rasula pak sallahoalihiwasallam

Image

image

Advertisements

ঈদে মিলাদুন্নবী(দঃ) একটি পর্যালোচনা

Standard

image

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার
শুভাগমনের দিন কেবল মুসলমান নয় সৃষ্টিজগতের সকলের
জন্য আনন্দের ও রহমতের। আল্লাহ তা‘আলা কুরআন
মাজীদে ইরশাদ করেন- আমি আপনাকে জগতসমূহের রহমত
করে প্রেরণ করেছি। তাই সৃষ্টির সূচনা কাল
থেকে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসল্লামা উদযাপিত হয়ে আসছে। যেহেতু
ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হলো মুসলিম জাতির আনন্দের দিন, সেহেতু
সারা বিশ্বের মুসলিমগণ অত্যন্ত ভক্তি ও মর্যাদার
সাথে রবিউল আউয়াল
মাসে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করে থাকেন। কিন্তু এক দল
লোক এটিকে অবৈধ ও বিদয়াতে সাইয়্যিআহ (মন্দ বিদআত)
বলে প্রচার করছে। অথচ এটি একটি শরিয়ত সম্মত পুণ্যময়
আমল, যা কুরআন, সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। অত্র
প্রবন্ধে আমরা এটি শরিয়ত সম্মত হবার বিষয়ে পবিত্র
কুরআন ও হাদিসের দলীল, সাহাবায়ে কিরামের স্বীকৃতি,
সালফে সালেহীন, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফিকাহবিদগণের
দৃষ্টিভঙ্গি তোলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি ।
১. ঈদে মিলাদুন্নবী পরিচিতি
ক.শাব্দিক পরিচয়
‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ শব্দটি যৌগিক শব্দ। যা তিনটি শব্দের
সমন্বয়ে গঠিত। এক, ঈদ দুই, মিলাদ তিন, নবী। প্রথমত: ঈদ
শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ উৎসব, আনন্দ, খুশি।
বিশ্ববিখ্যাত অভিধান প্রণেতা ইবনু মনযুর বলেন- ﺍﻟﻌﻴﺪ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ
ﻓﻴﻪ ﺟﻤﻊ অর্থাৎ ‘সমবেত হবার প্রত্যেকদিনকে ঈদ’ বলা হয়।
মুফতি আমীমূল ইহসান আলাইহির রাহমাহ বলেন- ﺍﻟﻌﻴﺪ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ
ﻓﻴﻪ ﺟﻤﻊ ﺍﻭ ﺗﺬﻛﺎﺭ ﻟﺬﻱ ﻓﻀﻞ অর্থাৎ কোন মর্যদাবান
ব্যক্তিকে স্মরণের দিন বা সমবেত হবার দিনকে ঈদের দিন
বলা হয়।
দ্বিতীয়ত: মিলাদ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ:
জন্মকাল, জন্মদিন। এ অর্থে মাওলিদ ( ﻣﻮﻟﺪ ) শব্দের ব্যবহার
আরবি ভাষায় অত্যোধিক।
তৃতীয়ত: নবী, এখানে নবী বলতে হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে।
কারণ মুসলিম জাতি ও পুরো সৃষ্টিজগত তাঁর আগমণের
শোকরিয়া আদায় করে।
সুতরাং ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ অর্থ নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র শুভাগমনের আনন্দ উৎসব।
খ.‘মিলাদুন্নবী’ শব্দের প্রচলন
‘মিলাদুন্নবী’ শব্দের মধ্যে ‘মিলাদ’ শব্দটি কারো জন্ম
বা জন্মকাল বুঝানোর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। এ
অর্থে শব্দটির ব্যবহার রয়েছে হাদিস শরিফে, অভিধান
গ্রন্থে, ইতিহাস গ্রন্থে, এমনকি অনেক কিতাবের নামেও।
এটি নতুন কোন শব্দ নয়। এর কয়েকটি ব্যবহার
নিম্নে উল্লেখ করা হল।
১.অভিধান গ্রন্থ
আল্লামা ইবনু মনযুর তার সুপ্রসিদ্ধ আরবি অভিধান
‘লিসানুল আরব’- এ লিখেছেন- ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻟﺮﺟﻞ : ﺍﺳﻢ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﺍﻟﺬﻱ ﻭﻟﺪ ﻓﻴﻪ
অর্থাৎ- ‘লোকটির মিলাদ- যে সময়ে সে জন্ম গ্রহণ
করেছে সে সময়ের নাম।
২.হাদিস গ্রন্থ
ইমাম তিরমিযী আলাইহির রাহমাহ তাঁর ‘আল জামেউস
সহীহ’ গ্রন্থের একটি শিরোনাম হল- ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻟﻨﺒﻲ
অর্থাৎ- ‘নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র
জন্ম সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়ের অধ্যায়।’
হযরত উসমান বিন আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বনী ইয়ামর বিন লাইসের ভাই কুরাছ বিন
উশাইমকে জিজ্ঞেস করলেন-
ﺃﺍﻧﺖ ﺃﻛﺒﺮ ﺃﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ : ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﻣﻨﻲ ﻭﺃﻧﺎ ﺍﻗﺪﻡ ﻣﻨﻪ ﻓﻲ
ﺍﻟﻤﻴﻼﺩ
অর্থাৎ- ‘আপনি বড় নাকি রাসুলল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেয়ে বড়। আর
আমি জন্মের মধ্যে তার চেয়ে অগ্রজ।’
৩. ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায়
হিজরতের সময় ‘সাওর’ গুহায় আশ্রয় নেন। এদিকে মক্কার
কুরাইশরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে ‘সাওর’
গুহা মুখে পৌছলে তাদের একজন বলল-
ﺃﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻌﻨﻜﺒﻮﺕ ﻗﺒﻞ ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺎﻧﺼﺮﻓﻮﺍ
অর্থাৎ- ‘হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের পূর্ব থেকে এ
গুহামুখে মাকড়শার জাল রয়েছে। অতঃপর
তারা চলে গেল।’
ইবনু আউন (রহ.) বলেন-
ﻗﺘﻞ ﻋﻤﺎﺭ ﻭﻫﻮ ﺇﺑﻦ ﺍﺣﺪﻯ ﻭﺗﺴﻌﻴﻦ ﺳﻨﺔ ﻭﻛﺎﻥ ﺍﻗﺪﻡ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻴﻼﺩ ﻣﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ
অর্থ- ‘হযরত আম্মার বিন ইয়াসির রাদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু ৯১ বছর বয়সে শহীদ হন। তিনি জন্মের
ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের অগ্রজ ছিলেন।’
হযরত ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
ﻭﻛﺎﻥ ﺑﻴﻦ ﻣﻴﻼﺩ ﻋﻴﺴﻰ ﻭﺍﻟﻨﺒﻲ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﺧﻤﺲ ﻣﺎﺋﺔ ﺳﻨﺔ ﻭﺗﺴﻊ ﻭﺳﺘﻮﻥ ﺳﻨﺔ
অর্থাৎ- ‘আর নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হযরত ঈসা আলাইহিস
সালামের জন্মের মাঝখানে ৫৬৯ বছর ব্যবধান ছিল।’
আল্লামা ইবনু হাজর আসক্বালানী আলাইহির রাহমাহ
বলেন- ﻓﺎﻧﻪ ﻭﻟﺪ ﺑﻌﺪ ﻣﻴﻼﺩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻤﺪﺓ অর্থাৎ-
‘তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র
জন্মের কিছুকাল পরে জন্ম গ্রহণ করেছেন।
উপরিউক্ত উদ্ধৃতি থেকে বুঝা গেল রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জন্ম বুঝানোর জন্য
‘মিলাদুনবী’ শব্দটির ব্যবহার সাহাবায়ে কিরামের যুগ
থেকে অদ্যাবধি রয়েছে; এ যুগের নবসৃষ্ট কোন শব্দ নয়। কেউ
কেউ বলার চেষ্টা করে যে ‘মিলাদুন্নবী’
একটি ইদানিং সময়ের শব্দ, যা আদৌ সঠিক নয়। আবার
কেউ কেউ ‘মিলাদ’ শব্দের অর্থ ‘জন্ম’ না নিয়ে অন্য অর্থ
নেয়ার চেষ্টা করে, যা কোন অভিধান প্রণেতা উল্লেখ
করেননি।
গ. ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র পরিচয়
‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলতে বুঝায়-এ ধরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আগমনে আনন্দিত হওয়া এবং এ
অদ্বিতীয় নিয়ামত পাবার কারণে সৎকাজ ও ইবাদত
বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা।
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন
ক. কুরআন মাজীদের আলোকে
১.নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের নির্দেশ
মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে তাঁর
দেয়া নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করার নির্দেশ
দিয়েছেন। যেমন তিনি ইরশাদ করেছেন-
ﻓﺎﺫﻛﺮﻭﻧﻲ ﺍﺫﻛﺮﻛﻢ ﻭﺍﺷﻜﺮﻭﺍ ﻟﻲ ﻭﻻﺗﻜﻔﺮﻭﻥ অর্থাৎ
-‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর,
আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার
প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
তাই আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন
করা প্রত্যেক মানুষের ওপর কর্তব্য। শোকরিয়া জ্ঞাপনের
বিভিন্ন ধরণ রয়েছে, যা মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র
কুরআনে ইরশাদ করেছেন।
নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের পদ্ধতি
নিয়ামতের স্মরণ
নিয়ামতের স্মরণ করাও শোকরিয়া জ্ঞাপনের
একটি মাধ্যম। নিয়ামতের স্মরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর
নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপন করা যায়। তাই মহান
রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন- ﻳﺎ ﺑﻨﻲ ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﺍﺫﻛﺮﻭﺍ ﻧﻌﻤﺘﻲ ﺍﻟﺘﻲ
ﺍﻧﻌﻤﺖ ﻋﻠﻴﻜﻢ ‘হে বণী ঈসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহকে স্মরণ কর
যদ্দারা আমি তোমাদেরকে অনুগৃহীত করেছিলাম’।
তিনি অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- ﻭﺍﺫﻛﺮﻭﺍ ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ অর্থাৎ-
তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর।’
নিয়ামতের বর্ণনা দেয়া
নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের আরেকটি মাধ্যম হল
নিয়ামতের বর্ণনা দেয়া, অপরকে জানানো ইত্যাদি।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ﻭﺃﻣﺎ ﺑﻨﻌﻤﺔ ﺭﺑﻚ ﻓﺤﺪﺙ অর্থাৎ
-‘তুমি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের
কথা জানিয়ে দাও।’
অত্র আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন মানুষদেরকে নির্দেশ
দিয়েছেন যেন তারা তাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের
কথা বর্ণনা করে।
নিয়ামত চেনা
নিয়ামতকে নিয়ামত হিসেবে চেনাও
শোকরিয়া জ্ঞাপনের একটি মাধ্যম। প্রত্যেক নিয়ামত হল
আল্লাহ প্রদত্ত। আর এ নিয়ামতের মর্যাদাও
চিনতে হবে এবং তদনুযায়ী শোকরিয়া জ্ঞাপন করতে হবে।
ইবাদত বন্দেগী
আল্লাহর নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যম হল ইবাদত-বন্দেগী। নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত
ছাড়াও অন্যান্য নফল ইবাদত যেমন দান-খয়রাত, এতিম-
গরীবদের খাওয়ানো ইত্যাদিও শোকরিয়া জ্ঞাপনের
উত্তম মাধ্যম। ফরজ ইবাদত পালনের
মাধ্যমে দায়মুক্তি পাওয়া যায়; কিন্তু অধিকতর কৃতজ্ঞ
হবার জন্য নফল ইবাদতের বিকল্প নেই।
ঈদ উদযাপন করা
আল্লাহর নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন
হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমেও নিয়ামতের
শোকরিয়া করা যায়। যেমন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম
বলেছিলেন-
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺃَﻧْﺰِﻝْ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﻣَﺎﺋِﺪَﺓً ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺗَﻜُﻮْﻥُ ﻟَﻨَﺎ ﻋِﻴْﺪًﺍ ﻟَّﺎَﻭَّﻟِﻨَﺎ ﻭَﺍَﺧِﺮِﻧَﺎ ﻭَﺍَﻳَﺔً ﻣِّﻨْﻚَ
অর্থ- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান
হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা প্রেরণ করুন; এটি আমাদের ও
আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য হবে ঈদ স্বরূপ
এবং আপনার নিকটি হতে নিদর্শন।’
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তায়ালার নিকট
ফরিয়াদ করেছিলেন যেন তিনি তাদের জন্য আসমান
হতে খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা অবতীর্ণ করেন। হযরত
ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন যে, খাদ্যপূর্ণ
খাঞ্চা অবতীর্ণ হলে তারা সে দিনকে ঈদের দিন
হিসেবে গ্রহণ করবেন। মহান রাব্বুল আলামীন তাদের ওপর
সেই নিয়ামত রবিবারে অবতীর্ণ করেছিলেন বিধায়
তারা আজও রবিবারকে ঈদের দিন
হিসেবে মেনে থাকে এবং এদিনকে তারা ছুটির দিন
