺰﺭﺟﻲ ﺷﻤﺲ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ
‏( ﺍﻟﻤﺘﻮﻓﻰ 671 : ) যেই
ফিরক্বাটি উম্মতে মুহাম্মদীতে বাড়বে তারা হল-
যারা ওলামাদের সাথে শত্রুতা করবে, আর
ফুক্বাহাদের প্রতি রাখবে বিদ্বেষ। এই গ্রপটি পূর্ব
উম্মতের মাঝে ছিল না। {তাফসীরে কুরতুবী,
তাফসীর সূরাতুল আনআম} এই উম্মতের
মাঝে বর্ধিত বাতিল ফিরক্বাটি হল ফিক্বহ ও ফুক্বাহাদের
দুশমন, তথা ইজতিহাদ ও মুজতাহিদদের দুশমন দল।
বুঝাই যাচ্ছে তারা হল বর্তমান লা মাজহাবিরা।
*********************************************
******************************************
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত যে হক্ব দল
তা চেনার উপায়। আহলে সুন্নাতের সাথে ৭২
দলের যে বিভক্তি তা মূলত রাসূল দঃ, নবীগণ
এবং অলীগণের ব্যাপারে ও অন্যান কিছু
ক্ষেত্রে আক্বীদাগত পার্থক্য । আল্লাহ
তাআলা তাদেরকে যে মর্যাদা দান করেছেন
তা আমরা আহলে সুন্নাত অকপটে স্বীকার করি।
কিন্তু বাকী ৭২ ফেরকা তা অস্বীকার করে তাদের
মর্যাদা হানী করে তাদেরকে সাধারণ মানুষের
কাতারের বলে জঘন্য আক্বীদা বিশ্বাস করে।
সবচেয়ে জরূরী বিষয় হল আহলে সুন্নাতের
বিপক্ষে ৭২ ফেরকা এক এবং আক্বীদাগতভাবেও
তারা এক। যা আহলে সুন্নাত ও ৭২ ফেরকার স্পষ্ট
ব্যবধান করে দেয় কারণ আহলে সুন্নাহর সকল
আক্বীদা কোরআন -সুন্নাহ ভিত্তিক এবং বাকী ৭২
ফেরকা হতে আলাদা । নিম্নে আহলে সুন্নাহ বনাম
৭২ দল আক্বীদাগত পার্থক্য দেখানো হল। ১ /
আমরা আহলে সুন্নাত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ্ব
করি, যাকাত দিই , সুন্নাত নফলকে গুরুত্ব দিই, যথাসম্ভব
পালন করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাকী ৭২ ফেরকার
মতে শুধু ফরজ জরুরী , সুন্নাত নফল দরকার নাই।
***********************************************
**************************************** ২ /
আহলে সুন্নাহর মতে নবীজি মানুষ, কিন্ত আল্লাহর
বিশেষ ও অতুলনীয় সৃষ্টি। কিন্তু বাকী ৭২
ফেরকা একমত যে রাসূল দঃ তাদের মত সাধারণ মানুষ।
***********************************************
**************************************** ৩/
আহলে সুন্নাহর মতে রাসূল দঃ আদম আঃ এর সৃষ্টির
আগে থেকে নবী ছিলেন, কিন্তু বাকী ৭২
ফেরকা একমত রাসূল দঃ গোমরাহ ছিলেন
দুনিয়াতে ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত
পেয়ে নবী হয়েছেন । অথচ
হাদিসে এসেছে — ﻋﻦ ﻣﻴﺴﺮﺓ ﺍﻟﻔﺠﺮ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﻨﺖ ﻧﺒﻴﺎ ﻭﺍﺩﻡ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻭﺡ ﻭﺍﻟﺠﺴﺪ .
