হানাফী মাযহাব

Standard

image

☑️মহানবীর মাযহাব কি?
মহানবী (দ:)সরাসরি আল্লাহর হকুম আহকাম পালন করতেন,সাহাবীরা ৪ ইমামের মাধ্যমে এবং সরাসরি মহানবী কে অনসুরন করতেন।আর আমাদের জন্য রাসুলের মাধ্যমে আল্লাহর হকুম আহকাম পালন, রাসুলের আনুগত্য করা ফরজ,ফকিহ আলেমদের অনুসরন ওয়াজিব .
☑️ সাহাবীদের মাযহাব কি?
সাহাবায়ে কিরাম যারা সরাসরি রাসূল সাঃ এর কাছে ছিলেন তাদের জন্য রাসূল সাঃ এর ব্যাখ্যা অনুসরণ করা ছিল আবশ্যক। এছাড়া কারো ব্যাখ্যা নয়। কিন্তু যেই সকল সাহাবারা ছিলেন নবীজী সাঃ থেকে দূরে তারা সেই স্থানের বিজ্ঞ সাহাবীর মাযহাব তথা মত অনুসরণ করতেন। যেমন ইয়ামেনে হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ এর মত তথা মাযহাবের অনুসরণ হত। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ কে অনুসরণ করতেন ইরাকের মানুষ। রাসূল সাঃ যখন মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ কে ইয়ামানে পাঠাতে মনস্ত করলেন তখন মুয়াজ রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন-“যখন তোমার কাছে বিচারের ভার ন্যস্ত হবে তখন তুমি কিভাবে ফায়সাল করবে?” তখন তিনি বললেন-“আমি ফায়সালা করব কিতাবুল্লাহ দ্বারা”। রাসূল সাঃ বললেন-“যদি কিতাবুল্লাহ এ না পাও?” তিনি বললেন-“তাহলে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত দ্বারা ফায়সালা করব”। রাসূল সাঃ বললেন-“যদি রাসূলুল্লাহ এর সুন্নাতে না পাও?” তখন তিনি বললেন-“তাহলে আমি ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবন করার চেষ্টা করব”। তখন রাসূল সাঃ তাঁর বুকে চাপড় মেরে বললেন-“যাবতীয় প্রশংসা ঐ আল্লাহর যিনি তাঁর রাসূলের প্রতিনিধিকে সেই তৌফিক দিয়েছেন যে ব্যাপারে তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট”। {সূনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৯৪, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৩২৭, সুনানে দারেমী, হাদিস নং-১৬৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০৬১}
এই হাদীসে লক্ষ্য করুন-রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় হযরত মুয়াজ রাঃ বলছেন যে, আমি কুরআন সুন্নাহ এ না পেলে নিজ থেকে ইজতিহাদ করব, আল্লাহর নবী বললেন-“আল হামদুলিল্লাহ”। আর ইয়ামেনের লোকদের উপর হযরত মুয়াজের মত তথা মাযহাব অনুসরণ যে আবশ্যক এটাও কিন্তু হাদীস দ্বারা
☑️ *সাহাবা-এ-কেরাম (রা:)-এর যুগে চারজন ইমাম ছিলেন।
হাফেয ইবনে কাইয়্যেম আল-জাওযিয়্যা লিখেছে যে সে লিখে, “মক্কা মোযাযযমায় ছিলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:), মদীনা মোনাওয়ারায় হযরত যায়দ বিন সাবেত (রা:), বসরা নগরীতে হযরত আনাস বিন মালেক (রা:) এবং কুফা শহরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:)। তাঁদের বেসালের (পরলোকে আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার) পরে তাবেঈনদের মধ্যেও ছিলেন বিখ্যাত চার ইমাম। এরা হলেন মদীনা মোনাওয়ারায় হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রহ:), মক্কা মোয়াযযমায় হযরত আতা ইবনে রাব’আ (রহ:), ইয়েমেনে হযরত তাউস্ (রহ:) এবং কুফায় হযরত ইবরাহীম (রহ:)। এছাড়াও অনেক ইমাম ছিলেন, তবে ওই চারজনই ছিলেন সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।”
[হাফেয ইবনে কাইয়্যেম কৃত ‘আলা’ম-উল-মোওয়াকিয়ীন’, ১০ পৃষ্ঠা]
☑️ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পারস্যবাসীর এক ভাগ্যবান ব্যক্তির সুসংবাদ দিয়েছেন।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণনা করেছেন। মহানবী (দ:)ইরশাদ করেন-
-যদি দ্বীন সপ্তর্ষিমণ্ডলস্থ সুরাইয়া সেতারার কাছে গচ্ছিত থাকে তখনও পারস্যবাসীর এক ব্যাক্তি তা অর্জন করে নেবে।৩
মুহাদ্দিসগণ বলেছেন এ হাদীসটি ইমাম আ’যম আবূ হানিফা (রা:) এর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। এতে কোনো আলেম দ্বিমত পোষণ করেননি। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী শাফেয়ী (রহ:) “তাবয়িযূস সহিফা” কিতাবে এবং ইমাম ইবনে হাজার মক্কী (রহ:) “আল খায়রাতুল হিসান” এর মধ্যে “ইমাম আ’যম আবূ হানিফার (রা:) এর ব্যাপারে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুসংবাদ” শিরোণামে অধ্যায় রচনা করেছেন।
@০৩. মুসলিম শরীফ : আস সহীহ, কিতাবু ফাযায়িলিস সাহাবা, باب فضل فارس ৪/১৯৭২, হাদিস : ২৫৪৬।

