মিলাদুন্নবী আবদুল ওহহাব নজদীর স্বীকারুক্তি

Standard

মিলাদ –উন-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এর বৈধতা সম্পর্কে আহলে হাদীস-
ওয়াহ্হাবি ফির্কার জনক মুহাম্মদ বিন আবদুল
ওয়াহ্হাব নাজদী এবং তাঁর পুত্র শাইখ আবদুল্লাহ
নাজদীর স্বীকারোক্তি :
আহলে হাদীস- ওয়াহ্হাবি ফির্কার জনক শাইখ
মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহ্হাব নাজদীর গ্রন্থ
“মুখতাসার সীরাতার রসূল” এর ব্যাখ্যায় তাঁর পুত্র
শাইখ আবদুল্লাহ নাজদী নিজের গ্রন্থে লিখেছেন
যে :
“ আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুধ-পান করিয়েছিলেন । যখন
সুয়াইবা আবু লাহাবকে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের সংবাদ
শুনিয়েছিলেন তখন আবু লাহাব তাঁকে মুক্ত
করে দিয়েছিল। আবু লাহাবের মৃত্যুর পর
স্বপ্নে তাকে দেখা গেল। আবু
লাহাবকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, সে কেমন আছে ?
সে উত্তর দিল যে, ‘আমি আগুনে জ্বলছি।
তবে প্রতি সোমবার (আমার শাস্তি) লাঘব করা হয়’।
অঙ্গুলির দিকে ইশারা করে সে বলল , ‘ আমার এই
অঙ্গুলি-সমুহ থেকে পানি নির্গত হয় ( যা আমি পান
করি ) এবং এই (শাস্তি-লাঘব এই ) জন্য যে, যখন
সুয়াইবা আমাকে নবীর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মের সুসংবাদ প্রদান
করেছিল, তখন আমি তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম।
ইবনে জাওজী বলেন যে, আবু লাহাব হল ঐ কাফের যার
নিন্দায় আল কুরআনে একটি ( সম্পূর্ণ ) সুরাই অবতীর্ণ
হয়েছে। এরূপ ব্যক্তি যদি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম-সংবাদ শ্রবন
করে আনন্দ-প্রকাশের জন্য নবীর জন্ম-
রাত্রে ( নিয়মিত) পুরস্কার লাভ করে , তাহলে একজন
মুসলিম মাওলিদ পালন করার জন্য কি (মহান)
প্রতিদানই না লাভ করবে !”
[ তথ্যসূত্র : মুখতাসার সীরাতার রসূল – শাইখ আবদুল্লাহ
বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহ্হাব নাজদী – – পৃ নং ১৩ ]

Advertisements

জশনে জুলুসের প্রমাণ

Standard

জশনে জুলুসের প্রমাণমুসলিম শরীফের কিতাবুজ যুহুদ ওয়াররকায়েক অধ্যায়ে ৫৩ পৃষ্টায় বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা ত্যাগ করে মদীনা শরীফের প্রান্ত সীমানায় প্রবেশ করলেন তখন নবী প্রেমে আত্মোত্সর্গীত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম) এবং মদীনার শিশু,যুবক,বৃদ্ধ,বণিতা সকলেই প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের জন্য এগিয়ে আসেন।হাদীস শরীফের এরশাদ হয়েছে তখন মদীনার নারী পুরুষ ঘরের ছাদ সমূহের উপরআরোহণ করেন ছোট ছোট ছেলে ও ক্রীতদাসগণ মদীনার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়েন,সকলে সমবেত কণ্ঠে “ইয়া মুহাম্মাদ”, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)” ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলেন।এ হাদীসের আলোকে নারায়ে রিসালাত,ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) শ্লোগান তোলার বৈধতাও সুস্পষ্ঠরূপে প্রমাণিত।উপরন্ত সাহাবায়ে কেরামগণের জুলুস বের করার প্রমাণ অত্র হাদীসে বিধৃত হয়েছে।তাছাড়া নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর হিজরতের সময় “সানিয়াতুল বিদা” নামকস্থান থেকে সাহাবায়ে আনছারগণ “আল্লাহু আকবার” “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)” শ্লোগাণ দিয়ে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন,প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর জন্মক্ষণে ও মিরাজের ঐতিহাসিক রজনীতে ফেরেস্তাগণ প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর সম্মানার্থে “জশনে জুলুস” বের করেছিলেন এছাড়া হিজরতের প্রাক্কালে মদীনার মুসলমানগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে “জাহরুল হারা” নামক স্থানে গমন জশনে জুলুসের এক অভ্রান্ত দলীল এবং সুদৃঢ় ভিত্তি।(বুখারী শরীফ ১ম খন্ড ১৫৪ পৃষ্ঠা) হাদীসের বর্ণনাতে প্রতি মুহুর্তে সত্তর হাজার নূরানী ফেরেস্তা মদীনা মনোয়ারায় পবিত্র রওজা শরীফের চতুর্দিকে প্রদক্ষিন করছে এবং সালাত ও সালামের সওগাত ও নজরানা পেশ করছে এবং করতে থাকিবে।জশনে জুলুসের বৈধতা প্রমানে এটি ও এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।এতে প্রতীয়মান হলো জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম) পালন করা বিদআত নয় বরং সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত এবং সর্বকালের প্রচলিত প্রথাসিদ্ধ সর্বজন গ্রাহ্য পুন্যময় আমল,এর বিরোধীকারীরা গোস্তাখে রাসূল ছাড়া কিছুই নয়।আল্লাহপাকের প্রিয় হাবীব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন।আমীন!

আল্লাহর শানে বেয়াদবি করলে রসুলে পাক(দঃ) এর দরবার মাফ পাওয়া যায় কিন্তু রসুলে পাকের সাথে বেয়াদবি….