অর্থ: “হযরত মাইসারাতুল ফজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন,
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি ইরশাদ করেন, আমি তখনো নবী ছিলাম যখন
হযরত আদম আলাইহিস সালাম রূহ ও
শরীরে ছিলেন।” ( তারীখে বুখারী, আহমদ,
আলহাবী, ইত্তেহাফুচ্ছাদাত, তাযকিরাতুল মাউজুয়াত,
কানযুল উম্মাল, দাইলামী, ত্ববরানী, আবু নঈম,
মিশকাত, মিরকাত ১১/৫৮) ___________________
_______________________________________ হাদীছ
শরীফ-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- ﻛﻨﺖ
ﻧﺒﻴﺎ ﻭﺍﺩﻡ ﺑﻴﻦ ﺍﻟـﻤﺎﺀ ﻭﺍﻟﻄﻴﻦ অর্থ:
আমি তখনো নবী ছিলাম, যখন হযরত আদম
আলাইহিস সালাম তিনি পানি ও মাটিতে ছিলেন।
(মিশকাত
শরীফ , মিরকাত ১১/৫৮) *******************
*********************************************
*********************** ৪/ আহলে সুন্নাহর
আযানের আগে পরে দরুদ পড়ে। কিন্তু ৭২
ফেরকার মতে তা নিৎকৃষ্ট কাজ। কারণ তারা দরুদ
বিরোধী । অথচ তা রাসূল (দঃ) এর আদেশ। যেমন
হাদিসে এরশাদ হয়েছে — . ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺍﻟﻌﺎﺹ
ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﺍﺫﺍ ﺍﺳﻤﻌﺘﻢ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﻓﻘﻮﻟﻮﺍ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺛﻢ
ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻲ ﺻﻠﻮﺓ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﻬﺎ ﻋﺸﺮﺍ হযরত আব্দুল্লাহ
ইবনে আমর ইবনে আস রঃ হতে বর্ণিত রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
হে মুসলমানেরা যখন তোমরা আযান শুনতে পাও
তখন তার অনুরূপ শব্দ তোমরাও বলবে। অতঃপর
যখন আযান শেষ হবে আমার উপর দরুদ পাঠ করবে।
সুতরাং যে আমার উপর একবার দরুদ পাঠ
করবে তাকে আল্লাহ ১০ টি নেকী বা প্রতিদান দান
করবেন। [[ সহিহ মুসলিম, মেশকাত শরীফ, বাবুল
আযান, পৃষ্ঠা ৬৩]] হাদিসখানা প্রথমত মুসলিম
শরীফের হাদিস, দ্বিতীয়ত স্পষ্ট আযানের পর
দরুদের কথা উল্লেখ আছে। একবার চিন্তা করুন
মানুষ কত বড় নিমুকহারাম
হলে আযানে দরুদকে অস্বীকার করে ??
************************************************
*************************************** ৫/
আহলে সুন্নাহ সকল অলী – বুজুর্গদের খুবই
শ্রদ্ধা করে তাদের কেরামত বিশ্বাস করে ও
স্বীকার করে। কিন্তু বাকী ৭২ দল অলীগণের
কারামত বিশ্বাস করে না উল্টো তাদেরকে হেয়
প্রতিপন্ন করে। অথচ আল্লাহ
তাআলা হাদিসে কুদসীতে এরশাদ করেছেন — ﻋﻦ
ﺍﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺹ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ
ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻋﺎﺩﻟﻲ ﻭﻟﻴﺎ ﻓﻘﺪ ﺍﺫﻧﺘﻪ ﺑﺎﻟﺤﺮﺏ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ হযরত আবু
হুরায়রা রঃ হতে বর্ণিত , রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ
তাআলা এরশাদ করেছেন, যে আমার অলীর
সাথে শত্রুতা পোষণ করবে আমি তার
বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম । সহিহ
বুখারী _________________________________
