দুর্বল হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলে হাসান-এ পৌঁছে যায়

Standard

বর্তমান আহলে হাদিসরা বলে দ্বঈফ সনদের হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হলেও সেটি নাকি দ্বঈফ থাকবে।কিন্তু নিজেদের স্বার্থে আবার পুরো উল্টো।নিজেদের স্ব পক্ষে কোন অত্যন্ত দুর্বল হাদিস থাকলেও তাকে হাসান বলতে একটু দ্বিধাবোধ করে না।
এ প্রসঙ্গে হাদিসের নীতিমালাঃ

দলীল নং-১
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী(রহঃ) বলেন,
“দ্বঈফ হাদিসও একাধিক সনদে বর্ণিত হলে হাসান হাদিস এর পর্যায়ে পৌঁছে যায়।”
★মিরকাতঃ৩/৭৭পৃঃ,হাদিসঃ১০০৮

দলীল নং-২
তিনি অন্যস্থানে বলেন,
“একাধিক সনদে যদিও দ্বঈফ হাদিস বর্ণিত হয় তবে বর্ণিত ঐ হাদিস হাসান বলে গণ্য হবে বা উপনীত হবে”।
★মোল্লা আলী ক্বারীঃআসারুল মারফূআঃ৪৮১পৃঃ

দলীল নং-৩
আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনে হুম্মাম(রহঃ) বলেন,
“হাদিসের সমস্ত রাবী দুর্বল প্রমানিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে তা হাসানে পরিণত হয়ে যায়।”
★আল্লামা হুম্মামঃ ফতহুল কাদীরঃ১/৩০৬পৃঃ

দলীল নং-৪
ইমাম শারানী(রহঃ) বলেন,
“নিঃসন্দেহে জমহুর মুহাদ্দিসগণ দুর্বল হাদিসকে অধিক সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে দলীল হওয়ার যোগ্যতা রুপে মেনে নিয়েছেন এবং সেটিকে কোন সময় সহীহ আবার কোন সময় হাসানের সহিত মিলিয়েছেন।এই প্রকারের দুর্বল হাদিস সমূহ ইমাম বায়হাকীর সুনানে কোবরার মধ্যে পাওয়া যায়, যাকে ইমাম মুজতাহিদীন এবং আসহাবে আইয়াম্মা দলীল হিসেবে গ্রহণের জন্য ইচ্ছা পোষণ করেন।”
★ইমাম শারানীঃমিযানুল কোবরাঃ১/৬৮পৃঃ

দলীল নং-৫
ইমাম সৈয়ুতী(রহঃ) বলেন,
“মাতরুক ও মুনকার হাদিস বিভিন্ন তরিকায় বর্ণিত হওয়ার কারণে দ্বঈফ হাদিসের মর্যাদায় উপনীত হয়।আবার কখনো হাদিসে হাসানের মর্যাদায় উপনীত হয়ে থাকে।”
★ ইমাম সৈয়ুতীঃতাআকিবাত আলা মওজুআত,কিতাবুল মানাকিবঃ৭৫পৃঃ

দলীল নং-৬
আল্লামা শায়খ আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী(রহঃ) বলেনঃ
“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হওয়ার দরুন হাসান লিগাইরিহী হওয়ার মর্যাদায় উপনীত হয়, তা দলীল হওয়া সম্পর্কে আলিমগণ একমত হয়েছেন”।
★আবদুল হক দেহলভী কৃতঃ মুকাদ্দামাতুশ শায়খঃ২৫পৃঃ

দলীল নং-৭
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী(রহঃ) বলেন,
“যখন দ্বঈফ হাদিস অন্য কোন সনদ বা বর্ননা দ্বারা শক্তিশালী হয় অর্থাৎ- দুর্বলতা দূর হয়ে যায়, তখন তা হাসান লিগাইরিহী রুপে গৃহিত হবে”।
★উমদাদুল ক্বারী শরহে বুখারীঃ১/৯পৃঃ,দারুল ফিকর ইসলামিয়্যাহ,বৈরুত।

দলীল নং-৮
আল্লামা মুফতি আমিমুল ইহসান বারাকাতী(রহঃ) বলেন,
“আর দ্বঈফ হাদিস যদি বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়, গ্রহণীয় হওয়ার প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী হয়, তবে তা হাসান লিগাইরিহী হয়ে যাবে”।
★মিযানুল আখবারঃ৭পৃঃ