Standard

আল্লামা হাফেজ আব্দুল জলিল (রহঃ) একবার এক
ওয়াজে বলেছিলেন, “রাসুল পাক (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে কেউ
যদি বেয়াদবি করে, সে যদি এক হাজার বারও আল্লাহর
কাছে তওবা করে, সে তওবা আল্লাহ কবুল করবেন না।…
কিন্তু এর উল্টোটা হয়। আল্লাহর
কাছে বেয়াদবি করলে, আল্লাহর কাছে হাজার
হাজার গোনাহ করে নবীর (দঃ) কাছে এসে মাফ
চাইলে, নবী (দঃ) মাফ করে দিলে আল্লাহও মাফ
করে দেন।”
এই বক্তব্যের দ্বারা তিনি নাকি নবী (দঃ)
কে আল্লাহর উপরে স্থান দিয়েছেন।
চিন্তা করে দেখুন, কেমন গণ্ডমুর্খ এই
আহলে খবিসে দল। তারা কুরআন পড়ে কিন্তু এর
ভেতরে কি আছে তা একবারও তালাশ করে দেখেনা।
আর এদেরকে উদ্দেশ্য করেই নবী (দঃ) বলে গেছেন, শেষ
জমানায় এমন কিছু তরুণের আবির্ভাব হবে যারা কুরআন
পড়বে কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালীর
নিচে নামবে না। (আবু সাঈদ খুদরী রাঃ থেকে বর্ণিত।
নবীজী দঃ বলেছেন, পূর্বাঞ্চল থেকে একদল লোকের
অভ্যুদয় ঘটবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, তবে তাদের এ
পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন
থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকার
[ধনুক] থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর
ফিরে আসবে না। বলা হল, তাদের আলামত কি?
তিনি বললেন, তাদের আলামত হল মাথা মুন্ডন। {সহীহ
আল বুখারী, হাদীস নং-৭১২৩})
কুরআন এবং সহীহ হাদিসের আলোকে আল্লামা জলিল
(রহঃ) এর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করবো ইন
শা আল্লাহ!
আল্লাহ পাক কুরআনের অসংখ্য আয়াতে নাফরমান
বান্দাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলে বলেছেন
যে তিনি নাফরমানকে কিছু সময় দেন। যখন সময় শেষ
হয়ে আসবে তখন তিনি তাদেরকে পাকড়াও করবেন।
যেমন পবিত্র কুরআনের সূরা হুদে আল্লাহ পাক
ঘোষণা করেন –“তোমাদের রব এভাবে জালিমদের
পাকড়াও করবেন। তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন
এবং যন্ত্রনাদায়ক।” (সূরা হুদঃ ১০২)
সূরা আরাফে আল্লাহ পাক বলেনঃ
“তারা কি আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার
ব্যাপারে নিশ্চিন্ত [নির্ভয়] হয়ে গেছে?
বস্তুতঃ আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার
ব্যাপারে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়া অন্য কেউ ভয়হীন
হতে পারে না।” (সূরা আল-আরাফঃ ৯৯)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও এরশাদ করেন, “নিশ্চয়
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর
সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা,
ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর
ভ্রান্তিতে পতিত হয়।” ( সুরা নিসা ১১৬)
রাসুল (দঃ) কি পাপীদের ক্ষমা করার ইখতিয়ার
রাখেন?
——————————————
রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কে আল্লাহ পাক নিজেই ইহকাল
এবং পরকালে পাপিদের ক্ষমা করে দেবার ইখতিয়ার
দিয়েছেন। কিন্তু অন্ধরা তা দেখতে পায় না। কারণ
তা দেখলে রাসুল (দঃ) এর সুউচ্চ শান ও মান স্বীকার
না করে পারবেনা। রাসুল (দঃ) এর সুউচ্চ শান ও মান
তারা সহ্য করতে পারেন বলেই তারা হল দুশমনে রাসুল।
আর এজন্যেই তারা মনে করে রাসুল (দঃ) আমাদের মতই
মানুষ। নাউজুবিল্লাহ!
দেখুন আল্লাহ পাক সূরা নিসার ৬৪
নং আয়াতে কি বলেন।
“আর সেসব লোক যখন নিজেদের অনিষ্ট সাধন
করেছিল, তখন যদি আপনার কাছে আসত অতঃপর
আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও
যদি তাদেরকে ক্ষমা করিয়ে দিতেন। অবশ্যই
তারা আল্লাহকে ক্ষমাকারী,
মেহেরবানরূপে পেত।” (সূরা নিসাঃ ৬৪)
এখানে লক্ষণীয় বিষয় যে, রাসুল (দঃ)
তাদেরকে ক্ষমা করবেন যারা “নিজেদের অনিষ্ট সাধন
করেছে”। যে ঈমান এনেছে এবং আল্লাহকে ভয় করে,
অর্থাৎ যে মুত্তাকী, পরহেজগার তাঁর কোন ভয় নেই।
আর এধরণের লোকেরাই হলেন আল্লাহ পাকের বন্ধু/
ওলী। কেননা, আল্লাহ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায
প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত প্রদান করেছে, তাদের
জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার
কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই
এবং তারা দুঃখিত হবে না।” [সূরা বাকারাহ: ২৭৭]
অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,
“মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোন ভয়
ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত
হবে।” (সূরা ইউনুসঃ ৬২)
যারা ঈমান এনেছে, সৎ কাজ করেছে, নামাজ
প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যাকাত প্রদান করেছে এ ধরণের
লোক “নিজেদের অনিষ্টকারী” দলভুক্ত নন।
কেননা রাসুল (দঃ) কে এমন লোকদের ক্ষমা করে দেবার
ব্যাপারে অধিকার দেয়া হয়েছে যারা নিজদের উপর
নিজেরাই জুলুম করেছে। নিজেদের অনিষ্ট সাধন
করেছেন। ইহকালে তাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দেবার
ইখতিয়ার রাখতেন। এমনকি পরকালেও তিনি তাদের
জন্য সুপারিশ করার অধিকার রাখেন।
সূরা নিসার ৬৪ নং আয়াতের প্রত্যক্ষ্য প্রমাণ নীচের
ঘটনায় পাওয়া যায়। হজরত আবদুর রহমান জামী (রহঃ)
তার বিখ্যাত শাওয়াহেদুন নবুয়ত কিতাবে উল্লেখ
করেন, ‘হজরত আলী (রাঃ) বলেন, আমরা যখন রাসূল (দঃ)-
এর দাফনকার্য সম্পাদন করছিলাম তখন এক বেদুঈন
এসে নবীজীর (দঃ) কবরে আছড়ে পড়ল এবং নিজ মাথায়
মাটি নিক্ষেপ করতে করতে বলতে লাগল,
ইয়া রাসূলুল্লাহ (দঃ), আল্লাহতায়ালা পবিত্র
কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘যদি তারা নিজেদের ওপর
জুলুম করে অতঃপর আপনার কাছে এসে আল্লাহর নিকট
ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপরাধ
মার্জনা করবেন (সূরা নিসা : ৬৪)। এখন আমি আপনার
দরবারে এই উদ্দেশ্যে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু
আপনি তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এখন
আমি কোথায় যাব? তখন কবর থেকে আওয়াজ এলো- ‘যাও
তোমাকে ক্ষমা করা হয়েছে’। হজরত আলী (রাঃ) বলেন,
ওই আওয়াজ উপস্থিত সবাই শুনতে পেয়েছিল।
[শাওয়াহেদুন নবুয়ত, মদিনা পাবলিকেশন্স পৃ. ১৪৩-১৪৪]
পরকালে শাফায়াত
——————
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন, “আল্লাহ
তা’আলা যাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত আর
কারো সুপারিশ কোন উপকারে আসবে না।” (সূরা, আস
সাবা, ৩৪:২৩)
অর্থাৎ সেদিন কাউকে কাউকে সুপারিশ করার
অনুমতি দেয়া হবে। এ আয়াতের অর্থ
না বুঝে আহলে খবিসের দল বলে বেড়ায়, সেদিন কেউ
সুপারিশ করতে পারবে না। এমন কি নবী (দঃ) ও না।
নাউজুবিল্লাহ। দেখুন সহীহ হাদিস কী বলেঃ
রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আমিই হবো সমস্ত
নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগনের ইমাম ও তাদের
খতীব এবং আমিই হবো তাঁদের ছহিবে শাফায়াত
এতে আমার কোন ফখর নেই।”
[তথ্যসূত্রঃ- সুনানে তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ
৫১৪ পৃষ্ঠা]
রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন, “কিয়ামতের দিন হাশরবাসীগন
বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোটাছুটি করে একজন অন্যজনের নিকট
চলে যাবে। অতঃপর তারা হযরত আদম আলাইহিস
সালামের নিকট এসে বলবে, আপনি আপনার রবের নিকট
আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। তখন তিনি বলবেন,
আমি এখন একাজে উপযুক্ত নই। তোমাদের এ
ব্যাপারে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিকট
যাওয়া উচিত, কেননা তিনি হচ্ছেন পরম করুনাময়
আল্লাহ পাকের খলীল। সূতরাং তারা হযরত ইব্রাহিম
আলাইহিস সালামের নিকট এসে সুপারিশ
প্রর্থনা করবে। তিনিও বলবেন, আমি একাজে সক্ষম নই।
সুপারিশের জন্য তোমরা হযরত মুসা আলাইহিস
সালামের কাছে যাও। কেননা তিনি আল্লাহ পাকের
সাথে কথা বলেছিলেন। অতপর তারা মুসা আলাইহিস
সালামের নিকট আসবে এবং সুপারিশ প্রার্থনা করবে।
তিনি বলবেন আমিও সক্ষম নই। তবে তোমাদের হযরত
ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে যাওয়া উচিত।
কেননা তিনি হচ্ছেন, রুহুল্লাহ। তখন
তারা ঈসা আলাইহিস সালামের
কাছে আসবে এবং সুপারিশ প্রার্থনা করবে। তিনিও
বলবেন আমি এ ব্যাপারে সক্ষম নই। তবে তোমাদের
হযরত সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাওয়া উচিত। তখন
তারা আমার নিকট আসবে, আর আমি তাদের আশ্বস্ত
করে বলবো, আমিই এ ব্যাপারে সক্ষম। তখন আমি আমার
প্রতিপালকের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবো।”
[তথ্যসূত্রঃ- সহীহ বুখারী শরীফঃ ৪৭১২, ৭৫১০]
এ কারণেই মহানবী (দঃ) হলেন শাফিউল মুজনেবীন।
গোনাহগারের জন্য শাফায়াতকারী।
নেক্কারবান্দাগণ, আল্লাহর ওলীগণ, গাউস, কুতুব,
আব্দাল, মুত্তাকীগণ নিজ নিজ কর্মের
দ্বারা জান্নাতে যাবার অধিকার রাখেন।
পাপী বান্দারা মহানবী (দঃ) এর শাফায়াতের
ফলে সেদিন নাজাত পাবেন। সেদিন
তিনি হাউসে কাউসারের
পেয়ালা হাতে পাপী (শিরকমুক্ত) উম্মতের
জন্যে অপেক্ষা করবেন। এ বিষয়ে সহীহ
হাদিসগ্রন্থগুলোতে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। একমাত্র
শিরককারী ব্যতীত সেদিন প্রতিটি ঈমানদার কিন্তু
পাপী বান্দা একে একে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
মহানবী (দঃ) জাহান্নামের দরজায়
গিয়ে কড়া নেড়ে নেড়ে সেদিন তাঁর পাপী উম্মতদের
পার করবেন।
ওলীগনের সুপারিশের প্রমাণ
————————
“যখন মুমীন (আল্লাহর অলীগণ)
দেখবে যে তারা মুক্তি পেয়ে গেল, তখন তাঁদের মুমীন
ভাইদের জন্য তাঁরা আল্লাহর কাছে আবেদন করবে,
“হে আমার প্রতিপালক! এরা আমাদের ভাই,
যাদেরকে তুমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছ।
তারা আমাদের সাথে নামাজ পড়ত, আমাদের
সাথে রোজা রাখত এবং আমাদের সাথে সত্কাজ
করত।” তখন আল্লাহ বলবেন, “যাদের অন্তরে শুধুমাত্র এক
দিনার ওজন পরিমাণ ঈমান
পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আস। তাদের মুখমন্ডল
তথা আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম
করে দেওয়া হয়েছে।” অতঃপর আল্লাহর অলীগণ
সেখানে জাহান্নামীদের নিকট যাবেন। এসে দেখবেন
কেউ কেউ পা পর্যন্ত কেউ পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত
আগুনে ডুবে আছে। এর মধ্যে যাদের
তারা চিনবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আসবে।”
[তথ্যসুত্রঃ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০০১)
রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোক
সুপারিশ করবে।
(১) নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম ।
(২) উলামায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম।
(৩) শহীদ গন।
[তথ্যসূত্রঃ- সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত
শরীফঃ ৫৩৭০]
তবে তিন ধরণের মানুষকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। ১)
আল্লাহর সাথে শিরককারী ২) অন্যের হোক
নষ্টকারী আর ৩) যাদুকর, যে যাদু দ্বারা অন্যের অনিষ্ট
করে।
হাদিসে কুদসী তে আছে রাসুল (দঃ) এরশাদ করেন
“আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান!
তুমি যদি আসমান ও জমিনের ফাকাঁ জায়গা পরিমান
গুনাহ নিয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ কর আর এতে শিরক
না থাকে তা হলে আমি তোমার সব গোনাহ
ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষা করবো।” (তিরমিজি ৩৪৬৩)
অন্যের উপর জুলুমকারী, কারও অধিকার নষ্টকারী,
অন্যের সম্পদ ও হক বিনষ্টকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ
ক্ষমা করবেন না। বান্দার হক
বান্দা ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ পাক
নিজে তা ক্ষমা করবেন না। কেননা আল্লাহ পাক ন্যায়
বিচারকারী। (মেশকাত শরীফঃ হাদিস নং ৫১২৮)
প্রাক ইসলামী যুগের আরব
মুশরিকরা আল্লাহ্তে বিশ্বাস করতো।
সাথে সাথে আবার অন্য দেবদেবীদেরকে আল্লাহর
সাথে অংশীদার করতো। তাদের উদ্দেশ্য করেই
আল্লাহ পাক সূরা ইউসুফের ১০৬ নং আয়াতে বলেন,
“তাদের অনেকই আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির
না করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না”।
একমাত্র আল্লাহ পাকের আনুগত্যের নাম ইসলাম নয়।
তবে কেবলমাত্র রাসুল (দঃ) এর আনুগত্যের নাম ইসলাম।
কেননা অনেক মুশরিক আল্লাহর আনুগত্য করত। নাস্তিক
ব্যতীত পৃথিবীর সবাই আল্লাহ্কে মান্য করে। এক প্রবল
ক্ষমতাশালী কেউ আছেন এমন বিশ্বাস রাখে। কিন্তু
তারা কিন্তু মুসমান নয়। একমাত্র রাসুল (দঃ) এর উপর
ঈমান আনা এবং তাঁকে ভালোবাসাই হল ঈমানের
মাপকাঠি এবং মুক্তির পথ। তাঁর সাথে বেয়াদবির ফল
হল আমল বাতিল। যার আমল বাতিল তার কি আর অন্য
কোন উপায় আছে?
সাহাবা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনুহুম) নবী (দঃ) এর কণ্ঠের
উপরে কণ্ঠ তোলায় আল্লাহ পাক সাথে সাথে আয়াত
নাজিল করে কেমন হুশিয়ারি দিয়েছেন
দেখুনঃ “মুমিনগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর
তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু
করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ
উঁচুস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ
উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম নিস্ফল
হয়ে যাবে এবং তোমরা টেরও পাবে না।” (৪৯:২)
আর এ কারণেই কোন এক কবি বলে গেছেন,
ﺧﺪﺍ ﺟﺴﮑﻮ ﭘﮑﮍﮮ ﭼﮭﻮﮌﺍﻟﮯ ﻣﺤﻤﺪ
ﻣﺤﻤﺪ ﺟﻮ ﭘﮑﮍﮮ ﭼﮭﻮﮌﺍ ﮐﻮﺀﯼ ﻧﮩﯿﮟ ﺳﮑﺘﺎ –
“খোদা কাউকে পাকড়াও করলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামা শাফায়াত
করে তাকে ছাড়িয়ে আনবেন বলে প্রমাণ আছে। কিন্তু
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামা কাউকে পাকড়াও
করলে তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার কেউ নাই”
আর এ কথাটিই আল্লামা হাফেজ আব্দুল জলিল (রহঃ)
বলেছিলেন। মুর্খ জাহেলরা তা না বুঝে আল্লাহর
একজন ওলীর নামে কেমন অপবাদ দিচ্ছে! আল্লাহ
তাদেরকে এর প্রতিদা দেবেন নিশ্চয়ই।

