শব ই বরাত( কোরআন হাদিসের আলোকে)

Standard

image

শবে বরাত ফার্সী ভাষা, ফার্সী শব অর্থ রাত্রি
এবংবরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি। সুতরাং শবে বরাত মানে
হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত।কোরআনে শবে কদর
নাই,লাইলাতুল কদর আছে,শবে বরাত নাই,লাইলাতুল
মোবারাকা আছে।কুরআন শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুম
মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর হাদীস শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন
শা’বান বা শা’বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা
হয়েছে।

<<<শবে বরাত সম্পর্কিত আরো পড়ুন এখান থেকেশাবানের ফযিলত>>>

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦِ
ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣُّﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ
ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ
ﺃَﻣْﺮًﺍ ﻣِّﻦْ ﻋِﻨﺪِﻧَﺎ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﺮْﺳِﻠِﻴﻦَ
অর্থঃ
” শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে
কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই
নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো
ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।”
(সূরা দু’খানঃ ২-৫)
কেউ কেউ বলে থাকে যে, “সূরা দু’খানের উল্লেখিত আয়াত
শরীফ দ্বারা শবে ক্বদর-কে বুঝানো হয়েছে। কেননা উক্ত
আয়াত শরীফে সুস্পষ্টই উল্লেখ আছে যে, নিশ্চয়ই আমি
বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি……..। আর কুরআন
শরীফ যে ক্বদরের রাতে নাযিল করা হয়েছে তা সূরা
ক্বদরেও উল্লেখ আছে ।”
এ প্রসঙ্গে মুফাসসির কুল শিরোমণি রঈসুল মুফাসসিরীন
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ” উক্ত আয়াতের দুটি ব্যাখ্য
দিয়েছেন ১ লাইলাতুল কদর ২, লাইলাতুল বারায়াত।
প্রখ্যাত মুফাসসির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (), হযরত
আবু হুরায়রা () এবং হযরত ইকরামা () সহ বহু সংখ্যক সাহাবী
তাবেয়ীনদের মতে উক্ত আয়াতে লাইলাতুল মুবারাকা
দ্বারা চৌদ্দ-ই শাবান দিবাগত রাত বা শবে বারাআত
বুঝানো হয়েছে।
যেমন কয়েকজন মুফাসসিরদের মতামত দেয়া হল-
(১) ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺣﻢ ﻳﻌﻨﻰ ﻗﻀﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺎ ﻫﻮ ﻛﺎﺋﻦ ﺍﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
ﻭﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﺒﻴﻦ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ ﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ –‘‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস () বলেন, হা-মীম
অর্থাৎ- আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেছেন কিয়ামত
পর্যন্ত যা ঘটবে, সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ অর্থাৎ- আল কুরআন,
লাইলাতুল মুবারাকা অর্থাৎ শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ
দিবাগত রাত তা হল লাইলাতুল বারাআত।’’
# ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি : তাফসীরে দুররে মানসুর :
৭/৪০১পৃ
(২), ﻋﻦ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺟﺒﺮﺍﺋﻴﻞ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻰ ﺗﻠﻚ
ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺣﺘﻰ ﺍﻣﻠﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﺘﺒﺔ ﻭﺳﻤﺎﻫﺎ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ ﻻﻧﻬﺎ ﻛﺜﻴﺮﺓ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﺍﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﻳﻨﺰﻝ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ
ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﻳﺠﺎﺏ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ –
-‘‘হযরত ইকরামা () বলেন, “লাইলাতুল মুবারাকা” দ্বারা
শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতকে বুঝানো
হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল () কে ঐ রাতে
প্রথম আবৃত্তি করতে পারেন। এই রাতকে মুবারক নাম রাখার
কারণ হলো এতে কল্যাণ, বরকত ও আল্লাহর রহমত নাযিল হয়
এবং রাতে দোয়া কবুল হয়।’’
# তাফসীরে কাশফুল আসরার, ৯/৯৮.পৃ.
৩,মুবারাকা বা বরকতময় বলার কারণ কি এ প্রসঙ্গে
আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী () বলেছেন,
ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻛﺜﻴﺮﺓ ﺧﻴﺮﻫﺎ ﻭﺑﺮﻛﺘﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻟﺨﻴﺮ ﻭﺍﻥ ﻛﺎﻥ ﺑﺮﻛﺎﺕ ﺟﻤﺎﻟﺔ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺗﺼﻞ ﺍﻟﻰ
ﻛﻞ ﺫﺭﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺜﺮﻯ ﻛﻤﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা বলা হয় এ রাতে অনেক খায়ের ও
বরকত নাযিল হয়। সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর সৌন্দর্যের বরকত
আরশের প্রতি কণা থেকে ভূতলের গভীরে পৌঁছে যেমনটি
শবে কদরের মধ্যে হয়ে থাকে।’’
# আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী : তাফসীরে রুহুল বায়ান : ৮/১০১
পৃ.
(৪) আল্লামা ইমাম সুয়ূতি (রহ.) আরও বলছেন,
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﻗﻄﻊ
ﺍﻻﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺣﺘﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﻨﻜﺢ ﻭﻳﻮﻟﺪ ﻟﻪ ﻭﻗﺪ ﺧﺮﺝ ﺍﺳﻤﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ –
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ () ইরশাদ
করেছেন, এক শাবান থেকে অপর শাবান পর্যন্ত মানুষের
হায়াত চূড়ান্ত করা হয়। এমনকি একজন মানুষ বিবাহ করে
এবং তার সন্তান হয় অথচ তার নাম মৃতের তালিকায় উঠে
যায়।’’
# আল্লামা ইমাম জালালুদ্দীন সূয়তী : তাফসীরে দুররে
মানসুর : ৭/৪০১ পৃ
(৫) আল্লামা ইমাম কুরতুবী () তাফসীরে কুরতুবীতে এই
আয়াতের তাফসীরে লিখেছেন-
ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻟﻬﺎ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺼﻚ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻭﻭﺻﻔﻬﺎ
ﺑﺎﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﻳﻨﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻋﺒﺎﺩﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺮﻛﺎﺕ ﻭﺍﻟﺨﻴﺮﺍﺕ ﻭﺍﻟﺜﻮﺍﺏ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শাবান (শবে বরাত) এর
রাতকে বুঝানো হয়েছে। এই ১৫ই শাবানের রাত তথা শবে
বরাতের চারটি নাম রয়েছে, যেমন. ১. লাইলাতুল মুবারাকা
বা বরকত পূর্ণ রাত, ২. লাইলাতুল বারায়াত তথা মুক্তি বা
ভাগ্যের রাত. ৩। লাইলাতুল ছক্কি বা ক্ষমা স্বীকৃতি
দানের রাত ৪. লাইলাতুল ক্বদর বা ভাগ্য রজনী।’’
আর শবে বরাতকে বরকতের সঙ্গে এই জন্য সম্বন্ধ করা হয়েছে
যেহেতু আল্লাহ পাক এই শবে বরাতে বান্দাদের প্রতি
বরকত, কল্যাণ এবং পূণ্য দানের জন্য দুনিয়ায় কুদরতীভাবে
নেমে আসেন অর্থাৎ- খাস রহমত নাযিল করেন।
(৬) ইমাম কুরতবী () আরও বলেন,
ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻫﻬﻨﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ –
-‘‘বিখ্যাত সাহাবী হযরত ইকরামা () তিনি বলেন,
লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা এখানে অর্ধ শাবান (শবে
বরাতকে) এর রাতকেই বুঝানো হয়েছে।’’
প্রখ্যাত মুফাসসির হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (), হযরত
আবু হুরায়রা () এবং হযরত ইকরামা () সহ বহু সংখ্যক সাহাবী
তাবেয়ীনদের মতে উক্ত আয়াতে লাইলাতুল মুবারাকা
দ্বারা চৌদ্দ-ই শাবান দিবাগত রাত বা শবে বারাআত
বুঝানো হয়েছে।
# ইমাম কুরতুবী : তাফসীরে কুরতবী : ৮/১২৬ পৃ.
৭) ইমাম কুরতুবী () আরও বলেন, ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ
ﺍﻳﻀﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﻘﻀﻰ ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎ ﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস () থেকে
বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা অর্ধ
শাবান (শবে বরাতে) এর রাত্রিতে যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্য
তালিকা প্রস্তুত করেন। আর কদরের রাত্রিতে ঐ ভাগ্য
তালিকা বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের হাতে পেশ
করেন।’’
#ইমাম কুরতুবী: তাফসীরে কুরতুবী : ৯/১৩০ : পৃ:
(৮) আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ আলূসী () “তাফসীরে রুহুল
