অস্ত যাওয়া সূর্য রসুল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুমে পুনরায় উদিত!!

Standard

* হাদীস নং -১-‘‘হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্নিত : একদা রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কোলে মাথা মোবারক রেখে ঘুমাচ্ছিলেন/আরাম ফরমাচ্ছিলেন ছিলেন, তখন (ঘুমে) ওহী নাযিল হচ্ছিল। সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল ততক্ষণ পর্যন্ত হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আসর নামায পড়তে পারেন নি। অতঃপর রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! আলী তোমার এবং তোমার রাসূলের আনুগত্য করেছে তাই সূর্যকে পুনরায় উদিত করে দাও। বর্ণনাকারী আসমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন : আমি দেখেছি যে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে তা পুনরায় রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে উদয় হয়েছে।’’ইমাম হাইসামী তাবরানীর সনদ সম্পর্কে বলেন, হাদিসটি ইমাম তাবরানী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, উক্ত হাদীসের সমস্ত রাবী সিকাহ, ইব্রাহীম ইবনে ‘হাসান’ তিনিও সিকাহ বা বিশ্বস্ত, এমনকি ইমাম ইবনে হিব্বান এর দৃষ্টিতেও তিনি বিশ্বস্ত, তবে ফাতেমা বিনতে আলী বিন আবি তালিব সম্পর্কে আমার জানা নেই।—-
ক.*ইমাম তাবরানী : মু‘জামুল কবীর : ২৪/১৪৪পৃ. হাদিস:৩৮২,
খ.ইমাম তাবরানী, মু’জামুল আওসাত,
গ.ইবনে কাসীর : আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়া : ৬/৮৩ পৃ.,
ঘ.হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২৯৭ পৃ.,
ঙ.ইমাম তাহাভী, মুশকিলুল আসার : ২/৮-৯ পৃ. হাদিস নং : ১২০৭, তিনি সহীহ সনদে। তাহাভীর মুশকিলুল আসার,৮/৩৮৮পৃ.,
চ.উকাইলী : আদ্ব-দ্বঈফাউল কাবীর : ১/৪২২পৃ.,
ছ. ইবনে কাছির,আস-শামায়েল : ১৪৪পৃ.
জ.ইমাম ইবনে আবি আছিম,আস-সুনান, হাদিস নং,১৩২৩,
ঝ.সুয়ূতি : মুখতাসারুল মিনহাজুল আস-সুন্নাহ : ৫২৪-৫২৮পৃ.
ঞ.শিহাবুদ্দীন খিফ্ফাযী : নাসিমুর রিয়াদ্ধ : ৩/১০-১৪পৃ.,
ট.ইবনে হাজার আসকালানী : ফাতহুল বারী : ৬/২২১-২২২পৃ.
ঠ.ইবনে কাইয়্যুম : মানারুল মুনীফ : ৫৭-৫৮পৃ.,
ড.আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী : উমদাদুল কারী : ১৫/৪৩পৃ.