☑️হানাফী মাযহাব গঠন:
——-ইমাম আবু হানিফা (র ছিলেন তাবয়ী,তিনি সরাসরি সাহাবীদের দেখেছেন,তিনি সরাসিরি সাহাবীদের থেকে
হাদিস রেওয়ায়েত করেন,তিনি ইসলামের ৪ মাযহাবের এক মাযহাবের ইমাম ছিলেন।
ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি উচ্চাঙ্গের ফিকহ-গবেষণা-বোর্ডকে ‘ফিকহ-মজলিস’ শিরোনামে উল্লেখ করা হল । এই মজলিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অনেকেই করেছেন । ড. মুস্তফা সিবায়ী (রহ.)-এর ‘আসসুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিত্ তাশরীইল ইসলামী’, আবু যাহরা (রহ.)কৃত ‘আবু হানীফা’ ও ড. মুস্তফাকৃত ‘আলআইম্মাতুল আরবায়া’ গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা রয়েছে, যার সারকথা এই যে, ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ফিকহ-সংকলনে তার ব্যক্তিগত জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উপর নির্ভর করেননি; বরং চল্লিশজন শীর্ষস্থানীয় ফকীহ ও মুহাদ্দিসের সমন্বয়ে একটি মজলিস গঠন করেছিলেন, যেখানে এক এক মাসআলার উপর দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনা হত । সবশেষে যে সিদ্ধান্ত দলীলের আলোকে স্থির হত তা লিপিবদ্ধ করা হত । কখনো এক মাসআলাতে তিন দিন পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকত । সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে এতটাই সাবধানতা অবলম্বন করা হত যে, মজলিসের একজন সদস্যও অনুপস্থিত থাকলে তাঁর অপেক্ষা করা হত এবং তাঁর মতামত উপস্থাপিত হওয়ার পরই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হত । সে সময়ের বড় বড় মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ফকীহ এই ফিকহ-মজলিসের সদস্য ছিলেন ।
তাই একথা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায় যে, যে ফিকহ পরিপূর্ণভাবে কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াসের উপর ভিত্তিশীল এবং যা ইসলামের স্বর্ণযুগে যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীদের তত্ত্বাবধানে সংকলিত হয়েছে এরপর আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন তার স্থায়ীত্ব ও উপযোগিতা প্রশ্নাতীত এবং তা পরবর্তী যুগের লোকদের স্বীকৃতি ও সমর্থনের মুখাপেক্ষী নয় । অতএব কিছু মানুষের অস্বীকৃতি ও বিরোধীতা এর গ্রহণযোগ্যতাকে কিছুমাত্র হ্রাস করবে না ।
সুত্রঃ ইবনে কাছীর,আর বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০ খন্ড,* আবু যাহরা, আবু হানীফা, দারুল ফিকরিল আরাবী, পৃ, 213; আস-সিবায়ী, আস-সুন্নাত ওয়া মাকানাতুহা …., আল-মাকতাবুল ইসলামী, পৃ, 427; ড. মুসতফা, আল-আইম্মাতুল আরাবাআ, দারুল কুতুবিল মিসরিয়া, পৃ, 65

Advertisements

জানাজার নামাজের পর দোআ

Standard

জানাজা’র নামাজের পর দোয়া করা
***************************************************
লেখকঃ- আলহাজ্ব মুফতী এস এম সাকীউল কাউছার।
নায়েব-ই সাজ্জাদানশীনঃ- তরীকায়ে নকশবন্দীয়া মুজাদ্দেদীয়া গাউছিয়া।
ঘিলাতলা দরবার শরীফ, কুমিল্লা।
——————————————————————————————–
প্রসংগ কথাঃ- একজন মুসলমানের এ দুনিয়াতে শেষ অনুষ্ঠান নামাজে জানাজা। মৃত ব্যক্তির জন্য জানাজার নামাজ পড়া জীবিতদের জন্য ফরজে কেফায়া। জানাজাতে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী মুটামূটি অনেক লোক সমাগম হয়ে থাকে। জানাজার নামাজের পর অনেক লোক চলে যায় দাফন পর্যন্ত থাকেনা। দাফনের পর মুনাজাতে লোক কম হয় তাই জানাজার পর পরই দোয়া করা হলে অধিক লোকের হাত আল্লাহ’র দারবারে তোলার কারণে মৃত ব্যক্তির উপর আল্লাহ’র দয়া, মাগফিরাত, তার কবর ও আখিরাতের জীবন আরও উন্নত হওায়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে । এই দোয়া শরীয়তের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই বরং মুস্তাহাব। অথচ এ পূণ্য কাজটি অনেকে বিদাত বলে এবং জানাজা’র নামাজই দোয়া আর মুনাজাতের দরকার নেই এ বলে সাধারণ মুসলমানকে বিভ্রান্ত করছে। জানাজার পর ও দাফনের পর দোয়া করা হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। অতএব এ বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে আলোকপাত করছি।
জানাজা-নামাজ,দোয়া নয়ঃ-
ফরজ নামাজ দুই প্রকার- ফরজে আইন (৫ ওয়াক্তের নামাজ), ফরজে কেফায়া (জানাজার নামাজ)। নামাজের জন্য অনেক শর্ত রয়েছে, পবিত্রতা, কেবলামূখী হওয়া, নিয়্যত করা, তাকবীরে তাহরিমা, সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করা ইত্যাদি। ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও জানাজার নামাজসহ সকল নামাজ তাকবীরে তাহরীমা দ্বারা শুরু হয় এবং ডানে বামে সালাম দ্বারা শেষ হয়। কিন্ত দোয়া-মুনাজাতের মধ্যে এগুলো শর্ত নয়। অতএব নামাজ ও দোয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। জানাজার নামাজে নিয়্যতের মধ্যে “ছালাছাতিল জানাজা” অর্থাৎ জানাজার ছালাত বা নামজ উল্লেখ আছে। তাই তা নামাজ যা ইমামের পিছনে লাশকে সামনে রেখে কেবলা মূখী হয়ে কাতার বন্দী অবস্থায় আদায় করতে হয়। অনেকে বলে জানাজার মধ্যে দোয়া আছে তাই এটাই দোয়া ? আমি বলব ৫ ওয়াক্ত নামাজের ভিতরও দোয়া (দোয়া মাছুরা,ছানা ইত্যাদি), জিকির (রুকু-সিজদার তাছবীহ ইত্যাদি) ও দারূদ আছে। তাই বলে কি নামাজকে দোয়া, জিকির ও দরূদ বলা হয়? আল্লাহ্‌ পাক বলেন- اقيموا الصلوة لذكرى (আকিমুছ ছালাতা লে জিকরি) অর্থাৎ আমার জিকির বা স্মরণের উদ্দেশ্যে তুমরা ছালাত বা নামাজ কায়েম কর। এখন কি কেহ বলে নামাজই জিকির আর জিকির করতে হবেনা ?
তাই জানাজার নামাজের ভিতর দোয়া থাকলেও তাকে শুধু দোয়া বলা যাবে না তা নামাজ। তাছাড়া দোয়া বার বার করা যায় এতে উপকার ছাড়া ক্ষতি নাই। জানাজার আগেও লাশ সামনে রেখে কোরআন তালওয়াত, অজিফা ইত্যাদি পড়া হয় এ গুলো দোয়ার মধ্যে শামিল। জানাজার নামাজ ‘ফরজে আইন’ আর দোয়া হলো ‘সুন্নাত’। হাদীছে আছে- اكثرو الذعاء অর্থাৎ বেশী করে দোয়া প্রার্থনা করো। জানাজাও অনেক সময় ২-৩-৪ বার হয়। তাহলে জানাজার পর হাত তোলে আবার আল্লাহ’র নিকট দোয়া করাতে অসুবিধা কি? আর দোয়াও এক প্রকার ইবাদত। মিশকাত শরীফের কিতাবুদ দাওয়াতে হাদীছ বর্ণিত আছে- الدعاء هو العبادة অর্থাৎ দোয়া একপ্রকার ইবাদত। একই জায়গায় এই হাদীছ খানাও আছে- الدعاء مخ العبادة অর্থাৎ দোয়া ইবাদতের মূল। আর জানাজার নামাজ ফরজ ইবাদত।