মায়ানীতে’’ সূরা দুখানের উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন,
ﻭﻭﺻﻒ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺑﺎﻟﺒﺮﻛﺔ ﻟﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻧﺰﺍﻝ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻣﺴﺘﺘﺒﻊ ﻟﻠﻤﻨﺎﻓﻊ ﺍﻟﺪﻳﻨﻴﺔ ﻭﺍﻟﺪﻧﻮﻳﺔ ﺑﺄﺟﻤﻌﻬﺎ ﺍﻭ ﻟﻤﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ
ﻧﻨﺰﻝ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻭﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﺍﺟﺎﺑﺔ ﺍﻟﺪﻋﻮﺓ ﻭﻓﻀﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺒﺎﺩﺓ ﺍﻭ ﻟﻤﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﻭﺗﻘﺪﻳﺮ ﺍﻻﺭﺯﺍﻕ ﻭﻓﻀﻞ
ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻻﺟﺎﻝ ﻭﻏﻴﺮﻫﺎ ﻭﺍﻋﻄﺎﺀ ﺗﻤﺎﻡ ﺍﻟﺸﻔﺎﻋﺔ ﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﻫﺬﺍ ﺑﻨﺎﺀ ﻋﻠﻰ ﺍﻧﻬﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻓﻘﺪ
ﺭﻭﻯ ﺍﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻋﺸﺮ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻰ ﺃﻣﺘﻪ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺜﻠﺚ ﻣﻨﻬﺎ ﺛﻢ
ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﻋﺸﺮ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺜﻠﺜﻴﻦ ﺛﻢ ﺳﺄﻝ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺨﺎﻣﺲ ﻋﺸﺮ ﻓﺄﻋﻄﻰ ﺍﻟﺠﻤﻴﻊ ﺍﻻ ﻣﻦ ﺷﺮﺩ ﻋﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺷﺮﺍﺩ ﺍﻟﺒﻌﻴﺮ –
-‘‘লাইলাতুল মুবারাকা বরকতের রাত হিসেবে এবং
দুনিয়াবী বহুবিদ কল্যাণের জন্য নাযিলের সিদ্ধান্ত দেয়া
হয়েছে। ঐ রাতে সমস্ত ফেরেশতারা অবতরণ করেন এবং
রহমত নাযিল হয়, বান্দাদের দোয়াকবুল করা হয়। বান্দাদের
রিযিক বন্টন করা হয় এবং সমস্ত কিছুর ভাগ্য সমূহ পৃথক করা
হয়। যেমন মৃত্যু এবং অন্যান্য সব বিষয়ের। এবং রাসূল () এর
সমস্ত বিষয়ের সুপারিশ কবুল করা হয়। আর এই বরকতের
রাতকে বরাতের রাত হিসেবেও নাম করণ করা হয়। যেহেতু
এ সম্পর্কে হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে যে, আখিরী রাসূল
() তিনি শাবান মাসের ১৩ তারিখ রাতে স্বীয় উম্মতের
ক্ষমার জন্য আল্লাহ পাকের কাছে প্রার্থনা করেন। অতঃপর
অনুরূপভাবে ১৪ই শাবান তথা শবে বরাতেও মহান আল্লাহ
পাকের কাছে হুযুর পাক () স্বীয় উম্মতের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে
বরাতে তার উম্মতের দুই তৃতীয়াংশ উম্মতকে ক্ষমা করেন।
অতঃপর অনুরূপভাবে ১৫ই শাবান তথা শবে বরাতেও মহান
আল্লাহ পাকের কাছে হুযুর পাক () স্বীয় উম্মতের জন্য ক্ষমা
প্রার্থনা করেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সেই শবে
বরাতে তার সমস্ত উম্মতগণকে ক্ষমা করে দেন। তবে ওই
সমস্ত উম্মত ব্যতীত যারা মহান আল্লাহ পাক এর ব্যাপারে
চরম বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।’’
#আল্লামা আলুসী বাগদাদী: তাফসীরে রুহুল মায়ানী :
১৩/১১২ পৃ:
(৯) ইমাম খাযেন () রচিত তাফসীরে লুবাবুত তাভীল” এ উক্ত
আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ আছে-
( ﻓﻴﻬﺎ ‏) ﺍﻯ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ‏(ﻳﻔﺮﻕ ‏) ﻳﻔﺼﻞ ‏( ﻛﻞ ﺍﻣﺮ ﺣﻜﻴﻢ ‏) —— ﻭﻗﺎﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ
ﻋﻨﻪ ﻫﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻳﻘﻮﻡ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻣﺮ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﺗﻨﺴﺦ ﺍﻻﺣﻴﺎﺀ ﻣﻦ ﺍﻻﻣﻮﺍﺕ ﻓﻼ ﻳﺰﺍﺩ ﻓﻴﻬﻢ ﻭﻻ
ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻨﻬﻢ ﺍﺣﺪ ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺗﻘﻄﻊ ﺍﻻﺟﺎﻝ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺣﺘﻰ ﺍﻥ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻴﻨﻜﺢ
ﻭﻳﻮﻟﺪ ﻟﻪ ﻭﻟﻘﺪ ﺍﺧﺮﺝ ﺍﺳﻤﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﺗﻰ ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻀﻰ
ﺍﻻﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
-‘‘ওই মুবারক তথা বরকত পূর্ণ রাত্রিতে অর্থাৎ- শবে বরাতের
প্রত্যেক হিকমত পূর্ণ যাবতীয় বিষয় সমূহের ফায়সালা করা
হয়। বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইকরামা () তিনি বলেন,
লাইলাতুল মুবারাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শাবান
তথা (শবে বরাত) এর রাত। এই শবে বরাতে আগামী এক
বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়
এবং তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত ও জীবীতদের। ওই
তালিকা থেকে কোন কম বেশি করা হয় না অর্থাৎ-
পরিবর্তন হয় না।
#ইমাম খাজেন: তাফসীরে লুবাবুত তাভীল : ১৭/৩১০-৩১১পৃ
১০, মালেকী মাযহাবের আল্লামা শেখ আহমদ ছাভী বলেন,
( ﻗﻮﻟﻪ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ‏) ﻫﻮ ﻗﻮﻝ ﻋﻜﺮﻣﺔ ﻭﻃﺎﺋﻔﺔ ﻭﻭﺟﻪ ﺑﺎﻣﻮﺭ ﻣﻨﻬﺎ ﺍﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ
ﻟﻬﺎ ﺍﺭﺑﻌﺔ ﺍﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺃﺓ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺼﻚ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻓﻀﻞ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻓﻴﻬﺎ –
অর্থঃ ঐ বরকতময় রজনী হচ্ছে অর্ধ শাবানের রাত্রি
(মোফাসসিরীনে কেরামের অন্যতম মোফাসসির) বিশিষ্ট
তাবেয়ী হযরত ইকরামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)ও অন্যান্য
তাফসীরকারকদের একদলের অভিমত। তারা এর কয়েকটি
কারণও উল্লেখ করেছেন। শাবানের চৌদ্দ তারিখের
দিবাগত রাত্রির চারটি নামে নামকরণ করেছেন। যেমন- ১।
লাইলাতুম মুবারাকাহ- বরকতময় রজনী। ২। লাইলাতুল
বারাআত- মুক্তি বা নাজাতের রাত্রি। ৩। লাইলাতুর
রহমাহ- রহমতের রাত্রি। ৪। লাইলাতুছ ছাক- সনদপ্রাপ্তির
রাত্রি ইত্যাদি।
#(তাফসীরে ছাভী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৪০)
১১, তাফসীরে বাগভী শরীফে বর্ণিত আছে,…
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻀﻰ ﺍﻷﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ, ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺇﻟﻰ
ﺃﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –
অর্থঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শবে বরাতের রাতে সকল
বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন এবং শবে ক্বদরের রাতে তা
সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববান ফেরেশতাদের কাছে ন্যস্ত করেন ।
# (তাফসীরে বাগভী, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা ২২৮)
= অনেকেই বলে থাকে পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ
হয়েছে রমাদ্বান শরীফ-এর মাসে লাইলাতুল ক্বদরে। এ
প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারায় উল্লেখ
করেন-
(১২৯) ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺍﻟﺬﻯ ﺍﻧﺰﻝ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ
পবিত্র কুরআন শরীফ রমাদ্বান মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে।
আর সূরা আদ দুখানেও আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
(১৩০)
ﺍﻧﺎ ﺍﻧﺰﻟﻨﺎﻩ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﺒﺎﺭﻛﺔ
নিশ্চয়ই আমি উহা তথা কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করেছি
মুবারকময় রজনীতে। এখানে লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা
যদি শবে বরাতের রাতকে গণনা করা হয় তাহলে উভয়
রাতের সমাধান কি?
উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে অসংখ্য তাফসীর ও হাদীছ শরীফ-
এর উদ্ধৃতির মাধ্যমে সমাধান দেয়া হয়েছে যে, লাইলাতুম
মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতকেই
বুঝানো হয়েছে। আর এই রাতে কুরআন শরীফ অবতীর্ণের
কথা যে বলা হয়েছে তা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তিনি
প্রথম যখন পবিত্র কুরআন শরীফ লওহে মাহফূযে অবতীর্ণ
করেন সেই রাতটি ছিলো লাইলাতুম মুবারাকা তথা অর্ধ
শাবানের রাত্রি অর্থাৎ শবে বরাতের রাত্রি। আর লওহে
মাহফূয থেকে দুনিয়ার আকাশে একই সঙ্গে অবতীর্ণ করা
হয়। সেখান থেকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার
মাধ্যমে সুদীর্ঘ তেইশ বৎসরে বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে
খ- খ-ভাবে তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-উনার উপর নাযিল করা হয়।
===> বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে খাযিন-এর ৪র্থ খ-ে
র (সূরা ক্বদরের তাফসীরে) ২৯৫ পৃৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