_________________________ ﻭﻻ ﺗﻘﺮﺏ ﺍﻟﻲ ﻋﺒﺪﻱ ﺑﺸﻴﺊ ﺍﺣﺐ ﺍﻟﻲ
ﻣﻤﺎ ﺍﻓﺮﺿﺖ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻻ ﻳﺰﺍﻝ ﻋﺒﺪﻱ ﻳﺘﻘﺮﺏ ﺍﻟﻲ ﺑﺎﻧﻮﺍﻓﻞ ﺣﺘﻲ ﺍﺣﺒﺒﺘﻪ ﻓﻜﻨﺖ
ﺳﻤﻌﻪ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺴﻤﻊ ﺑﻪ ﻭ ﺑﺼﺮﻩ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺒﺼﺮ ﺑﻪ ﻭ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﺘﻲ ﻳﺒﻄﺶ ﺑﻬﺎ ﻭﺭﺟﻠﻪ
ﺍﻟﺘﻲ ﻳﻤﺸﻲ ﺑﻬﺎ ﻭ ﺍﻥ ﺳﺎﻟﻨﻲ ﻻﻋﻄﻴﻨﻪ ﻭﻟﺌﻦ ﺍﺳﺘﻌﺎﺫﻧﻲ ﻻﻋﻴﺬﻧﻪ আমার
বান্দাহ আমার নির্ধারিত ফরজ কাজের মাধ্যমে, যা আমার
নিকট প্রিয় তার মাধ্যমে এবং নফল কাজের
মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। এক
পর্যায়ে এসে আমি নিজেই তাকে মুহাব্বত করি ।
আর যখন আমি তাকে মুহাব্বত করি , তখন তার মুখ
আমার মুখ আমার মুখ হয়ে যায়
যা দ্বারা সে কথা বলে । তার কান আমার কান
হয়ে যায় , যা দ্বারা সে শুনে । তার চক্ষু আমার চক্ষু
হয়ে যায় , যা দ্বারা সে দেখে । তার হাত আমার হাত
হয়ে যায় , যার দ্বারা সে ধরে । তার পা আমার
কুদরতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়,
যা দ্বারা সে চলাফেরা করে । সে যদি আমার
কাছে কিছু প্রার্থনা করে আমি তা অবশ্যই প্রদান
করি । বুখারী শরীফ ,২/৯৬৩ ,হাদিস নং ৬২৫৪
তাইতো আল্লাহর অলীগণ মুখে যা বলেন তাই
হয়ে যায় । **********************************
*********************************************
********
৬/ আহলে সুন্নাহ নবী- অলীগণের
মাজারকে দোয়া কবুলের বিশেষ স্থান
মনে করে তাই তাঁদের মাজারে গিয়ে তাঁদের
অসিলায় দোয়া করে। কিন্তু বাকী ৭২
ফেরকা তা শিরক বলে ফতোয়া দেয়। অথচ
মাজারে যাওয়া সাহাবাগণের সুন্নাত । যেমন হাদিস
শরীফে এসেছে.. ﺍﺻﺎﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺤﻂ ﻓﻲ ﺯﻣﺎﻥ ﻋﻤﺮ _ ﻓﺠﺎﺀ
ﺭﺟﻞ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻌﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺳﺘﺴﻒ ﻻﻣﺘﻚ ﻓﺎﻧﻬﻢ ﻗﺪ
ﻫﻠﻜﻮﺍ ﻓﺎﺗﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻨﺎﻡ ﻓﻘﻴﻞ ﻟﻪ ﺍﺋﺖ ﻋﻤﺮ ﻓﺎﻗﺮﺋﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ _ ﻭﺍﺧﺒﺮﻩ
ﺍﻧﻜﻢ ﻣﺴﺘﻘﻴﻤﻮﻥ হযরত ওমর রঃ এর সময় একদা অনাবৃষ্টির
কারণে মানুষের উপর দুর্ভিক্ষ পতিত হল । তখন এক
সাহাবী হযরত বেলাল বিন হারেস রঃ রাসূল দঃ এর
রওযা মোবারকে এসে আবেদন করল,
ইয়া রাসূলাল্লাহ দঃ আপনার উম্মত ধ্বংশ
হয়ে যাচ্ছে আপনি আল্লাহর দরবারে বৃষ্টির জন্য
প্রার্থনা করুন ।
সে সাহাবিকে স্বপ্নযোগে বলা হল , হযরত ওমর
রঃ কে গিয়ে সালাম বল এবং তাকে বল
যে তোমাদেরকে বৃষ্টি দান করা হবে ।
সুবহানাল্লাহ ! _________________________________
_________________________ * আল
মুসান্নাফ ,ইবনে আবি শায়বাহ । (খন্ড ১২ ,পৃঃ৩২ হাদিস
নং ১২০৫১.) *হযরত ইবনে হাজর আসকালানী রহঃ,
ফতহুল বারী শরহে বুখারী , (খন্ড ২ পৃঃ ৪৯৫ ও
৪১২) _____________________________________________
_____________ হযরত ইবনে আবি শায়বাহ, ইবনে হাজর
আসকালানী ,ও ইমাম
কোস্তলানী রহঃ তারা বলেছেন ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ
অত্র হাদিস খানা সহীহ সনদে বর্ণিত !
