হানাফী মাযহাবের হাদিস নির্ভরতা সবচেয়ে বেশী

Standard

হানাফী মাযহাবের হাদীস নির্ভরতা সবচেয়ে বেশী- মুফতী আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক

ইসলামী শরিয়তের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ঢালটির নাম ‘হানাফী মাযহাব’। এ মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা যিনি, তাঁকে সকল মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফকিহ্ ও মুহাদ্দেসগণ ‘ইমাম আযম’ বলে জানেন ও মানেন। তিনি হলেন ইমাম আবু হানীফা নু’মান বিন সাবিত রাহমাতুল্লাহি আলায়হি। হানাফী মাযহাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইলমে ফিক্হ’রও গোড়াপত্তন করেছিলেন তিনিই। তাঁর পথ ধরেই ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও আহমদ বিন হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলায়হি আপন আপন মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একটি গাছের চারটি ঢালে অনেক পাতা। তবে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশী পাতা ঝুলছে ঐ হানাফী ঢালে।
আমাদের সমাজে অনেক বিভ্রান্তির মধ্যে একটি চিহ্ণিত গোষ্ঠী ফিক্হ ও হানাফী মাযহাব নিয়ে পানি ঘোলা করছে। কেউ কেউ ফিকহ্-ফতোয়ার কথা শুনলে আঁতকে উঠেন। ভাবটা এমন যে, ইসলামের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক একটা কিছুর নাম ‘ফিক্হ’। অনেকে আবার হানাফী মাযহাবের কথা শুনলে বক্র চোখে তাকান। কেউ বলেন, ইমাম আবু হানিফা হাদীস জানতেন না বিধায় হানাফী মাযহাব হাদীস বিরোধী ইত্যাদি অনেক কথা। কিন্তু গভীর গবেষণার চোখে তাকালে দেখা যাবে যে, ইসলামী শরীয়তের চার মাযহাবের মধ্যে কুরআন ও হাদীসের উপর নির্ভরশীলতা যে মাযহাবের সবচেয়ে বেশী-তার নাম ‘হানাফী মাযহাব’। হাজার বছর ধরে নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ও ফকিহ্গণের গবেষণার নির্যাস তাই প্রমাণ করে। আলোচ্য নিবন্ধে এ কথাই প্রমাণ করার চেষ্টা করব যে, ‘হানাফী মাযহাবের হাদীস নির্ভরতা সবচেয়ে বেশী’।

দৃষ্টিকোণ
হানাফী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা যেহেতু ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি, সেহেতু তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও সঠিকতার উপরই মূলত হানাফী মাযহাবের সঠিকতা ও গভীরতার বিষয়টি নির্ভরশীল। কারণ, আহরিত জ্ঞানের শতভাগ ব্যবহারে তাঁর নিষ্ঠা ও আমানতদারী প্রশ্নাতীত। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি।

ইমাম আবু হানীফা রাহমাতুল্লাহি আলায়হি খায়রুল কুরুনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তিন যুগকে উত্তম যুগ বলেছেন, সাহাবীদের যুগ, তাবেয়ীদের যুগ ও তাবে তাবেয়ীদের যুগ। এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় স্তরভিত্তিক এই তিন যুগের মানুষ জ্ঞানে-গুণে, তাকওয়া, বুযুর্গী এবং আমানতদারীতে নিঃসন্দেহে পরবর্তী যুগের মানুষের চেয়ে অগ্রগামী। যেহেতু ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ছিলেন এই তিন যুগের দ্বিতীয় (তাবেয়ী) যুগের অন্তর্ভুক্ত, (যে সম্মান অন্য তিন ইমামের নেই) সেহেতু তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাযহাবও উত্তমতা ও সঠিকতার বিবেচনায় অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় শ্রেষ্ঠ হবে, এটাই স্বাভাবিক।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর জ্ঞান সম্পর্কে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যৎবাণী
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন ‘দ্বীন সুরাইয়া নক্ষত্রের দূরবর্তী উচ্চতায় চলে গেলেও পারস্যের এক ব্যক্তি তা সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করবে। হাদিসটি ন্যূনতম দশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। অন্য হাদীসে পাওয়া যায়, ইলম সুরাইয়া নক্ষত্রের দূরবর্তী উচ্চতায় চলে গেলেও পারস্যের এক বা একাধিক ব্যক্তি তা সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করবে। এই হাদীসটি অসংখ্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম আপন আপন কিতাবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও ইবনে হাজর হায়তামী রহমাতুল্লাহি আলায়হিসহ অনেক নির্ভরযোগ্য হাদীসবিশারদ এই হাদীসের দ্বারা ইমাম আযুম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হিকে উদ্দেশ করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেছেন এখানে উল্লেখ্য যে, পারস্য বলতে অনারব বুঝানো হয়েছে এবং আরো উল্লেখ্য যে, এ হাদীস দ্বারা নবী যুগের পরবর্তী কোন অনারবের ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে বিধায় হাদীসটি হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ইমাম আজম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি সম্পর্কে রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর এ ভবিষ্যৎবাণী প্রকারান্তরে হানাফী মাযহাবের সত্য নিষ্ঠতার প্রমাণ বহন করে।

ইমাম আযম সম্পর্কে সমসাময়িক মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের মতামত
ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি সম্পর্কে তাঁর সমসাময়িক মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের যে সকল মতামত ব্যক্ত করেছেন তদ্বারা ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর জ্ঞানের গভীরতা ও হানাফী মাযহাবের সত্য নিষ্ঠতার প্রমাণ যেমন পাওয়া যায়, তেমনি বর্তমান যুগে ঐ সকল সমালোচকদের যথেষ্ট জবাবও তৈরী হয়, যারা বলে হানাফী মাযহাব হাদীস বিরোধী বা ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি হাদিস জানতেন না।
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, কেউ শিখতে চাইলে সে যেন আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও তাঁর ছাত্রদের সাহচর্যে নিজেকে নিবিষ্ট রাখে। কারণ, ইলমে ফিকহ্ এর ক্ষেত্রে সকলেই আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর বংশধর। বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাযার দাদা ওস্তাদ বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দেস ইমাম ইয়াহইয়া বিন সাঈদ কাত্তান রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, আল্লাহর শপথ! শরিয়তের মাসআলার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা এর রায় থেকে অধিকতর সুন্দর রায় আমরা শুনিনি। আমরা তাঁর প্রায় সব ফতোয়াই গ্রহণ করে নিয়েছি। প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য জগদ্বিখ্যাত আরেকজন মুহাদ্দিস সুফিয়ান বিন ওয়াইনাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, মাগাযী শিখতে হলে মদীনা মুনাওয়ারায়, হজ্জের মাসায়েল শিখতে হলে পবিত্র মক্কায় এবং পুরো ফিকহ্ শিখতে হলে কুফায় ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর শিক্ষালয়ে যেতে হবে।
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ওস্তাদ ইমাম ওয়াকী বিন র্যারাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সামনে একটি জটিল বিষয়ের হাদীস উল্লেখ করা হলে তিনি দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে লাগলেন, অনুতাপ করে ফায়েদা কি! ঐ বৃদ্ধ লোকটি (আবু হানিফা) কোথায়? এই সমস্যার বৃত্ত থেকে তিনিই পারেন আমাদেরকে মুক্ত করতে। তিনি আরও বলেন, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ফিকহ’র দশভাগের এক ভাগও আমাদের ভাগ্যে জুটলে ধন্য হতাম। ইলমে হাদীসের সাগর আব্দুল্লাহ্ বিন মুবারক রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম সুফিয়ান সওরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি, এ তিনজনের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর গবেষণা সর্বাধিক সুন্দর, গভীর মেধা সম্পন্ন এবং ফিকহ’র ক্ষেত্রে অধিকতর সূক্ষ্ম। তিনজন থেকে তিনিই বড় ফকিহ।
ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হিকে এতই মেধা সম্পন্ন পেয়েছি যে, পাথরের খুঁটিকেও যদি তিনি সোনার দাবী করে বসেন তবে অকাট্য দলীল দিয়ে তা প্রমাণও করে ছাড়েন। ইলমে হাদীসে মহাসাগর ইমাম সুফিয়ান সওরী বলেন, জমীনের উপরে সবচেয়ে বড় ফকিহ্ হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি। ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ওস্তাদ আবু আসেম রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম আবু হানিফা ও সুফিয়ান সওরীর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর নগন্য একজন ছাত্র বা গোলামও ইমাম সুফিয়ান সওরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি থেকে অধিক ফিক্হ জানেন। বিশ্ববিখ্যাত এ রকম হাজারও মুহাদ্দিস আছেন যারা ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি’র জ্ঞানের গভীরতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। হানাফী মাযহাব হাদীস বিরোধী হলে জগদ্বিখ্যাত এ সকল মুহাদ্দিসগণ কখনই এমন স্বীকৃতি দিতেন না। আর হাদীস ছাড়া ফিকহ্ তৈরী হয় না। দুধ থেকে যেমন পনির তৈরী হয়, তেমনি কুরআন-হাদীস থেকে ফিকহ্ উৎসারিত হয়। কাউকে ফকিহ্ হিসেবে মেনে নিয়ে যদি বলা হয় তিনি হাদীস জানেন না- তবে তা সাংঘর্ষিক কথা। আ’মাশ রহমাতুল্লাহি আলায়হি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ওস্তাদ আপন শিষ্যের মেধা ও মননের গভীরতা দেখে দার্শনিক ভঙ্গিতে বলেছিলেন, হে ফকিহ দল, তোমরা হলে অভিজ্ঞ ডাক্তার, আর আমরা মুহাদ্দিসরা ফার্মাসিস্ট। একই কথা ইমাম আওযায়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হিও বলেছেন। ইমাম ইবনে ওয়াহাব রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর উক্তিটি আরও স্পষ্ট, যে মুহাদ্দিস ফিকহের ক্ষেত্রে কোন নির্ভরযোগ্য ইমাম মানে না, সে গুমরাহ। মহান আল্লাহ্ যদি ইমাম মালেক ও লাইস রহমাতুল্লাহি আলায়হিমকে দিয়ে আমাদের রক্ষা না করতেন তবে আমরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যেতাম। ফিকহ্ বা ফতোয়ার কথা শুনলেই আঁতকে উঠার কোনই কারণ নেই। ফকিহ্ হওয়া ভাগ্যের বিষয়। হাদীস শরীফে দেখুন, আল্লাহ্ যাঁর মঙ্গল চান, তাঁকে ধর্মের ফকিহ্ বানিয়ে দেন।