জানাজা নামাজের পর দোয়ার প্রমাণঃ-
আবু দাউদ শরীফ হতে মেশকাত শরীফের ‘ছালাতুজ জানাজা’ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত হাদিছ- اذا صليتم على الميت فاخلصوا له الدعاء (ইজা ছাল্লাইতুমু আ’লাল মাইয়্যেতে ফাখলিছু লাহুদ দোয়া) অর্থাৎ যখন তুমরা মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ পরে ফেল, তখন আন্তরিক ভাবে তার জন্য দোয়া কর।
এখানে ‘ফা’ হরফ বা অক্ষর দ্বারা জানাজার নামাজ ও দোয়াকে আলাদা করা হয়েছে। অর্থাৎ নামাজের পর পরই তার জন্য দোয়া করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা এ হাদীছের অর্থ ‘জানাজার মধ্যে দোয়া কর’ বলে তারা ‘ফা’ এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ। কারণ আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘ছাল্লাইতুম’ হচ্ছে শর্ত এবং ‘ফাখলিছু’ এর জাযা। শর্ত অ জাযার মধ্যে পার্থক্য থাকা বাঞ্ছণীয়, একতা অন্যটার অন্তর্ভুক্ত নয়।আর ‘ছাল্লাইতুম’ হলো অতীত কাল জ্ঞাপক ক্রিয়া এবং ‘ফাখলেছু’ হলো আদেশ বা নির্দেশাত্মক ক্রিয়া, তাই বুঝা গেল, নামাজ পড়ার পরই দুয়ার নির্দেশ রয়েছে। যেমন কোরআনে আছে- فااذا طعمتم فانتشروا অর্থাৎ যখন খাওয়া শেষ হবে তখন ছড়িয়ে পর। এখানেও ‘ফা’ শব্দ দ্বারা খাওয়ার পর ছড়িয়ে পরতে বলা হয়েছে, খাওয়ার মাঝখানে নয়।
মেশকাত শরীফের একই জায়গায় আরও উল্লেখ আছে- قرء على الجنازة بفاتحة الكتاب (ক্বারা’আ আ’লাল জানাজাতে বে ফাতিহাতিল কিতাব) অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজায় সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন।
এ হাদীছের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মেশকাত শরীফের ব্যাখ্যা ‘আশ’আতুল লুময়াত’ কিতাবে উল্লেখ আছে- “সম্ভবত হুজুর সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাজার নামজের পরে বা আগে বরকতের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন, যেমন আজকাল এর প্রচলন দেখা যায়”। এর থেকে বুঝা গেল মুহাদ্দিছকুল শিরমনি হযরত আব্দুল হক মুহাদ্দিছে দেহলবী (রঃ) এর যুগেও জানাজার নামাজের আগে বা পরে বরকতের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠের প্রচলন ছিল। তিনি এতে নিষেধ করেননি, বরং হাদীছের অনুসরণই বলতে চেয়েছেন। আর সুরা ফাতিহা পাঠও এক প্রকার দোয়া।
বিখ্যাত ‘ফতহুল কাদির’ কিতাবের ‘জানাজার নামায’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে, হজুর আলাইহিস সালাম মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে মুতা যুদ্ধের খবর দিলেন। এর মধ্যে হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ) এর শাহাদাতের খবর দিলেন। فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم و دعاله و قال استغفروا له অর্থাৎ অতঃপর তার নামাজের জানাজা পড়লেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন এবং লোকদেরকে বললেন তুমরাও তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া কর। উল্লেখিত ইবারতে ‘দোয়া’ শব্দের আগে ‘ওয়াও’ অব্যয় দ্বারা বুঝা যায় যে,এ দোয়া নামাজের পরই করা হয়েছিল।
মাওয়াহিবে লাদুনিয়া কিতাবের দ্বিতীয় খন্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে-
فيما اخبر من الغيوب এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উপরোক্ত ঘটনা হুবহু বর্ণনা করার পর বলেছেন- ثم قال استغفروا استغفرو له (ছুম্মা ক্বালা এস্তাগফেরু এস্তাগফেরুলাহু) অর্থাৎ মাগফিরাত কামনা কর, তার জন্য মাগফিরাত কামনা কর। রকম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) এর জানাজার পর দোয়া করেছেন। অতএব প্রমাণিত হলো যে, জানাজার পর মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা জায়েয বা সুন্নাত।
সামশুল আয়িম্মা সরখসি (রঃ) এর রচিত “মাবসুত” নামক কিতাবের দ্বিতীয় খন্ডের ৬০ পৃষ্ঠায় ‘গোসলিল মাইয়্যেত’ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) একবর জানাজার নামাজের পর উপস্থিত হন এবং বলেন- ان سبقتمونى بالصلوة عليه فلا تسبقونى بالدعاء অর্থাৎ যদিও তুমরা আমার আগে নামাজ পড়ে ফেলেছো, কিন্তু দোয়ার সময় আমার আগে যেয়েও না। অর্থাৎ আমার সাথে দোয়ায় শরীক হও। ‘মাসবুত’ কিতাবের একই জায়গায় হযরত ইবনে উমর (রাঃ), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) থেকে প্রমাণ করেছেন যে, তাঁরা জানাজার নামাজের পর দোয়া করেছেন এবং উপরোক্ত হাদীছের ‘ফালা তাশবেকু’ এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, জানাজার পর দোয়ার মধ্যে সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) আমল করতেন। অতএব জানাজার পর দোয়া করা বেদাত-নাজায়েয বলা গোমরাহি।
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর দোয়া করা সুন্নাত ও দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। যেমন- মিশকাত শরীফে ‘আজ জিকরু বা’দাছ ছালাত’ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে- قيل يا رسول الله اى الدعاء اسمع قال جوف الليل الاخر و دبر الصلوة المكتوبات অর্থাৎ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরজ করা হলো কোন সময়ের দোয়া বেশী কবুল হয়, তিনি এরশাদ করেন- শেষ রাত্রির মধ্যবর্তী সময় ও ফরজ নামাজের পরে। জানাজার নামাজও ফরজ (ফরজে কেফায়া) তাই জানাজার পরেও দোয়া করলে কবুল হওয়ার আশা বেশী। মৃত ব্যক্তির জন্য যা নাজাতের উসিলা হতে পারে।
ইমাম আবূ দাউদ (রহ:) ও ইমাম বায়হাকী (রহ:) ‘হাসান’ এসনাদে হযরত উসমান (রা:) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: মহানবী (দ:) ইন্তেকাল প্রাপ্ত কারো দাফনের পরে তার (কবরের) পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ‘এই ইন্তেকাল প্রাপ্তের গুনাহ মাফের জন্যে দোয়া করো, যাতে সে দৃঢ় থাকে; কেননা তাকে (কবরে) প্রশ্ন করা হচ্ছে।‘
অতএব প্রমাণিত হলো শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাজার পর ও দাফনের পর দোয়া করা সুন্নাত-মোস্তাহাব। বেদাত বা নাজায়েয নয়। —–সমাপ্ত——-

