দোআ ফেরত দেওয়া হয় না যে রাতগুলোতে

Standard

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আমাদের নিকট আসে খুশির ঈদ । ঈদ আমাদের মাঝে অনাবিল মুক্তি ও কল্যাণ নিয়ে আসে । বেশিরভাগ মানুষই ঈদের রাতকে আনন্দের রাত হিসেবে উদ্‌যাপন করেন, সারা মাসের সিয়াম ও ইবাদতের পর আরাম করেন এবং ঈদের আনন্দে মশগুল হয়ে যান । অথচ ঈদের রাতও তাৎপর্যপূর্ণ রাত সমূহের মধ্যে একটি রাত । এ রাতকে লায়লাতুল জাযা বা পুরস্কারের রাত বলা হয় । সারা বছরের দু’আ কবুলের রাতসমূহের মধ্যে ঈদের রাতও অন্তর্ভুক্ত । সরকারে দো আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এ রাতে ইবাদত করেন এবং ইবাদতের কথা বলেছেন । এ রাতের ফযীলত সম্পর্কে কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করা হল ।

  • হযরত আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন –

  مَنْ قَامَ لَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلَّهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ

যে ব্যক্তি সাওয়াব লাভের আশায় দু’ঈদের রাতে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) আল্লাহর ইবাদতে জাগ্রত থাকবে । ক্বিয়ামতের দিন তার প্রাণের মৃত্যু হবেনা , যেদিন সকল প্রাণের মৃত্যু হবে অর্থাৎ আতঙ্কিত থাকবে ।

সূত্রঃ সুনানে ইবনে মাজাহ, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং-১৭৮২, কানযুল উম্মাল- ২৪১০৫।

  • হযরত আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত-

مَنْ قَامَ لَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ لِلَّهِ مُحْتَسِبًا لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ حِينَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ

যে ব্যক্তি সাওয়াব লাভের আশায় দু’ঈদের রাতে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) আল্লাহর ইবাদতে জাগ্রত থাকবে,ক্বিয়ামতের দিন তার প্রাণের মৃত্যু হবেনা , যেদিন সকল প্রাণের মৃত্যু হবে অর্থাৎ আতঙ্কিত থাকবে।

সূত্রঃ বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান, কিতাবুস সিয়াম, হাদীস নং- ৩৪৩৮, আস সুনানুল কুবরা বায়হাক্বী – ৬২৯৩ ।

  • হযরত মু’আজ বিন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন –

 من أَحْيَا اللَّيَالِي الْخمس وَجَبت لَهُ الْجنَّة لَيْلَة التَّرويَة وَلَيْلَة عَرَفَة وَلَيْلَة النَّحْر وَلَيْلَة الْفطر وَلَيْلَة النّصْف من شعْبَان

যে ব্যক্তি এই পাঁচ রাতে আল্লাহর ইবাদতে জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব । সেগুলো হল – ১. জিলহজ্বের ৮ম রাত, ২. জিলহজ্বের ৯ম রাত , ৩. ঈদুল আযহার রাত, ৪. ঈদুল ফিতরের রাত এবং ৫. শাবানের পনেরতম রাত (শবে বরাত) ।

সূত্রঃ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২:৯৮, হাদীস- ১৬৫৬।

  • হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন

خَمْسُ لَيَالٍ لَا تُرَدُّ فِيهِنَّ الدُّعَاءَ: لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ، وَأَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ، وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَلَيْلَتَيِ الْعِيدَيْنِ

এমন পাঁচটি রাত আছে যে রাতগুলোয় কৃত দু’আ ফেরত দেওয়া হয়না । সেগুলো হল-জুমু’আর রাত,রজব মাসের প্রথম রাত,শ’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত এবং দুই ঈদের রাত অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত ।

সূত্রঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক,কিতাবুস সিয়াম হাদীস নং-৭৯২৭, বায়হাক্বী শো’আবুল ঈমান-৩৪৪০, ফাজায়িলুল আওকাত-১৪৯ 

  • হযরত আবু উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন

خَمْسُ لَيالٍ لَا تُرَدُّ فِيهِنَّ الدَّعْوَةُ أوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَجَبٍ وَلَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبانَ وَلَيْلَةُ الجُمُعَةِ وَلَيْلَةُ الفِطْرِ وَلَيْلَةُ النَّحْر

এমন পাঁচটি রাত আছে যে রাতগুলোয় দু’আ ফেরত হয়না।ওইগুলো হল-জুমু’আর রাত,রজব মাসের প্রথম রাত,শা’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত (শবে বরাত) এবং দুই ঈদের রাত অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত ।

সূত্রঃ সুয়ূতী জামেউল আহাদীস-১১৯৭৯, দায়লামী মুসনাদ,২:১৯৬ হাদীস-২৯৭৫, ইবনে আসাকীর তারিখে দামেশক,১০:৪০৮।

  • উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত,তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন যে,

يفتح الله الْخَيْر فِي أَربع لَيَال لَيْلَة الْأَضْحَى وَالْفطر وَلَيْلَة النّصْف من شعْبَان ينْسَخ فِيهَا الْآجَال والأرزاق وَيكْتب فِيهَا الْحَاج وَفِي لَيْلَة عَرَفَة إِلَى الْأَذَان

চারটি রাতে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর কল্যাণের বারিধারা অঢেল করে দেন, তা হল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা, শা’বানের মধ্য রাত্রি এবং আরাফার রাত । এ রাতে যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও রিযিকের ব্যাপার এবং হাজীদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয়, আর তা আযানের সময় পর্যন্ত চলতে থাকে ।

সূত্রঃ কানযুল উম্মাল-৩৫২১৫, মুসনাদে দায়লামী ৫:২৭৪।

  • ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

بَلَغَنَا أَنَّهُ كَانَ يُقَالُ : إِنَّ الدُّعَاءَ يُسْتَجَابُ فِي خَمْسِ لَيَالٍ : فِي لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ ، وَلَيْلَةِ الْأَضْحَى ، وَلَيْلَةِ الْفِطْرِ ، وَأَوَّلِ لَيْلَةِ مِنْ رَجَبٍ ، وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ

আর আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা এসেছে যে, নিশ্চই পাঁচটি রাতে বান্দার দুআ’র জবাব দেয়া হয় অর্থাৎ দু’আ কবুল করা হয়, জুমার রাত, ঈদুল ফিতর ,ঈদুল আযহার রাত, রজবের প্রথম রাত এবং শাবানের মধ্য রাত (শবে বরাত) ।

সুত্রঃ আল উম্ম, ১:২৩১/২:৪৮৫, ইবনে রজব লাতায়িফুল মা’আরিফ ১:১৩৭, বায়হাক্বী আস সুনানুল কুবরা, বাবু ইবাদাতি লায়লাতিল ঈদাইন,হাদীস-৬১৫৯।

  • খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমাতুল্লাহি আলাইহি বসরায় তাঁর গভর্নরকে লিখেন,

عليك بأربع ليال من السنة فإن الله يفرغ فيهن الرحمة إفراغا أول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة الفطر وليلة الأضحى

বছরে চারটি রাতের ব্যাপারে তোমার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।কেননা আল্লাহ্‌তা’আলা ঐ রাতগুলোতে তাঁর রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন।সে রাতগুলো হল-  রজবের প্রথম রাত, শাবানের মধ্য রাত এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত ।

সূত্রঃ ইবনে রজব লাতায়িফুল মা’আরিফ ১:১।

এমন একটি ফজিলতপূর্ণ রাতকে হেলায় কাটানো কোন ভাবেই উচিত হবেনা । পরিতাপের বিষয় বর্তমানে আমরা অনেকেই এই রাতকে হেলায়, হাসি আনন্দ, রং-তামাশায় কাটিয়ে দেই । অথচ এটিই ইবাদতের রাত সমূহের একটি , দু’আ কবুলের রাত সমূহের একটি । আল্লাহ্‌ আমাদের হেদায়াত নসীব করুন এবং এ  রাতে ইবাদত, ইস্তেগফার ও যিকির-আযকারে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন ।আমিন,বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালিন ।

Advertisements

সৌদিআরবের সৌদ পরিবারের ইতিহাস!