নামাযে নবিজীর খেয়াল

Standard

ওহাবীরা বলে- নামাজের মধ্যে নবীজীর খেয়াল
করা গরু-গাধার খেয়ালে ডুবে থাকার ছেয়েও খারাপ।
তাজিমের সাথে খেয়াল করা শিরিক।
(নাউজুবিল্লাহ) সিরাতে মুস্তাকিম পৃষ্ঠা- ১৬৭
========================
>>>>> নামাজে নবীজীর খেয়ালই আল্লাহপাকের
বন্দেগী <<<<<
=====================================
দলিল-১.
নামাযে রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল তা’জিমের
সাথে করাই আল্লাহপাকের বন্দেগি এ
সম্পর্কে হাদিসে কারীমা লক্ষ্য করুন-
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﺍﺑﻮ ﺍﻟﻴﻤﺎﻥ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﺎ ﺷﻌﻴﺐ ﻋﻦ ﺍﻟﺰﻫﺮﻯ ﻗﺎﻝ ﺍﺧﺒﺮﻧﻰ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺍﻻﻧﺼﺎﺭﻯ ﻭﻛﺎﻥ
ﺗﺒﻊ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺧﺪﻣﻪ ﻭﺻﺤﺒﻪ ﺍﻥ ﺍﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﻛﺎﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﻟﻬﻢ ﻓﻰ ﻭﺟﻊ ﺍﻟﻨﺒﻰ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺬﻯ ﺗﻮﻓﻰ ﻓﻴﻪ ﺣﺘﻰ ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﻫﻢ ﺻﻔﻮﻑ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ
ﻓﻜﺸﻒ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺳﺘﺮ ﺍﻟﺤﺠﺮﺓ ﻳﻨﻈﺮ ﺍﻟﻴﻨﺎ ﻭﻫﻮ ﻗﺎﺋﻢ ﻛﺎﻥ ﻭﺟﻬﻪ ﻭﺭﻗﺔ
ﻣﺼﺤﻒ ﺛﻢ ﺗﺒﺴﻢ ﻳﻀﺤﻚ ﻓﻬﻤﻤﻨﺎ ﺍﻥ ﺗﻔﺘﺘﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﺮﺡ ﺑﺮﺅﻳﺔ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻨﻜﺺ
ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﻋﻠﻰ ﻋﻘﺒﻴﻪ ﻟﻴﺼﻞ ﺍﻟﺼﻒ ﻭﻇﻦ ﺍﻥ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺧﺎﺭﺝ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ
ﻓﺎﺷﺎﺭ ﺍﻟﻴﻨﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﺗﻤﻮﺍ ﺻﻼﺗﻜﻢ ﻭﺍﺭﺧﻰ ﺍﻟﺴﺘﺮ ﻓﺘﻮﻓﻰ ﻣﻦ ﻳﻮﻣﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ . ‏( ﺑﺨﺎﺭﻯ ﺷﺮﻳﻒ ﺹ ۱ / ۹۳ – ۹۴ )
ভাবার্থ: ‘হযরত আনাস ইবনে মালিক
আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু যিনি নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (আক্বিদা ও
আমলের) পূর্ণ অনুসারী ছিলেন এবং একাধারে দশ বৎসর
আল্লাহর হাবীবের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন আর
তিনি তাঁর একজন জলিল কদর সাহাবিও ছিলেন।
তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্তিম রোগ থাকাকালীন
অবস্থায় হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু
সাহাবায়ে কেরামগণকে নিয়ে (ইমাম হয়ে) নামায
আদায় করতেন।
অবশেষে সোমবার দিনে হযরত আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
ইমামতিতে সাহাবায়ে কেরামগণ নামাযরত অবস্থায়
কাতারবন্দী ছিলেন। তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুজরা শরীফের
পর্দা উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় আমাদের
দিকে তাকালেন। এ সময়ে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের) চেহারা মোবারক মাসহাফ
তথা কোরআন কারীমের স্বচ্ছ পৃষ্ঠার ন্যায় ঝলমল
করছিল। অতঃপর তিনি মুচকি হাসছিলেন।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
নূরানী চেহারা মোবারক
দর্শনে আমরা (সাহাবায়ে কেরামগণ) স্বেচ্ছায়
আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(হুজরা মোবারক থেকে) নামাযের জামায়াতে আসবেন
এ ভেবে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু (ইমামতির
স্থান থেকে) পিছন দিকে সরে নামাযের প্রথম
কাতারে প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন নবী করিম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আমাদেরকে ইশারায় বললেন ﺍﺗﻤﻮﺍ ﺻﻼﺗﻜﻢ তোমরা অসম্পূর্ণ
নামাযকে পূর্ণ করে নাও। অতঃপর আল্লাহর হাবিব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা মোবারক
ফেলে দিলেন।
সে দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ওফাত শরীফ হয়েছিল। (বোখারী শরীফ ১/৯৩ পৃ.)
উপরোক্ত হাদিসশরীফের মাধ্যমে শরিয়তের
যে কয়েকটি মাসআলা প্রমাণিত হলো তা নিম্নরূপ-
১. হুজুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন
অন্তিম বিমারশরীফে শয্যাশায়িত ছিলেন তখন হযরত
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সতের, সহিহ
রেওয়ায়েতে একুশ ওয়াক্তের নামাযের
জমায়াতে আল্লাহর হাবিবের নির্দেশ মোতাবেক
ইমামতি করেছেন। এজন্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতশরীফের পর হযরত আবু
বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুই হলেন তাঁর সর্বপ্রথম
খলিফা। যাকে খলিফাতুর রাসূল বলে আখ্যায়িত
করা হয়ে থাকে। ( ﺍﺻﺢ ﺍﻟﺴﻴﺮ ‘আছাহহুছ ছিয়র’)
২. সাহাবায়ে কেরামগণ যখন আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ইমামতিতে সোমবার
দিনে ফজরের ফরয নামাযের
জামায়াতে কাতারবন্দী অবস্থায় ছিলেন। ঝুলন্ত
পর্দা আবৃত হুজুর পুরনুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানো অবস্থায়
পর্দা উঠিয়ে উক্ত জামায়াতের
দিকে নূরানী হাস্যেজ্জ্বল চেহারা মোবারক