চার মাযহাব যারা মানে না তারা নিজেরাই বিভিন্ন দলে বিভক্ত

Standard

image

যারা বলে চার মাযহাব হারাম। এ চার মাযহাব মুসলমানদেরকে বিভক্ত করছে। সুতরাং চার মাযহাব ছেড়ে দিয়ে কোরাআন হাদিস মানতে হবে।তাদের জন্য এ আলোচনা। দেখুন-
আপনারা বলছেন, চার মাযহাব মুসলমানদেরকে চারভাগে বিভক্ত করছে। কিন্তু আপনার জানা প্রয়োজন নামধারী আহলে হাদিসরা যারা একথা বলে বেড়াচ্ছে, তারাই শত শত ভাগে বিভক্ত।
মজার ভিডিওটি দেখুন,

আপনারা বলছেন, মাযহাব মুসলমানদেরকে বিভক্ত করছে তাদের বিভিন্ন ভিন্নধর্মী পরস্পর বিরোধী ফতোয়ার কারণে।
অথচ দেখুন, আপনারা সউদী আরবের যাদেরকে সহীহ আকীদার আলেম বলে মানেন, আপনারা যাদের ব্যাপারে বলেন যে, তারা সহীহ হাদীস ছাড়া কথা বলেন না। তাদের মধ্যে ও কিন্তু রয়েছে একই রকম পরস্পর বিরোধী ফতোয়া। এখন প্রশ্ন হলো, মাযহাব মানলে যদি বিভক্তি আসে, তবে এই সকল সউদী আলেমদের পরস্পর বিরোধী ফতোয়া দ্বারা কেন বিভক্তি আসবেনা?
এখানে সেরকম কিছু মাস’আলা উল্লেখ করবো-

মাস’আলাঃ১
_____________________
স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার
বিন বাযের মাযহাবঃ
খাবার হোক অথবা পান ক রা হোক, বা অন্য কোন কিছুর জন্য হোক, কোন কিছুর জন্যই স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম।
মাজমু উ ফাতাওয়া- ২৯/১০-৯

আলবানীর মাযহাবঃ
স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার হারাম, তবে রৌপ্যের পাত্র খাবার এবং পান ক রা ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার জায়েয।
আছা ছামারুল মুসতাতাব-১/৭

বিন উছাইমিনের মাযহাবঃ
খাবার এবং পান ক রা ছাড়া অন্য যে কোন কাজের জন্য স্বর্ণ এবং রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার ক রা জায়েয।
আশ শারহুল মুমাত্তা- ১/৮৬-৮৭
_____________________
ওরে বাপ্পুসরে!
একজন বলে হারাম, আরেকজন বলে জায়েয!!!!!
এমন পরস্পরবিরোধী ফতোয়ায় বিভক্তি নির্মূল হয়ে সুন্দর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?