Standard

সৌদীর আরবের সৌদ পরিবারের ইতিহাস:
১.- সৌদি পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম দেশ যা কোনো ব্যক্তির নামে প্রতিষ্ঠিত। দিরিয়া নামক অঞ্চলের চাষা গোষ্ঠীরর প্রধান ছিল এই সৌদ। 
উচ্চাভিলাষী এই মরু দস্যু ১৭৪৪ ততকালীন আরবের ধর্মীয় নেতা ওহাব এর সাথে মিলে চুক্তি করে গঠন করে “দিরিয়া আমিরাত”।
২.- “দিরিয়া আমিরাত”ই হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সৌদি রাজ্য। উসমানী খেলাফত ধংশ করতে সৌদ তার ছেলের সাথে ওহাবের মেয়ের বিয়ে দেয় এবং এভাবে সৌদ দস্যু আর ওহাবের মতবাদের মিলন হয়।

কিছুদিন পর সৌদ মারা গেলে তার ছেলে “আজিজ” দিরিয়ার ক্ষমতায় অধিষ্ট হয়।
৩.- উসমানীয় খিলাফত ধংশে এই সৌদ বংশের অবদান:
ক্ষমতায় বসার পর ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে তুর্কি দের সাথে যুদ্ধ চালাতে থাকে এই দস্যু আজিজ সৌদ। শ্বশুর ওহাবের মতবাদ নিয়ে শির্ক বিদাত ধংশের নামে ব্রিটিশ দের সাথে নিয়ে উসমানীয় খিলাফত ধংশে নামে  এই আজিজ।
৪.- ইসলামী ঐতিহ্য ধংশে সৌদ:
উসমানী খিলাফত থেকে ১৮০২ সালে ইরাক দখল করে। এরপর একে একে এরা বর্বর দস্যুরা হযরত আলি (রাঃ) এবং হযরত হুসেন (রাঃ) মাজার ধংশ করে দেয়।

এর প্রেক্ষিতে পরবর্তী বছর একজন শিয়া মুসলিম তাকে হত্যা করে।
তারপর ১৮০৪ সালে মক্কা এবং পরবর্তী বছর মদীনা তুর্কিদের কাছ থেকে নিজেদের আয়তায় আনে।
দুই পবিত্র নগরী দখল করে তারা ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। তারা মক্কা-মদিনার বহু মুসলিমকে হত্যা করে। সবই করা হয় সেই শিরক-বিদাত উচ্ছেদের নামে! ওয়াহাবী মতবাদের ধর্মীয় শুদ্ধি অভিযানের অজুহাতে তারা বহু সাহাবীর কবরস্থান ধ্বংস করে। এমনকি খোদ মহানবী (সা.)-এর পবিত্র কবরে ছায়াদানকারী মিম্বরগুলোও এরা ভেঙে ফেলে! মহানবী (সা.)-এর পবিত্র রওজাকে তুর্কি খলিফারা যেসব মণি-মুক্তায় সাজিয়েছিলেন, শুদ্ধি অভিযানের নামে সেসবও তুলে ফেলে সৌদ-এর বাহিনী। এসবই চলে ব্রিটিশদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা নিয়ে।
৫.- প্রথম সৌদ আমিরাতের পতনঃ
১৮০৮ সালে উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয়, “সুলতান মাহমুদ” তাঁর বিশাল সেনাদল পাঠান। 
ব্রিটিশ বাহিনী এবার তাদের বাঁচাতে পারেনি। ১৮১৮তুর্কিদের কাছে আত্মসমর্পণ  করে সৌদের ছেলে।
আত্মসমর্পণ করা সৌদের ছেলে আবদুল্লাহ বিন সৌদকে বন্দী করে ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুই পবিত্র নগরী ও বহু মসজিদ ধ্বংসের শাস্তি হিসেবে খলিফা দ্বিতীয়  মাহমুদ-এর নির্দেশে আবদুল্লাহ বিন সৌদ ও তার দুই ছেলেকে ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করা হয়। এভাবেই প্রথম সৌদি আমিরাত (১৭৪৪-১৮১৮)-এর পতন হয় ও পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ আরবে উসমানিয়া খিলাফতের শাসনকর্তৃত্ব ফিরে আসে।
৬.- দ্বিতীয় সৌদের উত্থান, পতনঃ
“সুলতান মাহমদ” এর হাতে প্রথম সৌদ বংশের পরাজয়ের পর, ১৮১৮ সালে সৌদ আমিরাতের শেষ আমীর “আবদুল্লাহ তুর্কি” নামের এক সৌদ মরুভূমিততে পালিয়ে যায় এবং বনু তামিম গোত্রে আশ্রয় নেয়।

পরে ১৮২১ সালে প্রকাশ্য এসে বিদ্রোহের ঘোষণা দেয়।
১৮২৪ সালে তুর্কি বিন আবদুল্লাহ উসমানিয়াদের নিয়োজিত মিশরীয়দের হটিয়ে দিরিয়া ও রিয়াদ দখল করে নেয়।

 রিয়াদকে রাজধানী করে গঠিত এই “নজদ আমিরাত” ইতিহাসে দ্বিতীয় সৌদি রাজ্য নামে পরিচিত।
 দ্বিতীয় সৌদি রাজ্যটি অবশ্য খুব কম এলাকাই দখলে নিতে পেরেছিল।

এবং অল্পসময়ে পতন ঘটে।
৭.- তৃতীয় সৌদ রাষ্ট্রঃ
নজদ আমিরাতের প্রধানকে “ইমাম” বলা হত এবং ওয়াহাবী মতাবলম্বীরাই ধর্মীয় বিষয়ে কর্তৃত্বশীল ছিল। তবে এবার সৌদ পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কথিত ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহকে তাঁর এক জ্ঞাতি ভাই মুশারি বিন আবদুর রহমান বিদ্রোহ করে ১৮৩৪ সালে হত্যা করে। তবে ক্ষমতা পায়নি মুশারি। তুর্কির ছেলে ফয়সাল এরপর নজদ আমিরাতের ইমাম হয়।
সৌদ পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব চলতেই থাকে। অবশেষে ১৮৯১ সালে মুলায়দার যুদ্ধে উসমানিয়াদের অনুগত রাশিদী বাহিনীর হাতে দ্বিতীয় সৌদি আমিরাতের পতন ঘটে। সৌদিদের শেষ ইমাম আবদুর রহমান বিন ফয়সাল তার সাঙ্গোপাঙ্গসহ পালিয়ে যায়। বিশাল বালুকাময় রুব আল খালি মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আবদুর রহমান তার পুত্র আবদুল আজিজকে [ পরবর্তী গাদ্দার] নিয়ে দক্ষিণপূর্বে মুররা বেদুইন গোত্রে গিয়ে পালায়। সেখান থেকে তারা বাহরাইনের রাজপরিবারের কাছে গিয়ে কিছুদিন আশ্রয় নেয়। তার পর ১৮৯৩ সালে আবদুর রহমান ও তার পুত্র শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ দালাল কুয়েতি আল-সাবাহ রাজপরিবারের আশ্রয় পায়।
কুয়েতি রাজপরিবারের সহায়তায় সৌদিরা উসমানিয়া খিলাফতের কর্তৃত্বাধীন নজদে একের পর এক চোরাগুপ্তা হামলা চালাতে থাকে। ওয়াহাবী মতবাদের আলোকে পরিশুদ্ধ ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে এসব হামলা চলতে থাকে। কিন্তু এসব হামলায় সৌদিরা তেমন কোনো বড় সাফল্য পায়নি। ১৯০১ সালে সারিফের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে আবদুর রহমান তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের সব উদ্যম হারায়।
১৮৯৯ সালের জানুয়ারিতে কুয়েতের আমির মুবারক আল সাবাহ ব্রিটেনের সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করে কুয়েতকে ব্রিটেনের করদরাজ্য (Protectorate)-এ পরিণত করেন। তুরস্কের উসমানিয়া খিলাফতের প্রভাবের বিরুদ্ধেই কুয়েত এই চুক্তি করে ব্রিটেনের সাথে।
সৌদ পরিবারের লড়াইটিও ছিল উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধেই। তাই ১৯০১ সালে সারিফের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে পিতা আবদুর রহমান হতোদ্যম হলেও পুত্র আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ আবারও আশার আলো দেখে। আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ ১৯০১ সালের শেষের দিকে কুয়েতের আমির মুবারকের কাছে উসমানিয়াদের নিয়ন্ত্রিত রিয়াদ আক্রমণের জন্য সাহায্য চায়। ব্রিটিশ মদদপুষ্ট কুয়েত সানন্দে ইবনে সৌদকে ঘোড়া ও অস্ত্র সরবরাহ করে। ১৯০২ সালের ১৩ জানুয়ারি ইবনে সৌদ সৈন্যসহ রিয়াদের মাসমাক দুর্গ আক্রমণ করে। মাসমাকের উসমানিয়া অনুগত রাশিদী প্রশাসক ইবনে আজলানকে হত্যা করে সৌদিরা। ইবনে সৌদ যুদ্ধজয় শেষে ইবনে আজলানের ছিন্নমস্তকটি নিয়ে দুর্গশীর্ষে আসে এবং নিচে সমবেত উদ্বিগ্ন রিয়াদবাসীর দিকে ছুঁড়ে মারে।
আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের রিয়াদ আমিরাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইতিহাসে তৃতীয় সৌদি রাজ্যের সূচনা হয়।
৮:-অতঃপর…………..
এর পর সৌদিরা একে একে রাশিদীদের নজদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হটিয়ে দিতে থাকে। ১৯০৭ সালের মধ্যে সৌদিরা নজদের বিরাট এলাকা নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

