জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা

Standard

▆ তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে আমল [Fazail-e-Amal] এর ফাজায়েলে হজ্জ [Fazail-e-Haj] এর বর্ণনা। জাগ্রত অবস্থায় বিপদের কথা “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” ডেকে মাযারে বলে স্বপ্নে রুটি পাওয়া ও জেগে উঠার পরেও সে রুটি হাতে থাকা সংক্রান্ত ঈমান ও আমলের বহুদ ফায়দা হাসিলের মুবারাক ঘটনা ▆ ফাজায়েলে হজ্জ, ১৩৮ / ২৫৬ পৃষ্ঠা। মূল লেখক – মাওলানা জাকারিয়া সাহেব, কাকরাইলে মুরুব্বীদের অনুমতি ও দোয়া নিয়ে অনুবাদ করেছেন – মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ, প্রকাশনী – তাবলিগি কুতুবখানা ৫০ বাংলাবাজার ঢাকা। “শায়েখ আবুল খায়ের আকতা (রহঃ) বলেন, একবার মদীনা মোনাওয়ারায় হাজির হইয়া পাঁচ দিন পর্যন্ত আমাকে উপবাস থাকতে হয়। খাওয়ার জন্য কিছুই না পেয়ে অবশেষে আমি হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) এবং শায়ইখানের (আবু বকর ও উমার রাঃ কে শায়খান বলাহয়) কবরের মধ্যে সালাম পড়িয়া আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আজ রাতে আপনার মেহমান হবো। এই কথা আরজ করে মিম্বর শরীফের নিকট গিয়ে আমি শুইয়া পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, হুজুরে পাক (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। ডানে হযরত আবু বকর, বাম দিকে হজরত ওমর এবং সামনে হজরত আলী রাঃ। হযরত আলী রাঃ আমাকে ডেকে বলেন, এই দেখ, হুজুর (صلى الله عليه و آله و سلم) তাশরীফ এনেছেন। আমি উঠা মাত্রই মহানবী (صلى الله عليه و آله و سلم) আমাকে একটা রুটি দিলেন, আমি অর্ধেক খেয়ে ফেলি তারপর যখন আমার চোখ খুলিল তখন আমার হাতে বাকী অর্ধেক ছিল (রুটি অবশিষ্টাংশ) । [উক্ত ঘটনার মাত্র 5.86M pdf ডাউনলোড লিংকঃ http://www.banglakitab.com/Fazail%20E%20Amal/Fazail-E-Amal2-Fazail-E-Hajj-Pages-222-331-MaulanaZakariah.pdf%5D নোটঃ উপরোক্ত ঘটনাটি তাবলীগের কিতাব ফাজায়েলে হজ্জ অংশের “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনামে নবী প্রেমের ৮ নং কাহিনীতে তাবলীগের কিতাবের লিখক মৌং যাকারিয়া সাহেব উল্লেখ করেছেন। তিনি শায়েখ আবুল খায়ের (রঃ) কে নবী প্রেমিকদের অন্তর্ভূক্ত মানতেন; তিনি উক্ত শায়খ (রঃ) কে মুশরিক ও বিদায়াতী জ্ঞান করতেন না (নাউযুবিল্লাহ), তাই মৌং যাকারিয়া উক্ত শিরোনামের অধীনে শায়খ (রঃ) এঁর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি লিখে দিয়েছেন। উক্ত ঘটনাটি পড়ার পর সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে শায়খ আবুল খায়র (রহঃ) প্রিয় নবী করিম (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর হায়াতুন্নবী (জীবিত থাকা) হওয়াকে মানতেন। তদুপরি ইহাও প্রমাণিত যে, শায়খ আবুল খায়র (রঃ) নবীজী (صلى الله عليه و آله و سلم) ইন্তেকাল (স্থানান্তর) এর পরেও “ইয়া রাসুলুল্লাহ্” বলে তাঁকে তাঁর প্রিয় উম্মতীদের ডাকা ডাক শুনতে পান, সাহায্য করতে পারেন, আর তাঁর থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়া অসম্ভব নয় এরুপ আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা মৌং যাকারিয়া তাঁর কিতাবে “নবী প্রেমের বিভিন্ন কাহিনী” তথা “নবী প্রেমিকের বিভিন্ন কাহিনী” শিরোনাম চয়ন (Naming the headline) থেকেও তিনিও যে উক্ত আক্বিদা-বিশ্বাসকে লালন করতেন তাই