কেয়ামত কখন হবে???

Standard

>>>>> কেয়ামত কখন হবে
====================
কেয়ামত কখন হবে, কত হিজরিতে হবে? এর সুনির্দিষ্ট সময়
আল্লাহপাক সাধারণভাবে কাউকে অবহিত করেননি।
শুধুমাত্র তাঁর প্রিয় হাবীব নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর পরিপূর্ণ জ্ঞান
দান করেছেন।
এবং তা অন্যদেরকে সাধারণভাবে জানিয়ে দিতে নিষেধ
করেছেন। সুতরাং কেয়ামত কত হিজরিতে হবে তা কেউ
বলতে পারবে না এবং বলার অধিকারও রাখে না। কিন্তু
কেয়ামত কায়েম হওয়ার সম্ভাব্য সময় ও আলামত
সম্পর্কে হাদিসশরীফে সবিস্তার বর্ণনা করা হয়েছে। এ সব
আলামতকে দুভাগে ভাগ করা হয়। আলামতে কুবরা (বড় বড়
আলামত) আলামতে সুগরা (ছোট ছোট আলামত)।
আলামতে কুবরা
আলামতে কুবরা বা কিয়ামতের বড় বড় আলামতগুলোর
মধ্যে প্রথম আলামত হচ্ছে ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালামের আবির্ভাব। অতপর কানা দাজ্জাল ঈসা আলাইহিস
সালামের অবতরণ, ইয়াজুজ মাজুজ ও দাব্বাতুল র্আদ প্রভৃতির
আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এগুলোও আলামতে কুবরার অন্তর্ভূক্ত।
অপরদিকে আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত শরীফের পর থেকে ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত
কিয়ামতের যতগুলো আলামত প্রকাশ পাবে তা সবই
আলামতে সুগরা বা কিয়ামতের ছোট ছোট আলামত
হিসেবে গণ্য হবে। নিম্নে ছোট ছোট আলামতগুলো পেশ
করা হলো
আলামতে সুগরা
আলামতে সুগরা সম্পর্কে জামে তিরমিজিশরীফের দ্বিতীয়
জিলদের ৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﺫﺍ ﺍﺗﺨﺬ ﺍﻟﻔﺌﻰ ﺩﻭﻻ ﻭﺍﻻﻣﺎﻧﺔ ﻣﻐﻨﻤﺎ ﻭﺍﻟﺰﻛﻮﺓ
ﻣﻐﺮﻣﺎ ﻭﺗﻌﻠﻢ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻭﺍﻃﺎﻉ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻣﺮﺍﺗﻪ ﻭﻋﻖ ﺍﻣﻪ ﻭﺍﺩﻧﻰ ﺻﺪﻳﻘﺔ ﻭﺍﻗﻀﻰ ﺍﺑﺎﻩ ﻓﻈﻬﺮﺕ ﺍﻻﺻﻮﺍﺕ ﻓﻰ
ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ ﻭﺳﺎﺩ ﺍﻟﻘﺒﻴﻠﺔ ﻓﺎﺳﻘﻬﻢ ﻭﻛﺎﻥ ﺯﻋﻴﻢ ﺍﻟﻘﻮﻡ ﺍﺭﺫﻟﻬﻢ ﻭﺍﻛﺮﻡ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﺨﺎﻓﺔ ﺷﺮﻩ ﻭﻇﻬﺮﺕ ﺍﻟﻘﻴﻨﺎﺕ
ﻭﺍﻟﻤﻌﺎﺯﻑ ﻭﺷﺮﺑﺖ ﺍﻟﺨﻤﻮﺭ ﻭﻟﻌﻦ ﺍﺧﺮ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﺍﻭﻟﻬﺎ ﻓﻠﻴﺮﺗﻘﺒﻮﺍ ﻋﻨﺪ ﺫﻟﻚ ﺭﻳﺤﺎ ﺣﻤﺮﺍﺀ ﻭﺯﻟﺰﻟﺔ ﻭﺧﺴﻔﺎ
ﻭﻣﺴﻨﺎ ﻭﻗﺬﻓﺎ ﻭﺍﻳﺎﺕ ﺗﺘﺎﺑﻊ ﻛﻨﻈﺎﻡ ﺑﺎﻝ ﻗﻄﻊ ﺳﻠﻜﻪ ﻓﺘﺘﺎﺑﻊ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﻏﺮﻳﺐ -ﺗﺮﻣﺬﻯ ﺷﺮﻳﻒ ﺹ ۲ / ۶۶
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে এরশাদ
করেছেন- যখন শাসনকর্তাগণ যমিনের খাজনা বাবত আদায়কৃত
টাকা পয়সাকে ব্যক্তিগত সম্পদরূপে গণ্য করবে। আমানতের
মালকে গণিমতের মাল হিসেবে গণ্য করবে খিয়ানত
করবে এবং নিজের জন্য হালাল মনে করবে।
যাকাতকে জরিমানাস্বরূপ আদায় করবে। মানুষ দুনিয়া লাভের
আশায় দ্বীনীশিা গ্রহণ করবে। স্বামীগণ স্বীয় স্ত্রীদের
আনুগত্য করবে এবং তাদের মাতার অবাধ্য হবে।
লোকেরা দুশ্চরিত্রবান লোকদের সাথে বন্ধুত্ব
করে তাদেরকে আপনজন মনে করবে এবং সাথে সাথে তাদের
পিতার অবাধ্য হবে। মসজিদে দুনিয়াবী আলাপ
আলোচনা বেশি বেশি হতে থাকবে।
সবচেয়ে বেশি নিকৃষ্ট, চরিত্রহীন
লোকেরা গোত্রে বা সমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে।
শরিয়তবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হবে।
অত্যাচারী ব্যক্তিদেরকে তাদের অত্যাচার
থেকে রা পাওয়ার জন্য সম্মান প্রদর্শন করা হবে। গায়িকা ও
বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন সাধারণভাবে চলতে থাকবে।
প্রকাশ্যে মদ্যপান হতে থাকবে। উম্মতের পরবর্তী লোকগণ
পূর্ববর্তী লোকদের নিন্দাবাদ করতে থাকবে।
হাবীবে খোদা এরশাদ করেন- তখন তোমরা আল্লাহর
আযাবের অপো করতে থাক। আযাবের ধরণ হলো- লু-
হাওয়া প্রবাহিত হওয়া, ভূমিকম্প, যমিন ধ্বসে যাওয়া,
আকৃতি পরিবর্তন হওয়া, আসমান থেকে প্রস্তর বর্ষিত হওয়া।
এমনিভাবে আরো বিবিধ আলামত বা নিদর্শন প্রকাশিত
হবে, যেমন তাসবীহ এর রশি ছুটে গেলে একের পর এক তাসবীহর
দানা পতিত হতে থাকে, তেমনিভাবে একের পর এক
বালা মসিবত আসতে থাকবে। (তিরমিজিশরীফ দ্বিতীয় খণ্ড
৪৪ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত হাদিসশরীফে উল্লেখিত কিয়ামতের
নিদর্শনসমূহের মধ্যে তিনটি নিদর্শন
বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য-
১) ﺗﻌﻠﻢ ﻟﻐﻴﺮ ﺍﻟﺪﻳﻦ শেষযুগে লোকেরা দুনিয়ার সম্পদ লাভ করার জন্য
দ্বীনীশিা করতে থাকবে। ফলে এ ধরনের আলেমগণ দুনিয়ার
স্বার্থের বিনিময় সঠিক আকিদা ও আমলের
পরিপন্থী ফত্ওয়া সমর্থন করে দ্বীনকে ধ্বংস করার
পায়তারা চালাবে।
২) ﻇﻬﺮﺕ ﺍﻟﻘﻴﻨﺎﺕ ﻭﺍﻟﻤﻌﺎﺯﻑ গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন অধিক
পরিমাণে বৃদ্ধি হওয়ার দরুন ইসলামের সঠিক রূপ-রেখা অুন্ন
থাকবেনা, ফলে ফাহেশাত বা শরিয়তবিরোধী কার্যক্রমের
প্রচলন চলতে থাকবে।
৩) ﻟﻌﻦ ﺍﺧﺮﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ ﺍﻭﻟﻬﺎ শেষযুগে অধিকাংশ উম্মতগণ পূর্ববর্তীযুগের
উম্মতগণকে মন্দ বলবে।
অর্থাৎ শেষ যুগে বাতিল আকিদাপন্থী অনেক লোক
সৃষ্টি হবে। তারা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন,
তাবে তাবেঈন, এ স্বর্ণযুগের হক্বানী ব্যক্তিবর্গসহ তাঁদের
অনুসারিগণকে মন্দ বলবে।
দেখুন! মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী ও তার ভ্রান্ত
আকিদা ও আমলের সমর্থকগণ এরূপ কতেক ফত্ওয়া জারি করছে,
তাদের এ ফত্ওয়া দ্বারা সাহাবায়ে কেরামসহ দুনিয়ার সকল
মুসলমানগণ মুশরিক হয়ে গেছেন। (নাউজুবিল্লাহ)
একনজরে আলামতে সুগরা
১) নেতাগণ সর্বসাধারণের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করবে।
২) আমানতের মালকে মানুষ লুটের মালের ন্যায় মনে করবে।
৩) জুলুম মনে করে ‘যাকাত’ দেওয়া বন্ধ করে দিবে।
৪) দুনিয়া উপার্জনরে নিমিত্তে লোক ইলমে দ্বীন
শিা করবে।
৫) পুরুষ লোক স্ত্রী লোকের বাধ্যগত হবে।
৬) সন্তান মাতার অবাধ্য হয়ে পড়বে।
৭) মানুষ অন্য লোককে আপন মনে করে আপন পিতার
সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
৮) মসজিদে দুনিয়াবি আলোচনা বেশি হতে থাকবে।
৯) গোত্রে গোত্রে এমন সব লোক নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, যারা সব
চেয়ে বেশি নিকৃষ্ট।
১০) চরিত্রহীন ও লোভী লোকদের উপর দায়িত্বপূর্ণ কাজের
দায়িত্ব অর্পিত হবে।
১১) তির আশংকায় এমন সব লোকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
করা হবে, যারা শরিয়তবিরোধী জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত।
১২) প্রকাশ্য মদ্যপান হতে থাকবে।
১৩) গান বাজনা ও নাচের চর্চা প্রকাশ্যভাবে হতে থাকবে।
১৪) উম্মতের মধ্যে এমন শিতি লোক
হবে যারা পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসীন ও
ফকীহগণকে নিন্দা করবে এবং তাদের নির্বোধ বলবে।
১৫) সমাজের নেতাগণ প্রকাশ্যে গোনাহের কাজ করবে।
১৬) নানা রকম নিত্য-নূতন আপদ বিপদ দেখা দিবে।
১৭) একের পর এক ভূমিকম্প হতে থাকবে।
১৮) মানুষের আকার পরিবর্তন হবে।
১৯) নানা রকম নিত্য-নূতন রোগ দেখা দিবে।
২০) শিলা বৃষ্টি হতে থাকবে।
২১) মুসলমান পুরুষগণ রেশমী কাপড় পরিধান করবে।
২২) দ্বীন-ইসলাম লোপ পেতে থাকবে।
২৩) পুরুষ অপো স্ত্রী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
২৪) কখনও অনাবৃষ্টি, আবার কখনও অতিবৃষ্টি হতে থাকবে।
২৫) জগতের কোন কোন অংশ ধ্বংসে পতিত হবে।
২৬) মুসলমানগণ গান বাজনা রং তামাশায় মত্ত হয়ে পড়বে।
২৭) ত্রিশজন মিথ্যাবাদী নিজেকে নবী বলে দাবি করবে।
২৮) ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য বিধর্মীগণ উঠে পড়ে লাগবে।
২৯) মুসলমানগণ স্বীয় ধর্মীয় কাজে অবহেলা করবে।
৩০) অনেক সুন্নত মৃত হবে, তদস্থানে বিদআতের প্রচলন হবে।
৩১) দূর্ভি ও মহামারি হতে থাকবে।
৩২) নানা রকম চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন হবে।
৩৩) প্রত্যেক সুস্বাদু বস্তুর স্বাদ ও ঘ্রাণ দৈনন্দিন
কমতে থাকবে।
৩৪) অত্যাচার, অবিচার, অনাচার ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে।
৩৫) মানুষের লজ্জা, শরম হ্রাস পাবে।
৩৬) মানুষ পরকাল ভুলে যাবে এবং জাগতিক আমোদ
প্রমোদে মত্ত হয়ে পড়বে।
৩৭) মানুষ সম্মানের জন্য বিদ্যালাভ করবে, জ্ঞানের জন্য নয়।
৩৮) পবিত্র কোরআনশরীফকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য
বিধর্মীগণ নানা অপকৌশল অবলম্বন করতে থাকবে।
এ সকল আলামত ও নিদর্শনকে আলামতে সুগরা বা ছোট-ছোট
আলামত বলা হয়। যখন কিয়ামতের ছোট-ছোট
আলামতগুলো প্রকাশিত
হবে এবং ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, তখন
সারা দেশে খ্রিস্টানদের প্রভাব ও রাজত্ব কায়েম হবে। এ
সময় আবু সুফিয়ানের বংশধরের একজন লোক শ্যাম
দেশে মতাসীন হবে। সে সৈয়দ বংশের অনেককে শহীদ করবে,
লিবিয়া এবং মিশরে তার আইন- কানুন প্রবর্তিত হবে।
এ সময় রোমের মুসলমান বাদশাহর
সঙ্গে নাসারা বা খ্রিস্টানদের একদলের যুদ্ধ এবং এক দলের
সন্ধি হবে। অর্থাৎ খ্রিস্টান দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
একদল মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করবে, অন্য একদল মুসলমানদের
বিরোদ্ধে যুদ্ধ করবে। খ্রিস্টান শত্রু প কুছতুনতিনিয়া জয়
করবে এবং তথায় তাদের দখল ও আইন কানুন জারি হবে। ঐ
বাদশাহ নিজ রাজ্য শ্যাম (সিরিয়া) ছেড়ে চলে যাবে।
পরে আবার মুসলিমশক্তি খ্রিস্টানশক্তির
পরে সঙ্গে মিলে খ্রিস্টান শত্রু পরে সঙ্গে ভীষণ যুদ্ধ
করতঃ মুসলিমশক্তি জয়লাভ করবে। এই যুদ্ধে জয়লাভের
কয়েকদিন পর মিত্র খ্রিস্টান পরে একজন লোক মুসলমানদের
সামনে বলবে যে, আমাদের ক্রুশের কল্যাণে এই যুদ্ধে জয়লাভ
হয়েছে। এই সামান্য কথায় বাড়াবাড়ি করে উভয়
পরে মধ্যে তুমূল যুদ্ধ বেধে যাবে। এ সময় নাসারাদের মিত্রদল
ঐ শত্রুদলের সঙ্গে মিলিত হয়ে যুদ্ধ করবে। এমনকি এই
যুদ্ধে মুসলমানদের বাদশাহ শহীদ হয়ে যাবেন
এবং শ্যামদেশেও খ্রিস্টানদের রাজত্ব কায়েম হয়ে যাবে।
অবশিষ্ট মুসলিমযোদ্ধারা মদিনাশরীফে প্রত্যাবর্তন করবে।
খায়বরের নিকট খ্রিস্টান বা নাসারাদের প্রভাব থাকবে।
(মিশকাত ৪৬৭ পৃষ্ঠা)
এমন সময় মুসলমানগণ পরস্পর আলোচনা করবেন যে, এখন ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালামকে তালাশ করা উচিত- যেন এ
মসিবত হতে নাজাত পাওয়া যায়। নতুবা এসব বিপদ
থেকে বাঁচার আর কোন উপায় দেখা যাচ্ছে না।

ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের আগমনকাল
>>>>> ইমাম মাহদীর আগমন
========================
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম যখন এ পৃথিবীতে জন্মলাভ
করবেন তখন এ বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও শহরগুলো যুদ্ধবিগ্রহ,
খোদায়ী গজব, পরস্পরের কোন্দল ও খোদাদ্রোহী কর্মকাণ্ডের
দরুন প্রায় ধ্বংস হয়ে পড়বে এমনকি বিশ্বের কোন
দেশে ন্যায়পরায়ণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার শাসক থাকবে না।
বিশেষ করে মুসলমানদের শক্তি প্রায় নিঃশেষ হয়ে পড়বে।
নির্যাতিত, নিগৃহীত মুসলিমজনতার নেতৃত্বের
শূণ্যতা পূরণে আবির্ভুত হবেন ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালাম। তাঁর আবির্ভাবে নবপ্রাণ লাভ করবে দ্বীন ও
মাযহাব অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা ও
আমল পূনর্জীবন লাভ করবে। ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
হবেন আখেরী ইমাম ও আখেরী মুজাদ্দিদ। তাঁর পরে আর কোন
ইমাম ও মুজাদ্দিদ এ জগতে আসবেন না। তাঁর
আগমনে হারানো চেতনা ফিরে পাবে মুসলিমমিল্লাত। আদল
ইনসাফে ভরে উঠবে সমগ্রজগতে।
এ মর্মে অনেক হাদিস সন্দেহাতীতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তবে কখন ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আত্মপ্রকাশ
করবেন, তার দিন মাস ও সন নির্ধারিত করে বলা হয়নি।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম কখন এ
ধরাধামে আত্মপ্রকাশ করবেন, এ প্রসঙ্গে আল্লাহর হাবীব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত
হাদিসসমূহের প্রতি তোয়াক্কা না করে কোন কোন
ব্যক্তি মনগড়াভাবে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
জন্মগ্রহণ করেছেন বলে প্রচার করছে এবং তার বয়স এখন বিশ
বা পঁচিশ, কারো কারো মতে ত্রিশ বা চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত
হয়েছে।
এ বিষয়ে সাম্প্রতিককালে কোন কোন পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ
নিবন্ধও প্রকাশিত হয়েছে।
সহীহ হাদিসশরীফ ও তাফসিরের আলোকে প্রমাণিত রয়েছে,
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর আত্মপ্রকাশের
পূর্বে বিশ্বযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম যুদ্ধে খ্রিস্টানদের একদল মুসলমানদের মিত্র
হয়ে একযোগে শত্র“পরে সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ
যুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভ করবে।
দ্বিতীয় যুদ্ধে খ্রিস্টানদের মধ্যে মুসলমানদের যে মিত্রদল
ছিল, তারা শত্র“দলের সাথে মিলিত হয়ে মুসলমানদের
সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। অর্থাৎ খ্রিস্টানদের উভয়দল এক
প্লাটফরমে এসে মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। এ
যুদ্ধে মুসলমানগণ ভীষণ পরাজয় বরণ করবে। ফলে খ্রিস্টানদের
রাজত্ব কায়েম হবে। অবশিষ্ট মুসলমান
যোদ্ধারা মদিনাশরীফে প্রত্যাবর্তন করবেন। খায়বরের নিকট
পর্যন্ত খ্রিস্টান বা নাসারাদের প্রভাব থাকবে। অর্থাৎ
মুসলমানদের কোন দেশ ও কোন নেতা বাকী থাকবে না। এ
সংকটময় মুহূর্তে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
আত্মপ্রকাশ করবেন।
‘তাফসিরে দাহ্হাক’ নামক কিতাবের বর্ণনাতে পাওয়া যায়,
মক্বাশরীফ বিনষ্ট হবে হাবসী বা নিগ্রোবাহিনীর
দ্বারা এবং মদিনাশরীফের অধিবাসীগণ
দূর্ভিরে দ্বারা অধিক দুর্বল হয়ে পড়বে। বসরা ও কুফার
অধিবাসীগণ প্লাবনের দরন ধ্বংসে পতিত হবে।
এমনকি প্রত্যেকটি পাহাড় বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের দরুন বিনষ্ট
হবে। অতঃপর এক এক শহর করে বিশ্বের প্রত্যেকটি শহর ধ্বংস
হয়ে পড়বে।
এ সমস্ত আলামতে সুগরা বা ছোট ছোট আলামত প্রকাশ হওয়ার
পর, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আত্মপ্রকাশ করবেন।
বর্তমানবিশ্বে উপরিলিখিত
আলামতে সুগরা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হয় নাই বরং এ
সমস্ত আলামত প্রকাশ হতে চলছে।
এ সমস্ত আলামতে সুগরা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হওয়ার জন্য
আরো কয়েকশত বৎসরের প্রয়োজন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
হাদিসশরীফের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত আছে, ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম আত্মপ্রকাশের সপ্তম বৎসরে হযরত
ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহাস সালাম দুনিয়াতে অবতরণ
করে বর্ষা দ্বারা লুদ নামক
স্থানে দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
এতে প্রমাণিত হয় বিশ্বে বর্তমানে যে বিজ্ঞানের
কারুকার্য রয়েছে তা ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
আত্মপ্রকাশের পূর্বেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
আ’লা হযরতের অভিমত
==============
চৌদ্দশত শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আলা হযরত ইমাম আহমদ
রেজা খাঁন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট একব্যক্তি আরজ করল,
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম কবে আত্মপ্রকাশ করবেন?