ঢ.ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : খাসায়েসুল কোবরা : ২/৩২৪ পৃ.*হাদীস নং-২অপরদিকে উক্ত হাদিসটি অন্য আরেকটি সনদে কিছুটা শব্দ পরিবর্তন হয়ে বর্ণিত হয়েছে নিম্নোক্তভাবে–‘‘হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, নিশ্চয় রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ছাহবা’ নামকস্থানে যোহরের নামায পড়লেন। অতঃপর হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কে কোন এক ওজরে প্রেরণ করলেন অতঃপর তিনি ফিরে আসলেন। রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের নামাজ পড়লেন তারপর হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর কোলে মাথা মোবারক রেখে ঘুমালেন। হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাগাননি এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। অতঃপর রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হয়ে বলতে লাগলেন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় তোমার পেয়ারা গোলাম আলী তোমার নবীর প্রেমে নিজেকে আবদ্ধ / মগ্ন রেখেছেন, অতঃপর আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নামাযআদায় করার জন্য আল্লাহ তা‘য়ালা পুনরায় অস্তমিত সূর্যকে উদিত করেছেন। বর্ণনাকারী হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন : সূর্যপুনরায় উদিত হয়ে যমীন ও পাহাড়ের উপর এসে গেল। অতঃপর হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) ওযু করে নামায আদায় করলেন। তারপর ছাহ্বা নামক স্থানে সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল।’
’ক. আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়ায়েদ : ৮/২৯৭ পৃ:
খ.আল্লামা তাবরানী : মু’জামুল কবীর : ২৪/১৫১-১৫২ পৃ: হাদিস : ৩৯১
গ. আল্লামা ইবনে কাসীর : বেদায়া ওয়ান নেহায়া : ৬/৮৪ পৃ:
ঘ. আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী : ফাতহুল বারী শরহে বুখারী : ৬/২২১-২২২ পৃ. হাদিস : ৩১২৪
ঙ. আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়ায়েদ : ৮/২৯৮ পৃ.
চ. ইমাম তাহাভী : মুশকিলুল আছার : ৪/৭ পৃ. হাদিস : ১২০৮
ছ. আল্লামা ওকাইলী : আদ্ব-দ্বঈফা : ১/৪২২ পৃ.
জ. আল্লামা ইবনে কাছির : বেদায়া ওয়ান নেহায়া : ৬/৮৪ পৃ.
ঝ. আল্লামা ইবনে কাছির : আস-শামায়েল : ১৪৫ পৃ.
ঞ. আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী : খাসায়েসুল কোবরা : ২/৩২৪ পৃ.*হাদীস নং-৩উক্ত হাদীসের সমর্থনে আরও হাদিস পাওয়া যায়। যেমন–‘‘হযরত যাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন,নিশ্চয় রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশে সূর্য অস্তমিত হতে কিছুটা বিলম্ব করেছিল। ইমাম হাইসামী (রহঃ) বলেন : হাদিসটি ইমাম তাবরানী মু’জামুল আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন আর হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য।’’
ক. ইমাম তাবরানী : মুজামুল আওসাত :৪/২২৪পৃ,হাদিস:৪০৩৯
খ. আল্লামা ইবনে হাজার হায়সামী : মাযমাউদ যাওয়াইদ : ৮/২৯৭ পৃ.
গ. আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী : ফাতহুল বারী : ৬/২২২ পৃ. হাদিস : ৩১২৪