(১৩১-১৩৫)
ﺍﻧﺎ ﺍﻧﺰﻟﻨﺎﻩ ﻳﻌﻨﻰ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ‏(ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻭﺫﻟﻚ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻧﺰﻝ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺟﻤﻠﺔ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻣﻦ
ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤﻔﻮﻅ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ﻓﻮﺿﻌﻪ ﻓﻰ ﺑﻴﺖ ﺍﻟﻌﺰﺓ ﺛﻢ ﻧﺰﻝ ﺑﻪ ﺟﺒﺮﻳﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻧﺠﻮﻣﺎ ﻣﺘﻔﺮﻗﺔ ﻓﻰ ﻣﺪﺓ ﺛﻼﺙ ﻭﻋﺸﺮﻳﻦ ﺳﻨﺔ ﻓﻜﺎﻥ ﻳﻨﺰﻝ ﺑﺤﺴﺐ
ﺍﻟﻮﻓﺎﺋﻊ ﻭﺍﻟﺤﺎﺟﺔ ﺍﻟﻴﻪ .
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি উহা তথা পবিত্র কুরআন শরীফ ক্বদরের
রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি। এই বাণী মুবারক-এর দ্বারা
ইহা বুঝানো হয়েছে যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা
পবিত্র কুরআনুল কারীম একই সঙ্গে লাওহে মাহফূয থেকে
দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করেন লাইলাতুল ক্বদরে। অতঃপর
ওই পবিত্র কুরআন শরীফ বাইতুল ইযযতে রাখা হয়। সেখান
থেকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে
আস্তে আস্তে সুদীর্ঘ তেইশ বছরে বিভিন্ন অবস্থার
প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে খ- খ-ভাবে হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার উপর অবতীর্ণ
করেন।
(সূরা আদ দুখান এর তাফসীরে তাফসীরে খাযিন ৪র্থ খন্ড
১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে বাগবী ৪র্থ/১১২ পৃষ্ঠা, তাফসীরে রহুল
মায়ানী, তাফসীরে রুহুল বয়ান, দুররুল মানছুর, ইত্যাদি
তাফসীরে সমূহ)
তাছাড়াও সমাধানে আরো উল্লেখ আছে যে, লাইলাতুম
মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাতকে
আর নির্ধারিত ভাগ্যসমূহ চালুকরণের রাতকে লাইলাতুল
ক্বদর তথা শবে ক্বদরের রাতকে বুঝানো হয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে রুহুল
মায়ানী ১৫তম খ-ের ২২১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
(১৩৬) ﻭﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻇﻬﺎﺭ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻤﻘﺎﺩﻳﺮ ﻟﻠﻤﻼﺋﻜﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﺗﻜﺘﺐ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤﻔﻮﻅ ﻭﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻨﺸﻌﺒﺎﻥ ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﺛﺒﺎﺕ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻤﻘﺎﺩﻳﺮ ﻓﻰ ﻧﺴﺦ ﻭﺗﺴﻠﻴﻤﻬﺎ ﺍﻟﻰ ﺍﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺪﺑﺮﺍﺕ
অর্থ: লাইলাতুল ক্বদরের অনেক অর্থ রয়েছে তন্মধ্যে
দ্বিতীয় একটি অর্থ হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে
বরাতে যেসব বিষয়ের তালিকা লাওহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ
করা হয়েছে সেসব ভাগ্য তালিকা ফেরেশ্তা আলাইহিমুস
সালামগণ উনাদের মাধ্যমে যে রাত্রিতে প্রকাশ তথা চালু
করা হয় সেই রাতকেই লাইলাতুল ক্বদর তথা ভাগ্য
নির্ধারণের রাত বা মহান মর্যাদাবান রাতও বলে।
তৃতীয়ত: অপর একটি অর্থ হচ্ছে নির্ধারিত ভাগ্যসমূহ যা
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তা চালু করার জন্য কার্যকারী
ফেরেশতাদের হাতে যে রাতে পেশ করা হয় সেই রাতকে
লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর বলে।
==মাওলানা মাহিউদ্দীন খান তার মাসিক মদীনায়
জুলাই/২০১১ এর ৪১পৃষ্ঠায় “আল-কুরআনে শব-ই-বরাত: একটি
বিশ্লেষন” শিরোনামে লিখেছে-
সুরা দুখানের লাইলাতুম মুবারকা শব্দের সংখ্যাতাত্ত্বিক
বিশ্লেষন করলে দেখা যায় যে, সুরা দুখান কুরআনের ১ম
থেকে ৪৪নং সুরা। ৪৪ এর অঙ্কদ্বয়ের সমষ্টি ৪+৪=৮; ৮দ্বারা
বুঝায় ৮ম মাস অর্থাৎ শাবান মাসে লাইলাতুম মুবারকা
অবস্থিত। আবার কুরআনের শেষ থেকেও সুরা দুখান ৭১ নং
সুরা। ৭১ অঙ্কদ্বয়ের সমষ্টি ৭+১=৮, পুনরায় ৮ম মাসের দিকেই
ইঙ্গিত করে। আবার এ সুরার প্রথম থেকে ১৪টি হরফ শেষ
করে ১৫তম হরফ থেকে লাইলাতুম মুবারকায় কুরআন নাযিল
সংক্রান্ত আয়াত শুরু হয়েছে। এটা ইঙ্গিত করে যে, ঐ ৮ম
মাসের ১৪ তারিখ শেষ হয়ে ১৫তারিখ রাতেই লাইলাতুম
মুবারকা। এই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষন প্রমান করে, সুরা
দুখানে বর্নিত লাইলাতুম মুবারকা ১৪ই শাবান দিবাগত ১৫ই
শাবানের রাত। অর্থাৎ লাইলাতুল বারাআত বা শব-ই-
বারাআত। এছাড়া মুফাসিসরীনদের বিশাল এক জামাত
দাবী করেছেন, সুরা দুখানে বর্নিত যে রাতকে লাইলাতুম
মুবারকা বলা হয়েছে তা অবশ্যই শব-ই-বরাত। (ইমাম কুরতবী,
মোল্লা আলী কারী (রহ), বুখারী শরীফের সর্বশ্রেষ্ঠ
ভাষ্যকার হাফিজুল হাদীস আল্লামা ইবনে হাজার
আসকালানী রহ; এবং হাম্বলী মাজহাবের অন্যতম ইমাম
বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি সহ আরো
অনেকে এ বিষয়ে একমত)
কুরআন শরীফ নাযিল করেছি।” এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো,
“আমি ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন শরীফ নাযিল শুরু করি।”
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক “লাইলাতুম মুবারকাহ বা শবে
বরাতে” কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন আর শবে
ক্বদরে তা নাযিল করা শুরু করেন। এজন্যে মুফাসসিরীনে
কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা শবে বরাতকে ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﺘﺠﻮﻳﺰ অর্থাৎ ‘ফায়সালার রাত।’ আর শবে ক্বদরকে ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺘﻨﻔﻴﺬ
অর্থাৎ ‘জারী করার রাত’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা
শবে বরাতে যে সকল বিষয়ের ফায়সালা করা হয় তা ‘সূরা
দুখান-এর’ উক্ত আয়াত শরীফেই উল্লেখ আছে। যেমন ইরশাদ
হয়েছে-
ﻓﻴﻬﺎ ﻳﻔﺮﻕ ﻛﻞ ﺍﻣﺮ ﺣﻜﻴﻢ
অর্থাৎ- “উক্ত রজনীতে প্রজ্ঞাসম্পন্ন সকল বিষয়ের
ফায়সালা করা হয়।”
হাদীছ শরীফেও উক্ত আয়াতাংশের সমর্থন পাওয়া যায়।
যেমন ইরশাদ হয়েছে-
ﻓﻴﻬﺎ ﺍﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻛﻞ ﻣﻮﻟﻮﺩ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺍﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻛﻞ ﻫﺎﻟﻚ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﺍﺩﻡ ﻓﻰ ﻫﺬﻩ
ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺗﺮﻓﻊ ﺍﻋﻤﺎﻟﻬﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﺗﻨﺰﻝ ﺍﺭﺯﺍﻗﻬﻢ
অর্থাৎ- “বরাতের রাত্রিতে ফায়সালা করা হয় কতজন
সন্তান আগামী এক বৎসর জন্ম গ্রহণ করবে এবং কতজন সন্তান
মৃত্যু বরণ করবে। এ রাত্রিতে বান্দাদের আমলগুলো উপরে
উঠানো হয় অর্থাৎ আল্লাহ পাক-উনার দরবারে পেশ করা হয়
এবং এ রাত্রিতে বান্দাদের রিযিকের ফায়সালা করা
হয়।” (বায়হাক্বী, মিশকাত)
===> লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাতকে বুঝানো
হয়েছে তার যথার্থ প্রমাণ সূরা দু’খানের ৪ নম্বর আয়াত
শরীফ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ । এই আয়াত শরীফের ﻳُﻔْﺮَﻕُ শব্দের অর্থ
ফায়সালা করা।প্রায় সমস্ত তাফসীরে সকল মুফাসসিরীনে
কিরামগণ ﻳُﻔْﺮَﻕُ (ইয়ুফরাকু) শব্দের তাফসীর করেছেন ইয়ুকতাবু
অর্থাৎলেখা হয়, ইয়ুফাছছিলু অর্থাৎ ফায়সালা করা হয়,
ইয়ুতাজাও ওয়াযূ অর্থাৎ বন্টন বা নির্ধারণ করা হয়,
ইয়ুবাররেমু অর্থাৎ বাজেট করা হয়, ইয়ুকদ্বিয়ু অর্থাৎ
নির্দেশনা দেওয়া হয়
কাজেই ইয়ুফরাকু -র অর্থ ও তার ব্যাখার মাধ্যমে আরো
স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, লাইলাতুম মুবারাকাহদ্বারা শবে
বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে। যেই রাত্রিতে
সমস্ত মাখলুকাতের ভাগ্যগুলো সামনের এক বছরের জন্য
লিপিবদ্ধ করা হয়, আর সেই ভাগ্যলিপি অনুসারে রমাদ্বান
মাসের লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদরে তা চালু হয়। এজন্য
শবে বরাতকে লাইলাতুত্ তাজবীজ অর্থাৎ ফায়সালার
রাত্র এবং শবে ক্বদরকেলাইলাতুল তানফীয অর্থাৎ
নির্ধারিত ফায়সালার কার্যকরী করার রাত্র বলা হয়।
(তাফসীরে মাযহারী,তাফসীরে খাযীন,তাফসীরে ইবনে
কাছীর,বাগবী, কুরতুবী,রুহুল বয়ান,লুবাব)
==যে বিষয় টি লক্ষ্যনীয়- শবে কদর হাজার বছরের চেয়ে
শ্রেষ্টরাত এবং সেইদিন হল বন্ঠনের রাত কিন্তু শবে বরাত
হল ফয়সালার রাত,সেহেতু সুরা দুখুানে এসছে—“ আমারই
নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো
ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সুরা
দুখান-৫)এবং হাদিসেও ১৫ই শাবান কে ফয়সালার রাত
হিসেবে উল্লেখ অাছে যেটি শবে কদর সর্ম্পকে নাই।

