টাকা চুমু দেওয়া কেমন?

Standard

হযরত ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, মুদ্রাঙ্কন শালায় যখন সর্বপ্রথম মুদ্রা তৈরীর জন্য টাকা রাখা হলো তখন শয়তান ওই মুদ্রা নিয়ে চুম্বন করল এবং তার চোখ ও নাভির উপর রেখে বলে দিল যে, তোমার মাধ্যমেই আমি মানুষকে অবাধ্য করবো,এবং তোমার দ্বারা কাফির সৃষ্টি করবো।আমি আদম সন্তান হতে এ বিষয়ের উপর সন্তুষ্ট যে, টাকার প্রতি ভালবাসার কারণে তারা আমার আনুগত্য পোষণ করছে।(তালবিশ ইবলিস কৃতঃ ইমাম জওজী রহ)

Advertisements

শয়তানকে মহান আল্লাহর উত্তর

Standard

হুযুর সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে,আল্লাহ তা’আলা যখন শয়তানকে বিতাড়িত করে দিলো তখন শয়তান বলল, “হে আমার প্রতিপালক তোমার ইজ্জতের শপথ! তোমার বান্দাগণ যতদিন জীবিত থাকবে,আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে থাকব।

শয়তানের ওই প্রলাপের উত্তর মহান আল্লাহ তা’আলা এভাবে দিলেন, “আমার ইজ্জত,বড়ায়িত্ব এবং আমার সুউচ্চ মর্যাদার শপথ! আমার বান্দাগণ যখনই আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে,তখনই আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেব।(মিশকাতঃ১৬৬পৃঃ)

পুরুষের প্যান্ট,পায়জামা ইত্যাদি মুচড়িয়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরীমা। ০২

Standard

প্রশ্নঃ প্যান্ট ইত্যাদি পায়েরদিকে গুটিয়ে বা মোচড়িয়ে নিলে

যদি নামায মাকরূহ-ই-তাহরীমী হয়, তবে

কোমরের দিকে গুটিয়ে বা মোচড়িয়ে

নেয়া যাবে কি?

কেননা লুঙ্গিতো এমনিতোই

মোচড়িয়ে পরিধান করা হয়।

উত্তরঃ উপমহাদেশের প্রখ্যাত ‘আলিম

আল্লামা আব্দুস্ সাত্তার

হামদানী’ (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)

‘‘মু’মিন কী নামায’’ গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে

লিখেছেন যে-

‘‘‘এ মাসআলার ব্যাপারে সাধারণ

লোকেরা অত্যন্ত ভুলের মধ্যে রয়েছে

যে, অনেক লোককে দেখা যায় নামায

আদায় কালে প্যান্ট বা পায়জামাকে

(গোঁড়ালীর উপরে) উঠানোর জন্য প্যান্ট

বা পায়জামার নিচের দিক উপরের

দিকে মোচড়িয়ে দিয়ে থাকে।

নামাযের মধ্যে এভাবে প্যান্ট ও

পায়জামার “নিচের অংশ” মোচড়িয়ে

উপরে তুলে দেয়াকে খিলাফে মু’তাদ

বা স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থি।

এতে নামায মাকরূহ-ই- তাহরীমী হয়।

যদি প্যান্ট বা পায়জামা এত লম্বা যে,

টাখ্নু ঢেকে যায়, তবে টাখ্নু বা

গোঁড়ালী দেখা যাওয়ার জন্য প্যান্ট

বা পায়জামার নিচের দিক

মোচড়ানো অনুচিত। বরং (সম্ভব হলে)