তাছাড়া আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের রওযা হল দোআ
কবুলের বিশেষ স্হান । যেমন ইমাম
শাফেয়ী রহঃ বলেন … ﺍﻧﻲ ﻻﺗﺒﺮﻙ ﺑﺎﺑﻲ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺍﺟﻲﺀ ﺍﻟﻲ
ﻗﺒﺮﻩ ﻓﺎﺫﺍ ﻋﺮﺿﺖ ﻟﻲ ﺣﺎﺟﺔ ﺻﻠﻴﺖ ﺭﻛﻌﺘﻴﻦ ﻭﺟﺌﺖ ﺍﻟﻲ ﻗﺒﺮﻩ ﻭﺳﺎﻟﺖ ﺍﻟﻠﻪ
ﺍﻟﺤﺎﺟﺔ ﻋﻨﺪﻩ ﻓﻤﺎ ﺗﺒﻌﺪ ﻋﻨﻲ ﺣﺘﻲ ﺗﻘﻀﻲ _ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আবু
হানিফা রঃ হতে বরকত হাসিল করি এবং আমি তার রওজায়
জিয়ারত করতে আসি । আমার যখন কোন
প্রয়োজন পড়ে তখন আমি দুই রাকাত নামাজ
পড়ে তার কবরে আসি এবং তার
পাশে দাড়িয়ে আল্লাহর নিকট মুনাজাত করি । অতঃপর
আমি সেখান থেকে আসতে না আসতেই আমার
প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায় । সুবহানাল্লাহ !
_____________________________________________
_____________ ফতোয়ায়ে শামী , খন্ড ১ পৃঃ ১ .
তারিখে বাগদাদ , খন্ড ১ পৃঃ ১২৩ রুদ্দুল মুখতার খন্ড ১
পৃঃ ৪১ আলখায়রাতুল হেসান , পৃঃ ৯৪ _______________
___________________________________________
ওহাবী ভাইদের বলছি । আপনারা কি নিজেদের ইমাম
শাফেয়ী রহঃ এর চেয়ে বড়
মুফতী মনে করেন ? নাউযুবিল্লাহ ।
*********************************************
****************************************** ৭/
আহলে সুন্নাত অসিলার মাধ্যমে দোয়া করে। কিন্তু
বাকী ৭২ দলের মতে তা শিরক। অথচ আল্লাহ
তাআলা এরশাদ করেছেন ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺍﺑْﺘَﻐُﻮﺍ
ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺍﻟْﻮَﺳِﻴﻠَﺔَ ﻭَﺟَﺎﻫِﺪُﻭﺍ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻠِﻪِ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ “হে মুমিনগণ!