image

শবে বরাত সম্পর্কীয় বহু বর্ণনা হাদীসের কিতাবে
বিদ্যমান। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদীস নিম্নে
পেশ করছি-
*প্রথম হাদীস
হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা. রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেন,
আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে
সমস্ত সৃষ্টি কুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে সকলকে
ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া। (দেখুন:
শুয়াবুল ঈমান-৫/২২৭ , আল-মু‘জামূল কাবীর-২০/১০৮)
░▒▓█►হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ক. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী র. মুয়ায রা. এর হাদীসটি
বর্ণনা করে বলেন, ইবনে হিবক্ষান হাদীসটিকে সহীহ
বলেছেন। আর নির্ভরযোগ্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
*দ্বিতীয় হাদীস
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে
বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে আছেন।
আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা
করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার
করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা
করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ
নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু
কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক
লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান
বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
*তৃতীয় হাদীস
হযরত আবী সা’লাবা আল খুশানী রা. থেকে বর্ণিত হুজুর স.
ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের পনের
তারিখ রাতে স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন।
অতঃপর মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন এবং কাফেরদেকে সুযোগ
দেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে বিদ্বেষ পরিত্যাগ
করা পযর্ন্ত অবকাশ দেন। (শুয়াবুল ঈমান: ৩/৩৮১ , মু‘জামূল
কাবীর: ২২/২২৩)
*চতুথ হাদীস:-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের
মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত
ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে
দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫,
হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর
(২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত
হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে
আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘
আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত
হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী।
হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ
ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং (১৯৮০),
পৃঃ (৪৮৬)।
*৫ম হাদীস:-
আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন শা‘বানের মধ্যরাত্রি আসবে
তখন তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে,
আর সে দিনের রোযা রাখবে; কেননা সে দিন সুর্যাস্তের
সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ
করেন এবং বলেন: ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি
ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি
রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে
পরিত্রাণ কামনা করবে আর আমি তাকে উদ্ধার করব। এমন
এমন কেউ কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর পর্যন্ত
তিনি এভাবে বলতে থাকেন”।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৪৪, হাদীস
নং ১৩৮৮) বর্ণনা করেছেন। আল্লামা বূছীরি
(রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ
(২/১০) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে
আবি সুবরাহ রয়েছেন।যদি তিনি দুর্বল রাবী হন তাহলে
হাদীস টি হাসান।
*৬ষ্ট হাদীস:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
(সা.) বলেছেন : ১৫ই শা’বানের রাত্রে আল্লাহ পাক তার
বান্দাদের ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। এক.
পরশ্রীকাতর। দুই. অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যাকারী।
মুসনাদে আহমদ-৬/১৯৭, হাদীস-৬৬৪২, মাজমাউস
জাওয়ায়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব
লিল মুনজেরী-৩/৩০৮, হাদীস-৪৮৯২। ইত্যাদি অসংখ্য
কিতাব..।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য।
*৭ম হাদীস:-
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, আঁকা () ইরশাদ ফরমান,
যখন শাবানের ১৫ই তারিখের রাত আগমন করে তখন আল্লাহ
তা‘য়ালা ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, শুধু
মুশরিক (আল্লাহর সাথে শরীককারী) ও হিংসুক ব্যতীত।’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন-
ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﻫِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﺮِﻓْﻪُ، ﻭَﺑَﻘِﻴَّﺔُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻪِ ﺛِﻘَﺎﺕٌ .-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা
করেন, তার বর্ণনাকারীদের একজন “হিশাম ইবনে আব্দুর
রহমান’’ তার সম্পর্কে আমি পরিচিত বা অবগত নই, বাকী সব
রাবী মজবুত ও সিকাহ বা বিশ্বস্ত। অতএব একজনের জন্য
হাদিস যঈফ হবে না; বরং “হাসান”।ইমাম বায্যার : আল
মুসনাদ : ১৬/১৬১পৃ. : হাদিস :৯২৬৮ (২) ইবনে হাজার
হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ,হাদিস, ৮/৬৫পৃ.
হাদিস,১২৯৫৮ (৩) সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৩/৪৮৪পৃ.
হাদিস,২৬২৩, (৪) খতিবে বাগদাদ, তারীখে বাগদাদ,
১৪/২৮৫পৃ. (৫) ইবনে যওজী, আল-ইল্ললুল মুতনাহিয়্যাহ, ২/৫৬০পৃ.
হাদিস,৯২১ (৬) ইমাম তবারী, শরহে উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৫পৃ.
হাদিস,৭৬৩, হাইসামী, কাশফুল আশতার, ২/৪৩৬পৃ.
হাদিস,২০৪৬
*৮নং হাদিস ঃ
-‘‘হযরত আওফ বিন মালেক আশজারী () হতে বর্ণিত, রাসূলে
খোদা () ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাবারাকা ও তায়ালা ১৫ই
শাবানের রাত্রে (শবে বরাত) সকল ঈমানদার বান্দাদেরকে
ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ব্যতীত সবাইকে।
’░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি সংকলন করে বলেন-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা
করেছেন, উক্ত সনদে “আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম”