ঘ. আল্লামা শিহাবুদ্দীন খিফফাজী : নাসিমুর রিয়াদ্ধ : ৩/১০-১৪৫ পৃ.সর্বশেষে আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এ বিষয়ের হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলে স্বীকার করেছেন। এ পর্যন্ত তাবরানীর সনদ নিয়ে পর্যালোচনা হল।ইমাম সাখাভী ও আল্লামা আযলূনী (রহঃ) প্রথম ও দ্বিতীয় হাদিস সম্পর্কে বলেন-ولكن قد صححه الطحاوي، وصاحب الشفاء، وأخرجه ابن منده، وابن شاهين-‘‘তার উক্ত হাদিসটি হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে সহিহ সূত্রে বর্ণনা করেন ইমাম ত্বাহাবী (রহঃ) এবং শিফা শরীফে ইমাম কাযী আয়ায (রহঃ)। অপরদিকে ইমাম ইবনে মুনাদাহ (রহঃ), ইমাম ইবনে শাহীন (রহঃ) প্রমুখ তাদের কিতাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।’’তাই প্রমাণিত হয়ে গেল ইমাম তাবরানী (রহঃ) এর সনদে একজন রাবি অপরিচিত হলেও ইমাম সাখাভীর মতে ইমাম ত্বাহাবীও ইমাম কাযী আয়ায (রহঃ) সহ অন্যান্য মুহাদ্দীসগণ অন্যধারায় সহিহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে আল্লামা সাখাভী ও আল্লামা আযলূনী (রহঃ) উক্ত হাদীসের অন্য সনদ সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিখেন-وابن مردويه من حديث أبي هريرة، -‘‘ইমাম ইবনে মারদুআহ (রহঃ) তার হাদীসের গ্রন্থে হযরত আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)হতে একটি সূত্রে বর্ণনা করেন।’’অপরদিকে আল্লামা আযলূনী, হযরত যাবের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে আরো বলেন روى الطبرانى فى الكبيروالاوسط بسند حسن–‘‘হাদিসটি ইমাম তাবরানী (রহঃ) তাঁর “মু’জামুল কবীর” ও “মু’জামুল আওসাত” গ্রন্থে ‘হাসান’ সনদে বর্ণনা করেছেন।’’অতএব উক্ত হাদিসটির চারটিরও বেশি সনদ পাওয়া গেল। তাই বলতে চাই, যখন দ্বঈফ হাদিস একাধিক সনদে বর্ণিত হয় তা দ্বঈফ বা দুর্বল থাকে না। কিন্তু উক্ত হাদিসের প্রথম আসমা বিনতে উমায়েস (রা.)‘র তাবরানীর সূত্র ছাড়া বাকী সবগুলো সনদ সহিহ ও ‘হাসান’ মানের। তাই অবশ্যই গ্রহণযোগ্য।

Advertisements

হুজুরে পাক সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের পরে দরুদ সংক্ষিপ্ত লেখা মাকরুহ

Standard

ইয়্যিদুল মুরসালীন , ইমামুল মুরসালীন ,হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লেখা বা মুখে উচ্চারণ করার সময় সর্বোচ্চ আদব প্রকাশ করা প্রতিটা মুমিন , মুসলমানদের জন্য ফরয – ওয়াজিব !! এর বিন্দু মাত্র আদবের খিলাফ হলে তা ঈমান হারা হওয়ার কারন হবে !!
মুলত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখার আদব হচ্ছে যে ক্ষেত্রে নাম মুবারক না লিখলেও চলে সেক্ষেত্রে নাম মুবারক না লিখে লক্বব মুবারক লেখাই আদব !!!
উদাহরন স্বরুপ বলা যায় — সাইয়্যিদুল মুরসালীন , ইমামুল মুরসালীন , নূরে মুজাসসাম , হাবীবুল্লাহ , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম লক্বব মুবারক দিয়ে সম্বোধন করা ! তবে দরুদ শরীফ অর্থাৎ , “ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ” আরবীতে হোক , ফারসিতে হোক , উর্দুতে হোক , বাংলায় হোক , ইংরেজিতে হোক অথবা যেকোন ভাষায় হোকনা কেন দরুদ শরীফ পূর্ণভাবেই লিখতে হবে ! কারন ইসলামী শরীয়তের ফতোয়া মোতাবেক ” দরুদ শরীফ ” সংক্ষেপে লেখা যেমন – (ص) , ( দ:) ,( সা:) , (sh). , (D) ইত্যাদি অক্ষরে লেখা আম ফতোয়া মুতাবিক মাকরুহ এবং খাছ ফতোয়া মুতাবিক কুফরী !!
এ প্রসঙ্গে ফতোয়ার কিতাব সমুহে ফতোয়া দেয়া হয়েছে — ” ويكره ان يرمز للصوة والسلام علي النبي عليه الصلاة و السلام في الخط بان يقتصر من ذالك علي الحرفين هكذا (عم) او نحو ذالك كمن يكتب ( صلعم) يشير به الي ( صلي الله عليه و سلم ) و يكره حذف واحد من الصلاة و التسليم و الاقتصار علي احدهم . و في الحديث ( من صلي علي في كتاب لم تزل صلاته جاريت لم ما دام اسمي في ذالك الكتاب ) كم في انوار المشارق لمفتي حلب .
