জান্নাতের ফেরেশতার মিলাদুন্নবী(দঃ) এর সুসংবাদ

Standard

ন্নাতের ফেরেশতা রেদ্বওয়ান আলাইহিস সালামের সুসংবাদঃ
_______________________________
হযরত ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দুনিয়াতে তাশরীফ আনলেন (জন্ম গ্রহণ করলেন), জান্নাতের পাহারাদার ফেরেশতা রেদওয়ান আলাইহিস সালাম তাঁর কানে এসে বললেন,
“হে মুহাম্মাদ, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। একজন নবীর জন্য যত ইলিম অবশিস্ট ছিল, তার সবই আপনাকে (আল্লাহর হুকুমে) দান করে দিলাম । এখন থেকে আপনিই হচ্ছেন নবীগণের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং অন্তরের দিক থেকে সবচেয়ে সাহসী।
রেফারেন্সঃ
আল মাওয়াহিবুল লাদুনিয়্যাহ বিল মিনাহিল মুহাম্মাদিয়্যাহ- ১/১২৬
বিশ্ববিখ্যাত এ কিতাবটি লিখেছেন সহীহ বুখারীর অন্যতম ব্যাখ্যাকার আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল কাসতালানী। তাহকীক করেছেন সালিহ আহমাদ আশ শামী।
আবার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, শায়েখ বদরুদ্দীন আয যারাকশী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর শারহু বুরদাতিল মাদীহ নামক কিতাবে যিনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রসিদ্ধ আল্লামাহ ছিলেন।

Advertisements

মীলাদুন্নবী(দঃ) ঈদ হলে সালাত থাকতো এই মর্মে আপত্তির জবাব

Standard

আপত্তি: ঈদে মীলাদুন নবী’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ঈদ হতো এবং সকল ঈদের সেরা ঈদ হতো, তবে এখানে ছলাত থাকতো, খুতবা থাকতো। ছলাত ডবল হতো, খুতবা ডবল হতো। কিন্তু এখানে ছলাত, খুতবা নেই।’

জবাব: পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সাইয়্যিদুল আইয়াদ, অর্থাৎ, সকল ঈদের সেরা ঈদ, সেহেতু এ ঈদে এমন ছলাত রয়েছে, সে ছলাত শুধু ডবলই নয়, বরং দায়িমী ছলাত। এ ছলাত শুরু হয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকে এবং এটা জারী থাকবে অনন্তকাল ধরে। কারণ এ ছলাত স্বয়ং আল্লাহ পাক পড়েন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে –

ان الله وملائكته يصلون على النبى يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما .

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক এবং তাঁর ফেরেশতাকুল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে ছলাত পড়েন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর শানে ছলাত পড়ো এবং সেই সাথে যথাযথ সম্মানে সালামও পেশ করো।” (সূরা আহযাব, ৫-৬ আয়াত)

উক্ত আয়াত শরীফের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক মু’মিন-মুসলমানদের জন্য এ ছলাত পড়া ফরয-ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এমনকি এ ছলাত অন্য ইবাদতসমূহের মধ্যেও পড়ার হুকুম রয়েছে। বিশেষ করে দোয়া বা মুনাজাতকে বলা হয়েছে ইবাদতের মগজ।

যেমন হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে –

عن انس رضى الله تعال عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الدعاء مخ العبادة .

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা সারবস্তু।” (তিরমিযী, মিশকাত)

আর সেই দোয়া বা মুনাজাত ততোক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তাঁর শানে ছলাত পড়া না হবে। সুবহানাল্লাহ!

যেমন হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে –

عن عمر بن الخطاب رضى الله تعالى عنه قال ان الدعاء موقوف بين السماء والارض لايصعد منها شىْء حتى تصلى على نبيك

অর্থ: “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও যমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। যতোক্ষণ পর্যন্ত নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ না করবে, ততোক্ষণ তোমার কোনো দোয়া-ই আল্লাহ পাকের কাছে পৌঁছাবে না।” (তিরমিযী, মিশকাত)

“তাইসীরুল উছূল” কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে –

الدعاء موقوف بين السماء والارض لا يصعد حتى يصلى على النبى صلى الله عليه وسلم. صلوا على اول الدعاء واوسطه واخره

অর্থ: “দোয়া আসমান ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে। যতোক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করা না হয়, ততোক্ষণ পর্যন্ত দোয়া উপরে উঠে না বা কবুল হয় না। সুতরাং, তোমরা দোয়ার শুরুতে, মধ্যখানে ও শেষে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করো।”

অতএব, এ ছলাতের গুরুত্ব কতো বেশি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইভাবে এ ঈদে এতো বিশাল ও এতো ব্যাপক খুতবা রয়েছে, যে খুতবা (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আলোচনা, প্রশংসা, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, ছানা-ছিফত) ক্বিয়ামত পর্যন্ত বর্ণনা করা হলেও তা শেষ হবে না। সুবহানাল্লাহ!

যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক নিজেই ইরশাদ করেন –

ورفعنا لك ذكرك .

অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আলোচনা বা খুতবাকে বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ-৪)। সুবহানাল্লাহ!

এবং আল্লাহ পাক বান্দাদেরকে আদেশ করেছেন –

انا ارسلنك شاهدا ومبشرا ونذيرا. لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا .

অর্থ: “তোমরা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমত করো, তাঁকে সম্মান করো এবং সকাল-সন্ধ্যা, অর্থাৎ, সদাসর্বদা তাঁর প্রশংসা, ছানা-ছিফত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করো। এক কথায় তাঁর শানে খুতবা প্রদান করো।” (সূরা ফাতহ- ৮, ৯)  সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, সব ঈদের হুকুম এক রকম নয়। যেমন ঈদুল ফিতরের বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা; আর ঈদুল আযহার বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পরে পশু কুরবানী করা, যার প্রত্যেকটি ওয়াজিব। এ দু’ঈদে কিন্তু রোযা রাখা হারাম। কিন্তু জুমুআর দিন ও আরাফা’র দিন মুসলমানদের এ দু’ ঈদে রোযা রাখা হারাম নয়, বরং অশেষ ফযীলতের কারণ। আর এ দু’ ঈদের আমলের মধ্যে কুরবানী কিংবা ছদক্বাতুল ফিতর কোনোটি-ই নেই। বরং জুমুআর দিনে যুহরের নামাযের পরিবর্তে কেবলমাত্র পুরুষ, বালিগ, সুস্থ, মুক্বীম ব্যক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে খুতবাসহ নামায আদায় করতে হয়। আর মহিলাদের জন্য জুমুআর দিনে আলাদা কোনো ছলাত-ও নেই, আবার খুতবা-ও নেই। আর আরাফার দিনে শুধুমাত্র যারা হজ্জে যেয়ে থাকেন, তাদের জন্য ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে অবস্থান
করাটা ফরযের অন্তর্ভুক্ত। আর শুধুমাত্র হাজীগণের জন্য আরাফা’র ময়দানে যুহর ও আছর নামায পড়তে হয়। ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আরাফা’র ময়দানে আলাদা কোনো ছলাত নেই। আর খুতবা শুধুমাত্র হাজীগণের জন্যই। হাজীগণ ছাড়া দুনিয়ার কোনো মুসলমানের জন্য, হোক সে পুরুষ অথবা মহিলা, তার জন্য আরাফা’র দিন ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোনো ছলাতও নেই, খুতবাও নেই। আর অন্যান্যদের জন্য আরাফা’র দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত এবং অশেষ ফযীলতের কারণ।

এছাড়া, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি খাঞ্চা নাযিলের দিনকে যে ঈদের দিন সাব্যস্ত করা হয়েছে, সে ঈদ উপলক্ষে কোনো খুতবা ও ছলাত (নামায) রয়েছে কি? বরং সে ঈদ উপলক্ষে কেবল খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ঈদ হলেই যে খুতবা ও ছলাত থাকতে হবে, তা নয়। বরং একেক ঈদের একেক হুকুম, যা আল্লাহ পাকের কুদরতের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, সাইয়্যিদুল আইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে উলামায়ে ছূ’দের প্রদত্ত বক্তব্য চরম জিহালত ও মূর্খতা বলেই প্রমাণিত হলো।

  সমাপ্ত

১২ রবিউল ই রসুল সলল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন

Standard

সত্যের সন্ধানে

বর্তমানে মিডিয়াতে এমনকি বিভিন্ন জায়গায়
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম
তারিখ নিয়ে নুতন এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ওয়াহাবী,
লা-মাযহাবী, রাসুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিবসের প্রকাশ্য
দুশমনেরা জনগণকে বুঝাতে চাচ্ছে, ১২ ই রবিউল
আউয়ালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
জন্ম গ্রহণ করেন নি। এটা ভুয়া।
যেহেতু এটা ইতিহাস সংক্রান্ত, তাই
আমি ঐতিহাসিকগণের মতামতের দিক
বিচারে প্রমাণ করব, ১২ ই রবিউল আউয়ালই হচ্ছে রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জন্ম
তারিখ।
১/মুহাম্মাদ বিন ইসহাক (রাহ) এর মতঃ
মুহাম্মাদ বিন ইসহাক কে?
তাঁর পুরো নাম হচ্ছে আবু বাকার মুহাম্মাদ বিন
ইসহাক। তিনি ৮৫ হিজরীতে মদীনা মুনাওওয়ারায়
জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়
মদীনা শরীফে কাটিয়েছেন। তিনিই হচ্ছেন প্রথম
মুসলিম ঐতিহাসিক যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান জীবনের উপর গ্রন্থ
লিখেছিলেন। তাঁর সীরাত গ্রন্থটির নাম
হচ্ছে “সীরাতু রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম”।
মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে বিশ্ববিখ্যাত
উলামাদের মন্তব্যঃ
ক/ ইমাম সুফিয়ান ছাওরী বলেন,
আমি ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের…

View original post 852 more words