ইমাম আহমদ বিন সালেহ এর মত তিনি সিকাহ আবার কিছু
মুহাদ্দিসের কাছে তিনি দুর্বল রাবী এবং ইবনে লাহিয়া
হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম প্রকৃতির।’ একজন রাবী দ্বঈফ
হওয়াতে হাদিসটির সম্পূর্ণ সনদটি দুর্বল হবে না বরং
“হাসান”।
ইমাম বায্যার : আল-মুসনাদ :৭/১৮৬পৃ.হাদিস,২৭৫৪ (২) ইবনে
হাজার হায়সামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ৮/৬৫পৃ. (৩) খতিব
তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : হাদিস : ১৩০৬ : কিয়ামে
রামাদ্বান (৪) ইবনে কাসীর, জামিউল মাসানীদ ওয়াল
সুনান, ৬/৬৯১পৃ. হাদিস,৮৫৩৯
🏡* ৯নংহাদীস:-
-‘‘হযরত কাসীর ইবনে হাদ্বরামী () হতে বর্ণিত, রাসূল ()
ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫ই তারিখ
রাতে ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে হ্যা দুই
ধরনের ব্যক্তি ছাড়া, তারা হল মুশরিক ও হিংসুক।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
উক্ত হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আহলে হাদীসের মুহাদ্দিস
মোবারকপুরী এবং ইমাম মুনযির বলেন- ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻭ ﻗﺎﻝ
ﻫﺬﺍ ﻣﺮﺳﻞ ﺟﻴﺪ
-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী
বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন, উক্ত হাদিসটি মুরসাল, তবে
সনদ শক্তিশালী।’’ এ হাদিসটির ইমাম আবদুর রাজ্জাকের
সূত্রটি খুবই সংক্ষিপ্ত;অনেক শক্তিশালী।
ইবনে আবী শায়বাহ : আল মুসান্নাফ : ৬/১০৮পৃ.হাদিস :২৯৮৫৯
(২) ইমাম আব্দুর রাজ্জাক : আল মুসান্নাফ : ৪/৩১৭ : হাদিস :
৭৯২৩(৩) ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান : ৫/৩৫৯পৃ.হাদিস :
৩৫৫০
🏡*১০ নং হাদীস:-
-‘‘হযরত আতা ইবনে ইয়াসার () হতে বর্ণিত, রাসূল () ইরশাদ
করেন, শাবানের মধ্য রজনীতে আয়ূ নির্ধারণ করা হয়। ফলে
দেখা যায় কেউ সফরে বের হয়েছে অথচ তার নাম মৃতদের
তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, আবার কেউ বিয়ে করছে
অথচ তার নাম জীবিতের খাতা থেকে মৃত্যুর খাতায় লিখা
হয়ে গেছে।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ রাবী ‘‘ইবনে লাহিয়াহ’ সম্পর্কে
মোটামুটি তিনি সিকাহ বা বিশ্বস্ত ছিলেন। তাছাড়া
মোবারকপুরী বলেন,
ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﻟﻴﻦ- ﺗﺤﻔﺔ ﺍﻻﺣﻮﺫﻯ : ৪৪১/৩
-‘‘ইমাম মুনযিরী () বলেন, ইমাম আহমদ উক্ত হাদিসটি বর্ণনা
করেছেন এবং বলেন, উক্ত হাদীসের সনদটি ইবনে লাহিয়ার
কারণে লীন বা নরম প্রকৃতির।’’
ইমাম বায্যার : আল মুসনাদ :৩ পৃ- ১৫৮, হাদিস : ৭৯২৫(২)
সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৪১/৬৯পৃ. হাদিস,৪৪৩১৪, (৩) ইবনে
রাহবিয়্যাহ, মুসনাদ, ৩/৯৮১পৃ. হাদিস,১৭০২ (৪) তবারী, শরহে
উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৯পৃ. হাদিস,৭৬৯
🏡*১১ নং হাদীস:-
আয়শা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে প্রবেশ করলেন
এবং তাঁর পোশাকটি খুলে রাখলেন। কিন্তু তত্ক্ষণাত্
আবার তা পরিধান করলেন। এতে আমার মনে কঠিন
ক্রোধের উদ্রেক হয়। কারণ আমার মনে হলো যে, তিনি
আমার কোন সতীনের নিকট গমন করেছেন। তখন আমি
বেরিয়ে তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং দেখতে পেলাম যে,
তিনি বাক্বী গোরস্থানে মুমিন নরনারী ও শহীদদের পাপ
মার্জনার জন্য দোয়া করছেন। আমি (মনে মনে) বললাম,
আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আমি আমার
জাগতিক প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত আর আপনি আপনার রবের
কাছে ব্যস্ত। অত:পর আমি ফিরে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ
করলাম, তখন আমি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হাঁপাচ্ছিলাম।
এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স.) আমার নিকট আগমন করে
বললেন, আয়শা, তুমি এভাবে হাঁপাচ্ছ কেন? আয়শা বললেন,
আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আপনি
আমার কাছে আসলেন এবং কাপড় খুলতে শুরু করে তা আবার
পরিধান করলেন। ব্যাপারটি আমাকে খুব আহত করল। কারণ
আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আমার কোন সতীনের
সংস্পর্শে গিয়েছেন। পরে আপনাকে বাক্বী’তে দোয়া
করতে দেখলাম। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কি
আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও তদীয় রাসুল তোমার
উপর অবিচার করবেন? বরং আমার কাছে জিবরাঈল (আ.)
আসলেন এবং বললেন, এ রাত্রটি মধ্য শাবানের রাত।
আল্লাহ তা’য়ালা এ রাতে ‘কালব’ সম্পদায়ের মেষপালের
পশমের চাইতে অধিক সংখ্যককে ক্ষমা করেন। তবে তিনি
শিরকে লিপ্ত, বিদ্বেষী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী,
কাপড় ঝুলিয়ে (টাখনু আবৃত করে) পরিধানকারী, পিতা
মাতার অবাধ্য সন্তান ও মদ্যপায়ীদের প্রতি দৃষ্টি দেন না।
অত:পর তিনি কাপড় খুললেন এবং আমাকে বললেন, হে
আয়শা, আমাকে কি এ রাতে ইবাদত করার অনুমতি দিবে?
আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উত্সর্গিত
হোন! অবশ্যই। অত:পর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন
এবং এমন দীর্ঘ সিজদা করলেন আমার মনে হলো যে, তিনি
মৃত্যুবরণ করেছেন। অত:পর আমি (অন্ধকার ঘরে) তাকে
খুঁজলাম এবং তাঁর পদদ্বয়ের তালুতে হাত রাখলাম। তখন
তিনি নড়াচড়া করলেন। ফলে দুশ্চিন্তা-মুক্ত হলাম। আমি
শুনলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন: ‘আমি আপনার
কাছে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা চাই, অসন্তুষ্টির পরিবর্তে
সন্তুষ্টি চাই। আপনার কাছে আপনার (আজাব ও গজব) থেকে
আশ্রয় চাই। আপনি সুমহান। আপনার প্রশংসা করে আমি
শেষ করতে পারি না। আপনি তেমনই যেমন আপনি আপনার
প্রসংশা করেছেন। আয়শা (রা.) বলেন, সকালে আমি এ
দোয়াটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, হে
আয়শা, তুমি কি এগুলো শিখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন
তিনি বললেন, হে আয়শা তুমি এগুলো ভাল করে শিখ এবং
অন্যকে শিক্ষা দাও। জিবরাঈল (আ.) আমাকে এগুলো
শিক্ষা দিয়েছেন এবং সিজদার ভিতরে বারবার বলতে
বলেছেন।
(বায়হাকীর শুয়াবুল ইমান ২/৩৮৩)।
░▒▓█► হাদীসটির মান :
ইমাম বায়হাকী নিজেই উক্ত হাদীস উল্লেখ করে বলেন-
ﻗُﻠْﺖُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣُﺮْﺳَﻞٌ ﺟَﻴِّﺪٌ ﻭَﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺃَﺧَﺬَﻩُ ﻣِﻦْ ﻣَﻜْﺤُﻮﻝٍ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ،
অর্থাৎ : উক্ত হাদীসটি (মুরসাল) সনদ অনেক উত্তম। অতএব
হাদীসটি প্রমাণযোগ্য।