হিসেবে পালন করে। কুরআন মাজীদের এ আয়াত
থেকে বুঝা যায় যে, নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন
হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার
স্বীকৃতি রয়েছে; কারণ তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস
সালামের ঈদ উদযাপনের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর
উক্তি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন এবং কোন প্রকার
নিষেধ করেননি। এটি অবৈধ হলে তিনি অবশ্যই তা পবিত্র
কুরআনে উল্লেখ করতেন।
খৃষ্টানদের ওপর খাদ্যপূর্ণ খাঞ্চা রবিবারে অবতীর্ণ হবার
কারণে সেদিনকে যদি ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন
করা যায়, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আগমণের দিনকে কেন ঈদের দিন
হিসেবে মানা যাবে না? অথচ তিনিই হলেন সবচেয়ে বড়
নিয়ামত সুতরাং ছোট নিয়ামতের শোকরিয়া স্বরূপ সেই
নিয়ামত পাবার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে উদযাপন
করা বৈধ হলে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় নিয়ামত পাবার
দিনকে ঈদের দিন হিসেবে মানা ও উদযাপন করা বৈধ।
খুশি উদযাপন করা
আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতের শোকরিয়া জ্ঞাপনের
একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হল নিয়ামতের ওপর
খুশি উদযাপন করা। তাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র
কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
ﻗﻞ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﻟﻚ ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮ ﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ
অর্থ- ‘(হে রাসুল) আপনি বলুন, (সবকিছু) আল্লাহর দয়া ও
মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তারা (মুসলমান) যেন
খুশি উদযাপন করে। তারা যা সঞ্চয় করছে তা থেকে এটিই
শ্রেষ্ঠতর।’
এ আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন খুশি উদযাপনের
দুটি উপকরণ সাব্যস্ত করেছেন। একটি হল ( ﻓﻀﻞ ) আর
অপরটি হল ( ﺭﺣﻤﺔ)। এতদুভয়ের মর্ম কী- এর ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত
তাফসির বিশারদ আল্লামা মাহমূদ আলুসী , ইমাম জালাল
উদ্দিন সুয়ূতী, ইমাম আবু হাইয়ান আনদালূসী আলাইহিমুর
রাহমান স্ব-স্ব তাফসীর গ্রন্থে তাফসিরকারকদের
শিরোমণি হযরত ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, এখানে ( ﻓﻀﻞ )
দ্বারা জ্ঞান এবং ( ﺭﺣﻤﺔ) দ্বারা হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝানো উদ্দেশ্য।
আল্লামা ইবনু জাওযী (রহ.)বলেন-
ﺍﻥ ﻓﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﻭﺭﺣﻤﺘﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ অর্থাৎ- ‘নিশ্চয়
আল্লাহর ‘ফদ্বল’ হল জ্ঞান আর ‘রহমত’ হল হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যা ইমাম দাহ্হাক
রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন।
আল্লামা তাবরিযী উল্লিখিত আয়াতের অর্থ
করতে গিয়ে বলেন-
ﻓﺎﻓﺮﺣﻮﺍ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﻭﺭﺣﻤﺘﻪ ﻟﻜﻢ ﺑﺈﻧﺰﺍﻝ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺇﺭﺳﺎﻝ ﻣﺤﻤﺪ ﺇﻟﻴﻜﻢ ﻓﺎﻧﻜﻢ ﺗﺤﺼﻠﻮﻥ ﺑﻬﻤﺎ
ﻧﻌﻴﻤﺎ ﺩﺍﺋﻤﺎ ﻣﻘﻴﻤﺎ ﻫﻮ ﺧﻴﺮ ﻟﻜﻢ ﻣﻦ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺍﻟﻔﺎﻧﻴﺔ
অর্থাৎ-‘তোমাদের প্রতি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করে এবং কুরআন অবতীর্ণ
করে আল্লাহ তায়ালা তোমদের ওপর যে দয়া ও
করুণা করেছেন, তাতে তোমরা খুশি উদযাপন কর।
কেননা উভয়ের (ফদল ও রহমত) মাধ্যমে নিশ্চয়
তোমরা চিরস্থায়ী নিয়ামত অর্জন করবে, যা এ নশ্বর
পৃথিবী থেকে তোমাদের জন্য অধিকতর শ্রেয়।’
ইমাম বাক্বির রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রখ্যাত
মুফাসসির হযরত ক্বাতাদাহ্, হযরত মুজাহিদ
রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা প্রমুখ থেকে বর্ণনা করেন যে ( ﻓﻀﻞ
ﺍﻟﻠﻪ ) দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে।
উল্লিখিত আয়াতে ‘রহমত’ দ্বারা রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
কথা বুঝানো হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ
আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ
করেছেন-
ﺭﺣﻤﺔ ﻟﻠﻌﺎﻟﻤﻴﻦ ﻭﻣﺎ ﺃﺭﺳﻠﻨﺎﻙ ﺇﻻ ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত
স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’
প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা মাহমূদ আলূসী আলাইহির
রাহমাহ প্রমুখের মতে ‘রহমত’ হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি নাম।
এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হলেন বিশ্ববাসীর জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
এতে কারো দ্বিমত নেই। তাই আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ
করেছেন-
ﻭﻟﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺇﺫ ﺑﻌﺚ ﻓﻴﻬﻢ ﺭﺳﻮﻻ ﻣﻦ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ
অর্থাৎ- ‘আল্লাহ মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে,
তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকটি রাসূল
প্রেরণ করেছেন।’
সুতরাং বুঝা গেল যে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য বড় অনুগ্রহ ও
নিয়ামত। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা এ বড় অনুগ্রহ
তথা রাসূলুল্লাহকে পাবার ওপর খুশি উদযাপনের নির্দেশ
দিয়েছেন। আর রাসূলুল্লাহকে পাবার দিন হল
‘মিলাদুন্নবী’ এবং ‘মিলাদুন্নবী’ কে কেন্দ্র
করে খুশি উদযাপন করাই হল ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ যা পালন
করার নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন। দেওবন্দীদের গুরু
মাওলভী আশরাফ আলী থানভী সাহেব বলেন যে,
“উল্লিখিত আয়াতে ‘রহমত’ ও ‘ফদ্বল’ দ্বারা রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামাকে বুঝানো হয়েছে,
যার জন্মের ওপর আল্লাহ তায়ালা খুশি উদযাপনের
নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ তিনি সকল নিয়ামতের মূল।
তাই তাঁর আগমনে যতই খুশি উদযাপন করা হোক না কেন
তা কমই হবে।”
এ ছাড়াও উপরিউক্ত আয়াতের ‘রহমত’ শব্দ
দ্বারা রাসূলুল্লাহকে খাস বা নির্দিষ্ট
অর্থে বুঝানো না হলেও ‘আম’ বা ব্যাপক অর্থেও
তাঁকে বুঝাতে কারো দ্বিমত থাকতে পারে না; কারণ
তিনি সৃষ্টি জগতের প্রতি আল্লাহর বড় রহমত। আল্লাহর
অন্যান্য নিয়ামতের মত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামা যেহেতু একটি নিয়মত, সেহেতু
তার আগমনের ওপর খুশি উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশ
পালন মাত্র। আর রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষে খুশি উদযাপন
করার নামই হল ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’।
অতএব কুরআনের আয়াত থেকে প্রমাণিত হল যে রাসূলের
জন্ম উপলক্ষে খুশি উদযাপন করা আল্লাহর নির্দেশের
অন্তর্ভুক্ত। খুশি উদযাপনের ক্ষেত্রে সকল বৈধ পন্থা গ্রহণ
করা শরিয়ত সম্মত। তাই মুসলিমগণ একত্রিত হয়ে মানুষের
প্রতি আল্লাহর বড় কৃপার কথা তথা রাসূলের আগমনের
কথা স্মরণ করে, রাসুলের জীবন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করে,
ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে খানা-পিনা খাওয়ায়
এবং দান-সদকা ইত্যাদি করার ব্যবস্থা করে। মোট
কথা খুশি উদযাপনের বহিঃপ্রকাশ শরিয়ত সম্মত পন্থায়
হলে কোন অসুবিধা নেই।
২. মহান আল্লাহ কর্তৃক মিলাদুন্নবী উদযাপন
পূর্বেই বলা হয়েছে যে মিলাদুন্নবী উদযাপন বলতে নবীর
জন্মকে স্মরণ করা এবং তাঁর জীবন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করা।
মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে পঁচিশজন
নবী রাসূলের মধ্যে হযরত আদম, হযরত মূসা, হযরত ইয়াহ্ইয়া,
হযরত ঈসা ও হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম-বৃত্তান্ত বর্ণনা করেছেন।
যেমন হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিমুস্ সালাম
সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন- ﻭﺳﻼﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﻳﻮﻡ ﻭﻟﺪ
অর্থাৎ তার প্রতি শান্তি যেদিন তিনি (ইয়াহ্ইয়া আ.)
জন্মলাভ করেন।’
এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস
সালামের জন্মকালের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এটার
নাম ‘মিলাদুন্নবী’ বা নবীর জন্মকাল। তিনি পবিত্র
কুরআনে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস
ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ইরশাদ করেন-
ﻟﻘﺪ ﺟﺎﺀﻛﻢ ﺭﺳﻮﻝ ﻣﻦ ﺃﻧﻔﺴﻜﻢ ﻋﺰﻳﺰ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﺎ ﻋﻨﺘﻢ ﺣﺮﻳﺺ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺎﻟﻤﺆﻣﻨﻴﻦ ﺭﺅﻑ ﺭﺣﻴﻢ
অর্থাৎ ‘অবশ্যই তোমাদের (আরবগণ) মধ্য থেকেই (বংশ
থেকে) তোমাদের নিকট এসেছেন এক মহান রাসূল,
তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক,
তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল,
পরম দয়ালু।’
এ আয়াতে মহান আল্লাহ আরবদেরকে স্মরণ করে দিলেন
যে তাদের নিকট তাদের বংশ থেকেই এক মহান রাসূল
এসেছেন। এখানে আসার অর্থ হল জন্মগ্রহণ করা। এ
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্ম তথা ‘মিলাদুন্নবীর
কথা উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি অসংখ্য
আয়াতে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামরে আগমনের কথা উল্লেখ করেছেন।
এভাবে তিনি তাঁর প্রেরিত নবী-রাসূলের জন্ম বৃত্তান্ত
বর্ণনা করেছেন তথা ‘মিলাদুন্নবী’ উদযাপন করেছেন। তাই
মুমিনগণ তাদের প্রতি প্রেরণের কথা স্মরণ করেন।
খ.হাদিছ শরিফের আলোকে
ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
উদযাপন করা হাদিছ শরিফ দ্বারাও প্রমাণিত হয়।
রাসূলুল্লাহ নিজেও শোকরিয়া স্বরূপ এ
ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করেছেন, ছাগল জবাই
করে এবং রোযা রেখে। এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদিছ
নিম্নে উল্লেখ করা হল।
১.প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস
রাদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু বলেন-
ﻗﺪﻡ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﺮﺃﻯ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﺗﺼﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭﺍﺀ ﻓﻘﺎﻝ : ﻣﺎ ﻫﺬﺍ؟ ﻗﺎﻟﻮﺍ : ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﺻﺎﻟﺢ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ
ﻧﺠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻨﻲ ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻣﻦ ﻋﺪﻭﻫﻢ ﻓﺼﻴﺎﻣﻪ ﻣﻮﺳﻰ ﻗﺎﻝ ﻓﺄﻧﺎ ﺃﺣﻖ ﺑﻤﻮﺳﻰ ﻣﻨﻜﻢ ﻓﺼﻴﺎﻣﻪ ﻭﺃﻣﺮ
ﺑﺼﻴﺎﻣﻪ
অর্থাৎ ‘নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মদিনা শরিফ আগমন করলেন
এবং সেখানে ইয়াহুদিদেরকে আশুরার