মাস’আলাঃ২
______________________
মোজার উপর মাসেহ করে খোলে ফেললে অযু থাকবে কী না?
বিন বাযের মাযহাবঃ
মোজার উপর মাসেহ করে পরে যদি কেউ তা খুলে ফেলে তবে অযু বাতিল হয়ে যাবে।
মাজমু উ ফাতাওয়া- ২৯/৬৯
আলবানীর মাযহাবঃ
মোজার উপর মাসেহ করে পরে তা খোলে ফেললে অযু বাতিল হবেনা। বিশুদ্ধ থাকবে।
তামামুল মান্নাহ-১১৪-১১৫
_____________________
তাহলে কী বুঝা গেল?
এ অবস্থায় কেউ নামাজে দাড়ালে—
একজনের ফতোয়ায় তার নামাজ হচ্ছেনা। আবার অন্যজনের ফতোয়ায় নামাজ হবে।
ভাবুন, কী অবস্থা!!!
এমন পরস্পরবিরোধী ফতোয়ায় বিভক্তি নির্মূল হয়ে সুন্দর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?
মাস’আলাঃ৩
_____________________
জুতার উপর মাসেহ করা
আলবানীর মাযহাবঃ
জুতার উপর মাসেহ ক রা জায়েয। সহীহ হাদীসে আছে।
তামামুল মান্নাহ-১১৩-১১৪

বিন উসাইমিনের মাযহাবঃ
জুতার উপর মাসেহ করা জায়েয নেই।
লিকা আতুল বাবিল মাফতুহ-১/১৮৪
_______________________
বিষয়টি নামাজের সাথে সম্পর্কিত। তো এ অবস্থায় একজনের ফতোয়া নামাজ হবে, আবার অন্যজনের ফতোয়ায় নামাজই হচ্ছে না!!!!
সহীহ আকীদার হুজুরদের এ কেমন পরস্পর বিরোধী ফতোয়া!!!!!
এমন পরস্পরবিরোধী ফতোয়ায় বিভক্তি নির্মূল হয়ে সুন্দর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?
মাস’আলাঃ৪
_________________
গুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করলে অযু ভঙ্গ হবে কী না?

বিন বাযের মাযহাবঃ
সামনের অথবা পেছনের গুপ্তাঙ্গ হাত দিয়ে স্পর্শ করলে অযু ভেঙ্গে যাবে। সেটা উত্তেজনায় হোক অথবা এমনিই হোক।
আদ দুরূসুল মুহিম্মাহ-৩/২৯৪
আলবানীর মাযহাবঃ
উত্তেজনা বশতঃ স্পর্শ করলে অযু ভেঙ্গে যাবে। অন্যথায় অযু থাকবে।
তামামুল মান্নাহ-১০৩
_____________________
তাহলে কী দাঁড়ালো?
বিন বাযের ফতোয়ায়- অযু করে কেউ যদি এমনিতেই গুপ্তাঙ্গ হাত দিয়ে স্পর্শ করে নামাজে দাড়ালে নামাজ হবে না। আবার আলবানীর ফতোয়া মতে নামাজ হবে।
এ কেমন ঝগড়া? সহীহ আকীদার হুজুরদের?
এমন পরস্পরবিরোধী ফতোয়ায় বিভক্তি নির্মূল হয়ে সুন্দর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?
মাস’আলাঃ৫
জুম’আর গোসল করলে কি ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে?
বিন বাযের মাযহাবঃ
জুম’আর দিন গোসল ফরয হলে জুম’আর জন্য দিনে গোসল ক রা হলে ফরয গোসল আদায় হয়ে যাবে। উভয়টির নিয়্যত ক রা হোক কিংবা না হোক। তবে উভয়টির নিয়্যাত ক রা উত্তম।
মাজমু উ ফাতাওয়া- ১২/৪০৬

আলবানী মাযহাবঃ
উভয়টির নিয়ত করলে ও কাজ হবেনা। ফরয গোসল আলাদা করে করতে হবে।
আল হাওয়ী মিন ফাতাওয়াল আলবানী-৪১৪
_________________
তো, আলবানী বলছেন, বিন বাযের ফতোয়া মানলে লোকটার জুম’আর নামাজই আদায় হবে না। কারণ সে এখনো নাপাক রয়ে গেছে। ফরজ গোসল আদায় হয়নি।
কী বলবেন এখন?
এমন পরস্পরবিরোধী ফতোয়ায় বিভক্তি নির্মূল হয়ে সুন্দর মিষ্টি মিষ্টি ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তাই না ভাইয়া?
মাস’আলাঃ৫
____________________
মসজিদে মেহরাব বানানোঃ
বিন বাযের মাযহাবঃ
মসজিদে মেহরাব বানানো বেদ’আত নয়, বরং এটা সালাফে সালিহীনের আমল। তাছাড়া এর মধ্যে অনেক ফায়েদা ও রয়েছে।
ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব- ২/৭১৬
বিন উসাইমীনের মাযহাবঃ
মসজিদে মেহরাব বানানো সরাসরি সুন্নাহ নয়, তবে মুসতাহাব বলা যাবে। যেহেতু এর পক্ষে শরয়ী দলীল রয়েছে।
তবে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, এটা মুবাহ। আদেশ নিষেধ কিছুই করা যাবে না।
আশ শারহুল মুমাত্তা’-২/৩৩২-৩৩৩
আমি অবাক হলাম, বিন উসাইমীনের কিয়াস দেখে। তারা তো বলেন, সহীহ হাদীসের আমল করবেন। কিন্তু এই মাস’আলায় তিনি করলেন কিয়াস।
কীভাবে?
তিনি বললেন,
হাদীসে নিষেধ এসেছে খ্রীস্টানদের মেহরাবের মত মেহরাব না বানাতে। তবে মেহরাব বানাতে গিয়ে তাদের অনুকুরন না করে অন্য পন্থায় বানালে তা মাকরূহ হবেনা।
কেননা মুল কথা হচ্ছে খ্রীস্টানদের সাথে সাদৃশ্য না রাখা। এখন যদি কোনভাবে সাদৃশ্য না হয়, তবে তা মাকরূহ হবে না।
আশ শারহুল মুমাত্তা’-২/৩৩২-৩৩৩

আলবানীর মাযহাবঃ
আলবানী ফতোয়া দিলেন, মসজিদে মাযহাব বানান বিদ’আহ। কিন্তু অবাক, তিনি ঐ দলীল দিলেন, যে দলিল থেকে কিয়াস করে বিন উসাইমীন মুসতাহাব ফতোয়া দিলেন!
এটা ছাড়াও আলবানী অন্য হাদীস দিয়ে দলীল দিয়েছেন,
১/তোমরা মসজিদে মেহরাব বানিওনা। (আলবানীর মতে , সনদ সহীহ)
২/ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদের মেহরাবে নামাজ পড়া পছন্দ করতেন না।
সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দায়ীফাহ- ১/৬৪১-৬৪৭
আছ ছামারুল মুসতাতাব-১/৪৭২-৪৭৮
(উল্লেখ্য, এ মাস’আলা নিয়ে আমাদের কোন দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করছিনা)
প্রশ্নঃ
______________________
(কথা বলছি তাদের কথার স্টাইলে)
কেন ভাই?
হাদীসে স্পষ্ট বলা হয়ছে খ্রীস্টানদের মত মেহরাব না বানাতে। আলবানী এ স্পষ্ট হাদীস দিয়েই তো বেদ’আত ফতোয়া দিলেন। তো অন্যান্যরা এ বিষয়ে একমত না হয়ে কিয়াস ক রা শুরু করলেন কেন?
সহীহ হাদীস পাওয়া গেছে, তো ব্যাস। মামলা খালাস। এখানে কিয়াস এর কী প্রয়োজন ছিল?
প্রবলেমটা কী?