image

**মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও ফকীহগণের দৃষ্টিতে শবে বরাত
=============
(১) আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মুবারকপুরী তিরমিযী
শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ”তোহফাতুল আহওয়াযীতে” বলেন,
ﺍﻋْﻠَﻢْ ﺃَﻧَّﻪُ ﻗَﺪْ ﻭَﺭَﺩَ ﻓِﻲ ﻓَﻀِﻴﻠَﺔِ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻋِﺪَّﺓُ ﺃَﺣَﺎﺩِﻳﺚَ ﻣَﺠْﻤُﻮﻋُﻬَﺎ ﻳَﺪُﻝُّ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ ﻟَﻬَﺎ ﺃَﺻْﻠًﺎ
——– ﻓَﻬَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺣَﺎﺩِﻳﺚُ ﺑِﻤَﺠْﻤُﻮﻋِﻬَﺎ ﺣُﺠَّﺔٌ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﻦْ ﺯَﻋَﻢَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻟَﻢْ ﻳَﺜْﺒُﺖْ ﻓِﻲ ﻓَﻀِﻴﻠَﺔِ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ
ﺷَﻲْﺀٌ ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺃَﻋْﻠَﻢُ – ‏( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻮﻡ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ, ﺑﺎﺏ : ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻟﻴﻠﺔ
ﻻﻧﺼﻒ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﻌﺒﺎﻥ )
-‘‘জেনে রাখুন, শাবানের মধ্যরাতের (শবে বরাতের) ফযীলত
সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, সব হাদিস একত্রিত
করলে প্রমাণিত হয় যে, এ রাতের ফযীলতের ক্ষেত্রে
নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। অনুরূপভাবে এ হাদিসগুলো
সম্মিলিতভাবে তাদের বিপক্ষে প্রমাণ বহন করে যারা
ধারণা করে যে, শবে বরাতের ফযীলতের ক্ষেত্রে কোন
প্রমান মেলে না। আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।’’
(২) আল্লামা ইমাম ইবনে ইসহাক বুরহান উদ্দিন ইবনে
মুফলিহ ওফাত.৮৮৪হি.বলেন,
ﻭَﻳُﺴْﺘَﺤَﺐُّ ﺇِﺣْﻴَﺎﺀُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻌِﺸَﺎﺀَﻳْﻦِ ﻟِﻠْﺨَﺒَﺮِ. ﻗَﺎﻝَ ﺟَﻤَﺎﻋَﺔٌ: ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﻋَﺎﺷُﻮﺭَﺍﺀَ، ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺃَﻭَّﻝِ ﺭَﺟَﺐٍ، ﻭَﻟَﻴْﻠَﺔِ ﻧِﺼْﻒِ
ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ، – ﺍﻟﻤﺒﺪﻉ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻤﻘﻨﻊ: ٢/ ٣٣ ﺑﺎﺏ : ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻟﺘﻄﻮﻉ –
-‘‘মুস্তাহাব হলো মাগরিব ও ইশার মাঝখানে এই সমস্ত
রাত্রিগুলোতে জেগে ইবাদত করা। এক জামাত ইমামগণ
বর্ণনা করেছেন, এই সমস্ত রাত্রি হল, আশুরার রাত্রি,
রজবের প্রথম রাত্রি, এবং শাবানের ১৫ তারিখ (শবে বরাত)
রাত্রি। এই সমস্ত রাত্রিতে জাগ্রত থাকা মুস্তাহাব।’’
(৩) অন্যতম মুহাদ্দিস আল্লামা ইমাম যুরকানী ()
ওফাত.১১২২হি. বলেন,
ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ ﻟﻴﻠﻬﺎ ﻓﻘﻮﻣﻮﺍ ﻟﻴﻠﻬﺎ ” ﺃﻱ : ﺃﺣﻴﻮﻩ ﺑﺎﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻭﺍﻧﺼﺒﻮﺍ ﺃﻗﺪﺍﻣﻜﻢ ﻟﻠﻪ
ﻗﺎﻧﺘﻴﻦ، –
-‘‘যখন ১৫ই শাবান আসবে তখন রাতে তোমরা ইবাদতের জন্য
দন্ডায়মান হও। এবং এই ইবাদতের দ্বারা রাত্রকে জীবিত
রাখ।’’
(৪) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী () এক হাদীসের
ব্যাখ্যায় বলেন –
ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺑﺎﻟﺒﺎﺏ ﺍﻻﻳﺬﺍﻥ ﺑﺎﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻟﻤﺎ ﻭﺭﺩ ﻓﻰ ﺃﺣﻴﺎﺋﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻮﺍﺏ – ﺑﺎﺏ : ﻗﻴﺎﻡ
ﺷﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ –
-‘‘এই হাদীসে অধ্যায়ের দ্বারা সংবাদ বা খবর দিয়েছে যে
শাবানের ১৫ই তারিখ রাতে (শবে বরাতে) জেগে ইবাদত
করলে সাওয়াব রয়েছে যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।’’
(৫) আল্লামা তাহতাভী হানাফী () বলেন, ﻭﻧﺪﺏ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ
ﺷﻌﺒﺎﻥ –
-‘‘শবে বরাতে (১৫ই শাবান) রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত
করা মুস্তাহাব।’’
(৬) আল্লামা আলাউদ্দিন হাসকাফী () বলেন,
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﺪﻭﺑﺎﺕ ﺭﻛﻌﺘﺎ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﻭﺍﻟﻘﺪﻭﻡ ﻣﻨﻪ ﻭﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺘﻰ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ ﻭﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻭ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﺍﻻﺧﻴﺮ
ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﺍﻻﻭﻝ ﻣﻦ ﺫﻯ ﺍﻟﺤﺠﺔ –
-‘মুস্তাহাব হলো এ সমস্ত রাত্রিগুলোতে ইবাদত করা
কমপক্ষে দুরাকাত নামায হলেও পড়া যেমন ১. সফরের প্রথম
রাত ২. দুই ঈদের রাত ৩. শবেই বরাত (১৫ই শাবানের রাত) ৩.
রমযানের শেষ দশ দিনের রাত জিলহজ্ব এর ১ম তারিখ।’’
(৭) আল্লামা ইবনে নুজাইজ হানাফী মিশরী () বলেন,
ﻭﻣﻦ ﺍﻟﻤﻨﺪﻭﺑﺎﺕ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﺎﻟﻰ ﺍﻟﻌﺸﺮ ﻣﻦ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﻭﻟﻴﻠﺘﻰ ﺍﻟﻌﻴﺪﻳﻦ ﻟﻴﺎﻟﻰ ﻋﺸﺮ ﺫﻯ ﺍﻟﺤﺠﺔ ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ
ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻛﻤﺎ ﻭﺭﺩﺕ ﺍﻻﺛﺎﺭ –
-‘‘মুস্তাহাব হলো রমযানের শেষ দশ দিনের রাতে ও দুই
ঈদের রাতে ইবাদত করা। জিলহজ্ব মাসের দশ রজনী এবং
শবে বরাতের রাতে ইবাদত করা যা হাদিস দ্বারা
প্রমাণিত।’
(৮) বিখ্যাত ফকীহ আল্লামা শায়খ মনসূর বিন ইউনূস বাহুতী
(রহ.) বলেন,
ﻭﻓﻰ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻗﻴﺎﻣﻬﺎ ﺃﻯ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺃﺣﻴﺎﺀ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻌﻴﺪ – ‏(ﻛﺸﻒ ﺍﻟﻘﻨﺎﻉ : ١/ ٤٢٠ ،
ﺑﺎﺏ : ﻗﺒﻴﻞ ﻓﺼﻞ ﺳﺠﺪﺓ ﺍﻟﺘﻼﻭﺓ ) -‘‘শবে বরাত (১৫ শাবান) এর রাতে, দুই
ঈদের রাতে দাড়িয়ে অর্থাৎ নামাযে লিপ্ত হওয়া
মুস্তাহাব।’’
৯,*ইমাম আহমাদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
১০,*ইমাম আওযায়ী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)।
১১,*ইবনে তাইমিয়া ।
১২,*ইমাম ইবনে রাজাব আল হাম্বলী (রাহমাতুল্লাহি
আলাইহি)।
১৩,*নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী ।
সুত্র:==========
১,আল্লামা মুবারকপুরী: তোহফাতুল আহওয়াজী শরহে
তিরমিযী : ৩/৪৪১ পৃ. হাদিস : ৭৩৬
২, মুফলিহ : মাবদাউ শরহে মাকানা: ২/৩৩পৃ.দারুল কুতুব
ইলমিয়্যাহ,বয়রুত,লেবানন।
৩,আল্লামা ইমাম যুরকানী : শরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া
: ১০/৫৬১ পৃ.
৪,আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী মিরকাত : কিয়ামে
রমযান: ৩/৩৪০ : হাদিস : ১৩০০
৫,আল্লামা ইমাম তাহতাভী : মারাকিল ফালাহ : পৃ-৩২৫
৬,আল্লামা আলাউদ্দিন হাস্কাফী দুররুল মুখতার : ২/২৪-২৫ পৃ
কিতাবুল বিতর এবং নফল অধ্যায়
৭,আল্লামা ইবনে নুজাইম মিশরী : বাহরুর রায়েক : ২/৫২
কিতাবুল বিতর ওয়ান নাওয়াফেল
৮,আল্লামা শায়খ মনসূর বিন ইউনূস বায়হাকী : কাশফুল
কানাঈ : ১/৪২০ : সিজদা ও তেলাওয়াতের ফযীলত অধ্যায়।
৯, [ইবনে তাইমিয়া তার ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীমে
(২/৬২৬) তা উল্লেখ করেছেন]
১০, [ইমাম ইবনে রাজাব তার ‘লাতায়েফুল মা‘আরিফ’ গ্রন্থে
(পৃঃ১৪৪) তার থেকে তা বর্ণনা করেছেন]
১১, [ইকতিদায়ে ছিরাতে মুস্তাকীম ২/৬২৬,৬২৭, মাজমু‘
ফাতাওয়া ২৩/১২৩, ১৩১,১৩৩,১৩৪]।
১২,[তার লাতায়েফুল মা‘আরিফ পৃঃ১৪৪ দ্রষ্টব্য]।
১৩ [ছিলছিলাতুল আহাদীস আস্সাহীহা ৩/১৩৫-১৩৯]