অন্য হাদীসে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, এই দ্বীনের ফাউণ্ডেশন হল ইলমে ফিকহ্। পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ১২২ নম্বর আয়াতের মর্মানুযায়ী দেখা যায় যে, লাখো মানুষের মাঝে ফকিহ্ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন দু’ একজন। এ কথাগুলো সামনে রাখলেই ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও হানাফি মাযহাব সম্পর্কে সকল সংশয় দূর হয়ে যাবে। সমসাময়িক ও পরবর্তী হাজারও মুহাদ্দিস এবং ওলামায়ে কেরাম যাঁকে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ফকিহ্ মেনে নিয়েছেন, মুহাদ্দেসদের গোমরাহ্ হওয়া থেকে বাঁচতে হলে যেখানে ফকিহ্ ইমাম মানা অপরিহার্য, ইলমে ফিক্হ যেখানে আল্লাহ্ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত ও দ্বীনের ফাউণ্ডেশন, সেখানে উম্মতের শ্রেষ্ঠতম ফকিহ্ হিসেবে স্বীকার্য ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও হানাফি মাযহাব সম্পর্কে সৌদি আরব ও কুয়েতিদের মদদে বিশ্বে যেভাবে নগ্ন সমালোচনা চালানো হচ্ছে, তা এক কথায় আমাদের ধর্মের জন্য লজ্জা ও যার পর নাই পরিতাপের। হাদীস মুখস্থ করে মুহাদ্দিস হওয়া যায়। কিন্তু ফিকহ্ মুখস্থ করে ফকিহ্ হওয়া যায় না। এটাই তো কারণ, যে লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে সকলেই কমবেশী হাদীস বর্ণনাকারী। আর ফতোয়াদানকারী সাহাবী মাত্র ১৩০ জনের মত এবং তার মধ্যেও মুজতাহিদ সাহাবী কম বেশ ১০ জন। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ, হাদীস শুনলেই যে ফিকহে হাদীস বুঝে আসবে তা কিন্তু নয়। অনেক সময় হাদীস শ্রবণকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর তুলনায় ফিকহে হাদীস বুঝেন। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকে সতেজ রাখুন যে আমার কোন হাদীস শুনে অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত তা মুখস্থ রেখেছে। কারণ, অনেক ফিকহ্ বহনকারী ঐ ফিকহকে পৌঁছে দেন যে তার চেয়েও অধিকতর বড় মানের ফকীহ্ তাঁর কাছে এবং অনেকে এমন আছেন যারা ফিকহ্ বহন করে চলেন কিন্তু ফকিহ্ নন। হাদীস বর্ণনাকারী লক্ষাধিক সাহাবীর মধ্যে ফকিহ্ সাহাবী কম হওয়া এবং উম্মতের মধ্যে গুটি কয়েকজন মাত্র ফকিহ্ ও মুজতাহিদ হওয়ার বাস্তব কারণ এটাই। সাহাবীদের পরে উম্মতের গুটিকতেক সম্মানীয় ফকিহদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

সরাসরি সাহাবীদের কাছ থেকে ইমাম আযম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হির ইলমে হাদীস শিক্ষাগ্রহণ
পূর্বেই বলা হয়েছে ইমাম আযম রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাবেয়ী ছিলেন। চার ইমামের অন্য কারও এ মর্যাদা নেই। সরাসরি অনেক সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করে হাদীসের শিক্ষা লাভ করেছেন ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি। যে সকল সাহাবীর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁদের মধ্যে হযরত আনাস বিন মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে হারিস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবি আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু উল্লেখযোগ্য।
সাহাবীদের সাথে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সাক্ষাৎ ও শিক্ষা লাভ করাকে অস্বীকার করা কোন মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ইমাম হুসাইন ইবনে আলী সাইমিরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৪৩৬হি.) ইবনে খাল্লেকান রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৬৮১হি.), ইমাম যাহাবী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৭৪৮হি.), ইমাম ইয়াফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৭৬৮হি.) ইবনে হাজর আসকালানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৮৫২হি.), ইবনে বাজ্জাজ কিরদারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৮২৭হি.) এর মত বিভিন্ন মাযহাবের অসংখ্য মুহাদ্দিস ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সাথে সাহাবায়ে কেরামের সাক্ষাৎ ও শিক্ষা লাভের বিষয়টির অকৃত্রিম স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। এছাড়া ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি কর্তৃক সাহাবীদের কাছ থেকে হাদীস রেওয়ায়াত করার বিষয়ে ইমাম আবু নাঈম ফজল ইবনে দুকাইন রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ২১৮হি.), ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মঈন রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ২৩৩হি.), ইমাম আবু হামেদ আরানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৩২১হি.), ইমাম আলী ইবনে মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৩২৪হি.) ইমাম মুহাম্মদ বিন ওমর যায়াবী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৩৫৫হি.), ইমাম আবু নাঈম ইসফাহানী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৪৩০হি.), ইমাম বায়হাকী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৪৫৮হি.), ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৪৬৩হি.), ইমাম খাওয়ারিযিমী রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৬৬৫হি.) হাফেজ ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ৭৭৪হি.) এর মত বিশ্ববিখ্যাত নির্ভরযোগ্য অসংখ্য মুহাদ্দিস স্বীকৃতি প্রদান করে বিভিন্ন কিতাবে তার বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়েছেন। সাহাবীদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনাকারী ও শিক্ষা লাভকারী ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি সম্পর্কে যদি বলা হয় যে, তিনি হাদীস জানতেন না বা হানাফী মাযহাব হাদীস বিরোধী তা নিতান্ত অরুচিকর কথা বৈ কি?