দিনে রোযা রাখতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন- এটা কিসের
রোযা? তারা বলল, এটা উত্তম দিন, আর এ দিনেই আল্লাহ
বনি ইসরাঈলকে তাদের শত্র“দের থেকে মুক্তি দিয়েছেন।
তাই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এ
দিনে রোযা রেখেছিলেন। রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন,
তোমাদের চেয়ে মূসা আলাইহিস সালামের আমিই
অধিকতর হক্বদার। অতঃপর তিনি স্বয়ং রোযা রাখলেন
এবং তার উম্মতদের এ রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।’
২.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু অন্য হাদিছে বর্ণনা করেন-
ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﺍﻟﺬﻱ ﺃﻇﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ ﻣﻮﺳﻰ ﻭﺑﻨﻲ ﺍﺳﺮﺍﺋﻴﻞ ﻋﻠﻰ ﻓﺮﻋﻮﻥ ﻭﻧﺤﻦ ﻧﺼﻮﻣﻪ ﺗﻌﻈﻴﻤﺎ ﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﻧﺤﻦ ﺍﻭﻟﻰ ﺑﻤﻮﺳﻰ ﻣﻨﻜﻢ ﺛﻢ ﺍﻣﺮ ﺑﺼﻮﻣﻪ
অর্থাৎ এ দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত মূসা আলাইহিস
সালাম এবং বনি ইসরাঈলদেরকে ফিরআউনের ওপর বিজয়
দান করেছেন। আমরা এ দিনের
সম্মানার্থে রোযা রাখছি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেন-“আমরা তোমাদের চেয়ে মূসা আলাইহিস সালাম’র
অধিকতর হক্বদার।” তারপর তিনি (মুমিনদেরকে)এ
রোযা রাখার নির্দেশ দেন।’
উপরিউক্ত হাদিছ দু’টি থেকে যা বুঝা যায় –
এক. ১০ মুহররম তারিখে আল্লাহ তায়ালা হযরত
মূসা আলাইহিস সালাম এবং বনি ইসরাঈলকে ফিরয়াউন
থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ কারণে আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম
রোযা রেখেছেন। সুতরাং আমরা সবচেয়ে বড় নিয়ামত
রাসূলুল্লাহকে পাবার দিনকে স্মরণ করে আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপন করে মিলাদুন্নবি উদযাপন মাধ্যম।
দুই. ইয়াহুদিরা নিয়ামত পাবার দিনকে স্মরণ
করে প্রতি বছর একই দিনে রোযা রাখতেন। এ
কথা রাসূলুল্লাহ জেনেও নিষেধ করেননি যে,
তোমরা তো অনেক বছর পূর্বে নিয়ামত পেয়েছ, তা এখন
স্মরণ করে প্রতি বছর রোযা রাখার প্রয়োজন নেই;
বরং নিয়ামত পাবার দিনকে স্মরণ করার সমর্থন
জানিয়েছেন।
তিন. মূসা আলাইহিস সালাম’র মুক্তির দিনকে স্মরণ
করে রাসূলুল্লাহ স্বয়ং নিজেও রোযা রেখেছেন এবং তাঁর
উম্মতদেরকে এ রোযা রাখার নির্দেশ দেন।
সুতরাং নিয়ামতের দিনকে সৎকাজের মাধ্যমে স্মরণ
করা রাসূলুল্লাহকে পাবার দিনকে স্মরণ
করে ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপন করা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর
সুন্নাত।
বিশ্বখ্যাত ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী আলাইহির
রাহমাহ বলেন-
ﻭﻗﺪ ﺳﺌﻞ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳﻼﻡ ﺣﺎﻓﻆ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﻔﻀﻞ ﺍﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻋﻦ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻓﺄﺟﺎﺏ ﺑﻤﺎ ﻧﺼﻪ : ﻗﺎﻝ
ﻭﻗﺪ ﻇﻬﺮ ﻟﻲ ﺗﺨﺮﻳﺠﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺃﺻﻞ ﺛﺎﺑﺖ ﻭﻫﻮ ﺛﺒﺖ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﺤﻴﺤﻴﻦ ﻣﻦ – ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺪﻡ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﻮﺟﺪ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭﺍﺀ ﻓﺴﺎﻟﻬﻢ ﻓﻘﺎﻟﻮﺍ : ﻫﻮ ﻳﻮﻡ ﺃﻏﺮﻕ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻴﻪ
ﻓﺮﻋﻮﻥ ﻭﻧﺠﻰ ﻣﻮﺳﻰ ﻓﻨﺤﻦ ﻧﺼﻮﻣﻪ ﺷﻜﺮﺍ ﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻴﺴﺘﻔﺎﺩ ﻣﻨﻪ ﻓﻌﻞ ﺍﻟﺸﻜﺮ ﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ
ﻣﻦ ﺑﻪ ﻓﻲ ﻳﻮﻡ ﻣﻌﻴﻦ ﻣﻦ ﺍﺳﺪﺍﺀ ﻧﻌﻤﺔ ﺃﻭ ﺩﻓﻊ ﻧﻘﻤﺔ ﻭﻳﻌﺎﺩ ﺫﻟﻚ ﻓﻲ ﻧﻈﻴﺮ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻣﻦ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ
ﻭﺍﻟﺸﻜﺮ ﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻳﺤﺼﻞ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻛﺎﻟﺴﺠﻮﺩ ﻭﺍﻟﺼﻴﺎﻡ ﻭ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﻭﺍﻟﺘﻼﻭﺓ ﻭﺃﻱ ﻧﻌﻤﺔ ﺃﻋﻈﻢ ﻣﻦ
ﺍﻟﻨﻌﻤﺔ ﺑﻴﺮﻭﺯ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺬﻱ ﻫﻮ ﺑﻨﻲ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻴﻮﻡ ﻟﻪ
অর্থাৎ ‘শাইখুল ইসলাম, হাফিযুল আছর, আবুল ফদল ইবনু
হাজর আসকালানীকে ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনের
ভিত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন,
ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনের মূল ভিত্তি আমার নিকট
সুস্পষ্ট হয়েছে, যা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
শরিফে রয়েছে। সেই ভিত্তিটা হল- নবি করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনা শরিফ আগমন
করলেন। তিনি সেখানে ইয়াহুদিদেরকে আশুরার
দিনে রোযা রাখতে দেখে তাদেরকে এ
রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। অতঃপর তারা বলল, এ
দিনে আল্লাহ তায়ালা ফিরয়াউনকে ডুবিয়ে মেরেছেন
আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কে মুক্তি দিয়েছেন। এ
কারণে আমরা আল্লাহ তায়ালার
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে রোযা রাখছি।’
এ হাদিছ শরিফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নির্দিষ্ট
দিনে আল্লাহর রহমত পাবার কারণে বা কোন বিপদ
থেকে মুক্তি লাভের পর আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন
করা বৈধ। প্রতি বছর সেই একই দিনে আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপন করা যাবে আর আল্লাহ তায়ালার
শোকরিয়া জ্ঞাপন বিভিন্ন রকম ইবাদতের
মাধ্যমে করা যায় যেমন নামায, রোযা, সদকা এবং কুরআন
তিলাওয়াত। আমাদের জন্য যেদিন নবি করিম
রাহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র আগমণ করেছেন সেদিনের
চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?
উল্লিখিত বর্ণনা থেকে বুঝা লে যে, প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ
ইমাম ইবনু হাজর আসকালানী আলাইহির রাহমাহ আশুরার
হাদিছকে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপনের গ্রহণযোগ্য
ভিত্তি বলেছেন এবং তা প্রতি বছর পালনের প্রতি উৎসাহ
দিয়েছেন। সুতরাং ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন করা শরিয়ত
সম্মত একটি সৎকাজ।
২. হযরত আবু মূসা আশয়ারী রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বর্ণনা করেন-
ﻛﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺧﻴﺒﺮ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭﺍﺀ ﻳﺘﺨﺬﻭﻧﻪ ﻋﻴﺪﺍ ﻭﻳﻠﺒﺴﻮﻥ ﻧﺴﺎﺋﻬﻢ ﻓﻴﻪ ﺣﻠﻴﻬﻢ ﻭﺷﺎﺭﺗﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺼﻮﻣﻮﻩ ﺍﻧﺘﻢ
অর্থাৎ ‘খায়বরবাসী আশুরার দিনে রোযা রাখত।
তারা সেদিনকে ঈদ উদযাপনের দিন হিসেবে গ্রহণ করত,
তারা তাদের স্ত্রীদেরকে সেদিন অলংকার এবং সুন্দর
পোশাক পরাত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (মুমিনদের) বললেন!
তোমরাও সেদিন রোযা রাখ।’
উল্লিখিত হাদিছ থেকে বুঝা যায় যে, আশুরার
দিনকে ইয়াহুদিরা ঈদের দিন হিসেবে পালন করত। কারণ
সেদিন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ফিয়াউন
থেকে মুক্তি লাভ করেছেন। আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে তারা প্রতি বছর সেদিনকে স্মরণ
করে রোযা রেখে ঈদ উদযাপন করে। এসব দেখে রাসূলূল্লাহ
মুসলিমদেরকে নিষেধ করেননি যে, তোমরা নিয়ামতের
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে ঈদ উদযাপন করো না; বরং ইরশাদ
করেছেন ‘তোমরা ও রোযা রাখ।’ এ থেকে বুঝা যায় যে,
যেকোন নিয়ামতের শোরিয়া জ্ঞাপনার্থে ঈদ উদযাপন
করা বৈধ । তাহলে সবচেয়ে বড় নিয়ামত
রাসূলুল্লাহকে মুমিনরা পেয়ে সেদিনকে স্মরণ
করে আল্লাহ তায়ালার শোকরিয় জ্ঞপনার্থে সৎ কাজের
মাধ্যমে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন
করতে বাধা থাকতে পারে না।
৩. হযরত আবু ক্বাতাদাহ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন-
ﺇﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﺌﻞ ﻋﻦ ﺻﻮﻡ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻗﺎﻝ : ﺫﺍﻙ ﻳﻮﻡ ﻭﻟﺪﺕ ﻓﻴﻪ ﻭﻳﻮﻡ
ﺑﻌﺜﺖ ﺍﻭ ﺃﻧﺰﻝ ﻋﻠﻰ ﻓﻴﻪ
অর্থাৎ ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়াসাল্লাম
কে সোমবারে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞে করা হলে,
তিনি বলেন, সেদিন আমার জন্ম হয়েছে,
আমি নবি হিসেবে প্রেরিত হয়েছি এবং আমার ওপর
কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে।’
উল্লিখিত হাদিছ শরিফ থেকে বুঝা গেল যে, রাসূলুল্লাহ
সোমবারে রোযা রাখতেন। সাহাবায়ে কিরাম এর কারণ
জানতে চাইলে তিনি ইরশাদ করেন যে, সেদিন তার
জন্মদিন ও নবুয়ত প্রকাশের দিন। তার ওপর আল্লাহর
নিয়ামতের কথা স্মরণ করে তিনি প্রতি সোমবার
আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে রোযা রাখতেন।
তিনি জন্মদিনে আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপন করতেন।
সুতরাং আল্লাহর নিয়ামতের
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন
করা রাসূলুল্লাহর সুন্নাত।
৪. হযরত আউস বিন আউস রাদ্বিয়অল্লাহু তায়অলা আনহু
বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- ﺃﻥ ﻣﻦ ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻳﺎﻛﻢ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻴﻪ
ﺧﻠﻖ ﺁﺩﻡ অর্থাৎ ‘তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে শুক্রবার
শ্রেষ্ঠতর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস
সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’
হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন- ﺃﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻳﻮﻡ ﻋﻴﺪ
অর্থাৎ ‘নিশ্চয় শুক্রবার হল ঈদের দিন।’
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু
তায়ালা আনহুমা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন-
ﺃﻥ ﻫﺬﺍ ﻳﻮﻡ ﻋﻴﺪ ﺟﻌﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻠﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻓﻤﻦ ﺟﺎﺀ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﻠﻴﻐﺴﻞ ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻃﻴﺐ ﻓﻠﻴﻤﺲ ﻣﻨﻪ
ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ﺑﺎﻟﺴﻮﺍﻙ
অর্থাৎ ‘নিশ্চয় এ দিন ( শুক্রবার) ঈদের দিন, যাকে আল্লাহ
তায়ালা মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।’
যে ব্যক্তি জুমার নামায পড়তে আসে, সে যেন গোসল
করে আসে আর তার কাছে যদি সুগন্ধি থাকে,
তাহলে সে যেন তা থেকে কিছু শরীরে লাগিয়ে আসে।
তোমাদের ওপর মিসওয়াক করা আবশ্যক।’
উল্লিখিত হাদিছসমূহ থেকে বুঝা গেল যে, শুক্রবার হযরত
আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার
কারণে সেদিনকে উত্তম দিন এবং ঈদের দিন বলা হয়েছে।
সুতরাং যেদিন সৃষ্টি জগতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নবীর
আগমন হয়েছে, সেদিনকে কেন ঈদের দিন
হিসেবে মানা যাবে না?