আল্লাহকে ভয় কর এবং তার নিকট অসিলা তালাশ কর
এবং সর্বশক্তি দিয়ে তার পথে সংগ্রাম কর যেন
তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সুরা আল মায়েদা:৩৫)
*********************************************
****************************************** ৮,
আহলে সুন্নাহ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী দঃ উতযাপন
করে। কিন্তু বাকী ৭২ দল এর মতে রাসূল দঃ এর
জন্মদিন -উদযাপন করার কোন অস্থিত্ ইসলামে নাই
এবং তা বিদাত। কতইনা দুর্ভাগা তারা রাসূল দঃ নিজেই
জন্মদিন উদযাপন করতেন অথচ তারা বলে করতেন
না। হাদিসে পাকে এসেছ — মিলাদ পালন করেছেন
নবীজি নিজেই – ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺱﺀﻝ ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِ ﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَﻞَ ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ
ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ – অর্থাৎ হযরত আবু কাতাদা (রা:)
হতে বর্নিত রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু
তায়ালা আলায়হি ওয়াসাল্লামার দরবারে আরজ
করা হলো তিনি প্রতি সোমবার রোজা রাখেন
কেন? উত্তরে নবীজি ইরশাদ করেন, এই
দিনে আমি জম্মন গ্রহন করেছি, এই দিনেই
আমি প্রেরিত হয়েছি এবং এই দিনেই আমার উপর
পবিত্র কুরআন নাযিল হয় । (সহীহ মুসলিম শরীফ
২য় খন্ড, ৮১৯ পৃষ্ঠা, বায়হাকী: আহসানুল কুবরা, ৪র্থ
খন্ড ২৮৬ পৃ: মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল ৫ম
খন্ড ২৯৭ পৃ: মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৪র্থ খন্ড
২৯৬পৃ: হিলিয়াতুল আউলিয়া ৯ম খন্ড ৫২ পৃ:)___________
_______________________________________________
হাদীস শরীফ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ،ﻛﺎﻥ ﻳﺤﺪﺙ ﺫﺍﺕ
ﻳﻮﻡ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ﻭﻗﺎﺋﻊ ﻭ ﻻﺩ ﺗﻪ ﺑﻘﻮﻡ ﻓﻴﺒﺸﺮﻭﻥ ﻭﻳﺤﻤﺪﻭﻥ ﺇﺫﺍ ﺟﺎﺀ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭ ﻗﺎﻝ ﺣﻠﺖ ﻟﻜﻢ ﺷﻔﺎﻋﺘﻲ হযরত ইবনে আব্বাস
(রাঃ) হইতে বর্ণিত, একদিন হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু
আনহু কিছু লোক নিয়ে নিজ গৃহে নবী পাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মকালীন
ঘটনাবলী বর্ণনা করছিলেন এবং তাঁর
প্রশংসাবলী আলোচনা করে দুরুদ ও সালাম পেশ
করছিলেন। ইত্যবসরে প্রিয়নবী হাজির হয়ে এ
আবস্তা দেখে বললেন, তোমাদের জন্য আমার
শাফায়াত আবশ্যক হয়ে গেল । ( ইবনে দাহইয়ার
আত-তানবীর ) সুতরাং প্রমানিত হল,
মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন
দ্বারা রাসূলে পাকের শাফায়াত নসীব হয় ।
*********************************************
****************************************** ৯,
আহলে সুন্নাহর মতে ররাসূল দঃ হায়াতুন্নবী উনার
মৃত্যু সাময়িক তিনি এখন জীবিত । কিন্তু ৭২ ফেরকার
মতে তিনি মৃত। নাউযুবিল্লাহ। অথচ সহিহ হাদিস
দ্বারা তা প্রমাণিত। যেমন এরশাদ হয়েছে – ﻋﻦ ﺍﻧﺲ
ﺭﺽ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﺍﺣﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﻗﺒﻮﺭﻫﻢ
ﻳﺼﻠﻮﻥ _ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻤﻨﺎﻭﻱ ﻫﻮ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ অর্থ হযরত আনাস