পবিত্র মক্কা, মদীনা, কুফা ও বসরার জ্ঞানে সমৃদ্ধ ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি
ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, মুহাদ্দেসীনের সাহচর্যে যাওয়ার জন্য আমি কতবার কুফা এবং বাগদাদে গিয়েছি তার হিসাব নাই। অসংখ্যবারের মত ইমাম বুখারীর কেন কুফা নগরীতে যাওয়া? কারণ একটাই মধুর কাছে মৌমাছির যাওয়া। হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদকে আল্লাহ রহম করুন যিনি কুফাকে জ্ঞানে ভরে দিয়েছেন। শুধু ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুই নন। তিনশত আসহাবে হুদাইবিয়া ও সত্তরজন বদরী সাহাবীসহ প্রায় দেড় হাজার সাহাবী হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে শুরু করে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু এর খেলাফত আমল পর্যন্ত এই কুফা নগরীতে এসে বসবাস করেছেন এবং এখানেই প্রায় সকলের ইন্তেকাল হয়েছে। তাও আবার হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত সালমান ফার্সী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত আবু কাতাদাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু, হযরত বারা ইবনে আযেব রাদ্বিযাল্লাহু তা‘আলা আনহু এর মত বিশিষ্ট সাহাবীগণ। দেড় হাজার সাহাবীদের কাছে পড়ুয়া কত তাবেয়ী ছাত্র তৈরী হয়েছে এখানে এবং তাঁদের হাতে লাখো লাখো তাবে তাবেয়ী। তাই তো অগণিত বার এই পবিত্র নগরী কুফায় এসেছিলেন ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি হাদীসের নেশায়। আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামের আবাসস্থল এ পবিত্র কুফা নগরীই ইমাম আবু হানিফার জন্মভূমি। মুহাম্মদ ইবনে সিরীন রহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন আমি কুফায় চার হাজার ছাত্র পেয়েছি যারা হাদীস অšে¦ষণে ছিলেন এবং চার হাজার পেয়েছি ফকিহ্। হাদীসের ইমাম আফ্ফান বিন মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলায়হি (ওফাত ২২০হি.) বলেন, কুফায় এসে আমি চার মাস ছিলাম। এখানে হাদীসের এত ব্যাপক চর্চা ছিল যে, এ চার মাসে আমি চাইলে এক লাখ হাদীস লিখতে পারতাম। তবে পঞ্চাশ হাজারের বেশি লিখিনি। চার মাসের অর্জন যদি পঞ্চাশ হাজার বা একলাখ হয়, তাহলে যে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হির জীবনের সিংহভাগই অতিবাহিত হয়েছে কুফা নগরীতে, তাঁর হাদীসের অর্জন কত বিশাল হবে! অথচ এ যুগের তথা-কথিত পণ্ডিত মশাইরা বলে, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি না কি হাদীস জানতেন না। ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ছেলে আব্দুল্লাহ্ বলেন, আমি কুফায় গিয়ে হযরত আবু সাইদ আল আশায রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে দৈনিক এক হাজার অনুপাতে একমাসে ত্রিশ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করেছি। থাকলো পবিত্র মক্কা ও মদীনা মুনাওয়ারার কথা। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি পবিত্র মক্কা-মদীনার ইলমও পেয়েছিলেন কি না? মক্কা ও মদীনা শরীফেওতো অনেক সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন। এ প্রশ্নের জবাব পাওয়ার জন্য ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আদম এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। তিনি বলেন, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ৫৫ বার পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেছেন। প্রতি হজ্জ্বের সফরে কমপক্ষে একমাস করে হলেও প্রায় ৫ বছর তিনি পবিত্র মক্কা নগরী ও মদীনা শরীফে অবস্থান করেছেন। ইমাম আবু দাউদের ছেলে যদি দৈনিক এক হাজার হাদীস সংগ্রহ করতে পারেন সেক্ষেত্রে পবিত্র হারামাইনে গিয়ে ৫ বছর সময়ে ইমাম আযম কত সংখ্যক হাদীস রপ্ত করেছিলেন তা আল্লাহই ভাল জানেন। হজ্জ্বের সফর ছাড়াও অতিরিক্ত আরও ছয় বছর তিনি পবিত্র হারামাইনে অবস্থান করেছিলেন অর্থাৎ সর্বমোট ১০/১২ বছরের বিরাট সময় ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি অতিবাহিত করেছিলেন পবিত্র হারামাইনে। তার বিপরীতে ইমাম বুখারী পবিত্র হারামঈনে ছিলেন মাত্র ছয় বছর। ইলমে হাদীস চর্চার আরেকটি কেন্দ্র ছিল বসরা নগরী। ইমাম বুখারী বলেন, আমি চারবার বসরায় গিয়েছি। তার বিপরীতে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য শুনুন, আমি বিশবার বসরায় গিয়েছি। উক্ত সফরে কখনও একবছর, কখনও তার কম বেশী সেখানে অবস্থান করতাম।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরামের ইলমের উত্তরাধিকার
