আক্বিদা

Standard

আকীদা তাহাবী
(বাংলা)
ﺍসংকলক : ইমাম আবু জাফর তাহাবী রহ.
ﺗﺄﻟﻴﻒ : ﺃﺑﻲ ﺟﻌﻔﺮ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺳﻼﻣﺔ ﺍﻷﺯﺩﻱ ﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻱ
অনুবাদ : আব্দুল মতীন আব্দুর রহমান
ﺗﺮﺟﻤﺔ : ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﺘﻴﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ
২০১১ – ১৪৩২
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য,
যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক।
প্রখ্যাত হাদীছ বিশারদ, ফকীহ,
আল্লামা আবু জাফর ওয়াররাক
আততাহাবী র. মিসরে অবস্থান
কালে বলেছিলেন:
ফুকাহায়ে মিল্লাত আবূ হানীফা আন-নুমান
বিন সাবেত আল কুফী, আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন
ইবরাহীম আল আনসারী এবং আবু আব্দুল্লাহ
বিন আল হাসান আশ
শায়বানী রাহিমাহুমুল্লাহদের অনুসৃত
নীতি অনুসারে এটা হল আহলে সুন্নাহ ওয়াল
জামাআতের ‘আক্বীদাহ বা ধর্ম বিশ্বাস।
এবং তারা ধর্মের নীতিসমূহের
প্রতি যে ‘আক্বীদাহ পোষণ করতেন
এবং সে সব নীতি অনুসারে তারা আল্লাহ
রাব্বুল ‘আলামীনের মনোনীত ধর্ম ইসলাম
অনুসরণ করতেন তার বিবরণ।
মহান আল্লাহর তাওফীক কামনা করে তাঁর
একত্ববাদ সম্পর্কে আমি বলছি :
১। নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, যাঁর কোন শরীক
(অংশীদার) নেই।
২। তাঁর মত কিছুই নেই। (কেউ তাঁর সমতুল্য
নয়)।
৩। কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না।
৪। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই।
৫। তিনি অনাদি, যার কোন আদি নেই।
তিনি অনন্ত, যার কোন অন্ত নেই।
৬। তাঁর ক্ষয় নেই, ধ্বংস নেই।
৭। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই সংঘটিত হয়
না।
৮। কল্পনা তাঁর
ধারে কাছে পৌঁছে না এবং ইন্দ্রিয় জ্ঞান
তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না।
৯। সৃষ্ট বস্তু তাঁর সদৃশ্য হতে পারে না।
১০। তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর মৃত্যু নেই
এবং তিনি চির জাগ্রত, যাঁর নিদ্রার দরকার
নেই।
১১। তিনি এমন সৃষ্টিকর্তা যার সৃষ্টিতে কোন
সাহায্যের মুখাপেক্ষী হন
না এবং তিনি অক্লান্ত রিযক দাতা।
১২। তিনি নির্ভয়ে প্রাণ
সংহারকারী এবং নির্বিবাদে
পুনরুত্থানকারী।
১৩। সৃষ্টির বহু পূর্বেই তিনি তাঁর
অনাদি গুণাবলীসহ বিদ্যমান ছিলেন, আর
সৃষ্টির কারণে তাঁর নতুন কোন গুণের
সংযোজন ঘটেনি এবং তিনি তাঁর
গুণাবলীসহ যেমন অনাদি ছিলেন,
তেমনি তিনি স্বীয় গুণাবলীসহ অনন্ত
থাকবেন।
১৪। সৃষ্টির কারণে তাঁর গুণবাচক নাম
“খালেক” (সৃষ্টিকর্তা) হয়নি। অথবা বিশ্ব
জাহান সৃষ্টির কারণে তাঁর গুণবাচক নাম
“বারী” (উদ্ভাবক) হয়নি।
১৫। প্রতিপাল্যের অবিদ্যমানতায়ও
তিনি ছিলেন ‘রব’ বা প্রতিপালক, আর
মাখলুক সৃষ্টির পূর্বেও তিনি ছিলেন
‘খালেক’ বা সৃষ্টিকর্তা।
১৬। মৃতকে জীবন দান করার
ফলে তাঁকে ‘জীবনদানকারী’
বলা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে কোন
বস্তুকে জীবন দান করার পূর্বেও তিনি এই
নামের (জীবন দানকারী)
অধিকারী ছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি সৃজন
ছাড়াই সৃষ্টি কর্তার নামের
অধিকারী ছিলেন।
১৭। এটা এই জন্য যে, তিনি সর্ব
বিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং প্রতিটি সৃষ্টিই
তাঁর অনুগ্রহ ভিখারী; সব কিছুই তাঁর জন্য
সহজ তিনি কোন কিছুরই মুখাপেক্ষী নন।
“তাঁর মত কিছুই নেই; তিনি সর্বশ্রোতা,
সর্বদ্রষ্টা।”
১৮। তিনি স্বীয় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সব
কিছুই সৃষ্টি করেছেন।
১৯। এবং তাদের (সৃষ্ট বস্তুর) জন্য সব কিছুরই
পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।
২০। এবং তাদের জন্য মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট
করেছেন।
২১। সৃষ্ট জীবের সৃষ্টির পূর্বে কোন কিছুই তাঁর
অজ্ঞাত ছিল না। জীব জগতের সৃষ্টির পূর্বেই
তাদের সৃষ্টির পরবর্তীকালের কার্যকলাপ
সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন।
২২। এবং তিনি তাদের স্বীয় আনুগত্যের
আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যচরণ
হতে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
২৩। সবকিছু তাঁর ইচ্ছা ও পরিকল্পনার
মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।
এবং একমাত্র তাঁরই ইচ্ছা কার্যকর হয়,
এবং (আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া) বান্দার কোন
ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয় না। অতএব
তিনি বান্দাদের জন্য যা চান তাই হয়, আর
যা চান না তা হয় না।
২৪। আল্লাহপাক যাকে ইচ্ছা হিদায়েত,
আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রদান করেন। এটা তাঁর
অনুগ্রহ, পক্ষান্তরে যে পথভ্রষ্ট হতে চায়,
তাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন,
যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে অপমানিত ও
বিপদগ্রস্ত করেন। এটা তাঁর ন্যায় বিচার।
২৫। সব কিছু পরিবর্তিত হয়ে থাকে তাঁর
ইচ্ছায় ও তাঁর অনুগ্রহে এবং সুবিচারের
মাধ্যমে।
২৬। তিনি কারও প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সমকক্ষ
হওয়ার উর্ধ্বে।
২৭। তাঁর মীমাংসার কোন পরিবর্তন নেই।
কেউই তাঁর নির্দেশ বাতিল করার নেই
এবং তাঁর নির্দেশকে পরাভূত করারও কেউ
নেই।
২৮। উপরে উল্লিখিত সব কিছুর প্রতিই
আমরা ঈমান এনেছি এবং দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন
করছি যে, এর প্রতিটি বিষয় আল্লাহর তরফ
হতে সমাগত।
২৯। নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নির্বাচিত
বান্দা, মনোনীত নবী এবং প্রিয় রাসূল।
৩০। তিনি নবীগণের সর্বশেষ,
মুত্তাক্বীনদের ইমাম, রাসূলগণের
নেতা এবং বিশ্বের মহান প্রতিপালকের
হাবীব (বন্ধু)।
৩১। তাঁর পরবর্তী যুগে নবুওয়াতের যে সব
দাবী উত্থাপিত হয়েছে, তার সবগুলিই
ভ্রান্ত ও প্রবৃত্তি পরায়ণতার শিকার।
৩২। তিনি সত্য, হিদায়েত এবং নূর
সহকারে সকল জিন ও সমস্ত মাখলুকের
প্রতি প্রেরিত।
৩৩। নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম,
ইহা আল্লাহর নিকট হতে উৎসারিত হয়েছে,
তবে সাধারণ কথা বার্তার পদ্ধতিতে নয়। এই
কালামকে তিনি তাঁর রাসূলের
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
প্রতি অহী হিসাবে নাযিল করেছেন
এবং বিশ্বাসীগণ তাঁকে এ ব্যাপারে সত্য
বলে মেনে নিয়েছেন। এবং তারা দৃঢ়
বিশ্বাস করেছেন যে, উহা সত্যিই আল্লাহর
কালাম। উহা মাখলুকের কালামের ন্যায় সৃষ্ট
বস্তু নয়। অতএব, যে ব্যক্তি একথা শুনেও