Advertisements

তাবিজ ও ঝাঁড়ফুক

Standard

আলহাজ্ব মূফতী এস এম সাকীউল কাউছার
[সাজ্জাদানশীন, ঘিলাতলা দরবার শরীফ, কুমিল্লা]
আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানব দেহে রোগ-বিমার
দিয়ে মু’মিনদের পরীক্ষা করেন। আবার রোগের প্রতিষেধকও
তিনি দান করেন। আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন –
ﻭ ﺍﺫﺍ ﻣﺮﺿﺖ ﻓﻬﻮ ﻳﺸﻔﻴﻦ –
(ইব্রাহিম আ: বলেন), “আমি যখন রোগে আক্রান্ত হই তখন
তিনি-ই (আল্লাহ) আমাকে রোগমুক্ত
করেন।” (সূরা শুআরা: আয়াত ৮০)
বুখারী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসে রাসূলে পাক (দ:)
এরশাদ করেন –
“আল্লাহ এমন কোনো রোগ প্রেরণ করেন না যার আরোগ্য
নেই।
আল্লাহ্ পাক আরও বলেন –
ﻭﻧﻨﺰﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﻮﺃﻥ ﻣﺎ ﻫﻮ ﺷﻔﺎﺀ ﻭﺭﺣﻤﺔ ﻟﻠﻤﺆﻣﻨﻴﻦ –
“আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের
সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।“ (সূরা বনী ইসরাঈল:
৮২)
আল্লাহ্ তা’আলা আরও এরশাদ করেন –
ﻭﻳﺸﻒ ﺻﺪﻭﺭ ﻗﻮﻡ ﻣﺆﻣﻨﻴﻦ –
“তিনি মুমিনদের অন্তরের রোগ নিরাময়কারী” (সূরা তওবা:
আয়াত ১৪)।
মানব দেহের রোগ-বিমারের বিভিন্ন দিক থাকতে পারে।
যেমন শারীরিক রোগ, মানুষ ও জ্বিনের কুদৃষ্টি, তাবিজ-
টোনা ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো এবং এর প্রতিকারে ঝাড়ফুঁক
বা তাবিজ-দোয়া ব্যবহার কতটুকু ইসলাম বা কোরআন-
হাদীছসম্মত তা নিয়ে কিছু আলোচনা করছি। এ
বিষয়ে অনেকে জানতে চেয়েছেন।
আমাদের প্রথমেই জেনে রাখতে হবে আল্লাহ’র দয়া-রহমত
ছাড়া কোনো সাফল্য বা মুক্তি নেই। তাবিজ ও
ঝাড়ফুঁকে কাজ হতে পারে আবার না-ও হতে পারে।
এগুলো এক ধরণের দোয়া, আল্লাহ্ পাক ইচ্ছা করলে কবুল
করতে পারেন আবার না-ও করতে পারেন। সেজন্য যেমন
দোয়া চাওয়া বন্ধ করা যায় না, তেমনি কোরআন-
হাদীছকে অবিশ্বাসও করা যাবে না।
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক-ই বুজুর্গদের
ইজতেহাদ, অভিজ্ঞতা ও কাশফের মাধ্যমে উদ্ভূত। কোরান-
হাদীছে স্পষ্ট বলা হয়নি যে অমুক তাবিজ বা অমুক ঝাড়ফুঁক
দ্বারা অমুক কাজ হবে। তাই কোনো তাবিজে কাঙ্ক্ষিত
ফল না হলে কোরআন-হাদীছের সত্যতা নিয়ে কিছু বলার
বা ভাবার অবকাশ নেই। যেমন জ্বর বেশি হলে এই আয়াত
পড়ে ফুঁ দিলে কাজ হয় – ﻳﺎ ﻧﺎﺭ ﻛﻮﻧﻰ ﺑﺮﺩﺍ ﻭ ﺳﻼﻣﺎ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ “ইয়া নারু
কুনি বারদাও ওয়া সালামান আলা ইব্রাহিম” যার অর্থ –
হে আগুন ইব্রাহিমের (আ:) জন্য শান্তিদায়ক
ঠান্ডা হয়ে যাও। কোনো কোনো বুজুর্গ এ আয়াত
দ্বারা বালিতে ফুঁ দিয়ে জ্বলন্ত
আগুনে ছিটিয়ে দিয়ে বাড়িঘরে আগুন
লাগলে নিভিয়ে দিয়েছেন (সুবহানাল্লাহ)। এখন যদি এ
আমল দ্বারা আগুন না নিভে তাহলে কোরআনের
ক্ষমতা নেইেএ কথা বলা যাবে না।
তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক কোরআন-হাদীছের বাক্যাবলী ও
আল্লাহ্র আসমায়ে হুসনা দ্বারা বৈধ
উদ্দেশ্যে করা হলে তা জায়েয। পক্ষান্তরে কুফরী-শিরকের
কথা দ্বারা বা এরূপ কোনো যাদু হলে তা দ্বারা তাবিজ-
ঝাড়ফুঁক হারাম। এমনিভাবে কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য
হাসিলের জন্য তাবিজ-ঝাড়ফুঁক করা হলে তা জায়েয নয়,
যদিও কোরআন হাদীছের বাক্য দ্বারা হয়।
মুসলীম শরীফের হাদীছে রয়েছে –
ﻋﻦ ﻋﻮﻑ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺍﻻﺷﺠﻌﻰ ﻗﺎﻝ ﻛﻨﺎ ﻧﺮﻗﻰ ﻓﻰ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻓﻘﻠﻨﺎ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻛﻴﻒ ﺗﺮﻯ ﻓﻰ ﺫﺍﻟﻚ ؟
ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻋﺮﺿﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺭﻗﺎﻛﻢ ﻻ ﺑﺂﺱ ﺑﺎﺭﻗﻰ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻴﻪ ﺷﺮﻙ-
‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻰ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﺳﻼﻡ- ﺑﺎﺏ ﺍﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﺍﻟﺮﻗﻴﺔ ——– ﻭﺍﻟﻨﻈﺮﺓ )
অর্থাৎ, হযরত আউফ ইবনে মালিক আশজায়ী বলেন,
আমরা জাহেলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। তাই জিজ্ঞেস
করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! এ ব্যাপারে আপনার মতামত
কী? তিনি বলেন, তোমরা কী দিয়ে ঝাড়ফুঁক
করো তা আমার কাছে পেশ করো। যাতে শিরক নেই এমন
কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করাতে দোষ নেই। (মুসলীম শরীফ,
কিতাবুস সালাম)
তাবীজ বা ঝাড়ফুঁক দ্বারা ভালো হলে সেটাকে তাবীজ
দাতার বা আমলের বুজুর্গি মনে করা যাবে না। যা কিছু হয়
আল্লাহ্’র ইচ্ছা বা দয়ায় হয়, এটা বিশ্বাস রাখতে হবে।
তাবীজ ও ঝাড়ফুঁক কোরআন হাদীছের
বাক্যাবলী দ্বারা বৈধ উদ্দেশ্যে করা হলে তা জায়েয।
এ সম্পর্কে কয়েকটি দলীল নিম্নে পেশ করা হলো:
ﻋﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺷﻌﻴﺐ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺪﻩ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺳﻠﻢ 1 (১)
ﺍﺫﺍ ﻓﺮﻍ ﺍﺣﺪﻛﻢ ﻓﻰ ﻧﻮﻣﻪ ﻓﻠﻴﻘﻞ ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﻜﻠﻤﺎﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺘﺎﻣﺎﺕ ﻣﻦ ﻏﻀﺒﻪ ﻭﺳﻮﺀ ﻋﻘﺎﺑﻪ ﻭ ﻣﻦ
ﺷﺮ ﻋﺒﺎﺩﻩ ﻭ ﻣﻦ ﺷﺮ ﺍﻟﺸﻴﺎﻃﻴﻦ —————–ﻋﻠﻴﻪ ‏( ﺍﺧﺮﺟﻪ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺷﻴﺒﻪ ﻓﻰ ﻣﺼﻨﻒ ﺣﺪﻳﺚ ﺭﻗﻢ