প্রতীয়মান হয়; নতুবা উক্ত শিরোনামে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনার কোন অর্থই থাকে না। শিরোনামটিই বেহুদা হয়ে যায়। উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধী সাইনবোর্ডধারী ভূঁয়া আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের সম্ভাব্য তিনটি প্রশ্নঃ ১/ আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুআ করা। – স্পষ্ট শিরক নয়কি? ২/ মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা। – শিরক নয় কি? ৩/ এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? অথচ মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেনঃ “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর।” প্রিয় পাঠক আসুন, প্রশ্ন তিনটির জবাব দেখা যাক, এখানে দু’টি বিষয় বিবেচ্য। ১/ আল্লাহ তাআলা অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন কি না? ২/ কোন নবী বা উম্মতী নিজের ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারে কি না? আমাদের আকিদাঃ আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতাশীল। তিনি জীবিতকে দিয়ে যা করতে পারেন মৃত দিয়েও তা করতে পারেন। তেমনি জড় পদার্থ দিয়েও কথা বলা পারেন। এটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা। আমরা এটি বিশ্বাস করি। এটা আমাদের ঈমান। আশ্চর্য ঘটনা দেখে, যার দ্বারা প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব কৃতিত্ব মনে করা খৃষ্টানী মানসিকতা। আর আল্লাহ থেকে প্রকাশিত মনে করা মুসলমানী মানসিকতা। আমরা মুসলমান। তাই মুসলমানী মানসিকতা প্রকাশ করি। কোন আশ্চর্য ঘটনা দেখলে সেটি আল্লাহ তাআলার কুদরত। সেটি আল্লাহ তাআলারই আয়ত্বধীন বলে বিশ্বাস করি। যার থেকে প্রকাশ পেল সেটি তার নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি না। আল্লাহর দেয়া ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করি। কোন নবী বা উম্মতী নিজস্ব ক্ষমতায় কোন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখেন না। নিজস্ব ক্ষমতায় কোন অস্বাভিক কিছু করার ক্ষমতা রাখার আকিদা শিরকী ও কুফরী আকিদা। এতে কোন সন্দেহ নেই। এবার উপরোক্ত সম্ভাব্য প্রশ্ন তিনটির জবাব লক্ষ্য করুন! সম্ভাব্য ১ নং প্রশ্ন-আল্লাহকে ছেড়ে মৃত্যুর পর নবীর রওজায় (কবরে) গিয়ে খাদ্যের জন্য দুয়া করা স্পষ্ট শিরক নয়কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর উসিলায় খাদ্যের জন্য দুআ করার মাঝে শিরকের কিছুই নেই। কারণ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর কাছে খাদ্যের আবেদন করা হচ্ছে না। বরং রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় আল্লাহর কাছে খাদ্যের জন্য দুআ করা হচ্ছে। আমাদের মত পাপী ব্যক্তির “নামাযের ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের “রোযার ওসীলা” জায়েজ হলে, আমাদের মত গোনাহগারের “হজ্বের ওসীলা”-য় দুআ জায়েজ হলে নিষ্পাপ নবীর ওসীলায় দুআ করা কেন শিরক হবে? أن رجلا كان يختلف إلى عثمان بن عفان رضي الله عنه في حاجة له فكان عثمان لا يلتفت إليه ولا ينظر في حاجته فلقي عثمان بن حنيف فشكا ذلك إليه فقال له عثمان بن حنيف ائت الميضأة فتوضأ ثم ائت المسجد فصلي فيه ركعتين ثم قل اللهم إني أسألك وأتوجه إليك بنبينا محمد صلى الله عليه و سلم نبي الرحمة অর্থাৎঃ এক ব্যক্তি হযরত উসমান বিন আফফান রাঃ এঁর কাছে