মেরাজ নিয়ে আপত্তির নিষ্পত্তি 

Standard

মি‘রাজ নিয়ে বাতিলের দুটি আপত্তির নিষ্পত্তি :
আমাদের কিছু বেশী জ্ঞানী হযরত আজ ২৭ রযব মি‘রাজ এর রাত তা মানতেই চাই না। এবার কথা না বাড়িয়ে কয়েকজন ইমামের অভিমত পেশ করবো যাদের ধুলার সমানও এই কাঠ মোল্লারা হবে না। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন মাহমুদ আইনী (রহ.) বলেন-

كَانَ الْإِسْرَاء لَيْلَة السَّابِع وَالْعِشْرين من رَجَب 

-‘‘রাসূল (দ.) এর ইসরা ভ্রমন বা মি‘রাজ ২৭ ই রযব হয়েছিল।’’ (আইনী, উমদাতুল ক্বারী, ৪/৩৯পৃ. দারু ইহ্ইয়াউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন) বিশ্বের মুসলিম সমাজের নিকট এ মতই সুপ্রসিদ্ধ। বুখারী শরীফের আরেক ব্যাখ্যাকার আল্লামা শিহাবুদ্দীন কাস্তাল্লানী (রহ.) উল্লেখ করেন-  

كان ليلة السابع والعشرين من رجب

-‘‘মি‘রাজ ২৭ ই রযব হয়েছিল’’ (কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবুল্লাদুনিয়্যাহ, ১/১৬২ পৃ.) এ মত গ্রহণ করে এবং এই মতের ব্যাখ্যায় ইমাম জুরকানী (রহ.) বলেন-

قال بعضهم: وهو الأقوى

-‘‘অনেক ইতিহাসবিদ বলেছেন, এই মতটিই অধিক শক্তিশালী। (জুরকানী, শরহুল মাওয়াহেব, ২/৭১ পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন) এবার আপনাদের সামনে আহলে হাদিস ও দেওবন্দীরা যাকে ইমাম মানেন, তিনি হচ্ছেন আল্লামা হাফেয ইবনে কাসির (রহ.)। এ বিষয়ে তিনি কি বলেন এবার দেখবো। তিনি তার বিখ্যাত একটি গ্রন্থে লিখেন-

أَنَّ الْإِسْرَاءَ كَانَ لَيْلَةَ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

-‘‘অবশ্যই মি‘রাজ সংগঠিত হয়েছে রযব মাসের ২৭ তারিখ।মহান রব তা‘য়ালাই এই বিষয়ে ভাল জানেন।’’ (ইবনে কাসির, বেদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫ পৃ.দারু ইহ্য়িাউত তুরাসুল আরাবী, বয়রুত, লেবানন) যাই হোক তাদের ইমামের কথা তারা না মানলে আমাদের কিছু করার নেই।

মি‘রাজের ইবাদত:

মি‘রাজ উপলক্ষ্যে নামায এবং রোযা রাখলে আমাদের আশে পাশে ফাতওয়া দেওয়ার মৌলভীর অভাব নেই। ইমাম বায়হাকী (রহ.) সংকলন করেন-ইমাম বায়হাকী (রহ.) সংকলন করেন-

عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ

-‘‘হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল (দ.) ইরশাদ করেন, রযবের একটি রাত রয়েছে যে রাতে ইবাদত করলে ১০০ শত বছরের (নফল) ইবাদতের সাওয়াব পাওয়া যায়। আর সেটি হচ্ছে রযব মাসের ৩ দিন বাকি থাকার রাত (২৭ ই রযব)। আর এ রাতে ১২ রাক‘আত নামায পড়বে আর প্রত্যেক রাক‘আতে সূরা ফাতেহা ও তার সাথে অন্য সূরা দ্বারা এক সালামে দুই রাক‘আত নামায আদায় করবে এবং নামায শেষে সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুল্লিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ১০০ বার পড়বে। আর নবী পাক (দ.) এর উপরে ১০০ বার দরুদ পড়বে এবং তারপরে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য র্প্রাথনা করবে, দিনে রোযা রাখবে তাহলে মহান রব অন্যায় দোয়া ছাড়া সকল দোয়া কবুল করবেন।’’ (ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, ৫/৩৪৬ পৃ. হা/৩৫৩১) 

এ বিষয়ে ইমাম বায়হাকী (রহ.) আল্লাহ যেন এই ধোঁকাবাজ থেকে হেফাযত করেন। আমিন। যরত সালমান ফারসী (রা.) হতেও আরেকটি হাদিস বর্ননা করেছেন। (ইমাম বায়হাকী, ফাযায়েলুল আওকাত, ১/৯৫ পৃ.) এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস জানতে আমার প্রকাশের পথে ‘প্রমাণিত হাদিসকে জাল বানানোর স্বরূপ উন্মোচন’ তৃতীয় খন্ড দেখুন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s