উত্তরে আলা হযরত বললেন, কতেক ইলমের আলোকে আমার
ধারণা হচ্ছে, সম্ভবত ১৮৩৭ হিজরি সনে কোন
ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব পৃথিবীর
বুকে থাকবে না ( এবং এই নেতৃত্ব শূন্যতা চলবে ১৮৯৯
হিজরি পর্যন্ত) অতঃপর ১৯০০ হিজরিতে হযরত ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম আত্মপ্রকাশ করবেন।
আলা হযরত আজিমূল বারাকাত তাজুশ শরিয়ত
ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত ইমাম
আহমদ রেজাখাঁন বেরলভী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
দরবারে আরজী পেশ করা হল, হুজুর- এটা কি ইলমে জফরের
মাধ্যমে জানতে পরেছেন? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আমি এ
দুটি সময় অর্থাৎ ১৮৩৭ হিজরিতে কোন ইসলামী রাষ্ট্রের
অস্তিত্ব না থাকা এবং ১৯০০ হিজরিতে ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালামের আত্মপ্রকাশ করা সায়্যিদুল
মুকাশেফীন শায়খে আকবর মহিউদ্দিন ইবনুল
আরাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বাণী থেকে চয়ন করেছি।
শায়খে আকবর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইসলামী সুলতানাত
বা মুসলিম রাষ্ট্রের পরিসমাপ্তি সম্পর্কে ‘আয়কায’
আরবি শব্দ উল্লেখ করে বলেছেন- আমি ( ﺍﻳﻘﻆ ﺍﻟﻬﺠﺮﻳﺔ )
আয়াকাযে হিজরির কথা বলছিনা বরং ( ﺍﻳﻘﻆ ﺍﻟﺠﻔﺮﻳﺔ )
‘আয়কাযে জফরীর’ কথা বলছি।
আয়কাযে জফরীর হিসেব করলে বের হয় ১৮৩৭ সংখ্যা। উক্ত
শায়খ ইবনুল আরাবীর অন্য একটি বাণী থেকে চয়ন করেছি ১৯০০
হিজরিতে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর আত্মপ্রকাশ।
তিনি বলেন- যুগান্তরের ঘুর্ণায়মান কালচক্র যখন
‘বিসমিল্লাহ’ শরীফের হরফগুলোতে আসবে তখন ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম আসবেন। তাঁর যাত্রা শুরু
হবে হাতীমে কা’বা তথা হাজরে আসওয়াদ ও
মাকামে ইব্রাহিম থেকে। হে শ্রে“াতা! তাঁকে আমার প
থেকে সালাম বলবে।
উল্লেখ্য যে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ এর
মধ্যে আরবিতে ঊনিশটি বর্ণ রয়েছে। শায়খ ইবনুল আরাবীর
বাণীতে প্রত্যেক বর্ণ দ্বারা এক এক
শতাব্দীকে বুঝানো হয়েছে। অতএব ঊনিশ হরফে ১৯০০
হিজরি সন হয়। আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর প্রিয় হাবীব
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই
অধিক পরিজ্ঞাত। (মালফুজাতে আলা হযরত, প্রথম খণ্ড ১১২/১১৪
পৃ. দ্র)
ﻣﻠﻔﻮﻇﺎﺕ ﻣﺠﺪﺩ ﻣﺎﺋۃ ﺣﺎﺿﺮﮦ ﻣﻮﻳﺪ ﻣﻠﺖ ﻃﺎﮬﺮﮦ ﺍﻋﻠﯽ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻣﺎﻡ ﺍﺣﻤﺪ ﺭﺿﺎ ﺧﺎﻥ ﺻﺎﺣﺐ ﺭﺣﻤﮧ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮧ
ﺣﺼﮧ ﺍﻭﻝ ﺹ ١١۲
ﺍﻣﺎﻡ ﻣﮩﺪﯼ ﮐﮯ ﺑﺎﺭﮮ ﻣﯿﮟ ﺍﺣﺎﺩﯾﺚ ﺑﮑﺜﺮﺕ ﺍﻭﺭ ﻣﺘﻮﺍﺗﺮ ﮨﯿﮟ ﻣﮕﺮ ﺍﻥ ﻣﯿﮟ ﮐﺴﯽ ﻭﻗﺖ ﮐﺎ ﺗﻌﯿﻦ ﻧﮩﯿﮟ ﺍﻭﺭ
ﺑﻌﺾ ﻋﻠﻮﻡ ﮐﮯ ﺫﺭﯾﻌﮧ ﺳﮯ ﻣﺠﮩﮯ ﺍﯾﺴﺎ ﺧﯿﺎﻝ ﮔﺬﺭﺗﺎ ﮨﮯ ﮐﮧ ﺷﺎﯾﺪ ﺳﻨﮧ ۱۸٣٧ ﮪ ﻣﯿﮟ ﮐﻮﺉ ﺳﻠﻄﻨﺖ ﺍﺳﻼﻡ
ﺑﺎﻗﯽ ﻧﮧ ﺭﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﺳﻨﮧ ۱٩٠٠ ﮪ ﻣﯿﮟ ﺣﻀﺮﺕ ﺍﻣﺎﻡ ﻣﮩﺪﯼ ﻇﮩﻮﺭ ﻓﺮﻣﺎﺋﯿﮟ
ﭘﮩﺮﺣﺼﮧ ﺍﻭﻝ ﺳﮧ١۱۶ ﺻﻔﺤﮧ ﻣﯿﮟ ﮨﮯ
‏( ﭘﮩﺮ ﺧﻮﺩ ﮨﯽ ﺍﺭﺷﺎﺩ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ‏) ﮐﮧ ﻣﯿﮟ ﻧﮯ ﯾﮧ ﺩﻭﻧﻮﻥ ﻭﻗﺖ ﺳﮧ ١٨۳٧ ﮪ ﻣﯿﮟ ﺳﻠﻄﻨﺖ ﺍﺳﻼﻣﯽ ﮐﺎ ﺑﮍﮬﻨﺎ
ﺍﻭﺭ ﺳﮧ١٩٠٠ﮪ ﻣﯿﮟ ﺍﻣﺎﻡ ﻣﮩﺪﯼ ﮐﺎ ﻇﮩﻮﺭ ﻓﺮﻣﺎﻧﺎ ‏) ﺳﯿﺪ ﺍﻟﻤﮑﺎ ﺷﻔﯿﻦ ﺣﻀﺮﺕ ﺷﯿﺦ ﺍﮐﺒﺮ ﻣﺤﯽ ﺍﻟﯿﻦ ﺍﺑﻦ
ﻋﺮﺑﯽ ﺭﺿﯽ ﺍﻟﻠﮫ ﺗﻌﺎﻟﯽ ﻋﻨﮧ ﮐﮯ ﮐﻼﻡ ﺳﮯ ﺍﺧﺬ ﮐﮱ ﮨﯿﮟ ﺍﻟﻠﮧ ﺍﮐﺒﺮ ﮐﯿﺴﺎ ‌ﺯﺑﺮﺩﺳﺖ ﻭﺍﺿﺢ ﮐﺸﻒ ﺗﮭﺎ
— ﺍﺱ ﻣﯿﮟ ﺧﺘﻢ ﺳﻠﻄﻨﺖ ﺍﺳﻼﻣﯽ ﮐﯽ ﻧﺴﺒﺖ ﻟﻔﻆ ﺍﯾﻘﻆ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﺍﻭﺭ ﺻﺎﻑ ﺗﺼﺮﯾﺢ ﻓﺮﻣﺎﺉ ﮐﮧ ﻻﺍﻗﻮﻝ ﺍﯾﻘﻆ
ﺍﻟﮭﺠﺮﯾۃ ﺑﻞ ﺍﯾﻘﻂ ﺍﻟﺠﻔﺮﯾۃ ﻣﯿﮟ ﻧﮯ ﺍﺱ ﺍﯾﻘﻆ ﺟﻔﺮﯼ ﮐﺎ ﺟﻮﺣﺴﺎﺏ ﮐﯿﺎ ﺗﻮ ﺳﮧ ۱٨٣٧ ﮪ ﺁﺗﮯ ﮨﯿﮟ ﺍﻭﺭ ﺍﻧﮩﯿﮟ
ﮐﮯ ﺩﻭﺳﺮﮮ ﮐﻼﻡ ﺳﮯ ﺳﮧ ١۹٠٠ ﮪ ﻇﮩﻮﺭ ﺍﻣﺎﻡ ﻣﮩﺪﯼ ﮐﮯ ﺍﺧﺬ ﮐﮱ ﮨﯿﮟ ﻭﮦ ﻓﺮﻣﺎﺗﮯ ﮨﯿﮟ- ﺭﺑﺎﻋﯽ
ﺍﺫﺍ ﺩﺍﺭ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﻋﻠﯽ ﺣﺮﻭﻑ – ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﮧ ﻓﺎﻟﻤﮩﺪﯼ ﻓﺎﻣﺎ ﻭﯾﺨﺮﺝ ﻓﯽ ﺍﻟﺤﻄﯿﻢ ﻋﻘﯿﺐ ﺻﻮﻡ ﺍﻻﻓﺎﻗﺮﺁﮦ ﻣﻦ ﻋﻨﺪﯼ
ﺳﻼﻣﺎ
উল্লেখ্য যে, হযরত শায়খ আকবর মহিউদ্দিন
ইবনে আরাবী রাদিয়াল্লাহু আনহু উচ্চ পর্যায়ের একজন কাশ্ফ
বা গোপন তত্ত্ব প্রকাশ করার অধিকারী ছিলেন।
তুর্কী সালতানাতের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা উসমান পাশার
জন্মের অনেকদিন পূর্বেই মুহিউদ্দিন
ইবনে আরাবী তুর্কী বাদশাহ উসমান পাশা থেকে শুরু
করে তুর্কী সুলতানাতের পতনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সকল
মুসলমানদের বাদশাহ ও তাঁদের ওজীরগণের আগমনের
ঘটনা কাশফের দ্বারা বর্ণনা করে দিয়েছিলেন।
যা পরবর্তীতে বাস্তবে প্রমাণিত হয়ে ছিল।
খাজা আজমিরীর ভাষ্য
=============
উপমহাদেশের প্রখ্যত সুফি সাধক হযরত খাজায়ে খাজেগান
খাজা উসমান হারুনী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
অমীয়বাণী বা মলফুজাত তারই সুযোগ্যশিষ্য আতায়ে রাসূল
সুলতানুল হিন্দ খাজা মঈনুদ্দিন হাসান
চিশতি আজমিরী সাঞ্জারী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
লিখনে আনিসুল আরওয়াহ নামক কিতাবের তৃতীয়
মজলিসে উল্লেখ আছে-
পৃথিবী ধবংস হওয়ার কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
কারণসমূহ সম্পর্কে খাজা উসমান হারুনী বলেন- শেষ
যামানায় প্রতিটি শহরের অধিবাসীগণ
ব্যাপকভাবে গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যার দরুন
প্রত্যেকটি শহর বিনষ্ট হয়ে যাবে।
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি যখন
আমার পীর ও মুর্শিদের সঙ্গে সমরকন্দ সফরে ছিলাম, সে সময়
হযরত খাজা এহইয়া সমরকন্দী রাদিয়াল্লাহু
আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন- হযরত আমিরুল
মু’মিনীন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এরশাদ করেছেন, যখন এ
আয়াতে কারীমা নাজিল হলো-
ﻭﺍﻥ ﻣﻦ ﻗﺮﻳﺔ ﺍﻻ ﻧﺤﻦ ﻣﻬﻠﻜﻮﻫﺎ ﻗﺒﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﺍﻭ ﻣﻌﺬﺑﻮﻫﺎ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﺷﺪﻳﺪﺍ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻓﻰ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﻣﺴﻄﻮﺭﺍ –
অর্থ : ‘কোন জনপদ নেই, কিন্তু এমনই যে,
আমি সেটাকে কিয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করে ফেলবো,
কিংবা সেটাকে কঠিন শাস্তি দিবো। এটা কিতাবের
মধ্যে লিপিবদ্ধ আছে।’ (সূরা বনী ইসরাঈল ৫৮ নং আয়াত)
অর্থাৎ এমন কোন শহর নেই যেখানে কিয়ামত আসার
পূর্বে দুঃখ কষ্ট ও দুর্দশা অবতীর্ণ হবে না এবং এমন কোন শহর
নেই যেটা ধ্বংস ও নষ্ট হবে না।
অতঃপর এরশাদ ফরমান শেষ যুগে গোনাহের কাজ অধিক
পরিমাণে সংগঠিত হবে। হাবশীগণ (আবিসিনিয়ার
অধিবাসী, নিগ্রো) মক্বাশরীফকে বিরান বা জনশূন্য করবে।
মদিনা মুনাওয়ারা দূর্ভিরে কারণে জনশূণ্য হবে, এমনকি সকল
সৃষ্টি অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে।
বসরা, ইরাক এবং মাশহুদ মদ্যপান ও মহিলাদের কুকর্ম অধিক
পরিমাণে হওয়ার দরুন ধ্বংস হবে। এ সময় অনেক বিপদ মসিবত
অবতীর্ণ হতে থাকবে। শ্যাম বা সিরিয়া বাদশাহর জুলুম-
নির্যাতনের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ অবস্থায় আকাশ
থেকে এক প্রকার ফসল ধ্বংসকারী পোকা জমিনে পতিত হবে।
রোমরাজ্য সমকামিতার কারণে ধ্বংস হবে। এ সময় আকাশ
থেকে একটি বাতাস প্রবাহিত হবে, যাদ্বারা সকল লোক
শোয়ে যাবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে। খোরাসান এবং বলখের
ব্যবসায়ীগণ খিয়ানতের দরুন ধ্বংসে পতিত হবে, এ
কারণে মুসলমানগণ নরঘাতক বলে গণ্য হবে।
অতঃপর এরশাদ করেন যে, আমি (ওসমান) হযরত খাজা মওদুদ
চিশতী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জবান মোবারক
থেকে শুনেছি তিনি বলেন খাওয়ারিজম এবং তার
পার্শ্ববর্তী কয়েকটি শহর রং-তামাশা ও অপকর্মের
কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে। একে অন্যকে ধবংস
করবে এবং নিজেও ধবংস হয়ে যাবে।
সিস্তানদেশ ভূমিকম্প ও অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রলয়ের দরুন
ফেটে চৌচির হযে যাবে এবং সেখানকার অধিবাসীগণের
অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এমনকি মিশর এবং অপরাপর
শহরসমূহ এজন্য ধ্বংস হবে যে, শেষ যামানায়
সেখানে নারীদেরকে হত্যা করা হবে এবং হত্যাকারীগণ
বলবে এ হচ্ছে ফাতেমা। আল্লাহ তা’য়ালা যেন এ সকল
মিথ্যাবাদীদের মুখ মলিন করে দেন। অতঃপর আল্লাহ
তা’য়ালা তাদেরকে মাটিগর্ভে নিমজ্জিত করে দিবেন।
সিন্ধু এবং হিন্দুস্তান ধ্বংস হবে যিনা ও শরাব পানের
কারণে। অতঃপর এরশাদ করেন- মাশরিক ও মাগরিবে অর্থাৎ
পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত যতগুলি সিটি বা শহর
রয়েছে প্রতিটি শহরের ফাসাদ বা অপকর্মের বালা মসিবত
হিন্দুস্তানে পতিত হবে। যখন প্রতিটি শহর এমনভাবে বিনষ্ট
হয়ে যাবে ঠিক সেই সময় ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
আত্মপ্রকাশ করবেন। মাশরিক থেকে মাগরিব
তথা সারা দুনিয়ায় তখন ন্যায় প্রতিষ্টিত হবে। হযরত
ঈসা আলাইহি সালাম আসমান থেকে জমিনে অবতরণ করবেন।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম এর সময়ে সারা বিশ্বজগতে দ্বীন ইসলাম
পরিপূর্ণরূপে প্রতিষ্টিত হবে। এ সময় দিন খুব ছোট হয়ে যাবে।
সুতরাং একদিনের মধ্যে এক ওয়াক্ত নামায আদায় করা সম্ভব
হবে।
তারপর এরশাদ করেন- আমি খাজা হাজী রাহমাতুল্লাহি এর
যবান মোবারক থেকে শুনেছি যে, এ সময়ে এক বৎসর এক মাসের
ন্যায়, একমাস এক সপ্তার ন্যায়, এবং এক সপ্তাহ একদিনের
ন্যায় মনে হবে। এমনকি একদিন এক ওয়াক্ত নামাযের সম
পরিমাণ সময়ে চলে যাবে।