তাকে মানুষের কালাম বলে ধারণা করবে,
সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ
বারী তাআলা তার নিন্দাবাদ করেছেন,
তিরস্কার করেছেন
এবং তাকে জাহান্নামের ভীতি প্রদর্শন
করেছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ “শীঘ্রই
তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
করব।” (সূরা মুদদাচ্ছির, ৭৪ঃ ২৬আয়াত)
আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের
ভীতি প্রদর্শন করেছেন ঐ ব্যক্তির জন্য
যে বলবে ঃ “এটাতো মানুষের কথা বৈ আর
কিছুই নয়”। (সূরা মাদ্দাচ্ছির ৭৪ ঃ ২৫ আয়াত)
অতএব, আমরা অবহিত হলাম এবং বিশ্বাস
স্থাপন করলাম যে, ইহা বিশ্বের
সৃষ্টিকর্তারই কালাম এবং সৃষ্ট জীবের
কালামের সাথে এর কোন তুলনা হয় না।
৩৪। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানবীয় কোন
গুণ আরোপ করে, সে কাফের। অতএব, (ক)
যে ব্যক্তি এতে অন্তঃদৃষ্টি প্রদান
করবে সে হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম হবে।
ফলে (আল্লাহ সম্পর্কে) কাফেরদের মত
নিরর্থক কথা বলা হতে বিরত থাকবে এবং (খ)
সে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে যে, আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন তাঁর গুণাবলীতে মানুষের
মত নন।
৩৫। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত জান্নাতীদের
জন্য সত্য। তার পদ্ধতি আমাদের অজানা। এ
ব্যাপারে কুরআন ঘোষণা করেছে ঃ “সেদিন
কতকগুলো মুখমন্ডল উজ্জল হবে, তারা তাদের
প্রতিপালকের
দিকে তাকিয়ে থাকবে।” (সুরা কিয়ামা:
৭৫ ঃ ২২ আয়াত) । এর ব্যাখ্যা একমাত্র
আল্লাহই ভাল জানেন এবং এ
সম্পর্কে যা কিছু সহীহ হাদীছে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
হতে বর্ণিত হয়েছে তা অবিকৃত অবস্থায়
গৃহীত হবে। অতএব, এতে আমরা আমাদের
বিবেক বুদ্ধি অনুসারে কোন প্রকার অসঙ্গত
তাৎপর্যের অনুপ্রবেশ ঘটাব না, অথবা স্বীয়
প্রবৃত্তির প্ররোচনায় কোন সংশয়
সৃষ্টিকারীর সংশয়কে প্রশয় দেব না। কারণ,
ধর্মীয় ব্যাপারে একমাত্র সেই ব্যক্তিই
পদস্খলন হতে নিরাপদ
থাকতে পারে যে আল্লাহ এবং রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সম্পর্কে (ভুল ধারণাকারীর বিভ্রান্তি হতে)
নিরাপদ থাকে এবং যে ব্যক্তি সংশয়যুক্ত
ব্যাপার সমূহকে সর্বজ্ঞানের
অধিকারী আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়।
৩৬। আত্ম-সমর্পণ ও বশ্যতা স্বীকার
ছাড়া কারও পা ইসলামের উপর দৃঢ়
থাকতে পাবে না। আর যে ব্যক্তি এমন
বিষয়ের জ্ঞান অর্জনের
পিছনে লেগে থাকবে যা তার জ্ঞানের
নাগালের বাইরে এবং যার বিবেক আত্মা-
সমর্পণে সন্তুষ্ট হবে না সে নির্ভেজাল
তাওহীদ, নির্দোষ মারেফাত ও বিশুদ্ধ
ঈমান হতে বঞ্চিত থাকবে। অতএব,
সে কুফরী ও ঈমান সত্য ও মিথ্যা, স্বীকৃতি ও
অস্বীকৃতির অনিশ্চয়তার
বেড়াজালে ঘুরপাক খেতে থাকবে।
সে না সত্যবাদী মু’মিন হবে, আর
না অস্বীকারকারী মিথ্যাবাদী হবে।
৩৭। যে ব্যক্তি জান্নাতীদের আল্লাহর
সাক্ষাত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে, স্বীয়
জ্ঞান অনুসারে সেই সাক্ষাতের ভুল
ব্যাখ্যা দিবে, সে পূর্ণ ঈমানদার
হতে পারবে না। কারণ, আল্লাহর
সাথে সাক্ষাতের প্রকৃত তাৎপর্য্য হচ্ছে-
সে সম্পর্কে কোনরূপ ব্যাখ্যা দেয়ার
অপচেষ্টা না করা এবং উহাকে অবিকৃত
ভাবে গ্রহণ করা। এটাই হচ্ছে মুসলিমদের
অনুসৃত নীতি। যে ব্যক্তি নফী (অস্বীকৃতি)
এবং তাশবীহ (সাদৃশ্য)
হতে আত্মরক্ষা করবে না তার নিশ্চিত
পদস্খলন ঘটবে এবং সে সঠিকভাবে আল্লাহর
পবিত্রতা ঘোষণায় ব্যর্থ হবে। কারণ,
আমাদের মহান প্রতিপালক একক ও
নজীরবিহীন হওয়ার গুণে গুণান্বিত।
মাখলুকের মধ্যে কেউ তাঁর গুণে ভূষিত নয়।
৩৮। আল্লাহপাক সীমা পরিধি থেকে মুক্ত।
তিনি অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও সাজ-সরঞ্জাম
থেকে মুখাপেক্ষীহীন। অন্যান্য সৃষ্ট বস্তুর
ন্যায় ষষ্ঠ দিক তাঁকে বেষ্টন
করে রাখতে পারে না।
৩৯। মি’রাজ সত্য,
মুহাম্মদকে নৈশকালে ভ্রমণ করান হয়েছিল,
তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে উর্ধ্ব
আকাশে উত্থিত করা হয়েছিল। সেখান
থেকে আল্লাহর
ইচ্ছা অনুসারে আরো উর্ধ্বে নেয়া হয়েছিল।
সেখানে আল্লাহ স্বীয়
ইচ্ছা অনুসারে তাকে সম্মান প্রদর্শন
করেছেন এবং তাঁকে যা প্রত্যাদেশ করার
ছিল তা করেছেন। তার অন্তর যা দেখেছিল
তা মিথ্যা নয়। আল্লাহপাক তাঁর নবীর
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
প্রতি রহমত বর্ষন করুন।
৪০। হাউয-এ কাওসার দ্বারা আল্লাহ
সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর
নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মানিত
করেছেন এবং যা তাঁর উম্মতের
পিপাসা নিবারণার্থে তাঁকে দান
করেছেন। এ বিষয়টি সত্য।
৪১। নবী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শাফাআত,
যা তিনি উম্মতের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন
তা সত্য ।
৪২। “মীসাক” (অঙ্গীকার), যা আল্লাহ
তাআলা আদম এবং তাঁর সন্তানদের কাছ
থেকে গ্রহণ করেছেন তা সত্য।
৪৩। অনাদিকাল হতে আল্লাহপাক
সার্বিকভাবে জানেন যে, কত লোক
জান্নাতে যাবে আর কত লোক
জাহান্নামে যাবে। এতে ব্যতিক্রম হবে না।
এদের সংখ্যা কমও হবে না, বেশীও হবে না।
৪৪। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা মানুষের
কৃতকর্ম সম্পর্কে পূর্ব হতেই অবহিত
এবং যাকে যে কাজের জন্য
সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ
সাধ্য। শেষ কর্ম দ্বারা মানুষের
কৃতকার্যতা বিবেচিত হবে এবং ভাগ্যবান
সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর ফায়সালায়
ভাগ্যবান বলে সাব্যস্ত হয়েছে। আর হতভাগ্য
সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর ফায়সালায়
হতভাগ্য বলে নির্ধারিত হয়েছে।
৪৫। “তাকদীর” সম্পর্কে আসল কথা এই যে,
এটা বান্দা সম্পর্কে আল্লাহর একটি রহস্য। এ
রহস্য তাঁর নিকটবর্তী কোন ফেরেশ্তাও
জানেন না অথবা তাঁর কোন প্রেরিত নবীও
অবহিত নন। এ সম্পর্কে তথ্য আবিস্কার
করতে যাওয়া অথবা অনুরূপ আলোচনায় প্রবৃত্ত
হওয়া ধৃষ্টতার কারণ, বঞ্চনার
সিঁড়ি এবং সীমা লংঘনের ধাপ। অতএব
সাবধান! এ
সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা এবং কুমন্ত্রণা হতে
সতর্ক থাকুন। কারণ, আল্লাহ
তাআলা ‘তাকদীর’ সম্পর্কিত জ্ঞান সৃষ্ট বস্তু
হতে গোপন রেখেছেন এবং এর উদ্দেশ্য
অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন। যেমন,
আল্লাহ তা’আলা বলেন ঃ
“তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন
করা হবে না, বরং তারা (তাদের কৃতকর্ম
সম্পর্কে) জিজ্ঞাসিত হবেঅ”।