নিয়ে তাকালেন। এমতাবস্থায় সাহাবায়ে কেরামগণ
স্বপ্রণোদিত হয়ে নামাযের কাজকর্ম স্থগিত
রেখে আল্লাহর হাবীবের দিকে মনোনিবেশ করলেন
এবং আনন্দে আত্মহারা হলেন। আর আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর হাবীবের
দর্শনে ইমামতির স্থান থেকে পিছনের দিকে প্রথম
কাতারে প্রত্যাবর্তন করলেন।
এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো-
হাবীবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল ও তা’জিম
সাহাবায়ে কেরামগণ নামাযের ভিতরেই করেছেন
কেননা নামাযের ভিতরে তা’জিমের
সঙ্গে রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল করাই আল্লাহর
বন্দেগী।
৩. যখন নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
হুজরা মোবারকে পর্দার ভিতরে ছিলেন, এমতাবস্থায়
সাহাবায়ে কেরামগণ মসজিদে নববীতে ফজরের ফরয
নামাযের জমায়াত হযরত আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ইমামতির
মাধ্যমে পড়তে ছিলেন।
যে মুহূর্তে হাবীবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা উঠিয়ে নামাযের
জামায়াতের দিকে থাকালেন
এবং সাহাবায়ে কেরামগণ আল্লাহর
হাবিবকে দেখতে পেলেন, তখন সাহাবায়ে কেরামগণ
নামাযের কাজকর্ম স্থগিত করে নবীর তা’জিমে তাঁর
দিকে মুখ ফিরে নবীর মহব্বতে স্বেচ্ছায়
আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন।
আবার যখন আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা মোবারক ফেলে দিলেন
এবং অসম্পূর্ণ নামায আদায়ের নির্দেশ দিলেন, তখনই
সাহাবায়ে কেরামগণ বাকী নামায সম্পূর্ণ করলেন।
এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো-
নবীকে দেখতে না পেলে নামায, রাসূলের
ইমামতি ব্যতিরেকেই আদায় করবে। এতে কোন ত্রুটি-
বিচ্যুতি নেই। আর যখনই রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখা যাবে, নামায স্থগিত
রেখে রাসূলের ইমামতি গ্রহণ করতে হবে এটাই আদব।
এ প্রসঙ্গে কোন কোন বাতিলপন্থীরা প্রশ্ন তোলে যে,
যদি আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেককারের যানাযায় হাজির
হয়ে থাকেন, তাহলে হাবীবে খোদার
ইমামতি ছাড়া নামায পড়া হয় কেন?
এর উত্তরে আমরা বলব- নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজির হওয়া স্বত্ত্বেও
আমরা চাক্ষুস তাঁকে দেখি না, তাই নিজেদের
ইমামতির মাধ্যমে নামায সম্পন্ন করি।
যদি আমরা আল্লাহর হাবীবকে চাক্ষুস দেখতাম,
তাহলে নামাযে যানাযা স্থগিত
করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
ইমামতিতে নামায আদায় করতাম।
যেমনিভাবে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতের
অতি নিকটবর্তী হুজরা মোবারকে পর্দা আবৃত অবস্থায়
হাজির থাকা সত্ত্বেও হযরত আবু বকর সিদ্দিক
রাদিয়াল্লাহু আনহু এর
ইমামতিতে সাহাবায়ে কেরামগণ
মসজিদে নববীতে নামায পড়তেছিলেন। আর আল্লাহর
নবী যখন পর্দা মোবারক সরিয়ে জামায়াতের
দিকে থাকালেন এবং সাহাবায়ে কেরামগণ আল্লাহর
হাবিবের দর্শনে ধন্য হলেন তখনই সকল
সাহাবায়ে কেরাম নামাযের কাজকর্ম স্থগিত
করে আল্লাহর হাবিবের নূরানী চেহারা মোবারক
দেখে দেখে আত্মহারা হয়ে পড়লেন, অপরদিকে হযরত
আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর
হাবিবের ইমামতির মাধ্যমে নামায আদায় করবেন
ধারণায় ইমামতির স্থান ছেড়ে পেছনের
কাতারে প্রত্যাবর্তন করলেন।
আবার যখন হাবিবে খোদা সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসম্পূর্ণ নামায সম্পন্ন করার
জন্য নির্দেশ দিয়ে হুজরা মোবারকের
পর্দা ফেলে দিলেন এবং সাহাবায়ে কেরামগণ
চাক্ষুসভাবে নবীকে দেখতে পেলেন না, এমতাবস্থায়
সাহাবায়ে কেরামগণ আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু
আনহু ইমামতিতে নামায সম্পন্ন করলেন।
সুতরাং নেককারের যানাযাতে নবীর আগমন সত্য
যেহেতু আমরা নবীকে চর্ম চক্ষুতে দেখি না, এজন্য
আমরা নিজেদের ইমামতিতেই নামায আদায়
করে থাকি। যদি নবীকে চাক্ষুসভাবে দেখার নসীব
আমাদের হয়ে যেত তাহলে সাহাবায়ে কেরামগণের
অনুকরণে নবীর ইমামতিতেই আমারা নামায আদায়
করে নিতাম।
দলিল- ২.
ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺣﺎﺯﻡ ﺑﻦ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻋﻦ ﺳﻬﻞ ﺑﻦ ﺳﻌﺪ ﺍﻟﺴﺎﻋﺪﻯ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﺫﻫﺐ ﺍﻟﻰ ﺑﻨﻰ ﻋﻤﺮﻭ ﺑﻦ ﻋﻮﻑ ﻟﻴﺼﻠﺢ ﺑﻴﻨﻬﻢ ﻓﺤﺎﻧﺖ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻓﺠﺎﺀ ﺍﻟﻤﺆﺫﻥ ﺍﻟﻰ ﺍﺑﻰ ﺑﻜﺮ ﻓﻘﺎﻝ
ﺍﺗﺼﻠﻰ ﻟﻠﻨﺎﺱ ﻓﺎﻗﻴﻢ ﻗﺎﻝ ﻧﻌﻢ ﻓﺼﻠﻰ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﻓﺠﺎﺀ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ
ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻓﺘﺨﻠﺺ ﺣﺘﻰ ﻭﻗﻒ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻒ ﻓﺼﻔﻖ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭﻛﺎﻥ ﺍﺑﻮﺑﻜﺮ ﻻﻳﻠﺘﻔﺖ ﻓﻰ ﺻﻔﻮﺗﻪ ﻓﻠﻤﺎ
