মাহে রজবের ফযীলত ও আমল

Standard

মাহে রজব হিজরী বর্ষের ৭ম মাস। পবিত্র হাদীস
শরীফে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ মাসের বহু ফযীলত
বর্ণিত হয়েছে। নামকরণ ঃ ‘কামূস’ নামক প্রসিদ্ধ
অভিধানে রাজাবা’র অর্থ লিখেছেন- ‘ভীতিপ্রদর্শন
করেছে’, ‘সম্মান করেছে’। এ থেকে ‘রজব শব্দের উৎপত্তি।
রজব মাসে ক্বোরবানী করাকে আরবীতে ‘তারজীব’
বলা হয়। আরববাসীগণ এ মাসের প্রতি সম্মান
করে আসতো। আল্লামা জাযারী তাঁর ‘নিহায়াহ’য়
লিখেছেন-
‘তারজীব’ মানে ‘তা’যীম করা’। এ কারণে আরববাসীগণ
রজব মাসকে সম্মান করতো। মাহে জুমাদাল উখরা ও
মাহে শা’বানের মধ্যবর্তী মাস হচ্ছে ‘রজব’। এ মাসকে
‘রজব-ই মুদ্বার (মুদ্বার গোত্রের রজব মাস) ও বলা হতো।
হাদীস শরীফে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামও এ মাসের অবস্থান নির্ণয়
করে দিয়েছেন ‘রজব’ হ্েচ্ছ জুমাদাল উখরাহ ও মাহে শা
’বানের মধ্যবর্তী মাস। এর কারণও এ যে, জাহেলী যুগের
লোকেরা এ মাসকে মনগড়াভাবে সরিয়ে দিয়ে অন্য
মাসকে তদস্থলে সাব্যস্থ করতো। তারা ওই যুগে দিন
এবং মাসেও কম বেশী করে ফেলতো। তাদের এসব
খেয়াল ও কাজকে বাতিল ঘোষণা করে রাসূলে পাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকিদ
সহকারে ওই মাসের অবস্থান নির্ণয় করে দিয়েছেন ।
উল্লেখ্য, জাহেলী যুগের লোকেরা রজব
মাসে যে ক্বোরবানীর নামে পশু যবেহ করতো সেটাকে
‘আতীরাহ-ই রজবিয়া বলা হতো। ‘রজবকে ‘আসাম্মা’
বা বধিরও বলা হতো। কারণ ‘ক্বামূস’-এ উল্লেখ
করা হয়েছে- ‘রজব বধির’ অর্থাৎ এ মাসে কোন বিশেষ
শব্দ আসতো না। আর কোন আহবানকারী ‘ওহে অমুক,
ওহে বন্ধু’ ইত্যাদি বলেও আহবান করতো না।
‘নিহায়াহ’য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘আল্লাহর মাস
রজব’ প্রকৃত পক্ষে বধির। কেননা, এ মাসে হাতিয়ারের
ঝনঝনানির শব্দ আসতো না । আর যেহেতু
এটা সম্মানিত মাস, সেহেতু মানুষের
গুণকে সামনে রেখে এ মাসও ‘বধির’ বলে আখ্যায়িত
হতে থাকে। [মা- সাবাতা বিস্সুন্নাহ ফী আইয়্যামিস
সানাহ]
ভূল ধারণার অপনোদন ঃ শায়খ আবদুল হক
মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা
আলাইহি তাঁর ‘মা- সাবাতা বিস্সুন্নাহ’য়
আরো লিখেছেন যে, এ মাসকে ‘বধির’ বলে আখ্যায়িত
করার পেছনে কিছু ভিত্তিহীন কথাবার্তাও মুসলিম
সমাজে বিরাজ করেছে যেমনঃ_ এক ঃ হাশরের দিনে এ
মাস নিজে বধির হয়ে যাবে। মানুষের অপরাধগুলো ও
দোষ- ত্রটির সাক্ষ্য দেবে না। আর বলবে,
“আমি তো বধির। আমি কোন কিছু শুনতে পাচ্ছি না।”
দুই ঃ এ মাসকে আল্লাহর মাস এজন্য বলা হয় যে, এ মাস
বান্দাদের দোষ- ত্রুটি গোপনকারী, যা আল্লাহ
পাকের সুন্নাত। কারণ তাঁর একটি গুণবাচক নাম হচ্ছে
‘সাত্তার’ অর্থাৎ বান্দাদের দোষ- ত্রুটি গোপনকারী।
বস্তুত এ দু’টি যুক্তিই ভিত্তিহীন। কারণ, আল্লাহ
তায়ালা ‘সাত্তার’ (দোষ গোপনকারী) হওয়ার অর্থ এ
যে, না’উযুবিল্লাহি মিন যালিকা, বধিরতার বৈশিষ্ট্য
পাওয়া যাবে। আর এ কথা একেবারে স্পষ্ট যে, বধির
ব্যক্তি তার বধিরতার কারণে শুধু কারো কথা ও
কথোপকথন শুনতে অক্ষম হয় এবং বধিরতার ওযর পেশ
করে মানুষের কথাবার্তা গোপন করতে পারে মাত্র।
(সঠিক বিষয় তো আল্লাহর জানা আছে)। মাহে রজবের
ফযীলত ঃ জামে’উল কবীর’- এ মাহে রজবের বহু ফযিলত ও
রজব মাসের আমল সমূহের ফযিলত উল্লেখ করা হয়েছে।
তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো- এক. আবুল
ফাতহ ইবনে ফাওয়ারিস তাঁর ‘আমলী’ নামক
কিতাবে হযরত হাসান বসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর
বরাতে ‘মুরসাল’ সূত্রে লিখেছেন, রাসূলে পাক
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন-
রজব আল্লাহর মাস। শা’বান
আমার মাস। আর রমযান হচ্ছে আমার উম্মতের মাস।
রজব ওই মহান মাস, যাতে নেক কাজগুলোর সাওয়াব
বহুগুণ বেশি দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে একদিন
রোযা রাখবে, তাকে গোটা বছরের রোযার
মতো সাওয়াব দেওয়া হবে। দুই. ইমাম রাফে’ঈ সা’ঈদের
মৌখিক বর্ণনা লিখেছেন- রজব নিঃসন্দেহে আল্লাহর
মাস। সেটাকে বধির (আসাম্ম) এজন্য বলা হয় যে,
জাহেলী যুগেও লোকেরা এ মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধ
রাখতো এবং নিজেদের হাতিয়ার তুলে রাখতো।
লোকেরা এ মাসে নিরাপদে শান্তিতে থাকতো।
সমস্ত রাস্তা নিরাপদ হতো। কেউ কারো ভয়ে ভীত
থাকতো না । এ গোটা মাসেই নিরাপত্তা ও
শান্তি পরিলক্ষিত হতো। তিন. ইমাম বায়হাক্বী তার
‘শু’আবুল ঈমান’- এ হযরত আয়েশা সিদ্দিক্বার মৌখিক
বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন- রজব ওই মহান মাস;
যাতে আল্লাহ তায়ালা নেক কাজগুলোর সাওয়াব বহুগুণ
বৃদ্ধি করে দান করেন। যে ব্যক্তি এ মাসে একদিন
রোযা রেখেছে, সে যেনো গোটা বছর রোযা রেখেছে।
যে ব্যক্তি এ মাসে সাতদিন রোযা রাখে, তার জন্য
দোযখের সাতটি দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি এ
মাসে আটদিন রোযা রাখে, তার জন্য বেহেশতের
আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। এ মাসে দশদিন
রোযা পালনকারী আল্লাহর দরবারে যা চাইবে,
তাকে আল্লাহ তায়ালা তা দান করবেন। আর
যে ব্যক্তি এ মাসে পনেরটি রোযা পালন করবে,
আসমান থেকে এক আহবানকারী আহবান করে-
‘হে রোযাদার! তোমার বিগত সমস্ত গুনাহ
ক্ষমা করে দেওযা হয়েছে। এখন থেকে নেক আমল আরম্ভ
করে দাও! যে ব্যক্তি বেশি পরিমাণে ভাল কাজ করবে,
তাকে সাওয়াবও অধিক দেওয়া হবে। চার. ইমাম
বায়হাক্বী তার ‘শু’আবুল ঈমান’- এ লিখেছেন, রজব
মাসে একদিন ও একরাত অতিমাত্রায় মহান ও ফযিলত
মন্ডিত। যে ব্যক্তি ওইদিন রোযা রাখে এবং ওই
রাতে ইবাদত করে, সে যেনো একশ বছর
রোযা রাখলো এবং একশ বছর ইবাদত করেছে। আর ওই
তারিখ হচ্ছে ২৭ রজব। এ মাসে আল্লাহ
তায়ালা রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর শির মোবারকে ‘নুবূয়তের
তাজ’ পরিয়েছেন। শবে রাগাইব ও এর
নামায ঃ মাহে রজবের প্রথম বৃহস্পিতিবার দিবাগত
রাতকে লোকেরা ‘লায়লাতুর রাগাইব’ বলে।
মাশাইখে কেরামের মতে, এ রাতে বিশেষ নিয়মে এক
নামায পড়া হয়; (যদিও মুহাদ্দিসগণ [[মা-
সাবাতা বিস্সুন্নাহ] এ মাসের আমল সমূহ ঃ ঙ্
রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এরশাদ করেন যখন রজব মাস দেখবে প্রথমে একবার
নিম্নলিখিত দোয়া পড়বে- আল্লাহুম্মা বা-রিক
লানা- ফী রাজাবা ও শা’বা-
না ওয়া বালি্লগনা ইলা শাহরে রামাদ্বা-না। অর্থঃ-
হে আল্লাহ আমাদের জন্য রজব ও শা’বানে বরকত
নাযিল করো এবং আমাদেরকে রমযান মাস পর্যন্ত
পেঁৗছিয়ে দাও। ঙ্ মাহে রজবের রাতে এশার নামাযের
পূর্বে বিশ রাক’আত নামায দশ সালামে পড়বেন।
প্রতি রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা কাফিরূন’
তিনবার করে এবং ‘সূরা ইখলাস’ তিনবার করে পড়বেন।
ইনশাল্লাহু তায়ালা এ নামায
সম্পন্নকারীকে আল্লাহ পাক
কি্বয়ামত দিবসে শহীদদের অন্তর্ভূক্ত করবেন এবং তার
হাজার মর্যাদা বুলন্দ করবেন। ঙ্ প্রথম রাতে এশার
নামাযের পর চার রাক’আত নামায দু’সালামে পড়বেন।
প্রত্যেক রাক’আত সূরা ফাতিহার পর সূরা ‘আলাম
নাশরাহ’ একবার, সূরা-ই ইখলাস’ একবার, ‘সূরা ফালাক্ব’
একবার ও ‘সূরা নাস’ একবার পড়বেন। যখন দু’রাক’আত
পড়ে সালাম ফেরাবেন, তখন কলেমা-ই তাওহীদ ৩৩
বার ও দুরূদ শরীফ ৩৩ বার পড়ে যে কোন প্রয়োজন হয়
আল্লাহ পাকের নিকট চাইবেন। ইনশাল্লাহু
তায়ালা প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ হবে। ঙ্ রজবের প্রথম
রাতে এশার নামাযের পর আরো দু’রাক’আত নামায
এভাবে পড়া যায়ঃ সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস
একবার পড়বেন। ইনশাল্লাহু তায়ালা এ নামাযের
বরকতে আল্লাহ পাক তাকে সুস্থতা দান করবেন।
রোগীর আরোগ্য লাভের জন্য এ নামায অতীব
ফযিলতমন্ডিত ও উপকারী। ঙ্ প্রথম রাতে তাহাজ্জুুদের
নামাযের সময় দশ রাক’আত নামায দু’রাক’আত করে পাঁচ
সালামে পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর দু’হাত
তুলে একবার কলেমা-ই তাওহীদ পড়বেন। অতঃপর একবার
নিম্নলিখিত দো’য়া পড়বেন-
উচ্চারণ ঃ আল্লাহুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা-
আ’ত্বোয়াতা, ওয়াইলা মু’তি্বয়া লিমা-
মানা’তা, ওয়ালা ইনফা’উ যাল জাদ্দি মিনকাল
জাদ্দু। এ দো’আ পাঠ করে আল্লাহ পাকের
দরবারে যে কোন জিনিসের জন্য দো’আ করবেন,
ইনশাল্লাহ কবুল হবে। ঙ্ মাহে রজবের প্রথম
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে লাইলাতুর রাগা-ইব এশার
নামাযের পর দু’রাক’আত নফল নামায পড়বেন- প্রথম
রাক’আত সূরা ফাতিহার পর সূরা বাক্বারার শেষ
রূকু’ (আমানার রাসূল থেকে কাফিরুন) পর্যন্ত সাতবার
পড়বেন। তারপর ২য় রাক’আত নফল নামায পড়বেন- প্রথম
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা হাশর’ এর শেষ তিন
আয়াত (হুয়াল্লাহুল্লাযি থেকে হাকিম) পর্যন্ত সাত
বার পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর আল্লাহ পাকের
দরবারে যে কোন দো’আই করবেন, ইনশাল্লাহ পূরণ হবে।
উদ্দেশ্য হাসিলের
জন্য এ নামায অতি উত্তম তথা উপকারী। ঙ্
মাহে রজবের ‘প্রথম জুমু’আ’র দিন যোহর ও আসরের
মধ্যবতর্ী সময়ে চার রাক’আত নামায এক
সালামে পড়বেন। প্রত্যেক রাক’আতে সূরা ফাতিহার
পর ‘আয়াতুল কুরসী’ সাতবার ও ‘সূরা-ই ইখলাস’ পাঁচবার
পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর পঁচিশ বার পড়বেন-
উচ্চারণঃ লা- হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-
হিল করীবিল মুতা’আল। অতঃপর ১০০ বার নিম্নলিখিত
ইসতিগফার পড়বেন- উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লা-
হাল্লাযী লা-ইল্লা-হুয়াল হাইয়ু্যল ক্বাইয়ূ্যমু
গাফ্ফারুয্যুনু- বি ওয়া সাত্তা-রুল উয়ূ- বি ওয়া আতু-বু
ইলাইহি। অতঃপর ১০০ বার দুরূদ শরীফ পড়ে যে কোন দো
’আই করবেন- চাই পার্থিব বিষয়ে হোক, চাই
দ্বীনি বিষয়ে হোক। ইনশাল্লাহু তায়ালা আল্লাহর
দরবারে অবশ্যই কবূল হবে। ঙ্ মাহে রজবের ৭ম, ১৫তম ও
২৭তম রাতগুলোর মধ্যে যে কোন রাতে এশার
নামাযের পর বিশ রাক’আত নামায দশ
সালামে পড়বেন। প্রত্যেক রাক’আতে সূরা-ই ফাতিহার
পর সূরা ইখলাস একবার করে পড়বেন। আল্লাহ তায়ালা এ
নামায সম্পন্নকারীকে দুনিয়াবী ও দ্বীনি সমস্ত আপদ
থেকে নিরাপদে রাখবেন এবং পূল সেরাতের
রাস্তা পাড়ি দেওয়া তার জন্য সহজ হবে। ঙ্ পঞ্চদশ
রাতে এশার নামাযের পর বিশ রাক’আত নফল নামায
দশ সালামে পড়বেন। প্রত্যেক
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস একবার
করে পড়বেন। ইনশাল্লাহ্ তায়ালা আল্লাহ পাক ওই
নামাযের অসংখ্য সাওয়াব দান করবেন। আর এ নামায
সম্পন্নকারীর গুনাহ এমনভাবে ঝরে পড়বে, যেমন গাছের
