পীর ওলীর দরবারে গরু ছাগল দেওয়া জায়েজ কিনা

Standard

পীরের দরবারে গরু ছাগল, উট, দুম্বা,
হাদিয়া বা নজরানা দেওয়া কি জায়েজ
না নাজায়েজ? এই বিষয়ে সাধারণ মানুষ
তো আছেই, অনেক
দুনিয়া পুজারী আলেমরাও বলে থাকে,
যে পীরের দরবারে গরু ছাগল বা অন্যকিছু
নেওয়া জায়েজ নয় বরং হারাম। (নাউজুবিল্লাহ)
বিশেষ করে দেশের শীর্ষস্থানীয়
উলামায়ে ছু রাজাকার দেলোয়ার হোসাইন
সাঈদী তার সুরেলা কন্ঠ দিয়ে দেশের
সরলমনা মানুষগুলোকে এ
বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভ্রান্ত
ধারণা ডেলিভারী দিয়েছে।
আসুন দেখে নেই,, কুরআন হাদীস এই
বিষয়ে আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়।
দলীলঃ (১) হে ঈমানদারগন,
তোমরা যদি আমার হাবীবের
সাথে গোপনে কথা বলতে চাও,
তাহলে তাঁকে সদকা প্রদান করো ….
(সূরা মোজাদেলা,, আয়াত শরিফ বারো)।
এতএব এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়
যে নজরানা দেওয়ার নিয়ম স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল
আলামিন আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আপনারাই
বলুন, আল্লাহ কি আমাদের ভুল
শিক্ষা দিয়েছেন?? (নাউযুবিল্লাহ)।
তাহলে সাঈদী এর বিরোধিতা করার কে? এই
আয়াত নাযিল হওয়ার পর সর্বপ্রথম হজরত
আলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু
নবীজী সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নজরানা দিয়েছিলেন।
সূত্রঃ তাফসিরে কবীর, ইবনে কাছির চতুর্থ
খন্ড 388 পৃষ্ঠা।
তাই মুরীদ তাঁর পীরকে উল্লেখিত
প্রাণী ও দ্রব্যাদিও
নজরানা হিসেবে দিতে পারবে অবশ্যই
যেহেতু কুরআন এবং হাদিস দ্বারা সদকা সম্পূর্ণ
যায়িজ এবং হাদিয়া দেওয়া নেওয়া উভয়টিই
সুন্নতে রাসূল যা হজরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’লা আনহু থেকে শুরু হয়েছে।
দলীলঃ (২) পরস্পরে হাদীয়া প্রদান
করো, ইহাতে ভালবাসা বৃদ্ধি হয়, ও
বৈরীতা দূর হয়। সূত্রঃ মুয়াত্তা ঈমাম মালেক,
হাদীস নং 16, মেশকাত শরীফ, 403 পৃষ্ঠা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
নিজেও নজরানা/হাদিয়া নিতেন।
দলীলঃ (৩) হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’লা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
আমাকে যদি বকরীর পায়ের একটি খুরও
হাদীয়া দেওয়া হয়, তবুও তা আমি গ্রহণ
করবো। আর তা আহারের জন্য
যদি আমাকে দাওয়াত করা হয়, তাতেও
আমি সাড়া দিবো। সহিহ বুখারী,
তিরমিজি শরীফ প্রথম খন্ড 248 পৃষ্ঠা।
মেসকাত 161 পৃষ্ঠা।
উপরোক্ত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়,,
পীরের দরবারে নজরানা দেওয়া জায়েজ ই
না খাছ সুন্নত। এবং পীরের দরবারে হালাল
পশুর বা তার গোশত নজরানা দেওয়া, ঐ
গোশত খেতে যাওয়া সবই কুরআন শরিফ
হাদীস শরিফ দ্বারা সমর্থিত। কাজেই
বুঝতে হবে, যে বা যারা কুরআন হাদীসের
স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোন বিষয়
নিয়ে অযথা বিতর্কের সৃষ্টি করে, তারাই
মোনাফেক। আর এই যুগে মোনাফেক
কুলের সর্দারজি হলো রাজাকার সাঈদী।
ভন্ড পিরদের কথা সম্পূর্ণ ভিন্ন
যারা দুনিয়া পূজারী মাযার ব্যবসা, মাযারে সেজদা,
মায়ারে গানের আসর মদ গাজার প্রচলন
করে হারাম কাযে লিপ্ত তারা গুমরাহ প্রথভ্রষ্ট
আর তাদের নাজরানা দেওয়া মানে তাদের
সাহাজ্য করা।
কিন্তু হাক্কানী পিরদেরকে গরুছাগল
নজরানা দেওয়া, এবং ওগুলো জবাই
করে মেহমানদারী করা হয়
বলে সাঈদী বেশ কিছু সম্মেলনে এ
বিষয়ে ঠাট্টা করে বলেেছ, “অমুক পিরের
তমুক আওলিয়ার দরবারে যায় হারাম গরু, ছাগল
খায়” তার এই কটাক্ষ কুরআন-হাদীসের
অবমাননাকেই নির্দেশ করে। আর এদের
জন্যেই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন উনার পবিত্র
কালামুল্লাহ শরিফে বলেন
“তবে কি তুমরা কিতাবের কিয়দাংশ বিশ্বাস
করো আর কিয়দাংশ অবিশ্বাস করো? যারা এরুপ
করে পার্থিব জিবনে দুর্গতি ছাড়া তাদের আর
কুনো পথ নেই কিয়ামতের দিন তাদের
কঠোরতম শাস্তির
দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ্ রাব্বুল
আলামিন তোমাদের কাজ-কর্ম
সম্পর্কে বে-খবর নন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট
টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই
কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন
আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার
করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম,
ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের
সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s