24013 )
এ হাদীছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা:)
কর্তৃক তাঁর বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার কথা উল্লখ
আছে। ( মুসান্নেফে আবি শায়ব হাদীছ নং- ২৪০১৩)।
(২) ﻋﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﺷﻌﻴﺐ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺪﻩ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻌﻠﻤﻬﻢ ﻣﻦ
ﺍﻟﻔﺰﻉ ﻛﻠﻤﺎﺕ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﻜﻠﻤﺎﺕ ﺍﻟﻠﻪ ——————- ﻓﻌﻠﻘﻪ ﻋﻠﻴﻪ – ‏( ﺍﺧﺮﺟﻪ ﺍﺑﻮ ﺩﺍﺅﺩ ﻓﻰ ﺍﻟﻄﺐ )
এ হাদীছেও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা:)
কর্তৃক তাঁর বাচ্চাদের জন্য তাবীজ লিখে দেয়ার
কথা উল্লেখ আছে। ( আবু দাউদ)
(৩)
ﻋﻦ ﺛﻮﻳﺮ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻥ ﻣﺠﺎﻫﺪ ﻳﻜﺘﺐ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﺍﻟﺘﻌﻮﻳﺬ ﻓﻴﻌﻠﻘﻪ ‏( ﺍﺧﺮﺧﻪ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺷﻴﺒﺔ ﺣﺪﻳﺚ ﺭﻗﻢ 24011 ‏)
ﻭ ﺍﺧﺮﺝ ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺟﻌﻔﺮ ﻭ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺷﺮﻳﻦ ﻭ ﻋﺒﻴﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﻣﺎ ﻳﺪﻝ ﻋﻠﻰ
ﺍﻧﻬﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺒﻴﺤﻮﻥ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﺍﻟﺘﻌﻮﻳﺬ ﻭ ﺗﻌﻠﻴﻘﻪ ﺍﻭ ﺭﺑﻄﻪ ﺑﺎﻟﻌﻀﺪ ﻭ ﻧﺤﻮﻩ – ﺍﻧﻈﺮ ﺣﺪﻳﺚ ﺭﻗﻢ
24018-24015-24013-24012- )
এ রেওয়ায়েতে হজরত মুজাহিদ (রহঃ) কর্তৃক মানুষকে তাবীজ
লিখে দেয়ার কথা বর্ণিত আছে এবং আবু জাফর, মুহাম্মদ
ইবনে শিরিন (রহ:) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা:)-এর পুত্র
উবায়দুল্লাহ ও জাহহাক প্রমুখের দ্বারা অন্যদেরকে তাবীজ
লিখে দেয়ার কথা, সূতা বাঁধা, তাবীজ হাতে বা গলায়
বাঁধা ও তাবীজ লেখা বৈধ হওয়া মর্মে তাঁদের মন্তব্য
বর্ণিত হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা হাদীছ নং-
২৪০১১, ২৪০১২, ২৪০১৪, ২৪০১৫, ২৪০১৮)
তাবীজ নিয়ে ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়া:
(৪) ﻗﺎﻝ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺍﺣﻤﺪ ﻗﺮﺃ ﺕ ﻋﻠﻰ ﺍﺑﻰ ﺛﻨﺎ ﻳﻌﻠﻰ ﺑﻦ ﻋﺒﻴﺪ ﺛﻨﺎ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﻣﺤﻤﺪ ——– ﻋﻦ ﺍﺑﻦ
ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﺍﺫﺍ ﻋﺴﺮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻭﻻﺩﺗﻬﺎ ﻓﻠﻴﻜﺘﺐ ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﻠﻴﻢ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﺳﺒﺤﺎﻥ ﺍﻟﻠﻪ
ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺮﺵ ﺍﻟﻌﻈﻴﻢ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻟﻠﻪ ﺭﺏ ﺍﻟﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ﻛﺎﻧﻬﻢ ﻳﻮﻡ ﻳﺮﻭﻧﻬﺎ ﻟﻢ ﻳﻠﺒﺜﻮﺍ ﺍﻻ ﻋﺸﻴﺔ ﺍﻭ ﺿﺤﺎﻫﺎ ﻛﺎﻧﻬﻢ ﻳﻮﻡ
ﻳﺮﻭﻥ ﻣﺎ ﻳﻮﻋﺪﻭﻥ ﻟﻢ ﻳﻠﺒﺜﻮﺍ ﺍﻻ ﺳﺎﻋﺔ ﻣﻦ ﻧﻬﺎﺭ ﺑﻼﻍ ﻓﻬﻞ ﺑﻬﻠﻚ ﺍﻻ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﺍﻟﻔﺴﻘﻮﻥ –
এ রেওয়ায়েতে হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) কর্তৃক
বাচ্চা প্রসবের সময় প্রসূতির প্রসব বেদনা লাঘব করা ও
সহজে প্রসব হওয়ার জন্য বিশেষ তাবীজ শিক্ষা দেয়ার
কথা বর্ণিত হয়েছে। এ রেওয়ায়েতটি সালাফী ও
গায়রে মুকাল্লিদগণের সর্বজনমান্য
ব্যক্তি ইবনে তাইমিয়া তার ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন।
বিঃদ্রঃ ফতোয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া – ১৯ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩।
বর্তমান যুগের গায়রে মুকাল্লেদ ও সালাফীগণ তাবীজ-
কবজকে নিষিদ্ধ, এমনকি
শিরিক বলে আখ্যায়িত করে। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদের
মতামত খণ্ডন করে শেষভাগে জবাব দিবো, ইনশা’আল্লাহ!
নযর ও বাতাস লাগা
নযর ও বাতাস লাগা ইসলাম সম্মত কি-না, তা আমাদের
জানা থাকা দরকার। অর্থাৎ, সু-নযর বা কু-নযর ও জ্বীনের
বাতাস বা আছর সঠিক কি-না?
হাদীছ শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী নযর লাগার বিষয়টি সত্য।
জান-মাল ইত্যাদির প্রতি বদ-নযর লেগে তার ক্ষতি সাধিত
হতে পারে। আপনজনের প্রতিও আপনজনের বদ-নযর
লাগতে পারে, এমনকি সন্তানের প্রতিও মাতা-পিতার বদ-
নযর লাগতে পারে।
হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেন –
ﺍﻟﻌﻴﻦ ﺣﻖ – ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻰ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ – ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ ﻭ ﺍﻟﻤﺮﺽ ﻭ ﺍﻟﺮﻗﻰ )
অর্থাৎ, নযর লাগা সত্য। (মুসলীম শরীফ, কিতাবুস সালাম)
আর বাতাস লাগার অর্থ যদি হয় জ্বিনের বাতাস বা তাদের
খারাপ নযর বা খারাপ আছর লাগা, তাহলে এটাও সত্য;
কেননা জ্বিন মানুষের ওপর আছর করতে সক্ষম।
কোরআনে আল্লাহ্ পাক বলেন, আমি জ্বিন ও মানব
জাতিকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য
সৃষ্টি করেছি (সূরা বাক্বারা)। জ্বিনের মধ্যে মানুষের মতই
মু’মেন ও বে-দ্বীন এবং দুষ্ট জ্বিনও রয়েছে। যেমন রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একই
সাথে ৪০০ জ্বিন ঈমান এনেছিলো।
এখনো মক্কা শরীফে মসজিদে জ্বিন রয়েছে।
যা হজ্বে গিয়ে আমি নিজেও দেখে এসেছি। এছাড়াও
কোরআন শরীফে একটি সূরার নাম রয়েছে ‘সূরায়ে জ্বিন’।