৫. হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বর্ণনা করেন-
ﺇﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻖ ﻋﻦ ﻧﻔﺴﻪ ﺑﻌﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﺓ অর্থাৎ নবুয়ত প্রকাশের
পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
নিজের আক্বীক্বাহ করেছেন। ’
অন্য বর্ণনায় হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু
বলেন- ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻖ ﻋﻦ ﻧﻔﺴﻪ ﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﺑﻌﺚ ﻧﺒﻴﺎ অর্থাৎ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
নবী হিসেবে প্রকাশ পাবার পর নিজের আক্বীকাহ করেন।’
এ হাদিছের ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত ইমাম জালাল উদ্দিন
সূয়ূতী (রাহ.) বলেন-
ﺍﻥ ﺟﺪﻩ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ ﻋﻖ ﻋﻨﻪ ﻓﻲ ﺳﺎﺑﻊ ﻭﻻﺩﺗﻪ ﻭﺍﻟﻌﻘﻴﻘﺔ ﻻﺗﻌﺎﺩ ﻣﺮﺓ ﺛﺎﻧﻴﺔ ﻓﻴﺤﻤﻞ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ
ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻌﻠﻪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺇﻇﻬﺎﺭﺍ ﻟﻠﺸﻜﺮ ﻋﻠﻰ ﺇﻳﺠﺎﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺭﺣﻤﺔ ﻟﻠﻌﺎﻟﻤﻴﻦ
ﻭﺗﺸﺮﻳﻔﺎ ﻻﻣﺘﻪ ﻛﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﻠﻲ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ ﻟﺬﻟﻚ ﻓﻴﺴﺘﺤﺐ ﻟﻨﺎ ﺍﻳﻀﺎ ﺇﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻜﺮ ﺑﻤﻮﻟﺪﻩ ﺑﺎﺟﺘﻤﺎﻉ
ﺍﻻﺧﻮﺍﻥ ﻭﺇﻃﻌﺎﻡ ﺍﻟﻄﻌﺎﻡ ﻭﻧﺤﻮ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﻭﺟﻮﻩ ﺍﻟﻘﺮﺑﺎﺕ ﻭﺇﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﻤﺴﺮﺍﺕ
অর্থাৎ ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র
দাদা রাসুল্ল্লুাহ’র জন্মের সপ্তম দিনে তার আক্বীক্বাহ
করেছেন। আর আক্বিক্বাহ্ দু’বার হয় না।
সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দ্বিতীয়বার আকীকাহ তথা ছাগল জবাই করেছেন আল্লাহ
তায়ালার শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে। কেননা, আল্লাহ
তায়ালা
তাকে ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’ এবং উম্মতের
কাছে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ
আল্লাহর শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে নিজের ওপর দরুদ শরিফ
পাঠ করতেন। অতএব রাসূলুল্লাহর জন্ম উপলক্ষে মুসলিম
ভাইদের একত্র হবার মাধ্যমে, খানা খাওয়ানো, অন্যান্য
ইবাদত পালন এবং ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপন করা আমাদের জন্যও মুস্তাহাব।’
উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে বুঝা গেল যে, রাসূলুল্লাহর জন্ম
উপলক্ষে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন
করা স্বয়ং রাসুলুল্লাহর সুন্নত আর আমরা এ সুন্নাতের
উপরই আমল করি। এ ব্যাখ্যা বর্তমান সময়ের নয়; বরং শত
শত বছর পূর্বের যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ, মুফাসসির, ফিকাহবিদ
ও ইতিহাসবিদের।
৬. সহীহ বুখারী শরিফে রয়েছে-
ﻓﻠﻤﺎ ﻣﺎﺕ ﺍﺑﻮ ﻟﻬﺐ ﺃﺭﻳﻪ ﺑﻌﺾ ﺃﻫﻠﻪ ﺷﺮ ﺣﺎﻟﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﻪ : ﻣﺎﺫﺍ ﻟﻘﻴﺖ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻟﻬﺐ ﻟﻢ ﺍﻟﻖ ﺑﻌﺪﻛﻢ ﻏﻴﺮ
ﺃﻧﻲ ﺳﻘﻴﺖ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺑﻌﺘﺎﻗﻲ ﺛﻮﺑﻴﺔ
অর্থাৎ ‘আবু লাহাবের মৃত্যুর পর তার পরিবারের
কাউকে (হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)
স্বপ্ন দেখানো হল যে, সে খারাপ অবস্থায় আছে।
স্বপ্নদ্রষ্টা তাকে বলল, তোমার কী অবস্থা? আবু লাহাব
বলল, আমি অত্যন্ত আযাবের মধ্যে আছি; তবে (রাসূলুল্লাহর
জন্মের ওপর খুশি হয়ে) ছুয়াইবাহকে মুক্তি দেয়ার
কারণে (সেদিন তথা সোমবার) আমাকে পান করানো হয়।’
ইমাম ইবনু হাজর আসকালানী আলাইহির রাহমাহ ইমাম
সুহাইলী আলাইহির রাহমাহ থেকে বর্ণনা করেন-
ﺇﻥ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ : ﻗﺎﻝ ﻟﻤﺎ ﻣﺎﺕ ﺍﺑﻮ ﻟﻬﺐ ﺭﺃﻳﺘﻪ ﻓﻲ ﻣﻨﺎﻣﻲ ﺑﻌﺪ ﺣﻮﻝ ﻓﻲ ﺷﺮ ﺣﺎﻝ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎ ﻟﻘﻴﺖ ﺑﻌﺪﻛﻢ
ﺭﺍﺣﺔ ﺇﻻ ﺃﻥ ﺍﻟﻌﺬﺍﺏ ﻳﺨﻔﻒ ﻋﻨﻲ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﺛﻨﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﺫﻟﻚ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻟﺪ ﻳﻮﻡ
ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﻛﺎﻧﺖ ﺛﻮﻳﺒﺔ ﺑﺸﺮﺕ ﺍﺑﺎ ﻟﻬﺐ ﺑﻤﻮﻟﺪﻩ ﻓﺎﻋﺘﻘﻬﺎ
অর্থাৎ ‘হযরত আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর
আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, সে খুব খারাপ অবস্থায়
আছে। অতঃপর সে বলল; তোমাদের ছেড়ে আসার পর
আমি কোন শান্তি পাইনি; তবে প্রতি সোমবার আমার
শাস্তি কিছুটা কমানো
হয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবারে জন্ম গ্রহণ করেছেন আর
আবু লাহাবের দাসী ছুয়াইবা রাসূলুল্লাহর জন্ম গ্রহণের
সুসংবাদ আবু লাহাবকে দিলে সে তাকে (আনন্দিত হয়ে)
স্বাধীন করে দিয়েছে।’
উল্লিখিত হাদিছ থেকে কয়েকটি বিষয় বুঝা যায়-
এক. আবু লাহাব হল প্রথম সারির কাফির, যার নিন্দায়
আল্লাহ তায়ালা সূরা লাহাব অবতীর্ণ করেছেন।
এতদসত্ত্বেও সে রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর
ভাতিজা হিসেবে খুশি হয়ে তার
দাসী ছুয়াইবাকে স্বাধীন করে দেয়ার কারণে কবরে তার
শাস্তি প্রতি সোমবার কমানো হয়।
ভাতিজা হিসেবে সে রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর
খুশি হবার কারণে যদি তার শাস্তি কমানো হয়,
তাহলে মুমিনরা যদি আল্লাহর রাসূল যিনি সবচেয়ে বড়
নিয়ামত তাঁর ওপর খুশি হয়, তাহলে উত্তম প্রতিদানের
পরিমাণ কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
দুই. কাফেরদের কোন সৎকাজের প্রতিদান
পরকালে দেয়া হবে না। কারণ তাদের ঈমান নেই। এরপরও
আবু লাহাবকে সৎকাজের প্রতিদান কিভাবে দেয়া হল
তার উত্তরে ইমাম কিরমানী বলেন-
ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﺍﻟﺨﻴﺮ ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺘﻌﻠﻖ ﺑﺎﻟﺮﺳﻮﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺨﺼﻮﺻﺎ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻛﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﺑﺎ
ﻃﺎﻟﺐ ﺍﻳﻀﺎ ﻳﻨﺘﻔﻊ ﺑﺘﺨﻔﻴﻒ ﺍﻟﻌﺬﺍﺏ
অর্থ- ‘কাফেরদের সৎকাজ যেগুলো রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র সাথে সম্পৃক্ত,
সেগুলোর প্রতিদান দেয়া হয় যেমন আবু তালিব
(রাসূলুল্লাহর খেদমতের কারণে) কম শাস্তি ভোগের
মাধ্যমে উপকৃত হয়।’
একজন কাফেরের যদি এ প্রতিদান হয়, তাহলে একজন
মুমিনকে কী প্রতিদান দেয়া হবে তা সহজেই বুঝা যায়।
তিন. রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর খুশি হয়েছে আবু লাহাব। এ
খুশি হওয়াটা অন্তরের বিষয়, যা প্রকাশের জন্য সে তার
দাসী ছুয়াইবাকে স্বাধীন করে দিয়েছে। মুমিনরাও
রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর খুশি হয়ে বিভিন্ন সৎকাজ যেমন
কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে রাসূলুল্লাহর জীবন বৃত্তান্ত
বর্ণনা, খানাপিনা খাওয়ানো, দান-সদকাহ প্রদান
ইত্যাদির মাধ্যমে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ করেন।
চার. যে কাজের মাধ্যমে পরকালে উত্তম প্রতিদান
পাওয়া যায়, সে কাজ বিদয়াতে সাইয়্যিাহ বা মন্দ
বিদয়াত কিংবা অবৈধ হতে পারে না; কারণ অবৈধ
কাজে সওয়াব কিংবা উত্তম প্রতিদান নেই। একজন প্রথম
সারির কাফের ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন করে যেহেতু
(পরকালে) উত্তম প্রতিদান পাচ্ছে, সেহেতু
‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন নিঃসন্দেহে একটি উত্তম ও
সওয়াবের কাজ।
এ হাদিছের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনুয জাযরী আলাইহির
রাহমাহ বলেন-
ﻓﺎﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺍﺑﻮ ﻟﻬﺐ ﺍﻟﻜﺎﻓﺮ ﺍﻟﺬﻱ ﻧﺰﻝ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺑﺬﻣﻪ ﺟﻮﺯﻯ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺑﻔﺮﺣﺔ ﻟﻴﻠﺔ ﻣﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻤﺎ ﺣﺎﻝ ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺍﻟﻤﻮﺣﺪ ﻡ ﺃﻣﺔ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻨﺸﺮﻩ ﻣﻮﻟﺪﻩ ﻭﺑﺬﻝ ﻣﺎ
ﺗﺼﻞ ﺍﻟﻴﻪ ﻗﺪﺭﺗﻪ ﻓﻲ ﻣﺤﺒﺘﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻌﻤﺮﻱ ﺇﻧﻤﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺟﺰﺍﺀ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﺃﻥ ﻳﺪﺧﻠﻪ
ﺑﻔﻀﻠﻪ ﺟﻨﺎﺕ ﺍﻟﻨﻌﻴﻢ
অর্থাৎ ‘কাফের আবু লাহাব যার নিন্দায় কুরআনের
একটি সূরা (সুরা লাহাব) অবতীর্ন
হয়েছে সে যদি ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপনের কারণে কম
শাস্তি ভোগ করে, তাহলে উম্মতে মুহাম্মদীর
মধ্যে সে মুসলিম ব্যক্তির কী প্রতিদান
হতে পারে যে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন করে এবং এ
উপলক্ষে রাসূলূল্লাহর প্রেমে তার সামর্থ অনুযায়ী খরচ
করে? আমার জীবনের কসম করে বলছি- দয়াময় আল্লাহর
পক্ষ থেকে তার প্রতিদান হল, আল্লাহ তাকে ‘জান্নাতুন
নয়ীমে’ প্রবেশ করাবেন।’
উপরিউক্ত হাদিছ সম্পর্কে প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ শাইখ আব্দুল
হক মুহাদ্দিছ দেহলভী আলাইহির রাহমাহ বলেন-
“এ হাদিছ ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপনকারী এবং এর জন্য
সম্পদ ব্যায়কারীদের প্রমাণ। আবু লাহাব যার নিন্দায়
কুরআনের একটি সূরা (লাহাব) অবতীর্ণ
হয়েছে সে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জন্মের ওপর খুশি হয়ে তার
দাসী (ছুয়াইবা) কে স্বাধীন করে দেয়ার
কারণে শাস্তি কম ভোগ করে, তাহলে সে মুসলিমের
কী অবস্থা হবে যে, রাসূলুল্লাহর
ভালবাসা নিয়ে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন
করে এবং ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনে সম্পদ ব্যায় করে?
তবে মন্দ বিদয়াত যেমন নাচ, গান, হারাম বাদ্যযন্ত্রের
ব্যবহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত; কেননা এগুলোর
কারণে (মিলাদুন্নবি উদযাপনের) বরকত পাওয়া যাবে না।”
আল্লামা আব্দুল হাই লাকনভী বলেন-
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জন্মের
ওপর খুশি হবার কারণে আবু লাহাবের মত কাফেরের যখন
শাস্তি কমে গেল, তাহলে রাসূলূল্লাহর উম্মতের
মধ্যে যে রাসূলুল্লাহর জন্মের ওপর খুশি উদযাপন
করবে এবং তার প্রেমে ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপনে সামর্থ
অনুযায়ী খরচ করবে সে কেন সুউচ্চ মর্যদা পাবে না?’
উপরিউক্ত হাদিছসমূহ থেকে প্রমাণিত হল যে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র জন্ম
উপলক্ষে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন করা শুধু বৈধ নয়;
বরং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এটি স্বয়ং রাসূলুল্লাহর
সুন্নাত। কারণ তিনি নিজেও আল্লাহর
শোকরিয়া জ্ঞাপনার্থে ছাগল জবাই
করে ‘ঈদে মিলাদুন্নবি’ উদযাপন করেছেন
এবং প্রতি সোমবার রোযা রাখতেন।

