নবীগণের জিকির ইবাদত আর ওলীগণের জিকির গুনাহের কাফফারা 

Standard

নেকেই উক্ত হাদিসকে জাল বা বানোয়াট বলে থাকে যেমনঃ আহলে হাদিস নাসিরুদ্দিন আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিসুদ- দ্বঈফাহ গ্রন্থে ৪/৪৮২ পৃঃ,হাদিসঃ১৯৩২ এ বলেন, হাদিসটটি মওদ্বু বা জাল।তাছাড়া অনেকে টিভি চ্যানেলেও হাদিসটিকে জাল বলে বেড়ায়।হাদিসটি হলঃ
“হযরত মু’য়ায ইবনে জাবাল( রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত,রসুলে পাক (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, নবীগণের যিকির হল ইবাদত,সালেহীনদের(ওলীদের) যিকির হল গুনাহের কাফফারা, মওতের যিকির বা স্বরণ হল সদকার সমতুল্য,কবরের কথা যিকির বা স্বরণ করলে তা তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দেবে।”
★কঃ ইমাম দায়লামীঃআল মুসনাদুল ফিরদাউসঃ১/৮২পৃঃ।

★খঃইমাম সূয়ূতীঃজামেউস সগীরঃ১/৬৬৫, হাদিসঃ৪৩৩১।

★গঃ ইমাম দায়লামী হাদিসটিকে “হাসান” বলেছেন কিন্তু ইমাম সূয়ূতী সনদে একজন রাভী দুর্বল হওয়ার কারণে হাদিসটিকে “দ্বঈফ” বলেছেন।

***ইমাম সূয়ূতী কৃতঃ জামিউল হাদিসঃ১৩/৪০পৃঃ,হাদিসঃ১২৫০২।

★ঘঃ মুত্তাকী হিন্দীঃ কানযুল উম্মালঃ১৫/৮৬৪পৃঃ,হাদিসঃ৪৩৪৩৮ ও ১৫/৯১৮পৃঃ,হাদিসঃ৪৩৫৮৪

★ঙঃ আযলুনীঃ কাশফুল খাফাঃ১/৪৮০পৃঃ,হাদিসঃ১৩৪৫

★চঃ ইমাম নাবহানীঃ ফতহুল কবীরঃ২/১১৫পৃঃ,হাদিসঃ৬৪৫৯

★ছঃ ইমাম মানাবীঃফয়জুল কাদীরঃ৩/৫৬৪পৃঃ,তিনি বলেন সনদটি দুর্বল। 

নবী পাক(দঃ) এর নাম দেখে চুমু খাওয়ার কারণে বনী ঈসরাইলের এক ব্যক্তির ২০০বছরের গুনাহ মাফ

Standard

” হযরত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বাহ(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বলেন, বনী ঈসরাইলের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল অত্যন্ত পাপী, যে ২০০ বছর পর্যন্ত আল্লাহর নাফরমানী করেছে।যখন সে মৃত্যুবরণ করে মানুষেরা তাকে এমন স্থানে নিক্ষেপ করল, যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো। তখন হযরত মূসা(আঃ) এর প্রতি ওহী এল যে, লোকটিকে ওখান থেকে তুলে যেন তার ভালভাবে জানাজার নামাজ পড়ে তাকে দাফন করা হয়।হযরত মূসা(আঃ) আরজ করলেন, হে আল্লাহ! বনী ঈসরাইল সাক্ষ্য দিচ্ছে যে,লোকটি ২০০ বছর পর্যন্ত তোমার নাফরমানী করেছিল।ইরশাদ হল, হ্যাঁ, তবে তার একটি ভাল অভ্যাস ছিল। যখন সে তাওরাত শরীফ তেলওয়াত করত, যতবার আমার হাবব হযরত মুহাম্মদ(সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাম মুবারক দেখত তখন সেটা ততবার চুম্বন করে চোখের উপর রাখত এবং তার প্রতি দরুদ পাঠ করত।এজন্য আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এবং সত্তর জন হুর স্ত্রী স্বরুপ তাকে দান করেছি।”★★ইমাম আবু নঈমঃহুলিয়াতুল আউলিয়াঃ৩/১৪২পৃঃ

★★আল্লামা বোরহান উদ্দীন হালবীঃ সীরাতে হালবিয়্যাহঃ১/৮৩পৃঃ

★★ইমাম সৈয়ুতিঃখাসায়েসে কোবরাঃ১/৩০পৃঃ,হাদিসঃ৬৮।মাকতুত তাওফিকহিয়্যাহ, বৈরুত

★★আল্লামা আবদুর রহমান ছফূরীঃনুযহাতুল মাজালিসঃ২/১৪২পৃঃ
উক্ত হাদিসের ব্যাপারে কোন মুহাদ্দিস মন্তব্য করেনি।তাদের নীরবতা পালন দ্বারা বুঝা গেল হাদিসটি সহিহ, কারন কোন মোহাদ্দেসের বিরোধিতা পাওয়া যায়নি।