(সুরা আম্বিয়া ২১ ঃ ২৩ আয়াত)
অতএব, যে ব্যক্তি একথা জিজ্ঞেস
করবে “তিনি কেন এ কাজ করলেন?”
সে আল্লাহর কিতাবের হুকুম অমান্য করল।
আর যে ব্যক্তি কিতাবের হুকুম অমান্য করল,
সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হল।
৪৬। আল্লাহর নূরে জ্যোতিদীপ্ত
অলী আওলিয়াগনও উক্ত বিষয় (অর্থাৎ
তক্বদীরকে অনুরূপভাবে মেনে নেয়ায়)
থেকে মুক্ত নন। এতদ্বারা জ্ঞানে সুগভীর
প্রজ্ঞা বিভূষিত ব্যক্তিদের মর্যাদাই
প্রতিষ্ঠিত হয়। (এ প্রসঙ্গে) উল্লেখ্য যে,
জ্ঞান দু’প্রকার। (১) যে জ্ঞান সৃষ্ট জীবের
নিকট বিদ্যমান। (২) যে জ্ঞান সৃষ্ট জীবের
নিকট অবিদ্যমান। বিদ্যমানকে অস্বীকার
করাও যেমন কুফরী, অবিদ্যমান জ্ঞানের
দাবী করাও তেমনি কুফরী। বিদ্যমান
জ্ঞানের সাধনা করা, আর অবিদ্যমান
জ্ঞানের আম্বেষন করা হতে বিরত থাকাই
সুদৃঢ় ঈমানের পরিচয়।
৪৭। লাওহে মাহফুয এবং তাতে যা কিছু
লিখিত হয়েছে তা আমরা বিশ্বাস করি।
আমরা আরও বিশ্বাস করি কলমের প্রতি।
যা হবে বলে আল্লাহ
লওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন তা হবেই।
সমস্ত সৃষ্ট জীব একত্রিত হয়েও তার কিছু রোধ
করতে পারবে না। পক্ষান্তরে,
তাতে যে বিষয় তিনি লিখেননি, সমস্ত সৃষ্ট
জীব একত্রিত হয়েও তা ঘটাতে পারবে না।
যা প্রলয় দিবস পর্যন্ত ঘটবে তা লিপিবদ্ধ
হয়ে গেছে এবং কলমের
কালি শুকিয়ে গেছে। যা বান্দার
ভাগ্যে লিখা হয়নি, তা সে কখনই
পাবে না এবং যা বান্দার
নসীবে লেখা আছে, তা হবেই হবে।
৪৮। বান্দার একথা জেনে রাখা উচিত যে,
তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত যাবতীয়
ঘটনাবলি সম্পর্কে আল্লাহ পূর্ব হতে অবহিত
রয়েছেন। অতএব, তিনি তাকে তাদের জন্য
অকাট্য ও অবিচল ভাগ্য হিসাবে নির্ধারিত
করেছেন। এটাকে কেউ বানচাল
করতে পারবে না, অথবা এর বিরোধিতাও
করতে পারবে না, একে কেউ অপসারিত
অথবা পরিবর্তিতও করতে পারবে না।
আসমান ও যমীনের কোন মাখলুক
একে সংকুচিত কিংবা বর্ধিত
করতে পারবে না। আর এটাই হচ্ছে ঈমানের
দৃঢ়তা, মারেফাতের মূলবস্তু এবং আল্লাহ
তাআলার ওয়াহদানিয়াত ও রবুবিয়ত
সম্পর্কে স্বীকৃতি দান। যেমন আল্লাহ
বারী তাআলা তাঁর
গ্রন্থে ঘোষণা করেছেন ঃ
“তিনি সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন
এবং তাকে যথাযথ অনুপাত
অনুসারে পরিমিতি প্রদান
করেছেন।” (সূরা আল-ফুরকান ২৫ ঃ ৩ আয়াত)।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অন্যত্র বলেছেন ঃ
“আল্লাহর বিধান
সুনির্ধারিত।” (সূরা আহযাব ৩৮ আয়াত)।
অতএব, ঐ ব্যক্তির জন্য ধ্বংস অনিবার্য
যে ব্যক্তি তক্বদীর সম্পর্কে আল্লাহর
বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছে এবং রোগগ্রস্ত অন্তর
নিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনায় প্রবৃত্ত
হয়েছে। নিশ্চয়ই সে স্বীয়
ধারণা অনুসারে গায়েবের একটি গুপ্ত রহস্য
সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছে এবং এ
সম্পর্কে সে যা মন্তব্য করেছে তার
ফলে সে মিথ্যাবাদী ও
পাপাচারীতে পরিণত হবে।
৪৯। আরশ এবং কুরসী সত্য।
৫০। আল্লাহ তাআলা আরশ ও অন্যান্য বস্তু
হতে অমুখাপেক্ষী।
৫১। তিনি সমস্ত বস্তুকে পরিবেষ্টন
করে রেখেছেন এবং তিনি সব কিছুরই উর্ধ্বে।
সৃষ্টিজগত
তাঁকে পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে অক্ষম।
৫২। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইবরাহীম
আলাইহিস সালামকে খলীল বা বন্ধু
হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং মূসা আলাইহিস
সালাম এর সঙ্গে কথোপকথন করেছেন। এর
পতি আমরা বিশ্বাস রাখি, উহার
সত্যতা স্বীকার করি এবং তার উপর একান্ত
আনুগত্য প্রকাশ করে থাকি।
৫৩। আল্লাহর ফেরেশ্তাগন এবং নবীগণের
প্রতি ঈমান রাখি এবং রাসূলগণের
প্রতি প্রেরিত কিতাব সমূহের উপর বিশ্বাস
স্থাপন করি এবং সাক্ষ্য প্রদান করি যে,
তারা প্রকাশ্য সত্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত
ছিলেন।
৫৪। আমাদের ক্বিবলাকে (বায়তুল্লাহ)
যারা ক্বিবলা বলে স্বীকার
করে আমরা তাদেরকে মুসলিম ও মু’মিন
বলে আখ্যায়িত করি যতক্ষণ পর্যন্ত
তারা নবী কর্তৃক প্রবর্তিত
শরীয়তকে স্বীকার করে এবং তিনি যা কিছু
বলেছেন তাকে সত্য বলে গ্রহণ করে।
৫৫। আমরা আল্লাহর সত্ত্বা (জাত)
সম্পর্কে অন্যায় গবেষণায় প্রবৃত্ত হই
না এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত
হই না।
৫৬। কুরআন সম্পর্কে আমরা কোন তর্কে লিপ্ত
হই না এবং সাক্ষ্য প্রদান করি যে, কুরআন
বিশ্ব চরাচরের প্রতিপালক পরওয়ারদিগারের
কালাম। এটা জিবরীল আমীনের
মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর
উহা নবীকূল শিরোমণি মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শিক্ষা দেয়া হয়।
ইহা আল্লাহ তাআলার কালাম, কোন সৃষ্টির
কালাম এর সমতুল্য নয়। আর
আমরা একে মাখলুক
বলি না এবং আমরা মুসলিম মিল্লাতের
বিরুদ্ধাচরণ করি না।
৫৭। কোন গুনাহর কারণে কোন
আহলে ক্বিবলাকে (মুসলিমকে) কাফির
বলে অভিহিত করি না যতক্ষণ না সে উক্ত
গুনাহকে হালাল (জায়েয) মনে করে।
৫৮। আমরা আশা করি যে, সৎকর্মশীল
মু’মিনগণকে আল্লাহপাক ক্ষমা করবেন
এবং স্বীয়
অনুগ্রহে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ
করাবেন। আমরা তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত
নই, আর তাদের জান্নাতে প্রবেশেরও
ঘোষণা দান করি না এবং তাদের
গুনাহসমূহের জন্য আল্লাহর নিকট
আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করব
এবং আমরা তাদের জন্য আশংকা বোধ করব,
কিন্তু নিরাশ হব না।
৬০। নিশ্চিন্ততা ও নৈরাশ্যবোধ একজন
মুসলিমকে মিল্লাতে ইসলামিয়া থেকে বের
করে দেয়। অথচ আহলে ক্বিবলার জন্য সত্য পথ
এতদুভয়ের মধ্যে নিহিত।
৬১। আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত যে সব
বস্তুকে ঈমানের অংগ করেছেন সে সব
বস্তুকে অস্বীকার না করা পর্যন্ত কোন
বান্দাই ঈমানের বৃত্ত হতে বের হয় না।
৬২। শরীআত এবং উহার ব্যাখ্যা-
যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
হতে সঠিকভাবে প্রাপ্ত, তার সবগুলো সত্য।
৬৪। ঈমান এক। ঈমানদার ব্যক্তিরা প্রকৃত
প্রস্তাবে সবাই সমান, তবে তাদের
মধ্যে মর্যাদার পার্থক্য হয়ে থাকে আল্লাহর
ভয়, তাক্বওয়া, কৃ-প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচরণ
এবং উত্তম বস্তুকে আকড়ে ধরার মাধ্যমে।
৬৫। সব মু’মিন দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল
আলামীনের অলী এবং তাদের
মধ্যে আল্লাহর নিকট
সবচেয়ে বেশী সম্মানিত সেই
ব্যক্তি যে তাঁর অধিক অনুগত এবং কুরআনের
বেশী অনুসারী।
৬৬। ঈমান হচ্ছে ঃ আল্লাহ, তাঁর ফেরেশ্তা,
তাঁর গ্রন্থ (আল-কুরআন), তাঁর রাসূল,