রসুলে পাক(দঃ) প্রস্রাব, পায়খানা মোবরক ইত্যাদির ফযীলত

Standard

রাসুলেপাক সাহেবে লাওলাক নূরনবী মোহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক
থেকে পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি যথা: পেশাব মোবারক,
পায়খানা মোবারক, রক্ত মোবারক ইত্যাদি ফুজলাত মোবারক পাক
ও পবিত্র।
>>>>> ফতোয়া ﻓﺘﺎﻭﻯ <<<<<
====================
নূরনবী মোহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক থেকে পরিত্যক্ত
দ্রব্যাদি যথা- পেশাব মোবারক, পায়খানা মোবারক, রক্ত
মোবারক ইত্যাদি ফুজলাত মোবারক পাক-পবিত্র সুগন্ধ ও
বরকতময়। এতে চার মাযহাবের উলামায়ে কেরাম ও
ফোকাহায়ে এজাম এমনকী সমস্ত মুহাদ্দিসিন ও
মুফাসসিরীনে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে,
আল্লাহর হাবীবের ফুজলাত মোবারক উম্মতের জন্য পাক ও
পবিত্র।
এ প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের প্রখ্যাত ফকীহ
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রা.) তদীয় ‘রাদ্দুল মুহতার
বা ফতোয়ায়ে শামী’ কিতাবের ১ম খণ্ড ৩১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ
করেন-
ﺻﺤﺢ ﺑﻌﺾ ﺍﺋﻤﺔ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﺔ ﻃﻬﺎﺭﺓ ﺑﻮﻟﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺳﺎﺋﺮ ﻓﻀﻼﺗﻪ . ﻭﺑﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ
ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻛﻤﺎ ﻧﻘﻠﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﺍﻫﺐ ﺍﻟﻠﺪﻧﻴﺔ ﻋﻦ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﻟﻠﻌﻴﻨﻰ . ﻭﺻﺮﺡ ﺑﻪ ﺍﻟﺒﻴﺮﻯ ﻓﻰ ﺷﺮﺡ
ﺍﻻﺷﺒﺎﻩ . ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺤﺎ ﻓﻆ ﺍﺑﻦ ﺣﺠﺮ: ﺗﻈﺎﻓﺮﺕ ﺍﻻﺩﻟﺔ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻭﻋﺪ ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺧﺼﺎﺋﺼﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻧﻘﻞ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻋﻦ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻤﺸﻜﺎﺓ ﻟﻤﻼ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﺎﺭﻯ ﺍﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺘﺎﺭﻩ ﻛﺜﻴﺮ
ﻣﻦ ﺍﺻﺤﺎﺑﻨﺎ ﻭﺍﻃﺎﻝ ﻓﻰ ﺗﺤﻘﻴﻘﻪ ﻓﻰ ﺷﺮﺣﻪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺸﻤﺎﻳﻞ ﻓﻰ ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻰ ﺗﻌﻄﺮﻩ ﻋﻠﻴﻪ
ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ .
অর্থাৎ ‘শাফেয়ী মাযহাবের অনেক আইম্মায়ে কেরামগণ
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেশাব মোবারক
এবং সমূদয় ফুজলাত মোবারাকা বা দেহ মোবারক
থেকে পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি যে পাক ও পবিত্র তা সহীহ বা সঠিক
বলে অভিমত পোষণ করেছেন। ইমামে আ’জম আবু
হানিফা (রা.) ও সরকারে কায়েনাতের ফুজলাত মোবারকা যে পাক ও
পবিত্র এ অভিমত পেশ করেছেন। যেমন
আইনী শরহে বোখারী থেকে ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক
কিতাবে এর সবিস্তার বর্ণনা করা হয়েছে।
অপরদিকে আল্লামা বায়রী (রা.) শরহে আশবাহ গ্রন্থে হুজুর
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুজালাত মোবারকা যে পবিত্র
এর বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
হাফিয ইবনে হজর আসকালানী (রা.) অভিমত প্রকাশ করেছেন
যে, নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব মোবারক
এবং দেহ মোবারক থেকে পরিত্যক্ত সকল প্রকার
দ্রব্যাদি যে পাক-পবিত্র এর উপর অকাট্য ও অখণ্ডনীয় দলিল-
আদিল্লা বিদ্যমান রয়েছে এবং সকল ইমামগণ এটাকে হুজুর
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খসুসিয়ত বা বিশেষত্বের
মধ্যে গণ্য করেছেন।
অনেক উলামায়ে কেরামগণ হযরত
মোল্লা আলী ক্বারী (রা.) এর লিখিত ‘মিরআত শরহে মিশকাত’
থেকে এ বিষয়ে সবিস্তার বর্ণনা করেছেন।
তিনি (মোল্লা আলী ক্বারী) বলেন, এই মাসআলার
ব্যাপারে আমাদের ইমামগণের মনোনীত অভিমত হল এই
যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহ মোবারক
থেকে পরিত্যক্ত সমূদয় দ্রব্যাদি পূত:পবিত্র।
হুযরত মোল্লা আলী ক্বারী (রা.) শরহে শামাইল গ্রন্থে ﺑﺎﺏ
ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﺗﻌﻄﺮﻩ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ (বাবু মা জায়া তারাত্বরিহী আলাইহিস সালাতু
ওয়াস সালাম) অধ্যায়ে হুজুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর দেহ মোবারক থেকে পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি যে পাক ও
পবিত্র তার পূর্ণ তাহকীকসহ দলিল-আদিল্লার মাধ্যমে সবিস্তার
আলোচনা করেছেন।’
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রা.) এর উপরোক্ত
বর্ণনা দ্বারা প্রতীয়মান হল, হুজুর আকরম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওসাল্লামার পেশাব মোবারক, পায়খানা মোবারক, রক্ত
মোবারক ও দেহ মোবারক থেকে পরিত্যক্ত সমুদয়
দ্রব্যাদি পাক ও পবিত্র এবং সুগন্ধযুক্ত এ বিষয়ে মুহাক্কিক
উলামায়ে কেরামগণ, ফোকাহায়ে এজাম ও মুহাদ্দিসিনে কেরাম
ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আল্লামা কাসতালানী (রা.) ওফাত
৯২৩ হিজরি) তদীয় ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবের ১ম খণ্ড
২৮৪/২৮৫ পৃষ্ঠায় এ পসঙ্গে হাদিস উল্লেখ করেন-
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ ﻗﺎﻟﺖ ﻗﺎﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﺍﻟﻰ ﻓﺨﺎﺭﺓ ﻓﻰ ﺟﺎﻧﺐ ﺍﻟﺒﻴﺖ
ﻓﺒﺎﻝ ﻓﻴﻬﺎ ﻓﻘﻤﺖ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻴﻞ ﻭﺍﻧﺎ ﻋﻄﺸﺎ ﻧﺔ ﻓﺸﺮﺑﺖ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﺍﻧﺎﻻ ﺍﺷﻌﺮ ﻓﻠﻤﺎ ﺍﺻﺒﺢ ﺍﻟﻨﺒﻰ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ ﻗﻮﻣﻰ ﻓﺎﻫﺮﻳﻘﻰ ﻣﺎ ﻓﻰ ﺗﻠﻚ ﺍﻟﻔﺨﺎﺭﺓ ﻓﻘﻠﺖ ﻗﺪ ﻭﺍﻟﻠﻪ
ﺷﺮﺑﺖ ﻣﺎ ﻓﻴﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻓﻀﺤﻚ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺘﻰ ﺑﺪﺕ ﻧﻮﺍﺟﺬﻩ ﺛﻢ ﻗﺎﻝ ﺃﻣﺎ
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﻻﻳﻴﺠﻌﻦ ﺑﻄﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ .
অর্থাৎ ‘হযরত উম্মে আয়মন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাত্রিতে ঘুম
মোবারক থেকে উঠে ঘরের পাশ্বে একটি মাটির
পাত্রে পেশাব মোবারক করলেন। আমি রাত্রে ঘুম
থেকে উঠে খুব তৃষ্ণার্তবোধ করলাম। অতঃপর মাটির
পাত্রে যা ছিল তা পান করে নিলাম। পাত্রে কী ছিল
আমি মোটেই অবগত নই। তার পর প্রত্যুষে নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সম্বোধন
করে বললেন হে উম্মে আয়মন! ঘুম
থেকে উঠো এবং মাটির পাত্রে যা আছে তা ফেলে দাও।
অতঃপর আমি বললাম নিশ্চয় আল্লাহর কসম মাটির পাত্রে যা কিছু ছিল
তা আমি পান করে ফেলেছি। তিনি (উম্মে আয়মন) বলেন তৎণাৎ
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঁেহসে দিলেন
এমনকি তাঁর প্রান্তসীমার দাঁত মোবারক প্রকাশিত
হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহর হাবীব বললেন, আল্লাহর
কসম তোমার পেটে কখনো পীড়া হবে না।’
আল্লামা কাজী আয়াজ (রা.) ওফাত ৫৪৪ হিজরি) তদীয় ‘আশ শিফা’
নামক কিতাবের ১ম খণ্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻗﺪ ﺭﻭﻯ ﻧﺤﻮ ﻣﻦ ﻫﺬﺍ ﻋﻨﻪ ﻓﻰ ﺍﻣﺮﺃﺓ ﺷﺮﺑﺖ ﺑﻮﻟﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻬﺎ ﻟﻦ ﺗﺸﺘﻜﻰ ﻭﺟﻊ ﺑﻄﻨﻚ ﺍﺑﺪﺍ ﻭﻟﻢ
ﻳﺎﻣﺮ ﻭﺍﺣﺪﺍ ﻣﻨﻬﻢ ﺑﻐﺴﻞ ﻓﻢ ﻭﻻﻧﻬﺎﻩ ﻋﻦ ﻋﻮﺩﺓ ﻭﺣﺪﻳﺚ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺍﻟﺘﻰ ﺷﺮﺑﺖ ﺑﻮﻟﻪ ﺻﺤﻴﺢ
ﺍﻟﺰﻡ ﺍﻟﺪﺍﺭ ﻗﻄﻨﻰ ﻣﺴﻠﻤﺎ ﻭﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ ﺍﺧﺮﺍﺟﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ . ﻭﺍﺳﻢ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺑﺮﻛﺔ ﻭﺍﺧﺘﻠﻒ ﻓﻰ
