ভারতীয় সাহাবা ও রসুলে পাক(দঃ)এর মুজেযা

Standard

ভারতীয় সাহাবী বাবা রতন হিন্দী রাঃ
বাবা রতন হিন্দী রাসুলে পাক দঃ এর সবচেয়ে বয়ষ্ক সাহাবীদের একজন। তিনি প্রায় ৭০০ বছর জীবিত ছিলেন। বাবা রতন হিন্দী যুবক বয়সে ব্যবসা করতেন। ভারত থেকে মিশরে যেতেন নিয়মিত মালামাল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য। যাবার পথেই তাঁকে যেতে হতো মক্কা হয়ে।
একবার তিনি মক্কায় এসে কিছুদিন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, একদিন দেখলেন তার বাসস্থানের ঠিক পাশে একটা ছোট নালার সামনে ৭/৮ বছরের এক শিশু দাঁড়িয়ে আছে। সে নালা পার হবার ইচ্ছা পোষন করছে কিন্তু আশে পাশে বড় কাউকে পাওয়া গেলোনা যে কোলে তুলে নালা পার করে দিবে। অতঃপর বাবা রতন হিন্দী শিশুটিকে কোলে নিয়ে নালা পার করে দিলেন।
পার করে দেবার পর শিশুটি বাবা রতন হিন্দীর জন্য প্রান ভরে হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করলেন ৭বার। বাবা রতন হিন্দি খুব অবাক হলেন ছোট্ট শিশুটির এমন আবেগভরা দোয়া দেখে।
দিন যায়, মাস যায় এক সময় ৪০ বছরের মতো সময় পার হয়। বাবা রতন হিন্দী শুনলেন মক্কায় এক নবীর আগমন ঘটেছে যিনি মানুষকে এক আল্লাহর দাওয়াত দিচ্ছেন,যিনি চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করেছেন। বাবা রতন হিন্দী এ খবর শুনে মক্কা নগরীতে গেলেন রাসুলে পাক দঃ এর সাথে দেখা করতে। সেখানে না পেয়ে চলে গেলেন মদিনায় এবং রাসুলে পাকের দরবারে উপস্থিত হলেন।
উপস্থিত বাবা রতন হিন্দী বললেন ইয়া রাসুল আল্লাহ দঃ আপনি কাফেরদের চাঁদ দিখন্ডীত করে মোজেজা দেখিয়েছেন, আমাকেও কিছু একটা দেখান, যাতে আমার ঈমান মজবুত হয় এবং আমি ইসলাম কবুল করি।
সঙ্গে সঙ্গে রাসুল দঃ বলে উঠলেন, রতন হিন্দী, যেদিন তুমি আমি শিশু থাকা অবস্থায় কোলে করে নালা পার করে দিলে , সেদিন যে তোমার জন্য ৭০০ বছর দীর্ঘ হায়াতের প্রার্থনা ৭ বার করেছি। সেটি কি তোমার জন্য মোজেজা হিসাবে যথেষ্ঠ নয়?
বাবা রতন হিন্দী বুঝে ফেললেন এই তো সেই নবী রাহমাতাল্লিল আলামিন, তিনি ইসলাম কবুল করলেন। ১৫/১৬ দিন মদিনায় অবস্থান করে দেশে ফিরে আসলেন। আর যাওয়া হয়নি মদিনায়, কিন্তু এ উপমহাদেশে ইসলামের নূর ছড়িয়েছেন ঠিকই।
মুসলিম ইতিহাসবিদদের মতে, হযরত বাবা রতন ইবনে নাসর হিন্দি (রাঃ)-ই সবচেয়ে দীর্ঘজীবী সাহাবী। তিনি ছিলেন ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। যখনই কেউ তাঁর দরবারে তাঁকে দেখার জন্য যেতেন, তিনি হাদীস এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বর্ণনা করে দিতেন।
সুলতান মাহমুদ গজনবী একবার এমন কারও কাছ থেকে হাদীস শুনতে চাইলেন যিনি কোন মাধ্যম ছাড়াই হুযুরে পাক (সাঃ) থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন। ইতোমধ্যে তিনি বাবা রতন হিন্দি (রাঃ)-এর কথা জানতে পারলেন যিনি নিজেকে সাহাবী বলেন। অনেক চেষ্টার পর, যখন বাবা রতন হিন্দি (রাঃ)-কে সুলতান মাহমুদের দরবারে আনা হল, তিনি (রাঃ) সুলতানকে দু’টি হাদীস বর্ণনা করে দিলেন।
হযরত রতন ইবনে নাসর হিন্দি (রাঃ) ১২২৪ / ১২৩৫ খ্রিস্টাব্দে (৬৩১/৩১২ হিজরী) আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন। তাঁর মাজার শরীফ পাঞ্জাবের ভাতিন্দা গ্রামে অবস্থিত।
দেখুন নব্যুয়াত প্রকাশের পূর্বে, শিশু নবী একজন কাফিরের হায়াত এর জন্য দোয়া করে সেটি দরবারে ইলাহী থেকে কবুল করান। ও মুসলমানেরা এরপরেও কি বিশ্বাস হয় না আমার নবীর নূরানী নজর দিয়ে সব অতৃপ্ত আত্মাকে আজো প্রান ভরে দিতে পারেন?

সূত্রঃ হযরত ইবনে হাজর আস্‌কালানী (রঃ) কর্তৃক লিখিত গ্রন্থ “আস-সাহাবাহ ফী তামিজ-ই-সাহাবাহ”, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৩০-৫৩১।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s