আদম(আঃ)ও হাওয়া(আঃ) মধ্যে বিবাহের মোহরানা কি ছিল?

Standard

“হাদিসের নামে জালিয়াতি” বইয়ে ড.আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর ২৩৩পৃষ্ঠায় বলেছেন, প্রচলিত আছে যে,আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের মধ্যে বিবাহের মোহরানা ছিল দরুদ শরীফ পাঠ….. ইত্যাদি এ সকল কথার কোন ভিত্তি বা সনদ আছে বলে জানা যায় না।

জবাবঃ★★★★
এখানে বলা বাহুল্য যে, আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীরের না জানাটা কোন শরীয়তের দলীল হতে পারে না, বরং এ সমস্ত বক্তব্য দ্বারা তার মূর্খতার প্রমাণই বহন করে।

আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর তার “হাদিসের নামে জালিয়াতি” বইয়ের ২৭২ পৃষ্ঠায় আল্লামা যুরকানীর দলীর গ্রহণ করেছেন।
এখন মূল বক্তব্যে আসা যাক।
★★হাদিসঃ১***
“নিশ্চয় হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন হাওয়া আলাইহিস সালাম এর নিকটবর্তী যাওয়ার ইচ্ছা করলেন,তখন আল্লাহ তা’আলা মহর আদায় করার জন্য বললেন।আদম আলাইহিস সালাম বললেন, হে প্রভু! আমি তার জন্য কী মহর প্রদান করব? তখন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ ফরমান,হে আদম!তুমি আমার হাবীব মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি ২০বার দরুদ শরীফ পড় তাহলে তোমার মহর আদায় হয়ে যাবে।অতঃপর তিনি তা করলেন।
★★কঃআল্লামা ইবনে যওজীঃসালাওয়াতে আহজান পৃঃ১৪২
★খঃআল্লামা কোস্তালানীঃমাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ১/৭৬;ইবনে জওজীর সূত্রে।
★গঃআল্লামা ইমাম যুরকানীঃশরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়াঃ১/১০১পৃঃ।

আল্লামা ইউসুফ নাবহানী (রহঃ) কিছুটা পরিবর্তন করে বর্ননা করেন এভাবে
★★★”হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন জান্নতে প্রবেশ করলেন এবং নুরে মুহাম্মদি(সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পেশানীতে চমকাতে ছিল,তখন আল্লাহ তা’আলা আদম(আলাইহিস সালাম) এর বাম পাজরের হাড় থেকে হাওয়া(আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করলেন।আদম(আলাইহিস সালাম) হাওয়া(আলাইহিস সালাম)কে হাত দ্বারা ধরতে গেলেন,এমন সময় ফেরেশতারা নিষেধ করে বললেন আপনি মোহরানা আদায় করুন।আদম(আলাইহিস সালাম) ফেরেশতাদেরকে বললেন, কী মহর প্রদান করব? তখন ফেরেশতাতারা বলল মুহাম্মদ(সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি ২০বার দরুদ শরীফ পড়ুন।”
★★কঃআল্লামা ইউসুফ নাবহানীঃযাওয়াহিরুল বিহারঃ৩/৩৪৬পৃঃ
★খঃআল্লামা কোস্তালানীঃমাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াঃ১/৭৬পৃঃ।
★গঃআল্লামা যুরকানীঃশরহে মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াঃ১/১৭২পৃঃ।
★ঘঃইমাম নাবহানীঃআনওয়ারে মুহাম্মদিয়াঃ১১পৃঃ

অপরদিকে ইমাম কোস্তালানী(রহঃ) তিন বার দরুদ শরীফ পড়ার অন্য আরেকটি রেওয়ায়েত পেশ করেছেন।তার ভাষ্যঃ
★★”হযরত ইবনে আব্বাস(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত জুমার দিন যোহর থেকে আছর পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে আল্লাহ তা’আলা হাওয়া (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে আদম(আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাম পাজর থেকে সৃষ্টি করলেন,আর তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।আদম(আলাইহিস সালাম) যখন হাওয়া(আলাইহিস সালাম)এর নিকট গেলেন তখন ফেরেশতারা মোহরানা আদায় করতে বললেন,তখন আদম(আলাইহিস সালাম) বললেন তার মোহরানা কী? তখন ফেরেশতারা বললেন আপনি হযরত মুহাম্মদ(সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর তিনবার দরুদ শরীফ পড়ুন।”
★★ইমাম কোস্তালানীঃমাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াঃ১/৭৬পৃঃ,মাকতাবাতুল ইসলাম,বৈরুত, লেবানন।
★খঃইবনে কাসীরঃবেদায়া ওয়ান নেহায়াঃ১/৭৪পৃঃ
★গঃআল্লামা মোল্লা আলী ক্বারীঃআল মাওয়ারিদুর রাভী ফি মওলুদুন্নবীঃ১৫ পৃঃ

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s