১৯০৯ সালে ব্রিটিশরা সামরিক অফিসার William Henry Irvine Shakespear-কে কুয়েতে নিয়োগ দিলে সৌদ পরিবার আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে। শেক্সপিয়ারকে ইবনে সৌদ সামরিক উপদেষ্টা বানিয়ে নেয়। ১৯১৩ সালে সৌদিরা উসমানিয়া সৈন্যদের কাছ থেকে পূর্ব আরবের গুরুত্বপূর্ণ মরুদ্যান হাসা শহর দখল করে নেয়। এর পর পার্শ্ববর্তী কাতিফ শহরও সৌদিরা দখলে নেয়।
পরের বছর ১৯১৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১ম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ব্রিটেন-ফ্রান্স-রাশিয়ার মিত্রশক্তি জার্মানি-উসমানিয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।রিয়াদে ব্রিটিশরা শেক্সপিয়ারের মাধ্যমে সৌদিদের সাথে উসমানিয়া অনুগত রাশিদীদের যুদ্ধ লাগায়।

https://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_Jarrab
১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত এই যুদ্ধে রাশিদীরা জয়ী হয় ও শেক্সপিয়ারকে হত্যা করে। রাশিদীরা শেক্সপিয়ারের শিরশ্ছেদ করে ও তার হেলমেট উসমানিয়াদের কাছে হস্তান্তর করে। উসমানিয়ারা সৌদিদের সাথে ব্রিটিশদের সম্পর্কের প্রমাণস্বরূপ শেক্সপিয়ারের হেলমেট মদিনার প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেখায়।
শেক্সপিয়ারকে হারিয়ে বিপর্যস্ত ইবনে সৌদ ১৯১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশদের সাথে দারিন চুক্তি স্বাক্ষর করে। ব্রিটিশদের পক্ষে ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্য প্রধান মেজর জেনারেল স্যার পার্সি কক্স ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি মোতাবেক সৌদি রাজত্ব ব্রিটিশদের করদরাজ্য (Protectorate)-এ পরিণত হয়।

https://en.wikipedia.org/wiki/Treaty_of_Darin
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেন-ফ্রান্স-রাশিয়ার মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে জার্মান-উসমানিয়া খিলাফতের দুর্বল অবস্থা ও আল-সৌদ পরিবারের সাথে ব্রিটিশদের সখ্য দেখে চিন্তিত হয়ে ওঠেন মক্কার উসমানিয়া সমর্থিত শাসক হুসাইন বিন আলী।
১৯১৫ সালের ১৪ জুলাই থেকে হুসাইন মিশরের ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি ম্যাকম্যাহনের গোপনে পত্র যোগাযোগ শুরু করেন। ৩০ জানুয়ারি ১৯১৬ পর্যন্ত এই পত্র আদান-প্রদান চলতে থাকে। উসমানিয়া খিলাফতের অন্তর্ভুক্ত বিশাল আরব ভূ-খণ্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা মতবিনিময় করে।

https://en.wikipedia.org/wiki/Hussein-McMahon_Correspondence
ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মদদে মক্কার শাসক সেই হুসাইন বিন আলী উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহ তৈরি করে। ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্সের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় বিশ্বাসঘাতক হুসাইন মিডল-ইস্টার্ন ফ্রন্টে উসমানিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু করলে বহু উসমানিয়া সৈন্য বন্দী হয় ও অবশেষে উসমানিয়ারা ১ম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়।
ব্রিটিশ সামরিক অফিসার টি.ই. লরেন্স – আরববিশ্বে আরব জাতীয়তাবাদের স্রষ্টা – হলিউডের বিখ্যাত “Lawrence of Arabia” (১৯৬২) মুভিটি একে নিয়েই নির্মিত ১৩০০ বছর পর মধ্যপ্রাচ্য মুসলিম খিলাফতের হাতছাড়া হয়ে যায়।

পুরস্কার হিসেবে ব্রিটিশরা ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর হুসাইন বিন আলীর দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল্লাহকে জর্ডানের রাজত্ব ও তৃতীয় ছেলে ফয়সালকে ইরাকের রাজত্ব দেয়। হুসাইনকে রাখা হয় হেজাজ (পবিত্র মক্কা-মদিনা ও তাবুক অঞ্চল)-এর শাসক হিসেবে।
এভাবে ১ম বিশ্বযুদ্ধ আল-সৌদ পরিবারকে কিছুটা বেকায়দায় ফেলে। কেননা ব্রিটিশদের পা-চাটার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপক্ষ হুসাইন পরিবার এগিয়ে যায় এবং যুদ্ধ শেষে হুসাইন ও তার দুই ছেলে মিলে তিন দেশের রাজত্ব পায়। তবে নজদ (রিয়াদ ও তদসংলগ্ন অঞ্চল)-এর শাসক সৌদিরাই থেকে যায়।

দারিন চুক্তির আওতায় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ ব্রিটিশদের কাছ থেকে বহু অস্ত্র ও মাসে ৫,০০০ পাউন্ড ভাতা (দালালির পুরস্কার) পেতে থাকে।
তথ্যসূত্র: Abdullah Mohammad Sindi, “The Direct Instruments of Western Control over the Arabs: The Shining Example of the House of Saud”
যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা ইবনে সৌদকে ১ম বিশ্বযুদ্ধের উদ্বৃত্ত বিপুল গোলাবারুদ দিয়ে দেয়। ওই ব্রিটিশ অস্ত্র ও গোলাবারুদের সম্ভার নিয়ে সৌদিরা ক্রমধ্বংসমান উসমানিয়া খিলাফতের অনুগত রাশিদীদের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম আরব অঞ্চলে আক্রমণ শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত লড়ে রাশিদীরা শেষ পর্যন্ত সৌদিদের হাতে পুরোপুরি পরাজিত হয়। ফলে আরবে আল-সৌদ পরিবার নিয়ন্ত্রিত ভূ-খণ্ডের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। ইরাকে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত Percy Cox-এর মধ্যস্থতায় ১৯২২ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত Uqair Protocol-এর আওতায় ওই বিশাল অঞ্চলে সৌদি রাজত্ব স্বীকৃতি লাভ করে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Uqair_Protocol_of_1922
এ-সময় পর্যন্ত আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ কখনোই ব্রিটিশ অনুগত হেজাজের শাসক হুসাইনের সাথে সংঘাতে জড়ায়নি।

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ আরেক ব্রিটিশ দালাল মুস্তাফা কামাল পাশা তুরস্কে অফিসিয়ালি খিলাফত বিলুপ্ত করে। সারা বিশ্বের মুসলিমদের সাথে মক্কার হুসাইন বিন আলীও মহানবী (সা.) আমল থেকে ১৩০০ বছর পর্যন্ত চলমান মুসলিমদের রাষ্ট্র খিলাফতের পতনে ব্যথিত হন। পৃথিবী থেকে খিলাফত মুছে গেছে, এটা হুসাইনের চেতনায় আঘাত করে। ব্রিটিশদের ক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও ৫ মার্চ হুসাইন নিজেকে মুসলিমদের খলিফা ঘোষণা করেন।
ব্যস, এ-সুযোগটিই কাজে লাগায় খিলাফতের দীর্ঘদিনের শত্রু আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। ব্রিটিশরা স্বাভাবিকভাবেই হুসাইনের নিজেকে খলিফা ঘোষণা করা মেনে নেয়নি এবং হেজাজের শাসক হিসেবে হুসাইনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ কালবিলম্ব না করে হেজাজ আক্রমণ করে এবং ১৯২৫ সালের শেষ নাগাদ পুরো হেজাজ দখলে নিয়ে নেয়। ১৯২৬ সালের ৮ জানুয়ারি আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মক্কা-মদিনা-জেদ্দার গোত্রীয় নেতাদের সমর্থনে নিজেকে হেজাজের “সুলতান” ঘোষণা করে। ১৯২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি ইবনে সৌদ আগের নজদ ও বর্তমান হেজাজ মিলিয়ে Kingdom of Nejd and Hejaz ঘোষণা করে। ৪ মাস পর সেই বছরের ২৭ মে জেদ্দা চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা Kingdom of Nejd and Hejaz-কে স্বাধীন 

হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Treaty_of_Jeddah_(1927)#1927
নতুন জেদ্দা চুক্তি, ১৯২৭-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ-সৌদের “Protectorate” স্ট্যাটাসের দারিন চুক্তি, ১৯১৫-এর সমাপ্তি ঘটে।
পরবর্তী ৫ বছর আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ তার দুই রাজত্বকে আলাদা রেখেই শাসন করে। অবশেষে ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ইবনে সৌদ তার দুই রাজত্বকে একত্রিত করে তার নিজের ও বংশের পদবি অনুসারে দেশের নাম “Kingdom of Saudi Arabia” (আরবি: ﺍﻟﻤﻤﻠﻜﺔ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﺍﻟﺴﻌﻮﺩﻳﺔ al-Mamlakah al-‘Arabiyyah as-Su‘ūdiyyah) ঘোষণা করে।

এভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উসমানিয়া খিলাফতবিরোধী নীতির প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে, পদে পদে ব্রিটিশদের মদদ নিয়ে, দালাল আল-সৌদ পরিবার ১৯৩২ সাল থেকে Kingdom of Saudi Arabia নামে মুসলিমদের পবিত্র ভূমি দখলে রেখে শাসন করে যাচ্ছে।

হালাল উপার্জন ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত

Standard

হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত 
সৈয়দ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল আয্হারী

লেকচারার, সার্দান ভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

 ইসলাম পরিপূর্ণ এক জীবন ব্যবস্থার নাম। এতে মানবজীবনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিমৃলের যাবতীয় বিষয়ের সমাধানে হিকমতপূর্ণ বিধানের বর্ণনা রয়েছে। এটি মানুষের জন্য যা কল্যাণকর ও হিতকর সে বিষয় বৈধ করত সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং যাবতীয় অকল্যাণ ও ক্ষতিকর বিষয় হতে মানবজাতিকে সতর্ক করেছে। অতএব, ইসলাম মানবজাতির জন্য কল্যাণের আধার হিসেবে শান্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে। মানবদেহের জীবনীশক্তি মনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এর জন্য প্রয়োজন মেধা,  শ্রম ও সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহার। জীবন নির্বাহের এ মাধ্যমটিই পেশা হিসেবে পরিগণিত। 

রুজি হালাল ও হারাম দু’টিই হ’তে পারে। যেসব জিনিসের বৈধ হওয়া পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত তা-ই হালাল। অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশিত ও অনুমোদিত পথে যে আয়-রোযগার করা হয় তাকে হালাল উপার্জন বলে। আর যখন কোন মানুষ অবৈধভাবে অন্যের মাল হস্তগত ও উপভোগ করে তখন তা তার জন্য হারাম হয়ে যায়।

তাই হালাল উপার্জন ইসলামী জীবনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের দিকনির্দেশনা হলো হালাল পথে জীবিকা উপার্জন করতে হবে এবং  উপার্জনের পন্থাও অবশ্যই শরীয়ত নির্ধারিত পন্থায় হতে হবে। এমন উপার্জনকে ইসলাম অবৈধ ঘোষণা করেছে, যাতে প্রতারণা, মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, জনসাধারণের অকল্যাণ সর্বোপরি জুলুম রয়েছে।  তাই সূদ-ঘুষ, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, জুয়া, মিথ্যাচার ইত্যাদি অসামাজিক অনাচারে লিপ্ত হয়ে জীবিকা উপার্জন করা যাবে না। 

মনে রাখতে হবে, মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, পবিত্র, উত্তম ও উপাদেয় তাই আল্লাহ পাক হালাল করেছেন। অন্যদিকে যা বিপদজ্জনক এবং ক্ষতিকর তা হারাম করেছেন। ইসলামী শরী‘আতে হারামের পরিধি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং হালালের ক্ষেত্র বিস্তীর্ণ ও সুপ্রশস্ত। দুনিয়ার জীবনে অবৈধ পন্থায় উপার্জন করে সুখ-সাচ্ছন্দ লাভ করলেও পরকালীন জীবনে রয়েছে এর জন্য জবাবদিহিতা ও সুবিচার। সে লক্ষে ইসলাম হালাল উপার্জনের অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছে। 
হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জনের গুরুত্ব ইসলামে যেমনি রয়েছে, ঠিক তেমনি হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও অত্যধিক। ইসলাম মানুষের জন্য যাবতীয় জীবনোপকরণকে সহজসাধ্য, সুস্পষ্ট, ও পবিত্র করার নিমিত্তে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা দিয়েছে। অতএব নির্দেশনা বহির্ভূত যাবতীয় উপার্জনই হারাম বা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। ইসলামের বক্তব্য হল মানুষ নিজের সার্মথ্য ও যোগ্যতানুযায়ী নিজের প্রয়োজনীয় অর্থ ও দ্রব্য সামগ্রীর সন্ধান করবে। এটি মানুষের অন্যতম অধিকার। তবে ইসলাম মানুষকে এ অধিকার দেয়নি যে, সে অর্থ সম্পদ উপার্জনের জন্য স্বীয় খেয়ালখুশিমত যে কোন পন্থা অবলম্বন করতে পারবে। তাইতো ইসলাম অর্থসম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের পার্থক্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সমাজ রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর যাবতীয় ব্যবস্থাকে ইসলাম হালাল করেছে। 

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ পাক এ সেরা সৃষ্টিকে তাঁর ইবাদত-বন্দেগীর জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ মর্মে আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা হ’ল, وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُوْنِ، مَا أُرِيْدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ وَمَا أُرِيْدُ أَنْ يُطْعِمُوْنِ(الذاريات৫৬-৫৭)‘আমি জিন এবং মানুষকে আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের থেকে কোন রিযিক চাই না এবং তাদের থেকে আমি খাবারও চাই না’ [যারিয়াত ৫৬-৫৭]

মহান আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নির্ধারিত ফরজ ইবাদত (যেমন নামায) সম্পন্ন করার পর জীবিকা অন্বেষণে জমীনে ছড়িয়ে পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে সর্বশ্রেষ্ঠ জীব নিজেই জীবিকা অর্জনে ব্রতী হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পরিশ্রমলব্ধ উপার্জনকে সর্বোত্তম উপার্জন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
উপার্জন বলতে কী বুঝায়

উপার্জন শব্দটির সমর্থক শব্দসমূহ হচ্ছে আয়, রোজগার, কামাই, লাভ, প্রাপ্তি, সংগ্রহ, অর্জন ইত্যাদি।[সম্পাদনা পরিষদ, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (ঢাকা: বাংলা একাডেমী, ৫ম পুনর্মুদ্রণ ২০০৩)। ] আরবীতে الكسب এবং ইংরেজীতে বলা হয় ওহপড়সব. পরিভাষায় উপার্জন হলো: জীবন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা। অন্যভাবে বলা যায় যে, ওহপড়সব রং ঃযব সড়হবঃধৎু ঢ়ধুসবহঃ ৎবপবরাবফ ভড়ৎ মড়ড়ফং ড়ৎ ংবৎারপবং, ড়ৎ ভৎড়স ড়ঃযবৎ ংড়ঁৎপবং, ধং ৎবহঃং ড়ৎ রহাবংঃসবহঃং. [জবঃৎরবাবফ অঁমঁংঃ ২৫, ২০১২.]
মানবজীবনে উপার্জনের প্রয়োজনীয়তা