ইমাম জালাল উদ্দীন সৈয়্যুতী রহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

Standard

image

image

আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান

ইমাম হাফেয সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহর পূর্ণনাম- ‘জালাল উদ্দীন আবদুর রহমান ইবনুল কামাল, আবূ বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সা-বিক্বুদ্দীন ইবনুল ফখর ওসমান ইবনে নাযিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে শায়খ হুমাম উদ্দীন। তাঁর জন্ম ১ লা রজব, ৮৪৯ হিজরী রবিবার রাতে হয়েছিলো।‘খুদ্বায়রী’ ও ‘আস্ সুয়ূত্বী’ ‘সুয়ূত্বী’ সংক্ষেপে এ দু’টি সম্পর্কজনিত শব্দও তাঁর নামের সাথে সংযোজন করা হয়।তাঁর বংশীয় পরম্পরা এক অনারবীয় খান্দান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।তিনি তাঁরই লিখিত কিতাব ‘হুসনুল মুহা-দ্বারাহ্ ফী-আখবা-রি মিসর ওয়াল ক্বাহেরাহ্’য় আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘‘আমাকে এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বলেছেন, আমার পিতা রাহমাতুলাহি তা’আলা আলায়হি বর্ণনা করতেন যে, আমাদের পূর্বপুরুষ(বংশের মূল পুরুষ) একজন ‘আজমী’ (অনারবীয়) ছিলেন এবং পূর্বাঞ্চলীয় লোক ছিলেন। ইমাম সুয়ুতী’র খান্দান মিশরে আসার পূর্বে বাগদাদের মহল্লা “খুদ্বায়রিয়্যাহ্”য় বসবাস করতেন। এ মহল্লা বাগদাদের পূর্ব প্রান্তে ইমাম-ই  আ’যম(আবু হানিফা) রাহিমাহুল্লাহু তাআলার মাযার শরীফের নিকটে অবস্থিত। ‘খুদ্বায়রী’ সম্পর্কবাচক উপাধির কারণ এটাই। ইমাম সুয়ূতীর জন্মের কয়েক পুরুষ পূর্বে এ খান্দান ইরাক থেকে মিশর এসেছেন এবং মিশরের ‘আস্‌য়ুত্ব’  শহরে বসবাস করতেন। সেটার নামও ‘খুদ্বায়রিয়্যাহ্’ রেখে দেন।
ইমাম সুয়ূত্বীর পিতা আস্‌য়ূত্ব থেকে কায়রো চলে যান। সেখানে তিনি ‘ইবনে ত্বূলূন জামে মসজিদ’ -এ খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সাথে সাথে শায়খূনী জামে মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসায় ‘ফিক্বহ’র ওস্তাদ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।৮৫৫ হিজরীতে তাঁর ইনতিক্বাল হয়। তখন ইমাম সুয়ূত্বীর বয়স পাঁচ কিংবা ছয় বছর ছিলো। তখন তাঁর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তাঁর পিতার এক সূফী বন্ধু নিয়েছিলেন। ইমাম সুয়ূত্বী ৮ বছর বয়সে ক্বোরআন করীম হেফয করে নিয়েছিলেন। তারপর তিনি নাহ্ভ ও ফিক্বহ ‘মতন’ মুখস্থ করতে মশগুল হন।
ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর যুগের বহু ওস্তাদ ও মাশাইখ থেকে জ্ঞানার্জন করেন। তাঁদের অধিকাংশের উল্লেখ (আলোচনা) তিনি তাঁর ‘হুসনুল মুহা-দ্বারাহ্‌’য় করেছেন।
ইমাম সুয়ূত্বী রাহমাতুলাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর যুগে প্রচলিত সমস্ত আরবী ও ইসলামী বিষয়াদির জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেগুলোতে পূর্ণ দক্ষতা লাভ করেন। ওইসব বিষয়ে তাঁর লেখনী (গ্রন্থ-পুস্তক)ও রয়েছে। তাঁর প্রণীত গ্রন্থ পুস্তকাদির আধিক্য ও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী অনুসারে তাঁরপর তাঁর মত আর কাউকে দেখা যায়না; এমনকি পূর্ববর্তীদের মধ্যেও হয়তো তাঁর মতো দু/একজন পাওয়া যায় কিনা সংশয় রয়েছে।
তিনি হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়, তাফসীর ও আল্লাহর কিতাব (ক্বোরআন মজীদ) সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়, ফিক্বহ্ ও এর উসূল, কালাম, জদল, ইতিহাস, অনুবাদ, তাসাওফ, সাহিত্য, অলংকার (মা’আনী, বয়ান ও বদী) নাহভ, সরফ, অভিধান ও মানত্বিক বিষয়ে শত-সহস্র কিতাব প্রণয়ন করেন। তিনি তাঁর ‘হুস্নুল মুহাদ্বারাহ্’য় লিখেছেন-
وَبَلغَتْ مُؤَلَّفَاتِىْ الْانِ ثَلاَثَمِائَةِ كِتَابٍ سِوى مَا غَسَلْتُھ اَوْ رَجَعْتُ عَنْھُ

