কোন অর্থে নবী ও রসুল উম্মী

Standard

আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেন-
اَلَّذِيْنَ يَتَّبِعُوْنَ الرَّسُوْلَ النَّبِىَّ الْاُمِّىَّ الَّذِيْنَ يَجِدُوْنَهُ مَكْتُوْبًا عِنْدَهُمْ فِىْ التَّوْرَاةِ وَالْاِنْجِيْلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ لَهُمْ الطَّيِّبَتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمْ الْخَبَائِثُ وَيَضَعُ عَنْهُمْ اِصْرَهُمْ وَالْاَغْلَلَ الَّتِىْ كَانَتْ عَلَيْهِمْ ط فَالَّذِيْنَ اَمَنُوْا بِهِ وَعَزَّرُوْهُ وَنَصَرُوْهُ وَاتَّبَعُو النُّوْرَ الَّذِيْنَ اُنْزِلَ مَعَهُ اُولَئِكَ هُمْ الْمُفْلِحُوْنَ- (سوره الاعراف: اية ১৫৭)
তরজমা: ওই সব লোক, যারা দাসত্ব করবে এ রসূল, পড়া বিহীন অদৃশ্যের সংবাদ দাতার যাকে লিপিবদ্ধ পাবে নিজের নিকট তাওরীত ও ইঞ্জীলের মধ্যে; আর পবিত্র বস্তু সমূহ তাদের জন্য হালাল করবেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের উপর হারাম করবেন; এবং তাদের উপর থেকে ওই কঠিন কষ্টের বোঝা ও গলার শৃঙ্খল, যা তাদের উপর ছিলো, নামিয়ে অপসারিত করবেন। সুতরাং ওইসব লোক, যারা তাঁর উপর ঈমান এসেছে, তাকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং ওই নূরের অনুসরণ করেছে, যা তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে তারাই সফলকাম হয়েছে।
[সূরা আ’রাফ: আয়াত- ১৫৭, তরজমা কানযুল ঈমান]
আল্লাহ্ তা‘আলা খোদ এ আয়াত শরীফে হুযূর-ই আকরামের বহু গুণের উল্লেখ করেছেন- অতি উত্তম রূপে। সুতরাং এ আয়াত শরীফকে শুধু একটি গুণ (না‘ত) নয়, বহু না‘তের সমষ্টি বলা যাবে।
প্রথমত, এ’তে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামকে তিনটি উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে- ১. নবী, ২. রসূল, ৩. উম্মী। সুতরাং ‘রসূল’ হলেন ওই মহান সত্তা, যিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টিকুলের মধ্যে এক মহান মাধ্যম। অর্থাৎ তিনি মহান রব থেকে ফয়য (কল্যাণ ধারা) নিয়ে সৃষ্টি পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেন, সৃষ্টির গুনাহ্ ও ভুল-ত্র“টি মহান স্রষ্টার নিকট থেকে ক্ষমা করিয়ে নেন। অথবা সৃষ্টিকে কুফর ও শির্ক থেকে বাঁচিয়ে স্রষ্টা পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেন। বস্তুত হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর মধ্যে এ গুণ পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে রয়েছে। কারণ আরবের মতো দেশে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন, আরববাসীদের থেকে কাউকে সিদ্দিক্ব কাউকে ফারূক্ব ইত্যাদি বানিয়ে দিয়েছেন।
আর ‘নবী’র সংবাদ দাতা। প্রথমোক্ত অর্থের ভিত্তিতে, বাস্তবিক পক্ষে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর ওই মর্যাদা রয়েছে, যাতে মানুষতো দূরের কথা, কোন ফেরেশতাও তাঁর ওই মর্যাদা সম্পর্কে যথাযথতভাবে জানতে পারেন না। আল্লাহকে একমাত্র তিনি জানেন আর মাহবূবকে আল্লাহ্ই জানেন। কবির ভাষায়-
معراج ميں جبريل سے كهل لگے شاه امم- تم نے تو ديكها هے جهاں بتلاو تو كيسے هں هم
روح الامين كهنے لگے ا مه جبين تيرى قسم- افا قها گرديده ام مهر تبا در زيده ام
بسيار خوباں ديده ام ليكن تو چيزے ديرى
অর্থ: মি’রাজে উম্মতকুলের বাদশাহ্ হুযূর-ই আকরাম হযরত জিব্রাঈলকে বলতে লাগলেন, ‘‘তুমি গোটা বিশ্বকে অবলোকন করেছো, বলতো আমি কেমন?