কোমরের দিক থেকে উপরের দিক

থেকে টেনে নেবে। যদি কোমরের

দিকে টেনে (মোচড়িয়ে নয়) নেয়ার

পরও টাখ্নু বা গোঁড়ালী দৃষ্টিগোচর

নাহয় তবে গোঁড়ালী ঢাকা

অবস্থাতেই নামাযা পড়ে নেয়া

উচিত। এ ভাবে নামায পড়লে অবশ্যই

নামায মাকরূহ-ই- তানযীহী হবে। কিন্তু

গোঁড়ালী দেখা যাওয়ার জন্য প্যান্ট

বা পায়জামার নিচের দিকে

মোচড়ানোতে নামায মাকরূহ-ই-

তাহরীমী হয়। আর যে নামায মাকরূহ-ই-

তাহরীমী হয় তা পুনরায় পড়ে নেয়া

ওয়াজিব। আশ্চর্যের কথা হলো, মাকরূহ-ই-

তানযীহী হতে বাঁচার জন্য লোকেরা

মাকরূহ-ই-তাহরীমী করে বসে আর

সুন্নাতের উপর আ’মাল করছে বলে

ধারণা করে বসে।(মু’মিন কী নামায,

পৃষ্টা-১৮০-১৮১)

পুরুষের প্যান্ট,পায়জামা ইত্যাদি মুচড়িয়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরীমা। ০১

Standard

প্রশ্নঃপুরুষের প্যান্ট ,পায়জামা ও লুঙ্গি

ইত্যাদি লম্বা হওয়ার দরুন অনেকে

নামায পড়ার জন্য সেগুলো টাখ্নুর উপরে

উঠিয়ে নেয়ার জন্য পায়ের দিকে

কিংবা কোমরের দিয়ে গুটিয়ে বা

মোচড়িয়ে নেন। এছাড়া জামার হাত

ও ভাঁজ করে কব্জির উপর উঠিয়ে নেন।

শারীআ’তের দৃষ্টিতে এরূপ করা কেমন ?

এই লিংকটা দেখুন

https://m.facebook.com/story.php?story_

fbid=828477590620727&id=828288

970639589&__tn__=%2As

উত্তরঃ

হযরত সায়্যিদুনা ইমাম বোখারী

(রাহমাতুল্লাহু তা’ আলা আলাইহি)

সাহীহ্ বোখারী শারীফে

বিশেষভাবে এ মাসআলার জন্য একটি

অধ্যায়

ﺑﺎﺏ ﻻ ﻳﻜﻒ ﺛﻮﺑﻪ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ

‘বাবু লা ইয়াকপু ছাওবাহু ফিস্

সালাতি’নির্ধারণ করেছেন।

ইমাম বোখারী (রাহমাতুল্লাহু তা’

আলা আলাইহি) এ অধ্যায়ে একখানা

হাদীস শারীফ উদ্ধৃত করেছেন।

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ، ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ

ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : « ﺃﻣﺮﺕ ﺃﻥ ﺃﺳﺠﺪ ﻋﻠﻰ ﺳﺒﻌﺔ، ﻻ ﺃﻛﻒ ﺷﻌﺮﺍ ﻭﻻ

ﺛﻮﺑﺎ

-হযরতে ইবনে আ’ব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু

তা’আলা আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, হুযূর

রাসূলে আকরাম মুহাম্মদ মুস্তফা

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)

বলেছেন যে, আমার উপর হুকুম হয়েছে

যে, সাতখানা হাঁড়ের উপর সাজদাহ্

করার এবং এটাও হুকুম হয়েছে যে, কাপড়

ও চুল না মোচড়ানোর।

আর ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী

(রাহমাতুল্লাহু তা’ আলা আলাইহি)

বলেন, এহাদীস খানা হাসান ও সাহীহ্।

সুতরাং এ হাদীস হতে স্পষ্ট হয়ে গেল

যে, কাফফে সাওব (কাপড়) এবং কাফফে

শা’র (চুল) দু’টোতেই নামায মাকরূহ-ই –

তাহরীমী ওয়াজিবুল ইয়া’দাহ্ অর্থাৎ

নামাজ পুনরায় পড়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

♥ ফাক্বীহ্গণ ও সালীহীন ক্বিরামের

বাণী সমূহ

(১ ) দুর্রে মুখতারে আছে ‘‘ওয়া কারিহু

কাফ্ফাহু-ই-রফআহু ওয়া লাও লিতুরবিন

কামুশাম্মারি কুম আও জায়লি’’