image

শবে বরাতে জাগরণ করলে জান্নাতের সু-সংবাদ:-
হযরত মু‘আয রা. বর্ণনা করেন,রাসূল স. ইরশাদ করেন- যে
ব্যক্তি পাঁচ রাত ইবাদত বন্দেগীতে কাটাবে তার জন্য
জান্নাত অবধারিত। ১. জিলহজ্জের আট তারিখের রাত। ২.
আরাফার রাত। ৩. ঈদুল আযহার রাত। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. শাবানের মধ্য রাত অর্থাৎ শবে বরাত। (আত-তারগীব
ওয়াত তারহীব: ২/১৫২)
হযরত ইবনে ওমর (রঃ) বলেনঃ পাঁচটি রজনীতে দুআ করা
হলে তা কখনো ফেরত দেয়া হয় না (অবশ্যই ক্ববুল হয়) জুমআর
রাত্র, রজবের প্রথম রাত, শাবানের পঞ্চদশ রাত এবং দুই
ঈদের রাত।
( ইমাম বায়হাকী তাঁর শুয়াবুল ঈমানে; আব্দুর রাজ্জাক তাঁর
মুসনাদে )
===== # রাতে ইবাদত করা
হযরত আলা ইবনে হারিস ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) থেকে
বর্ণিত, হযরত আয়িশা ( রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা )
বলেন, একবার রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম ) নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে,
আমার ধারণা হয় তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন
উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি
নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ
করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা বা ও
হুমাইরা! তোমার কি এ আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, তা নয়, ইয়া
রাসূলাল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশংকা
হয়েছিল, আপনি মৃত্যু বরণ করেছেন কিনা। নবীজী
( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) জিজ্ঞেস করলেন,
তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর
রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) ভাল
জানেন। রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বললেন, এটা হল অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা অর্ধ
শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি নজর দেন এবং
ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের
প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে ছেড়ে
দেন তাদের অবস্থাতেই। ( বায়হাকী, ৩য় খন্ড-৩৮২পৃ )
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামাজ
পড়া উত্তম, যাতে সিজদাও দীর্ঘ হবে। এছাড়াও এ রাতে
কুরআন তেলাওয়াত, যিকির আযকার ইত্যাদি আমল করা যায়।
শবে বরাতের নামাজ বিষয়ে একটি অলোচনা পাবেন এই
লিন্কে:-
http://hifazat-e-islam.blogspot.com/2013/06/blog-post_23.html
==== # পরদিন রোযা রাখা
হযরত আলী ( রাদীয়াল্লাহু তাআলা আনহু ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম )
বলেছেন,পনেরো শাবানের (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত)
যখন আসে, তখন তোমরা রাতটি ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও
এবং দিনে রোযা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর
আল্লাহ তাআলা পড়থম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোন
ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করবো।
আছে কি কোন রিযিকপ্রার্থী? আমি তাকে রিযিক দিব।
এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের
প্রয়োজনের কথা বলে তাদেরকে ডাকতে থাকেন। ( সুনানে
ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৩৮৪, বাইহাকী-শুআবুল ঈমান,
হাদীস-৩৮২৩ )
ইমরান ইবনে হোসায়েন (রা.) বলেছেন যে, “রসূলে
পাক (স.) তাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি
কি শাবান মাসের মধ্যভাগে (শব-ই- বরাতের) রোজা
রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। তখন রসূলে পাক (স.) বললেন,
যখন তুমি রাখনি তখন দু’দিন (রোজার শেষে) রোজা
রেখে দিও” (মুসলীম শরীফ,হাদীস নং-২৬২২,২৬২৩,২৬২৪,ই
ফা)
======# কবর জিয়ারত:
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে
বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে আছেন।
আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা
করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার
করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা
করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ
নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু
কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক
লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান
বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
প্রশ্নঃ শাবানের মধ্যরাত্রি উদযাপন করা যাবে কিনা?
উত্তরঃ শাবানের মধ্যরাত্রি পালন করার কি হুকুম এ নিয়ে
আলেমদের মধ্যে ২টি মত রয়েছে:
সম্মিলিত ইবাদত:
এক. শা‘বানের মধ্য রাত্রিতে মাসজিদে জামাতের সাথে
নামায ও অন্যান্য ইবাদত করা জায়েয । প্রসিদ্ধ তাবেয়ী
খালেদ ইবনে মি‘দান, লুকমান ইবনে আমের সুন্দর পোশাক
পরে, আতর খোশবু, শুরমা মেখে মাসজিদে গিয়ে মানুষদের
নিয়ে এ রাত্রিতে নামায আদায় করতেন। এ মতটি ইমাম
ইসহাক ইবনে রাহওয়ীয়াহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(লাতায়েফুল মা‘আরেফ পৃঃ১৪৪)।
একক ইবাদত:
দুই. শা‘বানের মধ্যরাত্রিতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত
বন্দেগী করা জায়েয। ইমাম আওযা‘য়ী, ইবনে তাইমিয়া,
এবং আল্লামা ইবনে রজব (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম) এ মত
পোষণ করেন। তাদের মতের পক্ষে তারা যে সমস্ত হাদীস
দ্বারা এ রাত্রির ফযীলত বর্ণিত হয়েছে সে সমস্ত সাধারণ
হাদীসের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত করাকে
জায়েয মনে করেন।
শবে বরাতে তাবেয়ীগণের আমলঃ
তাবেয়ী কারাঃ
তাবেয়ী হচ্ছেন তারা যারা রাসূলে পাক (সাঃ) এর
সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেননি তবে সাহাবায়ে কেরামের
সাক্ষাৎ লাভ করেছেন,তাদের নিকট থেকে তালীম গ্রহণ
করেছেন এবং তাদের আদর্শ অনুসরণ করেছেন।
তাবেয়ীগণ শবে বরাতে ইবাদাতে মশগুল থাকতেন।
তারা এ রাত উপলক্ষে যা করতেনঃ
১। নতুন কাপড় পরিধান করতেন ২।
চোখে সুরমা লাগাতেন
৩।সারা রাত মসজিদে অবস্থান করে ইবাদাতে কাটিয়ে
দিতেন।
হাম্বলী মাযহাবের বিশ্বখ্যাত ইমাম ইবনু রাজাব
হাম্বলীর লিখিত লাতাইফুল মাআরিফ, পেইজ নং ২৬৩
তাবেয়ীগণের যারা এমন আমল করতেন, তাদের কয়েকজনের
নাম উল্লেখ করছি।– খালিদ বিন মা’দান (রাঃ)- তিনি
শাম প্রদেশের ইমাম ছিলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের
মহান চ্রিত্রের বর্ণনা করতেন। যেসকল সাহাবায়ে কেরাম
থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন- ছাওবান,
আবু উমামাহ, মুয়াবিয়া, আবু হুরায়রা, মিকদাম,ইবনু
উমার,উতবাহ,ইবনু আমর, জুবাইর বিন নুফাইর, হুজর বিন হুজর,
রাবীয়াহ,খিয়ার বিন সালামাহ,ইবনু আবী হিলাল,আমর
বিন আসওয়াদ,কাসীর বিন মুররাহ, আবু বাহরিইয়্যাহ প্রমুখ।
সুত্রঃ সিয়ারু আলামীন নুবালা, আত তাবাকাতুছ ছানিয়াহ
তিনি এমন নির্ভরযোগ্য ইমাম যে ইমাম বুখারী (রা) তাঁর
থেকে বর্ণিত হাদীস সংকলন করেছেন। দেখুন- সহীহ
বুখারী,কিতাবুল জিহাদি ওয়াস সিয়ারি-২৭৬৬
মাকহুল(রা)- ইমাম মাকহুল(রা) সম্পর্কে ইমাম যুহরি
বলেন,সারা দুনিয়ায় আলেম হলেন চারজন- মদিনা শরীফে
সায়ীদ বিন মুসায়্যিব,কুফা নগরীতে শাবী, বসরা নগরীতে
হাসান বসরী এবং শাম প্রদেশে মাকহুল(রা)। তিনি
ছিলেন শামের সবচেয়ে বড় ফকীহ। সুত্রঃ সিয়ারু আলামীন
নুবালা, আত তাবাকাতুছ ছানিয়াহ তাদের সাথে আরো
অনেকে সারা রাত মসজিদে অবস্থান করে ইবাদাতে
কাটিয়ে দিতেন। শবে বরাত উপলক্ষে মসজিদে যাওয়া,নফল
ইবাদাত করা হচ্ছে সালফে সালেহীনের অনুসরণ করা।
করণীয়:-
*কুরআন তেলোয়াত করা
*গোসল করা
*মা-বাবা থেকে ক্ষমা চাওয়া
*দান সদকা করা।(গরীব দু:খী কে,মাজারে নয় )
*পরিবারের জন্য সতদার নিয়তে ভালো খাবারের ব্যবস্তা
করা।
*গরীব দু:খী মানুষকে খাওয়ানো
ইত্যাদি…
বর্জনীয়:
এ রাতে একটি কুসংস্কার হল আতশবাজি। এটা এমন
একটি বাজে কাজ, যাতে দুনিয়ার ফায়দাও নেই,
আখিরাতেও ফায়দা নেই। আছে কেবল অপচয়,
অপব্যয়, পাপ, আরও আছে বিধর্মী, অগ্নিপূজকদের
অনুকরণ। এই বরকতময় রাতে আল্লাহ এবং তাঁর
ফিরিশতাগণ দুনিয়াবাসীদের প্রতি রহমত বিতরণ
করতে তশরীফ আনেন। বান্দাগণকে দান গ্রহণের জন্য
অবিরত আহবান করতে থাকেন। আমাদের ছেলে-
মেয়েরা আল্লাহ্র তাজাল্লী, নূর ও রহমতের অংশ
নেওয়া, তাঁর দান গ্রহণ, তাঁর নূরে নূরানী হওয়ার
পরিবর্তে আতশবাজীর দ্বারা তার প্রতি পরিহাস ও
বিদ্রূপ প্রদর্শন করছে, এই অবস্থা কি সঙ্গত?
এটা রোধ করার কোন দায়িত্ব কি অভিভাবকগণের
স্কন্ধে নেই। একদিকে ইবাদত অন্যদিকে পরিহাস!
দুটি এক সঙ্গে চলতে দেয়া কি উচিত?
আরো একটি কুসংস্কার হল আলোকসজ্জা করা।
প্রয়োজনাতিরিক্ত বাতি জ্বালানো শরীয়তের
দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এটা অপচয়ও বটে। আল
মুফতীতে বলা হয়েছে যে, এটা দূষণীয়।

image

আপত্তি নং-১
– আলী (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে বর্ণিত
হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ
করেছেনঃ “১৫ শা’বানের রাতে তোমরা
বেশী বেশী করে ইবাদত কর, এবং দিনের
বেলায় রোযা রাখ। এ রাতে আল্লাহ
তা’আলা সূর্যাস্তের সাথে সাথেই
দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং
বলতে থাকেনঃ ‘কে আছ আমার কাছে
গুনাহ মাফ চাইতে? আমি তাকে মাফ
করতে প্রস্তুত। কে আছ রিযক চাইতে?
আমি তাকে রিযক দিতে প্রস্তুত। কে
আছ বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে
বিপদমুক্ত করতে প্রস্তুত। কে আছ …’
এভাবে (বিভিন্ন প্রয়োজনের নাম
নিয়ে) ডাকা হতে থাকে সুবহে
সাদেক পর্যন্ত”। (ইবনে মাজাহ কর্তৃক
হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে)।
এ হাদিসটি যে আদৌ সহীহ নয়, সে
ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম হাফেজ
শিহাব উদ্দিন তাঁর যাওয়ায়েদে
ইবনে মাজাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেন,
হাদিসটির সনদ যইফ (দুর্বল), কারণ
হাদিসটির সনদের মাঝখানে আবু বকর বিন
আবু সাবরা নামে একজন রাবী
(বর্ণনাকারী) অনির্ভরযোগ্য। এমনকি
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এবং প্রখ্যাত
হাদিস বিশারদ ইবনু মাইন তার ব্যাপারে
মন্তব্য করেছেনঃ “লোকটি মিথ্যা
হাদিস রচনা করে থাকে।” (দেখুনঃ
সুনান ইবনে মাজাহ, মন্তব্য ও
সম্পাদনাঃ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল
বারী, পৃষ্ঠা ৪৪৪)।
জবাব:- হাদিসটির তাহকীক/ পাবেন এই লিন্কে-১ https://
islamicdefination.wordpress.com/2015/05/29/শবে-বরাত-এর-
হাদিস-নিয়ে-লাম/
লিন্ক-২