“অর্থ : সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম ,হাবিবুল্লাহ , হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ছলাত ও সালাম লিখতে সংক্ষেপ করা মাকরুহ তাহরীমি | যেমন – সংক্ষপ দুটি অক্ষর ( عم) লেখার মাধ্যমে এবং অনুরুপ صلي الله عليه و سلم বাক্যকে ইঙ্গিত বুঝতে ( صلعم) সংক্ষেপে লেখা | ছলাত এবং সালাম শব্দ দুখানার যেকোন একখানা হরফ বা বাদ দেয়া এবং যেকোন একখানা শব্দ সংক্ষেপ করা মাকরুহ তাহরীমি | হাদীস শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে , ( যে ব্যক্তি আমার উপর ছলাত বা দরুদ শরীফ লিখবে সর্বদায় আমার নাম মুবারক উনার সাথে ঐ লিখায় পূর্ণ দরুদ শরীফ লিখবে ) অনুরুপ বর্ণনা ‘ আনওয়ারুল মাশারিক লিমুফতী হলব ‘ কিতাবে আছে |””
এ প্রসঙ্গে ফতোয়ার বিখ্যাত কিতাব ” তাতারখানিয়া ” কিতাবে এ ব্যাপারে আরো কঠিন ফয়সালা বর্ণিত রয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত দরুদ শরীফ লিখাকে শানে নবুওয়াত উনাকে খাটো করার অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে |
এ প্রসঙ্গে ” তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার ” এর ১ম জিলদ , ৬ ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে – ( ص) অক্ষর দ্বারা দরুদ শরীফ লিখা মাকরুহ , দরুদ শরীফ পূর্ণ ভাবে লিখবে !”
ফতোয়ার কিতাব ” তাতারখানিয়াতে ” উল্লেখ আছে ,” যে ব্যক্তি হামযা এবং মীম দ্বারা দরুদ শরীফ লিখলো সে কুফরী করলো | কেননা এটা ইহানত বা অবজ্ঞা | আর নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইহানত বা অবজ্ঞা করা নিঃসন্দেহে কুফরী !!””
অথচ বর্তমানে প্রকাশিত প্রায় সকল ধরণের
কিতাবাদি, বই-পুস্তক, পত্র-
পত্রিকা ইত্যাদিতে দেখা যায়, সাইয়্যিদুল
মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্
নাবিইয়ীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক
শেষে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ অর্থাৎ (সাঃ)
বা (দঃ) লিখে থাকে। এ সংক্ষেপে লিখার
প্রধান কারণ হিসাবে যা প্রকাশ পায়,
তা হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম
মুবারক বার বার লিখতে গেলে বেশি কাগজ
লাগা, সময় বেশি লাগা ইত্যাদি।
নাঊযুবিল্লাহ!
উল্লেখ্য, যাঁর প্রতি ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালাম, স্বয়ং আল্লাহ পাক দুরূদ শরীফ প্রেরণ করেন
এবং মানুষকে দুরূদ শরীফ পাঠ করার জন্য আল্লাহ
পাক আদেশ করেছেন এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফ
উনার মধ্যে দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত
সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিপরীতে দুরূদ শরীফ পাঠ
করতে যারা গাফলতী করে, তাদের
সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে অনেক
দুঃসংবাদ রয়েছে এবং তাদের শেষ
ফায়সালা হলো জাহান্নাম। এখন
চিন্তা ফিকির করা দরকার যারা দুরূদ শরীফ
লিখার সময় সামান্য কাগজ ও সময় বাচানোর জন্য
সংক্ষেপে (সাঃ) বা (দঃ)
ইত্যাদি দিয়ে লিখে, তাদের
কি অবস্থা হতে পারে?