মুফতি আহমদ ইয়ারখাঁন নঈমীর ভাষ্য
হাকিমূল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী রাদিয়াল্লাহু
আনহু এর লিখিত ‘তাফসিরে নঈমী’ নামক কিতাবের ১৫
পারা ২৫১/২৫২ পৃষ্ঠায় সূরা বণীইসরাইলে ৫৮ নং আয়াতের
ব্যাখ্যায় বলেন-
১) মক্বাশরীফ বিরান বা জনশূন্য হবে হাবশী (নিগ্রো)
বাহিনীর দ্বারা।
২) মদিনাশরীফের অধিবাসীগণ দূর্ভি ও অনাহারে দুর্বল
হয়ে পড়বে।
৩) বসরানগরী প্লাবনের দরুন ধ্বংস হবে।
৪) কুফানগরী তুর্কিবাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হবে।
৫) সমস্ত পাহাড় পর্বত বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের দ্বারা বিনষ্ট
হবে।
৬) আভ্যন্তরীন চরম কোন্দলের দরুন খোরাসান শহর ধ্বংস হবে।
৭) বলখ রাজ্য অন্ধত্বের কারণে অর্থাৎ সেখানকার
অধিবাসীরা অবৈধ লেনদেনে জড়িত হওয়ার দরুন ধ্বংসপ্রাপ্ত
হবে।
৮) বদখশা কয়েকটি জাতির মিলিত শক্তির দ্বারা ধ্বংস
হবে।
৯) তিরমিজ অঞ্চলের অধিবাসীরা ব্যাপক মহামারীর
প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত হবে।
১০) সাকানিয়া ও
১১) শাজারদিয়া উভয় অঞ্চলের অধিবাসীগণ অন্য জাতির
বহি:আক্রমনের দরুন ধ্বংস হবে।
১২) সমরকন্দের উপর কানতুর সম্প্রদায়ের
লোকেরা বিজয়ী হবে এবং সকল
অধিবাসীদেরকে হত্যা করবে।
১৩) পেশওয়ার, খাওয়ারজম এবং বোখারা অঞ্চলসমূহ দূর্ভি ও
অনাহারে পতিত হবে।
১৪) মরু অঞ্চলের অধিবাসীরা তাদের দেশের আলেম উলামা ও
নেককার লোকদের প্রাণনাশ করবে, অতঃপর
তারা বিভিন্নরূপে আক্রান্ত হয়ে নিপাত হয়ে যাবে।
১৫) হিরাত অঞ্চলের অধিবাসীগণ সাপ বিচ্ছু প্রভৃতির
দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
১৬) নিশাপুর অঞ্চল প্লাবন ও বজ্রপাতের দরুণ ধ্বংস হবে।
১৭) আরমেনিয়া, আজারবাইজান এবং আফগান বিভিন্ন
উপজাতির দ্বারা ধ্বংস হবে।
১৮) হামদান অঞ্চলের লোকদেরকে দায়লাম জাতি ধ্বংস
করবে।
১৯) দায়লাম অঞ্চল প্রবল ঝড়ের দরুন বিনষ্ট হবে।
২০) হালওয়ানের অধিবাসীদেরকে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বানর
ও শুকরে পরিণত করে শাস্তি দেওয়া হবে।
২১) মিশরের অধিবাসী ওয়াইল বা ব্যাপক
মহামারি রোগে আক্রান্ত হবে এবং ধ্বংসে পতিত হবে।
২২) দামেস্ক, আফ্রিকা, রামাল্লা এ তিনটি অঞ্চল ওয়াইল
বা ব্যাপক মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংশ হবে।
২৩) ফিরমান, ইস্পাহান, প্যারিস প্রভৃতি এলাকার লোকজন
দিল ফেটে মারা যাবে।
২৪) ইউরোপীয় দেশগুলো প্লাবনের দরুন ধ্বংস হবে।
২৫) চীন, রুশ, জার্মান ভূগর্ভের লুকায়িত বস্তু বেশিরভাগ
বারুদীয় বস্তুসমূহ এটেম ইত্যাদি দ্বারা ধ্বংস হবে।
২৬) ভারত, ইয়ামনদেশ আসমানী এক জাতীয়
পোকা দ্বারা আক্রান্ত হবে এবং জমিনে অত্যাচারী শাসক
কর্তৃক ধ্বংস হবে।

>>>> সৈয়দ মাহমুদ আলুসীর ভাষ্য
==========================
মুফতিয়ে বাগদাদ আল্লামা সৈয়দ মাহমুদ
আলূসি বাগদাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয় ‘তাফসিরে রুহুল
মায়ানী’ নামক কিতাবের (১৫পারা) সূরা বনী ইসরাঈলের ৫৮
নং আয়াতে ﻭﺍﻥ ﻣﻦ ﻗﺮﻳﺔ ﺍﻻﻧﺤﻦ ﻣﻬﻠﻜﻮﻫﺎ ﺍﻟﺦ এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ﻭﺟﺪﺕ ﻓﻰ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻀﺤﺎﻙ ﺑﻦ ﻣﺰﺍﺣﻢ ﻓﻰ ﺗﻔﺴﻴﺮﻫﺎ ﺍﻣﺎﻣﻜﺔ ﻓﺘﺨﺮﺑﻬﺎ ﺍﻟﺤﺒﺸﺔ ﻭﺗﻬﻠﻚ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﺑﺎﻟﺠﻮﻉ ﻭﺍﻟﺒﺼﺮﺓ
ﺑﺎﻟﻐﺮﻕ ﻭﺍﻟﻜﻮﻓﺔ ﺑﺎﻟﺘﺮﻙ ﻭﺍﻟﺠﺒﺎﻝ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﻋﻖ ﻭﺍﻟﺮﻭﺍﺟﻒ ﻭﺍﻣﺎ ﺧﺮﺍﺳﺎﻥ ﻓﻬﻼﻛﻬﺎ ﺿﺮﻭﺏ ﺛﻢ ﺫﻛﺮ ﺑﻠﺪﺍ ﺑﻠﺪﺍ –
অর্থাৎ ‘আল্লামা আলুসি বাগদাদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
আমি ‘তাফসিরে দাহ্হাক’ নামক
কিতাবে পেয়েছি মক্বাশরীফ বিনষ্ট
হবে হাবশী বা নিগ্রো বাহিনীর
দ্বারা এবং মদিনাশরীফের অধিবাসীগণ
দূর্ভিরে কারণে দুর্বল হয়ে পড়বে। বসরানগরী প্লাবনের দরুন
ধ্বংসে পতিত হবে। কুফার অধিবাসীগণ প্লাবনের দরুন
ধ্বংসে পতিত হবে। এমনকি প্রত্যেকটি পাহাড় বজ্রপাতে ও
ভূমিকম্পের দ্বারা বিনষ্ট হবে।
খোরাসান শহর আভ্যন্তরীন চরম কোন্দলের দরুন ধ্বংস হবে।
অতঃপর এক এক শহর করে প্রত্যেকটি শহর ধ্বংসের কারণসমূহ
বর্ণনা করেছেন।’
>>>>> আল্লামা ইসমাইল হক্বী বরসয়ীর ভাষ্য
===================================
আল্লামা ইসমাঈল হাক্বী বরসয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয়
‘তাফসিরে রুহল বয়ান’ নামক কিতাবের ৫ম খণ্ড ১৭৬ পৃষ্ঠায়
সূরা বনী ইসরাঈলের ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ﻭﻗﺪ ﻗﻴﻞ ﺍﻟﻬﻼﻙ ﻟﻠﻘﺮﻯ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﺔ ﻭﺍﻟﻌﺬﺍﺏ ﻟﻠﻄﺎﻟﺤﺔ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺧﺮﺍﺏ ﻣﻜﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﺒﺸﺔ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﻮﻉ
ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺒﺼﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻐﺮﻕ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻳﻠﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺮﺍﻕ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺠﺰﻳﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺒﻞ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺸﺎﻡ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻭﻡ
ﻭﺧﺮﺍﺏ ﻣﺼﺮ ﻣﻦ ﺍﻧﻘﻄﺎﻉ ﺍﻟﻨﻴﻞ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻻﺳﻜﻨﺪﺭﻳﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺮﻳﺮ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻻﻧﺪﻟﺲ ﻣﻦ ﺍﻟﺮﻭﻡ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﻓﺎﺭﺱ
ﻣﻦ ﺍﻟﺰﻻﺯﻝ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﺻﻔﻬﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﻧﻬﺎﻭﻧﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺒﻞ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺧﺮﺍﺳﺎﻥ ﻣﻦ ﺣﻮﺍﻓﺮ ﺍﻟﺨﻴﻞ
ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺮﻯ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻠﻢ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺪﻳﻠﻢ ﻣﻦ ﺍﻻﺭﻣﻦ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻻﺭﻣﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﺰﺭ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺤﺰﺭ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺮﻙ
ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺘﺮﻙ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻮﺍﻋﻖ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﺴﻨﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻬﻨﺪ ﻭﺧﺮﺍﺏ ﺍﻟﻬﻨﺪ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﺳﺪ ﻳﺄﺟﻮﺝ ﻭﻣﺎﺟﻮﺝ
ﻭﺭﻭﻯ ﻋﻦ ﻭﻫﺐ ﺑﻦ ﻣﻨﺒﻪ ﺍﻥ ﺍﻟﺠﺰﻳﺮﺓ ﺍﻣﻨﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺨﺮﺍﺏ ﺣﺘﻰ ﺗﺨﺮﺏ ﺍﺭﻣﻴﻨﻴﺔ ﻭﺍﺭﻣﻴﻨﻴﺔ ﺍﻣﻨﺔ ﺣﺘﻰ ﺗﺨﺮﺏ ﻣﺼﺮ
ﻭﻣﺼﺮ ﺍﻣﻨﺔ ﺣﺘﻰ ﺗﺨﺮﺏ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔ ﻭﻻﺗﻜﻮﻥ ﺍﻟﻤﻠﺤﻤﺔ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ﺣﺘﻰ ﺗﺨﺮﺏ ﺍﻟﻜﻮﻓﺔ ﻭﺍﺫﺍﻛﺎﻧﺖ ﺍﻟﻤﻠﺤﻤﺔ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ
ﻓﺘﺤﺖ ﻗﺴﻄﻨﻄﻴﻨﻴﺔ ﻋﻠﻰ ﻳﺪﻯ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺑﻨﻰ ﻫﺎﺷﻢ –
অর্থাৎ ‘কোন কোন মুফাসসির বলেছেন- নিরাপদ
জনপদগুলো ধ্বংস হবে এবং নৈরাজ্যজনিত
কারণে বিপদে পতিত হবে। মুফাসসিরীনে কেরামগণ বলেছেন,
হাবশী বা নিগ্রোবাহিনী দ্বারা মক্বাশরীফ বিরান
বা জনশূন্য হবে। মদিনাশরীফের বাসিন্দাগণ দূর্ভিজনিত
কারণে দুর্বল হয়ে পড়বে। বসরানগরী প্লাবনের দ্বারা ধ্বংস
হবে। ইরাকের দ্বারা আয়েলা বা বায়তুল মুকাদ্দস মারাত্মক
তিগস্থে পতিত হবে। আভ্যান্তরীন কোন্দলের দরুন আরব
উপদ্বীপগুলো ধ্বংসে পতিত হবে। রোম দ্বারা শ্যামদেশ
মারাত্মক বিপর্যয়ে পতিত হবে। নীলনদ বন্ধ হওয়ার
কারণে মিসর ভীষণ বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়বে। বারির
কর্তৃক ইস্কান্দরীয়া তিগ্রস্থ হবে। রোমের দ্বারা উন্দুলুস
বিরান হয়ে পড়বে।
ভূমিকম্প দ্বারা প্যারিস ধ্বংস হয়ে পড়বে। দাজ্জালের
দ্বারা ইস্পাহাননগরী ধ্বংস হবে। আত্ম-কলহের দরুন
নাহাওয়ন্দ মারাত্মক তিগ্রস্থ হবে। অশ্বারোহীদের আক্রমন
দ্বারা খোরাসান তিগ্রস্থ হবে। দায়লাম
দ্বারা রায়নগরী মারাত্মক তিগ্রস্থ হবে।
আরমেনিয়া দ্বারা দায়লামনগরী ভীষণ বিপগগ্রস্থ হবে।
খাযর দ্বারা আরমেনিয়া ধ্বংসে পতিত হবে।
এবং তুর্কী দ্বারা খাযর নগরী বিরান হয়ে যাবে। বজ্রপাত
দ্বারা তুরস্ক তছনছ হয়ে যাবে। হিন্দুস্তান
দ্বারা সিন্ধুনগরীর ভয়াবহ তি সাধিত হবে। এমনকি ইয়াজুজ
মাজুজ দ্বারা হিন্দুস্তান ধ্বংসে পতিত হবে।
ওহাব বিন মুনাব্বাহ হতে বর্ণিত,
আমনা উপদ্বীপগুলো ধ্বংসে পতিত হবে,
এমনকি আরমেনিয়া ভীষণ তিগ্রস্থের কবলে পড়ে যাবে।
আমনা কর্তৃক আরমেনিয়া ধ্বংস হবে, এমনকি মিশরও
ধ্বংসে পতিত হবে। মিশর কর্তৃক কুফানগরী বিনষ্ট হয়ে যাবে।
কুফানগর তিগ্রস্থ হওয়া ছাড়া প্রচন্ত যুদ্ধ বা বিশ্বযুদ্ধ
সংঘটিত হবে না। যখন বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হবে-
কুছতুনতিনিয়া (Constatinaple) ﻗﺴﻄﻨﻄﻴﻨﻴﻪ তখন বনী হাশেম
গোত্রের এক মহান ব্যক্তি অর্থাৎ ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালাম দ্বারা কুছতুনতিনিয়া বিজিত হবে।’

>>>> ইমাম মাহদীর পরিচয়
======================
>>>>> ইমাম মাহদী কে?
