নামাজে দাঁড়ানোর নিয়ম পদ্ধতি

Standard

​নামাজের দাড়ানোর নিয়ম পদ্ধতি ৷ 

——————————————–
নামাজে দু’ দুই পা কতটুকু কি পরিমান ফাকা থাকবে বা  রাখতে হবে ? 

পায়ের সাথে পা মিলানোর নামে পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা 

আসলেই কি হাদীসে এসেছে কি ???
প্রশ্ন:

——–
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়াতে হবে, কিন্তু আমাদের দেশের ওলামারা এমনটি করতে বলেন না কেন? 

এ বিষয়ে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।
জবাব: 
بسم الله الرحمن الرحيم
মূলত হাদীসে পায়ের সাথে পা লাগিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে কাতার সোজা করতে এমনভাবে যে একজনের পা যেন অপরজনের পায়ের বরাবর সোজা থাকে।

 আগ পিছ না হয়ে যায়। একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। আসলেই পায়ের সাথে পা মিলানো উদ্দেশ্য নয়।
কাতার সোজা করা সম্পর্কিত হাদীস সমূহের দিকে নজর দিলেই তা স্পষ্ট হবে আশা করি-

692 – حدثنا عمرو بن خالد قال حدثنا زهير عن حميد عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم قال :

 ( أقيموا صفوفكم فإني أراكم من وراء ظهري ) .

 وكان أحدنا يلزق منكبه بمنكب صاحبه وقدمه بقدمه
 (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة

 ، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف،

 رقم الحديث-692)
হযরত আনাস (রাঃ) বলেন-রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন-“তোমরা কাতার সোজা কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের পিছন থেকেও দেখি”।
আর আমাদের একেকজন কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতো, আর পায়ের সাথে পা মিলাতো।
{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৯২}
২–
وقال النعمان بن بشير رأيت الرجل منا يلزق كعبه بكعب صاحبه
 (صحيح البخارى-كتاب الجماعة والإمامة 

، باب إلزاق المنكب بالمنكب والقدم بالقدم في الصف)
হযরত নুমান বিন বাশির( রাঃ) বলেন-আমাদের মাঝে একজনকে দেখতাম তিনিতার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাতেন।
{সহীহ বুখারী, কাঁধের সাথে কাঁধ 

ও পায়ের সাথে পা মিলানোর অধ্যায়}
৩–
عَنْ أَبِى الْقَاسِمِ الْجَدَلِىِّ قَالَ سَمِعْتُالنُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ « أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ». ثَلاَثًا « وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ ». قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ
 (سنن ابى داود-كتاب الصلاة،

 باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ، 

رقم الحديث-662)
আবুল কাশেম জাদালী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি হযরত নুমান বিন বাশির কে বলতে শুনেছি- রাসূল (দ)  আমাদের দিকে ফিরে তিনবার বললেন-

“তোমরা কাতার সোজা কর, আল্লাহর কসম! তোমরা কাতার সোজা কর, নতুবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তর পরিবর্তন করে দিবেন”।
তিনি [নুমান বিন বাশির] বলেন-তখন আমি দেখলাম এক লোক তার কাঁধের সাথে পাশের জনের কাঁধ মিলাচ্ছে, এবং হাটুর সাথে হাটু মিলাচ্ছে,

 এবং পায়ের গিটের সাথে গিট মিলাতো।
৪–
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ »»وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ 
(سنن ابى داود، كتاب الصلاة،

 باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ،

 رقم الحديث-666)
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর( রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (দ) ইরশাদ করেছেন-

তোমরা কাতার সোজা কর এবং কাঁধসমূহের মাঝে বরাবরি রাখ, খালি স্থান পূর্ণ কর। 

আর শয়তানের জন্য খালি যায়গা রেখো না।

 আর যে কাতার মিলালো, আল্লাহ তায়ালা তাকে মিলিয়ে দিবেন। আর যে পৃথক করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে পৃথক করে দিবেন।
 (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৬, 

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৫৭২৪,

 সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং-৪৯৬৭}
৫–
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ إِنِّى لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ
 (سنن ابى داود، كتاب الصلاة، 

باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ،

 رقم الحديث- 667)
হযরত আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (দ)  ইরশাদ করেছেন-

তোমরা কাতার সোজা কর, এবং ঘাড়কে বরাবর কর, নিশ্চয় যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! 

আমি দেখি শয়তান তোমাদের কাতারের ফাঁকে প্রবিষ্ট হয় বকরীর ছোট বাচ্চার মত। 
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৬৬৭)
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
১-কাতার সোজা করা আবশ্যক একথা বুঝানো উদ্দেশ্য। সেই সাথে জামাতে নামায পড়ার সময় মাঝখানে এমন ফাঁক রাখা যাবে না, 

যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে। 

নামাযে মুসল্লী পা ছড়িয়ে পাশের জনের পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াবে সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য নয়।
২-পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নামাযে পা ছড়িয়ে দাঁড়াতে হবে একথা উদ্দেশ্য।
প্রথম বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফুক্বাহায়ে কিরামদের।
আর দ্বিতীয় বক্তব্যটি হাদীসের মর্মার্থ উদ্ধারে অক্ষম কতিপয় ব্যক্তিদের মত। 