শুষ্ক পাতা ঝরে পড়ে। ঙ্ মাহে রজবের যে কোন জুমু’আর
রাতে এশার নামাযের পর দু’রাক’আত নামায পড়বেন।
প্রত্যেক রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর আয়াতুল
কুরসী এগার বার,
সূরা যিলযাল এগার বার, সূরা তাকাসূর এগারবার
পড়বেন। সালাম ফিরানোর পর আল্লাহ পাকের
দরবারে আপন গুনাহ সমূহের মাগফিরাত
প্রার্থনা করবেন। ইনশাল্লাহ এ নামায সম্পন্নকারীর
সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে আল্লাহ তাকে দয়া করবেন।
বৎসরের চৌদ্দ রাত্রিঃ হযরত গাউসূল আযম আবদুল
কাদের জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু “গুনিয়াতুত
ত্বালেবীন” গ্রন্থে বৎসরের চৌদ্দটি রাত্রির
কথা উল্লেখ করে ঐ রাত্রসমূহে ইবাদত
করা মোস্তাহাব বলে উল্লেখ করেছেন_ শরীয়তের
কতেক বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম রাহিমাহুমূল্লাহ এমন
কতগুলো রাত্র গণনা করে উল্লেখ করেছেন,
যে রাত্রগুলোতে ইবাদত করা মোস্তাহাব। বৎসরের ঐ
রাত্রগুলোর সংখ্যা হলো ১৪টি। যথা- ১। মুহাররম
মাসের প্রথম রাত্র। ২। মুহাররম মাসের ১০ম রাত্র।
(আশুরার রাত্র) ৩। রজব মাসের প্রথম রাত্র। ৪। রজব
মাসের ১৫ই রাত্র। ৫। রজব ২৭ শে রাত্র। (শবে মি’রাজ)
৬। শা’বান মাসের ১৫ই রাত্র। (শবে বরাত) ৭। রোযার
ঈদের রাত্র (শাওয়াল মাসের ১লা রাত্র) ৮।
আরাফাতের রাত্র (৯ই যিলহজ্ব রাত্র) ৯। কোরবানীর
ঈদের রাত্র (১০ই যিলহজ্ব রাত্র) ১০-১৪। রমযানের শেষ
দশদিনের বেজোড় ৫ রাত্র (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রাত্র)।
(গুনিয়াতুত ত্বালেবীন পৃষ্ঠা- ২৩৬) ঐ ১৪ রাত্র
সমূহে নামায পড়ার নিয়ম ঃ হযরত গাউসুল আযম আবদুল
কাদির জিলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শবে বরাত সহ
বৎসরের ঐ ১৪ রাত্রে নফল নামায পড়ার তরতীব ও নিয়ম
এভাবে বর্ণনা করেছেন_ “শাবান মাসের ১৫ই
রাত্রে যে নিয়মে নফল নামায পড়ার
বিষয়ে রেওয়ায়াত এসেছে- তা হচ্ছে এক হাজার বার
কুল হুয়াল্লাহু সূরা দ্বারা একশত রাকআত নফল নামায
আদায় করা- প্রতি রাক’আতে দশবার করে কুলহুয়াল্লাহু
সূরা পড়তে হবে। এ নামাযের নাম হচ্ছে “সালাতুল
খাইর”। এই নামাযের বিভিন্ন বরকত রয়েছে। আমাদের
পূর্বকার সলফে সালেহীন ও বুযুর্গানে দ্বীন একত্রিত
হয়ে জামাআতের সাথে এই নামায আদায় করতেন। এই
নামাযে অনেক ফযিলত ও অনেক সাওয়াব রয়েছে। হযরত
হাসান বসরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে-
তিনি
বলেন, “আমাকে নবীজীর ত্রিশজন সাহাবী বলেছেন
যে, যে ব্যক্তি শবে বরাতে উক্ত নামায পড়বে, আল্লাহ
তার
৭০টি হাজত বা মকসুদ পূরণ করবেন। ঐ ৭০টি মকসুদের
মধ্যে নিম্নতম হলো- গুনাহ
ক্ষমা।” (হযরত গাউসে পাক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু
শবে বরাতের নামাযের নিয়ম ও ফযিলত বর্ণনা করার
পর বলেন) “আমি রজব মাসের ফযিলতের
অধ্যায়ে প্রসঙ্গক্রমে যে ১৪টি রাত্রির উল্লেখ করেছি_
সবগুলোতেই এই “সালাতুল খাইর” পড়া মোস্তাহাব।
শবে মি’রাজের নফল নামায ঃ রজবের ২৭তম রাতে বার
রাক’আত নামায তিন সালামে পড়বেন। প্রথম চার
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা ক্বদর’ তিনবার
করে প্রত্যেক রাক’আতে পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর
বসে ৭০ বার পড়বেন- উচ্চারণ ঃ লা-ইলা-
হা ইল্লাল্লাহুল মালিকুল হক্বক্কুল মুবীন। দ্বিতীয় চার
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা নাসর’ তিনবার
করে প্রত্যেক রাক’আতে পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর
বসে ৭০ বার পড়বেন_ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহুল
মালিকুল হক্বক্কুল মুবীন। তৃতীয় চার
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা ইখলাস’ তিনবার
করে প্রত্যেক রাক’আতে পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর
বসে সত্তরবার ‘সূরা আলাম নাশরাহ’ পড়বেন। তারপর
আল্লাহ রাব্বুল ইয্যাতের মহান দরবারে দো’আ
প্রার্থনা করবেন। ইনশাল্লাহু তায়ালা যে প্রয়োজনই
থাকুক না কেন, তা আল্লাহ পাক পূরণ করবেন। ঙ্
মাহে রজবের ২৭ তারিখ রাতে আরো চার রাক’আত
নামায দু’সালামে পড়তে পারেন। প্রত্যেক
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা ইখলাস এক বার
করে পড়বেন। ইনশাল্লাহ তা’য়ালা যে কেউ এ নামায
সম্পন্ন করবে আল্লাহ তায়ালা তার জান ও
মালকে হিফাযত করবেন। ঙ্ মাহে রজবের ২৭ তারিখ
রাতে আরো চার রাক’আত নামায
দু’সালামে পড়তে পারেন। প্রত্যেক
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর ‘সূরা ইখলাস ২৭ বার
করে পড়বেন। সালাম ফেরানোর পর সত্তর বার দুরূদ
শরীফ পড়বেন এবং আপন গুনাহগুলোর মাগফিরাত
কামনা করবেন। ইনশাল্লাহহু
তায়ালা পরওয়ারদিগারে আলম আপন পূর্ণাঙ্গ রহমত
দ্বারা গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। ঙ্ মাহে রজবের ২৭
তারিখ যোহরের নামাযের পর চার রাক’আত নামায এক
সালামে পড়বেন। প্রথম রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর
সূরা ক্বদর তিনবার, দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা ফাতিহার
পরসূরা ইখলাস তিনবার, তৃতীয়
রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস তিনবার
এবং চতুর্থ রাক’আতে সূরা ফাতিহার পর সূরা নাস
তিনবার পড়বেন। সালাম ফিরানোর পর দুরূদ শরীফ ১০০
বার ও ইস্তিগফার ১০০ বার পাঠ করবেন। এ নামায
প্রত্যেক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইনশাল্লাহ
অতি মাত্রায় উত্তম ও ফলপ্রসূ। ওযীফাঃ মাহে রজবের
১ম তারিখ থেকে প্রত্যেক নামাযের পর তিনবার
করে নিম্বলিখিত দো’য়া পাঠ করার বহু ফযিলত রয়েছে-
উচ্চারণঃ আসতাগফিরুল্লা- হাল আযী-মাল্লাযী লা-
ইলাহা ইল্লা-হুয়াল হাইয়ূ্যল ক্বাইয়ূম।
ইলাইহি তাওবাতু আবদিন যা-লিমিন লা-ইয়ামলিকু
নাফসাহু দ্বাররাওঁ ওয়ালা নাফ’আন ওয়ালা মাওতান
ওয়ালা হায়া-তান ওয়ালা নুশূ-রা। ঙ্ রজব মাসের ১৫
তারিখে কোন নামাযের পর একশ’ বার এ ইসতিগফার
পড়লে বহু ফযীলত পাওয়া যায়। এ দো’আ পাঠকের সমস্ত
পাপ মুছে আল্লাহ পাক সেগুলো নেকীতে পরিবর্তিত
করে দেবেন। ইস্তিগফারটি নিম্নরূপ-
উচ্চারণ ঃ আস্তাগফিরুল্লা- হাল্লাযী লা-
ইলাহা ইল্লা- হুয়াল হাইয়ূ্যল ক্বাইয়ূ্যম, গাফ্ফারুয
যুনূবি ওয়া সাত্তারুল উয়ূবি ওয়া আতূ-বু ইলাইহি। ঙ্
মাহে রজবের যে কোন তারিখে যোহর, মাগরিব ও এশার
নামাযের পর সূরা কাহফ একবার, সূরা ইয়াসীন একবার,
সূরা হা-মীম একবার, সূরা দুখান একবার, সূরা মা’আরিজ
একবার পড়বেন। তারপর ১০০০ বার সূরা ইখলাস পড়বেন।
আল্লাহ তায়ালা এ সূরাগুলো তিলাওয়াতকারীর উপর
রহমত বর্ষণ করবেন ও বরকত (কল্যাণ) দান করবেন। নফল
রোযা ঃ হুযুর-ই আকদাস সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, রজব মাসের
রোযার বহু বড় ফযিলত রয়েছে। আর ২৭ তারিখের রোযার
সাওয়াব খুব বেশী। এ রোযার ফলে কবরের আযাব ও
দোযখের আগুন থেকে নিরাপদ থাকা যাবে। রজব
মাসের বিশেষ ঘটনাবলী ঃ ঙ্ বর্ণিত আছে যে, এ
বরকতময় মাসের প্রথম তারিখে সাইয়্যেদুনা নূহ
আলাইহিস সালাম ‘কিস্তি’র উপর আরোহণ করেছিলেন।
সেদিন তিনি নিজেও রোযা রেখেছেন, আপন
সাথীদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর
বরকতেও আল্লাহ তায়ালা তাঁকে তূফান ও জলোচ্ছ্বাস
থেকে নাজাত দিয়েছেন, শত্রুদের ধ্বংস করেছেন
এবং ভূ-পৃষ্ঠ কুফর ও শির্ক থেকে মুক্ত হয়েছিল। ঙ্
মাহে রজবের ১২ তারিখে হযরত জাফর সাদিক
রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র বরকতময় জন্ম হয়েছিলো। এ
মাসের ২২ তারিখে তাঁর খতম শরীফের আয়োজন
করা হয়। ঙ্ ১৫ তারিখে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম
আল্লাহ তায়ালার সাথে কথোপকথন করেন। আর হযরত
সাইয়্যেদুনা ইদ্রীস আলাইহিস সালামকে আসমানের
উপর উঠানো হয়েছিলো। ঙ্ ২৭ রজব হুযুর-ই আকরাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি’রাজের
দুলহা হয়েছিলেন। আর আল্লাহর দীদার ও অন্যান্য বহু
পুরস্কার ও বুযুর্গী দ্বারা ধন্য হয়েছেন। ঙ্ এ মাসের ২৮
তারিখে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নবূয়তের ঘোষণা ও তাঁর
ওহী আসার সূচনা হয়েছে। এ মাসে যেসব বুযুর্গের ওফাত
শরীফ হয়েছিলো তাঁদের কয়েকজন ঃ ঙ্ হযরত আব্বাস
রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ৭ রজব, ৩৩ হিজরী। ঙ্ হযরত আমীর
মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ২২ রজব, ৬০ হিজরী। ঙ্
হযরত সালমান ফারসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ১০ রজব, ৩৩
হিজরী। ঙ্ হযরত ইমাম-ই আযম আবূ
হানীফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ৪ রজব, ১৫০ হিজরী।
ঙ্ হযরত ইমাম শাফে’ঈ
রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ১লা রজব, ২০৪
হিজরী। ঙ্ হযরত ইমাম আবূ ইউসূফ
রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৭ রজব, ১৮৩
হিজরী। ঙ্ হযরত ইমাম মূসা কাযিম
রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৫ রজব, ১৮৩
হিজরী। ঙ্ হযরত ইমাম
তিরমিযী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ১৩ রজব,
২৬৯ হিজরী। ঙ্ হযরত জুনাইদ
বাগদাদী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৭ রজব,
২৯৮ হিজরী। ঙ্ হযরত খাজা মুঈন উদ্দীন
আজমিরী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ৬ রজব,
৬৩৩ হিজরী। ঙ্ হযরত খাজা হুসামুদ্দীন
খালাফে খাজা আজমিরী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা
আলাইহি ৬ রজব, ৬৩৩ হিজরী। ঙ্ হযরত খাজা কুতুব
উদ্দীন মাওদূদ
চিশতী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ১লা রজব।
ঙ্ হযরত শামসূদ্দীন
তাবরীযী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ৯ রজব,
৯৪৪ হিজরী। ঙ্ হযরত কাযী সানাউল্লাহ
পানিপথি রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৫ রজব,
১৩০২ হিজরী। ঙ্ হযরত শাহ নি’মাতুল্লাহ
ওয়ালী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৫ রজব । ঙ্
বাদশাহ শাহ্জাহান
রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২৬ রজব, ১০৭৬
হিজরী। ঙ্ আল্লামা গাজী শেরে বাংলা আযীযুল হক
শেরে বাংলা রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি
১২রজব, ১৩৮৯ হিজরী। ঙ্ শাহ আবুল হোসাঈন
নূরী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ১১ রজব, ১৩২৪
হিজরী । ঙ্ মাওলানা সাইয়্যেদ দীদার
আলী রাহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি ২১ রজব, ১৩৫
হিজরী। [সূত্র ঃ মাসিক রেযা-ই মোস্তফা,
গুজরানওয়ালা মা- সাবাতা বিস্সুন্নাহ, বারাহ মাহ
কী নফল নামায]