ক. জীবন পরিচালনার জন্য উপার্জন আবশ্যকীয় বিষয় : জীবন ধারণ করার জন্য উপার্জনে সক্ষম প্রত্যেককে উপার্জন করতে হবে। উপার্জন ছাড়া পৃথিবীতে বসবাস করা সম্ভব নয়। উপার্জন না করে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আর তাই দেখা যায় যে সালাত শেষ হওয়ার পর উপার্জনে বের হওয়ার কথা আল-কুরআনে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন,  فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُواْ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَٱبۡتَغُواْ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ﴾ [الجمعة: ١٠[  ‘‘অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’’[সূরা আল-জুমু‘আ: ৬২:১০।]
খ. পৃথিবী উপার্জন করার একমাত্র ক্ষেত্র : আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শুধু সৃষ্টিই করেননি, জীবন পরিচালনার জন্য এ পৃথিবীকে কর্মক্ষেত্র করে দিয়েছেন। সে সাথে উপার্জন করার জন্য অসংখ্য ক্ষেত্রের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ বলেন,  ﴿هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ ذَلُولٗا فَٱمۡشُواْ فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُواْ مِن رِّزۡقِهِۦۖ وَإِلَيۡهِ ٱلنُّشُورُ﴾ [الملك: ١٥[  ‘‘তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।’’[সূরা আল-মুলক: ৬৭:১৫]
গ. পারিবারিক দায়িত্ব পালন করা : প্রত্যেক ব্যক্তিই পরিবারের সদস্য। তাই পারিবারিক দায়িত্ব পালনে তাকে উপার্জন করতে হয়। পরিবারে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানসহ  অন্যান্য মৌলিক চাহিদা রয়েছে, যা উপার্জন করে মেটাতে হয়। এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿وَعَلَى ٱلۡمَوۡلُودِ لَهُۥ رِزۡقُهُنَّ وَكِسۡوَتُهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ﴾ [البقرة: ٢٣٣ ‘‘আর সন্তানের পিতার উপর কর্তব্য, বিধি মোতাবেক মায়েদেরকে খাবার ও পোশাক প্রদান করা।’’ [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২:২৩৩]
উপার্জনের প্রকারভেদ

আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকে মানুষের খাদেম করেছেন। মানুষ নির্দেশিত পথে তা থেকে উপার্জন বা সম্পদ আহরণ করবে। ইসলাম এমন একটি জীবন বিধান যা কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। সেজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الحَلاَلُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى المُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ: كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ  ‘‘হালাল বা বৈধ সুস্পষ্ট এবং হারাম বা অবৈধও স্পষ্ট আর এ দু’এর মধ্যবর্তী বিষয়গুলো হলো সন্দেহজনক। আর বেশীরভাগ লোকই সেগুলো (সম্পর্কে সঠিক পরিচয়) জানে না। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সন্দেহজনক জিনিসিগুলোকে পরিহার করলো সে তার দ্বীন ও মান-সম্মানকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহের মাঝে পতিত হলো তার উদাহরণ ঐ রাখালের মত যে পশু চরায় সংরক্ষিত ভূমির সীমানায় এমনভাবে যে, যে কোনো সময় সে তাতে প্রবেশ করবে।’’  [ইমাম বুখারী, সহীহ বুখারী, খ- ৪, হাদীস নং ৫২।]

আলোচ্য হাদীস থেকে বুঝা যায় উপার্জন দুই ধরণের। ক. হালাল উপার্জন খ. হারাম উপার্জন।
হালাল উপার্জনের মূলনীতি

ইসলামে উপার্জনের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় মূলনীতি রয়েছে। এ নীতিগুলো অনুসরণ না করলে উপার্জন হালাল হবে না। যা নিম্নে  সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :
ক. উপার্জেয় বস্তুটি হালাল হওয়া: একজন ব্যক্তি যা উপার্জন করবে সে উপার্জেয় বস্তুটি অবশ্যই হালাল হতে হবে। আর ইসলাম কল্যাণকর সকল বস্তুকে মানবজাতির জন্য হালাল করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا وَلَا تَتَّبِعُواْ خُطُوَٰتِ ٱلشَّيۡطَٰنِۚ إِنَّهُۥ لَكُمۡ عَدُوّٞ مُّبِينٌ ١٦٨ ﴾ [البقرة: ١٦٨[  

‘‘হে মানুষ পৃথিবীতে হালাল ও তাইয়্যিব যা রয়েছে তা থেকে আহার কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’’

[সূরা আল-বাক্বারাহ: ২:১৬৮।]
খ. উপার্জিত বস্তুটি পবিত্র (তাইয়্যিব) হওয়া: আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿ وَكُلُواْ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ حَلَٰلٗا طَيِّبٗاۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ ٱلَّذِيٓ أَنتُم بِهِۦ مُؤۡمِنُونَ ٨٨ ﴾ [المائ‍دة: ٨٨[   ‘‘আর আহার কর আল্লাহ যা তোমাদের রিয্ক দিয়েছেন তা থেকে হালাল, পবিত্র বস্তু। আর তাকওয়া অবলম্বন কর আল্লাহর যার প্রতি তোমরা মুমিন।’’[সূরা আল-মায়িদাহ: ৫:৮৮।]  সুতরাং শুধুমাত্র হালাল হলেই চলবে না; বরং তা অবশ্যই তাইয়্যিব (পবিত্র ও উত্তম) হতে হবে। এখানে তাইয়্যিব বলতে ভেজালমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত ইত্যাদি উদ্দেশ্য। এমন উপায় অবলম্বন করতে হবে যা মূলগতভাবেই নির্ভেজাল, খাটি ও পবিত্র। অবশ্য অধিকাংশ মুফাসসির আয়াতে হালাল শব্দ দ্বারা ‘মূলগত বৈধতা’ এবং ‘তাইয়্যিব’ দ্বারা পদ্ধতিগত বৈধতার অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং এ দু’শব্দ দিয়ে দু’টি মূলনীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
গ. উপার্জনের ক্ষেত্রে মাধ্যমটিও বৈধ হওয়া: শুধুমাত্র উপার্জিত বস্তটি হালাল ও তাইয়্যিব হলে যথেষ্ট নয়, বরং উপার্জনের মাধ্যমটিও বৈধ হতে হবে। তাই উপার্জনের ক্ষেত্রে গ্রহণীয় উপায় ও মাধ্যমটিও অবশ্যই বৈধ পন্থায় হতে হবে। কেননা যাবতীয় অবৈধ উপায় ও পন্থায় অর্থসম্পদ উপার্জন করতে ইসলাম নিষেধ করেছে। পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতের মাধ্যমে এ বিষয়ে মুমিনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,  ﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ ﴾ [النساء: ٢٩[   ‘‘হে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।’’   [সূরা আন-নিসা: ৪:২৯।]
হালাল উপার্জনের ক্ষেত্রে যা আবশ্যক

ক. সততা: উপার্জন হালাল করার ক্ষেত্রে সততা থাকতে হবে। উপার্জিত বস্তু হালাল এবং পদ্ধতিগতভাবে হালাল হলেও সততা না থাকলে উপার্জন হালাল হবে না। আর সততা অর্জন করার মাধ্যমে  জান্নাতে যাওয়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে।  হাদীসে এসেছে,  عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ  ‘‘আবু সাঈদ খুদরী রাদি আল্লাহু আনহু  থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সৎ ও আমানতদার ব্যবসায়ী (কিয়ামতের দিন) নবীগণ, সিদ্দিকীন ও শহীদদের সাথে থাকবে।”