সুতরাং আধুনিকতার দোহাই তুলে জ্বিন জাতির অস্তিত্ব
অস্বীকার করার কোনো অবকাশ মুসলমানের নেই। এটাও
জেনে রাখা দরকার জ্বীন কোনো কোনো জীবের আঁকারও
ধারণ করতে পারে এবং মানুষের ওপর ভর করতে পারে।
কেউ কারও কোনো ভালো কিছু দেখলে যদি ‘মাশা’আল্লাহ’
বলে, তাহলে তার প্রতি তার বদ-নযর লাগে না। আর কারও
ওপর কারও বদ-নযর লেগে গেলে যার নযর লাগার সন্দেহ হয়
তার মুখ, হাত-কনুইসহ, হাঁটু ধুয়ে সে পানি যার ওপর নযর
লেগেছে তার ওপর ঢেলে দিলে খোদা চাহেন
তো ভালো হয়ে যাবে।
হাদীছ শরীফে এরশাদ হয়েছে –
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ﺍﻟﻌﻴﻦ ﺣﻖ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺷﻰﺀُ ﺳﺎﺑﻖ
ﺍﻟﻘﺪ ﺭ ﺳﺒﻘﺘﻪ ﺍﻟﻌﻴﻦ ﻭ ﺍﺫﺍ ﺍﺳﺘﻐﺴﻠﺘﻢ ﻓﺎﻏﺴﻠﻮﺍ – ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻰ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺴﻼﻡ – ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻄﺐ /– ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻓﻰ ﺍﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﻄﺐ- ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﺍﻥ ﺍﻟﻌﻴﻦ ﺣﻖ ﻭﺍﻟﻐﺴﻞ ﻟﻬﺎ ﻭﻗﺎﻝ : ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﺻﺤﻴﺢ- ﻭﺍﻟﻠﻔﻆ
ﻟﻤﺴﻠﻢ)
অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস (রা:) নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নযর
লাগা সত্য। যদি কোনো কিছু ভাগ্য অতিক্রম করতে পারত,
তাহলে নযর তাকে অতিক্রম করত। যখন তোমাদের
কাউকে ধুয়ে দিতে বলা হয়, সে যেন ধুয়ে দেয়। (মুসলীম
শরীফ- কিতাবুস সালাম/ তিরমিজী শরীফ-
আবওয়াবাবে তিব্বী- বাবে মা জা’আ ইন্নাল আইনা হাক্কু
ওয়া গোসলু লাহা ওয়া কালা হাজা হাদীছুন সহহীহুন)।
কোরআন শরীফের আয়াত, আল্লাহ’র নাম ও
দোয়ায়ে মাছুরা (যে সব দোয়া হাদীছে উল্লেখ আছে)
দ্বারা ঝাড়ফুঁক সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। অনেক
হাদীছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও
ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ঝাড়ফুঁক করতেন
বলে প্রমাণ রয়েছে। এসব ঝাড়ফুঁক ছিল কোরআন ও
আসমায়ে হুসনা দ্বারা। এ কারণে এরূপ ঝাড়ফুঁক
সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয।
ﻭﻫﻰ ﺟﺎﺋﺰﻩ ﺑﺎﻟﻘﺮﺍﻥ ﻭﺍﻻﺳﻤﺎﺀ ﺍﻻﻟﻬﻴﺔ ﻭﻣﺎ ﻓﻰ ﻣﻌﻨﺎﻫﺎ ﺑﺎﻻﺗﻔﺎﻕ – ‏(ﺍﻟﻠﻤﻌﺎﺕ )
অর্থাৎ, কোরআন, আল্লাহ’র আসমায়ে হোসনা ও অনুরূপ
অর্থবিশিষ্ট কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক
করা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েয। (লুম’আত)
তবে নিম্নে উল্লেখিত বিষয় দ্বারা ঝাড়ফুঁক জায়েয নয়:
(১) এমন শব্দ বা বাক্যের অর্থ যা বোধগম্য নয়; (২)
আরবী ছাড়া অন্য ভাষায়, তবে অন্য ভাষা হলে কুফুরী বাক্য
না থাকা; (৩) কুফুরী-শিরিকী কালাম দ্বারা; (৪) ঝাড়-
ফুঁকের মধ্যে নিজস্ব ক্ষমতা আছে মনে করা ইত্যাদি।
যে সব হাদীছে ঝাড়ফুঁককে নিষেধ করা হয়েছে বা শিরক
বলা হয়েছে তা উপরোক্ত ধরনের ঝাড়ফুঁক, সব ধরনের ঝাড়ফুঁক
ওই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়। যেমন আবু দাউদ শরীফের
হাদীছ –
ﺍﻥ ﺍﻟﺮﻗﻰ ﻭﺍﻟﺘﻤﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﺘﻮﻟﺔ ﺷﺮﻙ
অর্থাৎ, ঝাড়ফুঁক ও তাবীজ শিরক।
পূর্বের হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে বৈধ পন্থায় বৈধ
বিষয়ে ঝাড়ফুঁক জায়েয। বর্তমান যুগের গায়রে মুকাল্লিদ ও
সালাফীরা তাবীজ-কবজকে নিষিদ্ধ এমনকি শিরক
বলে থাকে। পক্ষান্তরে অন্য সকলের কাছে তাবীজ-কবজ ও
ঝাড়ফুঁকের হুকুম একই রকম।
যে ধরনের কালাম দ্বারা ঝাড়ফুঁক জায়েয নয়,
সেগুলো লিখে তাবীজ-কবজ ব্যবহার করাও জায়েয নয়।
পক্ষান্তরে, যে ধরনের ঝাড়ফুঁক জায়েয, সে ধরনের কালাম
বা তার নকশা (আবজাদ হিসেবে) দ্বারা তাবীজ লিখাও
জায়েয। সব শ্রেণির ওলামাগণ এ ধরনের তাবীজ-
কবজকে জায়েয বলেছেন। এমনকি সালাফীগণ পদে পদে যার
তাকলীদ করেন সেই ইবনে তাইমিয়াও বলেছে –
ﻭﻳﺠﻮﺯ ﺍﻥ ﻳﻜﺘﺐ ﻟﻠﻤﺼﺎﺏ ﻭ ﻏﻴﺮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺮﺿﻰ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺫﻛﺮﻩ ﺑﻠﻤﺮﺍﺩ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﻭﻳﻐﺴﻞ
ﻭﺑﻘﺴﻰ-
‏( ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﻪ ﺝ 19/ ﺻﻔﻪ / 63 )
অর্থাৎ, অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত লোকদের জন্য
কালি দ্বারা আল্লাহ’র কিতাব, আল্লাহ’র জিকির
লিখে দেয়া এবং ধুয়ে পান করানো জায়েয।
গায়রে মুকাল্লীদগণ যে আরেকজনকে ইমাম হিসেবে মান্য
করেন, সেই ইমাম শাওকানীও বলেছেন, সমস্ত ফকহীগণের
নিকট এ ধরনের তাবীজ জায়েয (নাইলুল আওতার)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি আমল
ছিলো –
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺍﻥً ﺍﻟﻨًﺒﻰً ﺻﻠًﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﺍﺫﺍ ﺁﻭﻯ ﺍﻟﻰ ﻓﺮﺍﺷﻪ ﻛﻞ ﻟﻴﻠﺔ ﺟﻤﻊ
ﻛﻔﻴﻪ ﺛﻢً ﻧﻔﺚ ﻓﻴﻬﻤﺎ ﻓﻘﺮﺍ ﺑﻬﻤﺎ ﻗﻞ ﻫﻮ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ ﻭ ﻗﻞ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻔﻠﻖ ﻭ ﻗﻞ ﺍﻋﻮﺫ ﺑﺮﺏ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺛﻢً
ﻣﺴﺢ ﺑﻬﻤﺎ ﻣﺎ ﺍﺳﺘﻄﺎﻉ ﻣﻦ ﺟﺴﺪﻩ ﻳﺒﺪﺍ ﺑﻬﻤﺎ ﻋﻠﻰ ﺭﺃﺳﻪ ﻭ ﻭﺟﻬﻪ ﻭﻣﺎ ﺍﻗﺒﻞ ﻣﻦ ﺟﺴﺪﻩ ﻳﻔﻌﻞ ﺫﺍﻟﻚ ﺛﻼﺙ
ﻣﺮﺍﺕٍ –
অর্থাৎ, হযরত আয়েশা (রা:) বলেন, প্রতি রাতে বিছানায়