set=a.105319336323036.6436.100005349094333&type=1&theater
২. আয়েশা (রাঃ)-এর বরাত দিয়ে
বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেনঃ “আমি
এক রাতে দেখতে পাই যে,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার পাশে নেই।
আমি উনার সন্ধানে বের হলাম। দেখি
যে তিনি জান্নাতুল বাকী (কবর
স্থানে)অবস্থান করছেন।
ঊর্ধ্বাকাশপানে তাঁর মস্তক
ফেরানো। আমাকে দেখে বললেন,
‘আয়েশা, তুমি কি আশঙ্কা করেছিলে
যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ)
তোমার প্রতি অবিচার করেছেন?’ আমি
বললাম, ‘এমন ধারণা করিনি, তবে মনে
করেছিলাম, আপনার অন্য কোন বিবির
সান্নিধ্যে গিয়েছেন কিনা।’
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘আল্লাহ
তা’আলা ১৫ই শা’বানের রাতে দুনিয়ার
আকাশে নেমে আসেন এবং কালব
গোত্রের সমুদয় বকরীর সকল পশমের
পরিমাণ মানুষকে মাফ করে
দেন।’” (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। ইমাম
তিরমিজি হাদিসটি বর্ণনা করে নিজেই
মন্তব্য করেছেনঃ আয়েশা (রাঃ)-এর
বরাত দিয়ে বর্ণিত এই হাদিসটি
হাজ্জাজ বিন আয়তাআহ্ ছাড়া আর
কেউ বর্ণনা করেছেন বলে জানা নেই।
ইমাম বোখারী বলেছেনঃ এ হাদিসটি
যইফ (দুর্বল)। হাজ্জাজ বিন আয়তাআহ্
বর্ণনা করেছেন ইয়াহ্ইয়া বিন আবি
কাসির থেকে। অথচ হাজ্জাজ
ইয়াহ্তইয়া থেকে আদৌ কোন হাদিস
শুনেননি। ইমাম বোখারী আরও
বলেছেনঃ এমনকি ইয়াহ্ইয়া বিন আবি
কাসিরও রাবী ওরওয়া থেকে আদৌ
কোন হাদিস শুনেননি। (দেখুনঃ
জামে’ তিরমিজী, সাওম অধ্যায়, মধ্য
শা’বানের রাত, পৃষ্ঠা ১৬৫-১৬৮)।
জবাব:- হাদিসটি তিরমীিজ ছাড়াও বায়হাকী শরীফে
সহীহ সনদে অন্য একটি সুত্র আছে এবং সনদটি সহিহ।
বিস্তারিত:- https://islamicdefination.wordpress.com
/2015/05/29/শবে-বরাত-এর-হাদিস-নিয়ে-লাম-2/
৩. আবু মুসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে
বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)বলেছেন,
“১৫-ই শা’বানের রাতে আল্লাহ
তা’আলা নিচে নেমে আসেন এবং সকল
মানুষকেই মাফ করে দেন। তবে
মুশরিককে এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ
সৃষ্টিকারীকে মাফ করেন না” (ইবনে
মাজাহ)। এ হাদিসটির ব্যাপারে হাফেজ
শিহাব উদ্দিন তাঁর যাওয়ায়েদে
ইবনে মাজাহ গ্রন্থে উল্লেখ
করেনঃ এর সনদ যইফ (দুর্বল)। একজন রাবী
(বর্ণনাকারী) আব্দুল্লাহ বিন
লাহইয়াহ্ নির্ভরযোগ্য নন। আরেকজন
রাবী ওয়ালিদ বিন মুসলিম
তাফলীসকারী (সনদের মাধ্যে
হেরফের করেতে অভ্যস্ত) হিসেবে
পরিচিত।
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আসসিন্দী
বলেছেনঃ আরেকজন রাবী আদদাহহাক
কখনও আবু মুসা থেকে হাদিস
শুনেননি। শবে বরাত সংক্রান্ত
বর্ণিত সবগুলো হাদিসের সনদের
মধ্যেই এ জাতীয় দুর্বলতা বিদ্যমান
থাকার কারণে একটি হাদিসও সহীহ’র
মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
জবাব:- https://islamicdefination.wordpress.com/2015/05/29/শব-
ই-বরাত-এর-হাদিস-নিয়ে-লাম/

শবে বরাত এর হাদিস নিয়ে লামাজহাবীদের আপত্তির জবাব- ২

হযরত আয়শো রা. বলনে, একরাতে আমি রাসূল স.কে বছিানায় পলোম না। তাই (খোজার উদ্দশ্যে)ে বরে হলাম। তখন দখেতে পলোম,তনিি জান্নাতুল বাকীতে আছনে। আমাকে দখেে তনিি বলে উঠলনে, তুমি কি এ আশঙ্কা করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবচিার করবনে ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা করছলিাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নযি়ছেনে। রাসূল দঃ বলনে শাবানরে পনরে তারখি রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনযি়ার আসমানে অবতরণ করনে এবং ‘বনু কালব’ গোত্ররে ভডে়ার পশমরে চযে়ওে অধকি সংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
সনদ পর্যালোচনা
░▒▓█►হাদীসটরি ব্যাপারে মুহাদ্দসিদরে অভমিত
ইবনে হিব্বান র. আয়শো রা. এর হাদীসটকিে হাসান বলছেনে। (শরহুল মাওয়াহবিলি লাদুনযি়্যাহ: ৭/৪৪১

আল্লামা ইমাম মুনযিরী () “তারগীব” গ্রন্থে এবং আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মোবারকপুরী উক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেন,
اخرجه البزار و البيهقى با اسناد لا بأس به كذا فى ترغيب و الترهيب للمنذرى في باب الترهيب من الهاجر- تحفة الاحوذي, باب: ما جاء النصف من الشعبان:৪৪০/৩ –الرقم: ৭৩৬
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ও ইমাম বায়হাকী () বর্ণনা করেছেন। উক্ত সনদটিلا بأس به অর্থাৎ- উক্ত হাদীসের সনদে কোন অসুবিধা নেই। অনুরূপ বলেছেন ইমাম মুনযির () স্বীয় ‘তারগীব ওয়াত তারহীব’ গ্রন্থে।’’’
অপরদিকে ইমাম তিরমিযী উক্ত হাদিসটি বর্ণনার পর বলেন,
و قال ابو عيسى الترمذى: و في الباب عن ابى بكر الصديق-
-‘‘ইমাম তিরমিযী () বলেন, এ পরিচ্ছেদে (এ বিষয়ে) হযরত আবু বকর () হতে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।’’
হযরত আয়েশা () এর উক্ত হাদিস প্রসঙ্গে মোবারকপুরী আরো বলেন,
رواه البيهقى و قال: هذا مرسل جيد: تحفة الاحوذى: ৪৪১/৩
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী ()ও একটি সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী () বলেন, উক্ত হাদিসটি মুরসাল, তবে শক্তিশালী সনদ।’’ আল্লামা ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী () বলেন, هذا حديث حسن-‘‘উক্ত হাদিসটি সনদের দিক দিয়ে হাসান পর্যায়ের।’
পরিশেষে বলতে চাই, যেহেতু উক্ত হাদিসটি হক্কানী মুহাদ্দিসগণ গ্রহণযোগ্য বলেছেন, সেহেতু আহলে হাদিস আলবানীর যঈফ বালার কোন ভিত্তি নেই।

আপত্তিঃ৩
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫, হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর (২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘ আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী। হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং (১৯৮০), পৃঃ (৪৮৬)।
আহলে হাদীসের অন্যতম আলেম মোবারকপুরী ইমাম মুনযিরের সূত্রে উক্ত হাদিস সম্পর্কে বলেন,
رواه ابن ماجه من حديث ابي موسى الاشعرى باسناد لا بأس به
-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম ইবনে মাযাহ হযরত আবু মুসা আশআরী () হতে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীসের সনদটি لا بأس به অর্থাৎ- তার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।’’
অপরদিকে ইবনে মাযাহ আরেকটি সূত্র আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ক. মোবারকপুরী : তুহফাতুল আহওয়াজী : ৩/৪৪১ পৃ.
খ. ইমাম ইবনে মুনযিরী : আত-তারগীব ওয়াত তারহীব : ৪/২৪০ পৃ.

Advertisements

2 thoughts on “শব ই বরাত( কোরআন হাদিসের আলোকে)

  1. abdurrob bhuiyan

    ১৫ সাবানে যদি শবে বরাত, রুজি বন্টন হয় তাহলে রমজানের লাইলাতুল কদরে কি হয় বিস্তারিত জানাবেন.? আমি জানতাম সৌভাগ্যের রজনী হলো শুধুমাত্র “”লাইলাতুল কদর”” যে রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ….আর আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফ রমজানে অবতীর্ণ করেছেন না কি…?

    Like

    • শবে বরাত ভাগ্য রজনী এটা আমার ব্লগে লেখা আছে, আশা করি ভাল করে পড়ে দেখবেন।শবে কদরের সাথে আপনি শবে বরাতের তুলনা করার কোন মানে হয়না।দুইটার আলাদা আলাদা তাৎপর্য।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s