[ইমাম তিরমিযী, সুনান আত-তিরমিযী, খ- ২, পৃ. ৫০৬, হাদীস নং: ১২০৯।]
খ. আমানতদারিতা: আমানতদারিতা এমন একটি গুণ যা হালাল উপার্জন করার জন্য অপরিহার্য। আমানতদারিতা না থাকলে উপার্জন হালাল হবে না । আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿  فَإِنۡ أَمِنَ بَعۡضُكُم بَعۡضٗا فَلۡيُؤَدِّ ٱلَّذِي ٱؤۡتُمِنَ أَمَٰنَتَهُۥ وَلۡيَتَّقِ ٱللَّهَ رَبَّهُۥۗ ﴾ [البقرة: ٢٨٣] ‘‘আর যদি তোমরা একে অপরকে বিশ্বস্ত মনে কর, তবে যাকে বিশ্বস্ত মনে করা হয়, সে যেন স্বীয় আমানত আদায় করে এবং নিজ রব আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে।’’ [সূরা আল-বাক্বারাহ: ২:২৮৩।]
গ. ওয়াদা পালন করা: চাকরি বা ব্যবসায় যেসব ওয়াদা করা হবে তা অবশ্যই পালন করতে হবে। ওয়াদা পালন করে হালাল উপার্জন করার পাশাপাশি আল্লাহর ভালবাসাও পাওয়া যায়। আল-কুরআনে আল্লাহ বলেন,  ﴿ بَلَىٰ مَنۡ أَوۡفَىٰ بِعَهۡدِهِۦ وَٱتَّقَىٰ فَإِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُتَّقِينَ ﴾ [ال عمران: ٧٦[   ‘‘হ্যাঁ, অবশ্যই যে নিজ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।’’ [সূরা আলে ‘ইমরান: ৩:৭৬।]
তাছাড়া ওয়াদাপূরণ জান্নাতে যাওয়ার কারণ হবে। উবাদা ইবন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  ্রاضْمَنُوا لِي سِتًّا أَضْمَنْ لَكُمُ الْجَنَّةَ اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وَأَدُّوا إِذَا ائْتُمِنْتُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أبصاركم وكفوا أيديكم ‘তোমরা আমাকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা দাও, আমি তোমাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার যামীন হব, যখন কথা বলবে সত্য বলবে, যখন ওয়াদা করবে তা পূরণ করবে, যখন আমানত গ্রহণ করবে তখন তা আদায় করবে, তোমাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, তোমাদের চক্ষুগুলো নীচু করে রাখবে এবং হাতগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখবে’।  [সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস নং ২৭১; আসসিলসিলাতুস সহীহাহ, খ- ৩, পৃ. ৩৩, হাদীস নং ১৪৭০।]
হারাম উপার্জন

হারাম উপার্জন সম্পর্কে জানা না থাকলে উপার্জনকে শতভাগ হালাল করা যাবে না। সেজন্য কোনটি হারাম উপার্জন তা সম্পর্কেও জানতে হবে । এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,  ﴿وَقَدۡ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيۡكُمۡ ﴾ [الانعام: ١١٩[   ‘‘অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, যা তোমাদের উপর হারাম করেছেন।’’ 

[সূরা আল-আন‘আম: ৬:১১৯।] 
হারাম উপার্জন দুইভাবে হতে পারে

একটি বস্তুগত হারাম অপরটি হলো পদ্ধতিগত হারাম। ১. বস্তুগত হারাম: কিছু কিছু বস্তু রয়েছে যা মূলগতভাবেই হারাম। এগুলোকে কোনভাবেই হালাল করার সুযোগ নেই। যেমন: মদ, চুরি করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, শুকরের গোশত, মৃত প্রাণির গোশত  ইত্যাদি। ২. পদ্ধতিগত হারাম: কিছু কিছু বস্তু রয়েছে যা মূলগত হারাম নয় পদ্ধতির কারণে  হারাম। যেমন, সুদ, ঘুষ বা উপরি আয় বা বখশিস বা ওহারংরনষব পড়ংঃ বা ংঢ়ববফ সড়হবু, জুয়া, লটারী, ধোঁকা, প্রতারণা, মওজুদদারী, কালোবাজারী, মুনাফাখোরী, ফটকাবাজারী, চোরাচালান, চটকদার ভুয়া বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করা, ওজন ও পরিমাপে কম দেয়া, মালে  ভেজাল মেশানো, ভেজাল পণ্য বিক্রি করা, বেশ্যাবৃত্তি, অশ্লীলতা প্রসারকারী ব্যবসা, অশ্লীল নাচ-গান, মাদক দ্রব্যের উৎপাদন ও ব্যবসা, মূর্তি বানানো ও মূর্তির ব্যবসা, ভাগ্য গণনার ব্যবসা, জবরদখল, লুন্ঠন, ডাকাতি, রাহাজানি, সন্ত্রাস, মাস্তানী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, আত্মসাৎ, চোরাইমাল ক্রয়-বিক্রয়, খেয়ানত, ধাপ্পাবাজি, সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো ইত্যাদি।
সুদের সম্পৃক্ততা থাকা

সুদ দেওয়া, নেওয়া বা এর সাথে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা রাখা যাবে না । কেননা কুরআনে এসেছে,

﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ ٱلرِّبَوٰٓاْ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ٢٧٨ فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ فَأۡذَنُواْ بِحَرۡبٖ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ ﴾ 

‘‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা মুমিন হও। কিন্তু যদি তোমরা তা না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও, আর যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের যুলুম করা হবে না।’’ [আল-বাক্বারাহ: ২:২৭৮-২৭৯।]
ঘুষের সম্পৃক্ততা

ঘুষ দেওয়া, নেওয়া বা এর সাথে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেননা হাদীসে এসেছে,  عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ ্রلَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- الرَّاشِىَ وَالْمُرْتَشِىَ ‘‘আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়কে লানত দিয়েছেন’’

[আবু দাউদ, সুনান, হাদীস নং ৩৫৮২]
হারাম উপার্জনের ক্ষতিকর দিকসমূহ

ক. আল্লাহর নির্দেশ অবজ্ঞা করার শামিল: আল্লাহ তা‘আলা কোনটি হালাল ও কোনটি হারাম তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে হারাম পথ বেছে নেবে সে আল্লাহর নির্দেশকে অবজ্ঞা করলো এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলো।  উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল উপায় অবলম্বন করতে হবে। যারা হালাল ও হারামের প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বন করে না, তাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেন,  ্রيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ مَا أَخَذَ مِنْهُ أَمِنَ الْحَلَالِ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ ‘‘মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে, যখন ব্যক্তি কোনো উৎস থেকে সম্পদ আহরণ করছে, তা হালাল না হারাম, সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করবে না।’

[ইমাম বুখারী, সহীহ, খ- ৩, পৃ. ৭১, হাদীস নং ২০৫৯।
খ. জাহান্নামে যাওয়ার কারণ: হারাম উপার্জন জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, كُلُّ جَسَدٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِه ‘‘‘আর যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোযখের আগুনই উত্তম’’।।

[সহীহ জামিউস সাগীর, খ- ২, পৃ. ৮৩১, হাদীস নং ৮৬৪৮।]
গ. জান্নাতে যাওয়ার প্রতিবন্ধক: হারাম উপার্জন জান্নাতে যাওয়ার প্রতিবন্ধক হবে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,   يا كعب بن عجرة إِنَّهُ لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ ‘‘হে কা‘ব ইবন উজরাহ, যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে উঠে তা জান্নাতে যাবে না’’।[দারেমী, আস-সুনান, হাদীস নং ২৮১৮]
ঙ. হারাম উপার্জনের দান আল্লাহ গ্রহণ করেন না: হারাম উপার্জন এমন খারাপ জিনিস যা থেকে দান করলেও কোনো লাভ নেই এবং আল্লাহ তা‘আলা তা গ্রহণ করেন না। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةً بِغَيْرِ طَهُورٍ وَلاَ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ ‘‘আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করেন না, আর হারাম উপার্জনের দানও  আল্লাহ তা‘আলা কবুল করেন না।’’

[ইবন খুযাইমাহ, সহীহ ইবন খুযাইমাহ, খ- ১, পৃ. ৮, হাদীস নং ১০।]
১. হারাম খাদ্য খেলে মনের মধ্যে খারাপ অভ্যাস সৃষ্টি হয়, ইবাদত-বন্দেগীতে আগ্রহ স্তিমিত হয়ে আসে এবং দো‘আ কবুল হয় না। 
২. অন্যদিকে হালাল খাদ্য গ্রহণের ফলে মানব মনে এক প্রকার আলো সৃষ্টি হয়, যা অন্যায়ের প্রতি ঘৃণাবোধ সৃষ্টি করে এবং সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করে, ইবাদত-বন্দেগীতে মনোযোগ আসে, পাপের কাজে ভয় আসে এবং দো‘আ কবুল হয়। 
এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামের উদ্দেশে বলেছেন,  يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوْا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوْا صَالِحاً- ‘হে রাসূলগণ! তোমরা হালাল খাদ্য গ্রহণ কর এবং নেক আমল কর’ (মুমিন ৫১)। হালাল খাদ্য গ্রহণ ব্যতীত আল্লাহ বান্দার কোন দো‘আ কবুল করবেন না। 
অন্য একটি হাদীসে এসেছে, عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَإِنَّ وَلَدَهُ مِنْ كَسْبِهِ- হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিজের উপার্জিত আহার সর্বোত্তম। তোমাদের সন্তানও নিজ উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত’।(ইবনু মাজাহ হা/১৭৩৮, ২১২৮; মিশকাত হা/২৭৭০; ইরওয়াউল গালীল ৬/৬৬, হাদীছ ছহীহ।)