সুতরাং যখনই, যতবারই আল্লাহ পাক উনার হাবীব,
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্
নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক
লিখতে হবে ততবারই পূর্ণ দুরূদ শরীফসহ
এবং ব্রাকেট ‘()’ বিহীন লিখতে হবে।

না’লাইন শরীফের ফযীলত

Standard

না’লাইন শরীফ
————
না’লাইন শরীফ কী ও না’লাইন শরীফের ফজিলত।
————————————–
রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জুতা মোবারককে নালাইনশরীফ বলা হয়। সেই নালাইনশরীফের আকৃতি বা নমুনা সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসশরীফে উল্লেখ রয়েছে। তাই যুগে যুগে আউলিয়ায়ে কেরামগণ সেই নালাইনশরীফের (তিমসাল) বা নকশা তৈরি করে নিজেরা ফয়েজ ও বরকত লাভ করেছেন এবং মুসলমানদেরকেও বিপদ আপদে তার ওসিলা গ্রহণ করার নসিহত করেছেন। অনেক আউলিয়ায়ে কেরাম উহার ফজিলত সম্পর্কে স্বতন্ত্র কিতাব ও বহু কবিতা রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাফেজ আল্লামা আহমদ মুকরি তিলমিসায়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার প্রণীত কিতাবের নাম ফতহুল মু’তাআল ফি মদহে খাইরিন নি’আল।
না’লাইন শরীফের ফজিলত
——————–
উক্ত কিতাবে হাফেজ তিলমিসায়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার নিজের ব্যাপারে একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আমার একবার সমুদ্রে ভ্রমণের সুযোগ হল। সফরে সাগরের এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিল যে জাহাজের যাত্রীদের সবার জীবন ধবংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম এবং মৃত্যুর জন্য প্রহর গুনছিলেন। আমি এ মোবারক নকশাটি জাহাজের নাবিকের কাছে দিয়ে বললাম, আপনি এ মোবারক নকশার উসিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করুন। ঠিক এ মোবারক নকশার উসিলায় আল্লাহ তায়ালা কিছুণের মধ্যেই আমাদেরকে বিপদমুক্ত করে দিলেন।
হযরত ইমাম আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল যাজরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ফজিলত সম্পর্কে যে কবিতা রচনা করেছেন নিম্নে সেই কবিতাটি অর্থসহ প্রদত্ত হল-
ياطالبا تمثال نعل نبيه- هاقد وجدت الى اللقاء سبيلا
فاجعله فوق الرأس واخضعن له-وتغال فيه واوله التقبيلا
من يدعىالحب الصحيح فانه-يثبت على ما يد عليه دليلا
অর্থাৎ হে নবীজীর পাদুকার নকশা মোবারকের অন্বেষণকারী তুমি এ নকশা পাওয়ার পথ অবশ্যই পেয়ে গেছ।
তুমি এ মোবারক নকশাটিকে মাথার উপর ধারণ কর ও তার প্রতি বিনয়ী হও এবং বারবার চুমু খাও এবং অধিক পরিমাণে বিনয় প্রকাশ কর।
যে ব্যক্তি নবীজীর প্রতি প্রকৃত মহব্বত রাখে সে যেন তার দাবি সম্পর্কে অবশ্যই দলিল পেশ করে।
সহীহ বোখারীশরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা কাছতালানী রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বরচিত মাওয়াহিবে লাদুনিয়া নামক কিতাবের ১ম খণ্ডের ১৩৭ পৃষ্ঠায় তার ফজিলত সম্পর্কে বলেন-