যারা জ্ঞান অর্জন করেন তাদের জন্য ফেরেশতারা পাখা বিছিয়ে দেন

Standard

ইমাম হফেজ সূয়ূতী(রহঃ) তার বিখ্যাত হাদিস সংকলিত কিতাব “জামেউস সগীর” গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেন।”খাদেমুর রসুল হযরত আনাস বিন মালিক(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, রাসুল( সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য সূদুর চীন দেশে হলেও যাও, কেননা জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উপর ফরয।নিশ্চয় যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তলাবারা ইলমের জন্য বের হন তখন ফেরেশতারা তাদের নূরানী পাখা বিছিয়ে দেন”।

★কঃ ইমাম ইবনুল বারঃ”কিতাবু বায়ানুল ইলম” ১/২৮পৃঃ,হাদিসঃ২০,২১ সহীহ সূত্রে।

★খঃইমাম সূয়ূতীঃজামেউস সগীরঃ১/১৬৮পৃঃ, হাদিসঃ১১১১।
ইমাম সূয়ূতী উক্ত হাদিস বর্ণনা করে সহীহ,হাসান,দ্বঈফ কিছু বলেন নাই,তাই বুঝা গেল হাদিসটি নিশ্চয় সহীহ পর্যায়ের, যা হল মুহাদ্দিসগণের নিরবতা নীতিমালা।
আল্লামা ইবনে হাজে হাইতামী(রহঃ) এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস অন্য আরেক সনদে বর্ননা করেন- তা হলঃ

” হযরত সাফওয়ান(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, রাসুল (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন,যখন কেউ ইলম অন্বেষণের জন্য ঘর থেকে বের হয়, তখন ফেরেশতারা ছাত্র এবং শিক্ষকদের জন্য তাদের পাখা বিছিয়ে দেন।”
ইমাম তাবরানি মু’জামুল কবির এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।তবে ইমাম তিরমিযি আলেম শব্দ ব্যতীত বর্ননা করেছেন।ইমাম তিরমিযির সনদে আবদুল করীম বিন আবি মাখরুক একজন দুর্বল রাবীও রয়েছে।

★আল্লামা ইবনে হাজর হায়তামীঃ মাযমাউদ যাওয়াইদঃ১/১২৩

চতুর্থ পর্দায় রসুলে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তারকা রুপে থাকার হাদিস

Standard

প্রচলিত জাল হাদিস বইয়ের ২২৩ পৃষ্ঠায় মাওলানা মতিউর রহমান বিকৃত করে একটি সহীহ হাদিসকে জাল প্রমাণ করার হীন চেষ্টা করেছেন।অনুরুপভাবে করেছেন আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার জঘন্য কিতাব “হাদিসের নামে জালিয়াতি” এর ২৬২ পৃষ্ঠায়।তারা কোন একটা প্রমাণও উপস্থাপনও করতে পারে নাই যে, উক্ত হাদিসটি জাল।
জবাবঃ

মূল হাদিসটি হলঃ

“হযরত আবু হুরায়রা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, নিশ্চয় একদা রাসুল পাক (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞাস করলেন, তোমার বয়স কত? জিবরাঈল(আঃ) আরজ করলেন, ইয়া রসুলাল্লাহ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ( আমার বয়স সম্পর্কে) আমি জানি না, তবে চতুর্থ পর্দায় একটি নক্ষত্র প্রতি সত্তর হাজার বছর পর পর একবার উদিত হতো, তাকে আমি ৭২ হাজার বার দেখেছি।রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফরমালেন, হে জিবরাঈল! আমার প্রতিপালকের ইজ্জতের কসম।আমিই ছিলাম সেই নক্ষত্র।
★কঃ ইমাম বুখারীঃ আত তাশরীফাতে ফি খাসায়েস ওয়াল মুজিজাতঃ২/২৫৪পৃঃ

★খঃ ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবীঃ সিরাতে হালবিয়্যাহঃ ১/৪৯পৃঃ(ইমাম বুখারির সুত্রে)

★গঃ আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃতাফসিরে রুহুল বয়ানঃ৩/৫৪৩পৃঃ, ৩য় খন্ডঃসুরা তওবা,আয়াতঃ১২৮

★ঘঃআল্লামা শায়খ ইউসুফ নাবহানীঃযাওয়াহেরুল বিহারঃ৩/৩৩৯, নিজস্ব বর্ণনা অনুসারে কারও মতামত উল্লেখ ছাড়া হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বোরহান উদ্দীন হালবী আশ শাফেয়ী(রাহমাতুল্লাহি আলাইয়হি) একজন গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিস তার উপর কোন অভিযোগ নেই। মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ) শরহে শিফা ১/৩৭পৃষ্ঠা সহ অসংখ্য স্থানে ইমাম হালবীর মতামত গ্রহণ করেছেন।
দেওবন্দীদের অন্যতম আলেম রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী ও খলিল আহমদ সাহানপুরী ” বারাহানে কাতেয়ার” অনেক পৃষ্ঠায় ইমাম হালবীর নামের পাশে রাহমাতুল্লাহি আলাইহি শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর থেকে দলীলও গ্রহণ করেছেন।
আল্লামা বোরহান উদ্দীন হালবী(রহঃ) তার কিতাবের ভূমিকায় বলেন–