রুহুল আমীন (হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম) বলতে লাগলেন, ওহে চন্দ্ররূপী ললাট বিশিষ্ট হাবীবে খোদা, আপনারই শপথ, পৃথিবীর সব প্রান্তে ও দিগন্তে আমি ঘুরে ঘুরে এসেছি, উজ্জ্বল সূর্যকেও আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। সৃষ্টি জগতে অনেক সুন্দর সুন্দর মাখলুক দেখেছি। কিন্তু সেগুলোর তুলনায় আপনি এক অনন্য সত্তা। আপনি সবার চেয়ে সুন্দর, সবার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ। সুবহা-নাল্লাহ্!!
ওই সব শব্দমালায়, যেগুলো মানুষের মুখ থেকে বের হয়, হুযূর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করা সম্ভবপর নয়। তাঁর ফযিলত বা গুণাবলী বাস্তবাবস্থায় মানুষের ধারণা-কল্পনা পৌঁছতে পারে না। হযরত হাস্সান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেছেন-
مَا اِنْ مَدَحْتُ مُحَمَّدًا مَقَالَتِىْ – لكِنْ مَدَحْتُ مَقَالَتِىْ بِمُحَمَّدٍ
অর্থাৎ আমি আমার বচনগুলো দ্বারা হুযূর মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করিনি, বরং নিজের বচনগুলোকে তাঁর পবিত্র নাম দ্বারা প্রশংসাযোগ্য করেছি।
অথবা ‘নবী’ মানে (নবী’র শেষোক্ত অর্থের ভিত্তিতে) অদৃশ্যের সংবাদ দাতা। বাস্তবেও হুযূর-ই আকরাম জান্নাত ও দোখের, কিয়ামতের, কিয়ামত পর্যন্তের একেকটি ঘটনার খবর দিয়েছেন। এ হচ্ছে অদৃশ্যের সংবাদ।
তারপর এরশাদ হয়েছে- ‘উম্মী’। উম্মী শব্দের একাধিক অর্থ হতে পারে- এটা ‘’ দ্বারা শব্দের সাথে সম্পৃক্ত শব্দ। আরবীতে (উম্মুন) বলে মাকে, আসল বা মূলকে। অর্থাৎ এর অর্থ হচ্ছে মা বিশিষ্ট নবী। দুনিয়ায় সব মানুষ মা বিশিষ্টই হয়; কিন্তু যেমন ‘মা’ আল্লাহ্ তা‘আলা হুযূর-ই আকরামকে দান করেছেন, তেমন গোটা দুনিয়ায় কেউ পায়নি। হযরত মরিয়মও ‘মা’-ই ছিলেন। কিন্তু ‘নবীকুল সরদার’ যেমন বে-মেসাল (উপমাহীন), তাঁর আম্মাজানও তুলানাহীন (বে-মেসাল)। কবির ভাষায়-

وه كنوپارى اك مريم وه نَفَخْتُ فِيْهِ كادم
هے عجب نشان اعظم مر امنه كا جايا
وه هے سب سے افضل ايا

অর্থ: তিনি ওই পবিত্র কুমারী মরিয়ম, তিনি আল্লাহর তা‘আলার বাণী- ‘আমি তার মধ্যে রূহ ‘ফুৎকার করেছি’-এর প্রাণবায়ু বা সারতত্ব। তিনি এক বৃহত্তর নিদর্শনের আশ্চর্যজনক প্রকাশস্থল। (এতে কোন সন্দেহ নেই।) কিন্তু হযরত আমেনার মহান সন্তান (হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হলেন সবার সেরা, সবার চেয়ে শ্রেষষ্ঠ হিসেবেচ এ ধরা বুকে তাশরীফ এনেছেন।
যে ঝিনুক নিজের পেটে মূল্যবান মুক্তা ধারণ করে, ওই ঝিনুকও মূলবান হয়ে যায়। যেই বরকতময়ী মা আপন পাক গর্ভাশয়ে ওই অদ্বিতীয় মুক্তাকে ধারণ করেন, তিনি কতই বরকত মণ্ডিত হবেন! (তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।)
আরেক বৈশিষ্ট্য ‘পড়াবিহীন’। এর অর্থ হচ্ছে তিনি আপন মায়ের গর্ভাশয় থেকে সর্ববিষয়ে জ্ঞানবান হয়েই ভূমিষ্ঠ হয়েছেন, দুনিয়ার কারো নিকট পড়ালেখা করেন নি, করতে হয়নিত। কবি বলেন-
خاك وبراوج عرش منزل – امى وكتاب خانه در دل
امى ودقيقه دان عالم – بے سايه وسائبان عالم