আযানের সময় বৃদ্বাঙ্গুলি চুম্বন করে চোখে লাগানো মোস্তাহাব

Standard

মুয়ায্যিন আযান দেয়ার সময় যখন
‘আশহাদুআন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ’ ﺍَﺷْﻬَﺪُ ﺍَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ
ﺭَّﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ উচ্চারণ করে, তখন নিজের বৃদ্ধাঙ্গুরীদ্বয়
বা শাহাদতের আঙ্গুল চুম্বন
করে চুক্ষদ্বয়ে লাগানো মুস্তাহাব এবং এতে দীন-
দুনিয়া উভয় জাহানের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এ
প্রসঙ্গে অনেক হাদীছ বর্ণিত আছে।
সাহাবায়ে কিরাম থেকে এটা প্রমাণিত
আছে এবং অধিকাংশ মুসলমান একে মুস্তাহাব
মনে করে পালন করেন।
‘প্রসিদ্ধ সালাতে মস্উদী’ কিতাবের দ্বিতীয় খন্ড
ﻧﻤﺎﺯ শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখিত আছে- “হুযূর
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
থেকে বর্ণিত আছে- যে ব্যক্তি আযানে আমার
নাম শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখের উপর রাখে,
আমি ওকে কিয়ামতের কাতার সমূহে খোঁজ
করবো এবং নিজের
পিছে পিছে বেহেশতে নিয়ে যাব।)”
তাফসীরে রূহুল বয়ানে ষষ্ঠ পারার সূরা মায়েদার
আয়াত ﻭَﺍِﺫَﺍ ﻧَﺎﺩَﻳْﺘُﻢْ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻠﻮﺓِ ﺍﻻﻳﺔ এর
ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে উল্লেখিত আছে-
“মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় নিজের
শাহাদাতের আঙ্গুল সহ বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখে চুমু
দেয়ার বিধানটা জঈফ রেওয়াতের সম্মত।
কেননা এ বিধানটা মরফু হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত
নয়। কিন্তু মুহাদ্দিছীন কিরাম এ ব্যাপারে একমত
যে আকর্ষণ সৃষ্টি ও ভীতি সঞ্চারের বেলায় জঈফ
হাদীছ অনুযায়ী আমল করা জায়েয।)
ফাত্ওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড ﺍﻻﺫﺍﻥ শীর্ষক
অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
আযানের প্রথম শাহাদত বলার সময়- ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ (সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ)
বলা মুস্তাহাব এবং দ্বিতীয় শাহাদত বলার সময়-
ﻗُﺮﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (কুর্রাতু
আইনী বেকা ইয়া রাসুলাল্লাহ) বলবেন। অতঃপর
নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ স্বীয় চোখদ্বয়ের উপর
রাখবেন এবং বলবেন- ﺍﻟَﻠﻬُﻢَّ ﻣَﺘِّﻌْﻨِﻰْ ﺑِﺎﻟﺴَّﻤْﻊِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼَﺮِ
(আল্লাহুম্মা মত্তায়েনী বিসসময়ে ওয়াল বসরে)
এর ফলে হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওকে নিজের
পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন। অনুরূপ
কনযুল ইবাদ ও কুহস্থানী গ্রন্থে বর্ণিত আছে।
ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়াতেও তদ্রুপ উল্লেখিত আছে।
কিতাবুল ফিরদাউসে বর্ণিত আছে-
যে ব্যক্তি আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার
রাসুলুল্লাহ‘ শুনে স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ চুম্বন
করে, আমি ওকে আমার
পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাব
এবং ওকে বেহেশতের কাতারে অন্তর্ভূক্ত করবো।
এর পরিপূর্ণ আলোচনা ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকায়
বর্ণিত আছে।
উপরোক্ত ইবারতে ছয়টি কিতাবের কথা উল্লেখ
করা হয়েছে। যেমন- শামী, কনযুল ইবাদ,
ফাত্ওয়ায়ে সূফিয়া, কিতাবুল ফিরদাউস,
কুহস্থানী এবং ‘বাহারুর রায়েক’ এর টীকা। ওই সব
কিতাবে একে মুস্তাহাব বলা হয়েছে। ﻣﻘﺎﺻﺪ ﺣﺴﻨﻪ ﻓﻰ
ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﺪﺋﺮﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺴﻨﺔ নামক গ্রন্থে ইমাম
সাখাবী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন- ইমাম
দায়লমী (রহঃ) ‘ফিরদাউস’ কিতাবে হযরত আবু বকর
সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন
যে মুয়াযযিনের কন্ঠ থেকে যখন ‘আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ‘ শোনা গেল, তখন
তিনি (রাঃ) তাই বললেন এবং স্বীয় শাহাদতের
আঙ্গুলদ্বয়ের ভিতরের ভাগ চুমু দিলেন
এবং চক্ষুদ্বয়ে লাগালেন। তা’দেখে হুযূর
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ
ফরমান যে ব্যক্তি আমার এই প্রিয়জনের মত করবে,
তাঁর জন্য আমার সুপারিশ অপরিহার্য।” এ
হাদীছটি অবশ্য বিশুদ্ধ হাদীছের পর্যায়ভুক্ত নয়।
উক্ত মাকাসেদে হাসনা গ্রন্থে আবুল আব্বাসের
(রহঃ) রচিত মুজেযাত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত
করা হয়েছে-
হযরত খিযির (আঃ) থেকে বর্ণিত আছে-
যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের কণ্ঠে ‘আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ’ শোনে যদি বলে-
ﻣَﺮْﺣَﻴًﺎﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓِ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ
(মারাহাবা বে হাবীবী ওয়া কুররাতে আইনী
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) অতঃপর স্বীয়
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন করে চোখে লাগাবে,
তাহলে ওর চোখ কখনও পীড়িত হবে না।) উক্ত
গ্রন্থে আরোও বর্ণনা করা হয়েছে- হযরত মুহাম্মদ
ইবনে বাবা নিজের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন
যে এক সময় জোরে বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল।
তখন তাঁর চোখে একটি পাথরের কনা পড়েছিল
যা বের করতে পারেনি এবং খুবই ব্যথা অনুভব
হচ্ছিল।
যখন তিনি মুয়াযযিনের কণ্ঠে আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন
তিনি উপরোক্ত দুআটি পাঠ করলেন
এবং অনায়াসে চোখ থেকে পাথর বের হয়ে গেল।
একই ‘মকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে হযরত শামস
মুহাম্মদ ইবনে সালেহ মদনী থেকে বর্ণিত
আছে যে তিনি ইমাম আমজদ (মিসরের
অধিবাসী পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরামের
অন্তর্ভূক্ত) কে বলতে শুনেছেন-
যে ব্যক্তি আযানে হুযূর (সাল্লাল্লহু
আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর নাম মুবারক
শোনে স্বীয় শাহাদাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলী একত্রিত
করে-
ﻭَﻗَﺒَّﻠَﻬُﻤَﺎ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﺑِﻬِﻤَﺎ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﺮْ ﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
উভয় আঙ্গুলকে চুম্বন করে চোখে লাগাবে, কখনও
তার চক্ষু পীড়িত হবে না। ইরাক- আযমের কতেক
মাশায়েখ বলেছেন যে, যিনি এ আমল করবেন, তাঁর
চোখ রোগাক্রান্ত হবে না।
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟِﻰْ ﻛُﻞّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻣُﻨﺬُ ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻟَﻢْ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ
কিতাব রচয়িতা বলেছেন- যখন থেকে আমি এ আমল
করেছি আমার চক্ষু পীড়িত হয়নি।
কিছু অগ্রসর হয়ে উক্ত‘মকাসেদে হাসনা
’গ্রন্থে আরও বর্ণিত হয়েছে-
ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦِ ﺻَﺎﻟِﺢٍ ﻭَﺍَﻧَﺎ ﻣُﻨْﺬُ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ ﺍِﺳْﺘَﻌْﻤَﻠْﺘَﻪُ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺮْﻣُﺪْ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻭَﺍَﺭْﺟُﻮْﺍ ﺍَﻥَّ ﻋَﺎﻓِﻴَﺘَﻬُﻤَﺎ ﺗَﺪُﻭْﻡُ
ﻭَﺍِﻧِّﻰْ ﺍَﺳْﻠَﻢُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻌَﻤﻰ ﺍِﻧْﺸَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪُ
হযরত ইবনে সালেহ বলেছেন- যখন আমি এ
ব্যাপারে জানলাম, তখন এর উপর আমল করলাম।
এরপর থেকে আমার চোখে পীড়িত হয়নি।
আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ এ আরাম সব সময়
থাকবে এবং অন্ধত্ব মুক্ত থাকবো। উক্ত
কিতাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ইমাম হাসন
(রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ‘আশহাদু
আন্না মুহাম্মদার রাসুলুল্লাহ‘
শোনে যদি বলে এবং
ﻣَﺮْﺣَﺒًﺎ ﺑِﺤَﺒِﻴْﺒِﻰْ ﻭَﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুম্বন
করে চোখে লাগাবে এবং বলবে- ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢَ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣَﺪْ
তাহলে কখনও সে অন্ধ হবে না এবং কখনও তার চক্ষু
পীড়িত হবে না। মোট কথা হলো
‘মাকাসেদে হাসনা’ গ্রন্থে অনেক ইমাম থেকে এ
আমল প্রমাণিত করা হয়েছে। শরহে নেকায়ায়
বর্ণিত আছে-
জানা দরকার যে মুস্তাহাব হচ্ছে যিনি দ্বিতীয়
শাহাদতের প্রথম শব্দ শোনে বলবেন; ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻚَ ﻳَﺎ
ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ (সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ)
এবং দ্বিতীয় শব্দ শোনে বলবেন- ﻗُﺮَّﺓُ ﻋَﻴْﻨِﻰْ ﺑِﻚَ ﻳَﺎﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ
(কুর্রাতু আইনি বেকা ইয়া রাসুলাল্লাহ)
এবং নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়ের নখ
চুক্ষদ্বয়ে রাখবেন, ওকে হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের
পিছনে পিছনে বেহেশতে নিয়ে যাবেন। অনুরূপ
কনযুল ইবাদেও বর্ণিত আছে। মাওলানা জামাল
ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর মক্কী (কুঃ) স্বীয়
ফাত্ওয়ার কিতাবে উল্লেখ করেছেন-
ﺗَﻘْﺒِﻴْﻞُ ﺍﻟْﺎِﺑﻬَﺎﻣَﻴْﻦِ ﻭَﻭَﺿْﻊُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻌَﻴْﻨَﻴْﻦِ ﻋِﻨْﺪَ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﺳْﻤِﻪ ﻋَﻠَﻴﻪِ ﺍﻟﺴَّﻠَﺎﻡُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺎَﺫَﺍﻥِ ﺟَﺎﺋِﺮ
ﺑَﻞْ ﻣُﺴْﺘَﺤَﺐ ﺻَﺮَّﺡَ ﺑِﻪ ﻣَﺸَﺎﺋِﺨِﻨَﺎ
আযানে হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র নাম
শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু
দেয়া এবং চোখে লাগানো জায়েয
বরং মুস্তাহাব। আমাদের মাশায়েখে কিরাম এ
ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা করেছেন।
আল্লামা মুহাম্মদ তাহির (রাঃ) ﺗﻜﻤﻠﺔ ﻣﺠﻤﻊ ﺑﺨﺎﺭ ﺍﻻﻧﻮﺍﺭ
গ্রন্থে উপরোক্ত হাদীছকে ‘বিশুদ্ধ নয়’ মন্তব্য
করে বলেন-
ﻭَﺭُﻭِﻯَ ﺗَﺠﺮِﺑَﺔ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻋَﻦْ ﻛَﺜِﻴْﺮِﻳْﻦَ
“(কিন্তু এ হাদীছ অনুযায়ী আমলের বর্ণনা অনেক
পাওয়া যায়।)”
আরও অনেক ইবারত উদ্ধৃত করা যায়। কিন্তু সংক্ষেপ
করার উদ্দেশ্যে এটুকুই যথেষ্ট মনে করলাম। হযরত
সদরুল আফাযেল আমার মুর্শিদ ও উস্তাদ আলহাজ্ব
মাওলানা সৈয়দ নঈম উদ্দীন সাহেব
কিবলা মুরাদাবাদী বলেছেন, লন্ডন
থেকে প্রকাশিত ‘ইনজিল’ গ্রন্থের একটি অনেক
পুরানো কপি পাওয়া গেছে, যেটার নাম ‘ইনজিল
বারনাবাস’। ইদানীং এটা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত
এবং প্রত্যেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর
অধিকাংশ বিধানাবলীর সাথে ইসলামের
বিধানাবলীর মিল রয়েছে। এ গ্রন্থের এক জায়গায়
লিখা হয়েছে যে হযরত আদম (আঃ) যখন রূহুল কুদ্দুস
(নুরে মুস্তাফা) কে দেখার জন্য আরজু করলেন, তখন
সেই নুর তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলের নখে চমকানো হলো।
তিনি মহব্বতের জোশে উক্ত নখদ্বয়ে চুমু দিলেন
এবং চোখে লাগালেন। (রূহুল কুদ্দুসের অর্থ
নুরে মুস্তফা কেন করা হল; এর ব্যাখ্যা আমার
কিতাব ‘শানে হাবিবুর রহমানে’দেখুন।
ওখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঈসা (আঃ) এর
যুগে রূহুল কুদ্দুস নামেই হুযুর (সাল্লাল্লহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মশহুর ছিলেন।
হানাফী আলিমগণ ছাড়াও শাফেঈ ও
মালেকী মাযহাবের আলিমগণও বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়
চুম্বন মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে একমত। যেমন
শাফেঈ মযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব – ﺍﻋﺎﻧﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺒﻴﻦ ﻋﻠﻰ ﺣﻞ
ﺍﻟﻔﺎﻅ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻤﻌﻴﻦ এর ২৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখিত আছে-
ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞَ ﺍِﺑْﻬَﺎ ﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻠْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌْﻢِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
“(অতঃপর নিজের বৃন্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু
দিয়ে চোখে লাগালে, কখনও অন্ধ
হবে না এবং কখনও চক্ষু
পীড়া হবে না।)”মালেকী মযহাবের প্রসিদ্ধ
কিতাব-
ﻛﻔﺎﻳﺔ ﺍﻟﻄﺎﻟﺐ ﺍﻟﺮﺑﺎﻧﻰ ﻟﺮﺳﺎﻟﺔ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺯﻳﺪ ﺍﻟﻘﻴﺮﺩﺍﻧﻰ
এর প্রথম খন্ডের ১৬৯ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে অনেক কিছু
বলার পর লিখেছেন-
ﺛُﻢَّ ﻳُﻘَﺒِّﻞُ ﺍِﺑْﻬَﺎﻣَﻴْﻪِ ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞُ ﻫُﻤَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻟَﻢْ ﻳَﻌﻢِ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺮْﻣُﺪْ ﺍَﺑَﺪًﺍ
“(অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু
দেবে এবং চোখে লাগাবে, তাহলে কখনও অন্ধ
হবে না এবং কখনও চক্ষু পীড়া হবে না। এর
ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা শেখ আলী সাঈদী ﻋﺪﻭﻯ
নামক কিতাবের ১৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন-
গ্রন্থকার বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের সময়ের কথা উল্লেখ
করেনি। অবশ্য শেখ আল্লামা মুফাসসির নুরুদ্দীন
খুরাসানী থেকে বর্ণিত আছে, তিনি কতেক
লোককে আযানের সময় লক্ষ্য করেছেন যে যখন
তারা মুয়ায্যিনের মুখে আশহাদু আন্না মুহাম্মদার
রাসুলুল্লাহ শুনলেন, তখন নিজেদের বৃদ্ধাঙ্গুলে চুমু
দিলেন এবং নখদ্বয়কে চোখের পলকে এবং চোখের
কোণায় লাগালেন এবং কান পর্যন্ত
বুলিয়ে নিলেন। পত্যেক শাহাদাতের সময় এ রকম
একবার একবার করলেন। আমি ওদের একজনকে এ
প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন
আমি বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দিতাম কিন্তু
মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন আমার চক্ষু
রোগ হয়। এর মধ্যে এক রাতে আমি হুযূর
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)
কে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি (দঃ)
আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ‘আযানের সময়
বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চোখে লাগানো কেন
ছেড়ে দিয়েছ? যদি তুমি চাও, তোমার চোখ পুনরায়
ভাল হোক, তাহলে তুমি পুনরায় বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয়
চোখে লাগানো আরম্ভ কর’। ঘুম ভাঙ্গার পর
আমি পুনরায় এ আমল শুরু করে দিলাম এবং আরোগ্য
লাভ করলাম। আজ পর্যন্ত সেই রোগে আর আক্রান্ত
হইনি। উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতিভাত
হলো যে, আযান ইত্যাদিতে বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন ও
চোখে লাগানো মুস্তাহাব, হযরত আদম (আঃ)
সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) ও ইমাম হাসন (রাঃ) এর
সুন্নাত। ফকীহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরগণ
এটা মুস্তাহাব হওয়া সস্পর্কে একমত। শাফীঈ ও
মালেকী মযহাবের ইমামগণ এটা মুস্তাহাব
হওয়া সস্পর্কে রায় দিয়েছেন। প্রত্যেক
যুগে এবং প্রত্যেক মুসলমান একে মুস্তাহাব
মনে করেছেন এবং করছেন। এ আমল নিম্নবর্ণিত
ফায়দা গুলো রয়েছেঃ
আমলকারীর চোখ রোগ থেকে মুক্ত
থাকবে এবং ইনশাআল্লাহ কখনও অন্ধ হবে না,
যে কোন চক্ষু রোগীর জন্য বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বনের
আমলটি হচ্ছে উৎকৃষ্ট চিকিৎসা। এটা অনেকবার
পরীক্ষিত হয়েছে। এর আমলকারী হুযুর
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর
শাফায়াত লাভ করবে এবং ওকে কিয়ামতের
কাতার থেকে খুঁজে বের করে তাঁর (দঃ)
পিছনে বেহেশ্তে প্রবেশ করাবেন।
একে হারাম বলা মূর্খতার পরিচায়ক। যতক্ষণ পর্যন্ত
নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট দলীল পাওয়া যাবে না,
ততক্ষণ একে নিষেধ করা যাবে না। মুস্তাহাব
প্রমাণের জন্য মুসলমানগণ মুস্তাহাব
মনে করাটা যথেষ্ট। কিন্তু হারাম বা মকরূহ
প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট দলীলের প্রয়োজন যেমন
আমি বিদ্আতের আলোচনা উল্লেখ করেছি।
বিঃ দ্রঃ- আযান সস্পর্কেতো সুস্পষ্ট
এবং বিস্তারিত রিওয়ায়েত ও হাদীছ সমূহ মওজুদ
আছে, যা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। তকবীর ও
আযানের মত। হাদীছসমূহে তকবীরকে আযান
বলা হয়েছে-দু’ আযানের মাঝখানে নামায
আছে অর্থাৎ আযান ও তকবীরের মধ্যবর্তী।
সুতরাং তকবীরে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মদার
রাসুলুল্লাহ’ বলার সময়ও বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন
করা ফলপ্রসূ ও বরকতময়। আযান ও তকবীর ব্যতীতও
যদি কেউ হুযূর (সাল্লাল্লাহু
আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র নাম
শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলীদ্বয় চুমু দেয়, তাতে কোন
ক্ষতি নেই বরং সদুদ্দেশ্যে হলে তাতে ছওয়াব
রয়েছে। বিনা দলীলে কোন কিছু নিষেধ করা যায়
না। যেভাবেই হুযূর সাল্লাল্লাহু
আল্লাইহে ওয়া সাল্লামের তাযীম করা হবে,
ছওয়াব রয়েছে। -সুত্রঃ জা’আল হক ২য় খন্ড-