হাদীস বিজ্ঞান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ইমাম আবু হানিফা শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের ইলমের ওয়ারিশ ছিলেন। দুই সনদে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে, দুই সনদে হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে, আট সনদে হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে, সাত সনদে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে ইলমে হাদীসের ওয়ারিশ হয়েছেন। এছাড়াও যে সকল তাবেয়ী থেকে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁরাও এক একজন অসংখ্য সাহাবীর দীর্ঘ সোহবত লাভ করে তাঁদের কাছ থেকে হাদীস শিক্ষা লাভ করেছেন এবং সেই সমুদয় ইলম উক্ত তাবেয়ী থেকে ইমাম আবু হানিফা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। যেমন তাবেয়ী আত্বা ইবনে রাবাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি ইমাম আবু হানিফার ওস্তাদ। তিনি নিজেই বলেন, আমি ন্যূনতম ২০০ সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভে ধন্য হয়েছি। মানে দুইশত সাহাবীর ইলমের আমানত আত্বা ইবনে রাবাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি মারফত ইমাম আবু হানিফার কাছে এসেছে। এভাবে ইমাম শা’বীর কথা না বললেই নয়। সম্মানীয় এ তাবেয়ী নিজেই বলেন, আমি পাঁচশত সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করার সৌভার্গ অর্জন করেছি। ইবনে হিব্বান বলেন, দেড়শ সাহাবী থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এ ইমাম শা’বী হলেন ইমাম আবু হানিফার প্রথম সারির ওস্তাদ। এভাবে প্রবীণ তাবেয়ীদের মারফত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি হাজার হাজার সাহাবীদের ইলমে হাদীসের জ্ঞান লাভ করে ধন্য হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হযরত ইবরাহিম নখয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত ইকরামা রহমাতুল্লাহি আলায়হি, কাসেম ইবনে আব্দুর রহমান রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত নাফে রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত কাতাদাহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইবনে শিহাব জুহরী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, আবু ইসহাক সাবিয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, মুহাম্মদ ইবনে মুনকাদির রহমাতুল্লাহি আলায়হি, হযরত হিশাম ইবনে উরওয়াহ্ রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম আ’মশ রহমাতুল্লাহি আলায়হি। উল্লেখিত তাবেয়ীগণ সকলেই সাহাবীদের ইলমের আমানতদার ছিলেন যাঁদের কাছ থেকে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ইলমে হাদীসের শিক্ষা লাভ করেছেন। এছাড়াও আহলে বাইতে আতহার থেকে ইমাম বাকের রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম যায়েদ ইবনে আলী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম আব্দুল্লাহ্ ইবনে আলী রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম জাফর সাদেক রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান আল মুসান্না রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম হাসান ইবনে যায়েদ রহমাতুল্লাহি আলায়হি, ইমাম হাসান ইবনে মুহাম্মদ এবং ইমাম জাফর ইবনে তাম্মান রহমাতুল্লাহি আলায়হিমের মারফত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি নবী পরিবারের ইলমের তোহফাও গ্রহণ করেছেন। এ সকল নামী দামী মুহাদ্দিসগণ ছিলেন হাদীসের এক একটি ভাণ্ডার। লেখার কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় ইলমে হাদীসে তাঁদের পাণ্ডিত্যের বিস্তারিত ফিরিস্তি তুলে ধরা সম্ভব হল না। কাজেই ইমাম আবু হানিফার হাদীস চর্চা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও অনন্য মুহাদ্দিসের শিক্ষক সংখ্যা
যারা ইমাম বুখারী-মুসলিমের সামনে ইমাম আবু হানিফাকে পাত্তা দিতে চান না এবং বলেন- তিনি হাদীস জানতেন না। তাদের অজ্ঞতা দূর করতে নিম্নের তথ্যটি মহৌষধের মত কাজ করবে। লক্ষ করুন, ইমাম মালেকের ওস্তাদ ৯০০ জন, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ‘মুসনাদ’ গ্রন্থের বর্ণনাকারী ২৮০জন, মুসলিম শরীফে ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী ২২০জন, ইমাম তিরমিযীর ওস্তাদ ২২১ জন, ইমাম আবু দাঊদের ওস্তাদ ৩০০জন, ইমাম নাসায়ীর ওস্তাদ ৪৫০জন, ইমাম বুখারীর ওস্তাদ তাঁর নিজের স্বীকৃতি অনুসারে ১০৮০জন। অথচ তাবেয়ীদের মধ্যে থেকে শুধু ইমাম আবু হানিফার ওস্তাদ ৪০০০জন। প্রতি ওস্তাদের কাছ থেকে গড়ে একটি হাদীস শিখলেও তো ৪০০০ হাদীস শেখা হয়। আর ইমাম আযম আবু হানিফা ও হানাফী মাযহাবের দুশমনরা বলে তিনি নাকি বড় জোর ১৭টি হাদীস জানতেন! হায় আফসোস! তাছাড়া ইমাম বুখারীসহ সিহাহ্ সিত্তাহ্র ইমামদের ওস্তাদদের মধ্যে জঈফ রাভীও ছিল। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার ওস্তাদদের মধ্যে কেউ জঈফ ছিলেন না। সকলেই নির্ভরযোগ্য ছিলেন। কারণ, তখন ছিল তাবেয়ী যুগ। জাল হাদীসের ফিতনা তখনও শুরুই হয়নি। এ দিক থেকেও ইমাম আবু হানিফার মর্যাদা আকাশের উচ্চতায়।