অর্থ: তিনি মাটির পৃথিবীতে সদয় অবস্থায় করছেন, অথচ আরশের সর্বোচ্চ আসনে আসীন হয়েছেনদ। তিনি ‘উম্মী’ (দুনিয়ার কোন ওস্তাদের নিকট পড়ালেখা করেননি, কিন্তু তাঁর পবিত্র নূরানী হৃদয়ে রয়েছে বিশালতম কিতাবখানা- (গ্রন্থালয়)।
তিনি ‘উম্মী’ উপাধিধারী, অথচ বিশ্বের সূক্ষ্মাতিসূক্ষè বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত। তাঁর ছায়া ছিলো না, অথচ সেটা বিশ্বের জন্য বিশাল সামিয়ানা।
হুযূর আকরামের ছায়া ছিলো না, কিন্তু সমগ্র দুনিয়ার উপর তাঁর ছায়া রয়েছে। ‘উম্মী’ শব্দের তৃতীয় অর্থ- ‘উম্মুল কোরা’ (মক্কা মুকাররামাহ্)’য় সদয় অবস্থানকারী। এর চতুর্থ অর্থ- তিনি সমগ্র বিশ্বের মূল।
এ তিনটিতে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর উপাধি ছিলো। এখন তাঁর আরো ছয়টি গুণ বা বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করা হচ্ছে- ১. তিনি তাওরীত ও ইঞ্জীলের মধ্যে লিপিবদ্ধ। ইহুদী সম্প্রদায়ের যেসব আলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ‘সাহাবী’ হবার মর্যাদা লাভ করেছেন, যেমন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম, হযরত কা’ব-ই আহকার প্রমুখ। তাঁরা হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর ওইসব গুণের কথাও শুনিয়েছেন, যেগুলো তাওরীত শরীফে এসেছে। সুতরাং হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু তাওরীত থেকে এসব গুণ শুনিয়েছেন- (আল্লাহ্ তা‘আলা এরশাদ করেছেন,) ‘‘হে নবী, আমি আপনাকে ‘শাহিদ’ (সাক্ষী, হাযির-নাযির), ‘বশীর’ (সুসংবাদদাতা), ‘নাযীর’ (ভীতি প্রদর্শনকারী করে প্রেরণ করেছি। আপনি ‘পড়াবিহীনদের তত্ত্বাবধায়ক, আপনি আমার প্রিয় বান্দা ও রসূল। আমি আপনার নাম ‘মুতাওয়াক্কিল (ভরসাকারী) রেখেছি। আপনি মন্দ চরিত্রের অধিকারীও নন, কঠোর স্বভাবেরও নন, বাজারগুলোতে শোরগোলকারীও নন। আপনি অপকারের বদলা অপকার দ্বারা নেবেন না, বরং দোষীদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ্ ওই সময় পর্যন্ত আপনাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যাবেন না, যতক্ষণ না আপনার বরকতে বিকৃত দ্বীন পূর্ণতা লাভ করবে; লোকেরা যতক্ষণ না কলেমা পড়তে থাকবে। আপনার বরকতে অন্ধ চোখগুলো জ্যোতির্ময়, বধির কানগুলো শ্র“তি শুক্তি বিশিষ্ট এবং পর্দাকৃত হৃদয়গুলো খুলে যাবে।’’
এ ধরণের উক্তি হযরত কা’ব-ই আহ্বার থেকেও বর্ণিত হয়েছে- খ্রিস্টানগণ অনেক চেষ্টা করেছে- হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর সমস্ত গুণ, পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য ইঞ্জীল থেকে বের করে (মুছে) দিতে। কিন্তু এখানকার ইঞ্জীলে, যাতে অনেক রদ-বদল হয়ে গেছে, হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর গুণাবলী এভাবে উল্লিখিত রয়েছে।
‘ইহান্নার ইঞ্জীল, ব্রিটিশ এণ্ড ফরেন বাইবেল সোসাইটী কর্তৃক লাহোর থেকে ১৯৩১ ইংরেজীতে মুদ্রিত কপির ‘‘১৪ অধ্যায়! ১৬শ আয়াতে আছে- ‘আমি পিতার নিকট দরখাস্ত করবো। সুতরাং তিনি তোমাদের অন্য এক সাহায্যকারী দান করবেন, যিনি অনন্তকাল যাবৎ তোমাদের সাথে থাকবেন। এটা হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামের না’ত (প্রশংসা) এবং তিনি শেষ নবী হবার পক্ষে বর্ণনা।