অন্য হাদীসে এসেছে,  وَعَنْ أَبِيْ بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ جَسَدٌ غُذِّيَ بِحَرَامٍ- হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত হয়েছে’।[ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/১৭৩০; মিশকাত হা/২৭৮৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬০৯।]
আরেকটি হাদীছে এসেছে,  وعن سعيد بن عمير عن عمه قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ قَالَ عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُلُّ كَسْبٍ مَبْرُوْر সাঈদ ইবনু উমায়ের তার চাচা হ’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হ’ল কোন প্রকার উপার্জন উত্তম। তিনি বললেন, ‘হাতের কাজ এবং হালাল ব্যবসার উপার্জন’। 

[ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব হা/১৬৮৮]
ইসলামী দিকনির্দেশনা মোতাবেক হালাল পথে রুজি রোজগার করলে সেটিও ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে। আল্লাহ বলেন,  فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيْراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ-  ‘অতঃপর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়,  আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’। [জুম‘আ ১০]
পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানুষকে পাঠানো হয়েছে। বান্দার পার্থিব জীবনের সমস্ত কৃতকর্মের হিসাব পরকালে দিতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ক্বিয়ামতের ময়দানে বনু আদমকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে, সেই পাঁচটি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত কোন মানুষ অর্ধ হাত পরিমাণ সামনে অগ্রসর হ’তে পারবে না। তারমধ্যে একটি হ’ল ‘সে কোন পথে রুজি উপার্জন করেছে’। [আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আল-জামি, ৪র্থ খন্ড  (বৈরুত: দারুল ইয়াহইয়া আত-তুরাছ আল-আরাবী, তাবি), হা/২৪১৬, পৃঃ ৬১২।]
রুজি হালাল পথে উপার্জিত না হ’লে ক্বিয়ামতের ভয়াবহ দিনে মুক্তির কোন পথ খোলা থাকবে না। কাজেই শরী‘আত নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে রুজি-রোজগার করতে হবে। অলসতা ও কুড়েমী করে বসে থাকা যাবে না। চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী-বাকুরী ইত্যাদির কোনটিকেই ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। কোন কাজকে অবহে’লা না করে সাধ্যানুযায়ী যে কোন হালাল পেশা বেছে নিতে হবে। 
নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্য খেতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,  مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ وَإِنَّ نَبِيَّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَم كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ-  ‘নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্য অপেক্ষা উত্তম খাদ্য কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাঊদ আলায়হিস্ সালাম নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্য খেতেন’। [বুখারী, হা/৫৪৪; মিশকাত হা/২৭৫৯]
আল্লাহ বলেন,  وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُودَ مِنَّا فَضْلاً يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ، أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ-  ‘আর আমি দাঊদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই মর্মে যে, ‘হে পর্বতমালা! তোমরা দাঊদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর, হে পক্ষীকুল! তোমরাও তাই কর। আমি তার জন্য লৌহকে নরম করেছিলাম এবং তাঁকে বলেছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরি কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি। [সাবা ১০-১১]
হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত

অর্থ-সম্পদ দ্বারাই মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে তার দেহের বৃদ্ধি ঘটে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ হয়। কিন্তু এ উপকরণ ক্রয়ের অর্থ যদি অবৈধ উপায়ে উপার্জিত হয় তবে তা কিভাবে বৈধ শারীরিক বৃদ্ধি হতে পারে। ফলে তার শরীরের রক্তে ও মাংসে অবৈধ বিষয়ের সংমিশ্রন ঘটে। আর এর দ্বারা যত বেশি ইবাদতই করা হোক না তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেননা আল্লাহ অপবিত্র কোন কিছুই গ্রহণ করে না। অতএব হালাল উপার্জন ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হিসেবে শিরোধার্য। সালাত, যাকাত ও হজ্জ ইত্যাদি ফরয ইবাদতসমূহ কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই বৈধ পন্থায় উপার্জন করতে হবে।
আল্লাহ তা‘আলা এ পৃথিবীতে মানবজাতিকে কেবল তার ইবাদতের জন্যই পাঠিয়েছেন। এ ইবাদতের পরিধি মানব জীবনের সূচনা থেকে অন্তিম নিঃশ্বাস পর্যন্ত সকল পর্যায়ে বিস্তৃত । যদি তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথে ও মতে হয়। 
ইবাদতের জন্য মানবদেহে শক্তি প্রয়োজন আর শক্তির প্রধান উৎস হলো খাদ্য। কথায় আছে ‘পেটে থাকলে পিঠে সয়’ এ খাদ্য সংগ্রহের জন্যই মানবজাতি উপার্জনে সদা বেতিব্যস্ত। ইসলামও উপার্জনের জন্য পরিশ্রম  করার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- যখন তোমাদের নামাজ সমাপ্ত হয়, তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়, আর আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।  [আল-জুমআ -১০]    

আল্লাহর ইবাদত করবে অথচ তার উপার্জন হালাল হবে না, এটা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। অতএব হালাল উপার্জন ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: ৫১] وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: ১৭২] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟  

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন। তিনি মু’মিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ তিনি দিয়েছিলেন রাসূলগণের।’’ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘হে ঈমানদারগণ তোমরা পবিত্র বস্তু-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসেবে দান করেছি।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধুলি-ধুসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছে, হে আমার রব, হে আমার রব অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে। সুতরাং তার প্রার্থনা কীভাবে কবুল হবে?।’’ [ইমাম মুসলিম, সহীহ, খ- ৩, পৃ. ৮৫, হাদীস নং ২৩৯৩।]
হালাল উপার্জন একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান

ইসলাম মানুষের জন্য হালাল ও হারামের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নিরূপন করেই শেষ করেনি, বরং হালাল উপার্জনে রয়েছে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা। ফরজ ইবাদত আদায়ের পর এ মহতী কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও বৈধ উপায় অবলম্বন করা ব্যবসায়ীসহ সকল মানুষের উপর ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান। যারা উপার্জনের ক্ষেত্রে হালাল ও হারামের প্রশ্নে সতর্কতা অবলম্বন করে না তাদের ব্যপারে নবী করিম সতর্কবাণী করেছেন। তিনি বলেন:

يأتي على الناس زمان، لا يبالي المرء ما أخذ منه، أمن الحلال أم من الحرام

‘‘মানুষের নিকট এমন একটি সময় আসবে, যখন ব্যক্তি কোন উৎস থেকে সম্পদ আহরণ করছে, তা হালাল না হারাম, সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করবে না।’’

[মুহাম্মাদ ইবন হিব্বান ইবন আহমাদ আবু হাতিম আততামিমী আবুসতী, সহীহ ইবন হিব্বান, খ- ৭, পৃ. ৩২, হাদীস নং ৩২৩৯।]
হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। বান্দাহ যেসব ইবাদাত করে থাকে হালাল উপার্জন তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ বিষয়ে কুরআনে বলা হয়েছে,  ﴿فَٱبۡتَغُواْ عِندَ ٱللَّهِ ٱلرِّزۡقَ وَٱعۡبُدُوهُ وَٱشۡكُرُواْ لَهُۥٓۖ إِلَيۡهِ تُرۡجَعُونَ ١٧ ﴾ [العنكبوت: ١٧[  ‘‘তাই আল্লাহর কাছে রিয্ক তালাশ কর, তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।’ ’[সূরা আল-‘আনকাবূত: ২৯:১৭।]
হালাল উপার্জন দুআ কবুলের পূর্বশর্ত

মানুষের প্রাত্যহিক ও জাগতিক জীবনের চাহিদার কোন অন্ত নেই। তবে এগুলো মানুষের কাক্সিক্ষত ও বাঞ্চিত হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মহান স্রষ্ট্রার অনুগ্রহের, ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী। এর জন্য প্রয়োজন একান্তে তাঁর দরবারে আরাধনা করা। মহান আল্লাহ ও মানুষে এ ব্যাপারে সাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এটি অন্যতম ইবাদত ও বটে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন   ্রالدعاء هو العبادة  ‘‘দোয়া হচ্ছে ইবাদত’’।