একটি জরুরী কাজে আসা যাওয়া করত। হযরত উসমান রাঃ [ব্যস্ততার কারণে] না তার দিকে তাকাতেন, না তার প্রয়োজন পূর্ণ করতেন। সে লোক হযরত উসমান বিন হানীফ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি ওজু করার স্থানে গিয়ে ওজু কর। তারপর মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত নামায পড়। তারপর বল, হে আল্লাহ! তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। রহমাতের নবী মুহাম্মদ (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর ওসীলায় তোমার দিকে মনোনিবেশ করছি। [সূত্রঃ আল মুজামে সগীর, হাদীস নং-৫০৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৮৩১১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১০১৮।] এ হাদীসের শেষে স্পষ্ট রয়েছে যে, লোকটি তাই করেছিল। তার দুআ’ কবুলও হয়েছিল। ফলে হযরত উসমান রাঃ তাঁকে সম্মান দেখিয়ে তার প্রয়োজনও পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য ২ নং প্রশ্ন- মৃতুর পর নবী কবরে থেকেও খাওয়াতে পারেন এ আক্বিদাহ পোষন করা শিরক নয় কি? উত্তরঃ রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) কবরে থাকা অবস্থায় নিজস্ব ক্ষমতায় কোন উম্মতীকে খাওয়াতে পারার আকিদা রাখা শিরকী আকিদা। এটি কুফরী আকিদা। এতে কোনই সন্দেহ নেই। কিন্তু আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে সে কাজ করে দিতে পারেন। একাজ করতে আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাশীল। যা সম্ভব নয় উম্মতের জন্য সেটি আল্লাহ তাআলার জন্যও সম্ভব নয় বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। পরিস্কার কুরআনের আয়াতের খেলাফ আকিদা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [٣:١٨٩] অর্থাৎঃ আর আল্লাহর জন্যই হল আসমান ও যমিনের বাদশাহী। আল্লাহই সর্ব বিষয়ে ক্ষমতার অধিকারী। [সূরা আলে ইমরান-১৮৯।] সুতরাং কেউ যদি এ আকিদা রাখে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবরে থাকা কোন ব্যক্তির মাধ্যমে স্বপ্নযোগে কাউকে রিজিক পৌঁছাতে পারেন না, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মুসলিম নয়। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বলে আখ্যায়িত করে থাকে। সে পরিস্কারভাবে আল্লাহ তাআলার ক্ষমতাকে অস্বিকার করে। সে আল্লাহ তাআলাকে অক্ষম বিশ্বাস করে থাকে। অথচ পবিত্র কুরআন বলছে আল্লাহ তাআলা সকল কিছু করতে সক্ষম। সকল কিছুই তার ক্ষমতার অধীন। সুতরাং অস্বাভাবিক ঘটনা আল্লাহ তাআলা ঘটাতে পারেন না, এ আকিদা রাখা কুফরী আকিদা ছাড়া আর কিছু নয়। উক্ত ব্যক্তির পুনরায় ঈমান দোহরানো আবশ্যক। তবে হ্যাঁ, যার মাধ্যমে বা বাহ্যিক আকৃতিতে উক্ত আশ্চর্য ঘটনাটি ঘটল, তিনি নিজের ক্ষমতায়, নিজস্ব ক্ষমতাবলে উক্ত কাজ করেছেন বিশ্বাস করা কুফরী আকিদা। শিরকী আকিদা। এতেও কোন সন্দেহ নেই। আর এরকম আক্বিদা কোন মুসলমানের নয়, উক্ত আক্বিদাটি খ্রিস্টানদের আক্বিদা। তাই হককে হক এবং বাতিল হিসেবেই বুঝতে হবে। আবারো বলছি! এমন আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর নিজস্ব ক্ষমতাধীন মনে করা শিরকী এবং কুফরী আকিদা। আর আল্লাহ তাআলাও উক্ত কাজ করতে পারেন না মনে করাও কুফরী আকিদা। তাই আমরা বলি যে, এসব আশ্চর্য ঘটনা রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা কোন উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা নয় বরং আল্লাহর ক্ষমতা। তিনিই