কেন নবী পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক স্ত্রী বিয়ে করেছেন?

Standard

ঐতিহাসিকভাবে বিয়ে করার সুনির্দিষ্ট একটা কারণ হচ্ছে আমাদের টিকে থাকা।রসুলে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স যখন ২৫ বৎসর,তখন তিনি প্রথম বিয়ে করেন।তাঁর স্ত্রী খাদিজা(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর চেয়ে বয়সে ১৫ বৎসরের বড় ছিলেন।যতদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন নি(আল্লাহ তার উপর রহম করুক) পরবর্তী ২৫ বৎসর পর্যন্ত তিনিই ছিলেন রসুলে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একমাত্র স্ত্রী।
একমাত্র তাঁর(খাদীজা) মৃত্যুর পর নবীই পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য একজন মহিলাকে বিয়ে করেন।এখন এটা সুস্পষ্ট যে,  যখন ৫০ বছরের বেশী বয়সে যখন তিনি একাধিক বিয়ে করেন, ততদিন অর্থাৎ ৫০ বছরের বেশী বয়স পর্যন্ত তাকে একাধিক বিয়ে করার জন্য অপেক্ষা করতে হত না।কারণ, তিনি যে সমাজে বাস করতেন সে সমাজে বহুবিবাহ অনায়াসে মেনে নিত।কিন্তু নবী পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ ২৫ বৎসর পর্যন্ত তাঁর একমাত্র স্ত্রী (খাদিজা) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।যখন তিনি(খাদীজা) মারা যায়,তখন তাঁর(খাদীজা) বয়স ছিল ৬৫ বৎসর।

নবীই পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরবর্তী বিবাহ হয়েছিল বিভিন্ন কারণেঃ
১) কিছু বিবাহ হয়েছিল সেসব মহিলাকে সাহায্য করার জন্য যাদের স্বামী মারা গিয়েছিল এবং তাদের জন্য তাদের স্বামীই ছিল একমাত্র ভরসা।

২) দ্বিতীয় কারণ হলঃ একনিষ্ট সাহাবীদের সাথে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য।যেমনঃআবু বকর, ওমর(আল্লাহ তাদের উপর রহম করুক)।

৩)তৃতীয় কারণ হলঃ বিভিন্ন গোষ্ঠীদের সাথে বন্ধন তৈরী করা অন্যথায় তারা মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হত।যখন নবী পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহের মাধ্যমে তাদের আত্মীয় হলেন,তাদের যুদ্ধ প্রবণতা শান্ত হয়ে গেল এবং খুনাখুনি বন্ধ হয়ে গেল।

সাম্প্রতিক সময়ের অ-মুসলিম লেখক যার সুযোগ হয়েছিল নবীই পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী নিয়ে সরাসরি গবেষণা করার এবং তিনি অনুরুপভাবে উপসংহারে পৌঁছেছেন তাঁর বহু বিবাহ সম্পর্কে। John.L.Esposito,professor of religion &director of center for international studies at the colleges of the Holy cross, path, Oxford university press 1988; page-19.
তিনি এটি এভাবে ব্যখ্যা করেন-
ঐতিহাসিকভাবে আরব দেশের প্রধান হিসেবে, অনেক কুটনৈতিক বা রাজনৈতিক বিবাহ সংযুক্ত করে মিত্রতার বন্ধন।
আরেক রকম বিবাহ ছিল,বিধবা স্ত্রী বিবাহ করেছেন তাঁর সঙ্গী হিসেবে যারা যুদ্ধ বিগ্রহ এবং নিরাপত্তার অভাবে পড়েছেন।
[John.L.Esposito:The straight path page:19-20]

Esposito আমাদেরকে নিম্নোক্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দেয়—
বাইবেল কর্তৃক অনুমোদিত এমনকি বাইবেল পরবর্তী যুগে ইহুদি ধর্মে বহুবিবাহ প্রথা বৈধ ছিল।Abraham, David,Solomon এর সময়ও বহুবিবাহ বৈধ ছিল।আর এই সময়কে উন্নতিসাধনের কাল বলা হয়।
[page-19]

অন্য একজন অ-মুসলিম Casear.F.Farah লেখেন এভাবেঃ
তাঁর মৌলিক যৌবনকাল ও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজা(রাঃ) এর প্রতিই আসক্ত ছিলেন এবং এই সময় তিনি অন্য কারও সাথে সময় কাটাতেন না বা আসক্ত ছিলেন না।এই বয়সে বহুবিবাহের প্রত্যাশা হওয়াটা স্বাভাবিক এবং সমাজে বেঁচে থাকার জন্য পূর্ববর্তী বাইবেল যুগ ও পরবর্তী বাইবেল যুগে বহুবিবাহ একটি প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য।ডেবিটের ৬ টি স্ত্রী এবং অসংখ্য দাসী ছিল।[★2 samuel5:13;1★Chronicles 3:1-9;14:3]
এবং সোলোমনের  ৭০০ জন স্ত্রী ও ৩০০জন দাসী ছিল[1. king 11:3]সোলোমনের ছেলে রেহোবোমের ছিল ১৮ টি স্ত্রী এবং ৬০ জন দাসী[ 2 chronicles 11:2;1]

নতুন বাইবেলের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট হুকুম নেই বহুবিবাহেরর বিরুদ্বে। এটি ছিল অভিজাত্যদের জন্য সধারণ জায়গা এবং সকল খৃস্টান ও ইহুদিদের জন্য বহুবিবাহেরর চুক্তি।Luther ধৈর্যের সাথে এই বক্তব্য রাখেন।
[Casear.E.Farah, Islam:Belief’s and observances, 4th edition, Barron’s, U.S.1987, page-69]

Casear Farah উপসংহার টানেন যে, মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহুবিবাহ করেছিলেন একটা কারণ হল সামাজিক বা কূটনীতিক বা রাজনৈতিক কারণে এবং আরেকটা কারণ হল যাদের স্বামী যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছেন(শহীদ হয়েছেন) ইসলামিক সমাজ রক্ষা করতে।অর্থাৎ বিধবা বিবাহ করেছেন।
[page-69]

যখন মানুষ শুনে যে, নবীই পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক স্ত্রী ছিল তারা কোন চিন্তা ভাবনা না করেই নবীই পাকের(সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর অপবাদ দিতে থাকে। অথচ কিছুটা তাঁর ঐতিহাসিক জীবনী দেখলে তা প্রমাণ করে আরেকটা।আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি ধারা বর্ষণ করুক এবং রহম করুক উত্তম চরিত্রের রসুল হিসেবে।

Advertisements