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলায়হি
তথ্য মোতাবেক দেখা যায় যে, ইমাম বুখারীর ওস্তাদ কখনও ইমাম আবু হানিফার ছাত্র, কখনও ছাত্রের ছাত্র। এভাবে ইলমে আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ইমাম বুখারীর ভাণ্ডারে এসেছে। ইমাম বুখারী নিজেও বলেছেন, আমার বয়স যখন ষোল, আমি (ইমাম আবু হানিফার ছাত্র) ইবনুল মুবারক ও ওয়াকির কিতাব মুখস্থ করেছি এবং তাদের বক্তব্যগুলো রপ্ত করেছি। ইবনুল মুবারকের কিতাবে কি ছিল, তাঁর নিজের কথাতেই শুনি। তিনি বলেন, আমি ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর কিতাব অনেকবার লিখেছি। কখনও নতুন কিছু যুক্ত হলে তাও লিখে নিতাম। ইমাম আত্বিয়া ইবনে আসবাত্ব বলেন, ইবনুল মুবারক কুফায় আগমন করে ইমাম যুফরের কাছে গিয়ে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হির কিতাবগুলো ধার নিয়ে তা লিখে নিতেন। অনেক বারই এমনটি হয়েছে। বুঝা গেল, ইমাম আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুবারকের কিতাবগুলো ছিল ইমাম আবু হানিফার ইলমের প্রবাহিত একটা নহর। সেখান থেকে ইমাম বুখারী শীতলতা লাভ করেছেন। এছাড়াও বুখারী শরীফের সবচেয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ ও সম্মানের বৈশিষ্ট্যটি হলো সোলাসিয়াত তথা সর্বনিম্ন তিনজন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর প্রাপ্ত ২২টি হাদিস। এটা বুখারী শরীফের অনেক বড় বৈশিষ্ট্য। এ কারণে বুখারী শরীফ সিহাহ্ সিত্তার মধ্যে অনন্য। একথা সবাই জানেন এবং বলেনও। কিন্তু বলেন না তার ভেতরের কথাটি। তা হলো, ঐ ২২টি হাদীসের মধ্যে ২১টি হাদিসের বর্ণনাকারীই ইমাম আবু হানিফার ছাত্র। মূলতঃ সিহাহ্ সিত্তার অধিকাংশ হাদীসের গভীরে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বর্ণনাকারীগণ হয় ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর ছাত্র না হয় ওস্তাদ।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম, ইমাম আবু হানিফা থেকে হাদীস বর্ণনা না করার কারণ
পাঠক, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি ও হানাফী মাযহাব বিরোধীরা বড় তৃপ্তিসহকারে একটি কথা বলে যে, ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি যদি হাদীসের ইমাম হতেন বা ইলমে হাদীসের নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দেস হতেন তাহলে ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁর সনদে কোন হাদীস গ্রহণ করেন নি কেন? তাতেই বুঝা যায় ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি হাদীসের ইমাম ছিলেন না বা হাদীসের নির্ভরযোগ্য পণ্ডিত ছিলেন না। এ কথা বলে বিরোধীরা মনে করে হানাফী মাযহাবের গলা কর্তন করার কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এটা তাদের জন্য স্বর্গ সুখের তৃপ্তি দান করে। পাঠক ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে লেখাটি পড়–ন। তাহলে বিরোধীদের যুক্তির অসারতা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বিরোধীদের কাছে প্রশ্ন করুন, বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সূত্রে কোন হাদীস আছে? জবাব হল ‘নাই’। ইমাম মুসলিম ইমাম বুখারীর ছাত্র। সুযোগ পেলে ওস্তাদের কদমবুচিও করতেন। তা সত্ত্বেও মুসলিম শরীফে ইমাম বুখারীর জায়গা নেই। ছাত্র হয়েও ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ্ মুসলিমে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ওস্তাদ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে খালেদ জুহালীর হাদীস গ্রহণ করেননি। অথচ, ইমাম জুহালী স্বর্বজন স্বীকৃত উঁচু মানের একজন হাদীসের ইমাম। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ইলমে হাদীসের মহাসাগর হয়েও বুখারী শরীফে জায়গা পেয়েছেন মাত্র দুইবার। ইমাম আবু জুরআ রাযী রহমাতুল্লাহি আলায়হি আরেক বড় ইমাম, তিনি ইমাম বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযীর ওস্তাদ। ইমাম মুসলিম বলেন, আমি সহিহ মুসলিম লিখে হযরত আবু জুরআ রাযী রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর কাছে উপস্থাপন করি। সেখান থেকে তিনি যেগুলো সহিহ বলেছেন তা রেখেছি। আর যেগুলো আপত্তি দিয়েছেন সেগুলো ছেড়ে দিয়েছি। যার কাছে সহিহ মুসলিমকে সহিহ বানাতে দিলেন তাঁর কাছ থেকে উক্ত কিতাবে হাদীস নিলেন মাত্র একটি। ইমাম তিরমিযী ইমাম মুসলিমের ছাত্র। শুধু পাঠশালায়ই নয়, দিনের পর দিন ইমাম মুসলিমের সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি। অথচ, তিরমিযী শরীফে ইমাম মুসলিমের সূত্রে হাদীস মাত্র একটি। অনুরূপ ইমাম নাসায়ী ইমাম বুখারীর ঘনিষ্ট ছাত্র হয়েও সুনানে নাসায়ীতে ইমাম বুখারী একবারের বেশী জায়গা দেন নি। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ছিলেন ইমাম শাফেয়ীর ঘনিষ্ট ছাত্র। মুসনাদে আহমদের প্রায় সাতাশ হাজার হাদীসের মধ্যে ইমাম শাফেয়ীর অংশগ্রহণ মাত্র নয়টি হাদিসে।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি থেকে হাদীস বর্ণনা না করা যদি ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর হাদীস না জানার বা জঈফ হওয়ার প্রমাণ হয় তাহলে ইমাম শাফেয়ীও কি হাদীস জানতেন না? সহিহ্ মুসলিমে বর্ণনা না থাকার কারণে ইমাম বুখারীও কি জঈফ? ইমাম জুহালীর ব্যাপারেও কি বলবেন আপনি। এই মানদণ্ডে বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, তিরমিযী, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম আবু জুরআ সকলেই জঈফ সাব্যস্ত হবেন? আসলে হানাফী মাযহাব ও ইমাম আবু হানিফা এর প্রতি বিরুদ্ধবাদীদের এটা কালের রটনা। ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্র হয়েছে তা অন্য কোন ইমামের ক্ষেত্রে হয়নি। ইমাম বুখারী ইমাম আবু হানিফা থেকে হাদীস গ্রহণ না করার কারণ মূলত ঈমান এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতবিরোধ। ইমাম বুখারীর মতে মৌখিক স্বীকৃতি এবং আমল এর নাম ঈমান। আর ইমাম আবু হানিফার মতে অন্তরের বিশ্বাস আর মৌখিক স্বীকৃতির নাম ‘ঈমান’। আর হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর মৌলিক কিছু নীতিমালা ছিল। তিনি নিজেই বলেন, আমি সহস্রাধিক মুহাদ্দিস থেকে হাদীস গ্রহণ করেছি। তবে আমি এমন কারও কাছ থেকে হাদীস লিখিনি যারা শুধু মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাসকে ঈমান মনে করে বরং তাদের কাছ থেকেই লিখেছি যারা মৌখিক স্বীকৃতি ও আমলকে ঈমান জ্ঞান করে। এভাবে প্রত্যেক মুহাদ্দিসেরই হাদীস গ্রহণ ও লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু নীতিমালা থাকে। ঐ নীতিমালার কারণে কারও হাদীস বাদ পড়ে থাকলে তা ঐ মুহাদ্দিস জঈফ হওয়ার দলীল বহন করে না। এ রকম নীতিমালার কারণেই মুসলিম শরীফে ইমাম বুখারী ও ইমাম জুহালীর জায়গা হয়নি। বুখারী ও মুসলিমে ইমাম শাফেয়ীর সনদে কোন হাদীস স্থান লাভ করেনি। এছাড়া ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি এর সময়ে মু’তাজিলা, ক্বদরিয়া ও মুরজিয়ার মত বাতিল ফেরকার শক্ত প্রচারণা ও অবস্থান ছিল। ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলায়হি তাদের বিরুদ্ধে পুরো শক্তি দিয়ে লৌহবর্মের মত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ইমাম আবু হানিফার মত এত বড় মাফের ইমামের প্রতিরোধে ঐ সকল বাতিল ফেরকাগুলো আহত বাঘের মত প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ইমাম আযমের উপর ‘মরজিয়া’ হওয়ার অপবাদ রটিয়ে দেয় পূর্ন শক্তি নিয়ে। অপবাদের এই রটনায় বিভ্রান্ত হয়েছেন অনেক মুহাদ্দিস এবং সে কারণে ইমাম আবু হানিফাকে অনেকেই উল্লেখ করতে চান নি। এই অপবাদের মূলে গিয়ে যারা ইমাম আজমকে অšে¦ষণ করেছেন তারা ইমাম আবু হানিফাকে খুঁজে পেয়েছেন, ‘সেরাজুল উম্মত’ হিসেবে ‘ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদীস’ হিসেবে, ‘ফকিহুল উম্মত’ হিসেবে। অপবাদের কালো মেঘটা সরে যাওয়ার পর ইমাম আবু হানিফা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমা, ইবনে মুবারক, আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলায়হিম এর মত নামি দামি সব মুহাদ্দিস।

তথ্যসূত্র.
. মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী, আল সহীহ্, হাদীস নং- ২৫০৮, ৩৪৫০, মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আল সহীহ্, হাদীস নং-২৫৩৫, নাসায়ী, আল সুনান, হাদীস নং-৩৮০৯।
. ড. তাহের আল কাদেরী, ইমাম আবূ হানিফা, ইমামুল আয়িম্মা ফিল হাদীস।
. মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আল সহীহ্, হাদীস নং-২৫৪৬।
. আহমদ বিন হাম্বল, আল মুসনাদ, ২য় খণ্ড, হাদীস নং-২৯৬।
. জালাল উদ্দীন সুয়ূতী, তাবয়ীদুস সহীফা, পৃ. ৩১-৩৩, ইবনে হাজার হাইতামী, আল খায়রাতুল হিসান, পৃ. ২৪।
. খতীব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড নং-১৩, পৃ. ৩৪৬, শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড. ৬, পৃ. ৪০৩।
. খতীব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড. ১৩, পৃ. ৩৪৫, ইমাম মিজ্জি, তাহযিবুল কামাল, খণ্ড.২৯, পৃ.৪৩৩, শামসুদ্দিন যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, পৃ. ৬, পৃ. ৪০২, জালাল উদ্দিন সুয়ূতী, তাবয়ীদুস্ সহীফা, পৃ.১০৫।
. মাগাযী, জিহাদ বিয়ষক তত্ত্বাবলিকে মাগাযী বলে।
. সাইমিরি, আখবারু আবি হানীফা, পৃ. ৭৫।
. ইবনে বাজ্জাজ, মানাকিবুল ইমামিল আযম, খণ্ড ১. পৃ.৯৭।
. প্রাগুক্ত।