শয়ন করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দু’হাতের তালু একত্রিত করে তাতে সূরা ইখলাছ,ফালাক ও
নাস পড়ে ফুঁক দিয়ে মাথা ও মুখমণ্ডল হতে সারা শরীর তিন
বার মসেহ করতেন। (তিরমিজী শরীফ, ২য় খণ্ড, ১৭৭ পৃষ্ঠা)
সালাফী ও গায়রে মুকাল্লীদগণের দলীল ও তার জাওয়াব
সালাফীগণ তাবীজ-কবজ নাজায়েজ
হওয়া সম্পর্কে পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে। এর
মধ্যে একটি পুস্তিকা হল “আক্বীদাহ’র মানদণ্ডে তাবীজ”।
তাদের দলীল প্রথমতঃ
ওই সব আয়াত যার মধ্যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ দূর
করাকে আল্লাহ’র শান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন –
(ক) আল্লাহ্ তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ব্যতীত কেউই
তা দূর করার নেই। আর তিনি যদি তোমার মঙ্গল চান
তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউই নেই। (সূরা-ইউনুস,
আয়াত-১০৭)
(খ) আল্লাহ’রই ওপর তোমরা ভরসা করো যদি তোমরা মু’মিন
হয়ে থাকো। ( সূরা মায়েদা:২৩)
(গ) মু’মিনগণ যেন আল্লাহ’র ওপর-ই ভরসা করে।
(সূরা ইব্রাহীম:১১)
জাওয়াব
তাবীজ গ্রহণ করা উল্লেখিত আয়াতগুলোর
পরিপন্থী হতো যদি তাবীজ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শুধু
তাবীজের ওপরই ভরসা করা হতো। কিন্তু
যদি ভরসা আল্লাহ’র ওপর
থাকে এবং তাবীজকে ওসীলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়
যেমনটি করা হয় ওষুধ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে,
তাহলে আদৌ তা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী হবে না।
নতুবা বলতে হবে বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করাও উক্ত
আয়াতগুলোর পরিপন্থী। এ জাতীয় আয়াত দ্বারা তাবীজ
নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল
দেয়া অনেকটা ছেলেমানুষী এবং ভাষা জ্ঞানে
অপরিপক্কতারই পরিচায়ক।
দ্বিতীয়তঃ
ওই সব আয়াত যা’তে শিরকের নিন্দাবাদ করা হয়েছে।
ক) নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন
না। অন্য গুণাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।
(সূরা নিসা:১১৬)
খ) যে ব্যক্তি আল্লাহ’র সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ
থেকে পড়ে, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায়
কিংবা বায়ু
তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করে।
(সূরা হজ্ব:৩১)
জাওয়াব
তাবীজের ওপর নিজস্ব প্রভাব
বা ক্ষমতা আছে মনে করলে শিরকের প্রশ্ন
দেখা দিতে পারে। এ রকম মনে না করলে শিরকের প্রশ্ন
অবান্তর। আগেই উল্লেখ করেছি যে তাবীজ গ্রহণ
করা জায়েয, তাও শর্ত সাপেক্ষে; এর মধ্যে তাবীজের
নিজস্ব ক্ষমতা আছে বিশ্বাস না রেখে আল্লাহ’র রহমতের
ওপর বিশ্বাস রাখা শর্ত।
তৃতীয়তঃ
ওই সব হাদীছ যা’তে ঝাড়ফুঁক ও তাবীজেকে শিরক
বলা হয়েছে –
ক) যে তাবীজ (পুতি) লটকালো সে শিরক করলো।
খ) অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও যাদু শিরক।
গ) এক হাদীছে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে একদল লোক উপস্থিত
হলো। অতঃপর তিনি নয় জনকে বাই’আত করান, কিন্তু
একজনকে বাই’আত করেন নি। তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ!
একজনকে বাদ রাখলেন কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তার
সাথে একটি তাবীজ রয়েছে। তখন তাঁর হাত
ভিতরে ঢুকালেন এবং তাবীজটি ছিঁড়ে ফেললেন। অতপর
তাকেও বাই’আত করালেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীজ
ব্যবহার করলো সে শিরীক করলো।
জাওয়াব
কিছু উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। এখানে প্রথম হাদীছ
দুটোতে যে তাবীজের কথা বলা হয়েছে, তার
দ্বারা শিরকপূর্ণ তাবীজ উদ্দেশ্য। তার প্রমাণ হল
এখানে উল্লেখিত দ্বিতীয় হাদীছে ঝাড়ফুঁককেও শিরক
বলা হয়েছে, অথচ সব ঝাড়ফুঁক শিরক নয়; স্বয়ং রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এবং ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমও
ঝাড়ফুঁক করতেন, যা পূর্বে সহীহ হাদীছের বরাত
দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, এখানে ঝাড়ফুঁকের
বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হবে তাবীজের ব্যাপারেও একই
ব্যাখ্যা দেয়া হবে। এ ব্যাখ্যা করতে আমরা বাধ্য এ
কারণেও যে, সহীহ ছাহাবা ও তাবেয়ীনসহ পরবর্তী যুগ
পরম্পরায় তাবীজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়,
যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় হাদীছে তাবীজ থাকার কারণে যে ব্যক্তির বাই’আত
না করা এবং তার তাবীজ খুলে ফেলার কথা বলা হয়েছে, এ
দ্বারা কোনোভাবেই সব ধরনের তাবীজ নিষিদ্ধ হওয়ার
দলীল দেয়া যায় না। কারণ সে লোকটি ইসলাম গ্রহণের
জন্যই এসেছিলো। তাই মুসলমান হওয়ার আগে সে যে তাবীজ
লাগিয়েছিলো তা অবশ্যই শিরক-পূর্ণ তাবীজ ছিলো।
যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ
বলেছেন ও শিরক বলেছেন।
আশা করি দীর্ঘ দলীলভিত্তিক
আলোচনা দ্বারা ইসলামে তাবীজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের
বিষয়ে সঠিক ফয়সালা বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না।
অর্থাৎ, বৈধ উদ্দেশ্যে বৈধ কালাম দ্বারা তাবিজ-কবজ ও
ঝাড়ফুঁক জায়েয। কুফুরী বাক্যাবলী দ্বারা তা জায়েয নেই।
ওয়াল্লাহু ওয়া রাসূলাহু আ’লামু।