======================
কেয়ামতের আলামতে কুবরার মধ্যে প্রথম নিদর্শন হলো ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালামের আবির্ভাব। মাহদী শব্দের
আভিধানিক অর্থ হিদায়াতপ্রাপ্তব্যক্তি।
হাদিসশরীফে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যে মাহদীর আবির্ভাবের সুসংবাদ দিয়েছেন,
তিনি নির্দিষ্ট এক ব্যক্তি। তিনি সায়্যিদা হযরত
ফাতেমাতুয যোহরা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর বংশের হবেন।
তাঁর নাম হবে মুহাম্মদ এবং তাঁর পিতার নাম হবে আব্দুল্লাহ
এবং মায়ের নাম হবে আমিনা। সিকল ও সুরত বা আকার
আকৃতিতে তিনি আল্লাহর রাসূলের অনুরূপ হবে না সত্য- কিন্তু
আদব আখলাক, আদত বা স্বভাব চরিত্রের দিক
থেকে তিনি হাবীবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুরূপ (পূর্ণ অনুসারি) হবেন।
তিনি হবেন মদিনাশরীফের বাসিন্দা এবং প্রকাশিত হবেন
মক্বাশরীফে। সিরিয়া এবং ইরাকের অলী আউলিয়াগণ তাঁর
হতে বায়আত হবেন। তিনি খানায়ে কাবার গচ্ছিত ধন ভাণ্ডর
বের করে মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করবেন।
প্রথমে তিনি আরবের এবং পরে সারা বিশ্বের শাসক হবেন।
সারা বিশ্বে আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্টিত করবেন, তার
পূর্বে দুনিয়া অত্যাচার ও অবিচারে ভরে যাবে।
তিনি শরিয়তে মুহাম্মদীয়া অনুযায়ী আমল করবেন।
এমনি অবস্থায় তাঁর খিলাফতের দায়িত্ব সাত বৎসর
মতান্তরে আট বৎসর স্থায়ী হবে। অতঃপর তিনি ইন্তেকাল
করবেন। ইমাম মাহদীর যামানায় দাজ্জাল বের
হবে এবং ইমাম মাহদীর শাসনকালেই হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম দামেস্কের মসজিদের পূর্ব মিনারার উপর ফজরের
নামাযের সময় অবতীর্ণ হবেন এবং ইমাম মাহদীর
পিছনে নামায আদায় করবেন। এক বর্ণনা মতে ইমাম
মাহদী খ্রিস্টানদের সাথে জিহাদ করবেন
এবং কনষ্ট্রান্ট্রিনোপল জয় করবেন।
হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ৪৫ বৎসরকাল শাসন করবেন
এবং তাঁর যামানায় ইয়াজুজ মাজুজ বের হবে।
ইমাম মাহদী আওলাদে রাসূল
=================
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম হবেন আওলাদে রাসূল
তথা হাসানী সৈয়দ বংশদ্ভুত এ প্রসঙ্গে সূনানে আবুদাউদ
দ্বিতীয় জিলদের ২৪৯ পৃষ্ঠা ও মিশকাতশরীফে ৪৭১ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺍﺳﺤﻖ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻋﻠﻰ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻭﻧﻈﺮ ﺍﻟﻰ ﺍﺑﻨﻪ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﻳﻘﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﺑﻨﻰ ﻫﺬﺍ ﺳﻴﺪ ﻛﻤﺎ ﺳﻤﺎﻩ
ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺳﻴﺨﺮﺝ ﻣﻦ ﺻﻠﺒﻪ ﺭﺟﻞ ﻳﺴﻤﻰ ﺑﺎﺳﻢ ﻧﺒﻴﻜﻢ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﺸﺒﻬﻪ ﻓﻰ
ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻭﻻ ﻳﺸﺒﻬﻪ ﻓﻰ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﺛﻢ ﺫﻛﺮ ﻗﺼﺔ ﻳﻤﻼﺀ ﺍﻻﺭﺽ ﻋﺪﻻ- ﺍﺑﻮﺩﺅﺩ ۲/ ۲۶۹ ﻣﺸﻜﻮﺓ ۶٧١
ভাবার্থ: হযরত আবু ইসহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি বলেন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় সন্তান
হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি তাকিয়ে বললেন,
বলা হয়ে থাকে আমার এ সন্তান সাইয়্যিদ বা সরদার।
যেভাবে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তাঁর এ নাম করণ করেছেন।
আর অচিরেই তাঁর বংশ থেকে একব্যক্তির (ইমাম মাহদীর)
আবির্ভাব হবে, যার নাম তোমাদের নবীর নামে হবে। স্বভাব
চরিত্রের দিক থেকে তাঁর সামঞ্জস্য থাকবে কিন্তু সৃষ্টিগত
দিক দিয়ে অনুরূপ হবে না। (আবু দাউদ দ্বিতীয় খণ্ড ২৪৭ পৃষ্ঠা ও
মিশকাত ৪৭১ পৃষ্ঠা)
অনুরূপ সূনানে আবুদাউদ শরীফের দ্বিতীয় জিলদের ২৪৮
পৃষ্ঠা ও মিশকাতশরীফের ৪৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺳﻌﻴﺪ ﺍﻟﺨﺪﺭﻯ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﻤﻬﺪﻯ ﻣﻦ ﺍﺟﻠﻰ ﺍﻟﺠﺒﻬﺔ ﺍﻗﻨﻰ ﺍﻻﻧﻒ
ﻳﻤﻼﺀ ﺍﻻﺭﺽ ﻗﺴﻄﺎ ﻭﻋﺪﻻ ﻛﻤﺎ ﻣﻠﻴﺌﺖ ﻇﻠﻤﺎ ﻭﺟﻮﺭﺍ ﻭﻳﻤﻠﻚ ﺳﺒﻊ ﺳﻴﻨﻦ – ﺍﺑﻮﺩﺍﺅﺩ ۲ -۲۶٨ ﻣﺸﻜﻮﺓ ۶٧٠
‘হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম আমার থেকে। তাঁর
চেহারা হবে অতি উত্তম, উন্নত নাসিকা বিশিষ্ট।
তিনি ন্যায়নীতি ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করবেন পৃথিবীকে,
যেভাবে জুলুম ও দুঃশাসনে পরিপূর্ণ এ পৃথিবী। তিনি সাত
বৎসর পর্যন্ত এ সু-শাসন পরিচালনা করবেন। (আবু দাউদ দ্বিতীয়
খণ্ড ২৪৮ পৃষ্ঠা ও মিশকাত শরীফ ৪৭০ পৃষ্ঠা)
উল্লেখিত উভয় হাদিসশরীফ একথাই প্রমাণ করে যে, ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম এর নাম হবে ‘মুহাম্মাদ’। স্বভাব
চরিত্রের দিক থেকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়সাল্লাম এর সাথে থাকবে পূর্ণ সামঞ্জস্য কিন্তু
সৃষ্টি বা আকৃতিগত দিক থেকে তিনি নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাদৃশ্যপূর্ণ হবে না।
তিনি (ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম) অতি সুন্দর
চেহারা বিশিষ্ট, ন্যায় পরায়ন ও সু-শাসক হিসেবে আবির্ভুত
হবেন। জুলুম নির্যাতন থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করবেন এবং এ সু-
শাসন সাত বৎসর তথা তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নবম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আল্লামা জালালউদ্দিন
সুয়ুতি রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয় ‘আল হাভিলিল ফাতাওয়া’
নামক কিতাবের দ্বিতীয় জিলদের ১৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻠﺒﺚ ﺍﻟﺪﺟﺎﻝ ﻓﻴﻜﻢ ﻣﺎﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺛﻢ ﻳﻨﺰﻝ ﻋﻴﺴﻰ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﻣﺼﺪﻗﺎ
ﺑﻤﺤﻤﺪ ﻭﻋﻠﻰ ﻣﻠﺘﻪ ﺍﻣﺎﻣﺎ ﻣﻬﺪﻳﺎ ﻭﺣﻜﻢ ﻋﺪﻻ ﻓﻴﻘﺘﻞ ﺍﻟﺪﺟﻞ …
ﻭﺍﺧﺮﺝ ﺍﺑﻦ ﻋﺴﺎﻛﺮ ﺍﻳﻀﺎ ﻣﻦ ﺣﺪﻳﺚ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ’ ﻛﻴﻒ ﺗﻬﻠﻚ
ﺍﻣﺔ ﺍﻧﺎ ﺍﻭﻟﻬﺎ ﻭﻋﻴﺴﻰ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ﺍﺧﺮﻫﺎ ﻭﺍﻟﻤﻬﺪﻯ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻰ ﻓﻰ ﻭﺳﻄﻬﺎ ‘
ভাবার্থ: আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী ফরমান, তোমাদের
মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা মোতাবেক দাজ্জাল অবস্থান
করবে। অতঃপর (খোদায়ী দাবিদার দাজ্জালকে ধ্বংস করার
জন্য) হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিমাস সালাম
দ্বীনে মুহাম্মাদীর পূর্ণ অনুকরণে অবতীর্ণ হবেন, এবং সেই
মিল্লতের উপরই ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম অবস্থান
করে জগতে ন্যায় পরায়ন প্রতিষ্টিত করবেন। এ অবস্থায়
দাজ্জালকে ধ্বংস করা হবে।
ইবনে আসাকির রাদিয়াল্লাহু আনহু ইবনে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, নূরনবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আলীশান ফরমান, উম্মত
কি অবস্থায় ধ্বংস হবে? আমি (মোহাম্মদ) হলাম আউয়াল
(প্রথমে) হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম হলেন
আখেরী (শেষে) এবং আমার আহলে বায়েতের মধ্য
থেকে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম থাকবেন মধ্যখানে।
অর্থাৎ আমি নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালাম আত্মপ্রকাশ করবেন। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম দুনিয়াতে অবতরণ করবেন।’
উল্লেখিত উভয় হাদিসশরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত
হলো-
১) আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ফরমান মোতাবেক ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর
উপাধী হলো ‘ইমাম’। এজন্যই আল্লাহর হাবীব নিজেই
বলেছেন ﺍﻣﺎﻣﺎ ﻣﻬﺪﻳﺎ (ইমামান মাহদিয়ান)
ইমাম মাহদী হচ্ছেন আখেরী ইমাম ও আখেরী মুজাদ্দিদ।
সুতরাং বর্তমানযুগে কাউকে আখেরী ইমাম ও
আখেরী মুজাদ্দিদ বলা যাবে না। যারা এরূপ
দাবি করবে তারা হবে ভণ্ড বাতিল ও জাহান্নামী।
২) কেয়ামতের ছোট ছোট আলামত বা নিদর্শন
পরিপূর্ণভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরই ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালাম আত্মপ্রকাশ করবেন অর্থাৎ হযরত ঈসা আলাইহিস
সালাম দুনিয়াতে অবতরণের পূর্বেই ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালাম আত্মপ্রকাশ করবেন। অতঃপর
তারা উভয়ে খোদায়ী দাবিদার দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
৩) ইমাম মাহদী আলাইহি সালাম আহলে বায়আত হযরত
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার আওলাদ
হাসানী হোসাইনী বংশে জন্মগ্রহণ করবেন।
সুনানে আবু দাউদশরীফের দ্বিতীয় জিলদের ২৪৮ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻤﻬﺪﻯ ﻣﻦ ﻋﺘﺮﺗﻰ ﻣﻦ ﻭﻟﺪ ﻓﺎﻃﻤﺔ –
ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻮﺩﺍﺅﺩ – ۲ / ۲۶۸
ভাবার্থ- ‘হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু
আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি।
তিনি এরশাদ করেছেন, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
আমারই বংশদ্ভুত হযরত ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার
আওলাদের মধ্য থেকে আবির্ভুত হবেন। (আবু দাউদ ২য় জিলদের
২৪৮ পৃ.)
অন্য এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে-
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻯﺎﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻﺗﺬﻫﺐ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺣﺘﻰ
ﻳﻤﻠﻚ ﺍﻟﻌﺮﺏ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻰ ﻳﻮﺍﻃﻰ ﺍﺳﻤﻪ ﺍﺳﻤﻰ ﻭﺍﺳﻢ ﺍﺑﻴﻪ ﺍﺳﻢ ﺍﺑﻰ – ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻮﺩﺍﺅﺩ – ۲ / ۲۶٧
ﺗﺮﻣﺬﻯ ۲ / ۶٦
ভাবার্থ- ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, দুনিয়া ধ্বংস
হবে না, যতণ পর্যন্ত আমার আহলে বায়েতের এমন এক
ব্যক্তি আরবের মতার মালিক না হবেন, যার নাম হবে আমারই
নামানুসারে অর্থাৎ তাঁর নাম হবে ‘মুহাম্মদ’ এবং তাঁর
পিতার নাম হবে ‘আব্দুল্লাহ’। (আবু দাউদশরীফ ২য় জিলদের
২৪৭ পৃষ্ঠা, তিরমিজিশরীফ ২য় জিলদের ৪৬ পৃষ্ঠা)
উপরিলিখিত উভয় হাদিসশরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত
হলো, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম কিয়ামতের
পূর্বে আত্মপ্রকাশ করবেন। তাঁর নাম হবে ‘মুহাম্মদ’ এবং তাঁর
পিতার নাম হবে ‘আব্দুল্লাহ’।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আহলে বায়আত হযরত
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার আওলাদ
হাসানী হোসাইনী বংশে জন্মগ্রহণ করবেন।
একথাও প্রমাণিত হলো, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
সারা আরব তথা সারা বিশ্বে রাজত্ব করবেন।
উল্লেখ্য যে, আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন ( ﺍﻟﻤﻬﺪﻯ ﻣﻦ ﻋﺘﺮﺗﻰ ﻣﻦ ﻭﻟﺪ ﻓﺎﻃﻤﺔ )
ইমাম মাহদী আমারই বংশদ্ভুত ফাতেমার আওলাদ।
এতে প্রমাণিত হলো ফাতেমার আওলাদকেই আওলাদে রাসূল
বলা হয়ে থাকে। যেহেতু আল্লাহর হাবীবের কোন
ছেলে বংশ ছিল না।

>>>>> আহলে বায়েতের মর্যাদা
=========================
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম যেহেতু
আওলাদে ফাতেমা তথা আহলে বায়েতের অন্তর্ভুক্ত হবেন এই
জন্য আহলে বায়েতের পরিচিতি ও
মর্যদা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
এ সম্পর্কে সূরা আহযাব ৩৩ নং আয়াতে এরশাদ হচ্ছে-
ﺍﻧﻤﺎ ﻳﺮﻳﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻴﺬﻫﺐ ﻋﻨﻜﻢ ﺍﻟﺮﺟﺲ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻭﻳﻄﻬﺮﻛﻢ ﺗﻄﻬﻴﺮﺍ .
অর্থাৎ ‘হে নবীর আহলে বায়ত! আল্লাহ তা’য়ালা এটাই চান
যে, তোমাদেরকে প্রতিটি অপবিত্রতা থেকে দূরে রাখেন
এবং তোমাদেরকে খ্বুই পাকপবিত্র করেন।’
সহীহ মুসলিমশরীফের ২য় জিলদের ২৮৩ পৃষ্ঠায় হযরত
আয়েশা সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু
আনহা থেকে একখানা হাদীসশরীফ বর্ণিত আছে।
একদা আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সকাল বেলা কারুকার্য খচিত একখানা চাদর মোবারক
পরিহিত অবস্থায় বের হলেন, এমতাবস্থায় হযরত হাসান বিন
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আগমন করলে তাঁকে চাদর
মোবারকের ভিতরে প্রবেশ করালেন, অতঃপর হযরত হুসাইন
রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই চাদর মোবারকের
ভেতরে ঢুকে পড়লেন। এরপর হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু
আনহা ও হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আগমন
করলে ক্রমান্বয়ে আল্লাহর হাবীব তাঁদেরকে চাদর
মোবারকের ভেতরে প্রবেশ করালেন। এরপর
মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
নিম্নোক্ত আয়াতে কারীমা তেলাওয়াত করলেন-
ﺍﻧﻤﺎ ﻳﺮﻳﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻴﺬﻫﺐ ﻋﻨﻜﻢ ﺍﻟﺮﺟﺲ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻭﻳﻄﻬﺮﻛﻢ ﺗﻄﻬﻴﺮﺍ .
উল্লেখ যে, আয়াত মর্মে বুঝা গেল পাক এবং হাদীস
মর্মে পাওয়া গেল পাঁচজন-
১। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ২। হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৩। হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু । ৪। হযরত
ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা। ৫। হযরত
আলী মুরতাজা রাদিয়াল্লাহু আনহু। এজন্যই এ
পাঁচজনকে বলা হয় পাকপাঞ্জাতন এবং তারাও
আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত।
পারিভাষিক অর্থে আহলে বায়ত বলতে ঘরের
অধিবাসীদেরকে বলা হয়ে থাকে। আহলে বায়তে নবী এর
অর্থ নবীর ঘরের অধিবাসীগণ। আবার ঘরের অধিবাসী হবার
তিনটি সুরত রয়েছে। একটি হচ্ছে নবীর ঘরে জন্ম
হওয়া এবং নবীর ঘরেই থাকা। যেমন আল্লাহর হাবীব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চার পুত্র, তৈয়ব,
তাহের, কাশেম ও ইব্রাহিম রাদিয়াল্লাহু আনহুম। দ্বিতীয়
সূরত হচ্ছে, নবীঘরে জন্ম হয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে অন্যের
ঘরে থাকেন, যেমন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর চার কন্যা- যয়নব, কুলসুম,
রোকেয়া এবং ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না,
এরা আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ঘরেই জন্মগ্রহণ করেছেন কিন্তু বিবাহের পর নিজ নিজ
শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। হযরত জয়নব আবুল আসের ঘরে।
রোকেয়া ও কুলসুম হযরত উসমান ইবনে আফফানের
ঘরে এবং হযরত ফাতেমাতুয যুহরা রাদিয়াল্লাহু আনহা হযরত
আলী কাররামাহুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘরে ছিলেন।
উপরোক্ত দু’প্রকারের আহলে বায়তকে জন্মগত আহলে বায়ত
বলা হয়ে থাকে। তৃতীয় সুরত হচ্ছে, অন্যত্র জন্মগ্রহণ করেছেন
কিন্তু পরে নবীর ঘরে রয়েছেন যেমন হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিতা স্ত্রীগণ।
যাদের জন্ম নিজেদের মা বাবার ঘরে হয়েছেন কিন্তু
আল্লাহর হাবীবের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার পর তাঁর
ঘরেই রয়েছেন। এদেরকে আহলে বায়তে সুকুন বা অবস্থানগত
আহলে বায়ত বলা হয়ে থাকে। এ তিন প্রকারের
অধিবাসী হচ্ছেন আহলে বায়তে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমাদের বাংলা ভাষায়, স্ত্রী ও
ছেলে-মেয়ে সবাইকে ঘরের বাসিন্দা বলা হয়।
সুতরাং এটাই সঠিক যে, হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল ছেলে-মেয়ে ও সম্মানিত
স্ত্রীগণ মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত।
তদুপরি আল্লাহর রাসূলের যুগের পরে হযরত
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত আকিল রাদিয়াল্লাহু আনহু,
হযরত জা’ফর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আল বা বংশধরগণও আহলে বায়তের
অন্তর্ভুক্ত। (তাফসিরে খাজিন, তাফসিরে কবির ইত্যাদি)
আল্লামা ফখরুদ্দিন রাজী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয়
‘তাফসিরে কবির’ নামক কিতাবের ২৫শ জুজের ২১০ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেন-
ﻟﻴﺪﺧﻞ ﻓﻴﻪ ﻧﺴﺎﺀ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﻭﺭﺟﺎﻟﻬﻢ ﻭﺍﺧﺘﻠﻔﺖ ﺍﻻﻗﻮﺍﻝ ﻓﻰ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻭﺍﻻﻭﻟﻰ ﺍﻥ ﻳﻘﺎﻝ ﺍﻭﻻﺩﻩ ﻭﺍﺯﻭﺍﺟﻪ
ﻭﺍﻟﺤﺴﻦ ﻭﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﻣﻨﻬﻢ ﻭﻋﻠﻰ ﻣﻨﻬﻢ ﻻﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﺑﺴﺒﺐ ﻣﻌﺎﺷﺮﺗﻪ ﺑﺒﻨﺖ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ
ﻭﻣﻼﺯﻣﺘﻪ ﻟﻠﻨﺒﻰ .
অর্থাৎ ‘আহলে বায়তের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত
রয়েছেন। (আহলে বায়ত কারা?) এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত
রয়েছে, তন্মধ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য মতামত হল, রাসূলেপাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আওলাদ ও আল্লাহর
হাবীবের সম্মানিতা বিবিগণ। হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন
রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সকলেই আহলে বায়তের মধ্যে শামিল
রয়েছেন এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও
আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, কেন
না তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর সাথে বিবাহ
বন্ধনে আবদ্ধ হবার কারণে এবং আল্লাহর হাবীবের একান্ত
সংশ্লিষ্টতার দরুন তিনিও আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ ‘তাফসিরে খাযিন’ নামক কিতাবের ৫ম খণ্ড ২১৩ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেছেন-
ﻭﻗﺎﻝ ﺯﻳﺪﺑﻦ ﺍﺭﻗﻢ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻣﻦ ﺣﺮﻡ ﺍﻟﺼﺪﻗﺔ ﺑﻌﺪﻩ ﺍﻝ ﻋﻠﻰ ﻭﺍﻝ ﻋﻘﻴﻞ ﻭﺍﻝ ﺟﻌﻔﺮ ﻭﺍﻝ ﻋﺒﺎﺱ .