. সাইমিরি, আখবারু আবি হানীফা, পৃ. ৭৫, খতিব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড. ১৩, পৃ. ৩৪৩, ইবনে হাজর হায়তামী, আল খায়রাতুল হিসান, পৃ. ৪৫।
. খতিব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড.১৩, পৃ. ৩৩৮, ইমাম মিজ্জি, তাহজীবুল কামাল, খণ্ড. ২৯, পৃ. ৪২৯, ইবনে হাজর হায়তামী, আল খায়রাতুল হিসান, পৃ. ১২।
. খতিব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড. ১৩, পৃ. ৩৪০।
. খতিব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড. ১৩, পৃ. ৩৪২।
. ইবনে হিব্বান, আল সিক্বাত, হাদীস- ১৪৪৬৫, ইবনে আদী আল কামিল, খণ্ড. ৭, পৃ. ৭।
. ইবনে আবি জায়েদ, আল খিরাওয়ানী, আল জামে, পৃ. ১১৭।
. মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী, আল-সহীহ্, হাদীস-৭১, ২৯, ৪৮, মুসলিম বিন হাজ্জাজ, আল সহীহ্, হাদীস-১০৩৭।
. তাবরানী, আল মু’জামূল আওসাত, হাদীস-৬১৬৬, দারু কুতনী, আল সুনান, হাদীস নং ২৯৪, বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান, হাদীস নং-১৭১২।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস, পৃ. ১২৫, ১৫২।
. তিরমিযী, আল-জামে’, হাদিস-২৬৫৬, আবু দাউদ, আল-সুনান, হাদিস-৩৬৬০, আহমদ বিন হাম্বল, আল-মুসনাদ, হাদিস নং-২১৬৩০, নাসায়ী, আল-সুনান, হাদিস-৭৪৭, ইবনে মাজাহ্ আল সুনান, হাদীস-২৩৫, দারেমী, আল-সুনান, হাদিস-২২৯।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস।
. প্রাগুক্ত।
. ইবনে হাজর আসকালানী, হাদিউস শারী, পৃ. ৪৭৮।
. যায়লানী, নুশবুর রায়া, খণ্ড. ১, পৃ. ৩০।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস।
. ইমাম মিজ্জি, তাহজীবুল কামাল, খণ্ড ১২, পৃ. ৪৩৯, জালাল উদ্দীন সুয়ূতী, তবকাতুল হুফ্ফাজ, খণ্ড ১, পৃ. ২৭।
. খতীব বাগদাদী আল-জামে’, খণ্ড ২, পৃ. ২৪৪।
. খতীব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, পৃ. ৪৬৬, শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ১৩, পৃ. ২২৩।
. মুয়াফ্ফাক্ব, মানাকিবুল ইমাম আল- আজম, খণ্ড ১, পৃ. ২৫৩, যায়লায়ী, নুসবুর রায়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৬।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস, পৃ. ৩৫৬।
. ইবনে হাজর আসকালানী, হাদীওস সারী, পৃ. ৪৭৮।
. ইবনে হাজর আসকালানী, হাদীওস সারী, পৃ. ৪৭৮।
. মুয়াফ্ফাক্ব, মানাক্বিবুল ইমামাল আযম, খণ্ড ১, পৃ. ২৫৩, যায়লানী, নুসবুর রায়া, খণ্ড ১, পৃ. ৩৬।
. শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ৫, পৃ. ৮১, ইবনে হাজর আসকালানী, তাহযীবুত তাহজীব, খণ্ড ৭, পৃ. ১৮১, ইমাম মিজ্জি, তাহজিবুল কামাল, খণ্ড ২৪, পৃ. ৭০-৭২।

. মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী, তারিখে কবীর, খণ্ড ২, পৃ. ৪৫০, শামসুদ্দিন যাহাভী, তাযকীরাতুল হুফ্ফাজ, খণ্ড ১, পৃ. ৮১, ইবনে হাজর আসকালানী, তাহযীবুত্ তাহযীব, খণ্ড ৫, পৃ. ৫৯।
. ইবনে হিব্বান, আল সিক্বাত, খণ্ড ৫, পৃ. ১৮৬।
. শামসুদ্দিন যাহাভী, তাযকিরাতুল হুফ্ফাজ, খণ্ড ১, পৃ. ৭৯
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস, পৃ. ৪৩০-৪৭৭।
. যুরকানী, শরহে মুয়াত্তা, খণ্ড ১, পৃ. ২।
. শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ১১, পৃ. ১৮১।
. শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ১২, পৃ. ৫৬১।
. ড. তাহেরুল কাদেরী, ইমাম আবু হানীফা-ইমামূল আয়িম্মা ফিল হাদিস, পৃ. ৫৭০।
. ইবনে হাজর আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব, খণ্ড ৪, পৃ. ১৫১।
. শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ১৪, পৃ. ২৫-২৭।
. ইবনে হাজর আসকালানী, মুকাদ্দামা ফতহুল বারী, পৃ. ৬৪২।
. ইবনে হাজর হায়তামী, আল-খায়রাতুল হিসান, পৃ. ৩৬, খাওয়ারিযমী, জামেউল মাসানিদ, খণ্ড ১, পৃ. ৩২, সালেহী, কিতাবু উকুদুল জিমাল, পৃ. ৬৩।
. খতীব বাগদাদী, তারিখে বাগদাদ, খণ্ড ২, পৃ. ৭, ইবনুল জুওযী, সিফাতু সফওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ১৬৯, ইমাম মিজ্জি, তাহযিবুল কামাল, খণ্ড ২৪, পৃ. ৪৩৯, শাসমুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারুল আলামীন নুবালা, খণ্ড ১২, পৃ. ৩৩৯, ইবনে হাজর আসকালানী, মুকাদ্দামা, ফতহুল বারী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৮৭।
. সাইমিরী, আখবারু আবি হানীফা, পৃ. ১৩৩।
. সাইমিরী, আখবারু আবি হানীফা, পৃ. ১৩৭।
. আবু যাকারিয়া নবভী, শরহে মুসলিম, খণ্ড ১, পৃ. ১৫, শামসুদ্দিন যাহাভী, সিয়ারু আলামীন নুবালা, খণ্ড ১২, পৃ. ৫৬৮, ইবনে হাজার আসকালানী, মুকাদ্দামা ফতহুল বারী, পৃ. ৩৪৭।
. ইবনে হাজর আসকালানী, মুকাদ্দামা ফতহুল বারী, পৃ. ৪৭৯, কুস্তুলানী, ইরাশদুস সারী, খণ্ড ১, পৃ. ৩২, লালকাঈ, উসুলু ই’তেকাদে আহলে সুন্নাহ, খণ্ড ২, পৃ. ৮।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s