বাশার শব্দের তাত্ত্বিক বিশ্লষণ

Standard

আমাদের সমাজের অনেকেই নূরে মুজাস্সাম নুরুন আলা নূর
হাবীবুল্লাহ হুজুর পুর নূর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমাদের মত সাধারণ মাটির
তৈরী মানুষ বলে প্রমান করতে কয়েকটি আয়াত কপি-পেষ্ট
করে সব সময়। যেমনঃ-
***
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮ ﻟِﻘَﺎﺀ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻠْﻴَﻌْﻤَﻞْ ﻋَﻤَﻠًﺎ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻭَﻟَﺎ
ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ
110
অর্থঃ বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার
প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ।
অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে,
সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার
এবাদতে কাউকে শরীক না করে।
[সুরা কাহাফ ১০]
***
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﺎﺳْﺘَﻘِﻴﻤُﻮﺍ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﻩُ ﻭَﻭَﻳْﻞٌ ﻟِّﻠْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦ َ
অর্থঃ বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ, আমার
প্রতি ওহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ একমাত্র মাবুদ, অতএব
তাঁর দিকেই সোজা হয়ে থাক এবং তাঁর
কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরিকদের
জন্যে রয়েছে দুর্ভোগ।
[সূরা হা-মীম সেজদাহ ৬]
এখন এই আয়াতে কারিমার জাহেরী ও বাতেনি অর্থের উপর
ভিত্তি করে এর উপর অতি সংক্ষেপে কিছু তাত্ত্বিক
আলোচনা করবো আর এই আয়াতের শব্দগুলোর তাত্ত্বিক
আলোচনা পরবর্তী পোস্টগুলোতে করবো ইন শাহ আল্লাহুল
আজিজ। আর প্রমান করে ছাড়বো বাতিল পন্থীরা যে এই
আয়াতের মর্ম উপলব্ধি করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যার্থ হয়েছে ইন
শাহ আল্লাহ।
পবিত্র কোরআনের আয়াতে কারিমার অর্থগুলো ২ প্রকার।
একটা জাহেরী আর আরেকটা বাতেনী অর্থ প্রকাশ করে।
যারা কোরআনের জাহেরী অর্থ ছেড়ে শুধু বাতেনী অর্থ
তালাশ করে তারা জিন্দিক ফাসেক আর যারা বাতেনী অর্থ
ছেড়ে শুধু জাহেরী অর্থ তালাশ করে তাদের পরিচয়ও কিন্তু
জিন্দিক ফাসেক। কোরআনের একটা আয়াত দিয়ে কখনো কোন
কিছুর সঠিক ফায়সালা করাটা একটু কঠিনই বটে।
কেননা কোরআনের একটি আয়াতের সাথে আরেকটি আয়াতের
অর্থ ও প্রেক্ষাপট গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই
একটি আয়াতকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে হলে এর
সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য আয়াত বা সামনে পিছনের
আয়াতের তাত্ত্বিক বিশ্লেষনিক অর্থের প্রতি খেয়াল
রাখাটা অতীব জরুরি।
বলুন আমিও তোমাদের মত মানুষ এই আয়াত যদিও
জাহেরী অর্থে সম্পূর্ণ সঠিক কিন্তু এই আয়াতের
বাতেনী অর্থের হাকীকত বুঝতে হলে আরো গভীরে প্রবেশ
করতে হবে। প্রথমত এই আয়াতের বাতেনী অর্থ হলো মানুষ
যেহেতু সৃষ্ঠির সেরা জীব তাই মানুষের মর্যাদাকে সুউচ্চ
করার জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তার প্রিয়
হাবিবকে মানব সুরতে মানুষের পরিচয় দিয়েছেন যদিও
হাকিকতে আমার নবীজি সম্পূর্ণ নূরে মুজাস্সাম। দিতীয়ত
কাফেরদেরকে ডেকে বলেছেন তিনি মানুষ এর কারণ
হলো কাফেররা যেন উনাকে আল্লাহর সমকক্ষ না ভাবে আর
শিরকে লিপ্ত না হয়। তৃতীয়ত আল্লাহ বলেছেন
আমি কুরআনকে আরবী ভাষায় (আরবের মানুষের ভাষা আরবী)
নাজিল করেছি যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পারো। তাই
এখানে অর্থের সরল প্রানটাই ফুটে উঠেছে। চতুর্থত ক্কুল
বা বলুন দ্বারা যেহেতু এটা আল্লাহ পাকের কথা তাই এই
কথা দ্বারা রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর পক্ষ
হতে মানুষকে হেদায়াতের পথে আহবানকারী বলা হয়েছে।
উক্ত আয়াতে কারিমায় মিসলুকুম শব্দ ব্যবহার করার
মাধ্যমে মূলত একটি গভীর রহস্য রেখে দিয়েছেন। মিসাল
(উপমা) মূলত একটি দৃষ্টান্ত মূলক শব্দ, অনেক ক্ষেত্রে রূপক
অর্থেই ব্যবহার হয় | মূল কথা হল, যে সব আয়াতে ﻣﺜﻠﻜﻢ (মিসলুকুম)
শব্দটি এসেছে সে সব আয়াত মুতাসাবিহাতের
পর্যায়ে পড়ে যায় যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আর
কেউই জানেন না। যেমনটি বলে গেছেন আগেরকার যুগের
প্রায় সকল আলেমগণঃ-
** আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (মাদারিজুন নবুওত)
কিতাবে প্রথম খন্ডের এজালাতুশ সুবহাত অধ্যায়ে বলেন : ﻗﻞ
ﺍﻧﻤﺎﺍﻧﺎﺑﺸﺮﻣﺜﻠﻜﻢ
ও কোরানে এইরূপ যতগুলি আয়াত এসেছে,
এইগুলি আয়াতে মুতাসাবিহাতের আওতাভুক্ত।
** আল্লামা জালালুদ্দিন “সুঅতি”আল এত্কান কি উলুমুল
কোরান” ২খন্ড ২য ও ৩য পৃষ্টা তে বলেন আল
কোরআনে যে সমস্ত আয়াতেﻣﺜﻠﻜﻢ শব্দটি এসেছে,
এইগুলি আয়াতে মতাসাবিহাতের আওতাভুক্ত।
মতাসাবিহাত এর অর্থ আল্লাহ এবং রাসুল ছাড়া কেও
জানেনা, তাই সর্বসন্মতিক্রমে এই আয়াত
দ্বারা কোনো দলিল হতে পারেনা।
আল্লাহ তায়ালা মতাসাবিহাত আয়াত
সম্পর্কে বলেন :-“যাদের অন্তরে কপটতা রযেছে, তারাই কেবল
মতাসাবিহাত এর দলিল গ্রহণ করেন “আল কোরান ”
** জালালউদ্দিন রুমী মসনবী সরীফে বলেন-
কাফিররাই হজরত আহমদ (দ) কে বশর বলেছিল ,কিন্তু
তারা দেখে না যে, তিনি চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করেছিল,
তারা বলেছিল “আমরা যেমন বশর নবীও আমাদের মত বশর”
যেমন-ঘুমাই, পানাহার করে, তারা অগাত ছিল যে, আমাদের
এবং নবীদের মধ্য বেশুরম পার্তক্য রযেছে।
সুতরাং, যারা কথায় কথায় এই আয়াতকেই দলীল
হিসেবে ব্যবহার করছেন তাদের নিজেদের আসল অবস্থান
কোথায় সেটা তারাই ভেবে দেখবেন।
তবে আমার নিকট ওহী আসে এই কথা দ্বারা সাধারণ মানুষ
হতে রাসুল পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ মনোনীত একজন রাসুল
হিসেবে পৃথক করা হয়েছে। কেননা একজন রাসুল আর একজন
মানুষের মর্যাদা কখনই সমান হতে পারেনা। রাসুল আর
মানুষের মর্যাদা যদি সমান না হয় তাহলে উনি আপনার
আমার মত সাধারণ মানুষ হবেন কেমনে?
সুতরাং এখানে প্রত্যক্ষভাবে একজন রাসুলকে উদ্দেশ্য
করে কাফেরদেরকে আহবান করে তাদের
প্রতি সতর্কবাণী প্রদান করা হয়েছে।
একমাত্র কাফিরদের স্বভাব ছিল নবী-রাসূলদের আলাইহিস
সালাম সাধারণ মানুষ মনে করতে। দলীল
১. হযরত শু’আইব আলাইহিস সালাম দাওয়াত
দিতে গেলে বলা হয়েছিল কাফির-মুশরিকরা বলত
ﻭَﻣَﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺇِﻟَّﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻨَﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻧَّﻈُﻨُّﻚَ ﻟَﻤِﻦَ ﺍﻟْﻜَﺎﺫِﺑِﻴﻦَ
186
অর্থঃ তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা-
তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
[সূরা আশ-শো’আরা ১৮৬]
২. নূহ আলাইহিস সালাম যখন তার কাওমের কাছে দাওয়াত
পৌঁছে দিতে গেল তখন মুশরিকরা বলত
ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍﻟْﻤَﻸُ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍْ ﻣِﻦ ﻗِﻮْﻣِﻪِ ﻣَﺎ ﻧَﺮَﺍﻙَ ﺇِﻻَّ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِّﺜْﻠَﻨَﺎ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﺮَﺍﻙَ ﺍﺗَّﺒَﻌَﻚَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﺃَﺭَﺍﺫِﻟُﻨَﺎ ﺑَﺎﺩِﻱَ
ﺍﻟﺮَّﺃْﻱِ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﺮَﻯ ﻟَﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻓَﻀْﻞٍ ﺑَﻞْ ﻧَﻈُﻨُّﻜُﻢْ ﻛَﺎﺫِﺑِﻴﻦَ
27
অর্থঃ তখন তাঁর কওমের কাফের প্রধানরা বলল
আমরা তো আপনাকে আমাদের মত একজন মানুষ ব্যতীত আর
কিছু মনে করি না; আর আমাদের মধ্যে যারা ইতর ও স্থুল-
বুদ্ধিসম্পন্ন তারা ব্যতীত কাউকে তো আপনার আনুগত্য
করতে দেখি না এবং আমাদের উপর আপনাদের কেন প্রাধান্য
দেখি না, বরং আপনারা সবাই
মিথ্যাবাদী বলে আমারা মনে করি।
[সূরা হুদ ২৭]
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﻟْﻤَﻠَﺄُ ﻣِﻦ ﻗَﻮْﻣِﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑُﻮﺍ ﺑِﻠِﻘَﺎﺀ ﺍﻟْﺂﺧِﺮَﺓِ ﻭَﺃَﺗْﺮَﻓْﻨَﺎﻩُﻡْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻣَﺎ ﻫَﺬَﺍ ﺇِﻟَّﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ
ﻳَﺄْﻛُﻞُ ﻣِﻤَّﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﻥَ ﻣِﻨْﻪُ ﻭَﻳَﺸْﺮَﺏُ ﻣِﻤَّﺎ ﺗَﺸْﺮَﺑُﻮﻥَ
অর্থঃ
তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা যারা কাফের ছিল, পরকালের
সাক্ষাতকে মিথ্যা বলত এবং যাদেরকে আমি পার্থিব
জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছিলাম,
তারা বললঃ এতো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়।
তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর,
সেও তাই পান করে।
[সূরা আল মুমিনূন ৩৩]
পরের আয়াতেই বলা আছে সাধারণ মানুষের আনুগত্য
করলে ধবংস হয়ে যাওয়ার কথা
ﻭَﻟَﺌِﻦْ ﺃَﻃَﻌْﺘُﻢ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﺜْﻠَﻜُﻢْ ﺇِﻧَّﻜُﻢْ ﺇِﺫًﺍ ﻟَّﺨَﺎﺳِﺮُﻭﻥَ
অর্থঃ যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য
কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
[সূরা আল মুমিনূন ৩৪]
ভালমত খেয়াল করুন এখানেও মুশরিকরা নবী-রাসূলদের
আলাইহিস সালাম ﺑَﺸَﺮٌ (বাশার) বলত। আর ১৪০০ বছর পর
এসে আজ এই ফিতনা-ফাসাদের যুগে এসে নবী-রাসূলদের
আলাইহিস সালাম বাশার বলা শুরু হয়েছে। তবুও
আমরা তাদের কাফির বলছি না। আল্লাহ তা’আলা এদের
হিদায়াত দান করুন। আমীন
আয়াতের আরবী শব্দ ﺑَﺸَﺮٌ (বাশার) দ্বারা অনেকেই শুধুমাত্র
মানুষ বুঝাতে চায়। অথচ সূরা মরিয়মের আয়াত – ১৭ তে ﺑَﺸَﺮً
(বাশার) দ্বারা ফেরেস্তাকেও বুঝানো হয়েছে। দেখুন মূল
আরবী রেওয়াত সহ
ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬَﺕْ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻬِﻢْ ﺣِﺠَﺎﺑًﺎ ﻓَﺄَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ
অর্থঃ আমি আমার রুহ (হযরত জিব্রাইল আঃ) কে তাঁর (হযরত
মরিয়ম) প্রতি প্রেরণ করেছি, অতঃপর সে (জিব্রাঈল আঃ)
তাঁর সামনে একজন পূনাঙ্গ সুঠোম \”বাশার\” বা মানুষ এর
আকৃতিতে আত্ম প্রকাশ করেছেন।
ওহাবীরা কি এখন বলবে ফেরেস্তারা (হযরত জীব্রাইল
আলাইহিস সালাম) আমাদের মত মানুষ? কখনও নয়।
সুতরাং, এর দ্বারা বুঝা গেল ﺑَﺸَﺮٌ (বাশার) শব্দ দ্বারা সাধারণ
মানুষ বুঝায় না বরং মনুষ্য আকৃতি বুঝায় অথবা মানুষ কিন্তু
সবার থেকে আলাদা।
বাশার শব্দের অর্থ হলো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট
বহনকারী একটি প্রজাতির নাম | বাশার শব্দের আরো কিছু
অর্থ আছে যেমন দৃষ্যমানরূপ বা প্রকাশিতরূপ, প্রশংশিতরূপ
ইত্যাদি | আর এই আয়াতে করিমে সেই অর্থই ফুটে উঠেছে |
যেমন মানুষের হাত, পা, চোখ, কান, নাক, ত্বক
আছে তেমনি হুজুর পুর নূর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন
মানব সুরতে ও মানব বৈশিষ্ট দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন |
উল্লেখ্য এই বাশার শব্দটি শুধু মাত্রই নবী রাসুলদের
ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে | যত নবী রাসুলকে আল্লাহ পাক
পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকেই বাশার
হিসেবে পাঠিয়েছেন | এখন যারা বলে বাশার
মানে আমাদের মত সাধারণ মাটির মানুষ তাদের কাছে প্রশ্ন
আপনারা কি পৃথিবীর কোন অভিধানে দেখাতে পারবেন
যে বাশার মানে রক্তে মাংসে গড়া একজন সাধারণ মানুষ ?
জানি পারবেন না !
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে কোথাও কিন্তু আল্লাহ পাক
মানুষকে বাশার বলে ডাকেন নি | এই শব্দটি শুধুই নবী রাসুল
আর ফেরেস্তার জন্য বরাদ্দ একটি রূপক ভাববাচক শব্দ ছিল |
আবার নবী রাসুল কাউকেও কিন্তু আল্লাহ পাক রাব্বুল
আলামিন ইনসান বলে ডাকেন নি | এটা শুধুই আমাদের মত
সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ | পবিত্র কুরআন শরীফের
মধ্যে এমন একটা আয়াত দেখাতে পারবেন
না যেখানে আল্লাহ পাক আমাদেরকে ”ইয়া আয়ূহাল
মুসলিমিনা” বলে সম্বোধন করেছেন ! কিন্ত আমাদের পরিচয়
তুলে ধরতে গয়ে বারংবার বরং “ই’য়া আ’য়ুহাল ইনসানা”
বলেছেন অর্থাৎ এই শব্দ দিয়েই মহান আল্লাহ
তা’আলা আমাদেরকে সাধারণ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত
করেছেন | আবার কোরআনের কোথাও কিন্তু “ইয়া আয়ুহাল
বাশারুন” ^ ব্যবহার করেন নি | তাহলে বাশার
মানে কিভাবে সাধারণ মানুষ হয় ? ইয়াকুত যদিও একটি পাথর
কিন্তু রেল লাইনের পাথরের সাথে কি এর তুলনা বা মূল্যায়ন
চলে ?
সুরা কাহাফের এই আয়াত টি ﻗﻞ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺸﻠﻜﻢ ﻳﻮﺣﻲ ﺍﻟﻲ কিন্তু হুজুর
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের বলা কথা নয়
| এই কথাটি স্বয়ং আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেছেন |
হাদিস শরীফ প্রমান হুজুর পুর নূর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরের পবিত্র জবান মোবারক
দিয়ে বহুবার তিনি বলেছেন “আনা খালাকাল্লাহু নূরী” |
তারপর বলেছেন ” আনা রাহমাতুল্লিল আলামিন ” | লক্ষ্য করুন
আল্লাহ হচ্ছেন জগতসমূহের রব (রাব্বুল আলামিন) আর
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন
জগতসমূহের রহমত (ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লাহ
রাহমাতুল্লিল আলামিন) এখানে উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু বহুবচন
ব্যবহার করা হয়েছে | এখন চিন্তা করুন জগতসমূহের রহমত
কি করে সাধারণ মানুষ হবেন ? কেননা মানুষতো এই জগতেরই
একটি সাধারণ প্রাণী মাত্র |
সুতরাং এটা দিবালোকের মত পরিস্কার যে বাশার আর
ইনসানের মধ্যে আকাশ আর পাতাল পার্থক্য | তাই বাশার
অর্থ কখনই সাধারণ মানুষ হতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ রূপক ও
ভাববাচক শব্দ | যা শুধু ক্ষেত্র বিশেষে আল্লাহ পাক রাব্বুল
আলামিন ব্যবহার করে থাকেন |
আল্লাহ তা’আলা আমাদের বিষয়টি বুঝার তৌফিক দান করুন।
আমীন। সুম্মা আমীন।