অর্থাৎ এ পর্যন্ত আমার লিখিত কিতাবগুলোর সংখ্যা তিনশ’ হয়ে গেছে।এগুলোর মধ্যে ওইসব কিতাব নেই, যেগুলো আমি বিনষ্ট করে ফেলেছি কিংবা যেগুলো আমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
কিতাবগুলোর এ সংখ্যা ‘হুস্নুল মুহা-দ্বারাহ্’ লিখার সময়কার ছিলো। আর সম্ভবত এত সংখ্যক কিতাব তিনি পরবর্তীতেও লিখেছেন। ‘মুস্তাশ্রিক্ব ফিলোগুল’ তাঁর লিখিত সমস্ত কিতাব গণনা করেছেন। তাঁর পরিসংখ্যান অনুসারে ইমাম সুয়ূত্বীর লিখিত কিতাবগুলোর সংখ্যা ৫৬১।
তাঁর কিতাবগুলোর মধ্যে এমন বহু কিতাব রয়েছে, যেগুলো কয়েক খণ্ডে বিন্যস্থ।তন্মধ্যে কিছু কিতাব এমনও রয়েছে, যেগুলো ‘দাওয়া-ইরে মা’আ-রিফ’ (জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সম্ভার)-এর মর্যাদা রাখে। পুস্তক প্রণয়ন ও রচনার ময়দানে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে যেই সুবর্ণ সামর্থ্য দান করেছেন, তা খুব কম সংখ্যক লোকই পেয়েছেন। আরবী ও ইসলামী জ্ঞানের এমন কোন রাজপথ নেই, যাতে তাঁর পদচারণা পাওয়া যায় না। তাঁকে ‘হাত্বিবুল লায়ল’ (যাচাই বিহীন লোক) বলে যাঁরা সমালোচনা করেন তারাও জ্ঞান, গবেষণা ও বিশ্লেশষণের উপত্যকায় তাঁর সাহায্য ছাড়া এক কদমও চলতে পারে না। বাস্তবাবস্থা হচ্ছে-বেশীর ভাগ পূর্ববর্তী ইমামগণের মতো ইমাম সুয়ূতীরও দু’টি যোগ্যতাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে- একটি হচ্ছে জ্ঞান ভাণ্ডার ও লেখকের আর অপরটি হচ্ছে গভীর গবেষক ও বিশ্লেষক এবং সুক্ষ্মদর্শী (মুহাক্বক্বিক্ব ও মুদাক্বক্বিক্ব)-এর। ইমাম সুয়ূতীর জন্য সাধারণভাবে ‘হাত্বিবুল লায়ল’ (নির্বিচারে উদ্ধৃতকারী লেখক) উপাধি ব্যবহারকারীগণ তাঁর এ দু’টি মর্যাদাপূর্ণ স্তরের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের উন্নত রুচি ও পদ্ধতি সম্পর্কেও কম অবগত।
ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূতী দীর্ঘদিন যাবৎ প্রসিদ্ধ ‘খানক্বাহ্-ই বায়বার্সিয়া’র ‘ওয়াক্বফ এস্টেট’-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তদানীন্তনকালে এটা মিশরের সর্বাপেক্ষা বড় খানক্বাহ্ ছিলো; কিন্তু যখন সুলতান মুহাম্মদ ক্বাতবাঈ মিশরের শাসন-ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন ভণ্ড সূফীদের একটি দল সুলতানের নিকট ইমাম সুয়ূত্বীর বিপক্ষে কিছু অমূলক অভিযোগ করেছিলো। এতদ্‌ভিত্তিতে সুলতান তাঁকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। এ অপসারণের পর থেকে তিনি দুনিয়া ও এর সমস্ত সম্পর্ক থেকে নিজে নিজে অবসর গ্রহণ করেন এবং লেখালেখিতে আত্মনিয়োগ করেন। এমন একাকীত্বের মধ্যে ইমাম সুয়ূতী তাঁর বেশীরভাগ কিতাব রচনা করেন। তাঁর এ একাক্বীত্ব ও  জ্ঞানগত ই’তিকাফ তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। এ বিশ বছর ব্যাপী সময়সীমায় তিনি লোকজনের সাথে মেলামেশা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরের নীল নদের দিকে খোলা হয় এমন জানালাগুলোও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইসলামী ও আরবী জ্ঞানচর্চা, এগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং গ্রন্থ-পুস্তক রচনা ও প্রণয়নের মধ্যে অতিবাহিত করেন। ৯১১ হিজরীতে এ যুগশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ইমামের ইনতিক্বাল হয়েছে। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর উপর রহমতের বারি(বৃষ্টি) বর্ষণ করুন। আ-মী-ন।বিহুরমাতি সাইয়্যেদুল মুরসালিন

নেক টাই এর ইতিহাস

Standard

নেক টাই (গলায় টাই পরিধান, গলাবন্ধনী) এর ইতিহাসঃ
বিশেষ অনুরোধঃ পোস্টটি শেয়ার/ কপি করুন।
_________________________________
আধুনিক স্টাইলের টাই পরিধান করা মূলত শুরু হয়েছে (Thirty Years’ War) ’৩০ বছরের যুদ্ধ’ থেকে, যা স্থায়ী হয়েছিল ১৬১৮ থেকে ১৬৪৮ সন পর্যন্ত।
Thirty Years’ War বা ৩০ বছরের যুদ্ধ কী?
এটা ছিল মূলত সেন্ট্রাল ইউরোপে একের পর এক চলমান যুদ্ধ যা ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ব হিসেবে রেকর্ড লাভ করে।
“Thirty Years War”. http://www.infoplease.com. Retrieved 24 May 2008.
প্রথমে এ যুদ্ধটি ছিল খ্রীস্টানদের দু দল প্রটেস্টান এবং ক্যাথোলিক এর মধ্যে। পরবর্তীতে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইউরোপের বিভিন্ন শক্তি।
“::The Thirty Years War 1621 to 1626:”. historylearningsite.co.uk. Retrieved 22 May 2008.
তখন ক্রোয়েশিয়ান সৈন্যবাহিনীর কিছু সৈন্য গলায় ছোট্ট কাপড় নট করে বেঁধে প্যারিসীয়দের স্বার্থ বিষয়ক প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।
পরবর্তীতে এটা একটি আন্তর্জাতিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এখন প্রতি বছর ১৮ ই অক্টোবর ক্রোয়েশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যেমন টোকিও, সিডনি, কোমো, ডাবলিন সহ বিভিন্ন শহরে International Necktie Day অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গলাবন্ধনী দিবস পালন করা হয়।
18TH OCTOBER – THE CRAVAT DAY!. Academia-cravatica.hr (October 18, 2003). Retrieved on 2013-08-08.
• Tie Talk. Tietalk.vpweb.com.au (June 30, 2010). Retrieved on 2013-08-08.
https://www.google.com.bd/url?sa=t&rct=j&q&esrc=s&source=web&cd=1&cad=rja&uact=8&ved=0CDUQFjAAahUKEwietNCAxJ3HAhUFKYgKHTqOB0c&url=https%3A%2F%2Fen.wikipedia.org%2Fwiki%2FNecktie&ei=2BTIVZ7oHIXSoAS6nJ64BA&usg=AFQjCNEH79ynxIb7dOok9jLcIaCTfnP_sQ