“সীরাত গ্রন্থ সমূহে সহীহ,সাক্বীম,দ্বঈফ, বালাগ,মুরসাল,মুনকাতা ও মু’দাল হাদিস সমূহ একত্রিত করা হয়, কিন্তু মওদ্বু বা জাল হাদিস নয়।

★ সীরাতে হালবিয়্যাহঃ১/৭পৃঃ।
অপরদিকে নজম(তারকা/নক্ষত্র) রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্যতম নাম মোবারক, রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নুরানি সত্তাকে তারকা বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।যেমনঃ অনেক স্থানে কোরআনে পাকের সূরা ” ওয়ান্নাজম” এর মধ্যে মজবুত যোগসূত্র পাওয়া যায়।কারণ, অনেক তাফসীরকারক উক্ত সুরাতে ” আন নাজম” বলতে রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝিয়েছেন, যেমনঃ
” ইমাম জাফর সাদেক(রহঃ) বলেন, আন নাজম বলতে হযরত মুহাম্মদ (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে।ইজ হাও দ্বারা রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মি’রাজ রজনীতে আসমান হতে জমিনে অবতরণ কে বুঝানো হয়েছে।”

★কঃইমাম কুরতুবীঃজামিউল আহকামুল কোরআনঃ১৭/৮৩পৃঃ, কাহেরা, মিশর।

★খঃইমাম বাগভীঃমুআলিমুত তানযিলঃ৭/৪০০পৃঃ

★গঃইমাম আলূসীঃতাফসীরে রুহুল মা’আনীঃ১৪/৪৪পৃঃ

★ঘঃকাজী সানাউল্লাহ পানিপথীঃতাফসীরে মাযহারিঃ৯/১০৩পৃঃ

★ঙঃ ইমাম সাভীঃতাফসীরে সাভীঃ৪/১২৯পৃঃ

★চঃইমাম খাযেনঃতাফসীরে খাযেনঃ৪/২০৩পৃঃ

★ছঃ আল্লামা ইসমাঈল হক্কীঃরুহুল বয়ানঃ৯/২০৮

রাসুলে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলে জাহান্নামের আগুন হারাম

Standard

আহলে হাদিস নাসিরুদ্দিন আলবানী তার দ্বঈফু মিশকাত গ্রন্থের ৬০০৪ নং হাদিস হিসেবে উক্ত সহীহ হাদিসককে দ্বঈফ বলে উল্লেখ করেছেন।মূল হাদিসটি হলঃ

“হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত,রাসুল (সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে এরশাদ করতে শুনেছি যে, মুসলিম ব্যক্তি আমাকে দেখবে(স্বপ্নে বা বাস্তবে) অথবা আমাকে যাহারা দেখিয়াছে তাহাদেরকে যে দেখিয়াছে,তাহাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করিবে না।”
★ইমাম তিরমিযিঃ আস সুনানঃ৫/৬৫১পৃঃ,হাদিসঃ৩৮৫৮

★ ইমাম সৈয়ুতিঃআল জামেউস সগীরঃ২/৭০৫পৃঃ,হাদিসঃ৯৮৬৭

★ খতিব তিবরিযিঃমিশকাতঃ মানাকিবে সাহাবাঃ৪/৪১৩পৃঃ, হাদিসঃ৬০১৩,দারুল কুতুব, ইলমিয়্যাহ, বৈরুত।

★ইমাম তাবরানিঃমু’জামুল কবীরঃ১৭/৩৫৭,হাদিসঃ৯৮৩

★ ইমাম তাবরানিঃমু’জামুল আওসাতঃ১/৩০৮পৃঃ,হাদিসঃ১০৩৬

★ইমাম দায়লামীঃআল মুসনাদুল ফিরদাউসঃ৫/১১৬পৃঃ,হাদিসঃ৭৬৫৯

★ আল্লামা ইবনে হাজর হায়তামীঃ মাযমাউদ যাওয়াইদঃ১০/২১পৃঃ

★ আলবানীঃদ্বঈফুল মিশকাতঃহাদিস নং:৬০০৪
ইমাম সৈয়ুতি উক্ত হাদিসটি সংকলন করে বলেন হাদিসটি সহীহ। আর ইমাম সৈয়ুতি ইমাম মুকাদ্দাসীর সংকলিত সনদের উপর ভিত্তি করে এই রায় দিয়েছেন।
অপরদিকে ইমাম তিরমিযি বলেন, হাদসটি হাসাস ও গরীব।

ইমাম তিরমিযির সনদে কোন রাবী দুর্বল নেই তাই উক্ত হাদিসটি নিঃসন্দেহে সহীহ।