হাদিসের ইমামগণ কে কোন মাযহাব অনুসরণ করতেন

Standard

প্রসঙ্গ হাদীসের সকল ইমামগণের মাযহাব সমূহ ”
প্রথমে ১টি বলতে চাই সৃষ্টির শুরু থেকে শয়তান লেগেই
রয়েছে যা কেয়ামত পর্যন্ত লেগেই থাকবে এটা আল্লাহ
তাআলার আদেশ কারন শয়তান না থাকলে ভালোর কোন
দাম নেই…আর যে এই শয়তানদের কাছ থেকে আল্লাহ
দরবারে নবী রাসূল আহলে বাইত
সাহাবী তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীন ওলি আওলিয়াদের
ভালবেসে মশগুল রয়েছে তারাই প্রকৃত পক্ষে সঠিক জমাতের
মধ্যে রয়েছে…আর বাকী সব পধভ্রষ্টের
জমাতে রয়েছে।..রাসূল (সা:)ওনার সময় থেকেই মাযহাব/
ইজতিহাদ প্রচলন শরু হয়েছে যা এ হাদীস
দেখে বুঝা যায়…রাসূল সাঃ যখন মুয়াজ বিন জাবাল
রাঃ কে ইয়ামানে পাঠাতে মনস্ত করলেন তখন মুয়াজ
রাঃ কে জিজ্ঞেস করলেন-“যখন তোমার কাছে বিচারের ভার
ন্যস্ত হবে তখন তুমি কিভাবে ফায়সাল করবে?” তখন
তিনি বললেন-“আমি ফায়সালা করব কিতাবুল্লাহ দ্বারা”।
রাসূল সাঃ বললেন-“যদি কিতাবুল্লাহ এ না পাও?”
তিনি বললেন-“তাহলে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত
দ্বারা ফায়সালা করব”। রাসূল সাঃ বললেন-“যদি রাসূলুল্লাহ
এর সুন্নাতে না পাও?” তখন
তিনি বললেন-“তাহলে আমি ইজতিহাদ তথা উদ্ভাবন করার
চেষ্টা করব”। তখন রাসূল সাঃ তাঁর বুকে চাপড়
মেরে বললেন-“যাবতীয় প্রশংসা ঐ আল্লাহর যিনি তাঁর
রাসূলের প্রতিনিধিকে সেই তৌফিক দিয়েছেন
যে ব্যাপারে তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট”। {সূনানে আবু দাউদ, হাদিস
নং-৩৫৯৪, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৩২৭,
সুনানে দারেমী, হাদিস নং-১৬৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস
নং-২০৬১}
এই হাদীসে লক্ষ্য করুন-রাসূল সাঃ এর জীবদ্দশায় হযরত মুয়াজ
রাঃ বলছেন যে, আমি কুরআন সুন্নাহ এ না পেলে নিজ
থেকে ইজতিহাদ করব, আল্লাহর নবী বললেন-“আল
হামদুলিল্লাহ”। আর ইয়ামেনের লোকদের উপর হযরত মুয়াজের
মত তথা মাযহাব অনুসরণ যে আবশ্যক এটাও কিন্তু হাদীস
দ্বারা স্পষ্ট..এছাড়া সাহাবী থেকে শুরু হাদীসের ইমামগন ও
মাযহাব অনুসরণ করেছেন তো নতুন করে কিছু পন্ডিত বের
হয়েছে তাদেরকে পন্ডিত বললে ভুল হবে এরা হল ইসলামের
শত্রু যাদের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমান দিন দিন ফিতনায়
লিপ্ত হচ্ছে আবার ওনারায় টেলিভিশনে বসে লেকচার
দিচ্ছে আর উচ্চ শিক্ষিত মানুষ গুলো কোরান হাদীস
না পরেই ঐ
মূর্খরা যা বলে বেড়াচ্ছে তা জী জী বলে মেনে নিচ্ছে…তারা নাকি আবার
সমাজের সহিহ আলেম ওরফে ইসলামের জালেম..আমাদের
সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আল্লাহ বিবেক বুদ্ধি দিয়েছেন
যা অন্যকোন প্রণীর নেই অতচ আমারা সেই বিবেক
বুদ্ধিকে আরেক জনের উপর ভার দিয়ে দিন দিন পশুতে পরিণত
হয়ে যাচ্ছি আবার বলিষ্ট
কন্ঠে বলে আমি মুসলমান..এটা কোন মুসলমান
যে নাকী পূর্ববর্তী ইমামগণদের সম্মান
করতে জানেনা ওলি আওলিয়াদের শানে মাইক
দিয়ে টেলিভিশনে গিয়ে গলা ফাটিয়ে চেচামেছি করে…আসূন
এদের
থেকে আমরা দুরে সরে থাকি এবয়ং অপরকে সহায়তা করি…লামাযহবীর
া কথায়কথায় বলে উঠে মাযহাব
মানা হারাম…আমি অনেকদিন ধরেই হাদীস নিয়ে একটু একটু
ঘাটাঘাটি করি..খুজতে খুজতে পেয়ে গেলাম হাদীসের
ইমামগন নিজেরাই মাযহাব পালন করেছেন এবং আমার এক
শ্রদ্ধেয় বড় হক ভাই ওনি ও এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য
করলেন…সেখানে দেখলাম সবাই কোন না কোন মাযহাব
অনুসরণ করে ইসলামকে এ পর্যন্ত পৌছে দিয়েছেন..আমি হক
ভাইয়ের নিকট খুব কৃতজ্ঞ…আল্লাহ আমার হায়াত নিয়ে ওনার
মত লোক কে বাচিয়ে রাখুক আমিন….পরিশেষে এ টুকুই
বলতে চাই যারা মাযহাব কে অস্বীকার করেন
তাদেরকে মুনাফেক বললে মনে হয় আমার ভূল হবেনা…কারন
তারা ইসলামের সকল হাদীসের ইমামগণদের শানে ও
কটুক্তি করে ফেলেছেন তাই লা মাযহাবীদের বলব
লজ্জা থাকলে আজ থেকে মাযহাব মানা কোন হাদীস
পড়বেন না..যদি পড়েন তাহলে তওবা করে আগে মাযহাব
মানেন…তারপর ওনাদের হাদীস পড়েন…যতক্ষন না পর্যন্ত
তওবা না করবেন ততক্ষণ পযর্ন্ত কাফের হিসেবে থেকেই
যাবেন……..আল্লাহ যেন সবাই কে সঠিক পথে পরিচালিত
করেন আমিন- …..সকল হাদীসবিদগনের মাযহাব সমূহ…
ইমাম বুখারী রহঃ সহ অন্যান্য হাদিসের ইমামগণ মাজহাব
অনুসরণ করতেন।
তাঁরা সবাই তো কোন না কোন ইমামের তাক্বলীদ করতেন।
মাজহাব যদি শির্ক বিদ’আত হয় তাহলে ছিহাহ ছিত্তা সহ
অন্যান্য হাদিসের ইমামগণ কি মুশরিক, বিদ’আতী ছিলেন?
নাউজু বিল্লাহি মিন যালিক। ওয়ামিন ওয়াস-
ওয়াসি গাইরিল মুকাল্লিদ।
এ পর্যায়ে রেফারেন্স সহ হাদিসের ইমামগণের মাজহাব
তুলে ধরা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হল লামাজহাবীদের প্রথম
কাতারের নেতা নবাব ছিদ্দীক হাসান খান
সবিস্তারে হাদিসের ইমামগণের মাজহাব তার লিখিত
বইয়ে বর্ণনা করেছেন।
✿১। ইমাম বুখারী রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ নবাব ছিদ্দিক হাসান খান লিখিত আবজাদুল উলুম
পৃষ্ঠা নং ৮১০, আলহিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৮৩।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ পৃষ্ঠা নং ৬৭।
আল্লামা তাজ উদ্দীন সুবকী রহঃ লিখিত ত্ববকাতুশ
শাফেয়ী পৃষ্ঠা নং ২/২।
✿২। ইমাম মুসলিম রহঃ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ ছিদ্দিক হাঃ খান লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।
✿৩। ইমাম তিরমিজী নিজে মুজ্তাহিদ ছিলেন।
তবে হানাফী ও হাম্বলী মাজহাবের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
সুত্রঃ শা ওয়ালিউল্লাহ রহঃ লিখিত আল-ইনসাফ
পৃষ্ঠা নং ৭৯।
✿৪। ইমাম নাসাঈ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন।
সুত্রঃ নঃ ছিঃ হাঃ লিখিত আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২৯৩।
✿৫। ইমাম আবুদাউদ রহঃ শাফেয়ী।
সুত্রঃ আল-হিত্তা পৃষ্ঠা নং ২২৮।
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী রহঃ ইবনে তাইমিয়ার
উদ্দৃতি দিয়ে ফয়জুল বারী ১/৫৮ তে ইমাম আবুদাউদ
রহঃকে হাম্বলী বলে উল্যেখ করেছেন।
✿৬। ইমাম ইবনে মাজাহ শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী।
সুত্রঃ ফয়জুলবারী ১/৫৮।
এ গেল ছিহাহ ছিত্তার ইমামগণের মাজহাব।
অন্যান্য ইমামগণের মাজহাব নবাব ছিদ্দীক হাসান খান
সাহেবের আল-হিত্তা থেকে।
╚►৭। মিশকাত শরিফ প্রণেতা সাফেয়ী, পৃঃ১৩৫
╚►৮। ইমাম খাত্তাবী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫
╚►৯। ইমাম নববী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৫
╚►১০। ইমাম বাগভী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ১৩৮
╚►১১। ইমাম ত্বহাবী হাম্বলী, পৃঃ১৩৫
╚►১২। বড় পীর আঃ কাদের জিলানী রহঃ হাম্বলী, পৃঃ ৩০০
╚►১৩। ইমাম ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী, পৃঃ ১৬৮
╚►১৪। ইবনে কায়্যিম রহঃ হাম্বলী, পৃঃ১৬৮
╚►১৫। ইমাম আঃ বার রহঃ মালেকী, পৃঃ১৩৫
╚►১৬। ইমাম আঃ হক রহঃ হানাফী, পৃঃ১৬০
╚►১৭। শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহঃ হানাফী, পৃঃ ১৬০-১৬৩
╚►১৮। ইমাম ইবনে বাত্তাল মালেকী, পৃঃ২১৩
╚►১৯। ইমাম হালাবী রহঃ হানাফী পৃঃ২১৩
╚►২০। ইমাম শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ
ইবনে আব্দুদদায়েম রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ২১৫
╚►২১। ইমাম বদরুদ্দীন আঈনী রহঃ হানাফী, পৃঃ২১৬
╚►২২। ইমাম যারকানী রহঃ শাফেয়ী, পৃঃ ২১৭
╚►২৩। ইমাম ক্বাজী মুহিব্বুদ্দীন হাম্বলী, পৃঃ ২১৮
╚►২৪। ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী, পৃঃ২১৯
╚►২৫। ইমাম বুলকিনী শাফেয়ী, পৃঃ ২১৯
╚►২৬। ইমাম মার্যুকী মালেকী পৃঃ ২২০
╚►২৭। ইমাম জালালুদ্দীন বকরী শাফেয়ী, পৃঃ২২০
╚►২৮। ইমাম কুস্তলানী শাফেয়ী, পৃঃ২২২
╚►২৯। ইমাম ইবনে আরাবী মালেকী, পৃঃ ২২৪
এমন কি তাদের মডেল আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদীকে ও
হাম্বলী বলে উল্লেখ করেছেন তার আল্-হিত্তাতু ফিস
সিহাহিস সিত্তাহ’র ১৬৭ পৃষ্ঠায়-