ﺍﻛﺜﺮ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻟﺘﺼﻔﻴﻖ ﺍﻟﺘﻔﺖ ﻓﺮﺍﻯ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﺎﺷﺎﺭ ﺍﻟﻴﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﺍﻣﻜﺚ ﻣﻜﺎﻧﻚ ﻓﺮﻓﻊ ﺍﺑﻮﺑﻜﺮ ﻳﺪﻳﻪ ﻓﺤﻤﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﺍﻣﺮﻩ ﺑﻪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﺛﻢ ﺍﺳﺘﺎﺧﺮ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮ ﺣﺘﻰ ﺍﺳﺘﻮﻯ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﻒ ﻭﺗﻘﺪﻡ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺼﻠﻰ ﻓﻠﻤﺎ ﺍﻧﺼﺮﻑ ﻗﺎﻝ ﻳﺎ ﺍﺑﺎ ﺑﻜﺮ ﻣﺎ ﻣﻨﻌﻚ ﺍﻥ ﺗﺜﺒﺖ ﺍﺫﺍ ﺍﻣﺮﺗﻚ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﺑﻜﺮ
ﻣﺎ ﻛﺎﻥ ﻻﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﻗﺤﺎﻓﺔ ﺍﻥ ﻳﺼﻠﻰ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻯ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎﻟﻰ ﺭﺃﻳﺘﻜﻢ ﺍﻛﺜﺮ ﺛﻢ ﺍﻟﺘﺼﻔﻴﻖ ﻣﻦ ﻧﺎﺑﻪ ﺷﺊ ﻓﻰ ﺻﻼﺗﻪ ﻓﻠﻴﺴﺒﺢ ﻓﺎﻧﻪ ﺍﺫﺍ
ﺳﺒﺢ ﺍﻟﺘﻔﺖ ﺍﻟﻴﻪ ﻭﺍﻧﻤﺎ ﺍﻟﺘﺼﻔﻴﻖ ﻟﻠﻨﺴﺎﺀ . ‏( ﺑﺨﺎﺭﻯ ﺷﺮﻳﻒ ۱ /۹۴ )
ভাবার্থ: ‘হযরত সাহাল ইবনে সা’দ
সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
নিশ্চয় একদা রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবনে আউফ গোত্রের
একটি বিবাদ মিমাংসার জন্য তাদের
বস্তিতে তাশরীফ নিয়েছিলেন, এদিকে নামাযের
ওয়াক্ত হয়ে গেল। তখন মোয়াজ্জিন হযরত আবু বকর
সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট
গিয়ে অবস্থা ব্যক্ত করে বললেন, আপনি জামায়াত
পড়াইয়া নিন। এতে আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু
আনহু সম্মতি জ্ঞাপন করে বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে।
তখন আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু ইমাম
হয়ে নামায আরম্ভ করলেন।
এমতাবস্থায় রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় তাশরীফ আনলেন, যখন
সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত অবস্থায় ছিলেন।
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
পিছনের কাতারগুলো অতিক্রম করে প্রথম
কাতারে এসে দাঁড়ালেন, সে সময় (হযরত আবু বকর
সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসূলেপাকের আগমন
অবগত করানো জন্য) কিছু সংখ্যক
মুসল্লী (সাহাবায়ে কেরাম) হাতের উপর হাত
মেরে শব্দ করলেন।
(উল্লেখ্য যে) হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু
আনহু নামাযরত অবস্থায় কোন দিকে ফিরে থাকাতেন
না। কিন্তু অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত
অবস্থায় যখন হাততালি দিতে লাগলেন তখন
তিনি (আবু বকর) ফিরে তাকিয়ে আল্লাহর
হাবীবকে দেখতে পেলেন। (এবং তৎক্ষণাৎই
তিনি পিছনের দিকে সরে যেতে লাগলেন)
(এমতাবস্থায়) রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (আবু বকরকে) নিজের
অবস্থানে স্থির থাকতে ইশারায় নির্দেশ দিলেন।
রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর
ইশারার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ দুইহাত উত্তোলন
করে আল্লাহপাকের প্রশংসা করে পিছনে ফিরে প্রথম
কাতারে এসে দাঁড়ালেন।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সামনে এগিয়ে গিয়ে ইমামতি করে নামায আদায়
করলেন। নামায শেষ করে তিনি বললেন হে আবু বকর!
আমার নির্দেশ
পালনে কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছিল? আবু বকর
রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বললেন, আবু কুহাফার
পুত্রের জন্য আল্লাহর হাবীবের
সামনে দাঁড়িয়ে (নিজে ইমাম হয়ে) নামায আদায়
করা শোভা পায় না।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামগণের
উদ্দেশ্যে বললেন- আমি তোমাদেরকে (নামাযের
ভিতরে) হাতে তালি দিতে দেখলাম, ব্যাপার কি?
শোন! নামাযের মধ্যে যদি কাউকে কোন কিছু
থেকে ফিরাতে হয় তাহলে (পুরুষগণ) ‘সুবহানাল্লাহ’
বলবে। সুবহানাল্লাহ বললেই তার
দিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। আর
হাতে তালি দেওয়া তো মহিলাদের জন্য।
(কেননা মহিলাদের কণ্ঠস্বর বেগানা পুরুষদের
শুনানো অনুচিত। (বোখারশরীফ ১/৯৪ পৃ.)
উপরোক্ত হাদিসশরীফ দ্বারা দিবালোকের ন্যায়
স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো-
১. নামাযরত অবস্থায় সাহাবায়ে কেরামগণ
রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
খেয়াল তা’জিমের সাথে ইচ্ছা করেই করেছেন। কারণ
হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাতার
ভেদ করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন
সাহাবায়ে কেরাম নামাযরত অবস্থায় কাতার ফাঁক
করে দিয়েছিলেন যাতে সামনে অগ্রসর হওয়া সহজ হয়।
২. নামাযের ভিতরে ইচ্ছা করে তা’জিমের
সাথে রাসূলেপাকের খেয়াল করাই
সাহাবায়ে কেরামগণের আক্বিদা ও আমল। এজন্যই
তো হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ
ইমামতির স্থান ছেড়ে পিছনের কাতারে স্বেচ্ছায়
তা’জিম রক্ষার জন্য এসে দাঁড়ালেন এবং নামাযের
ভিতরেই নিজের ইমামতি স্থগিত করে আল্লাহর
হাবীবকে ইমামতি দিয়ে দিলেন, আর আল্লাহর
হাবীবও স্বেচ্ছায় ইমামতি করে নামায সমাপন
করলেন।
দেখুন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথমে ছিলেন
ইমাম, আল্লাহর হাবিব নামাযের জামায়াতে আসার
দরুণ নিজে ইমামতি ছেড়ে আল্লাহর