আউলিয়াকেরামের মাযার যেয়ারতের দলীল

Standard

আউলিয়া কেরামের মাজার শরিফ জিয়ারতের
১১টি দলিল—— মাওলানা মুহাম্মদ এ কে আজাদ (আবু
আরিফ আল আলাভী )
রমান নং ১ : হযরত বুরায়দা (রা:) থেকে বর্ণিত , হযরত
রাসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ
ফরমান , “ ইতিপূবে আমি তোমাদেরকে কবর যেয়ারত
করতে নিষেধ করেছিলাম , এখন থেকে যেয়ারত
করো (মুসলিম শরীফ, মেশকাত ১৫৪ পৃষ্ঠা)।
ব্যাখ্যা : এ হাদীসের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শায়খ
আব্দুল হক মোহাদ্দীসে দেহেলভী (রাহ: ) লিখেছেন যে
, অজ্ঞতার যুগ সবেমাত্র পার হওয়ায় রাসূলুলাহ (দ:) কবর
যেয়ারত নিষেধ করেছিলেন এই আশংকায়
যে মুসলমানরা পুরনো জীবনধারায় প্রত্যাবর্তন করবেন।
তবে মানুষেরা যখন ইসলামী ব্যবস্থার
সাথে ভালভাবে পরিচিত হলেন, তখন প্রিয় নবী (দ:)
যেয়ারতকে অনুমতি দিলেন (আশ্আতুল
লোমআত, ১ম খন্ড , ৭১৭ পৃষ্ঠা)
প্রমান নং ২ : হযরত ইবনে মাসউদ (রা:)
থেকে বর্ণিত , রাসূলুলাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন ,
“আমি তোমাদের কবর যেয়ারত
করতে নিষেধ করেছিলাম , এখন থেকে যেয়ারত করো
” ( ইবনে মাজাহ , মেশকাত পৃষ্ঠা ১৫৪)।
প্রমান নং ৩ : মোহাম্মদ বিন নোমান (রা:)
থেকে বর্ণিত , রাসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান ,
“যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার তার পিতা-মাতার
বা তাঁদের যে কোনো একজনের কবর যেয়ারত
করে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং পুণ্যবান একজন
হিসেবে তার নাম লেখা হবে” ( মেশাকাত , ১৫৪ পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ৪ : ইমাম শাফেয়ী (রহ:)-এর আকিদা :
আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ:) ইমাম
শাফেয়ী (রহ:)-এর কথা উদ্ধৃত করেন , যিনি বলেন ,
“আমি ইমাম আবু হানিফা (রহ:)-এর সাহায্য
প্রার্থনা করি এবং তাঁর মাযার যেয়ারত করি। আমার
যখন কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তখন আমি দু ’রাকাত
নামায আদায় করে ইমাম আবু হানিফা (র:)-এর মাযার
যেয়ারত করি এবং তৎক্ষণাৎ আমার প্রয়োজন পূরণ
হয়ে যায়” ( রাদ্দুল মোহ্তার , ১ম খন্ড , ৩৮ পৃষ্ঠা)।
শায়খ আব্দুল হক দেহেলভীও লিখেন: “ ইমাম
শাফেয়ী (রহ:) বলেছেন যে হযরত মূসা কাযেমের (রহ:)
মাযারে তাৎক্ষণিক দোয়া কবুল হয় ” ( আশ্আতুল
লোমআত, ১ম খন্ড , ৭১৫ পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ৫ : ইমাম সাবী মালেকী (রাহ:)-এর আকিদা-
বিশ্বাস “ আল্লাহর নৈকট্যের জন্যে ওসীলা অন্বেষণ
করো”- আল্ কুরআন (৫:৩৫)-এর এই
আয়াতটি ব্যাখ্যাকালে ইমাম সাবী (রহ:)
বলেন. “আল্লাহ্ ভিন্ন অপর কারো এবাদত-
বন্দেগী করছেন মনে করে আউলিয়ায়ে কেরামের
মাযার যেয়ারতকারী মুসলমানদেরকে কাফের
আখ্যা দেয়া স্পষ্ট গোমরাহী। তাঁদের মাযার যেয়ারত
করা আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কারো এবাদত-
বন্দেগী নয় , এটা হলো আল্লাহ্ যাঁদেরকে ভালবাসেন
তাঁদেরকে ভালবাসার নিদর্শন” ( তাফসীরে সাবী, ১ম
খন্ড , ২৪৫ পৃষ্ঠা)
প্রমান নং ৬ : সুলতানুল মাশায়েখ হযরত নিযামউদ্দীন
আউলিয়ার আকিদা-বিশ্বাস হযরত নিজামউদ্দীন
আউলিয়া (রহ:) বলেন যে মওলানা কাটহেলী একবার
তাঁর নিজের ঘটনা বর্ণনা করেন: কোনো এক বছর
দিল্লীতে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আমি একটি বাজার
এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলাম আর তখন আমার
খিদে পেয়েছিল । আমি কিছু
খাবার কিনে মনে মনে বল্লাম , এ খাবার আমার
একা খাওয়া উচিৎ নয় ; এটা কারো সাথে
ভাগাভাগি করতে হবে। এমতাবস্থায় আমি এক বৃদ্ধ
মানুষের দেখা পেলাম যাঁর গায়ে চাদর
মোড়ানো ছিল। আমি তাঁকে বল্লাম , ওহে খাজা!
আমি গরিব এবং আপনাকেও গরিব মনে হচ্ছে।
মওলানা কাটহেলী ওই বৃদ্ধকে খাবার গ্রহণের
জন্যে আমন্ত্রণ জানালেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন।
মওলানা কাটহেলী বলেন , আমরা যখন খাচ্ছিলাম তখন
আমি ওই বয়স্ক মরুব্বীকে জানালাম যে আমি ২০
টাকা (রূপী) ঋণগ্রস্ত। এ কথা শুনে ওই বয়স্ক
মরুব্বী আমাকে খাওয়া চালিয়ে যেতে তাগিদ দিলেন
এবং ওই ২০ টাকা (রূপী) এনে দেয়ার
প্রতিশ্রুতি দিলেন। আমি আপন
মনে ভাবলাম , তিনি এই টাকা পাবেন
কোথায়? খাওয়া শেষে সেই বয়স্ক
মরুব্বী উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে মসজিদে নিয়ে গে এই
মসজিদের ভেতরে একটি মাযার অবস্থিত ছিল।
তিনি ওই মাযারের কাছে কী যেন চাইলেন। তাঁর
হাতে যে ছোট লাঠি ছিল তা দ্বারা দু ’বার মাযারে
আলতোভাবে ছুঁয়ে তিনি বল্লেন , এই লোকের ২০
টাকা প্রয়োজন , তাকে তা দেবেন। অতঃপর বয়স্ক
মরুব্বী আমার দিকে ফিরে বল্লেন , ‘মওলানা
, ফিরে যান; আপনি আপনার ২০ টাকা পাবেন। ’ আমি এ
কথা শুনে ওই মরুব্বীর হাতে চুমো খেলাম এবং শহরের
দিকে ফিরে চল্লাম। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম
না কীভাবে আমি ওই ২০ টাকা খুঁজে পাবো। আমার
সাথে একটা চিঠি ছিল যা কারো বাসায়
আমাকে পৌঁছে দেবার কথা ছিল। ওই
চিঠি যথাস্থানে নিয়ে গেলে আমি জনৈক
তুর্কী ব্যক্তির দেখা পাই। তিনি তাঁর গৃহ- ভৃত্যদের
বল্লেন আমাকে ওপর তলায় নিয়ে যাবার জন্যে। আমি
তাঁকে চেনার চেষ্টা করেও মনে করতে পারলাম না
, কিন্তু তিনি বার বার বলছিলেন কোনো এক সময়
নাকি আমি তাঁকে সাহায্য করেছিলাম।
আমি তাঁকে না চেনার কথা বল্লেও
তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন বলে জানালেন।
আমরা এভাবে কিছুক্ষণ কথাবর্তা বল্লাম। অতঃপর
তিনি ভেতর থেকে ফিরে এসে আমার হাতে ২০
টাকা গুজে দিলেন (ফাওয়াইদ আল ফাওয়াদ, ১২৪ পৃষ্ঠা)
প্রমান নং ৭ : আল্লামা জামী (রহ:)-এর আকিদা-
বিশ্বাস আল্লামা জামী (রহ:) শায়খ আবুল হারিস
আওলাসী ( রহ:)-কে উদ্ধৃত করেন , যিনি বলেন যে হযরত
যুন্নূন মিসরী (রহ:) সম্পর্কে তিনি অনেক কিছু শুনেছেন।
তাই কিছু মাসআলা সম্পর্কে জানতে আল্লামা জামী
( রহ:) তাঁর সাথে দেখা করার কথা মনস্থ করেন। কিন্তু
যখন তিনি মিসর পৌঁছেন তখন জানতে পারেন যে হযরত
যুন্নূন মিসরী (রহ:) বেসালপ্রাপ্ত (খোদার
সাথে পর পারে মিলিত) হয়েছেন। এমতাবস্থায়
আল্লামা জামী (রহ:) তাঁর মাযারে যান এবং
মোরাকাবায় বসেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি হয়রান বোধ
করেন এবং ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি হযরত যুন্নূন
মসরী (রহ:)-কে স্বপ্নে দেখেন এবং তাঁর প্রশ্নগুলো
উত্থাপন করেন। শায়খ মিসরী তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর
দেন এবং তাঁর কাঁধ থেকে বোঝা নামিয়ে দেন
(নাফহাত আল্ উনস্ ১৯৩ পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ৮ : ইমাম ইবনে হাজর মক্কী শাফেয়ী (রহ:)-
এর আকিদা ইমাম ইবনে হাজর
মক্কী (রহ:) লিখেন , উলামা ও যাদের প্রয়োজন তাঁদের
মধ্যে এই আচার সবসময়ই চালু ছিল যে তাঁরা ইমাম আবু
হানিফা (রহ:)-এর মাযারে যেতেন এবং নিজেদের
অসুবিধা দূর করার জন্যে তাঁর মাধ্যমে দোয়া করতেন। এ
সকল ব্যক্তি এটাকে সাফল্য লাভের একটা
ওসীলা মনে করতেন এবং এর অনুশীলন দ্বারা বড়
ধরনের পুরস্কার লাভ করতেন। বাগদাদে থাকাকালীন
সব সময়েই ইমাম শাফেয়ী (রহ:) ইমাম আবু
হানিফা (রহ:)-এর মাযারে যেতেন এবং তাঁর
কাছে আশীর্বাদ তালাশ করতেন। যখন আমার (ইমাম
ইবনে হাজর) কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় , তখন
আমি দু ’রাকাত নামায আদায় করে তাঁর মাযারে যাই
এবং তাঁর ওসীলায় দোয়া করি। ফলে আমার
অসুবিধা তক্ষণি দূর হয়ে যায় (খায়রাত আল্ হিসান, ১৬৬
পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ৯ : শায়খ আব্দুল হক দেহেলভী (রহ:)-এর
আকিদা শায়খ আব্দুল হক দেহেলভী (রহ:) লিখেন: “ কবর
যেয়ারত করা মোস্তাহাব (প্রশংসনীয়) এ
ব্যপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ” ( আশআতুল
লোমআত, ১ম খন্ড , ৭১৫ পৃষ্ঠা)। তিনি আরও
লিখেন: “যেয়ারতের সময় কবরস্থদেরকে সম্মান প্রদর্শন
করা ওয়াজিব (অবশ্য কর্তব্য) , বিশেষ করে পুণ্যবান
বান্দাদের ক্ষেত্রে।
তাঁরা যাহেরী জিন্দেগীতে থাকাকালীন তাঁদেরকে
সম্মান প্রদর্শন করা যেমন
প্রয়োজনীয় ছিল , একইভাবে তাঁদের মাযারেও তা
প্রদর্শন করা জরুরি। কেননা, মাযারস্থ বুযুর্গানে দ্বীন
যে সাহায্য করে থাকেন, তা তাঁদের
প্রতি যেয়ারতকারীদের প্রদর্শিত ভক্তি-শ্রদ্ধার
ও সম্মানের ওপরই নির্ভর করে” ( আশআতুল লোমআত, ১ম
খন্ড ৭১০ পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ১০ : শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ্ দেহেলভীর
আকিদা- বিশ্বাস শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ্ লিখেন যে তাঁর
পিতা শাহ্ আব্দুর রহীম বলেছেন, “একবার আমি হযরত
খাজা কুতুবউদ্দীন বখতেয়ার বাকী (রহ:)-এর মাযার
শরীফ যেয়ারত করতে যাই। এমতাবস্থায় তাঁর রূহ্
মোবারক আমার সামনে দৃশ্যমান হন
এবং আমাকে বলেন যে আমার একজন পুত্র সন্তান জন্ম
লাভ করবে , আর আমি যেন ওর নাম রাখি কুতুবউদ্দীন
আহমদ। ওই সময় আমার স্ত্রী বয়স্ক হয়ে গিয়েছিল
এবং সন্তান ধারণের বয়স পেরিয়েছিল। তাই শায়খের এ
কথা শুনে আমি মনে মনে ভাবলাম
সম্ভবত আমার নাতি হতে যাচ্ছে। হযরত বখতেয়ার
কাকী (রহ:) আমার মনের কথা বুঝতে পেরে সন্দেহ দূর
করে দিলেন এ কথা বলে যে তিনি নাতির খোশ-
খবরী (শুভ সংবাদ) দেন নি, বরং আমার নিজের একজন
পুত্র সন্তানের কথা বলেছেন। কিছু
কাল পরে আমি আবার বিয়ে করি এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর
গর্ভে (শাহ্) ওয়ালিউল্লাহর জন্ম হয়। ” শাহ্
ওয়ালিউল্লাহ্ বলেন , ’ আমার জন্মের সময় আমার
বাবা ওই ঘটনার কথা ভুলে গিয়েছিলেন আর তাই
আমার নাম রেখেছিলেন ওয়ালিউল্লাহ্। তাঁর যখন
এ ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়, তখন তিনি আমার দ্বিতীয়
নাম রাখেন কুতুবউদ্দীন আহমদ। (আনফাস্ আল্
আরেফীন, ১১০ পৃষ্ঠা)।
প্রমান নং ১১ : শাহ্ আব্দুল আযীয দেহেলভীর আকিদা-
বিশ্বাস শাহ্ আব্দুল আযীয
লিখেন: “শরহে মাকাসিদ গ্রন্থে লেখা আছে যে
মাযার যেয়ারত করা উপকারী এবং মাযারস্থ
আউলিয়ায়ে কেরামের রূহ্ মোবারক উপকার সাধন
করতে সক্ষম। বাস্তবিকই বেসাল (খোদার সাথে
পরলোকে মিলিত)-প্রাপ্ত হবার
পরে আউলিয়ায়ে কেরামের রূহ্ মোবারক তাঁদের শরীর
ও মাযারের সাথে সম্পর্ক রাখেন। তাই কেউ যখন
কোনো ওলীর মাযার যেয়ারত করেন এবং ওই ওলীর
প্রতি মনোযোগ দেন , তখন উভয় রূহের মধ্যে যোগাযোগ
স্থাপিত হয়। এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ
করা হয়েছে যে আউলিয়ায়ে কেরাম
জীবিতাবস্থায় বেশি সাহায্য করতে সক্ষম
না বেসালপ্রাপ্ত অবস্থায়। কিছু
উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে বেসালপ্রাপ্ত
আউলিয়া বেশি সাহায্য করতে সক্ষম ; আর কিছু উলামা
হুজুর পূর নূর (দ:)-এর একটি হাদীস এ মতের স্বপক্ষে পেশ
করে তা প্রমাণ করেছেন; হাদীসটিতে এরশাদ হয়েছে-
ইযা তাহাই- ইয়্যারতুম ফীল উমুরে, ফাসতা’ ঈনূ মিন
আহলিল কুবূর- অর্থ: ’যখন
তোমরা কোনো ব্যাপারে পেরেশানগ্রস্ত হও , তখন
মাযারস্থ (আউলিয়া)-দের কাছে সাহায্য
প্রার্থনা করো ’। শায়খ আব্দুল হক দেহেলভী (রহ:)
শরহে মেশকাত গ্রন্থে বলেছেন যে এই বিষয়টির
পরিপন্থী কোনো দালিলিক প্রমাণ কুরআন ও সুন্নাহ্
কিংবা সালাফবৃন্দের বাণীতে বিদ্যমান নেই
(ফতোওয়ায়ে আযীযিয়া , ২য় খন্ড , ১০৮ পৃষ্ঠা)।