এবং এটার ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে

‘আবিদিন শামী (রাদ্বিয়াল্লাহু

তা’আলা আনহু)লিখেন-‘‘এবং

কাফফে সাওব মাকরূহ অর্থাৎ কাপড়কে

উঠানো যদিও কাপড় মাটি হতে

বাঁচানোর জন্য হোক। যেমন আস্তিন

এবং আচল মোচড়ানো। যদি এ অবস্থায়

নামাযে প্রবেশ করল যে তার আস্তিন

বা তার দামন মোচড়ানো ছিল তখনও

মাকরূহ।এবং একথা হতে ঐ কথার দিকে

ইশারা করা উদ্দেশ্য যে, এ মোচড়ানো

নামাযাবস্থার সাথে বিষেশভাবে

নির্ধারিত নয়। চাই নামায শুরু করার পূর্ব

হতে বা নামাযের মধ্যখানে হোক

সর্বাবস্তায় মাকরূহ

(খন্ড-১ম. পৃষ্ঠা-৫৯৮)

(২) জাওয়াহিরাতুন নায়য়িরাহ্ নামক

কিতাবে রয়েছে –

‘‘নিজে কাপড়কে না মোচড়ায় এবং

কাফফে সাওব এটা যে সাজদাহ্ করার

সময় নিজের সম্মুখ হতে বা পিছন হতে

কাপড় উঠানো এবং

হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

সাল্লাম) বলেছেন- আমায় হুকুম হয়েছে

যে, আমি সাতখানা হাড্ডির উপর

সাজদাহ্ করব, কাপড় ও চুলকে জড় বা

একত্রিত করব না। (খন্ড-১ম, পৃষ্ঠা-৮১)

(৩)সাগিরী শারহে মুনিয়াতুল

মুসাল্লীতে রয়েছে- নামাযাবস্থা্য়

নিজ কাপড় আঁকড়িয়ে ধরে নামায

আরম্ভ করা,যেমন আস্তিন মোচড়ানো

বস্থায় বা মাটি হতে বাঁচানোর জন্য

কাপড় উঠানো, এসব মাকরূহ।(পৃষ্ঠা-১৮৯)

(৪) আলমগীরিতে রয়েছে –

নামাযীকে নিজের কাপড় বা দাঁড়ি

বা শরীর নিয়ে খেলা করা মাকরূহ

এবং কাপড়কে একত্রিত, জড় বা ভাঁজ

করাও মাকরূহ।এভাবে সাজদায় যাওয়ার

সময় নিজের সম্মুখ বা পিছন হতে কাপড়

উঠিয়ে নেয়া। এটা হতে স্পষ্ট হয়ে

গেল যে, কাপড় জড় করা, নামাযে

সাজদায় যাওয়ার সময় নিজের বা

পিছনের কাপড় জড় বা ভাঁজ করা বা

নামাযে এভাবে প্রবেশ করল যে তার

আঁচল বা আস্তিন মোচড়ানো ছিল বা

মাটি হতে বাঁচানোর তাগিদে

উঠিয়ে নিল, এগুলি সব মাকরূহ এবং

ফুক্বহায়ে কিরাম সাধারণতঃ মাকরূহ

বলে মাকরূহ-ই-তাহরীমী উদ্দেশ্য নেন।

(খন্ড-১ম, পৃষ্ঠা-১০৫)

(৫)হিদায়া এবং তাবিনুল

হাক্বায়িক্বে রয়েছে – ‘নিজ

কাপড়কে যেন একত্রিত বা জড় না করে,

কেননা এটা এক প্রকারের অহংকার’।

(হিদায়া পৃষ্ঠা-১০১, খন্ড-১ম, তাবিন ,

পৃষ্ঠা-১৫৪,খন্ড-১ম)

পবিত্র কোরআনের বাণী – ‘‘এবং

আল্লাহ পাকের সম্মুখেআদব ও বিনয়ের

সহিত দাঁড়াও’’।