ক্বেয়ামাহ দিবস, তাক্বদীরের ভাল মন্দ,
মিষ্টি ও তিক্ত, সবই আল্লাহর তরফ থেকেÑ
এই সবের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
৬৭। আমরা উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলোর
প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করি,
আমরা রাসূলদের মধ্যে কোন তারতম্য
করি না। তাঁরা যে সকল বিধি-বিধান
নিয়ে এসেছিলেন তা সবই সত্য বলে স্বীকার
করি।
৬৮। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উম্মাতের
মধ্যে যারা কবীরাহ গুনাহ
করবে তারা জাহান্নামে যাবে বটে, কিন্তু
চিরস্থায়ী হবে না-
যদি তারা একত্ববাদী হযে মৃত্যু বরণ করে, আর
তাওবা নাও করে, কিন্তু ঈমানদার
হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত
করে এবং তারা আল্লাহর ইচ্ছা ও বিচারের
উপর নির্ভরশীল হয়। তবে যদি তিনি চান
তাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং নিজ
গুণে তাদের ত্র“টিসমূহ মার্জনা করবেন।
যেমন, আল্লাহ বারী তা’আলা তাঁর পবিত্র
কুরআনে বলেন ঃ
“শিরক ব্যতীত অন্যান্য সব অপরাধ
তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সূরা নিসা
৪ঃ ৪৮ আয়াত)।
আর যদি তিনি চান,
তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ
করাবেন এবং তা হবে তার ন্যায় বিচার।
অতঃপর আল্লাহপাক তাদেরকে নিজ
অনুগ্রহে এবং তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত
সুপারিশকারীদের সুপারিশের
ফলে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ
করাবেন।
এর কারণ হল এই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর
নেককার বান্দাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ
করেছেন। তাদেরকে ইহকাল ও পরকালের
অস্বীকারকারীদের ন্যায় করেননি,
যারা তাঁর হিদায়েতের পথ হতে বিভ্রান্ত
হয়েছে। তারা তো তাঁর বন্ধুত্ব লাভে বঞ্চিত
হয়েছে। হে ইসলাম ও মুসলিমদের অভিভাবক
মহান আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ইসলামের
উপর প্রতিষ্ঠিত রেখ যতক্ষণ পর্যন্ত
না আমরা তোমার সাথে মিলিত হই।
৬৯। প্রত্যেক সৎ ও পাপী মুসলিমের
পিছনে নামাজ আদায় করা এবং প্রত্যেক মৃত
মুসলিমের জন্য জানাযার নামাজ আদায়
করা জায়েয বলে আমরা মনে করি।
৭০। আমরা কাউকে জান্নাতী ও
জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করব
না এবং কারও বিরুদ্ধে আমরা কুফরী ও
শিরকের অথবা নিফাকের সাক্ষ্য প্রদান করব
না, যতক্ষণ না এগুলির কোন একটি তাদের
মধ্যে প্রকাশ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। তাদের
আভ্যন্তরীণ ব্যাপার আমরা আল্লাহর উপর
ছেড়ে দেই।
৭১। আমীর ও শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
করাকে আমরা জায়েয মনে করি না, যদিও
তারা অত্যাচার করে। আমরা তাদের
অভিশাপ দিব না এবং আনুগত্য হতে হাত
গুটিয়ে নিব না। তাদের আনুগত্য আল্লাহর
আনুগত্যের সাপেক্ষে ফরয, যতক্ষণ
না তারা আল্লাহর অবাধ্যচরণের আদেশ
দেয়। আমরা তাদের মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য
দু’আ করব।
৭৩। আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের
অনুসরণ করব। আমরা জামাআত হতে বিচ্ছিন্ন
হওয়া এবং জামাআতের মধ্যে বিভেদ
সৃষ্টি করা হতে বিরত থাকব।
৭৪। আমরা ন্যায় পরায়ন ও আমানতদার
ব্যক্তিদেরকে ভালবাসব এবং অন্যায়কারী ও
আমানতের খেয়ানতকারীদের
সাথে শত্র“তা পোষণ করব।
৭৫। যে সব বিষয়ে আমাদের জ্ঞান অস্পষ্ট
সে সব বিষয়ে আমরা বলব ঃ “আল্লাহ রাব্বুল
আলামীন অধিক জানেন। ”
৭৬। সফরে ও গৃহে হাদীছের
নিয়মানুসারে আমরা মোজার উপরে মাসেহ
করা জায়েয মনে করি।
৭৭। মুসলিম শাসক ভাল হউক কিংবা মন্দ
হউক- তার অনুগামী হয়ে জিহাদ করা এবং হজ
করা কেয়ামাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ
দু’টি জিনিসকে কেউ বাতিল বা ব্যাহত
করতে পারবে না।
৭৮। আমরা কিরামান-কাতিবীন
ফেরেশ্তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি।
কারণ, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আমাদের
পর্যবেক্ষক নির্বাচিত করেছেন।
৭৯। আমরা মালাকুল মাউতের (মৃত্যুর
ফেরেশ্তার) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি।
তাকে বিশ্বের রূহসমূহ কবয্ করার দায়িত্ব
অর্পণ রা হয়েছে।
৮০। আমরা শাস্তিযোগ্য ব্যক্তিদের জন্য
কবরের আযাবের প্রতি বিশ্বাস
রাখি এবং এও বিশ্বাস করি যে, কবরের
মুনকার ও নাকীর (দুই ফেরেশ্তা) মৃত ব্যক্তির
রব, দ্বীন, ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন।
এ সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
এবং ছাহাবায়ে কেরামদের নিকট হতে বহু
হাদীছ ও উক্তি বর্ণিত হয়েছে।
৮১। কবর জান্নাতের বাগিচা সমূহের অন্যতম
অথবা ইহা জাহান্নামের গহ্বর সমূহের
অন্যতম।
৮২। আমরা পুনরুত্থান, কেয়ামাত দিবস
আমলের প্রতিফল, হিসাব নিকাশ
আমলনামা পাঠ, সওয়াব (প্রতিদান) শাস্তি,
পুলসিরাত এবং মীযান এসবই সত্য
বলে বিশ্বাস করি।
৮৩। জান্নাত ও জাহান্নাম পূর্ব হতে সৃষ্ট
হয়ে আছে। এ দু’টি কোন দিন লয় প্রাপ্ত
হবে না এবং ক্ষয় প্রাপ্তও হবে না। আল্লাহ
তাআলা জান্নাত ও জাহান্নামকে অন্যান
সৃষ্টির পূর্বে সৃষ্টি করেছেন এবং উভয়ের জন্য
বাসিন্দা সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাদের
মধ্যে যাকে ইচ্ছা স্বীয়
অনুগ্রহে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
এবং যাকে ইচ্ছা জাহান্নামে প্রবেশ
করাবেন। তা হবে তার ন্যায় বিচার। আর
প্রত্যেকেই সেই কাজ করবে যা তার জন্য
নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং যার জন্য
তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সেখানেই
সে যাবে।
৮৪। ভাল ও মন্দ উভয়ই বান্দার জন্য নির্দিষ্ট
করা হয়েছে।
৮৫। “সামর্থ”Ñ যে কোন কর্মের জন্য
অপরিহার্য। উহা দু’ধরণেরÑ (১) তাওফীক,
(যা আল্লাহ পাকের অন্যতম গুণ)। এর
দ্বারা মাখলুককে ভুষিত করা যায় না। এ
ধরণের সামর্থ বান্দার কর্মের
সাথে সংশ্লিষ্ট (কর্ম বাস্তবায়িত করার
জন্য অপরিহার্য)। (২) যে “সামর্থ” কর্মের
পূর্বেই প্রয়োজন যেমন সুস্থতা, সচ্ছলতা,
ক্ষমতা, অঙ্গ প্রতঙ্গের নিরাপত্তা, আর এরই
সাথে আল্লাহ তা’আলা বলেন ঃ
“তিনি কাউকে তার ক্ষমতার
উর্ধ্বে দায়িত্ব দেন না।
(সূরা বাকারা ২ঃ২৮৬ আয়াত)।
৮৬। বান্দাদের যাবতীয় কর্ম আল্লাহর
সৃষ্টি এবং উহা বান্দাদের উপার্জন।
৮৭। আল্লাহপাক তাঁর বান্দাদের উপর তাদের
সামর্থের অধিক দায়িত্বভার ন্যস্ত করেন
না। বরং তারা যতটুকু দায়িত্ব পালনের
যোগ্যতা রাখে ততটুকু বোঝাই
তিনি চাপিয়ে থাকেন। এটাই
হল ঃ “আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন সৎ কর্ম