জানাজার নামাযের আগে কলেমা তৈয়বা বা নাতখানীর প্রমাণ

Standard

জানাযার
আগে নিম্নস্বরে বা উচ্চস্বরে কলেমা তৈয়্যবা ,
তাসবীহ-তাহলীল বা দরূদ শরীফ অথবা না ’ত শরীফ পাঠ
করা জায়েয এবং মইয়ত ও সমবেত ব্যক্তিদের জন্য
কল্যাণকর। কুরআনী আয়াত , সহীহ, হাদীছ
এবং ফকীহগণের বিভিন্ন উক্তিতে এর প্রমাণ রয়েছে।
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ ফরমান-
ﺍَﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﺬْﻛُﺮَﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻗِﻴَﺎﻣًﺎ ﻭَّﻗُﻌُﻮْﺩًﺍ ﻭَّﻋَﻠﻰ ﺟُﻨُﻮْﺑِﻬِﻢْ
( যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে) এ
আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফ্সীরে রূহুল বয়ানে বর্ণিত
আছে-
ﺍَﻯْ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻭْﻧَﻪُ ﺩَﺍﺋِﻤًﺎ ﻋَﻠﻰ ﺍﻟْﺤَﺎﻟَﺎﺕِ ﻛُﻠِّﻬَﺎ ﻗَﺎﺋِﻤِﻴْﻦَ ﻭَﻗَﺎﺋِﺪِﻳْﻦَ ﻭَﻣُﻀْﻄَﺠِﻌِﻴْﻦَ ﻓَﺎِﻥَّ ﺍﻟْﺎِﻧْﺴَﺎﻥَ ﻟَﺎﻳَﺨْﻠُﻮْﺍ ﻋَﻦْ
ﻫﺬِﻩِ ﺍﻟْﻬَﻴْﺌَﺎﺕِ ﻏَﺎﻟﺒًﺎ
এ আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছে যে কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে,
বসে, শুয়ে সব সময় আল্লাহর যিকর করা। কেননা মানুষ
অধিকাংশ সময় এ তিন অবস্থা থেকে মুক্ত থাকে না।
তাফ্সীরে আবুস সউদে এ আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত
আছে-
ﻭَﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩُ ﺗَﻌْﻤِﻴْﻢُ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﻟِﻠْﺎَﻭْﻗَﺎﺕِ ﻭَﺗَﺤْﺼِﻴْﺺُ ﺍﻟْﺎَﺣْﻮَﺍﻝِ ﺍﻟْﻤَﺬْﻛُﻮْﺭَﺓِ ﻟَﻴْﺲَ ﻟِﺘَﺨْﺼِﻴْﺺِ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺑِﻬَﺎ ﺑَﻞْ ﻟِﺎَﻧَّﻬَﺎ
ﺍﻟْﺎَﺣْﻮَﺍﻝُ ﺍﻟْﻤَﻌْﻬُﻮْﺩَﺓَ ﺍﻟَّﺘِﻰْ ﻟَﺎﻳَﺨْﻠُﻮْﺍ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺍﻟْﺎِﻧْﺴَﺎﻥُ
( এর অর্থ প্রায় উপরোক্ত তাফ্সীরের মত)
তাফ্সীরে কবীরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখিত
আছে- (এর অর্থ উপরোক্ত তাফ্সীরের মত)
আল্লামা ইবনে আদী ‘কামেল ’ গ্রন্থে এবং ইমাম
যায়লয়ী (রাঃ)- ﻧﺼﺖ ﺍﻟﺮﺍﻳﺔ ﻟﺘﺨﺮﻳﺞ ﺍﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﻬﺪﺍﻳﺔ নামক কিতাবের
২৯২ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন-
ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻢْ ﻳَﻜُﻦْ ﻳَﺴْﻤَﻊُ ﻣِﻦْ ﺭَّﺳُﻮْﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻤْﺸِﻰْ ﺧَﻠْﻒَ
ﺍﻟْﺠَﻨَﺎﺯَﺓِ ﺍِﻟَّﺎ ﻗَﻮْﻝَ ﻟَﺎﺍِﻟﻪَ ﺍِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ ﻣﺒْﺪِﻳﺎ ﻭﺭَﺍﺟِﻌًﺎ
এ হাদীছটা জয়ীফ হলেও ফজায়েলে আমালের
ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। মিসরী ছাপা তাহযিরুল
মুখতার আলা রদ্দুল মুখতার কিতাবের ১২৩ পৃষ্ঠায়
উল্লেখিত আছে-
উপরোক্ত আয়াত এবং এর তাফ্সীর সমূহ ও হাদীছ সমূহ
থেকে দু ’টি বিষয় জানা গেল- সর্বাবস্থায়
যিকরে ইলাহীর
অনুমতি রয়েছে এবং উচ্চস্বরে বা নিম্নস্বরে যে
কোনভাবে জায়েয। এখন কোন উপলক্ষে যিকর নিষেধ
করার জন্য অন্ততঃ পক্ষে প্রসিদ্ধ হাদীছের প্রয়োজন।
কেননা একক হাদীছ বা মুজতাহিদের অনুমান
দ্বারা কুরআনের অনির্দিষ্ট হুকুমের নির্দিষ্ট করা যায়
না। ফকীহগণ জনাবত ও ঋতুস্রাবের সময়ও কুরআন
তেলাওয়াত ছাড়া সমস্ত যিকর জায়েয বলেছেন
এবং কুরআনের আয়াত যদি তেলাওয়াতের নিয়ত
ছাড়া পাঠ করা হয় , তাও জায়েয (ফিকহ শাস্ত্রের
প্রায় তিকাব দ্রষ্টব্য)
তাহলে মইয়তকে কবরস্থানে নিয়ে যাবার
সময়টা একটি অবস্থা বিধায় , তখনও সব রকম যিকর
জায়েয। কুরআন ইরশাদ ফরমান- ﺍَﻟَﺎ ﺑِﺬِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻄْﻤَﺌِﻦَّ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮْﺏُ
(জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণে চিত্ত প্রশান্ত হয়।) এর
ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে রূহুল বয়ানের রচয়িতা বলেন-
মুসলমানগণ কুরআন পাঠ
এবং যিকরে ইলাহী (ইসমে আযম) দ্বারা তৃপ্তি লাভ
করে এবং শুনতে পছন্দ করে। আর কাপিরগণ
দুনিয়াদারীতে তৃপ্ত এবং গায়রুল্লাহর প্রশংসায়
আনন্দ লাভ করে।
এ আয়াত ও তাফ্সীরের ভাষ্য থেকে বোঝা গেল-
আল্লাহর যিকর মুসলমানের জন্য আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক
কিন্তু কাফিরদের জন্য বেদনাদায়ক। খোদার শুকর ,
মইয়তও মুসলমান এবং সমস্ত শবযাত্রীরাও মুসলমান।
সবাই এতে তৃপ্তি পাবে। অধিকন্তু ওই সময় আত্মীয়
স্বজন থেকে চির বিদায়ের কারণে মইয়তের মন
ভারাক্রান্ত থাকে। তখন এ ধরনের যিকরের
দ্বারা পেরেশানী দূরীভূত হয়। লক্ষণীয় যে এ
আয়াতে মতলক যিকরের কথা বর্ণিত হয়েছে-
উচ্চস্বরে হোক বা নিম্নস্বরে হোক। সুতরাং প্রত্যেক
রকম যিকর জায়েয প্রমাণিত হলো। কেবল নিজস্ব রায়
দ্বারা এতে শর্তারোপ করা যাবে না।
ﻣﻨﺘﺨﺐ ﻛﻨﺰ ﺍﻟﻌﻤﺎﻝ কিতাবের ষষ্ঠ খন্ডের ৯৯ পৃষ্ঠায় আনস
(রাঃ) এর বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে-
ﺍَﻛْﺜِﺮُﻭْﺍ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَﺎﺯَﺓِ ﻗَﻮْﻝَ ﻟَﺎ ﺍِﻟﻪَ ﺍِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠﻪُ
( জানাযায় বেশী করে কলেমা তৈয়্যবা পড়ুন) মিশকাত
শরীফের কিতাবুল দাওয়াতে যিকরুল্লাহ’ শীর্ষক
অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
ﺍِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪِ ﻣَﻠَﺌِﻜَﺔَ ﻳَﻄُﻮْﻓُﻮْﻥَ ﻰِﻓِ ﺍﻟﻄُّﺮُﻕِ ﻳَﻠْﺘَﻤِﺴُﻮْﻥَ ﺍَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﻭَﺟَﺪُﻭْﺍ ﻗَﻮْﻣًﺎ ﻳَﺬْﻛُﺮُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﺗَﻨَﺎﺩُﻭْﺍ
ﻫَﻠُﻤُّﻮْﺍ ﺍِﻟَﻰ ﺣَﺎﺟَﺘِﻜُﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻴُﺤِﻔُّﻮْﻟَﻬُﻢْ ﺑِﺎَﺟْﻨِﻬْﺘِﻬِﻢْ
( আল্লাহর কিছু ফিরিশ্তা রাস্তায় টহল দেয়
এবং আল্লাহর যিকরকারীদেরকে অনুসন্ধান করে। যখন
কোন জনগোষ্ঠিকে যিকর করতে দেখে, তখন
একে অপরকে ডাকাডাকি করে বলে- নিজেদের
উদ্দেশ্যের প্রতি আগোয়ান হও। অতঃপর ওই সব
যিকরকারীদেরকে পালক দ্বারা আচ্ছাদিত করে নেয়।)
সুতরাং মইয়তের লোকেরা যদি আল্লাহর যিকর
করতে করতে যায়, তাহলে টহলরত ফিরিশ্তাদের
সাক্ষাত মিলবে। তখন সবাইকে পালক
দ্বারা আচ্ছাদিত করে নিবে। মইয়তও ফিরিশ্তাদের
পালকের ছায়ায় কবরস্থানে পৌঁছে যাবে। এ হাদীছেও
উচ্চস্বরে হোক বা নিম্নস্বরে মতলক যিকরের
কথা বর্ণিত হয়েছে। মিশকাত শরীফের একই
অধ্যায়ে আরও বর্ণিত আছে-
ﺍِﺫَﺍ ﻣَﺮَﺭْﺗُﻢْ ﺑِﺮِﻳَﺎﺽِ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻓَﺎﺭْﺗَﻌُﻮْﺍ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻭَﻣَﺎﺭِﻳَﺎﺽُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﻗَﺎﻝَ ﺣِﻠَﻖُ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ
হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ
ফরমান , যখন তোমরা বেহেশতের বাগান সমূহ অতিক্রম
করবে , তখন ওখান থেকে কিছু খেয়ে নিও।
সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন , বেহেশতের বাগান
কোথায়? ফরমালেন যিকরের মাহফিল ।
এতে প্রমাণিত হলো যে, মইয়তের
সাথে যদি যিকরে ইলাহী করতে করতে যাওয়া হয় ,
তাহলে মইয়ত বেহেশতের বাগানের
মধ্যে দিয়ে কবরস্থানে যাবে। উল্লেখ্য যে এখানেও
মতলক যিকরের কথা বর্ণিত হয়েছে। মিশকাত শরীফের
একই অধ্যায়ে আরও বর্ণিত আছে-
ﺍَﻟﺸَّﻴْﻄﻦُ ﺟَﺎﺛِﻢٌ ﻋَﻠﻰ ﻗَﻠْﺐِ ﺍِﺑْﻦِ ﺍَﺩَﻡَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺫَﻛَﺮَ ﺍﻟﻠﻪَ ﺧَﻨَﺲَ
( শয়তান মানুষের আত্মার সাথে লেপটে থাকে। যখন
মানুষ আল্লাহর যিকর করে তখন সরে যায়।) বোঝা গেল-
মইয়তকে নিয়ে যাবার সময় আল্লাহর যিকর
করা হলে মইয়ত শয়তান থেকে রেহাই পাবে। এখানেও
উচ্চস্বর বা নিম্নস্বরের কোন শর্তারোপ করা হয়নি। এ
পর্যন্ত জানাযার আগে উচ্চস্বরে যিকরকে কুরআন
হাদীছের দলীল দ্বারা প্রমান করা হলো।
এবার বিভিন্ন ফকীহগণের মতামতের প্রতি দৃষ্টিপাত
করুন, যেথায় এর বিশ্লেষণ মিলে। প্রসিদ্ধ ﺣﺪﻳﻘﻪ ﻧﺪﻳﻪ ﺷﺮﺡ
ﻣﺤﻤﺪﻳﻪ কিতাবে ইমাম আবদুল গণী নাবলুসী (রহঃ) এ
মাস্আলার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন- যেসব ফকীহ
জানাযার সাথে উচ্চস্বরে যিকর নিষেধ করেন ,
তা নিশ্চয় মাকরূহ তানযীহ বা মাকরূহ তাহরীমীর
ভিত্তিতেই করেন। অতঃপর তিনি বলেন-
( কিন্তু কতেক মাশায়েখ জানাযার
আগে পিছে উচ্চস্বরে যিকর করাকে জায়েয বলেছেন।
যাতে এর দ্বারা মৃত ও জীবিতদের তলকীন হয়ে যায়
এবং অলস ব্যক্তিদের অন্তর থেকে অলসতা ও পার্থিব
মহব্বত দূরীভূত হয়।)
কুতুবে রব্বানী ইমাম শায়ারানী (রহঃ) বলেন-
( হযরত আলীউল খওয়াস (রাঃ) বলতেন- যখন দেখা গেল
যে, শবযাত্রীরা বাজে কথাবার্তা ত্যাগ
করে না এবং দুনিয়াবী ধ্যান ধারণায় ব্যস্ত থাকে, তখন
ওদেরকে কলেমা পড়ার হুকুম দেয়া উচিৎ। কেননা এ
কলেমা পড়া না পড়ার থেকে উত্তম এবং সুস্পষ্ট দলীল ও
অধিকাংশ মুসলমানের অভিমত ব্যতীত ফকীহ
আলিমদের কর্তৃক একে অস্বীকার করা অনুচিত। এ
জন্যে শারেহ (আঃ) এর পক্ষ থেকে মুসলমানদের
প্রতি কলেমা পড়ার সাধারণ অনুমতি রয়েছে- যে কোন
সময় ইচ্ছা করলে পড়তে পারে। দারুণ আশ্চর্য লাগে ওই
সব অন্ধদের মনমানসিকতায় , যারা একে অস্বীকার করে।
(ইমাম শায়ারানী তাঁর অন্য আর এক কিতাব
ﻋﻬﻮﺩ ﺍﻟﻤﺸﺎﺋﺦ এ বর্ণনা করেন-
আমি আমার ভাইদের মধ্যে কাউকে এমন কোন
কিছুকে অস্বীকার করার সুযোগ দিব না ,
যেটা মুসলমানগণ ছওয়াব মনে করে আবিস্কার
করেছে এবং একে ভাল মনে করে, বিশেষ করে সে ধরনের
কিছু , যেটা আল্লাহ তা’আলা ও রসূল (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের) সাথে সম্পর্কিত। যেমন
জনগণ জানাযার আগে কলেমা পড়ে বা জানাযার
আগে কুরআন পাঠ করে। যে ব্যক্তি একে হারাম বলে,
সে শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ। তিনি আরও বলেন-
( কলেমায়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদার
রসুলুল্লাহ ’ সমস্ত নেকীর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম নেকী।
সুতরাং এর থেকে কিভাবে নিষেধ করা যেতে পারে।
যদি আপনারা আজ কাল জনগণের অবস্থা মনোযোগ
সহকারে লক্ষ করেন , তাহলে ওদেরকে জানাযার
সাথে যাবার সময় পার্থিব গল্প গুজবে ব্যস্ত দেখবেন ;
তাদের মন মইয়ত থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ
করে না এবং যা কিছু হয়েছে তা থেকে উদাসীন
বরং অনেক লোককে আমি হাসিঠাট্রা করতে দেখেছি।
যখন এ যুগে জনগণের এ অবস্থা , তখন প্রথম যুগে মইয়তের
সাথে উচ্চস্বরে কালেমা পড়া হতো না হেতু নাজায়েয
বলে হুকুম দেয়া দুরস্ত নয় , বরং জায়েয হওয়ার হুকুম
দেয়াটাই বাঞ্ছনীয়। এবং জানাযায় ঘরসংসারের
কথাবার্তার চেয়ে অন্য কথা ভাল। তাই যদি সবাই
জানাযায় উচ্চস্বরে কলেমা পড়ে, এতে আমাদের কোন
আপত্তি নেই।)
উপরোক্ত ভাষ্য থেকে বোঝা গেল জানাযার
সাথে যদি উচ্চস্বরে যিকর করা হয় , তা জায়েয। বিশেষ
করে বর্তমান যুগে সাধারণ লোকের যখন মইয়তের
সাথে হাসিঠাট্রা করে ও
দুনিয়াবী কথাবার্তা বলে গমন করে, তখন তাদের
সবাইকে যিকরে ইলাহীতে নিয়োজিত করা অনেক
ভাল; এটা দুনিয়াবী কথাবার্তা থেকে অনেক উত্তম। –
সুত্রঃ জা ’আল হক ২য় খন্ড-