টাই এর রকমাদিঃ
_____________
বিভিন্ন রকমের টাই রয়েছে। এর মধ্যে নেক টাই, এস্কট টাই, বো টাই, বোলো টাই, যিপার টাই অন্যতম।

ইউনিফর্মঃ
_________________
ইউনাইটেড কিংডম, অস্ট্রেলিয়ায়, নিউজিল্যান্ড, সহ বিভিন্ন দেশের স্কুলের ইউনিফর্ম হিসেবে নেকটাই বা গলাবন্ধনী ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।

নারীদের পোশাকঃ
_______________
অনেক দেশে এই নেক টাই বা গলাবন্ধনী নারীরা পরিধান করে থাকে, বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে এবং পুলিশি চাকুরীতে।
প্রথমদিকে মহিলা সমাজে এটা তেমন চালু ছিলনা। কিন্তু পরবর্তীতে ডেনি কিটন নামক এক খ্রীস্টান অভিনেত্রী ১৯৭৭ সনে এ্যানি হল নামক একটি কমেডিতে অভিনয় কালে পরিধান করেন,আর তখন থেকেই এটা নারীদের মাঝে চালু হয়ে যায়।
• “Calender.” Seventeen Nov. 2002: 24.
• Pendergast, Sara; Tom Pendergast; Sarah Hermsen (2004). Fashion, Costume, and Culture. Clothing, Headwear, Body Decorations, and Footwear Through the Ages. Detroit: UXL. pp. 950–951. ISBN 0-7876-5422-1.
১৯৯৩ ইংরেজীতে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে নারীদের নেক টাই পরিধান করাটা অন্যতম এক ফ্যাশনে পরিণত হয়ে যায়।
Kirkham, Pat (1999). The Gendered Object (2nd ed.). Manchester University Press. p. 164. ISBN 0-7190-4475-8.

নেক টাই স্বাস্থ্য সমস্যার কারণঃ
______________________
২০০৩ ইংরেজীতে British Journal of Ophthalmology তে বলা হয়েছে, সাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, নেক টাই পরিধান করলে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।
২০১১ ইংরেজীতে কোরিয়ানদের একটি রিসার্চ দল প্রকাশ করেছে যে, নেক টাই শক্তভাবে বাঁধার কারণে ঘাড় এবং কাঁধে ব্যাথা অনুভব হয়।
২০১২ ইংরেজীতে the Journal of Hospital Infection তে প্রকাশ ক রা হয়, নেক টাই পরিদাহ্ন ক রার কারণে ডাক্তারদের টাই এর ভেতরে বিভিন্ন ধরণের ব্যকটেরিয়া প্রবেশ করে চতুর্দিকে ছড়ায়।
https://www.google.com.bd/url?sa=t&rct=j&q&esrc=s&source=web&cd=3&cad=rja&uact=8&ved=0CDAQFjACahUKEwj6te7W1J3HAhXGMYgKHXZ3AMw&url=http%3A%2F%2Fwww.realmenrealstyle.com%2Fneckties-health-myths-truths%2F&ei=VCbIVfq7EcbjoAT27oHgDA&usg=AFQjCNFzU3yxFrAj5DG0nRgQYINOBZsvqA
বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শক্তভাবে টাই পরলে অন্ধ হবার ঝুঁকি থাকে।
Professor Neville Osborne বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, টাই দেহের রক্ত প্রবাহকে বাঁধা প্রদান করে।
https://www.google.com.bd/url?sa=t&rct=j&q&esrc=s&source=web&cd=9&cad=rja&uact=8&ved=0CGAQFjAIahUKEwj6te7W1J3HAhXGMYgKHXZ3AMw&url=http%3A%2F%2Fnews.bbc.co.uk%2F2%2Fhi%2Fhealth%2F3104093.stm&ei=VCbIVfq7EcbjoAT27oHgDA&usg=AFQjCNF9DmP_adG8xegY1rRDPeEuYL2Y7g

সারকথাঃ
___________________
মোট কথা-উপরের আলোচনায় দেখা গেল, নেক টাই-
১/ এক বিজাতীয় সংস্কৃতি। খ্রীস্টানদের দ্বারা এটার প্রচলন হয়েছে।
২/ নারীদের বিশেষ ফ্যাশন
৩/ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ।
৪/ প্রতি বছর বিধর্মীদের দ্বারা International Necktie Day অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গলাবন্ধনী দিবস পালন ।

নেক টাইয়ের পক্ষে কিছু হুজুরদের উকালতি!!
________________________
এই যখন অবস্থা, তখন এই টাই এর পক্ষে মানে এটাকে জায়েয করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আমাদের দেশের তথাকথিত নামধারী আহলে হাদীসের হুজুরেরা। পেছনে একটাই কারণ, যাকির নায়েক টাই পরেন, তাই এটাকে যে কোনভাবে জায়েয বানাতে হবে। হোক না এটা মহিলাদের ফ্যাশন। হোক না এটা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। তাতে কিছু যায় আসেনা।
আর নামধারী আহলে হাদীস হুজুর কাজী ইব্রাহীম তো ফতোয়া দিয়েই দিয়েছেন যে, নেক টাই শুরু হয়েছে মুসলমানদের দ্বারা। তাই এটা মুসলমানদের পোশাক।

কী অবাক!!