قال ابو القاسم بن محمد ومما جرب من بركته ان من امسكه عنده متبرك به كان له امانا من بغى البغاة وغلبة العداة وحرزا من كل شيطان مارد وعين كل حاسد وان امسكته المراة الحامل بيمينها وقد اشتد عليها الطلق تيسر امرها بحول الله وقوته-
অর্থাৎ আবুল কাসেম বিন মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নালাইনশরীফের পবিত্র নকশার পরীতি বরকত এই, যে ব্যক্তি তা নিজের কাছে রাখবে, সে ব্যক্তি জালিমের জুুলুম হতে, দুষমনের দুষমনী হতে শয়তানের শয়তানী হতে এবং হিংসুকের হিংসা হতে নিরাপদ থাকবে। গর্ভবতী নারী প্রসববেদনার সময় এ মোবারক নকশাটিকে ডান হাতে ধারণ করলে আল্লাহর রহমতে তার মুশকিল আসান হবে।
আল্লামা জারকানী রাদিয়াল্লাহু আনহু শরহে মাওয়াহিব নামক কিতাবের ৫ম খণ্ডের ৪৮ পৃষ্ঠায় নালাইনশরীফের পবিত্র নকশার ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন-
هذا التمثال اثر من اثار المصطفى
অর্থাৎ এই তিমসাল বা নকশা মোবরক নবীপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিদর্শন চতুর্দশ শতাব্দীর মোজাদ্দেদ আলা হযরত আল্লামা ইমাম শাহ আহমদ রেজাখাঁন বেরলভী রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া’ নামক কিতাবে আউলিয়ায়ে কেরাম ও সুফিয়ানে এজামের বর্ণিত ফাজায়েল সম্পর্কে যা লিখেছেন নিম্নে তা প্রদত্ত হল।
১। যে ব্যক্তি নালাইন শরীফের নকশাকে তাবাররুক হিসেবে নিজের কাছে রাখবে, সে জালিমের জুলুম হতে শয়তানের কুপ্রভাব হতে, হিংসুকের খারাপ দৃষ্টি হতে নিরাপদ থাকবে।
২। গর্ভবতী নারী প্রসববেদনার সময় এ নকশা মোবারক ডান হাতে রাখলে আল্লাহর রহমতে তার কষ্ট সহজে কেটে যাবে।
৩। এ নকশা মোবারক যার কাছে সর্বদা রাখবে, সে ব্যক্তি সমাজে সর্বজন শ্রদ্ধেয় থাকবে। তার স্বপ্নযোগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার জিয়ারত নসিব হবে অথবা রওজাশরীফ জিয়ারত করার সৌভাগ্য লাভ করবে।
৪। যে লস্কর বা সৈন্যবাহিনীতে এ মোবারক নকশা সাথে থাকবে আল্লাহর ফজল ও করমে তারা পরাজিত হবে না। যে কাফেলায় এ নকশা মোবারকটি থাকবে সে কাফেলা কখনো লুণ্ঠিত ও বিপদগ্রস্ত হবে না এবং সহীহ সালামতে থাকবে।
৫। যে জাহাজে বা নৌকায় এ নকশা মোবারক থাকবে সে জাহাজ বা নৌকা কখনও ডুবে যাবে না।
৬। যে বস্তু বা সম্পদের মধ্যে এ নকশা মোবারকখানা থাকবে, সে বস্তু বা সম্পদ চোর বা ডাকাতের হামলা হতে নিরাপদ থাকবে।
৭। যে কোন হাজত বা প্রয়োজনে এ মোবারক নকশাটিকে উসিলা হিসেবে গ্রহণ করবে, আল্লাহ তায়ালা সে মকসুদ অবশ্যই পূর্ণ করবেন। (ফাতাওয়ায়ে রেজভীয়া ১০ম খণ্ড ১১৮ পৃষ্ঠা)
নালাইনশরীফের নকশার উসিলা এভাবে গ্রহণ করবেন। এ নকশা মোবারক আদব সহকারে আপন মাথার উপর রাখবেন এবং অনুনয় সহকারে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন, হে আল্লাহ! যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুতা মোবারকের আকৃতি মাথায় নিয়েছি আমি তাঁর নগণ্য একজন গোলাম। হে আল্লাহ! এ গোলামীর সম্পর্কের দিকে কৃপাদৃষ্টি করে পবিত্র জুতা মোবারকের নকশা এর বরকতে আমার অমুক উদ্দেশ্য পূর্ণ করুন।
অতঃপর জুতা মোবারকের নকশাখানা মাথা থেকে নামিয়ে স্বীয় চেহারায় মালিশ করবেন এবং ইহাকে অধিকভাবে চুম্বন দিবেন। ইনশায়াল্লাহ নেক মকসুদ কবুল হবে।