রঃ হতে বর্ণিত নবী করীম দঃ এরশাদ করেছেন,
নবীগণ তাদের নিজ নিজ কবরে জীবিত,
সেখানে তারা নামাজ আদায় করেন। (বায়হাকি) অত্র
হাদিসখানা সহিহ । ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻓﻲ ﺣﻴﺎﺓ ﺍﻷﻧﺒﻴﺎﺀ ﻓﻲ ﻗﺒﻮﺭﻫﻢ ‏[ ﺹ
23/ ﻃﺒﻌﺔ ﻣﻜﺘﺒﺔ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ‏] ، ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﺃﺑﻲ ﻳﻌﻠﻰ ﺑﻪ …. ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻬﻴﺜﻤﻲ
ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﻤﻊ ‏[ 386 /8 ‏] : ‏« ﺭﻭﺍﻩ ﺃﺑﻮ ﻳﻌﻠﻰ ﻭﺍﻟﺒﺰﺍﺭ ﻭﺭﺟﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﻳﻌﻠﻰ
ﺛﻘﺎﺕ ‏» . ﻭﻗﺒﻠﻪ ﻧﻘﻞ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻠﻘﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﺪﺭ ﺍﻟﻤﻨﻴﺮ ‏[ /5 285 ‏] ﻋﻦ
ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﺑﻌﺪ ﺃﻥ ﺳﺎﻕ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻄﺮﻳﻖ : ‏« ﻫَﺬَﺍ ﺇِﺳْﻨَﺎﺩ ﺻَﺤِﻴﺢ ‏» ﺛﻢ ﻗﺎﻝ
ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻤﻠﻘﻦ : ‏« ﻭَﻫُﻮَ ﻛَﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ ؛ ﻟِﺄَﻥ ﺭِﺟَﺎﻟﻪ ﻛﻠﻬﻢ ﺛِﻘَﺎﺕ
*********************************************
****************************************** এছাড়াও
আরো অনেক বিষয় আছে আমি পোষ্ট দীর্ঘ
হয়ে যাচ্ছে বিধায় বিস্তারিত
আলোচনা করতে পারছি না। যেমন ***************
*********************************************
*************************** ১০ , আহলে সুন্নাত
আহলে বায়েতগণকে, ইমাম হোসাইন
রঃ কে মোহাব্বত করে তাই
আমরা শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল করি। কিন্তু ৭২
ফেরকার মতে তা বিদাত। তাদের মতে ইমাম
হোসাইন রঃ রাজনৈতিক কারণে মারা গিয়েছেন।
নাউযুবিল্লাহ । অথচ তিনি হলেন জান্নাতবাসীদের
সর্দার। ******************************
*********************************************
************ ১১, রাসূল দঃ প্রতি মিলাদের মাধ্যমে দরুদ
সালাম পাঠ করাকে তারা বিদাত বলে কিন্তু
তারা সিরাতুন্নবী দঃ করলে তখন বিদাত হয় না।
এক নজরে ওহাবী লা মাজহাবিদের কিছু বিদআত এর
তালিকা।
১, তারাবিহ ৩০ দিন জামআতে পড়া বিদাত,
২,কোরআন তেলাওয়াতের পর সাদাকাল্লাহুল আজিম
বলা বিদাত,
৩, সাহাবাগণের নামের পর রদিয়াল্লাহু আন্হ বলা বিদাত,
৪, কারো নামের পর “রহঃ বলা, হাফিজাল্লাহ বলা ” বিদাত,
৫, কনফারেন্সে হাত তালি দেওয়া বিদাত,
৬, খোতবার আযান বিদাত,
৭, কোরআন একত্রিকরণ বিদাত,
৮, কোরআনে হরকত বিদাত,
৯, বিশ্ব ইজতেমা বিদাত,
১০, আখেরী মুনাজাত বিদাত,
১১, মাদ্রাসার বার্ষিক সভা বিদাত,
১২, পিস টিভি বিদাত,
১৩, ইসলামিক কনফারেন্স বিদাত,
১৪, ইসলামিক কনসার্ট বিদাত,
১৫, মাদ্রাসা নির্মাণ বিদাত,
১৬, সিরাতুন্নবী দঃ
*********************************************
****************************************** ১২,
সাহাবাগণ, তাবেয়ীনগণ ভাল বিদাত গ্রহণ করেছেন
তাই আমরাও করি। কিন্তু ৭২ ফিরকা তা নিজেদের
ক্ষেত্রে আমল করলেও মুখে স্বীকার
করে না। কারণ মোনাফিকের কথা ও কাজ এক নয়।
বিবেকবানদের কাছে প্রশ্ন রইল
আপনারা বিবেচনা করুন কোন দল হক।