অর্থাৎ ‘বিশিষ্ট সাহাবী হযরত যায়েদ বিন আরকাম
রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- আহলে বায়ত হচ্ছেন তারাই
রাসূলেপাকের যামানার পরেও যাদের উপর সদকাহ (যাকাত,
ফিতরা ও কাফফারা ইত্যাদি) গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।
তারা হচ্ছেন হযরত আলী, হযরত আকিল, হযরত জা’ফর ও হযরত
আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর বংশধর।’
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল যে,
আহলে বায়ত তথা রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ ও তাঁর আওলাদগণ, বিশেষ
করে হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা, ইমাম হাসান ও
ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু
আনহু।
তদুপরি আলে আলী, আলে আকিল, আলে জা’ফর ও আলে আব্বাস
রাদিয়াল্লাহু আনহু, অর্থাৎ হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু,
হযরত আকিল রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত জা’ফর রাদিয়াল্লাহু
আনহু ও হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বংশধরগণও
আহলে বায়তের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
মিশকাতশরীফের ৫৭৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺫﺭ ﺍﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻭﻫﻮ ﺍﺧﺬ ﺑﺒﺎﺏ ﺍﻟﻜﻌﺒﺔ ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻝ ﺍﻻﺍﻥ ﻣﺜﻞ ﺍﻫﻞ
ﺑﻴﺘﻰ ﻓﻴﻜﻢ ﻣﺜﻞ ﺳﻔﻴﻨﺔ ﻧﻮﺡ ﻣﻦ ﺭﻛﺒﻬﺎ ﻧﺠﺎ ﻭﻣﻦ ﺗﺨﻠﻒ ﻋﻨﻬﺎ ﻫﻠﻚ ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ )
অর্থাৎ ‘হযরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়
তিনি কা’বা শরীফের দরজায় ধরে বলেন, আমি নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
তিনি বলেন মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর! নিশ্চয় তোমাদের
মধ্যে আমার আহলে বায়তের উদাহরণ হল, হযরত নূহ আলাইহিস
সালাম এর নৌকার ন্যায়। যে ব্যক্তি উহাতে আরোহণ
করবে সে নাজাত
পাবে এবং যে পিছনে পড়ে থাকবে সে ধ্বংস হবে। (আহমদ)
এজন্যই হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানী রাদিয়াল্লাহু আনহু
তদীয় ‘তাঈদে আহলে সুন্নাত’ নামক কিতাবখানার
ইতি টেনেছেন নিম্নোক্ত দোয়া সম্বলিত কবিতা দিয়ে-
ﺍﻟﮩﯽ ﺑﺤﻖ ﺑﻨﯽ ﻓﺎﻃﻤﮧ
ﮐﮧ ﺑﺮ ﻗﻮﻝ ﺍﯾﻤﺎﮞ ﮐﻨﯽ ﺧﺎﺗﻤﮧ
ﺍﮔﺮﺩﻋﻮﺗﻢ ﺭﺩﮐﻨﯽ ﻭﺭﻗﺒﻮﻝ
ﻣﻦ ﻭﺩﺳﺖ ﻭ ﺩﺍﻣﺎﻥ ﺍﻝ ﺭﺳﻮﻝ
অর্থ: ১) হে আল্লাহ! হযরত ফাতেমা এর সন্তানগণের ওসিলায়
ঈমানের সঙ্গে আমার খাতেমা বিল খায়ের নসিব করুন।
(ঈমানের সাথে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করার তাওফিক দান
করুন)
২) আপনার দয়া গুণে যদি আমার দোয়া কবুল হয়ে যায়
(আলহামদুলিল্লাহ) অথবা আমার নিজ দুর্বলতার দরুণ
যদি আপনার দরবারে দোয়া কবুল নাও হয় তবুও
আমি আলে রাসূলের দামন কখনো ছাড়বো না।

>>>> ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ
=========================
>>>> ইমাম মাহদীর দায়িত্বগ্রহণ
=========================
আহলে বায়েত তথা সম্ভ্রান্ত সৈয়দ বংশেই
মদিনাশরীফে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
জন্মগ্রহণ করবেন। তাঁর বয়স যখন চল্লিশে উপনীত হবে তখন
সারা বিশ্বের মুসলমানরা নেতৃত্ব শূণ্য
হয়ে যাবে এবং মুসলমানদের মধ্যে মতানৈক্য
দেখা দিবে এমতাবস্থায় মুসলমানরা একজন যোগ্য ইমাম
তালাশ করবে। তখন ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম নিজের
উপর ইমামতের দায়িত্ব ন্যাস্ত হয়ে যায় কী না এই
ভয়ে মদিনাশরীফ ছেড়ে মক্বাশরীফ চলে আসবেন। অতপর
মক্বাশরীফের লোকেরা তাকে খুজে বের করবে কিন্তু
তিনি উক্ত দায়িত্বগ্রহণে রাজী হবেন না।
শেষপর্যন্ত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম একদিন
বায়তুল্লাহশরীফে তাওয়াফ করতে থাকবেন। যখন
হাজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইব্রাহিম এর
মাঝখানে উপস্থিত হবেন, তখন কিছু সংখ্যক নেককার লোক
ইমাম মাহদীকে চিনে ফেলবেন এবং তাঁকে জোর
জবরদস্তিতে রাজি করায়ে তাঁর হাতে সকলে বায়আত
করে তাঁকে বাদশাহ বানাবেন। এ বায়আতের সময় আসমান
থেকে একটি গায়েবী আওয়াজ আসবে ﻫﺬﺍ ﺧﻠﻴﻔﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻤﻬﺪﻯ ﻓﺎﺳﺘﻤﻌﻮﺍ
ﻭﺍﻃﻴﻌﻮﺍ ‘ইনিই আল্লাহর খলিফা ইমাম মাহদী! তোমরা তাঁর
আনুগত্য ও অনুসরণ কর। এই আওয়াজ সেখানে যত লোক উপস্থিত
থাকবেন সকলেই শুনতে পাবেন।’ (আবুদাউদ)
ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর বিরোদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে শ্যাম
(সিরিয়া) হতে একদল সেনাবাহিনী প্রেরণ করা হবে। কিন্তু
মক্বা ও মদিনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে সম্পূর্ণ মাটির
নীচে বিধ্বস্ত হয়ে যাবে। লোকেরা যখন এ ঘটনা প্রত্য
করবে তখন সিরিয়া ও ইরাকের অলী আবদালগণ এসে তাঁর
হাতে বায়আত গ্রহণ করবেন।
এ সময় মক্বার কুরাইশ সুফিয়ানী গোত্রের বংশীয় এক ব্যক্তি-
যার মাতৃকূল হবে কাল্ব গোত্রের, সে সিরিয়া হতে ইমাম
মাহদীর বিরোদ্ধে একটি সৈন্যদল
পাঠালে মুসলিমবাহিনী (অর্থাৎ ইমাম মাহদীর দল) তাদের
উপর বিজয় লাভ করবে। এ যুদ্ধটি হলো কালবীদের সাথে যুদ্ধ।
অতঃপর ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম প্রজা সাধারণের
উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নত
অনুসারে খিলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন। তখন
বিশ্বে আল্লাহর হাবীবের আদর্শ অনুসারে ইসলামী রাষ্ট্র
কায়েম হবে। এমনি অবস্থায় তাঁর খেলাফতের দায়িত্ব সাত
বৎসর- মতান্তরে আট অথবা নয় বৎসর স্থায়ী হবে। অতঃপর
তিনি ইন্তেকাল করবেন। (মিশকাতশরীফ, আবুদাউদশরীফ ও
মুসলিমশরীফ দ্র.)
এ প্রসঙ্গে সুনানে আবু দাউদশরীফের দ্বিতীয় জিলদের ২৪৮
পৃষ্ঠা ও মিশকাতশরীফের ৪৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﺯﻭﺝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﺧﺘﻼﻑ ﻋﻨﺪ
ﻣﻮﺕ ﺧﻠﻴﻔﺔ ﻓﻴﺨﺮﺝ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻫﺮﺑﺎ ﺍﻟﻰ ﻣﻜﺔ ﻓﻴﺎﺗﻴﻪ ﻧﺎﺱ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﻣﻜﺔ ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻧﻪ ﻭﻫﻮ ﻛﺎﺭﻩ
ﻓﻴﺒﺎﻳﻌﻮﻧﻪ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺮﻛﻦ ﻭﺍﻟﻤﻘﺎﻡ ﻭﻳﺒﻌﺚ ﺍﻟﻴﻪ ﺑﻌﺚ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺎﻡ ﻓﻴﺨﺴﻔﺎﺑﻬﻢ ﺑﺎﻟﺒﻴﺪﺍﺀ ﺑﻴﻦ ﻣﻜﺔ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻓﺎﺫﺍ ﺭﺍﻯ
ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺫﺍﻟﻚ ﺍﺗﺎﻩ ﺍﺑﺪﺍﻝ ﺍﻟﺸﺎﻡ ﻭﻋﺼﺎﺋﺐ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﻌﺮﺍﻕ ﻓﻴﺒﺎﺑﻌﻮﻧﻪ ﺛﻢ ﻳﻨﺸﺎﺀ ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﻗﺮﻳﺶ ﺍﺧﻮﻟﻪ ﻛﻠﺐ ﺑﻴﺒﻌﺚ
ﺍﻟﻴﻬﻢ ﺑﻌﺜﺎ ﻓﻴﻈﻬﺮﻭﻥ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﺫﺍﻟﻚ ﺑﻌﺚ ﻛﻠﺐ ﻭﻳﻌﻤﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﺴﻨﺔ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻭﻳﻠﻘﻰ ﺍﻻﺳﻼﻡ ﺑﺠﺮﺍﻧﻪ ﻓﻰ
ﺍﻻﺭﺽ ﻓﻴﻠﺒﺚ ﺳﺒﻊ ﺳﻨﻴﻦ ﺛﻢ ﻳﺘﻮﻓﻰ ﻳﺼﻠﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻮﻥ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮﺩﺍﺅﺩ ﻗﺎﻝ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻋﻦ ﻫﺸﺎﻡ ﺗﺴﻊ ﺳﻨﻴﻦ
ﻭﻗﺎﻝ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﺳﺒﻊ ﺳﻨﻴﻦ -ﺍﺑﻮﺩﺅﺩ ۲/ ۲۶۸ ﻣﺸﻜﻮﺓ ﺹ ۶٧١
ভাবার্থ: ‘হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র
স্ত্রী হযরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু
আনহা থেকে বর্ণিত যিনি নবী করিম রাউফ ও রাহীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন।
আল্লাহর হাবীব বলেন- শেষ যামানায় মুসলিমবাদশাহর
ইন্তেকালে (মুসলমানদের মধ্যে নেতৃত্ব শূন্যতা বিরাজ করলে)
মুসলমানদের মাঝে মতপ্রার্থক্য দেখা দেবে। এ
অবস্থা দেখে মদিনাবাসী এক ব্যক্তি (অর্থাৎ ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম, তাঁর উপর খেলাফতের দায়িত্ব
ন্যাস্ত হয় কি না এ ভয়ে) তিনি মদিনাশরীফ
ছেড়ে মক্বাশরীফ চলে আসবেন।
অতঃপর মক্বার লোকেরা তাঁকে খুঁজে বের করবেন। কিন্তু
তিনি উক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজী হবেন না। তথাপিও
লোকেরা (তাকে রাজী করায়ে) হাজরে আসওয়াদ ও
মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যবর্তী স্থানে তাঁর হাতে বায়আত
গ্রহণ করবেন।
এমতাবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে শ্যাম
(সিরিয়া) হতে একদল সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করা হবে। খোদার
মর্জিতে এ সৈন্যবাহিনী মক্বা মুকাররমা ও মদিনাতুল
মুনাওয়ারার মধ্যবর্তী ‘বাইদা’ নামক স্থানে সব
সৈন্যবাহিনী মাটির নীচে বিধ্বস্ত হয়ে যাবে।
লোকেরা যখন এ ঘটনা প্রত্য করবে, তখন সিরিয়া ও ইরাকের
ওলী আবদালগণ এসে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করবেন।
অতঃপর কুরাইশ গোত্রের এক ব্যক্তি যার মাতৃকুল হবে ক্বালব
গোত্রে, সে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
বিরুদ্ধে একটি সৈন্যদল পাঠালে, মুসলিম বাহিনী ইমাম
মাহদীর নেতৃত্বে তাদের উপর বিজয় লাভ করবেন। এ
যুদ্ধেটি হলো ‘ক্বালবীদের সাথে যুদ্ধ।’
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামায়াত তথা সাহাবায়ে কেরামদের দর্শন মোতাবেক
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্ণ
সুন্নতের অনুসরণ করে সাতবৎসর পর্যন্ত ইসলামী হুকুমত
পরিচালনা করবেন। অতঃপর তাঁর ওফাত ও যানাযা সমাপ্ত
হবে। ইমাম আবু দাউদ বলেন কেহ কেহ তার রাজত্বকাল নয়
বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী থাকবেন বলে অভিমত পেশ করেছেন।
জা’মে তিরমিজিশরীফে উল্লেখ রয়েছে ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম ৭ কি ৮ কি ৯ বৎসর রাজত্ব করবেন।
উল্লেখিত হাদিসশরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণ
পাওয়া গেল-
১) ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম পবিত্র মদিনাতুল
মুনাওয়ারাতে হাসানী বংশে জন্মগ্রহণ
করে মক্বা মুকাররমাতে চলে আসবেন।
২) তিনি যদিও প্রথমে এ গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করতে নারাজ
থাকবেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের
জবরদস্তিতে রাজী হয়ে মক্বা মুকাররমার মুসলমানগণসহ
সিরিয়া ও ইরাকের ওলী আবদালগণকে বায়আত করাবেন।
৩) ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের রাজত্বকাল
সারা বিশ্বে সাত কি আট কি নয় বৎসরকাল
স্থায়ী থাকবে এবং পরিপূর্ণভাবে ইসলামী হুকুমত কায়েম
হবে।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর খেলাফতের দায়িত্ব
গ্রহণের কথা প্রচারিত হওয়ার পর মদিনাশরীফে অবস্থানরত
ইসলামী বাহিনীর অবশিষ্ট লোকগণ মক্বায় চলে আসবেন।
সিরিয়া, ইরাক এবং ইয়ামনের আউলিয়ায়ে কেরাম
এবং আবদালগণ তাঁর সঙ্গী হবেন। আরবদেশের অগণিত লোক
তাঁর সৈন্য বাহিনীতে যোগদান করবে। পবিত্র
খানায়ে কা’বা প্রাঙ্গনে যে অর্থ ভাণ্ডার গুপ্ত ছিল-
যাকে তা’জুল কা’বা বলা হয়, তিনি সে অর্থ মুসলমানদের
মধ্যে অকাতরে দান করবেন। এমন সময় সেনাপতি মানসুর একদল
সৈন্য নিয়ে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
সাহাযার্থে মক্বাশরীফের দিকে রওয়ানা হবেন। আসার
পথে তিনি অসংখ্য খ্রিস্টান এবং বিধর্মীকে ধ্বংস
করে মক্বাশরীফে আগমন করবেন এবং ইমাম মাহদীর
হাতে বায়আত গ্রহণ করবেন।
উপরে উল্লেখিত সুফিয়ানী ব্যক্তি, যার মাতুল বংশ ‘বনুকাল্ব’
হবে, সে ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ
করবে। এই সৈন্য দল মক্বাশরীফ এবং মদিনাশরীফের
মধ্যবর্তী স্থানে একটি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান গ্রহণ
করবে। তখন আল্লাহর হুকুমে তাদের সকলেই
মাটিতে ধ্বসে যাবে। শুধুমাত্র দুইটি লোক বেঁচে থাকবে।
তন্মধ্যে একটি লোক ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামকে এই
শুভ সংবাদ প্রদান করবে। এবং অপর লোকটি নবী বংশের শত্র“
সুফিয়ানীকে এই দুঃসংবাদ জানাবে। (মুসলিমশরীফ,
মিশকাতশরীফ ৪১৪ পৃ.) —

>>>>> খ্রিস্টানদের সাথে যুদ্ধ
=========================
হাদিসশরীফে রয়েছে নুরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস
সালাম এরশাদ করেছেন, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবাহিনীকে একত্র
হতে দেখে খ্রিস্টানগণ চতুর্দিক হতে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য
প্রস্তুতি আরম্ভ