হাবিবকে ইমামতি দিয়ে দিলেন সুবহানাল্লাহ!
দেখলেন তো নামাযের ভিতরে সাহাবায়ে কেরাম
আল্লাহর হাবীবকে কিভাবে স্বেচ্ছায় তা’জিম
করলেন।
এতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো- নামাযের
ভিতরে আল্লাহর হাবিবের তা’জিমই আল্লাহর
বন্দেগী।
৩. সুতরাং যারা বলে নামাযে ইচ্ছা করে তা’জিমের
সাথে আল্লাহর রাসূলের খেয়াল করলে মুশরিক
হবে এবং অনিচ্ছায় খেয়াল
এসে পড়লে যে রাকাআতে খেয়াল আসল এ এক
রাকাতের স্থলে চার রাকাআত নফল নামায আদায়
করতে হবে। এ রকম বিভ্রান্তিকর
ফতওয়া দ্বারা সাহাবায়ে কেরামগণ মুশরিক সাব্যস্থ
হয়ে যান। (নাউজুবিল্লাহ)
যা ইসলামবিরোধী আক্বিদা।
এরূপ ঘৃণ্য ফতওয়া দিয়েছেন মাওলানা কেরামত
আলী জৈনপুরী জখিরায়ে কেরামত ১/২৩১ পৃষ্ঠা,
বাংলা জখিরায়ে কেরামত ১ম খণ্ড ২৯-৩০ পৃষ্ঠা। সৈয়দ
আহমদ বেরলভীর মলফুজাত এবং মাওলানা ইসমাঈল
দেহলভীর লিখিত কিতাব সিরাতে মুস্তাকিম ১৬৭-১৬৮
পৃষ্ঠা।
দলিল-৩.
আল্লামা ইমাম গাজ্জালী আলাইহির রহমত
এহইয়ায়ে উলুমিদ্দিন কিতারেব ১ম জিলদের ৯৯ পৃষ্ঠায়
বাতেনি শর্তের বয়ানে লিখেছেন-
ﻭﺍﺣﻀﺮ ﻓﻰ ﻗﻠﺒﻚ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺷﺨﺼﻪ ﺍﻟﻜﺮﻳﻢ ﻭﻗﻞ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻴﻚ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺒﻰ
ﻭﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ –
অর্থ: তোমরা ক্বলব বা অন্তরে রাসূলেপাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এবং তাঁর
পবিত্র দেহাকৃতিকে উপস্থিত জানবে এবং বলবে ‘আস
সালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবীউ ওয়ারাহমাতুল্লাহ
ি ওয়া বারাকাতুহু।’
দলিল-৪.
পাক-ভারত উপমহাদেশের সর্বজন স্বীকৃত আলেমকুল
শিরোমণি শেখ আব্দুল হক
মুহাদ্দিসে দেহলভী আলাইহির রহমত লিখিত
‘মাদারিজুন নবুয়ত’ কিতাবের ১ম জিলদের ১৬৫ পৃষ্ঠায়
উল্লেখ রয়েছে-
ﺍﺯﺟﻤﻠﮧ ﺧﺼﺎﺋﺺ ﺍﯾﮟ ﺭﺍﻧﯿﺰ ﺫﮐﺮ ﮐﺮﺩﮦ ﺍﻧﺪﮐﮧ ﻣﺼﻠﮯ ﺧﻄﺎﺏ ﻣﯿﮑﻨﺪ ﺁﻧﺤﻀﺮﺕ ﺭﺍﺻﻠﯽ ﺍﻟﻠﮧ ﻋﻠﯿﮫ
ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻘﻮﻝ ﺧﻮﺩ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﯿﮏ ﺍﯾﮭﺎ ﺍﻟﻨﺒﯽ ﻭﺧﻄﺎﺏ ﻧﻤﯿﮑﻨﺪ ﻏﯿﺮ ﺍﻭﺭﺍ۔
অর্থাৎ ‘রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফাযায়েলের বর্ণনায়
উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুসল্লিগণ নামাযের
মধ্যে আসসালামু আলাইকা আইয়হান্নাবীউ’
পাঠকালে হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করবে অন্য
কারো প্রতি নয়।’
উপরোন্তু ‘আশিয়াতুল লুমআত’ শরহে মেশকাত এর ১ম
জিলদের ৪০১ পৃষ্ঠায় শেখ আব্দুল হক
মুহাদ্দিসে দেহলভী আলাইহির রহমত আরো উল্লেখ
করেছেন-
ﻭﺑﻌﺾ ﺍﺯﻋﺎﺭﻓﺎﺀ ﮔﻔﺘﮧ ﺍﻧﺪ ﮐﮧ ﺍﯾﮟ ﺧﻄﺎﺏ ﺑﺠﮭﺖ ﺳﺮﯾﺎﻥ ﺣﻘﯿﻘﺖ ﻣﺤﻤﺪﯾﮧ ﺍﺳﺖ ﺩﺭﺫﺭﺍﺋﺮ
ﻣﻮﺟﻮﺩﺍﺕ ﻭﺍﻓﺮﺍﺩ ﻣﻤﮑﻨﺎﺕ ﭘﺲ ﺍﻧﺤﻀﺮﺕ ﺩﺭﺫﺍﺕ ﻣﺼﻠﯿﺎﮞ ﻣﻮﺟﻮﺩ ﻭﺣﺎﺿﺮﺍﺳﺖ –
অর্থাৎ কোন কোন আরিফ ব্যক্তিগণ বলেছেন,
নামাযে ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবীউ’
বলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন রীতির প্রচলন এ
জন্যই করা হয়েছে যে,
হাকিকতে মোহাম্মদীয়া বা হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামের মূল সত্ত্বা সৃষ্টিকুলের
অণুপরমাণুতে এমনকি সম্ভবপর প্রত্যেক কিছুতেই
ব্যাপৃত। সুতরাং হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযিগণের সত্ত্বার
মধ্যে বিদ্যমান ও হাজির আছেন।
দলিল-৫.
দুররে মুখতার’ হাশিয়ায়ে শামীর প্রথম খণ্ডের ৪৭৬
পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
ﻭﻳﻘﺼﺪ ﺑﺎﻟﻔﺎﻅ ﺍﻟﺘﺸﻬﺪ ﺍﻻﻧﺸﺎﺀ ﻛﺎﻧﻪ ﻳﺤﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻳﺴﻠﻢ ﻋﻠﻰ ﻧﺒﻴﻪ ﻧﻔﺴﻪ ﻻ ﺍﻻﺧﺒﺎﺭ –
অর্থাৎ ‘নামাযে ‘তাশাহহুদ’ পাঠকালে মুসল্লিগণ
উদ্দেশ্য নিবে ‘ইনশা’ এর ‘এখবারের’ নয় অর্থাৎ
কথাগুলি যেন তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি নিজেই
যেন আপন প্রতিপালকের প্রতি শ্রদ্ধ নিবেদন করছেন
এবং স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে সালাম আরজ
করছেন।
উক্ত এবারতের তাৎপর্য বিশ্লেষণ
করে ‘ফাতাওয়ায়ে শামীতে বলা হয়েছে-
ﺍﻯ ﻻ ﻳﻘﺼﺪ ﺍﻻﺧﺒﺎﺭ ﻭﺍﻟﺤﻜﺎﻳﺔ ﻋﻤﺎ ﻭﻗﻊ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻌﺮﺍﺝ ﻣﻨﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﻣﻦ ﺭﺑﻪ
ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﻣﻦ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ –
অর্থাৎ ‘তাশাহহুদ’ পাঠের সময় নামাযির যেন এ নিয়ত
না হয় যে, তিনি শুধুমাত্র মে’রাজের অলৌকিক
ঘটনাটি স্মরণ করে সে সময়কার মহা প্রভু আল্লাহ,
হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও
ফেরেশতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত কথোপকথনের
বাক্যগুলো প্রকাশ করে যাচ্ছেন। বরং তার নিয়ত
হবে কথাগুলো যেন তিনি নিজেই বলছেন।
স্বনামধন্য ফকিহগণের উপরিলিখিত ভাষ্য
থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হল যে, নামাযের
তাশাহহুদে এ সালাম পেশ করাকালীন তা’জিমের
সাথে একমাত্র হুজুর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি খেয়াল করতে হবে।
অন্য কারো প্রতি নয়।