ﻧﺴﺒﻬﺎ ﻭﻗﻴﻞ ﻫﻰ ﺍﻡ ﺍﻳﻤﻦ .
অর্থাৎ ‘নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব
মোবারক জনৈক মহিলা কর্তৃক পান করা সংক্রান্ত অনুরূপ
আরো হাদিস বর্ণিত আছে। জনৈক মহিলা হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব মোবারক পান করলে আল্লাহর
হাবীব এ মহিলাকে বললেন, তোমার কষ্মিনকালেও কোন
ব্যাধি হবে না।’ আল্লাহর হাবীব তাদের কাউকে (যারা রক্ত
মোবারক ও পেশাব মোবারক পান করলো) মুখ ধৌত করারও
নির্দেশ প্রদান করেননি এবং পূনরায় পান করতেও নিষেধ
করেননি। (আল্লামা কাজী আয়াজ বলেন) মহিলা কর্তৃক
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেশাব মোবারক পান
সংক্রান্ত হাদিস সহীহ বা বিশুদ্ধ। দারুল কুতনী ইমাম
মুসলিমকে মৃদু অভিযুক্ত করেছেন আর ইমাম বোখারী (রা.)
এর বর্ণনাকে সহীহর মধ্যে গণ্য করেছেন। সে মহিলার
নাম ছিল বারাকা (যিনি উ¤মূল মো’মিনিন হযরত উম্মে হাবিবার
সাথে আবিসিনিয়া থেকে এসেছিলেন) আর কেউ কেউ
বলেছেন, তার নাম ছিল উম্মে আয়মন।’
নবম শতকের মুজাদ্দিদ আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ূতী (রা.)
তদীয় ﺗﻬﺬﻳﺐ ﺍﻟﺨﺼﺎﺋﺺ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ নামক কিতাবের ৬২ পৃষ্ঠায়
বর্ণনা করেন-
ﻋﻦ ﺳﻔﻴﻨﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ: ﺍﺣﺘﺠﻢ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ: ﺧﺬ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺪﻡ
ﻓﺎﺩﻓﻨﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻭﺍﺏ ﻭﺍﻟﻄﻴﺮ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﺘﻐﻴﺒﺖ
ﻓﺸﺮﺑﺘﻪ ﺛﻢ ﺫﻛﺮﺕ ﻟﻪ ﺫﻟﻚ ﻓﻀﺤﻚ .
অর্থাৎ ‘হযরত সফিনা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রক্ত মোবারক
মোণ করে বলে ছিলেন, তুমি এ রক্ত মোবারক নিয়ে পশু
পাখি ও মানুষ থেকে গোপন করে রাখ। অতঃপর
আমি ইহা গোপন করলাম অর্থাৎ পান করে নিলাম। আর যখন
আমি আল্লাহর হাবীবের দরবারে ইহা পান করার সংবাদ প্রকাশ
করলাম তৎণাতই আল্লাহর হাবীব ঁেহসে দিলেন
তথা খুশি হলেন।’
আল্লামা কাযী আয়াজ (রা.) ওফাত ৫৪৪ হিজরি) তদীয় ‘শিফা শরীফ’
১ম খণ্ড ৬৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﺣﻜﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻤﻌﺘﺘﻴﻦ ﺑﺎﺧﺒﺎﺭﻩ ﻭﺷﻤﺎﺋﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﺫﺍ ﺍﺭﺍﺩ ﺍﻥ ﻳﺘﻐﻮﻁ
ﺍﻧﺸﻘﺖ ﺍﻻﺭﺽ ﻓﺎﺑﺘﻠﻌﺖ ﻏﺎﺋﻄﻪ ﻭﺑﻮﻟﻪ ﻭﻓﺎﺣﺖ ﻟﺬﻟﻚ ﺭﺍﺋﺤﺔ ﻃﻴﺒﺔ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﺳﻨﺪ
ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﻛﺎﺗﺐ ﺍﻟﻮﺍﻗﺪﻯ ﻓﻰ ﻫﺬﺍ ﺧﺒﺮﺍ ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺍﻧﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ ﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻚ ﺗﺄﺗﻰ ﺍﻟﺨﻼﺀ ﻓﻼﻧﺮﻯ ﻣﻨﻚ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ ﺍﻻﺫﻯ ﻓﻘﺎﻝ ﻳﺎ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺍﻭ ﻣﺎ ﻋﻠﻤﺖ ﺍﻥ
ﺍﻻﺭﺽ ﺗﺒﺘﻠﻊ ﻣﺎ ﻳﺨﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻓﻼ ﻳﺮﻯ ﻣﻨﻪ ﺷﺊ؟ ﻭﻫﺬﺍ ﺍﻟﺨﺒﺮ ﻭﺍﻥ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻣﺸﻬﻮﺭﺍ ﻓﻘﺪ
ﻗﺎﻝ ﻗﻮﻡ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻌﻠﻢ ﺑﻄﻬﺎﺭﺓ ﻫﺬﺍﻳﻦ ﺍﻟﺤﺪﺛﻴﻦ ﻣﻨﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
অর্থাৎ ‘অনেক বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ উলামায়ে কেরাম,
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শরীফ ও
শামাঈল শরীফ (আখলাক-চরিত্র) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর
হাবীবের শান ছিল এই, যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পায়খানা মোবারক করার ইচ্ছা করতেন, তখন মাটি বিদীর্ণ
হয়ে যেতো এবং পায়খানা মোবারক ও পেশাব মোবারক
গিলে ফেলতো এবং সে স্থান উৎকৃষ্ট ও পবিত্র
সুঘ্রাণে মুখরিত হয়ে যেতো।’
‘আল ওয়াকেদী’ এর লিখক মুহাম্মদ ইবনে ছায়াদ এই
হাদিসকে সনদযুক্ত করেছেন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)
থেকে।
উ¤মূল মো’মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার খেদমতে আরজ করলেন,
আপনি যখন শৌচাগার থেকে আসেন তখন আমরা সেখানে কিছুই
দেখতে পাই না । (ইহা শুনে) আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জান
না আম্বিয়ায়ে কেরাম থেকে যা কিছু নির্গত হয়,
মাটি তা গিলে ফেলে এবং তার কিছুই দেখা যায় না।
আল্লামা কাযী আয়াজ (রা.) বলেন, এই খবর বা হাদিস
শরীফখানা যদিও মশহুর পর্যায়ে নয়, তথাপি একদল বিজ্ঞ
উলামায়ে কেরাম এ দুখানা হাদিস শরীফ দ্বারা নূরনবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব মোবারক ও পায়খানা মোবারক পবিত্র
সাব্যস্ত করেছেন।’
তেরশত শতাব্দীর মোজাদ্দিদ শাহ আব্দুল আজিজ
মোহাদ্দিসে দেহলভী (রা.) তদীয় ‘ তাফসিরে আজিজি’ নামক
কিতাবের ২১৯ পৃষ্ঠা ‘সূরা দ্বোহা’ এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
অর্থাৎ ‘রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার ফুজলাত
বা পেশাব মোবারক ও পায়খানা মোবারকের চিহ্ন মাটিতে কেহ
দেখেনি। কারণ ইহা মাটিতে অন্তর্নিহিত হয়ে যেতো। আর
ঐ স্থান থেকে কস্তুরীর সুগন্ধি ভেসে উঠতো।’
আল্লামা কাসতালানী (রা.) ওফাত ৯২৩ হিজরি) তদীয়
‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবে এ সংক্রান্ত অনেক হাদিস
বর্ণনা করে বলেন-
ﻭﻓﻰ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﺩﻻﻟﺔ ﻋﻠﻰ ﻃﻬﺎﺭﺓ ﺑﻮﻟﻪ ﻭﺩﻣﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻮﺍﻫﺐ ﻟﺪﻧﻴﻪ ﺟﻠﺪ
ﺍﻻﻭﻝ۲۸۵ )
অর্থাৎ ‘এ সকল হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হল,
নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেশাব মোবারক ও
রক্ত মোবারক পাক ও পবিত্র।।’
সহীহ বোখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আহমদ বিন মুহাম্মদ
আসকালানী (রা.) ওফাত ৮৫২ হিজরি) তাঁর দলিলভিত্তিক ভাষ্য
আল্লামা কাসতালানী তদীয় ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবের ১ম
খণ্ড ২৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻭﻗﺎﻝ ﺷﻴﺦ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺍﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻗﺪ ﺗﻜﺎﺛﺮﺕ ﺍﻻﺩﻟﺔ ﻋﻠﻰ ﻃﻬﺎﺭﺓ ﻓﻀﻼﺗﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻋﺪ
ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﺧﺼﺎﺋﺼﻪ ﺍﻧﺘﻬﻰ .
অর্থাৎ ‘শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে হজর আসকালানী (রা.)
ওফাত ৮৫২ হিজরি) বলেন, নূরনবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফুজলাত মোবারকা তথা দেহ মোবারক
থেকে বহির্ভূত সমূদয় দ্রব্যাদি পাক-পবিত্র হওয়ার উপর অসংখ্য
দলিল আদিল্লাহ বিদ্যমান রয়েছে এবং দ্বীনের ইমামগণ
ইহাকে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুসুসিয়ত
বা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গণ্য করেছেন।’
মোদ্দাকথা হল, উম্মে আয়মন (রা.) সহ যাঁরা আল্লাহর হাবীব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পেশাব মোবারক পান করেছেন
এবং সফিনা (রা.) রক্ত মোবারক পান করেছেন, অপরদিকে হযরত
জুবাইর (রা.) ও রক্ত মোবারক পান করেছেন, এ সংক্রান্ত হাদিস
শরীফসমূহ সহীহ বা বিশুদ্ধ। অথচ নূরনবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা পান করতে নিষেধ করেন নাই
বরং আনন্দিত হয়েছেন।
এ সকল দলিলের উপর ভিত্তি করে দ্বীনের মুহাক্কিক
উলামায়ে কেরাম আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়াসাল্লামার
পেশাব মোবারক, রক্ত মোবারক এবং পায়খানা মোবারকসহ
সকল ফুজলাত মোবারক উম্মতের বেলায় পাক ও পবিত্র
বলে অভিমত পেশ করেছেন। ইহাই সঠিক আক্বিদা