করবে এবং তারা দলে দলে সিরিয়াতে জমায়েত
হতে থাকবে। তাদের সত্তরটি ঝাণ্ডা হবে এবং প্রত্যেক
ঝাণ্ডার নীচে বারহাজার সৈন্য থাকবে, অর্থাৎ সর্বমোট
আটল চুরাশি হাজার খ্রিস্টান সৈন্য সিরিয়াতে জমায়েত
হবে।
অপরদিকে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এই খ্রিস্টান
বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হবেন। তিনি মক্বাশরীফ
হতে যাত্রা করে মদিনাশরীফে তাশরিফ আনবেন। তথায়
তিনি সমস্ত মুসলিম সৈন্যসহ সরকারে কায়েনাত হযরত
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন এবং সালাত ও সালাম
পেশ করবেন। সমগ্র মুসলিমবাহিনী আশি ভাগে বিভক্ত
হবে এবং প্রত্যেক ভাগে বারহাজার সৈন্য থাকবে। অর্থাৎ
সর্বমোট নয়ল ষাট হাজার মুসিলম সৈন্য থাকবে। ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম খ্রিস্টানদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য
এই বাহিনীসহ দ্রুত সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হবেন।
(বোখারীশরীফ, মিশকাতশরীফ ৪৬৬ পৃষ্ঠা)
হাদিসশরীফে রয়েছে, মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালামের বিনা বাধায় মুসলিম
বাহিনীসহ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক নগরীর
উপকণ্ঠে পৌঁছে যাবেন। দামেস্কের
নিকটবর্তী খ্রিস্টানদের সাথে তার ভীষণ যুদ্ধ হবে।
এ সময় ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর
সেনাবাহিনী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।
১) তাদের একদল নাসারাদের ভয়ে যুদ্ধত্রে ছেড়ে পলায়ন
করবে। আল্লাহপাক তাদের তওবা কখনও কবুল করবেন না।
২) অবশিষ্ট সৈন্যগণ একদল যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যাবে।
৩) অবশিষ্ট সৈন্যগণ যুদ্ধ করে জয়লাভ করবে।
যারা এই যুদ্ধে শহীদ হবে, তাদের সম্মন্ধে আল্লাহর হাবীব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন,
‘তারা ওহুদ’ বদরের যুদ্ধে শাহাদতপ্রাপ্ত সাহাবাগণের
মর্তবা বা পজিশন লাভ করবে। (মুসলিমশরীফ, মিশকাতশরীফ-
৪৬৬)
ইমাম মাহদীর বিজয়
===========
আল্লাহর হাবীব এরশাদ করেছেন- ইমাম মাহদীর
সাথে নাসারাদের চারদিন ব্যাপী যুদ্ধ হবে। প্রথমদিন
মুসলিম সেনাবাহিনীর বিরাট একদল যুদ্ধেেত্র এ
বলে অবতীর্ণ হবেন যে, ‘হয়
যুদ্ধে জয়ী হয়ে আসবে নতুবা শাহাদত বরণ করবে।’ উক্ত দলের
অধিকাংশই শাহাদত বরণ করবেন। সন্ধ্যার প্রাক্কালে ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম অবশিষ্ট স্বল্প সংখ্যক সৈন্য
নিয়ে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবেন। দ্বিতীয়দিন মুসলিম
সেনাবাহিনীর একদল উক্তরূপ শপথ করে যুদ্ধেেত্র অবতীর্ণ
হবেন। কিন্তু এই দলেরও অধিকাংশ সৈন্য শহীদ হবে। শেষ
পর্যন্ত ইমাম মাহদী স্বল্প সংখ্যক সৈন্য
নিয়ে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবেন। তৃতীয়দিন আরও একদল
মুজাহিদ বাহিনী প্রাণপনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধেেত্র
ঝাপিয়ে পড়বে। এই দলেরও অধিকাংশ সৈন্য শাহাদতবরণ
করবেন। সুতরাং ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম খুব অল্প
সংখ্যক সৈন্য নিয়ে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করবেন। চতুর্থদিন
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম কোষাগারের প্রহরী ও নগণ্য
সংখ্যক সৈন্য নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হবেন। এইদিন
অশেষ নিপূনতার সাথে যুদ্ধ করে আল্লাহপাকের
অনুগ্রহে জয়লাভ করবেন। এই যুদ্ধে অনেক খ্রিস্টান সৈন্য
নিহত হবে। তাদের য়তির সীমা থাকবে না। তদুপরি শোচনীয়
পরাজয়ের গ্লানিতে তাদের রাজত্ব লাভের আশা ধুলার
সঙ্গে মিশে যাবে এবং যুদ্ধত্রে হতে ভিকের মত কেবল প্রাণ
নিয়ে পলায়ন করবে।
তারা ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবার সাহস
হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু মুসলিম বাহিনী পশ্চাদ্দিক
হতে তাদেরকে তাড়া করে বহু সংখ্যক সৈন্য নিহত করে যুদ্ধ
করে যুদ্ধ জয়ের পর ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
হাতে অজস্র গণিমতের মাল জমা হবে। তিনি সেই মাল
বিজয়ী মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করে দিবেন। প্রত্যেক
মুজাহিদের অংশের প্রচুর রত্ন পড়বে। কিন্তু এই প্রচুর ধন সম্পদ
পাওয়া সত্বেও তাদের মনে আনন্দ থাকবে না এবং তাদের
চেহারায় আনন্দের লেশমাত্র পরিলতি হবে না। কেন না, এই
যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর এত অধিক লোক শহীদ হয়ে যাবে,
দেখা যাবে- কোন কোন পরিবারের বা গোত্রের শতকরা মাত্র
একজন লোক জীবিত থাকবেন। (আবুদাউদ, বোখারী ও
মুসলিমশরীফ, মিশকাতশরীফ ৪৬৭)।
এভাবে একের পর এক বিজয়ের ষষ্ঠ বছরে চুড়ান্ত
পর্যায়ে খ্রিস্টানদের কেন্দ্রীয়শহর কুছতুনতিনিয়া বিজিত
হবে।
কুছতুনতিনিয়া বিজয়
============
আবুদাউদশরীফ ও মুসলিমশরীফে বর্ণিত হাদিসে শহরটির নাম
উল্লেখ নেই, শুধুমাত্র বলা হয়েছে- ﺟﺎﻧﺐ ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺟﺎﻧﺐ ﻣﻨﻬﺎ ﻓﻰ ﺍﻟﺒﺢ
অর্থাৎ- যার একদিকে স্থলভূমি এবং অপরদিকে সমুদ্র।
এখানে শুধু ভৌগোলিক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
তবে মুসনাদে আহমদ ও ইবনে মাজাহশরীফে বর্ণিত হাদিস
থেকে জানা যায় যে, তাসবীহ ও তাকবির
দিয়ে যে শহরটি বিজিত হবে, সে শহরটির নাম
হচ্ছে ‘কুছতুনতিনিয়া’।
এ শহরটির পরিচিতি সম্পর্কে মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁন
নঈমী রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘মিরআত শরহে মিশকাত’ নামক
কিতাবের ৭ম খণ্ড ২৪০ পৃষ্ঠার ৩নং টিকায় লিখেছেন-
ﺗﻤﺎﻡ ﺷﺎﺭﺣﯿﻦ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ ﮐﮧ ﯾﮧ ﺷﮩﺮ ﻣﻠﮏ ﺭﻭﻡ ﻣﯿﮟ ﮨﮯ ﺍﺱ ﻣﯿﯽ ﮔﻔﺘﮕﻮﮨﮯ ﮐﮧ ﮐﻮﻧﺴﺎ ﺷﮩﺮ ﮨﮯ – ﺑﻌﺾ ﻧﮯ
ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﮐﮧ ﻭﮦ ﻗﺴﻄﻨﻄﻨﯿﮧ ﮨﮯ ﻣﮕﺮﯾﮧ ﺗﻮﯼ ﻧﮩﯿﮟ- ﮐﯿﻮﻧﮑﮧ ﻗﺴﻄﻨﻄﻨﯿﮧ ﺗﻮﺑﮍﯼ ﺟﻨﮕﺮ ﺳﮯ ﻓﺘﺢ ﮨﻮ ﮔﺎﻧﮧ ﮐﮧ ﺍﺱ
ﻃﺮﺡ ﺑﻌﺾ ﻧﮯ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﮐﮧ ﻭﮦ ﺷﮩﺮ ﺭﻭﻣﯿﮧ ﮨﮯ ﯾﻌﻨﯽ ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺭﻭﻡ ﮐﺎ ﭘﺎﺋﮧ ﺗﺨﺖ ﺑﻌﺾ ﻧﮯ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ ﮐﮧ ﻭﮦ ﺑﻮﺯ
ﻃﯿﺎ ﺑﺴﺘﯽ ﮨﮯ ﺟﺲ ﮐﯽ ﺩﯾﻮﺍﺭ ﺍﮐﯿﺲ ﮨﺎﺗﮩﻮ ﺍﻭﻧﭽﯽ ﮨﮯ – ﺍﺱ ﮐﺎ ﮔﺮﺟﮧ ﺑﮩﺖ ﻟﻤﺒﺎﮨﮯ – ﺍﺱ ﮐﮯ ﺑﯿﭻ ﻣﯿﮟ
ﺗﺎﻧﺒﮯ ﮔﮩﻮﺭﮮ ﮐﺎﻣﺠﺴﻤﮧ ﮨﮯ- ﺟﺲ ﭘﺮ ﺳﻮﺍﺭ ﮐﺎ ﻣﺠﺴﻤﮧ ﮨﮯ – ﺍﺱ ﺳﻮﺍﺭ ﮐﮯ ﮨﺎﺗﮧ ﺳﻮﻧﮯ ﮐﺎ ﮔﻮﺭﮨﮯ ﯾﮧ
ﻗﺴﻄﻨﯿﻦ ﮐﺎ ﻣﺠﺴﻤﮧ ﮮ – ﻗﺴﻄﻨﻄﯿﻦ ﻭﮦ ﺷﺨﺺ ﮨﮯ ﺟﺲ ﻧﮯ ﺷﮩﺮ ﻗﺴﻄﻨﯿﻄﻨﯿﮧ ﺁﺑﺎﺩ ﮐﯿﺎ – ﺑﻌﺾ ﻧﮯ ﻓﺮﻣﺎﯾﺎ
ﮐﮧ ﻭﮦ ﮐﻮﯼ ﺍﻭﺭ ﺷﮩﺮﮨﮯ ﺟﺲ ﮐﺎ ﻧﺎﻡ ﻣﻌﻠﻮﻡ ﻧﮧ ﮨﻮ ﺳﮑﺎﯾﮧ ﮨﮯ ﺩﺭﺳﺖ ﮨﮯ ﻭﺍﻟﻠﮧ ﺍﻋﻠﻢ – ‏( ﻟﻤﻌﺎﺕ )
অর্থাৎ ‘হাদিসশাস্ত্রের ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন যে, এই
শহর (কুছতুনতিনিয়া) রোম দেশে অবস্থিত। এতে বিবিধ
আলোচনা রয়েছে যে, ইহা কোন শহর? কেহ কেহ বলেছেন যে,
তুরস্কের রাজধানী কুছতুনতিনিয়া। কিন্তু
ইহা শক্তিশালী অভিমত নয়। কেন না ‘কুছতুনতিনিয়া’ তো বড়
যুদ্ধে বিজিত হবে।
কেহ কেহ বলেছেন- এই শহর রোম দেশে অবস্থিত- অর্থাৎ
রোমের বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে একটি শহর। কেহ কেহ বলেছেন,
ইহা বুজেনাইয়া’ জনপদে অবস্থিত। যার প্রাচীর একুশ হাত উঁচু,
যার গীর্জাটি বহু দীর্ঘ এবং এর মাঝখানে তাম্রনির্মিত
একটি ঘোড়ার মূর্তি রয়েছে- যার উপর এক আরোহীর মুর্তি ও
যার হাতে স্বর্ণের চাবুক রয়েছে। ইহা কাছতানতিনের
মুর্তি নামে পরিচিত। কাছতানতিন ঐ ব্যক্তি-
যিনি কাছতানতিন শহর আবাদ করেছেন। কেহ কেহ বলেছেন
যে, ইহা অন্য কোন শহরও হতে পারে। পূর্ণ
পরিচিতি জানা নেই, ইহাই সঠিক।
মুফতি আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘মিরআত
শরহে মিশকাত’ নামক কিতাবের ২৩৫ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ
করেন-
ﻗﺴﻄﻨﻄﻨﯿﮧ ﺭﻭﻡ ﮐﺎ ﻣﺸﮩﻮﺭ ﮨﮯ ﺟﯿﺴﮯ ﺍﺝ ﺍﺳﺘﻨﺒﻞ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ – ﯾﮧ ﺍﯾﮏ ﺑﺎﺭ ﺯﻣﺎﻧﮧ ﺻﺤﺎﺑﮧ ﮐﺮﺍﻡ ﻣﯿﮟ ﻓﺘﺢ ﮨﻮ
ﭼﮑﺎﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﺍﺑﺘﮏ ﻣﺴﻠﻤﺎﻧﻮﮞ ﮐﮯ ﻗﺒﻀﮧ ﻣﯿﮟ ﮨﮯ ﯾﮧ ﺷﮩﺮ ﻣﺴﻠﻤﺎﻧﻮﮞ ﮐﮯ ﮨﺎﺗﮧ ﺳﮯ ﻧﮑﻞ ﺟﺎﻭﮮﮔﺎ ﺍﻭﺭ ﻗﺮﯾﺐ
ﻗﯿﺎﻣﺖ ﺷﮩﺮ ﻣﺴﻠﻤﺎﻥ ﺍﺳﮯ ﻓﺘﺢ ﮐﺮﯾﮟ ﮔﮯ ﯾﮩﺎﮞ ﺍﺱ ﺁﺧﺮﯼ ﻓﺘﺢ ﮐﺎ ﺫﮐﺮﮨﮯ –
অর্থাৎ ‘কুছতুনতিনিয়া’ রোমের প্রসিদ্ধ শহর। যেমন
বর্তমানে ইহা ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত। এ শহরটি একবার
সাহাবায়ে কেরামের যুগে বিজিত হয়েছিল
অদ্যবধি তা মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই শহরটি আবার
মুসলমানদের হাত থেকে চলে যাবে এবং কিয়ামতের
নিকটবর্তী সময়ে পুনরায় মুসলমানগণ কর্তৃক বিজিত হবে।
ইহা হলো সর্বশেষ বিজয়। মোটকথা ‘কুছতুনতিনিয়া’
বা (Constantinaple) যার বর্তমান নাম ইস্তাম্বুল
এবং এটি বর্তমান তুরস্কে অবস্থিত। ইমাম মাহদীর
নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনীর হাতে যে কুছতুনতিনিয়া বিজিত
হবে, তা কোন কোন হাদিসবিশারদের মতে শাব্দিক অর্থেই
কুছতুনতিনিয়া- অর্থাৎ বর্তমানের তুরস্কের ইস্তাম্বুল। আবার
কোন কোন ব্যাখ্যাকারদের মতে তা শাব্দিক
অর্থে ‘কুছতুনতিনিয়া’ বা ইস্তাম্বুল নয়- বরং ভিন্ন কোন শহর।
অপর একটি হাদিসের মাধ্যমে বিষয়টি অনুধান
করা যেতে পারে। তা হলো-
হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত
মাহবুবে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
করেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে যখন একবার তলোয়ার চালিত
হবে, কখনও তা আর কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না। (মিশকাত
৪৬৪ পৃ.)
এ হাদিসশরীফের ব্যাখ্যায় বুঝা যায় যে, হযরত উসমান
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপরেই প্রথমে তলোয়ার চালিত
হয়ে ছিল এবং হাদিসশরীফের মর্মানুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত
চালুই থাকবে।
হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপরে আরিক অর্থেই
তলোয়ার চালানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মুসলমানদের
মাঝে কী আরিক অর্থেই তলোয়ার চালু আছে? কখনই
না বরং বর্তমান যুগে অত্যাধুনিক অস্ত্র চালু আছে।
সুতরাং তলোয়ার নামক অস্ত্রটি যেমন বর্তমানকালের
অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে এবং তার
ভাবার্থ খুন-খারাবি চালু আছে, ঠিক
তেমনিভাবে হাদিসে উল্লেখিত কুছতুনতিনিয়া শাব্দিক
অর্থের পরিবর্তে এর ভাবার্থ খ্রিস্টান ও খ্রিস্টানদের
কেন্দ্রিয় শক্তিকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- বর্তমানে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের রাজধানী শহর ওয়াশিংটন
ডিসি বা নিউয়র্ক।
মোদ্দাকথা হলো, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর
যুগে খ্রিস্টান ও তার মিত্রদের সমন্বয়ে বিশ্বের যেস্থান
পরাশক্তি হিসেবে পরিগণিত হবে, সেই স্থানই
‘কুছতুনতিনিয়া’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
নেতৃত্বে মুসলিমবাহিনীগণ সেই পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করে জয়লাভ করবেন। এবং তাদের কেন্দ্রিয় শহর দখল
করে নিবেন।
সহীহ হাদিসশরীফের মর্মে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত খ্রিস্টান
অধিকৃত পরাশক্তির ‘কুছতুনতিনিয়া’ বা কনস্ট্রান্ট্রিনোপল
পূনরুদ্ধারের জন্য ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম
রওয়ানা হবেন। ভূমধ্য সাগরের তীরবর্তী ‘বনি ইসহাক’
সম্প্রদায়ের সত্তরহাজার মুসলিমমুজাহিদকে
জাহাজযুগে তথায় প্রেরণ করবেন।
মুসলিমবাহিনী সেখানে অস্ত্র-সস্ত্রের দ্বারা যুদ্ধ করবেন
না, বরং তারা শহরের পরিখার
নিকটবর্তী হয়ে সম্মিলিতভাবে ( ﻻ ﺍﻟﻪ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻛﺒﺮ )
‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করবেন।
একবার তাকবীরের সাথে সাথে নগর প্রাচীরের এক অংশ
ধ্বসে পড়বে। দ্বিতীয়বার তাকবীরের সাথে সাথে প্রাচীরের
অপর অংশ ধ্বসে পড়বে। তৃতীয়বার তাকবীরের
সাথে সাথে সেই প্রাচীর সম্পূর্ণ চুর্ণ বিচুর্ণ
হয়ে পড়বে এবং শহরের প্রবেশদ্বার উম্মুক্ত হয়ে পড়বে।
মুসলিমমুজাহিদগণ পরম আনন্দের সাথে বিজয়োল্লাস
করতে করতে শহরে বীরদর্পে প্রবেশ করবেন। তাঁদের
মধ্যে গণিমতের মালবণ্টন করা হবে। মুসলিমবাহিনীর
হাতে তথাকার বিদ্রোহী ও দুস্কৃতিকারীগণ নিহত হবে।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম বিনা বাঁধায় নগর দখল
করে সেখানে শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপন করবেন।
(মুসলিমশরীফ ৩৯৬ পৃ. মিশকাতশরীফ, ৪৬৭ পৃ.)