হতে বিরত থাকার ক্ষমতা কারও নেই।” এর
ব্যাখ্যা হলোÑ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের
সাহায্য ছাড়া কারো কোন
স্বার্থোদ্ধারে নড়া-চড়া এবং আল্লাহর
অবাধ্যচরণ হতে বিরত থাকার ক্ষমতা নেই।
অনুরূপভাবে, আল্লাহ তাআলার তাওফীক
ছাড়া আল্লাহর আনুগত্য বরণ করার এবং তার
উপরে দৃঢ় থাকার সাধ্য কারও নেই।
৮৮। পৃথিবীতে যা কিছু সংঘটিত হয়,
তা আল্লাহর ইচ্ছা, তাঁর জ্ঞান, তাঁর
ফায়সালা এবং তাঁর বিধান অনুসারেই
হয়ে থাকে। তাঁর ইচ্ছা সমস্ত ইচ্ছার উপরে।
তাঁর ফায়সালা সমস্ত কৌশলের ঊর্ধ্বে।
যা ইচ্ছা তিনি তাই করেন। তিনি কখনও
অত্যাচার করেন না। তিনি সর্ব প্রকার কলুষ
ও কালিমা হতে পবিত্র এবং সব রকমের দোষ
ত্র“টি হতে বিমুক্ত। তিনি যা করেন
সে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন না।
পক্ষান্তরে, অন্য সবই স্বীয় কর্ম
সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
(সূরা আম্বিয়া ২১ : ২৩ আয়াত)
৮৯। জীবিত ব্যক্তিদের দুআ এবং দান খয়রাত
দ্বারা মৃত বক্তিরা উপকৃত হয়ে থাকে।
৯০। আল্লাহ বারী তাআলা দুআ কবুল করেন
এবং বান্দাদের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন।
৯১। আল্লাহ তাআলা সব কিছুরই মালিক
এবং তাঁর মালিক কেউ নয়। মুহুর্তের জন্যও
কারো পক্ষে আল্লাহর
অমুখাপেক্ষী হওয়া সম্ভব নয়।
যে ব্যক্তি মুহুর্তের জন্য আল্লাহর
অমুখাপেক্ষী হতে চাবে, সে কাফির
হয়ে যাবে এবং লাঞ্ছিত হবে।
৯২। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ক্রুদ্ধ
এবং রুষ্ট হন, তবে তা মাখলুকের ন্যায় নয়।
৯৩। আমরা রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সাহাবাদেরকে ভালবাসি, তবে তাদের
ভালবাসার
ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করি না এবং তাদের
কাউকেও তিরস্কার করি না। তাদের
সাথে যারা বিদ্বেষ পোষণ
করে অথবা যারা তাদেরকে অসম্মানজনক
ভাবে স্মরণ করে আমরা তাদের
প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি।
আমরা তাদেরকে শুধু কল্যাণের সাথেই স্মরণ
করি। তাদের সঙ্গে মহব্বত রাখা দ্বীন ও
ঈমান এবং এহসানের অংশ। আর তাদের
প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, কুফরী,
মুনাফিকী এবং সীমা লংঘন করার
পর্যায়ভূক্ত।
৯৪। আমরা রাসূলের সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর সর্বপ্রথম আবু বকর
রাদিআল্লাহু আনহুর
খেলাফতবে স্বীকৃতি দেই। অতঃপর
পর্যায়ে ক্রমে উমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
উসমান (রাঃ) ও আলীকে (রাঃ)
খলীফা বলে স্বীকার করি। তাঁরাই ছিলেন
সুপথগামী খলীফা ও হিদায়েত-প্রাপ্ত
নেতা।
৯৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দশজন সাহাবার
নাম উল্লেখ করে তাদের
সম্পর্কে জান্নাতের সুসংবাদ দান করেছেন,
আমরা তাদের জান্নাতে প্রবেশের স্বাক্ষ্য
প্রদান করি। কারণ, এ
সম্পর্কে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুসংবাদ দান
করেছেন এবং তাঁর উক্তি সত্য।
তাঁরা হলেন ঃ (১) আবু বকর (রাঃ) (২) উমর
(রাঃ) (৩) উসমান (রাঃ) (৪) আলী (রাঃ) (৫)
তালহা (রাঃ) (৬) যুবাইর (রাঃ) (৭) সা’দ
(রাঃ) (৮) সা’ঈদ (রাঃ) (৯) আউফ (রাঃ)
এবং (১০) আমীনুল উম্মাহ (জাতির
বিশ্বাসভাজন) আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ
(রাঃ)
৯৬। যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছাহাবা ও তাঁর
পুতঃপবিত্র সহধর্মিনী ও বংশধরগণ
সম্পর্কে ভাল মন্তব্য
করে সে মুনাফিকী হতে নিস্কৃতি পায়।
৯৭। সালাফে ছালেহীন (পূর্ববর্তী নেককার
বান্দাগণ) ও তাঁদের পদাংক অনুসারী সৎ
কর্মশীল ব্যক্তিগণ এবং ফক্বীহ ও
চিন্তাবিদগণকে আমরা যথাযথ সম্মানের
সঙ্গে স্মরণ করি, আর যারা এদের
সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে তারা সঠিক পথের
পথিক নয়।
৯৮। আমরা কোন অলীকে কোন নবীর
উপরে প্রাধান্য দেই না বরং আমরা বলি,
যে কোন একজন রাসূল সমস্ত আওলীয়াকুল
হতে শ্রেষ্ঠ।
৯৯। আওলীয়াদের কারামত
সম্পর্কে যে খবরাখবর আমাদের নিকট
পৌঁছেছে এবং যা বিশ্বস্ত বর্ণনার
মাধ্যমে পরিবেশিত
হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি।
১০০। আমরা কেয়ামাতের নিম্নলিখিত
নিদর্শনাবলীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন
করি ঃ দাজ্জালের আবির্ভাব, আসমান
হতে ঈসা আ. এর অবতরণ, পশ্চিম
গগনে সূর্যোদয় এবং দাব্বাতুল আরয নামক
প্রাণীর স্বীয় স্থান হতে আবির্ভাব।
১০১। আমরা কোন ভবিষ্যৎ বক্তা অথবা কোন
জ্যোতিষীকে সত্য বলে মনে করি না এবং ঐ
বক্তিকেও সত্য বলে মনে করি না,
যে আল্লাহর কিতাব, নবীর সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাহ ও উম্মতের
এজমার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে।
১০২। আমরা (মুসলিম জাতির) ঐক্যকে সত্য ও
সঠিক
বলে মনে করি এবং তা হতে বিচ্ছিন্নতাকে
বক্রতা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ
বলে মনে কর্ ি
১০৩। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে আল্লাহর দ্বীন
এক এবং অভিন্ন। তা হচ্ছে ইসলাম। আল্লাহ
তাআলা বলেন ঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট
একমাত্র দ্বীন হচ্ছে ইসলাম।” (সুরা ইমরান,
৩ ঃ ১৯ আয়াত)।
অন্যত্র তিনি আরও বলেনÑ
“এবং আমি ইসলামকে তোমাদের দ্বীন
হিসাবে মনোনীত
করলাম।” (সূরা মায়েদা,আয়াত : ৩ )
১০৪। ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম।
এতে বাড়াবাড়ি ও সংকীর্ণতা, তাশবীহ ও
তা’তীল জবর ও ক্বদরের স্থান নেই।
ইহা নিশ্চিন্ততা ও নৈরাশ্যের
মধ্যবর্তী একটি পথ।
১০৫। এগুলিই হচ্ছে আমাদের দ্বীন
এবং আমাদের আক্বীদাহ বা মৌলিক ধর্ম
বিশ্বাস।
যা প্রকাশ্যে এবং অন্তরে উহা ধারণ করি।
যারা উল্লিখিত বিষয় বস্তুর
বিরোধিতা করে, তাদের সঙ্গে আমাদের
কোনই সম্পর্ক নেই।
সর্বশেষ বারগাহে এলাহীতে আমাদের
আরয ঃ তিনি যেন আমাদেরকে ঈমানের উপর
প্রতিষ্ঠিত থাকার তাওফীক প্রদান করেন
এবং আমাদের জীবনাবসান ঈমানের
সাথে করেন এবং আমাদেরকে রক্ষা করেন
বিভিন্ন প্রবৃত্তি পরায়ণতা ও মতামতসমূহ
হতে এবং মুশাববিহা, মু’তাযিলা,
জাহমিয়া, জাবরিয়া,
ক্বাদরিয়া প্রভৃতি বাতিল মাযহাবসমূহের
মধ্যে যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল
জামা’আতের বিরুদ্ধাচরণ
করে এবং যারা ভ্রষ্টতার উপরে প্রতিষ্ঠিত
থাকার জন্য শপথ গ্রহণ করে, আমরা তাদের
থেকে আমাদের সম্পর্কহীনতার
কথা ঘোষণা করছি। তারা আমাদের
মতে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত।
পরিশেষে আল্লাহর নিকটেই যাবতীয়
ভ্রান্তি হতে নিরাপত্তা এবং সৎপথে চলার
তাওফীক কামনা করছি।
সমাপ্ত