হাদিস “সহিহ নয়” বলতে মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে কী বুঝায়?

Standard

‘হাদিসের নামে জালিয়াতি’ বইয়ের ১৭৪ পৃষ্ঠায় লেখক ড.আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর কোন প্রমাণ ছাড়াই মুহাদ্দিসদের উক্তি ‘হাদিসটি সহিহ নয়’ বলতে জাল হাদিস বুঝায় বলে উল্লেখ করেছে।তার কাছে আমার প্রশ্ন যে, হাদিস শাস্ত্রের ভূয়া নীতিমালা কোন মুহাদ্দিসেরর? অবশ্যই কোন মুহাদ্দিসেরর নয়।তা না হলে সে কেনন একটি দলীলও উল্লেখ করতে পারেনি।এটা দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে,এটা কোন হক্কানী মুহাদ্দিসেরর মন্তব্য নয়; বরং তার নিজের গড়া মন্তব্য।অপরদিকে মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী লিখিত আরেকটি বিভ্রান্তিকর বই ‘প্রচলিত জাল হাদিস’ এর ৪৯ পৃষ্ঠায় প্রমানহীনভাবে কোন মুহাদ্দিসের উক্তি ‘হাদিসটি সহিহ নয়’ বলতে জাল হাদিস বুঝায় বলে বুঝানোর অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

হাদিসের নীতিমালাঃ
*******************
হাদিস তিন প্রকার।
১. সহিহ
২.হাসান
৩.দ্বঈফ
এগুলো হাদিসেরই অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনার সুত্রানুসারে এভাবে হাদিস বিশারদগণ হাদিসের প্রকারভেদ করেছেন।আমাদের দেশে বা বিভিন্ন অঞ্চলে এক শ্রেণীর নামধারী আলেম মনগড়াভাবে হাদিস শাস্ত্রের মুলনীতিমালাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে হাদিস -ই-দ্বঈফকে হাদিস বলেই স্বীকার করতে রাজি নয়।

জবাবঃ
****************
দলীল নং-১
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানীর(রহঃ)[যিনি বুখারী শরীফের প্রথম ব্যাখ্যাকারি ]রচিত ” আল ক্বওলুল মুসাদ্দাদ ফিয যুব্বি আন মুসনাদি আহমদ” নামক কিতাবে উল্লেখ করছেন যে,
” হাদিসটি সহীহ নয় বললে, সেটা মওদ্বু বা বানোয়াট হওয়া অপরিহার্য নয়”।(১/৩৭ পৃষ্ঠা,মাকতাবাতে ইবনে তাইমিয়া,কাহেরা  মিশর)

দলীল নং-২
***********
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফেয আল্লামা ইমাম আবদুর রহমান জালালুদ্দীন সূয়ূতী(রহঃ) তার লিখিত কিতাব “তা’কিবাত আলাল মওদ্বুয়াত” গ্রন্থে বলেন,
“এ হাদিস সম্পর্কে ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবী (রহঃ) সর্বপরি এ মন্তব্য করেছেন যে, হাদিসের বচনগুলো বা (মতন) সহিহ নয়।এ কথা দ্বারা বুঝা যায়, হাদিসটি দ্বঈফ বা দুর্বল পর্যায়ের(সুত্রের বা বচনের দিক দিয়ে)।
(সুয়ুতী কৃতঃ তা’কিবাত আলাল মওদ্বুআত,পৃঃ ২৪৫)

দলীল নং৩
***********
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ)এ প্রসঙ্গে বলেন-
“এতে সন্দেহের অবকাশ নেই কোন মুহাদ্দিস ‘হাদিসটি সহিহ নয়’ বললে সেটার দ্বারা হাদিসটি বানোয়াট হওয়া অপরিহার্য হবে”
(মোল্লা আলী ক্বারী কৃতঃ আসরারুর মারফূয়াত,১/১০৮পৃষ্ঠা, হাদিসঃ৮৫, মুয়াসসাতুর রিসালা, বৈরুত, লেবানন)

দলীল নং-৪
***********
উক্ত কিতাবে মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) তিনি আশুরার দিন সুরমা লাগানোর বিষয়ে একটি বর্নিত হাদিস সম্পর্কে হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) এর উক্তি ‘ এ হাদিস সহিহ নয়’ বলে মন্তব্য করার পর লিখেছেন-
” আমার (মোল্লা আলী ক্বারী) কথা হল এ হাদিস ‘ সহিহ নয়’ মানে বানোয়াট বা মওদ্বু নয়।সর্বশেষ দ্বঈফ বলা যায় মাত্র।”
(প্রাগুক্ত ১/৪৭৪পৃঃ)

দলীল নং-৫
***********
বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম হাফেয ইবনে হাজর আসকালানী (রহঃ) বলেন,
“কোন হাদিসের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের বক্তব্য এ হাদিসটি সুদৃঢ় নয় বললে,  হাদিসটি মওদ্বু বা বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয় না। কারণ সাবিত বা প্রমাণিত শব্দ দ্বারা শুধু সহিহ হাদিসই বুঝায় এর নিম্ন পর্যায়ের হাদিসের মধ্যে দ্বঈফও রয়েছে।
(আল্লামা তাহের পাটানীঃ তাযকিরাতুল মওদ্বুআত, ৭৫পৃঃ)

দলীল নং-৬-৭
***********
শুধু তাই নয় দেওবন্দিদের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি মাওলানা আবদুল হাই লক্ষনৌভি বলেনঃ
“ইমাম আহমদের উক্তি হাদিসটি ‘ সহীহ নয়’ বলার দ্বারা হাদিসটি বাতিল বা জাল হওয়া অপরিহার্য নয়”
(আবদুল হাই কৃতঃ আসরুল মারফুআ, ১/পৃঃ১০১)