বিভিন্ন হাদিসশরীফের আলোকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়
যে, ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম প্রথমে আরবের বাদশাহ
হবেন, এবং পরে সারা বিশ্বজগতের বাদশাহ হয়ে সাত বৎসর
মতান্তরে আট কি নয় বৎসর বাদশাহী করে ইন্তেকাল করবেন।
ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের যামানায়
সারা বিশ্বে ইসলামী হুকুমত জারি হবে।
প্রচন্ড যুদ্ধ থেকে আরম্ভ করে ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালামের ষষ্ঠ বৎসরের রাজত্বকালে ‘কুছতুনতিনিয়া’ শহর জয়
হবে এবং সপ্তম বছরে দাজ্জাল বের হবে। (মিশকাতশরীফ ৪৬৭
পৃষ্ঠা)

>>> সর্বকালে হক ও বাতিলের দ্বন্দ্ব
==========================
>>>> আহলে হক
===============
উম্মতে মোহাম্মদীর একদল লোক সর্বকালেই হকের উপর
প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং বাতেল দলসমূহ তাদের বিরোদ্ধাচরণ
করবে। হকের উপর প্রতিষ্ঠিত সর্বশেষ দলটিই ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের
সাথী হয়ে বাতিলের বিরোদ্ধে জিহাদ করবে।
এ প্রসঙ্গে সহীহ মুসলিমশরীফের প্রথম জিলদের ৮৭ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ রয়েছে- (মিশকাত ৪৮০ পৃষ্ঠা)
ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﺟﺮﻳﺞ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﻰ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﺰﺑﻴﺮ ﺍﻧﻪ ﺳﻤﻊ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻮﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
ﻭﺳﻠﻢ ﻻﺗﺰﺍﻝ ﻃﺎﺋﻔﺔ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻰ ﻳﻘﺎﺗﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺤﻖ ﻇﺎﻫﺮﻳﻦ ﺍﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻗﺎﻝ ﻓﻴﻨﺰﻝ ﻋﻴﺴﻰ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ
ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻣﻴﺮﻫﻢ ﺗﻌﺎﻝ ﺻﻞ ﻟﻨﺎ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﻻ ﺍﻥ ﺑﻌﻀﻬﻢ ﻋﻠﻰ ﺑﻌﺾ ﺍﻣﺮﺍﺀ ﺗﻜﺮﻣﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻣﺔ –
‏(ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺴﻠﻢ )
ভাবার্থ: হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত
আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের উপর প্রতিষ্টিত
থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে জেহাদ করতে থাকবেন।
তিনি বলেন এমতাবস্থায় এক সময়ে হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম
আলাইহিমাস সালাম (ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের
সাহাযার্থে দাজ্জালকে হত্যা করার জন্য) আসমান
থেকে অবতরণ করবেন। তখন মুসলমানগণের আমীর হযরত ইমাম
মাহদী আলাইহিস সালাম হযরত ঈসা আলাইহিস
সালামকে বলবেন, আপনি ইমামতির জন্য অগ্রসর হোন
(আপনি আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করুন।
তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অসম্মতি জ্ঞাপন
করে বলবেন, না বরং তোমরাই একে অপরের উপর নেতৃত্ব
দিতে হবে। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা এ উম্মতের
সম্মানটি তোমাদের জন্যই নির্ধারিত করেছেন।’
উল্লেখ্য যে, অপর এক বর্ণনা মতে হযরত ঈসা আলাইহিস
সালামই ইমামতি করবেন, কারণ
তিনি নবী হিসেবে ইমামতির হকদার।
উপরোক্ত হাদিসশরীফের মর্মে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত
হলো উম্মতে মুহাম্মদীর মধ্যে থেকে একদল উম্মত হকের উপর
প্রতিষ্টিত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত বাতিলের বিরুদ্ধে জেহাদ
করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকবেন।
হক দল অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তথা:
সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন,
আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, আইম্মায়ে তরিকত, মুহাদ্দিসীন,
মুফাসসিরীন, আউলিয়ায়ে কেরামগণ এমনকি চার মাযহাব,
চার তরিকা ও তাঁদের অনুসারিদের আকিদার উপর অটল-অনঢ়
অবস্থায় থেকে নিজ নিজ মাযহাব মোতাবেক প্রকৃত সুন্নতের
উপর আমল করে কিয়ামত পর্যন্ত বাতিলের বিরুদ্ধে জেহাদ
করতে থাকবেন।
মূলত: তাদের বিরুদ্ধচারীগণ তাঁদের কোন তিসাধন
করতে পারবে না বরং তারাই ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালামের সঙ্গে জেহাদে শরিক হয়ে বাতিলকে নির্মূল
করবেন।
এ প্রসঙ্গে ‘জামে’ তিরমিজি’ শরীফের দ্বিতীয় জিলদের ৪৬
পৃষ্ঠায় হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু
থেকে একখানা সহীহ হাদিসশরীফ উল্লেখ রয়েছে-
ﻋﻦ ﺛﻮﺑﺎﻥ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻧﻤﺎ ﺍﺧﺎﻑ ﻋﻠﻰ ﺍﻣﺘﻰ ﺍﺋﻤﺔ ﻣﻀﻠﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﻭﻗﺎﻝ
ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻻﺗﺰﺍﻝ ﻃﺎﺋﻔﺔ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺤﻖ ﻇﺎﻫﺮﻳﻦ ﻻﻳﻀﺮﻫﻢ ﻣﻦ ﺧﺬﻟﻬﻢ ﺣﺘﻰ
ﻳﺎﺗﻰ ﺍﻣﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ – ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ۲ / ۶٦
অর্থাৎ ‘হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন রাসূলে মকবুল রাউফ ও রাহীহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরানী ফরমান- নিশ্চয় আমার
উম্মতের উপর গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের ইমামদের
ব্যাপারে আশংকা করছি। হাদিসশরীফ বর্ণনাকারী হযরত
সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূলে মকবুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করে বলেন-
চিরকাল চিরদিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে এক জমায়েত
লোক হক বা সত্যের উপর বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্টিত থাকবে।
বিরুদ্ধবাদীরা তাঁদের কোন তিসাধন করতে পারবে না। যতন
না আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ তথা কিয়ামত কায়েম
না হবে।’
উল্লেখ্য যে, আকাইদের দৃষ্টিতে মুসলমানগণ প্রথমত:
দুইভাগে বিভক্ত, হক ও বাতিল। হক বা সত্য পথের
অনুসারিগণের অপরনাম আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।
তাঁরাই একমাত্র হক ও সঠিক পথের অনুসারি।
পান্তরে যারা তাঁদের আকিদার খেলাফ
বা পরিপন্থী আকিদা পোষণ করে, তারাই বাতিল গোমরাহ
বা পথভ্রষ্ট বিদআতী ফেরকা।
বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমানগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামায়াতেরই অনুসারি। এই
হকপন্থী দলটি সাহাবায়ে কেরাম থেকে আরম্ভ করে যুগযুগ
অতিক্রম করে অবিচ্ছেদ্য অবস্থায় কিয়ামতের পর্যন্ত
বিদ্যমান থাকবে এবং তাঁরাই ইমাম মাহদী আলাইহিস
সালামের সঙ্গী হবে।

>>>> কতিপয় বাতিল মতবাদের ইমাম
===========================
যুগেযুগে বাতিল গোমরা বা পথভ্রষ্ট ইমাম বা নেতাগণের
দ্বারা সকল গোমরাহ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
নিম্নে বাতিল ইমাম বা নেতাদের
পরিচিতি তুলে ধরা হলো-
>>>> ইবনে তাইমিয়া
==================
ﺍﺋﻤﺔ ﻣﻀﻠﻴﻦ গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইমামদের
মধ্যে অন্যতম হলো ইবনে তাইমিয়া। সে দামেস্কের হারবান
নামক স্থানে ৬৬১ ছয়শত একষট্রি হিজরি, মোতাবেক ১২৬৩
ইংরেজি সনে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ৭৪৮ সাতশত আটচল্লিশ
হিজরিতে মৃত্যুবরণ করে। প্রায় ৮৮ আটাশি বৎসর জীবিত ছিল।
সে তার যুগে বড় আলেম
হিসেবে সারাবিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। তার
সম্পর্কে চুতুর্দশ শতাব্দীর মুজাজ্জিদ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ
রেজাখাঁন বেরলভী রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় ‘মলফুজাত’
নামক কিতাবে বলেন-
ﻋﻠﻤﺎﻧﮯ ﺍﺑﻦ ﺗﯿﻤﯿﮧ ﮐﻮ ﻟﮑﮩﺎﮨﮯ ﻋﻠﻤﻪ ﺍﻛﺒﺮ ﻣﻦ ﻋﻘﻠﻪ
অর্থাৎ ‘উলামায়ে কেরামগণ
ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কে লিখেছেন যে, তার আকলের
চেয়ে ইলিম বেশি ছিল।’
এজন্য বেপরওয়াভাবে কোরআন সুন্নাহর
মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছে। এবং নিজেও পথভ্রষ্ট
হয়েছে। উলামায়ে কেরামগণ তাকে আইম্মায়ে মুদিল্লীন
বা পথভ্রষ্টদের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
নিম্নে ইবনে তাইমিয়ার কতিপয় ভ্রান্ত ফত্ওয়া প্রদত্ত হলো-
১) আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে ওসিলা গ্রহণ করা নাজায়েয।
২) আল্লাহ দেহবিশিষ্ট, সাকার ও সসীম।
৩) সাহাবায়ে কেরাম সমালোচনা ঊর্ধ্বে নন।
৪) আম্বিয়ায়ে কেরামগণ মা’সুম বা নিষ্পাপ নয়।
৫) গাউস, কুতুব, আবদাল বলতে কিছুই নেই।
৬) আম্বিয়া, আউলিয়া, ও শহীদানদের মাজারশরীফ জিয়ারত
করার জন্য সফর করা হারাম।
৭) এমনকি সরকারে কায়েনাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওজাশরীফ জিয়ারত করার
উদ্দেশ্যে সফর করাও হারাম। যদি কোন ব্যক্তি ভুল
করে জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সফর করে তবে তার নামায কসর
করা আদৌ প্রয়োজন নেই।
৮) দিনরাত ল ল ফেরেশতাগণ যে- হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজাশরীফের মধ্যে আগমন করেন
বলে মুসলিমসমাজে যে প্রবাদ বাক্য রয়েছে, তা একেবারেই
মিথ্যাকথা। যদি ফেরেশতারা দৈনন্দিন রওজাপাকে অবতরণ
করে থাকেন আর তা যদি সত্য হয়, তবে তারাও হারাম
কাজে লিপ্ত হচ্ছে। (নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক)।
উপরিলিখিত ভ্রান্ত ফত্ওয়াগুলো প্রচার হওয়ার
সাথে সাথে সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে বিরাট
ফিতনার উদ্ভব ঘটে। এজন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের
অনুসারি হক্বানী উলামায়ে কেরাম পথভ্রষ্ট
ইবনে তাইমিয়ার ভ্রান্ত ফত্ওয়ার বিরোদ্ধে প্রতিবাদ করেন,
এবং তাকে বাতিল, গোমরাহ বলে আখ্যায়িত করেন।
এমনকি অনেকেই তাকে কাফের বলেও ফত্ওয়া প্রদান করেন।
বিশেষ করে শ্যামদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন
আল্লামা বুরহান উদ্দিন ফারকাহ ফজারী রাদিয়াল্লাহু আনহু
ও আল্লামা শিহাব বিন জাবহাল রাদিয়াল্লাহু আনহু
উভয়ে কোরআন সুন্নাহর দলিল আদিল্লাহর
মাধ্যমে ইবনে তাইমিয়ার ভ্রান্ত ফত্ওয়ার রদ
বা খণ্ডনে চল্লিশপৃষ্ঠাব্যাপী এক
ফত্ওয়া রচনা করে তাকে কাফের বলে ফত্ওয়া প্রদান করেন। এ
দলিলভিত্তিক ফত্ওয়াখানা প্রচারের ফলে ইবনে তাইমিয়ার
আসল পরিচয় মুসলিমবিশ্বে প্রকাশ হলো এবং তার
বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে মুসলিমজাহান
গোমরাহী থেকে বাঁচার পথ সুগম হয়ে গেল। এ
ছাড়া আরো অনেক উলামায়ে কেরাম ইবনে তাইমিয়ার
বিভ্রান্তিকর ফত্ওয়া চিহ্নিত করে তা খণ্ডন করেন।
নিম্নে এ সম্পর্কে খ্যাতনামা আলেমদের মতামত পেশ
করা হলো
১) একাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয়
( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺸﻔﺎﺀ ) শরহুস শিফা নামক কিতাবের তৃতীয় খণ্ড ৫১৪ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেন-
ﻭﻗﺪ ﻓﺮﻁ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﺣﻴﺚ ﺣﺮﻡ ﺍﻟﺴﻔﺮ ﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﻤﺎ ﺍﻓﺮﻁ ﻏﻴﺮﻩ
ﺣﻴﺚ ﻗﺎﻝ ﻛﻮﻥ ﺍﻟﺰﻳﺎﺭﺓ ﻗﺮﺑﺔ ﻣﻌﻠﻮﻣﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺑﺎﻟﻀﺮﻭﺭﺓ ﻭﺟﺎﺣﺪﻩ ﻣﺤﻜﻮﻡ ﻋﻠﻴﻪ ﺑﺎﻟﻜﻔﺮ ﻭﻟﻌﻞ ﺍﻟﺜﺎﻧﻰ ﺍﻗﺮﺏ
ﺍﻟﺼﻮﺍﺏ ﻻﻥ ﺗﺤﺮﻳﻢ ﻣﺎ ﺍﺟﻤﻊ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻓﻴﻪ ﺑﺎﻻﺳﺘﺤﺒﺎﺏ ﻳﻜﻮﻥ ﻛﻔﺮ ﺍﻻﻧﻪ ﻓﻮﻕ ﺗﺤﺮﻳﻢ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﺍﻟﻤﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﻰ
ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺒﺎﺏ –
ভাবার্থ: গোমরাহ বা পথভ্রষ্টদলের ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করাকে হারাম ফত্ওয়া প্রদান
করে শরিয়তের হুকুমের চরম শীতিলতা প্রদর্শন করেছে।
পান্তরে অন্য একদল আলেম সম্প্রদায় রাসূলেপাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারতের
উদ্দেশ্যে সফর করাকে জরুরিয়াতে দ্বীন বা ধর্মীয়
অত্যাবশ্যকীয় তথা (ফরয) গণ্য করে ইফরাত
বা চরমপন্থা অবলম্বন করেছেন এবং তাঁরা এর
অস্বীকারকারীদেরকে কাফের বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
দ্বিতীয় পরে শেষোক্তি অর্থাৎ কাফের হওয়ার
বিষয়টি সঠিক তাদের প্রতি যারা জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
করাকে হারাম বলে ফত্ওয়া প্রদান করে। কেন
না রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয ও মুস্তাহাব হওয়ার
উপর হক্বানী উলামায়ে কেরামের ইজমা বা ঐকমত্য
প্রতিষ্টিত হয়েছে। এটাকে হারাম বলা কুফুরীর অন্তর্ভুক্ত।’
উপরোক্ত এবারতের মর্মানুযায়ী স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো-
১) হক্বানী উলামায়ে কেরামগণের অভিমত হলো রাসূলেপাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারতের
উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েয ও মুস্তাহাব এবং এই অভিমতের
উপরে উলামায়ে কেরামগণের ইজমা তথা ঐকমত্য প্রতিষ্টিত
হয়েছে।
২) একমাত্র ইমামে মুদিল ইবনে তাইমিয়া তার
মনগড়া মতে রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
করাকে হারাম বলে ফত্ওয়া প্রদান করে, ইসলামের
সীমালঙ্গন করেছে।
৩) একদল আলেম রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর
করাকে জরুরিয়াতে দ্বীন বা অত্যাবশ্যকীয় দ্বীনি কার্য
বলে সাব্যস্ত করে এর অস্বীকারকারীকে কাফের
বলে অভিহিত করেছেন।
৪) আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যে, জায়েয ও মুস্তাহাব এর
উপর উলামায়ে কেরামদের ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্টিত
হয়েছে, যারা এর বিরোধীতা করে সর্বসম্মত
হালালকে হারাম সাব্যস্ত করে, তাদের বেলায় কাফের
ফত্ওয়া যথাযথ সঠিক।’

অনুরূপ আল্লামা আরিফ বিল্লাহ শায়খ আহমদ
সাভী মালেকী রাদিয়াল্লাহু আনহু তদীয় ‘তাফসিরে সাভী’
১ম খণ্ড ১০৭ পৃষ্ঠা সূরা বাকারা ২৩০ নং আয়াতাংশ ﻓﺎﻥ ﻃﻠﻘﻬﺎ ﻓﻼ
ﺗﺤﻞ ﻟﻪ এর ব্যাখ্যায় তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলার
আলোচনা প্রসঙ্গে ইবনে তাইমিয়ার স্বরূপ তুলে ধরে লিখেন-
ﻭﺍﻣﺎ ﺍﻟﻘﻮﻝ ﺑﺎﻥ ﺍﻟﻄﻼﻕ ﺍﻟﺜﻼﺙ ﻓﻰ ﻣﺮﺓ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻻﻳﻘﻊ ﺍﻻﻃﻠﻘﺔ ﻓﻠﻢ ﻳﻌﺮﻑ ﺍﻻ ﻻﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﻭﻗﺪ
ﺭﺩ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﺋﻤﺔ ﻣﺬﻫﺒﻪ ﺣﺘﻰ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺍﻧﻪ ﺍﻟﻀﺎﻝ ﺍﻟﻤﻀﻞ –
অর্থাৎ ‘একই সাথে তিন তালাক প্রদান করলে এক তালাকই
পতিত হবে। ইহা হাম্বলী মাযহাবের দাবিদার
ইবনে তাইমিয়া ছাড়া আর কেউ বলেননি। অবশ্যই তার
মাযহাব তথা হাম্বলী মাযহাবের ইমামগণ এর খণ্ডন করেছেন।
এমনকি এ হাম্বলী মাযহাবের উলামায়ে কেরাম
আরো বলেছেন যে, ইবনে তাইমিয়া নিজে গোমরাহ
বা পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারী।’
উপরোক্ত তাফসিরে সাভীর এবারত
দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, হাম্বলী মাযহাবভুক্ত
উলামায়ে কেরাম ইবনে তাইমিয়ার বিভ্রান্তিকে চিহ্নিত
করে এর খণ্ডন করেছেন এবং তাকে চরম
পথভ্রষ্টকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ইবনে তাইমিয়ার বিভ্রান্তির আরো কিছু
নমুনা আল্লামা ইবনে হজর মক্বী হাইতামী রাদিয়াল্লাহু
আনহু তদীয় ‘ফাতাওয়ায়ে হাদিসিয়া’ গ্রন্থের ১১৪ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ করেন-
ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻋﺒﺪ ﺧﺬﻟﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﺿﻠﻪ ﻭﺍﻋﻤﺎﻩ ﻭﺍﺻﻤﻪ ﻭﺍﺫﻟﻪ ﻭﺑﺬﻟﻚ ﺻﺮﺡ ﺍﻻﺋﻤﺔ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺑﻴﻨﻮﺍ ﻓﺴﺎﺩ ﺍﺣﻮﺍﻟﻪ ﻭﻛﺬﺏ
ﺍﻗﻮﺍﻟﻪ ﻭﻣﻦ ﺍﺭﺍﺩ ﺫﻟﻚ ﻓﻌﻠﻴﻪ ﺑﻤﻄﺎﻟﻌﺔ ﻛﻼﻡ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﻤﺠﺘﻬﺪ ﺍﻟﻤﺘﻔﻖ ﻋﻠﻰ ﺍﻣﺎﻣﺘﻪ ﺟﻼﻟﺘﻪ ﻭﺑﻠﻮﻏﻪ ﻣﺮﺗﺒﺔ
ﺍﻻﺟﺘﻬﺎﺩ ﺃﺑﻰ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺍﻟﺴﺒﻜﻰ ﻭﻭﻟﺪﻩ ﺍﻟﺘﺎﺝ ﻭﺍﻟﺸﻴﺦ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﺍﻟﻌﺰﺑﻦ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻭﺍﻫﻞ ﻋﺼﺮﻫﻢ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻣﻦ
ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﺔ ﻭﺍﻟﻤﺎﻟﻜﻴﺔ ﻭﺍﻟﺤﻨﻔﻴﺔ ﻭﻟﻢ ﻳﻘﺼﺮ ﺍﻋﺘﺮﺍﺿﻪ ﻋﻠﻰ ﻣﺘﺎﺧﺮﻯ ﺍﻟﺼﻮﻓﻴﺔ ﺑﻞ ﺍﻋﺘﺮﺽ ﻋﻠﻰ ﻣﺜﻞ ﻋﻤﺮﺑﻦ
ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻭﻋﻠﻰ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﻃﺎﻟﺐ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ –
অর্থাৎ ‘আল্লাহ তা’য়ালা ইবনে তাইমিয়াকে তাঁর অনগ্রহ
থেতে বঞ্চিত করেছেন, পথভ্রষ্ট করেছেন, অন্ধ করেছেন। যেসব
আয়েম্মায়ে কেরাম তার অসদাচরণ ও ভ্রান্ত মতবাদ
সম্বন্ধে সমালোচনা করেছেন, তারা সকলেই একই রূপ
উক্তি করেছেন। যারা ইবনে তাইমিয়া সম্বন্ধে বিস্তারিত
অবগত হতে চান, তারা সর্বজন মান্য ইমাম আবুল হাসান
সুবুকী এবং তৎপুত্র ইমাম তাজুদ্দিন সুবুকি, শায়খ ইমাম ইজ্জ
ইবনে জামায়া এবং ইবনে তাইমিয়ার যুগেরও পরবর্তী যুগের
শাফেয়ী, মালেকী ও হানাফী মাযহারেব ইমামদের
ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কিত অভিমতসমূহ পাঠ করা উচিৎ।
এমনকি হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতিও দোষারূপ করেছেন।’
ইবনে হজর মক্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু উক্ত কিতাবের ১১৬
পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ করেছেন-
ﻭﻗﺪ ﺫﻛﺮ ﻋﻤﺮﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻥ ﻋﻤﺮﻟﻪ ﻏﻠﻄﺎﺕ ﻭﺑﻠﻴﺎﺕ ﻭﺍﺧﺒﺮ ﻋﻨﻪ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻧﻪ ﺫﻛﺮ
ﻋﻠﻰ ﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﻃﺎﻟﺐ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻣﺠﻠﺲ ﺍﺧﺮ ﻓﻘﺎﻝ : ﺍﻥ ﻋﻠﻴﺎ ﺍﺧﻄﺎ ﻓﻰ ﺍﻛﺜﺮ ﻣﻦ ﺛﻼﺛﻤﺎﺋﺔ ﻣﻜﺎﻥ –
অর্থাৎ ‘ইবনে তাইমিয়া হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু
সম্বন্ধে বলেছেন যে, তিনি বহু ভুল-ভ্রান্তি করেছেন
এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্বন্ধে বলেছেন যে,
তিনি তিন শতাধিক ভুল-ভ্রান্তি করেছেন।’ (নাউজুবিল্লাহ)
ইবনে তাইমিয়ার ভ্রান্ত আকিদার রদে যারা কলম ধরেছেন
তাঁদের মধ্যে কিছু প্রসিদ্ধ আলেম ও তাঁদের কিতাবের নাম
নিম্নে প্রদত্ত হলো-
১) আল্লামা শাহাব উদ্দিন হলভী (ওফাত ৭৩৩ হিজরি) তাঁর
‘নফিসা ফিরদ্দে আলা ইবনে তাইমিয়া’
কিতাবে ইবনে তাইমিয়াকে গোমরাহ বদ মাযহাব প্রমাণ
করেছেন।
২) ইবনে বতুতা তাঁর প্রসিদ্ধ ‘সফরনামা’ এর মধ্যে লিখেছেন
যে, দামেস্কের মসজিদের
মিম্বরে দাঁড়িয়ে স্বয়ং ইবনে তাইমিয়াকে আল্লাহ
তা’য়ালার জিসিম ও মাকান প্রমাণ
করতে তিনি স্বচে দেখেছেন।
৩) হযরত হাফিজ ইবনে হজর আসকালানী রাদিয়াল্লাহু আনহু
‘ফতহুলবারি শরহে বোখারী’ কিতাবের তাওহীদ
অধ্যায়ে ইবনে তাইমিয়ার বাতিল আকিদার উল্লেখ
করেছেন।
৪) আল্লামা সাদুদ্দিন তাফতাজানীর শাগরিদ আলা আল
বোখারী (ওফাত ৮৪১ হিজরি) ইবনে তাইমিয়ার বাতিল
আকিদার দরুন কুফুরি ফতোয়া প্রদান করেছেন।
৫) আল্লামা জামালউদ্দিন জমলকানী (ওফাত ৭২৭ হিজরি)
তার কিতাবগুলিতে ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়ার রদ করেছেন।
৬) আল্লামা শায়খ ইজ বিন জামায়া ইবনে তাইমিয়ার তীব্র
বিরোধিতা ও নিন্দা করেছেন। (ফতওয়ায়ে হাদিসিয়া দ্র.)