ওলীআল্লাহ গণ কেয়ামতেরর দিন সুপারিশ করবেন

Standard

$$$ আল্লাহর প্রিয় অলীগণ কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন:-
=================================
আল্লাহর প্রিয় অলীগণ কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন
এবং তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে । অনেক বাতিল
ফেরকা রয়েছে যারা অলিগণের সুপারিশতো দূরের
কথা রাসূলে পাক (দঃ) এর শাফায়াতকেও অস্বীকার করে ।
তাদের জন্য আজকের পোষ্ট । আহলে সুন্নাতের আকীদা হল
আল্লাহর অলিগণ শাফায়াত
করে জাহান্নামীকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতি বানাতে পারবেন
। এবং এজন্যই আমরা অলীগণকে এত ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি,
ওরস করি , ফাতেহা ইয়াজদাহুম করি । নিম্নে দলীল
সহকারে প্রমাণ করা হল । ___________________________________
____________________________ _______ দলীল 1 ﻭ ﺍﺫﺍ ﺭﺃﻭﺍ ﺍﻧﻬﻢ ﻗﺪ ﻧﺠﻮﺍ ﻓﻲ
ﺍﺧﻮﺍﻧﻬﻢ ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﺍﺧﻮﺍﻧﻨﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭﻳﺼﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﻌﻤﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﻓﻤﻦ ﻭﺟﺪﺗﻢ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻣﻦ ﺍﻳﻤﺎﻥ ﻓﺎﺣﺮﺣﻮﻩ ﻭ ﻳﺤﺮﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻮﺭﻫﻢ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ
ﻓﻴﺎﺗﻮﻧﻬﻢ ﻭﺑﻌﻀﻬﻢ ﻗﺪ ﻏﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺍﻟﻲ ﻗﺪﻣﻪ ﻭ ﺍﻟﻲ ﺍﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻪ ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﻮﺍ যখন
মুমীন আল্লাহর অলীগণ দেখবে যে তারা মুক্তি পেয়ে গেল ,
তখন তাদের মুমীন ভাইদের জন্য তারা আল্লাহর
কাছে আবেদন করবে “হে আমার প্রতিপালক এরা আমাদের
ভাই, যাদেরকে তুমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছ
তারা আমাদের সাথে নামাজ পড়ত , আমাদের
সাথে রোজা রাখত এবং আমাদের সাথে সত্কাজ করত “। তখন
আল্লাহ বলবেন “যাদের অন্তরে শুধুমাত্র এক দিনার ওজন
পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আস । তাদের মুখমন্ডল
তথা আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম
করে দেওয়া হয়েছে ” । অতঃপর তারা অলীগণ
সেখানে জাহান্নামীদের নিকট যাবেন । এসে দেখবেন কেউ
কেউ পা পর্যন্ত কেউ পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত
আগুনে ডুবে আছে । এর মধ্যে যাদের
তারা কিনবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আসবে । (সহীহ বুখারী , খন্ড ২ পৃষ্ঠা ১১০৭ । হাদীস
নং ৭০০১) ___________________________________ _______________
_____________ _______ দলীল 2 ﻓﻮﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﻣﺎ ﻣﻮﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﺣﺪ ﺑﺎﺷﺪ ﻣﻨﺎﺷﺪﺓ ﻟﻠﻪ
ﻓﻲ ﺍﺳﺘﻘﺼﺎﺀ ﺍﻟﺤﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻣﻨﻴﻦ ﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻻﺧﻮﺍﻧﻬﻢ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ
ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻭ ﻳﺤﺠﻮﻥ ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ ﺍﺣﺮﺟﻮﺍ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﺘﻢ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ যখন
তাদের ঐ সমস্ত মুমীন ভাই
যারা জাহান্নামে পড়ে থাকবে তাদেরকে জাহান্নাম
থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আল্লাহর
দরবারে এমনভাবে আবদারের পর আবদার করতে থাকবে,
যে রকম আবদার কোন ব্যক্তি তার নিজ হক আদায়ের জন্যও
সাধারণত করে না । এবং তারা আল্লাহর দরবারে আবেদন
করবেন হে আমাদের রব এ সমস্ত লোক আমাদের
সাথে রোজা রাখত, নামাজ পড়ত, হজ্ব করত । তখন
তাদেরকে বলা হবে তোমরা যাদেরকে চিন তাদেরকে বের
করে নিয়ে আস । (সহীহ মুসলিম । খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১০৩ হাদিস
১৮৩) ___________________________________ ____________________________
_______ দলীল 3 ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺍﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺭﺽ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻗﺎﻻﻥ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻲ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻔﺌﺎﻡ
ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻘﺒﻴﻠﺔ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻌﺼﺒﺔ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﺮﺟﻞ ﺣﺘﻲ ﻳﺪﺧﻠﻮﺍ
ﺍﻟﺠﻨﺔ হযরত আবূ সাঈদ রঃ হতে বর্ণিত , রাসুল দঃ এরশাদ
করেছেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন
যারা তাদের সকল সমর্থক ও অনুসারীদের জন্য সুপারিশ
করবে । আর কিছু লোক আছেন যারা একটি দলের জন্য সুপারিশ
করবে । আর কিছু লোক আছে যারা এক এক জনের জন্য সুপারিশ
করবে । এভাবে তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে । (আল
হাদিস, তিরমীযি খন্ড ২ পৃঃ ৬৭ , হাদিস ২৪৪০) _______________
____________________ ____________________________ _______ দলীল 4 ﻋﻦ
ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻭ ﺣﻔﻈﻪ ﺍﺩﺧﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺷﻔﻌﻪ ﻓﻲ
ﻋﺸﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﻛﻠﻬﻢ ﻗﺪ ﺍﺳﺘﻮﺟﺒﻮﺍ ﺍﻟﻨﺎﺭ হযরত আলী ইবনে আবি তালিব
রঃ হতে বর্ণিত , তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ দঃ এরশাদ করেছেন
যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ পাঠ করল এবং মুখস্হ করল , আল্লাহ
তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাকে তার বংশধর
হতে এমন দশজনকে সুপারিশ করতে পারবে যাদের উপর
জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল । (আল হাদিস.
তিরমীজি খন্ড ২ হাদিস ১১৪, ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৬)
.
আল্লাহর প্রিয় অলীগণ কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবেন
এবং তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে । অনেক বাতিল
ফেরকা রয়েছে যারা অলিগণের সুপারিশতো দূরের
কথা রাসূলে পাক (দঃ) এর শাফায়াতকেও অস্বীকার করে ।
তাদের জন্য আজকের পোষ্ট । আহলে সুন্নাতের আকীদা হল
আল্লাহর অলিগণ শাফায়াত
করে জাহান্নামীকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতি বানাতে পারবেন
। এবং এজন্যই আমরা অলীগণকে এত ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি,
ওরস করি , ফাতেহা ইয়াজদাহুম করি । নিম্নে দলীল
সহকারে প্রমাণ করা হল । ___________________________________
____________________________ _______ দলীল 1 ﻭ ﺍﺫﺍ ﺭﺃﻭﺍ ﺍﻧﻬﻢ ﻗﺪ ﻧﺠﻮﺍ ﻓﻲ
ﺍﺧﻮﺍﻧﻬﻢ ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﺍﺧﻮﺍﻧﻨﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭﻳﺼﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﻌﻤﻠﻮﻥ ﻣﻌﻨﺎ ﻓﻴﻘﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺍﺫﻫﺒﻮﺍ ﻓﻤﻦ ﻭﺟﺪﺗﻢ ﻓﻲ ﻗﻠﺒﻪ ﻣﺜﻘﺎﻝ ﺩﻳﻨﺎﺭ ﻣﻦ ﺍﻳﻤﺎﻥ ﻓﺎﺣﺮﺣﻮﻩ ﻭ ﻳﺤﺮﻡ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻮﺭﻫﻢ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ
ﻓﻴﺎﺗﻮﻧﻬﻢ ﻭﺑﻌﻀﻬﻢ ﻗﺪ ﻏﺎﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺍﻟﻲ ﻗﺪﻣﻪ ﻭ ﺍﻟﻲ ﺍﻧﺼﺎﻑ ﺳﺎﻗﻪ ﻓﻴﺨﺮﺟﻮﻥ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﻮﺍ যখন
মুমীন আল্লাহর অলীগণ দেখবে যে তারা মুক্তি পেয়ে গেল ,
তখন তাদের মুমীন ভাইদের জন্য তারা আল্লাহর
কাছে আবেদন করবে “হে আমার প্রতিপালক এরা আমাদের
ভাই, যাদেরকে তুমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছ
তারা আমাদের সাথে নামাজ পড়ত , আমাদের
সাথে রোজা রাখত এবং আমাদের সাথে সত্কাজ করত “। তখন
আল্লাহ বলবেন “যাদের অন্তরে শুধুমাত্র এক দিনার ওজন
পরিমাণ ঈমান পাবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আস । তাদের মুখমন্ডল
তথা আকৃতিকে জাহান্নামের জন্য হারাম
করে দেওয়া হয়েছে ” । অতঃপর তারা অলীগণ
সেখানে জাহান্নামীদের নিকট যাবেন । এসে দেখবেন কেউ
কেউ পা পর্যন্ত কেউ পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত
আগুনে ডুবে আছে । এর মধ্যে যাদের
তারা কিনবে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের
করে নিয়ে আসবে । (সহীহ বুখারী , খন্ড ২ পৃষ্ঠা ১১০৭ । হাদীস
নং ৭০০১) ___________________________________ _______________
_____________ _______ দলীল 2 ﻓﻮﺍﻟﺬﻱ ﻧﻔﺴﻲ ﺑﻴﺪﻩ ﻣﺎ ﻣﻮﻛﻢ ﻣﻦ ﺍﺣﺪ ﺑﺎﺷﺪ ﻣﻨﺎﺷﺪﺓ ﻟﻠﻪ
ﻓﻲ ﺍﺳﺘﻘﺼﺎﺀ ﺍﻟﺤﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻣﻨﻴﻦ ﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻻﺧﻮﺍﻧﻬﻢ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻳﻘﻮﻟﻮﻥ ﺭﺑﻨﺎ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻮﻣﻮﻥ
ﻣﻌﻨﺎ ﻭ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻭ ﻳﺤﺠﻮﻥ ﻓﻴﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ ﺍﺣﺮﺟﻮﺍ ﻣﻦ ﻋﺮﻓﺘﻢ আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ যখন
তাদের ঐ সমস্ত মুমীন ভাই
যারা জাহান্নামে পড়ে থাকবে তাদেরকে জাহান্নাম
থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আল্লাহর
দরবারে এমনভাবে আবদারের পর আবদার করতে থাকবে,
যে রকম আবদার কোন ব্যক্তি তার নিজ হক আদায়ের জন্যও
সাধারণত করে না । এবং তারা আল্লাহর দরবারে আবেদন
করবেন হে আমাদের রব এ সমস্ত লোক আমাদের
সাথে রোজা রাখত, নামাজ পড়ত, হজ্ব করত । তখন
তাদেরকে বলা হবে তোমরা যাদেরকে চিন তাদেরকে বের
করে নিয়ে আস । (সহীহ মুসলিম । খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১০৩ হাদিস
১৮৩) ___________________________________ ____________________________
_______ দলীল 3 ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺍﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ ﺭﺽ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻗﺎﻻﻥ ﻣﻦ ﺍﻣﺘﻲ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻔﺌﺎﻡ
ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻘﺒﻴﻠﺔ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﻌﺼﺒﺔ ﻭ ﻣﻨﻬﻢ ﻣﻦ ﻳﺸﻔﻊ ﻟﻠﺮﺟﻞ ﺣﺘﻲ ﻳﺪﺧﻠﻮﺍ
ﺍﻟﺠﻨﺔ হযরত আবূ সাঈদ রঃ হতে বর্ণিত , রাসুল দঃ এরশাদ
করেছেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন
যারা তাদের সকল সমর্থক ও অনুসারীদের জন্য সুপারিশ
করবে । আর কিছু লোক আছেন যারা একটি দলের জন্য সুপারিশ
করবে । আর কিছু লোক আছে যারা এক এক জনের জন্য সুপারিশ
করবে । এভাবে তারা সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে । (আল
হাদিস, তিরমীযি খন্ড ২ পৃঃ ৬৭ , হাদিস ২৪৪০) _______________
____________________ ____________________________ _______ দলীল 4 ﻋﻦ
ﻋﻠﻲ ﺑﻦ ﺍﺑﻲ ﻃﺎﻟﺐ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻌﻢ ﻣﻦ ﻗﺮﺃ ﺍﻟﻘﺮﺍﻥ ﻭ ﺣﻔﻈﻪ ﺍﺩﺧﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻭﺷﻔﻌﻪ ﻓﻲ
ﻋﺸﺮﺓ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺑﻴﺘﻪ ﻛﻠﻬﻢ ﻗﺪ ﺍﺳﺘﻮﺟﺒﻮﺍ ﺍﻟﻨﺎﺭ হযরত আলী ইবনে আবি তালিব
রঃ হতে বর্ণিত , তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ দঃ এরশাদ করেছেন
যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ পাঠ করল এবং মুখস্হ করল , আল্লাহ
তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাকে তার বংশধর
হতে এমন দশজনকে সুপারিশ করতে পারবে যাদের উপর
জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল । (আল হাদিস.
তিরমীজি খন্ড ২ হাদিস ১১৪, ইবনে মাজাহ হাদিস ২১৬)