জানাজার নামাযের পর দোয়া করার প্রমাণ

Standard

মুসলমান মারা যাবার পর তিন আবস্থায় থাকে। ১।
জানাযার নামাযের আগে , ২। জানাযার নামাযের পর
ও দাফনের আগে এবং ৩। দাফনের পর। এ তিন অবস্থায়
মৃতব্যক্তির জন্য দুআ ও ঈসালে ছওয়াব করা জায়েয
এবং উত্তম। অবশ্য মৃতব্যক্তির গোসলের আগে এর
পার্শ্বে বসে কেউ যদি কুরআন পড়তে চান ,
তাহলে লাশকে ঢেকে রাখবেন, কেননা তখন
তা নাপাক। গোসলের পর যে কোন অবস্থায় কুরআন
ইত্যাদি পড়তে পারেন।
বিরোধীতাকারিরা নামাযের আগে ও দাফনের
পরে দুআ ইত্যাদি করা জায়েয মনে করে। কিন্তু
নামাযের পর ও দাফনের আগে দুআ করাকে নাজায়েয ,
হারাম, বিদআত , শিরক আরও কত কিছুইনা বলে। এ
অধ্যায়ে এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং দুআ
করার সমর্থনে প্রমাণ দেয়া হয়েছে । মিশকাত শরফের
ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻟﺠﻨﺎﺯﺓ অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে-
ﺍِﺫَﺻَﻠَّﻴْﺘَﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤَﻴِّﺖِ ﻓَﺎﺧْﻠِﺼُﻮْﺍ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀ
( যখন তোমরা মৃতব্যক্তির জানাযা পড়ে ফেল , তখন
তার জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করবে) এখানে ﻑ
ফা এর দ্বারা বোঝা যায় যে নামাযের পর যেন
অনতিবিলম্বে দুআ করা হয়। যারা উপরোক্ত বাক্যের এ
অর্থ করে নামাযের মধ্যে এর জন্য দুআ করা হয়। তারা ﻑ
এর অর্থ সম্পর্ক্য অজ্ঞ। আরবী ব্যকরন অনুযায়ি ﺻَﻠَّﻴْﺘُﻢْ
হচ্ছে শর্ত এবং ﻓَﺎﺧْﻠِﺼُﻮْ এর জযা। শর্ত ও জযার মধে প্রভেদ
থাকা প্রয়োজন ; একটা অন্যটার অন্তর্ভক্ত নয় । আর ﺻَﻠَّﻴْﺘُﻢْ
হলো অতীত কাল জ্ঞাপক ক্রিয়া এবং ﻓَﺎﺧْﻠِﺼُﻮْﺍ
হলো নির্দেশাত্মক তাই বোঝা গেল , নামাজ পড়ার
পরই দুআর নির্দেশ রয়েছে। যেমন ﻓﺎﺫﺍ ﻃَﻌِﻤْﺘَﻢْ ﻓَﺎﻧْﺘَﺸِﺮَﻭْﺍ যখন
খাওয়ার মাঝখানে নয়। এবং ﺍِﺫَﺍ ﻓُﻤْﺘُﻢْ ﺍِﻝَ ﺍﻟﺼَّﻠَﻮْﺍﺓ ﻓَﺎﻋْﺴِﻠُﻮْﺍ ﻭﺟُﻮْ ﻫَﻜُﻢْ
যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখ ধৌত
কর। এতে নামাজের জন্য
তৈরি হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। নামাজের
কিয়ামের কথা বলা হয়নি, যা ﺍِﻟَﻰ অব্যয়
দ্বারা প্রতীয়মান হলো আর এখানে নামাজ পড়ার
ইচ্ছা পোষণ করার পরই ওযুর কথা বলা হয়েছে। তাই ﻑ
(ফা) দ্বারা বিলম্ব অর্থই প্রকাশ পায়।
বিনা কারণে আসল অর্থ বাদ দিয়ে রূপক অর্থ গ্রহন
করা নাজায়েয। মিসকাত শরীফের একই জায়গায় আরও
উল্লেখিত আছে ﻗَﺮَﺀَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﺠَﻨَﺎﺯَﺓِ ﺑِﻔَﺎﺗِﺤَﺔِ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ (হুযুর আলাইহিস
সালাম জানাযায় সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। এর
ব্যখ্যা প্রসঙ্গে আশআতুল লুমআত গ্রন্থে উল্লেখিত
আছে ।
ﻭﺍﺣﺘﻤﺎﻝ ﺩﺍﺭﺩﻛﻪ ﺑﺮﺟﻨﺎﺯﻩ ﺑﻌﺪ ﺍﺯﻧﻤﺎﺯ ﭘﻴﺶ ﺍﺯﺍﻥ ﺑﻘﺼﺪ ﺗﺒﺮﻙ ﺧﻮﺍﻧﺪﻩ ﺑﺎﺷﺪ ﭼﻨﺎﻧﻜﻪ ﺍﻻﻥ ﻣﺘﻌﺎﺭﻑ
ﺍﺳﺖ.
সম্ভবত : হুযূর আলাইহিস সালাম নামাজের পর
বা আগে বরকতের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন।
যেমন আজকাল এর প্রচলন দেখা দেয়। এর
থেকে বোঝা গেল শেখ আবদুল হক (রহ:) এর যুগেও
জানাযার নামাজের আগে ও পরে বরকতের জন্য
সূরা পাঠ প্রচলন ছিল। তিনি একে নিষেধ করেননি ,
বরং এটাকে হাদীছের অনুসরনই বলতে চেয়েছেন ।
প্রসিদ্ধ ফতহুল কাদির গ্রন্থের ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺠﻨﺎﺋﺰ এর জানাযার
নামাজ পরিচ্ছেদে বর্ণিত আছে। হুযুর আলাইহিস
সালাম মিম্বরের উপর দাড়িয়ে মুতা যুদ্ধের খবর
দিলেন। এর মধ্যে হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রাহ:)
এর শাহাদাতের খবর ও দিলেন ।
ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﺩﻋَﺎﻟَﻪُ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺍِﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭْﺍﻟَﻪُ
অত:পর তার জানাযার নামাজ পড়লেন এবং তার জন্য
দুআ করলেন এবং লোকদেরকে বললেন তোমরাও তার
মাগফিরাতের জন্য দুআ কর। উল্লেখিত ইবারতে ﺩَﻋَﺎ
শব্দের আগে ব্যবহৃত ﻭ অব্যয় দ্বারা বোঝা যায় যে, এ দুআ
নামাজের পরেই করা হয়েছিল
মাওয়াহিবে লাদুনিয়া গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ডের
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ। ﻓِﺘْﻤَﺎ ﺍَﺧْﺒَﺮَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻴُﻮْﺏِ এর
ব্যখ্যা প্রসঙ্গে উপরোক্ত ঘটনা হুবহু বর্ননা করার পর
বলেছেন ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺍِﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭْﺍ ﺍِﺳْﺘِﻐْﻔِﺮِﻭْﻟَﻪُ (অত:পর ফরমালেন,
মাগফিরাত কামনা করূন) একই রকম হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে রওয়াহা (রাহ:) জানাযার পর দুয়া করেছিলেন।
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, জানাযার পর
মাগফিরাতের জন্য দুআ করা জায়েয। কনযুল উম্মাল
নামক কিতাবে ﺍﻟﺠﻨﺎﺋﺰ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ইব্রাহিম
হিজরী (রাহ:) থেকে বর্ণিত আছে
ﻗَﻞ ﺭَﺋَﻴْﺖُ ﺍِﺗْﻦِ ﺍَﻭْﻓَﻰ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻣِﻦْ ﺍَﺻْﺤَﺎﺏِ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮَﺓِ ﻣَﺎﺗَﺖْ ﺍِﺑْﻨَﺘَﻪُ ﺍِﻟَﻰ ﺍَﻥْ ﻗَﺎﻝَ ﺛُﻢَّ ﻛَﺒَّﺮَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺍَﺭْ ﺑَﻌًﺎ ﺛُﻢَّ
ﻗَﺎﻡَ ﺑَﻌْﺪُ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﻗَﺪَﺭَ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺘَّﻜْﺒِﻴْﺮَ ﺗَﻴْﻦِ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﺭْ ﺀَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢِ ﻛَﺎﻥَ
ﻳَﺼْﻨَﻊُ ﻫَﻜﺬَﺍ
আমি ইবনে আবু আওফা (রা:) কে দেখেছি, যিনি বায়তুর
রিদওয়ানওয়ালে সাহাবী ছিলেন। তাঁর এক
কন্যা মারা গিয়েছিল। তিনি তার জানাযার চার
তকবীর বলেছিলেন। অত:পর ‍দুই তকবীরের মাঝখানের
বিরতির সমপরিমাণ দাঁড়িয়ে দুআ করেছেন
এবং বলেছেন আমি হুযুর আলাইহিস সালামের এরকম
করতে দেখেছি। বায়হাকী শরীফে বর্ণিত আছে-
ﻭَﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤُﺴَﺘَﻈِﻞِّ ﺍﺑْﻦِ ﺣُﺼَﻴْﻦٍ ﺍَﻥَّ ﻋَﻠِﻴَّﺎ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻰ ﺟَﻨَﺎﺯَﺓِ ﺑَﻌْﺪَﻣَﺎ ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠﻴْﻪِ
হযরত মুসতাজিল ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত
আছে যে হযরত আলী (রাহ:) একবার এক জানাযার
নামাজের পর দুআ প্রার্থনা করেছিলেন। মদুনাতুল
কুবারা গ্রন্থে উল্লেখিত আছে-
ﻳَﻔُﻮْﻝُ ﻫَﻜَﺬَﺍ ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﻛَﺒَّﺮَ ﻭَ ﺍِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﺘَّﻜْﺒِﻴْﺮُ ﺍﻟْﺎَ ﺧِﺮُ ﻗَﺎﻝَ ﻣِﺜْﻞُ ﺫَﺍﻟِﻚَ ﺛُﻢَّ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺍَﻟﻠﻬُﻢَّ ﺛَﻞِّ ﻋَﻠَﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ .
প্রত্যেক তকবীরে এ রকম বলবে। যখন শেষ তকবীর হবে,
তখনও অনুরুপ বলবে। অত:পর
বলবে আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মদ।
এর থেকে বোঝা গেল , জানাযার নামাজের পর দরূদ
শরীফ পাঠ করা যাবে। কাশফুল ইজা নামক
গ্রন্থে বর্ণিত আছে-
দাফন করার পূর্বে মৃতব্যক্তির জন্য ফাতিহা ও দুআ
প্রার্থণা করা বৈধ। এ রেওয়ায়েত অনুযায়ী আমল
করা হয়েছে। খুলাসাতুল ফতেহ কিতাবে ও অনুরুপ বর্ণিত
আছে।
শামসুল আয়িম্মা সরখসি (রহ:) রচিত ﻣﺒﺴﻮﻁ
নামকা গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ডের ৬০ পৃষ্ঠায় ﻏﺴﻼﻟﻤﻴﺖ
শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে উমর একবার এক জানাযার নামাযের পর উপস্তিত
হন এবং বলেন –
ﺍِﻥْ ﺳَﺒَﻘْﺘُﻤُﻮْ ﻧِﻰْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻠَﻮﺓِ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻠَﺎﺗَﺴْﺒِﻘُﻮْﻧِﻰْ ﺑِﺎﻟﺪُّﻋَﺎﺀِ .
যদিওবা তোমরা আমার আগে নামাজ পড়ে ফেলেছ,
কিন্তু দোয়ার বেলায় আমার আগে যেয়োনা অর্থাৎ
এসো , আমার সাথে দুআয় শরীক হও। এ মবসুত কিতাবের
একই জায়গায় অর্থাৎ ﻏﺴﻞ ﺍﻟﻤﻴﺖ অধ্যায়ে হযরত ইবনে উমর ,
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালাম
(রাহ:) থেকে প্রমানিত
হয়েছে যে তাঁরা জানাযা নামাজের পর দুআ করেছেন
এবং উপরোক্ত হাদিছে ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺴْﺒِﻘُﻮْﺍ এর দ্বারা প্রতীয়মান
হয় যে ওই দুআর উপর সাহাবায়ে কিরাম আমল করতেন।
মাওলানা ফতেহ মুহাম্মদ ছাহেব বুরহানপুরী তাঁর রচিত
“মিফতাহুস সালাত ” গ্রন্থের ১১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ
করেছেন –
অর্থাৎ যখন জানাযার নামাজ শেষ হবে, তখন
এটা মুস্তাহাব যে ইমাম বা অন্য কোন নেককার
ব্যক্তি সূরা বাকারার প্রথম রুকু ﻣُﻔْﻠِﺤُﻮْﻥَ পর্যন্ত মইয়তের
শিয়রে এবং শেষ আয়াত ﺍَﻣَﻨَﺎﻟﺮَّﺳُﻮْﻝُ মৃতব্যক্তির বাম
পাশে পাঠ করবেন। কেননা এরকম হাদিছ
শরীফে বর্ণিত আছে। কতেক হাদিছে দাফনের পরে এ
রকম করার কথা উল্লেখ আছে। সম্ভব হলে উভয় সময়
পড়া জায়েয আছে।
যাদুল আখিরাত ‘ গ্রন্থে নাহারুল ফায়েক শরহে কনযুদ
দাকায়েক ও বাহরে জুখখার থেকে উদ্ধৃত করেছেন-
ﺑﻌﺪﺍﺯ ﺳﻼﻡ ﺑﺨﻮﺍﻧﺪ ﺍَﻟﻠﻬُﻢَّ ﻟَﺎ ﺗﺤْﺮِﻣْﻨَﺎ ﺍَﺟْﺮَﻩُ ﻭَ ﻟَﺎ ﺗَﻔْﺘِﻨَﺎ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﻭَﺍﻟﻐْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﻭَﻟَﻪُ
সালাম ফিরানোর পর এ দুআটা পড়বেন। ﺍَﻟﻠﻬُﻢَّ ﻟَﺎ ﺗﺤْﺮِﻣْﻨَﺎ ﺍﻟﺦ
অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদেরকে এর ছওয়াব
থেকে বঞ্চিত করবেন
না এবং এরপরে আমাদেরকে ফিৎনা ফ্যাসাদে ফেলো
না। আমাদেরকে ও তাকে ক্ষমা করুন।
তাহতাবী শরীফে বর্ণিত আছে
ﻭَﺍِﻥَّ ﺍَﺑَﺎﺣَﻨِﻴْﻔَﺔَ ﻟْﻤَّﺎ ﻣًﺎﺕَ ﻓَﺨُﺘِﻢَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺳَﺒْﻌُﻮْﻥَ ﺍﻟﻔﺎ ﻓَﺒْﻞ ﺍﻟﺪَّﻓْﻦِ
আবু হানিফা (রাহ:) ইন্তিকাল ফরমান , তখন দাফণের
আগে তাঁর জন্য সত্তর হাজার বার কুরআন খতম করা হয়।
কাশফুল গুম্মা ফতওয়ায়ে আলমগীর ও শামীর ﺍﻟﺪﻓﻦ
অধ্যায়ের ﺗﻌﺰﻳﺖ শীর্ষক আলোচনার উল্লেখিত আছে
ﻭَﻫِﻰَ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟﺪَّﻓْﻦِ ﺍَﻭْﻟَﻰ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻗَﺒْﻠَﻪُ
দাফনের আগে চেয়ে দাফনের পরে শোক প্রকাশ
করাটা উত্তম। একই জায়গায় শামী ও
আলমগীরীতে আরও উল্লেখিত আছে-
ﻭَﻫَﺬَﺍ ﺍِﺫَﺍ ﻟَﻢْ ﻳُﺮَ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺟَﺰْ ﻋﺸَﺪِﻳْﺪً ﻭَّﺍِﻟَّﺎ ﻗُﺪِّﻣَﺖْ
এটা যেহেতু এ জন্য যে ওর পরিবার পরিজনের মন
যাতে খুব বেশি রকম ভেংগে না পড়ে। অন্যথায়
দাফনের আগে শোক প্রকাশ করা যেতে পারে ।
হুসনে জহিরিয়াতে বর্ণিত আছে
ﻭَﻫِﻰَ ﺑَﻌْﺪُ ﺍﻟﺪَّﻓْﻦِ ﺍَﻭْﻟَﻰ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻓَﺒْﻠَﻪُ .
দাফনের আগে থেকে পরে সমবেদনা জ্ঞাপন করা উত্তম