এ কিতাবের এ অধ্যায়েই ২৯, ৩০তম আয়াতে আছে, ‘‘আমি তোমাদের সাথে আর বেশী কথা বলবো না। কারণ, দুনিয়ার সরদার আসছেন এবং আমার মধ্যে তাঁর কিছুই নেই।’’
এ কিতাবের ১৬শ অধ্যায়, আয়াত নম্বর ৭-এ আছে, ‘‘কিন্তু আমি তোমাদের সাথে সত্য কথাটা বলছি। তা হচ্ছে আমার চলে যাওয়া তোমাদের জন্য উপকারী। কেননা, আমি না গেলে ওই সাহায্যকারী তোমাদের নিকট আসবেন না। যদি আমি চলে, যাই, তবে (আমি গিয়ে) তাঁকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে দেবো।
এ কিতাবের এ অধ্যায়ের ১৩ নম্বর আয়াতে আছে- ‘‘কিন্তু যখন তিনি, অর্থাৎ সত্য তার রূহ আসবেন, তখন তিনি তোমাদেরকে সকল সত্য পথ দেখিয়ে দেবেন। তাও এজন্য যে, তিনি নিজ থেকে কিছুই বলবেন না, কিন্তু তিনি যা কিছু শুনবেন, তা-ই বলবেন, আর তোমাদেরকে ভবিষ্যতের সব সংবাদ দেবেন।’’
চিন্তা করুন, হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এর পর ওইসব গুণে গুণান্বিত হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম ব্যতীত আর কে এসেছেন? দ্বিতীয় গুণ বর্ণিত হয়েছে- ‘তিনি নির্দেশ দেন ভাল কাজগুলোর।’ তৃতীয় গুণ বলেছেন, ‘নিষেধ করেন মন্দ কাজগুলো করতে।’ এ থেকে বুঝা গেলো যে, ভালো কাজ হচ্ছে সেটাই, যাকে ভাল লোকদের সরদার বৈধ করেছেন, আর মন্দ কাজ হচ্ছে সেটাই, যা করতে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম নিষেধ করেছেন। চতুর্থ গুণ বর্ণিত হয়েছে- পবিত্র বস্তুসমূহকে তিনি তাদের জন্য হালাল করেন, পঞ্চম গুণ বলেছেন, ৫ মন্দ ও অপবিত্র বস্তু সমূহ তাদের জন্য হারাম করেন। এ থেকে বুঝা গেলো যে, হালাল ও হারাম করার ইখতিয়ার হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামকে মহামহিম রব দিয়েছেন। তিনি শরীয়তের মালিক। এ সম্পর্কে বহু হাদীস শরীফ বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বনী ইস্রাঈলের উপর তাদের গুনাহর কারণে কিছু ভাল জিনিসও হারাম করে দেওয়া হয়েছিলো; যেমন হালাল পশুগুলোর চর্বি ইত্যাদি। হুযূর আলায়হিস্ সালাম-এর বরকতে সেটা হালাল হয়ে গেছে। অনুরূপ মদ ইত্যাদি অপবিত্র বস্তু তাদের জন্য হালাল ছিলো। সেটাকে হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম ক্বিয়ামত পর্যন্তের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। ষষ্ঠ গুণ এটা বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উপর থেকে বোঝা অপসারণ করেন, অর্থাৎ পূর্বে বিধানাবলী কঠিন ছিলো, যেগুলো পালন করা মানুষের জন্য কষ্ট সাধ্য ছিলো। যেমন সম্পদের এক চতুর্থাংশে যাকাত হিসেবে প্রদান করা, ওযুর স্থলে তায়াম্মুম করতে না পারা নামায শুধু ইবাদত খানা গুলোতে সম্পন্ন করা, অন্য কোন যায়গায় কাপড়ে নাপাক লাগলে, সেটাকে জ্বালিয়ে ফেলা কিংবা কেটে ফেলা ইত্যাদি। এ সব বিধানই বনী ইস্রাঈলের উপর প্রযোজ্য ছিলো। কিন্তু হুযূর আলায়হিস্ সালাতু ওয়াস্ সালাম-এর বরকতে এসব মুসীবত দূরীভতি হয়েছে। এখন যাকাত দিয়ে হয় সম্ভব পর না হয়, তবে তায়াম্মুম কারার বিধান দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর সেখানে ইচ্ছা নামায সম্পন্ন করা। গনীমতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে। এসব সহজ বিধান ও বরক হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s