wahabizm is a one kind of cancer

Standard

ওয়াহাবীজম ইসলামের জন্য এমন একটি ব্যাধি যার
চিকিৎসা দেয়া খুব কঠিন। তাদের ঈমান
বিদ্ধংষী আকিদা ও সর্বোপরি ইসলামি শরীয়ত
বিরোধী কর্মকান্ড চরম পর্যায়ে পৌছেছে।
তাদেরকে মূলত ইহুদী খৃষ্ঠানদের দালাল আখ্যায়িত
করা যায়। আহলে বায়েত ও ওলী আউলিয়াদের
বিরোধী ওহাবীদের জন্মের প্রতি ইঙ্গিত করে আজ
থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগেই রাসূল (সঃ)
ঘোষণা করে গেছেন। ধারাবাহিক পর্বের
মাধ্যমে তাদের বদ আকিদা ও মুখোশ উন্মোচন করার
লক্ষ্যে আজকের ১ম পর্বে তাদের জন্ম রহস্য
তুলে ধরা হল।
শয়তানের প্রথম শিং ভন্ড নবী দাবিদার
মুসাইলামা বিন কাজ্জাব এবং দ্বিতীয়
শিংটি হচ্ছে তারই ১১তম বংশধর পথভ্রষ্ট মুহাম্মদ বিন
আব্দুল ওয়াহাব নজদী।
হযরত ইবনে ওমর (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, হে আল্লাহ! আমাদের
শামে (সিরিয়া) ও আমাদের ইয়ামেনে বরকত দান করুন।
উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললেন,
ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুন।
নবী (সঃ) বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের শামে ও
আমাদের ইয়ামেনে বরকত দান করুন। পূনরায় উপস্থিত
লোকেরা তখন বলল, আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুন।
রাবী বলেন আমার মনে হয় তৃতীয়বার নবী (সঃ) বললেন,
সেখানেতো ভুমিকম্প ও ফিতনা এবং শয়তানের
শিং উদিত হবে।
(সূত্রঃ বোখারী শরিফ, হাদিস নং-৬৬৮১ (আরবী),
৬৬১৩ (বাংলা)।
এই আব্দুল ওয়াহাব বিন নজদীর অনুস্বারীরাই
ওয়াহাবী নামে পরিচিত যারা মুসলিম বিশ্বের জন্য
ওয়াহাবীদের ভ্রান্ত আকিদা ও
মূলনীতি বিষয়ে দালিলিক আলোচনায় প্রবেশের
আগে তাদের বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ২য় পর্ব
লিখা হল।
আপনি যদি বাস্তবতার নিরিখে আহলে বায়েত
বা ওলী-আউলিয়া কেরামের পবিত্র উদৃতির
মাধ্যমে কোন একটি সত্যকে বোঝাতে চান,
ওয়াহাবীরা কোনমতেই তা বুঝতে চাইবে না।
তারা বলবে, আমরা এইসব মানি না, কোরআন হাদীস
থেকে দলিল দেন।
এরপর আপনি তাদেরকে সত্যটি বুঝানোর জন্য যদি দলিল
হিসেবে হাদীস শরীফ পেশ করেন,
তবে তারা বলবে এটা জাল হাদীস। নয়তোবা বলবে, এই
হাদীসটা হলো দুর্বল হাদীস। অথবা বলবে এই
হাদীসটা বিশুদ্ধ নয়।
অতঃপর সর্বোচ্চ ও সর্বশেষ
চেষ্টা হিসেবে আপনি যদি ব্যাখ্যাসহ কোরআন
শরীফের কোন আয়াত উদৃতি হিসেবে পেশ করবেন, তখন
তারা বলবে
আপনার দেয়া ব্যাখ্যা সঠিক নয়, ভুল!
এবার যদি আপনি তাকে বলেন যে, আমার
দেয়া ব্যাখ্যা টা যদি ভুল হয়ে থাকে,
তবে দয়া করে আপনি সঠিক ব্যাখ্যাটা দিয়ে দেন
তো ভাই।
দেখবেন, ঘেউ ঘেউ (অকথ্য ভাষায় গালাগাল) করবে।
তবুও সত্যকে বুঝবে না আর বুঝার চেষ্ঠাও করবে না।
তাদের ভ্রান্ত আকিদায় তারা অটল।
আর এরকম লোকদের জন্যই আল্লাহ বলেন, “আর
আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ।
তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না,
তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর
তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না।
তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর।
তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ”। (সূরা আরাফ-১৭৯)
আমি তাদেরকে (ওয়াহাবী) অমুসলিম বলব
না বরং দ্বীনচু্যত লেবাসদারী বাতিল
ফের্কা হিসাবে আখ্যায়িত করব। এরকম একটা ফের্কার
উদ্ভবের ব্যপারে ১৪০০ বছর আগে রাসূল (সঃ) ইঙ্গিত
করেছেন এবং বাস্তবতার নিরিখে তারা স্বীয় মতের
সাথে অমিল কিছুই মানে না যা গত দুই পর্বে উল্লেখ
রয়েছে। তারা কেন ও কিভাবে সঠিক পথ থেকে বিচু্যত
তা নিয়ে আগামি পর্ব থেকে “ইসলামে বিভ্রান্তি ও
বৃটিশ গোয়েন্দার স্বীকারোক্তি” এবং “বৃটিশ
গোয়েন্দা হ্যামফায়ারের ডায়রীর”
আলোকে তুলে ধরা হবে। তার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ
হাদিস উল্লেখের মাধ্যমে তাদের ইসলাম
থেকে বেড়িয় যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার
বলে সমিচীন মনে করি।
প্রখ্যাত সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) ও হযরত
আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমার বিদায়ের পর
পূর্ব দেশগুলির মধ্যে হতে কোন একটি দেশ হতে আমার
উম্মতের ভিতর হতে একটি দল বের হবে। এই দলের
সদস্যগন হবে অশিক্ষিত এবং মূর্খ। এদের মধ্যে কোন
শিক্ষিত লোক গেলে সেও হয়ে যাবে মূর্খের মত।
তাদের বক্তৃতা হবে বহুগুনের ফযীলতের। তাদের মত
বক্তৃতা বা বয়ান কারো হবে না। তাদের সকল
আমলগুলা হবে খুবই নিখুত ও সুন্দর । তাদের নামাজের
তুলনায় তোমাদের নামাজকে তুচ্ছ মনে করবে,তাদের
রোজা দেখে তোমরা তোমাদের রোজাকে তুচ্ছ ও নগন্য
মনে করবে । তাদের আমল দেখে তোমাদের
আমলকে হেয় মনে করবে। তারা কুরআন শরীফ
পড়বে কিন্তু তা তাদের গলার নিচে যাবে না।
তারা কুরআনের উপর আমল বা কুরআন প্রতিষ্ঠার কোন
চেষ্টাও করবে না। এদের আমল তোমাদের যতই আকৃষ্ট
করুক না কেন, কখনোই এদের দলে যাবে না। কারন
প্রকৃতপক্ষে এরা ইসলাম থেকে খারীজ, দ্বীন
হতে বহির্ভূত । তীর যেমন ধনুক হতে বের হয়ে যায়,
সে আর কখনো ধনুকের নিকট ফিরে আসে না।
তেমনি এরা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে, আর
কখনো দ্বীনের পথে, কুরআন সুন্নাহর
পথে ফিরে আসবে না।
(সূত্রঃ ফতহুল বারী ১২ তম খন্ড ৩৫০ পৃষ্ঠা; মিরকাত
শরীফ ৭ম খন্ড ১০৭ পৃষ্ঠা)
উল্লেখ্য, উপরন্তু হাদীস খানা বাংলাদেশের
দেওবন্দী দের অন্যতম শায়খুল হাদিস মৃত আজিজুল হক
তার মাসিক পত্রিকা “রহমানী পয়গাম” এপ্রিল/২০০৩
সংখ্যার ১২৪৭ নং জিজ্ঞাসা-জবাবে সহীহ
বলে উল্লেখ করেছেন।