ইমাম শারানী (রহ:) রচিত মীজানুল
কুবরা গ্রন্থে বর্ণিত আছে –
ﻗَﺎﻝَ ﺍَﺑُﻮْ ﺣَﻨِﻴْﻔَﺔَ ﻭَﺍﻟﺜَّﻮْ ﺭِﻯُّ ﺍَﻥَّ ﺍﻟﺘَّﻌْﺰِﻳَﺔِ ﺳُﻨَّﺔً ﻗَﺒْﻞُ ﺍﻟﺪَّﻓْﻦِ ﻟَﺎﺑَﻌْﺪَﻩُ ﻟِﺎَﻥَّ ﺷِﺪَّﺓَ ﺍﻟْﺤُﺰْﻥِ ﺗَﻜَﻮْﻥُ ﻗَﺒْﻞَ ﺍﻟﺪَّﻓْﻦِ
ﻓَﻴُﻌَﺰَّﻯ ﻭَﻳَﺪْﻋُﻮْﺍ ﻟَﻪُ .
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম ছওরী (রা:) বলেন
যে দাফনের পরে নয় দাফনের আগে সমবেদনা জ্ঞাপন
করা সুন্নত। কেননা দাফনের আগে বিরহ
বেদনাটা বেশি থাকে , সুতরাং (দাফনের আগে) শোক
প্রকাশ করবেন এবং মইয়তের জন্য দুআ
প্রার্থনা করা হয়।
উপরোক্ত ভাষ্য থেকে প্রমানিত হয় যে দাফনের আগে ,
নামাযের আগে বা পড়ে হোক , শোক প্রকাশ
করা জায়েয এবং সুন্নাত । আর সমবেদনায় মৃতব্যক্তি ও
তার উত্তরাধিকারীর জন্য যথাক্রমে ছওয়াব ও
ধৈর্যের জন্যইতো দুআ করা হয়। বিবেকও
বলে যে নামাযে জানাযার পর দুআ জায়েয।
কেননা নামাযে জানাযা এক হিসেবে দুআ বিশেষ,
কারন এতে মৃতব্যক্তিকে সামনে রাখা হয় এবং এতে রুকু
সিজদা তাশাহুদ ইত্যদি নেই। আবার আর এক হিসাবে
নামাযও বলা যায় । কারন এর জন্য গোসল , ওযু সতর
ডাকা কিবলামুখি হওয়া জায়গা ও কাপড় পাক
করা বাঞ্ছনীয় এবং জামাত সহকারে পড়া সুন্নাত।
যদি এটা কেবল দুআই হতো , তাহলে নামাযের মত এসব
শর্তসমুহ কেন আরোপ হলো ? অন্যান্য দুআর মত যে কোন
প্রকারে আদায় করলেয় হয়ে যেত। তাই স্বীকার করতেই
হবে যে এটা এক হিসাবে নামাযও এবং প্রত্যেক
নামাযের পর দুআ প্রার্থনা করা সুন্নাত ও কবুল হওয়ার
সম্ভাবনা বেশী । যেমন মিসকাত শরীফে- ﺍَﻟﺬِّﻛْﺮُ ﺑَﻌْﺪُ ﺍﻟﺼَّﻠَﻮﺓِ
অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-
ﻗِﻴْﻞَ ﻳَﺎﺭَ ﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍَﻯُّ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀِ ﺍَﺳْﻤَﻊُ ﻗَﺎﻝَ ﺟَﻮْﻕَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﺍﻟْﺎَﺧِﺮِ ﻭَﺩَﺑْﺮَ ﺍﻟﺼَّﻠﻮﺍﺓ ﺍﻟْﻤَﻜْﺘُﻮْﺑَﺎﺕِ
হুযুর আলাইহিস সালামের সমীপে আরজ করা হয়েছিল
কোন দু ’আটি বেশি কবুল হয়। তিনি এরশাদ ফরমান শেষ
রাত্রির মধ্যবর্তী সময় ও ফরজ নামাজ সমুহের
পরে জানাযার নামাজও ফরজ । তাই এর পর দু ’আ কেন
করা যাবে না ? অধিকন্তু যে কোন সময় দুআ
প্রার্থনা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং। অনেক
গুরুত্বরোপ করা হয়েছে। মিসকাত শরীফের কিতাবুদ
দাওয়াতে বর্ণিত আছে ﺍﻟﺪُّﻋﺎﺀُ ﻫُﻮَﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩَﺓُ দুআ এক প্রকার
এবাদত একই জায়গায় এটাও উল্লেখ আছে ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀُ ﻣُﺦّ ﺍﻟْﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ দুআ
ইবাদতের মুল। দুয়া প্রার্থনা করার জন্য সময় কালের
কোন বিধি ‍নিষেধ নেয়। তাহলে এটার কি কারন
থাকতে পারে যে জানাযার আগে ও দাফনের পরে দুআ
করা জায়েয। কিন্তু নামাজের ‍পড়ে ও সাথে দুআ ও
ইছালে ছওয়াব হারাম হয়ে গেল এবং পর ওই যাদু
অপসারিত হলো ও সব কিছু হালাল হয়ে গেল । যে কোন
সময় দুআ প্রার্থনা ও ইছালে ছওয়াব জায়েয , এর জন্য
কোন সময়ের বিধি নিষেধ নেয় । -সূত্রঃ জা ’আল হক ২য়
খন্ড-