দলীল নং-৮
**********
একটি হাদিস শরীফে এও রয়েছে যে,
” খাওয়ার পুর্বে তরমুজ খেলে তা পেটকে একেবারে পরিষ্কার করে দেয় এবং রোগ ব্যাধিকে সমূলে দুরীভুত করে দেয়”।এ হাদিসের ব্যাপারে ইমাম ইবনে আসাকির রহঃ বলেছেন,(এটির শায বিরল পর্যায়ের সহীহ নয়)। আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ আলোচ্য হাদিস সম্পর্কে উপরোক্ত মন্তব্য সম্পর্কে লিখেছেন,
“এ কথা স্পষ্ট যে,ইবনে আসাকিরের উল্লিখিত মন্তব্য দ্বারা হাদিসটি মওদ্বু বা বানোয়াট নয় বলে বুঝা যায়।”
(ক. মোল্লা আলী ক্বারী কৃতঃ আসরারুল মারফূয়াত, ১/৪৮৬পৃঃ)
খ. আল্লামা আযলুনী কৃতঃ কাশফুল খাফাঃ১/২৫৬পৃঃ, হাদিসঃ৯০৮)

দলীল নং-৯
***********
“ইমাম কামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হুম্মাম রহঃ বলেন, “কোন হাদিস সম্পর্কে কোন মুহাদ্দিস বলেছেন যে, এ হাদিসটি সহীহ নয়, তাদের কথা সত্য বলে মান্য করা হলেও কোন অসুবিধা নেই,যেহেতু (শরীয়তের) দলীল বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্থ হওয়ার জন্য শুধু (হাদিস) সহীহ হওয়া নির্ভরশীল নয়।সনদ বা সুত্রের দিক দিয়ে ‘হাসান’ হলেও (হাদিসটি শরীয়তের দলীল হিসেবে সাব্যস্থ হওয়ার জন্য) যথেষ্ট। ”
(মোল্লা আলী ক্বারী কৃতঃ মিরকাতঃ৩/৭৭পৃঃ, হাদিস-১০৮)

দলীল নং-১০
************
ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী রহঃ বলেন, হাদিসে ‘হাসান’ শরিয়তের দলীল রুপে গ্রহণযোগ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সহীহ হাদিসের সাদৃশ্য, যদিও মরতবা কম।
(আসকালানী কৃতঃ নুযহাতুল নযর ফি তাওদিহে নুখবাতিল ফিকির, ১/৭৮পৃঃ,মাতবাআতে সাফির বিল রিয়াদ, সৌদিআরব)

দলীল নং-১১
***********
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ বলেন,
“ইমাম সাখাভী রহঃ এর বক্তব্য হাদিসটি ‘সহীহ নয়’ নিষেধ দ্বারা হাদিসটি ‘হাসান’ ও দ্বঈফ হওয়াকে নিষেধ করে না।
(মোল্লা আলী ক্বারী কৃতঃ আসরারুল মারফূয়াত; ১/৩৪৯পৃঃ, হাদিস-৫০২)

দলীল নং-১২
***********
একটি হাদিসে রয়েছে-
“যে দাবা খেলে সে অভিশপ্ত।উক্ত হাদিসকে ইমাম নববী রহঃ বলেন, উক্ত হাদিসটি সহিহ পর্যায়ের নয়।ইমাম সাখাভী রহঃ বলেন, হাদিসটি দৃঢ় পর্যায়ের নয়।উক্ত দুই ইমামের রায়কে ইমাম সুয়ুতী রহঃ ব্যাখ্যা করে বলেন যে, পরিশেষে উক্ত রায় দ্বারা সনদে দুর্বলতায় বুঝায়(জাল নয়)
(ক. আল্লামা আযলূনী: কাশফুল খাফাঃ২/২৪৬; হাদিসঃ২৫৯৬
খ. মোল্লা আলী ক্বারী:আসরারুল মারফূয়াত;১/৩৫৮পৃঃ, হাদিস:৫২৪)

দলীল নং-১৩
************
আল্লামা ইমাম ইবনে জওজী রহঃ একটি হাদিস বর্ণনা করে সনদে একজন রাবী দর্বল থাকায় ইমাম জওজী তার কিতাবুল ইল্লল এ বলেন,”উক্ত হাদিসটি পুর্ণ সহিহ পর্যায়ের নয়,বা সনদটি শক্তিশালী নয়।আল্লামা আযলুনী রহঃ উক্ত হাদিসের রায়ের প্রতি ইতি টেনে বলেন যে,”পরিশেষে তার রায় দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, সনদে দুর্বলতা আছে কিন্তু তাই বলে জাল বা বানোয়াট নয়”
(আল্লামা আযলুনীঃকাশফুল খাফাঃ২/১১০পৃঃ;হাদিসঃ১৯৬৬)

দলীল নং-১৪
************
প্রসিদ্ধ একটি হাদিস আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্নিত-
“আমি ইলমের শহর আর আলী তার দরজা”
উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে মোল্লা আলী ক্বারী রহঃ বলেন,  ” ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী (রহঃ) কে উক্ত হাদিস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উক্ত হাদিসটি সহিহ নয়, ‘হাসান’ পর্যায়ের হাদিস। ইমাম হাকিম রহঃ বলেন হাদিসটি জাল বা বানোয়াট নয়।”
(ক. মোল্লা আলী ক্বারীঃআসরারুল মারফুআঃ১/১১৮পৃঃ,হাদিস নং-৭১, মুয়াসসাতুর রিসালা, বৈরুত, লেবানন
খ. মোবারকপুরীঃতুহফাতুল আহওয়াজিঃ১০/২২৬,হাদিস নং-৩৭২৩.
গ. আযলূনীঃকাশফুল খাফাঃ১/১৮৪-১৮৫পৃঃ,হাদিস নং-৬১৮
ঘ. ইমাম সাখাভীঃমাকসিদুল হাসানাঃ১২১পৃ,হাদিস নং-১৮৯
ঙ.মোল্লা আলী ক্বারীঃমিরকাতুল মাফাতিহঃ১১/২৫৩,হাদিস নংঃ৬০৯৬)
তাই সুস্পষ্ট বুঝা যায় হাদিসটি সহিহ নয় বলতে “হাসান” হওয়াকে বুঝায়।

দলীল নং-১৫
***********
ইমাম সুয়ুতী রহঃ তার রিয়াল গ্রন্থ ‘আদ দুররুল মনসুর’ এ হযরত আবুল সাঈদ আলায়ী (রহঃ) এর কওল বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উক্ত হাদিসটি একাধিক তরীকায় বর্নিত হওয়ার কারণে ” হাসান” হাদিস, তাই হাদিসটি সহিহও নয় এবং দ্বঈফও নয়”।
(ক.আযলুনীঃকাশফুল খাফাঃ১/১৮৫: হাদিসঃ৬১৮
খ. মোল্লা আলী ক্বারীঃআসরারুল মারফুআ:১/১১৯পৃঃ,হাদিস নং-৭১)

দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে গেল হাদিসটি সহীহ নয় বলতে “হাসান” পর্যায়ের হাদিস বুঝায়, মওদ্বু নয়।

দলীল নং-১৬
************
আহলে হাদিসের কথিত মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আলবানী তার ‘ সিলসিলাতুল আহাদিসুদ দ্বঈফা’ গ্রন্থের ১ম খন্ডের ১০২ পৃষ্ঠায় ৭৩ নং হাদিসে রাসুল (দঃ) এর নাম মোবরক শুনে চুমু খাওয়া হযরত আবু বকর (রাঃ) এর বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে বলেন, হাদিসটি সহীহ পর্যায়ের নয়।বুঝা গেল হাদিসটি জাল নয়।কারণ আলবানী জাল হাদিসকে সরাসরি মওদ্বু বলে উল্লেখ করে।কিন্তু এখানে তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেছেন অপরদিকে দলীল পেশ করেছেন।

দ্বঈফ সনদের হাদিসকে অবহেলা করার পরিণতি

Standard

নবীর হাদিসকে দ্বঈফ হাদিস বললে ঈমান থাকবে না, হ্যাঁ, তবে রাবির কারণে সনদ সহিহ,হাসান,দ্বঈফ হতে পারে।তাই বলতে হবে সনদ দ্বঈফ ;হাদিস নয়।বর্তমানে আহলে হাদিসগন দ্বঈফ সনদের হাদিসকে হাদিস হিসেবে মানতেই চাইনা অথচ দ্বঈফও রাসুল (দঃ) এর হাদিস।তবে রাবি শক্তিশালী, দুর্বল হওয়া নিয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে।তাই দ্বঈফ সনদকে হাদিস নয় বলা যাবেনা।আর আমি নিম্নে সনদকে অবহেলার শাস্তির কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হল।

এক হাদিসে বর্নিত- আছে,
“যে ব্যক্তি বুধবার কিংবা শনিবার নিজ শরীরে শিঙ্গা প্রয়োগ করে দুষিত রক্ত অপসারণ করবে, তার শরীরে কুষ্ট রোগ হবে।আর সে তখন নিজেকে দোষারোপ করবে।”

ইমাম ইবনে আসাকির রহঃ বর্ননা করেন,
“ইমাম ইবনে আসাকির রহঃ হাফিজ রাযী আলী ইবনে মিহরান ইবনে হারুন থেকে স্বীয় ‘তারিখে দামেস্ক ‘এ বর্ননা করেছেন।তিনি বলেন,আমি হযরত আবু মুঈন হুসাইন ইবনে হাসান তাবরীকে বলতে শুনেছি,তিনি বলেন-আমি একবার শনিবার শিঙ্গা লাগাতে মনস্থ করেছি।সুতারাং আমি আমার ক্রিতদাসকে হাজ্জাম(ক্ষৌরকার) কে শিঙ্গা লাগানোর জন্য ডাকতে নির্দশ দিলাম।ক্রিতদাস তাকে ডাকতে চলে যাবার এবং বুধবার আমার মনে পড়ল নবী করীম( দঃ) ওই হাদিস যাতে শনিবার শিঙ্গা লাগালে শ্বেত রোগ হবে বলে বর্নিত আছে।তারপর কিছু চিন্তা ভাবনা করলাম করে বললাম,এ হাদিসের সনদের মধ্যে তো কিছু দুর্বলতা আছে।শেষ পর্যন্ত আমি শিঙ্গা প্রয়োগ করলাম।ফলে আমার শ্বেত রোগ হয়ে গেল।অতঃপর স্বপ্নযোগে নবী করীম (দঃ)এর সাথে সাক্ষাত হল।তখন আমি স্বীয় অবস্থা সম্পর্কে হুযুর( দঃ)এর মহান দরবারে ফরিয়াদ করলাম।রসুলে পাক( দঃ)  ইরশাদ করেন, সাবধান! আমার হাদিসকে তুচ্ছ জ্ঞান করবেনা।অতঃপর আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মান্নত করলাম,আল্লাহ পাক যদি আমার শ্বেত রোগ থেকে মুক্তি দেন, তবে আমি আর কখনো নবী করীম( দঃ) এর হাদিসকে তুচ্ছ জ্ঞান করব না,ওই হাদিস অনুযায়ী সহিহ হোক, কিংবা দ্বঈফ হোক। সুতারাং আল্লাহ পাক আমার শ্বেত রোগ থেকে মুক্তি দান করলেন।[ইমাম ইবনে আসাকিরঃ তারিখে দামেস্ক, ১/৭৫পৃঃ ]