[ইমাম তিরমিযী, সুনান আত-তিরমিযী, খ- ২, পৃ. ৫০৬, হাদীস নং: ১২০৯] 
অতএব দু’আ ইসলামে অন্যতম ইবাদতে পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে বান্দার সাথে আল্লাহর গভীর প্রেম নিবেদন করা চলে এবং যাবতীয় প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হয়। এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মটি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হতে হলে উপার্জন অবশ্যই হালাল হতে হবে। কেননা আল্লাহ পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কোন কিছুই গ্রহণ করেননা, অতএব অবৈধ উপার্জন যারা করে তাদের খাদ্যের উপার্জন অবৈধ অর্থে হওয়ায় রক্ত মাংস সবই হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়। ফলে এ ধরনের ব্যক্তির প্রার্থনাকে ইসলামে কখনো সমর্থন করেনা। 

ইবন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: 

تليت هذه الاية عند رسول الله ص ﴿يا أيها الناس كلوا مما في الأرض حللا طيبا﴾ فقام سعد بن أبى وقاص ، فقال : يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، ادع الله أن يجعلني مستجاب الدعوة ، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم : يا سعد أطب مطعمك تكن مستجاب الدعوة 

‘‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট একদিন এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা হল। ‘‘হে মানবমৃলী! পৃথিরীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর।’’ তখন সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু দাড়িয়ে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন আমার দু’আ কবুল হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে সা‘দ, তোমার পানাহারকে হালাল কর, তবে তোমার দু’আ কবুল হবে।’’

[ইমাম তাবারানী, মু‘জামুল আওসাত, খ. ৬, পৃ. ৩১০]
মহান আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا كُلُوْا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوْا لِلّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُوْنَ-  ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসাবে দান করেছি এবং শুকরিয়া আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে থাক’। [বাক্বারাহ ১৭২]
এ আয়াতে হারাম খাদ্য ভক্ষণ করতে যেমন নিষেধ করা হয়েছে, তেমনি হালাল ও পবিত্র বস্তু খেতে এবং তা খেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। কারণ ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুজি খাওয়া অত্যাবশ্যক।
হালাল উপার্জনে বরকত লাভ হয়

উপার্জনে বরকত লাভ করতে হলে একমাত্র হালাল পন্থায় হতে হবে। কেননা বরকত দানের মালিক মহান আল্লাহ। তিনি শুধু বৈধ উপার্জনকেই বরকতমন্ডিত করেন। এবং যাবতীয় অবৈধ উপার্জনের বারকত নষ্ট করে দেন। আর সেখানে অপচয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সম্পদের প্রাচুর্যতা লাভে বিলম্ব হয়। অন্যদিকে হালাল উপার্জন কম হলেও তাতে ?

পাগড়ী পরিধান করার কিছু আদব

Standard

ইমামাহ বা পাগড়ী পরিধান সংক্রান্ত কিছু দলীল-

ইমামাহ বা পাগড়ীর পরিমাপঃ আল্লাহ পাক-এর হাবীব, আখিরী রসল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন প্রকার মাপের পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। বাড়ী বা বাসায় অবস্থান করাকালীন সময়ে তিন হাত পরিমাপের পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। বাড়ী বা বাসার বাইরে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ব্যবহার করতেন ৭ হাত। যার প্রস্থ ছিল এক হাত থেকে ২ হাত। আর বিশেষ বিশেষ দিন তথা ঈদ, জুমুয়া ইত্যাদিতে ১২ হাত পরিমাপের পাগড়ী পরতেন।

দলীল- 
√ আনওয়ারুল মাহমুদ-২/৪৪২
√ উরফুশ শাজী-১/৩০৪, 
√ আওনুল মা’বুদ-৪/৯৬, 
√ তুহফাতুল আহওয়াজী৫/৪১৪, 
√ তা’লিকুছ ছবীহ-৪/৩৮৯, 
√ মিরকাত-৮/২৫০, 
√ জামউল ওয়াসাইল-১/২০৭, 
√ খছাইলে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-৯১, 
√ আখলাকুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-১৮১

পাগড়ীর শামলা ও তার পরিমাপঃ ইমামাহ বা পাগড়ী বাধার পর পাগড়ীর যে অংশ পিছনে পিঠের উপর ঝুলিয়ে রাখা হয় তাকে শামলা বলে। শামলাসহ পাগড়ী পরা সুন্নত। ইহা ব্যতীত পাগড়ী পরা শিয়া ও শিখদের আলামত। অর্থাৎ শিয়া ও শিখ সম্প্রদায় শামলা ছাড়া পাগড়ী পরে। আর আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতে, শিয়া ও শিখরা মুসলমান নয়।
পাগড়ীর শামলা হবে এক বিঘত বা অর্ধ হাতের কিছু বেশি এবং এক হাতের কিছু কম। তবে চার আঙ্গুল পরিমাণের কম ও এক হাতের বেশি হওয়া মাকরূহ। আল্লাহ পাক-এর হাবীব, আখিরী রসুল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’কাঁধের মাঝামাঝি অর্থাৎ পিঠের উপর ঝুলিয়ে রাখতেন। তবে কখনো কখনো ডান কাধের উপর দিয়ে সামনে রাখতেন। কিন্তু; শামলা বাম কাধের উপর দিয়ে সামনে রাখা বিদয়াত।

দলীল-
√ মুযাহিরে হক্ব-৩/৫৩৪, 
√ আশয়াতুল লুময়াত-৩/৫৪৫, 
√ আরিদ্বাতল আহওয়াযী-৭/২৪৩, 
√ আওনুল মা’বুদ-৪/৯৫, 
√ তুহফাতল আহওয়াযী-৫/৪১১, 
√ তানযীমুল আশতাত-৪/১৬৭

পাগড়ীর রং : সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণত সাদা, কালো ও সবুজ রংয়ের পাগড়ী মুবারক পরিধান করতেন। সবচেয়ে বেশি পরতেন কালো। সবুজ, কালো রংয়ের তুলনায় একট কম পরতেন। আর সাদা তার চেয়ে আরো কম সময় পরতেন।”

দলীল-
√ মুছান্নিফে ইবনে আবী শাইবাহ৮/২৪১, 
√ যরকানী-৬/২৫৭, 
√ মুসলিম শরীফ-১/৪৪০, 
√ শরহে নববী-৫/১৩৩, 
√ শরহুল উবাই ওয়াস সিনসী-৪/৪৬৭, 
√ আবু দাউদ শরীফ-২/২০৯, 
√ বযলুল মাজহুদ-৬/৫১, 
√ আওনুল মা’বদ-৪/৯৫, 
√ নাসায়ী শরীফ-২/২০০০, 
√ ইবনু মাযাহ-২৬৪, 
√ মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল-৪/৩০৭,

পাগড়ীর কতিপয় আদব বা সুন্নত ত্বরীক্বাঃ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম- বলে পাগড়ী পরা সুন্নত।

দলীল-
√ যুরকানী-৬/২০৮

পাগড়ী সুতি কাপড়ের হওয়া সুন্নত। ওযুর সাথে পাগড়ী বাধা সুন্নত। ক্বিবলা মুখী হয়ে দাড়িয়ে পাগড়ী বাঁধা সুন্নত। পাগড়ীর শামলা-এর মাথা মুখে কামড় দিয়ে ধরে পাগড়ী বাধা সুন্নত। টুপির উপর পাগড়ী পরা সুন্নত। মুসলমানগণ টুপির উপর পাগড়ী পরিধান করে। আর মুশরিকরা টুপি ছাড়া পাগড়ী পরিধান করে।

দলীল-
√ মিরকাত-৮/২৫০, 
√ জামউল ওয়াসায়িল-১/২০৭, 
√ আল মাদখাল- ১/১০৬, 
√ হুজ্জাতত্ তাম্মাহ-৫৬, 
√ আবু দাউদ শরীফ-২/২০৯, 
√ তিরমিযী শরীফ-১/২১০, 
√ মিশকাত শরীফ৩৭৪,

পাগড়ী বাধার সময় সিজদার স্থানকে উম্মক্ত রাখা আবশ্যক। কারণ, আমাদের হানাফী মাযহাব মতে পাগড়ীর প্যাঁচের উপর সিজদা করা মাকরূহ। ”

দলীল-
√ মছান্নাফ লি আব্দির রাজ্জাক-১/৪০১

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাগড়ী ই’তিজার করতে নিষেধ করেছেন। ই’তিজার হচ্ছে পাগড়ী গোলাকার করে বেধে মাথার উপরিভাগকে খোলা রাখা। যা মাকরূহের অন্তর্ভক্ত। ”

দলীল-
√ বাদাইউস সানায়ে-১/২১৬, 
√ আলমগীরী-১/১০৬, 
√ খলাছাতল ফতওয়া-১/৫৭