তা প্রকাশ করেছেন। যেহেতু তিনি সকল কিছু করতে সক্ষম। কিন্তু যারা এসব ঘটনাকে অস্বিকার করতে চায় তাদের দুই অবস্থা। যথা- ০১/ খৃষ্টানী মানসিকতা নিয়ে এসব ঘটনাকে যাচাই করে। তথা খৃষ্টানরা যেমন আশ্চর্য ঘটনা কারো থেকে প্রকাশিত হলে উক্ত ঘটনাটিকে উক্ত ব্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা মনে করে, তেমন এসব কথিত সাইনবোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা এসব ঘটনাকে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) বা উম্মতীর নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্বাস করে ধোঁকা খাচ্ছে। পোষণ করছে খৃষ্টানী মানসিকতা, আর দাবি করছে তাওহীদপন্থী। এটি জালিয়াতী ছাড়ার কি হতে পারে? ০২/ এরকম আশ্চর্য ঘটনা আল্লাহ তাআলা প্রকাশ করতে পারেন না মর্মে আকিদা পোষণ করে এসব কথিত সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবী রাফাদানীরা। তাহলে কি দাঁড়াল? আল্লাহ তাআলা কোন অস্বাভাবিক ঘটনা প্রকাশ করতে সক্ষম নন! নাউজুবিল্লাহ। এ আকিদা কোন মুসলমানের আকিদা হতে পারে না। এটি নাস্তিকের আকিদা হতে পারে। কিন্তু কোন আস্তিকের আকিদা এমন হতে পারে না। সম্ভাব্য ৩ নং প্রশ্ন- এই রকম শিরকী আকিদাহ কি মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়, নাকি জাহান্নামের দিকে? উত্তরঃ এরকম আকিদাটা কি? যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে? আমরা উপরে পরিস্কার ভাষায় জানিয়েছি। কোন আশ্চর্য ঘটনা ঘটানোর নিজস্ব ক্ষমতা নবী বা উম্মতীর রয়েছে মর্মে আকিদা মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন এ আকিদা পোষণ করা সুনিশ্চিত ব্যক্তিকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর আল্লাহ তাআলা আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে পারেন না এমন আকিদা ব্যক্তিকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। একটি ফাতওয়া জানতে চাই হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে সাইনবোর্ড মার্কা আহলে হাদিস ওয়াহাবীদের কাছে। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুর রূহের মাঝে একটি ঘটনা নকল করেছেন। সেটি হল- হযরত মালিক বিন আনাস রাঃ বলেন, সাবিত ইয়ামামার জিহাদে শহীদ হয়ে যান। সাবিত রাঃ এঁর এক কন্যার বর্ণনা।…….. শাহাদতের পর এক মুসলমান তাকে স্বপ্নে দেখেন। তখন সেই মুসলমানকে সাবিত রাঃ বলেন, আমি তোমাকে একটি ওসিয়ত করছি। খবরদার! স্বপ্নের ওসিয়ত মনে করে এটিকে হেলাফেলা করবে না। কালকে আমি শহীদ হবার পর এক মুসলমান আমার ঢালটি নিয়ে গেছে। তার বাড়ি বসতির শেষ প্রান্তে। আর তাবুর পাশে একটি লম্বা রশিতে ঘোড়া বাঁধা আছে। সে ঢালটির উপর একটি পাতিল উল্টে রেখেছে। আর পাতিলটির উপর রেখেছে আসবাব। তুমি খালিদ রাঃ এঁর কাছে গিয়ে বল, যেন সে লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে আসে। আর যখন তুমি মদীনায় যাবে, তখন আল্লাহর রাসূলের খলীফা [আবু বকর রাঃ] এঁর কাছে গিয়ে বলবে, আমার উপর এত টাকা ঋণ আছে। আর আমার ওমুক ওমুক গোলাম আযাদ। ঐ ব্যক্তি খালিদ রাঃ এর কাছে এলেন এবং তাকে স্বীয় স্বপ্ন বৃত্তান্ত করলেন। তখন খালিদ রাঃ লোক পাঠিয়ে ঢালটি নিয়ে এলেন। তারপর আবু বকর রাঃ এঁর কাছে স্বপ্নটি বললেন। হযরত আবু বকর রাঃ স্বপ্নের উক্ত ওসিয়তটি জারি করলেন। ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, দেখুন! এ স্বপ্নের অসিয়তের উপর আমলকারী হযরত খালিদ রাঃ, হযরত আবু বকর রাঃ এবং তাঁর কাছে থাকা অন্যান্য সাহাবীরাও একে সমর্থন করেছেন। [সূত্রঃ কিতাবুর রূহ-৩৫-৪০।] উক্ত বর্ণনাটির সনদসহ আরবী পাঠ দেখে নিন- قال أبو عمرو روى هشام بن عمار عن صدقة بن خالد حدثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر قال حدثني عطاء الخراساني قال حدثتني ابنة ثابت بن قيس بن شماس قالت لما نزلت يا أيها الذين آمنو لا ترفعوا أصواتكم فوق صوت النبي دخل أبو هابية وأغلق عليه بابه ففقده رسول الله وأرسل إليه يسأله ما خبره قال أنا رجل شديد الصوت أخاف أن يكون قد حبط عملى قال لست منهم بل تعيش بخير وتموت بخير قال ثم أنزل الله إن الله لا يحب كل مختال فخور فأغلق عليه بابه وطفق يبكي ففقده رسول الله فأرسل إليه فأخبره فقال يا رسول الله إني أحب الجمال وأحب أن أسود قومى فقال لست منهم بل تعيش حميدا وتقتل شهيدا وتدخل الجنة قالت فلما كان يوم اليمامة خرج مع خالد بن الوليد إلى مسيلمة فلما التقوا وأنكشفوا قال ثابت وسالم مولى أبي حذيفة ما هكذا كنا نقاتل مع رسول الله ثم حفر كل واحد له حفرة فثبتا وقاتلا حتى قتلا وعلى ثابت يومئذ ذرع له نفيسة فمر به رجل من المسلمين فأخذها فبينما رجل من المسلمين نائم إذ أتاه ثابت في منامه فقال له أوصيك بوصية فاياك أن تقول هذا حلم فتضعيه إني لما قتلت أمس مربى رجل من المسلمين فأخذ درعى ومنزلة في أقصي الناس وعند خبائه فرس يستين في طوله وقد كفا على الدرع برمة وفوق البرمة رحل فأت خالدا فمره أن يبعث إلى درعى فيأخذها وإذا قدمت المدينة على الخليفة رسول الله يعني أبا بكر الصديق فقل له أن على من الدين كذا وكذا وفلان من رقيقى عتيق وفلان فأتي الرجل خالدا فأخبره فبعث إلى الدرع فأتي بها وحدث أبا بكر برؤياه فأجاز وصيته قال ولا نعلم أحدا أجيزت وصيته بعد موته غير ثابت بن قيس رحمه الله انتهى ما ذكره أبو عمرو فقد اتفق خالد أبو بكر الصديق والصحابة معه على العمل بهذه الرؤيا وتنفيذ الوصية بها وانتزاع الدرع ممن هى في يده وهذا محض الفقه আল্লাহ তাআলার হাজার শুকরিয়া এসব কথিত সাইন বোর্ড মার্কা আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা সে জামানায় ছিল না। থাকলে হয়তো হযরত আবু বকর রাঃ এঁর উপরই কুফরী আর শিরকীর ফাতওয়া জারি করে দিতো, মৃত ব্যক্তির কথায় আমল করার কারণে। যেখানে একজন সাহাবী থেকে মৃত্যুবরণ করার পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে দিয়ে এমন আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেন, সেখানে রাসূল (صلى الله عليه و آله و سلم) এঁর দ্বারা কেন এর মত আশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেবন না? এরা কি আমাদের রব, সর্বশক্তিমান আল্লাহকে তাদের মতই দুর্বল মনে করে? আমাদের কথা হল এমন ঘটনা উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ আল্লাহর বন্ধুদের ফজিলতের বর্ণনায় আলোচনা করলে বা তাঁদের সংকলিত কিতাবে থাকলেই এটা নিয়ে এত সমালোচনা। অথচ একই ধরণের ঘটনার আরো কয়েকশ বছর আগে লেখা কিতাব কিতাবুর রূহে থাকলেও এ ব্যাপারে সাইন বোর্ডধারী আহলে হাদীস ওয়াহাবীরা চুপ কেন? উলামায়ে আহলুস সুন্নাহ্ কে প্রতিপক্ষ বানানোর এ ষড়যন্ত্র কেন? আর কিতাবুর রূহের সংকলক আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহঃ এঁর ব্যাপারে কথিত আহলে হাদীসদের ফাতওয়া কোথায়? _________________

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s