ওয়াহাবি মতবাদের নামে পশ্চিমা বৃটিশদের
পরিকল্পিত একটি মিশন বাস্তবায়িত
হচ্ছে যা সম্পূর্ণরূপে ইসলাম বহির্ভূত। উক্ত মতবাদের
ধারা উপধারা সকল কিছুই বৃটিশ ইহুদি খৃষ্টানদের সৃষ্ট।
ঐ সকল বিধর্মী মূলত তাদের ইসলাম
বিদ্ধেষী চিন্তাধারাকে ওয়াহাবীদের
মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে। তাই আমরা এর
মূলে থাকা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ
সংস্থা (বাসস)’র বিশেষ সংবাদদাতা শাহরিয়ার
শহীদ রচিত “ইসলামে বিভ্রান্তি ও বৃটিশ গোয়েন্দার
স্বীকারোক্তি” শীর্ষক গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত সংখিপ্ত
করে (পর্যায়তক্রমে) করছি,
“হ্যামফায়ার একজন বৃটিশ গোয়েন্দা।
ইসলামকে ধ্বংসের জন্য অষ্টাদশ শতাব্দীর
শুরুতে বৃটিশ সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নের
অন্যতম রূপকার হ্যামফায়ার। তিনি ১৭১০ সাল
থেকে মিসর, ইরাক, ইরান, হিজায ও
ইস্তামবুলে মিশনারির ছদ্মবেশে গোয়েন্দাগিরির
মিশনে নিয়োজিত ছিলেন। হ্যামফায়ার ১৭১৩
সালে বসরার নজদে মুহাম্মদ বিন আবদ উল ওয়াহাব
নজদি নামে একজন মুসলমান বিপথগামীকে হাত
করে তাকে দিয়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে একটি নতুন
মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন, সমসাময়িক
ইতিহাসে তথাকথিত ‘ওয়াহাবি আন্দোলন’
নামে পরিচিত।
ওয়াহাবি আন্দোলন সংগঠনে হ্যামফায়ার একজন
মুসলমানের ছদ্মবেশ ধারণ করে তৎকালীন অটোমান
সাম্রাজ্যের অন্তর্গত বিভিন্ন মুসলিম দেশের
মনীষীদের সংস্পর্শে আসেন এবং ইসলাম ধর্ম
সম্পর্কে ব্যাপক ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তার
স্বোপার্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনিষ্ট
সাধনের অপপ্রায়াস চালান। তার মিশনের
কার্যকালে তিনি যেসব ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন
বা যা প্রত্যক্ষ করেন তার আনুপূর্বিক বিবরণ
লিখে রাখেন ডায়রিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
সর্বপ্রথম জার্মানির সংবাদপত্র ইসপিগল এ তার
ডায়রি-ও বিস্তারিত বিবরণ
ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। চলবে………………
(মূল ডায়রীর লিংক… http://en.wikipedia.org/wiki/
Memoirs_Of_Mr._Hempher,_The_British_Spy_To_The
_Middle_East

ইসলাম আজ ওয়াহাবী নামক ভাইরাসে আক্রান্ত। ইসলাম অর্থ
শান্তি কেবল সঙ্গা হয়েই আছে। ওয়াবীদের জন্ম
হয়েছে ইহুদি খৃষ্টানদের ভিষনের রূপ অঙ্কিত করার লক্ষ্যে।
আবার ওহাবীদের থেকে তাদের অনেক শাখা উপশাখা ব্যপক
হারে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াহাবী এবং তাদের
প্রশাখাগুলি কেবল মুসলিমদের জন্যই অত্যাধিক ভয়ের কারণ।
যদিও তারা নিজেকে মুসলিম দাবি করে কিন্তু প্রকৃত
পক্ষে তারা মুসলিমদের জন্য নিরাপত্তার কারণ
না হয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইহুদী খৃষ্টানদের সার্বিক
সহায়তায় তারা (ওয়াহাবী) আজ মুসলিম নিধনের মহড়া দিচ্ছে।
তাদের উপশাখার অন্তর্ভূক্তদের পরিচয় সামনের
পর্বগুলিতে উঠে আসবে, তার আগে তাদের জন্ম পরিচয়
ক্লিয়ার করার লক্ষ্যে গত পর্বের ধারাবাহিক এখান থেকে শুরু
করলাম।…
১১২৫ হিজরি মোতাবেক ১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে হ্যামফায়ার
ওয়াহাবি মতবাদের প্রতিষ্ঠা করেন। ১১৫০ হিজরিতে তারা মতবাদ
সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। হ্যামফায়ার তার
ডায়ারিতে বলছেন: ‘মুসলমানদের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য
উপনিবেশসমূহের তথ্য সংগ্রহের জন্য
আমাকে গোয়েন্দা হিসেবে হিজরি ১১২২ মোতাবেক ১৭১০
খ্রিস্টাব্দে মিসর, ইরাক, হিজায ও ইস্তাম্বুলে প্রেরণ করেন।
মন্ত্রণালয় একই মিশনে কাজ করার জন্য একই সময়ে আরো ৯
জন লোককে নিয়োগ করে। …
আমি ইসলামী খেলাফতের কেন্দ্রবিন্দু ইস্তাম্বুলের
উদ্দেশ্যে রওনা হলাম… একটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর ভ্রমণের
পর আমি ইস্তাম্বুলে পৌছালাম। আমি আমার নাম মুহাম্মদ বললাম
এবং মসজিদে যাতায়াত শুরু করলাম।’
তিন বছরের দীর্ঘ সময়ে তুরস্ক, ইরাক, মিশর, হিজায ভ্রমণ
করে, অবস্থান করে অবশেষে ১৭১৩ সালে বসরার
নজদে মুহাম্মদ বিন আবদ উল ওয়াহাব নজদি নামের ভন্ড
মুসলমানকে দিয়ে ওয়াহাবী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়
হ্যাম্পফায়ার।
ওয়াহাবী মতবাদ প্রতিষ্ঠার পিছনে বৃটিশ সরকারের মূল উদ্দেশ্য
কি ছিল আগামি পর্বে লিখা হবে। মূল ডায়রীর লিংক.. ( http://
en.wikipedia.org/wiki/Memoirs_Of_Mr._Hempher,_The_Bri
tish_Spy_To_The_Middle_East

কিবলা

Standard

বিশ্ব বিখ্যাত ফতুয়ার কিতাব দুররুল মুখতারের ২৫৯
পৃষ্ঠা ও ফতুয়ায়ে শামী’র কিবলা অধ্যায়ে ৫
টি অর্থে কিবলাহ এর ব্যবহার করা হয়েছে :
১. দুনিয়ার সৃষ্ট সব কিছুর কিবলাহ হচ্ছেন আল্লাহ
রাব্বুল
আলামিন |
২. আল্লাহ ছাড়া সকল মাখ্লুকাতের কিবলাহ হচ্ছেন নূর
নবীজি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম |
৩. নামাজের কিবলাহ হচ্ছে বায়তুল্লাহ |
৪. দোয়ার কিবলাহ হচ্ছে আসমান |
৫. মুর্শিদের অন্তর হচ্ছে তার মুরিদের জন্য কিবলা
অতএব দলিল দ্বারা প্রমান হয়ে গেল
মুর্শিদকে কিবলাহ বলা সম্পূর্ণ জায়েজ |
এখানে আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেন কোরআন
সুন্নাহ ছাড়া কোন দলিল মানিনা ! কিন্তু মুসলমানের
দলিল তো আর শুধু কোরআন আর সুন্নাহ নয় ,
ইজমাহ ও কিয়াস ও আছে | আর ফতুয়ার কিতাব
যদি আপনি না মানেন তাহলে আপনাকে মুসলমানই
বলা যাবেনা | কেননা শরীয়তের কঠিন
বিষয়গুলোর ফায়সালা ফতুয়ার মাধ্যমেই হয়ে থাকে |
ফতুয়ার কিতাব পড়াশুনা করেই আলেম
মুফতি হতে হয়
| যদি কেউ বলেন আমি ফতুয়ার কিতাবকে দলিল
হিসেবে মানিনা তাহলে উনাকে বলবো ভাই
আপনার
বউ তালাকের দলিলটা, বিশ রাকাত তারাবীর দলিলটা, ভাত
মাছ খাওয়ার দলিলটা কোরআন হাদিসেই তালাশ
করবেন দয়া করে কোন মুফতি আলেমের
কাছে যাবেন না ফতুয়া নিতে !

রওজা পাকে সালাম দিলে কোন অভাব অপুর্ণ থাকে না

Standard

নবীজীর রাওযা মুবারকের পাশে সালাম দিলে তার কোন
অভাব অপূরণ থাকেনা।(সুবহানাল্লাহ)
——————————————————————————————–
ইমাম ইবনু আবিদ্দুনিয়া, ইমাম বাইহাকী, ইবনু ফুদাইক
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি যাদেরকে পেয়েছি,
তাদের কাউকে আমি বলতে শুনেছি, আমাদের কাছে এমন
বর্ণনা পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি নবীজী সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওযা মুবারকের পাশে দাঁড়িয়ে ৭০
বার নিম্নোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করবে এবং দরূদ শরীফ
পড়বে- “সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া মুহাম্মাদু”, একজন
ফেরেশতা তখন জবাব দেবেন, হে অমুক, আল্লাহ তোমার উপর
রহমত বর্ষণ করুন, তোমার কোন অভাব অপূরণ থাকবেনা।
আয়াতটি হচ্ছে,
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠِّﻤُﻮﺍ ﺗَﺴْﻠِﻴﻤﺎً
বাংলা উচ্চারণঃ
ইন্নাল্লা—হা ওয়ামালা—-ইকাতাহু— য়্যুসাল্লূ—না ‘আলান
নাবিয়্যি, ইয়া— আইয়্যুহাল্লাযী—-না আ—–মানূ—- সাল্লূ——
আলাইহি ওয়া সাল্লিমূ——- তাসলী—–মা—–।
রেফারেন্সঃ
১/শু’আবুল ঈমানঃ৩/৪১৬৯
২/আদ্দুররুল মানসুরঃ১/৪২৬
৩/আশ আহিফাঃ২/৮৫
৪/শারহুশ শিফাঃ২/১৫১
৫/ওয়াফা উল ওয়াফাঃ৪/১৩৯৯
অনুরোধঃ
আয়াতটি মুখস্ত করে নেবেন। অন্য ভাইকে জানিয়ে দেবেন।