যারা শুধুমাত্র হাদীসের বাহ্যিক অনুবাদ পড়েই হাদীসের মর্ম বুঝে গেছেন মনে করে আত্ম-অহংকারে ভোগেন তাদের বক্তব্য।
বিশুদ্ধ বক্তব্য:

——————
প্রথম বক্তব্যটিই বিশুদ্ধ। কারণ হাদীসে রাসূল  (দ) এর উদ্দেশ্য যদি সত্যিকারভাবেই পায়ের সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো,

আর হাটুর সাথে হাটু মিলিয়ে দাঁড়ানো ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছড়িয়ে দাঁড়ানো উদ্দেশ্য হত,

 তাহলে এরকম উদ্ভট কথা রাসূল (দ) কিছুতেই বলতে পারেন না যা একেবারেই অসম্ভব।
কারণ নুমান বিন বাশির (রাঃ) এর এক বর্ণনায় এসেছে কাঁধের সাথে কাঁধ ও পায়ের সাথে পা মিলানোর কথা, আর অন্য বর্ণনায় এসেছে হাটুর কথাও। তাহলে এই সুরতটি কখনো সম্ভব?

হাটু, কাঁধ ও পা কি একসাথে মিলানো যায় কখনো?
সুতরাং বুঝা গেল-এসব হাদীসে রাসূল (দ) এর মূল উদ্দেশ্য হল- যেন লোকেরা এভাবে দাঁড়ায় যে, কাতারের মাঝখানে কোন ফাঁক থাকতে না পারে যাতে ছোট বকরীর মত প্রাণী ঢুকে পরতে পারে।

 সেই সাথে কাতার হতে হবে একদম সোজা। যেন সবার কাঁধ বরাবর হয়। পায়ের সাথে পা বরাবর হয়। হাটুর সাথে বরাবর হয়। পায়ের গিটের সাথে পাশের জনের পায়ের গিট বরাবর হয়। লাগোয়া নয় বরং বরাবর হওয়া উদ্দেশ্য।
এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করলে সকল হাদীসের অর্থ সঠিক হয়ে যায়। 

কারণ তখন “কাঁধের সাথে কাঁধ মিলবে” মানে হল সবার কাঁধ সমান সমান হবে। 
“পায়ের সাথে পা মিলবে” মানে হল সবার পা রাখার স্থান বরাবর হবে।
 “হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলবে” মানে হল সবার হাটু বরাবর হবে। 

“পায়ের গিটের সাথে গিট মিলবে” মানে হল সবার পায়ের গিট বরাবর হবে।
পক্ষান্তরে সত্যিকারর্থে পায়ের সাথে পায়ের পা মিলানোর কথা বললে সেটা হবে আজগুবি কথা।

 কারণ পায়ের সাথে পা মিলালে কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো সম্ভব নয়। 

আবার কাঁধ ও পা যদি আলৌকিকভাবে মিলেও যায়, তাহলে হাটুর সাথে হাটু মিলবে কি করে? 
যেটা আবু দাউদ শরীফের বর্ণনায় এসেছে। 

সেই সাথে পায়ের গিটের সাথে গিট ও কাঁধের সাথে কাঁধ মিলানো কি সম্ভব?
সুতরাং বুঝা গেল পা ছড়িয়ে দাঁড়ানোর কথা এসব হাদীসে বুঝানো উদ্দেশ্য নয়। 

বরং কাতার সোজা করার গুরুত্ব ও সোজা করার পদ্ধতি বুঝানো উদ্দেশ্য। 

যেটা হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারীতে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন
المراد بذلك المبالغة فى تعديل الصف وسد خلله
 (فتح البارى-2/211)
অর্থাৎ এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হল-কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব বুঝানো, আর কাতারের মাঝে ফাঁক বন্ধ করা। 
{ফাতহুল বারী-২/২১১}
হাদীসের মাঝে অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা:

———————————————–
কথিত আহলে হাদীস তথা গায়রে মুকাল্লিদরা

 এ সকল হাদীস দিয়ে পা ছড়িয়ে অন্য মুসল্লির সাথে পা মিলিয়ে দাঁড়ানো প্রমাণ করতে হাদীসের মাঝে

 একটি চাতুরীর আশ্রয় নেয়।
 যেহেতু পায়ের সাথে পা মিলানো সম্ভব হয় না, তাই তারা বলে যে, পায়ের সাথে পা মিলানোর মানে হল একজনের পায়ের কনিষ্ঠা আঙ্গুলীর সাথে অপরজনের কনিষ্ঠা আঙ্গুলী মিলানো।
এ কথাটি হাদীস নিয়ে একটি চাতুরী ছাড়া কিছু নয়।

 কারণ হাদীসের সুষ্পষ্ট 

শব্দ হল-قدم যার অর্থ পা। 

আর আঙ্গুল বুঝানো উদ্দেশ্য হলে হাদীসের 

ভাষ্য হতো الإصبع[আঙ্গুল] পায়ের কথা কেন বলা হল?
 হাদীসের শব্দের মূলার্থ পাল্টে এই মনগড়া ব্যাখ্যা দেবার অধিকার তারা কি করে পেল?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s