৭) আল্লামা তকিউদ্দিন হাসানী দামেস্কী রাদিয়াল্লাহু
আনহু (ওফাত ৮২৯ হিজরি) ‘দফয়ে শুবাহ’ নামক
কিতাবে ইবনে তাইমিয়ার গোমরাহীর পূর্ণ জওয়াব
দিয়েছেন।
৮) আল্লামা ইবনে হজর হায়তামী মক্বী রাদিয়াল্লাহু আনহু
‘জওহরুল মোনাজ্জম’ ও ফতওয়ায়ে হাদিসিয়া’ নামক
কিতাবদ্বয়ে ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়ার দলিলভিত্তিক
জওয়াব দিয়েছেন।
৯) কাজিউল কুজাত আল্লামা সাদী মিশরী রাদিয়াল্লাহু
আনহু এর (ওফাত ৭৩৪ হিজরি) ‘আল মুকালামাতুল মুরজিয়া’
কিতাবটি ইবনে তাইমিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অত্যন্ত উত্তম
কিতাব।
১০) আল্লামা শায়খ খুলামী গরামী রাদিয়াল্লাহু (ওফাত ৯৭৯
হিজরি) ইবনে তাইমিয়ার বিরুদ্ধে ‘বারাহিনে ছাতিয়া’
নামক কিতাব প্রণয়ন করেছেন।
১১) হযরত ইমাম আবুল হাসান সুবুকি রাদিয়াল্লাহু আনহু (ওফাত
৭৫৬ হিজরি) ইবনে তাইমিয়ার বাতিল আকিদা ও প্রতারণার
বিরুদ্ধে তার মশহুর কিতাব ‘শিফাউস সিকাম’ ও ‘হুররাতুল
মুজিয়া’সহ বেশ কয়েকটি কিতাব লিখেছেন।
১২) হযরত ইমাম আল্লামা তাজ উদ্দিন সুবুকি রাদিয়াল্লাহু
আনহু এর লিখিত ‘তবকাতুল কুবরা’ ও অন্যান্য
কিতাবে ইবনে তাইমিয়ার নিন্দা করেছেন।

>>>> মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী
==============================
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী হচ্ছে পথভ্রষ্ট ওহাবীদলের
প্রধান ইমাম। তাদের ভ্রান্ত পথ ও মতের সমর্থকরাই
ওহাবী নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
আরবের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর ভ্রান্ত আকিদার
সমর্থকগণকে ওহাবী বলা হয়ে থাকে।
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদী ১১১১ হিজরি মোতাবেক ১৭০৩
ইং সনে আরবের নজ্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করে এবং ১২০৬
হিজরি মোতাবেক ১৭৮৭ সালে ৯৭ বৎসর বয়সে মৃত্যুমুখে পতিত
হয়।
সে দ্বীন ইসলামের অফুরন্ত তি সাধন
করে এবং পূর্ববর্তী খারেজী দলের ভ্রান্ত আকিদাকে নতুন
অবয়বে প্রকাশ করে।সে খারেজীদের অনুসরণে এমন
কতগুলো বিভ্রান্তিমূলক মনগড়া ফত্ওয়া প্রদান করে, যার
ফলশ্র“তিতে দুনিয়ার সমস্ত সুন্নি মুসলমানগণকে মুশরিক
বা কাফিরের গণ্ডিতে আবদ্ধ করার দুঃসাহস করেছে। কারণ
সে নিজের মনগড়া মতকে একমাত্র তাওহীদবাদী বলে পরিচয়
দিত এবং তার মুখালিফ
বা বিরুদ্ধবাদী মুসলমানদেরকে মুশরিক মনে করত।
এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাদিয়াল্লাহু
আনহু রদ্দুল মোহতার (ফত্ওয়ায়ে শামী) নামক কিতাবের ৪র্থ
খণ্ড ২৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻛﻤﺎ ﻭﻗﻊ ﻓﻰ ﺯﻣﺎﻧﻨﺎ ﻓﻰ ﺍﺗﺒﺎﻉ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻮﻫﺎﺏ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺧﺮﺟﻮﺍ ﻣﻦ ﻧﺠﺪ ﻭﺗﻐﻠﺒﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺤﺮﻣﻴﻦ ﻭﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﻨﺘﺤﻠﻮﻥ
ﻣﺬﻫﺐ ﺍﻟﺤﻨﺎﺑﻠﺔ ﻟﻜﻨﻬﻢ ﺍﻋﺘﻘﺪﻭﺍ ﺍﻧﻬﻢ ﻫﻢ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻮﻥ ﻭﺍﻥ ﻣﻦ ﺧﺎﻟﻒ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﻣﺸﺮﻛﻮﻥ ﻭﺍﺳﺘﺒﺎﺣﻮﺍ ﺑﺬﻟﻚ ﻗﺘﻞ
ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻗﺘﻞ ﻋﻠﻤﺎﺋﻬﻢ ﺣﺘﻰ ﻛﺴﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺷﻮﻛﺘﻬﻢ ﻭﺧﺮﺏ ﺑﻼﺩﻫﻢ ﻭﻇﻔﺮﺑﻬﻢ ﻋﺴﺎﻛﺮ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﻋﺎﻡ
ﺛﻼﺙ ﻭﺛﻼﺛﻴﻦ ﻭﻣﺄﺗﻴﻦ ﻭﺍﻟﻒ –
অর্থাৎ ‘আল্লামা শামী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যেমন
আমাদের যুগে ইবনে আব্দুল ওহাবের অনুসারীদের
ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
তারা নজদ থেকে বের হয়ে এবং হারামাইন তথা মক্কাশরীফ
ও মদিনাশরীফের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে।
তারা নিজেদেরকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারি বলে পরিচয়
দিত, কিন্তু তারা আকিদা রাখতো যে, তারাই শুধু একমাত্র
মুসলমান, আর তাদের আকিদার মুখালিফ বা বিপরীত
যারা সবাই মুশরিক।
এজন্য তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের
অনুসারি মুসলমানগণ ও
সুন্নি উলামায়ে কেরামগণকে হত্যা করা জায়েয
বলে ধারণা করত। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তাদের
শক্তিকে চুর্ণ করে দেন, তাদের শহর (আবাসভূমি)
গুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং ১২৩৩ হিজরি সনে তাদের
বিরুদ্ধে মুসলমান মোজাহিদগণকে তাদের উপর
বিজয়ী করে দেন।
অনুরূপ আল্লামা শায়েখ আহমদ সাভী মালেকী রাদিয়াল্লাহু
আনহু তদীয় ‘তাফসিরে সাভী’ নামক কিতাবের ৩য় খণ্ড
৩০৭/৩০৮ পৃষ্ঠায় সূরা ফাতিরে-
ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻛﻔﺮﻭﺍ ﻟﻬﻢ ﻋﺬﺍﺏ ﺷﺪﺷﺪ ﺍﻟﺦ
আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ﻫﺬﻩ ﺍﻻﻳﺔ ﻧﺰﻟﺖ ﻓﻰ ﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺤﺮﻓﻮﻥ ﺗﺎﻭﻳﻞ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﻭﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭﻳﺴﺘﺤﻠﻮﻥ ﺑﺬﻟﻚ ﺩﻣﺎﺀ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ
ﻭﺍﻣﻮﺍﻟﻬﻢ ﻛﻤﺎ ﻫﻮ ﻣﺸﺎﻫﺪ ﺍﻻﻥ ﻓﻲ ﻧﻈﺎﺋﺮﻫﻢ ﻭﻫﻢ ﻓﺮﻗﺔ ﺑﺎﺭﺽ ﺍﻟﺤﺠﺎﺯ ﻳﻘﺎﻟﻬﻢ ﺍﻟﻮﻫﺎﺑﻴﺔ –
অর্থাৎ ‘এই আয়াতে কারীমা দ্বারা খারেজী ফেরকার
দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই দলের সাধারণ পরিচিতি হল,
তারা কোরাআন সুন্নাহর বিকৃত ও মনগড়া ব্যাখ্যা করে থাকে,
এই কারণেই তারা মুসলমানদের জানমাল ধ্বংস করা হালাল
মনে করে।
যেমন বর্তমানেও তাদের নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান রয়েছে,
তারা হলো, হেজাজ ভূখণ্ডের একটি ফেরকা বা দল
যাদেরকে ওহাবী বলা হয়ে থাকে।’
আল্লামা শামী ও আল্লামা সাভী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা নিম্নলিখিত
বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো-
এক) মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহ্হাব নজদী ও তার সমর্থকগণ বাতিল
আকিদায় বিশ্বাসী।
দুই) ওহাবীদের আকিদা হলো তারাই একমাত্র মুসলমান।
তারা ব্যতীত বাকী সবাই মুশরিক, সুতরাং মুসলমানদের
জানমাল তাদের জন্য বৈধ।
তিন) এজন্য তারা (ওহাবীরা) সুন্নি মুসলমান ও
সুন্নি উলামায়ে কেরামকে মুশরিক
মনে তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ বলত। এ বদ-আকিদার
ভিত্তিতেই তারা হারামাইন শরীফাইন তথা মক্কাশরীফে ও
মদিনাশরীফে আক্রমণ করেছিল। এবং এ পবিত্র শহরদ্বয়ের
অধিবাসী সুন্নি মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল
এবং তাদের জান-মালকে ধ্বংস করেছিল।
চার) বিশ্বমুসলিমকে প্রতারণা করার মানসে তাদের বদ-
আকিদাকে গোপন রেখে নিজেদেরকে হাম্বলী মাযহাবভুক্ত
বলে পরিচয় দিত।
উসূলে ফেকাহর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘নুরুল আনোয়ার’ নামক
কিতাবের ২৪৭ পৃষ্ঠায় ইজতেহাদের
বয়ানে আল্লামা মূল্লা জিউন রাদিয়াল্লাহু আনহু উল্লেখ
করেন-
ﻓﺎﻥ ﺍﻟﻤﺨﻄﻰ ﻓﻴﻬﺎ ﻛﺎﻓﺮ ﻛﺎﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﺍﻭﻣﻀﻠﻞ ﻛﺎﻟﺮﻭﺍﻓﺾ ﻭﺍﻟﺨﻮﺍﺭﺝ ﻭﺍﻟﻤﻌﺘﺰﻟﺔ ﻭﻧﺤﻮﻫﻢ –
অর্থাৎ ‘আকাইদ সংক্রান্ত বিষয়ে যদি কেহ ভুল করে,
তাহলে সে ইহুদী ও নাসারাদের মতই কাফের হবে,
অথবা রাফেজী, খারেজী,
মু’তাজেলী প্রভৃতি বাতিলপন্থীদের মত গোমরাহ হবে।
আল্লমা আব্দুল হালীম লাখনবী রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘নুরুল
আনোয়ার’ নামক কিতাবের হাশিয়ায় ﻧﺤﻮﻫﻢ এর ব্যাখ্যায়
লিখেছেন- ﻗﻮﻟﻪ ﻭﻧﺤﻮﻫﻢ ﻛﺎﻟﻮﻫﺎﺑﻰ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻟﻠﺸﻔﺎﻋﺔ
অর্থাৎ ‘ওহাবীরা রাফেজী, খারেজী ও মু’তাজিলীদের মতই
একটি গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট দল। কারণ
তারা শাফায়াতে রাসূল অর্থাৎ নবীর শাফায়াতকে এনকার
বা অস্বীকার করে।

পাক-ভারত উপমহাদেশে ওহাবী মতবাদের অনুপ্রবেশ
======================================
পাকভারত উপমহাদেশে ওহাবী মতবাদের অনুপ্রবেশ ও এর
সুত্রপাত যাদের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল তাদের
মধ্যে মৌলভী ইসমাইল দেহলভী অন্যতম (নিহত ১৮৩১ইং)
সে আরবের কুখ্যাত মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদীর প্রণীত
কিতাবুত তাওহীদ এর তত্ত্বানুসারে উর্দু ভাষায়
তাকভীয়াতুল ঈমান নামক একটি কিতাব
রচনা করে এবং ইহা বহু সংখ্যা মুদ্রিত
করে সারা উপমহাদেশে বহুল পরিমাণে তা প্রচার করে।
ফলে তার প্রণীত ‘তাকভীয়াতুল ঈমান’ কিতাবটি সমগ্র
ভারতবর্ষে ওহাবী মতবাদের সুতিকাগার
হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং ওহাবী মতবাদের সূত্রপাত
ঘটে।
দেওবন্দী আলেমগণ নজদী ওহাবী আকিদার সমর্থক
===============================
দেওবন্দীদের নেতা মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী সাহেব
ওহাবী দলের বাতিল আকিদাকে উত্তম
আকিদা বলে ফতোয়া প্রদান করত: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব
নজদী ও তার অনুসারীদের পূর্ণ সমর্থন করেন।
গাঙ্গুহী সাহেব তার লিখিত ‘ফাতাওয়ায়ে রশিদীয়া’ নামক
কিতাবের ২৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-
ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻮﮬﺎﺏ ﮐﮯ ﻣﻘﺘﺪﯾﻮﮞ ﮐﻮ ﻭﮬﺎﺑﯽ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ- ﺍﻥ ﮐﮯ ﻋﻘﺎﺋﺪ ﻋﻤﺪﮦ ﺗﮩﮯ ﺍﻭﺭ ﻣﺬﮨﺐ ﺍﻥ ﮐﺎ
ﺣﻨﺒﻠﯽ ﺗﮭﺎ ﺍﻟﺒﺘﮧ ﺍﻥ ﮐﮯ ﻣﺰﺍﺝ ﻣﯿﮟ ﺷﺪﺕ ﺗﮩﯽ ﻣﮕﺮﻭﮦ ﺍﻭﺭ ﺍﻥ ﮐﮯ ﻣﻘﺘﺪﯼ ﺍﭼﮩﮯ ﮨﯿﮟ ﻣﮕﺮﮨﺎﮞ ﺟﻮ ﺣﺪﺳﮯ
ﺑﮍﮨﮕﺌﮯ ﺍﻥ ﻣﯿﮟ ﻓﺴﺎﺩ ﺍﮔﯿﺎﮨﮯ ﺍﻭﺭ ﻋﻘﺎﺋﺪ ﺳﺐ ﮐﮯ ﻣﺘﺤﺪ ﮨﯿﮟ ﺍﻋﻤﺎﻝ ﻣﯿﮟ ﻓﺮﻕ ﺣﻨﻔﯽ ﺷﺎﻓﻌﯽ ﻣﺎﻟﮑﯽ
ﺣﻨﺒﻠﯽ ﮐﺎﮨﮯ –
অর্থাৎ ‘মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের মতবাদের
অনুসারিগণকে ওহাবী বলা হয়। নিঃসন্দেহে তার আকাইদ খুব
ভাল ছিল এবং তার মাযহাব হাম্বলী ছিল। তার মেজাজ
কড়া ছিল, কিন্তু সে এবং তার মতবাদের সমর্থকগণ খুব ভাল,
কিন্তু যারা সীমালঙ্গন করেছে, তাদের মধ্যে ফাসাদ
এসেছে। তাদের সকলের আকাইদ এক, আকাইদের মধ্যে কোন
মতনৈক্য নেই। আমলের মধ্যে হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী ও
হাম্বলীর মতপ্রার্থক্য।’
গাঙ্গুহী সাহেব উক্ত কিতাবের ২৩৭ পৃষ্ঠায় আরও উল্লেখ
করেন-
ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻮﮬﺎﺏ ﮐﻮﻟﻮﮒ ﻭﮨﺎﺑﯽ ﮐﮩﺘﮯ ﮨﯿﮟ ﻭﮦ ﺍﭼﮩﺎ ﺁﺩﻣﯽ ﺗﮩﺎ ﺳﻨﺎﮨﮯ ﮐﮧ ﻣﺬﮨﺐ ﺣﻨﺒﻠﯽ ﺭﮐﮩﺘﺎﺗﮩﺎ ﺍﻭﺭ
ﻋﺎﻣﻞ ﺑﺎﻟﺤﺪﯾﺚ ﺗﮩﺎ ﺑﺪﻋﺖ ﻭﺷﺮﮎ ﺳﮯ ﺭﻭﮐﺘﺎ ﺗﮩﺎ ﻣﮕﺮ ﺗﺸﺪﺩ ﺍﺳﮑﮯ ﻣﺰﺍﺝ ﻣﯿﮟ ﺗﮩﯽ –
অর্থাৎ ‘মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব নজদীকে লোকজন
ওহাবী বলে থাকে। তিনি ভাল লোক ছিলেন।
শুনেছি তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারি ছিলেন
এবং হাদীস অনুযায়ী আমল করতেন। বিদআত র্শিক
থেকে (লোকজনকে) বিরত রাখতেন। কিন্তু তার মেজাজ
কড়া ছিল।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s