পতাকা নিয়ে জুলুস করা

Standard

পতাকা সহকারে জুলুছ উদযাপন
(ইয়া হোসাইন মারহাবা)
রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে মুহতাশাম, হুযুর
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ যখন মদীনার দিকে হিযরত
করেছিলেন এবং মদীনা শরীফের
কাছাকাছি “মাওজায়ে গামীম” নামক
স্থানে পৌঁছলেন তখন ‘বরিদায়ে আসলমী’ বনী ছহম
গোত্রের সত্তর জন
সাওয়ারী নিয়ে ছরকারে মদীনা প্রিয় নবী ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ কে গ্রেফতার করার জন্য আল্লাহ্র পানাহ!
হুঙ্কার ছেড়ে দৌঁড়ে আসল কিন্তু ছরকারে মদীনা হুযুর
ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ এর শুভদৃষ্টির ফয়েয ও বরকতের
প্রভাবে তিনি নিজেই প্রিয় নবী ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ
এর মুব্বতের জেলখানায় বন্দী হয়ে সম্পূর্ণ কাফেলা সহ
ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন। তিনি আরয
করলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ !
মদীনায়ে মুনাওয়ারায় আপনার আগমণ
পতাকা সহকারে হওয়া উচিৎ । এই বলে তিনি নিজের
আমামা (পাগড়ি) খুলে নিয়ে বল্লমের মাথায় বাঁধলেন
এবং ছরকারে মদীনা, প্রিয় নবী ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ এর
আগে আগে বীর বেশে চলতে লাগলেন।
***সুবাহানআল্লাহ্***( ওফাউল ওফা, ১ম খন্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা)